Home Blog Page 86

বিশ্বজুড়ে রেকর্ড তাপমাত্রা বাড়ার সতর্কবার্তা বিজ্ঞানীদের

পৃথিবীর উষ্ণতা রেকর্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জলবায়ু-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলোর অবস্থা ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীরা এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে পৃথিবী পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার অর্থায়নে কাটছাঁটের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা পর্যবেক্ষণের প্রচেষ্টা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্যানেলের (আইপিসিসি) সদস্যসহ বিশ্বের ৭০ জনের বেশি বিজ্ঞানী গতকাল প্রকাশিত এক বার্ষিক যৌথ গবেষণায় এমনটি বলেছেন। তারা মানবসৃষ্ট রেকর্ড উষ্ণতা ও সমুদ্রে তাপপ্রবাহ বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

গবেষণার সহলেখক ও আয়ারল্যান্ডের মেয়নুথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক পিটার থর্ন বলেন, এসব সূচক মূলত একজন গুরুতর অসুস্থ রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের মতো, যার উপসর্গ দিন দিন আরও উদ্বেগজনক মাত্রায় বাড়ছে। জাতিসংঘ-সমর্থিত পৃথিবী পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি গ্লোবাল ক্লাইমেট অবজারভিং সিস্টেমের (জিসিওএস) ডেপুটি চেয়ার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন থর্ন। তিনি বলেন, আমার জীবনে এই প্রথম দেখছি, বৈশ্বিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাগুলো হয় পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করে দেওয়া হচ্ছে, নয়তো সেগুলো ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

আর্থ সিস্টেম সায়েন্স ডেটা সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে ১ দশমিক ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল, যার মধ্যে ১ দশমিক ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের জন্যই দায়ী মানুষের নানা কর্মকাণ্ড। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যেই মানবসৃষ্ট এই উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা ছুঁয়ে ফেলবে। গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশ্ব অত্যন্ত দ্রুতগতিতে তাপ সঞ্চয় করছে। এর ফলে ‘পৃথিবীর শক্তির ভারসাম্যহীনতা’ আরও বাড়ছে। এএফপি।

তথ্যযুদ্ধ তিনপক্ষের কাছে গুরুত্ব পায় ট্রাম্পের হুমকি ও চুক্তির দাবি

ইরানে হামলার হুমকি বা পরিকল্পনা স্থগিত করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘কয়েকদিনের মধ্যেই একটি চুক্তি ঘোষণা করা হবে’। যুদ্ধ শুরু কিংবা অস্ত্রবিরতির পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট অসংখ্যবার এমন দাবি করেছেন। কিন্তু কোনোবারই তাঁর দেওয়া সময়সীমার মধ্যে চুক্তি হয়নি।

এমন অবস্থায় খোদ মার্কিন ও ইরানি গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে ট্রাম্পের এসব মন্তব্যে ভরসা না করার কথা উঠে এসেছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও অস্ট্রিয়ার সাবেক সামরিক কর্মকর্তা উলফগ্যাং পুসতাই-ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবিগুলোকে উড়িয়ে দিয়েছেন।

পুসতাই বলছেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্টের সব বক্তব্যকে আক্ষরিক অর্থে নেওয়া যাবে না। তাঁর এসব মন্তব্য মূলত তথ্যযুদ্ধের অংশ।’ আলজাজিরাকে তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পের এসব মন্তব্যের মূল লক্ষ্য তিনটি শ্রোতাগোষ্ঠী। তারা হলেন- রিপাবলিকান সমর্থক, আন্তর্জাতিক শেয়ার ও তেলের বাজার এবং ইরানের সরকার।

পুসতাইয়ের মতে, সামরিক পদক্ষেপের হুমকি এবং অবরোধ অব্যাহত রাখার কথা বলে ট্রাম্প ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে চাইছেন।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম তাদের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, গত দুই মাসে ট্রাম্প ৩৮ বার একটি চুক্তির কাছাকাছি থাকার দাবি করেছেন। সম্ভাব্য কোনো সমঝোতা নিয়ে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বলা পর্যন্ত ট্রাম্পের বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের সবশেষ মন্তব্যের পর শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যায়। তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং অনুমোদনও পেয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের সময় ও স্থান শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই শুক্রবার বলেছেন, তেহরান চুক্তি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। চুক্তির অধিকাংশ খসড়া চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু পরে যুক্তরাষ্ট্র নতুন দাবি তুলে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে। তখনই সমস্যার শুরু হয়।

