Home Blog Page 39

কক্সবাজারে পাহাড় ধসে এক রাতেই রোহিঙ্গা নারী-শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পেসহ পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় নারী-শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এক রাতেই উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘটেছে পৃথক পাহাড়ধস। এছাড়াও কক্সবাজার শহরে আরও একটি পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটে। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত আট রোহিঙ্গাসহ নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।

রোববার দিবাগত রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে উখিয়ার ৭, ১১ নম্বর বালুখালী ও ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘটে এসব দুর্ঘটনা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, এপিবিএন, ক্যাম্প প্রশাসন ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা রাতভর চালায় উদ্ধার অভিযান।

রোহিঙ্গা শরণার্থী মোহাম্মদ মোস্তাফা জানান, সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে। রাত দেড়টার দিকে আশ্রিত রোহিঙ্গা মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর ধসে পড়ে পাহাড়ের বিশাল অংশ। মুহূর্তেই মাটির নিচে চাপা পড়ে যায় পুরো ঘর।

Untitled 14 1783305840

উদ্ধারকারীরা ঘরের ভেতর থেকে কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছরের ছেলে মোহাম্মদ আনাসের মরদেহ উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনার সময় ঘরটিতে অবস্থান করছিলেন পরিবারের ১০ সদস্য। আহত এক কিশোরীকে উদ্ধার করে পাঠানো হয়েছে হাসপাতালে। পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রাণে বেঁচে গেলেও তাদের অনেকেই হয়েছেন গুরুতর আহত।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বলেছেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে চালানো হয় উদ্ধার অভিযান। ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে মৃত এবং দুজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

Untitled 13 1783305924

এর কিছুক্ষণ পরই রাত ২টার দিকে উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদের ছেলে সে।

ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানিয়েছেন, পাহাড়ধসের পর রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা উদ্ধার করেন শিশুটির মরদেহ।

রাত গড়াতে না গড়াতেই আরেকটি দুঃসংবাদ আসে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে পাহাড়ধসে একই পরিবারের চারজন প্রাণ হারান। আহত হন আরও একজন।

নিহতরা হলেন- ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ রিহান (৫) ও তার ভাই হারুনুর রশিদ (৩)।

তিনটি পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় মোট আটজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা। তিনি জানান, ‘সবকটি ঘটনা কাছাকাছি সময়ে ঘটেছে। রাতভর উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

Untitled 16 1783305965

এদিকে রাত ৩টার দিকে কক্সবাজার শহরের লাইট হাউস এলাকায় পাহাড় ধ্বসে আলী আকবর (৫০) নামে এক ব্যক্তিরও মৃত্যু হয়েছে।

ক্যাম্পে বসবাসকারী রোহিঙ্গা জাফর আলমের বলেন, বর্ষা এলেই তাদের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হয়ে ওঠে পাহাড়ধস। পাহাড় কেটে তৈরি করা ঢালে বাঁশ, ত্রিপল ও মাটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো ঘর ভারী বৃষ্টিতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। সামান্য ধসও মুহূর্তেই কেড়ে নিতে পারে বহু প্রাণ।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী দুই দিনও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি জানান।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে মাইকিংসহ বিভিন্নভাবে সতর্ক করা হচ্ছে জানিয়েছেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার। তিনি বলেন, ‘ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি অনেক বেড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করে সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে। জীবন রক্ষায় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।’

টুথপেস্ট দিয়ে গহনা, প্লেট, জুতা পরিষ্কারের উপায়

প্রতিদিন সকালে যে টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করেন, সেই একই টুথপেস্ট ব্যবহার করে অন্যান্য অনেক কাজ করতে পারেন। আবার মেয়াদোত্তীর্ণ পেস্ট ব্যবহারেও একই কাজ করা যাবে। তবে রঙিন বা জেল পেস্ট নয়, বরং সাধারণ সাদা পেস্টকে নানা উপায়ে কাজে লাগাতে পারেন।

রূপার গহনা এবং তামার প্লেট পরিষ্কার 
রুপার গহনা বা তামার প্লেট দ্রুত কালো হয়ে যায়। এই কালচে ভাব দূর করতে দামি পলিশের প্রয়োজন নেই। পুরোনো টুথপেস্ট ব্রাশে নিয়ে গহনা বা প্লেটের গায়ে মাখিয়ে হালকা ভাবে ঘষুন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে সুতি কাপড় দিয়ে মুছে নিন। গহনা ও প্লেট নতুনের মতো চকচক করবে।

সাদা জুতা পরিষ্কার করতে
সাদা স্নিকার্স বা জুতা কিছুদিন ব্যবহার করলেই নোংরা হয়ে যায়। বিশেষত, বাদলা দিনে পরলে দাগ বসে যায়। সেই দাগ সহজে উঠতেও চায় না। জুতার দাগের উপর সামান্য টুথপেস্ট লাগিয়ে একটি পুরোনো টুথব্রাশ দিয়ে স্ক্রাব করুন। কিছুক্ষণ ঘষার পর একটি ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে নিন।

আয়না এবং বাথরুমের কল পরিষ্কার
বাথরুমের কাচের আয়না বা স্টিলের কলে পানির দাগ বসে গেলে সহজে উঠতে চায় না। এক্ষেত্রেও কাজে আসবে টুথপেস্ট। একটু টুথপেস্ট স্পঞ্জ বা কাপড়ে নিয়ে কল ও আয়নায় ভালো করে ঘষে নিন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন স্টিলের উজ্জ্বলতা ফিরেছে এবং কাচ পরিষ্কার হয়ে গেছে।

