Home Blog Page 85

যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি হলে খুলে দেওয়া হবে হরমুজ প্রণালি: ইরান

হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়াসহ ইরানে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে তিনি বলেছেন, এই চুক্তির মধ্যে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টিও রয়েছে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরে শুরু হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও চুক্তির কিছু বিষয় নিশ্চিত করেছেন। তাদের মতে, ইরান চুক্তির শর্তগুলো পূরণ করলেই কেবল অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালালে যুদ্ধের সূচনা হয়। জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর আক্রমণ চালায়। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়।

এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মাঝে মাঝে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে চলতি সপ্তাহে উভয় পক্ষ দুই দফা পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেছেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা বাতিল করেছেন, কারণ আলোচনাকারীরা ‌‘মাত্রই একটি চমৎকার সমঝোতায় পৌঁছেছেন’। তার মতে, চুক্তিটি খুব শিগগিরই স্বাক্ষরিত হতে পারে। শুক্রবার ইরানের গণমাধ্যমে কথিত ১৪ দফা চুক্তির কিছু বিবরণ প্রকাশ করা হয়।

তবে ট্রাম্প এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে যে শর্তগুলোতে সম্মতি হয়েছে তার ‘কোনো সম্পর্ক নেই’ এবং সেগুলো ‘বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়’। এর কয়েক ঘণ্টা পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক নিয়ে ঐকমত্য হয়েছে এবং এখন এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায় যে, ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্যে এই সর্বশেষ চুক্তির শর্তাবলী নিয়ে ‘সমর্থক ও বিরোধী’ উভয় পক্ষই রয়েছে। তবে আরাঘচি বলেছেন যে, সম্মিলিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। এ মুহূর্তে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে চুক্তিটি দূরবর্তীভাবে স্বাক্ষর করা হবে, বলেন তিনি।

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরু করার লক্ষ্যে যে আলোচনা চলছে, তাতে ইসরায়েল অংশ নিচ্ছে না। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার অভিযোগ করে আসছে। তবে ইরান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে যে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়- বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং গবেষণার জন্য। শুক্রবার বিকেলে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, এই চুক্তির আওতায় গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নেবে।

এসব পদক্ষেপ প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে। এরপর দুই মাসের বা ৬০ দিনের একটি আলোচনাকাল শুরু হবে, যেখানে মূলত গুরুত্ব পাবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম। এটি পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অন্যতম প্রধান উপাদান। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, এই আলোচনার ফল হিসেবে ওই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের ভেতরেই ধ্বংস করা হবে এবং পরে দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে এটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে তা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।

অর্থনৈতিক দিক থেকে, ইরানকে আগাম কোনো অর্থ বা আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে না। যদিও ইরানি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই ইরানের কিছু জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করে দেওয়া হবে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এর পরিবর্তে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানকে ধাপে ধাপে বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

চুক্তিতে ইরানকে তার সমর্থিত প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে মূলত হেজবুল্লাহ এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের অন্যান্য মিত্র বা প্রক্সি সংগঠনগুলোর কথা বোঝানো হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেন, এই সমঝোতা স্মারক কোনো বিশ্বাস বা মৌখিক প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে নয়; বরং এটি ‘কার্যকর বাস্তবায়নের’ ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ ইরান যে পদক্ষেপগুলো গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেগুলো বাস্তবে কার্যকর করেছে বলে যাচাই করা গেলে তবেই দেশটি অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, পাকিস্তান এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা কাতার- সব পক্ষের মধ্যেই সতর্ক প্রত্যাশা আছে, তারপরেও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে এখনো কিছুটা পথ বাকি আছে। গত এক-দুই মাসে এই ধরনের চুক্তির বিভিন্ন সংস্করণ কয়েকবার চূড়ান্ত হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছিল, কিন্তু শেষ পর্যায়ে গিয়ে তা ভেস্তে গেছে।

মার্কিন প্রশাসনের মতে, এবার পার্থক্য হলো- চুক্তি সফল হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ অনেক বেশি এবং চুক্তির বিষয়বস্তু সম্পর্কেও আগের তুলনায় অনেক বেশি খোলামেলা আলোচনা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ‘আমাদের আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই চুক্তি স্বাক্ষর এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হবে।’ অর্থাৎ তার বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনার শেষ ধাপগুলো সফলভাবে শেষ হলেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিক রূপ পাবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাঘচি বলেছেন , ‘এটি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটতে পারে। আমি খুবই আশাবাদী।’ তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, সমঝোতা স্মারক এর প্রথম এবং প্রধান বিষয় হলো ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার।

আর হরমুজ প্রণালি সম্পর্কে আরাঘচি বলেছেন, এর পরিচালনা ব্যবস্থা ‘আগের মতো থাকবে না’। হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার পর থেকে ইরান সেখানে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে ফি আদায়ের দাবি করে আসছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো- এই নৌপথে সব জাহাজের অবাধ ও বিনামূল্যে চলাচলের অধিকার থাকা উচিত। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এর প্রায় ২০ শতাংশ সাধারণত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

ইরানের এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আরও জানান যে, সমঝোতা স্মারকে ইসরায়েল ও হেজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসানের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে লেবানন সংক্রান্ত বিষয় এই চুক্তির অংশ নাও হতে পারে। যদিও ইরান এটি অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দিয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন যে, যদি হেজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে ইসরায়েল তাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাবে।

ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরের ঘটনায় ২ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি

জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় এসআই শফিকুল ও কনস্টেবল রাসেলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার শওকত আলী। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে পুলিশের সোর্স সোহেল রানাকে গ্রেপ্তা‌র করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমান।

সিএমপি কমিশনার শওকত আলী বলেন, ইতোমধ্যে দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে থাকা সোর্স সোহেল রানাকে গ্রেপ্তা‌র করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ পরিচয়ে আটক, মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিনজনের বিরুদ্ধে শুক্রবার রাতে নগরের খুলশী থানায় মামলা দায়ের করেন ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ভাই সাব্বির হাসান। মামলার আসামিরা হলেন- এসআই শফিকুল, কনস্টেবল রাসেল ও সোর্স সোহেল।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান দাবি করেন, অভিযানের বিষয়ে এসআই শফিকুল ইসলাম তাকে আগে থেকে কিছুই জানাননি। থানায় আনার পরই তিনি ক্রিকেটার নাঈমের পরিচয় সম্পর্কে জানতে পারেন।

