Home Blog Page 6

ভিসা জালিয়াতির অভিযোগ কানাডায় পাঁচ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা

কানাডায় ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে পাঁচ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। কানাডা সীমান্ত সেবা সংস্থার (সিবিএসএ) তদন্তে ২০৯ বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য জমা দেওয়া ২৪৩টি অস্থায়ী ভিসার আবেদনে জাল নথি ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের চারজন কুইবেকের ভ্যালিফিল্ড আদালতে হাজির হন। তারা হলেন– রাসেল মির্জা, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মো. মুদাসসার আলম ভূঁইয়া ও কাজী নাফিজ আলম। অন্য অভিযুক্ত মো. রাকিবুল হাসান বাংলাদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

সিবিএসএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই কুইবেকের মার্সিয়ার এলাকার একটি বাসায় তদারকিমূলক অভিযান চালানো হয়। এ সময় অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সম্ভাব্য কিছু তথ্য পাওয়া

যায়। ওই বছরের আগস্টে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়। ২০২৫ সালের ৩ জুন কুইবেক ও অন্টারিওর চারটি স্থানে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। সেখান থেকে পাওয়া কাগজপত্র, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পরীক্ষা করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে ২৪৩টি আবেদনের মধ্যে ৭৯টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করা হয়।

পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো হলো– পরিকল্পনা করে অন্যদের কানাডায় প্রবেশে সহায়তা করা। ভিসার আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করতে সহায়তা করা। অন্যদের কানাডার অভিবাসন আইন ভাঙতে সহায়তা করা। তবে এসব অভিযোগ এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিচারিক প্রক্রিয়া চলছে।

অভিবাসন-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কানাডার ভিসার আবেদনে জাল নথি বা মিথ্যা তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে। এ ধরনের প্রতারণার কারণে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। এ ছাড়া আরও আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই ভিসার আবেদন করার সময় সব তথ্য ও কাগজপত্রের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। কোনো প্রতিনিধি বা পরামর্শদাতার মাধ্যমে আবেদন করলেও জমা দেওয়া তথ্য সম্পর্কে আবেদনকারীর সচেতন থাকা উচিত। ভিসা নিশ্চিত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করার পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসন-সংশ্লিষ্টরা।

২০৯ বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য জমা দেওয়া ২৪৩টি ভিসার আবেদন তদন্তের আওতায় এলেও এর অর্থ এই নয়, সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক আবেদনকারী জালিয়াতিতে জড়িত। একইভাবে, পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দোষী বলা যায় না।

প্যারিসের উপকণ্ঠে গুলির ঘটনাকে ‘বর্ণবাদী সন্ত্রাসী’ হামলা বললেন মাখোঁ

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উপকণ্ঠে এলোপাতাড়ি গুলিতে একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনাকে ‘বর্ণবাদী সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। শুক্রবার সকালে ত্রাপ ও লা ভেরিয়ের এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে সন্দেহভাজন হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মাখোঁ বলেন, এ হামলা ফরাসি প্রজাতন্ত্র ও জাতির জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদল। তার ভাষ্য, বর্ণের কারণে এভাবে নির্বিচারে কাউকে হত্যার ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, হামলাকারী একটি গাড়িতে বসে প্রায় ১৫ মিনিট ধরে বিভিন্ন স্থানে গুলি চালান। প্রথমে প্যারিসের দক্ষিণ-পশ্চিমে ত্রাপ এলাকায় এবং পরে পাশের লা ভেরিয়ের শহরে হামলা চালানো হয়। হামলাকারী অভিবাসী বংশোদ্ভূত মানুষদের লক্ষ্যবস্তু করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আহত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। তাদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীও রয়েছে।

হামলার ঘটনাস্থল ত্রাপ পরিদর্শনে গিয়ে মাখোঁ বলেন, ভুক্তভোগীদের গায়ের রং কিংবা ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এ ধরনের আদর্শের বিস্তার ঠেকাতে জনগণকে দৃঢ় থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তবে হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফ্রান্সের জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কৌঁসুলির দপ্তর (পিএনএটি) জানিয়েছে, ঘটনাটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে।

ফরাসি সংবাদমাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম কেভিন টি হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে। তার বয়স ৩৯ বছর। পিএনএটির তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে আগে চারটি অপরাধের দণ্ডাদেশ ছিল। তবে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধের রেকর্ড থেকে মুছে গিয়েছিল।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি পুলিশের কাছে পরিচিত ছিলেন। তবে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরদারির তালিকায় তার নাম ছিল না। জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কৌঁসুলির দপ্তর বিএফএমটিভিকে জানিয়েছে, তাকে ফ্রান্সের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের তালিকায়ও রাখা হয়নি।

শুক্রবার সন্দেহভাজনের নিকট পরিবারের একজন সদস্যকেও আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিএনএটি।

ত্রাপের মেয়র আলি রাবেহ বলেন, শুক্রবার সকালে এক ব্যক্তি গাড়িতে বসে বিভিন্ন স্থানে যাদের সামনে পেয়েছেন, তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ধূসর রঙের একটি রেনো ক্লিও গাড়িতে করে কয়েকটি এলাকায় ঘুরে গুলি চালান ওই ব্যক্তি। মেয়র বলেন, হামলাকারী নির্বিচারে গুলি চালিয়েছেন এবং যত বেশি সম্ভব মানুষকে হতাহত করাই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বলে মনে হচ্ছে।

