Home Blog Page 660

মানুষের ভাতের ব্যবস্থা করেছি: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমরা মানুষের ভাতের ব্যবস্থা করেছি। আজ মঙ্গলবার কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হামিদ সেনানিবাস উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন সরকারপ্রধান। এ সময় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। এর আগে দুই যুগ পর কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিঠামইনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ১১টার দিকে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে মিঠামইনের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হামিদ সেনানিবাসে অবতরণ করেন তিনি। পরে তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হামিদ সেনানিবাস উদ্বোধন ও পতাকা উত্তোলন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।
আবদুল হামিদ সেনানিবাসটি ২৭৫ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে হাওড়ে উৎসমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সফরকালে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বাড়িতে অতিথি হয়ে যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উপজেলা সদরের কামালপুর গ্রামে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বাড়িতে দুপুরের খাবারের নিমন্ত্রণে যাবেন। প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে সেখানে অপেক্ষায় থাকবেন রাষ্ট্রপতি।

আলুর যত অজানা গুণ

ঢাকা ডেস্ক: আলু যে শুধু রসনাতৃপ্তি দেয়, তা কিন্তু নয়। শরীরের যত্ন নিতেও এই সবজির জুড়ি মেলা ভার। আলুতে রয়েছে ভরপুর পটাশিয়াম। কিন্তু সোডিয়ামের পরিমাণ অত্যন্ত কম। উচ্চ রক্তচাপ এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে সোডিয়াম। তাই হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে ভরসা রাখতে পারেন আলুর ওপরে। চিকিৎসকদের মতে, বেশ কিছু শাকসবজি ক্যানসার প্রতিরোধ করতে পারে। সেই তালিকায় অন্যতম হলো আলু। সেই জন্য ডায়াবিটিস বা এই ধরনের কোনো ক্রনিক সমস্যা না থাকলে, প্রতি দিনের খাদ্য তালিকায় আলু রাখার কথা বলে থাকেন পুষ্টিবিদরা।
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, হৃদরোগ থাকলে প্রতি দিনই খেতে পারেন আলু। পুষ্টিবিদদের মতে, আলুতে কোলেস্টেরল বা স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ একেবারে কম। নেই বললেই চলে। হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা বাড়াতে এই দু’টি উপাদানই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। তাই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে রোজ খেতেই পারেন আলু। এতে সুফল পাবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়াচ্ছে গ্যাসের চুলা

