Home Blog Page 54

ব্রাজিলের বিদায় নিয়ে যা বললেন আর্জেন্টিনা কোচ

নরওয়ের কাছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের বিদায়কে নিজেদের জন্য বড় এক সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। তার মতে, সেলেসাওদের বিদায়ের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল একের পর এক নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করা। মঙ্গলবার মিসরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিলের হার নিয়ে এমন মন্তব্য করেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কোচ।

নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে একাধিক নিশ্চিত গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি ব্রাজিল। বিশেষ করে ম্যাচের শুরুতে এন্দ্রিকের মিস করা সুযোগটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে বলে মনে করেন স্কালোনি।

ব্রাজিলের বিদায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ব্রাজিলের ম্যাচের বেশির ভাগই দেখেছি। নরওয়ে অবশ্যই ভালো দল। কিন্তু ম্যাচের শুরুতে স্কোর যখন ০-০ ছিল, তখন এন্দ্রিক যদি ওই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারত, তাহলে আজ আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন গল্প নিয়ে কথা বলতাম। ব্রাজিল মূলত শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়েছিল। ওদের বিদায় আমাদেরও সতর্ক করে দিয়েছে, কারণ আমরাও আজ কঠিন এক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে নামছি।’

এদিকে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বরাবরের মতোই শুরুর একাদশ গোপন রেখেছেন স্কালোনি। তবে জানিয়ে দিয়েছেন, দল চূড়ান্ত করা হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমি একাদশ ঠিক করেছি। কিন্তু এখনো খেলোয়াড়দের জানাইনি, তাই আপনাদেরও বলব না। তবে প্রেস অফিস থেকে শুনেছি, আপনারা সাংবাদিকেরা মোটামুটি একাদশ অনুমান করে ফেলেছেন। বলা যায়, আপনারাদের ধারণা খুব একটা ভুল নয়।’

তিন দিন আগে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ১২০ মিনিট খেলেছেন ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি। তাকে নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই বলেই জানিয়েছেন স্কালোনি, ‘মেসি পুরোপুরি ভালো আছে। ৩৯ বছর বয়সেও আগের ম্যাচে ১২০ মিনিট খেলেছে, অথচ কোনো ক্লান্তির কথা বলেনি। ও স্বাভাবিকভাবেই প্রস্তুত আছে।’

মিসরকে শেষ ষোলোর অন্যতম কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবেই দেখছেন আর্জেন্টিনা কোচ, ‘মিসর খুবই সংগঠিত একটি দল। তাদের খেলার পরিষ্কার পরিকল্পনা আছে। বিশেষ করে রক্ষণভাগ খুব শক্তিশালী এবং তারা প্রতিপক্ষকে ভোগাতে জানে। আমাদের বিপক্ষেও নিশ্চয়ই একই কৌশল নিয়ে নামবে।’

মিরপুরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর শরীরে আগুন, ১১ দিন পর মৃত্যু

রাজধানীর মিরপুরে কেরোসিনের আগুনে দগ্ধ অন্তঃসত্ত্বা পোশাকশ্রমিক শিফা আক্তার (১৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। দগ্ধ হওয়ার ১১ দিন পর রোববার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহত শিফার স্বামী ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ করেছে শিফার পরিবার।

তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্তে তারা জানতে পারে, শিফা মায়ের বাসা থেকে বের হয়ে নিজেই শরীরে গ্যাস লাইটার দিয়ে আগুন ধরান। এ সংক্রান্ত একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া গেছে।

স্বজনরা জানান, শিফার পৈতৃক বাড়ি কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে। চার বোনের মধ্যে শিফা সবার বড়। প্রায় আট মাস আগে একই উপজেলার লাউরা পশ্চিমপাড়া গ্রামের সোহেলের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁরা রাজধানীর মিরপুর-২ এলাকার বড়বাগে আজমত গার্মেন্টস সংলগ্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনই একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। তবে বর্তমানে তার স্বামী হাজারিবাগে বাসা নিয়েছেন। সেখানেই থাকেন তারা। মাঝে মধ্যে স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হতো। অনেক সময় স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পারায় মিরপুর–২ এলাকায় বাবার বাসায় চলে যেতেন শিফা।

শিফার বাবা জাহাঙ্গীর আলমের দাবি, বিয়ের সময় কিছু টাকা সোহেলকে যৌতুক হিসেবে দেয়ার কথা ছিল। তবে অভাবের কারণে সেই টাকা তখন দিতে পারেননি তিনি। টাকার জন্য সোহেল ও তাঁর মা–বাবা শিফাকে নানাভাবে চাপ দিত। সোহেল তাকে মারধরও করতেন। এরপরই শিফা গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে গার্মেন্টসে চাকরি নিয়েছিলেন। পরে সোহেলও ঢাকায় এসে গার্মেন্টসে চাকরি নেন। শিফা ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

জাহাঙ্গীর আলমের অভিযোগ, এক মাস আগেও সোহেল শিফাকে মারধর করে। তাঁকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। শিফা জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে চাকরি ছেড়ে দেন।

তিনি বলেন, ২৪ জুন রাতে সোহেল আমার মেয়ের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। আমি এর বিচার চাই।

মিরপুর থানার ওসি হাফিজুর রহমান রোববার রাত সোয়া ১১টায় সমকালকে বলেন, গত ২৪ জুন দগ্ধ হয়ে শিফা হাসপাতালে ভর্তি হলেও পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জানানো হয়নি। রোববার বিকেলে মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়। ঘটনাস্থলের একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া গেছে। তাতে দেখা যায়, শিফা মায়ের বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় এসে একটি দোকান গ্যাস লাইটার নিয়ে নিজের শরীরে আগুন ধরাচ্ছে।

ওসি জানান, মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনায় স্বামী সোহেলের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

