Home Blog Page 4

শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা আজ

শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা আজ রোববার। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। এটি আশ্বিনী পূর্ণিমা নামেও পরিচিত। দেশের বৌদ্ধরা নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করবেন।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মতে, এই পুণ্যময় পূর্ণিমা তিথিতে মহামানব তথাগত গৌতম বুদ্ধ তাবতিংস স্বর্গে মাতৃদেবীকে অভিধর্ম দেশনার পর ভারতের সাংকাশ্য নগরে অবতরণ করেন। এ দিনেই মানবজাতির সুখ, শান্তি ও কল্যাণে দিকে দিকে স্বধর্ম প্রচারের জন্য তাঁর ভিক্ষু সংঘকে নির্দেশ দেন তিনি। একই দিনে তাঁর তিন মাসের বর্ষাবাসের পরিসমাপ্তিও ঘটে।

পূজনীয় ভিক্ষু সংঘের ত্রৈমাসিক বর্ষাব্রত শেষে আসে এই প্রবারণা তিথি, অর্থাৎ বৌদ্ধ ভিক্ষুদের তিন মাসের বর্ষাবাস সমাপনীতে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন করেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। এই পূর্ণিমা উদযাপনের মাধ্যমে বৌদ্ধভিক্ষু ও গৃহীদের পাপমোচন হয় বলে তাদের বিশ্বাস। এই দিনে বুদ্ধপূজা, সংঘদান, পিণ্ডদান, অষ্টপরিষ্কার দান, পঞ্চশীল প্রার্থনা, শীল গ্রহণ, প্রদীপ পূজা এবং ফানুস ওড়ানোর মতো নানা আচার পালন

করা হয়। প্রবারণা হলো আত্মশুদ্ধি ও অশুভকে বর্জন করে সত্য ও সুন্দরকে বরণের অনুষ্ঠান। প্রবারণা পূর্ণিমার পরদিন থেকে এক মাস ধরে দেশের বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে শুরু হয় শুভ কঠিন চীবর দান উৎসব।

বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় সমকালকে বলেন, আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনের পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাস ভিক্ষুরা উপবাস থাকেন। এ সময়কে বলা হয় বর্ষাবাস। এই তিন মাস রোববার (আজ) শেষ হচ্ছে। এদিন তারা প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন করেন। প্রবারণা হচ্ছে খারাপ কাজকে বারণ করা এবং ভালো কাজকে বরণ করে নেওয়া।

প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে আজ বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশন রাজধানীর মেরুল বাড্ডার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারে দিনভর অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে।

অনুষ্ঠানমালায় রয়েছে ভোর সাড়ে ৫টায় সমবেত প্রভাতি বন্দনা, সকাল সাড়ে ৬টায় জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, ৭টা ১০ মিনিটে ভিক্ষুসংঘের প্রাতঃরাশ, সাড়ে ৯টায় বুদ্ধপূজা, শীল গ্রহণ, অষ্টোপকরণসহ মহাসংঘদান, বেলা ১১টা ১ মিনিটে ভিক্ষুসংঘের পিণ্ডদান, ১১টা ৫ মিনিটে অতিথিদের মধ্যাহ্নভোজন, বিকেল ৪টা ১ মিনিটে পবিত্র ত্রিপিটক থেকে সূত্রপাঠ, ৪টা ২০ মিনিটে আলোচনা সভা, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শীলগ্রহণ, আলোকসজ্জা ও ফানুসবাতি উৎসর্গ এবং ৭টা ১ মিনিটে বর্ণাঢ্য ফানুস উৎসব।

বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ রাজধানীর সবুজবাগ ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে দিনভর অনুরূপ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করবে। সারাদেশের বৌদ্ধবিহারগুলোতেও রয়েছে নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এ ছাড়া আগামীকাল সোমবার থেকে পরের এক মাস বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে চলবে কঠিন চীবর দান উৎসব।

দেশের বাজারে আরও কমল স্বর্ণের দাম

০

দেশের বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমেছে। ফলে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকায়। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) রবিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, খাঁটি স্বর্ণের মূল্য হ্রাস পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে গত ১৩, ২২ ও ২৩ অক্টোবর টানা তিন দফা স্বর্ণের দাম কমানো হয়।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ১৫০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা। এছাড়া, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ হাজার ৬৮৩ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৮৬ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে।

স্বর্ণের দাম কমানো হলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ১৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৩৯১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বড় অঙ্কের মুনাফা করেছে ভারতের আদানি পাওয়ার

