Home Blog Page 75

‘অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মেসির প্রথম গোলটি বাতিল হওয়া উচিত ছিল’

লিওনেল মেসি মাঠে নামেন, গোল করেন, রেকর্ড গড়েন। কিন্তু সঙ্গে জড়িয়ে যায় বিতর্ক। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করার পরেও মেসির সঙ্গী হয়েছে সম্ভাব্য লাল কার্ড বিতর্ক। এবার আলোচনায় অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের করা প্রথম গোলটি।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের পর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড় গোল করে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডটি নিজের করে নিয়েছেন মেসি। আর্জেন্টাইন অধিনায়কের নামের পাশে শোভা পাচ্ছে ১৮টি গোল। ৩৯ বছরের এই ফুটবল জাদুকরের বাম পায়ের জাদুতে বুঁদ হয়ে আছে পুরো বিশ্ব। যেদিনই তিনি মাঠে নামেন সেদিনই রেকর্ড বইয়ের কিছু পাতা ওলটপালট করে আসেন।

এতকিছুর পরেও বিতর্ক মেসির পিছু ছাড়ছে না। বিতর্ক আর সমালোচনা যেন আর্জেন্টাইন অধিনায়কের ছায়াসঙ্গী। ‘জে’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচের ৩৮ ও ৯৫তম মিনিটে গোল করেন মেসি। এর মধ্যে প্রথম গোলটি আসে বাম প্রান্ত থেকে ফাকুন্দো মেদিনার বাড়ানো বলে। সেই গোল নিয়েই মূলত বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

গোলটি বিল্ডআপ করার সময় অস্ট্রিয়ার সাভের শ্লাগারকে ট্যাকল করেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার। বলের লড়াইয়ের বাইরে থাকা অবস্থায় শ্লাগার মাটিতে পড়ে গেলেও রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। অস্ট্রিয়ার খেলোয়াড়দের প্রতিবাদও আমলে নেননি তিনি।

ম্যাচ শেষে রেফারির এ সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন অস্ট্রিয়া কোচ রালফ রাংনিক। তার দাবি, ঘটনাটি ভিএআরের নজর এড়ায়নি। তিনি বলেন, ‘আমার মতে, ওটা পরিষ্কার ফাউল ছিল। কিন্তু রেফারিকে ফাউল হয়েছে বলার মতো যথেষ্ট সাহস ভিএআরের ছিল না।’

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কিংবদন্তি গোলরক্ষক পিটার স্মাইকেলও গোলটি নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। ফক্স স্পোর্টসে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, মেসির প্রথম গোলটি বাতিল হওয়া উচিত ছিল। ম্যাক আলিস্টার লাথি মেরে একজন খেলোয়াড়কে ফেলে দিয়েছিল। ওটা ফ্রি-কিক হওয়া উচিত ছিল।’

শুধু রেফারির সিদ্ধান্ত নয়। ভিএআরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্মাইকেল। তিনি বলেন, ‘এটি রেফারির স্পষ্ট ভুল ছিল। বিষয়টি নিয়ে আমি কিছুটা হতাশ।’

বিটিএস তারকার বাড়িতে ১৩৩ বার কলিংবেল বাজিয়ে কারাগারে ব্রাজিলীয় নারী

বিশ্বখ্যাত কে-পপ ব্যান্ড বিটিএসের তারকা জাংকুকের বাড়িতে দীর্ঘদিন অনুসরণ ও হয়রানির দায়ে এক ব্রাজিলীয় নারীকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে ওই দণ্ড দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বহিষ্কারেরও মুখোমুখি হতে হতে পারে।