নিউইয়র্ক ডেস্ক : রান্নার কাজে সারা বিশ্বেই গ্যাসের ব্যবহার রয়েছে। তবে রান্নায় গ্যাসের ব্যবহার নিয়ে সমপ্রতি উত্তপ্ত বিতর্ক শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভক্তি তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাসের চুলার ব্যবহার বন্ধ নিয়ে চলমান বিতর্কের বিষয়ে গত ১৭ জানুয়ারি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য ইকোনমিস্ট। গত ৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সংস্থা কনজ্যুমার প্রোডাক্ট সেফটি কমিশনের (সিপিএসসি) অন্যতম কমিশনার রিচার্ড ট্রুমকা জুনিয়র জানান, তারা গ্যাস হাব নিষিদ্ধের বিষয়টি বিবেচনা করছেন। এটিকে ‘গোপন বিপদ’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি। কিন্তু তার এই মন্তব্যে ফুঁসে ওঠেন রক্ষণশীলরা। অনেকেই এর জন্য সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে দায়ী করেছেন। টেক্সাসের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান রনি জ্যাকসন টুইটারে ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, ‘হোয়াইট হাউসের উন্মাদরা যদি চুলা কেড়ে নিতে আসে, তারা আমার মৃতের মতো ঠাণ্ডা হাত থেকে সেটি ছিনিয়ে নিতে পারে। এসো, নিয়ে যাও!’ অ্যান্ড্রু নামে টেলিভিশনের এক তারকা শেফ ওই পরিকল্পনার প্রতিবাদে টেপ দিয়ে নিজেকে চুলার সঙ্গে বাঁধেন। এমনকি কিছু ডেমোক্র্যাটও ক্ষোভপ্রকাশ করেন। পশ্চিম ভার্জিনিয়ার সিনেটর জো মানচিন এই নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনাকে ‘বিপর্যয়ের রেসিপি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কিন্তু কেন গ্যাসের চুলা যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতির যুদ্ধের অংশ হয়ে গেল – এবং গ্যাসের চুলা আসলেই বন্ধ করা হবে কি না?
যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩৮ শতাংশ পরিবারে গ্যাসের চুলা রয়েছে। যদিও রাজ্যভেদে এর হার ভিন্ন হতে পারে। অনেকের মতে, এগুলো বৈদ্যুতিক চুলার তুলনায় সস্তা এবং বেশি কার্যকরী, এমনকি গ্যাসের চুলায় রান্না করা খাবারের স্বাদও নাকি বেশি ভালো। ১৯৩০-এর দশক থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে একটি বিজ্ঞাপনে ‘কুকিং উইথ গ্যাস’ (গ্যাস দিয়ে রান্না)। এটি মার্কিনিদের মনে পাকাপোক্ত আসন করে নিয়েছে। আমেরিকান গ্যাস অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি বাণিজ্যিক সংগঠন কুকিং উইথ গ্যাস ডট অর্গ ওয়েবসাইটে নিয়মিত রেসিপি প্রকাশ করে থাকে। স্পনসর করা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দেশটির ইনফ্লুয়েন্সাররাও তাদের গ্যাসের চুলা নিয়ে উচ্ছ¡াস প্রকাশ করেন। কিন্তু সমস্যা হলো, এসব চুলা নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইডসহ বিভিন্ন দূষণকারী পদার্থ নির্গত করে এবং হাঁপানিসহ স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত নানা ঝুঁকি তৈরি করে। ভেন্টিলেশন বা বায়ু চলাচলের উন্নত ব্যবস্থা থাকলে এসব বিপদের ঝুঁকি হয়তো কিছুটা কমানো সম্ভব। কিন্তু তাতেও অভ্যন্তরীণ দূষণ খুব একটা কমে না। জ্বলন্ত গ্যাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড ও মিথেনসহ নানা গ্রিনহাউস গ্যাসও নির্গত হয়।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ আইনে গ্রাহকদের গ্যাসের চুলার পরিবর্তে বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহারের জন্য প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। এতে ৮৪০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যায়। কিন্তু দেশটিতে যেহেতু ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎই গ্যাস ও কয়লা পোড়ানোর মাধ্যমে উত্পাদিত হয়, তাই গ্যাসের চুলার বিকল্পও পুরোপুরি সবুজ বা নিরাপদ থাকছে না। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর চেষ্টায় বেশ কিছু ডেমোক্র্যাট-শাসিত সিটি কাউন্সিল গ্যাসের ব্যবহার সীমিত করতে আইন পাস করেছে। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম শহর হিসেবে নতুন ভবনগুলোতে হিটিং ও রান্নার কাজে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার নিষিদ্ধ করে বার্কলে। সে সময় ক্যালিফোর্নিয়ার রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশন নগর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করার চেষ্টা করেছিল (পরে এক বিচারক মামলাটি খারিজ করে দেন)।
চলতি বছর নিউইয়র্ক সিটিতে কিছু নতুন ভবনে গ্যাসের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হবে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের জন্য প্রস্তাবিত অনুরূপ পরিকল্পনাটি গত বছর আইনসভায় পাস হতে ব্যর্থ হয়েছিল। ২০২১ সাল থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ২০টির বেশি রাজ্য স্থানীয় নিষেধাজ্ঞাগুলো আটকানোর জন্য আইন চালু করেছে। এসব রাজ্যের মধ্যে বেশিরভাগই রিপাবলিকান-শাসিত এবং কিছু রাজ্য গ্যাস উত্পাদকও। আপাতত মার্কিনিদের রান্নার অভ্যাসে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ অবশ্যম্ভাবী নয়। গত ১১ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন, এই মুহূর্তে বাইডেন প্রশাসনের গ্যাসের চুলা নিষিদ্ধের কোনো পরিকল্পনা নেই। স্বাধীন সংস্থা সিপিএসসি-ও ‘কারো গ্যাসের চুলা কেড়ে নিতে আসছে না’ বলে টুইটারে জানিয়েছেন কমিশনার ট্রুমকা।
এরপরও জাতীয়ভাবে যদি কখনো কোনো নিষেধাজ্ঞা আসে, সেটি হতে পারে বড়জোর নতুন কুকারের ওপর, পুরোনো গ্যাসের চুলায় নয়। সিপিএসসি’র বর্তমান অগ্রাধিকার হলো নতুন পণ্যের মান উন্নত করা। এটি গ্যাসের চুলা ‘রক্ষাকারীদের’ কিছুটা হলেও স্বস্তি দেওয়া উচিত।