হাত থেকে গন্ধ দূর করতে
পেঁয়াজ, রসুন কাটার পর বা মাছ-মাংস পরিষ্কারের পরে হাতে এক ধরনের তীব্র গন্ধ থেকে যায়। সাধারণ হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধোয়ার পরেও সেই গন্ধ সহজে দূর হতে চায় না। এক্ষেত্রে সামান্য টুথপেস্ট হাতে নিয়ে সাবানের মতো ঘষে ধুয়ে ফেলুন। হাত থেকে নিমেষেই দুর্গন্ধ দূর হয়ে যাবে।

নখের উজ্জ্বলতায়, ব্রণ তাড়াতে
গৃহস্থালী কাজ ছাড়াও টুথপেস্ট নখের উজ্জ্বলতায় এবং ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে যাদের নখ হলদেটে হয়ে যায় তারা ব্রাশে পেস্ট নিয়ে কিছুক্ষণ ঘষুন। আবার যেসব তরুণীদের মুখে, কপালে ব্রণ হয় তারাও টুথপেস্টের সাহায্য নিতে পারেন।

যে ৭ পানীয়তে কমবে বুকজ্বালা, গ্যাসের সমস্যা

বুকজ্বালা, অম্বল, টক ঢেকুর, অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা অনেকের নিত্যদিনের সঙ্গী। সহজ সমাধান হিসেবে তারা ওষুধ খেয়ে নেন। হজমের ওষুধ অতিরিক্ত খেলে গুরুতর শারীরিক সমস্যা হতে পারে। ভারতীয় গণমাধ্যম ‘আনন্দবাজার পত্রিকার’ এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওষুধের বদলে রান্নাঘরে থাকা কয়েকটি উপাদান দিয়েই কমানো যায় গ্যাস, বুকজ্বালার সমস্যা।

মৌরি ভেজানো পানি: মৌরি হজমে সাহায্য করে এবং পেটের অস্বস্তি কমাতে পারে। অম্বল ও গ্যাসের সমস্যায় মৌরি ঘণ্টাখানেক ভিজিয়ে তার পানি পান করতে পারেন। অম্বল বা বুকজ্বালা থেকে রেহাই দিতে পারে এই ঘরোয়া পানীয়। কারণ, এতে থাকা অ্যানিথোল নামক যৌগ পাকস্থলীর পেশিগুলোকে শিথিল করে এবং হজমকারী রসের ক্ষরণ বাড়িয়ে গ্যাস ও ফোলা ভাব কমায়।

জিরা পানি: বদহজমের সমস্যা কমানোর জন্য জিরার জুড়ি মেলা ভার। জিরায় থাইমল নামক তেল থাকে, যা লালা গ্রন্থিকে সক্রিয় করে। এর ফলে পাচক রস ও এনজ়াইম নিঃসরণ বাড়ে। খাবারকে দ্রুত ভাঙতে সাহায্য করে এটি। ফলে হজমে সমস্যা হয় না। পাশাপাশি এটি পেটফাঁপা এবং গ্যাসও কমায়। এই মশলা ভিজিয়ে রেখে সেই পানি পান করলে অম্বলের সমস্যা কমতে পারে।

লবঙ্গ ভেজানো পানি: লবঙ্গ চিবিয়ে খেলে মুখের স্বাদ যেমন বদলায়, তেমনই হজমেও কিছুটা সাহায্য করতে পারে। অনেকেই অম্বল হলে একটি বা দু’টি লবঙ্গ মুখে রেখে ধীরে ধীরে চিবিয়ে খান। লবঙ্গ হাতে চিপে পানিতে ফেলে দিয়ে খানিকক্ষণ অপেক্ষা করুন। তারপর ওই পানি ছেঁকে পান করুন। এর মধ্যে থাকা ইউজেনল পরিপাকতন্ত্রকে সুরক্ষা দেয় এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এর ফলে বুকজ্বালা, পেট ফাঁপা, গ্যাস ও অম্বলের সমস্যা অনেকটা কমবে।

আদা পানি: আদা হজমের সমস্যায় বহু দিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এক কাপ হালকা আদা দেওয়া গরম পানি বা আদা চা পেটের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। আদা পাকস্থলীর পেশি শিথিল করে, হজম প্রক্রিয়া দ্রুত করে এবং প্রদাহ কমায়, যার ফলে অ্যাসিড রিফ্লাক্স ও বুকজ্বালা কমে।

এলাচের গুঁড়া মিশ্রিত পানি: পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিড প্রশমিত করে এবং হজমে সাহায্যকারী এনজাইমের ক্ষরণ বাড়িয়ে অম্বল কমাতে পারে এলাচ। বুকজ্বালা দূর করে পেট ঠান্ডা করতে পারে এটি। এলাচ গুঁড়ো করে পানিতে মিশিয়ে খানিক পরে সেই পানি ছেঁকে পান করলে আরাম মিলবে।

ধনের পানি: গোটা ধনে এবং ধনেপাতা, দু’টিই হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। পাকস্থলীতে পাচক রস এবং এনজ়াইম ক্ষরণ বাড়ায় ধনে। এটি খাবারকে দ্রুত ও সঠিক ভাবে ভাঙতে সাহায্য করে। ফলে হজম করার ক্ষমতা বাড়ে। তাই ধনে কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে সেই পানিটুকু ছেঁকে খেয়ে নিলে আরাম পেতে পারেন।

ঈষদুষ্ণ পানি: সাধারণ গরম পানিও হজমে কাজে দিতে পারে। খাবারের পরে অল্প গরম পানি পান করলে হজমপ্রক্রিয়া সহজ হতে পারে এবং অস্বস্তি কমতে পারে। কারণ, ঈষদুষ্ণ বা হালকা গরম পানি হজমের গতি বাড়াতে পারে, অন্ত্রকে সচল করে, বিপাক ক্রিয়াকে সক্রিয় করে বদহজম কমাতে সাহায্য করে। গরম জল পাকস্থলীতে পৌঁছানোর পর খাবার ও চর্বিকে সহজে দ্রবীভূত করতে পারে। ফলে দেহ দ্রুত খাদ্যকণাগুলো হজম করতে পারে।