সিউলের একটি জেলা আদালত জানিয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে ওই নারী জাংকুকের বাড়িতে বারবার যাতায়াত শুরু করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি গায়কের বাসভবনে অন্তত ২২ বার গিয়েছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ৭ ডিসেম্বর প্রথমবার জাংকুকের বাড়িতে গিয়ে তিনি বাড়ির আশপাশে ঘোরাঘুরি করেন, দেয়ালের ওপারে বিভিন্ন জিনিস ছুড়ে দেন এবং দরজার ফাঁক দিয়ে চিঠি ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কয়েকদিন পর তিনি আবার সেখানে যান এবং একটানা ১৩৩ বার কলিংবেল চাপেন। আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনা তার ‘চরম মাত্রার আসক্তি ও আবেগপ্রবণ আচরণের’ প্রমাণ।

১৩ ডিসেম্বর এক খাদ্য সরবরাহকর্মীকে অনুসরণ করে পাশের ফটক দিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন সতর্কবার্তা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে ওই এলাকায় না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি সেই নির্দেশ অমান্য করেন। এরপরও তিনি বারবার জাংকুকের বাসভবনে যেতে থাকেন। পরিস্থিতির অবনতি হলে পুলিশ জরুরি নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যাতে তিনি বাড়িটির ১০০ মিটারের মধ্যে যেতে না পারেন। তবুও তিনি তা মানেননি।

অবশেষে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ তার বিরুদ্ধে মামলা করে এবং বিষয়টি প্রসিকিউটরদের কাছে পাঠায়। আদালতে ওই নারী দাবি করেন, তিনি এসব কাজ করেছেন ‘ভালোবাসা থেকে’। তিনি জাংকুকের জন্য চিঠি ও ছবি রেখে যাওয়ারও চেষ্টা করেছিলেন। রায়ে বিচারক বলেন, দণ্ড নির্ধারণের ক্ষেত্রে কয়েকটি লঘুকারক বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ পুনরায় করার ঝুঁকি খুব বেশি নয় বলে আদালত মনে করেছে। তবে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে সফল না হলে ওই নারীকে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত বছরের জুন মাসেও ৩০ বছর বয়সী এক চীনা নারীকে জাংকুকের বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সামরিক সেবা শেষ করে দেশে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি ওই চেষ্টা করেছিলেন।

সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জামায়াতের দুঃখ প্রকাশ

রাজধানীর ধানমন্ডিতে সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে এই ঘটনায় দায়ী দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন। তিনি বলেছেন, রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার যে অনাকাঙ্ক্ষিত, অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, আমরা তার জন্য আন্তরিকভাবে গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জামায়াত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ এবং যেকোনো গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সমাজ বিনির্মাণে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হওয়া বা কোনো ধরনের সহিংসতা কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়।

এহসানুল মাহবুব আরও বলেন, ধানমন্ডি জোনের বিক্ষোভ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ার পর সেখানে উপস্থিত কিছু অতিউৎসাহী ব্যক্তি বা অনাকাঙ্ক্ষিত বহিরাগতদের উসকানিতে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী বা কোনো উগ্র আচরণকে জামায়াতে ইসলামী কখনোই প্রশ্রয় দেয় না। এই ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত এবং কীভাবে এই ভুল বোঝাবুঝির সূত্রপাত হলো, তা খতিয়ে দেখতে দলের পক্ষ থেকে একটি অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা করা হবে। কোনো স্তরের কর্মীর সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জামায়াতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার এই ক্রান্তিলগ্নে গণমাধ্যম এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহযোগিতা বজায় থাকা অত্যন্ত জরুরি। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত হওয়া দৈনিক সকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশিরের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে জামায়াত আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। আবারও এই অনভিপ্রেত ঘটনার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।

সাইপ্রাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে হত্যা, লাশ লুকিয়ে চাওয়া হয় মুক্তিপণ

