কুষ্টিয়া শতকোটি টাকার প্রকল্প কাঙ্ক্ষিত ফল মেলেনি তিন জেলায় একই প্রকল্পে খরচ ২৪৮ কোটি

সেচ সুবিধা বাড়িয়ে বেশি ফসল উৎপাদনের লক্ষ্য ছিল প্রকল্পটির। তিন জেলায় পাঁচ বছরে খরচ হয়েছে ২৪৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে কুষ্টিয়া জেলার জন্য বরাদ্দ ছিল শতকোটি টাকা। প্রকল্পের কুষ্টিয়া অংশে নানা অনিয়মের চিত্র পাওয়া গেছে। বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা বলছেন, তারা কাঙ্ক্ষিত সেচ সুবিধা পাননি।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সেচ বিভাগ ২০২০ সালে ‘মুজিবনগর সেচ উন্নয়ন প্রকল্প’ শুরু করে। প্রকল্পটি শেষ হয় গত বছর। কোথাও পাম্প অচল, কোথাও যন্ত্রপাতি চুরি হয়েছে; আবার কোথাও খাল খননের পর উল্টো মাঠে পানি ঢোকা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গায় বাস্তবায়িত প্রকল্পটির আওতায় ৬৮ হাজার টন অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল। পাশাপাশি কৃষকের আয় ও জীবনমান উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য ছিল।

এখন এই তিন জেলায় নতুন করে ৬৮১ কোটি টাকার প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছে বিএডিসির সেচ বিভাগ। আগের প্রকল্পের কার্যকারিতা ও ব্যয়ের মূল্যায়ন কতটা হয়েছে, সে বিষয়ে অবশ্য সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

গত বছর শেষ হওয়া প্রকল্পের আওতায় তিন জেলায় আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে ২০০ কোটি এবং ৪৮ কোটি টাকা বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় খরচ করা হয়েছে। এর মধ্যে শতকোটি টাকার বেশি খরচ করা হয়েছে কুষ্টিয়ার ছয়টি উপজেলায়।

সমকালের পক্ষ থেকে শুধু কুষ্টিয়ার ওই ছয়টি উপজেলায় প্রকল্প এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। এতে প্রকল্পের নথি, মাঠ পর্যায়ের পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব লক্ষ্যের সঙ্গে বাস্তবতার বড় ধরনের ফারাক পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মধ্যে কাজ ভাগাভাগি, নিম্নমানের নির্মাণ এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামো তৈরির কারণে প্রকল্পের সুফল ব্যাহত হয়েছে।

কুষ্টিয়ায় যেসব খাতে বরাদ্দ 
প্রকল্পের আওতায় ছয় উপজেলায় খাল পুনর্খনন করা হয় ১০৬ কিলোমিটার, এলপি স্থাপন ১১২টি, ভূগর্ভের সেচনালা নির্মাণ ১৬৫টি, সৌরচালিত ডাগওয়েল স্থাপন ২২টি, ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের সেচ অবকাঠামো নির্মাণ ২৪১টি, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ ছোট-বড় ৩০টির বেশি। ল্যাব ও বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপন করা হয়। এ ছাড়া শতাধিক কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র  করা হয়।

নথি অনুযায়ী, একটি ডাগওয়েল নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ লাখ টাকা, পাম্প হাউসপ্রতি ১৫ লাখ, দুই কিউসেক পাম্প সেটপ্রতি ১৫ লাখ এবং পাঁচ কিউসেক সৌর পাম্পপ্রতি ১৫ লাখ টাকা। বড়, মাঝারি ও ছোট সেচ অবকাঠামোর জন্য যথাক্রমে ৪০ লাখ, ২৫ লাখ ও সাড়ে সাত লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে।

১২ লাখ টাকার ডাগওয়েল অচল
দৌলতপুর উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের তেকালা গ্রামের মাঠে ২০২০-২১ অর্থবছরে একটি সৌরচালিত ডাগওয়েল নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল ভূগর্ভ ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে আশপাশের প্রায় ৫০ জন কৃষককে কম খরচে সেচ দেওয়া। কিন্তু এখন সেটি অচল। পাম্পের মোটর, বৈদ্যুতিক তার, পানি সংরক্ষণের ট্যাঙ্কসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নেই।

সরেজমিন সেখানে সৌর প্যানেল ও অবকাঠামোর একটি অংশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। কুয়ায়ও পানি নেই। স্থানীয় কৃষকরা এখন ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিনে সেচ দিচ্ছেন।

সবজি চাষি লিয়াকত হোসেন বলেন, সরকারি টাকায় প্রকল্প করা হয়েছিল। কিন্তু চালু হওয়ার পর থেকেই পড়ে আছে। এখন ডিজেল পাম্প দিয়ে সেচ নিতে হচ্ছে। এতে খরচ বাড়ছে।

একই গ্রামের কৃষক ইউনূস আলী বলেন, দৌলতপুরে ধান, গম ও ভুট্টার মতো ফসল চাষে বেশি পরিমাণ পানি প্রয়োজন। ডাগওয়েলের তিন ইঞ্চি পাইপ দিয়ে সেই চাহিদা মেটে না। তাঁর ভাষ্য, নিম্নমানের যন্ত্রপাতির কারণে পাম্পটিও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।

তেকালা থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরে কাজীপুরেও একই ধরনের একটি ডাগওয়েল ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সেটিও দীর্ঘদিন ধরে অচল।

কুমারখালীর মাহেন্দ্রপুর পদ্মার চরে স্থাপন করা হয়েছে সৌরচালিত এলএলপি। সরেজমিন সেখানে পাম্পের ঘর ও নদী পর্যন্ত নেওয়া পাইপ দেখা গেলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বছরের প্রায় অর্ধেক সময় এটি ব্যবহার করা যায় না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএডিসির এক প্রকৌশলী বলেন, ১৩০টি ডাগওয়েল কৃষকের সেচ চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। তাঁর দাবি, কুষ্টিয়া অঞ্চলের জন্য এই প্রযুক্তি উপযোগী নয়। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সুপারিশে প্রকল্পে ডাগওয়েল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তাঁর হিসাবে, এ খাতে ব্যয় করা প্রায় এক কোটি ৫৬ লাখ টাকা কার্যত কোনো কাজে আসেনি।

কৃষিবিদদেরও কেউ কেউ মনে করেন, এ ধরনের ডাগওয়েল মূলত সীমিত পরিসরে সবজি চাষে ব্যবহারযোগ্য; ধান বা বেশি পানিনির্ভর ফসলের জন্য তা কার্যকর নয়। তাদের মতে, তুলনামূলক কম ব্যয়েই এমন ব্যবস্থা করা সম্ভব।

খাল খননে উল্টো ফল
প্রকল্পের আওতায় ১৮০ কিলোমিটার খাল ও নালা পুনর্খননের কথা ছিল। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, কোথাও অপরিকল্পিতভাবে খনন করা হয়েছে, আবার কোথাও কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই বিল তুলে নেওয়া হয়েছে।

কুমারখালীর যদুবয়রা ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে যাওয়া গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের একটি ক্যানেল কয়েক বছর আগে পর্যন্ত স্থানীয় কৃষকদের সেচের পানি সরবরাহ করত। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিএডিসি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমতি না নিয়েই ক্যানেলটি পুনর্খনন করে।

খননের পর এটি আগের তুলনায় অনেক গভীর হয়ে গেছে। ফলে খালের পানি মাঠে উঠছে না; বরং বৃষ্টির পানি মাঠ থেকে নেমে খালে চলে যাচ্ছে। এখন কৃষকরা শ্যালো মেশিনের ওপর নির্ভর করছেন।

কৃষক উসমান আলী বলেন, আগে এই খালের পানি দিয়ে চাষাবাদ হতো। এখন পানি থাকলেও মাঠে আসে না। লাখ লাখ টাকা খরচ করে খনন করে কৃষকেরই ক্ষতি হয়েছে।

দৌলতপুরের পিয়ারপুর ইউনিয়নের কামালপুর বাজারের পাশের একটি খালের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেড় কিলোমিটার খাল খননের কার্যাদেশ দেওয়া হলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় এক কিলোমিটার খননের পরই কাজ বন্ধ করে দেন ঠিকাদার। সরেজমিন খালের অসম্পূর্ণ অংশের অস্তিত্বও দেখা গেছে।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুর ইউনিয়নের শান্তিডাঙ্গা মৌজায় ৬০০ মিটার পানি নিষ্কাশন খাল খননের কথা রয়েছে ২০২৩ সালে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, খালটির বড় অংশ এখন ভরাট ও ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে। ফলে বৃষ্টির সময় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হয় এবং নিচু জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বাপ্পি বলেন, তাদের জিকে প্রকল্পের অন্তত কয়েকটি খালকে নিষ্কাশন খাল দেখিয়ে বিএডিসি পুনর্খনন করেছে। এ জন্য তাদের অনুমতি নেওয়া হয়নি। ভুল নকশায় খননের কারণে কয়েকটি এলাকায় কৃষকরা সেচের পানি পাচ্ছেন না। এসব খাল ঠিক করতে পাউবোকে আবার অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

গভীর নলকূপেও প্রভাবশালীদের দখল
প্রকল্পের আওতায় কুষ্টিয়ার ছয় উপজেলায় অর্ধশতাধিক গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটির নির্মাণ ব্যয় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা। কৃষকদের মাত্র ৫৫ হাজার টাকা জামানত দিয়ে এসব পাম্প নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

সরকারি পাম্পের পানি ব্যবহারের জন্য সেচ কমিটির নির্ধারিত হারও রয়েছে। তিন দফা সেচে এক বিঘা জমির জন্য এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা নেওয়ার কথা। কিন্তু কুমারখালীর বাগুলাট ইউনিয়নের দুধকুমড়া গ্রামের কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি পাম্প ইজারা পাওয়া ব্যক্তিরা প্রতি সেচে বিঘাপ্রতি ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা নিচ্ছেন। ফলে পাঁচ বিঘা জমিতে একবার সেচ দিতেই প্রায় পাঁচ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।

কৃষক শরীফ উদ্দিন বলেন, কম খরচে সেচ দেওয়ার জন্য সরকার পাম্প দিয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত হারের কয়েক গুণ টাকা দিতে হচ্ছে। তাই অনেকে আবার শ্যালো মেশিনের পানি নিচ্ছেন।

পাম্পটির ম্যানেজার মোজাফফর হোসেন নিজাম অবশ্য অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে দৌলতপুরে ছয়টি গভীর নলকূপ স্থাপনের তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এর কয়েকটি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা পেয়েছেন। তৎকালীন মন্ত্রী ও কয়েকজন সচিবের সুপারিশে এসব পাম্প বরাদ্দের অভিযোগও রয়েছে।

সমঝোতায় ঠিকাদারকে কাজ প্রদান
প্রকল্পের নথি পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বড় কাজের একটি অংশ কয়েকজন ঠিকাদারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, দরপত্রের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া থাকলেও পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে আগে থেকে দর ও কাজের তথ্য সরবরাহ করা হয়েছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএডিসির একজন নিবন্ধিত ঠিকাদার বলেন, রাজনৈতিক নেতা, তৎকালীন মন্ত্রী, বিএডিসির চেয়ারম্যান ও সচিবের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা বড় কাজগুলো পেয়েছেন। তাঁর দাবি, কাগজপত্রে দরপত্রের নিয়ম মানা হলেও বাস্তবে কাজ বণ্টনের ক্ষেত্রে আগে থেকেই সমঝোতা করা হতো।

প্রকল্পের নথিতে দেখা গেছে, কুষ্টিয়ায় চার বছরে ঠিকাদার আতাউর রহমান আতা ৫০টির বেশি কাজ পেয়েছেন। মোট আটজন ঠিকাদার তুলনামূলকভাবে বেশি কাজ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতাদের স্বজন ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম রয়েছে।

প্রকল্পের প্রথম বছরেই প্রায় ২৫ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে কুষ্টিয়ায় অফিস সাজসজ্জা, ল্যাব স্থাপন, বঙ্গবন্ধু কর্নারসহ বিভিন্ন কাজ ছিল।
নথি অনুযায়ী, প্রকল্প পরিচালকের (পিডি) কক্ষ সাজাতে ৩৯ লাখ ৭৭ হাজার টাকা, অফিস সংস্কারে ২১ লাখ ৫১ হাজার এবং বঙ্গবন্ধু কর্নার নির্মাণে ২১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। এই তিন কাজ একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করা হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

সরেজমিন প্রকল্প কার্যালয়ের পেছনে পাম্প টেস্টিং ল্যাবের জন্য তৈরি একটি অসম্পূর্ণ স্থাপনা দেখা যায়। নথিতে কাজের ৬০ শতাংশ শেষ দেখানো হলেও বাস্তবে কাজ আরও কম হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।

ঠিকাদার তানভীর নোবেল বলেন, কাজটি তাদের প্রতিষ্ঠান পেয়েছিল, তবে পুরোপুরি শেষ হয়নি এবং কিছু বিলও বকেয়া রয়েছে।
ঠিকাদার রুবেল হাসান অভিযোগ করেন, সরকারি প্রকল্পের কাজ পেতে কৃষকদেরও ঘুষ দিতে হয়েছে। আরেক ঠিকাদার এ এম জুবায়েদ রিপনের অভিযোগ, প্রকল্পের বড় অংশই নেতা ও ঠিকাদারদের স্বার্থে বাস্তবায়ন হয়েছে; কৃষকের বাস্তব সুবিধা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিন পিডি, অনিয়মের অভিযোগ
পাঁচ বছরের প্রকল্পে তিনজন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) দায়িত্ব পালন করেন। শুরুতে প্রায় আট মাস দায়িত্বে ছিলেন নুরুল ইসলাম। তাঁর সময়ে আগাম দরপত্র আহ্বান ও কমিশন নেওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার। পরে তিন বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেন মাহবুব আলম। ২০২৪ সালের মার্চে দায়িত্ব নেন আলী আশরাফ।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট নথিতে নুরুল ইসলামের সময়ে প্রায় ২৬ কোটি টাকার অডিট আপত্তির তথ্য রয়েছে। পরে ওই আপত্তি নিষ্পত্তি হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিতে পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যায়নি।

আলী আশরাফ দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৪৮ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, সরকার পরিবর্তনের পরও কাজ বণ্টনের পুরোনো পদ্ধতি পুরোপুরি বদলায়নি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাদের প্রভাবের কারণে কয়েকজন ঠিকাদার একাধিক লটের কাজ পেয়েছেন।

তিন জেলার জন্য নতুন প্রকল্পে ৬৮১ কোটি
পুরোনো প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গাকে নিয়ে নতুন করে ৬৮১ কোটি টাকার সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব করেছে বিএডিসির সেচ বিভাগ। নতুন প্রকল্পে সেচ প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। তবে আগের প্রকল্পে কোন খাতে কী ফল পাওয়া গেছে, কৃষকের সেচ ব্যয় কতটা কমেছে বা উৎপাদন কতটা বেড়েছে– এমন সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।

উন্নয়ন সংগঠন দিশার নির্বাহী পরিচালক রবিউল ইসলাম বলেন, কৃষকের প্রয়োজন ও প্রকল্পের ফল যাচাই না করে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হলে তা টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে না। তাঁর মতে, ভবিষ্যৎ প্রকল্পে কৃষকের বাস্তব চাহিদা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সদ্য শেষ হওয়া প্রকল্পের পিডি ও বিএডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আশরাফ বলেন, প্রকল্পের সব কাজ হয়েছে। তবে কিছু অনিয়ম থাকতে পারে, বিশেষ করে ডাগওয়েল নির্মাণে ত্রুটি পাওয়া গেছে। নতুন প্রকল্পে ডাগওয়েল বাদ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষকদের সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে আলী আশরাফ বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকরা সুবিধা পেয়েছেন এবং ফসল উৎপাদন বেড়েছে। তবে উৎপাদন কতটা বেড়েছে বা কৃষকের খরচ কতটা কমেছে– এমন কোনো পরিসংখ্যান তাঁর কাছে নেই বলে জানান।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় খবর