Home Blog Page 46

সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসছে কাল ১৩ স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ হারাচ্ছে বিরোধী দল পদ পেতে সরকারের শর্ত মানতে রাজি নয় বিরোধী দল

সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি বর্জনের কারণে সংসদের ১৩ স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ হারাচ্ছে বিরোধী দল। এ জন্য বিরোধী দলের অনাগ্রহকে দায়ী করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তিনি জানিয়েছেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া সংসদের তৃতীয় অধিবেশনেই কমিটি গঠনের কাজ শেষ হবে। আগের সংসদের রেওয়াজ মেনে এবারের কমিটিও গঠন করা হবে।

যদিও জুলাই সনদ অনুযায়ী, ১৪টি স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে বিরোধী দলীয় সদস্যদের দায়িত্ব পাওয়ার কথা। ত্রয়োদশ সংসদের শুরু থেকেই গণভোটের রায় নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকারের পদ দেওয়ার প্রস্তাব করলেও এর জের ধরে তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় তারা।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম গত রাতে সমকালকে জানান, জুলাই সনদ অনুযায়ী বিরোধী দলের সদস্যদের সভাপতির পদ পেতে সরকারের পক্ষ থেকে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। অনানুষ্ঠানিক এই প্রস্তাবে সরকারের তরফে বিরোধী দলকে বলা হয়েছে, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নিলেই এই পদ পাওয়া যাবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিরোধী দলের জন্য সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

সংসদ সচিবালয়ের আইন শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, সংসদের প্রথম তিন অধিবেশনের মধ্যে ৫০টি সংসদীয় কমিটি গঠনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। দুই অধিবেশন শেষে মাত্র ১৫টি কমিটি গঠন হয়েছে। এর মধ্যে মন্ত্রণালয়বিষয়ক ৯টি এবং বিষয়ভিত্তিক কমিটি ছয়টি। বাকি ৩৫টি কমিটি এ অধিবেশনেই গঠন করতে হবে। ৫০টি সংসদীয় কমিটির মধ্যে মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি আছে ৩৯টি। বিষয়ভিত্তিক কমিটি রয়েছে ১১টি।

২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের ২৪ নম্বর সুপারিশে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদের বিষয়ে বলা আছে, সরকারি হিসাব, বিশেষ অধিকার, অনুমিত হিসাব ও সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সভাপতি পদে বিরোধীদলীয় সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে সংসদের আসনের সংখ্যানুপাতে বিরোধী দলের মধ্য থেকে নির্বাচন করা হবে। অর্থাৎ, বিষয়ভিত্তিক চার কমিটি ছাড়াও সংখ্যানুপাতে বিরোধীদের ৯০ সদস্যের বিপরীতে আরও ১০টি সভাপতির পদ বিরোধী দল পাওয়ার কথা। গত দুই অধিবেশনে গঠিত ১৫ স্থায়ী কমিটির মধ্যে সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতির একটি পদ দেওয়া হয়েছে বিরোধী দলকে।

এই সনদের বেশ কয়েকটি বিষয় ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকলেও কমিটি গঠনের এই প্রক্রিয়া নিয়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ৩০টি দল ঐকমত্য পোষণ করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, শর্তারোপের অভিযোগ সঠিক নয়, সংসদীয় কার্যক্রম চলে রেওয়াজ অনুযায়ী। অতীতে সংসদীয় কমিটি গঠনে যে প্রক্রিয়া মেনে হয়েছে, এবারও তাই অনুসরণ করা হবে। তিনি বলেন, জুলাই সনদ পাস হওয়ার পরে সেটা মেনে কমিটি গঠনের বিষয়টি সামনে আসবে। এখন পর্যন্ত সংবিধান সংশোধনই হয়নি।

স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বিরোধী দলকে দিতে সংবিধান সংশোধন বাধ্যতামূলক কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, একজনে হ্যান্ডশেক হয় না। সনদ বাস্তবায়নে বিরোধী দল আন্তরিকতা দেখিয়ে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নিলে সরকারি দলও হাত বাড়াতে পারে। তিনি বলেন, সংসদের অধিবেশনে কমিটি গঠন বা পরিবর্তন যে কোনো সময়েই সম্ভব। তবে এ বিষয়ে তারা প্রথম থেকেই নেতিবাচক আচরণ করছে।

সংক্ষিপ্ত হবে এবারের অধিবেশন
আগামীকাল বিকেল ৩টা থেকে শুরু হতে যাওয়া এই অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হবে বলে আভাস দিয়েছেন সংসদ সচিবালয়ের আইন শাখার কর্মকর্তারা। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার জন্য বসা এই অধিবেশন শুরুর আগে দুপুর ২টায় কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের মেয়াদ ও কার্যাবলি চূড়ান্ত করা হবে।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হতে পারে এই অধিবেশনের মেয়াদ। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে ১১ আগস্ট সংসদ অধিবেশন আহ্বান করা হয়। সংবিধান অনুযায়ী, দুটি অধিবেশনের মধ্যবর্তী বিরতি ৬০ দিনের বেশি হবে না। গত ১৫ জুলাই সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হয়। এ হিসাবে আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অধিবেশন শুরুর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সম্মেলন থাকায় কিছুটা আগে অধিবেশন শুরু হচ্ছে। এ অধিবেশনের পর ২১ সেপ্টেম্বর সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সম্মেলনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র যাবেন।

জাতীয় ইস্যুতে সরব থাকতে প্রস্তুত বিরোধী দল 
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, চলমান বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ে তারা সংসদে সরব থাকার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন। কার্যপ্রণালি বিধি মেনে এসব ইস্যুতে সংসদে নোটিশ দেওয়ার জন্য নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছে। কে, কোন ইস্যুতে নোটিশ দেবেন, তা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করা হচ্ছে।

এ ছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিল এই অধিবেশনে উঠবে। বিলগুলো নিয়ে বিরোধী দল ইতোমধ্যেই তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছেন। সংসদের বৈঠকেও তা যথাযথভাবে তুলে ধরার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

