Home Blog Page 5

সংসদ নির্বাচনে ভোট রক্ষায় দুর্বলতা ছিল, স্থানীয় নির্বাচনে ভুল হবে না: জামায়াত আমির

০

জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীকে জনগণ ভোট দিলেও, তার রক্ষায় দলটির দুর্বলতা ছিল মনে করেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি জামায়াত নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, জনগণ আমাদের বলেন– ভোট আপনাদের দিয়েছিলাম, কিন্তু আপনারা তা রক্ষা করতে পারলেন না। তখন আমাদের বলতে হয়, আমাদের দুর্বলতা ছিল। ভবিষ্যতে যেন একই ভুলের পুনরাবৃত্তি না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।
আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট রক্ষায় যেন ভুল না হয়, তা নিশ্চিতে নেতাদের কাজ করতে বলেছেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে প্রাচীর গড়ে তুলতে হবে। কোনো চোরকে আর ছাড় দেওয়া হবে না। সিটি নির্বাচনে দিনরাত একাকার করে কাজ করতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের ভুলগুলো নিয়ে পর্যালোচনা হয়েছে। এবার এগুলোর আলোকে কাজ করলে আশা করি আর ভুল হবে না।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান। তিনি রুকনদের উদ্দেশে বলেন,  আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আমরা কিছুই করতে পারব না। তাই প্রতি মুহূর্তে মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করতে হবে।

ঢাকা মহানগর জামায়াতের অতীত সাংগঠনিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে দলটির আমির বলেন, একসময় ঢাকায় অবস্থা অনেক দুর্বল ছিল। ত্যাগ, কুরবানি ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। আমরা বসে বসে আর তামাশা দেখব না। আমরা সংগতভাবেই প্রতিবাদ করব এবং যেখানে আমাদের সামর্থ্য হবে, সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রুকন পদ-পদবি নয়, জীবনের নীতি-নৈতিকতার মান। একে ক্ষমতা মনে করলে ভুল করব। সভাপতির বক্তব্যে উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, রুকন সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি মানের দিক থেকে উন্নত ও সুশৃঙ্খলা হতে হবে।
সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে ১৩ হাজারের বেশি রুকন গোপন ভোটে আমির নির্বাচন করেন। ২০২৭-২০২৮ সালের কমিটিতে আমির পদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন সেলিম উদ্দিন। সম্মেলনে বক্তৃতা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি প্রমুখ।

উপনির্বাচনে কারচুপির শঙ্কা সরকারকে হুঁশিয়ারি ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক

০

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। বিএনপিকে সতর্ক করে তারা বলেছে, মাগুরা উপনির্বাচনে কারচুপির কী পরিণতি হয়েছিল স্মরণে রাখুন।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলের লিয়োজোঁ কমিটির বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন জোটের সমন্বয়ক এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। সাত দফা দাবিতে জোটের ঘোষিত আগামী ৩১ অক্টোবরের ঢাকা-খুলনা-যশোর-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে লিয়াজোঁ কমিটির এ বৈঠক হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন হচ্ছে। বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন তাঁর ভাই মির্জা ফয়সাল আমিন। ১১ দলের প্রার্থী হয়েছেন জামায়াত নেতা  দেলাওয়ার হোসেন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মির্জা ফখরুল দুই লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়েছিলেন। দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছিলেন এক লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট।

আগামী ২৯ অক্টোবরের উপনির্বাচনে দেলাওয়ার হোসেনের পক্ষে জনসমর্থন তৈরি হয়েছে দাবি করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সেখানে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মতো কারচুপির পরিকল্পনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। মাগুরার উপনির্বাচন বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসের কালো অধ্যায়। এ থেকে সরকার পতনের আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল।  বিরোধী দল ঠাকুরগাঁওয়ে মাগুরার উপনির্বাচনের পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না।

বিএনপির এমপি মজিদ-উল-হকের মৃত্যুতে শূন্য মাগুরা-২ আসনে ১৯৯৪ সালে উপনির্বাচন হয়। সেই সময়কার ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে  ব্যাপক ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখলের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পর তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দল দাবি তোলে, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের আন্দোলন শুরু হয়।