‘সাংবাদিকরা আছেন বলেই নির্যাতিত ব্যক্তিরা বিচার পাচ্ছেন

ঢাকা ডেস্ক: লক্ষিপুরের পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ্জামান আশরাফ বলেছেন, সাংবাদিকরা আছেন বলেই নির্যাতিত-অসহায় মানুষ বিচার ও সেবা পাচ্ছেন। আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে নির্ভীক ও স্বাধীন সাংবাদিকতার বিকল্প নেই।
বুধবার দুপুরে লক্ষিপুরের প্রেস ক্লাবে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পুলিশ সুপার বলেন, আপনারা যে খবর প্রকাশ ও প্রচার করেন, সে খবর এখন দেখার ও শোনার বিষয় নয়। প্রকৃতপক্ষে আপনাদের পরিবেশন করা খবরই দেশের ১৮ কোটি মানুষের আস্থা অর্জন করছে বলে আমি মনে করছি।
লক্ষিপুরের প্রেস ক্লাবের সভাপতি হোসাইন আহম্মদ হেলালের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম পাবেলের সঞ্চালনায় এসময় স্থানীয় সংবাদকর্মীরাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

একেন বাবু’র স্রষ্টা সুজনের মরদেহ উদ্ধার

ঢাকা ডেস্ক: কলকাতার একটি ফ্ল্যাট থেকে ‘একেন বাবু’ সিরিজের লেখক সুজন দাশগুপ্তের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সার্ভে পার্কের বাড়িতে গিয়েছিলেন তাঁর গৃহপরিচারিকা সুনিতা দাস। অনেকবার ধাক্কা দিয়েও দরজা না খোলায় তিনি বাড়ির নিরাপত্তারক্ষীদের খবর দেন। তাঁরাও দরজা ভাঙতে না পেরে পুলিশকে খবর দেন। তবে পুলিশ আসার আগেই প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে বাড়ির নিরাপত্তারক্ষীরা দরজা ভেঙে সুজনের মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।
পুলিশকে উদ্ধৃত করে কলকাতার সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সুজনের স্ত্রী শান্তিনিকেতন ঘুরতে গিয়েছিলেন, তাঁর মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। বাসায় লেখক একাই ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে লেখকের মৃত্যুর ঘটনা তাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়নি। তাদের ধারণা, বাথরুমে যাওয়ার সময় পড়ে গিয়ে সুজনের মৃত্যু হয়েছে।
২ জানুয়ারি সর্বশেষ ফেসবুকে ছবি পোস্ট করেছিলেন সুজন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে নাতি-নাতনিরা যে কলকাতায় আসছে, সে খবর দিয়ে।
সুজন দাশগুপ্ত নিজেও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ছিলেন। ৫০ বছর নিউ জার্সির মন্টিভিলে ছিলেন। কিছুদিন আগেই কলকাতায় ফিরেছিলেন।
২০১৮ সালে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম হইচইতে প্রথম সিজন প্রচারের পর ‘একেন বাবু’ ব্যাপক জনপ্রিয় হয়। পরে সিরিজটির ৬টি সিজনে ৩৯টি পর্ব প্রচার হয়। পরে গত বছর মুক্তি পায় ‘একেন বাবু’কে নিয়ে সিনেমাও। সিরিজ ও সিনেমায় একেন বাবুর চরিত্রে অভিনয় করেন অনির্বাণ চক্রবর্তী।

