Home Blog Page 118

ধীর গতিতে তেল পরিশোধনের কাজ চললেও সরবরাহে সমস্যা নেই: জ্বালানি বিভাগ

বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যাহত হলেও দেশের জ্বালানি তেল সরবরাহে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) বর্তমানে লো-ফিডে (ধীর গতিতে) চালু থাকলেও বিকল্প ব্যবস্থায় সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আজ বুধবারের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মার্চ মাসে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ক্রুড অয়েল না পৌঁছানোয় ইআরএলকে সীমিত সক্ষমতায় চালাতে হচ্ছে। তবে এ নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই। নিয়মিত আমদানির পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি নিশ্চিত করা হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। এর ফলে মার্চে ২ লাখ টন এবং এপ্রিলে ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা সম্ভব হয়নি।

সৌদি আরব থেকে মার্চের শুরুতে ১ লাখ টন তেলবাহী জাহাজ নরডিক্স পোলাক্স রাস্তানুরা বন্দরে অবস্থান করছে। নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে জাহাজটি হরমুজ অতিক্রম করতে পারেনি। একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসার কথা থাকা আরেকটি জাহাজও স্থগিত করা হয়েছে।

তবে বিকল্প পথে সরবরাহ নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১ লাখ টন এরাবিয়ান লাইট ক্রুড অয়েল নিয়ে একটি জাহাজ ২০ এপ্রিল রওনা দিয়ে ২ থেকে ৩ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে। এছাড়া মে মাসে আরও ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল সরবরাহের জন্য সৌদি আরবকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। জরুরি চাহিদা মেটাতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে অতিরিক্ত ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল আমদানির অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ জানায়, ইআরএল মূলত সৌদি আরব থেকে এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে মারবান ক্রুড অয়েল আমদানি করে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন পরিশোধন করে, যা দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। বাকি চাহিদা পরিশোধিত তেল আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মোট ব্যবহৃত ডিজেলের প্রায় ১৫ শতাংশ, পেট্রলের প্রায় ১২ শতাংশ ইআরএল থেকে সরবরাহ হয়েছে। পাশাপাশি ফার্নেস অয়েল, কেরোসিন ও বিটুমিনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশও এই পরিশোধনাগার থেকেই আসে।

জ্বালানি বিভাগের ভাষ্য, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে বাধা সৃষ্টি হলেও পর্যাপ্ত পরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সীমিত পর্যায়ে ইআরএলের উৎপাদন অব্যাহত রেখে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে।

ট্রাম্প দাবি করলেও পাকিস্তানে দুইদিনের মধ্যে সংলাপের সম্ভাবনা কম

আগামী দুইদিনের মধ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ‘কিছু একটা ঘটতে পারে’ বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বলা হচ্ছে, তিনি দ্বিতীয় দফায় সংলাপে বসার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তবে ইসলামাবাদে পরবর্তী দুইদিনের মধ্যে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।

এক কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, পরবর্তী বৈঠক সম্পর্কে তাদের কাছে এখনো কোনো তথ্য নেই। অপরদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও চারদিনের সফরে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কে যাচ্ছেন।

ইসলামাবাদ থেকে আলজাজিরার সাংবাদিক কামাল হায়দার জানিয়েছেন, শেহবাজ শরিফ ১৮ এপ্রিলের আগে দেশ ফিরবেন না। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, সংলাপটি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে হলেও ঠিক পরবর্তী দুইদিনের মধ্যে হবে- সেটি নিশ্চিত করে বলার উপায় নেই।

কামাল হায়দার বলছেন, এটি মূলত একটি চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়া। কূটনীতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে। তবে সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো- গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পুনরায় শুরু করার ব্যাপারে ওয়াশিংটন ও তেহরান থেকে ইতিবাচক সংকেত পাওয়া যাচ্ছে।

তবে আইআরএনএ’র বরাত দিয়ে বিবিসি বুধবার লিখেছে, তেহরান ও মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে ঠিকই, তবে নতুন কোনো বৈঠকের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। সংলাপ নিয়ে ট্রাম্পের নতুন মন্তব্যের পর ইরানের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ৮ এপ্রিল শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি তেহরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার কোনো চেষ্টা চালায়, তবে তা ব্যর্থ হতে বাধ্য। ইরানি জাতি কখনোই নতি স্বীকার করবে না।

বুধবার তেহরানের জরুরি সেবা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে পেজেশকিয়ান বলেন, তেহরান কোনোভাবেই যুদ্ধ বা অস্থিরতা চায় না। সবসময়ই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা ও পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইংলিশ মিডিয়ামসহ একাধিক ধারার অস্তিত্ব থাকলেও তা কোনোভাবেই সরকারি নীতিমালার বাইরে থাকতে পারে না। বাংলাদেশে ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা থাকবে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধি-বিধানের বাইরে থাকবে এটা গ্রহণযোগ্য নয়। জবাবদিহির আওতায় আনতে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠক করা হয়েছে।

আজ বুধবার সিলেটে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নগরীর মেন্দিবাগ এলাকায় জালালাবাদ গ্যাস অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনবে সরকার। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাখাতে জিডিপি ৫ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। দেশের শিক্ষাখাতের উন্নয়নের জন্য যা যা করা দরকার সরকার তা করবে।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুর হক চৌধুরী। তিনি শিক্ষামন্ত্রীকে জানান, সিলেটে অনেক প্রাইভেট স্কুল আছে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষ ইচ্ছামত টাকা নিচ্ছে।

সামাজিক মাধ্যমে ট্রল করা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ভর্তি প্রক্রিয়ায় লটারি বাতিল করার পর আমাকে নিয়ে কত ট্রল হলো। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় আমার এলাকায় গিয়ে আমি বাচ্চাদের বলেছিলাম, তোমাদের জাইমা রহমানকে প্রধানমন্ত্রী বানাতে হবে। নির্বাচনের আগে এ কথা বলেছিলাম। এখন এটা নিয়েও আমাকে ট্রল করা হচ্ছে। কি আর বলব।’

মন্ত্রী আরও বলেন, পাবলিক পরীক্ষায় সিলেটের ফলাফল লন্ডনের ওয়েদারের মত উঠানামা করে। সিলেট সবসময় ফার্স্ট হয়, তবে শুধু ডলারে আর পাউন্ডে। সিলেটকে পড়ালেখায়ও ফার্স্ট হতে হবে। শুধু প্রবাসী আয়ে এগিয়ে থাকলেও চলবে না।

সভায় মন্ত্রী সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেন প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জরুরি ভিত্তিতে স্থানান্তর করার কথা জানিয়ে বলেন, যিনি জায়গা দেবেন, তার নামে স্কুল করে দেব, আমরা বিল্ডিং করব।

সভায় শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, শাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী, জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম প্রমুখ।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী বিকল্প শ্রম বাজার সন্ধানে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতে বিকল্প শ্রম বাজারের সন্ধানে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। আজ বুধবার সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিনের তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ যেমন- সার্বিয়া, গ্রিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল, রাশিয়া ইত্যাদি নতুন দেশগুলোর বিকল্প শ্রমবাজার সম্প্রসারণে দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে কর্মী নিয়োগকারী বিভিন্ন দেশের সাথে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে উচ্চ পর্যায়ের সফরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে শ্রমবাজার অনুসন্ধান এবং বাংলাদেশি কর্মীদের পেশাভিত্তিক চাহিদা নিরূপণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজন অনুসারে দেশভিত্তিক স্থানীয় লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণের কাজ চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, থ্যাইল্যান্ডে শ্রম বাজার খোলার বিষয়ে সে দেশে কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের ব্যাপক চাহিদা থাকায় সে দেশে কর্মী পাঠানোর হার বাড়াতে জাপানিজ ভাষা ও স্কিল ট্রেনিং-এর পরিধি বাড়ানো হয়েছে। ৫৩টি টিটিসিতে জাপানিজ ভাষা প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। তাছাড়া, জাপানিজসহ রাশিয়া, আরবি, জার্মান, ইতালিয়ান ভাষার প্রশিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে, বিভিন্ন ভাষার ৪১ জন প্রশিক্ষক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নায়াব ইউসুফ আহমদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুদ্ধাবস্থার কারণে অন্যান্য দেশের চিকিৎসক, ব্যাংকার, প্রকৌশলীসহ পেশাজীবীরা  মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগ করছেন। এ অবস্থায় সেখানে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের নিয়োগের সম্ভাবনা যাচাইসহ অন্যান্য কোন কোন সেক্টরে কর্মীদের চাহিদা রয়েছে তা খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন পাঠাতে দূতাবাসসমূহকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ল্যাংগুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় বিদ্যমান জামানতবিহীন ঋণ সীমা ৩ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশ থেকে ফেরত আসা কর্মীদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী পুনঃপ্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে পুনরায় বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, পূর্ববর্তী শিক্ষা ও কাজের স্বীকৃতি এবং তার সনদ প্রদান করা হচ্ছে।

