Home Blog Page 78

একীভূত বা অধিগ্রহণে বিএসইসির পর্যবেক্ষণ বাধ্যতামূলক হচ্ছে

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সঙ্গে অন্য কোনো তালিকাভুক্ত বা অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণে শেয়ারহোল্ডার ও হাইকোর্টের অনুমোদন নিতে হয়। এ বিষয়ে কোনো আইনি বিধান না থাকায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পর্যবেক্ষণ বা অনুমোদন নেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
বিএসইসি বলছে, এ-সংক্রান্ত প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে প্রথমবারের মতো বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (করপোরেট রিস্ট্রাকচারিং) রুলস, ২০২৬ নামে এ বিধিমালার খসড়া জনমত যাচাইয়ের জন্য সংস্থাটি প্রকাশ করেছে। আগামী ৭ জুনের মধ্যে অংশীজনদের এ বিষয়ে মতামত পাঠাতে অনুরোধ করছে সংস্থাটি।

প্রস্তাবিত এই বিধিমালা প্রণয়নের উদ্দেশ্য বিষয়ে কমিশন বলেছে, করপোরেট পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে সঠিক মূল্যায়ন, পর্যাপ্ত তথ্য প্রকাশ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, যাতে সাধারণ বিনিয়োগকারী বিশেষ করে সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা পায়।

একীভূতকরণ বা অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে বর্তমান কোম্পানি আইন অনুযায়ী হাইকোর্টের অনুমোদন নিয়ে থাকে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি। এ প্রক্রিয়ায় বিএসইসির পক্ষভুক্ত হয়ে মত দেওয়ার সুযোগ থাকলেও অতীতে সিংহভাগ ক্ষেত্রে স্বার্থান্বেষী মহলের পক্ষে মত দিয়েছে বা মতামত প্রদান থেকে বিরত থেকেছে বিএসইসি। ফলে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ লঙ্ঘিত হয়েছে।
মার্জার বা একীভূতকরণ হলো–দুই বা ততধিক কোম্পানি একটি কোম্পানিতে রূপান্তর করা। এক্যুইজিশন বা অধিগ্রহণ হলো একটি কোম্পানি যখন অন্য কোম্পানিকে কিনে নিজের করপোরেট কাঠামোর মধ্যে নিয়ে পরিচালনা করে। উভয়ক্ষেত্রে একাধিক কোম্পানি শেষ পর্যন্ত একটি কোম্পানি হিসেবে পরিচালিত হয়। এক্ষেত্রে আগের যেকোনো একটি কোম্পানির নামে পুনর্গঠিত কোম্পানি কার্যক্রম চালাতে পারে। অথবা নতুন কোনো নামও ধারণ করতে পারে।

বিএসইসির খসড়া বিধিমালা অনুমোদন হলে কমিশনের পর্যবেক্ষণ ছাড়া কোনো মার্জার বা একুইজিশন স্কিম বাস্তবায়নে পরবর্তী ধাপে যাওয়া যাবে না। খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী, শেয়ার বিনিময়ের হার বা কনভারশন রেট নির্ধারণে স্বচ্ছতা আনতে কোম্পানিগুলোকে বিএসইসি নির্ধারিত প্যানেলভুক্ত অডিট ফার্ম বা মার্চেন্ট ব্যাংকারকে স্বাধীন মূল্যায়নকারী হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে।

পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ও আইনি কাঠামো
খসড়া বিধিমালায় বলা হয়েছে, কোনো কোম্পানি পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করলে প্রথমে তার পরিচালনা পর্ষদে সেটি অনুমোদন করতে হবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে বিএসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জে পর্যবেক্ষণ নিতে জমা দিতে হবে। বিএসইসি এবং স্টক এক্সচেঞ্জ পর্যবেক্ষণ দেওয়ার পর বিশেষ সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের সভায় (ইজিএম) বিশেষ প্রস্তাবের মাধ্যমে এটি অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে। শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা, পরিচালক এবং ৫ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণকারীদের বাদে উপস্থিত সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের অন্তত ৭৫ শতাংশের সম্মতি প্রয়োজন হবে। চূড়ান্ত পর্যায়ে কোম্পানিকে মহামান্য হাইকোর্টের অনুমোদন নিতে হবে।