সাইপ্রাসে এক বাংলাদেশি যুবককে অপহরণের পর হত্যা করে তার লাশ জঙ্গলে পাতা দিয়ে ঢেকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত শাহরিয়ার আহমেদ ইমন (২২) নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার উত্তর বাখরনগর ইউনিয়নের লোচনপুর গ্রামের গ্রিসপ্রবাসী নাসির মিয়ার ছেলে।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে সাইপ্রাস পুলিশ গত রোববার শাহীন বাবু (২২) নামে এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় একটি জঙ্গল থেকে ইমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরিবারের বরাতে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে স্টুডেন্ট ভিসায় সাইপ্রাসে যান ইমন। বিদেশে যাওয়ার আগেই তিনি সেখানকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ভর্তি হন। সাইপ্রাসের লারনাকার ওরোক্লিনি এলাকায় বসবাস করতেন তিনি। তার পরিবারের সদস্যরা মাসিক খরচ বাবদ ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পাঠাতেন। পরিবারের ওপর চাপ কমাতে তিনি কাজের সন্ধান করছিলেন এবং এক পর্যায়ে একটি কাজও পান।

গত ১১ জুন বিকেলে মায়ের সঙ্গে ইমনের সর্বশেষ কথা হয়। তিনি মাকে জানান, কাজের ব্যবস্থা হয়েছে এবং সেদিন রাত থেকেই ডিউটি শুরু করবেন। বিষয়টি তিনি তার প্রবাসী বাবা ও রুমমেট রায়হান মিয়াকেও জানান। রায়হান তাকে কাজের স্থানে পৌঁছে লোকেশন পাঠাতে বলেছিলেন, যাতে প্রয়োজনে সহজে যোগাযোগ করা যায়। স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে কাজের স্থানে পৌঁছে হোয়াটসঅ্যাপে রায়হানের কাছে নিজের অবস্থানের লোকেশন পাঠান ইমন। কিছুক্ষণ পর রায়হান ‘ওকে’ লিখে জবাব দিলেও সেই বার্তাটি আর দেখেননি ইমন।

এর কিছুক্ষণ পর রাত ১০টার দিকে ইমনের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকেই তার বাবা নাসির মিয়ার কাছে একটি বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে লেখা ছিল, ‘আপনার ছেলেকে কিডন্যাপ করেছি। ছেলেকে ফিরে পেতে চাইলে ৩৫ হাজার ইউরো দিতে হবে। যদি দেন ছেলেকে ফিরে পাবেন, না দিলে তার চোখ ও কিডনি খুলে বিক্রি করে দেব।’ বার্তাটি পেয়ে নাসির মিয়া পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। তবে প্রথমে তারা ধারণা করেছিলেন, ইমনের হোয়াটসঅ্যাপ আইডি হয়তো হ্যাকড হয়েছে।

পরদিন ১২ জুন সকালে কাজ শেষে আর বাসায় ফেরেননি ইমন। এরপর রুমমেট রায়হান স্থানীয় থানায় গিয়ে নিখোঁজের অভিযোগ করেন। পরে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ইমনের পাঠানো লোকেশনেও খোঁজ করা হয়, কিন্তু তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এদিকে ইমনের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ২৪ ঘণ্টাই সচল ছিল এবং প্রতিদিনই পরিবারের কাছে মুক্তিপণের টাকা দাবি করছিল অপহরণকারীরা।

নিহতের ভাই নয়ন আহমেদ জানান, ইমনের কোনো খোঁজ না পেয়ে এক পর্যায়ে পরিবার মুক্তিপণের টাকা দিতে রাজি হয়। দর-কষাকষির মাধ্যমে বাংলাদেশি টাকায় পাঁচ লাখ টাকায় সমঝোতা হয় অপহরণকারীদের সঙ্গে।

তিনি বলেন, রোববার দুপুরে চুক্তি অনুযায়ী টাকা পাঠাতে ব্যাংকে যাই। সেখানে গিয়ে ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়ার পর টাকা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিই। এজন্য অপহরণকারীদের কাছে থাকা ভাইয়ের মোবাইল ফোন দিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে চাই। কিন্তু অপহরণকারীদের কথাবার্তা ও আচরণে সন্দেহ হলে টাকা না দিয়ে বাড়ি ফিরে আসি।