তবে নাঈমের অভিযোগ, ওসি আরিফও তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। এক পর্যায়ে তাকে চোখ নামিয়ে কথা বলার নির্দেশও দেন।

দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার মাধ্যমেই একটি দেশ উন্নতির শিখরে পৌঁছে: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কোনো জাতি এমনি এমনি উন্নত হতে পারে না। শিক্ষা, কঠোর পরিশ্রম ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমেই একটি দেশ উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে। আজকের চীন নিজেদের প্রচেষ্টা, শিক্ষা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশে পরিণত হয়েছে।

আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় ঠাকুরগাঁও শহরের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী উদ্যোগে স্কুলব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও শিশুদের নিয়ে কাজ করতে চান। শিশুদের ভালোভাবে লেখাপড়া করাতে চান, তাদের উন্নত করতে চান। এ জন্য তিনি কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, শিক্ষার্থীদের পোশাক, শিক্ষাসামগ্রী, ফ্রিতে বিতরণ করার উদ্যোগ। সেইসঙ্গে শিশুরা যাতে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে পারে; সেই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, দেশের শিশু-কিশোরদের সঠিক শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সব স্তরের মানুষকে এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। শিশুরা যাতে ভবিষ্যতে দেশের সম্পদে পরিণত হয় এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে, সে লক্ষ্যে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। চীন বাংলাদেশের উন্নয়নে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা করে আসছে। ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষি ও শিল্প খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চীন সহযোগিতা করবে। তাই, চলতি বছরের ঠাকুরগাঁওয়ে বিভিন্ন কলকারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য চীনের প্রতিনিধি দল ঠাকুরগাঁও ভিজিট করতে আসবেন।

অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের শিক্ষার উন্নয়নে সহায়তা করতে পেরে চীন সরকার আনন্দিত। শিক্ষা উপকরণ বিতরণের এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও উৎসাহ জোগাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

চীনের রাষ্ট্রদূত জানান, প্রতিবছর বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষি, শিল্প ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা যাচাই করতে চলতি বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে চীন থেকে একটি প্রতিনিধি দল সফরে আসবে। তারা এলাকাটি পরিদর্শন করে সম্ভাব্য বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলো মূল্যায়ন করবে।

ইয়াও ওয়েন বলেন, আগামী বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ঠাকুরগাঁওসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীদের চীন সফরের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সংস্কৃতি ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।

‘তরুণ মেধার বিকাশ, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর মাঝে স্কুলব্যাগ, খাতা, কলমসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পায়গাম আলী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ-ভারতের জনগণের সম্পর্ক আমার একমাত্র অগ্রাধিকার: দীনেশ ত্রিবেদী

বাংলাদেশের নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, ‌‘আমার একমাত্র অগ্রাধিকার হলো বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের সম্পর্ক। আমরা সবাই ভাই-বোন। আমাদের পথ ভুল হওয়ার সুযোগ নেই। প্রয়োজন শুধু ভালোবাসা ও পারস্পরিক আন্তরিকতা। তাহলেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।’

ঢাকাস্থ দূতাবাসে যোগ দিতে শুক্রবার সকালে বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে সড়কপথে বাংলাদেশে পৌঁছে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে এই প্রথম নবনিযুক্ত কোনো ভারতীয় হাইকমিশনার সড়ক পথে বাংলাদেশে আসলেন।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক শুধু সীমান্তের নয়। বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্নের সঙ্গেও আমরা যুক্ত। যারা আমাদের ভাই-বোন ও মা-তাদের কল্যাণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বেলা ১২টার দিকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম সম্পন্ন করেন নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার ও তার সহধর্মিণী মিসেস মিনাল ত্রিবেদী। এ সময় বেনাপোল স্থলবন্দরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পবনকুমার তুলসী দাস বাধে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি চিফ অব প্রটোকল অফিসার আরিফ মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন। তারা নবনিযুক্ত হাইকমিশনারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান।

আগমনের পর ইমিগ্রেশন ও প্রটোকল কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে তাকে গন্তব্যস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা করেন। ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবনকুমার তুলসী দাস তাকে বরণ করে নেন। তিনি বলেন, তার আগমনে আমরা আনন্দিত।

তুলসী দাস আরও বলেন, আমাদের যা পপুলেশন আছে ১৪০ কোটি। তার সঙ্গে ২০ কোটি অ্যাড করেছি অর্থাৎ, ১৬০ কোটি। আমি এখানে যা করতে চাই; তা সব একসঙ্গে হবে। আলাদাভাবে ভাবছি না। আমার মনে হচ্ছে না যে আমি বাংলাদেশে। দেখছেন না আমি হেটে চলে এসেছি। একই আকাশ, বাতাসও একই। আমরা মিলেমিশে ভিসার সমাধান করবো। শুধু অভিন্ন সীমান্ত নেই, অভিন্ন স্বপ্নও আছে।

গত এপ্রিলে ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে (৭৫) বাংলাদেশে নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। গত ৫৫ বছরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রাজনীতিবিদকে ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে পাঠালেন দিল্লি।

বাংলাভাষী দীনেশ ত্রিবেদী শুধু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বা কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কেই নন, সমগ্র বাঙালি সংস্কৃতি সম্পর্কেও সম্যক অবহিত। কংগ্রেস, জনতা দল হয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এবং পরে বিজেপিতে যোগ দেওয়া দীনেশ ত্রিবেদীর রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সঙ্গেও দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন তিনি।

শাকিরার রেকর্ড ভেঙে কানাডা মাতাতে প্রস্তুত নোরা ফাতেহি

মেক্সিকো সিটির পর এবার উত্তর আমেরিকার আরেক আয়োজক কানাডায় বসছে ফিফা বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধনী আসর। টরন্টো স্টেডিয়ামের এই রাজকীয় মঞ্চে আজ মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন বলিউড সেনসেশন নোরা ফাতেহি। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে কানাডার উদ্বোধনী ম্যাচের আগে শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১১টা ৩০ মিনিটে এই অনুষ্ঠানটি শুরু হবে।