যদিও চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, সরকারি দলের পক্ষ থেকেও এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে। তিনি জানান, এ অধিবেশনটি সংক্ষিপ্ত হলেও এবার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হবে। বিরোধী দল হয়তো কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আসতে পারে। এ ধরনের কোনো ইস্যু এলে নিশ্চয়ই এর ওপর আলোচনা হবে।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদে বিল আকারে উত্থাপনের জন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এবং সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন ইতোমধ্যে সংসদ সচিবালয়ে জমা হয়েছে। এ ছাড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া ব্যাংক রেজ্যুলেশন (সংশোধন) আইন এবং র‍্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে নতুন বিশেষায়িত বাহিনী গঠনে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইনও বিল আকারে তোলার জন্য শিগগিরই জমা হবে। এসব বিল তোলার পর চলতি অধিবেশনেই পাস হতে পারে।

এদিকে, অধিবেশন শুরুর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিএনপিদলীয় সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ভূমিকম্পের পর বন্যা নেপালে শতাধিক বিদেশি পর্যটকসহ নিখোঁজ ৪০০, নিহত বেড়ে ৩১

নেপালে আকস্মিক বন্যায় ৪০০ জন পর্যটক নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে। দেশটির ট্যুরিজম বোর্ডের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ২৯১ জনই বিদেশি নাগরিক। ১০৫ জন ভারতীয় এবং ১১১ জনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শনাক্ত হওয়া বাকিদের মধ্যে নেপালের স্থানীয়, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশের নাগরিক আছেন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ৩১ জন নিহতের তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। নিখোঁজ ও হতাহতের সংখ্যা নিয়মিত বাড়ছে। এই বন্যায় প্রতিবেশী তিব্বতেও ‘ব্যাপক হতাহতের’ খবর দিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি। দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিব্বতে কৈলাস মানসসরোবরে যাওয়া প্রায় ৪০০ তীর্থযাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

এক ব্যক্তিকে নিরাপদ স্থানে নেন উদ্ধারকারীরা। বুধবার নেপালের নুয়াকোট জেলায়। ছবি: এএফপি

এক ব্যক্তিকে নিরাপদ স্থানে নেন উদ্ধারকারীরা। বুধবার নেপালের নুয়াকোট জেলায়। ছবি: এএফপি

বুধবার ভোরে আকস্মিক বন্যায় নেপালের রাসুওয়া জেলায় চীন সীমান্তবর্তী এলাকার কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়। সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল প্রাথমিক তথ্যের বরাত দিয়ে পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, হিমালয় ঘেঁষা চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায় সকালে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এরপর শুরু হয় তুষারধস। সেখান থেকে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে তিব্বত অঞ্চলে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। শিশির খানাল জানান, তাঁর দেশ চীনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত ২৬ পুলিশ সদস্য, ৯ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য এবং ৪৪ জন সামরিক সদস্য নিখোঁজ আছেন।

নুয়াকোটের ত্রিশুলি বাজারে প্লাবিত এলাকা। ছবি: এএফপি

নুয়াকোটের ত্রিশুলি বাজারে প্লাবিত এলাকা। ছবি: এএফপি

এদিকে দ্য কাঠমান্ডু পোস্টকে কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জলবায়ু গবেষক রিজন ভক্ত কায়স্থ জানিয়েছেন, প্রাথমিক মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে, তুষারধস লহেন্দে নদীর প্রবাহ আটকে দিলে ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। একই সময় ভূমিকম্পও অনুভূত হয়।

নেপাল পুলিশ ও এএফপির প্রকাশ করা ছবিতে দেখা যায়, নদীর প্রবল স্রোত আশপাশের বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কাদামাটির মধ্যে একটি বাড়ির শুধু ওপরের তলা বেরিয়ে আছে। নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তারা হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত সদস্যদের পাঠিয়েছে।

একটি ভবনে আছড়ে পড়ে বন্যার পানি। বুধবার তিব্বতে। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে

একটি ভবনে আছড়ে পড়ে বন্যার পানি। বুধবার তিব্বতে। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে

জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। বেশ কয়েকটি মহাসড়কও বন্ধ হয়ে গেছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, নেপালের অংশে বন্যার কারণে তিব্বতের গিরং বন্দরে ব্যাপক হতাহত ও বহু মানুষ নিখোঁজ হয়েছে। সিনহুয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সর্বাত্মক উদ্ধার অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এসব প্রতিবেদনে তিব্বতে আহত বা নিহতের সংখ্যা জানানো হয়নি।

নিরলস গান করে যাচ্ছি, আমৃত্যু গানই করে যেতে চাই: বাপ্পা মজুমদার

বাপ্পা মজুমদার। নন্দিত কণ্ঠশিল্পী ও সংগীত পরিচালক। তাঁর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে নতুন একক গান ‘গলে যাওয়া সময়’। সদ্য প্রকাশিত ও গান ও অন্যান্য প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন রাসেল আজাদ বিদ্যুৎ

‘বুড়ো নাবিকের গল্প’র পর এলো আপনার লেখা আরেকটি গান ‘গলে যাওয়া সময়’। নিজ ভাবনার জগতকে চিনিয়ে দিতেই কি শিল্পী ও সংগীত পরিচালকের পাশাপাশি গীতিকার হিসেবে কাজ করা? 
শিল্পী হিসেবে প্রতিটি কাজেই নিজস্ব একটা ছাপ রেখে দেওয়ার চেষ্টা করি। সংগীত পরিচালক হিসেবে যখন কোনো গান তৈরি করি, তখনও বিষয় বৈচিত্র্য নিয়ে ভাবতে হয়। পুরো প্রক্রিয়াটা তো নিজ ভাবনাকে কেন্দ্র করে এগোতে থাকে। বাকি থাকে কেবল গানের কথা লেখার বিষয়টি। নিজের লেখা বা অন্য কোনো গীতিকারের লেখা নিয়ে গান তৈরি করতে গেলেও একান্ত নিজের পরিকল্পনা প্রাধান্য পায়। হ্যাঁ, এটি বলা যায়, গীতিকার একেকটি বিষয় তুলে আনা বা দৃশ্যপট তৈরিতে গীতিকারদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি উঠে আসে। সে হিসাবে এটি বললে ভুল হবে না, যে ‘বুড়ো নাবিকের গল্প’ কিংবা ‘গলে যাওয়া সময়’ গান দুটিতে আমার যা ভাষ্য, তা আমার মতো করে উঠে এসেছে। গীতিকথা কিন্তু আমি আগেও লিখেছি। হয়তো এভাবে এক এক করে প্রকাশ পায়নি।