তিন শিশুকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনায় মামলা

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, খুলনার কয়রা ও কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিন শিশুকে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তিনটি ঘটনার মধ্যে দুটি ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে রাঙামাটির বরকলে এক গৃহবধূর শ্লীলতাহানির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক ব্যক্তিকে।

শিক্ষিকার স্বামীর কাণ্ড

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে তার মা মামলা করেছেন। গত শনিবার রাতে করা মামলায় আসামি করা হয়েছে রফিকুল ইসলাম নামের এক পল্লিচিকিৎসককে। জানা গেছে, রফিকুলের স্ত্রী স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। তিনি বাড়ির টুকটাক কাজের জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ডাকতেন। এ সুযোগে তাঁর স্বামী শিক্ষার্থীদের শরীরে আপত্তিকর স্পর্শ করতেন। এমনকি নিজের মোবাইল ফোনে অশ্লীল ভিডিও দেখাতেন। গত ২৮ জুন পঞ্চম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে কৌশলে ফাঁকা বাড়িতে ডেকে নেন রফিকুল। পরে মুখে গামছা চেপে ধর্ষণ করেন তিনি। কাউকে ঘটনা জানাতেও মানা করেন। গত শুক্রবার মেয়েটি তার শিক্ষিকার বাড়ি গেলে আবারও ধর্ষণের চেষ্টা চালালে সে বাড়ি ফিরে মা-বাবাকে জানায়। গ্রামের বিশিষ্টজনের পরামর্শে শিশুটির মা থানায় মামলা করেন। শাহজাদপুর থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

মেয়েকে উদ্ধার করলেন মা

খুলনার কয়রায় বৃষ্টিতে আটকে পড়া শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার সময় তাকে উদ্ধার করেছেন মা। গত শনিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী সাইফুল মোল্লা (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে পুলিশে দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গত শনিবার বিকেলে সাইফুলের বাড়ির সামনে খেলছিল প্রতিবেশী মেয়েটি। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে সে বারান্দায় আশ্রয় নেয়। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে সাইফুল তাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। মেয়েটির চিৎকার শুনে মা এসে সাইফুলের মাথায় পিড়ি দিয়ে আঘাত করে তাকে উদ্ধার করেন। পরে এলাকাবাসী সাইফুলকে পুলিশে সোপর্দ করেন।

কয়রা থানার ওসি হাসানুজ্জামান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সাইফুলকে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় মেয়েটির মা মামলা করলে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে গতকাল রোববার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মন্দিরের সভাপতি গ্রেপ্তার

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে আট বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে হওয়া মামলায় নারায়ণ চন্দ্র রায় (৬৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে মেয়েটিকে চিপস ও বিস্কুটের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে। গত শনিবার রাতে থানায় এজাহার দেওয়ার পর তাঁকে আটক করে পুলিশ।

পেশায় কৃষক নারায়ণ চন্দ্র রায় স্থানীয় একটি মন্দির কমিটির সভাপতি। রাজারহাট থানার ওসি মামুনুর রশীদ বলেন, মামলার পর পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। আদালতের মাধ্যমে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

গৃহবধূর মামলা

রাঙামাটির বরকলে এক গৃহবধূর শ্লীলতাহানির মামলার মো. মহসিন (৪৫) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। গত শুক্রবার দুপুরে বাড়ির পাশের ছড়ায় গোসলে যান ওই গৃহবধূ। ফেরার পথে প্রতিবেশী মহসিন তাঁর শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালান। ভুক্তভোগীর চিৎকারে আত্মীয়-স্বজন এগিয়ে এলে সে পালিয়ে যায়। অচেতন অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করেন স্বজনেরা।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকাবাসী গ্রামপুলিশের সহায়তায় মহসিনকে আটক করে পুলিশে দেয়। ভুক্তভোগীর স্বামীর অভিযোগ, মহসিন চরিত্রহীন। বরকলে তার স্বী-সন্তান বা কোনো আত্মীয়স্বজন থাকেন না। এমন আরও অনেক অভিযোগ তার বিরুদ্ধে রয়েছে। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

গত শনিবার ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে শ্লীলতাহানির মামলা করেন বলে জানান বরকল থানার উপপরিদর্শক মো. শাহাদাৎ হোসেন। তিনি বলেন, মহসিনকে শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বরিশালের বাকেরগঞ্জ প্রতিষ্ঠান আছে কাগজে, বাস্তবে মিলছে না

বরিশালের বাকেরগঞ্জে মাদ্রাসা ও এতিমখানার নামে চাল বরাদ্দ দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের মাধ্যমে ১৫টি প্রতিষ্ঠানের নামে ১৫ টন চাল বরাদ্দ হয়। এসবের বাজারমূল্য প্রায় ৯ লাখ টাকা। কিন্তু নানা জায়গায় খোঁজ নিয়েও তালিকায় থাকা কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

তালিকা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এলাকার পরিচিত কিছু প্রতিষ্ঠানের নামের অংশ বদল করে নতুন নাম তালিকায় দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানার সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, এমন অনিয়মের কারণে প্রকৃত এতিম শিক্ষার্থীরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২০২৫ সালের শেষের দিকে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজের সুপারিশে ১৫টি এতিমখানার নামে ১৫ টন চাল বরাদ্দ দেন বরিশাল জেলা প্রশাসক। এগুলো হলো– বামনিকাঠী আল আকসা জামে মসজিদ ও এতিমখানা, উত্তমপুর জামে মসজিদ, আল কোরআন নুরানী মডেল মাদ্রাসা ও এতিমখানা, রঘুনাথপুর জান্নাতুল মাদ্রাসা ও এতিমখানা, মমতাজন্নেছা মহিলা মাদ্রাসা ও এতিমখানা, ইসলামিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা, চৌধুরী বাড়ীর জামে মসজিদ ও এতিমখানা, হাফিজিয়া মাদ্রাসা এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং, দক্ষিণ দাড়িয়াল দারুসুন্নাত হাফেজি মাদ্রাসা ও এতিমখানা লিল্লাহ বোর্ডিং, ছালেহিয়া দিনিয়া মাদ্রাসা চরামদ্দি, পাঠকাঠী জামে মসজিদ ও এতিমখানা, বায়তুল আকসা জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা, খয়রাবাদ হাফেজি মাদ্রাসা ও এতিমখানা, শিয়ালঘুনি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা ও দাড়িয়াল দারুন্নাজাত হাফেজি মাদ্রাসা ও এতিমখানা।