০

ভারতের বেসরকারি খাতের বৃহত্তম তাপবিদ্যুৎ উৎপাদক আদানি পাওয়ার লিমিটেডের (এপিএল) সে দেশের চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৬) কর-পরবর্তী মুনাফা বেড়েছে ১৪১ শতাংশ। এ সময়ে কোম্পানিটির মুনাফা হয়েছে ৯ হাজার ১২৫ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল তিন হাজার ৭৭৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা ।
বাংলাদেশ আদানি পাওয়ারের বিদ্যুতের অন্যতম ক্রেতা। কোম্পানিটি গড়ে ১২শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশকে সরবরাহ করে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশে তাদের নিযুক্ত জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান গতকাল শনিবার মুনাফার তথ্য দিয়েছে।

কোম্পানির প্রকাশিত আর্থিক ফলাফল অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে চলমান কার্যক্রম থেকে পরিচালন আয় প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়ে ২২ হাজার ১১৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আয় ছিল ১৭ হাজার ৩৮ কোটি টাকা।
আদানি পাওয়ার জানিয়েছে, বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির আওতায় বিক্রি বাড়া এবং উন্নত ট্যারিফ ও বাণিজ্যিক বাজারে ভালো মূল্যপ্রাপ্তি মুনাফা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) কোম্পানির কর-পরবর্তী মুনাফা ৯১ শতাংশ বেড়ে ১৫ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা হয়েছে।
আদানি পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস বি খ্যালিয়া বলেন, ভারতের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ২০৩২ সালের মধ্যে নতুন ১০০ গিগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ সক্ষমতা সংযোজনের জাতীয় লক্ষ্যে অবদান রাখাই কোম্পানির অগ্রাধিকার।

স্থানীয় নির্বাচনে জোট করতে শরিকদের চাপে জামায়াত জোট না হলে ১১ দল ভাঙতে পারে

০

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের কৌশল নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। জামায়াত এককভাবে নির্বাচন করতে চায়, কিন্তু জোটের কয়েকটি শরিক দল চায় জোটবদ্ধভাবে অংশ নিতে। এ নিয়ে সমঝোতা না হলে শরিকদের কেউ কেউ বিকল্প জোটে নির্বাচনের কথা ভাবছে। তাতে ১১ দলীয় ঐক্যে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জোটের কয়েকটি শরিক দলের যুক্তি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন সমঝোতা এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আন্দোলনে একসঙ্গে থাকার পর স্থানীয় নির্বাচনে সমন্বয় করা না হলে ঐক্যের রাজনৈতিক গুরুত্ব কমে যাবে।

জামায়াত ও শরিক দলগুলোর একাধিক নেতা সমকালকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচনে জোটের প্রশ্নটি শুধু প্রার্থী সমন্বয়ের নয়; এর সঙ্গে শরিক দলগুলোর রাজনৈতিক গুরুত্ব, সাংগঠনিক বিস্তার এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী অবস্থানও জড়িত।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে কওমি ধারার সাতটি রাজনৈতিক দল ‘সমমনা ইসলামী দলসমূহ’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি রয়েছে। তবে নতুন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়া দলগুলো পুরোনো জোট ছাড়বে কিনা, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কোনো কোনো দল দুই প্ল্যাটফর্মেই থাকার পক্ষে।

গত ২২ অক্টোবর হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব সাজিদুর রহমানের সভাপতিত্বে সাত দলের বৈঠকে নতুন প্ল্যাটফর্মের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন রয়েছে। দলগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে ২১ সদস্যের একটি লিয়াজোঁ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। আগামী ৫ ডিসেম্বর পরবর্তী বৈঠকে প্ল্যাটফর্মের কাঠামো ও কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন সমকালকে বলেছেন, কওমি ধারার সাতটি দল স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করছে। তবে ১১ দলীয় ঐক্য ছাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।

কেন একক নির্বাচন চায় জামায়াত
জামায়াতের নেতাদের বক্তব্য, স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো নয়। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে বিপুলসংখ্যক পদে প্রার্থী বাছাই এবং সমঝোতা করা কঠিন। তা ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক শক্তি ও আঞ্চলিক হিসাব গুরুত্বপূর্ণ। তাই কেন্দ্রীয়ভাবে আসন ভাগাভাগি না করে স্থানীয় নেতৃত্বের ভিত্তিতে নির্বাচন করতে চায় দলটি।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সমকালকে বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে জোট করার সিদ্ধান্ত নেই। তবে কোনো জেলা, উপজেলা বা এলাকায় শরিক দলগুলো নিজেরা আলোচনা করে একক প্রার্থী ঠিক করলে কেন্দ্র থেকে বাধা দেওয়া হবে না।