সম্প্রতি ইরান ও ইসরায়েল পাল্টাপাল্টি হামলা চালায়। তখনও ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীরা চূড়ান্ত পর্যায়ে আছেন।’ চুক্তি হতে কতদিন লাগতে পারে- এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছিলেন, দুই বা তিনদিন সময় লাগবে।

সিএনএন বলছে, গত এপ্রিলে যখন যুদ্ধবিরতি শুরু হয় তখনও ট্রাম্প বলেছিলেন, তারা চুক্তির বিষয়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছেন। চূড়ান্ত হতে দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। তিনি আরও উল্লেখ করেছিলেন, দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা সমাধানের কাছাকাছি যেতে পারাটাও সম্মানের বিষয়।

ট্রাম্প চুক্তির কাছাকাছি থাকা সংক্রান্ত মন্তব্যগুলো সাধারণত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্ট, ভাষণ ও গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপের সময় করেন। সিএনএন বলছে, অনবরত এমন দাবি করার পেছনে তিনটি কারণ থাকতে পারে। তিনি নিজে বিভ্রান্তির মধ্যে আছেন, আর্থিক বাজারকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছেন কিংবা অবাস্তব কিছুকে শুধু কথার জোরে বাস্তবে রূপ দিতে চাইছেন।

ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসা উচিত?

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক।। বাংলাদেশী মুসলমানরা যে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে এর একটি হিসাব দেই? ১৯৭০ সালে পাকিস্তানে জনসংখ্যা ছিলো ১২৩ মিলিয়ন, অর্থাৎ ১২কোটি ৩০লক্ষ। তন্মধ্যে পূর্ব-পাকিস্তানে ৬৫মিলিয়ন, পশ্চিম পাকিস্তানে ৫৮ মিলিয়ন। ১৯৬১ সালে পাকিস্তানের জরিপে মোট জনসংখ্যা ছিলো ৯৩মিলিয়ন, তন্মধ্যে পশ্চিম পাকিস্তানে ৪২.৮মিলিয়ন, এবং পূর্ব-পাকিস্তানে ৫০মিলিয়ন। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, সাড়ে ৭কোটি বাঙ্গালীকে দাবায়ে রাখতে পারবা না! সোজা অংকের খাতিরে ধরে নেয়া যাক ১৯৭১ সালে পাকিস্তানে জনসংখ্যা ছিলো ১৩কোটি, তন্মধ্যে পূর্ব-পাকিস্তানে সাড়ে ৭কোটি, পশ্চিম-পাকিস্তানে সাড়ে ৫কোটি।

 

বাংলাদেশে ২০২২ সালের জনসংখ্যা জরীপ অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৭কোটি (১৬কোটি ৯৮লক্ষ ২৮হাজার ৯২১জন)। পক্ষান্তরে পাকিস্তানে ২০২৩ সালের জনসংখ্যা জরিপ অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা হচ্ছে প্রায় ২৫কোটি (২৪কোটি ১৪লক্ষ ৯৯হাজার ৪৩১জন + কাশ্মীর ও গিলগিট-বাল্টিস্তান, আদম শুমারীতে এটি ধরা হয়নি)। অর্থাৎ ১৯৭১-২০২৩ পর্যন্ত পাকিস্তানের জনসংখ্যা  সাড়ে ৫কোটি থেকে বেড়ে ২৫কোটি হলে, একই সময়ে (১৯৭১-২০২২) বাংলাদেশের জনসংখ্যা সাড়ে ৭কোটি থেকে বেড়ে মাত্র ১৭কোটি হয় কি করে? সাধারণ গণিতের হিসাবমতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা হওয়া উচিত ৩৪কোটি (২৫ x ৭.৫/৫.৫)। আরো সহজভাবে দেখলে দেখা যাবে পাকিস্তানে জনসংখ্যা প্রায় ৫গুন্ বেড়েছে, বাংলাদেশে ৫গুন্ বাড়লে সংখ্যাটি ৩৪কোটি’র বেশি দাঁড়ায়।