তালিকায় এসব প্রতিষ্ঠানের কোনোটির পূর্ণ ঠিকানা দেওয়া হয়নি। সরেজমিন খোঁজ নিয়েও এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তথ্য মেলেনি। তালিকার ৬ নম্বরে থাকা ইসলামিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাহেদগঞ্জ এলাকায় এই নামে একটি প্রতিষ্ঠান ছিল। কিন্তু কয়েক বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির কোনো কার্যক্রম নেই। পাশেই বাকেরগঞ্জ হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালু আছে। এই প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নেই।

বাকেরগঞ্জ হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো বরাদ্দ আসে না। অথচ অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ আসে।’

তালিকার পাঁচ নম্বরে আছে মমতাজন্নেছা মহিলা মাদ্রাসা ও এতিমখানা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলসকাঠী ইউনিয়নের চর কলসকাঠী এলাকায় কাছাকাছি নামে একটি প্রতিষ্ঠান আছে। সেটির নাম মুসলিম পাড়া মমতাজ নেছা মহিলা মাদ্রাসা। এই প্রতিষ্ঠানটি মুসলিমপাড়া সুন্নাতিয়া কারিমীয়া বহুমুখী মাদ্রাসা ও এতিমখানার সঙ্গে যুক্ত। বিষয়টি নিশ্চিত করেন মুসলিমপাড়া সুন্নাতিয়া কারিমীয়া বহুমুখী মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা মো. হারুনুর রশিদ বলেন, যে নামে চাল বরাদ্দ হয়েছে, সে নামে এই এলাকায় কোনো প্রতিষ্ঠান নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যেই বরাদ্দ তুলে নেওয়া হয়। তাদের অভিযোগ করেন, এসব তালিকার সঙ্গে সাবেক-বর্তমান কর্মকর্তারা জড়িত। তাদের যোগসাজশে এতিমদের বরাদ্দ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

পৌর এলাকার ফয়জুল করিম দারুল উলূম বহুমুখী মাদ্রাসা ও এতিমখানায় শিক্ষকতা করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বাকেরগঞ্জ শাখার নেতা মাওলানা কামাল উদ্দিন। তাঁর ভাষ্য, ‘উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের বরাদ্দ তালিকায় যে নামগুলো দেখেছি, আমার জানামতে সেগুলোর একটি নামও সঠিক নয়। এসব নামে কোনো মাদ্রাসা বা এতিমখানা আছে বলে আমার জানা নেই।’ ভুয়া তালিকা করে এভাবে এতিমের নামে বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।

বাকেরগঞ্জ হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার অভিভাবক সদস্য ও পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিরাজ উদ্দিন জুয়েল বলেন, ‘শুনেছিলাম আমাদের প্রতিষ্ঠানের নামে তিন টন চাল বরাদ্দ এসেছে। পরে অফিসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, আমাদের নামে কোনো বরাদ্দ নেই।’

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বাকেরগঞ্জ শাখার সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন রোকন ডাকুয়া বাকেরগঞ্জ আল কারিম মডেল মাদ্রাসার পরিচালক পদেও আছেন। তিনি বলেন, ‘এতিমের হক আত্মসাৎ করা শুধু অপরাধ নয়, এটি পাপও। যারা এতিমদের বরাদ্দ আত্মসাৎ করেছেন, তাদের কঠোর বিচার হওয়া উচিত।’

এসব বিষয়ে কোনো কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান। তিনি খোঁজখবর নিয়ে বিস্তারিত জানানোর আশ্বাস দেন।

বাকেরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিল্টন চন্দ্র পাল বলেন, ‘বরাদ্দের বিষয়টি আমি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না। এসব প্রতিষ্ঠানের নামে আদৌ বরাদ্দ হয়েছে কিনা, তা যাচাই করা হবে।’ তবে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ হয়ে থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

কক্সবাজারে পাহাড় ধসে এক রাতেই রোহিঙ্গা নারী-শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পেসহ পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় নারী-শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এক রাতেই উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘটেছে পৃথক পাহাড়ধস। এছাড়াও কক্সবাজার শহরে আরও একটি পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটে। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত আট রোহিঙ্গাসহ নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।

রোববার দিবাগত রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে উখিয়ার ৭, ১১ নম্বর বালুখালী ও ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘটে এসব দুর্ঘটনা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, এপিবিএন, ক্যাম্প প্রশাসন ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা রাতভর চালায় উদ্ধার অভিযান।

রোহিঙ্গা শরণার্থী মোহাম্মদ মোস্তাফা জানান, সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে। রাত দেড়টার দিকে আশ্রিত রোহিঙ্গা মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর ধসে পড়ে পাহাড়ের বিশাল অংশ। মুহূর্তেই মাটির নিচে চাপা পড়ে যায় পুরো ঘর।

Untitled 14 1783305840

উদ্ধারকারীরা ঘরের ভেতর থেকে কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছরের ছেলে মোহাম্মদ আনাসের মরদেহ উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনার সময় ঘরটিতে অবস্থান করছিলেন পরিবারের ১০ সদস্য। আহত এক কিশোরীকে উদ্ধার করে পাঠানো হয়েছে হাসপাতালে। পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রাণে বেঁচে গেলেও তাদের অনেকেই হয়েছেন গুরুতর আহত।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বলেছেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে চালানো হয় উদ্ধার অভিযান। ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে মৃত এবং দুজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

