Home Blog Page 7

সাজেক নিয়ে সঠিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পদক্ষেপ চান শফিকুর রহমান

০

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেককে কেন্দ্র করে কী ঘটছে, তা খতিয়ে দেখে সঠিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।

পোস্টে শফিকুর রহমান লেখেন, ‘রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে? ভুয়া গোয়েন্দা তথ্যের পেছনে না দৌড়িয়ে সঠিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।’

তিনি আরও লেখেন, ‘সাধারণ নাগরিকদের জীবন নিয়ে তামাশা করার অধিকার কারও নেই। সময় থাকতে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।’

এর আগে আজ সকাল ১১টার দিকে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সশস্ত্র সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে ৩০ থেকে ৪০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়। এ সময় সেনাবাহিনীর টহল দল পাল্টা গুলি ছুড়লে সশস্ত্র ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে আইএসপিআর জানিয়েছে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাত নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র প্রস্তুত চব্বিশে মানবতাবিরোধী অপরাধ

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ সাত প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। শিগগির আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ অভিযোগপত্র জমা দেবে রাষ্ট্রপক্ষ।

অভিযোগপত্রে থাকা আসামিরা হলেন– আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সাবেক মন্ত্রী ও ১৪ দলীয় জোটের সাবেক সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু, সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান, সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, আবদুর রাজ্জাক, দীপু মনি এবং দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।
তাদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’র অভিযোগ আনা হয়েছে।

তাদের মধ্যে আমির হোসেন আমু, শাজাহান খান, কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান, মির্জা আজমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় এই প্রথম কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা থেকে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশন কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম জানিয়েছেন, এ মামলার সাত আসামির প্রত্যেকেই তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। তারা দল হিসেবে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।

প্রসিকিউটর তামীম আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় থেকে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্টে এক হাজার ৪০০ ছাত্র-জনতাকে হত্যার তথ্য উঠে এসেছে। এ কারণে প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটির অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ মামলার অন্যতম আসামি সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলন চলাকালে মাদারীপুরে সংঘটিত হত্যা এবং সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটিসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্য ছয় আসামির বিরুদ্ধে সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি এবং জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর উত্তরা ও মিরপুরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে।

আল-জাজিরার বিশ্লেষণ ইরানে হামলা চালানো সহজ, সরকার উৎখাত কঠিন কেন

ইরানের সরকার উৎখাতকে ইসরায়েলের প্রধান লক্ষ্য বলে ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে সামরিক শক্তিতে ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করার সক্ষমতা থাকলেও দেশটির সরকার উৎখাত করা ইসরায়েলের জন্য কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে আল-জাজিরা। এতে বলা হয়েছে, ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিশ্চিত নয়। আর শুধু বিমান হামলা চালিয়ে ইরানের সরকার পরিবর্তন করা সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে জনমত জরিপে সমর্থন কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহু ইরানের সরকার উৎখাতের লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেছেন। রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার আলোচনা এবং পেন্টাগনপ্রধান পিট হেগসেথের ইসরায়েল সফরের পর তিনি এ বক্তব্য দেন। তবে ইরানের নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করতে নতুন অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেবে কিনা, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

বিমান হামলায় কতটা সম্ভব
যুক্তরাজ্যের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (রুসি) গবেষক আরবান কনিংহাম আল-জাজিরাকে বলেন, ইসরায়েলের আকাশপথে হামলা চালানোর সক্ষমতা রয়েছে। দেশটির অস্ত্রের মজুত ও আকাশে উড়ন্ত বিমানে জ্বালানি সরবরাহের সক্ষমতা ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় সুবিধা দেবে।

তবে সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা আর একটি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা এক বিষয় নয়। বিশ্লেষকদের মতে, বিমান হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা গেলেও দেশটির পাল্টা হামলার সামর্থ্য পুরোপুরি ধ্বংস করা কঠিন। বিশেষ করে ভূগর্ভে বা সুরক্ষিত স্থানে রাখা অস্ত্র ও সামরিক ব্যবস্থা টিকে যেতে পারে।

আবদুল্লাহ গুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক জাগলার কুর্চ বলেন, ইরানের সরকার উৎখাত করতে হলে স্থলবাহিনী মোতায়েন এবং দীর্ঘ সময় দেশটিতে অবস্থান করার মতো প্রস্তুতি প্রয়োজন। শুধু বিমান হামলা দিয়ে এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।

