Home Blog Page 95

সরকারি হাসপাতালে ওষুধ নেই, স্টোরে মেয়াদোত্তীর্ণ মজুত

উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধ সংকট এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন হাতে নিয়েও রোগী ফিরছেন খালি হাতে। ইনডোর ও আউটডোরে প্রয়োজনীয় ওষুধ না থাকায় বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা। এর মধ্যেই হাসপাতালের স্টোরে পাওয়া গেছে মেয়াদোত্তীর্ণ ও স্বল্পমেয়াদি ওষুধ। এসব ওষুধ কীভাবে গ্রহণ করা হলো, সে প্রশ্নেরও জবাব মিলেনি।
হাসপাতালে ৫ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নির্ভরশীল। প্রতিদিন আউটডোরে গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। অথচ হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের দাবি, চাহিদার বিপরীতে মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ওষুধ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে।

সরেজমিন আউটডোর, ইনডোর, জরুরি বিভাগ ও মা-শিশু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ রোগী প্রেসক্রিপশনের সব ওষুধ পাচ্ছেন না। অনেককে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।
হাতিয়া অনন্তপুর গ্রামের শহীদুর রহমান বলেন, ‘ছয় ধরনের ওষুধ লিখে দিয়েছে। হাসপাতাল থেকে পেয়েছি তিনটা। গরিব মানুষ, টাকা কোথায় পাই?’ রাবেয়া বেওয়া নামের এক বৃদ্ধা বলেন, ‘ডাক্তার তিনটা ওষুধ লিখছে, পাইছি একটা। বাকি দুইটা বাইরে কিনতে কইছে।’ আক্ষেপ করে তারা বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে যখন অধিকাংশ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়, তখন দরিদ্র মানুষের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মূল উদ্দেশ্যই প্রশ্নের মুখে পড়ে।

বহির্বিভাগের ফার্মাসিস্ট মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ পাওয়া যায় না। রোগীদের সঙ্গে প্রায়ই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।’ আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. শহীদুল ইসলাম জানান, ‘সরবরাহকৃত ওষুধ দিয়েই চিকিৎসা চালাতে হচ্ছে। প্রয়োজন হলে রোগীদের বাইরে থেকে কিনতে বলা হয়।’ তবে সরবরাহকারী ঠিকাদার মেসার্স আসলাম উদ্দিন দাবি করেন, ‘আমি কোনো মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সরবরাহ করিনি। নির্ধারিত সময়েই সব ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে।’
হাসপাতাল সূত্র জানায়, সরকারি তালিকায় ৪৭ পদের ওষুধ সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে বিভিন্ন ইউনিটে ১০ থেকে ১৫ পদের বেশি ওষুধ পৌঁছায় না। ফলে রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এদিকে ওয়ার্ড ক্লিনিকগুলোও দীর্ঘদিন ওষুধ সংকটে ছিল। ছয় মাস পর চলতি মাসে প্রতিটি ক্লিনিকে মাত্র এক বাক্স করে ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, হাসপাতালের স্টোরে মেয়াদোত্তীর্ণ ও স্বল্পমেয়াদি ওষুধ পাওয়া গেছে। স্টোরকিপার মো. বছির উদ্দিন বলেন, ‘মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধগুলো আমার আমলের নয়। স্বল্পমেয়াদি ওষুধ এসেছে, তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না।’

ইনডোর ইনচার্জ শাহীনুর বেগম অভিযোগ করেন, ‘এক মাস মেয়াদের ওষুধও অনেক সময় নিতে বলা হয়। আপত্তি করলেও আমাদের গ্রহণ করতে হয়।’ তবে এসেনশিয়াল ড্রাগস লিমিটেডের বিক্রয় প্রতিনিধি মোক‌ছেদুল আলম ব‌লেন, মা‌ঝেম‌ধ্যে স্বল্প মেয়া‌দের ওষুধ হাসপাতা‌লের কর্তৃপক্ষ‌কে জা‌নি‌য়েই সরবরাহ করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘সরবরাহ সংকট রয়েছে। ছয় পদের স্বল্পমেয়াদি ওষুধ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে কোনো অনিয়ম বা অতিরিক্ত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়।’ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য ব‌্যা‌রিস্টার মাহবুব আলম ছা‌লেহী বলেন, খোঁজ নি‌য়ে ব‌্যবস্থা নেওয়া হ‌বে। এ বিষয়ে কথা বলতে জেলা সি‌ভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমা‌রের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও সাড়া মেলেনি।

আমরা ইন্সটাগ্রামের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি: মোদিকে মেলোনি

জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। কানাডায় অনুষ্ঠিত এবারের সম্মেলনে দুই নেতার সংক্ষিপ্ত কিন্তু প্রাণবন্ত কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

গ্রুপ ছবি তোলার আগে একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় মেলোনিকে বলতে শোনা যায়, ‘আবার আপনার সঙ্গে দেখা হয়ে ভালো লাগছে।’ এরপর হাস্যরসের সুরে তিনি যোগ করেন, ‘আমরাই ইনস্টাগ্রামের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি।’

মেলোনির মন্তব্যে সায় দিয়ে মোদিও তাদের ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা জনপ্রিয় ‘মেলোডি’ ট্রেন্ডের প্রসঙ্গ তোলেন। মুহূর্তটি দ্রুতই নেটদুনিয়ায় আলোচনার জন্ম দেয়।

কী এই ‘মেলোডি’?
মোদি ও মেলোনির নাম মিলিয়ে তৈরি হয়েছে ‘মেলোডি’ শব্দটি। ২০২৩ সালে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত কপ-২৮ জলবায়ু সম্মেলনে মোদির সঙ্গে তোলা একটি সেলফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন মেলোনি। ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন, ‘গুড ফ্রেন্ডস’ এবং ব্যবহার করেছিলেন মেলোডি হ্যাশট্যাগ।

এরপর থেকেই ‘মেলোডি’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি জনপ্রিয় ট্রেন্ডে পরিণত হয়। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এ নিয়ে অসংখ্য মিম, ভিডিও ও ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সম্মেলনে দুই নেতার সাক্ষাৎ হলেই নতুন করে আলোচনায় আসে ‘মেলোডি’।

