Home Blog Page 415

চাঁদে পা রাখতে যাচ্ছেন প্রথম বাংলাদেশি রুতবা

প্রথম বাংলাদেশি ও নারী হিসেবে চাঁদে পা রাখতে যাচ্ছেন রুতবা ইয়াসমিন। ‘স্পেস নেশন’-এর মুন পাইওনিয়ার মিশনের প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করে চাঁদে পা রাখার দৌড়ে সামনের সারিতে আছেন। গত ১৬ এপ্রিল স্পেস নেশন জানায়, তাদের মিশনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ সদস্যই নারী এবং রুতবা তাঁদের একজন।

রুতবা ঢাকার স্কলাসটিকা স্কুল থেকে ম্যাসাচুসেটসের মাউন্ট হোলিওক কলেজে যান। ২০১৪ সালে তিনি পদার্থবিজ্ঞানে ডিগ্রি এবং গণিতে মাইনর শেষ করেন। পরে কোভিডের সময় বাংলাদেশে ফিরে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ডেটা সায়েন্সে উচ্চতর ডিগ্রি এবং ২০২৪ সালে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ আলাবামা থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

মহাকাশ আবহাওয়া নিয়ে রুতবার গবেষণা; বিশেষ করে ‘ভূচৌম্বকীয় ঝড়’ তাঁর আগ্রহকে আরও গভীর করে। রুতবার অনুপ্রেরণা ছিলেন মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস। রুতবা মনে করেন, মহাকাশে নারীর অংশগ্রহণ এখনো সীমিত, তবে এটি পরিবর্তনের সময় এসেছে। তিনি বলেন, ‘মহাকাশশিল্পে মাত্র ১১ শতাংশ মহাকাশচারী নারী। এ চিত্র বদলানো জরুরি।’

‘মুন পাইওনিয়ার মিশনে’ তাঁর প্রশিক্ষণ ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। স্পেসস্যুট পরা, ইভিএ বা মহাকাশের বাইরে কাজ এবং মিশন কন্ট্রোলে যোগাযোগ রক্ষা করার কৌশল শেখা ছিল মূল বিষয়। সিমুলেশনে একটি বিপজ্জনক ত্রুটির সময়, রুতবা জরুরি ইভিএ করে পরিস্থিতি সামাল দেন। পরে তিনি মিশন কন্ট্রোলের ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দলের সদস্যদের আইএসআরইউ (স্থানীয় সম্পদের ব্যবহার) মডিউলের দিকনির্দেশনা দেন।

রুতবার মতে, এই মিশন দলগত কাজ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও চাপের মধ্যে সমস্যা সমাধানের দারুণ এক পরীক্ষা। তিনি বলেন, ‘আমাদের সাফল্য ছিল প্রস্তুতি, সমন্বয় ও নেতৃত্বের ফল।’ তাঁর দল ‘ম্যাগ৭’ এই মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।

মানসিক সুস্থতা ও শারীরিক প্রস্তুতিও তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মহাকাশে সুস্থ থাকতে ভালো ঘুম, পুষ্টিকর খাবার এবং পরিচ্ছন্নতার বিকল্প ব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়।

রুতবা ভবিষ্যতে চাঁদের ওপর গবেষণা, নমুনা সংগ্রহ এবং আর্টেমিস মিশনের মতো বড় প্রকল্পে কাজ করতে চান। তাঁর লক্ষ্য, শুধু চাঁদে পা রাখা নয়, ইতিহাস গড়ে নারীদের সামনে পথ খুলে দেওয়া। তিনি বলেন, ‘আমি মহাকাশ অনুসন্ধানে ঐতিহাসিক অবদান রাখতে চাই’।

বিয়ে করলেই ইউরোপ-আমেরিকাসহ যেসব দেশের নাগরিকত্ব পাবেন

আধুনিক বিশ্বে সম্ভাবনার এই যুগে এমন অনেকেই রয়েছেন, যারা জন্মভূমির পাশাপাশি সেকেন্ড সিটিজেনশিপ বা দ্বিতীয় নাগরিকত্ব চান। অন্য দেশের নাগরিক হওয়ার জন্য অনেক চেষ্টাও চালান। নাগরিকত্বের জন্য অনেকেই আবার ভিনদেশি মানুষকে বিয়ে করেন। বিশ্বের এমন কিছু দেশ রয়েছে, যেসব দেশের নাগরিককে বিয়ে করলে বৈধ উপায়ে সেই দেশের নাগরিকত্ব লাভ করা যায়। এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নোম্যাড ক্যাপিটালিস্ট। এ বিষয়ে তাহলে জেনে নেয়া যাক।

কেপ ভার্ড: প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরা পশ্চিম আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্ড। দেশটির নাগরিককে বিয়ে করলে সেই দেশের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই দেশটির নাগরিককে বৈধভাবে বিয়ে করতে হবে। নাগরিকত্ব লাভের জন্য কেপ ভার্ডে বসবাসের কোনো পূর্বশর্ত নেই। ফলে এ দেশের নাগরিকদের বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব লাভ সহজ ও সময় সাশ্রয়ী।

স্পেন: দক্ষিণ ইউরোপের  বৃহৎ দেশ স্পেন। দেশটির আইনে বলা আছে, কেউ স্প্যানিশ নাগরিক বিয়ে করার পর একসঙ্গে এক বছর বসবাস করলেই স্পেনের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। দেশটির নাগরিকত্ব একবার পেলে পাশাপাশি লাতিন আমেরিকা, পর্তুগাল, ফিলিপাইন ইত্যাদি দেশের দ্বৈত নাগরিকত্বের সুবিধা পাওয়া যায়। এ জন্য স্প্যানিশ নাগরিককে বিয়ের বৈধ সনদ ও একসঙ্গে বসবাসের প্রমাণাদি লাগে। কখনো কখনো স্প্যানিশ ভাষায় প্রাথমিক দক্ষতা এবং দেশটির সংস্কৃতি সম্যক ধারণা কাজে লাগে।

কলম্বিয়া: লাতিন আমেরিকার চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ কলম্বিয়া। দেশটিতে অফুরন্ত সুযোগ রয়েছে। অনেকেরই বিশ্বাস, কলম্বিয়া হচ্ছে আমেরিকার লুকানো রত্ন। সাধারণত দেশটিতে নাগরিকত্বের জন্য পাঁচ থেকে দশ বছর পর্যন্ত সময়ের প্রয়োজন হয়। কিন্তু দেশটির নাগরিক বিয়ে করলে এই সময় মাত্র দুই বছরে এসে দাঁড়ায়। এ জন্য স্প্যানিশ ভাষায় অনুষ্ঠিত নাগরিকত্ব পরীক্ষায় উত্তীর্ণের প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া আপনি অন্য কোনো লাতিন দেশের হলে মাত্র এক বছরে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