মূল্যায়ন পদ্ধতি ও তদারকি
খসড়া বিধিমালা অনুসারে, সম্পদ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে কমিশন নির্ধারিত প্যানেল অডিটর বা মার্চেন্ট ব্যাংকারকে স্বাধীন মূল্যায়নকারী হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। সম্পদ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে দুটি ভিন্নধর্মী পদ্ধতি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে বলা হয়েছে, স্বকীয় মূল্যায়ন পদ্ধতিগুলো (অ্যাবসলিউট ভ্যালুয়েশন) এবং তুলনামূলক মূল্যায়ন পদ্ধতি (রিলেটিভ ভ্যালুয়েশন) থেকে অন্তত দুটি করে পদ্ধতি অনুসরণ করে থেকে সম্পদ মূল্যায়ন এবং শেয়ার বণ্টন অনুপাত নির্ধারণ করতে হবে। স্বকীয় সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নিজস্ব আয় ও নগদপ্রবাহের মতো মৌলিক ভিত্তিগুলো দেখা হয় এবং তুলনামূলক মূল্যায়ন পদ্ধতিতে সমজাতীয় অন্য কোম্পানির সঙ্গে তুলনা করে দাম নির্ধারণ করা হয়।

প্রতিবেশী দেশ ভারত ছাড়াও উন্নত দেশগুলোতে করপোরেট পুনর্গঠনের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই শক্তিশালী আইনি কাঠামো অনুসরণ করছে। ভারতে কোম্পানি আইনের অধীনে এনসিএলটি নামক বিশেষ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া তদারকি করে, যা উচ্চ আদালতের দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকে।
এদিকে একীভূতকরণ বা অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার ফলে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ওপর কী প্রভাব পড়বে সে বিষয়ে একটি পৃথক প্রতিবেদন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে খসড়া বিধিমালায়। যারা এমন স্কিমের বিপক্ষে মত দেবেন বা ভিন্নমতালম্বী হবেন, তাদের একটি তালিকাও কমিশনকে দিতে হবে।

খসড়া এ বিধিমালাকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্চেন্ট ব্যাংকের কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে পুরো স্কিম সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের সবার পছন্দ নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে কেউ যদি নতুন ব্যবস্থায় শেয়ারহোল্ডার থাকতে না চান, তার শেয়ার ছেড়ে দেওয়ার পদ্ধতি আছে। এ বিধানে এ বিষয়ে নিয়ম রাখা যেত।
জানতে চাইলে ব্রোকারদের সংগঠন ডিবিএর সভাপতি সাইফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, এতদিন যত একীভূতকরণ বা অধিগ্রহণ হয়েছে, তার সিংহভাগ ক্ষেত্রে জাল-জালিয়াতি হয়েছে, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ঠকেছেন। কমিশন এই জালিয়াতি কীভাবে ঠেকাবে এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করবে–এ বিষয়গুলো দেখতে হবে।

ব্যাংক আরও সংকটে সরকার ও গভর্নরে: জামায়াত

জামায়াতে ইসলামী অভিযোগ করেছে, শরিয়াভিত্তিক পাঁচ ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম গভর্নরের অযোগ্যতা ও সরকারের অযাচিত হস্তক্ষেপে মুখ থুবড়ে পড়েছে। আমানতকারীরা সর্বস্ব হারিয়ে হাহাকার করছে। সরকার সংকট নিরসন না করে ব্যাংকে নিজের লোক বসিয়ে ব্যাংকিং খাতকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলছে।

