Home Blog Page 81

ঈদের ছুটির পর বাড়তে পারে বিদ্যুতের দাম

ঈদের ছুটির পরই বিদ্যুতের নতুন দাম ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আগামী ১ জুন থেকেই নতুন দর কার্যকর করতে চায় বিদ্যুৎ বিভাগ। এ লক্ষ্যে দ্রুত প্রক্রিয়া শেষ করতে তৎপরতা চালাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গত ২০ ও ২১ মে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি সম্পন্ন হয়েছে। পাইকারি, খুচরা উভয় পর্যায়েই দাম বাড়ানোর বিষয় অনেকটা নিশ্চিত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পাইকারি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ এবং খুচরা পর্যায়ে ৮ থেকে ১৬ শতাংশ দাম বাড়ানো হতে পারে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পাইকারি পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি এক টাকা ২০ পয়সা থেকে এক টাকা ৫০ পয়সা (২১ থেকে ২৯ শতাংশ) দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, শেষ পর্যন্ত ১৫ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে।

পিডিবির প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুতের সম্ভাব্য উৎপাদন ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় উৎপাদন খরচ পড়বে ১২ টাকা ৯১ পয়সা। কিন্তু বর্তমান পাইকারি দরে বিদ্যুৎ বিক্রি করলে আয় হবে ৭৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা।

পিডিবি বলছে, ইউনিটপ্রতি এক টাকা ২০ পয়সা দাম বাড়ানো হলে ঘাটতি কমবে এক হাজার ৩২৯ কোটি টাকা। আর এক টাকা ৫০ পয়সা বাড়ালে ঘাটতি কমবে এক হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা।

পাইকারি দরে লোকসানের যুক্তি তুলে ধরে বিতরণ কোম্পানিগুলোও খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ানোর আবেদন করেছে। ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো) ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) ৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) ১০ শতাংশ এবং বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) ইউনিটপ্রতি ৩ পয়সা এবং পিডিবি ২৯ পয়সা বাড়ানোর আবেদন করেছে। পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়লে খুচরা পর্যায়ে ৮ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, দাম বাড়ানোর বিষয়ে দ্রুত আদেশ দেওয়া হবে। সুনির্দিষ্ট তারিখ বলা যাচ্ছে না। দাম নির্ধারণের বিষয়ে কাজ চলছে। এখনই সুনির্দিষ্ট পরিমাণ বলা সম্ভব নয়। তবে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, ১ জুন থেকে নতুন দর কার্যকর করতে তৎপরতা চলছে।

সঞ্চালন চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব
দেশের একমাত্র সঞ্চালন কোম্পানি পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি বিদ্যুৎ সঞ্চালন চার্জ প্রতি ইউনিটে ৩০ ও ৩১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪৮ ও ৪৯ পয়সা করার আবেদন করেছে। তবে কারিগরি কমিটি ৪৪ পয়সা নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছে।

উৎপাদন খরচ বেড়েছে 
পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ পৌঁছে সাড়ে ৮ টাকার ঘরে। বর্তমানে গড় উৎপাদন খরচ ১৩ টাকার কাছাকাছি বলে দাবি করা হচ্ছে। ডলারের দাম এবং জ্বালানির আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধিকে এ পরিস্থিতির কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। তবে জ্বালানি খাত-সংশ্লিষ্ট অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, অনিয়ম, দুর্নীতি, অসম চুক্তি ও অব্যবস্থাপনার কারণেও বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় বেড়েছে।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়। তখন পাইকারি বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি গড় দাম ছয় টাকা ৭০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয়।

শুনানিতে দাম বাড়ানোর বিরোধিতা
গত ২০ ও ২১ মে ঢাকায় অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক নেতা, ভোক্তা অধিকারকর্মী, ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন। তাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, ভুল পরিকল্পনা ও অপচয়ের বোঝা এখন সাধারণ মানুষের কাঁধে চাপানো হচ্ছে।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাংগঠনিক সম্পাদক ড. সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, সরকার ও বিদ্যুৎ খাতের সংস্থাগুলো প্রতিবারই ভর্তুকির চাপের যুক্তি তুলে ধরে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব আনে। কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, সংসার চালানোর কষ্ট কিংবা ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয় না।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, শিল্প ও রপ্তানি খাত এমনিতেই নানা চাপে রয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ালে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যাবে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
বিকেএমইএর এক নেতা বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের বাড়তি দাম শিল্পকারখানাকে আরও সংকটে ফেলবে।