আর্জেন্টিনা: ফুটবলপ্রেমী মানুষদের কাছে খুবই পরিচিত এক নাম আর্জেন্টিনা। দেশটির কোনো নাগরিককে বিয়ে করলে সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি মিলে। বিয়ের দুই বছর পরই আর্জেন্টিনার নাগরিকত্ব অর্জনের আবেদন করা যায়। এ জন্য বিয়ের বৈধ কাগজপত্র এবং কোনো ধরনের অপরাধ না করার প্রমাণাদির প্রয়োজন হয়। অনেক সময় স্প্যানিশ ভাষার জ্ঞানও লাগে।

মেক্সিকো: আপনি যদি মেক্সিকান কোনো নাগরিককে বিয়ে করে তার সঙ্গে দুই বছর বসবাস করেন, তাহলে দেশটির নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন বলে উল্লেখ রয়েছে মেক্সিকোর আইনে। এ জন্য আপনার স্প্যানিশ ভাষার দক্ষতা, বিয়ের বৈধ কাগজপত্র ও একসঙ্গে থাকার প্রমাণাদি লাগবে। এখানে ভালো সুবিধা হচ্ছে, আপনি মেক্সিকোর নাগরিকত্ব পেলেও আগের দেশের পাসপোর্ট সঙ্গে রাখতে পারবেন।

তুরস্ক: অনেকের কাছেই তুরস্ক হচ্ছে স্বপ্নের দেশ। ইতিহাস ও ঐতিহ্যে ঘেরা তুরস্কে বিয়ের পর তিন বছর একসঙ্গে থাকলে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। লাতিন আমেরিকা বা ইউরোপের তুলনায় তুরস্কের নাগরিকত্ব অর্জন অনেকটাই সহজ। এ দেশের নাগরিকত্বের জন্য ভাষা বা সংস্কৃতি জানার প্রয়োজন নেই। কেবল তিন বছর একসঙ্গে বসবাস করতে পারলেই দেশটির নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবেন। নাগরিকত্ব পেলে দেশটির পাসপোর্ট দিয়ে বিশ্বের ১১০টিরও বেশি দেশে ভিসা ফ্রি বা অন অ্যারাইভাল সুবিধা পাবেন।

সুইজারল্যান্ড: কঠোর অভিবাসন নীতির জন্য সুইজারল্যান্ডের নাগরিকত্ব লাভ খানিকটা জটিল। তবে দেশটির নাগরিককে বিয়ের মাধ্যমে বৈধভাবে নাগরিকত্ব লাভ করা যায়। আপনি যাকে বিয়ে করবেন তিনি যদি সুইস নাগরিক হয়ে থাকেন এবং আপনারা একসঙ্গে তিন বছর থাকলে, তাহলে পাঁচ বছর বসবাসের পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবার দেশের বাইরে থাকলেও দাম্পত্যজীবনের ছয় বছর অতিক্রম হলে সুইজারল্যান্ডের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। দেশটির নাগরিকত্ব অর্জন করলে ইউরোপে বসবাসের সুযোগ পাবেন। এ জন্য সুইস সমাজে মিশে যাওয়ার প্রমাণ যেমন- সুইজারল্যান্ডের ভাষা, সংস্কৃতিক সম্পর্কে জানা-শোনা, কোনো ধরনের অপরাধমূলক কাজে না জড়ানোর রেকর্ড ও বৈধ দাম্পত্য সম্পর্কের সনদ হলেই নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

বিজিএমইএর নতুন সভাপতি মাহমুদ হাসান বাবু

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ২০২৫-২৭ মেয়াদের জন্য সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন রাইজিং ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদ হাসান খান (বাবু)। শনিবার (১৪ জুন) নির্বাচনী বোর্ড বিজিএমইএ পর্ষদ ২০২৫-২৭ সেশনের জন্য কার্যনির্বাহী পদ বণ্টন সম্পন্ন করেছে। আগামী ১৬ জুন নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণ করবে।

গত ৩১ মে পোশাক খাতের সবচেয়ে বড় এই সংগঠনটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নির্বাচিত পরিচালকরা সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচনের জন্য ভোট দেন।

সেলিম রহমান সহ-সভাপতি (প্রথম) এবং ইনামুল হক খান সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. রেজওয়ান সেলিম, মিজানুর রহমান (অর্থ), ভিদিয়া অমৃত খান, মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী এবং মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী।

এর আগে, বিজিএমইএ ২০২৫-২৭ মেয়াদের নির্বাচনে ‘ফোরাম’ জোট নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। ঢাকার ২৬টি পরিচালক পদের মধ্যে তারা ২৫টিতে এবং চট্টগ্রামের ৯টি পদের মধ্যে ছয়টিতে জয়ী হয়। অর্থাৎ, নির্বাচিত ৩৫ জন পরিচালকের মধ্যে ৩১ জনই ‘ফোরাম’ জোটের, যেখানে ‘সম্মিলিত পরিষদ’ থেকে মাত্র চারজন জয় লাভ করেন।

এবারের বিজিএমইএ নির্বাচনে মোট ৭৬ জন প্রার্থী অংশ নেন। ‘ফোরাম’ ও ‘সম্মিলিত পরিষদ’ উভয় জোটই ৩৫টি পরিচালক পদের জন্য প্রার্থী দিয়েছিল। এছাড়া ‘ঐক্য পরিষদ’ ব্যানারে আরও ছয়জন প্রার্থী স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

লক্ষীপুর রায়পুরে জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম ৭১-এর কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

নুর আহাম্মদ মিলন, লক্ষীপুর প্রতিনিধি:

লক্ষীপুর জেলার রায়পুর উপজেলায় জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম ৭১-এর আয়োজনে ৩নং চরমোহনা ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের যৌথ কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সম্মেলনটি ১৩ জুন (শুক্রবার) বিকেলে উত্তর রায়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় গোটা মাঠ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রায়পুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুর রহমান ভূঁইয়া। তিনি তার বক্তব্যে বলেন,

> “বর্তমান সময় হচ্ছে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার সময়। প্রজন্ম ৭১-এর তরুণ কর্মীরাই আগামী দিনের পরিবর্তনের অগ্রদূত।”

তিনি দলীয় ঐক্য, সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, প্রজন্ম ৭১-এর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত পরিবেশে শেষ হয়, যেখানে কর্মীরা নতুন উদ্যমে সংগঠনের কাজকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নওগাঁর বদলগাছীতে জামায়াতের ওলামা বিভাগের উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী।

মোঃ ফেরদৌস হোসেন,  উপজেলা প্রতিনিধি, বদলগাছী, নওগাঁ। 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ওলামা বিভাগ, বদলগাছী উপজেলা শাখার উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১২ টায় বদলগাছী উপজেলার গোবরচাপা হাট এলাকায় ইলিয়াছ মৌলানার বাড়ীর সামনে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নওগাঁ জেলা শাখার আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য খ. ম. আব্দুর বাকিব। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মোঃ নাসির উদ্দীন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বদলগাছী উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইয়াসিন আলী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বদলগাছী উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির এবং উপজেলা ওলামা বিভাগের সভাপতি মাওলানা মোঃ ইলিয়াস হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাওলানা আনিছুর রহমান ও মাওলানা রেজাউল করিম।

পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানটিতে পবিত্র কোরআন ও হাদীসের আলোকে সমাজ সংস্কার, ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন বক্তারা। তাঁরা বলেন, ঈদের শিক্ষা আমাদের পারস্পরিক ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং আত্মত্যাগের আদর্শে উদ্বুদ্ধ করে। সেই সঙ্গে দেশের চলমান নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সচেতন ওলামা সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।

অনুষ্ঠানে বদলগাছী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত ওলামা বিভাগের নেতৃবৃন্দ, সদস্যবৃন্দ ও কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ঈদের আনন্দঘন পরিবেশে সকলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠান শেষে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও মুক্তির জন্য প্রার্থনা করা হয়।

ট্রাম্পের বিবৃতিতে বিপাকে পড়েছে ভারত

যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করার পর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় প্রতিদিনই ভারত নিয়ে মুখ খুলছেন। তিনি নিয়মিত ভারত ও পাকিস্তান নিয়ে, ভারতের বাণিজ্য শুল্ক কম করা নিয়ে, অ্যাপলকে ভারতে আইফোন না বানানোর পরামর্শ দিয়ে যা বলছেন, তাতে কি নরেন্দ্র মোদি সরকার বিপাকে পড়ছে? প্রতিদিনই বিরোধীরা ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে সরকারকে নানা প্রশ্ন করে যাচ্ছে।
ট্রাম্প যা বলেছেন
ভারত ও পাকিস্তান যে সংঘাত থামিয়ে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে, সেই ঘোষণাটা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বা দুই দেশের প্রতিরক্ষা বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী অথবা সেনার তরফ থেকে আসেনি।
নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এই ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারপর থেকে নিয়মিত এই যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব ট্রাম্প নিজেকে দিচ্ছেন এবং একাধিক মন্তব্য করেছেন।
ট্রাম্প প্রথমে বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া এক রাতের আলোচনার পর আমি খুবই আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, ভারত ও পাকিস্তান অবিলম্বে সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা বাস্তববোধ ও বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়েছে বলে দুই দেশকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
ট্রাম্পের এই বার্তার পর ভারত, পাকিস্তান এবং গোটা বিশ্ব জানতে পারে, যুদ্ধবিরতি হয়েছে। তার পরের দিনই যুদ্ধবিরতি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আমি খুবই গর্বিত যে যুক্তরাষ্ট্র এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সাহায্য করতে পেরেছে। আমি দুই দেশের সঙ্গেই কাজ করব। দেখতে চাই, হাজার বছর পরে কাশ্মীর সমস্যার কোনো সমাধান হয় কিনা।’
কাশ্মীর সমস্যা হাজার বছর ধরে চলছে, এমন তথ্য ট্রাম্প কোথা থেকে পেয়েছেন, তা জানাননি। তবে এরপর ট্রাম্প জানান, বাণিজ্য বন্ধের হুমকি দিয়ে তিনি দুই দেশকে সংঘাত থামাতে বাধ্য করেন।
এরপরেও ট্রাম্প থামেননি। তিনি বলেছেন, ‘ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সমস্যা ভয়াবহ হচ্ছিল। রোজ নানা ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র দেখা যাচ্ছিল। আমরা তা মিটিয়েছি। আমরা বলছি, এস বাণিজ্য করা যাক।’
তারপর বৃহস্পতিবার ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রায় সব পণ্যে শুল্ক কমাতে ভারত রাজি হয়েছে। তারপর তিনি বলেছেন, অ্যাপল ভারতে যে আইফোন তৈরির কারখানা করছে, সে ব্যাপারে তার আপত্তি আছে। ভারত চড়া হারে শুল্ক বসায়। ফলে ব্যবসা করতে অসুবিধা হবে।
কংগ্রেস ও বিরোধীদের দাবি
লোকসভার বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে দাবি করেছেন, সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হোক। সেখানে পেহেলগাম, অপারেশন সিঁদুর এবং যুদ্ধবিরতি যা প্রথমে ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, তা নিয়ে আলোচনা হবে। সব বিরোধী দল এটাই চাইছে।
সব বিরোধী দল পেহেলগামের পর সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছিল, অপারেশন সিঁদুর সমর্থন করেছিল। যুদ্ধবিরতির পর তারা এবার প্রশ্ন করতে শুরু করেছে।
রাজ্যসভার নেতা এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও একই দাবি করেছেন। গত ১৪ মে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের পর প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ‘পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত যে প্রত্যাঘাত করছিল, তা হঠাৎ থামিয়ে দেওয়ায় আমরা বিস্মিত। এটা স্পষ্ট হচ্ছে না। ফলে গুজব ছড়াচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প সবচেয়ে আগে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তিনিই দুই দেশের মধ্যে শান্তি স্থাপন করেছেন। তিনি বাণিজ্য বন্ধের হুমকি দিয়ে ভারতকে চাপ দিয়েছিলেন। ভারত সরকার পুরো চুপ করে আছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। অতীতে ভারতের সব সরকার দৃঢ়ভাবে জানিয়েছে, কাশ্মীর হলো ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সমস্যা। তৃতীয় কোনো দেশের কোনো ভূমিকা থাকতে পারে না। ট্রাম্পের দাবি ভারত খ-ন করেনি। আমরা মনে করি, আমাদের জাতীয় অবস্থান ও সম্মানের সঙ্গে সমঝোতা করা হয়েছে।
কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলেছেন, ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল শুল্ক-বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা করতে ওয়াশিংটন গেছেন। ট্রাম্প দোহা থেকে দাবি করছেন। সরকার চুপ করে আছে।
বিপাকে ফেলে দিয়েছেন ট্রাম্প?
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী ডিডাব্লিউকে বলেছেন, ট্রাম্প এই মন্তব্য করে ভারতকে ধরাশায়ী করে দিয়েছেন। ভারত আঞ্চলিক প্লেয়ার থেকে আন্তর্জাতিক প্লেয়ার হতে চাইছিল, জি২০তে গুরুত্ব পাচ্ছিল, বিশ্বগুরু নিয়ে কথা হচ্ছিল, সেই ভারতকে বিশাল ধাক্কা দিয়েছেন ট্রাম্প।
প্রবীণ সাংবাদিক শরদ গুপ্তা ডিডাব্লিউকে বলেছেন, ইন্দিরা গান্ধীকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সন বলেছিলেন, ১৯৭১-এ যুদ্ধ বন্ধ করতে। ইন্দিরা শোনেননি। আমেরিকা সেভেন ফ্লিট পাঠায়। তাও ইন্দিরা পিছু হটেননি। আর এবার বাণিজ্য নিয়ে ট্রাম্পের হুমকিতেই যুদ্ধবিরতি হয়ে গেলো!
বিশ্বনাথ বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভূরাজনৈতিক কারণে ভারতকে প্রধান পার্টনার করেছিল। ভারতকে সঙ্গে নিয়ে কোয়াড তৈরি হয়। ট্রাম্প পুরো বদলে দিলেন। তিনি পুরনো বন্ধু হিসাবে পাকিস্তানকে রিভাইভ করলেন। ক্লিন্টনের সময় থেকে ভারত যে প্রাধান্য পাচ্ছিল, সেখান থেকে সরে এলেন ট্রাম্প। আজ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট যদি অ্যাপলকে ভারতে বিনিয়োগ করতে মানা করেন, তারপরে তারা কি তাকে অমান্য করে এই বিনিয়োগ করতে পারে?

