Home Blog Page 82

টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনা ১৫ নিহতের মধ্যে ৯ জনের বাড়ি নওগাঁয়

টাঙ্গাইলে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৯ জনের বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মান্দা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম।

তিনি বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি নিহতদের বাড়ি মান্দা থানার বিভিন্ন গ্রামে। আমাদের কাছে যে তথ্যগুলো আসছে আমরা তা সংগ্রহ করছি। নিহতদের নাম পরিচয় পেশা এখনও জানা যায়নি। তাদের নাম পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।

এর আগে সোমবার ভোরে যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তের সরাতৈল এলাকায় রডবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে অন্তত ১৫ জন নিহত হন।

যমুনা সেতু পূর্ব থানার (টাঙ্গাইল) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফুয়াদ রোহানী জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা উত্তরবঙ্গগামী একটি ট্রাক ভোর ৫টার দিকে যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তের সরাতৈল এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এতে ট্রাকটি সড়কে উল্টে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক এস এম হুমায়ুন কারনায়েক বলেন, সড়কে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন নিহত হন। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। তাদের মধ্যে চারজনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাদিকুর রহমান বলেন, হাসপাতালে ১৫ জনের মরদেহ আনা হয়েছে। এছাড়া মুমূর্ষু অবস্থায় আরও ৪ জনকে আনা হয়। তারা বর্তমানে ভর্তি রয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ঈদযাত্রা সড়কে চাপ আছে, যানজট নেই

কর্মদিবস থেকে ঈদযাত্রায় যানবাহনের চাপ বাড়লেও গতকাল রোববার রাত পর্যন্ত সড়ক-মহাসড়কে বড় ধরনের যানজটের খবর পাওয়া যায়নি। পদ্মা এবং যমুনা সেতুতে যান চলাচল দ্বিগুণ হওয়ায়, ধীরগতি তৈরি হলেও অচলাবস্থা তৈরি হয়নি।

সকালে তিনটি ট্রেন রাজধানী থেকে বিলম্বে যাত্রা করলেও, রাত পর্যন্ত শিডিউল ঠিক ছিল। আজ সোমবার অধিকাংশ কলকারাখানায় ছুটি হবে; তাই সন্ধ্যার পর যাত্রীর ঢলে যানজটে ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে।

গত বছরও পবিত্র ঈদুল আজহায় ব্যাপক ভোগান্তি হয়েছিল আগের দুই দিনে। এবারও সোম ও মঙ্গলবার যানজটের শঙ্কা রয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার ঈদ উদযাপিত হবে। গাজীপুরের অধিকাংশ কলকারখানা আজ সোমবার ও কাল মঙ্গলবার ছুটি হবে।

উত্তরবঙ্গের প্রবেশপথ গাজীপুরের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা ত্রিমোড়।  প্রতি ঈদেই এখানে দীর্ঘ যানজট হয়। গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত পাওয়া খবর পর্যন্ত গাড়ির চাপ বেড়েছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের এই অংশে যানবাহন চলাচল ছিল স্বাভাবিক। তবে বিকেলের পর থেকে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের ভোগড়া থেকে টঙ্গীর চেরাগ আলী পর্যন্ত যানবাহনের ব্যাপক চাপ ছিল গতকাল রাত ১০টার দিকে। থেমে থেমে যানবাহন চলাচল করছিল। চালক ও যাত্রীরা জানান, বৃষ্টির কারণে যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করতে পারছিল না।

ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের অংশেও বিকেলের পর যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। পরিবহন কাউন্টারগুলোতে ভিড় করছেন ঘরমুখী মানুষ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও মেঘনা টোল প্লাজায় ধীরগতিতে টোল আদায়ের ফলে  যানবাহনের চাপ আরও বেড়েছে।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ছয় লেন উন্নীতকরণের কাজ চলছে। গতকালের বৃষ্টিতে নির্মাণকাজের মাটি ও বালুতে কাদা হয়ে রূপগঞ্জের বরপা ও ভূলতা এলাকায় ভোগান্তি হয়। মহাসড়কের খানাখন্দের গাড়ি গতি কমে দুর্ভোগ হচ্ছে।

মন্ত্রী বললেন যাত্রীরা সন্তুষ্ট 

ট্রেনের যাত্রীরা সন্তুষ্ট বলে দাবি করে সড়ক, রেল এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই। পুরোনো রেললাইন ও লোকোমোটিভে  (ইঞ্জিন) সর্বোচ্চ সতর্কতায় ঈদযাত্রায় ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে।

গতকাল ঢাকার কমলাপুর স্টেশন পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, সাধারণ সময়ে ঢাকা থেকে আন্তঃনগর ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় ৩২ হাজার যাত্রী পরিবহন করা হয়। ঈদে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ টিকিটসহ ৪০ হাজার যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু লক্ষাধিক যাত্রীর ট্রেন ভ্রমণের চাহিদা থাকে।

কমলাপুরে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি কোন ট্রেনে উঠব, তা আগে থেকে নির্ধারিত ছিল না। পরিদর্শনের সময় দুটি ট্রেনে উঠে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছি। যাত্রীরা তাদের সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। ট্রেন ও প্ল্যাটফর্মের পরিবেশ ভালো মনে হয়েছে। সিটিং ক্যাপাসিটির মধ্যেই যাত্রা হচ্ছে।’

সকালে কয়েকটি ট্রেন বিলম্বে যাত্রার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, তিনটি ট্রেন কিছুটা দেরিতে চলেছে। বুড়িমারী এক্সপ্রেস ঢাকায় আসার পথে রেললাইনে শুকাতে দেওয়া খড়ে এর চাকা স্লিপ করায় বিকল হয়। এটি তাই ঢাকাতে দেরিতে এসেছে। ফলে  কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের ঢাকা থেকে ছেড়ে যেতে বেশ কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।

বিকেলে কালিয়াকৈর উপজেলার খাড়াজোড়ায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও গণসচেতনতা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা দায়িত্বে বসে আছি, আমাদের তখনই ঈদ মনে হয়, যখন শুনি ঘরমুখো মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি ফিরেছে। সড়ক ফাঁকা হয়েছে।’

আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচিতে যাচ্ছে সরকার

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচি থেকে সরে এসে নতুন একটি ঋণ কর্মসূচিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। নতুন এই কর্মসূচির আওতায় ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি ডলার পর্যন্ত ঋণ সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা য়ায়।

গত বৃহস্পতিবার অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং আইএমএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, চলমান আইএমএফ কর্মসূচির অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে বলে আজ সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আইএমএফের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ব্যাংক-ফান্ড বার্ষিক সভায় হওয়া ফলপ্রসূ আলোচনার কথা স্মরণ করেন। ওই বৈঠকের পর সরকার অভ্যন্তরীণভাবে বিষয়টি পর্যালোচনা করেছে।’