Untitled 13 1783305924

এর কিছুক্ষণ পরই রাত ২টার দিকে উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদের ছেলে সে।

ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানিয়েছেন, পাহাড়ধসের পর রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা উদ্ধার করেন শিশুটির মরদেহ।

রাত গড়াতে না গড়াতেই আরেকটি দুঃসংবাদ আসে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে পাহাড়ধসে একই পরিবারের চারজন প্রাণ হারান। আহত হন আরও একজন।

নিহতরা হলেন- ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ রিহান (৫) ও তার ভাই হারুনুর রশিদ (৩)।

তিনটি পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় মোট আটজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা। তিনি জানান, ‘সবকটি ঘটনা কাছাকাছি সময়ে ঘটেছে। রাতভর উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

Untitled 16 1783305965

এদিকে রাত ৩টার দিকে কক্সবাজার শহরের লাইট হাউস এলাকায় পাহাড় ধ্বসে আলী আকবর (৫০) নামে এক ব্যক্তিরও মৃত্যু হয়েছে।

ক্যাম্পে বসবাসকারী রোহিঙ্গা জাফর আলমের বলেন, বর্ষা এলেই তাদের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হয়ে ওঠে পাহাড়ধস। পাহাড় কেটে তৈরি করা ঢালে বাঁশ, ত্রিপল ও মাটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো ঘর ভারী বৃষ্টিতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। সামান্য ধসও মুহূর্তেই কেড়ে নিতে পারে বহু প্রাণ।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী দুই দিনও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি জানান।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে মাইকিংসহ বিভিন্নভাবে সতর্ক করা হচ্ছে জানিয়েছেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার। তিনি বলেন, ‘ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি অনেক বেড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করে সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে। জীবন রক্ষায় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।’

টুথপেস্ট দিয়ে গহনা, প্লেট, জুতা পরিষ্কারের উপায়

প্রতিদিন সকালে যে টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করেন, সেই একই টুথপেস্ট ব্যবহার করে অন্যান্য অনেক কাজ করতে পারেন। আবার মেয়াদোত্তীর্ণ পেস্ট ব্যবহারেও একই কাজ করা যাবে। তবে রঙিন বা জেল পেস্ট নয়, বরং সাধারণ সাদা পেস্টকে নানা উপায়ে কাজে লাগাতে পারেন।

রূপার গহনা এবং তামার প্লেট পরিষ্কার 
রুপার গহনা বা তামার প্লেট দ্রুত কালো হয়ে যায়। এই কালচে ভাব দূর করতে দামি পলিশের প্রয়োজন নেই। পুরোনো টুথপেস্ট ব্রাশে নিয়ে গহনা বা প্লেটের গায়ে মাখিয়ে হালকা ভাবে ঘষুন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে সুতি কাপড় দিয়ে মুছে নিন। গহনা ও প্লেট নতুনের মতো চকচক করবে।

সাদা জুতা পরিষ্কার করতে
সাদা স্নিকার্স বা জুতা কিছুদিন ব্যবহার করলেই নোংরা হয়ে যায়। বিশেষত, বাদলা দিনে পরলে দাগ বসে যায়। সেই দাগ সহজে উঠতেও চায় না। জুতার দাগের উপর সামান্য টুথপেস্ট লাগিয়ে একটি পুরোনো টুথব্রাশ দিয়ে স্ক্রাব করুন। কিছুক্ষণ ঘষার পর একটি ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে নিন।

আয়না এবং বাথরুমের কল পরিষ্কার
বাথরুমের কাচের আয়না বা স্টিলের কলে পানির দাগ বসে গেলে সহজে উঠতে চায় না। এক্ষেত্রেও কাজে আসবে টুথপেস্ট। একটু টুথপেস্ট স্পঞ্জ বা কাপড়ে নিয়ে কল ও আয়নায় ভালো করে ঘষে নিন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন স্টিলের উজ্জ্বলতা ফিরেছে এবং কাচ পরিষ্কার হয়ে গেছে।

হাত থেকে গন্ধ দূর করতে
পেঁয়াজ, রসুন কাটার পর বা মাছ-মাংস পরিষ্কারের পরে হাতে এক ধরনের তীব্র গন্ধ থেকে যায়। সাধারণ হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধোয়ার পরেও সেই গন্ধ সহজে দূর হতে চায় না। এক্ষেত্রে সামান্য টুথপেস্ট হাতে নিয়ে সাবানের মতো ঘষে ধুয়ে ফেলুন। হাত থেকে নিমেষেই দুর্গন্ধ দূর হয়ে যাবে।

নখের উজ্জ্বলতায়, ব্রণ তাড়াতে
গৃহস্থালী কাজ ছাড়াও টুথপেস্ট নখের উজ্জ্বলতায় এবং ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে যাদের নখ হলদেটে হয়ে যায় তারা ব্রাশে পেস্ট নিয়ে কিছুক্ষণ ঘষুন। আবার যেসব তরুণীদের মুখে, কপালে ব্রণ হয় তারাও টুথপেস্টের সাহায্য নিতে পারেন।

যে ৭ পানীয়তে কমবে বুকজ্বালা, গ্যাসের সমস্যা

বুকজ্বালা, অম্বল, টক ঢেকুর, অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা অনেকের নিত্যদিনের সঙ্গী। সহজ সমাধান হিসেবে তারা ওষুধ খেয়ে নেন। হজমের ওষুধ অতিরিক্ত খেলে গুরুতর শারীরিক সমস্যা হতে পারে। ভারতীয় গণমাধ্যম ‘আনন্দবাজার পত্রিকার’ এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওষুধের বদলে রান্নাঘরে থাকা কয়েকটি উপাদান দিয়েই কমানো যায় গ্যাস, বুকজ্বালার সমস্যা।

