নিত্যপণ্যের বাজারে ভোজ্যতেল ও পেঁয়াজ বাড়তি দামে বিক্রি হলেও স্বস্তি ফিরেছে ডিম ও সবজিতে। সরবরাহ বাড়ায় বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে। এছাড়া চাল, ডাল, আটা ও চিনির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। মুরগির দাম কমলেও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মাছ। শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজার, ফকিরাপুল বাজার, কাপ্তান বাজার, মুগদা বড় বাজার ও খিলগাঁও সিটি কর্পোরেশন বাজার থেকে নিত্যপণ্যের দরদামের এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বাজারে বোতলজাত ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে সপ্তাহখানেক আগে। এখন নতুন দরেই সব দোকানে সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে। তেলের সঙ্গে বাড়তি রয়েছে পুরোনো পেঁয়াজের দামও।
ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো কয়েক দফা চেষ্টার পরে ৭ ডিসেম্বর বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৬ টাকা বাড়িয়েছে। তাতে সয়াবিন তেলের এক লিটারের বোতলের দাম ১৯৫ টাকায় উঠেছে। ৫ লিটারের বোতলের দাম এখন ৯৫৫ টাকা করা হয়েছে। শুক্রবার বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সব দোকানেই নতুন এই দরেই সয়াবিন বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে। আবার অনেক দোকানে ৯৬০-৯৭০ টাকা দাম নিচ্ছে পাঁচ লিটারের প্রতিটি ক্যান। বাজারে পেঁয়াজের দামও এখন বাড়তি। যদিও নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে। মুড়িকাটা পেঁয়াজের কেজি ১১০-১২০ টাকা।পুরানো পেঁয়াজের দাম আরও বেশি, কেজি ১৪০-১৫০ টাকা। বিক্রেতারা জানান, নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা কমতে পারে। মৌসুমের আরেক নতুন পণ্য আলু। তবে পণ্যটির দাম তুলনামূলক বেশি।
বাজারে প্রতি কেজি নতুন সাদা আলু বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা। আর নতুন লাল আলুর কেজি ৭০ টাকার আশাপাশে। কয়েক দিন আগে নতুন আলুর দাম এক শ টাকার ওপরে ছিল।সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম কিছুটা কমেছে। তবে পুরোনো আলুর দাম কম। কেজি ২০-২৫ টাকা। গত দুই সপ্তাহ ধরে ডিমের দাম কম রয়েছে। ফার্মের মুরগির এক ডজন ডিমের দাম এখন ১২০-১২৫ টাকা। আগে এটি ১৪০ টাকা ছিল। এছাড়া প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৭০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ বাড়ায় বাজারে সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। প্রতি পিস ফুলকপি ও বাধাকপি ৪০-৫০ টাকা, লাউ ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অন্যান্য সবজির মধ্যে প্রতি কেজি বেগুন ৬০-১০০ টাকা, মুলা ৩০-৪০ টাকা, শালগম ৪০-৬০ টাকা, শিম ৪০-৫০ টাকা ও দেশি টমেটো ১১০-১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া নদী-নালা, খালবিল, হাওড়-বাঁওড় ও পুকুরের পানি কমে আসায় বাজারে সব ধরনের দেশি মাছের সরবরাহ বেড়েছে। তবে দাম কমছে না। গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।