মেয়র আরও জানান, ত্রাপ এলাকায় একটি পেট্রলপাম্প, একটি চিকিৎসাকেন্দ্র ও শিশুদের খেলার মাঠের কাছে গুলি চালানোর পর হামলাকারী পাশের লা ভেরিয়েরের দিকে চলে যান।

পুলিশ ইউনিয়নের এক কর্মকর্তা জানান, শহরটির মধ্য দিয়ে যাওয়া এন১০ মহাসড়কে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

আহত ১২ বছর বয়সী কিশোরীর মা ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএলকে জানিয়েছেন, তার মেয়ের শরীরে আটটি গুলির ক্ষত রয়েছে এবং অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে।

স্থানীয় পুলিশপ্রধান বিএফএমটিভিকে জানিয়েছেন, হামলায় পুরোনো ধরনের একটি আধা-স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। অস্ত্রটি দিয়ে একাধিক গুলি ছোড়া হয়েছিল। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে প্যারিসিয়াঁর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ত্রটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার হতে পারে।

পিএনএটি জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি সামরিক পর্যায়ের বা একাধিক গুলি ছুড়তে সক্ষম ‘ক্যাটাগরি এ’ অস্ত্র রাখার বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের প্রস্তুতির উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

হামলার পেছনে বর্ণবাদী উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা এখনো তদন্তাধীন। তবে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ ঘটনাটিকে বর্ণবাদী সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সংসারে সৃজনশীল বাজেট তৈরির কিছু কৌশল

দৈনন্দিন জীবনে বাজেট একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বেশিরভাগ পরিবারই সংসার চালানোর জন্য একটি বাজেট মেনে চলে। কখনো তা ঠিকঠাক কাজ করে, আবার কখনো হয়তো তেমনটা হয় না। শুরুতে বাজেট তৈরি করা কিছুটা কঠিন মনে হতে পারে, বিশেষ করে যখন আপনার অর্থের পরিমাণ সীমিত থাকে। তবে কিছু কৌশল অনুসরণ করলে আপনি একটি সৃজনশীল ও কার্যকর বাজেট তৈরি করতে পারেন, যা আপনার জন্য বেশ সহায়ক হবে।

পারিবারিক বাজেটের ক্ষেত্রে নতুন করে শুরু করা মোটেও ভুল কিছু নয়—বিশেষ করে যদি আগের বাজেটটি ঠিকমতো কাজ না করে থাকে। মনে রাখবেন, আপনার অর্থের নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতেই; তাই আপনার প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী বাজেট সাজাতে পারেন। যেমন-

আর্থিক ভিশন বোর্ড 
লক্ষ্য নির্ধারণের জন্য হয়তো আপনি আগেও ‘ভিশন বোর্ড’ তৈরি করেছেন, কিন্তু ‘আর্থিক ভিশন বোর্ড’-এর কথা ভেবে দেখেছেন কি? একটি আর্থিক ভিশন বোর্ড তৈরি করলে আপনি স্পষ্ট ধারণা পাবেন, আপনার অর্থ কোথায় ব্যয় করতে চান। পরিবারের জন্য একটি গাড়ি কেনার স্বপ্ন দেখছেন? সেটি আপনার আর্থিক ভিশন বোর্ডে যুক্ত করুন। নিজের একটি বাড়ি কেনার ইচ্ছা আছে? সেখানে সেটিও রাখুন। এভাবে বাজেট তৈরি করলে আপনি আপনার অর্থ আরও ভালোভাবে ব্যবস্থাপনা করতে পারবেন।

বাস্তবসম্মত বাজেট মেনে চলুন
বাজেট তৈরির ক্ষেত্রে সবসময় এমন একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করা ভালো, যা পরিবারের সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। সংসার চালাতে কোথায় কোথায় খরচ হয়—যেমন ইউটিলিটি বিল, খাবার খরচ, পড়াশোনার খরচ ইত্যাদি—সেসব বিষয় বিবেচনায় নিন। খরচের খাতগুলো চিহ্নিত করার পর আপনি একটি বাস্তবসম্মত বাজেট তৈরি করতে পারবেন। মনে রাখবেন, প্রয়োজনে আপনি বাজেট নতুন করে সাজাতে পারেন, যাতে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে পরিবর্তন আনার সুযোগ থাকে।

আপনার খরচের ওপর নজর রাখুন

একটি সৃজনশীল ও কার্যকর বাজেট তৈরির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো—নিয়মিত আপনার খরচের ওপর নজর রাখা। এটি কেবল আপনার নিয়মিত দায়বদ্ধতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং আপনার অন্যান্য ব্যক্তিগত খরচের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি কত ঘন ঘন কফি শপে গিয়ে কফি খাচ্ছেন? প্রতি সপ্তাহে কি বাইরে থেকে খাবার অর্ডার করেন? এসব ছোটখাটো খরচের পেছনে আপনার আয়ের কত বড় একটি অংশ ব্যয় হয়ে যায়, তা দেখলে আপনি নিজেই অবাক হবেন। আপনার সমস্ত খরচের হিসাব রাখা হয়ে গেলে, আপনি সেই অনুযায়ী একটি বাজেট তৈরি করতে পারবেন।

জরুরি পরিস্থিতির জন্য কিছু অর্থ আলাদা রাখুন
আপনার বাজেটে একটি জরুরি তহবিল (ইমার্জেন্সি ফান্ড) রাখতে ভুলবেন না। কারণ, কখন যে জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা আগে থেকে বলা সম্ভব নয়।

ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে বলিরেখা, শুষ্কতা ও দাগছোপ দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। তবে সঠিক যত্ন ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে ত্বক দীর্ঘদিন সুস্থ, সতেজ ও উজ্জ্বল রাখা সম্ভব। রঙিন ফলমূল ও শাকসবজি, বাদাম, বীজ, তৈলাক্ত মাছ এবং দইয়ের মতো খাবার ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে, কোষের ক্ষতি কমাতে ও কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে। কোলাজেন হলো এমন একটি প্রোটিন, যা ত্বকের গঠন ও দৃঢ়তা ধরে রাখতে সাহায্য করে। তবে শুধু খাবার খেলেই বয়সের ছাপ পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। নিয়মিত সুষম খাবার খাওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও সানস্ক্রিন ব্যবহারও জরুরি।

ত্বক শরীরের সবচেয়ে বড় অঙ্গ। এটি বাইরের পরিবেশের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শরীরকে রক্ষা করে। কিন্তু বায়ুদূষণ, সূর্যের আলো, অতিরিক্ত তাপ ও বয়স বাড়ার কারণে ত্বকে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসে। বয়সের সঙ্গে শরীরে কোলাজেন তৈরির পরিমাণ কমে যাওয়ায় ত্বকের দৃঢ়তা কমতে পারে এবং বলিরেখা দেখা দিতে পারে। এসব পরিবর্তন ধীর করতে খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জেনে নেওয়া যাক, ত্বক সুস্থ ও তরুণ রাখতে কোন খাবারগুলো খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

রঙিন ফল ও শাকসবজি

গাজর, টমেটো, ক্যাপসিকাম ও আমে রয়েছে ক্যারোটিনয়েডসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এগুলো সূর্যের আলো ও পরিবেশদূষণের কারণে ত্বকের কোষের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করতে পারে। গাজরে থাকা বিটা-ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়, যা ত্বকের কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয়। টমেটো বা গাজরের সঙ্গে অল্প পরিমাণ অলিভ অয়েলের মতো স্বাস্থ্যকর চর্বি খেলে শরীর এসব উপাদান ভালোভাবে শোষণ করতে পারে।

আম ও ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল

আমে থাকা ক্যারোটিনয়েড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের যত্নে ভূমিকা রাখতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ডেভিসের একটি ছোট গবেষণায় দেখা গেছে, ১৬ সপ্তাহ ধরে সপ্তাহে চার দিন ৮৫ গ্রাম আম খাওয়ার পর মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের ত্বকের বলিরেখায় কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। অতিরিক্ত আম খাওয়ার ক্ষেত্রে উল্টো ফলও দেখা গেছে, তাই পরিমিত পরিমাণে খাওয়া ভালো। আম, কমলা, লেবু ও পেয়ারা ভিটামিন সি-এর ভালো উৎস। এই ভিটামিন কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে। কোলাজেন ত্বকের গঠন ও নমনীয়তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা ত্বকের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।

স্বাস্থ্যকর চর্বি ও বাদাম

কাঠবাদাম, আখরোট, বিভিন্ন বীজ এবং তৈলাক্ত মাছ ত্বকের জন্য উপকারী পুষ্টি সরবরাহ করে। বাদাম ও বীজে থাকা ভিটামিন ই ত্বকের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, বাদামে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের সুরক্ষামূলক স্তর বজায় রাখতে সহায়তা করে। স্যামন, সার্ডিন ও ম্যাকেরেলের মতো তৈলাক্ত মাছে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এটি শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। তাই খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণ বাদাম, বীজ ও মাছ রাখা ভালো।

অন্ত্রের জন্য উপকারী খাবার

অন্ত্রের স্বাস্থ্য ও ত্বকের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অন্ত্রে থাকা উপকারী অণুজীব শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। ফল, শাকসবজি, ডাল, শিম, পূর্ণ শস্য, বাদাম ও বীজে থাকা আঁশ এসব অণুজীবের পুষ্টি জোগায়। পাশাপাশি দইয়ের মতো গাঁজন প্রক্রিয়ায় তৈরি খাবার অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।

ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে আরও যা করবেন

শুধু খাবার খেলেই ত্বকের বয়সের ছাপ পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয়। পর্যাপ্ত ঘুম, পানি পান, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ত্বকের যত্নও জরুরি। বিশেষ করে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি ত্বকে বলিরেখা ও বয়সের ছাপ বাড়াতে পারে। তাই বাইরে যাওয়ার আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং অতিরিক্ত চিনি ও অস্বাস্থ্যকর খাবার কম খাওয়াও উপকারী।

বয়স বাড়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, আর কোনো একটি খাবার ত্বকের তারুণ্য চিরদিন ধরে রাখতে পারে না। তবে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর খাবার রাখা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং ত্বকের সঠিক যত্নের অভ্যাস দীর্ঘদিন ত্বককে সুস্থ, সতেজ ও উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করতে পারে। তাই তারুণ্য ধরে রাখতে বিশেষ কোনো খাবারের ওপর নির্ভর না করে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনকে প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত করাই গুরুত্বপূর্ণ।

সংসদ নির্বাচনে ভোট রক্ষায় দুর্বলতা ছিল, স্থানীয় নির্বাচনে ভুল হবে না: জামায়াত আমির