‘গলে যাওয়া সময়’কে কি অতীত রোমন্থনের গান বলা যায়?   
বলা যেতে পারে, কারণ এই গানে আমি ফেলে আসা সময়ের শূন্যতা পরিমাপের কথা বলেছি। বালু, নদী স্রোতের মতো সময় বয়ে যায়, ঘড়ির কাঁটার মতো সরে গিয়ে অনন্তে হারায়। এভাবে সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু হারিয়ে যাচ্ছে আর দৃশ্যের মতো জমা হচ্ছে স্মৃতিকোষে। এই চিরন্তন সত্যিটাই গানে তুলে আনা হয়েছে। ভালো লাগার বিষয় হলো, এই গানের ভিডিওটি নির্মাণ করে দিয়েছেন আলোচিত চলচ্চিত্র নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল।

একক গানের আগে প্রকাশ পেয়েছে নতুন সংগীতায়োজনে গাওয়া এলআরবির কালজয়ী গান ‘রূপালি গিটার’। এ আয়োজন নিয়ে জানতে চাই। 
এই বিষয়টা তো মোটামুটি সবার জানা যে, ‘রক আইকন’ আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিন উপলক্ষে একটি ডাবল অ্যালবাম প্রকাশ করা হয়েছে। মূলত ‘উত্তরাধিকার’ নামে সেই অ্যালবামের জন্যই দলছুটের সদস্যদের নিয়ে ‘রূপালি গিটার’ গানটি নতুন সংগীতায়োজেন গাওয়া। এ আয়োজন কেবলই একজন কিংবদন্তি শিল্পী ও সংগীত পরিচালক শ্রদ্ধা জানানোর। আমি সবসময় বিশ্বাস করি, সংগীতসহ সৃষ্টিশীল প্রতিটি মাধ্যমে গুণীজন যারা আছেন, জীবদ্দশাতেই তাদের শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানো উচিত। যদিও বাচ্চু ভাই [আইয়ুব বাচ্চু] আর আমাদের মাঝে নেই, তবু আজ যে শ্রদ্ধা ও সম্মান তাঁকে জানানো হচ্ছে, সেটি তাঁর জীবদ্দশাতেই দেওয়া উচিত ছিল।

কদিন আগে এ প্রজন্মের কয়েকজন শিল্পী গানে গানে আপনাকে শ্রদ্ধা জানাল, শ্রোতা আসনে বসিয়ে শোনাল আপনার জনপ্রিয় কিছু গান। ‘সেলিব্রিটিং বাপ্পা মজুমদার’ নামে সেই অনুষ্ঠানের অভিজ্ঞতাটা জানতে চাই? 
প্রিয় অনুজ শিল্পীদের কণ্ঠে নিজের গান শুনতে পাওয়া– ভীষণ ভালো লাগার। যে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিয়ে ‘সেলিব্রিটিং বাপ্পা মজুমদার’ সংগীত সন্ধ্যার আয়োজন, তা আমৃত্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এলিটা, শুভ, জয়িতা, জয়, সন্ধি, ইউসুফ, সভ্যতা ও সৌরভ ভালোবেসে আমার গানগুলো যেভাবে গেয়েছে, তাঁর অনুরণন এখনও রয়ে গেছে। এটি শিল্পীজীবনের অন্যরকম এক পাওয়া; যার অনুভূতি কথা বলে বোঝানো যাবে না। সত্যিই আমি সৌভাগ্যবান, এমন কিছুর সাক্ষী হতে পেরে।

গানের ভুবনে পথচলার তিন যুগ পূর্ণ হতে চলেছে। পেছন ফিরে তাকালে, এই দীর্ঘ সফরটা মনের পর্দায় ধরা দেয়? 
পেছনের পুরো সময়টা চলচ্চিত্রের মতোই মনের পর্দায় ভেসে ওঠে। শৈশব-কৈশোরের দুরন্তপনা আর অধ্যবসায়ের দৃশ্যগুলো বাদ দিলে বাকি সব প্রায় একই রকম। গান গাওয়া, সুর বাধার চেষ্টা; নয়তো বাদ্যযন্ত্র হাতে নিয়ে চালিয়ে সংগীত নিরীক্ষা চালিয়া যাওয়া– এমনই সব দৃশ্যের ঘোরাফেরা। গানের মানুষ বলেই হয়তো অতীত দৃশ্যের খুব একটা বদল হয় না। তবু অবাক লাগে, সুরের অতলে ডুব দিয়ে এতটা পথ কীভাবে পাড়ি দিয়েছি ভেবে। সময় হয়তো এমনি করেই জলের মতো আঙুলের ফাঁক গলে বেরিয়ে যায়। তা যাক, এখন কথা হলো– সংগীতের এই দীর্ঘ সফরে আমি বেশি কিছু করতে পেরেছি কী? হয়তো পারিনি। আর পারিনি বলেই এখনও সৃষ্টির নেশা এতটুকু কমেনি। আসলে শিল্পীমনের তৃষ্ণা ফুরিয়ে যাওয়ার নয়। তাই তো নিরলস গান করে যাচ্ছি, আমৃত্যু গানই করে যেতে চাই।