সরকারের দাবি ভুয়া 

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির সমঝোতার অভিযোগ তুলে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকারি দলের নেতারাই নানা সময়ে দাবি করেছেন, তাদের ভোটের ৩০ শতাংশ আওয়ামী লীগের। শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের ফাঁস হওয়া অডিও কথোপকথনেও এ-সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে। এসব বক্তব্যের প্রতিবাদ বিএনপি করেনি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের আঁতাতের অভিযোগকে ভুয়া বলে নাকচ করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকারের কাছে এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য থাকলে তা প্রকাশ করুক।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে– স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ  বক্তব্যের সমালোচনা করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গত ছয়-সাত মাসে ক্ষমতাসীন দলের ৪০ জন কর্মী নিজেদের দলের লোকজনের হাতে খুন হয়েছেন। এটা উন্নতি? হেফাজতের উদ্যোগে কওমি ঘরানার যে সাত দলের জোট হচ্ছে এর দুটি জামায়াতের শরিক। এ বিষয়ে আযাদ বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তাদের ঐক্য অটুট থাকবে।

গোপালগঞ্জে লংমার্চের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

১১ দলের লংমার্চ ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু, শরীয়তপুর, ফরিদপুরের ভাঙ্গা হয়ে গোপালগঞ্জ শহরের ওপর দিয়ে বাগেরহাট যাবে। লংমার্চের পথসভা গোপালগঞ্জে হবে না। জেলাটি পার হয়েই বাগেরহাটের ফকিরহাটে পথসভা হবে।

গোপালগঞ্জ হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের হামলার আশঙ্কা আছে কিনা– জানতে চাইলে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘সরকারের জিম্মাদারির কথা এখানে স্মরণ করিয়েছি।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।

গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ মা-বাবার পর মেয়ের মৃত্যু, শেষ পুরো পরিবার

গাজীপুরের টঙ্গীতে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ মা-বাবার মৃত্যুর একদিন পর মেয়ে তানিশার (১৬) মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনিস্টিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এর মধ্য দিয়ে শেষ হয়ে গেল পুরো পরিবার।
এর আগে গত বুধবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লাল চান মিয়া (৬০) ও তাঁর স্ত্রী নাছিমা বেগমের (৫০) মৃত্যু হয়। তাদের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুর থানার কুলিপাড়া গ্রামে। পরদিন কুলিপাড়া গ্রামের কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, গত বুধবার ভোরে রান্নার প্রস্তুতির সময় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে লাল চান মিয়া ও তাঁর স্ত্রী নাছিমা বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন রাতে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনিস্টিউটে মারা যান। এরপর গতকাল শুক্রবার তাদের মেয়ে তানিশা মারা যায়।

পাহাড় কেটে রিসোর্ট, পার্ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি-বেসরকারি সবার নজর লালমাই পাহাড়ে হুমকিতে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন

আইন অমান্য করে এবং উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে সমৃদ্ধ কুমিল্লার লালমাই পাহাড় কাটা চলছেই। সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানই কাটছে লালমাটির পাহাড় ও টিলা। পাহাড় কেটে নির্মাণ করা হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, রিসোর্ট, বিনোদনকেন্দ্র ও আবাসিক স্থাপনা। পাশাপাশি সড়ক ও রেলপথ নির্মাণ, পাহাড়ি সড়ক সম্প্রসারণ, ইটভাটার মাটি সংগ্রহ এবং নিচু জমি ভরাটের জন্য দীর্ঘদিন ধরে লালমাই পাহাড় কাটা হচ্ছে। এতে জীববৈচিত্র্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হুমকিতে পড়ছে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ২০১৫ সালে প্রকাশিত ময়নামতি-লালমাইবিষয়ক বইয়ের সংশোধিত সংস্করণ অনুযায়ী, কুমিল্লা শহর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার পশ্চিমে ও উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত লালমাই-ময়নামতি পাহাড়ের আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার। পাহাড়ের সর্বোচ্চ উচ্চতা প্রায় ৫৫ মিটার এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার। এর উত্তর প্রান্তে রানী ময়নামতির প্রাসাদ এবং দক্ষিণ প্রান্তে প্রাচীন চণ্ডীমুড়া মন্দির অবস্থিত।

সদর দক্ষিণ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এস এম নুরুল আখতার নিলয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সদর দক্ষিণ উপজেলায় লালমাই পাহাড় ও টিলাশ্রেণির দুই হাজার ১২১ একর ৫০ শতাংশ জমি ব্যক্তিমালিকানায় রয়েছে। সরকারি ১ নম্বর খাস খতিয়ানে রয়েছে মাত্র ১০৩ একর ২৫ শতাংশ। বন বিভাগের ৫ নম্বর খতিয়ানে রয়েছে ১৮৩ একর ১২ শতাংশ জমি।

সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত স্থাপনা 
জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫১ সালে এক হাজার ৮৫৪ একর ৯৩ শতাংশ জমি হুকুমদখল করে কুমিল্লা সেনানিবাস প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৫৯ সালে ১৫৬ একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড)। কোটবাড়ীতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সেক্টর সদরদপ্তর ও সংরক্ষিত এলাকার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় প্রায় ১০০ একর পাহাড়ি জমি।
১৯৮৩ সালে ৫২ একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ। ২০০৬ সালে ৫০ একর পাহাড়ি জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। পরে ২০২১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রসারণের জন্য আরও ২০০ একরের বেশি জমি অধিগ্রহণ করা হয়। পাহাড়ের দক্ষিণাংশে রয়েছে পুলিশ ফায়ার রেঞ্জ ও বাংলাদেশ স্কাউটের স্থাপনা।

বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নামে আট একর ২১ শতাংশ, রেশম উন্নয়ন বোর্ডের নামে ১২ একর ১৬ শতাংশ এবং ময়নামতি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে এক একর ৩২ শতাংশ পাহাড়ি জমি রয়েছে। ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও ঈদগাহের জন্যও পাহাড়ি জমি বরাদ্দ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন আগে শর্তসাপেক্ষে পাহাড় ইজারা নেওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে শর্ত ভেঙে দখল ও মাটি কাটা শুরু হয়। বাংলাদেশ সার্ভে (বিএস) হওয়ার পর পাহাড়ের অনেক জমি ব্যক্তিমালিকানায় চলে যায়। এর পর পাহাড়ের জমি হাতবদল ও কেনাবেচাও বেড়েছে।

লালমাই পাহাড় কেটে জামমুড়ায় গড়ে তোলা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুতল ভবন	সমকাল

লালমাই পাহাড় কেটে জামমুড়ায় গড়ে তোলা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুতল ভবন সমকাল

পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্প 
২০০৬ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য পাহাড় কাটার বিষয়টি আলোচনায় আসে। প্রতিষ্ঠার সময় ৫০ একর পাহাড় কেটে প্রশাসনিক, একাডেমিক ও আবাসিক ভবন এবং খেলার মাঠ তৈরি করা হয়। এ নিয়ে তখন সমালোচনা হচ্ছিল।

পরে ২০২১ সালে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য ২০০ একরের বেশি জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ১৩১ একর পাহাড় ও টিলাশ্রেণির জমি। সেখানে পাহাড় কেটে কয়েকটি ভবন নির্মাণকাজ চলছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কুমিল্লার উপপরিচালক সালমান চৌধুরী শাওন সমকালকে বলেন, লালমাই পাহাড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বড় ভবন নির্মাণের কাজ তিনি দেখেছেন। সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে তাঁর মনে হয়েছে, পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ সমীক্ষা (ইআইএ) প্রতিবেদন ছাড়াই ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো আবেদন এখনও অনুমোদন পায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এস এম শহিদুল হাসান বলেন, পাহাড়ে ভবন নির্মাণের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন করেছে। অনুমোদনের বিষয়টি মন্ত্রণালয় দেখছে। তবে পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এমএম শরীফুল করীম গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সমকালকে বলেন, ‘পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণ না করতে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা ছিল। আমি চলতি বছরের মে মাসে ভিসি পদে যোগদানের পর সরেজমিন প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেছি। অধিকাংশ ভবনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তাই ভবন নির্মাণের শুরুতে সেখানে পাহাড় কাটা হয়েছে কিনা, তা আমার জানা নেই।’

কাছেই পাহাড়ে আরও তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান 
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি লালমাই পাহাড়ের চার একর জমিতে ২০১৪ সাল থেকে বেসরকারি সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়, সিসিএন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও সিসিএন মডেল কলেজ পরিচালিত হচ্ছে।
সিসিএন শিক্ষাপরিবারের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম চৌধুরী সমকালকে বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়েই প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তোলা হয়েছে। তাঁর দাবি, পাহাড়ে অবস্থিত হলেও ভবন নির্মাণে পাহাড়ের ক্ষতি হচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আবাসন ও অন্যান্য প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় আবাসন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে উঠছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও পাহাড়ি জমি কেনাবেচার প্রবণতা রয়েছে।

পাহাড় কেটে রিসোর্ট, পার্ক ও হাসপাতাল
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বড় ধর্মপুর এলাকায় ২০২১ সালে প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের সময় পাহাড়ের ১ লাখ ১৪ হাজার ঘনফুট মাটি কাটার অভিযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট মামলা করে পরিবেশ অধিদপ্তর।