জামায়াত নেতারা আরও বলছেন, অতীতে বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকার সময়ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে আসন ভাগাভাগি হয়নি। ২০১৪ সালের উপজেলা ও ২০১৫ সালের পৌরসভা নির্বাচনে কোথাও বিএনপি জামায়াতকে, কোথাও জামায়াত বিএনপিকে ছাড় দিয়েছিল। সেসব সমঝোতা হয়েছিল স্থানীয় পর্যায়ে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির একজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরিকদের আসন ছেড়ে দিতে গিয়ে জামায়াতের কয়েকটি আসনে সম্ভাবনাময় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া যায়নি। অন্তত তিনটি আসনে স্থানীয় নেতারা কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। তাঁর মতে, স্থানীয় নির্বাচনে আবারও শরিকদের জন্য ছাড় দিতে গেলে দলের সাংগঠনিক অসন্তোষ বাড়তে পারে। যেসব নেতাকর্মী দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের সুযোগ দিতে চায় জামায়াত।

দলটির এই অবস্থানের পেছনে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি যাচাইয়ের হিসাবও রয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে জোটের আসন সমঝোতার কারণে কোন এলাকায় জামায়াতের প্রকৃত জনসমর্থন কতটা, তা নির্ণয়ের সুযোগ সীমিত ছিল। স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিলে সেই চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন নেতারা।

শরিকদের অসন্তোষ কেন
১১ দলীয় ঐক্যের কয়েকটি শরিক দলের নেতারা মনে করছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরও তারা জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াতের সঙ্গে আন্দোলন করছেন। অথচ স্থানীয় নির্বাচনে জোটগত সমঝোতা না হলে তাদের সাংগঠনিক ও নির্বাচনী লাভের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়বে।

একাধিক শরিক দলের নেতার বক্তব্য, জাতীয় নির্বাচনে যেসব আসনে তাদের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, স্থানীয় নির্বাচনেও সেসব এলাকায় দলীয় প্রার্থীদের সমর্থন পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এতে তৃণমূলে দলগুলোর ভিত্তি তৈরি হবে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে দর-কষাকষির ক্ষমতা বাড়বে। জামায়াত এককভাবে নির্বাচন করলে শরিকদের জন্য সেই সুযোগ থাকবে কি না, তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

শরিকদের একাংশের অসন্তোষের পেছনে আদর্শিক ও রাজনৈতিক দূরত্বও রয়েছে। কওমি ধারার দলগুলোর সঙ্গে জামায়াতের মতাদর্শগত পার্থক্য দীর্ঘদিনের। এর পরও জাতীয় নির্বাচনে আসন সমঝোতা এবং পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তারা একসঙ্গে ছিল। শরিক নেতাদের কেউ কেউ মনে করেন, এই সহযোগিতার সুফল জামায়াত তুলনামূলকভাবে বেশি পাচ্ছে।

তবে সব শরিক দল যে বিকল্প জোটে যেতে চায়, তা নয়। বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান সমকালকে বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচনে তাদের সঙ্গে জামায়াতের সমন্বয় রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা ও পৌরসভায় লেবার পার্টির ভালো প্রার্থী থাকলে স্থানীয় জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতা করা হবে।

হেফাজতের উদ্যোগে বিকল্প মেরূকরণ
জামায়াতের সঙ্গে স্থানীয় নির্বাচনে সমঝোতা না হলে কওমি ধারার দলগুলো নিজেদের মধ্যে নির্বাচনী বোঝাপড়া গড়ে তুলতে পারে। হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে সাত দলের নতুন প্ল্যাটফর্ম সেই সম্ভাবনা সামনে এনেছে।

জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদীর মতবাদের বিরোধিতা কওমি ধারার ধর্মীয় পরিমণ্ডলে দীর্ঘদিনের। ফলে হেফাজতের মধ্যস্থতায় দেওবন্দি আদর্শের অনুসারী দলগুলোর এক মঞ্চে আসাকে শুধু নির্বাচনী কৌশল হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্ট নেতারা; এর সঙ্গে আদর্শিক বলয়ের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ও জড়িত।