রুনা লায়লার সঙ্গে দ্বৈত গান গাইলেন। এরপর কী আপনাদের গানের কোনো অ্যালবামের আশা করা যায়? 
এ নিয়ে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। আমি এই প্রাপ্তিতে খুশি যে, রুনা লায়লার মতো জীবন্ত কিংবদন্তির সঙ্গে দ্বৈত গান গাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। শিল্পীজীবনে এটি ছিল অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা। একই সঙ্গে সংগীত ক্যারিয়ারের এক পরম প্রাপ্তি। রুনা লায়লার কণ্ঠ ও গায়কি নিয়ে কিছু বলার সাহস নেই। তাঁর জন্য গানের সুর করতে পারাই ছিল আমার অন্যরকম আনন্দের। ‘অনায়াসে’ গানটি মূলত রুনা লায়লার জন্যই তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু গানের সুর শুনে তিনি নিজ থেকেই বলেছিলেন, ‘তুমি বরং আমার সাথে গাও, গানটি ডুয়েট হোক!’ এই প্রস্তাব সংগীত জীবনের অনন্য উপহার হিসেবেই গ্রহণ করেছি।

এ মুহূর্তে নতুন কী করছেন?
ব্যান্ড দলছুট আর নিজের একক গানের কাজ করছি। এর বাইরেও কিছু কাজ আগে থেকেই ঠিক করা থাকে, যেমন সিনেমার নিজের বা অন্য কোনো শিল্পীর প্লেব্যাকের কম্পোজিশন, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেল এসব। এমন কিছু কাজও হাতে আছে।

রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে সকালের যে ৫ ভুল

ঘুম ওঠার পর কারও কারও রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। খাবার না খেতেই কেন রক্তে শর্করার মাত্রা এভাবে বেড়ে যায় তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন আছে। ‘নিউজ এইট্টিনে’র এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে নানা তথ্য। যেমন-

চিনিযুক্ত চা দিয়ে দিন শুরু করা
প্রথম যে জিনিসটি নীরবে আমাদের ক্ষতি করে তা হলো কড়া, চিনিযুক্ত চা, যা আমরা অনেকেই ঘুম থেকে ওঠার সাথে সাথেই পান করি। খালি পেটে যখন হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করার জন্য কোনো প্রোটিন বা ফাইবার থাকে না, সেই চিনি দ্রুত রক্তে মিশে যেতে পারে। যার ইনসুলিন ইতিমধ্যেই ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না, তার ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার মাত্রা দিনের অন্য সময়ের তুলনায় দ্রুত বাড়তে পারে এবং বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারে।

ঘুম থেকে ওঠার পর সক্রিয় না থাকা
দ্বিতীয় ভুলটি হলো ঘুম থেকে ওঠার প্রথম কয়েক ঘণ্টায় পুরোপুরি সক্রিয় না থাকা। পেশি হলো শরীরের গ্লুকোজের সবচেয়ে বড় ভোক্তা। যারা একটুও না হাঁটাহাটি করে ঘর থেকে সোজা গিয়ে অফিসের ডেস্কে বসে কাজ শুরু করে তারা গ্লুকোজের এই উৎসটিকে নিস্ক্রিয় করে রাখে। ঠিক সেই সময়েই কর্টিসল, যা সকালে স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়, রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে তোলে। তাই, ঘুম থেকে ওঠার পর অল্প একটু হাঁটা বা হালকা নড়াচড়া করা শরীরকে নিষ্ক্রিয় না রেখে গ্লুকোজ ব্যবহারে উৎসাহিত করার  সহজ উপায় হতে পারে।

ভুল নাশতা দিয়ে দিন শুরু
পরিশোধিত ময়দা বা চিনিযুক্ত সিরিয়াল দিয়ে তৈরি সকালের নাশতা, যাতে প্রোটিন খুব কম থাকে, তা রক্তে শর্করার দ্রুত বাড়িয়ে আবার কমিয়ে দিতে পারে।  এর ফলে একজন ব্যক্তি আরও ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার মধ্যে মিষ্টি খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বেড়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালের নাশতার একটি ভালো বিকল্প হতে পারে প্রোটিন। ডিম, পনির বা পর্যাপ্ত প্রোটিনযুক্ত অন্য কোনো সুষম নাশতা সকালের খাবারকে আরও তৃপ্তিদায়ক করে তুলতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করতে পারে।

আগের রাতে অপর্যাপ্ত ঘুম
চতুর্থ ভুলটি হলো আগের রাতে অপর্যাপ্ত ঘুম। এতে একজনকে শুধু ক্লান্তই করে না, পরের দিন সকালে ইনসুলিন সংবেদনশীলতাকেও প্রভাবিত করতে পারে। অপর্যাপ্ত ঘুমের পর রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।

মানসিক চাপ নিয়ে দিন শুরু করা
পঞ্চমটি, যেটিকে মানুষ সবচেয়ে কম গুরুত্ব দেয়, তা হলো আগে থেকেই মানসিক চাপ নিয়ে দিন শুরু করা। যেমন—মেসেজ স্ক্রল করা, কাজের নোটিফিকেশন দেখা অথবা দিন শুরু হওয়ার আগেই শরীরের স্ট্রেস রেসপন্স পুরোপুরি সক্রিয় থাকা অবস্থায় তাড়াহুড়ো করে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়া।

এই স্ট্রেস রেসপন্সের কারণে শরীর কর্টিসল এবং অ্যাড্রেনালিনের মতো হরমোন নিঃসরণ করতে পারে, যা কোনো খাবার গ্রহণ না করা সত্ত্বেও রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের প্রথম এক ঘণ্টা শান্ত থাকা, অল্প হাঁটা, প্রোটিন-সমৃদ্ধ সকালের নাশতা এবং নিয়মিত ঘুম বজায় রাখার চেষ্টা —এই সবই সকালে রক্তে শর্করার মাত্রা ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে।

যে কারণে বাংলাদেশে ম্যাচ খেলতে চায় ব্রাজিল

০

বাংলাদেশের মাটিতে ব্রাজিলের জাতীয় ফুটবল দলের ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে বিষয়টি হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। বাংলাদেশের ব্রাজিল-ভক্তদের বিশাল সমর্থকগোষ্ঠী এবং দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে নিজেদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনাই মূলত ব্রাজিলকে ঢাকায় ম্যাচ খেলার ব্যাপারে আগ্রহী করেছে।

বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলের খবরে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলার পর ব্রাজিল এশিয়া সফরে আসবে। ৩ অক্টোবর কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে তাদের।