নেতানিয়াহুও গত মার্চে স্বীকার করেছিলেন, শুধু আকাশপথে হামলা চালিয়ে ইরানের সরকার উৎখাত করা সম্ভব নয়। তবে স্থল অভিযান কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

ইরানেরও পাল্টা হামলার সক্ষমতা রয়েছে
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের নতুন অভিযানের জবাব দেওয়ার মতো সক্ষমতা এখনো ইরানের রয়েছে। দেশটির ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্য পরিমাণে থাকতে পারে। আকাশপথে হামলায় ক্ষয়ক্ষতি হলেও ইরানের কিছু অস্ত্রব্যবস্থা কার্যকর থাকবে বলে ধারণা তাদের।

রুসির জ্যেষ্ঠ গবেষক সিদ্ধার্থ কৌশল বলেন, ইরানের জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও উল্লেখযোগ্য হতে পারে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি বিমান হামলা থেকে সামরিক সরঞ্জাম সুরক্ষায় সুবিধা দিতে পারে।

অন্যদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে গিয়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়তে পারে। তুলনামূলক কম দামের ড্রোন ধ্বংস করতে অনেক বেশি ব্যয়বহুল প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হয়। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে এতে ইসরায়েলের অস্ত্রের মজুত ও অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র কি আবার যুদ্ধে জড়াবে
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানে নতুন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা অনিশ্চিত। দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় নতুন করে যুদ্ধ বাড়ানোর রাজনৈতিক ঝুঁকি রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনের বরাতে আল-জাজিরা জানিয়েছে, ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে ইসরায়েলের একটি প্রস্তাবে ট্রাম্পের সম্মতি পাওয়া যায়নি। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভবিষ্যতে সব ধরনের সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়া ইসরায়েলের পক্ষে গভীরে অবস্থিত সুরক্ষিত স্থাপনায় হামলা চালানোও কঠিন হবে বলে মনে করেন কনিংহাম। ইরানের ফোরদো ও নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ বোমারু বিমান থেকে ব্যবহার করা হয়েছিল ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের জিবিইউ-৫৭ বাংকারবিধ্বংসী বোমা। এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা ইসরায়েলের নেই।

সরকার পরিবর্তনের পথে বড় বাধা
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে সরকার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হলো সামরিক অভিযান ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে ব্যবধান। হামলা চালিয়ে সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা সম্ভব হলেও তা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকার পতন ঘটে না।

কুর্চের মতে, কোনো সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে হলে বিদেশি বাহিনীকে স্থলভাগে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে হতে পারে। ইরানের মতো বড় দেশে এমন অভিযান চালানো এবং দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন। যুক্তরাষ্ট্রও কয়েক দশক ধরে চলতে পারে- এমন আরেকটি সরকার পরিবর্তনের যুদ্ধে জড়াতে চাইবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

আল-জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ইরানের সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের আঘাত হানতে পারলেও দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বকে উৎখাত করার সুস্পষ্ট কৌশল এখনো দৃশ্যমান নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অনিশ্চিত থাকা এবং ইরানের পাল্টা হামলার সক্ষমতা বজায় থাকায় নেতানিয়াহুর ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন কঠিন হতে পারে।

উৎসব শেষে ওজন বেড়েছে? মেদ ঝরাতে খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব চা

পূজায় লুচি, মিষ্টি, বিরিয়ানি, আইসক্রিম, ভাজাভুজি মিলিয়ে অনেক ধরনের খাবারদাবার খাওয়া হয়েছে। যেকোন উৎসবে এরকম খাওয়া দাওয়া খাওয়া খুব অস্বাভাবিকও নয়। কিন্তু এসব খাদ্যাভ্যাসের কারণে অনেকের ওজনও বেড়ে যায়। উৎসব শেষে নিজেকে ফিরে পেতে আবারও রুটিনে ফেরাটা জরুরি। রোজ সকালে খালি পেটে এক কাপ চা বিশেষ করে ভেষজ চা খেলে তা মেদ ঝরাতে এবং বিপাকহার বৃদ্ধিতে দারুণ সাহায্য করতে পারে।

