Home Blog Page 110

গুলশান অ্যাভিনিউতে ঢাকা ব্যাংকের নতুন শাখার উদ্বোধন

শনিবার ঢাকা ব্যাংক পিএলসি রাজধানীর গুলশান অ্যাভিনিউতে তাদের ১১৮তম শাখা ‘গুলশান অ্যাভিনিউ শাখার’ উদ্বোধন করেছে। এ উপলক্ষে হেনা সুবাস্তু স্পেস স্কাইলাইন অ্যাভিনিউতে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন গ্রাহকদের জন্য আরও আধুনিক, সহজ, ব্যক্তিকেন্দ্রিক এবং উন্নত ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন এই শাখাটি চালু করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ব্যাংক পিএলসির সম্মানিত প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চেয়ারম্যান ও পরিচালক এবং বর্তমান এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান জনাব এ.টি.এম. হায়াতুজ্জামান খান এবং ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল হাই সরকার। এ সময় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওসমান এরশাদ ফয়েজ এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ জনাব আব্দুল্লাহ আল আহসান, জনাব আমির উল্লাহ এবং প্রফেসর বিলকিস আরা বেগমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, গ্রাহক এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওসমান এরশাদ ফয়েজ। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ ব্যাংকের উন্নয়নের বিবর্তনের যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা ‘পিপল, প্রসেস অ্যান্ড টেকনোলজি’—এই তিনটি মূল ভিত্তিকে কেন্দ্র করে পরিবর্তনের অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ-উপযোগী, গ্রাহককেন্দ্রিক এবং উদ্ভাবননির্ভর আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠায় ঢাকা ব্যাংক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

টেকনো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব সায়েদ মনজুরুল হক, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা চৌধুরী, ফজলুল হক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্টার্লিং গ্রুপ, জহর রিজভি, চেয়ারম্যান, এলায়েন্স হোল্ডিংস, সাকিফ আরিফ তাবানি, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান, খাদিম সিরামিক এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিত মোহাম্মদ আউয়ালও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। তাঁরা সমাজে বৃহত্তর আস্থা, উদ্ভাবন এবং ক্ষমতায়ন প্রসারের লক্ষ্যে ঢাকা ব্যাংকের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক আরও জোরদার করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের জন্য নেটওয়ার্কিং সেশন ও নতুন শাখা পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়।

তানজিদ কি তামিম হতে পারবেন

তানজিদ হাসান তামিমের মাথায় টেস্ট ক্যাপ পরিয়ে দেওয়া ব্যাটার দেশের ক্রিকেটের আইকন। তার নামের পাশে ১০২ টি টেস্ট ম্যাচ লেখা হয়েছে আজ। সেই কিংবদন্তি মুশফিকুর রহিমের কাছ থেকে টেস্ট ক্যাপ পাওয়া একজন ব্যাটারের জন্য দারুণ ব্যাপার। এই খুশিতে হলেও নবাগতর ভালো কিছু করার কথা। অভিষেকে সেটা তিনি পারেননি। লেগে থাকলে হয়তো পারবেন। যেমন লেগে রয়েছেন মুশফিক সেই ২০০৫ সাল থেকে।

অভিষিক্ত তানজিদ ৩৪ বলে ২৬ রান করেন। তিনটি বাউন্ডারি মেরেছেন তিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে কিছুটা বাধ্য হয়েই তাকে খেলিয়েছে দল। সাদমান ইসলাম চোট না পেলে ওপেনিং জুটিতে পরিবর্তন করা হতো না। এই পরিবর্তনে টেস্টের ওপেনিং জুটি আবারও কিছুটা অনভিজ্ঞ হলো। তবে তানজিদকে দেখে নেওয়ার সুযোগও এসেছে।

২৫টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলা তানজিদকে টেস্ট দলে নেওয়ার কারণ আক্রমণাত্মক ব্যাটিং। তার ওপর তামিম ইকবালের ছায়া দেখতে পায় কোচিং স্টাফ। এ কারণে টেস্ট দলে নেওয়া। যদিও প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার বলেছিলেন, বাঁহাতি এ ব্যাটারকে কিছুটা সময় দিয়ে খেলাতে চেয়েছিলেন। তিনি যাতে নিজেকে লাল বলের ক্রিকেটের সঙ্গে মানসিক সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে নিয়ে খেলতে পারেন।

তামিম ইকবাল-ইমরুল কায়েসের পর টেস্টে ‘সেটেলড’ ওপেনিং জুটি পায়নি বাংলাদেশ। সাদমান ইসলাম, মাহমুদুল হাসান জয়, জাকির হাসানের মধ্যেই লড়াই চলছিল। এই তালিকায় যোগ হলেন তানজিদ। মুমিনুল হক এক আড্ডায় বলেছিলেন, এক বছর ধরে তানজিদকে টেস্ট দলে নেওয়ার আলোচনা ছিল। এই সুযোগ তানজিদের কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি হলেও তার দায়িত্বও বেড়ে গেলো। তিন সংস্করণে খেলার জন্য অনেক ফিট থাকতে হবে তাকে। যাপিত জীবনে শৃঙ্খলা থাকতে হবে চোট মুক্ত থাকার জন্য।

বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটারের তালিকায় ১০৯ নম্বর নাম তানজিদ হাসান। তার আগের নামটি বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদ। এক সিরিজ আগেই অভিষেক হয়েছে তার। অভিষেকে ভালোও করেছিলেন। বোলিং ইউনিট সাজাতে গিয়ে ১৫ জনে জায়গা হয়নি তার। ব্যাটিং কিভাগ কিছুটা আলাদা। ওপেনিং জায়গাটি বেশি নিরাপদ। একটু ভালো করলেই ক্যারিয়ার বড় করার সুযোগ। কারণ তামিম, ইমরুলের পর জাতীয় দল ভালো মানের ওপেনার পায়নি দল। সাদা বলের মতো লাল বলের ক্রিকেটেও তানজিদ থিতু হয়ে গেলে মাহমুদুল হাসান জয়ের জায়গা নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে। তাতে লাভ বেশি। ক্রিকেটারদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়বে। স্বাস্থ্যকর  প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে সবার জন্যই লাভ। দলে জায়গা ধরে রাখতে বড় ইনিংস খেলার চেষ্টা থাকবে সবার।

তবে তানজিদকে নিয়ে একটা শংকা করা হচ্ছে- আক্রমণাত্মক ব্যাটার হওয়ায় টেস্টে ধারাবাহিক হওয়া কঠিন। কারণ টেস্টে সেট হওয়ার জন্য মানসিক ধৈর্য্যের ব্যাপার থাকে। বোলার একই চ্যানেলে বল করেন। শট খেলার নেশা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আউট হওয়ার ঝুঁকি থাকবে বেশি। অভিষেক ইনিংস বড় না হওয়ার পেছনে শট খেলার লোভ কাজ করেছে। শূন্য রাতে ওপেনিং জুটি ভাঙার পর বড় ইনিংসের চিন্তা করতে হতো তাকে। সেটা না করে স্বভাবসুলভ ব্যাটিং করতে গিয়ে দ্রুত আউট হয়েছেন।

আইএসের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা নাইজেরিয়ায় নিহত: ট্রাম্প

নাইজেরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়ার যৌথ সামরিক অভিযানে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা আবু-বিলাল আল-মিনুকি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন,’সাহসী মার্কিন বাহিনী এবং নাইজেরিয়ার সশস্ত্র বাহিনী অত্যন্ত নিখুঁতভাবে একটি জটিল ও পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনা করে বিশ্বের সবচেয়ে সক্রিয় সন্ত্রাসীকে মাঠ থেকে সরিয়ে দিয়েছে।’

তিনি আরও দাবি করেন, আল-মিনুকি আফ্রিকায় লুকিয়ে থেকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন এবং তার গতিবিধি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা নিয়মিত তথ্য পাচ্ছিল।

ট্রাম্প জানান, অভিযানে নাইজেরিয়া সরকারের সহযোগিতা ছিল এবং এজন্য তিনি দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তবে তিনি অভিযানের বিস্তারিত সময় বা অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানাননি।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ২০২৩ সাল থেকেই আল-মিনুকিকে বৈশ্বিক সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল। ট্রাম্প বলেন, তার মৃত্যুতে আইএসের বৈশ্বিক কার্যক্রম বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

অন্যদিকে, নাইজেরিয়ায় বোকো হারাম ও আইএস সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর কারণে দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতা চলছে। দেশটির সরকার অবশ্য আগেও জানিয়েছে, এসব গোষ্ঠী মুসলিম ও খ্রিস্টান-দুই সম্প্রদায়ের ওপরই হামলা চালায়।

যুক্তরাষ্ট্র এর আগে ২০২৫ সালে ক্রিসমাস ডে-তে নাইজেরিয়ার সোকোটো রাজ্যে আইএস লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছিল। বর্তমানে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকশ সেনা কেবল প্রযুক্তিগত সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের কাজে নিয়োজিত রয়েছে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলায় সৌদি-কাতারকে রাজি করানোর চেষ্টা করে আমিরাত

উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের হামলার জবাবে সৌদি আরব ও কাতারের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযান গঠনের চেষ্টা করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), তবে সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে বলে শুক্রবার ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলার পর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ উপসাগরীয় নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেন যৌথ প্রতিক্রিয়ার জন্য, তবে সৌদি আরবসহ বেশ কয়েকটি দেশ এতে রাজি হয়নি।

ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলো লক্ষ্য করে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া হয়। এতে ইউএই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

পরে সৌদি আরব ও ইউএই পৃথকভাবে ইরানের বিরুদ্ধে কিছু পাল্টা পদক্ষেপ নেয়, তবে তারা কোনো যৌথ সামরিক পরিকল্পনায় একমত হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব তুলনামূলকভাবে সংযত অবস্থান নিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

অন্যদিকে ইউএই ইরানের কিছু জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় বলে দাবি করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য বাড়িয়েছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোকে দুর্বল করেছে।

ভারতে মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণের প্রতিবাদ শিবিরের

ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর পদ্ধতিগত রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, নির্বাচন-উত্তর পরিকল্পিত সহিংসতা এবং সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে কঠোর বিধিনিষেধের অজুহাতে পরোক্ষভাবে গরু জবাই নিষিদ্ধ করার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির।

শুক্রবার বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি নুরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেছেন, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষতার দাবিদার ভারতে দীর্ঘদিন ধরে মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার, খাদ্যাভ্যাস ও বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারের ওপর ধারাবাহিকভাবে আঘাত হানা হচ্ছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকার গবাদিপশু জবাইয়ে তথাকথিত যে ফিটনেস সার্টিফিকেটের বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে, তা মূলত মুসলিম সম্প্রদায়কে ধর্মীয় ও অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলার একটি বৈষম্যমূলক প্রশাসনিক পদক্ষেপ। বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল আজহার আগে অবাস্তব বিধিনিষেধ মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে সরাসরি আঘাত।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর রাষ্ট্রীয় ও দলীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ভয়াবহ জুলুম-নির্যাতন শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা এপিসিআরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মুসলমানদের লক্ষ্য করে ৩৪টিরও বেশি সুপরিকল্পিত সহিংসতার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। অসংখ্য মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি ও ব্যাবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর এবং বেশ কয়েকটি পবিত্র মসজিদে বর্বরোচিত হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।

শিবির নেতারা বলেছেন, ভারতে উগ্রপন্থি শাসকগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে পদ্ধতিগতভাবে মুসলমানদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে আসছে। যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। জাতিগত ও ধর্মীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে কার্যকর ও জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণে জাতিসংঘ, ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও বিশ্ববাসীকে আহ্বান জানিয়েছে শিবির।

শাহ আলী মাজারে হামলা, অভিযোগ জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে

রাজধানীর মিরপুরের হজরত শাহ আলী বাগদাদীর (রহ.) মাজারে ওরস চলাকালে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতের এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন। হামলাকারীদের মধ্যে স্থানীয় জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মী ছিলেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ। তবে জামায়াত বলছে, সেখানে তাদের কোনো নেতাকর্মী ছিল না। পুলিশ মাজারে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছে। তবে পুলিশের ভাষ্য, তারা কোনো অভিযান চালায়নি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার সমকালকে বলেন, রাত ১টার দিকে একদল লোক মাজারে গিয়ে মারধর করে। তারা জামায়াত-শিবিরের বলে জানতে পেরেছি। পুলিশ সেখানে কোনো অভিযান চালায়নি।

মহানগর পুলিশের দারুস সালাম অঞ্চলের সহকারী কমিশনার ইমদাদ হোসেন বলেন, প্রতি বৃহস্পতিবার মাজারে বড় অনুষ্ঠান হয়। স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি বাইরে থেকেও লোক আসেন। তারা সাধারণত অনেক রাত পর্যন্ত গান-বাজনা করেন। মাদক সেবনেরও অভিযোগ পাওয়া যায়। এমন একটি ঘটনা নিয়ে বিশৃঙ্খলার সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে। কিছু লোক মাজার জিয়ারত করছিলেন। এর মধ্যে একটি দল মূল মাজারের কাছাকাছি গিয়ে মাদক সেবন করেন। এতে জিয়ারত করতে আসা অনেকে ক্ষিপ্ত হন। তাদের সঙ্গে স্থানীয়রা যোগ দিয়ে মাদক সেবনরতদের ওপর হামলা করেন বলে জানতে পেরেছি।
হামলায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী ছিলেন এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হামলাকারীদের মধ্যে তাদেরও কিছু লোক ছিল। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এমন কয়েকজনকে দেখা গেছে। তবে তাদের নেতৃত্বে হামলা হয়েছে বিষয়টা এমন নয়। আসলে মাজারের লোকজনই ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালায়।

এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি জানিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই মামলা নেওয়া হবে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুস সবুর সাংবাদিকদের বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে ওরস চলাকালে হঠাৎ লাঠিসোটা হাতে বেশ কিছু লোক ঢুকে পড়ে। তারা এসে মাজার জিয়ারতকারীদের মারধর শুরু করে। তাতে বেশ কয়েকজন আহত হন। ঘটনার সময় মাজারের গেটের বাইরে পুলিশের চারটি গাড়ি থাকলেও তারা ভেতরে ঢোকেনি।

হামলার সময়ের ভিডিওতে দেখা যায়, অর্ধশতাধিক লোক লাঠি হাতে মাজারে ঢুকে যাকে সামনে পাচ্ছেন পেটাচ্ছেন। তাদের কারও কারও মুখে মাস্ক ছিল।

এ বিষয়ে ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতের এমপি মীর আহমদ বিন কাসেম (ব্যারিস্টার আরমান) বলেন, ঘটনাটি শোনার পর আমি পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনারকে কল দিয়েছি। তিনি জানিয়েছেন, মাজারের সামনের গেটে ফেরি করে মাদক বিক্রি হয়। বৃহস্পতিবার রাতে এটা আরও বেড়ে যায়। এ জন্য পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছে। তবে আমার দলের নেতাকর্মী কেউ সেখানে ছিল না। পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় কিছু লোকজন ছিল বলে শুনেছি।

যদিও এমপির বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার। তিনি বলেন, ‘তাঁর (এমপি) সঙ্গে বৃহস্পতিবার বা শুক্রবার আমার কোনো কথা হয়নি।’

জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার বলেন, শাহ আলী মাজারে মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান ছিল বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত। যার সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সব কিছুতে জামায়াতকে জড়িয়ে প্রোপাগান্ডা করা কিছু দল ও মিডিয়ার মজ্জাগত অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

এর আগেও মাজারে মাদক সেবনের বিরুদ্ধে পুলিশ ছাড়া স্থানীয়দের ‘অভিযান’ চালানোর অভিযোগ রয়েছে। গত সপ্তাহে বিএনপির স্থানীয় এক নেতা লোকজন নিয়ে সেখানে গিয়ে মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে ‘ব্যবস্থা’ নেন বলে জানা যায়। এ ছাড়া পুলিশও নিয়মিত অভিযান চালায়।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজের’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ১৭ মাসে সারাদেশে অন্তত ৯৭টি মাজার ও এ সম্পর্কিত স্থাপনায় (দরগাহ ও খানকাহ) হামলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১৩৪টি মাজারে হামলার খবর পাওয়া গেলেও অনুসন্ধানে ৩৭টির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। হামলার দুই-তৃতীয়াংশই ঘটেছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে।

জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি হামলা হয়েছে কুমিল্লা, নরসিংদী ও ঢাকায়; যথাক্রমে ১৭, ১০ ও ৯টি। সারাদেশে হামলার ঘটনাগুলোয় তিনজন নিহত এবং ৪৬৮ জন আহত হয়েছেন।

হজ করতে সৌদি পৌঁছেছেন ৫৮ হাজার ৩৪৭ বাংলাদেশি

হজ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত ১৫০টি হজ ফ্লাইটে মোট ৫৮ হাজার ৩৪৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।

শনিবার রাত ৩টায় প্রকাশিত হজ অফিসের এক বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বুলেটিনে বলা হয়েছে, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের অনুমতি পেয়েছেন। মোট ৬৬০টি এজেন্সি এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যার মধ্যে ৩০টি প্রধান এবং ৬৩০টি সমন্বয়কারী এজেন্সি রয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৭৫টি ফ্লাইটে ২৯ হাজার ৭০৪ জন; সৌদি এয়ারলাইন্সের ৫৩টি ফ্লাইটে ২০ হাজার ২৩৬ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৪৫৬ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে গেছেন। বাকী যাত্রীরা নির্ধারিত এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সৌদি আরবে পৌঁছাবেন।

গত ১৭ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪১৮ জন হজযাত্রী নিয়ে প্রথম হজ ফ্লাইট জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

হজ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মোট হজযাত্রীর মধ্যে ৪ হাজার ৫৬৫ জন সরকারি এবং ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করবেন।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে, আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। হজ পালন শেষে আগামী ৩০ মে জেদ্দা থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে। আগামী ৩০ জুন শেষ ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে।

সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর মৃত্যুতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর শোক

দেশের শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

শনিবার দেওয়া এক শোকবার্তায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শুক্রবার রাতে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মিজানুর রহমান সিনহা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

দেশের ওষুধ শিল্পের বিকাশে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মিজানুর রহমান সিনহা। পাশাপাশি তিনি স্বাস্থ্য খাতেও অবদান রেখে গেছেন।

স্বামীকে হত্যার পর মরদেহের খণ্ডিত অংশ ফ্রিজে রাখার চেষ্টা, স্ত্রী আটক

শরীয়তপুরে স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। খণ্ডিত মরদেহের কিছু অংশ ফ্রিজে রাখার চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন মালয়েশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদার (৪২) ও তার স্ত্রী আসমা আক্তার (৩৫)। প্রায় আট বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। এটি উভয়েরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। দীর্ঘদিন ধরেই দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল তাদের।

অভিযুক্ত আসমা আক্তার দাবি করেন, স্বামী প্রায়ই তাকে মারধর করতেন। মঙ্গলবার রাতে ঝগড়ার একপর্যায়ে তিনি রড দিয়ে আঘাত করলে স্বামী মাটিতে পড়ে যান। তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারিনি এত বড় ঘটনা হয়ে যাবে।’

পুলিশ বলছে, ঘটনার পর হত্যাকাণ্ড গোপন করতে মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়। হাড় ও মাংস আলাদা করে দেহাংশ একটি ড্রামে ভরে বাসার ভেতরে রাখা হয় প্রায় তিন দিন। পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি অটোরিকশা ভাড়া করে মরদেহের কিছু অংশ বস্তায় ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, দেহের মাংসের অংশগুলো শরীয়তপুর শহরের পালং স্কুল এলাকার আগের একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে ফ্রিজে রাখার চেষ্টা করেন আসমা আক্তার। তবে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে।

আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসমা আক্তার হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকা থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে একই দিন বিকেলে নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীর তীর থেকেও নিহতের চারটি হাত-পা উদ্ধার করা হয়েছে।

পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখা হয়। পরে দেহাংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত নারীকে আটক করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান ওসি।

ধর্ষণচেষ্টার বিচার দাবি জাবির প্রক্টরকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা, কার্যালয়ে তালা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বহিরাগত কর্তৃক এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে তার কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে আগামীকাল রোববার থেকে নতুন প্রশাসনিক ভবন অবরোধের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছেন তারা।

তারা বলছেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে ব্যর্থতা, তথ্য গোপন এবং বারবার আশ্বাস ভঙ্গ করে প্রশাসন চরম ব্যর্থতা ও অসততার পরিচয় দিয়েছে।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা এ ঘোষণা দেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে দুটি দরজার তালা ভেঙে নতুন তালা ঝুলিয়ে দেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, বেঁধে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হওয়ায় এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থী ফারজানা তাবাসসুম বলেন, আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবি ছিল ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হলে প্রক্টরিয়াল টিমের পদত্যাগ করতে হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও অপরাধী গ্রেপ্তার হননি। উল্টো প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করেছে এবং নিজেদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেন তারা। ১৩ মে উপাচার্যের সামনে উত্থাপিত দাবিগুলো তিনি উপস্থিত থেকে মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং স্বাক্ষরের মাধ্যমে তা স্বীকারও করেন। কিন্তু পরে প্রশাসন প্রকাশ্যে সেই অবস্থান অস্বীকার করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কার্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার যেফরুল হাসান চৌধুরী সজল বলেন, প্রক্টর অফিসে এখনও তালা ঝুলছে।

দুপুর ১টার দিকে প্রক্টর রাশিদুল আলম কার্যালয়ের সামনে এলেও ভেতরে প্রবেশ করেননি। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করবে এবং তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশা করেন।

এর আগে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে বেঁধে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর প্রক্টর অধ্যাপক রাশিদুল আলমের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টারজান চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপাচার্যের (ভিসি) বাসভবনের সামনে রাতভর অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।