শুরুতে ভারতের ম্যাচের পর বাংলাদেশে এসে অনুশীলন করার পরিকল্পনা ছিল ব্রাজিলের। সে জন্যই গতকাল ব্রাজিলের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসে ভেন্যু ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পরিদর্শন করে। কিন্তু ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনার সুযোগ-সুবিধা দেখে ব্রাজিলের প্রতিনিধি দলের ধারণায় পরিবর্তন আসে। অনুশীলনের পাশাপাশি এখানে একটি ম্যাচ আয়োজন করাও সম্ভব বলে মনে হয়েছে তাদের।

এর সঙ্গে রয়েছে বাংলাদেশের বিশাল ব্রাজিল-সমর্থক গোষ্ঠী। বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশে ব্রাজিলের সমর্থকদের উন্মাদনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনায় আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বাংলাদেশের ব্রাজিল-ভক্তদের কর্মকাণ্ড ব্রাজিলিয়ানদের নজর কেড়েছে। এই বিশাল সমর্থকগোষ্ঠীকে ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের অংশ করতে চায় ব্রাজিল। দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে নিজেদের ব্র্যান্ড ও সমর্থন আরও শক্তিশালী করাও তাদের পরিকল্পনার অংশ।

বলা যায়, বাংলাদেশে ম্যাচ খেলার প্রস্তাবটি মূলত দুই পক্ষেরই স্বার্থের সঙ্গে মিলে গেছে। বাংলাদেশ পাচ্ছে বিশ্বের অন্যতম সেরা দলকে নিজেদের মাঠে আনার সুযোগ, আর ব্রাজিল পাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার বিশাল সমর্থকগোষ্ঠীর কাছে নিজেদের উপস্থিতি আরও শক্ত করার সুযোগ।

গাজায় নেই দাফনের জায়গা কবরস্থানও ধ্বংস করে ফেলেছে ইসরায়েল

গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে। কাগজে-কলমে ‘যুদ্ধবিরতি’ চালু থাকলেও প্রায় প্রতিদিনই নিরীহ গাজাবাসীর ওপর হামলা চালাচ্ছে দখলদার বাহিনী। পরিস্থিতি এখন এমন, মৃতদের দাফনের জায়গা খুঁজে পেতেও হিমশিম খাচ্ছেন গাজাবাসী। অনেক কবরস্থান ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এ সমস্যা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বিকল্প পদ্ধতি অবলম্বন করতে হচ্ছে গাজাবাসীকে।

গত শনিবার কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এই করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। মৃতদের অনেককে বাগানে দাফন করা হয়েছে। অনেককে আবার তাঁবুর ভেতরে, শরণার্থী শিবিরে, স্কুল ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়েছে। এ ছাড়া এখনও প্রচুর ফিলিস্তিনি নিখোঁজের তালিকায় রয়েছেন। তাদেরও মৃত বলেই ধরে নেওয়া হয়েছে। অনেকে আবার ধ্বংসস্তূপে স্বজনের মরদেহ খুঁজে পেতে শুরু করেছেন ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হওয়ার পর থেকে। সব মিলিয়ে এত মরদেহ ঠাঁই দেওয়ার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না গাজায়।

গাজার ওয়াকফ ও ধর্মীয় বিষয়াবলিসম্পর্কিত মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যানুসারে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৪০টিরও বেশি কবরস্থান ধ্বংস হয়ে গেছে। এ ছাড়া ইসরায়েলি বাহিনী যেসব এলাকায় এখনও রয়ে গেছে, সেখানে কবরস্থানগুলোতে তারা কড়াকড়ি আরোপ করে রেখেছে। এতে করে কবরস্থানের সংখ্যা আরও কমে গেছে।

বহু ফিলিস্তিনি বর্তমানে বাস্তুচ্যুত থাকায় আগে যেসব জায়গাকে দাফনের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল, সেগুলোও ফাঁকা থাকছে না। এসবের বাইরেও দাফনের সরঞ্জামের সংকট দেখা দিয়েছে। একেকটি দাফনের জন্য খরচ হচ্ছে ২৩৫ থেকে ৩৩৫ ডলার।

আবারও ইসরায়েলি হামলা
এদিকে, এ রকম মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যেও চলছে ইসরায়েলি হামলা। মধ্য গাজার মাঘাঝি শরণার্থী শিবিরে গতকাল রোববার ইসরায়েলি আক্রমণে অন্তত একজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। এদিন সকালে সালাহ আল-দিন সড়কের কাছে হামলাটি হয়।

বার্তা সংস্থা ওয়াফার খবরে প্রথম উঠে আসে বিষয়টি। পাশাপাশি আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্য গাজার শহর দেইর এল-বালাহতে আল-হাসানাত পরিবারকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলার এক দিন পর এই আক্রমণের ঘটনা ঘটে। আগের দিনের হামলায়ও এক ব্যক্তি নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, গত অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি আক্রমণে অন্তত এক হাজার ২৮৬ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭৩ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি।

পশ্চিম তীরে শিশুসহ গ্রেপ্তার ১৩
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গত রোববার অধিকৃত পশ্চিম তীরে এক শিশুসহ ১৩ ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে। সেখানে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো কাণ্ডের মাঝেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আলজাজিরার খবর বলছে, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা ওই অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, গাছ কেটে ফেলা, শস্য নষ্ট করার মতো ঘটনাও ঘটছে। এমনকি কৃষিকাজের জন্য বসানো সেচের পাইপও নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি জায়গায়। এসবের মধ্যেই ইসরায়েলি বাহিনী অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের নিবৃত্ত না করে পশ্চিম তীরের বেথলেহাম, কালকিলা, রামাল্লার মতো জায়গাগুলো থেকে ফিলিস্তিনিদের আটক করেছে।

কেন খাদ্য ব্যবসায়ীদের আতঙ্কের নাম তুকারাম মুণ্ডে রেহাই পায়নি ডমিনোজ-পিৎজা হাটও

বন্ধুর সঙ্গে রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়েছিলেন তুকারাম মুণ্ডে। খাবার আসার পরই তার চোখ আটকে গেল পনিরের দিকে। বন্ধুকে বললেন, এটি অর্ডার না করতে। কারণ, তার চোখে এটি আসল পনির মনে হয়নি। শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা করে তার সন্দেহই সত্যি হলো-পনিরটি আসল নয়।