‘মেলোডি’ টফি উপহার
গত মাসে ইতালি সফরের সময় মেলোনিকে ‘মেলোডি’ নামের একটি টফি উপহার দেন মোদি। ঘটনাটিকেও অনেকে ‘মেলোডি’ ট্রেন্ডের প্রতি তার মজার স্বীকৃতি হিসেবে দেখেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, নীল রঙের বন্দগালা স্যুট পরা মোদি মেলোনির হাতে টফির প্যাকেট তুলে দিচ্ছেন। উপহার পেয়ে হাসিমুখে ধন্যবাদ জানান ইতালির প্রধানমন্ত্রী।

ভিডিওতে মেলোনিকে বলতে শোনা যায়, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি আমাদের জন্য একটি উপহার এনেছেন… খুব, খুব ভালো টফি।’ এ সময় দুই নেতাকেই হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতার বাইরে মোদি ও মেলোনির এই বন্ধুত্বপূর্ণ রসিকতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেশ আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। আর সেই কারণেই ‘মেলোডি’ এখন শুধু একটি হ্যাশট্যাগ নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বহুল আলোচিত এক বৈশ্বিক ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে।

আইইএলটিএসে ৬২,৭৯৪ শিক্ষার্থীর ফল ভুল, ক্ষতিপূরণে যে উদ্যোগ নিল কর্তৃপক্ষ

আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা আইইএলটিএসে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বিশ্বজুড়ে ৬২ হাজার ৭৯৪ জন পরীক্ষার্থীর ফল ভুলভাবে নির্ধারিত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকোয়াল। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কম্পিউটার-নিয়ন্ত্রিত স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়ন ব্যবস্থায় এই ত্রুটি ঘটে। পরে সংশোধিত ফল প্রকাশ করা হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ অথবা সম্পূর্ণ ফি ফেরতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

অফকোয়াল জানায়, কম্পিউটার-নিয়ন্ত্রিত স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়ন বা অটোমেটেড মার্কিং সিস্টেমে দীর্ঘদিন ধরে থাকা একটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সমস্যা ঘটে। ওই সময়ে প্রায় ৭৭ লাখ পরীক্ষার্থী আইইএলটিএস পরীক্ষায় অংশ নেন, যার মধ্যে প্রায় ৯৩ হাজার ৮৬৫টি উত্তর ভুলভাবে মূল্যায়িত হয়।

ত্রুটির ফলে অনেক পরীক্ষার্থীর ব্যান্ড স্কোর ভুলভাবে নির্ধারিত হয়। পরে সংশোধিত ফলাফলে দেখা যায়, ২০ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি পরীক্ষার্থীর স্কোর আগের চেয়ে বেড়েছে। অন্যদিকে, ১ হাজার ১১৫ জনের স্কোর ভুলভাবে বেশি দেওয়া হয়েছিল, যা সংশোধন করে কমানো হয়।

এ ঘটনায় আইইএলটিএসের অন্যতম অংশীদার কেমব্রিজ ইংলিশকে ৮ লাখ ৭৫ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছে অফকোয়াল। সংস্থাটির ডেলিভারি বিভাগের নির্বাহী পরিচালক আমান্ডা সোয়ান বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই পদ্ধতিগত ব্যর্থতা পরীক্ষার্থী ও ফল ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান-উভয়ের জন্যই বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ভুল ফলের কারণে অনেক শিক্ষার্থী জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সমস্যায় পড়েছেন। এ কারণেই এই জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।

অন্যদিকে কেমব্রিজ ইংলিশ তাদের ত্রুটি স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সমস্যাটি সমাধান, পরীক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ, কাস্টমার সাপোর্ট ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে এমন ত্রুটি এড়াতে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করতে ইতিমধ্যে ৬০ লাখ পাউন্ডের বেশি ব্যয় করা হয়েছে।

আইইএলটিএস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ বা সম্পূর্ণ ফি ফেরত দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের ভিসা ও ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত পরীক্ষায় প্রভাব পড়া কিছু শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে পুনঃপরীক্ষার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় স্কোর অর্জনের সুযোগও দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী আইইএলটিএস পরীক্ষা যৌথভাবে পরিচালনা করে ব্রিটিশ কাউন্সিল, আইডিপি আইইএলটিএস এবং কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট।

সুস্থতার জন্য সেরা ৪ পানীয়

আমরা অনেক সময় এমন সব স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগি, যার লক্ষণগুলো হালকা থেকে গুরুতর পর্যন্ত হতে পারে। বেশিরভাগ সময়, এসব লক্ষণ কমানোর জন্য আমরা ওষুধ খাই অথবা লক্ষণগুলো নিজে থেকে চলে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করি। কিন্তু আপনি জানেন কী কয়েক ধরনের বিশেষ পানীয় পানের মাধ্যমে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা কমানো যায়। যেমন-

লেবু পানি
লেবুর পানি বর্তমানে আমাদের পরিচিত অন্যতম জনপ্রিয় পানীয়।  যারা ওজন কমাতে চান, তারা সাধারণত এই পানীয় নিয়মিত খান। কারণ এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করতে সাহায্য করে। লেবুর পানি পান করার আরেকটি সুবিধা হলো, এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে। এর ফলে শরীর বিভিন্ন অসুস্থতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। এটি হজমশক্তিও উন্নত করতে পারে। যার ফলে শরীর আরও ভালোভাবে পুষ্টি শোষণ করতে পারে।

পুদিনা পানি

পুদিনার পানিও শরীরের জন্য খুব উপকারী। পুদিনা ক্ষুধা বাড়াতে এবং বদহজম প্রতিরোধ করে। আপনি যদি পেটের সমস্যায় ভোগেন, তবে পুদিনার পানি পান করলে পেটের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। একটি জগে পানি ভরে তাতে লেবুর টুকরো এবং পুদিনার পাতাসহ ডালপালা যোগ করুন। মিশ্রণটি নেড়ে নিন এবং পরে ফ্রিজে রাখুন। পান করার আগে দিনে একবার পানিটা নেড়ে নিন। এটি ২ থেকে ৩ দিন পর্যন্ত ভালো থাকবে। পেটের সমস্যা দূর করতে দিনে এক বা দুই গ্লাস এই পানি পান করতে পারেন।