০

জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীকে জনগণ ভোট দিলেও, তার রক্ষায় দলটির দুর্বলতা ছিল মনে করেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি জামায়াত নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, জনগণ আমাদের বলেন– ভোট আপনাদের দিয়েছিলাম, কিন্তু আপনারা তা রক্ষা করতে পারলেন না। তখন আমাদের বলতে হয়, আমাদের দুর্বলতা ছিল। ভবিষ্যতে যেন একই ভুলের পুনরাবৃত্তি না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।
আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট রক্ষায় যেন ভুল না হয়, তা নিশ্চিতে নেতাদের কাজ করতে বলেছেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে প্রাচীর গড়ে তুলতে হবে। কোনো চোরকে আর ছাড় দেওয়া হবে না। সিটি নির্বাচনে দিনরাত একাকার করে কাজ করতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের ভুলগুলো নিয়ে পর্যালোচনা হয়েছে। এবার এগুলোর আলোকে কাজ করলে আশা করি আর ভুল হবে না।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান। তিনি রুকনদের উদ্দেশে বলেন,  আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আমরা কিছুই করতে পারব না। তাই প্রতি মুহূর্তে মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করতে হবে।

ঢাকা মহানগর জামায়াতের অতীত সাংগঠনিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে দলটির আমির বলেন, একসময় ঢাকায় অবস্থা অনেক দুর্বল ছিল। ত্যাগ, কুরবানি ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। আমরা বসে বসে আর তামাশা দেখব না। আমরা সংগতভাবেই প্রতিবাদ করব এবং যেখানে আমাদের সামর্থ্য হবে, সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রুকন পদ-পদবি নয়, জীবনের নীতি-নৈতিকতার মান। একে ক্ষমতা মনে করলে ভুল করব। সভাপতির বক্তব্যে উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, রুকন সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি মানের দিক থেকে উন্নত ও সুশৃঙ্খলা হতে হবে।
সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে ১৩ হাজারের বেশি রুকন গোপন ভোটে আমির নির্বাচন করেন। ২০২৭-২০২৮ সালের কমিটিতে আমির পদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন সেলিম উদ্দিন। সম্মেলনে বক্তৃতা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি প্রমুখ।

উপনির্বাচনে কারচুপির শঙ্কা সরকারকে হুঁশিয়ারি ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক

০

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। বিএনপিকে সতর্ক করে তারা বলেছে, মাগুরা উপনির্বাচনে কারচুপির কী পরিণতি হয়েছিল স্মরণে রাখুন।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলের লিয়োজোঁ কমিটির বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন জোটের সমন্বয়ক এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। সাত দফা দাবিতে জোটের ঘোষিত আগামী ৩১ অক্টোবরের ঢাকা-খুলনা-যশোর-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে লিয়াজোঁ কমিটির এ বৈঠক হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন হচ্ছে। বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন তাঁর ভাই মির্জা ফয়সাল আমিন। ১১ দলের প্রার্থী হয়েছেন জামায়াত নেতা  দেলাওয়ার হোসেন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মির্জা ফখরুল দুই লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়েছিলেন। দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছিলেন এক লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট।

আগামী ২৯ অক্টোবরের উপনির্বাচনে দেলাওয়ার হোসেনের পক্ষে জনসমর্থন তৈরি হয়েছে দাবি করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সেখানে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মতো কারচুপির পরিকল্পনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। মাগুরার উপনির্বাচন বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসের কালো অধ্যায়। এ থেকে সরকার পতনের আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল।  বিরোধী দল ঠাকুরগাঁওয়ে মাগুরার উপনির্বাচনের পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না।

বিএনপির এমপি মজিদ-উল-হকের মৃত্যুতে শূন্য মাগুরা-২ আসনে ১৯৯৪ সালে উপনির্বাচন হয়। সেই সময়কার ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে  ব্যাপক ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখলের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পর তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দল দাবি তোলে, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের আন্দোলন শুরু হয়।

সরকারের দাবি ভুয়া 

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির সমঝোতার অভিযোগ তুলে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকারি দলের নেতারাই নানা সময়ে দাবি করেছেন, তাদের ভোটের ৩০ শতাংশ আওয়ামী লীগের। শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের ফাঁস হওয়া অডিও কথোপকথনেও এ-সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে। এসব বক্তব্যের প্রতিবাদ বিএনপি করেনি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের আঁতাতের অভিযোগকে ভুয়া বলে নাকচ করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকারের কাছে এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য থাকলে তা প্রকাশ করুক।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে– স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ  বক্তব্যের সমালোচনা করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গত ছয়-সাত মাসে ক্ষমতাসীন দলের ৪০ জন কর্মী নিজেদের দলের লোকজনের হাতে খুন হয়েছেন। এটা উন্নতি? হেফাজতের উদ্যোগে কওমি ঘরানার যে সাত দলের জোট হচ্ছে এর দুটি জামায়াতের শরিক। এ বিষয়ে আযাদ বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তাদের ঐক্য অটুট থাকবে।

গোপালগঞ্জে লংমার্চের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

১১ দলের লংমার্চ ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু, শরীয়তপুর, ফরিদপুরের ভাঙ্গা হয়ে গোপালগঞ্জ শহরের ওপর দিয়ে বাগেরহাট যাবে। লংমার্চের পথসভা গোপালগঞ্জে হবে না। জেলাটি পার হয়েই বাগেরহাটের ফকিরহাটে পথসভা হবে।

গোপালগঞ্জ হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের হামলার আশঙ্কা আছে কিনা– জানতে চাইলে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘সরকারের জিম্মাদারির কথা এখানে স্মরণ করিয়েছি।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।

গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ মা-বাবার পর মেয়ের মৃত্যু, শেষ পুরো পরিবার