মেদ ঝরাতে যেসব চা খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন–

আদা, লেবু ও মধুর চা

উপকরণ: ১ ইঞ্চি আদা কুচি, ১ চামচ লেবুর রস, ১ চামচ মধু এবং ১ কাপ পানি

তৈরি পদ্ধতি: ফুটন্ত পানিতে আদা কুচি দিয়ে ৫ মিনিট ফুটিয়ে ছেঁকে নিন। পানি কিছুটা ঠান্ডা হলে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে পান করুন।
আদা হজমশক্তি বাড়ায় এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান বাইরে বার করে মেদ ঝরাতে সাহায্য করে।

দারুচিনি ও জিরার চা

উপকরণ: অর্ধেক চামচ জিরা, ছোট ১ টুকরো দারুচিনি এবং ১ কাপ পানি

তৈরি পদ্ধতি: রাতে ১ গ্লাস পানিতে জিরা ও দারুচিনি ভিজিয়ে রাখুন। সকালে সেই পানি ৫ মিনিট ফুটিয়ে হালকা গরম অবস্থায় ছেঁকে পান করুন।

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে দারচিনি ও জিরা দ্রুত চর্বি গলাতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

গ্রিন টি ও পুদিনা চা
উপকরণ: ১টি গ্রিন টি ব্যাগ, ৪-৫টি টাটকা পুদিনা পাতা এবং ১ কাপ পানি।

তৈরি পদ্ধতি: পানি ফুটিয়ে তাতে পুদিনা পাতা ও গ্রিন টি ব্যাগ ৩-৪ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এরপর চা ব্যাগটি তুলে গরম গরম পান করুন।

অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর এই চা মেদ জমার প্রক্রিয়া ধীর করে। সেই সঙ্গে শরীরে শক্তি বাড়ায়।

ত্বকের হারানো উজ্জ্বলতা ফেরাবে দুধের ফেসপ্যাক!

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ত্বক বুড়িয়ে যায়। ধীরে ধীরে কমে যায় উজ্জ্বলতা। অবশ্য দূষণ, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের কারণেও ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ে। নানাবিধ কারণে যাদের ত্বক আগের মতো উজ্জ্বল নেই, তারা ত্বকের হারানো সৌন্দর্য ফেরাতে দুধের ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে পারেন। কেননা ত্বক উজ্জ্বল ও নরম রাখতে কাঁচা দুধের বিকল্প নেই। প্রাচীনকাল থেকেই রূপচর্চার অন্যতম প্রধান উপকরণ এই কাঁচা দুধ।

কাঁচা দুধের ফেসপ্যাক যেভাবে বানাবেন 

দুধ ও চন্দনের ফেসপ্যাক
এই ফেসপ্যাক বানাতে লাগবে ১ চা চামচ কাঁচা দুধ, আধা চা চামচ চন্দনের গুঁড়ো। এই দুই উপাদান ভালো করে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই প্যাক মুখে ১৫ মিনিটের জন্য লাগিয়ে রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দুধ ও চন্দনের ফেস প্যাক মুখের ময়লা দূর করে। এছাড়াও, এটি ব্রণ কমাতে সাহায্য করে।

দুধ ও মধুর ফেসপ্যাক
ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে এই ফেসপ্যাকের বিকল্প নেই। এই ফেসপ্যাক বানাতে ১ চামচ কাঁচা দুধে ১ চামচ মধু মিশিয়ে মুখে ভালো করে মেখে নিন। ১৫ মিনিট রেখে, পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। মধু ত্বকের বলিরেখা কমায় এবং ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে। একই সঙ্গে, দুধ ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

দুধ ও হলুদের ফেসপ্যাক
ত্বকের যত্নে সেরা দুই উপাদান দুধ ও হলুদ। এই ফেসপ্যাক বানাতে আধা চা চামচ হলুদের গুঁড়ো ও ১ চা চামচ কাঁচা দুধ একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। মুখে এই প্যাক ১০ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। হলুদ এবং দুধের এই ফেসপ্যাক ত্বক পরিষ্কার করে এবং ত্বককে উজ্জ্বল করে।

জিম্বাবুয়ের পর আফগানিস্তানের কাছেও হার, বিদায় বাংলাদেশের

০

ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা দ্বিতীয় হারে ফাইনালে ওঠা হলো না বাংলাদেশের। আফগানিস্তানের কাছে ৭ উইকেটে হেরেছে তাওহীদ হৃদয়ের দল। শারজায় আগে ব্যাট করে ১৬০ রানে অলআউট হওয়া বাংলাদেশকে টপকে ২৭.১ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে আফগানিস্তান। আগামী ২৩ অক্টোবর ফাইনালে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে তারা। এর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৯ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ দল।