আদা পানি
আদা পানি পিরিয়ডের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। আদা পানি বমি বমি ভাব, বমি এবং এমনকি গ্যাসের সমস্যা কমাতেও সাহায্য করতে পারে। একটি সসপ্যানে পানি ও কিছুটা আদা দিয়ে উচ্চ তাপে ফুটিয়ে নিন। আঁচ কমিয়ে দিন এবং আরও ১৫ মিনিট অল্প আঁচে রাখুন। মিশ্রণটি ছেঁকে ঠান্ডা হতে দিন। সারাদিন ধরে অল্প অল্প করে এই পানি পান করুন।

মধু পানি
আপনি যদি ওজন কমাতে চান, তাহলে সকালে ঘুম থেকে উঠেই কিছুটা মধু পানি পান করা একটি ভালো উপায়। অতিরিক্ত ওজন কমাতে সাহায্য করার পাশাপাশি মধু পানি অ্যালার্জি কমাতে, গলা ব্যথা সারাতে এবং এমনকি প্রদাহও কমাতে পারে। পানি ফুটিয়ে একটি কাপে ঢেলে কয়েক মিনিটের জন্য ঠান্ডা হতে দিন। এক থেকে দুই টেবিল চামচ মধু যোগ করে নাড়ুন। এরপর এটি পান করুন।

বাজেট ২০২৬-২৭ জমি-ফ্ল্যাট কেনাবেচায় বাড়ছে করের বোঝা

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে স্থাবর সম্পত্তি বা জমি-ফ্ল্যাট কেনাবেচা বা লিজ দেওয়ার ক্ষেত্রে কর নির্ধারণে বড় পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেট প্রস্তাব অনুসারে, আগামী অর্থবছর থেকে ডেভেলপারকে জমি দেওয়ার বিনিময়ে মালিক নগদ টাকা, ফ্ল্যাট বা ফ্ল্যাট হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত ভাড়া সুবিধা বা আর্থিক মূল্য আছে– এমন যে সুবিধাই নেবেন, তার আর্থিক মূল্য ধরে ১৫ শতাংশ হারে ‘ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স’ বা মূলধনি মুনাফা কর দিতে হবে।

জমি বা ফ্ল্যাট বিক্রির ক্ষেত্রে আগে উৎসে কেটে নেওয়া করই ছিল চূড়ান্ত কর দায়। অর্থমন্ত্রীর কর প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী অর্থবছর থেকে তা অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য হবে। এমনকি জমি অধিগ্রহণ বাবদ সরকার ক্ষতিপূরণ বাবদ যে টাকা দেবে, তার ওপর উৎসে কর কাটবে। কেটে নেওয়া ওই করও কেবল অগ্রিম কর হিসেবে বিবেচিত হবে। এরপর আয়কর রিটার্নে ওই আয় প্রদর্শন করে মোট আয় হিসাব করতে হবে এবং প্রযোজ্য কর ধাপে নির্ধারিত হারে কর দিতে হবে। অবশ্য কর ধাপ অনুযায়ী, বেশি কর কেটে নেওয়া হলে তার ‘রিফান্ড’ বা ফেরতও চাওয়া যাবে। তবে আয় বেশি হলে বেশি হারে কর দিতে হবে।
কর বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, আয়কর আইনের এ পরিবর্তনের ফলে করভার বাড়বে। বিশেষত করদাতা উচ্চ কর ধাপের হলে, তার করের বোঝা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে।

ডেভেলপারকে জমি দিলে কর কত
প্রস্তাবিত অর্থ বিলের  ৫৮(৩) ধারা এবং ৫ম তপশিলের অংশ-৩ এ ডেভেলপার বা রিয়েল এস্টেট কোম্পানির কাছ থেকে জমি বা স্থাপনার মালিক কর্তৃক প্রাপ্ত নগদ অর্থ, ফ্ল্যাট বা অন্য যে কোনো সুবিধার ওপর মূলধনি মুনাফা কর গণনার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে মূলধনি মুনাফাজনিত কর গণনার সূত্রটি হলো চুক্তি অনুযায়ী ডেভেলপার থেকে প্রাপ্ত ‘সাইনিং মানি’ এবং ফ্ল্যাট হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া বাবদ প্রাপ্ত অর্থ, ফ্ল্যাট ও অন্যান্য সুবিধার মোট বাজারমূল্য থেকে জমিটির আদি অর্জন মূল্য বাদ দিয়ে যা থাকবে তার ১৫ শতাংশ।
স্নেহাশীষ বড়ুয়া এর সহজ উদাহরণ দিয়ে বলেন, ধরা যাক এক ব্যক্তি এক খণ্ড জমি ডেভেলপারকে দেওয়ার জন্য চুক্তি করলেন। বিনিময়ে তিনি ‘সাইনিং মানি’ হিসেবে ৫০ লাখ টাকা পেলেন। ভবন নির্মাণের পর পেলেন দুটি ফ্ল্যাট, যার মূল্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অর্থাৎ তিনি পেলেন ২ কোটি টাকা। এখন জমির মালিক যদি ওই জমি ৮০ লাখ টাকায় কিনে থাকেন, তাহলে নিট মূলধনি মুনাফা হবে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। ফলে তাঁকে এর ১৫ শতাংশ বা ১৮ লাখ টাকা কর দিতে হবে। যদি কোনো জমির মালিক চুক্তি অনুযায়ী ফ্ল্যাট পাওয়ার আগে বাড়ি ভাড়া নেন এবং প্রাপ্য ফ্ল্যাট বিক্রি করেন, সেক্ষেত্রে কর কীভাবে হিসাব করতে হবে, সে উদাহরণও দিয়েছেন স্নেহাশীষ বড়ুয়া।