ঘটনাটি কোনো সাধারণ ক্রেতার নয়। তুকারাম মুণ্ডে ভারতের মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) কমিশনার। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই খাবারের মান ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন তিনি। রেস্তোরাঁয় খেতে গেলেও তার চোখ খুঁজে বেড়ায় অনিয়ম। আর সেই কারণেই এখন মুম্বাইয়ের খাদ্য ব্যবসায়ীদের কাছে তার নামটি আতঙ্কের।

দায়িত্ব নেওয়ার পর গত তিন মাসে মুণ্ডের নেতৃত্বে ৩ হাজার ১০০টির বেশি খাদ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন হয়েছে। প্রায় ১৬৫টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। ৭৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে সংশোধনের নোটিশ।

ডমিনোজ ও পিৎজা হাটের একাধিক আউটলেটও তার অভিযানের হাত থেকে রেহাই পায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে চারটি ডমিনোজ ও একটি পিৎজা হাটের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। ম্যাকডোনাল্ডসের একটি আউটলেটের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেখানে তেলাপোকার উপস্থিতি ও পচা খাবার পাওয়ার কথা জানিয়েছে এফডিএ।

তবে তুকারাম মুণ্ডের অভিযান শুধু বড় ব্র্যান্ডকেন্দ্রিক নয়। হোটেল, রেস্তোরাঁ, আইসক্রিমের দোকান, ডেইরি, ক্রিকেট ক্লাব থেকে শুরু করে পথের খাবারের দোকান ও অনলাইন ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানের গুদাম-সবই পড়ছে তার নজরে।

মুণ্ডে রয়টার্সকে বলেন, নিয়ম মানতে যারা ব্যর্থ হবে, তাদের নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা মোকাবিলা করতে হবে। তার ভাষায়, বিষয়টি মানুষের জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

একবার মুম্বাইয়ের এক বিচারক মুণ্ডের বিরুদ্ধে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর বেছে বেছে কঠোর হওয়ার অভিযোগ তোলেন এবং আদালতের ক্যানটিনগুলো পরীক্ষা করা হয় কি না, তা জানতে চান। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার দলের সদস্যরা আদালতের ক্যানটিনে পরিদর্শন চালান। সেখানে লাইসেন্স ছাড়া চলা কয়েকটি ক্যানটিন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

মুণ্ডের এমন কঠোর অবস্থান তাকে সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। দীর্ঘদিন ধরে খাবারের মান ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে যে অসন্তোষ ছিল, তার অভিযানে সেটিই যেন প্রকাশ্যে এসেছে।

চশমা পরা ও গোঁফের জন্যও পরিচিত মুণ্ডের কাজের ধরন কিছুটা ব্যতিক্রমী। ২১ বছরের প্রশাসনিক ক্যারিয়ারে তাকে একাধিকবার বদলি করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ঘুষ না নেওয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা বলেছেন।

এখন তার নেতৃত্বে খাদ্য নিরাপত্তা দলের অভিযান প্রায় প্রতিদিনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও খাবারের গুদামের ভেতরের ছবি প্রকাশ করা হচ্ছে। এসব ছবিতে ময়লা দেয়াল, ঘুরে বেড়ানো তেলাপোকা ও ইঁদুর এবং মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার দেখা গেছে।

মুণ্ডে নিজেও বলেন, এত বেশি অনিয়ম তিনি প্রত্যাশা করেননি।

রয়টার্স গত সপ্তাহে মুম্বাইয়ের ২৫টি পথের খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁ পরিদর্শন করে দেখতে পেয়েছে, ব্যবসায়ীদের মধ্যে মুণ্ডের অভিযানের বিষয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একজন বিক্রেতা চীনা খাবারে কৃত্রিম লাল রঙের পরিবর্তে প্রাকৃতিক মরিচ ব্যবহার শুরু করেছেন। আরেকজন দিনে তিনবার ভাজার তেল পরিবর্তন করছেন। কর্মীদের গ্লাভস ও মাথা ঢাকার টুপি পরাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

মুম্বাইয়ের জনপ্রিয় খাবার বড়া পাও-ও মুণ্ডের নজর এড়ায়নি। জুনে তিনি সংবাদপত্রে মুড়িয়ে বড়া পাও বিক্রি নিষিদ্ধ করেন। এখন অনেক দোকানেই এটি তুলনামূলক পরিষ্কার বাটার পেপারে মোড়ানো হচ্ছে। এতে ক্রেতাদেরও কেউ কেউ স্বস্তি প্রকাশ করছেন।

খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে মুণ্ডের কঠোর অবস্থান তাকে জনপ্রিয় করলেও ব্যবসায়ীদের একাংশ তার সমালোচনা করছে। তাদের অভিযোগ, নিয়ম মেনে চলার জন্য ব্যবসাগুলোকে সময় না দিয়ে প্রশাসন অতিরিক্ত কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এ নিয়ে হাইকোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছে।

মুণ্ডের অভিযানের আওতায় এসেছে ব্রিটিশ আমলের একটি ক্রিকেট ক্লাব, ৭০ বছরের পুরোনো একটি আইসক্রিমের দোকান এবং ১১০ বছরের পুরোনো পারসি ডেইরিও।

একটি ঘটনায় নিয়ম মেনে চলার উন্নতি করার পরও একটি খাবারের দোকানের লাইসেন্স স্থগিত রাখায় মুণ্ডের দপ্তরকে ৫ লাখ রুপি জরিমানা করেন আদালত। এ বিষয়ে মুণ্ডে বলেন, আদালতের পর্যবেক্ষণকে তারা গুরুত্বের সঙ্গে নেন এবং উন্নতির সুযোগ থাকলে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করেন।

তবে কঠোর অভিযানের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। দিল্লিতে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে অনেকে তার সঙ্গে সেলফি তুলতে এবং হাত মেলাতে ভিড় করেন। একজন তাকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে জাতীয় পর্যায়ে দায়িত্ব দেওয়ার পরামর্শও দেন।

