Home Blog Page 96

ঘোড়াশালে কারখানা উদ্বোধন সব ধরনের এক্সেসরিজ তৈরি হবে হা-মীম গ্রুপের কারখানায় কর্মসংস্থান হবে ১৫ হাজার মানুষের

বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে লিড টাইম। ব্র্যান্ড-ক্রেতাদের কাছ থেকে রপ্তানি আদেশ পাওয়ার পর দেশীয় উৎস থেকে সংগ্রহ কিংবা বিদেশ থেকে কাঁচামাল এনে পণ্য উৎপাদন করে তাদের শোর রুমে পণ্য পৌঁছানো পর্যন্ত অনেক সময় লাগে। পোশাক উৎপাদনে প্রধান কাঁচামাল ফেব্রিক্স তুলনামূলক সহজলভ্য হলেও সব এক্সেসরিজ এখনও সহজলভ্য নয়। ছোট একটি এক্সেসরিজের জন্য লম্বা সময় অপেক্ষা করতে হয়। এতে ছোট প্রয়োজনেও লিড টাইমও বেড়ে যায়। এ সংকট কাটাতে তৈরি পোশাক খাতের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান হা-মীম গ্রুপ সব ধরনের এক্সেসরিজ নিজেরাই উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে।

গতকাল সোমবার নরসিংদীর ঘোড়াশালে ‘হা-মীম চিং থাই পকেটিং অ্যান্ড এক্সেসরিজ’ নামে নতুন এক্সেসরিজ কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. কে. আজাদ। এ সময় কয়েকটি ব্র্যান্ড-ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নতুন কারখানায় অন্তত ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

অনুষ্ঠানে এ. কে. আজাদ বলেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চীন থেকে এক্সেসরিজ এনে পোশাক উৎপাদন করতে হয়। এতে লিড টাইম বেড়ে যায়। এ সংকট কাটাতে চিং থাইয়ের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে চীনা প্রযুক্তি এবং অত্যাধুনিক মেশিনে এক্সেসরিজ উৎপাদনের কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে। এখানকার এক্সেসরিজ হা-মীম গ্রুপের বিভিন্ন কারখানার চাহিদামতো সরবরাহ করার পাশাপাশি রপ্তানিও করা হবে। ফলে একদিকে যেমন লিড টাইম কমিয়ে আনার বড় সুবিধা পাওয়া যাবে, অন্যদিকে আমদানি বাবদ ডলার ব্যয় হবে না এবং এক্সেসরিজ রপ্তানি থেকে ডলার আসবে দেশে।
তিনি জানান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎসহ অন্যান্য অবকাঠামো সুবিধা পাওয়া গেলে তৈরি পোশাকের কাঁচামাল উৎপাদন থেকে চূড়ান্ত পণ্য পর্যন্ত সব ধরনের পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে হা-মীম গ্রুপের। তিনি বলেন, ‘আমার কাজই হচ্ছে বন্ধ কারখানা সচল করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। এক সময় বন্ধ থাকা টঙ্গীর নিশাত জুট মিল এবং কালীগঞ্জ মসলিন কটন মিলস হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনায় উৎপাদনে ফিরেছে।’

বাংলাদেশের পোশাকের দ্বিতীয় প্রধান আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান স্পেনভিত্তিক ইনডিটেক্সের কান্ট্রি ম্যানেজার হাভিয়ের সান্তোজা ওলমেদো বলেন, হা-মীমের এ উদ্যোগ থেকে সব পক্ষ উপকৃত হবে। স্থানীয়ভাবে মানসম্পন্ন এক্সেসরিজ উৎপাদন ও সরবরাহ করার ফলে লিড টাইমের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে সহায়ক হবে। ব্র্যান্ড-ক্রেতারা রপ্তানি আদেশ দিতে এখন স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে। এ দেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি বাড়বে। অন্যান্য ক্রেতা প্রতিনিধিরা এ ধরনের উদ্যোগের আরও সম্প্রসারণের পরামর্শ দেন।

জানা গেছে, নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালে ৫২ একর জায়গাজুড়ে ‘ফৌজিয়া চটকল’ নামে ব্যক্তি খাতের একটি পাটকল পাটের ব্যাগ উৎপাদন করত। লোকসানে পড়ে দীর্ঘ দিন যা বন্ধ ছিল। ২০১৪ সালে হা-মীম গ্রুপ কারখানাটি কিনে নেয়। পুরোনো শ্রমিকদের বকেয়া বেতনসহ সব পাওনা পরিশোধ করে হা-মীম গ্রুপ। প্রাথমিকভাবে ৬ একর জায়গায় নতুন কারখানাটি গড়ে তোলা হয়েছে। এতে চীনা চিন থাইয়ের ২৫ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে। প্রতি মাসে উৎপাদন হবে ৬ থেকে ৭ লাখ গজ কাপড়। পূর্ণ মাত্রায় উৎপাদনে আসলে উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে ২০ লাখ গজ। বিনিয়োগের পরিমাণ শুরুতে ১০০ কোটি টাকা। পর্যায়ক্রমে সব ধরনের এক্সেসরিজ উৎপাদন করা হবে। কয়েকজন পুরোনো শ্রমিক সমকালকে জানান, কারখানাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রধান সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী, হা-মীম টেক্সটাইল জোনের প্রধান নির্বাহী (সিইও) মুহাম্মদ আমিন, হা-মীম গ্রুপের এক্সেসরিজ বিভাগের প্রধান এ কে এম মাহফুজুল হক, গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক নিতীশ চন্দ্র শিকদার প্রমুখ।

বিনিয়োগ বাড়াতে কর কাঠামো আরও যৌক্তিক হওয়া দরকার অ্যামচ্যামের মতবিনিময় সভায় বক্তারা

এবারের বাজেটে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ রয়েছে। তবে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়াতে এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নে কর কাঠামো আরও যৌক্তিক হওয়া দরকার।
আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) আয়োজিত প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর এক মতবিনিময় সভায় এমন মত এসেছে।

রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির জন্য আস্থা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা গঠন’ শিরোনামের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্যে অ্যামচ্যামের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বাজেট নিয়ে অ্যামচ্যামের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি পুনর্ব্যবহৃত তুলার ওপর ভ্যাট অব্যাহতি, স্টার্টআপ ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানের জন্য শূন্য টার্নওভার ট্যাক্স সুবিধা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কর অব্যাহতি ও রিবেটের মতো উদ্যোগকে স্বাগত জানান। এসব ইতিবাচক পদক্ষেপের প্রশংসা করলেও তিনি উল্লেখ করেন, ব্যবসায়ী মহলের কিছু উদ্বেগ এখনও রয়ে গেছে এবং বিনিয়োগ, ব্যবসায় সম্প্রসারণ ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তার জন্য কর কাঠামোর আরও যৌক্তিকীকরণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম. মাসরুর রিয়াজ বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট ব্যবসায়ের ওপর চাপ কমানো, বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে বাজেটটি বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক বার্তা দেয়। তবে বাজেটের লক্ষ্য বাস্তবায়নে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে, যার মধ্যে রয়েছে উচ্চাভিলাষী ৬.৫% জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য, রাজস্ব আহরণে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি, স্থায়ী মুদ্রাস্ফীতির চাপ এবং ব্যাংকিং ও জ্বালানি খাতের দুর্বলতা।
প্যানেল আলোচনায় গবেষণা সংস্থা সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাজেটের আকার নিয়ে কথা হচ্ছে। বাজেট বড় হওয়ারই কথা। কারণ, এই সরকারের জনগণের প্রতি অনেক প্রতিশ্রুতি ছিল। তাই এটি সম্প্রসারণমূলক বাজেট। কিন্তু অর্থায়ন বড় চ্যালেঞ্জ।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসের এজাজ বিজয় বলেন, ব্যাংকের একটি বড় অংশ দুর্বল অবস্থায় আছে। তারল্য সংকট রয়েছে। তাই ব্যাংক ঋণ নির্ভরতা বাড়লে বেসরকারি খাতে ঋণ সংকট হতে পারে।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী বলেন, বাজেটে ব্যবসা সহজ করার উদ্যোগ ছিল। তবে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে আরও মনোযোগ দেওয়ার দরকার ছিল। কৃষিতে সেভাবে বরাদ্দ বাড়েনি। তবে এই সরকার আগের যে কোনো সরকার থেকে ব্যবসায়ীদের কথা বেশি শুনেছে।
প্যানেল আলোচনা সঞ্চালনা করেন অ্যামচ্যামের সহসভাপতি ও মেটলাইফ বাংলাদেশের সিইও আলা উদ্দিন আহমদ। সমাপনী বক্তব্য দেন সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ ও ফিলিপ মরিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের এমডি রেজা উর রহমান মাহমুদ।

ইরানের সঙ্গে চুক্তি সই হয়ে গেছে, শিগগিরই প্রকাশ করা হবে: ট্রাম্প

যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ইতিমধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার এ ঘোষণা দেওয়ার পরপরই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি তুলেছেন তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা।

জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে সোমবার ফ্রান্সে পৌঁছে ট্রাম্প বলেন, সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিও আংশিকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে।

আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় চুক্তিটির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। জি-৭ সম্মেলনের ভেন্যু ফ্রান্সের আল্পস অঞ্চলের পর্যটন শহর এভিয়ান-লে-বেঁ থেকে জেনেভার দূরত্ব প্রায় এক ঘণ্টার পথ।

চুক্তির নথি কবে প্রকাশ করা হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘সম্ভবত খুব শিগগিরই। শুক্রবারের পর কোনো এক সময় এটি প্রকাশ করা হতে পারে। আমার ধারণা, খুব নিকট ভবিষ্যতেই সবাই চুক্তির বিস্তারিত জানতে পারবে।’

এদিকে মার্কিন সিনেটে ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা চাক শুমার ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে চুক্তির পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ এবং কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার দাবি জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘মার্কিন জনগণের জানার অধিকার রয়েছে এই সমঝোতায় কী রয়েছে। আমাদের সেনারা এখনো ঝুঁকির মধ্যে থাকবেন কি না এবং এই যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্র আসলে কী অর্জন করেছে-সেসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।’

চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও মাঠের পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি শান্ত হয়নি। সোমবার লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ার নাজুক অবস্থারই ইঙ্গিত।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল। তবে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক আলোচনায় ওয়াশিংটন ইসরায়েলের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য কোনো পরামর্শ করেনি বলে জানা গেছে। ইরানের ওপর হামলার পর ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এরপর থেকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল এবং রাজধানী বৈরুতসহ বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে ইসরায়েল।

তেহরানের দাবি, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ করা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার অন্যতম মৌলিক শর্ত। তবে ইসরায়েল এ অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে বলছে, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।

অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি চুক্তির শর্তের মধ্যে নেই। তার ভাষ্য, এটি মূলত একটি পারস্পরিক যুদ্ধবিরতি, কোনো একতরফা সমঝোতা নয়।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ইরান যদি হিজবুল্লাহকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয় এবং সংগঠনটি ইসরায়েলের ভূখণ্ড বা সামরিক অবস্থানে হামলা চালায়, তাহলে আত্মরক্ষা ও পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার ইসরায়েলের থাকবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের বি-৫২ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৮

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বিমানবাহিনীর একটি বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেস বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আটজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর দুর্ঘটনাটি ঘটে।

বিমানঘাঁটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ২০ মিনিটের দিকে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়, যা কয়েক মাইল দূর থেকেও স্পষ্ট ছিল।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়মিত পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের অংশ হিসেবে বিমানটি আকাশে উঠেছিল। বিধ্বস্ত হওয়ার সময় এতে সামরিক সদস্যদের পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা ও বেসামরিক ঠিকাদাররাও ছিলেন। এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটি লস অ্যাঞ্জেলস শহর থেকে প্রায় ৯৫ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।

কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার পরপরই জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তদন্ত ও উদ্ধারকাজ চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে পরে আরও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার কিছু সময় পরও বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছিল। বোয়িং নির্মিত বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেস যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম দীর্ঘপাল্লার কৌশলগত বোমারু বিমান। ১৯৫০-এর দশক থেকে এটি মার্কিন বিমানবাহিনীর বহরে রয়েছে। বিশাল আকৃতির এই বিমানের ডাকনাম ‘দ্য বাফ’, যা ‘বিগ আগলি ফ্যাট ফেলো’ নামের সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে এই ধরনের বোমারু বিমান ব্যবহার করেছিল মার্কিন বাহিনী।

বি-৫২ প্রায় ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়তে সক্ষম এবং ৭০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত সমরাস্ত্র বহন করতে পারে। এতে শতাধিক প্রচলিত বোমা কিংবা ৩২টি পারমাণবিক অস্ত্রবাহী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতা রয়েছে। এ ছাড়া আকাশে উড্ডয়নরত অবস্থাতেই এতে জ্বালানি ভরা যায়, ফলে বিশ্বের প্রায় যেকোনো স্থানে দীর্ঘপাল্লার অভিযান পরিচালনা করতে পারে বিমানটি। স্নায়ুযুদ্ধের সময় এটি যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক প্রতিরোধ কৌশলের অন্যতম প্রধান অংশ ছিল।

সাধারণত একটি বি-৫২ বোমারু বিমানে পাঁচজন ক্রু দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের মধ্যে থাকেন একজন কমান্ডার, একজন পাইলট, একজন রাডার নেভিগেটর, একজন নেভিগেটর এবং একজন ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার কর্মকর্তা।

লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহর অনুষ্ঠানে ডিম নিক্ষেপ, আওয়ামী লীগ নেতাসহ আটক ৩

লন্ডনে জুলাই অভ্যুত্থানের নেতা ও এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর অনুষ্ঠান ঘিরে উত্তেজনা ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখার নেতা-কর্মীরা হাসনাত আবদুল্লাহ ও তার সঙ্গীদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করার ঘটনাও ঘটেছে।

সোমবার পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল ও এলেম পার্ক এলাকায় পৃথক দুটি স্থানে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতাসহ অন্তত তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

মায়েদা ব্যাঙ্কুয়েটিং হলে হট্টগোল ও ডিম নিক্ষেপ 

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইউকে অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল এলাকার ইস্ট লন্ডন মসজিদ-সংলগ্ন মায়েদা ব্যাঙ্কুয়েটিং হলে (মায়েদা গ্রিল রেস্টুরেন্ট) এক সভার আয়োজন করা হয়। জুলাই আন্দোলনের এক সেমিনারে যোগ দিতে লন্ডনে অবস্থানরত এনসিপির দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন।

হাসনাত আবদুল্লাহর আসার খবরে বিকেল থেকেই ভেন্যুর বাইরে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। অন্যদিকে এনসিপির সমর্থকরাও অনুষ্ঠানস্থলের সামনে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয় এবং এনসিপি কর্মীদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠানটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে হাসনাত আবদুল্লাহ অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান রাত ৯টার দিকে। কয়েক ডজন পুলিশের কঠোর পাহারায় দৌড়ে বিকল্প একটি দরজা দিয়ে রেস্তোরাঁর ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে মারলে তিনি দ্রুত ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে অনুষ্ঠান শেষেও তিনি পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই স্থান ত্যাগ করেন।

আওয়ামী লীগ নেতাসহ আটক ৩

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির একপর্যায়ে পুলিশ তিনজনকে আটক করে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে লন্ডন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফসার খান সাদেক রয়েছেন।

এলেম পার্কে ধাওয়া ও হাতাহাতি

এর আগে সোমবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পূর্ব লন্ডনের রমফোর্ড এলাকার এলেম পার্কে হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে এক দফা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হাসনাত আবদুল্লাহ ও তার সহযোগীরা পার্ক এলাকায় হাঁটার সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের অনুসরণ করে বিভিন্ন মন্তব্য করতে থাকেন।

সেখানেও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে মারা হয়। এতে এনসিপির কেন্দ্রীয় এক নেতার গায়ে ডিম লাগে। এরপর তার সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে উপস্থিত লোকজন পরিস্থিতি শান্ত করেন।

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ

মাসকান্দা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে শতাধিক অবৈধ দোকান ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন। তবে কোনো নোটিশ ছাড়া উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে প্রায় দুই ঘণ্টা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন জেলা মোটর ওয়ার্কশপ মেকানিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের আশ্বাসে বিকেল ৫টার দিকে অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।

জানা গেছে, মাসকান্দা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ভেতরে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে অন্তত শতাধিক দোকান নির্মাণ করে জায়গা দখল করে রেখেছিল। এ ছাড়া মাসকান্দা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশেও বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে অভিযান শুরু করেন। খননযন্ত্র ব্যবহার করে পাকা ও আধাপাকা অবৈধ স্থাপনা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযানকালে ময়মনসিংহ জেলা মোটর ওয়ার্কশপ মেকানিক ইউনিয়নের কার্যালয়ের একাংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েন শ্রমিকরা। দুপুর ৩টার দিকে জেলা মোটর মেকানিক সমিতির নেতাকর্মী ও শ্রমিকরা লাঠিসোটা নিয়ে বাইপাস এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে সড়কের দুই পাশে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।

সমিতির সাবেক সহসভাপতি জুলহাস উদ্দিন অভিযোগ করেন, কোনো নোটিশ ছাড়াই তাদের সমিতির কার্যালয়ের একাংশ গুঁড়িয়ে দিয়েছে। অন্যায়ভাবে এই উচ্ছেদ করায় মহাসড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হয়েছেন তারা।
জেলা ট্রাফিক পরিদর্শক গোলাম মওলা জানান, উচ্ছেদের প্রতিবাদে শ্রমিকরা ঢাকা বাইপাস এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিকেল ৫টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে।
সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান সরকার রোকন বলেন, বাসস্ট্যান্ডের ভেতরে অবৈধভাবে জায়গা দখল করে রাখা হয়েছিল। এসব স্থাপনার কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। জনস্বার্থেই সেগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে।

জামালপুর ও টাঙ্গাইল রাশিয়ায় ৫ বাংলাদেশি নিখোঁজ, মৃত্যুর খবরে পরিবারে উদ্বেগ

উন্নত জীবনের আশায় রাশিয়ায় গিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার পাঁচ যুবক। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও রেকর্ডকে কেন্দ্র করে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় তাদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছে। তবে নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে এই মৃত্যুর খবর এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পরিবারগুলোতে চলছে চরম উৎকণ্ঠা ও আহাজারি।

এদিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কত বাংলাদেশি মারা গেছে, তার প্রকৃত সংখ্যা জানা যায়নি। তবে গত মার্চ মাসে ফর্টিফাই রাইটস ও ট্রুথ হাউন্ডস নামে দুটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন জানায়, এ পর্যন্ত ১০৪ বাংলাদেশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িয়েছে। আর এই যুদ্ধে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে ৩৪ বাংলাদেশি। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি।

এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে গিয়ে এ পর্যন্ত ৩৭ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। সর্বশেষ জামালপুরের মাদারগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার পাঁচজন নিহতের তথ্য যুক্ত করলে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৪২-এ।

মাদারগঞ্জে দুই পরিবারে আহাজারি 
মাদারগঞ্জ উপজেলার নিখোঁজ দুই যুবক হলেন– চরগুজামানিকা গ্রামের বানু মিয়ার ছেলে মাফুল ওরফে মফিজ (২৩) ও রায়েরছড়া গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে আরিফ হোসাইন (৩০)। গত ৭ মে তারা রাজমিস্ত্রি ও ইলেকট্রিশিয়ানের কাজের উদ্দেশ্যে রাশিয়ায় যান।

মাদারগঞ্জের স্থানীয় দালাল আমিনুর ইসলাম সুজার মাধ্যমে ১৬ লাখ টাকা চুক্তি করে আরিফকে এবং চাঁদেরপুরের এক দালালের মাধ্যমে মাফুলকে পাঠানো হয়েছিল।

পরিবারের দাবি, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর দালালচক্র তাদের রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেয়। গত ২৯ মে থেকে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।

নিখোঁজ আরিফের বাবা তারা মিয়া বলেন, ১৬ লাখ টাকা দিয়ে ইলেকট্রিশিয়ানের কাজের জন্য ছেলেকে রাশিয়ায় পাঠিয়েছিলাম। গত ২৯ মে শেষ কথা হলে আরিফ বলেছিল– দালালচক্র তাদের বিক্রি করে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাচ্ছে। এরপর থেকে তার মোবাইল বন্ধ।

মাফুলের মা মাহফুজা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে রাজমিস্ত্রি খাটার জন্য বিদেশে গেছিল, এখন শুনতাছি ড্রোন হামলায় মারা গেছে। আমি আমার ছেলেকে ফেরত চাই, তা না হলে তার লাশ চাই। আর যারা আমার ছেলেকে প্রতারণা করে পাঠাইছে, তাদের বিচার চাই।’

জানতে চাইলে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, ‘বৈধ পন্থায় না গিয়ে স্থানীয় দালালের মাধ্যমে এভাবে যাওয়া ঠিক হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত আবেদন করলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।

গোপালপুরে তিন পরিবারে উৎকণ্ঠা
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার তিন যুবককে বেশি বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে গত ৭ মে কনস্ট্রাকশন ভিসায় রাশিয়ায় পাঠায়

রাজধানীর নিকুঞ্জ-২ এলাকার ‘জাবাল ই নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামের একটি এজেন্সি। নিখোঁজ তিন যুবক হলেন– উপজেলার দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামের আমিনুল ইসলাম, মজিদপুর গ্রামের পবিত্র চন্দ্র এবং বীর নলহরা গ্রামের নজরুল ইসলাম।

সম্প্রতি ফেসবুকে একটি কল রেকর্ড ভাইরাল হয়। সেখানে দাবি করা হয়, তাদের গ্রুপে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন ছাড়া বাকিরা যুদ্ধে মারা গেছেন।

নিখোঁজ নজরুল ইসলামের স্ত্রী আছমা বেগম বলেন, ঈদের রাতে তিনি ফোন করে বলেছিলেন– পাঁচজনের গ্রুপ করে যুদ্ধে পাঠানো হয়েছে। বাঁচব কি মরব জানি না।

পবিত্রের বাবা পরেশ চন্দ্র সূত্রধর বলেন, ‘গত ২৯ মে ছেলে ফোন দিয়ে বলেছিল– আমাদের জোর করে যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে। জীবিত দেখতে চাইলে দ্রুত দূতাবাসে যোগাযোগ করে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করো। না হলে আমরা ড্রোন হামলায় মারা যাব।’
গোপালপুর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, সামাজিক মাধ্যমে এ রকম একটি খবর শুনেছি। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের কেউ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। মৃত্যুর বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি।

গোপালপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নবাব আলী বলেন, তাদের মৃত্যুর বিষয় নিয়ে সরকারের কোনো বিভাগ থেকে আমাদের জানানো হয়নি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ড্রয়ে শেষ ইরান-নিউজিল্যান্ড থ্রিলার

আক্রমণ আর প্রতি-আক্রমণে ঠাসা এক থ্রিলার ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে ইরান। নিউজিল্যান্ডের হয়ে ওল্ড ব্লাকসদের স্বপ্ন দেখান জোড়া গোল করা ফরোয়ার্ড এলিজা জাস্ট। আর ইরানকে দুইবারই সমতায় ফেরান রামিন রেজাইয়ান ও মোহাম্মদ মোহেবি। বিশ্বকাপে এটি নিউজিল্যান্ডের প্রথম পয়েন্ট। এর আগে দুবার বিশ্বকাপে খেললেও ৬ ম্যাচের প্রতিটিতে হেরেছিল।

লস অ্যাঞ্জেলসের সোফাই স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই ছিল আক্রমণাত্মক। তবে ম্যাচের ৭ম মিনিটেই ইরানকে স্তব্ধ করে দেয় নিউজিল্যান্ড। দলগত আক্রমণ থেকে ক্রিস উডের পাস ধরে সারপ্রীত সিং বল বাড়িয়ে দেন বক্সে। সেখান থেকে লক্ষ্যভেদ করে নিউজিল্যান্ডকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন এলিজা জাস্ট।

পিছিয়ে পড়ে গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে ইরান। ২৩ মিনিটে ভাগ্য সহায় না থাকায় সমতায় ফেরা হয়নি তাদের। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে মেহদি তারেমির নেওয়া জোরালো শটটি গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে ৩২ মিনিটে আর ভুল হয়নি। নিউজিল্যান্ডের বক্সের ভেতর জটলার সৃষ্টি হলে রামিন রেজাইয়ান দারুণ এক শটে বল জালে জড়িয়ে ইরানকে ১-১ সমতায় ফেরান। প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে ইরান আরও একবার নিউজিল্যান্ডের জালে বল পাঠালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়।

বিরতি থেকে ফিরে আবারও ইরানকে চেপে ধরে নিউজিল্যান্ড। ৫৫ মিনিটে মাঝমাঠে বল হারিয়ে বিপদে পড়ে ইরান। কিউই অধিনায়ক ক্রিস উডের পাস থেকে বল পেয়ে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন এলিজা জাস্ট। এই জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে বড় জয়ের স্বপ্ন দেখতে থাকে ওশেনিয়ার প্রতিনিধিরা।

তবে নিউজিল্যান্ডের সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি ইরান। গোল হজমের ঠিক ৯ মিনিট পর ৬৪ মিনিটে রামিন রেজাইয়ানের ক্রসে বুলেট গতির হেডে সমতায় আনেন মোহাম্মদ মোহেবি। ম্যাচের শেষ ২০ মিনিটে জয় পেতে অলআউট আক্রমণে যায় দুই দলই। ৮০ মিনিটে তারকা স্ট্রাইকার মেহদি তারেমিকে তুলে নিয়ে রক্ষণাত্মক কৌশল নেন ইরানি কোচ। যোগ করা অতিরিক্ত ৫ মিনিটে আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-২ ব্যবধানের এক রোমাঞ্চকর ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুদল।

গ্রুপ জি এর দুই ম্যাচই ড্র হয়। এই গ্রুপে প্রথম ম্যাচে মিশরের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিলো বেলজিয়াম। চার দলের পয়েন্ট সমান হলেও গোল বেশি করায় নিউজিল্যান্ড ও ইরান যথাক্রমে গ্রুপের এক ও দুইয়ে রয়েছে।

অর্থের অভাবে সঙ্গে আনতে পারেননি মাকে, কাঁদলেন ভোজিনহা

আটলান্টায় স্পেনের আক্রমণভাগকে একাই রুখে দেন কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী বুড়ো গোলরক্ষক ভোজিনহা। বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়েছেন গোলবারের নিচে অতন্দ্রপ্রহরী হয়ে। বিশ্বকাপে অভিষেক আসরে এমন অর্জনের পর দু’হাত দিয়ে মুখ ঢেকে কান্না করেছিলেন ভোজিনহা। ঐতিহাসিক মুহূর্তে পাশে ছিলেন না মা, তাইতো কেপ ভার্দের এই নায়কের কান্না। জানালেন, অর্থের অভাবে সঙ্গে আনতে পারেননি মাকে।

ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে এসে যখন কথা বলছিলেন, তখন চোখ জোড়া তখনও ভেজা ভোজিনহার। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ম্যাচের পর আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি, কেঁদে ফেলেছিলাম। ছোটবেলায় আমি আমার দাদা-দাদির কাছে বড় হয়েছি, কিন্তু আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে তারা আমার পাশে নেই, কয়েক বছর আগে তারা মারা গেছেন। আর আমার মা-ও এখানে আসতে পারেননি। মার্কিন ভিসার জটিলতা এবং এর পেছনে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন ছিল, তা জোগাড় করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। আমরা সময়মতো সবকিছু সম্পন্ন করতে পারিনি।’

মাঠে কেপ ভার্দের এই বুড়ো দেয়ালের বীরত্ব আর ম্যাচ শেষে তার এই কান্না ছুঁয়ে গেছে পুরো ফুটবল বিশ্বকে। প্রশংসায় ভাসছেন এই ফুটবলার। বিবিসির ফুটবল বিশ্লেষক ও সাবেক স্কটিশ উইঙ্গার প্যাট নেভিন লিখেছেন, ‘পুরো ম্যাচজুড়েই রূপ ছড়িয়েছেন ভোজিনহা। ৪০ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে বিশ্বমঞ্চে তিনি যা দেখালেন, তা স্রেফ অবিশ্বাস্য। ম্যাচ শেষে মাঠের সব ক্যামেরা ছিল তার দিকেই। সতীর্থরা আঙুল তুলে বারবার বিশ্বকে দেখিয়ে দিচ্ছিলেন, কে তাদের আসল নায়ক।’

সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার লি ডিক্সনও কেপ ভার্দের এই গোলরক্ষককে প্রশংসার জোয়ারে ভাসিয়েছেন। ভোজিনহার আবেগের গভীরতা ছুঁয়ে গেছে তাকেও। ডিক্সন বলেন, ‘আমি নিজেই ম্যাচ শেষে বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। স্পেনের বিপক্ষে এই একটি পয়েন্ট পাওয়ার সম্পূর্ণ যোগ্যতা কেপ ভার্দের ছিল। আজকের রাতটা স্রেফ তাদেরই। আর ভোজিনহাকে ওভাবে কাঁদতে দেখে আমার নিজেরই প্রায় কান্না চলে আসছিল।’

ছড়িয়ে পড়ছে গবাদি পশুর লাম্পি ও খুরারোগ

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার গ্রামাঞ্চলে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ও খুরারোগ। গত ১৫ দিনে এসব রোগে শতাধিক গরুর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন খামারি ও স্থানীয়রা। আক্রান্ত হয়েছে সহস্রাধিক গবাদি পশু। একের পর এক গরু মারা যাওয়ায় অন্তত ২০টি মিনি খামার কার্যত ধ্বংসের মুখে পড়েছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পর্যাপ্ত সেবা না পাওয়ার অভিযোগে ক্ষুব্ধ খামারি ও কৃষকরা।

ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, আক্রান্ত গরুর চিকিৎসার জন্য প্রাণিসম্পদ বিভাগের চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে তারা গ্রাম্য চিকিৎসক ও কবিরাজদের শরণাপন্ন হচ্ছেন। এতে অনেক ক্ষেত্রে ভুল চিকিৎসার কারণে গরুর মৃত্যুও বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আতঙ্কে অনেকে লোকসান গুনে গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন।

গ্রামে গ্রামে ভয়াবহ সংক্রমণ

উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের কাসারির ঘাট, কদমতলা, মালচারপাড়, চরেরপাড় ও নীলকণ্ঠ; বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের সাতভিটা, হাপারভিটা, দোলন ও জলঙ্গার কুঠি; ধরণীবাড়ী ইউনিয়নের
দক্ষিণ মধুপুর ও মাদারটারী এবং ধামশ্রেণী ইউনিয়নের কাশিয়াগাড়ী, নাওড়া, খাওনার দরগা ও ইন্দারারপাড় গ্রামে রোগটির ব্যাপক বিস্তার দেখা গেছে।

এসব এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই একাধিক গরু লাম্পি রোগে আক্রান্ত। আক্রান্ত গরুর শরীরজুড়ে বড় বড় গুটি, ঘা, জ্বর, দুর্বলতা ও ক্ষুধামান্দ্য দেখা দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে খুরারোগ একসঙ্গে দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

ধামশ্রেণী ইউনিয়নের খাওনার দরগা গ্রামে এক খামারেই মারা গেছে পাঁচ গরু। খামারি জামাল উদ্দিন জানান, তাঁর মিনি খামারের ১৬টি গরুর মধ্যে পাঁচটি লাম্পিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। যার বাজারমূল্য ছয় লাখ টাকার বেশি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করলে কোনো ডাক্তার আসেননি। প্রফুল্ল নামে এক কর্মচারী এসে ভ্যাকসিন দিয়ে ৩ হাজার ২০০ টাকা নিয়েছেন। এরপরও গরুগুলো বাঁচানো যায়নি।’

সুরিরডারা গ্রামের খামারি মোস্তা মিয়ার আটটি গরুর মধ্যে একটি বাছুর গুরুতর অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। তিনি বলেন, ‘গরুর সারা শরীরে ঘা হয়েছে, পোকা ধরেছে। ১০ দিন ধরে কষ্ট পাচ্ছে। অফিসে গিয়ে ৫০০ টাকা জমা দিয়েছি। ডাক্তার না এসে একজন কর্মচারী এসে ভ্যাকসিন দিয়ে গেছে। তেল খরচের নামে আরও ২০০ টাকা নিয়েছে। ডাক্তারকে ভিজিট দেওয়ার কথাও বলেছি, তবু কেউ আসেনি। চোখের সামনে গরুটা ধুঁকে ধুঁকে মরছে।’

ক্ষতির তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, কদমতলা গ্রামের করিম উদ্দিন, মুকুল মিয়া, কছিম উদ্দিন ও সাহাবুদ্দিন; কাশিয়াগাড়ী গ্রামের শফি কামাল; ভদ্রপাড়া গ্রামের রয়েল মিয়া এবং কুড়ারপাড় গ্রামের একরামুল হকসহ অনেক খামারির গরু মারা গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, গত দুই সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক গরু মারা গেছে এবং আক্রান্ত হয়েছে সহস্রাধিক গবাদি পশু। আতঙ্কে গরু বিক্রি করছেন খামারিরা।

উলিপুর আদর্শ কেন্দ্রীয় দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. আফজাল হোসেন বলেন, ‘আমার খামারও আক্রান্ত হয়েছিল। আতঙ্কে চারটি গাভি রেখে বাকি গরুগুলো বিক্রি করে দিয়েছি। গরুগুলো একের পর এক আক্রান্ত হচ্ছে, কিন্তু প্রাণিসম্পদ বিভাগের তৎপরতা চোখে পড়ছে না।’

গ্রাম্য পশু চিকিৎসক বাদল মিয়া বলেন, ‘প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫টি আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা করছি। শুধু লাম্পি নয়, খুরারোগও ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা চিকিৎসা না দিলে গরুর মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়ত।’

তবে স্থানীয় অনেক খামারির অভিযোগ, অভিজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে অনেক ক্ষেত্রে ভুল চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যা রোগের বিস্তার ও মৃত্যুহার বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাদের দাবি, লাম্পি ও খুরারোগ নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে ভ্যাকসিন সরবরাহ, চিকিৎসক টিম গঠন এবং আক্রান্ত এলাকায় বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হোক। তা না হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রেবেকা বেগম বলেন, ‘লাম্পি বর্তমানে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে এবং কিছু গরুর মৃত্যুর খবরও পেয়েছি। দীর্ঘদিন ভ্যাকসিনের সংকট ছিল। আমাদের জনবলও খুব সীমিত।’

তিনি বলেন, ‘১৪টি ইউনিয়নের জন্য পর্যাপ্ত জনবল নেই। ড্রাইভারও নেই। মাত্র দুজন জনবল নিয়ে পুরো উপজেলা সামলাতে হচ্ছে। অনেক সময় খামারিরাও ভ্যাকসিন নিতে আগ্রহ দেখান না। তবে এখন উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে এবং ভ্যাকসিন কার্যক্রমও চালু রয়েছে।’