ঈদযাত্রায় দুই মহাসড়কে ধীরগতি, দুর্ভোগ

শিল্পকারখানার একাংশে ছুটির পর যাত্রীর ঢলে ঢাকা-উত্তরবঙ্গ ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর অংশে গতকাল সোমবার বিকেল থেকে যানজট শুরু হয়েছে। উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকার প্রবেশপথ বলে খ্যাত গাজীপুরের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় অন্তত ২০ কিলোমিটার সড়কজুড়ে যানজট ছিল। বৃষ্টিতে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত দুপুরের পর ধীরগতি ও থেমে থেমে যানজট ছিল।

আজ মঙ্গলবার গাজীপুরের ৪৫ শতাংশ কলকারখানায় ঈদের ছুটি হবে। তাই আজ ভোগান্তির শঙ্কা আরও বেশি। তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যানজট ছিল না। গতকাল ঈদযাত্রায় বিভিন্ন সড়কে দুর্ঘটনায় ৩১ জন নিহত হয়েছেন।

যাত্রীর চাপ বাড়ায় গতকাল বিকেল থেকে বাসে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। বাস সংকটে ট্রাক, পিকআপে হাজার হাজার যাত্রী গ্রামের পথ ধরেন। বৃষ্টিতে তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়ে। রাজধানীর অভ্যন্তরীণ রুটে চলা লোকাল বাসগুলো মহাসড়কে যাত্রী পরিবহনে নামলে বিশৃঙ্খলা আরও বৃদ্ধি পায়।

আগের দিনগুলোর তুলনায় গতকাল ট্রেনে ছিল উপচে পড়া ভিড়। সন্ধ্যার পর উত্তরবঙ্গ ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ট্রেনগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হাজারো যাত্রী ছাদে ওঠেন।

আগামী বৃহস্পতিবার ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। ভোগান্তি এড়াতে ঈদের আগে তিন দিন ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার, যাতে ধাপে ধাপে যাত্রীরা শহর ছাড়তে পারেন। রমজানে ঈদের চার দিন ছুটি ছিল। তবে শেষদিকে দুর্ভোগ হয়। এবারও একই পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে মহাসড়কের পাশে গরুর হাট, কলকারখানায় ছুটির পর যাত্রীর ঢল এবং বৃষ্টির কারণে।

যানজটে ভোগান্তি দুই মহাসড়কে 
গতকাল ৪২ শতাংশ কলকারখানায় ছুটি হয়েছে। এতে ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের চন্দ্রা এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী থেকে জৈনা বাজার পর্যন্ত অংশে যাত্রীর ঢল নামে। দিনভর বৃষ্টিতে সড়কে কাদাপানিতে গাড়ির গতি কমে ভোগান্তি আরও বাড়ে।

একই পোশাক কারখানায় চাকরি করেন হেলাল উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী আসমা আক্তার। বেতন-বোনাস পেয়ে স্বামী-স্ত্রী সোমবার সকালেই বাসা থেকে বের হন গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে। কিন্তু তাদের ঈদযাত্রায় বাগড়া লাগায় জ্যৈষ্ঠের বৃষ্টি। তুমুল বর্ষণে ভিজে ফিরে যান বাসায়।

গাজীপুরে সাড়ে তিন হাজার শিল্পকারখানার মধ্যে গতকাল থেকে ১ হাজার ৪৭টিতে ছুটি শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ৪৫ ভাগ ও আগামীকাল বুধবার ৮ ভাগ কারখানায় ছুটি হবে। তাই আজও মহাসড়ক দুটিতে যানবাহনের চাপ থাকবে বলে ধারণা করছে পুলিশ। গাজীপুর শিল্প পুলিশ বলছে, প্রথম ধাপের ছুটি পেয়ে সোমবার ৩০ লাখ শ্রমিকের অন্তত ১৫ লাখ বাড়ির পথে যাত্রা করেছেন।

গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর সুপার মো. আমজাদ হোসাইন সমকালকে বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানজট নিরসন ও চাপ কমানোর জন্য এবারও তিন ধাপে কারখানাগুলোর ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় মাওনা চৌরাস্তা, ভবানীপুর, বাঘের বাজার ও নয়নপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দুপাশেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ধীরগতিতে চলছে গাড়িগুলো। শ্রমিকরা বাস, ট্রাক, পিকআপসহ যিনি যেভাবে পারছেন, যাচ্ছেন।

চন্দ্রায় যাত্রীদের ঢল নামে বিকেল থেকেই। অন্তত ২০ কিলোমিটার সড়কজুড়ে যানজট ছিল। পরিবহনগুলোতে কয়েক গুণ ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। তুমুল বৃষ্টিতে ভোগান্তি বেড়ে যায়।