পক্ষে থাকলে সাধু, বিপক্ষে গেলে শয়তান

বাংলাদেশকে এ অঞ্চলের বাইরে অনেকেই চেনে না। তারপরও অনেকেই বাংলাদেশ নিয়ে ভাবেন, মাথা ঘামান যাঁরা এ দেশের মানুষের ভালো চান বা এ অঞ্চলে যাঁদের কূটনৈতিক স্বার্থ আছে। গত ৫২ বছরে এই প্রবণতা পাল্টায়নি।
বিদেশিরা সাধারণত দুটো বিষয় আমলে নেন। এ দেশে কোনো কারণে কোনো অস্থিরতা তৈরি হলে কিংবা দুর্যোগ দেখা দিলে তাঁরা সহমর্মিতা দেখান, সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন। এটা আমরা দেখেছি ১৯৭০ সাল থেকে নানান দুর্বিপাকে, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার সময়।
আবার রাজনৈতিক দুর্যোগে তাঁদেরকে দেখি মুখ খুলতে। প্রশ্ন হলো, বিদেশিদের এই ভূমিকাকে আমরা কীভাবে দেখব? এটা ভালো না মন্দ? এটা কি সহানুভূতি, না হস্তক্ষেপ? এটা নির্ভর করে আমরা টেবিলের কোন পাশে বসে দেখছি। আমরা কি তাদের এহেন ভূমিকার সুবিধা নিচ্ছি, নাকি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি? সুবিধাভোগীর কাছে তাদের ‘হস্তক্ষেপ’ ইতিবাচক, ভিকটিম বা ক্ষতিগ্রস্তের কাছে তা নেতিবাচক বা অনভিপ্রেত।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে আমরা ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা পেয়েছি। এমনও বলা হয়, তারা সাহায্য না করলে বাংলাদেশ ওই সময় স্বাধীন হতো না। আমরা আমাদের সহযোগীদের মিত্র মনে করি। কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি তাদের। একাত্তরে পাকিস্তান পরাজিত হয়েছে। তারা নিজেদের মনে করে ভিকটিম। তারা বলে, ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের হস্তক্ষেপ ও ষড়যন্ত্রের ফলে পাকিস্তান ভেঙে গেছে। কোনটা সত্য? এটা নির্ভর করে আপনি কোন পক্ষের চোখ দিয়ে দেখছেন।
জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশ রাজনৈতিক অস্থিরতায় ভুগছে। শান্তিপূর্ণভাবে ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার হাতবদল হয় না। ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সাধারণ নির্বাচন হয়েছিল। বেশ কিছু জায়গায় কারচুপি ও কারসাজি করে আওয়ামী লীগ একচেটিয়া জয় পায়। স্বাভাবিকভাবেই পরবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ১৯৭৮ সালে। ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর পর নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এর ফল হয়েছিল ভয়াবহ।
এরপর দেশে চালু হয় দ্বিদলীয় রাজনীতি। রাজনীতির মেরুকরণ এমন হয় যে তাদের মধ্যে সমঝোতার সব পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। তখন থেকেই চলে আসছে রাজনৈতিক সংকট। নব্বইয়ের দশকজুড়ে বিদেশ থেকে রেফারি এনে দুই পক্ষের মধ্যে আপসের নানান চেষ্টা হয়েছে। জাতিসংঘও উদ্যোগ নিয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যকার দূরত্ব দূর হয়নি।