ফাইনালে যেতে হলে আগে ব্যাট করে আফগানিস্তানকে অন্তত ৪১ রানে হারাতে হতো বাংলাদেশকে। কিন্তু ব্যাটিং ব্যর্থতায় বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি দল। শুরুতেই ২৮ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসান পঞ্চম উইকেটে ৯৩ রানের জুটি গড়েন। সাইফ ৪১ রান করে ফিরলেও ইমন করেন ৯৬ বলে ৭০ রান। শেষ দিকে রশিদ খানের চার উইকেটে ১৬০ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

টাইম সাময়িকীর প্রতিবেদন বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে চাপে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প

০

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে চাপে পড়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে  পোশাক কারখানার উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে রপ্তানিকারকদের।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী টাইমের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের এ পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প কীভাবে চাপে পড়ছে, তার চিত্র তুলে ধরতে শীর্ষস্থানীয় পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান
হা-মীম গ্রুপের একটি কারখানার উদাহরণ দেওয়া হয়েছে এতে। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার আশুলিয়ার হা-মীম গ্রুপের কারখানায় গ্যাসের চাপ কমে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজেলচালিত জেনারেটর চালু করতে হয়। গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহেও ঘন ঘন বিঘ্ন ঘটে। ফলে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন চালু রাখতে বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে। এতে বাড়ছে জ্বালানি ব্যয়।

এতে বলা হয়, হা-মীম গ্রুপের দৈনিক জ্বালানি ব্যয় আগে প্রায় দুই লাখ ডলার থাকলেও এখন তা বেড়ে তিন লাখ ডলারে পৌঁছেছে। অথচ ক্রেতারা পোশাকের দাম বাড়াতে রাজি নন। এ পরিস্থিতিতে উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি চাহিদা মেটাতে হা-মীম গ্রুপের কারখানার ছাদে ২৯ দশমিক ২ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে। তবে তা দিয়ে সার্বক্ষণিক চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। দিনের সর্বোচ্চ রোদের সময় সৌরবিদ্যুৎ থেকে কার্যকর সুবিধা পাওয়া যায় মাত্র চার ঘণ্টা। ফলে শিল্পকারখানার নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি চাহিদা মেটাতে শুধু সৌরবিদ্যুতের ওপর নির্ভর করা কঠিন।
হা-মীম গ্রুপের হেড অব পাওয়ার, এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবিলিটি তনুল চক্রবর্তী টাইমকে বলেন, বাংলাদেশে গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহ ভালো নয়, ঘন ঘন বিঘ্ন ঘটে। গ্যাসের পর ডিজেলই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি। গ্রিডের বিদ্যুৎ রয়েছে তৃতীয় অবস্থানে। অর্থনীতির প্রায় পুরোটাই যেন ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
টাইমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে শিল্পকারখানায় গ্যাসের দাম বেড়েছে ১৫০ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর খোলাবাজারে এলএনজির দাম প্রায় তিন গুণ হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। গত জুলাই থেকে আগস্টের মধ্যে দেশে এলএনজি আমদানি ৮৩ শতাংশ কমে যায়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক সংকটের পাশাপাশি অতীতে দেশের অভ্যন্তরীণ নীতিগত  দুর্বলতাও  জ্বালানি পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো ও নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্রের উন্নয়নে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বিনিয়োগ হয়েছে। ফলে  দেশের জ্বালানির প্রায় অর্ধেক মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করতে হয়।
টাইমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুন পর্যন্ত তিন বছরে নানা কারণে ৪০০টির বেশি ছোট পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানির বাড়তি ব্যয় ও সরবরাহের অনিশ্চয়তায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ক্রয়াদেশ ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া বা পাকিস্তানের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন উদ্যোক্তারা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য জ্বালানি সংকট বড় উদ্বেগের কারণ। এ খাতে সরাসরি ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এর বাইরে অসংখ্য মানুষের জীবিকা এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। গত বছর তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি। ফলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহের অনিশ্চয়তা শুধু পোশাকশিল্প নয়, সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে।

ডিভি কর্মসূচি চালুর নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের, বাংলাদেশের সুযোগ অস্পষ্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) কর্মসূচি-২০২৭ চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির ক্যালিফোর্নিয়ার এক ফেডারেল আদালত। দীর্ঘদিন ধরে নিবন্ধন স্থগিত থাকায় কর্মসূচিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, আদালতের আদেশে তা কাটার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে নতুন করে নিবন্ধন শুরু হলেও বাংলাদেশিরা আবেদন করতে পারবেন কিনা, তা এখনও নির্ভর করছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ওপর।

