Home Blog Page 6

গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট আরও এক সপ্তাহ চলতে পারে

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও কারিগরি সমস্যার কারণে মহেশখালীর দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে। এর সঙ্গে কয়লা সংকটে কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। ভারত থেকেও বিদ্যুৎ আমদানি কমেছে। সব মিলিয়ে বিদ্যুতের ঘাটতি বড় আকার নিয়েছে এবং উৎপাদনে ধস নেমেছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, সংকট কাটিয়ে উঠতে আরও অন্তত এক সপ্তাহ লাগতে পারে। ফলে এখনই বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতির আশা কম।

গত কিছুদিনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, একদিকে বিদ্যুতের উৎপাদন কমেছে, অন্যদিকে চাহিদা বেড়েছে। লাইনের গ্যাস না পেয়ে বাসাবাড়িতে বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহার বেড়েছে। সেটিও বিদ্যুতের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। এ ছাড়া গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানায় নিজস্ব

বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় তারাও গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করছে। এর সঙ্গে গরমে ফ্যান ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) ব্যবহার বাড়ায় বিদ্যুতের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।

জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন সর্বোচ্চ লোডশেডিং ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভুগছেন গ্রামের মানুষ। কোনো কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে; কোথাও কোথাও ১৭ থেকে ২০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। তবে গ্রামের লোডশেডিং কমাতে এরই মধ্যে রাজধানীসহ শহরগুলোতেও লোডশেডিং শুরু হয়েছে।

লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি জায়গায় বিদ্যুৎ অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও কর্মীদের অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘটেছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নিজেদের অফিস, উপকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে চিঠি দিয়েছে।

তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি
জাতীয় গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ঘণ্টাতেই দুই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াটের ঘাটতি ছিল। বিকেল ৩টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ২৩৭ মেগাওয়াট। উৎপাদন ও সরবরাহ হয়েছে ১৩ হাজার ৮৫৫ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল তিন হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট।

রাতে সংকট আরও বেশি। মঙ্গলবার রাত ২টায় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৪৬ মেগাওয়াট। সরবরাহ হয়েছে ১৩ হাজার ২৩০ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল তিন হাজার ১১৬ মেগাওয়াট। রাত ৩টায় ঘাটতি ছিল তিন হাজার ৫৬ মেগাওয়াট এবং ভোর ৪টায় দুই হাজার ৯৫১ মেগাওয়াট। তবে সবচেয়ে বেশি ছিল রাত ১২টায় তিন হাজার ৫৯২ মেগাওয়াট।

এর আগের দিনগুলোতেও পরিস্থিতি ছিল একই রকম। সোমবার সর্বোচ্চ ঘাটতি ছিল রাত ১২টায়, লোডশেডিং হয়েছিল তিন হাজার ৫৩৭ মেগাওয়াট। রোববার রাত ১টায় এযাবৎকালের রেকর্ড লোডশেডিং হয়েছিল, তিন হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট।

পিডিবি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সমকালকে বলেন, গত বছর একই সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ থেকে ১৬ হাজার মেগাওয়াট। এবার তা বেড়ে ১৮ থেকে ১৯ হাজার মেগাওয়াটে উঠেছে। গ্যাস না থাকায় অনেক কারখানা গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। বাসাবাড়িতেও লাইনের গ্যাস না থাকায় বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহার বেড়েছে। সর্বোচ্চ উৎপাদন বাড়াতে চেষ্টা চলছে।

গ্যাসে বড় ধাক্কা
বিদ্যুৎ উৎপাদনে সবচেয়ে বড় চাপ এসেছে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায়। মহেশখালীর সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন কার্গো খালাস করা যাচ্ছে না। এতে টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ২০ কোটি ঘনফুটে।

এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালও বয়লার-সংক্রান্ত সমস্যায় পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে না। সেখান থেকে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ২০ থেকে ২২ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে এ টার্মিনাল থেকে ৫৫ থেকে ৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যায়।

দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ এখন প্রায় ৪১ কোটি ঘনফুট। আগামী ১৫ আগস্ট নতুন কার্গো না আসা পর্যন্ত সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা কম। এর পর এক্সিলারেটের টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে ৭২ ঘণ্টা বন্ধ রাখা হবে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে দেওয়া হয় ১০০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট। এলএনজি সংকটের মধ্যে তা ৭০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমেছিল। গতকাল তা বাড়িয়ে প্রায় ৮০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার পরিচালক মো. শোয়েব। তবে পরে তা কমে ৭৫ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে।

দেশে গাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ১২ হাজার ৪৭২ মেগাওয়াট। তবে গ্যাস সংকটের কারণে তা কমে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার থেকে চার হাজার মেগাওয়াট।

সিএনজি স্টেশনে চাপ
পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সিএনজি স্টেশনেও চাপ পড়েছে। কোথাও কোথাও কয়েক ঘণ্টা পুরোপুরি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলার ৩৩টি সিএনজি স্টেশনের মধ্যে ৩০টিতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষায় থাকা চালক ও ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা জানান, কয়েক দিন ধরে গ্যাস সংকটে ভুগছেন তারা।

রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতেও দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন। কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ানোর পর সামান্য টাকার গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে কোথাও কোথাও।

কয়লা ও আমদানিতে টান
গ্যাসের পাশাপাশি কয়লা সরবরাহেও সংকট তৈরি হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়লা খালাসে বিঘ্ন ঘটেছে। এতে কয়েকটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না।

পটুয়াখালীর নোরিংকো বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ৩০০ মেগাওয়াট কমে এখন মিলছে এক হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রেও ৫০০-৬০০ মেগাওয়াট কমে উৎপাদন হচ্ছে ৮০০-৯০০ মেগাওয়াট। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিদ্যুৎ আমদানির ঘাটতি। জাতীয় গ্রিডের কারিগরি ও কয়লা সরবরাহ সমস্যার কারণে মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে ভারতের আদানি পাওয়ার থেকে ৪০০-৫০০ মেগাওয়াট কমে আমদানি হচ্ছে ৮০০-৯০০ মেগাওয়াট।

পল্লি এলাকায় দুর্ভোগ বেশি
দেশের প্রায় পাঁচ কোটি ২০ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহকের মধ্যে প্রায় চার কোটি গ্রাহক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায়। মোট গ্রাহকের প্রায় ৮০ শতাংশই এসব সমিতির মাধ্যমে বিদ্যুৎ পান। উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৬০ শতাংশও এসব এলাকায় সরবরাহ করা হয়।

পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন ধরে সমিতিগুলোর গড় চাহিদা ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট। অর্থাৎ, চাহিদার তুলনায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কম বিদ্যুৎ পাচ্ছে সমিতিগুলো।

শহর-গ্রাম সর্বত্র একই চিত্র
জাতীয় গ্রিডের ঘাটতির চাপ পড়েছে রাজধানী ও আশপাশ এলাকাতেও। কেরানীগঞ্জে সকাল থেকে দফায় দফায় বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করেছে। গতকাল বেলা ১১টায় যাওয়ার পর দুপুর সাড়ে ১২টায় বিদ্যুৎ আসে। দুপুর ২টায় আবার গিয়ে ফেরে বিকেল ৪টায়। সন্ধ্যায় গিয়ে আসে রাত সাড়ে ৮টায়।

ঢাকার উত্তর বাড্ডার আবদুল্লাহবাগে গতকাল সকাল ৮টায় বিদ্যুৎ যাওয়ার পর ফিরেছে দুপুর ১২টার পর। পান্থপথেও দিনে এক থেকে দুই ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে।

শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দিনরাতে প্রায় ১২ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। আড়াইহাজারে তা ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা। নরসিংদীর রায়পুরায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা এবং সাভারে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।

উত্তরের জেলাগুলোতেও সংকট তীব্র। রংপুরের গ্রামাঞ্চলে ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ রয়েছে। এতে বিদ্যুৎনির্ভর একটি কারখানার উৎপাদন এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রায় ১০ ঘণ্টা এবং দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।

সিলেট নগরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির গ্রামাঞ্চলের কোনো কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে। বরিশালের গ্রামাঞ্চলে প্রায় আট ঘণ্টা, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা এবং নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। ঝালকাঠিতে মঙ্গলবার ১১ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল সাত মেগাওয়াট।

শরীয়তপুরের জাজিরার পালেরচরে ২৪ ঘণ্টায় মাত্র পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে কোনো কোনো দিন ৯ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় লোডশেডিং হচ্ছে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা।

গোপালগঞ্জে পরিস্থিতি আরও খারাপ। জেলা শহরে প্রায় ১৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার কথা জানিয়েছেন গ্রাহকরা। সেখানে প্রায় ১৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে ৯ থেকে ১০ মেগাওয়াট।

নেত্রকোনায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্রাহক পর্যায়ে ৭২ থেকে ৭৯ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। ১৫৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিভিন্ন সময়ে সরবরাহ মিলেছে প্রায় অর্ধেক।

ক্ষোভে হামলা, নিরাপত্তা চায় ৮০ সমিতি
দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে ক্ষোভ এখন শুধু অভিযোগে সীমাবদ্ধ নেই। টাঙ্গাইল, দিনাজপুর ও পাবনায় বিদ্যুৎ অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে জামুর্কি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সাবস্টেশনে হামলা হয়। এতে লাইনম্যান আব্দুল লতিফ মারধরের শিকার হন।

মঙ্গলবার দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ভাঙচুর করেন। গতকাল পাবনার ঈশ্বরদীতে অতিরিক্ত লোডশেডিং ও বেশি বিলের অভিযোগে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর এক মিটার রিডারকে প্রায় চার ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। লোডশেডিংয়ে অভিযোগে গতকাল মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের অফিস ঘেরাও করেন কয়েক শ ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।

নেত্রকোনায় কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোনে গালাগাল, অফিস ঘেরাও ও ভাঙচুরের হুমকির অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিরাপত্তা চেয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন। গতকাল আইজিপির কাছে পাঠানো চিঠিতে প্রতিটি অফিস, গ্রিড, উপকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে রাত ৮টার মধ্যে মার্কেট বন্ধ
সংকটের মধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। গতকাল বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়-২ শাখা থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। ১২ আগস্ট থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

এর আগে এসব প্রতিষ্ঠান রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ ছিল। নতুন নির্দেশনায় সময় এক ঘণ্টা কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ করতে বলা হয়েছে। আলোকসজ্জাও পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে।

সমাধান কোন পথে
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সরকার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা কৌশল নিয়েছি। আশা করছি বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হবে। গ্যাস ও এলএনজি সরবরাহ বাড়ানোর জন্য সম্ভাব্য সব বিকল্প নিয়ে কাজ করছি। মালয়েশিয়া থেকে অন্তত এক এলএনজি কার্গো আনার চেষ্টা চলছে। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন রাতারাতি বাড়ানো সম্ভব নয়। তবে সংকট কমাতে আমাদের চেষ্টার কোনো ঘাটতি নেই।

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারগুলো কোনো মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ খুঁজে নেয়নি। তারা তাৎক্ষণিক সমাধানের পথে গেছে। ফলে যে সংকট একদিন না একদিন তৈরি হওয়ার কথা ছিল, সেটিই এখন সামনে এসেছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিমের মতে, গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি আমদানি করতে হবে। কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কোম্পানিকে যুক্ত করে গ্যাস অনুসন্ধানেও জোর দিতে হবে।

সচিব কমিটির বৈঠক শেষ সরকারি বেতন ১০০% বাড়ানোর সুপারিশ

নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি। তবে সব গ্রেডে সমান হারে বেতন বাড়বে না, কিছুটা কমবেশি হতে পারে। এ ছাড়া দুই ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের সুপারিশ এসেছে। এর মধ্যে প্রথম বছর শুধু মূল বেতন, পরের বছর বাড়ি ভাড়াসহ বিভিন্ন ভাতা দেওয়া হতে পারে। গতকাল বুধবার জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বৈঠক শেষে কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন, সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির গতকালের শেষ বৈঠকে বেতন বাড়ানোর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সব সদস্যই সই করেছেন। নতুন বেতন কাঠামোয় ১ম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বাড়ানোর ব্যাপারে সবাই একমত হয়েছেন। তবে আগামী দুই বছরে এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। তবে মন্ত্রিসভা চাইলে এটা পরিবর্তন করতে পারবে। এখন অর্থ বিভাগ প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি নিয়ে আগামী সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি উপস্থাপন করবে।

জানা যায়, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা হয়েছিল ২০১৫ সালে। এর পর থেকে প্রতিবছর তাদের মূল বেতনের নির্ধারিত ৫ শতাংশ হারে বাড়লেও নতুন পে স্কেলের আর আসেনি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বেতনের বিষয়টি আরও পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি করা হয়। এর মধ্যে পে কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বেতন বৃদ্ধির হিসাব নিয়ে নানা আলোচনা সামনে আসে।

মন্ত্রী পর্যায়ের কমিটির কারণে দেরি হতে পারে 
বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি দীর্ঘ চার মাস পর্যালোচনা শেষে গতকাল চূড়ান্ত সুপারিশ প্রতিবেদন তৈরি করে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও সুপারিশ প্রণয়নে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সরকার। ফলে সচিব কমিটি প্রতিবেদন চূড়ান্ত করলেও মন্ত্রী পর্যায়ের কমিটির কারণে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নে আরও দেরি হতে পারে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে সচিব কমিটির এক সদস্য বলেন, সচিব কমিটির মূল দায়িত্ব ছিল জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর দাখিল করা প্রতিবেদনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য সুপারিশ করা। আমরা জুডিশিয়াল সার্ভিসসহ সবার বিষয়ে সুপারিশ করেছি। তিনি বলেন, এর পরও কেন নতুন আরেকটি কমিটি করা হয়েছে, বুঝতে পারছি না।

সাবেক অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী সমকালকে বলেন, সর্বশেষ ২০১৫ সালের পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। প্রথম বছরে বেতন, পরের বছর দেওয়া হয় ভাতা। সার্বিক বিবেচনায় পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নই বাস্তবসম্মত। সচিব কমিটি দুই ধরনের প্রস্তাবই মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করতে পারে। এর পর মন্ত্রিসভা যা ভালো মনে করবে, সেভাবে সিদ্ধান্ত নেবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন, গ্র্যাচুইটিসহ যা এক লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। বাজেটের ‘জনপ্রশাসন-নিট’ খাতে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘন তদন্ত করবে না কমিশন

মানবাধিকার কমিশনের নতুন আইনের যে খসড়া মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে, তাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা নেই। বাহিনী ও সংস্থার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এলে কমিশন তা তদন্ত করতে পারবে না। বরং যে বাহিনী বা সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের কাছেই প্রতিবেদন চাইবে। তাতে যদি কমিশন সন্তুষ্ট না হয় বা কমিশনের সুপারিশ কার্যকরের বিষয়ে না জানায়, তবেই কমিশন তদন্ত করতে পারবে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬-এর খসড়ায় এসব বিধান রাখা হয়েছে। ২০০৯ সালের আইনে মানবাধিকার কমিশনের বাহিনী বা সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা নেই। শুধু প্রতিবেদন চাইতে পারে। এই আইন বাতিল করে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশে কমিশনকে তদন্ত এবং ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। বিএনপি সরকার অধ্যাদেশটি পাস করায়নি। পুনর্বহাল করেছে ২০০৯ সালের আইন।

বিরোধী দলের আপত্তির মুখে গত এপ্রিলে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছিলেন, অধ্যাদেশটি বাতিল করলেও সরকার যুগোপযোগী মানবাধিকার কমিশন আইন করবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ে বিএনপি সরকারের গঠিত কমিটি আপত্তি তুলেছিল মানবাধিকার কমিশনের গঠন পদ্ধতি ও তদন্ত ক্ষমতা নিয়ে। সংস্থাটিতে চেয়ারম্যান, কমিশনার নিয়োগে বাছাই কমিটিতে সরকারের প্রতিনিধি কম থাকা, কমিশন কোনো মন্ত্রণালয়ের অধীনে না থাকায় আপত্তি করা হয়। নতুন আইনের খসড়ায় নিয়োগ কমিটিতে সরকারের প্রতিনিধি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। সংসদে পাস হলে তা আইনে পরিণত হবে।

মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নাবিলা ইদ্রিস সমকালকে বলেন, খসড়াটি আইনে পরিণত হলে মানবাধিকার কমিশন একটি দুর্বল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। শুরুতেই স্বাধীন তদন্তের পথ বন্ধ করায় অভিযুক্ত বাহিনী প্রতিবেদনে সত্য নাকি মিথ্যা বলছে– কমিশনের হাতে এমন কোনো তদন্তলব্ধ তথ্য-প্রমাণ থাকবে না, যার সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা যাবে। আর চিঠি চালাচালি করতে করতেই গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণাদি লোপাট হবে।

নিয়োগে সরকারের ভূমিকা বাড়ছে
বিদ্যমান আইনের ৬ ধারায় বলা হয়েছে, বাছাই কমিটির সুপারিশে রাষ্ট্রপতি মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগ দেবেন। ৭ ধারায় বলা হয়েছে, সংসদের স্পিকারের সভাপতিত্বে বাছাই কমিটির সদস্য হবেন আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্পিকারের মনোনীত সরকারি এবং বিরোধী দলের একজন করে সংসদ সদস্য (এমপি)। এ কমিটিতে বিরোধী দলের একজন এমপি বাদে সবাই সরকারের প্রতিনিধি।

২০২৫ সালের অধ্যাদেশে বিধান করা হয়, প্রধান বিচারপতির মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারক হবেন বাছাই কমিটির সভাপতি। সদস্য হবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সরকারি ও বিরোধী দল মনোনীত একজন করে এমপি, মানবাধিকার বিষয়ে গবেষণার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন অধ্যাপক, রাষ্ট্রপতি মনোনীত মানবাধিকার সংরক্ষণ বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নাগরিক প্রতিনিধি, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি বা তাঁর মনোনীত মানবাধিকার বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন সাংবাদিক এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে রাষ্ট্রপতি মনোনীত একজন প্রতিনিধি। তাদের সুপারিশে চেয়ারপারসন ও চার কমিশনার নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি।

অধ্যাদেশের মতো কমিশনের পদকে চেয়ারপারসন এবং কমিশনার নাম দেওয়া হলেও নতুন আইনের খসড়ায় স্পিকারের সভাপতিত্বে বাছাই কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। সদস্য হবেন আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সরকারি ও বিরোধী দল মনোনীত একজন করে এমপি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন মনোনীত একজন অধ্যাপক, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাষ্ট্রপতি মনোনীত একজন নাগরিক প্রতিনিধি এবং রাষ্ট্রপতি মনোনীত নৃগোষ্ঠী বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর একজন প্রতিনিধি।

মন্ত্রীদের অন্তর্ভুক্তির ফলে সরকারের প্রতিনিধিত্ব বাড়ছে বাছাই কমিটিতে। ৯ সদস্যের কমিটির পাঁচজন সরাসরি সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হবেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। ফলে সরকারের পছন্দের বাইরে কারও চেয়ারপারসন, কমিশনার নিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

নতুন আইনের খসড়ায় সাক্ষাৎকারের বিধান বাদ দেওয়া হয়েছে। চেয়ারপারসন বা কমিশনারের প্রতিটি পদের বিপরীতে দুজন প্রার্থীর নামসহ একটি তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এসব নিয়োগ দেবেন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে। একই পদে একাধিক নাম পাঠানোর কারণে সরকারের পছন্দের সুযোগ থাকছে।

অজুহাত দেখানোর সুযোগ 
বিদ্যমান আইনে বলা নেই, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কেউ মানবাধিকার লঙ্ঘন করলে কী হবে। অধ্যাদেশে বিধান ছিল, মানবাধিকার লঙ্ঘনে কোনো অজুহাত দিয়ে রেহাই পাওয়া যাবে না। ল্যাপস (অকার্যকর) হওয়া অধ্যাদেশের ১৫ ধারায় বলা হয়েছিল, সংবিধান বা বলবৎ কোনো আইনে স্পষ্টভাবে সমর্থিত না হলে, কেবল সরকারি বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ বা নির্দেশে করা হয়েছে– এমন অজুহাতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় থেকে রেহাই পাওয়া যাবে না।

নতুন আইনের খসড়ায় এই বিধান নেই। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সরকার উল্টো যাত্রা করছে। কারণ, সরকারি বাহিনীগুলোর সদস্যরা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ওপর মহলের আদেশের কথা বলে। এর মাধ্যমে রেহাই পায়। আবারও সেই সুযোগ রাখা হচ্ছে।

‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে অনুমতি লাগবে
অধ্যাদেশে কমিশনকে কারাগার ও হাজতখানাসহ যে কোনো আটককেন্দ্র, নিরাপত্তা হেফাজত, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র কিংবা চিকিৎসা বা যেখানে মানুষকে অন্তরীণ রাখা হয়, তা পরিদর্শন এবং অবস্থার উন্নয়নের জন্য সরকারকে সুপারিশ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু খসড়া আইনের ১৩ ধরায় বলা হয়েছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তকালীন বা পরবর্তী সময়ে যে কোনো ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে যে কোনো স্থান, অফিস-আদালত, হাজতখানা বা আটককেন্দ্র পরিদর্শন করতে পারবে কমিশন।

শেখ হাসিনার শাসনামলে বিভিন্ন বাহিনী আয়নাঘরখ্যাত গোপন বন্দিশালা পরিচালনা করে। যেখানে গুমের শিকার ব্যক্তিদের আটক রাখা হতো। আইনের খসড়া অনুযায়ী এমন বন্দিশালা পরিদর্শনে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাগবে। যদিও অতীতে কর্তৃপক্ষ কখনোই এমন বন্দিশালার অস্তিত্ব স্বীকার করেনি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্ত নয়
২০০৯ আইনের সবচেয়ে বড় সমালোচনা ছিল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ তদন্ত করার ক্ষমতা না থাকা। বিদ্যমান এ আইনের ১৮ ধারায় বলা হয়েছে, শৃঙ্খলা বাহিনীর বা এর সদস্যের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ পেলে কমিশন সরকারের কাছে প্রতিবেদন চাইতে পারবে, সরকার তা দেবে। প্রতিবেদনে কমিশন সন্তুষ্ট না হলে করণীয় সম্পর্কে সরকারের কাছে সুপারিশ করতে পারে। সুপারিশ পাওয়ার পর ছয় মাসের মধ্যে সরকার গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে কমিশনকে জানাবে।

২০২৫ সালের অধ্যাদেশে কমিশনকে বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। তদন্তের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের তিন মাসের প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।

তবে কমিশনের ক্ষমতা অধ্যাদেশের তুলনায় একেবাবেই কমে যাচ্ছে খসড়া আইনের ১৯ ধারায়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গুমের অনুসন্ধানে গঠিত কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নাবিলা ইদ্রিস বলেন, মানবাধিকার কমিশন দেশজুড়ে নিজস্ব তদন্ত কর্মকর্তা ও দল দিয়ে তদন্ত করতে পারলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারবে না। উল্টো কমিশনকে অভিযুক্ত বাহিনীর কাছ প্রতিবেদন চাইতে হবে। মানে, বাহিনী নিজেই নিজেকে তদন্ত করবে। এতে কমিশন সন্তুষ্ট না হলে করণীয় সুপারিশ করবে। কিন্তু খসড়ায় বলা হয়নি, বাহিনী কত দিনের মধ্যে কমিশনকে প্রতিবেদন দেবে। এতে ফাঁক রাখা হয়েছে। চাইলে তো বাহিনী অনন্তকাল সময় নিতে পারবে বা বিলম্ব করতে পারবে।

গুঁড়া দুধের দাম বেড়েছে কেজিতে ৬০ টাকা চালের বাজারে কিছুটা স্বস্তি, আটা-ময়দায় নতুন চাপ ডিটারজেন্ট পাউডার কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে

এবার মৌসুমেও চালের দাম ছিল বেশ চড়া। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চালের বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। তবে নতুন করে চোখ রাঙাচ্ছে আটা-ময়দা। গত এক মাসে আটা ও ময়দার দাম কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়েছে। একই সঙ্গে ডিটারজেন্ট পাউডার ও গুঁড়া দুধের দামও বেড়েছে। তবে সবজির বাজার কিছুটা স্থির রয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মাসখানেক ধরে আটা-ময়দার দাম বাড়তি। কিছু কোম্পানি ডিটারজেন্ট পাউডারের দাম বাড়িয়েছে। তবে এসব পণ্যের সরবরাহে তেমন কোনো ঘাটতি নেই। এ ছাড়া আমদানির কারণে কাঁচামরিচের দাম আগের অবস্থানে ফিরেছে। সবজির সরবরাহ কিছুটা বাড়ার কারণে দাম স্বাভাবিক রয়েছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর মহাখালী, তেজগাঁও কলোনি বাজার, কারওয়ান বাজারসহ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বছর ভরা মৌসুমেও চালের দাম ছিল বেশ চড়া। সপ্তাহ দুয়েক ধরে দাম কমতে থাকে। বর্তমানে সরু বা মিনিকেট চাল ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা মাসখানেক আগে ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। মাঝারি, অর্থাৎ পাইজাম ও বিআর-২৮ জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায়। ২০-২৫ দিন আগে এ জাতের চালের কেজি ছিল ৫৫ থেকে ৬৮ টাকা। মোটা চালের দামও কমেছে। এক মাস আগে স্বর্ণা বা চায়না ইরি জাতের মোটা চাল ৫০ থেকে ৫৮ টাকায় বিক্রি হলেও এখন কেনা যাচ্ছে ৫০ থেকে ৫৪ টাকা করে।

চালের দামের এই স্বস্তি কেড়ে নিচ্ছে আটা-ময়দা। বর্তমানে প্রতি কেজি খোলা আটা ৪৫ থেকে ৫০ ও মোড়কজাত ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। ২০-২৫ দিন আগে এ দুই ধরনের আটা কেনা গেছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। এ ছাড়া প্রতি কেজি খোলা ময়দা ৬০ থেকে ৬৫ এবং মোড়কজাত ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা মাসখানেক আগে কেনা গেছে যথাক্রমে ৫৫ থেকে ৬০ ও ৬০ থেকে ৭৫ টাকা দরে। অর্থাৎ, গত প্রায় তিন সপ্তাহের ব্যবধানে আটা ও ময়দার কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়েছে।

আটার মতো সুগন্ধি চালের বাজারেও অস্বস্তি রয়েছে। খোলা প্রতি কেজি ১৬০ থেকে ২০০ আর প্যাকেটজাত চাল ২০০ থেকে ২৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের তুহিন জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. রায়হান সমকালকে বলেন, এক মাস ধরে আটার দাম বাড়তি। আগে দুই কেজির আটার প্যাকেটে সর্বোচ্চ খুচরা দাম ছিল ১২০ টাকা, দাম বাড়িয়ে কোম্পানিগুলো নতুন দর লিখেছে ১৩০ টাকা। একইভাবে দুই কেজির ময়দার প্যাকেটের খুচরা দর ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে নির্ধারণ করেছে ১৬০ টাকা। তিনি বলেন, কোম্পানি দাম বাড়ানোর কারণে খুচরা বাজারে প্রভাব পড়েছে।

একই বাজারের হাবিব জেনারেল স্টোরের বিক্রয়কর্মী রাতুল হাসান বলেন, কাপড় ধোয়ার হুইল পাউডার কেজিতে ২০ টাকা বাড়িয়েছে কোম্পানি। আগে এক কেজির দাম ছিল ১৪৬ টাকা, এখন ১৬৫ টাকা। একইভাবে ৯০ গ্রাম ওজনের লাক্স সাবান প্রতিটির দাম ৬০ টাকা থেকে পাঁচ টাকা বাড়িয়ে ৬৫ টাকা করা হয়েছে।

বাজারে গুঁড়া দুধের দামও বাড়তি দেখা গেছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, ফ্রেশ ব্র্যান্ডের ৫০০ গ্রাম ওজনের প্রতি প্যাকেট গুঁড়া দুধের দাম ছিল ৪৫০ টাকা, এখন ৪৮০ টাকা। অর্থাৎ, কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা। একইভাবে ডিপ্লোমাসহ অন্য ব্র্যান্ডের গুঁড়া দুধের দামও বেড়েছে।

তবে গত সপ্তাহের তুলনায় সবজির বাজার কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে। বিশেষ করে ১০ দিন আগে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচের কেজি নেমেছে ১৩০ থেকে ১৮০ টাকায়। অন্য সবজিগুলোর দামও গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকার মতো কম দেখা গেছে। গেল সপ্তাহে প্রতি কেজি গোল বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০ থেকে ১০০, করলা, বরবটি ও কাঁকরোল ৯০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গতকাল এসব সবজি বিক্রি হয়েছে যথাক্রমে কমবেশি ১০০, ৮০ ও ৭০ টাকায়। ধুন্দল, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, পটোল ও ঢ্যাঁড়শের কেজি ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকা। গতকাল বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। পেঁপে কেজিতে পাঁচ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। তবে এলাকাভিত্তিক ছোট বাজারগুলোর তুলনায় কারওয়ান বাজারে কিছুটা কম দামে সবজি পাওয়া যায়।

গত সপ্তাহের মতোই চড়া দেখা গেছে ডিমের বাজার। ফার্মের সাদা রঙের প্রতি ডজন ডিম ১৩০ থেকে ১৩৫ এবং বাদামি রঙের ডিম ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। ব্রয়লার কেজিতে ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়। এ ছাড়া সোনালি জাতের মুরগিও কেজিতে ২০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায়।

কীটনাশক মেশানো সবজি চেনার উপায়

আজকাল প্রায় সব ধরনের খাবারে ফরমানিন, কীটনাশক মেশানো হচ্ছে। কীটনাশকযুক্ত সবজি প্রতিনিয়ত আমাদের শরীরে মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। বাজারের চকচকে সবজির আড়ালে বিষযুক্ত সবজি চেনার কিছু সহজ উপায় রয়েছে। ‘নিউজ নাইনে’র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে এমনই কিছু কৌশলের কথা।

অধিকাংশ মানুষই বাজারে গিয়ে একটু খুঁত থাকা বা পোকায় খাওয়া সবজি কিনতে চান না। অথচ কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সবজিতেই রাসায়নিক প্রয়োগ সবচেয়ে কম হয়। এ কারণে খুব বেশি নিখুঁত সবজি না কিনে সাধারণ চেহারার সবজি কেনাই ভালো।

যারা নিয়মিত বাজার করেন লক্ষ্য করলে দেখবেন, অনেক পটল বা কাঁচা মরিচের রং অস্বাভাবিক রকমের সবুজ। এই ধরনের সবজিতে ম্যালাকাইট গ্রিন নামের মারাত্মক এক ধরনের রাসায়নিক মেশানো হয় যা শরীরে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। এ কারণে অতিরিক্ত উজ্জ্বল বা গাঢ় রঙের সবজি না কেনাই ভালো।

সবজিতে কীটনাশকের উপস্থিতি বোঝার আরও একটি সহজ উপায় হচ্ছে গন্ধ। যদি কোনও সবজি থেকে স্বাভাবিক গন্ধের বদলে ওষুধের মতো গন্ধ বেরোয়, তবে তা এড়িয়ে চলুন। কারণ অতিরিক্ত স্প্রে করার ফলেই সবজির থেকে এ ধরনের গন্ধ বের হয়।

আজকাল অসময়েও বাজারে ফুলকপিসহ অন্যান্য সবজি মেলে। এ ধরনের সবজিতে কৃষকরা বাধ্য হয়ে প্রচুর রাসায়নিক ব্যবহার করেন। তাই সুস্থ থাকতে সব সময় মৌসুমি সবজি খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করুন।

যেভাবে সবজি পরিষ্কার করবেন-

শুধু পানি দিয়ে ধুলে সবজির থেকে বিষ দূর হবে না। এক গামলা পানিতে ১ চা চামচ বেকিং সোডা দিয়ে সবজিগুলো ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন, তারপর পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিন।
বেকিং সোডা না থাকল হালকা গরম পানিতে ভিনেগার বা লবণ মিশিয়ে ধুলেও কীটনাশকের প্রভাব অনেকটা কমে যায়।

সবজি খোসা ছাড়িয়ে খেলেও পরিষ্কার করাটা জরুরি। মনে রাখবেন, দেখতে খারাপ হলেও প্রাকৃতিক সবজিই শরীরের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ। তাই বাইরের চকচকে ভাব দেখে ভুল সবজি না কিনে  সঠিক সবজি চেনার কৌশল অনুসরণ করুন।

ওজন কমাতে ট্রেডমিল নাকি বাইরে হাঁটা

ওজন কমানো ও শরীর সুস্থ রাখতে হাঁটা সহজ ও কার্যকর ব্যায়াম। তবে ট্রেডমিলে হাঁটা ভালো, নাকি বাইরে হাঁটা, এ নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে। আসলে দুটির কোনোটিকেই সরাসরি সেরা বলা যায় না। ক্যালোরি খরচের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো হাঁটার গতি, সময়, শরীরের ওজন ও কতটা পরিশ্রম করছেন।

ট্রেডমিলে হাঁটা সুবিধা

ট্রেডমিলে হাঁটার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ। বৃষ্টি, অতিরিক্ত গরম বা খারাপ আবহাওয়া থাকলেও ঘরে থেকেই হাঁটা যায়। সময় ও গতি নিজের মতো করে ঠিক করা যায়। ট্রেডমিলের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি ঢাল বা ইনক্লাইন বাড়িয়ে হাঁটলে শরীরে বেশি চাপ পড়ে এবং ক্যালোরিও বেশি খরচ হয়। এতে পায়ের পাশাপাশি নিতম্বের পেশিও বেশি কাজ করে। ব্যস্ত মানুষ বা নিয়মিত ব্যায়ামের জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখতে চান, তাদের জন্য ট্রেডমিল সুবিধাজনক।আধুনিক ট্রেডমিলে সাধারণত কতক্ষণ হাঁটছেন, কত দূরত্ব অতিক্রম করছেন, গতি কত এবং আনুমানিক কত ক্যালোরি খরচ হচ্ছে, সেসব তথ্য দেখা যায়। ফলে নিজের অগ্রগতি বোঝাও সহজ।

বাইরে হাঁটার সুবিধা

বাইরে হাঁটার সময় রাস্তার অসমতল অংশ, ঘাস, ফুটপাত বা ঢালু পথের সঙ্গে শরীরকে মানিয়ে নিতে হয়। এতে পা, গোড়ালি, কোমর ও শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখার পেশিগুলো বেশি সক্রিয় হয়। এ ছাড়া বাইরে হাঁটার সময় বাতাসের বাধা ও রাস্তার ওঠানামার কারণে সমতল ট্রেডমিলের তুলনায় কিছুটা বেশি ক্যালোরি খরচ হতে পারে। তবে এই পার্থক্য সাধারণত খুব বেশি নয়। বাইরে হাঁটার আরেকটি বড় সুবিধা হলো মানসিক প্রশান্তি। পার্ক, খোলা জায়গা বা গাছপালার মধ্যে হাঁটলে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমতে এবং মেজাজ ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। ফলে হাঁটা অনেকের কাছে ব্যায়ামের চেয়ে আনন্দদায়ক অভ্যাস হয়ে ওঠে।

কোনটিতে বেশি ক্যালোরি খরচ হয়?

ক্যালোরি খরচের ক্ষেত্রে জায়গার চেয়ে হাঁটার গতি, সময়, শরীরের ওজন ও পরিশ্রমের মাত্রা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একই গতি ও একই সময় ধরে ট্রেডমিল ও বাইরে হাঁটলে ক্যালোরি খরচের পার্থক্য সাধারণত খুব সামান্য। তবে ট্রেডমিলে ইনক্লাইন বাড়িয়ে হাঁটা বা বাইরে উঁচু-নিচু পথে হাঁটলে পরিশ্রম বাড়ে। ফলে ক্যালোরিও বেশি খরচ হয়।

ওজন কমাতে কোনটি ভালো?

ওজন কমানোর জন্য ট্রেডমিল বা বাইরে হাঁটা, দুটিই কার্যকর। সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো যেটি নিয়মিত করা সম্ভব, সেটিই বেছে নেওয়া। বৃষ্টির দিনে বা ব্যস্ততার কারণে বাইরে হাঁটা সম্ভব না হলে ট্রেডমিল ব্যবহার করা যেতে পারে। আবার ভালো আবহাওয়ায় বাইরে হাঁটলে শারীরিক ব্যায়ামের পাশাপাশি প্রকৃতির পরিবেশও উপভোগ করা যায়। চাইলে দুটিই পালা করে করা যায়।

তবে শুধু হাঁটলেই ওজন কমবে এমন নয়। হাঁটার পাশাপাশি সুষম খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম, পর্যাপ্ত পানি পান এবং সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করলে ওজন কমানোর ফল আরও ভালো হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, হাঁটার অভ্যাসে নিয়মিত থাকা।

থাইল্যান্ডে দুর্ঘটনায় আহত খায়রুল বাসার

থাইল্যান্ডে নাটকের শুটিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অভিনেতা খায়রুল বাসার। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন নাটকের চিত্রগ্রাহক মেহেদী রনিও। বর্তমানে দুজনই চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে রয়েছেন। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৪টার পর থাইল্যান্ডের কোলান দ্বীপে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, একটি নাটকের দৃশ্য ধারণ শেষে পাহাড়ি এলাকা থেকে স্কুটিতে করে নিচে নামার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যান তারা। দুর্ঘটনার সময় স্কুটিটি চালাচ্ছিলেন চিত্রগ্রাহক মেহেদী রনি। দুর্ঘটনার পর শুটিং দলের অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। পরে আহত দুজনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খায়রুল বাসার জানান, নাটকের শুটিংয়ের জন্য তারা থাইল্যান্ডে গেছেন। কাজও পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছিল। কোলান দ্বীপে একটি দৃশ্যের শুটিংয়ের অংশ হিসেবে পাহাড়ের ওপর অবস্থান করছিলেন তারা। শুটিং শেষ করে ফেরার পথেই ঘটে বিপত্তি।

4414 1786457274

দুর্ঘটনায় নিজের আঘাতের বিষয়ে অভিনেতা জানান, তাঁর বুকে ও হাঁটুতে আঘাত লেগেছে। হাঁটাচলাতেও বেশ সমস্যা হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য বর্তমানে পাতায়ায় অবস্থান করছেন তিনি। দুর্ঘটনার পর নাটকের শুটিং সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। মেহেদী রনির আঘাত তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুতর বলে জানিয়েছেন খায়রুল বাসার। দুর্ঘটনায় তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশ ছিঁড়ে গেছে।

জানা গেছে, থাইল্যান্ডে একাধিক নাটকের শুটিংয়ের পরিকল্পনা নিয়ে গিয়েছিলেন খায়রুল বাসার। ঈদের পর দীর্ঘ বিরতি শেষে বিদেশের শুটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

দুর্ঘটনার কারণে আপাতত সব কাজ স্থগিত রাখতে হয়েছে। চিকিৎসা শেষে বিশ্রাম নিয়ে শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করা হবে। এরপরই থাইল্যান্ডের বাকি শুটিং কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ইরানের হামলার হুমকিতে তুরস্ক থেকে গোপনে বিমান বদলের কথা নিশ্চিত করলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, গত মাসে ন্যাটো সম্মেলন শেষে তুরস্ক ছাড়ার সময় সম্ভাব্য ইরানি হামলার আশঙ্কায় তিনি গোপনে বিমান বদলেছিলেন। মার্কিন নিরাপত্তা ও সামরিক কর্মকর্তাদের পরামর্শেই তাকে অন্য একটি বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

মঙ্গলবার ওহাইওতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনী আমাকে অন্য ফ্লাইট, অন্য বিমানে যেতে বলেছিল। আমাকে তাদের কথাই মানতে হয়।’ তবে কোন ধরনের হুমকি ছিল, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানতে চাননি বলে জানান।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৮ জুলাই তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা থেকে ট্রাম্পের যুক্তরাজ্যে যাওয়ার কথা ছিল। তিনি প্রকাশ্যে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠেন। টেলিভিশন ক্যামেরার সামনেই তাঁকে বিমানে উঠতে দেখা যায়। কিন্তু পরে জানা যায়, এটি ছিল একটি বিভ্রান্তিমূলক ব্যবস্থা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পকে একটি ক্যাটারিং ট্রাকের মাধ্যমে গোপনে বিমান থেকে বের করে ছোট একটি সামরিক বিমান সি৩২-এ-তে নেওয়া হয়। ওই বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। ট্রাম্পের প্রকৃত বিমানটি কলসাইন ব্যবহার করে উড্ডয়ন করে। অন্যদিকে সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মীকে নিয়ে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান এএফ১ কলসাইন ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে যাত্রা করে।

মার্কিন কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে জানিয়েছেন, ট্রাম্পকে বহনকারী বিমানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্ভাবনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র একটি বিশ্বাসযোগ্য ইরানি হুমকি শনাক্ত করেছিল। এ কারণে প্রেসিডেন্টকে গোপনে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

তবে ট্রাম্প বলেছেন, শেষ পর্যন্ত তিনি যে সামরিক বিমানে উঠেছিলেন, সেটিই সম্ভবত ‘আরও বেশি ঝুঁকির’ মধ্যে ছিল। তার ভাষায়, ‘আমি অনেক হুমকি পাই, যেগুলো আপনারা জানেন না।’

এদিকে পুরো ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, ট্রাম্পকে সরিয়ে নেওয়ার পর যে বিমানে সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কর্মীরা ছিলেন, সেটিকে কেন বিভ্রান্তিমূলক বিমান হিসেবে ব্যবহার করা হলো। তাঁদের অনেকেই জানতেন না যে প্রেসিডেন্ট আর ওই বিমানে নেই।

বিমানটিতে থাকা সাংবাদিকদের জানানো হয়েছিল, তারা যেন জানালার পর্দা নামিয়ে রাখেন। হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ নির্দেশ সাংবাদিকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছিল। একজন ফটোগ্রাফার অল্প সময়ের জন্য জানালার পর্দা তুললে তাকে দ্রুত তা নামিয়ে দিতে বলা হয়।

এর আগে তুরস্ক ছাড়ার সময় সাংবাদিকেরা ট্রাম্পকে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠতে দেখেছিলেন। তখন ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘পুরোনো দিনের কথা মনে করতেই’ তিনি ওই বিমানে যাচ্ছেন। পরে জানা যায়, সেটিও ছিল নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছিল, যখন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনা তীব্র ছিল। ট্রাম্প আগেও বলেছিলেন, ইরানের কাছে তিনি ‘এক নম্বর লক্ষ্য’। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি থাকলে সাংবাদিকদের তা জানানো উচিত, যাতে তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৪০, নিখোঁজ অন্তত ৩ হাজার

কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২৪০ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে মঙ্গলবারও নিরলস অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। তাদের ভাষায়, ‘প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ।’

সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে পশ্চিম কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। দেশটির চলতি শতাব্দীর সবচেয়ে প্রাণঘাতী এই ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কালি ও পেরেইরা শহর। বহু ভবন ধসে পড়েছে, হাজারো বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ ও জরুরি সেবা ব্যাহত হয়েছে।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর একটি কালি। সেখানে মঙ্গলবার ভোরে ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করেন দমকলকর্মীরা। ভূমিকম্পের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে দমকল বিভাগের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্ধার অভিযানের একটি ভিডিও প্রকাশ করে বলা হয়, ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণের সন্ধান পাওয়া গেছে-‘প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ।’

ভূমিকম্পের পর দেশটির প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা দ্রুত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। গত শুক্রবারই তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। সোমবার রাতে তিনি কালিতে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আশপাশের ভালে দেল কাওকা বিভাগে প্রায় ৫ হাজার বাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং ১৮৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

পেরেইরা শহরেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। কালির প্রায় ১৩০ মাইল উত্তরে অবস্থিত শহরটিতে ৫৮টি ভবন ধসে পড়েছে। এসব ভবনের কয়েকটিতে অন্তত ৫৩ জন আটকা পড়ে আছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। সেখানে অন্তত ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। শহরটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

১৯৯৯ সালের পর এটিই কলম্বিয়ায় সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প। ওই বছরের জানুয়ারিতে দেশটির একই পশ্চিমাঞ্চলের কফি উৎপাদনকারী এলাকায় ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। এদিকে লুটপাট ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে এক হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

উদ্ধারকর্মীরা অবশ্য এখনো ধ্বংসস্তূপে জীবিত মানুষের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। একের পর এক জীবিত মানুষকে উদ্ধারের ঘটনা তাদের আশাবাদী করে তুলেছে। উদ্ধারকারীদের বার্তা-ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণের সামান্যতম সম্ভাবনা থাকলেও অভিযান চালিয়ে যেতে হবে, কারণ ‘প্রতিটি মিনিটই গুরুত্বপূর্ণ’।

খাদ্য ব্যবসায় লাগবে নিবন্ধন, হয়রানির শঙ্কা ব্যবসায়ীদের

দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা সব খাবার দোকানকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ছোট ও মাঝারি পর্যায়ের খাদ্য ব্যবসায়ীদের নিবন্ধন নিতে হবে। নির্দিষ্ট ও বিশেষ ধরনের খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে নিতে হবে লাইসেন্স। এভাবে রাস্তার পাশের দোকান থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ, খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান– সবাই সরকারের নির্ধারিত আইনি কাঠামোর আওতায় আসবে।
সম্প্রতি জারি করা বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) এক নতুন প্রবিধানমালায় এসব কথা বলা হয়েছে। এ নিয়ে ব্য়বসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিভিন্ন দপ্তরের লাইসেন্স ও নিরাপত্তার ছাড়পত্র নিতে গিয়ে নানা জটিলতায় পড়তে হয়। বর্তমানে ১২টি সরকারি সংস্থা আলাদাভাবে তদারকি ও অভিযান চালানোর নামে তাদের নিয়মিত হয়রানি করে। তাদের দীর্ঘদিনের দাবি, পুরো খাতটি একটি কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার অধীনে পরিচালিত হোক। কিন্তু তা না করে নতুন করে লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা মানে আরেকটি বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দেওয়া। এতে ‘লাইসেন্স বাণিজ্যের’ সুযোগ তৈরি হবে। ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির শিকার হবেন। তাদের মতে, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ছাড়া শুধু একটি বিধিমালা দিয়ে বিপুলসংখ্যক ব্যবসাকে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আওতায় আনা তথা নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

লাখ লাখ ব্যবসায়ীকে লাইসেন্সের আওতায় আনার মতো সক্ষমতা রয়েছে কিনা সেই প্রশ্নও তুলছেন বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন, এই উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, বিদ্যমান অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়হীনতা এবং অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বাড়বে। এতে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার চেয়ে ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও জটিল হবে। যদিও বিএফএসএর দাবি, খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব এবং সে জন্য এই উদ্যোগ। নিবন্ধন ও লাইসেন্স প্রক্রিয়া পুরোপুরি অনলাইনে হবে। অনিয়মের কোনো সুযোগ থাকবে না।

কী আছে আইনে
নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এর আওতায় নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬ প্রণয়ন করেছে সরকার; গত ১৬ জুলাই গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। বিধিমালায় বলা হয়েছে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাদ্য ব্যবসায়ীদের শুধু নিবন্ধন নিতে হবে। যেমন– রেস্তোরাঁ, বেকারি, ফলের রসের দোকান, পেস্ট্রি শপ এবং ক্যাটারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, মোড়কজাত খাবার উৎপাদনকারী, মিষ্টির দোকান, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী এবং আমদানিকারকদেরও (কাঁচা ও তাজা খাবার বাদে) বিএফএসএ থেকে নিবন্ধন নিতে হবে। এমনকি রাস্তার পাশে পিঠা, পুরি ও পেঁয়াজুর মতো খাবারের ব্যবসায়ীদেরও নিবন্ধন করতে হবে।

অন্যদিকে অতি গুরুত্বপূর্ণ বা বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের ব্যবসা, যেমন– শিশুদের ফর্মুলা দুধ এবং বয়স্ক বা নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য তৈরি খাবার, ফর্টিফায়েড খাবার, অর্গানিক পণ্য, জিনগত পরিবর্তন করা খাবার এবং বিকিরণের মাধ্যমে সংরক্ষিত খাবার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাইসেন্স নিতে হবে। বেসরকারি খাদ্যের গুদাম ও হিমাগারও লাইসেন্সের আওতায় আসবে। ভোজ্যতেলের পাইকারি বা বাণিজ্যিক উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মজুত, আমদানি এবং বাজারজাতকরণে যুক্ত ব্যবসায়ীরাও এই বিধিমালার আওতাভুক্ত হবেন।

বিধিমালা অনুযায়ী, নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর এবং এরপর এটি নবায়ন করতে হবে। নিবন্ধনের ফি এক হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা এবং নবায়নের খরচ হবে ৫০০ টাকা। খাবারের বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ফি নির্ধারণ করা হবে ফ্লোরের আকারের ওপর ভিত্তি করে। ছোট দোকানের জন্য এই ফি এক হাজার টাকা এবং ১০ হাজার বর্গফুটের চেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য পাঁচ হাজার টাকা। খাদ্য মজুত করার ক্ষেত্রে ২০ হাজার বর্গফুটের চেয়ে বড় গুদামের লাইসেন্স নিতে দিতে হবে ৪০ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, দেশে খাদ্য পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠান প্রায় সাড়ে চার লাখ। এর মধ্যে হোটেল রেস্তোরাঁ ও চা-স্টলও আছে। ফাস্টফুডের দোকান আছে প্রায় ৬৭ হাজার। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলে জানান খাত-সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির হিসাব অনুযায়ী, সারাদেশে প্রায় ৪ লাখ ৮১ হাজার রেস্তোরাঁ আছে।

হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা
রাস্তার পাশের বিভিন্ন খাবারের দোকানগুলো ভাসমান, শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষের ক্ষুধা নিবারণের ভরসাস্থল। নিবন্ধন না নিলে এসব দোকান বন্ধ হয়ে যাবে কিনা, সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের ফুটপাতে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে দুই দশক ধরে পরোটা বিক্রি করে সংসার চালান মাসুদ মিয়া। সমকালকে তিনি বলেন, কম পুঁজির ব্যবসা। এর মধ্যে নিবন্ধন নিতে হলে সীমিত লাভের ওপর হয়রানি ও বাড়তি চাঁদা বসবে। তাঁর মতে, কীভাবে নিবন্ধন নিতে হবে, কার কাছে যেতে হবে– এসবের কিছুই ছোট ব্যবসায়ীরা বুঝবে না। কারণ তাদের বেশির ভাগই কম শিক্ষিত বা অশিক্ষিত। নিবন্ধন না নিলে যদি দোকান বন্ধ হয়, তাহলে গরিব মানুষ কোথায় খাবে সেই প্রশ্ন তোলেন এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, রেস্তোরাঁগুলো বাজার থেকে যে কাঁচামাল কিনে আনে, তার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কে দেবে তা নিশ্চিত করা জরুরি। শুধু জরিমানা করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বা ঝুঁকি দূর করা সম্ভব নয়।

লাইসেন্স নেওয়া বা না নেওয়া– উভয় ক্ষেত্রেই বিপদে পড়বেন ব্যবসায়ীরা এমন মন্তব্য করে ইমরান হাসান বলেন, রেস্তোরাঁগুলোকে কমপ্লায়েন্সের (সব নিয়ম মেনে চলা) আওতায় আনার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে হবে।

ইমরান হাসান বলেন, রানা প্লাজা ধসের পর বিজিএমইএ নিজেদের উদ্যোগে কারখানাগুলোকে কমপ্লায়েন্স করেছে। সরকার সহযোগিতা করলে পোশাক খাতের আদলে সমিতির নিজস্ব তদারকির মাধ্যমে রেস্তোরাঁ খাতকেও কমপ্লায়েন্সের আওতায় আনা সম্ভব। সমিতির পক্ষ থেকে ছাড়পত্র প্রদান এবং প্রাথমিক পর্যায়ের তদারকি করা হলে খাতের শৃঙ্খলা রক্ষা সহজ হবে। এ ক্ষেত্রে বিএফএসএ এবং রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি যৌথভাবে কাজ করতে পারে।

আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়াতে ইমরান হাসান এই প্রক্রিয়ায় শুধু আমলাদের ওপর নির্ভর না করে ফুড কন্টামিনেশন, হাইজিন ও হ্যাজার্ড বোঝেন– এমন খাদ্য বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করার দাবি জানান।
স্বয়ংক্রিয় কিংবা হাতে তৈরি– সব ধরনের বেকারিও এই নীতিমালার আওতায় আসবে এবং তাদের লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ রুটি, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া যদি সুশৃঙ্খল হয় এবং এর মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটে, তবে ব্যবসায়ীরা একে স্বাগত জানাবেন। কিন্তু লাইসেন্স করতে গিয়ে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হলে অর্থাৎ এক টাকার লাইসেন্সে ২৫ টাকা ব্যয় হলে সেটি হবে ব্যবসায়ীদের জন্য বড় বোঝা।

জালাল উদ্দিনের তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে সাত হাজারের বেশি ছোট-বড় বেকারি রয়েছে, যেগুলোতে রুটি-পাউরুটি হাতে বানানো হয়। বড় কোম্পানিগুলোর আধিপত্যের কারণে এরা অনেকটা কোণঠাসা। এমন পরিস্থিতিতে লাইসেন্সিং ব্যবসায়ীদের জন্য হয়রানির কারণ হলে তারা আরও বিপদে পড়বেন। এতে সরকারের ভালো উদ্দেশ্যের চেয়ে নেতিবাচক প্রভাবই বেশি দেখা দেবে।

এ ব্যাপারে টি.কে গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার বলেন, একই ব্যবসার জন্য একাধিক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার বিধান কোনোভাবেই কাম্য নয়। এমনিতেই বিএসটিআইর লাইসেন্স বাবদ বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়। তার ওপর একই কাজের জন্য দুই-তিনটি অনুমোদন নেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন
লাখো খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও রেস্তোরাঁ তদারকির আওতায় আনার সক্ষমতা বিএফএসএর আছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। তাঁর মতে, প্রচলিত আইন অনুযায়ী বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি-রপ্তানি নীতি রয়েছে। খাবারের মান নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশে বিএসটিআই রয়েছে। বিএফএসএ খাদ্যপণ্য আমদানির অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা নিজের হাতে নিতে চাচ্ছে, যা ব্যবসায়ীদের নতুন করে জটিলতা বাড়াবে।

ক্যাব সভাপতি বলেন, কর্তৃপক্ষের দাবি, লাইসেন্স প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনে হবে বলে কোনো হয়রানি হবে না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, পাসপোর্ট বা বিআরটিএর মতো সেবাগুলো অনলাইন হওয়ার পরেও মানুষ নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে।

দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না দাবি বিএফএসএর
বিএফএসএর কর্মকর্তারা বলছেন, এটি সবার জন্য সরাসরি লাইসেন্স নয়। প্রথমে নিবন্ধন করতে হবে এবং পরবর্তী ধাপে লাইসেন্স দেওয়া হবে। বিএসটিআইর সনদ যাদের রয়েছে তাদের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ করার পরিকল্পনা তাদের নেই। তবে আমদানি করা খাদ্যপণ্য ঠিক আছে কিনা, তা যাচাইয়ের জন্য বন্দরগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

হয়রানি ও ঘুষ-বাণিজ্যের আশঙ্কার বিষয়ে বিএফএসএর চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, হয়রানি কমাতে পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন করার মেকানিজম করা হচ্ছে। এতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না। নিবন্ধনের জন্য ফি অনেক কম হবে। তিনি বলেন, খাবার ব্যবসায়ীদের তালিকা বা ডেটাবেজ না থাকলে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব নয়। খাবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাস্তার ধারের খাবারকেও নজরদারিতে আনা জরুরি, যাতে কেউ খাবারের সাথে ক্ষতিকর কিছু মিশিয়ে দিতে না পারে।

কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম বলেন, অনলাইন সিস্টেম চালু হলে প্রক্রিয়াটি সহজ হবে। সারাদেশে প্রায় ১০ লাখ ১৩ হাজার খাদ্য ব্যবসায়ীর ডেটাবেজ তৈরির কাজ চলছে, যা আগামী ছয় মাসের মধ্যে শেষ হতে পারে। এই তালিকায় ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় সব ধরনের ব্যবসায়ী অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে ভাসমান বা সিজনাল স্ট্রিট ফুড বিক্রেতাদের শনাক্ত করা কিছুটা কঠিন হলেও তাদের শৃঙ্খলার মধ্যে আনা হবে।