নয়ন আরও জানান, একপর্যায়ে ইমনের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর অফলাইনে চলে যায়। পরে ওই রাতেই তারা জানতে পারেন, সাইপ্রাস পুলিশ শাহীন বাবু নামে এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি জঙ্গল থেকে পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় ইমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া শাহীন বাবুর বাড়ি বাংলাদেশের কোন এলাকায়, সে বিষয়ে সাইপ্রাস পুলিশ এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা বলেন, সাইপ্রাসে এক শিক্ষার্থী অপহরণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় এক বাংলাদেশিকে সেখানকার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে শুনেছি। তবে বিষয়টি সাইপ্রাসের দূতাবাস থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

তিনি বলেন, নিহত তরুণের পরিবারের পক্ষ থেকেও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। তারা সহযোগিতা চাইলে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

রংপুরের তারাগঞ্জে ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে মুজাহিদ ইসলাম (১৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে মুজাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে তারাগঞ্জ থানার ওসি রুহুল আমিন জানান, গ্রেপ্তার যুবক মুজাহিদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তার দেওয়া বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুতই বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।

তবে ধর্ষণের পরেই শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

নিহত শিশুটি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। গত শুক্রবার দুপুরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি ও মাইকিং করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন শনিবার সকালে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে একটি পাটখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এই ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা গত রোববার তারাগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, শিশুটিকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা।

বিয়ে নিয়ে বিতর্ক, কাগজপত্র নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন ববি

ব্যবসায়ী মির্জা আবুল বাশারের সঙ্গে নাম জড়িয়ে ‘কথিত স্ত্রী’ বা ‘স্ত্রী’ উল্লেখ করে ঢালিউড অভিনেত্রী ইয়ামিন হক ববিকে নিয়ে খবর ছড়িয়েছে। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ববি। অভিনেত্রীর দাবি, মির্জা আবুল বাশারের সঙ্গে তাকে জড়িয়ে ছড়ানো খবরটি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

গতকাল এফডিসিতে শিল্পী সমিতির নির্বাচনের মনোয়নপত্র জমা দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিতর্কিত বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন ববি।

বিয়ের দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে ববি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘ওই ব্যক্তি (আবুল বাশার) আমার স্বামী নন। কেউ যদি তার বিয়ের কোনো বৈধ কাগজপত্র বা বিটিএল গ্রুপের সাথে ব্র্যান্ড প্রমোশন ছাড়া অন্য কোনো লিগ্যাল সম্পৃক্ততা দেখাতে পারে, তবে তিনি যা চাইবেন তাই করতে প্রস্তুত আছেন।’

বিটিএল গ্রুপের কার্যালয়ের চেয়ারে বসা একটি ছবি প্রসঙ্গে নায়িকা বলেন, ‘একজন শিল্পী হিসেবে বিভিন্ন অফিসে গেলে সম্মান করে তাকে চেয়ারে বসতে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে উপহার দেওয়া হয়। সেসব ছবিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’

505316028 1301987907949386 8111450161644580907 n 1782207908

বিয়ে নিয়ে মিথ্যা সংবাদ পরিবারের ভোগান্তি ও মানসিক চাপ বাড়িয়েছে বলেও জানান ববি। তিনি বলেন, আমার পরিবারের অধিকাংশ সদস্য দেশের বাইরে থাকেন। এই অদ্ভুত সংবাদগুলো দেখে তারা বিভ্রান্ত ও বিচলিত হয়ে পড়েছেন। এই গুজবের কারণে তার মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।’

তার মতে, ‘ময়না’ সিনেমায় ওই ব্যক্তি আংশিক প্রযোজক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। মূলত ববি নামটি যোগ করলে সংবাদটি দ্রুত ভাইরাল হবে—এমন চিন্তা থেকেই এই প্রপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেন নায়িকা।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে মির্জা আবুল বাশার মামুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর কয়েকটি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, তাকে ববির বাসা থেকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু প্রতিবেদনে ববিকে তার ‘কথিত স্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ চুক্তি হতে পারে ডিসেম্বরে

সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, বৈদেশিক খাতের চাপ মোকাবিলা এবং বাজেট সহায়তা জোরদারের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ পেতে পারে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ডিসেম্বরে নতুন ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে।

তবে আইএমএফের সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচি থেকে সরে এসে সম্পূর্ণ নতুন চুক্তিতে যাওয়ার এই উদ্যোগকে সরকারের জন্য বড় ধরনের আস্থার পরীক্ষার মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, আগের কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার শর্তগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়ায় নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে সরকার দ্রুত কিছু বাস্তব ও দৃশ্যমান সংস্কার কার্যক্রম শুরু করলে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনায় তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা সম্ভব হবে।

এদিকে নতুন ঋণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল আগামী ১২ থেকে ১৭ জুলাই ঢাকা সফর করবে। আইএমএফের বাংলাদেশ মিশন প্রধান ইভো ক্রজনার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। সফরকালে তারা সরকারের সংস্কার এজেন্ডা, নীতিগত অগ্রাধিকার, সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচির কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ২০২২ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শুরু হওয়া আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার। কারণ কর্মসূচির বেশ কয়েকটি শর্ত সরকারের অর্থনৈতিক নীতি ও নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করা হচ্ছে। এ কারণে বিদ্যমান কর্মসূচির পরিবর্তে নতুন করে তিন বছর মেয়াদি একটি ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

অর্থ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, আগামী মাসে আইএমএফ মিশনের সফরের সময় সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হবে। অক্টোবরে আরেকটি পর্যালোচনা মিশন আসতে পারে। পরে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভায় আলোচনার পর আইএমএফের নির্বাহী বোর্ড অনুমোদন দিলে ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন ঋণ কর্মসূচি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, সাধারণত আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচি অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়ায় ছয় থেকে ৯ মাস সময় লাগে। তবে বাংলাদেশ দ্রুত এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণের কাজ চলছে। তিন বছর মেয়াদি কর্মসূচির আওতায় কোন কোন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে, তার একটি অগ্রাধিকার তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে। আগের কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত অনেক সংস্কার পদক্ষেপ বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বাস্তবায়ন করা কঠিন। নতুন কর্মসূচিতে আইএমএফ এসব সংস্কার পুরোপুরি বাদ দিতে রাজি নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বাস্তবায়নের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়া বা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে। রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, এনবিআর ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং বিনিময় হার ব্যবস্থাকে আরও নমনীয় করার মতো বিষয়গুলো নতুন কর্মসূচিতেও গুরুত্বপূর্ণ স্থান পাবে।

বাংলাদেশ ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়। পরে কর্মসূচির আকার বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলার করা হয়। এ পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে প্রায় ৩৬০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ ছাড় হয়েছে। তবে রাজস্ব আহরণ, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক খাত সংস্কারে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হওয়ায় পঞ্চম ও ষষ্ঠ কিস্তির প্রায় ১৩০ কোটি ডলার ছাড় স্থগিত হয়ে যায়।
সরকার ও আইএমএফের মধ্যে মতপার্থক্যের প্রধান ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে অভিন্ন ১৫ শতাংশ ভ্যাট হার চালু, টার্নওভার কর চালু, কর অব্যাহতি কমানো, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও সারের ভর্তুকি কমানো, ব্যাংক খাত সংস্কার এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড পুনর্গঠন।

জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক সমকালকে বলেন, আইএমএফের একটি কর্মসূচি মাঝপথে বন্ধ করে নতুন কর্মসূচিতে যাওয়া সরকারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, আগের ঋণ কর্মসূচির শর্তগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে কিছুটা বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট তৈরি হওয়ার ঝুঁকি
রয়েছে। আইএমএফ স্বাভাবিকভাবেই জানতে চাইবে, আগের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন না করে নতুন চুক্তিতে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তাঁর মতে, আগের অভিজ্ঞতার কারণে নতুন ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত খুব একটা সহজ হবে না। তবে সরকারের
জন্য সুযোগও রয়েছে। আলোচনা শুরুর আগেই যদি কিছু দৃশ্যমান সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে আইএমএফের সঙ্গে দর কষাকষিতে সুবিধা পাওয়া সম্ভব হবে এবং শর্তের কঠোরতাও কিছুটা কমানো যেতে পারে।

৪ সংসদ সদস্য আদিবাসীদের আয়কর অব্যাহতি বহাল চান

পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর আরোপিত নতুন আয়কর প্রত্যাহারের দাবিতে অর্থমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়েছেন ওই অঞ্চলের চার সংসদ সদস্য। গত ১০ জুন জাতীয় সংসদে পেশকৃত অর্থবিলে আদিবাসীদের বেতন ও আর্থিক সম্পদ থেকে অর্জিত আয়ের ওপর কর আরোপের যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তা বাতিলের অনুরোধ জানিয়েছেন তারা। চিঠিতে স্বাক্ষরকারী সংসদ সদস্যরা হলেন খাগড়াছড়ি আসনের আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি আসনের দীপেন দেওয়ান, বান্দরবান আসনের সাচিং প্রু এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাধবী মার্মা।

অর্থমন্ত্রীর কাছে লেখা চিঠিতে তারা জানিয়েছেন, আদিবাসীদের বর্তমান আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনায় তাদের পূর্বের মতো পূর্ণাঙ্গ আয়কর অব্যাহতির সুবিধা বহাল রাখা প্রয়োজন। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় বসবাসরত আদিবাসীদের সিংহভাগ আয়ের উৎস জুম চাষ ও কৃষি। কাপ্তাই বাঁধের ফলে আদিবাসীদের অধিকাংশ ধানী জমি তলিয়ে যাওয়ায় তারা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ ছাড়া পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এ অঞ্চলের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছেন। এখনও প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষের প্রধান উৎস ঝরনা বা কুয়ার পানি এবং ৫০ শতাংশ মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা নেই।

চিঠিতে বলা হয়, ১৯৪৮ সালের আয়কর অধ্যাদেশ এবং পরবর্তীকালে ২০২৩ সালের আয়কর আইনের ষষ্ঠ তপশিলে আদিবাসীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে করমুক্ত রাখা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের প্রস্তাবিত অর্থবিলে ‘বেতন হতে আয় ও আর্থিক সম্পদ হতে আয় ব্যতীত’ শব্দগুলো যুক্ত করার ফলে এখন থেকে আদিবাসীদের বেতন ও জমানো টাকার ওপর কর দিতে হবে, যা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। আদিবাসীদের ওপর এই করের বোঝা চাপিয়ে দিলে তাদের জীবনমানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
চিঠিতে সংসদ সদস্যদের প্রধান দুটি দাবি হলো, ২০২৩ সালের আয়কর আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী বাতিল করে আদিবাসীদের বেতন ও আর্থিক সম্পদের ওপর কর অব্যাহতি বহাল রাখা এবং ব্যক্তিগত আয়ের পাশাপাশি আদিবাসীদের মালিকানাধীন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান (যেমন, ফার্ম, কোম্পানি, সমিতি ইত্যাদি) যেসব কাজ পার্বত্য জেলায় পরিচালিত হয়, সেগুলোকে করমুক্ত ঘোষণা করা।

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ কর্মসূচি

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। এতে দৈনিক সকালের রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশিরসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বিক্ষোভ মিছিল করে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ধানমন্ডি জোন। কর্মসূচিতে জামায়াত নেতা মুস্তাফিজুর রহমান, মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন, আনিসুজ্জামান ও জাহিনুর রহমানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