তিনি বলেন, ধরুন আবিদ নামে একজন ব্যক্তি তাঁর পাঁচ কাঠা জমি ডেভেলপারকে ভবন নির্মাণের জন্য দিলেন। চুক্তির শর্তানুসারে তিনি পেলেন ৫০ লাখ টাকা সাইনিং মানি, ফ্ল্যাট নির্মাণ চলাকালে তিন বছরের জন্য মাসিক ৩৫ হাজার টাকা ভাড়া। ভবন নির্মাণ শেষে পেলেন প্রতিটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের পাঁচটি ফ্ল্যাট।
চুক্তি চলাকালীন প্রতিবছর প্রাপ্ত ভাড়ার ওপর আবিদকে ১৫ শতাংশ হারে মূলধনি মুনাফা কর বছরে ৬৩ হাজার টাকা দিতে হবে। পরে যখন তিনি ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের পাঁচটি ফ্ল্যাট বুঝে পাবেন, তখন তাঁকে একবারে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা কর দিতে হবে। এ ছাড়া তিনি যদি পরবর্তী বছর ফ্ল্যাটগুলো বেশি দামে বিক্রি করেন, তবে বর্ধিত মুনাফার ওপর আবার ১৫ শতাংশ হারে কর প্রযোজ্য হবে।

ব্যাংকে সমস্যাগ্রস্ত ঋণ বেড়ে ১১ লাখ কোটি টাকা এক বছরে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বেড়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা

ব্যাংক খাতে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ আরও বেড়েছে। মূলধন ঘাটতি নেমেছে ঋণাত্মক ধারায়। গত বছর রেকর্ড এক লাখ ৭০ হাজার ৫০৩ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতপশিলের পরও বেশির ভাগ সূচকের অবনতি হয়েছে। বছর শেষে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকায়, যা মোট ঋণের ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এক বছরে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বেড়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার ৩৭ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত বার্ষিক আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদন-২০২৫ থেকে এমন তথ্য জানা গেছে।

ব্যাংক খাতের আদায় অনিশ্চিত উচ্চ ঝুঁকির ঋণকে দুর্দশাগ্রস্ত তথা ডিসট্রেস অ্যাসেট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বলতে ব্যাংক খাতের দেখানো মোট খেলাপি ঋণ, পুনঃতপশিল করা ঋণের অনাদায়ী অংশ এবং অবলোপন করে আলাদা করে রাখা অনাদায়ী ঋণ স্থিতির যোগফলকে বোঝানো হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চলমান ৫৫০ কোটি ডলার ঋণের শর্ত মেনে ২০২১ সালের তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রতিবছর এ ধরনের ঋণ বাড়ছে। এর আগে ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে বেড়েছিল ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা।

মূলত এসব ঋণ অনাদায়ী। তবে নানা উপায়ে নিয়মিত দেখানো হতো। কিছু ঋণ অবলোপনের মাধ্যমে ব্যালান্স শিট বা আর্থিক হিসাব বিবরণী থেকে আলাদা রাখা হয়। এ ধরনের ঋণ আদায়ের সম্ভাবনা খুব কম। যে কারণে এসব ঋণকে দুর্দশাগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এ ধরনের ঋণ বৃদ্ধির ফলে ব্যাংক খাতের সামগ্রিক মূলধন ঘাটতি ঋণাত্মক চলে গেছে। ব্যাংকগুলোর মোট ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের যেখানে সাড়ে ১২ শতাংশ ধনাত্মক রাখার কথা, সেখানে উল্টো ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ ঋণাত্মক রয়েছে। আগের বছর শেষেও প্রয়োজনের তুলনায় মূলধন অনেক কম ছিল। তবে তা ছিল ইতিবাচক ৩ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। মূলত ২০টি ব্যাংকের ২ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকার ঘাটতির প্রভাবে পুরো খাত এ পরিস্থিতিতে পড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে ব্যাংক খাতের মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৫ কোটি টাকায়। এর মধ্যে খেলাপি হিসেবে দেখানো হয় ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। পুনঃতপশিলের পর অনাদায়ী রয়েছে ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা। আর অবলোপন করা অনাদায়ী স্থিতি রয়েছে ৮৩ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা। এক বছর আগে মোট ঋণ স্থিতি ছিল ১৭ লাখ ১১ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে পুনঃতপশিল করা অনাদায়ী ঋণ তিন লাখ ৪৮ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত ছিল তিন লাখ ৪৬ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা। এ ছাড়া অবলোপন করে অনাদায়ী ঋণ স্থিতি বেড়ে ২০২৪ সাল শেষে ৬২ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ওই সময় পর্যন্ত বিতরণ করা ঋণের যা ছিল ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা বা ৪৪ দশমিক ২১ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্দশাগ্রস্ত এসব ঋণের বড় অংশই আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সৃষ্ট। তবে ওই সময় এসব ঋণ কৌশলে নিয়মিত দেখানো হতো। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে প্রকৃত চিত্র দেখাতে শুরু করে। এদিকে অনিয়ম-জালিয়াতিতে সম্পৃক্ত প্রভাবশালী ব্যবসায়ী অনেকেই পালিয়েছেন। কেউ কেউ কারাগারে। ব্যবসায়ীদের খুশি করতে ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগ থেকে একের পর এক সুবিধা দেওয়া শুরু হয়। কখনও নামমাত্র ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনঃতপশিল, কখনও ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় ১২ বছরের জন্য ঋণ নবায়ন কিংবা পুনর্গঠন করা হয়। তবে সেসব ঋণের বড় অংশই এখন খেলাপি হওয়ায় পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। অবশ্য অস্বাভাবিক খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পর গত বছর শেষদিকে বিশেষ সুবিধায় ঋণ পুনঃতপশিলের সুযোগ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ব্যাংক খাতের রেকর্ড এক লাখ ৭০ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা পুনঃতপশিল করা হয়। আগের বছর মোট ৮৫ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতপশিল হয়েছিল। ২০২৪ সালে পুনঃতপশিল করা হয়েছিল ৯১ হাজার ২২১ কোটি টাকা। তার আগের বছর পুনঃতপশিল হয় ৬৩ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা। এর আগে ২০২১ সালে যেখানে মাত্র ২৬ হাজার ৮১০ কোটি টাকা পুনঃতপশিল করা হয়। আর ২০২০ সালে পুনঃতপশিলের পরিমাণ ছিল মাত্র ১৯ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা। অবশ্য করোনা মহামারির প্রভাবকে কেন্দ্র করে ২০২০ সালে এক টাকা পরিশোধ না করলেও নিয়মিত দেখানো হয়। ২০২১ সালে কিস্তির মাত্র ১৫ শতাংশ দিলেই নিয়মিত দেখানোর সুযোগ ছিল। যে কারণে ওই দুই বছরে পুনঃতপশিলে তেমন আগ্রহ দেখাননি ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংক খাতের তারল্য পরিস্থিতির ওপর কোনো চাপ নেই। তবে মূলধন ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ ঋণাত্মক হওয়ার মূলে ইসলামী ব্যাংকিং খাত। এ খাতের মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত মারাত্মক কমে নেগেটিভ ৪৩ দশমিক ১৮ শতাংশে নেমেছে। অবশ্য একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংককে হিসাবের বাইরে রাখলে এ খাতের মূলধন পর্যাপ্ততা দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৭১ শতাংশে। ইসলামিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত লিকুইডিটি কাভারেজ রেশিও, নেট স্ট্যাবল ফান্ডিং রেশিও এবং ইনভেস্টমেন্ট-ডিপোজিট রেশিও বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। এ খাতের দুর্বলতা সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকির সৃষ্টি করছে।