যাত্রীরা জানান, ইপিজেড থেকে চন্দ্রার ভাড়া ২০-৩০ টাকা; নেওয়া হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। টাঙ্গাইলের ভাড়া সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা ও উত্তরবঙ্গে সর্বনিম্ন এক হাজার টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

নাওজোড় হাইওয়ে থানার ওসি সওগাতুল আলম বলেন, দুপুর থেকেই মহাসড়কে চাপ বেড়ে যায়। বৃষ্টি কিছুটা ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান বলেন, ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহনের প্রচুর চাপ। তবে আটকে থাকছে না গাড়ি।

গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন বলেন, মঙ্গলবার ৪৫ শতাংশ কারখানায় ছুটি হবে– মাথায় রেখেই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।

এ ছাড়া গতকাল আশুলিয়ায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় ১৩ কিলোমিটার সড়কে যানজট ছিল। একযোগে যাত্রীরা রাস্তায় নামায় এবং যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করায় এ যানজট হয়। মৌমিতা পরিবহনের চালক ইকবাল হোসেন বলেন, দুপুরের পর থেকে সড়কে যাত্রীর চাপ বেড়েছে।

সাভার হাইওয়ে থানার ওসি শেখ শাহজাহান বলেন, বিভিন্ন স্থানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানোর কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে যানজট শুরু হয়ে বাইপাইল পর্যন্ত গেছে।

সোমবার সকাল থেকে ভিড় ছিল চট্টগ্রাম নগরীর দূরপাল্লার বাসস্ট্যান্ডগুলোতে। তীব্র গরম উপেক্ষা করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নগর ছাড়ছেন হাজারো মানুষ। শাহ আমানত সেতু দিয়ে নগর থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন রুট ছাড়াও কক্সবাজার-টেকনাফের বাস চলাচল করে। দুপুরে সেতু এবং আশপাশে প্রায় দুই কিলোমিটার যানজট হয়।

পরিবারের সদস্যদের নিয়ে টেকনাফে যাচ্ছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী আরমান হোসেন। স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে নিয়ে শাহ আমানত সেতুর বাস কাউন্টারে টিকিট নিতে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। আরমান হোসেন বলেন, সুযোগ বুঝে বাড়তি ভাড়া দাবি করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে যানজট না থাকলেও বাস সংকটে গতকাল দুর্ভোগ হয়েছে যাত্রীদের। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থেকেও বাস পাননি তারা। একাধিক যাত্রী জানান, ২৫০ টাকার ভাড়া ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে।

ঘাটেও যানজট 
পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাটে সোমবার সকাল থেকে উপচে পড়া ভিড় ছিল। যাত্রীবাহী যানবাহনের সারি পাটুরিয়া ঘাট এলাকা থেকে চরেরডাঙ্গা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার ছাড়ায়।

ঘাট কর্তৃপক্ষ বলছে, নৌরুটে ১৭টি ফেরি দিয়ে যানবাহন ও যাত্রী পার করা হচ্ছে। অন্যদিকে আরিচা-নগরবাড়ী নৌরুটে পাঁচটি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পার করা হচ্ছে।

গতকাল ঢাকার গাবতলী থেকে ছেড়ে আসা রাজবাড়ীগামী হানিফ বাসের চালক মতিউর রহমান বলেন, গাবতলী থেকে সকাল ৭টায় বাস ছেড়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পাটুরিয়া ঘাটে আসি। যানজটের কারণে দুপুর ২টা পর্যন্ত অপেক্ষায় থেকেও ফেরিতে উঠতে পারিনি।

নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা কুষ্টিয়াগামী ট্রাকচালক সুমন আহম্মেদ বলেন, দুপুর ১২টার দিকে পাটুরিয়া ঘাটে আসি। যানজটের কারণে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অপেক্ষায় থেকেও ফেরিতে উঠতে পারিনি।

আরিচা অফিসের বিআইডব্লিউটিসির ডিজিএম আব্দুল সালাম বলেন, সোমবার সকাল থেকে যাত্রী ও যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘাট পরিদর্শনে এসে নৌ প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান বলেছেন, স্বস্তিতেই ঘরমুখী যাত্রীরা বাড়ি যাচ্ছেন।

চাপ বেড়েছে সেতুতে 
ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিতে পদ্মা সেতুতে সোমবার দিনে গাড়ি চলাচল কম থাকলেও সন্ধ্যার আগে থেকে চাপ বাড়ে। ১২ ঘণ্টায় টোল আদায় হয় ২ কোটি ৪১ লাখ ৮০ হাজার ৪৫০ টাকা, যা সাধারণ সময়ের প্রায় দ্বিগুণ।

টাঙ্গাইলে যমুনা সেতুতে গড়ে দিনে ২০ হাজার গাড়ি চলাচল করে। সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩৯ হাজার ৯১৯টি যানবাহন পারাপার হয়।

সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবক আহত

কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে এক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার সকালে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী কাটাপাহাড় সীমান্তসংলগ্ন মিয়ানমার অংশে এ ঘটনা ঘটে।

আহত যুবকের নাম মো. সালমান (২৭)। তিনি উখিয়ার ১০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা এবং মো. নিজামত আলীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণে তার পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে ।

ক্যাম্পের বাসিন্দা আহমদ উল্লাহ জানান, সীমান্তের ওপারে যাওয়ার সময় হঠাৎ মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে সালমান গুরুতর আহত হন। পরে অন্য রোহিঙ্গাদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘মিয়ানমার সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে এক রোহিঙ্গা যুবক আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। তবে বিভিন্ন সময় অভিযোগ পাওয়া যায়, কিছু রোহিঙ্গা অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে মাদক আনার সঙ্গে জড়িত। বৈধ কোনো কারণ ছাড়া তাদের সীমান্তের ওপারে যাওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত।’

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, ‘মাইন বিস্ফোরণে আহত হওয়ার বিষয়ে এখনো থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কোনো তথ্য জানায়নি।’

এদিকে, গতকাল রোববার বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায় পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হন।

ঈদে বানান স্বাস্থ্যকর পানীয়

এবারের কোরবানির ঈদ পড়েছে গরমের মধ্যে। উৎসবের দিনগুলোতে পোলাও, মাংস, বিরিয়ানি তো খাওয়া হয়ই । এর পাশাপাশি থাকে নানা পদের মিষ্টি। এসব ভারী খাবার খাওয়ার পর হজম সহায়তার জন্য বাড়িতে তৈরি করতে পারেন স্বাস্থ্যকর পানীয়।

মাঠা
উপকরণ: ফুলক্রিম দুধের টক দই ১ কেজি, বিট লবণ ১ চা চামচ, সাদা লবণ স্বাদমতো, চিনি ২-৩ টেবিল চামচ, ঠান্ডা পানি ২ গ্লাস, লেবুর রস ১-২ টেবিল চামচ, ছানা-মাখন সামান্য (পরিবেশনের জন্য)।
প্রস্তুত প্রণালি: টক দইয়ে পানি বাদে সব উপকরণ মিশিয়ে নিতে হবে। এবার পানি মেশাতে হবে। মাঠা কতটুকু ঘন রাখা হবে তার ওপর নির্ভর করে পানি দিতে হবে। গ্লাসে মাঠা ঢেলে ছানা-মাখন দিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

Pic 8 1779698387

বোরহানি 

উপকরণ :টক দই ১ কেজি, পানি আধা লিটার, ডালসহ পুদিনা পাতা বাটা ১ চা চামচ, ধনেপাতা ১ চা চামচ, বিট লবণ আধা চা চামচ, সাদা গোলমরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ, কাঁচামরিচ বাটা আধা চা চামচ, জিরা ভাজা গুঁড়া আধা চা চামচ, সাদা সরিষা গুঁড়া আধা চা চামচ, লবণ পরিমাণমতো ও চিনি প্রয়োজন মতো

প্রস্তুত প্রণালি :দই ভালোভাবে ফেটিয়ে নিয়ে পানি দিন । এরপর একে একে সব উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এবার ছেঁকে বরফ কুচি দিয়ে পরিবেশন করুন।

Pic 6 1779698416

টক দই পুদিনা পাতার শরবত

উপকরণ

পুদিনা পাতা এক কাপ, টক দই ২৫০ মিলিলিটার, ধনেপাতা আধা কাপ, কাঁচামরিচ কুচি দুটি, কাঁচা আম দুই টুকরা, গোলমরিচের গুঁড়া সামান্য, বরফ কুচি সামান্য ও লবণ স্বাদমতো।

প্রস্তুত প্রণালি

প্রথমে পুদিনা পাতা ও ধনেপাতা কুচি ভালো করে ধুয়ে একটি ব্লেন্ডারে নিন। এবার এর মধ্যে টক দই, কাঁচামরিচ কুচি, কাঁচা আম, গোলমরিচের গুঁড়া ও লবণ দিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করুন। আধা কাপ পানি দিয়ে আবারও ব্লেন্ড করে নিন। এবার ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে একটি গ্লাসে মিশ্রণটি ঢেলে নিন। ওপরে সামান্য বরফ কুচি দিয়ে পরিবেশন করুন ঠান্ডা পুদিনা-টক দই শরবত।