গাজীপুরের টঙ্গীতে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ মা-বাবার মৃত্যুর একদিন পর মেয়ে তানিশার (১৬) মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনিস্টিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এর মধ্য দিয়ে শেষ হয়ে গেল পুরো পরিবার।
এর আগে গত বুধবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লাল চান মিয়া (৬০) ও তাঁর স্ত্রী নাছিমা বেগমের (৫০) মৃত্যু হয়। তাদের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুর থানার কুলিপাড়া গ্রামে। পরদিন কুলিপাড়া গ্রামের কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, গত বুধবার ভোরে রান্নার প্রস্তুতির সময় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে লাল চান মিয়া ও তাঁর স্ত্রী নাছিমা বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন রাতে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনিস্টিউটে মারা যান। এরপর গতকাল শুক্রবার তাদের মেয়ে তানিশা মারা যায়।

পাহাড় কেটে রিসোর্ট, পার্ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি-বেসরকারি সবার নজর লালমাই পাহাড়ে হুমকিতে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন

আইন অমান্য করে এবং উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে সমৃদ্ধ কুমিল্লার লালমাই পাহাড় কাটা চলছেই। সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানই কাটছে লালমাটির পাহাড় ও টিলা। পাহাড় কেটে নির্মাণ করা হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, রিসোর্ট, বিনোদনকেন্দ্র ও আবাসিক স্থাপনা। পাশাপাশি সড়ক ও রেলপথ নির্মাণ, পাহাড়ি সড়ক সম্প্রসারণ, ইটভাটার মাটি সংগ্রহ এবং নিচু জমি ভরাটের জন্য দীর্ঘদিন ধরে লালমাই পাহাড় কাটা হচ্ছে। এতে জীববৈচিত্র্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হুমকিতে পড়ছে।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ২০১৫ সালে প্রকাশিত ময়নামতি-লালমাইবিষয়ক বইয়ের সংশোধিত সংস্করণ অনুযায়ী, কুমিল্লা শহর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার পশ্চিমে ও উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত লালমাই-ময়নামতি পাহাড়ের আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার। পাহাড়ের সর্বোচ্চ উচ্চতা প্রায় ৫৫ মিটার এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার। এর উত্তর প্রান্তে রানী ময়নামতির প্রাসাদ এবং দক্ষিণ প্রান্তে প্রাচীন চণ্ডীমুড়া মন্দির অবস্থিত।

সদর দক্ষিণ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এস এম নুরুল আখতার নিলয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সদর দক্ষিণ উপজেলায় লালমাই পাহাড় ও টিলাশ্রেণির দুই হাজার ১২১ একর ৫০ শতাংশ জমি ব্যক্তিমালিকানায় রয়েছে। সরকারি ১ নম্বর খাস খতিয়ানে রয়েছে মাত্র ১০৩ একর ২৫ শতাংশ। বন বিভাগের ৫ নম্বর খতিয়ানে রয়েছে ১৮৩ একর ১২ শতাংশ জমি।

সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত স্থাপনা 
জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫১ সালে এক হাজার ৮৫৪ একর ৯৩ শতাংশ জমি হুকুমদখল করে কুমিল্লা সেনানিবাস প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৫৯ সালে ১৫৬ একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড)। কোটবাড়ীতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সেক্টর সদরদপ্তর ও সংরক্ষিত এলাকার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় প্রায় ১০০ একর পাহাড়ি জমি।
১৯৮৩ সালে ৫২ একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ। ২০০৬ সালে ৫০ একর পাহাড়ি জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। পরে ২০২১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রসারণের জন্য আরও ২০০ একরের বেশি জমি অধিগ্রহণ করা হয়। পাহাড়ের দক্ষিণাংশে রয়েছে পুলিশ ফায়ার রেঞ্জ ও বাংলাদেশ স্কাউটের স্থাপনা।

বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নামে আট একর ২১ শতাংশ, রেশম উন্নয়ন বোর্ডের নামে ১২ একর ১৬ শতাংশ এবং ময়নামতি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে এক একর ৩২ শতাংশ পাহাড়ি জমি রয়েছে। ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও ঈদগাহের জন্যও পাহাড়ি জমি বরাদ্দ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন আগে শর্তসাপেক্ষে পাহাড় ইজারা নেওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে শর্ত ভেঙে দখল ও মাটি কাটা শুরু হয়। বাংলাদেশ সার্ভে (বিএস) হওয়ার পর পাহাড়ের অনেক জমি ব্যক্তিমালিকানায় চলে যায়। এর পর পাহাড়ের জমি হাতবদল ও কেনাবেচাও বেড়েছে।

লালমাই পাহাড় কেটে জামমুড়ায় গড়ে তোলা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুতল ভবন	সমকাল

লালমাই পাহাড় কেটে জামমুড়ায় গড়ে তোলা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুতল ভবন সমকাল

পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্প 
২০০৬ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য পাহাড় কাটার বিষয়টি আলোচনায় আসে। প্রতিষ্ঠার সময় ৫০ একর পাহাড় কেটে প্রশাসনিক, একাডেমিক ও আবাসিক ভবন এবং খেলার মাঠ তৈরি করা হয়। এ নিয়ে তখন সমালোচনা হচ্ছিল।

পরে ২০২১ সালে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য ২০০ একরের বেশি জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ১৩১ একর পাহাড় ও টিলাশ্রেণির জমি। সেখানে পাহাড় কেটে কয়েকটি ভবন নির্মাণকাজ চলছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কুমিল্লার উপপরিচালক সালমান চৌধুরী শাওন সমকালকে বলেন, লালমাই পাহাড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বড় ভবন নির্মাণের কাজ তিনি দেখেছেন। সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে তাঁর মনে হয়েছে, পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ সমীক্ষা (ইআইএ) প্রতিবেদন ছাড়াই ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো আবেদন এখনও অনুমোদন পায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এস এম শহিদুল হাসান বলেন, পাহাড়ে ভবন নির্মাণের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন করেছে। অনুমোদনের বিষয়টি মন্ত্রণালয় দেখছে। তবে পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এমএম শরীফুল করীম গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সমকালকে বলেন, ‘পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণ না করতে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা ছিল। আমি চলতি বছরের মে মাসে ভিসি পদে যোগদানের পর সরেজমিন প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেছি। অধিকাংশ ভবনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তাই ভবন নির্মাণের শুরুতে সেখানে পাহাড় কাটা হয়েছে কিনা, তা আমার জানা নেই।’