বছরখানেক পর নির্বাচন হবে। দলীয় রাজনীতির ধর্মই হলো ক্ষমতায় যাওয়া। ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান পরিষ্কার বলেছিলেন, তাঁর দল আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম বা রামকৃষ্ণ মিশন নয়। তিনি ক্ষমতায় যেতে চান। ক্ষমতায় গিয়ে মানুষের সেবা করতে চান। এখন অনেককে তাদের প্রতিপক্ষ সম্পর্কে বলতে শুনি আরে, ওরা তো মানুষের কথা ভাবে না, ক্ষমতার রাজনীতি করে! এটা বলে এ জন্য যে তারা শুধু ক্ষমতাটাই দেখে ও উপভোগ করে, আর নিজেদের সেবা করে বেড়ায়।
আশির দশকে এইচ এম এরশাদের শাসনের বিরুদ্ধে দুই পক্ষ এককাট্টা হয়েছিল। দুই পক্ষই অন্তর্র্বতী নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করেছিল। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত আমরা এভাবে চারটি নির্বাচন হতে দেখেছি। প্রতিবার দেখা গেছে, ভোটাররা ক্ষমতাসীনদের হটিয়ে বিরোধী দলকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। ক্ষমতাসীন দল নানাভাবে অন্তর্র্বতী সরকারব্যবস্থাকে বিকৃত ও প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে আজীবন ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছে। কিন্তু নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়ায় ভোটাররা তাদের শক্তি দেখাতে পেরেছে। ২০০৮ সালের পর এই শক্তি কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
১৯৯৬ সালের নির্বাচনের ফলাফল বিএনপি মেনে নিতে চায়নি। ঢাকার হোটেল সোনারগাঁয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসন বিদেশি পর্যবেক্ষকদের নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে বলেছিলেন এঁরা কী জানেন। আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব বিদেশিদের পর্যবেক্ষণকে স্বাগত জানিয়েছিল। ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ হেরে যায়। আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রকাশ্যে বলেছেন, ভারতকে গ্যাস দিতে রাজি না হওয়ায় তাদেরকে জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এক-এগারোর সময় বিদেশিদের দৌড়ঝাঁপ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিএনপি এতে খুব নাখোশ ছিল। কারণ, তাদের সাজানো বাগান তছনছ হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব এক-এগারোর সরকারকে তাদের আন্দোলনের ফসল বলে দায়মুক্তি দিয়েছিল। এ সবই নিকট অতীতের কথা, আমাদের সবার জানা। একটা বিষয় খুব পরিষ্কার। বিদেশিদের কথা আমার পক্ষে গেলে জায়েজ, বিপক্ষে গেলে নাজায়েজ।
বিদেশিদের কোনো জরিপে বা সংবাদমাধ্যমে যখন আমাদের প্রশংসা করা হয়, আমরা আহ্লাদে আটখানা হই। তখন এসব খবর খুব জোরেশোরে প্রচার করা হয়। একই সূত্র থেকে যদি বলে এখানে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, তখন আমাদের গার্জেনরা বলেন, ‘আমরা এই রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করি।’ মুহূর্তেই বিদেশি ফেরেশতারা শয়তান হয়ে যায়।
ফুটবল খেলায় রেফারির দরকার হয়। তিনি দরকারমতো সিদ্ধান্ত বা শাস্তি দেন। তারপরও হেরে যাওয়া দল রেফারির খুঁত ধরে। সেখানে প্রতিকারের একটা সুযোগ থাকে, আপিল করা যায়। ফিফা হচ্ছে শেষ ভরসা।