তবে নতুন প্ল্যাটফর্মের দলগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান এক নয়। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও নেজামে ইসলাম পার্টি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যে রয়েছে। অন্যদিকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতায় রয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতায় যায়নি। ফলে সাত দলের অভিন্ন নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে পুরোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক বড় বিবেচনা হয়ে উঠতে পারে।

জামায়াত নেতারা অবশ্য এ উদ্যোগকে সন্দেহের চোখে দেখছেন। তাদের কারও কারও ধারণা, স্থানীয় নির্বাচনে ইসলামপন্থি ভোট ভাগ করতেই বিএনপির স্বার্থে বিকল্প মেরূকরণ তৈরি করা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।

এনসিপির অবস্থান
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এককভাবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেবে বলে জানিয়েছে। নেতারা জানান, শতাধিক উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে সমর্থিত প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে ইউনিয়ন পর্যায়ে যোগ্য প্রার্থীর সংকট রয়েছে। নির্বাচনের পরিবেশ ও প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর কৌশল বিবেচনায় ভবিষ্যতে কিছু স্তরে সমঝোতার প্রয়োজন হতে পারে।

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন সমকালকে বলেন, দলের সমর্থিত প্রার্থীরা এককভাবে নির্বাচন করবেন। সিটি করপোরেশনের প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়েছে এবং ইউনিয়ন পরিষদের প্রার্থী বাছাই চলছে।

এনসিপি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে এবং উত্তরে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে প্রার্থী করার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণে জামায়াতের প্রার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি আবু সাদিক কায়েম। উত্তরে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

এ দুই দলের আলাদা প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থানীয় নির্বাচনে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে নির্বাচন যত এগোবে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও স্থানীয় হিসাব অনুযায়ী সমঝোতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

জামায়াত শেষমেশ কী করবে
স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে এগোনোর বিষয়ে জামায়াতের চূড়ান্ত কৌশল নির্ধারণে বিএনপি সরকারের অধীনে নির্বাচনের পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। দলটির নেতারা বলছেন, নির্বাচন কতটা অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়, তা দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে। তাদের মতে, নির্বাচনে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিরোধী দলগুলোর সমন্বিত অবস্থানের প্রয়োজন বাড়তে পারে।

জামায়াত নেতারা ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ২৯ অক্টোবরের উপনির্বাচনকে এ ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ করছেন। তাদের মূল্যায়নে নির্বাচন সুষ্ঠু হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তে এগোনো সহজ হবে। অন্যদিকে অনিয়ম বা পক্ষপাতের অভিযোগ উঠলে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে বিবেচনায় আসতে পারে।

তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সর্বস্তরে একই কৌশল কার্যকর হবে কিনা, তা নিয়ে জামায়াতের মধ্যেও আলোচনা রয়েছে। দলটি সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই করে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। ফলে কেন্দ্রীয়ভাবে জোট না করার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সমঝোতার সুযোগ খোলা রাখছে তারা।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের লক্ষ্মীপূজা আজ

লক্ষ্মীপূজা আজ রোববার। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা আজ নানা আয়োজনে এই উৎসব উদযাপন করবেন। শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হওয়ার পরবর্তী পূর্ণিমা তিথিতে লক্ষ্মীপূজা উদযাপিত হয়। হিন্দুদের ঘরে ঘরে লক্ষ্মী ধন-সম্পদ বা ঐশ্বর্যের দেবী হিসেবে পূজিত হন। এ ছাড়া উন্নতি, আলো, জ্ঞান, সৌভাগ্য, দানশীলতা, সাহস এবং সৌন্দর্যের দেবীও তিনি।

লক্ষ্মী দেবী দ্বিভুজা এবং তাঁর বাহন পেঁচা। তাঁর হাতে থাকে শস্যের ভান্ডার। তবে বাংলার বাইরে লক্ষ্মীর চতুর্ভুজা কমলে-কামিনী মূর্তি বেশি দেখা যায়। লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে হিন্দু নারীরা উপবাস ব্রত পালন করেন। এই পূজায় প্রয়োজন হয় ধানের শীষ, কাঁচা সুপারি, কলাপাতা, কলাগাছের খোলসহ নানা সামগ্রী। মঙ্গলঘট ও ধানের ছড়ার সঙ্গে গৃহস্থের আঙিনায় আজ শোভা পাবে চালের গুঁড়োর আলপনায় মা লক্ষ্মীর ছাপ। বহু বাড়ির প্রবেশপথেও মা লক্ষ্মীর পা আঁকা হবে।

হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম এই ধর্মীয় উৎসব কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা নামেও পরিচিত। কোজাগরী অর্থ ‘কে জেগে আছো’। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাসমতে, বছরের সবচেয়ে উজ্জ্বল রাত আশ্বিনের পূর্ণিমা তিথিতে ধনসম্পদ, প্রাচুর্য, সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধির দেবী লক্ষ্মী বিষ্ণুলোক থেকে পৃথিবীতে নেমে আসেন পূজা গ্রহণ করতে। লক্ষ্মী দেবী সন্তুষ্ট থাকলে সংসারে অর্থকষ্ট থাকবে না এবং সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বাড়বে। মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে দেবী ‘কে জেগে আছো’– প্রশ্ন করেন। তাই লক্ষ্মীপূজা ভক্তদের কাছে কোজাগরী পূজাও।

লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে সারাদেশের বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপের পাশাপাশি হিন্দুদের ঘরে ঘরে আজ পূর্ণিমা তিথিতে পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। বেলা ১১টা ৫৫ মিনিট থেকে এই পূর্ণিমা তিথি শুরু হয়ে আগামীকাল সকাল ৯টা ৪১ মিনিটে শেষ হবে। পূজা শেষে অঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণ করা হবে।

রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ মন্দির, রামসীতা মন্দির, পঞ্চানন্দ শিবমন্দির, গৌতম মন্দির, রাধামাধব বিগ্রহ মন্দির এবং পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, সূত্রাপুর, ফরাশগঞ্জ, লক্ষ্মীবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় লক্ষ্মীপূজার অনুষ্ঠান হবে।

এইচএসসির ফল প্রকাশিত হবে বৃহস্পতিবার

এ বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামী বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত হবে। আজ শনিবার রাতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আখতারুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। এর আগে ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল শিক্ষা বোর্ডগুলো। এর মধ্যে ২৯ অক্টোবর ফল প্রকাশের জন্য চূড়ান্ত করেছে সরকার।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র সমকালকে বলেন, সাধারণত বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশ করা হয়। ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার। এদিন ফল প্রকাশিত হবে।

জানতে চাইলে অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান সমকালকে বলেন, তাঁরা ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন। সরকার ফল প্রকাশের জন্য ২৯ শে অক্টোবর দিনটি চূড়ান্ত করেছে।

এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ২ জুলাই। এবার নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। অবশ্য পরীক্ষায় বেশ কিছুসংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।

ভারত থেকে আমদানি করা ১৩৫ টন চালে বিষাক্ত উপাদান

ভারত থেকে সরকারিভাবে (জিটুজি) আমদানি করা চাল প্রাথমিক পরীক্ষায় খাবার উপযোগী বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী পরীক্ষায় চট্টগ্রামের হালিশহর কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামের (সিএসডি) ১৩৫ টন চালে বিষাক্ত পদার্থ আফলাটক্সিনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় চালের মান যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হালিশহর সিএসডির ব্যবস্থাপক ইকবাল মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ১৩৫ টন চালে আফলাটক্সিনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। অধিকতর পরীক্ষার জন্য নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

আফলাটক্সিন এক ধরনের বিষাক্ত মাইকোটক্সিন, যা মূলত অ্যাসপারজিলাস প্রজাতির ছত্রাক থেকে উৎপন্ন হয়। খাদ্যে আফলাটক্সিনের উপস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এমভি এইচটি পাইওনিয়ার জাহাজে করে ভারত থেকে চালগুলো আমদানি করা হয়। গত ২১ জুলাই জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। পরদিন খাদ্য অধিদপ্তরের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে চালের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষায় চাল খাবার উপযোগী বলে প্রতিবেদন পাওয়ার পর ২৪ ও ২৫ জুলাই সেগুলো খালাস করা হয়।
পরে আমদানি করা চালের একটি অংশ ঢাকার তেজগাঁও সিএসডি, চট্টগ্রামের হালিশহর ও দেওয়ানহাট সিএসডি এবং গাজীপুরের জয়দেবপুর স্থানীয় খাদ্যগুদামে (এলএসডি) পাঠানো হয়। তবে গুদামে পৌঁছানোর পর চালের নিম্নমান দেখে আপত্তি তোলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। চালগুলো খাবারের অনুপযোগী বলে মনে হওয়ায় পরিবহন ঠিকাদাররাও সেগুলোর পরিবহন স্থগিত রাখেন। এ বিষয়ে খাদ্য সচিব ও খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে লিখিতভাবে জানানো হয়।