মাটির নিচে ফুরিয়ে যাচ্ছে পানি, শুকাচ্ছে বরেন্দ্র বিশ্ব মরুকরণ ও খরা প্রতিরোধ দিবস

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ বরেন্দ্রভূমি ধীরে ধীরে ভয়াবহ পানি সংকটের দিকে যাচ্ছে। যে ভূগর্ভস্থ পানি কয়েক দশক ধরে এই অঞ্চলের কৃষিকে টিকিয়ে রেখেছিল, সেই পানির স্তর এখন দ্রুত নেমে যাচ্ছে। অনেক এলাকায় গভীর নলকূপে আর আগের মতো পানি উঠছে না। কোথাও কোথাও ২০০ ফুটেরও বেশি নিচে নেমে গেছে পানির স্তর।

খাওয়ার পানির জন্য গ্রামবাসীকে শত শত মিটার দূরে যেতে হচ্ছে। সেচের অভাবে অনাবাদি হয়ে পড়ছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। এই পটভূমিতে আজ বুধবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব মরূকরণ ও খরা প্রতিরোধ দিবস।

দ্রুত নামছে পানির স্তর
বরেন্দ্র অঞ্চলে তুলনামূলক কম ও অনিয়মিত বৃষ্টি হয়। কয়েক দশকে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করে কৃষি উৎপাদনে বিপ্লব ঘটেছে। আশির দশক থেকে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) হাজার হাজার গভীর নলকূপ স্থাপন করে। ফলে একসময় খরাপ্রবণ এই অঞ্চলে বোরো ধান, গম, ভুট্টা ও বিভিন্ন সবজির আবাদ শুরু হয়। তবে সেই সাফল্যের পেছনে তৈরি হয়েছে বড় সংকট। অতিরিক্ত পানি উত্তোলন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং বৃষ্টি কমে যাওয়ার কারণে ভূগর্ভস্থ পানি প্রতিস্থাপন হচ্ছে না।

পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ সালে বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির স্তর ছিল ২৬ থেকে ৩০ ফুট নিচে। ১৯৯৪ সালে তা নেমে যায় ৩৫ ফুটে। ২০০৪ সালে ৫১ ফুট এবং ২০১৩ সালে ৬০ ফুটে পৌঁছে। বর্তমানে বহু এলাকায় পানির স্তর ৮০ থেকে ৯০ ফুটেরও নিচে। কোথাও কোথাও ১১৩ ফুটের বেশি খনন করেও পানি মিলছে না।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বরেন্দ্র অঞ্চলের ৮২ শতাংশের বেশি এলাকা পানি সংকটে রয়েছে। উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক, গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশন এবং ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের যৌথ গবেষণায় বলা হয়েছে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দু’দশকের মধ্যে এই অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির মজুত সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছাবে।

পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় সরকার গত বছর রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫ উপজেলার ৪৭টি ইউনিয়নের এক হাজার ৪৬৯টি মৌজাকে ‘অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন’ এলাকা ঘোষণা করে। এ ছাড়া ৮৮৪টি মৌজাকে ‘উচ্চ পানি সংকটাপন্ন’ এবং এক হাজার ২৪০টি মৌজাকে ‘মধ্যম মাত্রার পানি সংকটাপন্ন’ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে। সরকারি হিসাবে এসব এলাকার আয়তন প্রায় দুই হাজার ৭৮৭ বর্গকিলোমিটার। সেখানে প্রায় ২১ লাখ পাঁচ হাজার মানুষ পানি সংকটে ভুগছে। পানি আইন-২০১৩ অনুযায়ী, এসব এলাকায় খাওয়ার পানি ছাড়া অন্য কোনো কাজে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নলকূপ স্থাপনেও আরোপ করা হয়েছে বিধিনিষেধ। বাস্তবে অনেক এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানি তোলা অব্যাহত রয়েছে।

পানি সংকট এখন শুধু কৃষির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বহু গ্রামে নিরাপদ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। রাজশাহীর তানোরের উচ্চাডাঙ্গা গ্রামে শত শত গভীর নলকূপ অচল হয়ে পড়েছে। ডাসকো ফাউন্ডেশন এক হাজার ৪০০ ফুট গভীর পর্যন্ত খনন করেও ওই গ্রামের অনেক জায়গায় পর্যাপ্ত পানির স্তর পায়নি।

বাড়ছে সেচ ব্যয়, কমছে উৎপাদন
পানি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষিতে। রাজশাহীর কৃষানি শব্দরানী বলেন, আগে এক ঘণ্টা সেচের জন্য ৯০ টাকা লাগত, এখন লাগে ১২০ টাকা। সারের দাম বেড়েছে, শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে, তবে ফলন কমেছে।