ইসলাইল বর্বরতা: গাজায় খাদ্যের প্রলোভন দেখিয়ে ১০২ জনকে হত্যা

মানবসভ্যতার ইতিহাসে ভয়াবহ গণহত্যা চলছে ফিলিস্তিনের গাজায়। দিন দিন দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর তা-ব বাড়ছে। ফিলিস্তিনিদের হত্যায় ব্যবহৃত হচ্ছে অত্যাধুনিক সব অস্ত্র ও কৌশল। নতুন করে সেই কৌশলে যোগ হয়েছে ‘খাবারের প্রলোভন’। ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের পক্ষে সেই প্রলোভন এড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। সেই সুযোগটিই নিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। খাবারের আশায় ত্রাণ শিবিরে জড়ো হওয়া গাজাবাসীর ওপর বোমা ফেলে তাদের হত্যা করা হচ্ছে। গত আট দিনে বিভিন্ন ত্রাণসহায়তা কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে অন্তত ১০২ জনকে হত্যা করেছে দখলদাররা। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাফাহ শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পরিচালিত সহায়তা সংস্থা গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশনে (জিএইচএফ) হামলা চালায় তারা। সেখানে ২৭ ফিলিস্তিনি নিহত হন।
গাজার বেসামরিক সুরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, ‘রাফার আল আলম এলাকায় মার্কিন প্রতিষ্ঠান থেকে ত্রাণ পেতে আসা বেসামরিক মানুষদের ওপর অমানবিক হামলা চালানো হয়েছে।’
মাহমুদ আরও বলেন, ‘ইসরায়েলি বাহিনী ট্যাঙ্ক ও ড্রোন ব্যবহার করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছে, এতে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।’ এর আগে রোববার একই স্থানে হামলায় ৩১ জন নিহত ও ১৭৬ জন আহত হয়েছিল, যদিও ইসরায়েল সেই হামলার দায় অস্বীকার করেছে।
গাজা উপত্যকার উদ্ধারকারীদের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, ভোরবেলা থেকে হাজারো মানুষ ত্রাণ পেতে আল আলম মোড়ের কাছে জড়ো হতে শুরু করেন। সে সময় ইসরায়েলি সেনারা ট্যাঙ্ক ও ড্রোন থেকে গুলি চালাতে থাকে। তখন ত্রাণপ্রত্যাশীরা কোনোভাবে সেনাদের জন্য বিপজ্জনক ছিলেন না।
খাদ্যসহায়তা প্রত্যাশাকারীদের ওপর হামলাকে অযৌক্তিক বলে জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস জানিয়েছে , গাজার বেসামরিক নাগরিকদের খাদ্য ও ত্রাণ পৌঁছানোর পথে বাধা সৃষ্টি করা যুদ্ধাপরাধ। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টার্কের মুখপাত্র জেরেমি লরেন্স জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, আমরা শুনেছি, ত্রাণসহায়তা কেন্দ্রে তিন দিন ধরে ফিলিস্তিনিদের হত্যা করা হচ্ছে। এটি অগ্রহণযোগ্য।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই ঘটনার ন্যায়বিচার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গাজাবাসী খাবারের জন্য জীবন বিপন্ন করছে, যা একদমই মেনে নেওয়া যায় না।

আওয়ামী লীগ আগে নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে তারা নির্বাচনে যোগ দেবে কিনা