 

পাকিস্তানে জন্মহার সামান্য বেশি, বাংলাদেশে মৃত্যুহার কম। ফ্যামিলি প্ল্যানিংয়ে বাংলাদেশে ভাল, বহুবিবাহ প্রায় একই, এরপরও জনসংখ্যা বৈষম্য এতটা প্রকট হতে পারে? প্রশ্ন হলো বাংলাদেশে জনসংখ্যা ১৭কোটি, থাকার কথা ৩৪ কোটি, তাহলে বাকি ১৭ কোটি কোথায় গেলো? হিন্দুরা বলছে প্রায় ৫কোটি হিন্দুকে বিতাড়িত করা হয়েছে? (হিসাবটি এরকম: ১৯৭১ সালে ১কোটি হিন্দু ভারতে গেছে, দেশে বা এদিক-ওদিক হিসাবের বাইরে প্রায় ৫০লক্ষ হিন্দু, অর্থাৎ মোট দেড় কোটি হিন্দু ছিলো, ৫গুন্ বাড়লে তা দাঁড়াতো সাড়ে ৭কোটি, আছে ২কোটি (সরকারি হিসাবে ১কোটি ৪০লক্ষ), বাকিরা ভারতে। এছাড়া দেশের প্রায় ২কোটি মানুষ প্রবাসী, বিদেশে থাকেন।

 

তাহলে দাঁড়াল ১৭+৫+২=২৪কোটি। ৩৪-২৪=১০কোটি মানুষ গেলো কোথায়? সংখ্যাটি যদি আরো কমিয়ে ধরা হয়, অর্ধেক হলেও ৫/৬কোটি মানুষের হদিস নাই? এঁরা সবাই ভারতে গেছে? বা নেপালে? বাংলাদেশে মানুষ হারিয়ে গেছে, ভারতে মুসলমান হুহু করে বেড়েছে, এর মধ্যে যোগসূত্র আছে বটে? এ সময়ে ভারত বেশকিছু সংখ্যক বাংলাদেশীকে পুশব্যাক করেছে, বাংলাদেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বলেছে, এনিয়ে তাদের কিছু করার নেই? টিভিতে এসব ফিরে আসা মানুষগুলো সবিস্তারে জানাচ্ছেন বাংলাদেশে কোথায় তাদের বাড়ীঘর, কখন তাঁরা ভারতে যান, কেন থেকে গেছেন ইত্যাদি। কেউ কেউ বলতে চাইছেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা আসলে ১৭কোটির বেশি, প্রায় ২০কোটি। তাও যদি হয়, তবুও তো ৪/৫কোটি মানুষের খবর নাই, কেন? কারণ এঁরা সবাই ভারতে।

 

এ সময়ে এসআইআর বা এনআরসি’র ভয়ে কিছু অনুপ্রবেশকারী ফেরত গেছে, পশ্চিমবঙ্গের মিডিয়া, রাজনীতিকরা এতে বেজায় খুশি। কত মানুষ ফেরত গেছে এর কি কোন হিসাব আছে? ৫হাজার, ১০হাজার? শুনুন, প্রতিদিন ৫হাজার মানুষ ফেরত গেলে মাসে মাত্র দেড়লক্ষ, বছরে ১৮লক্ষ, ১০বছরে ১কোটি ৮০লক্ষ। সুতারং ভারত থেকে ৫/৬কোটি অনুপ্রবেশকারী ফেরত পাঠাতে কত সময় লাগবে? এটি কি সম্ভব? নিউটাউন বা কসবায় বস্তি উঠে গেছে দেখে ভাববেন না যে, ওরা ফেরত গেছে? ওরা ফেরত যায়নি, স্থানান্তর করেছে, কিছু অন্য রাজ্যে গেছে, কিছু নেপালে গেছে। এদের ফেরত পাঠানোর কাজটি এতটা সোজা নয়, এঁরা যাতে স্বেচ্ছায় ফেরত যায় সেই ব্যবস্থা করা উচিত এবং সেটি মানবিক হবে।

 