ছোট কাকু সিরিজ এবার কিশোরগঞ্জে, যুক্ত হলেন মম

ঈদ এলেই দর্শকদের জন্য নতুন চমক নিয়ে হাজির হয় জনপ্রিয় শিশুতোষ সিরিজ ‘ছোটকাকু’। বরাবরের মতো এবারও আসছে এর নতুন কিস্তি ‘কিশোরগঞ্জের কিশোরদল’। তবে এবারের আয়োজনে রয়েছে বাড়তি আকর্ষণ। এই সিরিজের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কিংবদন্তি নির্মাতা ও অভিনেতা আফজাল হোসেনের পরিচালনায় অভিনয় করেছেন জাকিয়া বারী মম। আর সেই অভিজ্ঞতা মমর কাছে হয়ে উঠেছে ভীষণ আবেগ আর মুগ্ধতার।

সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন লোকেশনে শেষ হয়েছে নাটকটির শুটিং। শিশুসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগরের জনপ্রিয় ‘ছোটকাকু’ সিরিজ অবলম্বনে নির্মিত এই আট পর্বের গোয়েন্দাধর্মী নাটকের নাট্যরূপ দিয়েছেন মাসুম রেজা। নির্মাণে ছিলেন আফজাল হোসেন, সহপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আরিফ খান।

বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছেন আফজাল হোসেন। এরই মধ্যে নাটকটির পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজও শেষ হয়েছে। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন রওনক হাসান, আহসান হাবিব নাসিম, তাহমিনা সুলতানা মৌ, শাহেদ আলী, তানভীর হোসেন ও মারিয়া ফারিহা উপমা প্রমুখ। অভিনয়ের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রেও দেখা যাবে আফজাল হোসেনকে।

‘ছোটকাকু’ নিয়ে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে আফজাল হোসেন বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই দুঃসাহসিক অভিযানভিত্তিক ছগল্পের প্রতি আমার আলাদা আগ্রহ ছিল। সেই ভালো লাগা থেকেই ছোটকাকু সিরিজের সঙ্গে দীর্ঘ পথচলা। শিশুদের জন্য দেশে খুব বেশি কাজ হয় না বলেই এই সিরিজ নির্মাণে আলাদা আনন্দ পাই।’

অন্যদিকে, আফজাল হোসেনকে নিয়ে গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন মম। তিনি বলেন, “আফজাল হোসেনরা তো এ সময়ের হাইপে ওঠা মানুষ নন, তাঁরা সত্যিকারের গুণী মানুষ। তিনি আমাদের দেশের সম্পদ। একজন শিল্পীর কাছ থেকে কী চান, সেটা তিনি খুব পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দিতে পারেন। একজন পরিচালক ও অভিনয়শিল্পীর মধ্যে এই কমিউনিকেশনটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।”

মম জানান, নাটকটির জন্য তিনি দুই দিন শুটিং করেছেন। গত শুক্রবার শেষ হয়েছে তাঁর অংশের কাজ। চ্যানেল আইয়ের ঈদ আয়োজনের অংশ হিসেবে ‘কিশোরগঞ্জের কিশোরদল’ প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে প্রচারিত হবে।

তীব্র গরম আর যুদ্ধ-উদ্বেগের আবহে শুরু হজের আনুষ্ঠানিকতা

পবিত্র হজ পালন আজ সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৫ লাখের বেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনার পরিস্থিতির আবহেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা সৌদি আরবে জড়ো হয়েছেন।

হজের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম দিনে মক্কায় উপস্থিত বহু হজযাত্রীরা তাঁবুর নগরী হিসেবে পরিচিত মিনায় সমবেত হন। এর আগে, তীব্র দাবদাহের মধ্যে তারা মসজিদুল হারামে অবস্থিত পবিত্র কাবা শরিফ প্রদক্ষিণ করেন।

আগামী মঙ্গলবার হজযাত্রীরা আরাফাতের ময়দানে গিয়ে সমবেত হবেন। সেখানে তাঁরা নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা ও বিশেষ মোনাজাত করবেন।

এদিকে গরমের কারণে ধর্মীয় বিভিন্ন আচার সম্পন্ন করার সময় অনেক হজযাত্রী ছায়ার জন্য ছাতা ব্যবহার করছেন। কেউ কেউ সঙ্গে পোর্টেবল বা হাত-পাখা রাখছেন। শরীর সতেজ ও হাইড্রেটেড রাখতে স্বেচ্ছাসেবীরা পানির বোতল বিতরণ করছেন এবং বড় ফ্যান বা পাখার সাহায্যে চারদিকে হালকা পানির কুয়াশা ছিটানো হচ্ছে।