সম্প্রতি সরেজমিন দেখা গেছে, বড় ধর্মপুর বাজার সড়কে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্তার মোড়ে পাহাড় কাটা জায়গার চারপাশে সীমানাপ্রাচীর দেওয়া হয়েছে। একই সড়কে ‘প্রবাসী পর্যটন ও বোটানিক্যাল গার্ডেন’ নির্মাণের জন্য একটি পাহাড় স্টিলের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে।

সাইনবোর্ডে দেওয়া মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগ করলে ব্যবসায়ী মো. মহসিন কবির ভূঁইয়া বলেন, তিনি সেখানে ১২৮ শতক পাহাড় কিনেছেন। জায়গাটি সংরক্ষণের জন্য স্টিলের বেড়া দিয়েছেন। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করবেন।

এর পাশেই পাহাড়ের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছপালা কেটে ২৬ শতক উঁচু-নিচু জমিতে ‘লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল চক্ষু হাসপাতাল’ নির্মাণের উদ্যোগ দেখা গেছে। সেখানে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করছিলেন শ্রমিকরা। সেখানে একটি সাইনবোর্ড আছে। কিন্তু মালিকের নাম পরিচয় নেই। শ্রমিকরা মালিকের নাম জানাতে ও মোবাইল নম্বর দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
ময়নামতি জাদুঘরের পশ্চিমের সড়কের দুই পাশে দেখা গেছে ‘নীলকুঞ্জ’ ও ‘কাশবন’ নামে দুটি রিসোর্ট। পাহাড় কেটে এগুলো নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক যুগ ধরে রিসোর্ট দুটি চলছে।

কাশবন রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী আবুল কাসেম সমকালকে বলেন, প্রায় এক একর পাহাড় কিনে তিনি রিসোর্ট ও পার্টি সেন্টার করেছেন। তাঁর দাবি, ভবন নির্মাণে পাহাড়ের কোনো ক্ষতি হয়নি। নীলকুঞ্জ-এর স্বত্বাধিকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণে সালমানপুর এলাকায় সংরক্ষিত বনাঞ্চল কেটে ২০১৯ সালে ‘ম্যাজিক প্যারাডাইস’ নামে একটি বিনোদন পার্কের স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ২০২১ সালে হাইকোর্ট পাহাড় কাটার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি তা উপেক্ষা করে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় ৫০ একর পাহাড়ি ও বনাঞ্চলের সংরক্ষিত এলাকার ক্ষতিসাধন করে এখানে রিসোর্ট, রেস্তোরাঁসহ নানা ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিষ্ঠানটির মার্কেটিং কর্মকর্তা মো. রাফি সমকালকে বলেন, ‘আমি কিছুদিন আগে যোগদান করেছি। তাই এখানে পাহাড় কাটার বিষয়টি আমার জানা নেই।’
এর অদূরে জামমুড়া এলাকায় টিলা কেটে তৈরি করা হয়েছে ‘ডাইনোসর পার্ক’। এর বিপরীতে টিনের বেড়া দেওয়া একটি বিশাল পাহাড় কেটে সমতল করার দৃশ্যও দেখা গেছে। একই এলাকায় বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নামে পাহাড়ের জমির সাইনবোর্ড রয়েছে।

এ ছাড়া লালমাইয়ের দক্ষিণাংশে তৈরি করা হয়েছে ‘লালমাই লেকল্যান্ড’ বিনোদন পার্ক। বড় ধর্মপুর চৌধুরী চা প্রকল্পের পাশেও পাহাড় কাটার চিহ্ন দেখা গেছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (২০০০ সালে সংশোধিত)-এর ধারা ১২-এ যে কোনো নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প স্থাপনের আগে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া পাহাড় কাটা অবৈধ। তবে সদর দক্ষিণ উপজেলার বড় ধর্মপুর, ছোট ধর্মপুর, রতনপুর, বিজয়পুর, সালমানপুর, সানন্দা, জামমুড়া, রাঙামুড়া, ষাইট কলোনি, খলা ও ধনমুড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বছরের পর বছর পাহাড়ের মাটি কাটার কারণে অনেক জায়গা সমতল হয়ে গেছে।

সালমানপুর এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা আবদুল মতিন বলেন, ২০ বছর আগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় পাহাড়ের জমি নামমাত্র দামে কেনাবেচা হতো। পাহাড়ের মাটিও অবাধে বিক্রি করা হতো। এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনা গড়ে ওঠায় জমির দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। বেড়েছে আবাসিক স্থাপনাও।

হুমকিতে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন
প্রাচীন বাংলার ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র লালমাই-ময়নামতি পাহাড়। এই অঞ্চলে অন্তত ছয়টি রাজবংশের ৩৪ জন রাজার শাসনামলের বিভিন্ন কীর্তির নিদর্শন পাওয়া গেছে। পাহাড়শ্রেণিতে রয়েছে অর্ধশতাধিক টিলা এবং প্রাচীন স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫৫ সাল থেকে এখানে নিয়মিত খননকাজ শুরু হয়। এ পর্যন্ত ৫০টির বেশি প্রত্নস্থল শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে শালবন বিহার, রূপবান মুড়া, ইটাখোলা মুড়া, ভোজ রাজার বাড়ি, আনন্দ বিহার, কোটিলা মুড়া, চারপত্র মুড়া এবং রানী ময়নামতির প্রাসাদ ও মন্দির উল্লেখযোগ্য।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিভাগীয় আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা বলেন, লালমাই-ময়নামতি পাহাড়ে অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে। প্রতিবছর খননে নতুন নিদর্শন উন্মোচিত হচ্ছে। তবে অবাধে পাহাড় কাটা ও স্থাপনা নির্মাণের কারণে অনেক নিদর্শন অনাবিষ্কৃত থেকে যাচ্ছে।

কমছে জীববৈচিত্র্য, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি
বন ও কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দশকে লালমাই পাহাড় ও আশপাশের এলাকার প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যে বড় পরিবর্তন এসেছে। ষাটের দশক থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চল ঘন গাছপালা, বাঁশঝাড় ও বুনো লতায় আচ্ছাদিত ছিল। তখন সেখানে বন্য শূকর, মেছোবাঘ, বুনো বিড়াল, শিয়াল, হনুমান, সজারু, খরগোশ ও বাদুড় দেখা যেত। ময়ূর, বনমোরগ, ঘুঘু, পেঁচা, শকুন, মাছরাঙাসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখিও ছিল।

বন বিভাগ বলছে, নির্বিচারে পাহাড় কাটা, স্থাপনা নির্মাণ, বসতি বিস্তার ও গাছপালা উজাড়ের কারণে পাহাড়ের প্রাকৃতিক সম্পদ হারিয়ে যাচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কুমিল্লার উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান সমকালকে বলেন, অবাধে পাহাড় কাটায় ফল ও ফসলের আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। পাহাড়টি ফল ও সবজি উৎপাদনের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। পাহাড় রক্ষা করা গেলে কৃষি অর্থনীতিতে ভালো ভূমিকা রাখা সম্ভব।

বন বিভাগের অনেক জমি বেদখল
লালমাই পাহাড়ে বন বিভাগের অধীনে রয়েছে ১৮৩ একর ১২ শতাংশ জমি। এর মধ্যে পাহাড়ি অনেক জমি বেদখলে রয়েছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দখলে থাকা তিন একর জমি নিয়ে মামলা চলছে।
সামাজিক বন বিভাগ কুমিল্লার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নূরুন্নাহার সমকালকে বলেন, লালমাই পাহাড়ে বন বিভাগের বেদখলে থাকা জমি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা, প্রশাসনের জরিমানা
উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভিন্ন সময়ের অভিযানে জরিমানা করা হলেও পুরোপুরি থামছে না লালমাই পাহাড় কাটা। ২০২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি লালমাই পাহাড় কাটা বিরত রাখার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এতে পাহাড় কাটা ও অন্যান্য পাহাড়ে ধ্বংসমূলক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই সময় পাহাড় কাটার কারণে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, হাসান টেকনো বিল্ডার্স লিমিটেড ও হক এন্টারপ্রইজ জয়েন্ট ভেঞ্চার (জেভি) এবং ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্ককে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই দিন এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

আদালতে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আশরাফ আলী। রিটে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোকে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত লালমাই পাহাড় কাটা ও অন্যান্য পাহাড়ে ধ্বংসমূলক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়), কুমিল্লার উপপরিচালককে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

এর আগে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে লালমাই পাহাড়ের বড়ধর্মপুর এলাকায় সড়ক সম্প্রসারণে অনুমতি ছাড়া পাহাড়ের এক লাখ ১৪ হাজার ৩৩০ ঘনফুট মাটি কাটার দায়ে সওজ বিভাগের হাসান টেকনো বিল্ডার্স লিমিটেড ও হক এন্টারপ্রাইজ জেভি নামের দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করে পরিবেশ অধিদপ্তর।

এদিকে পরিবেশগত ছাড়পত্র না নিয়ে পাহাড় কাটায় ২০২০ সালের মার্চে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। এর মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে তিন লাখ পাঁচ হাজার টাকা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এ রহমান এন্টারপ্রাইজকে ৭৬ হাজার ২৫০ টাকা, স্টারলাইন সার্ভিসেস লিমিটেডকে তিন লাখ ৮১ হাজার ২৫০ টাকা, মেসার্স আবদুর রাজ্জাককে তিন লাখ পাঁচ হাজার টাকা ও জাকির এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড খোকন কনস্ট্রাকশনকে চার লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি চিকিৎসক মো. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা কিংবা প্রশাসনের অভিযান কোনো কিছুতেই পাহাড় কাটা রুখে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলা প্রশাসনের ‘বড়’ অভিযান
চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি বিকেলে দুই ঘণ্টার অভিযানে লালমাই পাহাড়ের বড় ধর্মপুর এলাকায় পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এদিন পাহাড়ের মাটি কাটায় তাজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে আট লাখ টাকা জরিমানাসহ একটি খননযন্ত্র জব্দ করা হয়। সদর দক্ষিণ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এস এম নুরুল আখতার নিলয় বলেন, অভিযানটি ছিল সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ে বড় অভিযান।
কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এ বি এম মশিউজ্জামান সমকালকে বলেন, অধিকাংশ পাহাড় ব্যক্তিমালিকানায়। তবে আইন অনুযায়ী পাহাড় কাটা নিষিদ্ধ। প্রশাসনের অভিযানের কারণে লালমাই পাহাড় কাটা অনেকটা কমে এসেছে। কোথাও পাহাড় কাটার খবর পেলেই প্রশাসন অভিযান চালায়।

অপ্রতিম হত্যা: চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যা মামলায় চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। গত ২০ অক্টোবর অভিযোগপত্র দেওয়া হলেও শুক্রবার পুলিশ মিডিয়া সেল গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে।

জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান সমকালকে বলেন, দুই কিশোরসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থেকেই অপ্রতিমকে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯), মো. সিয়াম (১৯) এবং ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোরকে। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। শিশু আইন অনুযায়ী, অভিযোগপত্রে ওই দুই কিশোরকে শিশু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা বর্তমানে গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রয়েছে।

এর আগে গত শনিবার কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানিয়েছিলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে এ মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

নিহত অপ্রতিমের বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি জেনেছেন। তবে বিস্তারিত কিছু জানেন না। তিনি দ্রুত মামলার রায় দেওয়ার দাবি জানান। তার অভিযোগ, দুই আসামির বয়স কম দেখানো হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের বয়স পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব আহমেদ সমকালকে বলেন, চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তিনি পুলিশ মিডিয়া সেলের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। ওই দিন সে আর বাড়ি ফেরেনি। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনা দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। আসামিদের বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। এরপর কুমিল্লাজুড়ে কিশোর গ্যাংবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে পুলিশ।

চলতি বছরের ৮ মাস ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ১২%

০

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির আয় কমেছে ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ সময়ে রপ্তানি আয় প্রায় ১৫৮ কোটি ইউরো কমে এক হাজার ১৯২ কোটি ইউরোতে নেমেছে। গত বছরের একই সময়ে ইইউ থেকে রপ্তানি আয় ছিল এক হাজার ৩৫০ কোটি ইউরো। রপ্তানির পরিমাণ কমার পাশাপাশি পণ্যের গড় দাম কমে যাওয়ায় আয়ে বড় প্রভাব পড়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস সংকলিত এক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইইউর সামগ্রিক পোশাক আমদানিও কমেছে। এ সময়ে বিশ্ববাজার থেকে ইইউর পোশাক আমদানির মূল্য দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ২৯ কোটি ইউরো। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ কম।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য আট মাসে বাংলাদেশ থেকে ইইউর পোশাক আমদানির পরিমাণ কমেছে ৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ। একই সময়ে প্রতি কেজি পোশাকের গড় দাম ১৪ দশমিক ৮৭ ইউরো থেকে কমে ১৩ দশমিক ৭৬ ইউরো হয়েছে। অর্থাৎ, পরিমাণের পাশাপাশি দামের পতনও রপ্তানি আয় কমার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান বাজারগুলোর একটি ইইউ। ওই অঞ্চলে রপ্তানিতে চীনের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। তাই এ বাজারে রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি পণ্যের গড় দাম কমার প্রবণতাও গুরুত্বপূর্ণ।