কানাডার উদ্বোধনী মঞ্চে পা রাখার আগেই বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে নোরার নতুন ফিফা অফিশিয়াল গান ‘সির সির’। মুক্তির মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউটিউবে ২০ মিলিয়নেরও (২ কোটি) বেশি ভিউ পার করে রেকর্ড গড়েছে এই গানটি।

এর মাধ্যমে নোরা ভেঙে দিয়েছেন শাকিরার এবারের বিশ্বকাপের অফিশিয়াল গান ‘ডাই ডাই’এর রেকর্ড। শাকিরার গানটি প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ভিউ পেয়েছিল ৮.২ মিলিয়ন। শাকিরাকে প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি ব্যবধানে পেছনে ফেলে ‘সির সির’ এখন ফিফার ইতিহাসে প্রথম দিনে সবচেয়ে বেশি দেখা থিম সং।

গানটির অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ান সংযোগ। নোরা ফাতেহির এই গানে তার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছেন ফরাসি গায়ক ভেজিড্রিম এবং ক্যালিফোর্নিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি-আমেরিকান জনপ্রিয় মিউজিক প্রডিউসার ও ডিজে সঞ্জয়। আজ টরন্টোর মঞ্চে ভেজিড্রিম ও ডিজে সঞ্জয়কে সঙ্গে নিয়েই লাইভ পারফর্ম করবেন নোরা।

এই বৈশ্বিক অর্জন নিয়ে উচ্ছ্বসিত নোরা ফাতেহি বলেন, ‘এটি আমার জন্য অত্যন্ত বিশেষ একটি মুহূর্ত। এই প্রজেক্টের মাধ্যমে আমি আমার মরক্কান এবং কানাডিয়ান শিকড়ের পাশাপাশি ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের ভালোবাসাকে এক সুতোয় বাঁধতে পেরেছি। পর্দার পেছনের শক্তিশালী ভারতীয় প্রতিনিধিত্ব আমাদের এই কাজকে বিশ্বমঞ্চে অনন্য করে তুলেছে। এটি সংগীতের মাধ্যমে পূর্ব ও পশ্চিমকে এক করার একটি প্রয়াস।’

কানাডার বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তুলতে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নোরার পাশাপাশি সুরের মূর্ছনা ছড়াবেন বিশ্বখ্যাত তারকা অ্যালানিস মরিসেট, অ্যালেসিয়া কারা, এলিয়ানা, জেসি রেয়েজ, মাইকেল বুলে এবং উইলিয়াম প্রিন্স।

সিপিডির প্রতিক্রিয়া বাজেট বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ বাস্তবসম্মত ভিত্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের নানা পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ‘প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা’ ও ‘বাস্তবসম্মত ভিত্তির’ বড় ধরনের অভাব রয়েছে বলে মনে করে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মতে, বাজেটের প্রাক্কলনগুলো বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে লেকশোর হোটেলে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সংস্থাটির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকার একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার থেকে বাজেটে শুল্ক ছাড় ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো ভালো কিছু প্রস্তাব দিলেও, সেগুলো বাস্তবায়নের সক্ষমতা ও সুশাসনের অভাব বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিতে পারে।

ভিত্তিহীন প্রাক্কলন ও শৃঙ্খলার অভাব
ড. মোস্তাফিজুর রহমান উল্লেখ করেন, বাজেট প্রাক্কলনের জন্য যে ভিত্তি ধরা হয়েছে, তা মোটেও বাস্তবসম্মত নয়। চলতি অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে রপ্তানি, রাজস্ব আদায় এবং বেসরকারি খাতের ঋণে একটি বৈপ্লবিক ও অলৌকিক পরিবর্তন আসবে ধরে নিয়ে আগামী বছরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, বর্তমানে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি যেখানে ঋণাত্মক (-১.৮%), সেখানে আগামী বছর ৮.৭% প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে। এই দুর্বল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বাজেট প্রাক্কলন করা বাজেটের শৃঙ্খলার পরিপন্থী।

রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ও ঋণের ঝুঁকি
বাজেটে প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকার বাড়তি সম্পদ আহরণের যে লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে, তা অর্জন করতে হলে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন। ড. মোস্তাফিজুর বলেন, এক বছরের মধ্যে এই বিশাল রাজস্ব আদায় অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। যদি রাজস্ব আদায় কম হয় এবং সরকারি ব্যয় অপরিবর্তিত থাকে, তবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর চাপ আরও বাড়বে। বিশেষ করে বৈদেশিক ঋণের বড় লক্ষ্যমাত্রা এবং তা পরিশোধের চাপ সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও অবকাঠামো
কেবল শুল্ক ছাড় বা বিশেষ সুবিধা দিয়ে বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব নয় বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, বিনিয়োগ চাঙ্গা করতে ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ বা নীতিগত সুবিধার চেয়েও গ্যাস-বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা বেশি জরুরি। তার মতে, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হলেও তা সঠিকভাবে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও সংস্কারের বিষয়ে বাজেটে পর্যাপ্ত দিকনির্দেশনা নেই।

এসএমই ও কর্মসংস্থান
প্রস্তাবিত বাজেটে ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) খাতের জন্য বন্ড সুবিধা ও ব্যাংক গ্যারান্টির মতো কিছু ইতিবাচক প্রস্তাব রয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ে এর সুফল পৌঁছাতে হলে বিশেষ প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রয়োজন। এছাড়া কর্মসংস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, কেবল অভ্যন্তরীণ বাজার নয়, বরং দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে বৈদেশিক শ্রমবাজারে পাঠানোর ওপরও বিশেষ নজর দেওয়া দরকার, যা দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহকে আরও শক্তিশালী করবে।

সিপিডি মনে করে, বাজেটের সফল বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়, সুশাসন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, একটি ভালো বাজেট পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও তা সাধারণ মানুষের কল্যাণে আসবে না।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, প্রস্তাবিত এই বাজেট সরকারের প্রথম বাজেট। এই বাজেটটি এমন সময়ে দেওয়া হয়েছে যখন অর্থনীতি বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে এবং গত প্রায় চার বছর থেকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজমান। পাশাপাশি প্রবৃদ্ধি দুর্বল হয়ে পড়েছে, দুর্বল ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান হচ্ছে না, রাজস্ব আহরণে ঘাটতি রয়েছে এবং ব্যাংকিং খাত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।

তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ মোটামুটি অবস্থায় রয়েছে, প্রেসারে ছিল কিন্তু মোটামুটি ভালো হয়েছে। তবে এখন ক্রিটিক্যাল হয়ে দাঁড়িয়েছে জ্বালানি সংকট।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের অন্তর্নিহিত দর্শন হলো মানব উন্নয়ন, বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা। ভৌত অবকাঠামোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জনকল্যাণমূলক খাতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সিপিডির মতে, বাজেটের এই দৃষ্টিভঙ্গি অনেকাংশ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ, নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ এবং সামাজিক খাতের উন্নয়নের বিষয়গুলোতে মিল রয়েছে। তবে বাজেটের সাফল্য আকারের ওপর নয়, বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে। কারণ অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও দুর্বল বাস্তবায়নের কারণে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায়নি।

সিপিডি বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বলছে, বাজেটের লক্ষ্য অর্জনে শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য। এমন প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, যেগুলো দক্ষতার সঙ্গে বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারবে এবং জনগণের কাছে দৃশ্যমান ফলাফল পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই বাজেট নতুন সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও বটে।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা প্রদর্শনের এটিই সরকারের প্রথম বড় সুযোগ। বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার যদি কাঠামোগত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দিতে পারে, তাহলে তা দেশের অর্থনীতিকে আরও টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করে সিপিডি।

ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমাতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন

বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজেট ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ ধীরে ধীরে কমিয়ে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের সুযোগ বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রোগ্রামিং ও বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকার আগের প্রচলিত ধারা থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। কারণ বিশ্ব অর্থনীতির প্রেক্ষাপট দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। অর্থনৈতিক চিন্তাভাবনা, বিনিয়োগের ধরন ও বিনিয়োগ মূল্যায়নের মানদণ্ডও বদলে যাচ্ছে। এ কারণে দেশের সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনার (পাবলিক ফাইন্যান্স) বিদ্যমান কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ বেসরকারি খাতের জন্য ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ সংকুচিত করে। অর্থনীতির ভাষায় যাকে ‘ক্রাউডিং আউট’ বলা হয়। স্থানীয় ব্যাংকগুলোর মূল গ্রাহক হওয়া উচিত বেসরকারি খাত, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সরকারের ঋণ গ্রহণের কারণে সেই ভারসাম্য কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে রাতারাতি বড় ধরনের পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত দেড় দশকে গড়ে ওঠা পরিস্থিতি একদিনে বদলানো যাবে না। তবে সরকার ধীরে ধীরে সেই পথে এগোচ্ছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, চলতি বাজেটে স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি নতুন প্রবণতা বা ধারা তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত রাখা গেলে ভবিষ্যতে স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ আরও কমে আসবে। ফলে ব্যাংকিং খাতের ঋণের বড় অংশ বেসরকারি খাতের বিনিয়োগে প্রবাহিত হবে, যা উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করবে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো এমন একটি আর্থিক কাঠামো গড়ে তোলা, যেখানে বেসরকারি খাত অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে আরও বেশি ভূমিকা রাখতে পারবে এবং ব্যাংকিং খাতেও সরকারি ও বেসরকারি ঋণের মধ্যে একটি স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে।

একই প্রশ্নের উত্তরে এর আগে অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, সরকার ধীরে ধীরে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নের উৎস জোরদার করার পথে এগোচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার অর্থনীতিতে সরকারি বিনিয়োগ (পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট) বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। অতীতে যেখানে সরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ৮ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে ছিল, সেখানে তা বাড়িয়ে ১৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তার মতে, সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে রাজস্ব আয়ও বাড়াবে।

ব্যাংক ঋণ প্রসঙ্গে অর্থ সচিব জানান, চলতি অর্থবছরে সরকারের ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। নতুন বাজেটে তা কমিয়ে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সরকারের সামনে এখন বিকল্প অর্থায়নের বেশ কিছু সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি সরকার ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সুকুক বন্ড ইস্যু করেছে, যা ব্যাপক সাড়া পেয়েছে। এ বন্ডের বিপরীতে প্রায় ৭২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার আবেদন জমা পড়েছে। এতে বোঝা যায়, বাজারে বিকল্প বিনিয়োগ মাধ্যমের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।

অর্থ সচিব বলেন, সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে ধীরে ধীরে ইক্যুইটি ও বাজারভিত্তিক অর্থায়নের দিকে যেতে চায়। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রিন বন্ড, অরেঞ্জ বন্ডসহ বিভিন্ন ধরনের বন্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের পুঁজিবাজার ও আর্থিক বাজারকে আরও গভীর ও কার্যকর করার প্রচেষ্টা চলছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এসব সংস্কার ও নতুন অর্থায়ন কাঠামোর মাধ্যমে ভবিষ্যতে সরকারের ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং অর্থায়নের উৎস আরও বহুমুখী হবে।

জামায়াতের প্রতিক্রিয়া বাজেট লক্ষ্যহীন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কবলে পড়বে মানুষ

বা‌জে‌টে ক‌র ও ভ্যাটের সীমা বৃ‌দ্ধি‌র কার‌ণে সাধারণ মানুষ মূল্যস্ফীতি‌তে পড়‌বে ব‌লে দা‌বি ক‌রে‌ছে জামায়া‌তে ইসলামী। শুক্রবার রাজধানীর মগবাজা‌রে দলীয় কার্যাল‌য়ে সংবাদ স‌ম্মেলনে দ‌লের সে‌ক্রেটা‌রি মিয়া গোলাম পরওয়ার ব‌লেন, বাজেট লক্ষ্যহীন ও সাধারণ মানুষের পকেট কাটার। প্রস্তা‌বিত বাজেট ঋণনির্ভর, উচ্চাভিলাষী, অবাস্তবায়নযোগ্য ও লুটপাটের।

জামায়াত প্রস্তাবিত বাজেট সংশোধন করে সাধারণ মানুষের ওপর থেকে করের বোঝা কমানোর এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে। গোলাম পরওয়ার বলেন, আর্থিক সংস্থান করতে গিয়ে ৬ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকার যে রাজস্ব আয়ের কথা বলা হয়েছে, সেই রাজস্ব কীভাবে আদায় করা হবে তা স্পষ্ট করা হয়নি। বাজেটের ঘাটতি ২ লাখ ৩৬ হাজার ২৫০ কোটি টাকা কোথা থেকে পূরণ করা হবে- সেটি স্পষ্ট নয়। যেসব উৎস দেখানো হচ্ছে সেখানে যে কর কাঠামো, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রয়োজন- সেগুলোর উল্লেখ নেই।