মিছিল শেষে ব্রিফিংয়ে এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ ঘিরে সাংবাদিক ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন নেতাকর্মী সাংবাদিকদের ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ বলে মন্তব্য করেন। এর প্রতিবাদ করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

এতে মাহফুজুর রহমান শিশির গুরুতর আহত হন। তার মুখ দিয়ে রক্ত ঝরতে দেখা যায়। এ ছাড়া মারধরে আহত হন কালবেলার সংবাদকর্মী আব্দুর রহমান ইশান ও যমুনা টিভির রিপোর্টার রাব্বী সিদ্দিকীসহ কয়েকজন। পরে ঘটনাস্থলে থাকা অন্য সাংবাদিকরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের মিডিয়া বিভাগের পরিচালক আশরাফ ইমন সমকালকে বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক।

তাঁর দাবি, মিছিল শেষে দ্রুত কর্মসূচি শেষ করার জন্য কয়েকজন সাংবাদিক চাপ দিচ্ছিলেন। তখন বোঝা যাচ্ছিল না কে সাংবাদিক আর কে নয়। তারপর বাকবিতণ্ডা থেকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এজন্য জামায়াত দুঃখ প্রকাশ করছে। সেই সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, সেখানে বাকবিতণ্ডা হয় এবং তখনই সেটা নিষ্পত্তি হয়ে যায় বলে শুনেছি। কেউ আহত হয়ে থাকলে দুঃখজনক। আমি এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি।

বিশ্লেষণ তেলের দামের ভবিষ্যত এখন চীনের হাতে, কীভাবে

হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্থায়ীভাবে চালুর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যখন আলোচনায় ব্যস্ত, তখন জ্বালানি বাজারের পরবর্তী পরিস্থিতি সম্ভবত তৃতীয় কোনো দেশের ওপর নির্ভর করছে। সেই দেশ হলো- চীন।

দেশটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল ব্যবহারকারী। ইরান যুদ্ধের কারণে প্রতিদিন ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বেইজিং জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।

এর মধ্যে আছে- আমদানি কমিয়ে দেওয়া, বিশাল মজুতের ওপর নির্ভর করা এবং পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়ানো। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশীয় বাজারে তেলের উচ্চমূল্যের প্রভাব পুরোপুরি দূর করতে না পারলেও তা অনেকটাই সামাল দিতে পেরেছে। যেটির প্রভাব বিশ্ববাজারেও বেশ ভালোভাবেই অনুভূত হয়েছে।

তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধের পর কিছু বিশ্লেষক পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, চলতি বছরে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ২০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। তবে বাজারে মোট অনুমিত ঘাটতি ১০০ কোটি ব্যারেল ছাড়িয়ে যাওয়ার পরও অপরিশোধিত তেলের দাম তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে আছে। অনেক বিশ্লেষক এর প্রধান কারণ হিসেবে চীনের ভূমিকার দিকে ইঙ্গিত করছেন।

জ্বালানি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘এম্বার’-এর প্রধান দান ওয়াল্টার বলছেন, এশিয়ার বাকি দেশগুলোর ওপর এই ধাক্কা সামাল দিতে চীন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এর মাধ্যমে তারা পরোক্ষভাবে বিশ্ব অর্থনীতিকেও বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছে।

বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। সামনের দিনগুলোতে হয়তো এই প্রণালি স্বাভাবিক বাণিজ্যের জন্য খুলে দেওয়া হবে। এমন আশার খবরে সোমবার ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম ব্যারেল প্রতি ৭৮ ডলারের নিচে নেমে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাতের ওপর চীনের প্রভাব বাড়ছে। ফলে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বেইজিংয়ের ভবিষ্যত নীতি ও তেলের ব্যবহারও বাজারে মূল্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।