শনিবার বিবৃতিতে এসব অভিযোগ করেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, অর্থনীতির অন্যতম মূল চালিকা শক্তি হলো ব্যাংকিং সেক্টর। ফ্যাসিস্ট আমলে লুটপাট হয়ে যাওয়া ব্যাংক ব্যবস্থা পুনর্গঠনের দিকে নজর না দিয়ে সরকার নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নে তৎপর রয়েছে। কয়েকটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। অনেক ব্যাংক ডিভিডেন্ড দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। চরম তারল্য সংকটে ভুগছে। খেলাপি ঋণ দিনদিন বাড়ছে। যা সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর মহাদুর্যোগ সৃষ্টি করছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রেমিট্যান্স আহরণে, আমদানি-রপ্তানিতে ও শিল্প-বাণিজ্যে শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক নিয়েও চলছে বহুমুখী ষড়যন্ত্র চলছে। বৈধ ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) জোর করে পদচ্যুত করা হচ্ছে। অযোগ্যদের পর্ষদে বসিয়ে সফল ব্যাংকটিকে স্থবির করার চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে বিনিয়োগে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তিন কোটি আমানতকারী এবং ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় মিলিয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৮০ লাখ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীকে চরম হুমকিতে ফেলা হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকিং ধ্বংস হলে পুরো ব্যাংকিং খাত ধ্বংস হবে বলে সরকারকে সতর্ক করে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেই মব তৈরি করে দলের অনুগত এবং অনুকম্পা নিয়ে ঋণ পুনঃতপশিলকারী মধ্যমসারির ব্যবসায়ীকে গভর্নর নিয়োগ করেছে। অভিলম্ব জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য পেশাদার ব্যক্তি হিসেবে গভর্নর নিয়োগ দিতে হবে। ইসলামী ব্যাংকের এমডিকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।

রাজনৈতিক ট্যাগ জনজীবন বিষাক্ত করে তুলছে

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ করে ‘ট্যাগ’ বা লেবেল ব্যবহার করার সংস্কৃতি ধীরে ধীরে জনজীবনকে বিষাক্ত করে তুলছে বলে মন্তব্য করেছেন পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রবণতা শুধু রাজনৈতিক বিভাজনই বাড়াচ্ছে না, বরং রাষ্ট্রীয় শাসন ও নীতিনির্ধারণের বাস্তব ও নিরপেক্ষ মূল্যায়নকেও বাধাগ্রস্ত করছে।

গতকাল শনিবার ‘নতুন সরকারের ৩ মাস: একটি প্রাথমিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক ওয়েবিনারে তিনি এ কথা বলেন। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমে অনুষ্ঠিত এ আলোচনার আয়োজন করে পিপিআরসি। এতে নীতি বিশ্লেষক, আইন বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অংশ নেন।

হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক আলোচনাকে আবেগনির্ভর রাজনৈতিক বিতর্ক থেকে বের করে প্রমাণভিত্তিক ও তথ্যনির্ভর বিশ্লেষণের দিকে নিয়ে যেতে হবে। রাজনৈতিক বিরোধীদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিন্দাসূচক লেবেল দেওয়া এখন একটি শিকড়গাড়া সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে, যা জনআলোচনাকে দূষিত করছে এবং নীতি বিশ্লেষণের স্বচ্ছতা নষ্ট করছে। তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক ও ব্যবসায়িক অংশীজনদেরও গঠনমূলক জনআলোচনার মাধ্যমে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলায় ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার তিন ধরনের ‘বোঝা’ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। এগুলো হলো উত্তরাধিকারের সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিরতা এবং জনপ্রত্যাশা পূরণে দলীয় প্রতিশ্রুতি। তাঁর ভাষায়, দীর্ঘ কর্তৃত্ববাদী শাসনের কারণে দেশের প্রাতিষ্ঠানিক ও অর্থনৈতিক ক্ষত গভীর হয়েছে। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কার্যসম্পাদনে ঘাটতির কারণে নতুন সরকারের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে হোসেন জিল্লুর বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের কারণে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে, যার প্রভাব আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়ছে। তিনি আরও বলেন, নতুন সরকার দীর্ঘ সময় নিয়ে তৈরি ইশতেহারে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ দর্শনের কথা বললেও তা বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, নতুন সরকারের প্রথম তিন মাস একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়, যেখানে সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, বাজার স্থিতিশীলতা এবং নীতি বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে। বক্তাদের মতে, এই সময়টি অনিশ্চয়তা ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে কাঠামোগত সংস্কারের জটিলতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজনীতিকরণ থেকে কতটা বের হওয়া গেছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তিনি আরও বলেন, প্রশাসনিক নিয়োগে পুরোনো ধারা অব্যাহত রয়েছে এবং পুলিশি মনোবল এখনও পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয়নি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনতার সহিংসতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বলেন, বর্তমান সরকারকে একদিকে আগের প্রশাসনের দুর্বলতা মোকাবিলা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে বৈশ্বিক সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির চাপও সামাল দিতে হচ্ছে। এতে রপ্তানি, বিনিয়োগ এবং ঋণপ্রবাহে চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, রপ্তানি খাতে ধীরগতি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সামরিক ও কৌশলগত বিশ্লেষক ডা. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ এখন বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে অবস্থান করছে। ভারত-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা, বঙ্গোপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি এবং পানিসহ আঞ্চলিক সম্পদের নিরাপত্তাবিষয়ক চাপ দেশের কৌশলগত অবস্থানকে জটিল করে তুলছে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমান বলেন, জাতীয় ঐক্য ছাড়া আন্তর্জাতিক আলোচনায় শক্ত অবস্থান নেওয়া কঠিন। তিনি আসিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর গুরুত্ব দেন এবং অতীতের সব উদ্যোগকে রাজনৈতিক কারণে বাতিল না করার আহ্বান জানান।

রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে মিরপুর-১০ গোলচত্বর অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর গোলচত্বরে অবস্থান করে বিভিন্ন স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। এতে মিরপুর-১০ ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বিক্ষোভকারীরা ‘জাস্টিস ফর রামিসা’, ‘ফাঁসি চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের দাবি, শিশু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা বন্ধেরও আহ্বান জানান তারা।

গত ১৯শে মে রাজধানীর পল্লবী এলাকার একটি বাসা থেকে ৭ বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। পরে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রতিবেশী সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মামলার তদন্ত দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রামিসার বাসায় গিয়ে তার পরিবারকে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন।

আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শিশু রামিসাকে যেভাবে হত্যা করে সোহেল রানা

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির লছাত্রী শিশু রামিসা আক্তারকে (৭) ধর্ষণের পর গলাকেটে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সোহেল রানা আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামি সোহেল রানার জবানবন্দিতে দ্বিতীয় শ্রেণির এই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা এবং তার নিথর দেহ থেকে মাথা ধারালো চাকু দিয়ে আলাদা করাসহ ছোট্ট শিশুটির শরীরের ওপর স্বামী-স্ত্রীর নৃশংসতার লোমহর্ষক কাহিনি উঠে এসেছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ গত বুধবার তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

জবানবন্দিতে সোহেল রানা জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এ সময় সোহেল তাকে গলাকেটে হত্যা করে।

রানা জানায়, দরজা খোলার পর মেয়েটিকে দেখে তার বিকৃত যৌন লালসা জেগে ওঠে। ওই সময় ইয়াবা আসক্ত হওয়ায় মেয়েটিকে ডেকে ঘরের বাথরুমে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়। মেয়েটি তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে গোটা ঘটনা ফাঁস হওয়ার আতঙ্কে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। একপর্যায়ে লাশ গুমে সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন রানার স্ত্রী।

আদালতে জবানবন্দিতে সোহেল রানা বলেন, তারা একই ভবনে পাশাপাশি কক্ষে থাকতেন। শিশুটির পরিবারসহ তিনটি পরিবারের বাস ছিল একই তলার পাশাপাশি। ঘটনার দিন সকাল ৯টার দিকে শিশুটিকে দেখে ইয়াবা আসক্ত সোহেলের মধ্যে বিকৃত যৌন লালসা তৈরি হয়। সুযোগ বুঝে শিশুটিকে নিজের কক্ষে ডেকে নেয় সে। পরে জোর করে বাথরুমে নিয়ে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়ে ধর্ষণ করে।