বৃটেন থেকে ৯০লক্ষ মুসলমান ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, পুরো ইউরোপে সেটি হবে, কারণ সবাই জেনে গেছে, ওঁরা শরণার্থী নয়, ওঁরা ‘শরিয়া’ কায়েম করতে এসেছে। এ সময়ে বিশ্বে ৩০% শরণার্থী মুসলমান, এঁরা সভ্য দেশে গিয়ে গণতন্ত্রের সুযোগ অপব্যবহার করে ঐসব দেশকে তাদের ফেলে যাওয়া ‘অসভ্য’ দেশে পরিণত করতে কাজে লেগে যায়। পশ্চিমবঙ্গ বা ভারতে এদের লক্ষ্য একই, এবং ‘গাজোয়াতুল হিন্দ’ এখন আর গোপন কিছু নয়। সেই লক্ষ্যে জনবিস্ফোরণ ঘটিয়ে, গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে ওঁরা প্রথমে পশ্চিমবঙ্গ, এরপর আসাম, সেভেন-সিষ্টারের জনবিন্যাস পাল্টে, বা ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করে, বৃহত্তর ইসলামী খিলাফত কায়েমের লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি এখন বিরাট বাঁধা, এবং এজন্যেই এঁরা ভারত ও বিজেপি বিরোধী।

৬/৭/২৬

বাংলাদেশের ম্যাচ, বিশ্বকাপসহ আজ আরও যা দেখবেন

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আজ বৃহস্পতিবার মাঠে নামছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। অন্যদিকে আজ রাতেই ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এর পর্দা উঠতে যাচ্ছে। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। আসরের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র।

এক নজরে দেখে নিন আজকের খেলার সময়সূচি-

  • ২য় ওয়ানডে

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া
বেলা ১১টা, টি স্পোর্টস ও নাগরিক

  • বিশ্বকাপ ফুটবল

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
রাত ১১টা ৩০ মিনিট, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা
রাত ১টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

দক্ষিণ কোরিয়া-চেক প্রজাতন্ত্র
আগামীকাল সকাল ৮টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিন দেশের বর্ণাঢ্য আয়োজন

আর মাত্র কয়েক মুহূর্তের অপেক্ষা। শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপের নতুন আসর। এবারের প্রতিযোগিতা ইতিহাসের সবচেয়ে বৃহৎ ও ব্যতিক্রমী আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রথমবারের মতো তিনটি স্বাগতিক দেশে পৃথক তিনটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আর এসব অনুষ্ঠানের প্রতিটিতেই উত্তর আমেরিকার বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, সংগীত ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে।

প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে মেক্সিকোর স্থানীয় সময় ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) বেলা সাড়ে ১১টায়। প্রথম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে। উদ্বোধনী ম্যাচের ৯০ মিনিট আগে শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে নাচে-গানে সুরে-তালে তুলে ধরা হবে মেক্সিকোর সংস্কৃতি, সংগীত এবং ঐতিহ্যের নানা দিক। এরপর স্বাগতিক মেক্সিকো মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার।

দ্বিতীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে ১২ জুন (শুক্রবার) ক্যালিফোর্নিয়ার ইঙ্গলউডে অবস্থিত সোফাই স্টেডিয়ামে। এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্বের জনপ্রিয় তারকা শিল্পী কেটি পেরি, ফিউচার, অনিতা, লিসা, রেমা ও টাইলা পরিবেশনা করবেন। বর্ণাঢ্য এই আয়োজনের পর নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র।

আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিশ্বকাপের ব্যাপ্তি ও মহিমার প্রতিফলন। শিল্পীদের বৈচিত্র্যময় উপস্থিতি দেশটির সাংস্কৃতিক বৈচিত্রকে তুলে ধরবে, যা মানুষকে একত্রিত করার অসাধারণ ক্ষমতা রাখে।

তিনটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতা সম্পূর্ণ করবে কানাডা। ১২ জুন (শুক্রবার) টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে অনুষ্ঠিত হবে দেশটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, যেখানে কানাডার প্রতিভাবান শিল্পীদের পরিবেশনা তুলে ধরা হবে। কানাডার প্রথম ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে অ্যালানিস মরিসেট, আলেসিয়া কারা, এলিয়ানা, জেসি রেয়েজ, মাইকেল বুবলে, নোরা ফাতেহি, সানজয়, ভেজিড্রিম এবং উইলিয়াম প্রিন্স মঞ্চে পরিবেশনা করবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময়সূচি:

মেক্সিকোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

তারিখ: ১১ জুন, বৃহস্পতিবার

সময়: বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে এগারোটা

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

তারিখ: ১২ জুন, শুক্রবার

সময়: বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে পাঁচটা (শনিবার)

কানাডার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

তারিখ: ১২ জুন, শুক্রবার

সময়: বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে এগারোটা

তিন দেশ, তিন সংস্কৃতি এবং এক বিশ্বমঞ্চ- এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়েই শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত উৎসব।

সীমান্তবর্তী সব জেলায় কাল ১১ দলের সমাবেশ

বাংলাদেশে পুশইন ও সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে আগামীকাল শুক্রবার দেশের সীমান্তবর্তী সব জেলায় এবং পয়েন্টে প্রতিবাদ সমাবেশ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। একই সঙ্গে সারাদেশে খুন ও ধর্ষণ এবং আইনশৃঙ্খলা অবনতির প্রতিবাদে আগামী ১৫ জুন রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ করবে তারা।

গতকাল বুধবার মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, সীমান্ত হত্যা দেশের স্বাধীনতা ও

সার্বভৌমত্বের জন্য ভয়াবহ হুমকি। গত তিন মাসে সীমান্তে ৫০টির বেশি পুশইনের চেষ্টা হয়েছে এবং গত ১০০ দিনে ভারতীয় বাহিনীর গুলিতে ১৯ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। সরকার এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উদাসীনতা দেখাচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্ত হত্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে জাতীয় নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন তিনি।

১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ সরকারকে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিরোধী দলগুলো সবসময় সজাগ থাকবে। সরকার যাতে জাতীয় স্বার্থে কোনো ধরনের উদাসীনতা দেখাতে না পারে, সেজন্য সাধারণ জনগণকেও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী তার সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে বলেন, সীমান্ত অঞ্চলের মানুষেরা অত্যন্ত মানবেতর ও ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাপন করছেন। সীমান্তে সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভূমিকা অত্যন্ত অপ্রতুল উল্লেখ করে তিনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করার তাগিদ দেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত ও পলাতকরা ভোটে অযোগ্যই থাকছেন

জাতীয় সংসদের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন বা সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও পলাতক আসামিরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগও বন্ধ রাখা হচ্ছে।

এমন সব বিধান যুক্ত করে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনী আচরণবিধি সংশোধনীর খসড়া চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী সপ্তাহে জনমতের জন্য খসড়াটি ইসির ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করা হবে। স্থানীয় সরকারের অন্য চারটি প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদাভাবে প্রণয়নের অপেক্ষায় থাকা নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আচরণ বিধিমালার খসড়ায়ও একই ধরনের বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে বলে ইসি সূত্র জানিয়েছে।

ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সমকালকে বলেছেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতে কমিশন সভা হবে বলে আশা করছি। সেখানেই ইউপি নির্বাচনী আচরণবিধির খসড়া নিয়ে আলোচনার পর সবার মতামতের জন্য এটি ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে।

আচরণবিধিতে আনা অন্যান্য পরিবর্তন সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্বাচন নির্দলীয় হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহের প্রয়োজন হবে না। নির্বাচনের জামানত বাড়বে। আর নির্বাচনী প্রচারে পোস্টারের ব্যবহার ও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ এবং পোস্টাল ব্যালটের ব্যবহার বাদ দেওয়া হবে।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) সংশোধনী এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন বা সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও পলাতক আসামিদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগও বন্ধ রাখা হয়। সেটা আচরণ বিধিমালায়ও যুক্ত করা হয়।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, ইউপি নির্বাচন আচরণ বিধিমালার খসড়া ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে অংশীজন ও নাগরিকদের মতামত দেওয়ার জন্য ১৫ দিন সময় বেঁধে দেওয়া হবে। নির্দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন হলেও এটি মতামতের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেও পাঠানো হবে। এ ছাড়া এ বিষয়ে সংবাদপত্রে সার্কুলার জারি ও গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় করবে ইসি। এরপর খসড়াটি সংযোজন-বিয়োজন ও কমিশনের চূড়ান্ত অনুমোদন শেষে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। ভেটিং শেষে আচরণ বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করবে ইসি।
দেশে বর্তমানে স্থানীয় সরকারের চার হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা এবং ১৩টি সিটি করপোরেশন রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মধ্যে তিন হাজার ৬৩২টি আগামী আগস্টের শেষ নাগাদ এবং আরও ৩৪৩টি ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের জন্য যোগ্য হবে। বিভিন্ন জটিলতার কারণে ১০৪টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য অনুপযুক্ত। যার মধ্যে ৭৯টি আইনি বিরোধ, ১৮টি সীমানা-সংক্রান্ত সমস্যা এবং সাতটি ভোটার তালিকা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে স্থগিত রয়েছে।