চীনের ‘অদৃশ্য হাত’
চলতি মাসের শুরুতে ফরাসি বহুজাতিক ব্যাংক ‘সোসিয়েত জেনেরাল’-এর বিশ্লেষকরা একটি গবেষণা নোট প্রকাশ করেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৩ সালের আরব নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ মাত্র ৭ শতাংশ কমেছিল। কিন্তু দাম বেড়েছিল ১৩৪ শতাংশ। ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহে ক্ষতির পরিমাণ ১৪ শতাংশ। তারপরও দাম সেই তুলনায় আকাশচুম্বী হয়নি।

রপ্তানির জন্য রাখা গাড়ি। সম্প্রতি চীনের একটি বন্দরে। ছবি: এএফপি

রপ্তানির জন্য রাখা গাড়ি। সম্প্রতি চীনের একটি বন্দরে। ছবি: এএফপি

বিশ্লেষকরা এই বৈপরীত্যের জন্য মূলত চীনের ভূমিকাকে দেখছেন। এই ভূমিকাকে তারা অভিহিত করেছেন ‘বাজারের ভারসাম্য রক্ষাকারী এক অদৃশ্য হাত’ হিসেবে। এর কারণ হলো, প্রতিদিন প্রায় ৩০ লাখ ব্যারেল তেল আমদানি কমিয়ে আনার ক্ষমতা আছে চীনের। যা জাপানের মোট অপরিশোধিত তেলের চাহিদার প্রায় সমান।

বেশ কিছু কারণে চীন তাদের তেলের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘রিস্টাড এনার্জি’র তেল বাজার বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জানিভ শাহ জানান, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে থেকেই চীন তাদের ‘ব্যাক-আপ’ বা জরুরি অপরিশোধিত তেলের মজুত গড়ে তুলছিল। আর এতে বড় ভূমিকা রেখেছে রাশিয়া ও ইরানের সস্তা তেল।

বর্তমানে চীনের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত রিজার্ভে ১০০ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল আছে। যা তারা গত মে মাস থেকে ব্যবহার করতে শুরু করেছে। এছাড়া, অভ্যন্তরীণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে চীনা সরকার ডিজেল ও পেট্রলের মতো পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য রপ্তানি সীমিত করেছে। ফলে দেশটির শোধনাগারগুলো বিশ্ববাজার থেকে নতুন করে অপরিশোধিত তেল কেনার আগ্রহ হারিয়েছে।

এদিকে, বৈদ্যুতিক যানবাহনের (ইভি) ব্যাপক প্রসার চীনের জীবাশ্ম জ্বালানির প্রয়োজনীয়তাকেও কমিয়ে দিয়েছে। দেশটিতে বর্তমানে বিক্রি হওয়া প্রতি দুটি নতুন যাত্রীবাহী গাড়ির মধ্যে প্রায় একটি ‘নিও এনার্জি ভেহিকেল’ বা বৈদ্যুতিক গাড়ি। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) হিসাব অনুযায়ী, গত বছর বৈদ্যুতিক গাড়িগুলো প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেলের ব্যবহার কমিয়েছে।

চীনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত বিশেষজ্ঞ এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান ল্যান্টাও গ্রুপের প্রধান ডেভিড ফিশম্যান বলছেন, তেলের চড়া দামের কারণে গ্রাহক ও শোধনাগারগুলোর চাহিদা হয়তো আগামীতেও কম থাকবে। তবে অপরিশোধিত তেলের মজুত চিরকাল ধরে রাখা সম্ভব নয়। যদি দাম কিছুটা কমে যায়, তবে চীন হয়তো আবারও সবার আগে মজুত বাড়ানো শুরু করবে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বছরও বিশ্বজুড়ে তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। তবে সাম্প্রতিক এই অস্থিরতা নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রতি আগ্রহকেও বাড়িয়ে দিয়েছে। চীন গত মার্চ মাসে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি পণ্য রপ্তানিতে রেকর্ড গড়েছে। এই ধারা চলতে থাকলে দীর্ঘমেয়াদে অপরিশোধিত তেলের ব্যবহার কমে যেতে পারে। যা স্বাভাবিকভাবে দামেও প্রভাব ফেলবে।