সোহেল জানায়, ঘটনার পর শিশুটি তার মা-বাবাকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে সোহেল। নিজের অপরাধ ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় একপর্যায়ে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বিষয়টি জানতে পারেন। পরে স্বামীকে বাঁচাতে লাশ গোপন করার পরিকল্পনা করেন। লাশ গুম করতে তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে ফেলা হয়। এছাড়া তার যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধের কাছ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরপর লাশ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখা হয়। এ সময় মেয়েটির মা দরজায় নক করছিলেন। তখন মূল আসামি সোহেল যাতে পালাতে পারে, সেই সুযোগ করে দিতে স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘক্ষণ দরজা বন্ধ রাখেন। সোহেল জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার পর স্বপ্না দরজা খোলেন। পুরো প্রক্রিয়াতেই সোহেলকে সহযোগিতা করেন তিনি।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে একই ভবনের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে তার মেয়েকে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যায়। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে অভিযুক্তদের কক্ষের সামনে মেয়ের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাডাকি করা হয়। কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে শয়নকক্ষের মেঝেতে তার মেয়ের মস্তকবিহীন লাশ ও বিচ্ছিন্ন মাথা পাওয়া যায়।

এজাহারে বলা হয়, শিশুটিকে কক্ষে নেওয়ার সময় সোহেলের সঙ্গে অজ্ঞাতপরিচয় আরও এক ব্যক্তি ছিল।

ঈদের পর রামিসা হত্যা মামলার বিচার শুরু: আইনমন্ত্রী

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডিএনএ রিপোর্ট আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাওয়া গেলে পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে ঈদের পরপরই এ মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

আজ শনিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘আইনগত সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ: দায়িত্ব ও বাস্তবায়ন কৌশল’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের মামলায় ডিএনএ রিপোর্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ৭২ ঘণ্টার বেশি ডিএনএ রিপোর্ট তৈরি করতে সময় লাগার কথা নয়। সে ক্ষেত্রে দ্রুত সময়ের মধ্যে ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়া যাবে বলে আশা করি।’

তিনি বলেন, ডিএনএ রিপোর্ট ছাড়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করলে পরবর্তী সময়ে বিচার প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে। তাই ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরপরই পুলিশ চার্জশিট দাখিল করবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদের আগেই চার্জশিট দেওয়া সম্ভব হবে।

মামলাটির বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার প্রত্যয় জানিয়ে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঈদের ছুটির পরপরই এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যার বিচার করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যত দ্রুত সম্ভব এই মামলার বিচার শেষ করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিচ্ছে। পুরো বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য রাখতে কাজ করা হচ্ছে। যাতে বিচার শেষে জনমনে কোনো ধরনের সংশয় বা প্রশ্ন না থাকে।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সরকারি আইনগত সহায়তা কেন্দ্রকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই। আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন। গরিব, অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে হবে।’

বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুরুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- আইন সচিব খাদেম উল কায়েস, লিগ্যাল এইডের উপ-পরিচালক মাসুদা ইয়াসমিন, সহকারী পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লব প্রমুখ। মুক্ত আলোচনায় ব্লাস্ট, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, আইন সালিশ কেন্দ্র, ইউএনডিপিসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই সঙ্গে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহেল রানা।

এলপিএলে সাকিব ও তাসকিন, খেলবেন কোন দলে

আবারও প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরছেন সাকিব আল হাসান। লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) জাফনা কিংস দলের হয়ে খেলবেন তিনি। একই দলে খেলবেন আরেক অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদ। শ্রীলঙ্কার এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে তাদের সরাসরি চুক্তিতে দলে নিয়েছে জাফনা কিংস।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেছে টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে ফিরছেন সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

এলপিএলের পক্ষ থেকে সাকিবের কার্ড–সংবলিত এক পোস্টে বলা হয়েছে, ‘টি-টুয়েন্টির অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান যোগ দিলেন জাফনা কিংসে। এলপিএল সামনে রেখে তাঁকে দলে নেওয়া হয়েছে। চাপের মুহূর্তে তাঁর অভিজ্ঞতা ও স্থিরতাই হয়ে ওঠে দলের বড় ভরসা।’

পৃথক পোস্টে তাসকিনকে দলে নেওয়ার কারণ ব্যাখা করে এলপিএল জানিয়েছে, ‘জাফনা পেস আক্রমণ যুক্ত করল আগুন ঝরানো শক্তি।’ কলম্বো স্ট্রাইকার্সের হয়ে ২০২৪ সালে খেলেছিলেন তাসকিন।