কাছেই পাহাড়ে আরও তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান 
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি লালমাই পাহাড়ের চার একর জমিতে ২০১৪ সাল থেকে বেসরকারি সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়, সিসিএন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও সিসিএন মডেল কলেজ পরিচালিত হচ্ছে।
সিসিএন শিক্ষাপরিবারের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম চৌধুরী সমকালকে বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়েই প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তোলা হয়েছে। তাঁর দাবি, পাহাড়ে অবস্থিত হলেও ভবন নির্মাণে পাহাড়ের ক্ষতি হচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আবাসন ও অন্যান্য প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় আবাসন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে উঠছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও পাহাড়ি জমি কেনাবেচার প্রবণতা রয়েছে।

পাহাড় কেটে রিসোর্ট, পার্ক ও হাসপাতাল
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বড় ধর্মপুর এলাকায় ২০২১ সালে প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের সময় পাহাড়ের ১ লাখ ১৪ হাজার ঘনফুট মাটি কাটার অভিযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট মামলা করে পরিবেশ অধিদপ্তর।

সম্প্রতি সরেজমিন দেখা গেছে, বড় ধর্মপুর বাজার সড়কে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্তার মোড়ে পাহাড় কাটা জায়গার চারপাশে সীমানাপ্রাচীর দেওয়া হয়েছে। একই সড়কে ‘প্রবাসী পর্যটন ও বোটানিক্যাল গার্ডেন’ নির্মাণের জন্য একটি পাহাড় স্টিলের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে।

সাইনবোর্ডে দেওয়া মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগ করলে ব্যবসায়ী মো. মহসিন কবির ভূঁইয়া বলেন, তিনি সেখানে ১২৮ শতক পাহাড় কিনেছেন। জায়গাটি সংরক্ষণের জন্য স্টিলের বেড়া দিয়েছেন। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করবেন।

এর পাশেই পাহাড়ের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছপালা কেটে ২৬ শতক উঁচু-নিচু জমিতে ‘লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল চক্ষু হাসপাতাল’ নির্মাণের উদ্যোগ দেখা গেছে। সেখানে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করছিলেন শ্রমিকরা। সেখানে একটি সাইনবোর্ড আছে। কিন্তু মালিকের নাম পরিচয় নেই। শ্রমিকরা মালিকের নাম জানাতে ও মোবাইল নম্বর দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
ময়নামতি জাদুঘরের পশ্চিমের সড়কের দুই পাশে দেখা গেছে ‘নীলকুঞ্জ’ ও ‘কাশবন’ নামে দুটি রিসোর্ট। পাহাড় কেটে এগুলো নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক যুগ ধরে রিসোর্ট দুটি চলছে।

কাশবন রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী আবুল কাসেম সমকালকে বলেন, প্রায় এক একর পাহাড় কিনে তিনি রিসোর্ট ও পার্টি সেন্টার করেছেন। তাঁর দাবি, ভবন নির্মাণে পাহাড়ের কোনো ক্ষতি হয়নি। নীলকুঞ্জ-এর স্বত্বাধিকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণে সালমানপুর এলাকায় সংরক্ষিত বনাঞ্চল কেটে ২০১৯ সালে ‘ম্যাজিক প্যারাডাইস’ নামে একটি বিনোদন পার্কের স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ২০২১ সালে হাইকোর্ট পাহাড় কাটার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি তা উপেক্ষা করে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় ৫০ একর পাহাড়ি ও বনাঞ্চলের সংরক্ষিত এলাকার ক্ষতিসাধন করে এখানে রিসোর্ট, রেস্তোরাঁসহ নানা ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিষ্ঠানটির মার্কেটিং কর্মকর্তা মো. রাফি সমকালকে বলেন, ‘আমি কিছুদিন আগে যোগদান করেছি। তাই এখানে পাহাড় কাটার বিষয়টি আমার জানা নেই।’
এর অদূরে জামমুড়া এলাকায় টিলা কেটে তৈরি করা হয়েছে ‘ডাইনোসর পার্ক’। এর বিপরীতে টিনের বেড়া দেওয়া একটি বিশাল পাহাড় কেটে সমতল করার দৃশ্যও দেখা গেছে। একই এলাকায় বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নামে পাহাড়ের জমির সাইনবোর্ড রয়েছে।

এ ছাড়া লালমাইয়ের দক্ষিণাংশে তৈরি করা হয়েছে ‘লালমাই লেকল্যান্ড’ বিনোদন পার্ক। বড় ধর্মপুর চৌধুরী চা প্রকল্পের পাশেও পাহাড় কাটার চিহ্ন দেখা গেছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (২০০০ সালে সংশোধিত)-এর ধারা ১২-এ যে কোনো নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প স্থাপনের আগে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া পাহাড় কাটা অবৈধ। তবে সদর দক্ষিণ উপজেলার বড় ধর্মপুর, ছোট ধর্মপুর, রতনপুর, বিজয়পুর, সালমানপুর, সানন্দা, জামমুড়া, রাঙামুড়া, ষাইট কলোনি, খলা ও ধনমুড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বছরের পর বছর পাহাড়ের মাটি কাটার কারণে অনেক জায়গা সমতল হয়ে গেছে।