বৈঠকে মন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কাঠামোগত সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে বর্তমান আইএমএফ কর্মসূচি ভিন্ন অর্থনৈতিক ও নীতিগত প্রেক্ষাপটে গ্রহণ করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে উদ্ভূত দেশীয় বাস্তবতা, রাজনৈতিক অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে কিছু সংস্কার বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার সংস্কার থেকে সরে আসতে চায় না; বরং বাস্তবসম্মত, ধাপে ধাপে এবং দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে আগ্রহী। এ পরিপ্রেক্ষিতে নবনির্বাচিত সরকারের অধীনে তিন বছরের একটি নতুন আইএমএফ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যেখানে অগ্রাধিকারভিত্তিক ও বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বৈঠকে নাইজেল ক্লার্ক বাংলাদেশের সংস্কার উদ্যোগ এবং নতুন কর্মসূচি গ্রহণের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানান। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে আইএমএফের গঠনমূলক ও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উভয় পক্ষ দ্রুত নতুন কর্মসূচি প্রণয়নের কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে একমত হয়।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে আগামী জুলাই বা আগস্টে আইএমএফের একটি মিশন ঢাকা সফর করতে পারে। তখন ঋণের পরিমাণ, সময়সীমা ও শর্তাবলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাংলাদেশ আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়। পরে ২০২৫ সালে এর পরিমাণ বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলার করা হয়। এ পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে। বাকি রয়েছে আরও ১৮৬ কোটি ডলার। তবে রাজস্ব আদায়, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক খাত সংস্কারে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হওয়ায় আইএমএফ দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিল।

সরকার ও আইএমএফের মধ্যে মতপার্থক্যের প্রধান ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে অভিন্ন ভ্যাট হার চালু, কর অব্যাহতি কমানো, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার, বিদ্যুৎ ও সারের ভর্তুকি হ্রাস, ব্যাংক খাত সংস্কার এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পুনর্গঠন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকার আপাতত এসব কঠোর সংস্কারে যেতে আগ্রহী নয়।

তবে কর্মকর্তাদের মতে, একটি সক্রিয় আইএমএফ কর্মসূচি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি ‘সিল অব অ্যাপ্রুভাল’ হিসেবে কাজ করে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাংক, এডিবি, এআইআইবি ও জাইকার মতো সংস্থাগুলোর কাছ থেকে বাজেট সহায়তা পাওয়াও সহজ হয়।

সরকার আশা করছে, নতুন কর্মসূচির অগ্রগতি ইতিবাচক হলে আইএমএফ বাংলাদেশকে একটি ‘কমফোর্ট লেটার’ দেবে। এর ফলে বহুপাক্ষিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে অতিরিক্ত বাজেট সহায়তা পাওয়া সহজ হবে।

আহত তরুণের মৃত্যুর জেরে পুড়ল প্রতিপক্ষের বাড়ি

খুলনার একটি ঘেরে মাথা ও বুকে গুলিবিদ্ধ এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার দুপুরে দৌলতপুর থানাধীন মহেশ্বরপাশা পশ্চিমপাড় খুটিরঘাটের ঘেরে পাওয়া যায় তাঁর মরদেহ। শুক্রবার বিকেলে নরসিংদীর পলাশে ছুরিকাঘাতে আহত তরুণ রাতে ঢাকায় মারা যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্বজন ও এলাকাবাসী গতকাল সকালে হামলাকারীদের বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। শুক্রবার রাতে গাজীপুর ও গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই রাতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বাড়ি মালিকের লাথিতে প্রাণ গেছে ভাড়াটিয়ার। বাগেরহাটে গতকাল ৬ বছরের শিশুকে বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগে সৎমাকে আটক করেছে পুলিশ। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ছেলের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন বৃদ্ধ বাবা।

মাছের ঘেরে যুবকের লাশ
খুলনায় ওমর ফারুক ওরফে রাব্বি (২৫) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তিনি নগরীর জাব্দিপুরের ইব্রাহীম শেখের ছেলে। গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরায় হলেও রাব্বি দৌলতপুরে মা-বোনের সঙ্গে থাকতেন। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দৌলতপুর থানাধীন মহেশ্বরপাশা পশ্চিমপাড় খুটিরঘাটের ঘেরে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। রাব্বির মাথা ও বুকে দুটি গুলির চিহ্ন রয়েছে।
খুলনা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায় বলেন, রাতে রাব্বিকে গুলি করে হত্যা করে ওই মাছের ঘেরে ফেলে রাখা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে বিস্ফোরিত গুলির খোসা পাওয়া গেছে। নিহত যুবক স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী গ্রুপে জড়িত বলে তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

দৌলতপুর থানার ওসি মো. মুরাদুল ইসলাম জানান, সকালে এক ব্যক্তি ঘেরের পাশে মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। রক্তাক্ত রাব্বির লাশের মাথা ও বুকের মাঝখানে গুলির চিহ্ন দেখা গেছে। পাশে পড়ে থাকা মোবাইল ফোন থেকে বোনের নম্বরে কল দিয়ে পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ।
রাব্বি হত্যাকাণ্ড নিয়ে চলতি বছরে খুলনায় ১১টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। গত বছর হয়েছে ৩৭টি।

গভীর রাতে মৃত্যু, সকালে হামলা
নরসিংদীর পলাশে পূর্বশত্রুতার জেরে ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল আশিক ভূঁইয়া (২০) নামে এক তরুণসহ তিনজনকে। শুক্রবার বিকেলে গুরুতর অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত ৩টার দিকে সেখানে মারা যান আশিক। এ সংবাদে গতকাল সকালে উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের মাঝেরচর গ্রামে হামলাকারীদের বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় ভাঙচুর করা হয়েছে আরও দুটি বাড়ি।

আশিক ভূঁইয়া মাঝেরচরের মনির হোসেন ভূঁইয়ার একমাত্র ছেলে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, একই গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সাগর ও তার ছোট ভাই সোহাগের সঙ্গে মাদক সেবন বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার রুহুল আমিনের তর্ক হয়। এ বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করছিলেন আশিক। তাঁর মা খুকুমনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দুই পক্ষকে নিয়ে সালিশের সময় দিয়েছিলেন স্থানীয় প্রভাবশালী আরমান মিয়াসহ অন্যরা। তারা এদিন গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে সাগর, সোহাগ, তাদের বাবা ইউনুস আলীসহ ১০-১৫ জন হঠাৎ আশিকের ওপর হামলা করে। সাগর ছুরি দিয়ে তার শরীরে একাধিক আঘাত করে। তাকে ফেরাতে এলে রুহুল আমিন ও ইলিয়াসকেও আঘাত করা হয়।

এলাকাবাসী আশিক, রুহুল ও ইলিয়াসকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যায়। রাত ৩টার দিকে আশিককে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। রুহুল গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
এদিকে গতকাল সকালে আশিকের মৃত্যুর খবরে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তাদের একাংশ সাগরদের বাড়ি গিয়ে ভাঙচুরের পর আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ছাড়া সাগরের চাচা মিন্নত আলী ও আরেক আত্মীয়ের বাড়িতেও ভাঙচুর করা হয়।
পলাশ থানার ওসি শাহেদ আল মামুন বলেন, নরসিংদী সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর আশিকের মরদেহ গতকাল সন্ধ্যার পর তার বাড়িতে আনা হয়। সেখানে জানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে দাফন হয়েছে। তার স্বজনেরা এলে রাতেই মামলা হবে। ইতোমধ্যে একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে।