আমাদের রাজনৈতিক খেলায় রেফারি হচ্ছে নির্বাচন কমিশন। আমরা দেখেছি, অন্তর্র্বতী সরকারের অধীনে কমিশন যেভাবে কাজ করে, দলীয় সরকারের অধীনে সে রকম পারে না বা করতে দেওয়া হয় না। মনে আছে, ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের ভরাডুবি হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমিন শান্তিপূর্ণভাবে জয়ীদের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে একটা দৃষ্টান্ত তৈরি করেছিলেন। সেটাই প্রথম, সেটাই শেষ। তখন বিদেশি পর্যবেক্ষকের দরকার হয়নি।
এখন পশ্চাৎপদ অনেক দেশেই নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বিদেশি পর্যবেক্ষক আনা হয়। আমি নিজে নেপালের তিনিটি সাধারণ নির্বাচনে পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করার সময় অনেক কিছু দেখেছি ও শিখেছি। রাজতন্ত্র উৎখাতের পর সেখানে যতবার ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে, প্রতিবারই হয়েছে শান্তিপূর্ণভাবে। আমাদের নির্বাচন কমিশনের কর্তারা অন্য দেশে নির্বাচন দেখতে যান। নেপালেও যান। তাঁরা কী দেখেন কী শেখেন, তাঁরাই ভালো বলতে পারবেন।
ঘরের ঝগড়া নিজেরা মেটাতে না পারলে কোনো প্রতিবেশী বা মুরব্বির পরামর্শ নেওয়ার চল আছে আমাদের সমাজে। এই সালিস প্রথা টিকে আছে যুগ যুগ ধরে। এরপরও অনেক গোঁয়ার-গোবিন্দ জেদ ধরেÑসালিস মানি, কিন্তু তালগাছটা আমার। বিদেশিরা ১৯৯৬ থেকে অনেকবার এ দেশে এসেছে সালিস করতে। কিন্তু আমরা মানিনি। শেষমেশ আমরা সমাধান খুঁজে পেয়েছিলাম তত্ত¡াবধায়ক সরকারব্যবস্থায়। এই ব্যবস্থায় কোনো দল পরপর দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। এটাই ছিল এই ব্যবস্থার ইতিবাচক দিক। ওই দিন ভোটাররাই রাজা। তাঁরা গণেশ উল্টে দেন।
দীর্ঘ মেয়াদে কর্তৃত্ববাদী সরকারব্যবস্থার থেকে মুক্ত হতে ফিলিপাইন ও কোরিয়া প্রজাতন্ত্র সংবিধানে একটি ধারা ঢুকিয়েছে কেউ এক মেয়াদের বেশি সরকারপ্রধান থাকতে পারবেন না। আমি ক্ষমতায় না থাকলে দেশের সর্বনাশ হবে, জনগণ এতিম হয়ে পড়বে, আমি ছাড়া দেশকে কেউ ভালোবাসে না ওই দেশের রাজনীতিবিদেরা এখন আর এটা মনে করেন না।
বছরখানেক পর নির্বাচন হবে। দলীয় রাজনীতির ধর্মই হলো ক্ষমতায় যাওয়া। ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান পরিষ্কার বলেছিলেন, তাঁর দল আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম বা রামকৃষ্ণ মিশন নয়। তিনি ক্ষমতায় যেতে চান। ক্ষমতায় গিয়ে মানুষের সেবা করতে চান। এখন অনেককে তাদের প্রতিপক্ষ সম্পর্কে বলতে শুনি আরে, ওরা তো মানুষের কথা ভাবে না, ক্ষমতার রাজনীতি করে! এটা বলে এ জন্য যে তারা শুধু ক্ষমতাটাই দেখে ও উপভোগ করে, আর নিজেদের সেবা করে বেড়ায়।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। বিদেশিরা বেশ নড়াচড়া করছেন। তাঁরা বলেছেন, উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে তাঁরা দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চান। কথা হলো, এটা বিদেশিদের বলতে হয় কেন? আমরা কি পারি না একটা ভালো নির্বাচন করতে, যেমনটি করছে নেপাল?
বিদেশিদের কথা কানে মধুবর্ষণ করে যখন তা পক্ষে যায়, আর বিষ ঢেলে দেয়, যখন তা বিপক্ষে যায়। এ হলো ‘বিদেশি হস্তক্ষেপের’ শানে নজুল। তবে যত দিন গড়াবে, এই প্রবণতা আরও বাড়বে।


মহিউদ্দিন আহমদ, লেখক ও গবেষক

ক্যাটরিনা সত্যিই কি গর্ভবতী?

ঢাকা ডেস্ক : বলিউড বাজার মন্দা সময় পার করলেও তারকারা নিজেদের প্রেম-বিয়ে, সন্তান নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন। এবার সেই তালিকায় নিজের নামটি যুক্ত করতে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন বিয়ে নিয়ে শিরোনাম হওয়া ক্যাটরিনা কাইফ ও ভিকি কৌশল দম্পতি। তবে এবার বিয়ে নয়, মা হওয়ার খবরের শিরোনামে নাম এলো ক্যাটরিনার।
বেশ কিছু দিন ধরেই গুঞ্জন রয়েছে প্রথম সন্তানের অপেক্ষায় আছেন এই অভিনেত্রী। এবার ক্যাটরিনার নতুন কিছু ছবি প্রকাশের পর থেকে নতুন করে সেই গুঞ্জন ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠল!
সম্প্রতি লোহরি উৎসব উদযাপন করে ফেরার সময় বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের ক্যামেরায় ধরা পড়েন ক্যাটরিনা। এ সময় তার পরিহিত ঢিলেঢালা হলুদ কুর্তা এবং ম্যাচিং পায়জামা বরাবরের মতোই নজর কেড়েছেন। তবে আলোচনাটা ক্যাটরিনার পোশাককে ঘিরেই। নিজের স্বভাবসুলভ পোশাক থেকে বিরত রয়েছেন অভিনেত্রী। নিয়মিত পরছেন ঢিলেঢালা-আরামদায়ক পোশাক। আর এ ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই ভক্ত-অনুরাগীদের লাইক-কমেন্টে ভরে গেছে কমেন্ট বক্স।
কেউ মন্তব্য করেছেন ‘ক্যাটরিনাকে অন্তঃসত্তা বলে মনে হচ্ছে।’ অপর একজন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে লিখেছেন ‘ক্যাটরিনা সত্যিই গর্ভবতী?’ কারও কারও মতে, ‘নিজের গর্ভাবস্থা আড়াল রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন অভিনেত্রী।’
উল্লেখ্য, কিছু দিন ধরেই ক্যাটরিনাকে ঢিলেঢালা পোশাকে দেখা যাচ্ছে। তার স্বাভাবিক চেহারা ও সাজসজ্জা থেকে আলাদা দেখা যাচ্ছে অভিনেত্রীকে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো মুখ খোলেননি ভিকি-ক্যাটরিনা। এমনকি এই গুঞ্জনকে অস্বীকার করেও কোনো বক্তব্য দেননি। তাদের নীরবতায় তাই গুঞ্জনকে সত্য বলেই মেনে নিচ্ছেন অনেকে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর ঢাকা সফর নিয়ে সরকার মিথ্যাচার করেছে’: মির্জা ফখরুল

ঢাকা ডেস্ক : ‘মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর ঢাকা সফর নিয়ে সরকার মিথ্যাচার করেছে’ এমন অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, র‌্যাবের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য নিয়ে মিথ্যাচার করেছে সরকার, যা মার্কিন দূতাবাসের বিবৃতিতে প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আমরা আনন্দিত নই, এটি আমাদের জন্য লজ্জার। নিষেধাজ্ঞা আসা উচিত সরকারের বিরুদ্ধে। জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
বুধবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার রাতে দলটির স্থায়ী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত জানাতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কর্মসূচির সময় আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘোষণা করার তীব্র সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল।
বিএনপির কর্মসূচির দিনে আওয়ামী লীগকে কর্মসূচি না দেওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, একই দিনে কর্মসূচি দিলে কোনো পরিস্থিতির তৈরি হলে এর দায় আওয়ামী লীগকে নিতে হবে।
বিরোধী দলকে দমন করতে ইসরাইল থেকে নজরদারির প্রযুক্তি কেনা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, মুঠোফোন ও ইন্টারনেট যোগাযোগের ওপর নজরদারি করার জন্য ইসরাইলি এক কোম্পানির কাছ থেকে প্রযুক্তি ক্রয় করা হয়েছে বলে দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে, যেটি গভীর উদ্বেগের। একই সঙ্গে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর টেলিফোনে আড়িপাতার বিষয়ে আইন প্রণয়নের ঘোষণায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, অনির্বাচিত সরকার তাদের অবৈধ উপায়ে দখল করা ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার লক্ষ্যে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নজরদারিতে রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ক্রয় ও আড়িপাতার আইন প্রণয়ন করতে চলেছে। এ ভয়াবহ নিবর্তনমূলক আইন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অগণতান্ত্রিক আচরণ জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। অবিলম্বে এসব প্রযুক্তি ক্রয় করা ও আইনপ্রণয়নের অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকার জন্য আহবান জানান তিনি।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ হচ্ছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, স্থায়ী কমিটির সভায় গত চার বছরে এক হাজার ২০৯টি মামলা হওয়াতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সভা মনে করে এই চরম নির্বতনমূলক আইনের মাধ্যমে ভিন্নমত পোষণকারী ব্যক্তি, সংবাদকর্মী, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও আটকের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকারের ওপর চরম আঘাত করা হচ্ছে ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। নিরপরাধ ব্যক্তিদের ওপর এই আইনের অপপ্রয়োগের ফলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে। অবিলম্বে এই আইনের আওতায় বন্দি ব্যক্তিদের মুক্তি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানান।
বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, সম্প্রতি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্ব, দলের গঠনতন্ত্র ও কর্মসূচি নিয়ে যে এখতিয়ারবহির্ভূত, শিষ্টাচার বিবর্জিত অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য করেছেন তার তীব্র নিন্দা জানাই ।