১২ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে ৩ মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত এফ-৩৫, এফ-১৫ ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা। তাদের দাবি, দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ঘাঁটির একাধিক স্থাপনায় সফল আঘাত হানা হয়েছে।

এই হামলার দাবি আসে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের পরপরই। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, রাডার ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর জবাবে ইরান জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করে।

তবে ইরানের এই দাবির স্বাধীন কোনো যাচাই এখনো পাওয়া যায়নি। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আল-আজরাক এলাকায় ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা ভূপাতিত করেছে এবং এতে কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নেই। একইভাবে মার্কিন কর্মকর্তারাও অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছেন।

হরমুজ প্রণালী বন্ধের আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জের ধরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। হরমুজ বন্ধের আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। আজ বৃহস্পতিবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

বিশ্ববাজারে মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে এক ডলারেরও বেশি বেড়েছে। ব্রেন্ট তেলের ভবিষ্যৎ মূল্য ১ দশমিক ৪৮ ডলার বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৪ দশমিক ৫৮ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৭১ ডলার বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯১ দশমিক ৭৪ ডলারে ওঠে। দিনের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের ভবিষ্যৎ মূল্য ৩ ডলারেরও বেশি বৃদ্ধি পায়।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। এ আশঙ্কায় বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো শান্তি চুক্তি না হলে আরও হামলা চালানো হবে। এর জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুশিয়ারি দেয়, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

৯০ দিনের জ্বালানি মজুদের উদ্যোগ

দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে এবার ন্যূনতম ৯০ দিনের কৌশলগত জ্বালানি তেল মজুদ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা, যুদ্ধ, সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন ও বৈদেশিক মুদ্রার চাপের মতো ঝুঁকি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ এ উদ্যোগ নিয়েছে।

এর আওতায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানো, নতুন স্টোরেজ নির্মাণ, ভূগর্ভস্থ মজুতের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং রেলওয়ে ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আলাদা জ্বালানি মজুত গড়ে তোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতের বৈশ্বিক সংকটেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল ও নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা। জ¦ালানি বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ নিজস্ব চাহিদার অধিকাংশ পরিশোধিত ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের জ্বালানি সরবরাহে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৮০ লাখ টন জ¦ালানি তেলের চাহিদা, যার অধিকাংশই আমদানিনির্ভর।

২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। একই সময়ে ডলার সংকট ও আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের ওপরও চাপ তৈরি হয়। তখন জ্বালানি খাতে ব্যয় মেটানো এবং পর্যাপ্ত মজুত ধরে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বিশ্বের অনেক দেশ ইতোমধ্যে কৌশলগত জ্বালানি মজুত গড়ে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো কয়েক মাসের চাহিদা পূরণের সক্ষমতা রেখে তেল সংরক্ষণ করে। এর উদ্দেশ্য হলোÑ জরুরি পরিস্থিতিতে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা। বাংলাদেশে এতদিন এ ধরনের পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত মজুত নীতিমালা ছিল না।