পারিবারিক বিরোধে চার হত্যাকাণ্ড
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পারিবারিক বিরোধে তর্কাতর্কির সময় ছেলে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন মোহাম্মদ নূর উল্লাহ (৬৫) নামে এক ব্যক্তি। গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ড ছিন্নমূল সমাজ এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
বাগেরহাটের ফকিরহাটে সাড়ে ৬ বছর বয়সী মো. তালহাকে বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সৎমা রুবাইয়া আক্তারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যায় রুবাইয়াকে আটক করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। এদিন সকাল ১০টার দিকে উপজেলার লখপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে গাজীপুরে ফারজানা আক্তার (১৯) নামে এক তরুণীর পোড়া লাশ তালাবদ্ধ ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে মহানগরের কোনাবাড়ী নতুন বাজার নিউমার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গতকাল কোনাবাড়ী থানার ওসি ইফতেখার হোসেন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফারজানার স্বামী বাবু ও বাড়ির কেয়ারটেকার রোমানকে আটক করা হয়েছে। হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে কি বাবু বাইরে যান, নাকি ফারজানা আত্মহত্যা করেন– তদন্ত চলছে।

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর থানার ওসি হাবিবুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার রাতে শিমুলি আক্তার শিউলির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শিউলির ভগ্নিপতি নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। শিউলির মেয়ের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, তাঁকে মারধরের পর মরদেহ ঝুলিয়ে পালিয়ে যান স্বামী আনোয়ারুল ইসলাম ও প্রথম স্ত্রী সুলতানা বেগম।
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা দোভাষী বাজারে শুক্রবার রাতে দোকান মালিকের লাথিতে প্রাণ গেছে আবুল কাশেম (৬৫) নামে এক ভাড়াটিয়ার।

ঈদযাত্রা সরকার প্রতিশ্রুতি রাখেনি, এসি বাসে যথেচ্ছ ভাড়া

ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের দূরত্ব ১১৩ কিলোমিটার। ৪০ আসনের বাসে সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৩৩০ টাকা। একই দূরত্বে এসি বাসে সর্বনিম্ন ভাড়া ৪৫০ টাকা। ঈদে তা হয়েছে ৫০০ টাকা। সরকারের নির্দেশনায় এ ভাড়া নির্ধারণ করেছে বাস মালিকদের সংগঠন। আমদানি শুল্ক এবং গাড়ির বডিভেদে মালিকরা ব্যাখ্যা ছাড়াই বিজনেস এবং ইকোনমি ক্লাস নামে তা নির্ধারণ করেছেন। অথচ সরকারের আশ্বাস ছিল, ঈদুল আজহার আগে এসি বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হবে। তা না হওয়ায় এবার ঈদযাত্রাতেও স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে এসি বাসে।

সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী, নন-এসি বাসের ভাড়া নির্ধারণ করে সরকার। সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ভাড়া নির্ধারণ কমিটি দূরপাল্লার বাসের ক্ষেত্রে ১২টি ব্যয় বিশ্লেষণ করে ভাড়ার সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়কে। মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। গত মাসে ডিজেলের দাম বাড়ার পর দূরপাল্লায় ৫১ আসনের বাসে ভাড়া নির্ধারণ করা হয় কিলোমিটারে দুই টাকা ২৩ পয়সা। ৪০ আসনের বাসে তা ২ টাকা ৮৪ পয়সা।

এসি বাসের জন্য এ নিয়ম প্রযোজ্য নয়। দূরপাল্লার পথে কোম্পানি মালিকরা নিজেদের মতো করে ভাড়া ঠিক করেন। বাসের আসন ও সুবিধা অনুযায়ী তা নির্ধারণ করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা নন-এসি ভাড়ার তিনগুণ পর্যন্ত।

ঈদে ভাড়া বাড়ে এসিতে
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে নন-এসি বাসের ভাড়া ৭০৪ টাকা। এসি বাসে ভাড়া ঈদের সময়ে এক হাজার ৪০০ থেকে দুই হাজার ৫০ টাকা পর্যন্ত। স্বাভাবিক সময়ে এ রুটে এসি বাসে ভাড়া থাকে এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত। ঈদে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে এসি বাসের ভাড়া।

ঢাকা-কুড়িগ্রাম রুটে নন-এসি বাসের ভাড়া ৯৫০ টাকা। এসি-বাসে ঈদের আগে এখন তা এক হাজার ৬০০ থেকে দুই হাজার ৯০০ টাকা। স্বাভাবিক সময়ে এসব ভাড়া ছিল এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত। সর্বোচ্চ স্তরে ভাড়া দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

একাধিক মালিক সমকালকে বলেছেন, নন-এসি বাস ৪০ আসনের। আরামদায়ক যাত্রার জন্য এসি বাসগুলো ২৮, ৩২ আসনেরও হয়। ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ৪০ আসনের এসি বাসের ভাড়া ৫০০ টাকা হলেও ২৮ আসনের ক্ষেত্রে তা ৭০০ টাকা। কুড়িগ্রাম, চট্টগ্রামের মতো দূরবর্তী জেলাগুলোতে স্লিপার কোচে শুয়ে যাওয়ার সুবিধা রয়েছে; সেগুলোতে ভাড়া নন-এসি বাসের চার গুণ।

বিআরটিএ-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি মে মাস পর্যন্ত সারাদেশে নিবন্ধিত বাসের সংখ্যা ৫৮ হাজার ৫৮৯ এবং মিনিবাসের সংখ্যা ২৮ হাজার ৬৯৬। যদিও এর অধিকাংশ সচল নেই। দূরপাল্লার রুটে ৩০ হাজারের মতো বাস চলে বলে ধারণা করা হয়। সারাদেশে নিবন্ধিত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের মোট সংখ্যা দুই হাজার ৭৮৩। বিআরটিসির ৪১৩টি বাসের কয়েকটি বাদে প্রায় সব এসি বাস দূরপাল্লার পথে চলে।

ঢাকা-বরিশাল রুটে নন-এসি বাসের ভাড়া কোম্পানিভেদে ৫৯০ থেকে ৬২০ টাকা। এসি বাসে তা এখন এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা। যদিও ঈদের আগে এ ভাড়া ছিল ৮৫০ থেকে হাজার টাকা। ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে এসি বাসের ভাড়া এখন তিন হাজার টাকা পর্যন্ত। স্বাভাবিক সময়ে যা এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত ছিল। স্লিপারে ছিল দুই হাজার ২০০ টাকা। আবার ঈদের সময়ে ঢাকা থেকে রংপুরের স্লিপারের ভাড়া জনপ্রতি তিন হাজার টাকা পর্যন্ত।

কর্তৃপক্ষ ‘না’ বললেও আইনে সুযোগ আছে 
ঈদুল ফিতরেও এসি বাসে যথেচ্ছ ভাড়া নিয়ে সমালোচনা হয়। গত ৯ এপ্রিল সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, এসি বাস ও মিনিবাসের ভাড়া তালিকা শিগগিরই তৈরি করা হবে।