এর আগেও এলপিএলে খেলেছেন সাকিব। ২০২৩ সালের এলপিএলে গল টাইটানসের হয়ে ১০ ম্যাচে ব্যাট হাতে ১৩৮ রান করার পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন ১১ উইকেট। এলপিএলে পাঁচ আসরের চারবারই শিরোপা জেতে জাফনা। এবার বাংলাদেশি এই দুজন ছাড়াও সরাসরি চুক্তিতে দলটি নিয়েছে ভানুকা রাজাপাকসা ও দুনিথ ওয়েলালাগেকে।

গত দুই বছর বন্ধ থাকার পর এবার আবারও শুরু হতে যাচ্ছে এলপিএল। এবারের টুর্নামেন্ট শুরু হবে ১৭ জুলাই, চলবে ৮ আগস্ট পর্যন্ত। কলম্বোয় টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে সাকিবের জাফনা কিংস মুখোমুখি হবে গল মার্ভেলসের।

সাবিক আল হাসান সর্বশেষ স্বীকৃত টি-টুয়েন্টি খেলেছেন গত জানুয়ারিতে। তখন আইএলটি-টুয়েন্টিতে মুম্বাই এমিরেটসের হয়ে খেলেছিলেন এই অলরাউন্ডার।

ভারতের পর এবার পাকিস্তানে প্রকাশ্যে এলো ‘তেলাপোকা আওয়ামী লীগ’

ভারতে সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এবার সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানেও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে দেশটিতে বিভিন্ন সামাজিকমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে ‘তেলাপোকা আওয়ামী পার্টি’, ‘তেলাপোকা আওয়ামী লীগ’ ও ‘মুত্তাহিদা তেলাপোকা মুভমেন্ট’-এর মতো একাধিক ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক অ্যাকাউন্ট দেখা যাচ্ছে।

ভারতের তরুণদের হতাশা, বেকারত্ব ও রাজনৈতিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই ‘তেলাপোকা আন্দোলন’ এখন পাকিস্তানের অনলাইন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

পাকিস্তানে তৈরি হওয়া এসব অ্যাকাউন্টের বায়ো ও রাজনৈতিক স্লোগান ভারতের মূল ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র ধাঁচেই তৈরি। ‘তেলাপোকা আওয়ামী পার্টি’ নামের একটি অ্যাকাউন্টের বায়োতে লেখা হয়েছে, তরুণদের রাজনৈতিক ফ্রন্ট, তরুণদের দ্বারা, পাকিস্তানের জন্য। আরেকটি অ্যাকাউন্টে লেখা হয়েছে, রাষ্ট্রব্যবস্থা যাদের তেলাপোকা ভেবেছে, আমরা সেই জনগণের কণ্ঠস্বর।

এসব পেজের লোগোও ভারতের ভাইরাল ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র সঙ্গে অনেকটাই মিল রয়েছে। তবে পাকিস্তানি সংস্করণগুলোতে সবুজ-সাদা রঙ ব্যবহার করা হয়েছে, যা দেশটির জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

কীভাবে শুরু হয়েছিল ভারতের ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’?

ভারতের ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। এর আগে তিনি ভারতের আম আদমি পার্টির (এএপি) রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ হিসেবেও কাজ করেছেন।

গত ১৬ মে এই ব্যঙ্গাত্মক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু হওয়ার পর কয়েক দিনের মধ্যেই এটি সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। দলটির নিজস্ব ওয়েবসাইট, ম্যানিফেস্টো ও সংগঠিত অনলাইন প্রচারণাও রয়েছে।

ভারতের প্রধান বিচারপতির মন্তব্য থেকে বিতর্ক

‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র জন্ম হয় ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। সুপ্রিম কোর্টের এক শুনানিতে তিনি বেকার তরুণ ও কিছু কর্মীকে ‘তেলাপোকা ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, কিছু তরুণ তেলাপোকার মতো। তাদের কোনো চাকরি নেই, পেশাতেও কোনো জায়গা নেই।