এরপর চালের মান যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ১৭ আগস্ট গাজীপুরের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের শস্যমান ও পুষ্টি বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরীফা সুলতানা দীপ্তির নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি দল চট্টগ্রামে যায়। দলটি হালিশহর ও দেওয়ানহাট সিএসডির কয়েকটি স্তূপ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে। পরবর্তী পরীক্ষায় হালিশহর সিএসডির ১৩৫ টন চালে আফলাটক্সিনের অস্তিত্ব ধরা পড়ে।
খাদ্য বিভাগ সূত্র জানায়, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জসিম উদ্দিন খানের নির্দেশে সাড়ে ৯ হাজার টন চালের বিতরণ স্থগিত রেখে মান পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পরীক্ষায় ১৩৫ টন চালে ক্ষতিকর উপাদানটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়। বাকি চাল নিয়ম অনুযায়ী বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হালিশহর সিএসডির ব্যবস্থাপক ইকবাল মাহমুদ ও দেওয়ানহাট সিএসডির ব্যবস্থাপক হামিম রহমান।
চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগের চলাচল ও সংরক্ষণ শাখার নিয়ন্ত্রক রেজোয়ান সাকিব বলেন, হালিশহর সিএসডির চালে আফলাটক্সিনের অস্তিত্ব পাওয়ার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। এ কারণে অধিকতর পরীক্ষার জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যে আফলাটক্সিনের উপস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আর্দ্র ও অনুকূল পরিবেশে শস্য, বাদাম ও চাল সংরক্ষণ করা হলে এসব ছত্রাক জন্মাতে পারে এবং সেখান থেকে আফলাটক্সিন তৈরি হতে পারে।
গাজীপুর ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের শস্যমান ও পুষ্টি বিভাগের সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আলী বলেন, আফলাটক্সিনযুক্ত খাবার দীর্ঘদিন খেলে মানুষের যকৃৎ বা লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে যায়। প্রাথমিক পরীক্ষায় খাবার উপযোগী ঘোষণা করার পরও আমদানি করা চালের একটি অংশে কীভাবে আফলাটক্সিনের অস্তিত্ব পাওয়া গেল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

লন্ডনে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ভাইয়ের ফ্ল্যাট জব্দ

লন্ডনে ১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড মূল্যের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের হাইকোর্ট। দুর্নীতিবিরোধী তদন্তকারীদের অভিযোগ, আত্মসাৎ, জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে অর্জিত অর্থের সঙ্গে ফ্ল্যাটটির যোগসূত্র রয়েছে।
এ ছাড়া প্রকৃত মালিকানা আড়াল করতে বাংলাদেশের এক ব্যবসায়ী ফ্ল্যাটটির নিয়ন্ত্রণ নামমাত্র ১ পাউন্ডের বিনিময়ে অন্যের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) চলতি সপ্তাহে আদালতের কাছ থেকে একটি বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞার আদেশ পেয়েছে। এর ফলে লন্ডনের রিজেন্টস পার্কের কাছে অবস্থিত বিলাসবহুল ফ্ল্যাটটি বিক্রি বা অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করা যাবে না।

ফ্ল্যাটটি কেনার জন্য তার প্রতিষ্ঠানের অর্থের উৎস ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হয়েছেন আনিসুজ্জামান ‘রনি’ চৌধুরী। এরপরই এই পদক্ষেপ নেয় এনসিএ।
গত বৃহস্পতিবার আদালতের শুনানিতে জানানো হয়, আনিসুজ্জামান চৌধুরীর ভাই সাইফুজ্জামান চৌধুরী বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী ছিলেন। গত বছর আনিসুজ্জামানের বিরুদ্ধে একটি ‘আনএক্সপ্লেইন্ড ওয়েলথ অর্ডার’ বা সম্পদের উৎস ব্যাখ্যার নির্দেশ জারি করা হয়েছিল। ওই নির্দেশে তাঁকে প্রমাণ করতে বলা হয়, বৈধ অর্থ দিয়েই ফ্ল্যাটটি কেনা হয়েছিল। তবে তিনি অর্থের উৎস ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হন।
যুক্তরাজ্যের দুর্নীতিবিরোধী আইন অনুযায়ী, এ ধরনের নির্দেশের জবাবে সম্পদের বৈধ উৎস প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলে সম্পত্তিটি অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে বলে আইনগতভাবে ধরে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

এনসিএর এক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে যে সংস্থাটি সন্দেহ করছে সম্পত্তিটি আত্মসাৎ, দুর্নীতি, জালিয়াতি ও অর্থ পাচারসহ অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্জিত অর্থে কেনা হয়েছে। পরে বিচারপতি কারেন স্টেইন রায় দেন, ফ্ল্যাটটি অপরাধলব্ধ অর্থের মাধ্যমে অর্জিত হয়ে থাকতে পারে এমন যুক্তিসংগত ও শক্তিশালী ভিত্তি রয়েছে। এরপর তিনি সম্পত্তিটি জব্দ রাখার নির্দেশ দেন। তবে বাড়িওয়ালার দখল পুনরুদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া চালানোর সুযোগ রাখতে আদেশে একটি ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে।

আনিসুজ্জামান চৌধুরীর আইনজীবীরা আদালতে জানিয়েছেন, তারা সম্পত্তি জব্দের আবেদনের বিরোধিতা করেননি। এ বিষয়ে এফটিকে আনিসুজ্জামান বলেন, ‘আইনজীবীদের পরামর্শে আমি এনসিএর সম্পত্তি জব্দের আবেদনের বিরোধিতা করিনি। তবে আমি কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত নই। এনসিএ যদি দেওয়ানি আইনে সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের মামলা করে, তাহলে আমি জোরালোভাবে সেই মামলার মোকাবিলা করব এবং আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা, তা প্রমাণ করব।’
ফ্ল্যাটটির মালিকানা গোপন করার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, সম্পত্তিটির মালিকানা সম্পর্কে এনসিএকে ‘স্বচ্ছভাবে তথ্য দেওয়া হয়েছিল’। স্ত্রী ও সন্তানদের বিরুদ্ধে কোনো মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া হলে তিনি তারও জোরালো প্রতিবাদ করবেন বলে জানান। তাঁর ভাষ্য, এ বিষয়ে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
জুলাই মাসে তৈরি করা সাক্ষ্যবিবৃতিতে এনসিএর ওই কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, আনিসুজ্জামান চৌধুরী যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন এবং ফ্ল্যাটটি তাঁর প্রধান আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহার করতেন।
এদিকে বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যরা ১৯৯২ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ২৯ কোটি ৫০ লাখ ডলারের সম্পত্তির বিশাল পোর্টফোলিও গড়ে তুলেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভিসা জালিয়াতির অভিযোগ কানাডায় পাঁচ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা

কানাডায় ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে পাঁচ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। কানাডা সীমান্ত সেবা সংস্থার (সিবিএসএ) তদন্তে ২০৯ বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য জমা দেওয়া ২৪৩টি অস্থায়ী ভিসার আবেদনে জাল নথি ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের চারজন কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন। তারা হলেন– রাসেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া ও কাজী নাফিজ আলম। অন্য অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

সিবিএসএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই কুইবেকের মার্সিয়ার এলাকার একটি বাসায় তদারকিমূলক অভিযান চালানো হয়। এ সময় অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সম্ভাব্য কিছু তথ্য পাওয়া

যায়। ওই বছরের আগস্টে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়। ২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিওর চারটি স্থানে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। সেখান থেকে পাওয়া কাগজপত্র, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পরীক্ষা করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে ২৪৩টি আবেদনের মধ্যে ৭৯টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করা হয়।

পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো হলো– পরিকল্পনা করে অন্যদের কানাডায় প্রবেশে সহায়তা করা। ভিসার আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করতে সহায়তা করা। অন্যদের কানাডার অভিবাসন আইন ভাঙতে সহায়তা করা। তবে এসব অভিযোগ এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিচারিক প্রক্রিয়া চলছে।

অভিবাসন-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কানাডার ভিসার আবেদনে জাল নথি বা মিথ্যা তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে। এ ধরনের প্রতারণার কারণে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। এ ছাড়া আরও আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই ভিসার আবেদন করার সময় সব তথ্য ও কাগজপত্রের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। কোনো প্রতিনিধি বা পরামর্শদাতার মাধ্যমে আবেদন করলেও জমা দেওয়া তথ্য সম্পর্কে আবেদনকারীর সচেতন থাকা উচিত। ভিসা নিশ্চিত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করার পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসন-সংশ্লিষ্টরা।

২০৯ বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য জমা দেওয়া ২৪৩টি ভিসার আবেদন তদন্তের আওতায় এলেও এর অর্থ এই নয়, সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক আবেদনকারী জালিয়াতিতে জড়িত। একইভাবে, পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দোষী বলা যায় না।