গত ২১ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান রহমান জানিয়েছিলেন, ঈদুল আজহার আগেই এসি বাসের ভাড়া বিআরটিএ নির্ধারণ করবে। প্রয়োজনে ভাড়া দুই বা তিন স্তরে নির্ধারণ করা হবে।

এই বিষয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর মন্তব্য জানতে পারেনি সমকাল। বিআরটিএ’র ঊর্ধ্বতন কর্তকর্তারাও নাম প্রকাশ করে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে ভাড়া নির্ধারণ কমিটিতে যুক্ত একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেছেন, এসি বাসকে সরকারি ভাড়ার আওতায় আনতে হলে আইন ও বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে।
সড়ক পরিবহন আইনের ৩৪ (১) ধারায় বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ সরকারের অনুমোদনে গণপরিবহনের ভাড়ার হার ও সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ বা পুনর্নির্ধারণ করতে পারবে। তবে শর্ত থাকে যে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিলাসবহুল ও বিশেষ সুবিধাসংবলিত গণপরিবহনের ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না।

তবে একই উপধারায় বলা হয়েছে, ‘সরকার বা কর্তৃপক্ষ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিলাসবহুল ও বিশেষ সুবিধাসংবলিত গণপরিবহনের ভাড়া যুক্তিসংগতভাবে নির্ধারণের ব্যবস্থা নিতে পারবে।’

এ শর্তের উদাহরণ দিয়ে যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী সমকালকে বলেন, এসি ভাড়া নিয়ে জনগণের অভিযোগ রয়েছে। সুতরাং সরকারের ক্ষমতা রয়েছে, ভাড়া নির্ধারণের। এ জন্য আইন সংশোধনের প্রয়োজন নেই। যারা তা বলেন, তারা আসলে কোম্পানিগুলোকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের সুযোগ করে দিচ্ছেন।

মালিকদের দায়িত্ব দিয়েছে সরকার!
গত ১৫ এপ্রিল সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্ম সচিব আব্দুস সোবহানের সভাপতিত্বে এসি বাসের ভাড়া নির্ধারণ সম্পর্কিত অনুষ্ঠিত ওই সভা থেকে ঈদের আগে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতিকেই ভাড়া নির্ধারণ করতে বলা হয়। সমিতি উচ্চস্তর এবং নিম্নস্তর নামে চার ধরনের ভাড়া নির্ধারণ করে। বিজনেস ক্লাসে দুটি ভাগ রয়েছে–বিদেশে নির্মিত বাস বডি (সিবিইউ) এবং দেশে এনে সংযোজন করা (সিকেডি) বডি। সিবিইউ বাসের আমদানি শুল্ক বেশি। তাই মালিকরা এসব বাসের ভাড়াও নির্ধারণ করেছেন বেশি। সিকেডি বাসের আমদানি শুল্ক কম। তাই ভাড়া কিছুটা কম।

দেশে তৈরি বডির বাসকে ইকোনমি ক্লাস দিয়ে ভাড়া নির্ধারণ করেছে সমিতি। আবার শুয়ে যাত্রার সুযোগ রয়েছে–এমন ‘স্লিপার’ বা ‘স্যুইট ক্লাস’ বাসের ভাড়া আলাদা। মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, মালিকদের ভাড়া নির্ধারণের সুযোগ দেওয়ায় তারা বিজনেস, ইকোনমি ক্লাস নাম দিয়ে নিজেদের মতো ভাড়া নির্ধারণ করেছেন।

তবে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন, বাড়তি ভাড়া যাতে কেউ আদায় করতে না পারে, এ জন্য সমিতি একটি তালিকা করেছে মাত্র। ঈদের পর চূড়ান্ত হবে ভাড়ার তালিকা হবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. হাদীউজ্জামান বলেন, মালিকরা যদি নিজেরাই ভাড়া নির্ধারণ করেন, তাহলে তো তাদের মতো করে নির্ধারণ করবেন। ভাড়া নির্ধারণের দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। মালিকরা নির্ধারণ করলে বিশৃঙ্খলা হবে।

শুয়ে ভ্রমণের সুবিধা রয়েছে যেসব বাসে, সেগুলো আসলে একতলা বাস হিসেবে আমদানি করা হয়েছে। এগুলোর মাঝখানে পার্টিশন দিয়ে খোপ তৈরি করে দ্বিতল বানানো হয়েছে। হাদিউজ্জামান বলেন, নকশা বহির্ভূতভাবে একতলা বাসকে দ্বিতল বানানোয় বাসের ভরকেন্দ্র নষ্ট হচ্ছে। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। কারণ, এসব বাসের চ্যাসিস তৈরি হয়েছে একতলা বাসের জন্য। দেশে আমদানি করে মাঝখানে পাটাতন বসিয়ে দোতলা বানিয়ে ফেলা অবৈধ।

ঈদযাত্রা সরকার প্রতিশ্রুতি রাখেনি, এসি বাসে যথেচ্ছ ভাড়া

ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের দূরত্ব ১১৩ কিলোমিটার। ৪০ আসনের বাসে সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৩৩০ টাকা। একই দূরত্বে এসি বাসে সর্বনিম্ন ভাড়া ৪৫০ টাকা। ঈদে তা হয়েছে ৫০০ টাকা। সরকারের নির্দেশনায় এ ভাড়া নির্ধারণ করেছে বাস মালিকদের সংগঠন। আমদানি শুল্ক এবং গাড়ির বডিভেদে মালিকরা ব্যাখ্যা ছাড়াই বিজনেস এবং ইকোনমি ক্লাস নামে তা নির্ধারণ করেছেন। অথচ সরকারের আশ্বাস ছিল, ঈদুল আজহার আগে এসি বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হবে। তা না হওয়ায় এবার ঈদযাত্রাতেও স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে এসি বাসে।

সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী, নন-এসি বাসের ভাড়া নির্ধারণ করে সরকার। সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ভাড়া নির্ধারণ কমিটি দূরপাল্লার বাসের ক্ষেত্রে ১২টি ব্যয় বিশ্লেষণ করে ভাড়ার সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়কে। মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। গত মাসে ডিজেলের দাম বাড়ার পর দূরপাল্লায় ৫১ আসনের বাসে ভাড়া নির্ধারণ করা হয় কিলোমিটারে দুই টাকা ২৩ পয়সা। ৪০ আসনের বাসে তা ২ টাকা ৮৪ পয়সা।

এসি বাসের জন্য এ নিয়ম প্রযোজ্য নয়। দূরপাল্লার পথে কোম্পানি মালিকরা নিজেদের মতো করে ভাড়া ঠিক করেন। বাসের আসন ও সুবিধা অনুযায়ী তা নির্ধারণ করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা নন-এসি ভাড়ার তিনগুণ পর্যন্ত।

ঈদে ভাড়া বাড়ে এসিতে
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে নন-এসি বাসের ভাড়া ৭০৪ টাকা। এসি বাসে ভাড়া ঈদের সময়ে এক হাজার ৪০০ থেকে দুই হাজার ৫০ টাকা পর্যন্ত। স্বাভাবিক সময়ে এ রুটে এসি বাসে ভাড়া থাকে এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত। ঈদে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে এসি বাসের ভাড়া।

ঢাকা-কুড়িগ্রাম রুটে নন-এসি বাসের ভাড়া ৯৫০ টাকা। এসি-বাসে ঈদের আগে এখন তা এক হাজার ৬০০ থেকে দুই হাজার ৯০০ টাকা। স্বাভাবিক সময়ে এসব ভাড়া ছিল এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত। সর্বোচ্চ স্তরে ভাড়া দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

একাধিক মালিক সমকালকে বলেছেন, নন-এসি বাস ৪০ আসনের। আরামদায়ক যাত্রার জন্য এসি বাসগুলো ২৮, ৩২ আসনেরও হয়। ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ৪০ আসনের এসি বাসের ভাড়া ৫০০ টাকা হলেও ২৮ আসনের ক্ষেত্রে তা ৭০০ টাকা। কুড়িগ্রাম, চট্টগ্রামের মতো দূরবর্তী জেলাগুলোতে স্লিপার কোচে শুয়ে যাওয়ার সুবিধা রয়েছে; সেগুলোতে ভাড়া নন-এসি বাসের চার গুণ।

বিআরটিএ-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি মে মাস পর্যন্ত সারাদেশে নিবন্ধিত বাসের সংখ্যা ৫৮ হাজার ৫৮৯ এবং মিনিবাসের সংখ্যা ২৮ হাজার ৬৯৬। যদিও এর অধিকাংশ সচল নেই। দূরপাল্লার রুটে ৩০ হাজারের মতো বাস চলে বলে ধারণা করা হয়। সারাদেশে নিবন্ধিত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের মোট সংখ্যা দুই হাজার ৭৮৩। বিআরটিসির ৪১৩টি বাসের কয়েকটি বাদে প্রায় সব এসি বাস দূরপাল্লার পথে চলে।

ঢাকা-বরিশাল রুটে নন-এসি বাসের ভাড়া কোম্পানিভেদে ৫৯০ থেকে ৬২০ টাকা। এসি বাসে তা এখন এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা। যদিও ঈদের আগে এ ভাড়া ছিল ৮৫০ থেকে হাজার টাকা। ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে এসি বাসের ভাড়া এখন তিন হাজার টাকা পর্যন্ত। স্বাভাবিক সময়ে যা এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত ছিল। স্লিপারে ছিল দুই হাজার ২০০ টাকা। আবার ঈদের সময়ে ঢাকা থেকে রংপুরের স্লিপারের ভাড়া জনপ্রতি তিন হাজার টাকা পর্যন্ত।

কর্তৃপক্ষ ‘না’ বললেও আইনে সুযোগ আছে 
ঈদুল ফিতরেও এসি বাসে যথেচ্ছ ভাড়া নিয়ে সমালোচনা হয়। গত ৯ এপ্রিল সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, এসি বাস ও মিনিবাসের ভাড়া তালিকা শিগগিরই তৈরি করা হবে।

গত ২১ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান রহমান জানিয়েছিলেন, ঈদুল আজহার আগেই এসি বাসের ভাড়া বিআরটিএ নির্ধারণ করবে। প্রয়োজনে ভাড়া দুই বা তিন স্তরে নির্ধারণ করা হবে।

এই বিষয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর মন্তব্য জানতে পারেনি সমকাল। বিআরটিএ’র ঊর্ধ্বতন কর্তকর্তারাও নাম প্রকাশ করে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে ভাড়া নির্ধারণ কমিটিতে যুক্ত একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেছেন, এসি বাসকে সরকারি ভাড়ার আওতায় আনতে হলে আইন ও বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে।
সড়ক পরিবহন আইনের ৩৪ (১) ধারায় বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ সরকারের অনুমোদনে গণপরিবহনের ভাড়ার হার ও সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ বা পুনর্নির্ধারণ করতে পারবে। তবে শর্ত থাকে যে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিলাসবহুল ও বিশেষ সুবিধাসংবলিত গণপরিবহনের ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না।

তবে একই উপধারায় বলা হয়েছে, ‘সরকার বা কর্তৃপক্ষ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিলাসবহুল ও বিশেষ সুবিধাসংবলিত গণপরিবহনের ভাড়া যুক্তিসংগতভাবে নির্ধারণের ব্যবস্থা নিতে পারবে।’

এ শর্তের উদাহরণ দিয়ে যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী সমকালকে বলেন, এসি ভাড়া নিয়ে জনগণের অভিযোগ রয়েছে। সুতরাং সরকারের ক্ষমতা রয়েছে, ভাড়া নির্ধারণের। এ জন্য আইন সংশোধনের প্রয়োজন নেই। যারা তা বলেন, তারা আসলে কোম্পানিগুলোকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের সুযোগ করে দিচ্ছেন।

মালিকদের দায়িত্ব দিয়েছে সরকার!
গত ১৫ এপ্রিল সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্ম সচিব আব্দুস সোবহানের সভাপতিত্বে এসি বাসের ভাড়া নির্ধারণ সম্পর্কিত অনুষ্ঠিত ওই সভা থেকে ঈদের আগে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতিকেই ভাড়া নির্ধারণ করতে বলা হয়। সমিতি উচ্চস্তর এবং নিম্নস্তর নামে চার ধরনের ভাড়া নির্ধারণ করে। বিজনেস ক্লাসে দুটি ভাগ রয়েছে–বিদেশে নির্মিত বাস বডি (সিবিইউ) এবং দেশে এনে সংযোজন করা (সিকেডি) বডি। সিবিইউ বাসের আমদানি শুল্ক বেশি। তাই মালিকরা এসব বাসের ভাড়াও নির্ধারণ করেছেন বেশি। সিকেডি বাসের আমদানি শুল্ক কম। তাই ভাড়া কিছুটা কম।

দেশে তৈরি বডির বাসকে ইকোনমি ক্লাস দিয়ে ভাড়া নির্ধারণ করেছে সমিতি। আবার শুয়ে যাত্রার সুযোগ রয়েছে–এমন ‘স্লিপার’ বা ‘স্যুইট ক্লাস’ বাসের ভাড়া আলাদা। মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, মালিকদের ভাড়া নির্ধারণের সুযোগ দেওয়ায় তারা বিজনেস, ইকোনমি ক্লাস নাম দিয়ে নিজেদের মতো ভাড়া নির্ধারণ করেছেন।

তবে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন, বাড়তি ভাড়া যাতে কেউ আদায় করতে না পারে, এ জন্য সমিতি একটি তালিকা করেছে মাত্র। ঈদের পর চূড়ান্ত হবে ভাড়ার তালিকা হবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. হাদীউজ্জামান বলেন, মালিকরা যদি নিজেরাই ভাড়া নির্ধারণ করেন, তাহলে তো তাদের মতো করে নির্ধারণ করবেন। ভাড়া নির্ধারণের দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। মালিকরা নির্ধারণ করলে বিশৃঙ্খলা হবে।