সংস‌দে প্রস্তা‌বিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কো‌টি টাকার বাজেট বাস্তবায়নে প্রধান তিন বাধা র‌য়ে‌ছে দা‌বি ক‌রে গোলাম পরওয়ার ব‌লেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বিশাল আকারের বাজেট বাস্তবায়ন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম ক্রমাগত বাড়ানোর ফলে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে।

বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। সরকার মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশ‌মিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করলেও বাস্তবে তা আরও বাড়বে। আন্তর্জাতিক ও ভূরাজনৈতিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাব এই বাজেটকে আরও বেশি ঝুঁকিতে ফেলবে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, এই বাজেটে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির স্বার্থ রক্ষা করা হয়নি। করের বোঝা মূলত সাধারণ নাগরিকদের ওপর চাপানো হয়েছে, অন্যদিকে ধনীদের জন্য বিশেষ সুবিধা তৈরি করা হয়েছে।

জামায়াত নেতারা বলেন, বাজেটের প্রায় ৭০ শতাংশ সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা এবং অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধেই চলে যাবে। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো মারাত্মকভাবে উপেক্ষিত হয়েছে।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) খাতে ৩ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার সমালোচনা করেছে জামায়াত। মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে ব‌লেন, সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ছাড়া করা হয়েছে, যা কেবল দুর্নীতি ও সরকারি দলের নেতাকর্মীদের লুটপাটের নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, এবারের বড় ঘাটতি বাজেটের যে ব্যয় সংকুলান, তা ব্যাংক লোন থেকে করা হবে। তাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে যাবে। ব্যাংক থেকে সরকার ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ করতে পারবে না, স্বাভাবাকিভাবে বেসরকারি খাতে প্রভাব পড়বে।

তিনি আরও বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কয়েকটি বড় বাধা রয়েছে। প্রথমত, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ক্রমবর্ধমান ব্যয়। গত কয়েক মাসে গ্যাস, জ্বালানি এবং বিদ্যুতের দাম একাধিকবার বৃদ্ধি করা হয়েছে। জ্বালানি হলো উৎপাদন ব্যবস্থার প্রধান চালিকাশক্তি। এর মূল্য বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে এবং অর্থনীতির সব খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। দ্বিতীয়ত; লাগামহীন মূল্যস্ফীতি। মূল্যস্ফীতি কমার পরিবর্তে ক্রমাগত বাড়ছে। তৃতীয়ত; বৈশ্বিক ও রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা। এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জের কারণে বাজেট বাস্তবায়ন এবং রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।

জামায়াতের ছায়া বাজেটের সঙ্গে সরকারের বাজেটের তুলনামূলক আলোচনা তুলে ধরে সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য যে বাজেট পেশ করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে ৫৫তম জাতীয় বাজেট। জুলাই-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের জনগণ একটি জনবান্ধব, সুপরিকল্পিত, দূরদর্শী ও বাস্তবায়নযোগ্য বাজেট প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু সরকারের ঘোষিত বাজেটে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং জীবনমান উন্নয়নের সুস্পষ্ট বার্তা প্রতিফলিত হয়নি।

মিয়া গোলাম পওয়ার বলেন, কর প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র কাঠামো নিয়ে কার্যকর সংস্কারের প্রতিফলন বাজেটে দেখা যায়নি। আশঙ্কা করছি, সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে এই বিপুল অঙ্কের বাজেট বাস্তবায়নের সময় দুর্নীতি, অপচয় এবং লুটপাটের ঝুঁকি বাড়বে। ৬ দশ‌মিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান বিনিয়োগ পরিবেশ, দুর্বল আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ব্যাংকিং খাতে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ, সীমাহীন দুর্নীতি এবং বৈষম্যমূলক নীতির কারণে উৎপাদনশীলতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ (আইএমএফ) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা আগামী অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার ৫ শতাংশের নিচে থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। সেখানে ৬ দশ‌মিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী এবং বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একইভাবে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশ‌মিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন,  বর্তমান সরকারের গৃহীত এসব অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের নীতির কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। এছাড়া উচ্চাভিলাষী এই বাজেটের অর্থায়ন করতে গিয়ে সরকারকে অতিমাত্রায় ঋণনির্ভর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়েছে। দেশীয় উৎস, বিশেষ করে ব্যাংকিং খাত থেকে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়বে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

গোলাম পরওয়ার ব‌লেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিল্প খাতের বিভিন্ন কাঁচামালের ওপর ব্যয় ও কর বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে শিল্প উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পেট্রোলিয়াম, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ওপর ভ্যাট বৃদ্ধি জনজীবনে দুর্ভোগ বয়ে আনবে। আরএমজি তথা তৈরি পোশাক শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাঁচামালের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি আমাদের রপ্তানি খাতকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। এই গণবিরোধী বাজেটের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আশা করি, সরকার বাজেট সংশোধন করবে। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে যে নৈরাজ্য ও অনিয়মের লক্ষণ ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে, তা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা কাঠামো পরিবর্তনের যে প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যাদের শেয়ার অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তাদের শেয়ার যে মূল্যে নেওয়া হয়েছে, সেই মূল্যে ফেরত দেওয়া হোক।

সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ এবারও রাখা হয়েছে- তা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে। বাজেটকে দুর্নীতি ও কালো অর্থের প্রভাবমুক্ত করে একটি জনমুখী ও জনকল্যাণমূলক বাজেটে রূপান্তর করতে হবে।

সংবাদ স‌ম্মেল‌নে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হা‌মিদুর রহমান আযাদ, আবদুল হালিম, নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. রেজাউল করিম প্রমুখ।

বাংলাদেশে পৌঁছালেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দেশে পৌঁছেছেন।

শুক্রবার সকালে বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে সড়কপথে বাংলাদেশে পৌঁছান তিনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বাংলাদেশে ভারতীয় মিশনে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন পেশাদার কূটনীতিক প্রণয় ভার্মা। তাকে এরই মধ্যে বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার জায়গায় দায়িত্ব নিচ্ছেন ৭৫ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিক।