সরকারি নির্দেশনায় সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৪০০ গভীর নলকূপের অনুমতি থাকলেও বাস্তবে ব্যক্তিমালিকানায় হাজার হাজার শ্যালো ও গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, তিন জেলায় ৬২ হাজার শ্যালো টিউবওয়েল ও প্রায় চার হাজার গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে। এসব নলকূপের পানি তোলার সক্ষমতা প্রায় ২৮ হাজার গভীর নলকূপের সমান।
বাংলাদেশে ব্র্যাকের পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি কর্মসূচির প্রধান মোহাম্মদ আলী বলেন, জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে শুধু নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা বাড়ালেই হবে না। এর জন্য পানিসাশ্রয়ী সেচব্যবস্থা, জলবায়ু সহনশীল ফসল, জলবায়ু সহায়ক কৃষি এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ করতে হবে।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. আবুল কাসেম বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের বড় কারণ ব্যক্তিমালিকানাধীন নলকূপের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, এলাকায় সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৪০০টি নলকূপ থাকার কথা। এর মধ্যে বিএমডিএ পরিচালনা করছে আট হাজার ৪০০টি। তবে ব্যক্তিমালিকানায় পরিচালিত নলকূপের সংখ্যা প্রায় ২৮ হাজারে পৌঁছেছে।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির প্রতিস্থাপন নিশ্চিত করতে আমরা একটি প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে দিয়েছিলাম। বর্তমান সরকার বাস্তবায়ন করলে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

‘বুড়ো’ বয়সের হ্যাটট্রিকে রোনালদোর বিশ্বরেকর্ড ভাঙলেন মেসি

আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার উদ্বোধনী ম্যাচে একাই ৩ গোল করে কানসাস মাতিয়েছেন লিওনেল মেসি। বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের এটিই প্রথম হ্যাটট্রিক। এটি ফুটবল ইতিহাসের পাতা ওলটপালট করে দেওয়া এক মহাকাব্যিক রেকর্ড।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন সবচেয়ে বেশি বয়সী হ্যাটট্রিক করা খেলোয়াড় হলেন মেসি। তার বিশ্বরেকর্ডের আগে ৮ বছর ধরে রেকর্ডটি ছিল পর্তুগাল মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দখলে।

ইতিহাসের এক অদ্ভুত সমীকরণ মিলল আজ ১৬ জুন। ঠিক ৮ বছর আগে, ২০১৮ সালের ১৬ জুন রাশিয়া বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে ৩-৩ গোলে ড্র হওয়া সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৩৩ বছর ১৩০ দিন বয়সে করা রোনালদোর সেই হ্যাটট্রিকটিই ছিল এতদিন বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী ফুটবলারের হ্যাটট্রিক রেকর্ড।

কাকতালীয়ভাবে, ৮ বছর পর ঠিক একই তারিখে আলজেরিয়ার বিপক্ষে সেই রেকর্ড নিজের করে নিলেন এলএমটেন। কানসাসের মাঠে যখন মেসি তার প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিকটি পূর্ণ করলেন, তখন তার বয়স ৩৮ বছর ৩৫৭ দিন! প্রায় ৩৯ ছুঁইছুঁই বয়সে বিশ্বমঞ্চে এমন অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স করে মেসি প্রমাণ করলেন, বয়সটা তাঁর কাছে শুধুই একটা সংখ্যা মাত্র।

ষষ্ঠ বিশ্বকাপে মেসি, আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০০তম ম্যাচ

বিশ্বকাপের মঞ্চে আজ মাঠে নামার সাথে সাথেই ইতিহাসের পাতায় নতুন এক অধ্যায় যোগ করলেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার উদ্বোধনী ম্যাচে নামতেই ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ৬টি ভিন্ন বিশ্বকাপ আসরে অংশ নেওয়ার একক বিশ্বরেকর্ড গড়লেন এলএমটেন। আগামীকাল বুধবার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পর্তুগালের হয়ে মাঠে নামলে তিনিও এই তালিকায় মেসির সঙ্গী হবেন। তবে এই মুহূর্তে অনন্য এই রেকর্ডের একক চূড়ায় বসে আছেন শুধু আর্জেন্টাইন জাদুকরই।

এর আগে ৫টি ভিন্ন বিশ্বকাপে খেলার যৌথ রেকর্ড ছিল মেক্সিকোর আন্দ্রেস গুয়ার্দাদো, আন্তোনিও কারবাহাল, রাফায়েল মার্কেজ এবং জার্মানির কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউসের। আজ তাদের সবাইকে ছাড়িয়ে গেলেন মেসি।

রেকর্ডের খাতা ওখানেই বন্ধ হয়নি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা জার্সিতে লিওনেল মেসির ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ফুটবল ইতিহাসের প্রথম দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলার হিসেবে আন্তর্জাতিক ম্যাচের এই ‘ডাবল সেঞ্চুরি’র কীর্তি গড়লেন তিনি। বিশ্ব ফুটবলে তার ওপরে আছেন কেবল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (২২৮ ম্যাচ) এবং কুয়েতের বাদের আহমেদ আল-মুতাওয়া (২০২ ম্যাচ)।

কাকতালীয়ভাবে, ১৬ জুনের এই দিনটি মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্যও এক আবেগঘন দিন। ঠিক ২০ বছর আগে, ২০০৬ সালের এই ১৬ জুনেই সার্বিয়া ও মন্টেনিগোর বিপক্ষে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে নিজের বিশ্বকাপ অভিষেক ও প্রথম গোল করেছিলেন এই ক্ষুদে জাদুকর। দুই দশক পর হুবহু সেই একই তারিখে দাঁড়িয়ে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড গড়লেন তিনি।

রেকর্ডময় এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি আক্রমণভাগে কিছুটা কৌশলগত পরিবর্তন এনেছেন। ফর্মের তুঙ্গে থাকা হুলিয়ান আলভারেজকে বেঞ্চে রেখে ইন্টার মিলানের ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্টিনেজকে আজ শুরুর একাদশে সুযোগ দিয়েছেন কোচ। আক্রমণভাগের দুই উইংয়ে লিওনেল মেসির সঙ্গে থাকছেন তরুণ প্রতিভাবান থিয়াগো আলমাদা।

মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ থাকবে কাতার বিশ্বকাপজয়ী সেই চেনা ত্রয়ী রদ্রিগো ডি পল, অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টার এবং এনজো ফার্নান্দেজের ওপর। রক্ষণভাগে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। দুই ফুল-ব্যাক পজিশনে গঞ্জালো মন্তিয়েল ও ফাকুন্দো মেদিনা সামলাবেন রক্ষণভাগ। আর গোলপোস্টের নিচে যথারীতি অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে থাকছেন ‘বাজপাখি’ এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।

মেসির শেষ বিশ্বকাপে আবার রাত জাগবে বাংলাদেশ

ফুটবল বিশ্বকাপ চলছে। এই সময়টাতে বাংলাদেশে রাত কখনো শুধু রাত থাকে না। ঘুমন্ত শহরের ভেতরেও তখন টেলিভিশনের আলো জ্বলে। চায়ের কাপে ধোঁয়া ওঠে। যেদিকেই তাকাবেন কোথাও না কোথাও নীল-সাদা পতাকা দেখবেনই। বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলে না কিন্তু বিশ্বকাপ এলে আমরা যেন অন্য এক মানচিত্রে ঢুকে পড়ি। ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার রঙে ভাগ হয়ে যায় পাড়া, পরিবার, বন্ধুমহল, অফিস, ক্যাম্পাস, চায়ের দোকান।

এই বিশ্বকাপে সেই পুরোনো আবেগ আবার ফিরছে। কারণ মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। মাঠে নামছেন লিওনেল মেসি।

আর্জেন্টিনা তাদের বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে। ম্যাচটি হবে ক্যানসাস সিটিতে। ম্যাচের সময় ১৭ জুন ০১:০০ ইউটিসি। বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা। অর্থাৎ এবার আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ দেখতে আমাদের রাতভর জেগে থাকতে হবে না। কিন্তু মেসির বিশ্বকাপ মানেই বাংলাদেশে শুধু ৯০ মিনিটের খেলা নয়। তার আগে রয়েছে অনেক প্রস্তুতি। নতুন জার্সি কেনা, বন্ধুদের সঙ্গে তর্ক, কিছু পুরনো পরিসংখ্যান ঘেঁটে নেওয়া, আগেভাগে সব কাজ সেরে রাখা। এসব মিলেই এক ধরনের রাতজাগা উৎসব। এই উৎসবের কেন্দ্রে একজন মানুষ। লিওনেল আন্দ্রেস মেসি।

কয়েক দিনের মধ্যেই ৩৯ এ পা দেবেন মেসি। বলাই বাহুল্য, ক্যারিয়ারের একেবারে শেষ প্রান্তে রয়েছেন এই ফুটবল জাদুকর। তবে মাঠে মেসির উপস্থিতি এখনো ফুটবলের সবচেয়ে বড় ঘটনাগুলোর একটি। ২০০৬ সালে যে কিশোর মেসিকে বিশ্বকাপ প্রথম দেখেছিল ২০২৬ সালে সেই মানুষটি নামছেন রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে। ফুটবলে আরো অনেক তারকা আছে। কিন্তু একজন ফুটবলারের সাথে ভক্তদের এমন দীর্ঘ আবেগের সম্পর্কের উদাহরণ খুব কম। বাংলাদেশের ভক্তদের সাথে মেসির সম্পর্কটা আরো প্রগাঢ়। সেটা কেবল ফুটবলীয় নয়- ব্যক্তিগতও বটে।

আমাদের অনেকেই বেড়ে উঠেছি মেসিকে দেখে। রাতের পর রাত কেটেছে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল তর্ক করে। প্রথম বেতন দিয়ে কিনেছি মেসির জার্সি। বাংলাদেশে মেসি শুধু একজন ফুটবলার নন, মেসি আমাদের জীবনের সাথে মিশে থাকা একটা নাম যার সাথে আমরা বড় হয়েছি।

২০১৪ সালের মারাকানার কান্না বাংলাদেশের অনেক ঘরে পৌঁছেছিল। সেদিন জার্মানির কাছে হেরে মেসি ট্রফির পাশ দিয়ে হেঁটে গিয়েছিলেন। সেই ছবি যেন এক অসম্পূর্ণ কবিতার মতো থেকে গিয়েছিল কোটি মানুষের স্মৃতিতে। তারপর এল ২০২২। কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে ফ্রান্সের বিপক্ষে সেই অবিশ্বাস্য ফাইনাল। ৩-৩, টাইব্রেকার, এমিলিয়ানো মার্তিনেজের সেভ, আর শেষে মেসির হাতে বিশ্বকাপ। যে মানুষটি প্রায় দুই দশক ধরে অপেক্ষা করছিলেন, তিনিই অবশেষে ট্রফি তুললেন। সেদিনও আমরা কেঁদেছি। এবার আনন্দে। বাংলাদেশে তখন রাত ছিল না, দিন ছিল না- ছিল শুধু নীল-সাদা আনন্দ।

কিন্তু এবার ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের আবেগ একটু আলাদা। এবার আর্জেন্টিনা শুধু বিশ্বকাপ খেলছে না তারা শিরোপা রক্ষার মিশনে নেমেছে। ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর আর কোনো দল টানা দুইবার পুরুষদের বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। আর্জেন্টিনার সামনে তাই ইতিহাসের কঠিন দরজা। স্কালোনির দল ২০২২ সালের অনেক চেনা মুখ নিয়েই এসেছে। মেসি, এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, রোমেরো, দে পল, এনজো ফার্নান্দেজ, ম্যাক অ্যালিস্টার, লাউতারো মার্তিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজরা আছেন। আবার নতুন প্রজন্মের কয়েকজনও আছে যারা হয়তো মেসির পরের আর্জেন্টিনার গল্প লিখবে। তবে বাংলাদেশের চোখ থাকবে মেসিতে।

কারণ মেসি যখন বল পায়ে নেন তখন ফুটবলটা কিছুক্ষণের জন্য ধীর হয়ে যায়। তিনি সব সময় দৌড়ে ম্যাচ জেতান না। তিনি কখনো হাঁটেন, কখনো দেখেন, কখনো অপেক্ষা করেন। তারপর হঠাৎ বলটা পেয়ে যান। এরপরই নেন একটা টার্ন, চোখের পলকে ফাঁক গলে বের হয়ে যান। বাম পায়ের স্পর্শে পুরো মাঠের মানে বদলে দেন। নতুন প্রজন্মের ফুটবলাররা অনেক গতি দিয়ে খেলেন। অনেক শক্তি দিয়ে খেলেন। কিন্তু মেসির খেলায় এখনো একটা পুরনো দিনের শিল্প আছে। তিনি যেন ফুটবলের শেষ বড় কবিদের একজন।

বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা-ভালোবাসার ইতিহাসও দীর্ঘ। ডিয়েগো ম্যারাডোনার ১৯৮৬ বিশ্বকাপ এই দেশে আর্জেন্টিনা-আবেগের বড় ভিত্তি তৈরি করেছিল। তারপর মেসি সেই আবেগকে নতুন প্রজন্মের কাছে নিয়ে এসেছেন। ২০১১ সালে আর্জেন্টিনা যখন নাইজেরিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলতে ঢাকায় আসে মেসিকে দেখার জন্য বাংলাদেশে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল তা এখনো অনেকের স্মৃতিতে আছে। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা-সমর্থকদের ছবি ও ভিডিও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভালোবাসা এতটাই আলোচিত হয় যে ৪৫ বছর পর ঢাকায় আবার আর্জেন্টিনার দূতাবাস চালু হওয়ার ঘটনাতেও এই ফুটবল-আবেগকে একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এটাই বাংলাদেশের সৌন্দর্য। এখানে মেসি কখনো শুধু আর্জেন্টিনার অধিনায়ক নন। তিনি রংপুরের কোনো চায়ের দোকানের পোস্টার, পুরান ঢাকার কোনো ছাদের পতাকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের রাতজাগা আড্ডা, ছোট্ট শিশুর নীল-সাদা জার্সি, আর অফিস শেষে ক্লান্ত মানুষের ভোরবেলার অপেক্ষা।

এই বিশ্বকাপ হয়তো মেসির শেষ বিশ্বকাপ। হয়তো নয়। ফুটবল কখনো নিশ্চিত কথা বলে না। কিন্তু বয়স, সময়, শরীর, ইতিহাস- সব মিলিয়ে আমরা জানি এবারের বিশ্বকাপই হয়তো মেসির শেষ বিশ্বকাপ। ২০২২ সালের মেসিকে আমরা দেখেছিলাম পূর্ণতার পথে। ২০২৬ সালের মেসিকে আমরা দেখছি বিদায়ের আলোয় দাঁড়িয়ে। তিনি জিতবেন নাকি জিতবেন না, গোল পাবেন নাকি পাবেন না, আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ধরে রাখতে পারবে কিনা এসব প্রশ্নের উত্তর সময় দেবে। কিন্তু একটা বিষয় নিশ্চিত- বাংলাদেশ আবার মেসির জন্য অপেক্ষা করবে।

কারণ মেসি আমাদের অনেক রাত জাগিয়েছেন। অনেক হতাশা দিয়েছেন। অসম্ভব আনন্দও দিয়েছেন। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন বারবার হারলেও গল্প শেষ হয় না। ২০১৪ সালের কান্না ২০২২ সালের হাসিতে বদলে যেতে পারে। নীরব স্বভাব আর অল্প কথার মানুষও পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মঞ্চে সবচেয়ে বড় উত্তর দিতে পারেন। মেসির ক্যারিয়ারটা তাই কেবল প্রতিভার গল্প নয়। মেসির গল্পটা অপেক্ষা, ধৈর্য, বিনয় আর অসম্পূর্ণতাকে পূর্ণ করার।

বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ কখনো বুয়েনস আইরেস দেখেনি। রোসারিওর পথ চেনে না। আর্জেন্টিনার ভাষা জানে না। তবু মেসি গোল করলে এই দেশে মানুষ চিৎকার করে ওঠে। আর্জেন্টিনা হারলে আমাদেরও মন খারাপ হয়। মেসি হাঁটলে কেউ ভাবে তিনি ক্লান্ত কি না। মেসি হাসলে মনে হয় নিজের ঘরের কেউ ভালো আছে।

এই অনুভূতির কোনো নাম নেই। কোনো মানে নেই।

তাই আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি শুধু এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ নয়। এটি বাংলাদেশের মেসি-অধ্যায়ের আরেকটি সকাল। রাতভর না জাগলেও, আবেগে জেগে থাকবে বাংলাদেশ। কেউ রাস্তার পাশের দোকানে চা বানাবে। কেউ অফিসে যাওয়ার আগে টিভি খুলবে। কেউ মোবাইলে লাইভ স্কোর দেখবে। কেউ পুরোনো জার্সি পরে বসবে। আর যখন মেসি মাঠে নামবেন তখন সবার চোখ থাকবে আমেরিকার ক্যানসাস সিটি স্টেডিয়ামে।

ফুটবল শেষ পর্যন্ত গোলের খেলা। কিন্তু মেসির ক্ষেত্রে ফুটবল শুধু গোলের খেলা নয়। এটা আমাদের আবেগ। আমাদের বড় হয়ে ওঠার ছবি। যে প্রজন্ম মেসিকে দেখে বড় হয়েছে তারা এবার হয়তো মেসিকে শেষবারের মতো বিশ্বকাপে দেখবে। সেই দেখার মধ্যে আনন্দ আছে, ভয় আছে, নস্টালজিয়া আছে আর আছে এক গভীর ভালোবাসা।

প্রিয় মেসি, আপনি হয়তো জানেন না যে, আর্জেন্টিনা ছাড়াও হাজার মাইলের দুরত্বে একটা দেশ আছে, সেখানে আপনার জন্য মানুষ আবারও অপেক্ষা করছে। আপনার এক পাসের জন্য। এক হাসির জন্য। বলটা আপনার পায়ের ছোঁয়ার জন্য। এই বিশ্বকাপ যদি সত্যিই আপনার শেষ হয় তাহলে বাংলাদেশ আপনাকে শুধু বিদায় দেবে না। বাংলাদেশ আপনাকে মনে রাখবে অনেক রাতজাগা গল্পে। চোখের জল, চায়ের কাপ আর অসংখ্য অসমাপ্ত গল্পের ভেতর দিয়ে।

আপনার শেষ বিশ্বকাপে তাই আবার জেগে উঠবে বাংলাদেশ।