গত ১৪ অক্টোবরের আদেশে আদালত বলেছেন, নিবন্ধনের সময়সূচি দ্রুত জানাতে হবে এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন গ্রহণ করতে হবে। ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ দিকে ডিভি-২০২৭-এর নিবন্ধন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে দেয় মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, নিবন্ধনের তারিখ পরে জানানো হবে। একই সঙ্গে বলা হয়েছিল, নির্বাচিত ব্যক্তিদের ভিসার আবেদন করার সময় ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাকবে। নিবন্ধন নিয়ে দীর্ঘসূত্রতার পর আদালতের হস্তক্ষেপে প্রক্রিয়াটি আবার এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে প্রশাসন আপিল করলে কর্মসূচির সময়সূচি বা বাস্তবায়নে নতুন পরিবর্তন আসতে পারে।

১৯৯০ সালের মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যাক্টের মাধ্যমে ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির সূচনা হয়েছিল। এর লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলক কমসংখ্যক অভিবাসী পাঠায় এমন দেশগুলোর নাগরিকদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়া। প্রতিবছর এ কর্মসূচিতে প্রায় ৫৫ হাজার ভিসা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে বরাদ্দের এই সংখ্যা শুধু লটারিতে নির্বাচিত মূল আবেদনকারীদের জন্য নয়; তাদের স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদেরও এর আওতায় ধরা হয়।

ডিভি লটারিতে নাম উঠলেই যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পাওয়া নিশ্চিত হয় না। এটি মূলত অভিবাসনের জন্য আবেদন করার সুযোগ, সরাসরি স্থায়ী বসবাসের অনুমতি নয়। আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। প্রধান আবেদনকারীর অন্তত উচ্চ মাধ্যমিক সমমানের শিক্ষা থাকতে হয়। বিকল্প হিসেবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী কর্ম-অভিজ্ঞতাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে।

সাধারণভাবে আবেদন করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের চাকরির প্রস্তাব থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, অতীতে অভিবাসন আইন লঙ্ঘন এবং অন্যান্য প্রযোজ্য অযোগ্যতার বিষয় ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়।

বাংলাদেশিদের জন্য সিদ্ধান্ত এখনও অনিশ্চিত

ডিভি-২০২৭ নিয়ে আদালতের নির্দেশ এলেও বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণের প্রশ্নটির এখনও সমাধান হয়নি। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কর্মসূচির জন্য দেশভিত্তিক যোগ্যতার তালিকা প্রকাশ করেনি। ফলে বাংলাদেশ এবার আবেদন করতে পারবে কিনা, তা নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই।

ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচিতে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে অযোগ্য দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনসংক্রান্ত একটি নির্দিষ্ট নিয়ম কাজ করে। নিয়ম অনুযায়ী, আগের পাঁচ বছরে কোনো দেশ থেকে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে গেলে সেই দেশের নাগরিকরা ডিভি কর্মসূচিতে আবেদন করার যোগ্যতা হারান।

বাংলাদেশিরা সর্বশেষ ২০১২ সালের দিকে এ কর্মসূচিতে আবেদন করার সুযোগ পেয়েছিলেন। এর পর বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীর সংখ্যা নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় দেশটিকে ডিভি লটারি থেকে বাদ দেওয়া হয়।

তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল

এদিকে, ডিভি লটারির নিবন্ধন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতির কঠোর প্রয়োগের আরেকটি চিত্র সামনে এসেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তাঁর প্রশাসন তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে বলে গত মঙ্গলবার জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত এক হালনাগাদ তথ্যে দপ্তরটি জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর তখন পর্যন্ত এক লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বাতিলের সংখ্যা আরও দ্রুত বেড়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষার অংশ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক মাধ্যম এক্সে সর্বশেষ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে বলেন, আগের যে কোনো প্রশাসনের তুলনায় ট্রাম্প প্রশাসন অনেক দ্রুত বিপুলসংখ্যক ভিসা বাতিল করেছে।

এসব পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন অধিকারকর্মীরা। তাদের মতে, ভিসা বাতিলের কিছু ঘটনা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও বাক্স্বাধীনতার অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের নীতির কারণে জাতিগত সংখ্যালঘুরা নিজেদের পরিচয়ের জন্য বৈষম্যের শিকার হতে পারেন।

বিক্ষোভে অচল ফ্রান্স, অর্থনীতি চাপে সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা আলোচনার জন্ম দিয়েছে

ফ্রান্সে বিক্ষোভ ও দাঙ্গা ঘিরে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। সহিংসতা ও ভাঙচুরের পাশাপাশি রাজনৈতিক দায়, বিক্ষোভের পেছনে কারা রয়েছে এবং সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা ইত্যাদি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাঙ্গার দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনশিল্পেও উদ্বেগ বাড়ছে। বড় বড় শহরে হোটেল বুকিং দুর্বল হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে পর্যটন আয়েও বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এই অস্থিরতার পেছনে কারা রয়েছে, তা নিয়ে ফ্রান্সে একাধিক তত্ত্ব সামনে আসছে। কেউ বামপন্থি ও নৈরাজ্যবাদী গোষ্ঠীকে দায়ী করছেন, আবার কেউ সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এসবের মধ্যেই দেশটির আর্থিক সংকট ও রাজনৈতিক বিভক্তি সরকারের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

দাঙ্গার প্রকৃত কারণ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট ইয়েল ব্রাউন-পিভে ঘটনাগুলো এবং সেগুলো কীভাবে সংগঠিত হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে সংসদীয় তদন্তের প্রস্তাব দিয়েছেন। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ শনিবারের সহিংসতার জন্য উগ্র বামপন্থিদের দায়ী করেছেন। তবে এলএফআই নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ এ অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে, শনিবার তিন হাজারের বেশি দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার বড় অংশই সুযোগসন্ধানী ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। লুট করা পণ্য অনেকে দ্রুত অনলাইনে বিক্রির চেষ্টা করে। কেউ কেউ মুখও ঢাকেনি। পুলিশ সিসিটিভি ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও পরীক্ষা করছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেছেন, সহিংসতা ও চুরির ঘটনায় দায়ী সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ
দাঙ্গার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় সহিংসতা আরও ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট দেখে কেউ কেউ সহিংসতায় যোগ দিতে আশকারা পেতে পারে– এমন ধারণার ভিত্তিতে ফ্রান্সের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল আত্তাল নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সামাজিক মাধ্যম সাময়িক বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

ফ্রান্সে দাঙ্গা দমনে সরকারের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। সিএনএনের বিশ্লেষণ বলছে, দাঙ্গার কারণ ও দায় নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি ফ্রান্সের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দেশটি এমন এক রাজস্ব সংকটের মুখোমুখি, যেখানে অতিরিক্ত ব্যয় ও ঋণের বোঝা সামলানো কঠিন হয়ে উঠেছে। ঋণ পরিশোধের সময় ঘনিয়ে আসার পাশাপাশি জ্বালানির দাম ও বন্ডের সুদের হার বাড়ায় সরকারের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে কর বাড়ানো এবং সরকারি ব্যয় কমানোর মতো পদক্ষেপ বিবেচনায় আসতে পারে। কিন্তু দুটি সিদ্ধান্তই রাজনৈতিকভাবে অজনপ্রিয়।

পর্যটনশিল্পে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা
ফ্রান্সের দাঙ্গার ছবি ও ভিডিও বিশ্বজুড়ে প্রচারিত হওয়ায় দেশটির পর্যটনশিল্পে উদ্বেগ বাড়ছে। পর্যটন খাতের প্রতিনিধিদের আশঙ্কা, সহিংসতা আবার শুরু হলে এর প্রভাব আরও গুরুতর হতে পারে।

দেশটির পর্যটন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা এডিএন ট্যুরিজমের প্রধান ক্রিস্তেল কাসানিয়ে বলেন, নিস, প্যারিস ও লিওঁর কেন্দ্রস্থলে সহিংসতার ঘটনা ‘বিপর্যয়কর’। তিনি জানান, দাঙ্গার দৃশ্য পর্যটকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন বলছে, সামাজিক মাধ্যমে অনেক ভ্রমণবিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতাকে ‘প্যারিস কি নিরাপদ’– এমন প্রশ্ন তুলতে দেখা যাচ্ছে। প্যারিসে থাকা কিছু পর্যটক শহর ছাড়ার কথা ভাবছেন।