এই মন্তব্য সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। পরে সূর্য কান্ত ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি মূলত ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করে পেশায় প্রবেশকারীদের বোঝাতে চেয়েছিলেন। তবে এর মধ্যেই ‘তেলাপোকা’ প্রতীক ব্যবহার করে তরুণদের ক্ষোভ, বেকারত্ব, শিক্ষা সংকট ও রাজনৈতিক হতাশাকে ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় তুলে ধরতে শুরু করে সিজেপি।

যদিও এটি আনুষ্ঠানিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়, তবুও ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ মাত্র এক সপ্তাহের কম সময়ে ইনস্টাগ্রামে দুই কোটিরও বেশি অনুসারী সংগ্রহ করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। মিম, রাজনৈতিক ব্যঙ্গ, অ্যানিমেশন ও তরুণদের ভাষায় তৈরি কনটেন্টের কারণে প্ল্যাটফর্মটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে বেকারত্ব, পরীক্ষা প্রশ্নফাঁস, শিক্ষা ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে তাদের পোস্ট তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

পাকিস্তানেও তরুণদের হতাশার প্রতিফলন?

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানে ‘তেলাপোকা’ ব্র্যান্ডের দ্রুত বিস্তার শুধু একটি অনলাইন ট্রেন্ড নয় বরং এটি দেশটির তরুণদের রাজনৈতিক হতাশা, অর্থনৈতিক সংকট ও প্রতিষ্ঠিত রাজনীতির প্রতি অনাস্থার প্রতিফলনও হতে পারে।

ভারতে যেমন ব্যঙ্গ ও মিমভিত্তিক ডিজিটাল আন্দোলন তরুণদের আকৃষ্ট করেছে, পাকিস্তানেও একই ধরনের অনলাইন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভাগ করতে নতুন আইন হচ্ছে

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব আহরণ আলাদা করতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশ নতুন করে যাচাই-বাছাই করছে বর্তমান সরকার। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটি আগামীকাল শনিবার প্রথম বৈঠকে বসছে। যাচাই শেষে নতুন করে জাতীয় সংসদে নতুন বিল আকারে শিগগির উত্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। আগামী ৭ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনেই যাচাই-বাছাই শেষে নতুন বিল উত্থাপন করা হতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ১২ মে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে এনবিআরকে দুই ভাগে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। একটি বিভাগ রাজস্ব নীতি প্রণয়ন করবে এবং অন্যটি রাজস্ব প্রশাসন ও আদায় কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তবে অধ্যাদেশের কিছু কাঠামোগত বিষয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপত্তির মুখে প্রায় দুই মাস আন্দোলন চলে। পরে সরকার ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ দুটি তাৎক্ষণিকভাবে বিল আকারে উত্থাপন না করে আরও যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচির অন্যতম শর্ত হলো প্রতি বছর জিডিপির অন্তত দশমিক ৫ শতাংশ হারে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা। কিন্তু এখনও সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। এ কারণে রাজস্ব খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে এনবিআর বিলুপ্ত করে ‘রাজস্ব নীতি’ ও ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’ নামে দুটি পৃথক বিভাগ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে এ সংস্কার বাস্তবায়নে ধীরগতির পাশাপাশি ব্যাংক খাতসহ অন্যান্য সংস্কারে অগ্রগতি না থাকায় আইএমএফ দুই কিস্তিতে প্রায় ১৩০ কোটি ডলার ঋণ ছাড় করেনি। একই সঙ্গে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আরও ঋণ সহায়তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

বৈঠকের জন্য প্রস্তুত করা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কার্যপত্রে বলা হয়েছে, ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে গঠিত হওয়ার পর থেকেই এনবিআর একই সঙ্গে করনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কাজ করছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা অনুযায়ী একই প্রতিষ্ঠানের হাতে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকা কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয় না। এতে স্বার্থের সংঘাত, অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহির ঘাটতি তৈরি হয় বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে।

কার্যপত্রে আরও বলা হয়, করনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন একই প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকায় সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় রাজস্ব আহরণ এবং জনগণের প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিবকে এনবিআর চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করতে হওয়ায় তাঁকে রাজস্ব আহরণের চেয়ে নীতি প্রণয়নেই বেশি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা গড়ে তোলাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

এতে বলা হয়, ২০০৮ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাজস্ব প্রশাসন ও রাজস্ব নীতি প্রণয়ন কার্যক্রম পৃথক করতে একটি আদেশ জারি করলেও তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। পরে ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর এনবিআরের দুই সাবেক চেয়ারম্যান ও তিন সাবেক সদস্যকে নিয়ে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা, বিভিন্ন দলিল ও অংশীজনের মতামত পর্যালোচনা করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব প্রশাসন পৃথক করার সুপারিশ দেয়।

জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনেও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান হিসেবে একই কর্মকর্তার দ্বৈত দায়িত্ব আলাদা করার সুপারিশ করা হয়। কমিশন আয়কর, শুল্ক ও আবগারি এবং ভ্যাটের জন্য পৃথক অধিদপ্তর গঠনেরও পরামর্শ দেয়। এসব সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ রাজস্ব নীতি প্রণয়ন এবং নীতি বাস্তবায়নপূর্বক রাজস্ব আহরণ পৃথক করার বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেয়।

জানা গেছে, কমিটির সুপারিশে রাজস্ব নীতি বিভাগের সচিব নিয়োগের বিধানেও পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে অধ্যাদেশে বলা আছে, সরকার উপযুক্ত যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মকর্তাকে এ পদে নিয়োগ দিতে পারবে। তবে সংশোধনী প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সামষ্টিক অর্থনীতি, বাণিজ্য নীতি, পরিকল্পনা, রাজস্ব নীতি বা রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকেই এ পদে নিয়োগ দিতে হবে।

একইভাবে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব নিয়োগেও কঠোরতা আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। মূল অধ্যাদেশে রাজস্ব আহরণে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হলেও সংশোধনীতে বলা হয়েছে, রাজস্ব আহরণে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকেই এ পদে নিয়োগ দিতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নিয়োগ নিশ্চিত হবে।

কার্যপত্রে আরও বলা হয়েছে, নতুন দুটি বিভাগ সৃষ্টির জন্য অ্যালোকেশন অব বিজনেস, সাংগঠনিক কাঠামো ও প্রশাসনিক অনুমোদনের কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। এ কারণে অধ্যাদেশ কার্যকরের তারিখ পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছিল। তবে এ সংক্রান্ত রিট পিটিশন উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকায় কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও ঝুলে আছে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ গতকাল  গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিআরআই আয়োজিত এক সেমিনারে বলেন, একই সংস্থা যখন করনীতি নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করে, তখন সেখানে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়।

নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দেয়নি বিএনপিসহ ২৩টি দল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ৫০টি দলের মধ্যে ২৩টি নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি। এই তালিকায় রয়েছে ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট বেধে নির্বাচনে তৃতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাম। এসব দলকে এক মাস সময় বাড়িয়ে আগামী ১৩ জুন পর্যন্ত নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও জাতীয় পার্টিসহ নিবন্ধিত ৫০টি দল অংশ নেয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের সরকারি ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হয়। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) বিধান অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে দলীয়ভাবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে হয়। গত ১৩ মে ছিল দলগুলোর হিসাব জমা দেওয়ার শেষ দিন। তবে ইসি আরও এক মাস সময় বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও আইনে বলা আছে।
ইসি সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময় পর্যন্ত জামায়াত ও জাতীয় পার্টিসহ ২৭ দল তাদের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়। বাকি ২৩ দল হিসাব জমা দেয়নি। সম্প্রতি ইসির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পর ১৩ জুন পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

যে ২৩টি দল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি, সেগুলো হচ্ছে- বিএনপি, এনসিপি, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল), গণতন্ত্রী পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণফোরাম, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি), নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি), ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, আমজনতার দল, বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি) এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি।
জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, যে দলগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনে ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি, তাদের জন্য এক মাস সময় বাড়ানো হয়েছে। এরপরও তাদের কেউ জমা না দিলে আইনানুগভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জরিমানা হবে। ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিলে সংশ্লিষ্ট দলকে আরও ১৫ দিন সময় দেওয়া যাবে। তারপরও হিসাব না দিলে নিবন্ধন বাতিলের কথা বলা হয়েছে।