মৌরি ভেজানো পানি: মৌরি হজমে সাহায্য করে এবং পেটের অস্বস্তি কমাতে পারে। অম্বল ও গ্যাসের সমস্যায় মৌরি ঘণ্টাখানেক ভিজিয়ে তার পানি পান করতে পারেন। অম্বল বা বুকজ্বালা থেকে রেহাই দিতে পারে এই ঘরোয়া পানীয়। কারণ, এতে থাকা অ্যানিথোল নামক যৌগ পাকস্থলীর পেশিগুলোকে শিথিল করে এবং হজমকারী রসের ক্ষরণ বাড়িয়ে গ্যাস ও ফোলা ভাব কমায়।

জিরা পানি: বদহজমের সমস্যা কমানোর জন্য জিরার জুড়ি মেলা ভার। জিরায় থাইমল নামক তেল থাকে, যা লালা গ্রন্থিকে সক্রিয় করে। এর ফলে পাচক রস ও এনজ়াইম নিঃসরণ বাড়ে। খাবারকে দ্রুত ভাঙতে সাহায্য করে এটি। ফলে হজমে সমস্যা হয় না। পাশাপাশি এটি পেটফাঁপা এবং গ্যাসও কমায়। এই মশলা ভিজিয়ে রেখে সেই পানি পান করলে অম্বলের সমস্যা কমতে পারে।

লবঙ্গ ভেজানো পানি: লবঙ্গ চিবিয়ে খেলে মুখের স্বাদ যেমন বদলায়, তেমনই হজমেও কিছুটা সাহায্য করতে পারে। অনেকেই অম্বল হলে একটি বা দু’টি লবঙ্গ মুখে রেখে ধীরে ধীরে চিবিয়ে খান। লবঙ্গ হাতে চিপে পানিতে ফেলে দিয়ে খানিকক্ষণ অপেক্ষা করুন। তারপর ওই পানি ছেঁকে পান করুন। এর মধ্যে থাকা ইউজেনল পরিপাকতন্ত্রকে সুরক্ষা দেয় এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এর ফলে বুকজ্বালা, পেট ফাঁপা, গ্যাস ও অম্বলের সমস্যা অনেকটা কমবে।

আদা পানি: আদা হজমের সমস্যায় বহু দিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এক কাপ হালকা আদা দেওয়া গরম পানি বা আদা চা পেটের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। আদা পাকস্থলীর পেশি শিথিল করে, হজম প্রক্রিয়া দ্রুত করে এবং প্রদাহ কমায়, যার ফলে অ্যাসিড রিফ্লাক্স ও বুকজ্বালা কমে।

এলাচের গুঁড়া মিশ্রিত পানি: পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিড প্রশমিত করে এবং হজমে সাহায্যকারী এনজাইমের ক্ষরণ বাড়িয়ে অম্বল কমাতে পারে এলাচ। বুকজ্বালা দূর করে পেট ঠান্ডা করতে পারে এটি। এলাচ গুঁড়ো করে পানিতে মিশিয়ে খানিক পরে সেই পানি ছেঁকে পান করলে আরাম মিলবে।

ধনের পানি: গোটা ধনে এবং ধনেপাতা, দু’টিই হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। পাকস্থলীতে পাচক রস এবং এনজ়াইম ক্ষরণ বাড়ায় ধনে। এটি খাবারকে দ্রুত ও সঠিক ভাবে ভাঙতে সাহায্য করে। ফলে হজম করার ক্ষমতা বাড়ে। তাই ধনে কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে সেই পানিটুকু ছেঁকে খেয়ে নিলে আরাম পেতে পারেন।

ঈষদুষ্ণ পানি: সাধারণ গরম পানিও হজমে কাজে দিতে পারে। খাবারের পরে অল্প গরম পানি পান করলে হজমপ্রক্রিয়া সহজ হতে পারে এবং অস্বস্তি কমতে পারে। কারণ, ঈষদুষ্ণ বা হালকা গরম পানি হজমের গতি বাড়াতে পারে, অন্ত্রকে সচল করে, বিপাক ক্রিয়াকে সক্রিয় করে বদহজম কমাতে সাহায্য করে। গরম জল পাকস্থলীতে পৌঁছানোর পর খাবার ও চর্বিকে সহজে দ্রবীভূত করতে পারে। ফলে দেহ দ্রুত খাদ্যকণাগুলো হজম করতে পারে।

পুরোনো হিসাব বদলে দেবে ইরান যুদ্ধ আলি খামেনির উত্তরসূরিরা যুদ্ধ নিয়ে ভীত নয়

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর অনেকেই এর সঙ্গে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভার্সাই চুক্তির সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছিলেন। বিশেষ করে ফ্রান্সে বসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের বিষয়টি নজর কেড়েছিল সবার। ১৯১৯ সালের ওই চুক্তি ইউরোপকে বদলে দিয়েছে। সমঝোতায় ছিল ব্যাপক ক্ষতিপূরণের শর্ত, যা পরবর্তী সময় ইউরোপকে নিয়ে যায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে।

অনেকেই সে কারণে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারক কি তাহলে সেদিক থেকে ভিন্ন হবে? নাকি একই ধরনের কিছু দেখা যাবে? সমঝোতার পর তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কোনো না কোনোভাবে টিকে আছে। এর মধ্যে একদফায় হামলা হয়ে গেলেও তা পরিপূর্ণ সংঘাতে রূপ নেয়নি।

এদিকে, ইরান বড় মাপের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশটি নিজেদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে রয়েছে। দেশটিতে এরই মধ্যে নতুন নেতৃত্ব এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় আগের শাসক শ্রেণির অনেকেই মারা গেছেন। যদিও নতুন নেতৃত্ব পুরোনো ঘরানার বাইরে নন, তার পরও এটি বড় পরিবর্তন।

এ প্রসঙ্গে জন হপকিন্স স্কুল অব অ্যাডভান্সড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড মিডল ইস্ট স্টাডিজের অধ্যাপক ভালি নাসর বলেন, ‘এই যুদ্ধকে আমরা যতটা না স্বীকৃতি দিই, এটির তার চেয়েও বেশি প্রভাব ও বৃহৎ পরিণতি রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, এ মাত্রার সব বড় যুদ্ধ আদতে দাবার ঘুঁটি আবার সাজানোর মতো। এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষেত্রে সে প্রভাব রাখবে।

ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি তেহরানে শাসক শ্রেণি পরিবর্তন করেছেন। ভালি নাসরের মতে, এটি মূলত ইরানের জন্য লাভজনক হয়েছে। তিনি বলেন, ‘একেবারে নতুন একটি প্রজন্ম নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তাদের অত্যন্ত স্পষ্ট লক্ষ্য রয়েছে। তারা এই যুদ্ধ সামলেছে, এখন তারা শান্তিও সামলাবে।’

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বয়স ৫৬। প্রয়াত আলি খামেনির সঙ্গে তাঁর বয়সের পার্থক্য অন্তত ৩০ বছর। তাঁর শারীরিক সক্ষমতাও বেশি দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বয়স ৭১, পার্লামেন্টের স্পিকার ও মুখ্য আলোচক বাঘের গালিবাফ এবং রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের আহমাদ ভাহিদি– দুজনের বয়সই ৬০-এর ঘরে। লন্ডনের চ্যাথাম হাউস থিঙ্ক ট্যাঙ্কের মিডল ইস্ট অ্যান্ড নর্থ আফ্রিকা প্রোগ্রামের সানাম ভাকিল বলেন, ‘তারা বিপ্লবের ফসল। ৮৬ বছরের একজন আর ইসলামী প্রজাতন্ত্রের দিকনির্দেশনা ঠিক করছেন না। ইরানের ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় হ্যান্ডব্রেক ছিলেন আলি খামেনি। দশক ধরে সতর্ক খামেনি ‘যুদ্ধও নয়, শান্তি নয়’ নীতি অনুসরণ করেছেন। তবে তাঁর উত্তরসূরিরা আরও দৃঢ়। তারা উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালাতে পিছপা হননি। আবার কয়েক সপ্তাহ পরে যুদ্ধ অবসানে আলোচনার টেবিলে বসা থেকেও নিজেদের গুটিয়ে নেননি। বরং তারা এমন শর্তে পুরো বিষয়টিকে অবসানের পথে নিয়ে গেছেন, যা তেহরানের জন্য বিব্রতকর নয়।

এদিকে, উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর যে ভরসা রেখেছিল, তাতে চিড় ধরতে শুরু করেছে। এ প্রসঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্প পরিচালক আলি ভায়েজ বলেন, অনেক দেশই ভেবেছিল, তাদের দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকলে সেটি তাদের সুরক্ষা দেবে। উপসাগরীয় দেশগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষা বলয়ের নির্ভরযোগ্যতা ও নিজেদের প্রতিরোধ সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।

হরমুজে ‘বন্ধুদের’ বিশেষ ছাড়

চীনে নিযুক্ত ইরানের দূত জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হওয়া জাহাজের আগামীতে খরচ দিতে হবে। তবে চীন ও অন্যান্য বন্ধু দেশ বিশেষ ছাড় পাবে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে, ৬০ দিন হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায় করতে পারবে না ইরান। তবে এর পরে কী হবে, সে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়নি।

আঞ্চলিক সমর্থন ছাড়া শান্তি আসবে না

এদিকে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান বলেছেন, আঞ্চলিক সমর্থন ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সফলতা আসবে না। পাশাপাশি তিনি বলেন, ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির ক্ষতি করতে দেওয়া উচিত হবে না।

গত শনিবার এরদোয়ান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর ইচ্ছা ও অবদান থেকে শক্তি আহরণ করে না এমন কোনো সমাধান দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে না। খবর বিবিসি ও আলজাজিরার।

বিশ্ববাজারে বিস্তার বাড়াতে নতুন ব্র্যান্ড পরিচিতি উন্মোচন করল টিপসই

নতুন ব্র্যান্ড পরিচিতি উন্মোচন করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত কর্মী ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম ‘টিপসই’। আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নিজেদের নতুন করে ঢেলে সাজিয়েছে ইনোভেস টেকনোলজিসের এই প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশে তৈরি এই প্রযুক্তি এখন পর্যন্ত পৌঁছে গেছে বিশ্বের ১১টি দেশে।

টিপসই এর নতুন পরিচিতি উন্মোচনের আওতায় পরিবর্তন আনা হয়েছে লোগোসহ পূর্ণাঙ্গ ব্র্যান্ড ব্যবস্থায়। নতুন লোগোটি বাংলা ও ইংরেজি দুটি সংস্করণেই প্রকাশ করা হয়েছে। দৃশ্যমান সব ডিজাইন ও ভাষার ধারাতেও আনা হয়েছে পরিবর্তন। এর ফলে দেশে ও আন্তর্জাতিক বাজারজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের মাধ্যমে নিয়মিত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ অভিজ্ঞতা দেওয়া সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একদল প্রকৌশলীর হাতে প্রতিষ্ঠিত টিপসই বর্তমানে ১০ হাজারেরও বেশি সক্রিয় ডিভাইসের মাধ্যমে ১২০০ এর বেশি প্রতিষ্ঠান ও ২ লাখ ৩৮ হাজারেরও বেশি ব্যবহারকারীকে সেবা প্রদান করছে। বাংলাদেশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরিশাস, মালয়েশিয়া, তুরস্ক ও পাকিস্তানসহ বিশ্বের মোট ১১ টি দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর, ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কারখানা, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, এনজিও ও বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে টিপসই এর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে উপস্থিতি বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে দেশীয় এই প্রতিষ্ঠানটি।

২০২৫ সালে দেশে ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় তিন গুণ প্রবৃদ্ধি অর্জনের পরপরই নতুন রূপে হাজির হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় টিপসই। ২০২৬ সালেও একই ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্য বজায় রেখে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিষ্ঠানটি ক্রমশ বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

টিপসই এর বিপণন বিভাগের প্রধান অর্ণব সিকদার বলেন, “ব্র্যান্ড সবসময় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলায়। আমাদের প্রযুক্তি এগিয়েছে, প্ল্যাটফর্ম বড় হয়েছে, স্বপ্নও বেড়েছে। তাই ব্র্যান্ডকেও সেই অগ্রগতির ছবি তুলে ধরতে হবে। নতুন এই পরিচিতি আমাদের সামনের পথের উপযোগী একটি ব্র্যান্ড দিয়েছে। নতুন বাজারে যাওয়া, নতুন পণ্য আনা এবং বাংলাদেশে তৈরি প্রযুক্তিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার গল্পটা এখন আরও স্পষ্টভাবে বলতে পারব আমরা।”

বাংলাদেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বৈশ্বিক বাজারে টিপসইয়ের এই সম্প্রসারণে সহায়তা করছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিনিয়োগকারী ও অ্যাক্সিলারেটর প্রতিষ্ঠান অ্যাক্সিলারেটিং এশিয়া এবং অরবিট ভেঞ্চারস। অত্যন্ত বাছাইমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এশিয়ার সবচেয়ে সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগ করে আসছে এই প্রতিষ্ঠানগুলো।

আগামী কয়েক মাসের মধ্যে টিপসইয়ের সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম, বায়োমেট্রিক ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ডিভাইস, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন এবং গ্রাহক যোগাযোগমাধ্যম জুড়ে ধাপে ধাপে নতুন ব্র্যান্ড পরিচিতি চালু করা হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

বিশ্ববাজারে বন্ড ছেড়ে ঋণ নিতে চায় সরকার

সরকার প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে সভরেন বা সার্বভৌম বন্ড ইস্যু করে ঋণ নিতে চায়। সরকারি অর্থায়নের বিকল্প উৎস হিসেবে ‘সভরেন বন্ড’ ইস্যুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর প্রস্তুতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সার্বভৌম বন্ড ছাড়ার বিষয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হবে। কোন ধরনের বন্ড, কী পরিমাণ অর্থের এবং সুনির্দিষ্ট কোন বাজারে ইস্যু করা হবে– এসব বিষয়ে সুপারিশ করবে ওই কমিটি।

এ পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পৃক্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকার দেশের ব্যাংক খাত থেকে ঋণ কম নিতে চায়। অন্যদিকে, উন্নয়ন সহযোগীদের থেকে প্রত্যাশিত ঋণ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এসব কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর মতো বিকল্প অর্থায়নের পরিকল্পনা সামনে এসেছে। তা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ছিল ২০২৯ সালের দিকে। তবে আইএমএফের ঋণের কিস্তি ছাড়ে বিলম্বসহ নানা কারণে চলতি অর্থবছরেই বন্ড ইস্যুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ওই কর্মকর্তারা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস, মুডিস এবং ফিচ প্রতিবছর বাংলাদেশের ক্রেডিট রেটিং করে। আন্তর্জাতিক বাজারে বন্ড ইস্যুর আগে অন্তত দুটি সংস্থার মাধ্যমে নতুন করে রেটিং করাতে হবে। গত মে মাসে ফিচ বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণমানের পূর্বাভাস ‘স্থিতিশীল’ থেকে কমিয়ে ‘ঋণাত্মক’ করেছে। যদিও দেশের দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণমান ‘বি প্লাস’ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠকে অর্থ বিভাগের এক উপস্থাপনায় বিকল্প অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা, আন্তর্জাতিক বাজারে সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর পটভূমি, সম্ভাব্য সুবিধা এবং সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, বন্ডের মাধ্যমে নেওয়া ঋণ থেকে অর্জিত অর্থনৈতিক সুফল বন্ডের কুপন, স্প্রেড, ফিসহ মোট ব্যয়ের চেয়ে বেশি হতে হবে। টেকসই অর্থায়নের জন্য এটিই মৌলিক শর্ত।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার ছিদ্দিকী বলেন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক সার্বভৌম বন্ড ইস্যু করেছে। তাই আন্তর্জাতিক মূলধন বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশের সুযোগ বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এ প্রক্রিয়ায় আইএমএফের কিছু উদ্বেগ থাকতে পারে, বিশেষ করে তাদের কাছ থেকে রেয়াতি ঋণ যোগ্যতা বিষয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তিনি জানান, বাংলাদেশ যদি চীনা মুদ্রায় ‘পান্ডা বন্ড’ ইস্যুর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে চীন সহযোগিতা করতে আগ্রহী।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, অতীতে ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে অর্থ বিভাগ সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর বিষয়ে আগ্রহী ছিল না। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করা যেতে পারে। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অনুকূল সুদে বন্ড ইস্যুর জন্য আগে বাংলাদেশের সার্বভৌম ঋণমান উন্নত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক সার্বভৌম বন্ড হবে বিধায় বন্ডের কাঠামো, ইস্যুর সময়, মুদ্রা, পরিমাণ ও সম্ভাব্য ঝুঁকি পর্যালোচনায় আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা উচিত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান সভায় বলেন, প্রচলিত ডলারভিত্তিক ইউরো বন্ডের পাশাপাশি চীনের মুদ্রা রেনমিনবিতে ‘পান্ডা বন্ড’ ইস্যুর সম্ভাবনাও যাচাই করা যেতে পারে। প্রথম ইস্যু তুলনামূলক ছোট হওয়া উচিত। পাঁচ কোটি (৫০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বন্ড ইস্যু করলে বাজারের প্রতিক্রিয়া বোঝা যাবে এবং ঝুঁকিও সীমিত থাকবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ সহকারী তানভীর গনি বলেন, আন্তর্জাতিক মূলধন বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি জানান দেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। বাংলাদেশকে উচ্চ ঝুঁকির দেশ হিসেবে দেখা হয় না। ফলে বন্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ‘স্প্রেড’ দিতে হবে না। আন্তর্জাতিক বাজারে অংশগ্রহণ করলে রেটিং সংস্থাগুলোর কাছেও ইতিবাচক বার্তা যাবে, যা দেশের সার্বভৌম ঋণমান উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে। তিনি আরও বলেন, প্রথম বন্ডটি ডলারে ইস্যু করাই সমীচীন হবে। কারণ, অন্য মুদ্রার বন্ডে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তুলনামূলক কম।

বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, মধ্যমেয়াদি ঋণ কৌশল, বার্ষিক ঋণ পরিকল্পনা এবং ঋণ ধারণক্ষমতা মূল্যায়নের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে বাজার ও বিনিয়োগকারীদের আগাম বার্তা দিতে সরকারি বিভিন্ন প্রকাশনায় এ বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত রাখারও সুপারিশ করা হয়।

সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক মূলধন বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশকে ইতিবাচকভাবে দেখা উচিত। হংকংভিত্তিক বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড গঠনের উদ্যোগ চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি খাত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে ইক্যুইটি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। সেই উদ্যোগের পাশাপাশি সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর সম্ভাবনাও অনুসন্ধান করা যেতে পারে। সভার শেষে সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর সম্ভাব্যতা যাচাই ও সুপারিশ দিতে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

দেশে সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর আলোচনা প্রথম জোরালোভাবে শুরু হয় ২০১২ সালের শুরুতে। তবে সে সময় গ্রিসের সার্বভৌম ঋণ সংকট এবং ২০২২ সালে অতিরিক্ত সার্বভৌম ঋণের চাপে শ্রীলঙ্কার ব্যাপক অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এ উদ্যোগ থেকে সরে আসে। তবে ২০১৯ সালের নভেম্বরে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সদস্য আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) লন্ডনের বাজারে বাংলাদেশি মুদ্রাভিত্তিক ‘বাংলা বন্ড’ ইস্যু করে, যা ছিল বেসরকারি খাতের জন্য প্রথম বাংলাদেশি টাকাভিত্তিক আন্তর্জাতিক বন্ড।

বিশেষজ্ঞ মত 

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান সমকালকে বলেন, সরকার যদি অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে চায়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে বন্ড ইস্যুর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি বিদেশি অর্থায়নের উৎস কীভাবে আরও বহুমুখী করা যায়, সে বিষয়েও চিন্তাভাবনা প্রয়োজন।

অধ্যাপক মোস্তাফিজুর বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ঋণ নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করতে হবে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধে কতটা চাপ সৃষ্টি করবে, সে বিষয়ে বাস্তবসম্মত প্রাক্কলন থাকতে হবে। একই সঙ্গে সুদের হার, বন্ডের শর্ত, বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশিত মুনাফা এবং অর্থায়নের সামগ্রিক ব্যয়ও বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি এমন একসময়ে সামনে এসেছে, যখন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশের ঋণ ঝুঁকির মূল্যায়ন নিম্ন ঝুঁকি থেকে মধ্যম ঝুঁকিতে উন্নীত করেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থাগুলোও বাংলাদেশের ঋণমান কমিয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

অধ্যাপক মোস্তাফিজুর আরও বলেন, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অতিরিক্ত ঋণ নিলে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণ সংকট দেখা দিতে পারে। তবে বিদেশি ঋণের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। শ্রীলঙ্কার উদাহরণ তুলে তিনি বলেন, দেশটি ব্যাপক হারে বিদেশ থেকে ঋণ নিয়েছিল। পরে সেই ঋণের চাপ সামলাতে না পেরে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে। তাই বাংলাদেশকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক ও বিচক্ষণ হতে হবে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এ কে এনামুল হক সমকালকে বলেন, আন্তর্জাতিক বন্ডের সফলতা অনেকটাই নির্ভর করবে এর কাঠামো ও কার কাছে বিক্রি করা হচ্ছে, তার ওপর। তাঁর মতে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ডলারভিত্তিক বন্ড ইস্যু করলে বিনিময় হার ও সুদ পরিশোধের ঝুঁকি থাকে। ইন্দোনেশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার আর্থিক সংকটের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রায় উচ্চ সুদের বন্ড অনেক সময় অর্থনীতির জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এই অর্থনীতিবিদের পরামর্শ, বন্ডটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে ইস্যু করা হলে তা দেশের জন্য বেশি উপকারী হবে। এতে প্রবাসীদের পাঠানো ডলার দেশে থেকেই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি সুদ ও আসল টাকায় পরিশোধ করা গেলে বিনিময় হারজনিত ঝুঁকিও কমবে। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের বন্ড সবার জন্য উন্মুক্ত না রেখে প্রবাসীদের জন্য বিশেষভাবে চালু করাই হবে অধিক কার্যকর কৌশল।

সরকারের ঋণ পরিস্থিতি 

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার ব্যাংক খাত থেকে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বেশি ঋণ নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে সরকারের ব্যাংক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে এ খাতে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব ঘাটতি ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সরকারকে ব্যাংক থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ঋণ নিতে হয়েছে।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় প্রকাশিত ঋণ বুলেটিনে উল্লেখ রয়েছে, গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশ ও বিদেশ থেকে সরকারের নেওয়া মোট ঋণের স্থিতি ২২ লাখ ছয় হাজার ৪৬২ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের জুন শেষে যার পরিমাণ ছিল ২১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে ছিল ১৯ লাখ ৪৪ হাজার ১৭১ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে সরকারের মোট ঋণ বেড়েছে দুই লাখ ৬২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা।