Home Blog Page 6

বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়ন ঘিরে নতুন যাত্রা

বিশ্ব বাস্তবতার মধ্যে নিজেদের সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা বাড়াতে বিশেষ অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগ ‘বিগ-বি’ (বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট) এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে জাপান ও বাংলাদেশ। গতকাল মঙ্গলবার টোকিওতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর যৌথ ঘোষণায় এ কথা জানানো হয়।

এতে বলা হয়, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিতে ‘বিগ-বি’ উদ্যোগকে ‘অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিগ-বি’ নামে এগিয়ে নেওয়া হবে। এর আওতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য দুই দেশ সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

বিশেষ এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিল্পের মূল্য সংযোজন ও সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র গড়ে তোলা, বাণিজ্য ও পণ্য সরবরাহের প্রবেশদ্বার হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলা এবং প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি বাড়ানো হবে।

এ জন্য চারটি ক্ষেত্রে কাজ করা হবে বলে যৌথ ঘোষণায় জানানো হয়। সেগুলো হলো যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন; প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তাসহ বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো; অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি ও নীতিমালা প্রণয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বাড়ানো এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা জোরদার করা।

যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, জাপানের বেসরকারি খাত আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ৬৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে পারে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে যৌথ ঘোষণায়।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী এই সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। এ বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের দ্বিতীয় দিনে এ শীর্ষ বৈঠক হলো। স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে বৈঠক শুরু হয়। বেলা ১১টা ৩২ মিনিটে তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সানায়ে তাকাইচি। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

শীর্ষ বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও যৌথ সমৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ লক্ষ্য অর্জনে জাপানি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানের আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দুই দেশের নেতারা দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন এবং দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

বৈঠক শেষে নিজের অফিসিয়াল ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে জাপানের প্রধানমন্ত্রী লেখেন, কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার এবং অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনে জাপান বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।

পোস্টে তাকাইচি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানাতে পেরে আনন্দিত। গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মূল্যবোধে বিশ্বাসী বন্ধুপ্রতিম বাংলাদেশ। গণতান্ত্রিক সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা তারেক রহমান সরকারের রাষ্ট্রগঠন প্রচেষ্টায় জাপান দৃঢ়ভাবে সমর্থন দেবে।

অভিন্ন সমৃদ্ধির জন্য বিগ-বি
জাপান সরকারের প্রস্তাবিত বিগ-বি উদ্যোগের আওতায় দুই দেশ মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী-মহেশখালী এলাকাকে একটি বৃহৎ লজিস্টিকস, জ্বালানি ও শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করবে। দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রতিটি দেশের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার অক্ষুণ্ন রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন এ দুই নেতা।

তৃতীয় টার্মিনাল, এমআরটি ও বন্দর যোগাযোগ
আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দুই প্রধানমন্ত্রী হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে নিতে একমত হয়েছেন। তারা ঢাকায় এমআরটি লাইনগুলোর নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনাসহ ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনার কথাও বলেছেন। তারা আঞ্চলিক যোগাযোগ জোরদার ও দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

সমঝোতা স্মারক সই
বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাকাইচি। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিনিয়োগ সহজ করতে কর, শুল্ক ছাড়করণ, অর্থ পাঠানো ও লাইসেন্স দেওয়ার মতো কার্যক্রমে নিয়মকানুন ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন তারেক রহমান।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
খাদ্য, কৃষি, মৎস্য ও পশুপালন খাতে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি সমঝোতা স্মারকও সই হয়েছে।
দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও বাড়াতে জাপানের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে পাঠানো এবং অর্থনৈতিক সংলাপ আয়োজনের পরিকল্পনা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের আওতায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও তারা একমত হয়েছেন।

এ ছাড়া জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি সই হওয়াকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত তা কার্যকর করার অঙ্গীকার করেছেন দুই নেতা। এ চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বাংলাদেশের শিল্প খাতে বৈচিত্র্য আনার লক্ষ্য রয়েছে।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের টেকসই ও ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষম উত্তরণে এ চুক্তি সহায়তা করবে বলে যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে। আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব (আরসিইপি) চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার অনুরোধ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতেও জাপান আগ্রহী।

বাণিজ্য চুক্তি ও শিল্পের বহুমুখীকরণ
জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরকে স্বাগত জানান দুই নেতা। দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে চুক্তিটি দ্রুত কার্যকর করার অঙ্গীকারও তারা পুনর্ব্যক্ত করেন।

এ চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্পের বহুমুখীকরণে জোর দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা। এতে এলডিসি তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়া সহজ, টেকসই ও অভিঘাত মোকাবিলায় সক্ষম হবে। তাকাইচি বলেন, আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব (আরসিইপি) চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের অনুরোধ নিয়ে আরও আলোচনার অপেক্ষায় রয়েছে জাপান।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু সহযোগিতা
জাপানের ‘অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি ও স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণে জরুরি সহায়তা ঋণ’ কর্মসূচির আওতায় ৫০ বিলিয়ন ইয়েন সহায়তার জন্য জাপানকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।‘পার্টনারশিপ অন ওয়াইড এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্সেস রেজিলিয়েন্স এশিয়া’ বা ‘পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় এটিই জাপানের প্রথম ইয়েন ঋণ প্রকল্প।

ডিজিটাল রূপান্তর ও দক্ষ জনশক্তি
দ্বিপক্ষীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় ডিজিটাল রূপান্তর, উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন আইসিটি পেশাজীবী তৈরি এবং নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার নতুন সম্ভাবনা অনুসন্ধানের গুরুত্ব স্বীকার করেন দুই নেতা। মানবসম্পদের উন্নয়ন, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং সামাজিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখতেও তারা একমত হন।

প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা
ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর অভিপ্রায় পুনর্ব্যক্ত করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরসংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর এবং কার্যকর হওয়াকে তারা স্বাগত জানান। এ ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতায় আরও অগ্রগতি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ অবদানকারী দেশ হিসেবে ভূমিকার স্বীকৃতি দেন তাকাইচি। তিনি প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, উপকূলীয় টহল ও বন্দর নিরাপত্তায় সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে জাপানের অঙ্গীকার জানান। জাপানের সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) কর্মসূচির আওতায় একটি টহল জাহাজ এবং সরকারি নিরাপত্তা সহায়তা কর্মসূচির আওতায় পাঁচটি টহল নৌযান দেওয়ার বিষয়টিকে দুই নেতা স্বাগত জানান।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও মিয়ানমার সংকট
মিয়ানমারের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি, এর আঞ্চলিক নিরাপত্তাগত প্রভাব, বাস্তুচ্যুতি এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। তারা অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ, আটক ব্যক্তিদের মুক্তি, মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং রোহিঙ্গাসহ সব পক্ষ ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে নিয়ে সংলাপের আহ্বান জানান।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাসহ বাস্তুচ্যুত মানুষকে সাময়িক আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করে তাকাইচি তাদের জন্য অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রতি জাপানের সমর্থন জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে। এর সমাধানও সেখানেই নিহিত।
রোহিঙ্গাসহ বাস্তুচ্যুত মানুষদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে এবং টেকসই উপায়ে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের মধ্য দিয়েই এ সংকটের চূড়ান্ত সমাধান সম্ভব বলে দুই নেতা একমত হন।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা
মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত উত্তেজনা প্রশমন এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে অবিলম্বে ও সম্পূর্ণভাবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান বাংলাদেশ ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী। অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই সব জাহাজের নিরাপদ ও অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার ওপরও তারা গুরুত্ব দেন। বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন বাণিজ্যের জন্য লোহিত সাগর এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতার কৌশলগত গুরুত্ব স্বীকার করেন দুই নেতা।

তারা বেসামরিক জাহাজ ও নাবিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন, একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সামুদ্রিক কর্মীদের জীবন বিপন্ন করতে পারে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। দুই নেতা গাজা পুনর্গঠনে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানসহ ফিলিস্তিন সমস্যার ন্যায়সংগত, স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

দুই দেশের বন্ধুত্ব হবে সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও যৌথ সমৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে রূপ দিতে হবে। জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, রেলপথ, অবকাঠামো ও গভীর সমুদ্রবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বাড়িয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে চায় বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও জাপানের অংশীদারিত্ব কয়েক দশকের বন্ধুত্ব, আস্থা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। আজ এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছে। বাংলাদেশে বিদ্যমান বিনিয়োগের সুযোগগুলো অনুসন্ধান করতে এবং আমাদের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে অংশীদার হতে আমি জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’

শীর্ষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন (আশিক চৌধুরী), বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী প্রমুখ।

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যাহ্নভোজে তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর সম্মানে আয়োজিত জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়েছেন। দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক ও যৌথ সংবাদ সম্মেলনের পর গতকাল স্থানীয় সময় দুপুরে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইয়ে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জোবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফরের অংশ হিসেবে দেশটির চিবা প্রিফেকচারের ইচিকাওয়া শহরে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করেছেন। গতকাল স্থানীয় সময় বিকেলে প্রধানমন্ত্রী সেখানে যান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।

কীভাবে গ্রিন টি খেলে বিস্বাদ লাগবে না

স্বাস্থ্য সচেতনতার অংশ হিসেবে অনেকেই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখছেন গ্রিন টি রাখেন। কিন্তু নিয়মিত চিনি ছাড়া গ্রিন টি খেতে কারই বা ভাল লাগে? তবে অনেকের হয়তো জানা নেই, রান্নাঘরে থাকা বেশ কিছু ঘরোয়া উপকরণ দিয়েই একঘেয়ে গ্রিন টি-র স্বাদে পরিবর্তন আনা যায়। তখন খেতেও ততটা বিস্বাদ লাগে না। গ্রিন টি’য়ের স্বাদ বদলাতে যা যোগ করতে পারেন-

লেবু মেশানো গ্রিন টি

স্বাদ বদল করতে গ্রিন টি-র সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারেন। চিনি ছাড়া গ্রিন টি খেতে ভাল না লাগলে এটি ভাল বিকল্প হতে পারে। লেবুর মধ্যে থাকা ভিটামিন সি শরীর থেকে টক্সিন দূর করে। সেই সঙ্গে মেদ ঝরাতে সাহায্য করে ।

মধু মেশানো গ্রিন টি

চিনি ছাড়া, গ্রিন টি খেতে অনেকেই পছন্দ করেন না। তাঁদের জন্য, মধু হতে পারে ভালো একটি বিকল্প। গ্রিন টি বানানোর পর তার সঙ্গে মধু যোগ করলে তা স্বাদে আলাদা মাত্রা যোগ করে। মধু এমন একটি প্রাকৃতিক মিষ্টি যা ওজন কমাতে সাহায্য করে এবং শরীরে শক্তি জোগায়।

আদাযুক্ত গ্রিন টি

গ্রিন টি-র মধ্যে আদা মেশালে স্বাদ বেড়ে যায় । আদা শরীরের ক্যালোরি পোড়াতেও সাহায্য করে। গ্রিন-টির সঙ্গে আদা মিশিয়ে খেলে তা ওজন কমাতেও সাহায্য করে ।

দারুচিনি দেওয়া গ্রিন টি

গ্রিন টি-র সঙ্গে দারুচিনি মেশানো হলে রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখে। সেই সঙ্গে চর্বি কমাতে সাহায্য করে। ওজন কমানোর জন্য দারুচিনি মেশানো গ্রিন টি খুবই উপকারী।

তুলসী পাতাযুক্ত গ্রিন টি

তুলসী পাতা শরীরকে ভিতর থেকে ডিটক্সিফাই করে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়। তাই গ্রিন টি-র সঙ্গে চার-পাঁচটি পরিষ্কার তুলসী পাতা যোগ করলে তা চায়ের স্বাদ বাড়িয়ে তুলবে। একই সঙ্গে এটি স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হবে।

পুদিনা পাতা মেশানো গ্রিন টি

পুদিনা পাতা হজম শক্তি বাড়ায়। সেই সঙ্গে পাশা পেট ঠান্ডা করে। গ্রিন টি তৈরির সময় কয়েকটি সতেজ পুদিনা পাতা যোগ করতে পারেন। তাহলে সেই চায়ের স্বাদ অন্যরকম লাগবে। সূত্র: আজকাল

নতুন সায়েন্স ফিকশনে জেন্ডায়া

০

হলিউডে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন জেন্ডায়া। একের পর এক বড় বাজেটের সিনেমা, নতুন নতুন চরিত্র আর পুরস্কারের দৌড়–সব মিলিয়ে আলোচনায় এই অভিনেত্রী। এবার সেই ব্যস্ততার তালিকায় যুক্ত হলো নতুন একটি সায়েন্স ফিকশন সিনেমা। ছবিটি পরিচালনা করবেন ‘সিভিল ওয়ার’ ও ‘টোয়েন্টি এইট ইয়ারস লেটার’-এর চিত্রনাট্যকার ও নির্মাতা অ্যালেক্স গারল্যান্ড। নতুন এই সিনেমার গল্প ও চরিত্র সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে জেন্ডায়ার যুক্ত হওয়ার খবরে ছবিটি ঘিরে তৈরি হয়েছে আগ্রহ।

জানা গেছে, নতুন সিনেমার গল্প নিজের লেখা মৌলিক চিত্রনাট্য থেকে তৈরি করছেন গারল্যান্ড। এতে জেন্ডায়াকে গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে দেখা যাবে। তবে ছবির নাম, কাহিনির প্রেক্ষাপট, তার চরিত্রের ধরন কিংবা অন্য অভিনয়শিল্পীদের বিষয়ে এখনও জানাননি নির্মাতা। সায়েন্স ফিকশন ঘরানায় গারল্যান্ডের নির্মাণশৈলী এবং জেন্ডায়ার অভিনয়–দুইয়ের সমন্বয়ে নতুন কী তৈরি হয়, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।

এদিকে জেন্ডায়ার আরেক আলোচিত সিনেমা ‘ডিউন: পার্ট থ্রি’ নিয়েও চলছে দারুণ আলোচনা। ডেনিস ভিলনেভ পরিচালিত এই সিনেমায় চানি চরিত্রে ফিরছেন তিনি। পল অ্যাট্রেইডিসের ভূমিকায় থাকছেন টিমোথি

শ্যালামে। ছবিটি ১৮ ডিসেম্বর মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে চানির চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রী বিভাগে জেন্ডায়াকে নিয়ে অস্কার প্রচারণার সম্ভাবনা বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে এটি অস্কারের আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন কিংবা চূড়ান্ত প্রতিযোগী তালিকা নয়। সিনেমাটি মুক্তির পর তার অভিনয় পুরস্কারের আলোচনায় কতটা জায়গা করে নেয়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে। চলতি বছর একাধিক উল্লেখযোগ্য প্রকল্পে কাজ করেছেন জেন্ডায়া। ‘দ্য ড্রামা’, ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ ও ‘দি ওডিসি’র মতো সিনেমা ঘিরে তার ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। ভিন্ন ভিন্ন ঘরানার এসব কাজের মধ্য দিয়ে নিজের অভিনয়ের পরিসর বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক সিনেমার পরিচিত জগৎ থেকে শুরু করে নির্মাতানির্ভর চলচ্চিত্রেও নিজের অবস্থান ধরে রাখছেন এই অভিনেত্রী।

বড়পর্দার বাইরেও নতুন অভিজ্ঞতার অপেক্ষায় রয়েছেন জেন্ডায়া। এ বছরেই অ্যানিমেশন সিনেমা ‘শ্রেক ৫’-এ শ্রেক ও ফিওনার মেয়ে ফেলিসিয়া চরিত্রে কণ্ঠ দেবেন তিনি। ছবিটি আগামী বছর মুক্তির কথা রয়েছে। এর পাশাপাশি সংগীতশিল্পী রনি স্পেক্টরের জীবনভিত্তিক ‘বি মাই বেবি’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্যও চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি।

‘সাদ্দামের রেস্তোরাঁ’ খোঁচায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, জবাব দিলেন ৩ মিনিট ধরে

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সম্প্রতি বলেছেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস দেখে মনে হয়, এটি যেন চিজকেক রেস্তোরাঁ। যেটি চালায় সাদ্দাম হোসেন।’ স্থানীয় সময় সোমবার পূর্বসূরির এমন খোঁচার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট।

ওবামা ও ট্রাম্পের বিরোধ দীর্ঘদিনের। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডেমোক্রেটিক পার্টির হয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। সেগুলোতে তিনি ট্রাম্পের সমালোচনা করে নানা মন্তব্য করেন। এর মধ্যে ‘সাদ্দামের চিজকেক রেস্তোরাঁ’ সংক্রান্ত খোঁচাটি সম্ভবত ট্রাম্পকে বেশি আঘাত করেছে।

সাংবাদিকরা খোঁচার বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প প্রায় তিন মিনিট ধরে এ নিয়ে কথা বলেন। ওবামাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘হোয়াইট হাউসকে আপনার চিজকেক ফ্যাক্টরি মনে হওয়ার বিষয়টিই প্রমাণ করে যে, আপনি কত বাজে প্রেসিডেন্ট ছিলেন।’

মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে ট্রাম্প বলেন, ‘ওবামার মতো লোকেরা সামনের দরজা (হোয়াইট হাউসের) দিয়ে হেঁটে চলে যেতেন। তারা ভাঙা ইটের গাঁথুনি দেখতেন। দেয়ালগুলো বছরের পর বছর পরিষ্কার করা হয়নি। সেখানে ময়লা-আবর্জনা জমে ছিল। সেগুলো চোখে পড়েনি।’

চিজকেক ফ্যাক্টরি একটি জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ চেইন। খাবারের তালিকা ও বৈচিত্র্যময় অন্দরসজ্জার জন্য এটি পরিচিত। ট্রাম্প সম্প্রতি হোয়াইট হাউস সংস্কার করেছেন। এর মধ্যে আছে বিশাল একটি বলরুম নির্মাণ এবং ওভাল অফিসজুড়ে সোনার পাতের অলংকার যোগ করা।

গত শনিবার এক নির্বাচনী সমাবেশে ওবামা বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) হোয়াইট হাউসের এমন অবস্থা করেছেন, যেন সাদ্দাম হোসেন সেখানে একটি চিজকেক ফ্যাক্টরি খুলেছেন।’ এখানে সাদ্দাম হোসেন বলতে ইরাকের সাবেক স্বৈরশাসককে ইঙ্গিত করা হয়েছে। ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের পর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

চিজকেক ফ্যাক্টরি নিয়ে ট্রাম্পের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত দেয়- নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ৮০ বছর বয়সী এই প্রেসিডেন্টের ধৈর্যও তত কমে যাচ্ছে। গত রোববার রাতে ট্রুথ সোশ্যালে তিনি প্রায় ১ হাজার ৩০০ শব্দের একটি পোস্ট দেন। সেটি ইরান যুদ্ধ কিংবা মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে ছিল না। বরং বিল মাহের নামে এক কৌতুকশিল্পীকে আক্রমণ করে ওই দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছিলেন।

গত কয়েকদিনে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময়ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে ট্রাম্পকে। ওই প্রশ্নগুলো ছিল, কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে।

বাংলাদেশ ব্যাংক মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ কর্মকর্তার ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক লেনদেন আয়কর নথিতে অসংগতি, একের পর এক জমি, সঞ্চয়পত্র কিনেছেন

০

বাংলাদেশ ব্যাংকের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগের অন্যতম কাজ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সন্দেহজনক লেনদেন তদারক করে ব্যবস্থা নেওয়া। অথচ এই বিভাগের একজন যুগ্ম পরিচালক নিজেই জড়িয়েছেন সন্দেহজনক লেনদেনে। তাঁর আয়কর নথিতে উল্লেখ নেই এমন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা ও উত্তোলন হয়েছে। বেতন-ভাতার পুরো টাকা ঋণ ও বাসা ভাড়ার জন্য কেটে নেওয়ার পরও তিনি একের পর এক জমি কিনেছেন। নিজের ও স্ত্রীর নামে বড় অংকের সঞ্চয়পত্র, এফডিআর খুলেছেন। শেয়ারবাজারেও করেছেন বিনিয়োগ। নিজের তথ্য গোপন করে মুদি দোকানদার পরিচয়ে খুলেছেন ‘বিকাশ’ অ্যাকাউন্ট ।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর প্রভাবশালী হয়ে ওঠা ওই কর্মকর্তার নাম মো. মোশাররফ হোসেন। তিনি ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগ দেন। এখন পঞ্চম গ্রেডে বেতনভুক্ত কর্মকর্তা। মূল বেতন ৫৬ হাজার ৩০ টাকা এবং অন্যান্য ভাতাসহ সব মিলিয়ে প্রতি মাসে চাকরি বাবদ পান ৯০ হাজার টাকার মতো। মোশাররফের গৃহনির্মাণ ও গাড়ির ঋণ বাবদ কর্তন এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কোয়ার্টারে থাকার বাসা ভাড়ার টাকা কেটে নেওয়ার পর বেতন-ভাতার এক টাকাও তাঁর অ্যাকাউন্টে যায় না।

মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ে অপেশাদার আচরণের বেশ কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ঘটনা তদন্তাধীন। প্রথম ঘটনা গত ২৬ ফেব্রুয়ারির; নতুন গভর্নর নিয়োগের দিন। ওই দিন মানবসম্পদ বিভাগের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি গভর্নর ড. কবির আহম্মদ ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলামকে জোরপূর্বক কিছু আদেশে সই করতে বাধ্য করেন মোশাররফের নেতৃত্বে কয়েক কর্মকর্তা। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকে তদন্ত চলছে।

দ্বিতীয় ঘটনা তদবিরের। আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. এইচবিএম ইকবালের বিরুদ্ধে বিএফআইইউ যেন কোনো ব্যবস্থা না নেয়, সে জন্য একজন নির্বাহী পরিচালকের কাছে তদবির নিয়ে যান তিনি। এ ক্ষেত্রে বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতার রেফারেন্স দেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগে মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।

মোশাররফ হোসেনকে প্রায়ই নিজ দপ্তরের কাজ বাদ দিয়ে উচ্চপদস্থ নির্বাহীদের ফ্লোরে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তদবির নিয়ে অনেক সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার রুমে সরাসরি ঢুকে যান। গত মাসে তিনি বিতর্কিত এক ব্যবসায়ীকে সঙ্গে নিয়ে বিএফআইইউ প্রধানের রুমে ঢুকে পড়েন। গত বছরের জানুয়ারিতে ঘোষিত বিশেষ ঋণ পুনঃতপশিলের আওতায় কিছু গ্রাহকের সুবিধা আদায় করে দিতে তিনি তৎপর ছিলেন। তাঁর বেপরোয়া আচরণ নিয়ে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিএনপিপন্থি কর্মকর্তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে গভর্নরের হস্তক্ষেপ চেয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে।

সমকালের অনুসন্ধানে দেখা যায়, মোশাররফ হোসেন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২০১৯ সালে গৃহনির্মাণের জন্য ৪ শতাংশ সুদে ঋণ নেন। এখন যার বকেয়া স্থিতি এক কোটি ২ লাখ ২৯ হাজার  টাকা। এর বাইরে গাড়ি কিনতে ঋণ নিয়েছেন ৩০ লাখ টাকা। এখন যার বকেয়া ২৯ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। তাঁর আয়কর নথিতে কৃষি সম্পত্তি ক্রয় দেখানো হয়েছে ৭৯ লাখ টাকার। অকৃষি জমি বা ভবন নির্মাণ ব্যয়ের ঘর দেখানো হয়েছে শূন্য। এর মানে, তিনি ঋণ নিয়ে বাড়ি নির্মাণ করেননি।

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মচারী সমবায় সমিতিতে মোশাররফের হিসাবের ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২২ মাসের লেনদেনের তথ্য রয়েছে সমকালের হাতে। এতে দেখা যাচ্ছে, সব কর্তনের পর প্রতি মাসে বেতন বাবদ প্রতীকী ৫ পয়সা জমা হয়েছে তাঁর হিসাবে। বেতনের বাইরে তাঁর হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাওয়া উৎসব বোনাস, বৈশাখী ভাতা, উৎসাহ বোনাস জমা হয়। এর বাইরে দুপুরের খাবারের বিল, ইন্টারনেট ও মোবাইল ভাতা যায়। এসব ভাতা বাবদ প্রতি মাসে গড়ে ১০ হাজার টাকার মতো পান তিনি।

বিভিন্ন ভাতা ও বিলের বাইরে গত ২২ মাসে মোশাররফের হিসাবে ৩৭ লাখ ৫ হাজার টাকা জমা হয়েছে। এর মধ্যে ভাউচারে নগদ জমা করেছেন ২৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। অন্য ব্যাংক থেকে ক্লিয়ারিং হয়ে ঢুকেছে ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। হিসাব বিবরণীতে এসব অর্থের উৎস সম্পর্কে কিছু উল্লেখ নেই।

মোশাররফের সমিতির হিসাবে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি ৮৫ হাজার টাকা জমা হয়। একই মাসের ২৬ তারিখ অন্য ব্যাংক থেকে ক্লিয়ারিং হয়ে ঢুকেছে ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। চলতি বছরের মার্চে পাঁচ দফায় নগদ ভাউচারে ১২ লাখ ৫ হাজার টাকা জমা হয়। এরপর কিছুটা বিরতি দিয়ে গত ১২ জুলাই নগদ ভাউচারে ৫ লাখ টাকা জমা করেন তিনি। সবশেষ গত ৪ আগস্ট নগদ জমা হয় আরও ৫ লাখ টাকা। গত বছরের ১ জানুয়ারি নগদ ভাউচারে তাঁর হিসাবে জমা হয় এক লাখ ৪৯ হাজার ৯৯০ টাকা। এভাবে ধারাবাহিক তিনি নগদ অর্থ জমা করেছেন।

ব্যাংক হিসাবেও অস্বাভাবিক লেনদেন
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণদান সমিতির বাইরে মোশাররফ হোসেনের নামে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্টের সন্ধান পেয়েছে সমকাল। ২০১৯ সালের ২৪ মার্চ সঞ্চয়ী হিসাবটি খোলা হয়। এই হিসাবের তথ্য তাঁর আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ নেই। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এখানে মোট ২ কোটি ২১ লাখ ৭২ হাজার টাকা জমা হয়েছে। প্রায় সমপরিমাণ উত্তোলন এবং সার্ভিস চার্জসহ অন্যান্য কর্তনের পর এখন স্থিতি মাত্র ৩ হাজার ৪৫০ টাকা।

এই হিসাবে মোশাররফের নামে সঞ্চয়পত্র ক্রয় বাবদ ৪০ লাখ টাকা জমার তথ্য রয়েছে। তাঁর আয়কর নথিতে এর উল্লেখ নেই। এই হিসাবে বিভিন্ন সময়ে তিনি নগদ জমা করেছেন ৪০ লাখ ৪০ হাজার ৭৩৭ টাকা। আরটিজিএসসহ বিভিন্ন উপায়ে অন্য ব্যাংক থেকে স্থানান্তর করে এনেছেন ২৪ লাখ ৮০ হাজার ৫০ টাকা। শেয়ার বেচাকেনা ও লভ্যাংশ হিসেবে জমা হয়েছে ২৯ লাখ ৪০ হাজার ১৮৮ টাকা। এর বাইরে মোবাইল ওয়ালেট, এটিএম রিভার্স ও সঞ্চয়ী হিসাবের মুনাফার বিপরীতে বাকি অর্থ জমা হয়েছে তাঁর এই হিসাবে।

মুদি দোকানদার পরিচয়ে বিকাশ অ্যাকাউন্ট
মোশাররফ হোসেনের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর দিয়ে এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘বিকাশ’-এ ২০২১ সালে অ্যাকাউন্ট খোলেন। যেখানে পেশার ঘরে লিখেছেন ‘মালিক, মুদি দোকান সবুজবাগ, ঢাকা’। ব্যাংক বা এমএফএসের অ্যাকাউন্টে ব্যক্তি হিসাবে বড় লেনদেন হলে সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক লেনদেন হিসেবে তা বিএফআইইউতে রিপোর্ট হয়। অ্যাকাউন্টে লেনদেনের তথ্য আড়াল করতে তিনি মুদি দোকানদার পরিচয়ে ‘বিকাশ’ অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। তথ্য গোপনের মাধ্যমে তিনি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে অপরাধ করেছেন।

স্ত্রীর হিসাবে বিপুল লেনদেন
মোশাররফের স্ত্রী উম্মে হাসান ডলির হিসাবেও বিপুল অংকের টাকা জমার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি জনতা ব্যাংকে ২০২১ সালে ২৬ হাজার ৪০০ টাকা বেতনে চাকরি শুরু করে এখন সাকল্যে বেতন-ভাতা বাবদ মাসে পান ৩০ হাজার টাকা। চাকরির শুরু থেকে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেতন-ভাতা হিসেবে তিনি মোট ১৮ লাখ ৪২ হাজার টাকা পেয়েছেন। অথচ বেতনের ১০ গুণ তথা এক কোটি ৮৭ লাখ টাকা জমা হয়েছে ব্যাংকটির কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ শাখায় তাঁর হিসাবে। এর বাইরে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকে তাঁর আরেকটি হিসাবে জমা হয় এক কোটি ১৫ লাখ টাকা। এসব অর্থের বড় অংশই মোশাররফের অ্যাকাউন্ট থেকে এসেছে।

২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত জনতা ব্যাংকে মোশাররফের স্ত্রীর হিসাবে শুধু বেতন-ভাতার টাকা জমা হয়। তবে ওই বছর নভেম্বরে হঠাৎ নগদ ৮ লাখ টাকা জমা হয়। এরপর ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩৫ লাখ টাকা জমা হয়। এরপর চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি ২২ লাখ টাকা নগদে জমা হয় তাঁর হিসাবে।

উম্মে হাসান ডলির নামে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাব খোলা হয় ২০২০ সালে। এই হিসাবের বিপরীতে তাঁর সঞ্চয়পত্র রয়েছে আরও ৪৩ লাখ টাকার। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর কিনেছেন ২৩ লাখ টাকা; ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ১০ লাখ; ২৮ সেপ্টেম্বর ৫ লাখ এবং ২৬ নভেম্বর ২ লাখ টাকার। এই হিসাবে নগদ জমা হয়েছে ২৯ লাখ ৬৫ হাজার এবং অন্য হিসাব থেকে ক্লিয়ারিংয়ের মাধ্যমে দুই ধাপে এসেছে ১৯ লাখ টাকা।

আয়কর রিটার্নে অসংগতি
আয়কর রিটার্নে মোশাররফ হোসেন ভূরুলিয়া মৌজায় ৭৯ লাখ ৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের তিনটি জমির মালিকানা দেখিয়েছেন। এর মধ্যে ২৭৪৩ নম্বর দলিলে ২০১৯ সালে মোছা. আছমা আক্তার ও জামান মোল্লার কাছ থেকে কিনেছেন ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ জমি। যার মূল্য দেখানো হয় ৪০ লাখ ২৫ হাজার টাকা। আর ১৪৫৮০ নম্বর দলিলে ৩৮ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ টাকায় কিনেছেন ১৮ দশমিক ১৫ শতাংশ জমি। এর মধ্যে নিজ নামে ৯ দশমিক ৯০ শতাংশ কিনেছেন ২১ লাখ ১৮ হাজার ৪৩৬ টাকায়। আর নাবালক পুত্রের নামে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ জমি কিনেছেন ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৩৬৪ টাকায়। এই দুটি জমি কিনেছেন স্থানীয় অপূর্ব চন্দ্র পাল, অমল চন্দ্র পাল ও মাধবী পালের কাছ থেকে।

গাজীপুরের ভূরুলিয়া মৌজায় মোশাররফ হোসেনের আয়কর নথিতে উল্লেখ নেই এ রকম ৬২ দশমিক ৬৬ শতাংশ জমির সন্ধান মিলেছে। দুটি দলিলের বিপরীতে অন্য দুজনের সঙ্গে যৌথভাবে এই জমিও কিনেছেন অপূর্ব চন্দ্র পাল ও অমল চন্দ্র পালের কাছ থেকে। একই মৌজায় ২৬৬৬ নম্বর দলিল ও ৮১৪৪ নম্বর দলিলে কেনা উভয় জমির পরিমাণ ৩১ দশমিক ৩৩ শতাংশ করে। যৌথ মালিকানায় কেনা দুই ব্যক্তির বাড়ি মোশাররফের গ্রামের পার্শ্ববর্তী গাজীপুরের কাপাসিয়ার রাওনাট এলাকায়।

মোশাররফ হোসেনের বক্তব্য 
সমকালের কাছে মোশাররফ হোসেন দাবি করেন, তাঁর সমস্ত লেনদেনের পেছনে ব্যাংকিং রেকর্ড রয়েছে এবং কোনো অনুপার্জিত বা অবৈধ অর্থ তাঁর হিসাবে ঢোকেনি। সমস্ত অর্থই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া তাঁর গৃহনির্মাণ ও গাড়ি ঋণ, সঞ্চয়পত্র ভাঙানো টাকা এবং সহকর্মীদের কাছ থেকে নেওয়া ধারের সঙ্গে সম্পর্কিত।

জমি বিক্রেতা অমল চন্দ্র পালকে স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব থেকে ৪৮ লাখ টাকা স্থানান্তর বিষয়ে মোশাররফ হোসেন জানান, এই অর্থ মূলত বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া তাঁর গৃহনির্মাণ ঋণ এবং মেয়াদি সঞ্চয়পত্র ভাঙানোর টাকা থেকে এসেছে। সঞ্চয়পত্র মেয়াদপূর্তির পর জমি বায়নার টাকা পরিশোধের সুবিধার্থে তিন মাসের জন্য স্ত্রীর নামে একটি এফডিআর করা হয়েছিল, যার মেয়াদ শেষে জমি পেমেন্টে ব্যবহৃত হয়। এত অল্প মেয়াদের হওয়ায় এটি আয়কর রিটার্নে প্রদর্শিত হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

সমিতির হিসাব ছাড়াও নিজ ও স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে বিভিন্ন সময়ে সুনির্দিষ্টভাবে বড় অঙ্কের লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এগুলো সহকর্মীদের থেকে নেওয়া ঋণ। ক্যাশ ভাউচারে প্রচুর টাকা জমা ও উত্তোলনের কারণ হিসেবে তিনি জানান, এসব অর্থের বড় একটি অংশ সহকর্মীদের থেকে নেওয়া ধার। গত তিন-চার মাসে সহকর্মীদের থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা ধার নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সরকারি কর্মকর্তা হয়েও পেশা ‘মুদি দোকানদার’ উল্লেখ করে বিকাশ নাম্বার খোলার কারণ ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ২০১৯ সালে বিকাশ এজেন্টের কাছে গিয়ে বিকাশ হিসাব খোলার সময় এজেন্টই ভুলবশত পেশা হিসেবে তা উল্লেখ করেছে। এমন ভুল তথ্যের বিষয়টি জানা ছিল না বলেও দাবি তাঁর।

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরু ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তি সম্পন্নের লক্ষ্য

০

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। উভয় দেশ ২০২৭ সালের মধ্যে একটি আধুনিক, ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থসম্মত চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তিন দিনব্যাপী প্রথম দফার আলোচনা উদ্বোধন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার ৩১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের প্রধান ও দেশটির চিফ নেগোশিয়েটর ড. রশিদি সাইদ এবং বাংলাদেশের চিফ নেগোশিয়েটর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনসহ উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অধিবেশনে আলোচনার রূপরেখা ও কার্যপরিধি নির্ধারণে ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ (টিওআর) স্বাক্ষরিত হয়। প্রথম দফার এ আলোচনা চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব বলেন, ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব, অভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়েছে। দুই দেশের বিদ্যমান বাণিজ্য সম্পর্ক আশাব্যঞ্জক হলেও বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বহুমুখীকরণের বিপুল সম্ভাবনা এখনো কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।

তিনি জানান, গত জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি টেকসই ও পারস্পরিক স্বার্থরক্ষাকারী মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রথম দফার আনুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হলো।

বাণিজ্য সচিব আরও বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে এফটিএ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থল হিসেবে বাংলাদেশ মালয়েশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্ভাবনাময় বাজার। হালাল শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল বাণিজ্য, লজিস্টিকস এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এ সময় আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট ‘রিজিওনাল কম্প্রিহেন্সিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ’ (আরসিইপি)-এ বাংলাদেশের যোগদানের আকাঙ্ক্ষার প্রতি মালয়েশিয়ার সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

মালয়েশিয়ার চিফ নেগোশিয়েটর ড. রশিদি সাইদ বলেন, প্রস্তাবিত এফটিএ কেবল শুল্ক হ্রাসের চুক্তি নয়; বরং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি ও সুষম অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠার কৌশলগত উদ্যোগ। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চুক্তি কার্যকর হলে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।

তিনি পারস্পরিক সমঝোতা, নমনীয়তা ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে ২০২৭ সালের মধ্যে আলোচনা সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন বাংলাদেশ সফর এ প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশের চিফ নেগোশিয়েটর খাদিজা নাজনীন বলেন, এফটিএ কার্যকর হলে উভয় দেশের বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ হবে, বাণিজ্য বাধা কমবে এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বাণিজ্য কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, সহজ ও পূর্বানুমানযোগ্য হবে।

তিনি জানান, আলোচনায় পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, রুলস অব অরিজিন (পণ্যের উৎপত্তিবিধি) এবং শুল্ক প্রক্রিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পারস্পরিক স্বার্থ সংরক্ষণ করে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

উভয় দেশের প্রতিনিধিরা গঠনমূলক সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও নমনীয়তার ভিত্তিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে পৌঁছানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ যুবদলের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম থেকে কখনও পিছিয়ে যায়নি যুবদল: রিজভী

০

জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দলের সাবেক চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

অনুষ্ঠানে যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নেতারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘৮ বছর আগে এদেশের এক ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ক, মহান স্বাধীনতার ঘোষক এবং পরবর্তীতে বহুদলীয় গণতন্ত্র, বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা ও নাগরিক স্বাধীনতা নিশ্চিতকারী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার হাত ধরে জাতীয়তাবাদী যুবদল প্রতিষ্ঠিত হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী যুবদল বাংলাদেশের তরুণদের এক বৃহত্তম যুব সংগঠন। যে সংগঠনটি সংগ্রাম, সাহস, ঐক্য এবং দূরত্বের প্রতীক। এরা অনেকবার পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে, এদেরকে রিমান্ড দেওয়া হয়েছে, মাসের পর মাস কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে, এদের অনেকের যাবজ্জীবন জেলের সিদ্ধান্ত হয়েছে আদালতের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে।’

তারপরেও তারা তাদের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম থেকে পিছিয়ে যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রিজভী বলেন, ‘আজকে যে উৎপাদন, উন্নয়ন এবং জনগণের যে রাজনীতি তারেক রহমান শুরু করেছেন, সামাজিক নিরাপত্তার রাজনীতি শুরু করেছেন, বিভিন্ন সংস্কারমূলক যে পদক্ষেপ নিয়েছেন, সেই সমস্ত কর্মসূচিতেও যুবদল একটি অনবদ্য অবদান রাখবে।’

এ সময় যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ক্রসফায়ার নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন আইজিপি: জাহেদ উর রহমান ‘আলোচনার বিষয় হওয়া উচিত নয়’

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ক্রসফায়ার নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার ব্যাখ্যা তিনি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বক্তব্যটা নিয়ে তিনি একটা ক্লারিফিকেশন দিয়েছেন। উনার এই বক্তব্য যে মিসকমিউনিকেট করেছে, তাতে (ব্যাখ্যায়) কিন্তু এটা ক্লিয়ার হয়েছে।’

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমার মনে হয় আর খুব আলোচনার বিষয় হওয়া উচিত না, কারণ পুলিশ সদরদপ্তর এর পরবর্তীতে একটা স্টেটমেন্ট দিয়েছে। সেই স্টেটমেন্টে আসলে তিনি তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

এ সময় সাংবাদিকদের বিষয়ে আইজিপির আরেক মন্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘একই সাথে সাংবাদিকদের সম্পর্কেও যে বক্তব্যটা জেনারেলাইজ করা হয়েছে বলে মনে হয়েছে, সেটার ব্যাপারেও তার বক্তব্য আছে। সেজন্য আমার মনে হয় এটার পর আমাদের এই কনফিউশনটা কেটে যাওয়া উচিত।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইজিপির বিষয়ে সরকারের ফাইনাল অবস্থান কী হবে তা প্রধানমন্ত্রী বিবেচনা করবেন। তিনি বলেন, ‘তবে আবারও বলি, যখন কেউ তার অবস্থানে অটল থাকছেন না, তখন তার প্রতি একটু বেশি আনকাইন্ড হচ্ছি কি না?’

গতকাল সোমবার দুপুরে পুরান ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাউ করে, আমরা সেটাই করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে এক পক্ষ পুলিশকে ফ্যাসিস্ট বলে, আবার নিষ্ক্রিয় থাকলে দুর্বল বলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দিতে হবে।’

এ সময় সাংবাদিকদের সমালোচনা করে আইজিপি বলেন, ‘এই মাদক হচ্ছে, এইগুলার বিরুদ্ধে আপনারা মুভ করতেছেন না। সেখান থেকে গোপনে টাকা নিতেছেন। সাংবাদিক সাহেবরা ওখান থেকে যখন পয়সা না পাইতেছেন, তখন লিখতেছেন—দেশে  পুলিশ অকার্যকর হয়ে গেছে।’