শক্তিশালী ভূমিকম্প এর কবলে ইন্দোনেশিয়া

ঢাকা ডেস্ক : ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় মালুকু দ্বীপের কাছে বুধবার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭.০। এর ফলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্তিক জরিপ সংস্থা এ কথা জানিয়েছে। খবর এএফপি’র।
খবরে বলা হয়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় হলমাহারা দ্বীপের ১৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ভূপৃষ্ঠের ৪৮ কিলোমিটার গভীরে।
ভূমিকম্পের পর হাওয়াইয়ে অবস্থিত এনডবিøউএস প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার তাদের সতর্ক বার্তায় বলেছে, ‘ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের ৩শ’ কিলোমিটারের মধ্যে উপকূলীয় অঞ্চলে বিপজ্জনক সুনামির সম্ভাবনা রয়েছে।’
স্থানীয় সময় বেলা ১টা ৬মিনিটের দিকে ভূমিকম্প আঘাত হানে। ইউএসজিএস প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৭.২ বলে উল্লেখ করলেও পরবর্তীতে তা সংশোধন করে ৭.০ বলে জানায়।
এদিকে ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া ও ভূতাত্তি¡ক সংস্থা ভূমিকম্প পরবর্তী সম্ভাব্য ভূমিকম্পের ব্যাপারে সতর্কতা জারি করেছে।
ইন্দোনেশিয়ার ভৌগলিক অবস্থান প্যাসিফিক ‘রিং অব ফায়ারে’ হওয়ায় দেশটিতে প্রায় ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে থাকে।

সরকারি চাকরিতে সাড়ে তিন লাখের বেশি পদ খালি: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা ডেস্ক : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও অফিসে বেসামরিক জনবলের ৩ লাখ ৫৮ হাজার ১২৫টি পদ শূন্য রয়েছে।
বুধবার সংসদে প্রশ্নোত্তরে এ তথ্য জানান তিনি। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে চলমান অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।
কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ এমপির প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সর্বশেষ প্রকাশিত স্ট্যাটিসটিকস অব সিভিল অফিসার্স অ্যান্ড স্টাফস-২০২১ এর (২০২২ সালের জুনে প্রকাশিত) তথ্য অনুযায়ী- সরকারের অধীনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর/পরিদপ্তর ও সরকারি কার্যলয় সমূহে বেসামরিক জনবলের মোট শূন্য পদ ৩ লাখ ৫৮ হাজার ১২৫টি।
এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির ৪৩ হাজার ৩৩৬টি, দ্বিতীয় শ্রেণির ৪০ হাজার ৫৬১, তৃতীয় শ্রেণির ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৪৮ এবং চতুর্থ শ্রেণি পদে শূন্য পদ ১ লাখ ২২ হাজার ৬৮০টি।
তিনি আরও জানান, সরকারি অফিসগুলোর শূন্য পদের নিয়োগ চলমান প্রক্রিয়া।
জাতীয় পার্টির এমপি মুজিবুল হক চুন্নুর প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, ৪০তম বিসিএসের নন-ক্যাডার পদে ৫ হাজার ৪৩৬টি শূন্য পদের চাহিদাপত্র পাওয়া গেছে। এগুলো যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত সুপারিশযোগ্য শূন্য পদের সংখ্যা জানানো সম্ভব হবে।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি শামসুন নাহারের প্রশ্নের জবাবে ফরহাদ হোসেন বলেন, স্ট্যাটিসটিকস অব সিভিল অফিসার্স অ্যান্ড স্টাফস-২০২১ প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা ১৫ লাখ ৫৪ হাজার ৯২৭ জন। এর মধ্যে নারী ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৯১ জন, যা মোট চাকরিজীবীর প্রায় ২৬ শতাংশ। ২০১০ সালে এ হার ছিল ২১ শতাংশ।
তিনি আরও জানান, প্রথম শ্রেণির পদে নারীদের জন্য আলাদা কোটা না থাকলেও ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডে নিয়োগে নারীদের জন্য ১৫ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করা আছে।