আল-জাজিরাকে ড. ইউনূস
নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়া হবে কিনা, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে এক সাক্ষাৎকারে এমন প্রশ্ন করেছেন কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার উপস্থাপক। জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই প্রশ্নের জবাবের একটি অংশ আওয়ামী লীগকেই নির্ধারণ করতে হবে। দলটি আগে নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে তারা নির্বাচনে যোগ দেবে কিনা। তারা এখনো কিছু ঘোষণা করেনি। তা ছাড়া নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশন কী প্রতিক্রিয়া দেয়, সেটাসহ অন্যান্য বিষয় রয়েছে।
আল-জাজিরার বৈশ্বিক নেতাদের সাক্ষাৎকারমূলক অনুষ্ঠান ‘টক টু আল-জাজিরা’য় এ কথা বলেন ড. ইউনূস। রোববার ‘মুহাম্মদ ইউনূস: রিয়েল রিফর্ম অর জাস্ট আ নিউ রুলিং ক্লাস ইন বাংলাদেশ?’ শিরোনামে এই সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
প্রধান উপদেষ্টা আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের ওপর ছেড়ে দিচ্ছেন কিনা, সে প্রশ্নও করা হয়। জবাবে ড. ইউনূস বলেন, সেটা নয়। অন্যান্য দল আছে যারা বলতে পারে যে, এই আইনের অধীন তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশে সর্বকালের সেরা নির্বাচন আয়োজন করবে বলে উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা।
ড. ইউনূসের কাছে জানতে চাওয়া হয়, নির্বাচনের ফলাফলের প্রতি সম্মান দেখানো হচ্ছে কিনা, তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে। উদাহরণ হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে কিনা, এমন প্রশ্নও করা হয়।
উত্তরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সবাই থাকবে। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যে, আমরা বাংলাদেশে সর্বকালের সেরা নির্বাচন আয়োজন করব। আমাদের এ ধরনের নির্বাচন হতে চলেছে।’
সাক্ষাৎকারে নির্বাচনের আগে সংস্কারের তালিকা ছোট হলে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন এবং তালিকা বড় হলে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। নির্বাচন জুনের পরে যাবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
উপস্থাপক বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে এক প্রশ্নে বলেন, এটা কি বলা ঠিক যে শেখ হাসিনার পতনের পরের ‘মধুচন্দ্রিমা’ এখন সম্ভবত শেষ হয়েছে। কিছু বেশ বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যেগুলোর সুনির্দিষ্ট জবাব আপনাকে দিতে হবে। কারণ, পুরনো ক্ষমতাধরদের প্রভাব রয়েছে, অন্যরা রাজনৈতিক শূন্যতাকে কাজে লাগাতে চাইতে পারে। যেমন লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে। এর সমাধান কি বাংলাদেশ একা করতে পারে?
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এর জবাবে বলেন, ‘দুটি বিষয়, একটি জনগণের অধৈর্য নিয়ে, তা মধুচন্দ্রিমা শেষ হোক বা না হোক। বাংলাদেশের পরিস্থিতি দেখে এখনো মানুষ মনে করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনো তাদের জন্য ভালো সমাধান। তারা বলছে না, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে যেতে দাও। আজ আমাদের নির্বাচন। কেউ তা বলেনি। এই দিকেই আমরা যাচ্ছি। আমরা এমন কোনো সমস্যার মুখোমুখি হইনি যেখানে লোকেরা বলছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের হস্তান্তর করো।’
প্রফেসর ড. ইউনূসের কাছে ওই উপস্থাপক জানতে চেয়ে বলেন, আমি শেখ হাসিনা সম্পর্কে জানতে চাই। স্পষ্টতই তিনি এখনও দাবি করেন যে তিনি এখনও বাংলাদেশের বৈধ প্রধানমন্ত্রী। তিনি ভারত থেকে এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। তার উপস্থিতি কীভাবে দেখে ভারতের সরকার?
জবাবে ড. ইউনূস বলেছেন, আমাদের বিমসটেকে (বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিকাল অ্যান্ড ইকোনোমি কোঅপারেশন) একটি বৈঠক ছিল। যেখানে বিমসটেকভুক্ত সকল দেশের প্রধানরা ছিলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সেখানে ছিলেন। তার সঙ্গে আলাপ করেছি এবং স্পষ্ট করে বলেছি যে, ঠিক আছে- আপনারা যদি তাকে রাখতে চান তাহলে এ বিষয়টি এমন কিছু নয় যা আপনাদের সঙ্গে মীমাংসা করতে পারি। যেহেতু তিনি ভারতে আছেন তাই অবশ্যই তাকে চুপ থাকতে হবে, কেননা তার কথা বলা আমাদের জন্য সমস্য তৈরি করে। তিনি বাংলাদেশের ভেতরে মানুষকে উত্তেজিত করার জন্য কথা বলছেন, যাতে আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এই কথার প্রেক্ষিতে নরেন্দ্র মোদি কী বলেছেন জানতে চাইলে ড. ইউনূস বলেন, আমি যদি মূল বিষয়টি উল্লেখ করি- তিনি বলেছেন, ভারত এমন দেশ যেখানে সোশ্যাল মিডিয়া সকলের জন্যই উন্মুক্ত। যার ওপর আমি হস্তক্ষেপ করতে পারি না।
উপস্থাপক জানতে চান, তাহলে আপনার কাছে আমার প্রশ্ন হচ্ছে- আপনি কি মনে করেন যে, ভারত তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিচ্ছে? তাকে কি দেশে নিয়ে এসে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত? আর আপনি কি এ বিষয়ে কোনো সহায়তা পাবেন? জবাবে ড. ইউনূস বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই হাসিনাকে ফেরত পেতে ভারত সরকারকে চিঠি দিয়েছি। তবে তারা এখনও এতে সাড়া দেয়নি। তবে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালত হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে নোটিশ দেবে। এরপর এ বিষয়টি স্পষ্ট করে বলা যাবে।

আল জাজিরার উপস্থাপক ড. ইউনূসকে বলেন, আপনি বলতে চাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি আপনাকে বলেছেন যে, আমরা(ভারত) তার বাকস্বাধীনতা নিয়ে কিছুই করতে পারবে না। যদিও ভারতে বাকস্বাধীনতা হরণের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারেও কোনো নিশ্চয়তা দেননি তিনি। জবাবে ড. ইউনূস বলেন, না। মোদি এমন কোনো নিশ্চয়তা দেননি। এ বিষয়টি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে কেমন প্রভাব ফেলছে জানতে চাইলে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এটি এমন একটি বিষয় যা আমাদের নিজেদেরকেই সমাধান করতে হবে এবং তা অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা জানি তাদের আইনি পরিস্থিতি কেমন, আর আমাদের আইনি পরিস্থিতি কেমন। কিন্তু আমরা আদালত থেকে আইনি নোটিশ আসার অপেক্ষায় আছি।

ড. ইউনূস কি ইচ্ছা করেই ভারতের আগে চীন সফর করেছিলেন? এর মাধ্যমে তিনি কি কোনো বার্তা দিতে চেয়েছিলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, যারা চেয়েছে আমি সকলের সঙ্গেই সাক্ষাৎ করেছি। এ কারণেই আমি চীনে গিয়েছিলাম এবং এখন আমি মালয়েশিয়া যাব। এখন আমি থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আছি। আমি আশপাশের অনেক দেশ সফর করেছি। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে নিয়ে জোট সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছি। কেননা বর্তমানে সার্ক কিছুটা অচলাবস্থার মধ্যে আছে। জোটটি কাজ করছে না। আমি সার্কভুক্ত দেশের নেতাদের কাছে আবেদন জানিয়েছে যে, আসুন আমরা পুনরায় সার্ক পুনরুজ্জীবিত করি। একে অপরকে সহযোগিতা করি। একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি ইত্যাদি, ইত্যাদি। আমার আরেকটি প্রচেষ্টার অংশ হচ্ছে বিমসটেককে কেন্দ্র করে। সেখানেও আমি বলব, আসুন আমরা একত্রিত হই এবং নিজেদের সমস্যাগুলো সমাধান করি। একত্রে কাজ চালিয়ে যাই। বর্তমানে বাংলাদেশ বিমসটেকের সভাপতি। তাই বিমসটেকের বিভিন্ন সভা আয়োজন করা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

গুমের ঘটনায় প্রধান ভূমিকা পুলিশ, র‌্যাব, ডিবি ও সিটিটিসি’র: তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন

দেশে সংঘটিত বেশিরভাগ গুমের পেছনে পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি) এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) জড়িত ছিল। এমন তথ্য উঠে এসেছে গুম বিষয়ক তদন্ত কমিশনের দ্বিতীয় অন্তর্র্বতী প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গুমের শিকার ব্যক্তি, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এসব ঘটনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দায়ী করেছেন।

এছাড়া, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার বিভিন্ন ইউনিটের বিরুদ্ধে গুমে প্রত্যক্ষ জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে এসেছে। সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের বিরুদ্ধেও গুমে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ডিজিএফআই ও এনএসআই মূলত গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত। আইনগতভাবে কাউকে গ্রেপ্তার বা আটক করার এখতিয়ার তাদের নেই। অথচ এ সংস্থাগুলোর সদস্যরা যেভাবে আটক, অপহরণ ও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, তা সাংবিধানিক সীমা লঙ্ঘনের শামিল। এটি দেশের আইন ব্যবস্থায় সমান্তরাল অবৈধ শক্তি গড়ে ওঠার ইঙ্গিত দেয়। তদন্ত কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অনেক ক্ষেত্রেই নিজ কার্যপরিধি বা দায়িত্বের সীমা এবং নিয়মনীতি (এসওপি) অমান্য করে অভিযান চালিয়েছে। এটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

‘আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ: অ্যা স্ট্রাকচারাল ডায়াগনোসিস অব এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক দ্বিতীয় অন্তর্র্বতী প্রতিবেদনটি বুধবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে গুমের ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রতিটি বাহিনীর ভূমিকা বিশ্লেষণ করে তুলে ধরা হয়েছে।

পুলিশের ভূমিকা

বাংলাদেশ পুলিশের কার্যক্রম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত হয়। সংস্থাটি দেশের প্রধান আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন ও তদন্ত এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের মূল দায়িত্ব।

বাহিনীর বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটের মধ্যে রয়েছে ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি), স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। ব্রিটিশ উপনিবেশ আমলে প্রতিষ্ঠিত হলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে পুলিশ বাহিনী বর্তমানের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছেছে। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে (বিশেষত ২০০৯ সালের পর) পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, হেফাজতে নির্যাতন, মতপ্রকাশের অধিকার দমন এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ বাড়তে থাকে। কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৯ সাল থেকে পুলিশ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে শুরু করে নিরপেক্ষ জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের বদলে সরকারপন্থি ‘এনফোর্সার’ হিসেবে কাজ করে। সে সময়ে বিরোধী রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে ব্যাপক দমন-পীড়নের অভিযোগ উঠে। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়।

পুলিশের ‘ক্রসফায়ার’ নামে পরিচিত বিচারবহির্ভূত হত্যা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়। এসব হত্যাকাণ্ডের আগে কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতো না। হেফাজতে নির্যাতনের বিষয়টিও ছিল ব্যাপক। অনেক ভুক্তভোগী মারধর, বৈদ্যুতিক শক, পানিতে চুবিয়ে রাখা এবং অন্যান্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিজ্ঞতা জানান। যদিও ২০১৩ সালে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু প্রতিরোধ আইন পাস করে তৎকালীন সরকার, কিন্তু বাস্তবে খুব কম ক্ষেত্রেই এটির প্রয়োগ হয়েছে। অল্প সংখ্যক কর্মকর্তাকে এই আইনের আওতায় বিচার করার হয়েছে। ছাত্র আন্দোলন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপরও দমন-পীড়ন চালায় পুলিশ। বিশেষত ২০২৪ সালের জুলাই মাসে হওয়া ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ চলাকালে পুলিশের ভূমিকা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ব্যবহৃত হয়েছে ভিন্নমত দমনে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত কিংবা প্রচার চালানোর মতো অস্পষ্ট অভিযোগে বহু মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কমিশনের মতে, বহু রাজনৈতিক কর্মী, ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও সরকারের সমালোচকদের গুম করেছে পুলিশ। তাদের অনেককেই নির্যাতনের পর বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

এসব ঘটনা ধারাবাহিকতা পুলিশের ভেতরে জবাবদিহির অভাব, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দায়মুক্তির সংস্কৃতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা সংবিধান অনুযায়ী নাগরিক সুরক্ষা ও আইনের শাসনের বিপরীত।

র‌্যাব: আইন রক্ষা বাহিনী থেকে দমনযন্ত্রে রূপান্তর

২০০৪ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি আধাসামরিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে গঠিত হয় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। সন্ত্রাসবাদ, মাদক চোরাচালান ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনের লক্ষ্যে এ বাহিনী প্রতিষ্ঠা করা হয়।

বর্তমানে র‌্যাবের অধীনে দেশব্যাপী মোট ১৫টি ব্যাটালিয়ন রয়েছে। প্রতিটি ব্যাটালিয়নের অধীনে তিন থেকে চারটি ‘ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানি’ (সিপিসি) কাজ করে। বাহিনীটি মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ১০টি কার্যকর শাখার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এর মধ্যে অপারেশন, গোয়েন্দা, আইন ও গণমাধ্যম এবং বিমান শাখা অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (অপারেশন) অধীন এবং প্রশাসন ও অর্থ, যোগাযোগ ও এমআইএস, তদন্ত ও ফরেনসিক, প্রশিক্ষণ ও অভিযোজন, এবং গবেষণা ও উন্নয়ন শাখাগুলো অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (প্রশাসন) অধীন কাজ করে। র‌্যাবের প্রধান কার্যালয় ঢাকার কুর্মিটোলায় অবস্থিত। প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকে র‌্যাব অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, অল্প সময়ের মধ্যেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য ব্যাপকভাবে সমালোচিত হতে থাকে। তদন্ত কমিশন শত শত অভিযোগ পেয়েছে, যেখানে র‌্যাবের বিরুদ্ধে গুম, হেফাজতে নির্যাতন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার সরাসরি জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে, র‌্যাবের হাতে আটক হওয়া অনেক ব্যক্তিকে পরে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে বা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এতে বাহিনীটির আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধার বিষয়টি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়।

র‌্যাব গঠনের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য বাহিনীটিকে সন্ত্রাসবাদ দমন বাহিনী হিসেবে সমর্থন দিয়েছিল। কিন্তু পরে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনকারী ডেথ স্কোয়াডে পরিণত হয় র‌্যাব। বাহিনীটি শুরু থেকেই ব্যাপক স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করেছে। তবে তাদের কার্যক্রমে পর্যাপ্ত তদারকির অভাব থাকায় নির্যাতনের সুযোগ তৈরি করে দেয়। মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে যুক্তরাজ্য প্রায় এক দশক আগে র‌্যাবকে সহায়তা ও প্রশিক্ষণ বন্ধ করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের অভিযোগে র‌্যাব এবং বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়। র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখা বিভিন্ন ব্যাটালিয়নের সঙ্গে সমন্বয় করে গোপন অভিযান চালাত। এসব অভিযানে সন্ত্রাসবাদ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান দমনের নামে বহু অপহরণ ও গোপন স্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা হতো। এই ধরনের অভিযানের জন্য সবচেয়ে সমালোচিত ছিল ‘টাস্ক ফোর্স ফর ইন্টারোগেশন’ বা টিএফআই সেল, যা ঢাকার কুর্মিটোলায় র‌্যাব-১ সদর দপ্তরের ভেতরে অবস্থিত।

যদিও প্রকাশ্যে এটিকে একাধিক সংস্থার যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র হিসেবে উপস্থাপন করা হতো, বাস্তবে এটি পরিচালিত এবং নিয়ন্ত্রিত হতো র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার সরাসরি তত্ত্বাবধানে।

টিএফআই সেলে হাজার হাজার মানুষকে দিনের পর দিন বা মাসের পর মাস ধরে অন্ধকার কক্ষে চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় আটকে রাখা হতো। ৩৮টি সাক্ষ্য থেকে জানা যায়, এ কেন্দ্রে বন্দিদের পিটিয়ে, বিদ্যুৎ শক দিয়ে, উল্টে ঝুলিয়ে, মাথা ঘুরিয়ে বা এমনকি শরীরের অঙ্গ ছিঁড়ে নির্যাতন করা হতো। শিশু ও মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিরাও নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পাননি। যদিও সেলটি পরিচালনায় সেনা সদস্যরাই মূলত নিয়োজিত ছিলেন, তবে পুলিশের সদস্যরাও এসব অভিযানে অংশ নিতেন।

দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে র‌্যাব গোয়েন্দা বা স্থানীয় ব্যাটালিয়নের মাধ্যমে সরাসরি অপহৃত বা ডিজিএফআই-এর হেফাজত থেকে আনা ব্যক্তিদের এ সেলে আনা হতো। অনেক ক্ষেত্রেই তাদের হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হতো, যাতে খোঁজ ও শনাক্তকরণ অসম্ভব হয়ে পড়ে। কমিশন এখনো প্রায় প্রতিদিনই নির্যাতন কেন্দ্রটি সম্পর্কে নতুন নতুন অভিযোগ পাচ্ছে, যা নির্যাতনের ব্যাপকতা ও ধারাবাহিকতার প্রমাণ দেয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর র‌্যাব বাহিনী সেলের প্রকৃত পরিচয় আড়াল করতে সক্রিয় হয়। নির্যাতনের প্রমাণ মুছে ফেলতে সেলগুলোর গঠন বদলে বড় করা হয়, নির্যাতন কক্ষ ভেঙে ফেলা হয়, নজরদারি ক্যামেরা খুলে ফেলা হয় এবং ফরেনসিক প্রমাণ নষ্ট করতে মেঝের টাইলস পর্যন্ত খুঁড়ে ফেলা হয়। এটি ছিল প্রমাণ নষ্ট করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ। র‌্যাবের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ শুধু অপরাধ দমনের বাইরে যাওয়ার নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হওয়ারও। বিরোধী দল, মানবাধিকারকর্মী ও ভিন্নমতের মানুষদের ওপর দমন-পীড়নে র‌্যাবকে ব্যবহার করা হয়। অনেক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, র‌্যাব সদস্যরা জানতেন যে তাদের বিচার হবে না। এই দায়মুক্তির সংস্কৃতি তাদের বেপরোয়া করে তোলে বলে অভিযোগ তাদের। এর ফলে জনমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি ভয় জন্মায়, মানুষ বিচার পাওয়ার আশা হারায় এবং গোটা ব্যবস্থায় জবাবদিহি হীনতার সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। সরকার পরিবর্তনের পরও র‌্যাব নামে বাহিনীটি এখনো টিকে আছে। তবে র‌্যাবের অতীত কার্যক্রম ও জনমনে তৈরি করা ভয় ও অনাস্থা এখনো গণতান্ত্রিক সংস্কারের পথে বড় বাধা হয়ে আছে। কমিশন মনে করে, সত্যিকারের পরিবর্তন আনতে হলে র‌্যাব বাহিনীটি পুরোপুরি বিলুপ্ত করা দরকার। এটি না হলে দায়মুক্তির চক্র বন্ধ হবে না, জনআস্থা ফিরবে না এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়া সম্ভব হবে না।

এনএসআই’র আইনি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রয়োজন: গুম কমিশন

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) একটি আধুনিক, জবাবদিহিমূলক গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে কাজ করে তা নিশ্চিত করার জন্য এর যথেষ্ট আইনি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রয়োজন।

গুম সংক্রন্ত তদন্ত কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, এনএসআই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশের প্রধান বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে কাজ করে, দেশীয় এবং বিদেশি উভয় ধরনের গোয়েন্দা তথ্য এই সংস্থার আওতায় থাকবে। এই সংস্থা জাতীয় নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং রাজনৈতিক ও নাশকতামূলক কার্যকলাপের ওপর নজরদারি সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণ করে। এটি সীমান্ত গোয়েন্দা সংস্থার সাথেও জড়িত এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি পর্যবেক্ষণ করে। এনএসআই অন্যান্য সংস্থার সাথে কাজ করে, যেমন ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই) এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), এরফলে অধিক্ষেত্রের মধ্যে ওভারল্যাপিং, অতিরিক্ত ব্যবহার এবং আন্তঃসংস্থাগত সংঘাত দেখা দেয়। ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিকীকরণের কারণে এর কার্যকারিতা গুরুতর তদন্তের আওতায় এসেছে। অভিযোগ থেকে জানা যায়, সংস্থাটি জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির ওপর কঠোরভাবে মনোযোগ দেওয়ার পরিবর্তে রাজনৈতিক বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ এবং সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষণ এবং দমন করার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। এনএসআই তার ক্ষমতা, সীমাবদ্ধতা এবং তদারকি ব্যবস্থা সংজ্ঞায়িত করে এমন একটি বিস্তৃত সংবিধান সম্মত আইন ছাড়াই কাজ করে। এতে স্বাধীন সংসদীয় বা বিচার বিভাগীয় তদারকির অভাব রয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণহীন কর্তৃত্ব এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। কমিশন এনএসআই-কে জোরপূর্বক গুমের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ পেয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এটিকে নির্যাতন এবং অন্যান্য দুর্ব্যবহারের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ করে, যেখানে এর কার্যক্রমের অস্বচ্ছতার কারণে ভুক্তভোগীদের আইনি আশ্রয় সীমিত।

যদিও এনএসআই জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং সন্ত্রাসবাদ দমন এবং গোয়েন্দা প্রচেষ্টায় অবদান রেখেছে, তবুও এটি গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। এরমধ্যে রয়েছে রাজনীতিকরণ, স্বচ্ছতার অভাব, অপর্যাপ্ত তদারকি এবং গুরুতর মানবাধিকার উদ্বেগ।

সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমন (সিটিটিসি)

২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ (সিটিটিসি) ইউনিটকে সন্ত্রাসবাদ, সংগঠিত অপরাধ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধমূলক কার্যকলাপ মোকাবিলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এতে সাতটি বিশেষায়িত বিভাগ রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ (সোয়াত), বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট, অবৈধ অস্ত্র বিরোধী ইউনিট, ক্যানাইন ইউনিট ও সাইবার ক্রাইম ইউনিট। সিটিটিসি উদীয়মান নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার দাবি করলেও, এটি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-এর মতো অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীকে দীর্ঘদিন ধরে যে অপব্যবহার ও দায়মুক্তি দিয়ে আসছে তার সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়েছে। এমনকি যখন তারা অন্যান্য সংস্থার তুলনায় অল্প সময়ের জন্য বেআইনিভাবে বন্দীদের আটক করে, তখনও সিটিটিসি কর্মীরা আইনি ব্যবস্থার কৌশলগত অপব্যবহারের মাধ্যমে গুরুতর ক্ষতি করে বলে জানা গেছে। এই ইউনিটটি অসংখ্য মিথ্যা মামলা দায়ের করার জন্য পরিচিত। যার ফলে ‘নির্দিষ্ট’ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ‘আইনশৃঙ্খলা’ পরিচালনার জন্য বিচার বিভাগকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সন্ত্রাস দমনের নামে বিদেশি সরকার কর্তৃক সমর্থিত র‌্যাবের মতোই, সিটিটিসি আন্তর্জাতিক সমর্থন থেকে উপকৃত হয়েছে। তবুও, র‌্যাবের মতো এই বিদেশি সমর্থন, তাদের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের দিকে ঝুঁকে পড়া রোধ করতে পারেনি।

সিটিটিসি জোরপূর্বক গুম, নির্যাতন ও নির্বিচারে আটকের মতো গুরুতর অভিযোগের সম্মুখীন হয়েছে।

বাংলাদেশের ভেতরে ও বাইরে মানবাধিকার কর্মীরা তথাকথিত সন্ত্রাসী বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ব্যক্তিদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এগুলো আইনের শাসনকে ক্ষুণ্ন করেছে এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের অবিশ্বাসকে আরো সুদৃঢ় করেছে। কমিশন এমন অসংখ্য ঘটনা নথিভুক্ত করেছে, যেখানে ব্যক্তিদের জোরপূর্বক ধরে নিয়ে লুকিয়ে রাখা হয়েছে, তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে ও জিজ্ঞাসাবাদের আড়ালে তাদের নির্যাতন করা হয়েছে।
বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে, পরে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মনগড়া অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়েছিল। আটক ব্যক্তিরা তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বা জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের উদ্দেশ্যে নির্মম নির্যাতনের শিকার হওয়ার বর্ণনা দিয়েছেন। চাপের মুখে দেওয়া এই ধরনের স্বীকারোক্তি তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করেছে। কমিশনের সাক্ষাৎকার নেওয়া ভুক্তভোগীরা সিটিটিসি হেফাজতে থাকাকালীন মানসিক যন্ত্রণা ও শারীরিক নির্যাতনের কথা বর্ণনা করেছেন। বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও সুষ্ঠু প্রাতিষ্ঠানিক তদারকির অভাবে যার নিয়ন্ত্রণহীনভাবে নির্যাতন চলতে থাকে। সিটিটিসি যথাযথ প্রমাণ বা আইনি ভিত্তি ছাড়াই নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেফতার করে। বিশেষ করে যারা সরকারের বিরোধী বলে বিবেচিত রাজনৈতিক বা ধর্মীয় গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ ছিল, তাদেরকেই গ্রেফতার করা হয়।

এই পদক্ষেপগুলো প্রকৃত নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত বলে মনে হচ্ছে। নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ভুক্তভোগীরা তাদের বিনা অপরাধে আটক করার কথা জানিয়েছেন। এ ধরনের ঘটনা অবিচারের ইঙ্গিতই বহন করে। সিটিটিসি অস্বচ্ছতার আড়ালে কাজ করেছে। তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে জনসাধারণকে কিছুই জানতে দেওয়া হয় না।
তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ সত্ত্বেও, অর্থপূর্ণ জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা অনুপস্থিত ছিল। অবৈধ আটক থেকে শুরু করে নির্যাতন পর্যন্ত অসদাচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা খুব কমই বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। ফলস্বরূপ, সিটিটিসি দায়মুক্তির একটি অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে। এ ধরনের দায়মুক্তির সংস্কৃতি শেষ পর্যন্ত র‌্যাবের সম্মানও ক্ষুণ্ন করেছিল। কমিশনের অনুসন্ধানগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, সিটিটিসি একটি নিরপেক্ষ সন্ত্রাসবিরোধী সংস্থা হিসাবে কাজ করার পরিবর্তে, সেই অনুশীলন ও দায়মুক্তির প্রতিফলন ঘটাচ্ছে- আন্তর্জাতিক অংশীদাররা এক সময় এই কারণেই অন্যান্য সংস্থাগুলোর নিন্দা করেছিল। যদি র‌্যাবের পরিণত একটি সতর্কীকরণ হিসেবে কাজ করে, তাহলে সিটিটিসি এখন একই রকমের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। যেখানে অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা, বিদেশি মদদ ও রাজনৈতিক অপব্যবহারের ফলে পদ্ধতিগত লঙ্ঘন ও জনসাধারণের আস্থা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

প্রথমবার বিগব্যাশে বাবর আজম

জাতীয় টি-টোয়েন্টি দলের বর্তমান পরিকল্পনায় না থাকলেও আন্তর্জাতিক তারকা বাবর আজমকে দলে ভেড়ালো অস্ট্রেলিয়ার বিগব্যাশ লিগ (বিবিএল) ফ্র্যাঞ্চাইজি সিডনি সিক্সার্স। ২০২৫ মৌসুমে তিনি সরাসরি চুক্তিতে খেলবেন এই দলে। এটাই তার প্রথম বিগব্যাশ অভিজ্ঞতা। ক্রিকেটপাকিস্তান

বিগব্যাশ লিগের নিয়মানুযায়ী, ড্রাফট শুরুর আগে প্রতিটি দল একজন করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারকে প্রি-সাইন করতে পারে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই বাবরকে দলে টেনেছে সিডনি সিক্সার্স। ১৯ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক প্লেয়ার ড্রাফটের আগেই বাবরের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি সম্পন্ন করে তারা।

দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাবর আজমের মতো অভিজ্ঞ ও বিশ্বমানের একজন ব্যাটারকে পাওয়ায় দলের শক্তি অনেক গুণ বেড়ে যাবে। তার সঙ্গে একই দলে থাকছেন অস্ট্রেলিয়ান তারকা স্টিভেন স্মিথ, শন অ্যাবটসহ আরও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা।

বিগত মৌসুমে সিক্সার্সই ছিল একমাত্র দল যারা কোনো বিদেশি খেলোয়াড়কে প্রি-সাইন করেনি। এবার তারা বাবরের মতো তারকাকে টেনে এনে স্কোয়াডে অভিজ্ঞতার ভারসাম্য এনেছে।

তবে বাবরের সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। ব্যাটে নেই চেনা ছন্দ, পাকিস্তান দলে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে জায়গাও হারিয়েছেন। তা সত্ত্বেও বিগব্যাশে খেলার সুযোগ পাওয়ায় আলোচনায় ফিরে এসেছেন তিনি।

এদিকে চুক্তির পর এক বিবৃতিতে বাবর বলেন, এটা দারুণ এক সুযোগ। বিশ্বের সেরা টি-টোয়েন্টি লিগগুলোর একটি বিগব্যাশ এবং এমন সফল একটি দলের অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত। দলের সাফল্যে ভূমিকা রাখতে চাই, ভক্তদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়তে চাই এবং পাকিস্তানে আমার পরিবার ও সমর্থকদের সঙ্গে এই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে চাই।

অস্ট্রেলিয়ায় এবার প্রথমবারের মতো বাবরের আগমনকে ঘিরে ইতোমধ্যে ভক্ত-সমর্থকদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনেকেই বলছেন, ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে বাবরের জন্য এটি হতে পারে এক নতুন শুরু।