সালমানপুর এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা আবদুল মতিন বলেন, ২০ বছর আগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় পাহাড়ের জমি নামমাত্র দামে কেনাবেচা হতো। পাহাড়ের মাটিও অবাধে বিক্রি করা হতো। এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনা গড়ে ওঠায় জমির দাম কয়েক গুণ বেড়েছে। বেড়েছে আবাসিক স্থাপনাও।

হুমকিতে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন
প্রাচীন বাংলার ইতিহাস ও প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র লালমাই-ময়নামতি পাহাড়। এই অঞ্চলে অন্তত ছয়টি রাজবংশের ৩৪ জন রাজার শাসনামলের বিভিন্ন কীর্তির নিদর্শন পাওয়া গেছে। পাহাড়শ্রেণিতে রয়েছে অর্ধশতাধিক টিলা এবং প্রাচীন স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫৫ সাল থেকে এখানে নিয়মিত খননকাজ শুরু হয়। এ পর্যন্ত ৫০টির বেশি প্রত্নস্থল শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে শালবন বিহার, রূপবান মুড়া, ইটাখোলা মুড়া, ভোজ রাজার বাড়ি, আনন্দ বিহার, কোটিলা মুড়া, চারপত্র মুড়া এবং রানী ময়নামতির প্রাসাদ ও মন্দির উল্লেখযোগ্য।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিভাগীয় আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা বলেন, লালমাই-ময়নামতি পাহাড়ে অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে। প্রতিবছর খননে নতুন নিদর্শন উন্মোচিত হচ্ছে। তবে অবাধে পাহাড় কাটা ও স্থাপনা নির্মাণের কারণে অনেক নিদর্শন অনাবিষ্কৃত থেকে যাচ্ছে।

কমছে জীববৈচিত্র্য, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি
বন ও কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দশকে লালমাই পাহাড় ও আশপাশের এলাকার প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যে বড় পরিবর্তন এসেছে। ষাটের দশক থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চল ঘন গাছপালা, বাঁশঝাড় ও বুনো লতায় আচ্ছাদিত ছিল। তখন সেখানে বন্য শূকর, মেছোবাঘ, বুনো বিড়াল, শিয়াল, হনুমান, সজারু, খরগোশ ও বাদুড় দেখা যেত। ময়ূর, বনমোরগ, ঘুঘু, পেঁচা, শকুন, মাছরাঙাসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখিও ছিল।

বন বিভাগ বলছে, নির্বিচারে পাহাড় কাটা, স্থাপনা নির্মাণ, বসতি বিস্তার ও গাছপালা উজাড়ের কারণে পাহাড়ের প্রাকৃতিক সম্পদ হারিয়ে যাচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কুমিল্লার উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান সমকালকে বলেন, অবাধে পাহাড় কাটায় ফল ও ফসলের আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। পাহাড়টি ফল ও সবজি উৎপাদনের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। পাহাড় রক্ষা করা গেলে কৃষি অর্থনীতিতে ভালো ভূমিকা রাখা সম্ভব।

বন বিভাগের অনেক জমি বেদখল
লালমাই পাহাড়ে বন বিভাগের অধীনে রয়েছে ১৮৩ একর ১২ শতাংশ জমি। এর মধ্যে পাহাড়ি অনেক জমি বেদখলে রয়েছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দখলে থাকা তিন একর জমি নিয়ে মামলা চলছে।
সামাজিক বন বিভাগ কুমিল্লার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নূরুন্নাহার সমকালকে বলেন, লালমাই পাহাড়ে বন বিভাগের বেদখলে থাকা জমি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা, প্রশাসনের জরিমানা
উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভিন্ন সময়ের অভিযানে জরিমানা করা হলেও পুরোপুরি থামছে না লালমাই পাহাড় কাটা। ২০২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি লালমাই পাহাড় কাটা বিরত রাখার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এতে পাহাড় কাটা ও অন্যান্য পাহাড়ে ধ্বংসমূলক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই সময় পাহাড় কাটার কারণে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, হাসান টেকনো বিল্ডার্স লিমিটেড ও হক এন্টারপ্রইজ জয়েন্ট ভেঞ্চার (জেভি) এবং ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্ককে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। ওই দিন এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

আদালতে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আশরাফ আলী। রিটে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোকে মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত লালমাই পাহাড় কাটা ও অন্যান্য পাহাড়ে ধ্বংসমূলক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়), কুমিল্লার উপপরিচালককে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

এর আগে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে লালমাই পাহাড়ের বড়ধর্মপুর এলাকায় সড়ক সম্প্রসারণে অনুমতি ছাড়া পাহাড়ের এক লাখ ১৪ হাজার ৩৩০ ঘনফুট মাটি কাটার দায়ে সওজ বিভাগের হাসান টেকনো বিল্ডার্স লিমিটেড ও হক এন্টারপ্রাইজ জেভি নামের দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করে পরিবেশ অধিদপ্তর।