প্যারিসের উপকণ্ঠে গুলির ঘটনাকে ‘বর্ণবাদী সন্ত্রাসী’ হামলা বললেন মাখোঁ

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উপকণ্ঠে এলোপাতাড়ি গুলিতে একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনাকে ‘বর্ণবাদী সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। শুক্রবার সকালে ত্রাপ ও লা ভেরিয়ের এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে সন্দেহভাজন হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মাখোঁ বলেন, এ হামলা ফরাসি প্রজাতন্ত্র ও জাতির জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদল। তার ভাষ্য, বর্ণের কারণে এভাবে নির্বিচারে কাউকে হত্যার ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, হামলাকারী একটি গাড়িতে বসে প্রায় ১৫ মিনিট ধরে বিভিন্ন স্থানে গুলি চালান। প্রথমে প্যারিসের দক্ষিণ-পশ্চিমে ত্রাপ এলাকায় এবং পরে পাশের লা ভেরিয়ের শহরে হামলা চালানো হয়। হামলাকারী অভিবাসী বংশোদ্ভূত মানুষদের লক্ষ্যবস্তু করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আহত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীও রয়েছে।

হামলার ঘটনাস্থল ত্রাপ পরিদর্শনে গিয়ে মাখোঁ বলেন, ভুক্তভোগীদের গায়ের রং কিংবা ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এ ধরনের আদর্শের বিস্তার ঠেকাতে জনগণকে দৃঢ় থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তবে হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফ্রান্সের জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কৌঁসুলির দপ্তর (পিএনএটি) জানিয়েছে, ঘটনাটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে।

ফরাসি সংবাদমাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম কেভিন টি হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে। তার বয়স ৩৯ বছর। পিএনএটির তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে আগে চারটি অপরাধের দণ্ডাদেশ ছিল। তবে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধের রেকর্ড থেকে মুছে গিয়েছিল।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি পুলিশের কাছে পরিচিত ছিলেন। তবে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরদারির তালিকায় তার নাম ছিল না। জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কৌঁসুলির দপ্তর বিএফএমটিভিকে জানিয়েছে, তাকে ফ্রান্সের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের তালিকায়ও রাখা হয়নি।

শুক্রবার সন্দেহভাজনের নিকট পরিবারের একজন সদস্যকেও আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিএনএটি।

ত্রাপের মেয়র আলি রাবেহ বলেন, শুক্রবার সকালে এক ব্যক্তি গাড়িতে বসে বিভিন্ন স্থানে যাদের সামনে পেয়েছেন, তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ধূসর রঙের একটি রেনো ক্লিও গাড়িতে করে কয়েকটি এলাকায় ঘুরে গুলি চালান ওই ব্যক্তি। মেয়র বলেন, হামলাকারী নির্বিচারে গুলি চালিয়েছেন এবং যত বেশি সম্ভব মানুষকে হতাহত করাই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বলে মনে হচ্ছে।

মেয়র আরও জানান, ত্রাপ এলাকায় একটি পেট্রলপাম্প, একটি চিকিৎসাকেন্দ্র ও শিশুদের খেলার মাঠের কাছে গুলি চালানোর পর হামলাকারী পাশের লা ভেরিয়েরের দিকে চলে যান।

পুলিশ ইউনিয়নের এক কর্মকর্তা জানান, শহরটির মধ্য দিয়ে যাওয়া এন১০ মহাসড়কে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

আহত ১২ বছর বয়সী কিশোরীর মা ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএলকে জানিয়েছেন, তার মেয়ের শরীরে আটটি গুলির ক্ষত রয়েছে এবং অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে।

স্থানীয় পুলিশপ্রধান বিএফএমটিভিকে জানিয়েছেন, হামলায় পুরোনো ধরনের একটি আধা-স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। অস্ত্রটি দিয়ে একাধিক গুলি ছোড়া হয়েছিল। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে প্যারিসিয়াঁর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ত্রটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার হতে পারে।

পিএনএটি জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি সামরিক পর্যায়ের বা একাধিক গুলি ছুড়তে সক্ষম ‘ক্যাটাগরি এ’ অস্ত্র রাখার বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের প্রস্তুতির উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

হামলার পেছনে বর্ণবাদী উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা এখনো তদন্তাধীন। তবে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ ঘটনাটিকে বর্ণবাদী সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।