শুয়ে ভ্রমণের সুবিধা রয়েছে যেসব বাসে, সেগুলো আসলে একতলা বাস হিসেবে আমদানি করা হয়েছে। এগুলোর মাঝখানে পার্টিশন দিয়ে খোপ তৈরি করে দ্বিতল বানানো হয়েছে। হাদিউজ্জামান বলেন, নকশা বহির্ভূতভাবে একতলা বাসকে দ্বিতল বানানোয় বাসের ভরকেন্দ্র নষ্ট হচ্ছে। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। কারণ, এসব বাসের চ্যাসিস তৈরি হয়েছে একতলা বাসের জন্য। দেশে আমদানি করে মাঝখানে পাটাতন বসিয়ে দোতলা বানিয়ে ফেলা অবৈধ।

আল-জাজিরার অনুসন্ধান আইসিজের সতর্কতার পরও ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ করেছে ৫১ দেশ

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) গণহত্যার সতর্কবার্তা সত্ত্বেও গাজায় যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ অব্যাহত রেখেছিল বিশ্বের অন্তত ৫১টি দেশ ও অঞ্চল। আল জাজিরার কয়েক মাসব্যাপী এক অনুসন্ধানে এই তথ্য উঠে এসেছে।

ইসরায়েলি কর কর্তৃপক্ষের (আইটিএ) ডেটা ও শুল্ক রেকর্ডের ভিত্তিতে করা এই প্রতিবেদন বলছে, আইসিজের রায়ের পরে দেশটিতে অস্ত্র আমদানি বহুগুণ বেড়েছে।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আইরিশ আইনজীবী ব্লিন নি গ্রালাইগ আইসিজেতে গাজার পরিস্থিতি তুলে ধরেছিলেন। তিনি একে ‘ইতিহাসের প্রথম রিয়েল-টাইম সম্প্রচারিত গণহত্যা’ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বিচারকদের বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ফিলিস্তিনি জনগণকে ক্রমাগত হতাশ করে চলেছে।’

তিনি বলেন, ‘ইতিহাসে এটিই প্রথম গণহত্যা, যেখানে ভুক্তভোগীরা রিয়েল টাইমে (সরাসরি) নিজেদের ধ্বংসের দৃশ্য সম্প্রচার করছে এই ভেবে যে বিশ্ব হয়তো কিছু করবে।’

নি গ্রালাইগ আদালতকে বলেন, গাজায় প্রতিদিন গড়ে ২৪৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হচ্ছেন। এর মধ্যে ৪৮ জন মা ও ১১৭ জনের বেশি শিশু রয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় গড়ে দুইজন মা এবং পাঁচজনের বেশি শিশু প্রাণ হারাচ্ছে।

তিনি ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিরে আসা চিকিৎসক ও সাহায্যকর্মীদের ব্যবহৃত একটি নতুন শব্দের কথা উল্লেখ করেন— ডব্লিউসিএনএসএফ। এ শব্দের অর্থ হলো- ‘আহত শিশু, পরিবারের আর কেউ বেঁচে নেই’। তখন পর্যন্ত ৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছিল।

নি গ্রালাইগ বলেন, এর চেয়ে স্পষ্ট বা অকাট্য কোনো যুক্তি উপস্থাপন হতে পারে না। এই তথ্যগুলোই প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট।

২০২৪ সালের ২৬ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বিচার আদালত রায় দেন, গাজায় গণহত্যার একটি ‘যুক্তিসঙ্গত ঝুঁকি’ রয়েছে এবং কিছু অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা জারি করেন। এছাড়া, আদালত জেনোসাইড কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী ১৫৩টি দেশকে তাদের বাধ্যবাধকতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়—অর্থাৎ গণহত্যা প্রতিরোধে কাজ করার নির্দেশ দেন।

কিন্তু এরপরও প্রায় ২২ মাস ধরে হত্যাযজ্ঞ চলতে থাকে। ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া পর্যন্ত ৭০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার মানুষ আহত হন।

এই পুরো সময় জুড়েই ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত ছিল।

অস্ত্র রপ্তানি 

আল জাজিরার কয়েক মাসব্যাপী এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গাজায় গণহত্যার ঝুঁকি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত সতর্ক করার পরও অন্তত ৫১টি দেশ ও স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল থেকে সামরিক-সংশ্লিষ্ট পণ্য ইসরায়েলে প্রবেশ অব্যাহত ছিল।

মূলত ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইসরায়েলি কর কর্তৃপক্ষের (আইটিএ) আমদানি তথ্য বিশ্লেষণ, শুল্ক রেকর্ড এবং তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই অনুসন্ধান করা হয়। এতে ইউরোপ, এশিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্ত সামরিক সরবরাহ শৃঙ্খল চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব দেশই জেনোসাইড কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী।

কিছু ক্ষেত্রে, এসব সামরিক-সম্পর্কিত পণ্য এসেছে এমন দেশ থেকেও, যেগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বা আংশিকভাবে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করেছে।

আইটিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, আইসিজে রায়ের পর ইসরায়েলে অস্ত্র আমদানি আরও বেড়েছে, যার বড় অংশ ছিল ‘মিউনিশন’ বা যুদ্ধাস্ত্র বিভাগে।

ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ করা শীর্ষ ৫ দেশ হলো- যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, রোমানিয়া, তাইওয়ান এবং চেক প্রজাতন্ত্র। এসব দেশ থেকে যুদ্ধের সময় চালান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে দেখা গেছে।

যদিও অনেক দেশই ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানির পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করে না, কিন্তু আইটিএ-এর তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ২ হাজার ৬০৩টি সামরিক পণ্য-সম্পর্কিত চালান ইসরায়েলে প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে ছিল গোলাবারুদ, বিস্ফোরক যুদ্ধাস্ত্র, অস্ত্রের যন্ত্রাংশ এবং সাঁজোয়া যান সংক্রান্ত উপাদান।

আইটিএ-র তথ্য অনুসারে, অস্ত্র আমদানির মোট মূল্য ছিল প্রায় ৮৮৫ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৯১ শতাংশই আইসিজের রায়ের পর রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে, ২০২৩ সালের অক্টোবরের আগের ২০ মাসে ইসরায়েলে সামরিক-সংশ্লিষ্ট আমদানির পরিমাণ ছিল মোট ৩৮৮ মিলিয়ন ডলার। এই তথ্য ইঙ্গিত দেয় যে ইসরায়েল গাজায় তার সামরিক আক্রমণ অব্যাহত রাখতে বিদেশি অস্ত্র সরবরাহের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়েছে।

এমনকি ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরেও অস্ত্রের প্রবাহ থামেনি। আইটিএ-এর তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের শেষ দুই মাসে ইসরায়েল অতিরিক্ত ৮৯ মিলিয়ন ডলারের সামরিক পণ্য আমদানি করেছে।

চুক্তির অনেক কাছাকাছি ইরান: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ‘অনেক কাছাকাছি’ আসছে ইরান। তেহরানও অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে, উভয়পক্ষই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দুপক্ষের মতভেদের অন্যতম ইস্যু ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম।