পুরোনো হিসাব বদলে দেবে ইরান যুদ্ধ আলি খামেনির উত্তরসূরিরা যুদ্ধ নিয়ে ভীত নয়

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর অনেকেই এর সঙ্গে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভার্সাই চুক্তির সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছিলেন। বিশেষ করে ফ্রান্সে বসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের বিষয়টি নজর কেড়েছিল সবার। ১৯১৯ সালের ওই চুক্তি ইউরোপকে বদলে দিয়েছে। সমঝোতায় ছিল ব্যাপক ক্ষতিপূরণের শর্ত, যা পরবর্তী সময় ইউরোপকে নিয়ে যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে।

অনেকেই সে কারণে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারক কি তাহলে সেদিক থেকে ভিন্ন হবে? নাকি একই ধরনের কিছু দেখা যাবে? সমঝোতার পর তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কোনো না কোনোভাবে টিকে আছে। এর মধ্যে একদফায় হামলা হয়ে গেলেও তা পরিপূর্ণ সংঘাতে রূপ নেয়নি।

এদিকে, ইরান বড় মাপের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশটি নিজেদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে রয়েছে। দেশটিতে এরই মধ্যে নতুন নেতৃত্ব এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় আগের শাসক শ্রেণির অনেকেই মারা গেছেন। যদিও নতুন নেতৃত্ব পুরোনো ঘরানার বাইরে নন, তার পরও এটি বড় পরিবর্তন।

এ প্রসঙ্গে জন হপকিন্স স্কুল অব অ্যাডভান্সড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড মিডল ইস্ট স্টাডিজের অধ্যাপক ভালি নাসর বলেন, ‘এই যুদ্ধকে আমরা যতটা না স্বীকৃতি দিই, এটির তার চেয়েও বেশি প্রভাব ও বৃহৎ পরিণতি রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, এ মাত্রার সব বড় যুদ্ধ আদতে দাবার ঘুঁটি আবার সাজানোর মতো। এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষেত্রে সে প্রভাব রাখবে।

ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি তেহরানে শাসক শ্রেণি পরিবর্তন করেছেন। ভালি নাসরের মতে, এটি মূলত ইরানের জন্য লাভজনক হয়েছে। তিনি বলেন, ‘একেবারে নতুন একটি প্রজন্ম নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তাদের অত্যন্ত স্পষ্ট লক্ষ্য রয়েছে। তারা এই যুদ্ধ সামলেছে, এখন তারা শান্তিও সামলাবে।’

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বয়স ৫৬। প্রয়াত আলি খামেনির সঙ্গে তাঁর বয়সের পার্থক্য অন্তত ৩০ বছর। তাঁর শারীরিক সক্ষমতাও বেশি দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বয়স ৭১, পার্লামেন্টের স্পিকার ও মুখ্য আলোচক বাঘের গালিবাফ এবং রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের আহমাদ ভাহিদি– দুজনের বয়সই ৬০-এর ঘরে। লন্ডনের চ্যাথাম হাউস থিঙ্ক ট্যাঙ্কের মিডল ইস্ট অ্যান্ড নর্থ আফ্রিকা প্রোগ্রামের সানাম ভাকিল বলেন, ‘তারা বিপ্লবের ফসল। ৮৬ বছরের একজন আর ইসলামী প্রজাতন্ত্রের দিকনির্দেশনা ঠিক করছেন না। ইরানের ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় হ্যান্ডব্রেক ছিলেন আলি খামেনি। দশক ধরে সতর্ক খামেনি ‘যুদ্ধও নয়, শান্তি নয়’ নীতি অনুসরণ করেছেন। তবে তাঁর উত্তরসূরিরা আরও দৃঢ়। তারা উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালাতে পিছপা হননি। আবার কয়েক সপ্তাহ পরে যুদ্ধ অবসানে আলোচনার টেবিলে বসা থেকেও নিজেদের গুটিয়ে নেননি। বরং তারা এমন শর্তে পুরো বিষয়টিকে অবসানের পথে নিয়ে গেছেন, যা তেহরানের জন্য বিব্রতকর নয়।

এদিকে, উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর যে ভরসা রেখেছিল, তাতে চিড় ধরতে শুরু করেছে। এ প্রসঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্প পরিচালক আলি ভায়েজ বলেন, অনেক দেশই ভেবেছিল, তাদের দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকলে সেটি তাদের সুরক্ষা দেবে। উপসাগরীয় দেশগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষা বলয়ের নির্ভরযোগ্যতা ও নিজেদের প্রতিরোধ সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।

হরমুজে ‘বন্ধুদের’ বিশেষ ছাড়

চীনে নিযুক্ত ইরানের দূত জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হওয়া জাহাজের আগামীতে খরচ দিতে হবে। তবে চীন ও অন্যান্য বন্ধু দেশ বিশেষ ছাড় পাবে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে, ৬০ দিন হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায় করতে পারবে না ইরান। তবে এর পরে কী হবে, সে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়নি।

আঞ্চলিক সমর্থন ছাড়া শান্তি আসবে না

এদিকে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান বলেছেন, আঞ্চলিক সমর্থন ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সফলতা আসবে না। পাশাপাশি তিনি বলেন, ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির ক্ষতি করতে দেওয়া উচিত হবে না।

গত শনিবার এরদোয়ান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর ইচ্ছা ও অবদান থেকে শক্তি আহরণ করে না এমন কোনো সমাধান দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে না। খবর বিবিসি ও আলজাজিরার।