আট মাসের হিসাবে কমলেও আগস্ট মাসের হিসাবে কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গত বছরের আগস্টের তুলনায় চলতি বছরের একই মাসে  বাংলাদেশ থেকে ইইউতে পোশাক রপ্তানির মূল্য বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭২ শতাংশ। এ সময়ে রপ্তানির পরিমাণ কমেছে শূন্য দশমিক ৫৭ শতাংশ। তবে বিপরীতে প্রতি কেজির গড় দাম বেড়েছে ১ দশমিক ২৯ শতাংশ। এতে মাসভিত্তিক হিসাবে রপ্তানি আয়ে সামান্য ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে।
ইইউর বাজারে বাংলাদেশের বড় প্রতিযোগীদের মধ্যে চীনের পোশাক রপ্তানি আয় বেড়েছে ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। দেশটির রপ্তানি দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯৭১ কোটি ইউরো। গত বছরের একই সময়ে ছিল এক হাজার ৯২৬ কোটি ডলার।
ইইউর বাজারে সবচেয়ে ভালো করেছে ভিয়েতনাম। আলোচ্য সময়ে ভিয়েতনামের রপ্তানি আয়ও ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়ে ৩০০ কোটি ইউরো হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে ভিয়েতনামের আয় ছিল ২৮৭ কোটি ইউরো। এদিকে ইইউর বাজারে তুরস্ক, ভারত, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, মরক্কো ও কম্বোডিয়ার রপ্তানি আয় কমেছে। ভারতের রপ্তানি কমেছে ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

সাজেক নিয়ে সঠিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পদক্ষেপ চান শফিকুর রহমান

০

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেককে কেন্দ্র করে কী ঘটছে, তা খতিয়ে দেখে সঠিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।

পোস্টে শফিকুর রহমান লেখেন, ‘রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে? ভুয়া গোয়েন্দা তথ্যের পেছনে না দৌড়িয়ে সঠিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।’

তিনি আরও লেখেন, ‘সাধারণ নাগরিকদের জীবন নিয়ে তামাশা করার অধিকার কারও নেই। সময় থাকতে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।’

এর আগে আজ সকাল ১১টার দিকে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সশস্ত্র সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে ৩০ থেকে ৪০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়। এ সময় সেনাবাহিনীর টহল দল পাল্টা গুলি ছুড়লে সশস্ত্র ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে আইএসপিআর জানিয়েছে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাত নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র প্রস্তুত চব্বিশে মানবতাবিরোধী অপরাধ

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ সাত প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। শিগগির আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ অভিযোগপত্র জমা দেবে রাষ্ট্রপক্ষ।

অভিযোগপত্রে থাকা আসামিরা হলেন– আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সাবেক মন্ত্রী ও ১৪ দলীয় জোটের সাবেক সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু, সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান, সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, আবদুর রাজ্জাক, দীপু মনি এবং দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।
তাদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’র অভিযোগ আনা হয়েছে।

তাদের মধ্যে আমির হোসেন আমু, শাজাহান খান, কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান, মির্জা আজমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় এই প্রথম কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা থেকে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশন কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম জানিয়েছেন, এ মামলার সাত আসামির প্রত্যেকেই তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। তারা দল হিসেবে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।

প্রসিকিউটর তামীম আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় থেকে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্টে এক হাজার ৪০০ ছাত্র-জনতাকে হত্যার তথ্য উঠে এসেছে। এ কারণে প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটির অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ মামলার অন্যতম আসামি সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলন চলাকালে মাদারীপুরে সংঘটিত হত্যা এবং সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটিসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্য ছয় আসামির বিরুদ্ধে সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি এবং জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর উত্তরা ও মিরপুরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে।

আল-জাজিরার বিশ্লেষণ ইরানে হামলা চালানো সহজ, সরকার উৎখাত কঠিন কেন

ইরানের সরকার উৎখাতকে ইসরায়েলের প্রধান লক্ষ্য বলে ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে সামরিক শক্তিতে ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করার সক্ষমতা থাকলেও দেশটির সরকার উৎখাত করা ইসরায়েলের জন্য কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে আল-জাজিরা। এতে বলা হয়েছে, ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিশ্চিত নয়। আর শুধু বিমান হামলা চালিয়ে ইরানের সরকার পরিবর্তন করা সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে জনমত জরিপে সমর্থন কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহু ইরানের সরকার উৎখাতের লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেছেন। রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার আলোচনা এবং পেন্টাগনপ্রধান পিট হেগসেথের ইসরায়েল সফরের পর তিনি এ বক্তব্য দেন। তবে ইরানের নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করতে নতুন অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেবে কিনা, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

বিমান হামলায় কতটা সম্ভব
যুক্তরাজ্যের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (রুসি) গবেষক আরবান কনিংহাম আল-জাজিরাকে বলেন, ইসরায়েলের আকাশপথে হামলা চালানোর সক্ষমতা রয়েছে। দেশটির অস্ত্রের মজুত ও আকাশে উড়ন্ত বিমানে জ্বালানি সরবরাহের সক্ষমতা ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় সুবিধা দেবে।

তবে সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা আর একটি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা এক বিষয় নয়। বিশ্লেষকদের মতে, বিমান হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা গেলেও দেশটির পাল্টা হামলার সামর্থ্য পুরোপুরি ধ্বংস করা কঠিন। বিশেষ করে ভূগর্ভে বা সুরক্ষিত স্থানে রাখা অস্ত্র ও সামরিক ব্যবস্থা টিকে যেতে পারে।

আবদুল্লাহ গুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক জাগলার কুর্চ বলেন, ইরানের সরকার উৎখাত করতে হলে স্থলবাহিনী মোতায়েন এবং দীর্ঘ সময় দেশটিতে অবস্থান করার মতো প্রস্তুতি প্রয়োজন। শুধু বিমান হামলা দিয়ে এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।

নেতানিয়াহুও গত মার্চে স্বীকার করেছিলেন, শুধু আকাশপথে হামলা চালিয়ে ইরানের সরকার উৎখাত করা সম্ভব নয়। তবে স্থল অভিযান কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

ইরানেরও পাল্টা হামলার সক্ষমতা রয়েছে
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের নতুন অভিযানের জবাব দেওয়ার মতো সক্ষমতা এখনো ইরানের রয়েছে। দেশটির ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্য পরিমাণে থাকতে পারে। আকাশপথে হামলায় ক্ষয়ক্ষতি হলেও ইরানের কিছু অস্ত্রব্যবস্থা কার্যকর থাকবে বলে ধারণা তাদের।

রুসির জ্যেষ্ঠ গবেষক সিদ্ধার্থ কৌশল বলেন, ইরানের জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও উল্লেখযোগ্য হতে পারে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি বিমান হামলা থেকে সামরিক সরঞ্জাম সুরক্ষায় সুবিধা দিতে পারে।

অন্যদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে গিয়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়তে পারে। তুলনামূলক কম দামের ড্রোন ধ্বংস করতে অনেক বেশি ব্যয়বহুল প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হয়। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে এতে ইসরায়েলের অস্ত্রের মজুত ও অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র কি আবার যুদ্ধে জড়াবে
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানে নতুন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা অনিশ্চিত। দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় নতুন করে যুদ্ধ বাড়ানোর রাজনৈতিক ঝুঁকি রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনের বরাতে আল-জাজিরা জানিয়েছে, ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে ইসরায়েলের একটি প্রস্তাবে ট্রাম্পের সম্মতি পাওয়া যায়নি। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভবিষ্যতে সব ধরনের সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়া ইসরায়েলের পক্ষে গভীরে অবস্থিত সুরক্ষিত স্থাপনায় হামলা চালানোও কঠিন হবে বলে মনে করেন কনিংহাম। ইরানের ফোরদো ও নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ বোমারু বিমান থেকে ব্যবহার করা হয়েছিল ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের জিবিইউ-৫৭ বাংকারবিধ্বংসী বোমা। এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা ইসরায়েলের নেই।

সরকার পরিবর্তনের পথে বড় বাধা
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে সরকার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হলো সামরিক অভিযান ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে ব্যবধান। হামলা চালিয়ে সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা সম্ভব হলেও তা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকার পতন ঘটে না।

কুর্চের মতে, কোনো সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে হলে বিদেশি বাহিনীকে স্থলভাগে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে হতে পারে। ইরানের মতো বড় দেশে এমন অভিযান চালানো এবং দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন। যুক্তরাষ্ট্রও কয়েক দশক ধরে চলতে পারে- এমন আরেকটি সরকার পরিবর্তনের যুদ্ধে জড়াতে চাইবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

আল-জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ইরানের সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের আঘাত হানতে পারলেও দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বকে উৎখাত করার সুস্পষ্ট কৌশল এখনো দৃশ্যমান নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অনিশ্চিত থাকা এবং ইরানের পাল্টা হামলার সক্ষমতা বজায় থাকায় নেতানিয়াহুর ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন কঠিন হতে পারে।