বর্তমান মজুত সক্ষমতা কত

বাংলাদেশে জ্বালানি তেল সংরক্ষণের প্রধান দায়িত্বে রয়েছে বিপিসি এবং এর অধীনস্থ তিন তেল বিপণন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানি। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন ডিপো, অয়েল ইনস্টলেশন ও বিপণন কোম্পানির ট্যাঙ্কে জ্বালানি তেল সংরক্ষণ করা হয়। তবে দেশের মোট সংরক্ষণ সক্ষমতা এখনও আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় সীমিত বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। বর্তমানে গড়ে ১৫ থেকে ২৫ দিনের জ¦ালানি তেল মজুত সক্ষমতা রয়েছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখন বিদ্যমান ট্যাঙ্কের পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত বা অতিরিক্ত সংরক্ষণ সুবিধাও ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বিপিসি, বাংলাদেশ রেলওয়ে, সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিটিকে ৯০ দিনের রোডম্যাপ প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ‘জাস্ট-ইন-টাইম’ আমদানি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল ছিল। অর্থাৎ প্রয়োজন অনুযায়ী, নিয়মিত আমদানি করে সরবরাহ বজায় রাখা হতো। কিন্তু কয়েকটি কারণে এ পদ্ধতির ঝুঁকি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে; যার মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের বাজারের অস্থিরতা, বৈশ্বিক তেলের মূল্যবৃদ্ধি; ডলার সংকট; জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন; ভূরাজনৈতিক সংঘাত; অভ্যন্তরীণ আর্থিক সংকট। প্রাকৃতিক দুর্যোগে সরবরাহ ব্যবস্থায়ও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারী এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে আসে। তখনই দেশে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়।

সরকারের নতুন পরিকল্পনা

জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের নির্দেশনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। দেশে ন্যূনতম তিন মাসের জ্বালানি তেল মজুত নিশ্চিত করতে একটি পৃথক নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে নতুন স্টোরেজ নির্মাণের জন্য উপযুক্ত জায়গা চিহ্নিত করতে বলা হয়। আন্ডারগ্রাউন্ড স্টোরেজ ট্যাঙ্ক নির্মাণের সম্ভাবনা যাচাইয়ে বিস্তারিত ফিজিবিলিটি স্টাডি করার উদ্যোগ নিতে বলা হয়। প্রসঙ্গত, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কৌশলগত মজুতের জন্য ভূগর্ভস্থ গুহা বা ট্যাঙ্ক ব্যবহৃত হয়; যা যুদ্ধ বা দুর্যোগের সময় তুলনামূলক নিরাপদ থাকে। মোংলা অয়েল ইনস্টলেশনের ট্যাঙ্ক সংস্কার করে সেখানে অধিক পরিমাণ জ্বালানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। নির্মাণাধীন ও সংস্কারাধীন ট্যাংকগুলো দ্রুত ব্যবহার উপযোগী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিপণন কোম্পানিগুলোকে নিজস্ব সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিতে বলা হয়।

রেলওয়ে ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভূমিকা

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ রেলওয়েকে তাদের নিজস্ব চাহিদার কমপক্ষে এক মাসের জ্বালানি মজুত রাখতে হবে। অন্যদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী, ন্যূনতম দুই মাসের জ্বালানি সংরক্ষণ করতে হবে। এতে জাতীয় পর্যায়ের মোট মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছে, তিন মাসের কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা সহজ কাজ নয়। অতিরিক্ত তেল কিনে সংরক্ষণ করতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে এ ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া বৃহৎ আকারের ট্যাঙ্ক, পাইপলাইন, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও পরিবহন অবকাঠামো গড়ে তুলতে সময় লাগবে। নতুন স্টোরেজ নির্মাণের জন্য উপযুক্ত জায়গা নির্বাচনও বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষিত জ্বালানির মান বজায় রাখা এবং কার্যকর রোটেশন ব্যবস্থা চালু করাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দরকার দক্ষ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন, শিল্প ও কৃষি খাত জ্বালানি তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে যে কোনো অস্থিরতা দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে তিন মাসের কৌশলগত জ্বালানি মজুত গড়ে তোলার উদ্যোগকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জ্বালানি বিভাগ ইতোমধ্যে বিপিসিকে কৌশলগত মজুত নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত করে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক সংকট, যুদ্ধ, সরবরাহ বিঘ্ন কিংবা বৈদেশিক মুদ্রার চাপের মধ্যেও বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে নিরাপদ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখতে সক্ষম হবে।