বিশ্ববাজারে বিস্তার বাড়াতে নতুন ব্র্যান্ড পরিচিতি উন্মোচন করল টিপসই

নতুন ব্র্যান্ড পরিচিতি উন্মোচন করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত কর্মী ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম ‘টিপসই’। আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নিজেদের নতুন করে ঢেলে সাজিয়েছে ইনোভেস টেকনোলজিসের এই প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশে তৈরি এই প্রযুক্তি এখন পর্যন্ত পৌঁছে গেছে বিশ্বের ১১টি দেশে।

টিপসই এর নতুন পরিচিতি উন্মোচনের আওতায় পরিবর্তন আনা হয়েছে লোগোসহ পূর্ণাঙ্গ ব্র্যান্ড ব্যবস্থায়। নতুন লোগোটি বাংলা ও ইংরেজি দুটি সংস্করণেই প্রকাশ করা হয়েছে। দৃশ্যমান সব ডিজাইন ও ভাষার ধারাতেও আনা হয়েছে পরিবর্তন। এর ফলে দেশে ও আন্তর্জাতিক বাজারজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের মাধ্যমে নিয়মিত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ অভিজ্ঞতা দেওয়া সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একদল প্রকৌশলীর হাতে প্রতিষ্ঠিত টিপসই বর্তমানে ১০ হাজারেরও বেশি সক্রিয় ডিভাইসের মাধ্যমে ১২০০ এর বেশি প্রতিষ্ঠান ও ২ লাখ ৩৮ হাজারেরও বেশি ব্যবহারকারীকে সেবা প্রদান করছে। বাংলাদেশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরিশাস, মালয়েশিয়া, তুরস্ক ও পাকিস্তানসহ বিশ্বের মোট ১১ টি দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর, ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কারখানা, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, এনজিও ও বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে টিপসই এর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে উপস্থিতি বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে দেশীয় এই প্রতিষ্ঠানটি।

২০২৫ সালে দেশে ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় তিন গুণ প্রবৃদ্ধি অর্জনের পরপরই নতুন রূপে হাজির হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় টিপসই। ২০২৬ সালেও একই ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্য বজায় রেখে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিষ্ঠানটি ক্রমশ বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

টিপসই এর বিপণন বিভাগের প্রধান অর্ণব সিকদার বলেন, “ব্র্যান্ড সবসময় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলায়। আমাদের প্রযুক্তি এগিয়েছে, প্ল্যাটফর্ম বড় হয়েছে, স্বপ্নও বেড়েছে। তাই ব্র্যান্ডকেও সেই অগ্রগতির ছবি তুলে ধরতে হবে। নতুন এই পরিচিতি আমাদের সামনের পথের উপযোগী একটি ব্র্যান্ড দিয়েছে। নতুন বাজারে যাওয়া, নতুন পণ্য আনা এবং বাংলাদেশে তৈরি প্রযুক্তিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার গল্পটা এখন আরও স্পষ্টভাবে বলতে পারব আমরা।”

বাংলাদেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বৈশ্বিক বাজারে টিপসইয়ের এই সম্প্রসারণে সহায়তা করছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিনিয়োগকারী ও অ্যাক্সিলারেটর প্রতিষ্ঠান অ্যাক্সিলারেটিং এশিয়া এবং অরবিট ভেঞ্চারস। অত্যন্ত বাছাইমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এশিয়ার সবচেয়ে সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগ করে আসছে এই প্রতিষ্ঠানগুলো।

আগামী কয়েক মাসের মধ্যে টিপসইয়ের সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম, বায়োমেট্রিক ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ডিভাইস, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন এবং গ্রাহক যোগাযোগমাধ্যম জুড়ে ধাপে ধাপে নতুন ব্র্যান্ড পরিচিতি চালু করা হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

বিশ্ববাজারে বন্ড ছেড়ে ঋণ নিতে চায় সরকার

সরকার প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে সভরেন বা সার্বভৌম বন্ড ইস্যু করে ঋণ নিতে চায়। সরকারি অর্থায়নের বিকল্প উৎস হিসেবে ‘সভরেন বন্ড’ ইস্যুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর প্রস্তুতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সার্বভৌম বন্ড ছাড়ার বিষয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হবে। কোন ধরনের বন্ড, কী পরিমাণ অর্থের এবং সুনির্দিষ্ট কোন বাজারে ইস্যু করা হবে– এসব বিষয়ে সুপারিশ করবে ওই কমিটি।

এ পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পৃক্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকার দেশের ব্যাংক খাত থেকে ঋণ কম নিতে চায়। অন্যদিকে, উন্নয়ন সহযোগীদের থেকে প্রত্যাশিত ঋণ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এসব কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর মতো বিকল্প অর্থায়নের পরিকল্পনা সামনে এসেছে। তা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ছিল ২০২৯ সালের দিকে। তবে আইএমএফের ঋণের কিস্তি ছাড়ে বিলম্বসহ নানা কারণে চলতি অর্থবছরেই বন্ড ইস্যুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ওই কর্মকর্তারা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস, মুডিস এবং ফিচ প্রতিবছর বাংলাদেশের ক্রেডিট রেটিং করে। আন্তর্জাতিক বাজারে বন্ড ইস্যুর আগে অন্তত দুটি সংস্থার মাধ্যমে নতুন করে রেটিং করাতে হবে। গত মে মাসে ফিচ বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণমানের পূর্বাভাস ‘স্থিতিশীল’ থেকে কমিয়ে ‘ঋণাত্মক’ করেছে। যদিও দেশের দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণমান ‘বি প্লাস’ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠকে অর্থ বিভাগের এক উপস্থাপনায় বিকল্প অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা, আন্তর্জাতিক বাজারে সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর পটভূমি, সম্ভাব্য সুবিধা এবং সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, বন্ডের মাধ্যমে নেওয়া ঋণ থেকে অর্জিত অর্থনৈতিক সুফল বন্ডের কুপন, স্প্রেড, ফিসহ মোট ব্যয়ের চেয়ে বেশি হতে হবে। টেকসই অর্থায়নের জন্য এটিই মৌলিক শর্ত।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার ছিদ্দিকী বলেন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক সার্বভৌম বন্ড ইস্যু করেছে। তাই আন্তর্জাতিক মূলধন বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশের সুযোগ বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এ প্রক্রিয়ায় আইএমএফের কিছু উদ্বেগ থাকতে পারে, বিশেষ করে তাদের কাছ থেকে রেয়াতি ঋণ যোগ্যতা বিষয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তিনি জানান, বাংলাদেশ যদি চীনা মুদ্রায় ‘পান্ডা বন্ড’ ইস্যুর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে চীন সহযোগিতা করতে আগ্রহী।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, অতীতে ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে অর্থ বিভাগ সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর বিষয়ে আগ্রহী ছিল না। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করা যেতে পারে। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অনুকূল সুদে বন্ড ইস্যুর জন্য আগে বাংলাদেশের সার্বভৌম ঋণমান উন্নত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক সার্বভৌম বন্ড হবে বিধায় বন্ডের কাঠামো, ইস্যুর সময়, মুদ্রা, পরিমাণ ও সম্ভাব্য ঝুঁকি পর্যালোচনায় আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা উচিত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান সভায় বলেন, প্রচলিত ডলারভিত্তিক ইউরো বন্ডের পাশাপাশি চীনের মুদ্রা রেনমিনবিতে ‘পান্ডা বন্ড’ ইস্যুর সম্ভাবনাও যাচাই করা যেতে পারে। প্রথম ইস্যু তুলনামূলক ছোট হওয়া উচিত। পাঁচ কোটি (৫০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বন্ড ইস্যু করলে বাজারের প্রতিক্রিয়া বোঝা যাবে এবং ঝুঁকিও সীমিত থাকবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ সহকারী তানভীর গনি বলেন, আন্তর্জাতিক মূলধন বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি জানান দেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। বাংলাদেশকে উচ্চ ঝুঁকির দেশ হিসেবে দেখা হয় না। ফলে বন্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ‘স্প্রেড’ দিতে হবে না। আন্তর্জাতিক বাজারে অংশগ্রহণ করলে রেটিং সংস্থাগুলোর কাছেও ইতিবাচক বার্তা যাবে, যা দেশের সার্বভৌম ঋণমান উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে। তিনি আরও বলেন, প্রথম বন্ডটি ডলারে ইস্যু করাই সমীচীন হবে। কারণ, অন্য মুদ্রার বন্ডে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তুলনামূলক কম।

বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, মধ্যমেয়াদি ঋণ কৌশল, বার্ষিক ঋণ পরিকল্পনা এবং ঋণ ধারণক্ষমতা মূল্যায়নের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে বাজার ও বিনিয়োগকারীদের আগাম বার্তা দিতে সরকারি বিভিন্ন প্রকাশনায় এ বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত রাখারও সুপারিশ করা হয়।

সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক মূলধন বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশকে ইতিবাচকভাবে দেখা উচিত। হংকংভিত্তিক বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড গঠনের উদ্যোগ চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি খাত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে ইক্যুইটি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। সেই উদ্যোগের পাশাপাশি সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর সম্ভাবনাও অনুসন্ধান করা যেতে পারে। সভার শেষে সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর সম্ভাব্যতা যাচাই ও সুপারিশ দিতে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

দেশে সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর আলোচনা প্রথম জোরালোভাবে শুরু হয় ২০১২ সালের শুরুতে। তবে সে সময় গ্রিসের সার্বভৌম ঋণ সংকট এবং ২০২২ সালে অতিরিক্ত সার্বভৌম ঋণের চাপে শ্রীলঙ্কার ব্যাপক অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এ উদ্যোগ থেকে সরে আসে। তবে ২০১৯ সালের নভেম্বরে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সদস্য আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) লন্ডনের বাজারে বাংলাদেশি মুদ্রাভিত্তিক ‘বাংলা বন্ড’ ইস্যু করে, যা ছিল বেসরকারি খাতের জন্য প্রথম বাংলাদেশি টাকাভিত্তিক আন্তর্জাতিক বন্ড।

বিশেষজ্ঞ মত 

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান সমকালকে বলেন, সরকার যদি অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে চায়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে বন্ড ইস্যুর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি বিদেশি অর্থায়নের উৎস কীভাবে আরও বহুমুখী করা যায়, সে বিষয়েও চিন্তাভাবনা প্রয়োজন।

অধ্যাপক মোস্তাফিজুর বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ঋণ নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করতে হবে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধে কতটা চাপ সৃষ্টি করবে, সে বিষয়ে বাস্তবসম্মত প্রাক্কলন থাকতে হবে। একই সঙ্গে সুদের হার, বন্ডের শর্ত, বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশিত মুনাফা এবং অর্থায়নের সামগ্রিক ব্যয়ও বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি এমন একসময়ে সামনে এসেছে, যখন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশের ঋণ ঝুঁকির মূল্যায়ন নিম্ন ঝুঁকি থেকে মধ্যম ঝুঁকিতে উন্নীত করেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থাগুলোও বাংলাদেশের ঋণমান কমিয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

অধ্যাপক মোস্তাফিজুর আরও বলেন, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অতিরিক্ত ঋণ নিলে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণ সংকট দেখা দিতে পারে। তবে বিদেশি ঋণের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। শ্রীলঙ্কার উদাহরণ তুলে তিনি বলেন, দেশটি ব্যাপক হারে বিদেশ থেকে ঋণ নিয়েছিল। পরে সেই ঋণের চাপ সামলাতে না পেরে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। তাই বাংলাদেশকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক ও বিচক্ষণ হতে হবে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এ কে এনামুল হক সমকালকে বলেন, আন্তর্জাতিক বন্ডের সফলতা অনেকটাই নির্ভর করবে এর কাঠামো ও কার কাছে বিক্রি করা হচ্ছে, তার ওপর। তাঁর মতে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ডলারভিত্তিক বন্ড ইস্যু করলে বিনিময় হার ও সুদ পরিশোধের ঝুঁকি থাকে। ইন্দোনেশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার আর্থিক সংকটের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রায় উচ্চ সুদের বন্ড অনেক সময় অর্থনীতির জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এই অর্থনীতিবিদের পরামর্শ, বন্ডটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে ইস্যু করা হলে তা দেশের জন্য বেশি উপকারী হবে। এতে প্রবাসীদের পাঠানো ডলার দেশে থেকেই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি সুদ ও আসল টাকায় পরিশোধ করা গেলে বিনিময় হারজনিত ঝুঁকিও কমবে। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের বন্ড সবার জন্য উন্মুক্ত না রেখে প্রবাসীদের জন্য বিশেষভাবে চালু করাই হবে অধিক কার্যকর কৌশল।

সরকারের ঋণ পরিস্থিতি 

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার ব্যাংক খাত থেকে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বেশি ঋণ নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে সরকারের ব্যাংক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এ খাতে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব ঘাটতি ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সরকারকে ব্যাংক থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ঋণ নিতে হয়েছে।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় প্রকাশিত ঋণ বুলেটিনে উল্লেখ রয়েছে, গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশ ও বিদেশ থেকে সরকারের নেওয়া মোট ঋণের স্থিতি ২২ লাখ ছয় হাজার ৪৬২ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের জুন শেষে যার পরিমাণ ছিল ২১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে ছিল ১৯ লাখ ৪৪ হাজার ১৭১ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে সরকারের মোট ঋণ বেড়েছে দুই লাখ ৬২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা।

কাঁদো ব্রাজিল কাঁদো

বিশ্বকাপের এখনো অর্ধেকটা বাকি। টুর্নামেন্টের আসল রোমাঞ্চ, আসল জৌলুস তো সবে মাত্র শুরু হওয়ার কথা। অথচ ফুটবল মহাযজ্ঞের সেই মূল মঞ্চেই কিনা আজ থেকে আর থাকবে না হলুদ-নীল জার্সির কোনো ম্যাজিক! এটা ভাবতেই যাদের চোখের কোনা বিষাদে ভিজে আসে, ফুটবল রোমান্টিকতার সেই চিরন্তন উপাসকদেরই আজ এক চরম, নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হলো। চোখের সামনে দেখতে হলো এক রূপকথার অপমৃত্যু। আর্লিং হালান্ডের নরওয়ের কাছে ২-১ গোলের সেই অবিশ্বাস্য বিপর্যয়ের পর মাঠের মাঝখানে যখন নেইমারের কান্নার বাঁধ ভাঙল, তখন মনে হচ্ছিল ওই এক একটা অশ্রুবিন্দু যেন ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের স্বপ্নকে চিরতরে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

নেইমারের চোখের ওই জল আসলে ম্যাচ শেষের বাঁশিতে আচমকা নেমে আসেনি। ওই নোনা জল তো তখনই জমা হয়েছিল, যখন ম্যাচের ঠিক ১৩ মিনিটের মাথায় ব্রুনো গিমারায়েসের পেনাল্টি মিসের সেই ট্র্যাজিক মুহূর্তটি আছড়ে পড়েছিল। যে কিকটি নেওয়ার জন্য ভিনিসিয়ুস বলটি হাতেও নিয়েছিলেন, সেটাই কিনা পরে তুলে নেন। ঠিক সেখানটাতেই ম্যাচটি নয় শুধু পুরো বিশ্বকাপটিই যেন হারিয়ে ফেলে ব্রাজিল। স্পট কিক থেকে গোল করার সেই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হওয়া মাত্রই যেন সেলেসাওদের ভাগ্যলিপি বিষাদে লেখা হয়ে গিয়েছিল। প্রথমার্ধের ওই একটা মুহূর্তেই ব্রাজিলের ফুটবলারদের মনের সবটুকু আত্মবিশ্বাস আর জোর কর্পূরের মতো উড়ে যায়। এরপর ভিনিরই বাড়িয়ে দেওয়া একটা পাসে গোল করার আরেকটি সুবর্ণ সুযোগ মিস করেন অ্যান্ড্রিক। জোড়া এই ভুলের পর ফুটবল বিধাতা ক্ষমা করেনি ব্রাজিলকে।

739782165 1712145303318430 4084253863847744762 n%20(1) 1783296915

তাদের ডিফেন্ডাররাও যেন ভুলেই গিয়েছিলেন যে হালান্ডকে সামান্যতম জায়গা দেওয়া মানেই নিশ্চিত ধ্বংস। রক্ষণভাগের কোনো ফুটবলারই হালান্ডকে প্রপার ‘ম্যান-মার্কিং’ করতে পারেননি। জোয়াল লাইক স্পেস পেয়ে নরওয়েজিয়ান এই দানব যখন ব্রাজিলের পেনাল্টি বক্সে একের পর এক থাবা বসাচ্ছিলেন, তখন ব্রাজিলের সেন্ট্রাল ডিফেন্স কেবলই নীরব দর্শক। কোচের ভুল রণকৌশল আর ডিফেন্ডারদের এই ক্ষমার অযোগ্য মার্কিংয়ের ব্যর্থতাই মূলত ব্রাজিলকে ম্যাচ থেকে চিরতরে ছিটকে দিল।

আর নেইমার? ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ট্র্যাজিক নায়কের নাম বোধহয় নেইমার জুনিয়র। যাকে ঘিরে এত আশা, এত কোটি ভক্তের হৃদস্পন্দন, তাকে পুরো সুযোগ কেন কাজে লাগানো হলো না, সেই প্রশ্নটা আজ বাতাসের মতো হাহাকার করে ফিরছে। যখন ম্যাচটা হাত থেকে ফস্কে যাচ্ছিল, তখন নেইমারের মতো একজন জিনিয়াসকে কোচের খামখেয়ালিপনায় পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে বা ম্যাচের মোক্ষম সময়ে খণ্ড খণ্ড টুকরোয় ব্যবহার করাটা অপরাধের শামিল। তাঁর পায়ের সেই ড্রিবলিং, সেই ফাইনাল পাস—যা অনায়াসে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে চুরমার করে দিতে পারত, তাকে মাঠের বাইরে বসিয়ে রেখে কার স্বার্থরক্ষা হলো? নেইমারকে পুরোপুরি ব্যবহার না করার এই খামখেয়ালি মাশুল আজ ব্রাজিলকে দিতে হচ্ছে রক্তাশ্রু ঝরিয়ে।

NEYMAR%20(3) 1783296953

ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর মাঠের ঠিক মাঝখানে হাঁটু গেড়ে বসে যখন হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন নেইমার জুনিয়র, তখন ফুটবল বিশ্ব বুঝতে পেরেছিল, এই কান্না কেবল একটি ম্যাচ হারের নয়, এ হলো এক অধ্যায়ের শেষ সূর্যাস্ত। দীর্ঘ ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিনের মঞ্চ থেকে এমন নির্মম বিদায়—এ যেন এক শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলের এমন করুণ পতন আর দেখেনি ফুটবল বিশ্ব। ফুটবল যদি শুধু একটা খেলা হতো, তবে হয়তো আজ রিও ডি জেনেরিওর রাস্তায় কোনো কান্নার রোল উঠত না। কিন্তু ব্রাজিল তো ফুটবল খেলে না, তারা ফুটবল যাপন করে। আর সেই যাপনের ক্যানভাসে যখন এমন এক নির্মম ট্র্যাজেডি আর চিরবিদায়ের সুর নেমে আসে, তখন কলম সচল রাখা দায় হয়ে পড়ে। মাঠের সবুজ ঘাস পেরিয়ে প্রতিটি ব্রাজিল সমর্থকদের চোখে কান্নার নোনা জল। কাঁদো ব্রাজিল কাঁদো, আজ তোমাদের কাঁদারই দিন!

মেক্সিকোকে কাঁদিয়ে কোয়ার্টারে ১০ জনের ইংল্যান্ড

বজ্রপাত আর ভারী বৃষ্টির কারণে ম্যাচ শুরু হতে দেরি হলো এক ঘণ্টা। কিন্তু অপেক্ষার সেই সময়টুকু যেন উসুল করে দিল আজতেকা স্টেডিয়ামের ৯০ মিনিট। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ, দুই মিনিটে জুড বেলিংহামের জোড়া গোল, লাল কার্ডের ধাক্কা, দুই দলের দুটি পেনাল্টি। সব মিলিয়ে চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম রোমাঞ্চকর ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড। শেষ আটে থমাস টুখেলের দলের প্রতিপক্ষ নরওয়ে।

শুরু থেকেই স্বাগতিক সমর্থকদের গর্জনে উজ্জীবিত মেক্সিকো ইংল্যান্ডকে চাপে রাখার চেষ্টা করে। তবে প্রথম আঘাত হানে টুখেলের দলই। ৩৬তম মিনিটে গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের কাছ থেকে শুরু হওয়া দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ডেকলান রাইস বল বাড়ান বুকায়ো সাকার কাছে। ডান প্রান্ত থেকে সাকার নিখুঁত ক্রসে ডাইভিং হেডে জাল খুঁজে নেন জুড বেলিংহাম।

আজতেকার গ্যালারি তখনও প্রথম গোলের ধাক্কা সামলাতে পারেনি। এরই মধ্যে মাত্র দুই মিনিট পর আবারও আঘাত হানে ইংল্যান্ড। এলিয়ট অ্যান্ডারসন মাঝমাঠে বল কেড়ে নিয়ে হ্যারি কেইনের কাছে দেন। ইংলিশ অধিনায়কের নিখুঁত পাস থেকে এবার ডান পায়ের জোরালো শটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের দ্বিতীয় গোল করেন বেলিংহাম।

দুই গোলে পিছিয়েও হাল ছাড়েনি মেক্সিকো। ৪২তম মিনিটে হুলিয়ান কুইনোনেসের দারুণ ফিনিশিংয়ে ব্যবধান কমিয়ে ২-১ করে স্বাগতিকরা। বিরতির আগে সমতায় ফেরার আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও ইংল্যান্ডের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা।

দ্বিতীয়ার্ধের ৬০তম মিনিটে ম্যাচে আসে বড় অঘটন। হেসুস গাইয়ার্দোকে বিপজ্জনক ট্যাকল করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার জারেল কনসাহ। একজন কমে যাওয়ার পরপরই অবশ্য পেনাল্টি পেয়ে যায় ইংল্যান্ড। বক্সে অ্যান্থনি গর্ডনকে ফাউল করেন গোলরক্ষক রাউল রাঞ্জেল। স্পটকিক থেকে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে চলতি বিশ্বকাপে নিজের ষষ্ঠ গোলটি করেন হ্যারি কেইন। ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।

একজন কম নিয়ে শেষ আধঘণ্টা রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে টুখেলের দল। ৮৩তম মিনিটে আবারও নাটক। এবার বক্সের ভেতর ব্রায়ান গুতিয়েরেজকে ফাউল করেন হ্যারি কেইন। ভিএআর দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। স্পটকিক থেকে কোনো ভুল করেননি রাউল হিমেনেজ। ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ৩-২।

শেষ কয়েক মিনিটে আজতেকা স্টেডিয়ামে একের পর এক আক্রমণ চালায় মেক্সিকো। কিন্তু ১০ জনের ইংল্যান্ড অসাধারণ দৃঢ়তায় রক্ষণ সামলে জয় নিশ্চিত করে। ৫ গোলের এই শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে থ্রি লায়ন্সরা।

এবার শেষ আটে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে নরওয়ে, যারা আগের ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করে চমক দেখিয়েছে।

তারেক রহমানের সঙ্গে নেতাদের বৈঠক, চলতি সপ্তাহে হতে পারে স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি

দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আনা, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং তৃণমূল পর্যায়কে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ঢাকা জেলা ও মহানগর দক্ষিণ বিএনপি এবং কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে পৃথকভাবে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একইসঙ্গে কয়েকটি সংগঠনের নতুন কমিটি ঘোষণার ইঙ্গিত দেন বিএনপি হাইকমান্ড।

দলীয় সূত্র জানায়, বৈঠকগুলোতে সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দলীয় ঐক্য সুসংহত করা এবং জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সহযোগিতা চান তিনি। বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা নিজ নিজ ইউনিটের সাংগঠনিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং দলকে আরও গতিশীল করতে বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। বিএনপি চেয়ারম্যান এসব প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

বৈঠকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি আবু আশফাক এবং সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী অংশ নেন।

রফিকুল আলম মজনু জানান, বিএনপি চেয়ারম্যান সবার খোঁজ-খবর নিয়েছেন এবং নেতারা নিয়মিত পার্টি অফিসে যাচ্ছেন কিনা, সে বিষয়েও জানতে চেয়েছেন।

সূত্র জানায়, এদিন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সঙ্গেও এই বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণে তা পরিবর্তন করা হয়েছে। আগামী দুই-একদিনের মধ্যে উত্তর বিএনপির সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বৈঠক করতে পারেন বলে জানা গেছে।

চলতি সপ্তাহে আসতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি  
একই দিনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও একটি পৃথক বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে সংগঠনের সাংগঠনিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সূত্র জানিয়েছে, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সক্রিয় করার লক্ষ্যে বর্তমান কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারেক রহমান। বৈঠকে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতাদের তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় দিয়েছেন বলেও জানা গেছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে বলে জোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈঠকে অংশ নেওয়া এক নেতা বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান বৈঠককালে সংগঠনের বর্তমান অবস্থা সম্পকে বিস্তারিত জানতে চান। পরে তিনি বর্তমান কমিটির নেতাদের বিদায় দেন। নেতারা আশা করছেন শিগগিরিই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।

যা–ই ঘটুক, আজ ওয়াশিংটনে ভাষণ দেব: ট্রাম্প

প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে স্থানীয় সময় শনিবার রাতে পূর্বনির্ধারিত ভাষণ দেবেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ‘যা–ই ঘটুক, আমি ভাষণ দেবই।’

সম্ভাব্য বজ্রঝড়ের কারণে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মল থেকে কয়েক হাজার মানুষকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হলেও অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়নি। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এবং আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘ফ্রিডম ২৫০’ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে ট্রাম্প তার বহুল আলোচিত ভাষণ দেবেন। পরে থাকবে প্রায় ৪০ মিনিটের আতশবাজির প্রদর্শনী।

ট্রাম্পের ভাষণকে ঘিরে প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও ন্যাশনাল মলে হাজারো সমর্থক জড়ো হন। তবে বজ্রঝড়ের আশঙ্কায় তাদের সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হলে কিছু সময়ের জন্য বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। কেউ দ্রুত অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন, আবার কেউ সেখানে অবস্থান অব্যাহত রাখেন। অনেককে ‘ট্রাম্প, ট্রাম্প’ স্লোগান দিতেও দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তাকর্মীরা পুলিশি সহায়তায় উপস্থিত জনতাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ট্রাম্পের এ আয়োজনের মধ্যে রয়েছে কয়েক ঘণ্টার সামরিক বিমান মহড়া, নির্বাচনী প্রচারণার আদলে একটি রাজনৈতিক সমাবেশ এবং বর্ণাঢ্য আতশবাজির আয়োজন। আয়োজকেরা এটিকে স্বাধীনতা দিবসের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আয়োজনগুলোর একটি বলে প্রচার করছেন।

এর আগে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও ওয়াশিংটনে মানুষের উপস্থিতি ‘অবিশ্বাস্য’। শুক্রবার রাজধানীর তাপমাত্রা ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়।

অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা ৬২ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা র্যান্ডি কোল বলেন, দেশের স্বাধীনতার জন্য মানুষের আত্মত্যাগের তুলনায় এই গরম সহ্য করা খুবই সামান্য বিষয়।

প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্প বলেন, গরম তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। তিনি রসিকতা করে বলেন, ‘আমি খুব দীর্ঘ একটি বক্তৃতা দেব, শুধু এটা দেখানোর জন্য যে আমি সবকিছুই করতে পারি।’

এর এক দিন আগে ট্রাম্প দক্ষিণ ডাকোটা অঙ্গরাজ্যের ঐতিহাসিক মাউন্ট রাশমোর স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন করেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক চার প্রেসিডেন্ট-জর্জ ওয়াশিংটন, টমাস জেফারসন, আব্রাহাম লিংকন এবং থিওডোর রুজভেল্টের পাথুরে ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি ভাষণ দেন।