নিজেকে অবশ্য তারকা মনে করেন না মুণ্ডে। রয়টার্সকে তিনি বলেন, তিনি শুধু একজন খাদ্য নিরাপত্তা কমিশনার।

সোমবার শুরু ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’, তেল রপ্তানি বন্ধের হুমকি ইরানের

ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের লক্ষ্য করে সোমবার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারির প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বাংলাদেশ সময় রাত ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করবেন। তখন তিনি কঠোর পদক্ষেপগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরবেন।

এই পদক্ষেপগুলো নজিরবিহীন হতে যাচ্ছে বলে আগেই সতর্ক করেছিল ওয়াশিংটন। এ কারণে বিষয়টিকে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ বা সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অভিযান বা যুদ্ধ বলা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপের পাল্টা জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। অর্থনৈতিক যুদ্ধ চলতে থাকলে তারা উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সব ধরনের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেবে।

রোববার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে স্কট বেসেন্ট লিখেন, ভোর (স্থানীয় সময় সোমবার) হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ শুরু হবে। এটি এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নেওয়া সবচেয়ে বড় আর্থিক অভিযান।

প্রায় ৬ মাস ধরে যুদ্ধে লিপ্ত দুই দেশ গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একে অপরের ওপর সামরিক হামলা চালায়নি। সংঘাত অবসানে অর্থবহ কোনো আলোচনাতেও যোগ দেয়নি।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত নিবন্ধে বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানকে তুষ্ট করার জন্য যারা দেশটির সঙ্গে লেনদেন করে সেসব ‘ভীতু দেশগুলোকে’ লক্ষ্যবস্তু বানানো হবে। এই লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার পরিণতি কী হতে পারে, তা ভেবে দেখা উচিত।

সম্ভাব্য নতুন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কয়েকদিন ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বড় ধরনের জবাবের ইঙ্গিত আছে। সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের প্রধান মোহসেন রেজাই রোববার বলেছেন, অর্থনৈতিক যুদ্ধ চলতে থাকলে এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি হবে না।

রপ্তানি বন্ধের পথ হিসেবে মোহসেন রেজাই হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরের কথা উল্লেখ করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধে অংশ নেওয়া দেশগুলোকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

শেয়ারবাজার বড় পতনে সপ্তাহ শুরু

পতনের ধারা দেশের শেয়ারবাজারে। আগের সাত কর্মদিবসের মধ্যে ছয় দিন পতন হয়। বড় দর পতনে চলতি সপ্তাহের লেনদেন শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ৮৪ শতাংশ শেয়ার দর হারিয়েছে। এতে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স প্রায় ৬৪ পয়েন্ট হারিয়ে ৫৭২২ পয়েন্টে নেমেছে। এ নিয়ে সর্বশেষ আট কর্মদিবসে সূচকটি হারাল ১৮১ পয়েন্ট।

গত বৃহস্পতিবার ডিএসইএক্স সূচক লেনদেনের পুরো সময়ে আগের দিনের তুলনায় কমবেশি ঊর্ধ্বমুখী ছিল। গতকালসহ বাকি সাত দিনের প্রতিদিন শুরুর দিকে ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা যায়। তবে শেষ পর্যন্ত পতনে লেনদেন শেষ হয়, যার ব্যতিক্রম গতকালও হয়নি।

গতকাল সকাল ১০টায় যথারীতি ঊর্ধ্বমুখী ধারায় লেনদেন শুরু হয়। এতে প্রথম ১০ মিনিটে সূচক ২৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫৮১৪ পয়েন্ট ছাড়ায়। এরপর দর পতন শুরু হলে সূচকও কমে। লেনদেন শেষ হওয়ার ৫ মিনিট আগে সূচকটি দিনের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ৯৮ পয়েন্ট হারিয়ে ৫৭১৫ পয়েন্ট পর্যন্ত নামে।

বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা বলেন, একদিকে ব্যাপক শিথিলতাসহ মার্জিন ঋণ বিধিমালা সংশোধন হয়েছে। অন্যদিকে একটু একটু করে কমছে ট্রেজারি বিল-বন্ডের সুদহার। এ ধরনের পরিস্থিতিতে শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার কথা। কিন্তু ঘটছে উল্টো।

এর কারণ ব্যাখ্যায় তারা জানান, দেশে কয়েক সপ্তাহ ধরে গ্যাসের সংকট তীব্র চলছে। সরকারও দ্রুত সমাধান করতে পারবে না বলে জানিয়েছে। গ্যাস সংকটে অনেক কলকারখানা ঠিকমতো উৎপাদন করতে পারছে না। রোববার তালিকাভুক্ত ফু-ওয়াং ফুড কোম্পানি গ্যাস সংকটের কারণ দেখিয়ে ‘লে-অফ’ ঘোষণা করেছে। স্বাভাবিকভাবে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের ওপর এ অবস্থার প্রভাব থাকতে পারে।

বাজার সূত্র জানায়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নতুন নেতৃত্ব আগে থেকে চলে আসা নানা অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে পদক্ষেপ নিচ্ছে। স্টক এক্সচেঞ্জও সক্রিয়। এর ফলে বাজারে জুয়াড়ি চক্র এবং কারসাজিকে উৎসাহিত করে– এমন পক্ষের লেনদেন কমেছে। এতে বাজারে হঠাৎ করে শেয়ার চাহিদা কমেছে। এর বড় প্রভাব আছে।

গতকাল যেখানে দুই শতাধিক কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধি দিয়ে দিনের লেনদেন শুরু হয়েছিল, সেখানে ২৯৯ কোম্পানির শেয়ারদর হ্রাসের মধ্যে লেনদেন শেষ হয়। দর বেড়েছে মাত্র ২৮ কোম্পানির শেয়ারের, অপরিবর্তিত থেকেছে ২২টির। খাতওয়ারি লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এমন একটি খাতও ছিল না, যার সিংহভাগ শেয়ার দর হারায়নি। আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত গড়ে আড়াই শতাংশ হারে দর হারিয়েছে। বীমা খাতের গড় দর কমেছে ২ শতাংশের বেশি। সর্বাধিক বাজার মূলধনি খাত ব্যাংক খাত ১ শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে।

দর পতনের মধ্যে শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। ডিএসইতে গতকাল ৩৯ কোটি টাকা বেড়ে ৭১১ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রির তুলনায় কিনেছেন বেশি। ৭১১ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রির মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশ ছিল ৫ দশমিক ৯২ শতাংশ। একই পরিমাণ টাকার শেয়ার ক্রয়ে তাদের অংশ ছিল ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এদিন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা কেনার তুলনায় বিক্রি করেছেন বেশি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে বাড়ছে ওষুধ উৎপাদন খরচ

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ায় দেশে ওষুধ উৎপাদনের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে কারখানায় জেনারেটর ও বড় ইউপিএস চালাতে হচ্ছে। গ্যাসের সংকট থাকায় জেনারেটরের জন্য নির্ভর করতে হচ্ছে ডিজেলের ওপর। এতে উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়ছে। এভাবে জ্বালানি ব্যয় বাড়তে থাকলে একপর্যায়ে উৎপাদন খরচ সমন্বয়ে ওষুধের দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় থাকবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির (বাপি) মহাসচিব হালিমুজ্জামান।

আজ সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাপি কার্যালয়ে মালিক সমিতি ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) আয়োজনে ‘ওষুধ শিল্পের অগ্রগতি: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

হালিমুজ্জামান বলেন, ওষুধশিল্পের জন্য জ্বালানি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমানে বিদ্যুৎ ও ডিজেল দুই ক্ষেত্রেই শিল্পটি সমস্যায় পড়ছে। কারখানা চালানোর সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ১৫ টাকা ছিল বিদ্যুতের সরকারি রেট। আমার ফ্যাক্টরির হিসাবে এখন আসছে ৪২ টাকা। ১৫ টাকার জায়গায় ৪২ টাকা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ গেলে উৎপাদন বন্ধের সুযোগ নেই

ওষুধশিল্পের সঙ্গে অন্যান্য শিল্পের বড় পার্থক্য রয়েছে উল্লেখ করে বাপি মহাসচিব বলেন, ওষুধের উৎপাদনপ্রক্রিয়া একবার শুরু হলে তা মাঝপথে বন্ধ করা যায় না। বিদ্যুৎ চলে গেলে উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এ কারণে কারখানাগুলোকে ব্যাকআপ হিসেবে জেনারেটর ও বড় ইউপিএস চালাতে হয়। গ্যাসের সংকট থাকায় জেনারেটর চালাতেও ডিজেলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের ডিজেল মজুতের সক্ষমতাও পর্যাপ্ত নয়। ফলে ট্যাংক শেষ হয়ে গেলে দ্রুত ডিজেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়।

বাড়ছে মান নিয়ন্ত্রণের খরচও

ওষুধের দাম নির্ধারণে শুধু জ্বালানি খরচ নয়, কাঁচামাল, মান নিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সংরক্ষণ এবং গবেষণা ও উন্নয়নসহ (আরঅ্যান্ডডি) বিভিন্ন খরচ যুক্ত রয়েছে বলে জানান হালিমুজ্জামান।

তিনি বলেন, ২০ বছর আগে গুডস স্ট্যান্ডার্ড প্র্যাকটিস (জিএসপি) অনুযায়ী পাঁচটি পরীক্ষা করতে হতো। এখন পরীক্ষার সংখ্যা বেড়ে আটটি হয়েছে। আগে অনেক ধরনের ইমপিউরিটি বা অমেধ্য সম্পর্কে জানা ছিল না। এখন কোনো কোনো ওষুধে ১৮ থেকে ২০ ধরনের ইমপিউরিটি শনাক্ত করতে হয়। এসব পরীক্ষা করতে প্রয়োজনীয় রেফারেন্স স্ট্যান্ডার্ডের খরচও অনেক বেশি। ফলে ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণে ব্যয় বাড়ছে।

উৎপাদনের পরও চলতে থাকে ব্যয়

ওষুধ উৎপাদনের পরও দীর্ঘ সময় ধরে নমুনা সংরক্ষণ ও নিয়মিত পরীক্ষা করতে হয়। কোনো ওষুধ বাজারে চাহিদা হারালেও নির্ধারিত শেলফ লাইফ পর্যন্ত এর নমুনা সংরক্ষণ করতে হয়। এমনকি মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নমুনা রেখে নিয়মিত পরীক্ষা করতে হয়। এসবের পেছনেও ব্যয় হয়।

হালিমুজ্জামান আরও বলেন, ‘এনার্জি ওয়ান অব দেম, যেটা আমরা চোখে দেখছি। আর বাকি যেগুলো আছে, সেটা আমরা এখন চোখে দেখছি না। আমরা বুঝতেও পারছি না, ওই খরচ আসলে কত।’

গবেষণায়ও বাড়ছে ব্যয়

আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ উৎপাদনে গবেষণা ও উন্নয়ন খাতেও আগের তুলনায় বেশি ব্যয় হচ্ছে বলে জানান বাপি মহাসচিব। আধুনিক ওষুধ উৎপাদনে এখন আরও বেশি বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন হচ্ছে। সব মিলিয়ে জ্বালানি, কাঁচামাল, মান নিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সংরক্ষণ এবং গবেষণা ও উন্নয়ন প্রতিটি খাতেই ব্যয় বাড়ছে। এর মধ্যে জ্বালানি ব্যয় দ্রুত বাড়ায় তা সরাসরি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মুনাফায় চাপ তৈরি করছে।

হালিমুজ্জামান বলেন, ‘এই সবগুলিই আসলে ওষুধের উৎপাদন খরচ। তবে এটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এর মধ্যে জ্বালানির খরচও যদি এভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে তা অবশ্যই আমাদের মুনাফার ওপর প্রভাব ফেলবে।’

তিনি বলেন, জ্বালানির বাড়তি ব্যয় দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকলে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তা নিজেদের মুনাফা থেকে বহন করা কঠিন হবে। তখন উৎপাদন খরচ সমন্বয় করতে ওষুধের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।