গরমের পাশাপাশি এবার সৌদি আরবসহ গোটা মধ্যপ্রাচ্যে এক ভিন্ন আবহ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের অবসানে একটি প্রাথমিক চুক্তির কথা বলা হলেও কিছু বিষয়ে মতবিরোধের কারণে তা সম্পন্ন হতে দেরি হওয়ার শঙ্কা করা হচ্ছে।

এছাড়া, জ্বালানি সংকটের বিষয়টি মাথায় রেখেও বিভিন্ন দেশ হজযাত্রীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ হজ মৌসুম শুরুর আগে থেকেই সার্বিক বিষয়ে জরুরি বা বিকল্প পরিকল্পনা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে। একইসঙ্গে দেশটির হজযাত্রীদের ওপর যাতে অতিরিক্ত খরচ চাপানো না হয় তা নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা জারি করে।

সরকারের পরিচালন ও সুদ পরিশোধ ব্যয় বাড়ছেই

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) সরকারের পরিচালন ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩ লাখ ১৫ হাজার ৫৪ কোটি টাকা। এ ছাড়া বরাদ্দ অনুসারে পরিচালন ব্যয়ের হারও বেড়েছে। গত অর্থবছরের প্রথম মাসে পরিচালন ব্যয় ছিল এ খাতে মোট বরাদ্দের ৬২ শতাংশ, যা এবার বেড়ে হয়েছে ৬৩ শতাংশ।

অন্যদিকে, পরিচালন ব্যয় বাড়লেও উন্নয়ন ব্যয়ের বাস্তবায়ন কমেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন হার গত বছরের তুলনায় ২ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে ২৩ শতাংশে নেমে এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে ব্যয় ছিল ৭১ হাজার ১৪২ কোটি টাকা, যা এবার কমে দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার ৫৪ কোটি টাকা। অর্থ বিভাগের হালনাগাদ বাজেট বাস্তবায়ন প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আর্থিক খাতে নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রভাব ব্যাংক খাত পেরিয়ে পুরো অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ে। এমন প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতির ক্ষত সারাতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি সরকারি ব্যয়ে লাগাম টানার ঘোষণা দেয়। এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা সামনে রেখে সম্প্রতি পরিচালন ব্যয়ে নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করে প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে নতুন সরকার। বাস্তবে পরিচালন বাজেটের আওতায় ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পরিচালন ব্যয় বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো দেশি ও বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধের ক্রমবর্ধমান চাপ। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও সার খাতে বিপুল ভর্তুকি দিতে হচ্ছে সরকারকে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন ও বিশেষ প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের ফলে বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকারের অনুৎপাদনশীল ব্যয় আরও বাড়ছে।

এদিকে, দেশি-বিদেশি উৎস থেকে নেওয়া ঋণের সুদ পরিশোধেও সরকারের ব্যয় বেড়েছে। অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে সুদ পরিশোধ বাবদ ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৯৯ হাজার ৯০০ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৯৬ হাজার ২৩১ কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেট মিলিয়ে সরকারের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৮ হাজার ৪২৬ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা। পরিচালন ব্যয় বাড়ার প্রভাবে এ সময়ে মোট বাজেট বাস্তবায়ন হারও বেড়ে ৫২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৩ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি।

পরিচালন ব্যয়ের চেয়ে কম রাজস্ব আয়
পরিচালন ব্যয়ের চাপ বাড়তে থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের চেয়ে পরিচালন ব্যয় বেশি হচ্ছে। অর্থাৎ শুধু উন্নয়ন ব্যয় নয়, বেতন-ভাতা, সুদ ও ভর্তুকির মতো পরিচালন ব্যয়ের একটি অংশও সরকারকে ঋণ নিয়ে মেটাতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য মোটেও ইতিবাচক নয়।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে পরিচালন ব্যয় হয়েছে ৩ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে সরকারের মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার ২৬২ কোটি টাকা। অর্থাৎ উন্নয়ন ব্যয়ের ৫৭ হাজার কোটি টাকার পাশাপাশি পরিচালন ব্যয়েরও প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা সরকারকে ঋণ নিয়ে মেটাতে হয়েছে। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের তুলনায় পরিচালন ব্যয় প্রায় সাড়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বেশি ছিল।

এ প্রসঙ্গে সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ সমকালকে বলেন, সাধারণত রাজস্ব আয় দিয়েই পরিচালন ব্যয় মেটানো হয় এবং সেখান থেকে কিছু অর্থ উন্নয়ন ব্যয়েও ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বর্তমানে রাজস্ব আয় দিয়ে পরিচালন ব্যয়ই ঠিকমতো মেটানো যাচ্ছে না, যা উদ্বেগজনক। তাঁর মতে, সরকারের উচিত পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রাজস্ব আয় বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া।

এদিকে, মোট ব্যয়ের তুলনায় রাজস্ব আয় কম হওয়ায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা।

ঈদ-পরবর্তী সাত দিন পশুর চামড়া ঢাকায় আনা যাবে না

রাজধানীর বাইরে থেকে ঈদ-পরবর্তী সাত দিন পর্যন্ত কাঁচা চামড়াবাহী কোনো যানবাহন ঢাকায় প্রবেশ করতে পারবে না। গতকাল রোববার বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে। এতে যথাযথভাবে কাঁচা চামড়ায় লবণ দেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিসিকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোরবানির পশুর চামড়া দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে চামড়ার গুণগত মান বজায় থাকে এবং দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

এতে চামড়া সংরক্ষণের বিষয়ে বলা হয়, পশুর চামড়া ছাড়ানোর পর দ্রুত রক্ত-মাংস পরিষ্কার করতে হবে। প্রতি গরুর চামড়ায় আট থেকে ১০ কেজি এবং ছাগল ও ভেড়ার চামড়ায় তিন থেকে চার কেজি লবণ দিতে হবে। চামড়া ভাঁজ করে শুকনো ও ছায়াযুক্ত স্থানে সংরক্ষণ করতে হবে। তাতে দীর্ঘ সময় চামড়া ভালো থাকবে।

কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কাঁচা চামড়াবাহী কোনো যানবাহন নির্ধারিত সময়ের (সাত দিন) আগে ঢাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই কারও কথায় চামড়া বোঝাই ট্রাক নিয়ে ঢাকায় প্রবেশের চেষ্টা করবেন না। এতে চামড়াসহ ট্রাক জব্দ করা হতে পারে।

শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান সমকালকে বলেন, গত বছর ২০ কোটি টাকার লবণ ফ্রি দেওয়া হয়েছে, যাতে চামড়া নষ্ট না হয়। এবার ১৮ কোটি টাকার লবণ ফ্রি দেওয়া হবে। কোন কোন মিলারের কাছ থেকে লবণ কিনতে হবে, সেটিও সরবরাহকারীদের বলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কীভবে কাঁচা চামড়ায় লবণ দিতে হবে, কীভাবে গরু থেকে চামড়া আলাদা করে তা সংরক্ষণ করতে হবে– এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য দুই কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তীব্র গরম আর যুদ্ধ-উদ্বেগের আবহে শুরু হজের আনুষ্ঠানিকতা

পবিত্র হজ পালন আজ সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৫ লাখের বেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনার পরিস্থিতির আবহেই ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা সৌদি আরবে জড়ো হয়েছেন।

হজের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম দিনে মক্কায় উপস্থিত বহু হজযাত্রীরা তাঁবুর নগরী হিসেবে পরিচিত মিনায় সমবেত হন। এর আগে, তীব্র দাবদাহের মধ্যে তারা মসজিদুল হারামে অবস্থিত পবিত্র কাবা শরিফ প্রদক্ষিণ করেন।

আগামী মঙ্গলবার হজযাত্রীরা আরাফাতের ময়দানে গিয়ে সমবেত হবেন। সেখানে তাঁরা নিজেদের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা ও বিশেষ মোনাজাত করবেন।

এদিকে গরমের কারণে ধর্মীয় বিভিন্ন আচার সম্পন্ন করার সময় অনেক হজযাত্রী ছায়ার জন্য ছাতা ব্যবহার করছেন। কেউ কেউ সঙ্গে পোর্টেবল বা হাত-পাখা রাখছেন। শরীর সতেজ ও হাইড্রেটেড রাখতে স্বেচ্ছাসেবীরা পানির বোতল বিতরণ করছেন এবং বড় ফ্যান বা পাখার সাহায্যে চারদিকে হালকা পানির কুয়াশা ছিটানো হচ্ছে।

গরমের পাশাপাশি এবার সৌদি আরবসহ গোটা মধ্যপ্রাচ্যে এক ভিন্ন আবহ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের অবসানে একটি প্রাথমিক চুক্তির কথা বলা হলেও কিছু বিষয়ে মতবিরোধের কারণে তা সম্পন্ন হতে দেরি হওয়ার শঙ্কা করা হচ্ছে।

এছাড়া, জ্বালানি সংকটের বিষয়টি মাথায় রেখেও বিভিন্ন দেশ হজযাত্রীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ হজ মৌসুম শুরুর আগে থেকেই সার্বিক বিষয়ে জরুরি বা বিকল্প পরিকল্পনা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে। একইসঙ্গে দেশটির হজযাত্রীদের ওপর যাতে অতিরিক্ত খরচ চাপানো না হয় তা নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা জারি করে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনই চুক্তি হচ্ছে না: ইরান

যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে তেহরান সতর্ক করে বলেছে, কোনো চুক্তি এখনই হচ্ছে না।

সোমবার সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘আলোচনাধীন বিষয়গুলোর একটি বড় অংশের ক্ষেত্রে আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পেরেছি। এ কথা সত্য। কিন্তু চুক্তিতে স্বাক্ষর করা সময়ের ব্যাপার মাত্র- এমনটা বলা ঠিক হবে না।’

বাঘাই আরও বলেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। বেশ কিছু বিষয়ে একটি সাধারণ সমঝোতাও তৈরি হয়েছে। তবে চুক্তি এখনই হচ্ছে না।

বাংলাদেশ সময় রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, খুব শিগগিরই ইরানের সঙ্গে একটি প্রাথমিক চুক্তি ঘোষণা করা হবে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়টিও আছে। একইদিন ভারতে অবস্থানরত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, বিশ্ববাসী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সুখবর পাবে। তবে রাতে ট্রাম্প জানান, তিনি চুক্তির বিষয়ে তড়িঘড়ি করতে বারণ করেছেন।

চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প ঘোষণা দেওয়ার আগে ইসমাইল বাঘাই বলেছিলেন, ইরানের উদ্দেশ্য প্রথমে একটি সমঝোতা স্মারক বা এক ধরনের রূপরেখা চুক্তি তৈরি করা। এর পরবর্তী ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

দুই পক্ষ পৃথকভাবে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে কথা বললেও মূল বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে কে কতটুকু ছাড় দিতে পারে তা স্পষ্ট নয়। এর মধ্যে আছে- পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, জব্দকৃত সম্পদ ও লেবানন প্রসঙ্গ।

পারমাণবিক কর্মসূচি
ইসমাইল বাঘাই জানান, পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি প্রাথমিক রূপরেখার অংশ না। বরং পরবর্তী পর্যায়ে এটি পৃথক আলোচনার বিষয় হিসেবে থাকবে। তবে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তির একটি অন্যতম প্রধান বিষয় হলো সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম। যেটির মজুত ত্যাগ করার বিষয়ে তেহরানের একটি দৃশ্যমান প্রতিশ্রুতি আছে।

ইরানের ফার্স ও তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান ইউরেনিয়ামের মজুত স্থানান্তর, সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া কিংবা পারমাণবিক বোমা তৈরি না করার বিষয়ে কোনো ধরনের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। উভয় সংস্থাই উল্লেখ করেছে, সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।

হরমুজ কীভাবে খুলবে?
সমঝোতার একটি জটিল ও অমীমাংসিত বিষয় হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা। ইরান জোর দিয়ে বলছে, তেলবাহী জাহাজ চলার সময় তাদের সশস্ত্র বাহিনীর অনুমতি নিতে হবে। ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তিটি চূড়ান্ত হলেও কৌশলগত এই জলপথের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবস্থাপনা বজায় থাকবে।

তাসনিম নিউজ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, হরমুজ প্রণালির সার্বিক পরিস্থিতি কোনোভাবেই যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে না। ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধের কথা উল্লেখ করে তারা আরও লিখেছে, রূপরেখা অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করতে হবে।

জব্দ সম্পদ ও লেবানন
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে আটকে থাকা সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে। তাসনিম নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যেকোনো প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছানোর পূর্বশর্ত হতে হবে এই আটকে থাকা সম্পদের অন্তত আংশিক ব্যবহারের সুবিধা দেওয়া। একেবারে প্রথম ধাপে যদি তাদের অবরুদ্ধ সম্পদের নির্দিষ্ট অংশ ছেড়ে দেওয়া না হয়, তবে কোনো চুক্তি হবে না।

সূত্রের বরাত দিয়ে ইরানের আধা-সরকারি এই সংস্থাটি লিখেছে, আটকে থাকা বাকি তহবিল ধারাবাহিকভাবে বা নিয়মিত ছাড় দেওয়ার বিষয়টিও চুক্তির আগে নিশ্চিত করতে চায় তেহরান। আরেক সংস্থা ফার্স লিখেছে, সম্ভাব্য সমঝোতার আওতায় আলোচনা চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল, গ্যাস ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে।

এদিকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল লেবাননে ইরানের মিত্র হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে প্রতিদিন বিমান হামলা চালাচ্ছে। তাসনিম জানিয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তির আগে একটি সমঝোতা স্মারক ঘোষণা করা হবে। সেখানে লেবাননসহ সমস্ত ফ্রন্টে যুদ্ধ অবসানের বিষয়টি জোর দিয়ে উল্লেখ করা থাকবে।