তেহরান বলছে, পারমাণবিক অস্ত্রের মূল বিষয়টি কোনো প্রাথমিক প্রস্তাবের অংশ হবে না। এর আগে পরমাণু নিয়ে কড়া বার্তা শুনিয়েছিলেন ট্রাম্প।

গতকাল শনিবার সিবিএস নিউজকে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের সঙ্গে একটি খসড়া চুক্তি দেখেছেন। এটি যথেষ্ট ভালো কিনা– জানতে

চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না, আমি আপনাকে তা বলতে পারব না।’ তবে জোর দিয়ে টাম্প বলেন, চুক্তি হলে তা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ‘অবশ্যই’ বিরত রাখবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কেবল এমন একটি চুক্তিতে সই করব, যেখানে আমরা যা চাই তার সবকিছু পাব। আমাদের একটি চুক্তি করতে হবে, অথবা এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হবে, যেখানে কোনো দেশই আর কখনও এতটা কঠিন আঘাতের শিকার হবে না, যতটা তারা হতে চলেছে।’

এ পরিস্থিতিতে গতকাল শনিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বিভিন্ন বিষয়ে একমত হচ্ছিল। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এর অর্থ এই নয়, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গেুলোতে কোনো চুক্তি হবে। তিনি মার্কিনিদের বিরুদ্ধে ‘পরস্পরবিরোধী বক্তব্য’ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।

সূত্রের বরাত দিয়ে গতকাল শনিবার আলজাজিরা জানায়, গতকাল দফায় দফায় ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে তেহরান ছেড়েছেন মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তিনি বলেন, ইরানের নেতৃত্বের সঙ্গে ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন আসিম মুনির। সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ইরান ‘লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ শেষ করার ওপর আলোচনাকে কেন্দ্রীভূত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে’। তিনি বলেন, ‘এ পর্যায়ে আমরা পারমাণবিক বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা করব না। আমরা ৩০ বা ৬০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক বিষয়ে প্রবেশ করব কিনা, তা পরের বিষয়।’

‘আলোচনায় তেহরান আপস করবে না’
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ইরানের অন্যতম শীর্ষ আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ গতকাল তেহরানে আলোচনার সময় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করার আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র কোনো সৎ পক্ষ নয়; ইরান তার জাতীয় অধিকারের বিষয়ে কোনো আপস করবে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির উপস্থিতিতে মুনির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও দেখা করেন। পেজেশকিয়ানের সঙ্গে তাঁর দুটি বৈঠক হয়।

জানা গেছে, এ আলোচনা ইরানের ১৪ দফা প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে হয়েছিল, যেটিকে ইরান আলোচনার মূল কাঠামো হিসেবে বিবেচনা করে। পাশাপাশি দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা বিনিময়ও হয়। গালিবাফ বলেছেন, ইরান যুদ্ধক্ষেত্রে ও কূটনীতির মাধ্যমে তার ‘বৈধ অধিকার’ অনুসরণ করবে। তিনি আরও বলেন, ‘বিন্দুমাত্র সততা নেই– এমন কোনো পক্ষকে বিশ্বাস করা যায় না।’ ইরানের স্পিকার বলেন, যুদ্ধবিরতির সময় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের সক্ষমতা পুনর্গঠন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি নির্বোধের মতো যুদ্ধ পুনরায় শুরু করে, তবে এর পরিণতি আগের চেয়ে আরও জোরালো ও তিক্ত হবে।

ইসরায়েলের মন্ত্রী বেন গাভিরকে নিষিদ্ধ করল ফ্রান্স
গাজায় ফ্লোটিলার কর্মীদের প্রতি তাঁর ‘অগ্রহণযোগ্য কর্মকাণ্ডের’ জেরে ফ্রান্স ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গাভিরকে নিষিদ্ধ করেছে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো বলেন, ‘আমরা ফরাসি নাগরিকদের এভাবে হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা নৃশংসতার শিকার হওয়া সহ্য করতে পারি না, বিশেষ করে একজন সরকারি কর্মকর্তার দ্বারা।’

ব্যাংকগুলোর প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা পরিশোধিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকার কম হলে নগদ লভ্যাংশ নয়

ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণার নিয়ম আরও কঠোর করল বাংলাদেশ ব্যাংক। পরিশোধিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকার কম হলে ওই ব্যাংক ২০২৬ সালের জন্য নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে না। সব নিয়ম মেনে লভ্যাংশ ঘোষণায় যোগ্য ব্যাংক সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ নগদ দিতে পারবে। গতকাল শনিবার এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা সব ব্যাংকে পাঠানো হয়। এই নির্দেশনার আলোকে বর্তমানে নগদ লভ্যাংশ ঘোষণায় একমাত্র যোগ্য ব্র্যাক ব্যাংক।

গত বছরের নির্দেশনার আলোকে ২০২৫ সালের জন্য কোনো ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশ বা তার বেশি হলে ওই ব্যাংক আর লভ্যাংশ দিতে পারেনি। আবার মূলধন কিংবা প্রভিশন ঘাটতিতে থাকা ব্যাংক যত মুনাফাই করুক লভ্যাংশ দিতে দেওয়া হয়নি। এই নিয়মে এবার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে কেবল ১৬টি লভ্যাংশ দিতে পেরেছে। ২০২৬ সালের জন্য এসব নির্দেশনার পাশাপাশি নতুন দুটি শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।

গতকালের সার্কুলারে বলা হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোর ভবিষ্যত ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং খাতের সার্বিক মূলধন ভিত্তি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ব্যাংকগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণার নতুন নির্দেশনা দেওয়া হলো। পরিশোধিত মূলধন দুই হাজার কোটি টাকার কম থাকলে ওই ব্যাংক কোনো প্রকার নগদ লভ্যাংশ দিতে পারবে না। সব নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালনের পর সক্ষম ব্যাংক ঘোষিত মোট লভ্যাংশের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ নগদ দিতে পারবে। এ নির্দেশনা ২০২৬ সাল এবং পরবর্তী বছরের জন্য কার্যকর হবে।
বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে কেবল দুটি ব্যাংকের ২ হাজার কোটি টাকার বেশি পরিশোধিত মূলধন রয়েছে। এর মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংকের ৩ হাজার ২২০ কোটি এবং ব্র্যাক ব্যাংকের রয়েছে ২ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা। তবে ন্যাশনাল ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি, উচ্চ খেলাপিসহ প্রচণ্ড খারাপ অবস্থার কারণে লভ্যাংশ দেওয়া তো দূরে থাক, সাধারণ আমানতকারীর অর্থ ফেরত দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই।

পরিশোধিত মূলধন দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে আইএফআইসির এক হাজার ৯২২ কোটি, সিটি ব্যাংক এক হাজার ৭৪৯ কোটি, ইস্টার্ন এক হাজার ৬৪৪ কোটি, ইসলামী এক হাজার ৬১০ কোটি এবং ইউসিবির ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা রয়েছে। এসব ব্যাংকের মধ্যে সিটি ও ইস্টার্ন ছাড়া অন্য ব্যাংকগুলো বর্তমানে লভ্যাংশ দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই।

একীভূত বা অধিগ্রহণে বিএসইসির পর্যবেক্ষণ বাধ্যতামূলক হচ্ছে

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সঙ্গে অন্য কোনো তালিকাভুক্ত বা অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণে শেয়ারহোল্ডার ও হাইকোর্টের অনুমোদন নিতে হয়। এ বিষয়ে কোনো আইনি বিধান না থাকায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পর্যবেক্ষণ বা অনুমোদন নেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
বিএসইসি বলছে, এ-সংক্রান্ত প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে প্রথমবারের মতো বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (করপোরেট রিস্ট্রাকচারিং) রুলস, ২০২৬ নামে এ বিধিমালার খসড়া জনমত যাচাইয়ের জন্য সংস্থাটি প্রকাশ করেছে। আগামী ৭ জুনের মধ্যে অংশীজনদের এ বিষয়ে মতামত পাঠাতে অনুরোধ করছে সংস্থাটি।

প্রস্তাবিত এই বিধিমালা প্রণয়নের উদ্দেশ্য বিষয়ে কমিশন বলেছে, করপোরেট পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে সঠিক মূল্যায়ন, পর্যাপ্ত তথ্য প্রকাশ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, যাতে সাধারণ বিনিয়োগকারী বিশেষ করে সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা পায়।

একীভূতকরণ বা অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে বর্তমান কোম্পানি আইন অনুযায়ী হাইকোর্টের অনুমোদন নিয়ে থাকে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি। এ প্রক্রিয়ায় বিএসইসির পক্ষভুক্ত হয়ে মত দেওয়ার সুযোগ থাকলেও অতীতে সিংহভাগ ক্ষেত্রে স্বার্থান্বেষী মহলের পক্ষে মত দিয়েছে বা মতামত প্রদান থেকে বিরত থেকেছে বিএসইসি। ফলে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ লঙ্ঘিত হয়েছে।
মার্জার বা একীভূতকরণ হলো–দুই বা ততধিক কোম্পানি একটি কোম্পানিতে রূপান্তর করা। এক্যুইজিশন বা অধিগ্রহণ হলো একটি কোম্পানি যখন অন্য কোম্পানিকে কিনে নিজের করপোরেট কাঠামোর মধ্যে নিয়ে পরিচালনা করে। উভয়ক্ষেত্রে একাধিক কোম্পানি শেষ পর্যন্ত একটি কোম্পানি হিসেবে পরিচালিত হয়। এক্ষেত্রে আগের যেকোনো একটি কোম্পানির নামে পুনর্গঠিত কোম্পানি কার্যক্রম চালাতে পারে। অথবা নতুন কোনো নামও ধারণ করতে পারে।

বিএসইসির খসড়া বিধিমালা অনুমোদন হলে কমিশনের পর্যবেক্ষণ ছাড়া কোনো মার্জার বা একুইজিশন স্কিম বাস্তবায়নে পরবর্তী ধাপে যাওয়া যাবে না। খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী, শেয়ার বিনিময়ের হার বা কনভারশন রেট নির্ধারণে স্বচ্ছতা আনতে কোম্পানিগুলোকে বিএসইসি নির্ধারিত প্যানেলভুক্ত অডিট ফার্ম বা মার্চেন্ট ব্যাংকারকে স্বাধীন মূল্যায়নকারী হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে।

পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ও আইনি কাঠামো
খসড়া বিধিমালায় বলা হয়েছে, কোনো কোম্পানি পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করলে প্রথমে তার পরিচালনা পর্ষদে সেটি অনুমোদন করতে হবে এবং ৩০ দিনের মধ্যে বিএসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জে পর্যবেক্ষণ নিতে জমা দিতে হবে। বিএসইসি এবং স্টক এক্সচেঞ্জ পর্যবেক্ষণ দেওয়ার পর বিশেষ সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের সভায় (ইজিএম) বিশেষ প্রস্তাবের মাধ্যমে এটি অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে। শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা, পরিচালক এবং ৫ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণকারীদের বাদে উপস্থিত সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের অন্তত ৭৫ শতাংশের সম্মতি প্রয়োজন হবে। চূড়ান্ত পর্যায়ে কোম্পানিকে মহামান্য হাইকোর্টের অনুমোদন নিতে হবে।

মূল্যায়ন পদ্ধতি ও তদারকি
খসড়া বিধিমালা অনুসারে, সম্পদ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে কমিশন নির্ধারিত প্যানেল অডিটর বা মার্চেন্ট ব্যাংকারকে স্বাধীন মূল্যায়নকারী হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। সম্পদ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে দুটি ভিন্নধর্মী পদ্ধতি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে বলা হয়েছে, স্বকীয় মূল্যায়ন পদ্ধতিগুলো (অ্যাবসলিউট ভ্যালুয়েশন) এবং তুলনামূলক মূল্যায়ন পদ্ধতি (রিলেটিভ ভ্যালুয়েশন) থেকে অন্তত দুটি করে পদ্ধতি অনুসরণ করে থেকে সম্পদ মূল্যায়ন এবং শেয়ার বণ্টন অনুপাত নির্ধারণ করতে হবে। স্বকীয় সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নিজস্ব আয় ও নগদপ্রবাহের মতো মৌলিক ভিত্তিগুলো দেখা হয় এবং তুলনামূলক মূল্যায়ন পদ্ধতিতে সমজাতীয় অন্য কোম্পানির সঙ্গে তুলনা করে দাম নির্ধারণ করা হয়।

প্রতিবেশী দেশ ভারত ছাড়াও উন্নত দেশগুলোতে করপোরেট পুনর্গঠনের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই শক্তিশালী আইনি কাঠামো অনুসরণ করছে। ভারতে কোম্পানি আইনের অধীনে এনসিএলটি নামক বিশেষ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া তদারকি করে, যা উচ্চ আদালতের দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকে।
এদিকে একীভূতকরণ বা অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার ফলে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ওপর কী প্রভাব পড়বে সে বিষয়ে একটি পৃথক প্রতিবেদন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে খসড়া বিধিমালায়। যারা এমন স্কিমের বিপক্ষে মত দেবেন বা ভিন্নমতালম্বী হবেন, তাদের একটি তালিকাও কমিশনকে দিতে হবে।

খসড়া এ বিধিমালাকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্চেন্ট ব্যাংকের কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে পুরো স্কিম সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের সবার পছন্দ নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে কেউ যদি নতুন ব্যবস্থায় শেয়ারহোল্ডার থাকতে না চান, তার শেয়ার ছেড়ে দেওয়ার পদ্ধতি আছে। এ বিধানে এ বিষয়ে নিয়ম রাখা যেত।
জানতে চাইলে ব্রোকারদের সংগঠন ডিবিএর সভাপতি সাইফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, এতদিন যত একীভূতকরণ বা অধিগ্রহণ হয়েছে, তার সিংহভাগ ক্ষেত্রে জাল-জালিয়াতি হয়েছে, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ঠকেছেন। কমিশন এই জালিয়াতি কীভাবে ঠেকাবে এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করবে–এ বিষয়গুলো দেখতে হবে।