গুজরাটি ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্য হলেও ঝরঝরে বাংলা বলতে পারেন দীনেশ ত্রিবেদী। দলীয় সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সুসম্পর্ক, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, বাঙালি ও বাংলার সংস্কৃতি সম্পর্ক স্পষ্ট ধারণা থাকায় তাকে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে।

ভারতের কূটনৈতিক প্রথায় সাধারণত অভিজ্ঞ ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস (আইএফএস) কর্মকর্তাদের এমন পদে নিয়োগ করা হয়। দীনেশ ত্রিবেদীর ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম ঘটছে।

একটা সময় সর্বভারতীয় রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দূত ছিলেন দীনেশ। ২০১৬ সালের পর তাদের সম্পর্কে অবনতি ঘটতে শুরু করে। শেষমেষ ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন দীনেশ।

দীনেশের রাজনৈতিক যাত্রার শুরু অবশ্য আশির দশকে। সে সময় তিনি কংগ্রেসে ছিলেন। পরে যোগ দেন জনতা দলে। ১৯৯০ সালে রাজ্যসভার সংসদ সদস্য হন প্রথমবার। এর পর তিনি যোগ দেন তৃণমূলে। আবারও রাজ্যসভার সংসদ সদস্য পদ পান তিনি। প্রথমবার ভোটে লড়েন ২০০৯ সালে।

দ্বিতীয় দফায় ইউপিএ সরকারের সময় তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে তিনি কেন্দ্রের রেলমন্ত্রী ছিলেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলান। ২০১৯ সালে বারাকপুরে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে বিজেপির অর্জুন সিংয়ের কাছে হেরে যান তিনি। এরপর তৃণমূল তাকে রাজ্যসভায় পাঠায়। ২০২১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে দেন দীনেশ ত্রিবেদী। ওই বছরের ৬ মার্চ যোগ দেন বিজেপিতে।

বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলনে ১১ সিদ্ধান্ত

ভারতের নয়াদিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলনে ১১টি বিষয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আগামী নভেম্বর মাসে ঢাকায় পরবর্তী মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন আয়োজনের বিষয়েও দুই দেশ সম্মত হয় বলে জানানো হয়েছে। বিজিবি ও বিএসএফের যৌথ বিবৃতিতে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

বিজিবি থেকে শুক্রবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিজিবি ও ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মধ্যে ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন ৮ থেকে ১১ জুন ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়। বিজিবির ১৪ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর, যৌথ নদী কমিশন ও অন্যান্য সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতিনিধিত্ব করেন। অপরদিকে, ভারতের ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিএসএফের মহাপরিচালক শ্রী প্রবীন কুমার। উভয় প্রতিনিধিদল আগামী নভেম্বর মাসে বাংলাদেশে (ঢাকা) পরবর্তী মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন আয়োজনের বিষয়ে সম্মত হয়। সম্মেলনে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে সেগুলো হলো-

সীমান্তে হত্যা ও সহিংসতা প্রতিরোধ
সম্মেলন চলাকালে বিজিবির মহাপরিচালক সীমান্তে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় নাগরিকদের দ্বারা প্রাণঘাতী ও অপ্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের ফলে নিরস্ত্র ও নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি মানবাধিকার লঙ্ঘনের উদাহরণ উল্লেখ করে সীমান্ত এলাকায় হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য বিএসএফ মহাপরিচালককে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও স্বাভাবিক অবস্থা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং কঠোর জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে, এসব বিষয় আন্তরিক, সৎ ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রচলিত আইন অনুসরণ এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা পরিচালিত হয়ে সমাধান করা যেতে পারে। উভয় পক্ষ সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, যৌথ টহল বৃদ্ধি, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে সম্মত হয়- যাতে অনুপ্রবেশ, সীমান্ত হত্যা ও হামলার ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনা যায়। তারা আরও সম্মত হয় যে, নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর সংঘটিত হত্যা ও হামলার ঘটনাগুলোর তদন্ত করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুশ-ইন ঘটনা
বিজিবির মহাপরিচালক বিএসএফ কর্তৃক রোহিঙ্গা ও মিয়ানমার নাগরিকসহ ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে সাম্প্রতিক পুশ-ইনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যা সীমান্ত বিষয়ক যৌথ নির্দেশিকা, সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা, পূর্ববর্তী মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে গৃহীত পারস্পরিক সিদ্ধান্ত এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক নীতি ও প্রটোকলের পরিপন্থী। তিনি উল্লেখ করেন, সীমান্তে এসব ‘পুশ ইন’ হওয়া ব্যক্তিদের দুর্ভোগ অত্যন্ত ব্যাপক। তাদের অনেকেই চরম দুর্দশায় রয়েছেন; কেউ কেউ ক্ষুধা ও রোগে আক্রান্ত। প্রবীণ ব্যক্তিদের জরুরি চিকিৎসা সেবার প্রয়োজন। বিজিবির মহাপরিচালক পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, যেকোনো ব্যক্তি যদি বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে যাচাইকৃত হন, তবে তাকে প্রচলিত দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাবাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত গ্রহণ করা হবে, প্রচলিত আইন ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। তিনি বিএসএফ মহাপরিচালককে এ ধরনের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ এবং বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে শনাক্ত ব্যক্তিদের প্রত্যাবাসনের জন্য বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া ও প্রটোকল অনুসরণের আহ্বান জানান। অন্যদিকে, বিএসএফ মহাপরিচালক বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সকল অনিষ্পন্ন জাতীয়তা যাচাইকরণ বিষয় দ্রুত সম্পন্ন এবং তাদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। উভয় পক্ষই সম্মত হয়, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে গৃহীত পদ্ধতি ও বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করা উচিত। তারা পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের চেতনায় এসব প্রক্রিয়ার কার্যকর বাস্তবায়নে তাদের অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

সীমান্ত নিরাপত্তা, মাদক ও চোরাচালান
বিজিবির মহাপরিচালক ভারত থেকে বাংলাদেশে হেরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাজা এবং অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের চোরাচালান বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং মাদক বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির উল্লেখ করে এটিকে উভয় দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে ব্যক্ত করেন। তিনি সীমান্ত দিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অন্যান্য অবৈধ পণ্যের ক্রমবর্ধমান চোরাচালানের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, এসব কার্যক্রম আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিজিবির মহাপরিচালক মাদক পাচার রোধে উভয় দেশের মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক মহাপরিচালকদের নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেন। বিএসএফ মহাপরিচালক জানান, ভারত সরকার মাদক, নেশাজাতীয় দ্রব্য এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে এবং সব ধরনের চোরাচালান রোধে অঙ্গীকারবদ্ধ। উভয় পক্ষই মাদকবিরোধী কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করে এবং গবাদিপশু চোরাচালান প্রতিরোধের বিষয়েও একমত হয়। তারা সমন্বিত সিমালটেনিয়াস কো-অর্ডিনেটেড পেট্রোল জোরদার এবং ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে বাস্তবসম্মত তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধির বিষয়ে সম্মত হয়।

অবৈধ অভিবাসন, মানবপাচার ও রোহিঙ্গা বিষয়
বিএসএফ মহাপরিচালক কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিকদের অবৈধ অভিবাসন এবং রোহিঙ্গা অবৈধ অভিবাসীদের ভারতে প্রবেশ সংক্রান্ত উদ্বেগের জবাবে বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সুপরিচিত এবং এটি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক উদ্বেগের বিষয়। তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ও মিয়ানমারের নাগরিকদের তার ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতে অবৈধভাবে চলাচলের অনুমতি দেয় না। কিছু ক্ষেত্রে ভারত থেকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করা রোহিঙ্গাদের বিজিবি সীমান্ত বাহিনী আটক করেছে। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক এবং বাংলাদেশ কেবল মানবিক কারণে কঠোর তত্ত্বাবধানে তাদের আশ্রয় প্রদান করেছে। উভয় পক্ষই অবৈধ আন্তঃসীমান্ত চলাচল প্রতিরোধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সম্মত হয়। তারা মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীদের সময়মতো উদ্ধার, পুনর্বাসন ও আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়ে একমত হয়।

সীমান্ত বেড়া ও অবকাঠামো
বিএসএফ মহাপরিচালকের সীমান্ত বেড়া ও সিকিউরিটি রিলেটেড ওয়ার্কস (এসআরএফ) সংক্রান্ত বিষয়ে জবাব দিতে গিয়ে বিজিবির মহাপরিচালক বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনে প্রেরিত নোট ভারবালের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নির্মিত SRF প্যাচগুলো বেশ কিছু বিচ্যুতি লক্ষ্য করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মহাপরিচালক পর্যায়ের আলোচনার (ডিজিএলটি) সময় ৩৯টি ক্ষেত্রে বিএসএফ ও ভারতীয় নাগরিকরা ১৫০ গজ আন্তর্জাতিক সীমার মধ্যে অননুমোদিতভাবে এসআরএফ/গবাদিপশু বেড়া নির্মাণের চেষ্টা করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো এসআরএফ বা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি গ্রহণ দরকার। বিজিবির মহাপরিচালক সংশ্লিষ্ট নোট ভারবালে উল্লিখিত বিচ্যুতিগুলো সমাধান ও সংশোধনের আহ্বান জানান। তিনি ৮ জুন ২০২৬ তারিখে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনে পাঠানো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ নোট ভারবালের কথাও উল্লেখ করেন এবং এতে উল্লিখিত নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের অনুরোধ জানান। তিনি আরও প্রস্তাব করেন যে, এসআরএফ সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ সকল নির্মাণ কার্যক্রম কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আলোচনা করা উচিত।

জাল মুদ্রা ও স্বর্ণ চোরাচালান
বিএসএফ মহাপরিচালকের সীমান্ত পারাপারে জাল ভারতীয় মুদ্রা ও স্বর্ণ চোরাচালান সংক্রান্ত উদ্বেগের জবাবে বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, জাল ভারতীয় মুদ্রা ও স্বর্ণ চোরাচালান উভয় দেশের অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। তিনি জানান, বিজিবি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট (ICP) ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জাল মুদ্রা শনাক্তকরণ যন্ত্র স্থাপন করেছে এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রেখেছে। উভয় পক্ষই আন্তঃসীমান্ত অপরাধী চক্র সম্পর্কিত গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান জোরদার করা এবং এ ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধে জড়িত কার্টেল ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সম্মত হয়।

পার্বত্য অঞ্চলে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যক্রম
বিজিবি মহাপরিচালক ভারতের মিজোরাম রাজ্যে পার্বত্য অঞ্চলের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য অবস্থান ও বাংলাদেশবিরোধী কার্যক্রমের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ভারতের সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে বিএসএফ মহাপরিচালক জানান, ভারত সরকার জাতীয়তা নির্বিশেষে সকল সশস্ত্র বিদ্রোহী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে এবং নিজেদের ভূখণ্ড এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের অনুমতি দেয় না। উভয় পক্ষ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিজ নিজ ভূখণ্ডে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করতে না দেওয়া, সতর্কতা বৃদ্ধি এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য বিনিময়ের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সম্মত হয়।

সীমান্ত নির্ধারণ ও সীমান্ত পিলার সংক্রান্ত সহযোগিতা
বিজিবির মহাপরিচালক মুহুরী চর এলাকায় স্থায়ী সীমান্ত পিলার নির্মাণের বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং উল্লেখ করেন যে যৌথ জরিপ ও পরিদর্শনের মাধ্যমে সীমান্ত নির্ধারণ ইতোমধ্যে পারস্পরিকভাবে সম্মত ও চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি অনিশ্চয়তা এড়ানো এবং কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য বিদ্যমান অস্থায়ী চিহ্নগুলোকে যত দ্রুত সম্ভব স্থায়ী সীমান্ত পিলার দ্বারা প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিজিবির মহাপরিচালক কুষ্টিয়াসহ অন্যান্য সেক্টরে অনুপস্থিত সীমান্ত পিলার নির্মাণ ও পুনঃস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন এবং বিশেষ করে নদীভিত্তিক এলাকায় আন্তর্জাতিক সীমান্তের অবশিষ্ট অনির্ধারিত অংশগুলোর দ্রুত নির্ধারণের আহ্বান জানান। এ বিষয়ে তিনি দুই দেশের ভূমি জরিপ কর্তৃপক্ষের মধ্যে বর্ধিত সহযোগিতার প্রস্তাব দেন, যাতে বকেয়া সীমান্ত নির্ধারণ বিষয়গুলো সমাধান করা যায় এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হয়। উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে সীমান্ত নির্ধারণ ও সীমান্ত পিলার সংক্রান্ত বিষয়সমূহ যৌথ সীমান্ত সম্মেলন এবং অন্যান্য প্রযোজ্য দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অব্যাহতভাবে সমাধান করা হবে। তারা আরও সম্মত হয় যে নদীভিত্তিক ও অন্যান্য সংবেদনশীল এলাকা-সহ বকেয়া সীমান্ত নির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয়সমূহ বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমিক ও সহযোগিতামূলকভাবে সমাধান করা উচিত।