এদিকে পরিবেশগত ছাড়পত্র না নিয়ে পাহাড় কাটায় ২০২০ সালের মার্চে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। এর মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে তিন লাখ পাঁচ হাজার টাকা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এ রহমান এন্টারপ্রাইজকে ৭৬ হাজার ২৫০ টাকা, স্টারলাইন সার্ভিসেস লিমিটেডকে তিন লাখ ৮১ হাজার ২৫০ টাকা, মেসার্স আবদুর রাজ্জাককে তিন লাখ পাঁচ হাজার টাকা ও জাকির এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড খোকন কনস্ট্রাকশনকে চার লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি চিকিৎসক মো. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা কিংবা প্রশাসনের অভিযান কোনো কিছুতেই পাহাড় কাটা রুখে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলা প্রশাসনের ‘বড়’ অভিযান
চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি বিকেলে দুই ঘণ্টার অভিযানে লালমাই পাহাড়ের বড় ধর্মপুর এলাকায় পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এদিন পাহাড়ের মাটি কাটায় তাজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে আট লাখ টাকা জরিমানাসহ একটি খননযন্ত্র জব্দ করা হয়। সদর দক্ষিণ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এস এম নুরুল আখতার নিলয় বলেন, অভিযানটি ছিল সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ে বড় অভিযান।
কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এ বি এম মশিউজ্জামান সমকালকে বলেন, অধিকাংশ পাহাড় ব্যক্তিমালিকানায়। তবে আইন অনুযায়ী পাহাড় কাটা নিষিদ্ধ। প্রশাসনের অভিযানের কারণে লালমাই পাহাড় কাটা অনেকটা কমে এসেছে। কোথাও পাহাড় কাটার খবর পেলেই প্রশাসন অভিযান চালায়।

অপ্রতিম হত্যা: চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যা মামলায় চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। গত ২০ অক্টোবর অভিযোগপত্র দেওয়া হলেও শুক্রবার পুলিশ মিডিয়া সেল গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে।

জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান সমকালকে বলেন, দুই কিশোরসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থেকেই অপ্রতিমকে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯), মো. সিয়াম (১৯) এবং ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোরকে। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। শিশু আইন অনুযায়ী, অভিযোগপত্রে ওই দুই কিশোরকে শিশু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা বর্তমানে গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রয়েছে।

এর আগে গত শনিবার কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানিয়েছিলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে এ মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

নিহত অপ্রতিমের বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি জেনেছেন। তবে বিস্তারিত কিছু জানেন না। তিনি দ্রুত মামলার রায় দেওয়ার দাবি জানান। তার অভিযোগ, দুই আসামির বয়স কম দেখানো হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের বয়স পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব আহমেদ সমকালকে বলেন, চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তিনি পুলিশ মিডিয়া সেলের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। ওই দিন সে আর বাড়ি ফেরেনি। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনা দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। আসামিদের বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। এরপর কুমিল্লাজুড়ে কিশোর গ্যাংবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে পুলিশ।

চলতি বছরের ৮ মাস ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ১২%

০

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির আয় কমেছে ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ সময়ে রপ্তানি আয় প্রায় ১৫৮ কোটি ইউরো কমে এক হাজার ১৯২ কোটি ইউরোতে নেমেছে। গত বছরের একই সময়ে ইইউ থেকে রপ্তানি আয় ছিল এক হাজার ৩৫০ কোটি ইউরো। রপ্তানির পরিমাণ কমার পাশাপাশি পণ্যের গড় দাম কমে যাওয়ায় আয়ে বড় প্রভাব পড়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস সংকলিত এক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইইউর সামগ্রিক পোশাক আমদানিও কমেছে। এ সময়ে বিশ্ববাজার থেকে ইইউর পোশাক আমদানির মূল্য দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ২৯ কোটি ইউরো। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ কম।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য আট মাসে বাংলাদেশ থেকে ইইউর পোশাক আমদানির পরিমাণ কমেছে ৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ। একই সময়ে প্রতি কেজি পোশাকের গড় দাম ১৪ দশমিক ৮৭ ইউরো থেকে কমে ১৩ দশমিক ৭৬ ইউরো হয়েছে। অর্থাৎ, পরিমাণের পাশাপাশি দামের পতনও রপ্তানি আয় কমার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান বাজারগুলোর একটি ইইউ। ওই অঞ্চলে রপ্তানিতে চীনের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। তাই এ বাজারে রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি পণ্যের গড় দাম কমার প্রবণতাও গুরুত্বপূর্ণ।

আট মাসের হিসাবে কমলেও আগস্ট মাসের হিসাবে কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গত বছরের আগস্টের তুলনায় চলতি বছরের একই মাসে  বাংলাদেশ থেকে ইইউতে পোশাক রপ্তানির মূল্য বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭২ শতাংশ। এ সময়ে রপ্তানির পরিমাণ কমেছে শূন্য দশমিক ৫৭ শতাংশ। তবে বিপরীতে প্রতি কেজির গড় দাম বেড়েছে ১ দশমিক ২৯ শতাংশ। এতে মাসভিত্তিক হিসাবে রপ্তানি আয়ে সামান্য ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে।
ইইউর বাজারে বাংলাদেশের বড় প্রতিযোগীদের মধ্যে চীনের পোশাক রপ্তানি আয় বেড়েছে ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। দেশটির রপ্তানি দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯৭১ কোটি ইউরো। গত বছরের একই সময়ে ছিল এক হাজার ৯২৬ কোটি ডলার।
ইইউর বাজারে সবচেয়ে ভালো করেছে ভিয়েতনাম। আলোচ্য সময়ে ভিয়েতনামের রপ্তানি আয়ও ৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়ে ৩০০ কোটি ইউরো হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে ভিয়েতনামের আয় ছিল ২৮৭ কোটি ইউরো। এদিকে ইইউর বাজারে তুরস্ক, ভারত, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, মরক্কো ও কম্বোডিয়ার রপ্তানি আয় কমেছে। ভারতের রপ্তানি কমেছে ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ।