ডেঙ্গুতে এক দিনে ৮ জনের মৃত্যু ঢাকার বাইরে বাড়ছে রোগী, খুলনার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৪৩২ জন। মারা যাওয়া পাঁচজন খুলনা বিভাগের বাসিন্দা। ঢাকা বিভাগের তিনজন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২১৯ হয়েছে। শুধু সেপ্টেম্বরেই মারা গেছেন ১২২ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ১০৬ জন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ভর্তি হয়েছেন ১৭৬ জন। ঢাকা বিভাগের অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৮০ জন। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে ২০৪, চট্টগ্রামে ২০৯, খুলনায় ২৪১, ময়মনসিংহে ১১২, রাজশাহীতে ৫৭ এবং রংপুরে ৫৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।  চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭১ হাজার ৫৩৬ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৬৬ হাজার ২৫৬ জন।

খুলনার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক
ডেঙ্গু ছড়ানোয় খুলনার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ৪৮ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডেঙ্গু আক্রান্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, গত আগস্ট থেকে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। গত শুক্রবার সরকারি ছুটি থাকায় ৪৮ ঘণ্টার তথ্য একসঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে। এই সময়ে পাঁচজনের মৃত্যু এবং ২৭৬ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১২ হাজার ৩০২ জন। এর মধ্যে ১০ হাজার ৮১৮ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে এক হাজার ৪১১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন।

মশা নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগ
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি জানান, মশার লার্ভা ও উড়ন্ত মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। জ্বরে আক্রান্তদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে জনবল বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করা হচ্ছে।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, কেসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক দিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ৩০টি শয্যা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকেও মশারি বিতরণসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

২০২৩ সালে সর্বোচ্চ মৃত্যু
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর হিসাব রাখছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল। ওই বছর তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং মারা যান এক হাজার ৭০৫ জন। গত বছর ডেঙ্গুতে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। ওই বছর শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ দুই হাজার।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় খবর