সীমান্তবর্তী নদীর পানি ব্যবহার ও তীর সংরক্ষণ
বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০২২ সালের সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী উভয় দেশ শুষ্ক মৌসুমে কুশিয়ারা নদীর অভিন্ন অংশ থেকে প্রতিটি পক্ষ সর্বোচ্চ ১৫৩ কিউসেক পানি উত্তোলনে সম্মত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, পানি গ্রহণের ইনটেক চ্যানেল (রহিমপুর খাল) খননের জন্য সম্মতি প্রদানে বিলম্বের কারণে বাংলাদেশের ন্যায্য পানি প্রাপ্তি ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন যে, একাধিক পাম্পের মাধ্যমে একতরফা পানি উত্তোলন সংক্রান্ত উদ্বেগ বিদ্যমান, যা জরুরি ভিত্তিতে সমাধান প্রয়োজন। তিনি যৌথ নদী কমিশনের আওতায় পূর্ববর্তী প্রযুক্তিগত পর্যায়ের আলোচনা এবং যৌথ মনিটরিং টিমের পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করেন এবং জানান যে প্রায় ৫,০০০ হেক্টর জমির সেচ কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি রহিমপুর খালের অবশিষ্ট খনন কাজ দ্রুত সম্পন্নের জন্য সম্মতি প্রদানের আহ্বান জানান এবং অননুমোদিত পানি উত্তোলনের বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ করেন। নদীতীর সংরক্ষণ কার্যক্রম প্রসঙ্গে বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, কুশিয়ারা ও কুলিক নদীসহ কয়েকটি অনুমোদিত প্রকল্প পূর্ববর্তী প্রযুক্তিগত পর্যায়ের সমঝোতা থাকা সত্ত্বেও আপত্তির কারণে বিলম্বিত হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিভিন্ন সীমান্ত জেলায় বন্যা ও ভাঙন প্রতিরোধে ১৭টি জরুরি নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের সম্মতির বিষয়টি এখনো বাকি রয়েছে এবং দ্রুত সহযোগিতার মাধ্যমে এগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে কুশিয়ারা নদী থেকে পানি উত্তোলন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সংক্রান্ত বিষয়সমূহ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখের সমঝোতা স্মারকের আওতায় গঠিত যৌথ মনিটরিং টিমের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। তারা আরও একমত হয় যে নদীতীর সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়সমূহ যৌথ নদী কমিশনের পর্যায়ে উপযুক্ত ফোরামে আলোচনা করা হবে।

অননুমোদিত নির্মাণ ও সীমান্ত অবকাঠামো সংক্রান্ত বিধি-নিষেধ
বিজিবির মহাপরিচালক পূর্ববর্তী আশ্বাস সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বেড়া (SRF), গবাদিপশুর বেড়া এবং অন্যান্য কাঠামোর নির্মাণ অব্যাহত থাকার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সীমান্ত রেখার নিকটবর্তী এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি, স্ট্রিট লাইট, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং অন্যান্য অবকাঠামো স্থাপন সম্পর্কেও উদ্বেগ জানান, যা বিদ্যমান সীমান্ত ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি অননুমোদিতভাবে চলমান ডিউটি পোস্ট, ধাতব সড়ক ও কংক্রিট কাঠামো নির্মাণের ঘটনাও তুলে ধরেন এবং ১৯৭৫ সালের ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত কর্তৃপক্ষ সংক্রান্ত নির্দেশিকা কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানান। জবাবে বিএসএফ মহাপরিচালক বলেন, বিদ্যুৎ সংক্রান্ত কাজ মূলত সীমান্তবর্তী ভারতীয় জনগণের নাগরিক সুবিধার জন্য এবং তা বাংলাদেশের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে নয়। তিনি আরও বলেন, নজরদারি সংক্রান্ত সরঞ্জাম আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধের জন্য স্থাপন করা হয়। উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো অননুমোদিত নির্মাণ কার্যক্রম থেকে তাদের নিজ নিজ মাঠ পর্যায়ের ইউনিটগুলোকে বিরত রাখতে নির্দেশ প্রদান করা হবে এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিদ্যমান নিয়ম ও প্রটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। উভয় পক্ষ সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (CBMP)-এর গুরুত্ব স্বীকার করে এবং বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রাতের সময় যৌথ সমন্বিত টহল (SCP) জোরদার করার বিষয়ে সম্মত হয়। এছাড়া অপরাধের ধরণ পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা নিয়মিত (প্রতি ছয় মাসে) পর্যালোচনার বিষয়েও একমত হয়।

গণমাধ্যম প্রতিবেদন ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য সংক্রান্ত উদ্বেগ
বিজিবির মহাপরিচালক বাংলাদেশ ও ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়াবলি, ধর্মীয় বর্ণনা, রাজনৈতিক বিষয় এবং সীমান্ত-সম্পর্কিত বিষয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে কিছু নির্দিষ্ট প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বিকৃত সংবাদ, গুজব এবং বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের অপপ্রচার বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং এ ধরনের তথ্যের বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য বিএসএফকে অনুরোধ জানান। তিনি সীমান্ত-সম্পর্কিত ঘটনার সময়োপযোগী ব্যাখ্যা প্রদান করারও অনুরোধ জানান, যাতে বিভ্রান্তিকর বর্ণনার সৃষ্টি না হয়। উভয় পক্ষই তাদের নিজ নিজ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অপপ্রচার বা গুজব ছড়ানো থেকে বিরত রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদানে সম্মত হয়। সম্মেলন শেষে উভয় মহাপরিচালক বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।