এর আগে সকাল ১১ টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়। দিনের শুরুতেই নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন সংসদ নেতারা।

মাদ্রিদে বার্সার অগ্নিপরীক্ষা আজ

যেন বার্সেলোনা-অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ সিরিজ চলছে! ৯ দিনে তিনবার মুখোমুখি হতে চলেছে স্পেনের এ দুই জায়ান্ট। আপাতদৃষ্টিতে সেই সিরিজে ১-১ সমতা চললেও সুবিধাজনক অবস্থানে আছে অ্যাতলেটিকো। ৫ এপ্রিল ঘরের মাঠে লা লিগায় হেরে গিয়েছিল তারা। তবে ৯ এপ্রিল ন্যু ক্যাম্পে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে ২-০ গোলে জিতে অনেকটা এগিয়ে গেছে দিয়াগো সিমিওনির দল।

ইউরোপসেরার মঞ্চে টিকে থাকতে হলে আজ অ্যাতলেটিকোর মাঠ ওয়ান্ডা মেট্রোপলিটানোতে ফিরতি লেগে বার্সাকে ন্যূনতম তিন গোলের ব্যবধানে জিততে হবে। কাজটা অবশ্যই ভীষণ কঠিন, তবে ইয়ামাল- লেভানডস্কিদের জন্য মোটেই অসম্ভব কিছু নয়। হ্যান্সি ফ্লিকের আক্রমণাত্মক দলটির জন্য এটি অগ্নিপীরক্ষাই।

৯ এপ্রিল ন্যু ক্যাম্পে ব্যবধান কমানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন রাশফোর্ড। কিন্তু বার্সার এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড সে সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। আজ রাজধানী মাদ্রিদে আরও একটি সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। রাশফোর্ডের জন্য ন্যু ক্যাম্পে ভবিষ্যৎটা পাকা করার সুযোগও। ম্যানইউ থেকে ধারে আসা ২৮ বছর বয়সী এ তারকার ভাগ্য বার্সায় সুতার ওপর ঝুলছে। চোটাক্রান্ত রাফিনহার জায়গায় খেলতে নেমে সেদিন বাঁ প্রান্ত দিয়ে অ্যাতলেটিকোর রক্ষণে ভালোই ভীতি ছড়িয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গোলের দেখা পাননি। সেদিন ঘরের মাঠে ফেভারিট হিসেবে খেলতে নেমেছিল কাতালানরা। কিন্তু ৪৪ মিনিটে একটি লাল কার্ডে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। বার্সা ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে লাল কার্ড পান।

পূর্বের লেগের বিতর্কিত এসব ঘটনার কারণে আজকের ম্যাচে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে থাকবে। শনিবার এস্পানিওলকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে লা লিগা শিরোপার দ্বারপ্রান্তে চলে যাওয়ার পাশাপাশি অ্যাতলেটিকো ম্যাচের প্রস্তুতিও নিয়ে নিয়েছে বার্সা। সেই ম্যাচে গোল পাওয়ায় ইয়ামাল, রাশফোর্ডরা বাড়তি আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবেন। তবে আটঘাট বেঁধে নামবে অ্যাতলেটিকো। শুধু এই ম্যাচে সেরা একাদশকে তরতাজা অবস্থায় পেতে শনিবার রাতে সেভিয়ার বিপক্ষে ১০ জনকে বিশ্রামে রেখেছিলেন।

এনফিল্ডে জাদুর আশায় লিভারপুল

পিএসজির বিপক্ষেও কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে ২-০ গোলে হেরেছে লিভারপুল। বার্সার মতো তাদেরও আজ ন্যূনতম তিন গোলের ব্যবধানে জিততে হবে। তবে লিভারপুল খেলবে আজ ঘরের মাঠ এনফিল্ডে। এটাই ভরসা দিচ্ছে অলরেডদের।

লিভারপুল বস আর্নে স্লটের অভিমত, এ ধরনের ম্যাচে ছন্দ ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। শনিবার প্রিমিয়ার লিগে ফুলহামকে ২-০ গোলে হারিয়ে লিভারপুল সে ছন্দ পেয়ে গেছে বলে বিশ্বাস এ ডাচ কোচের। অবশ্য আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজিও দুর্দান্ত ফর্মে আছে। সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচে প্যারিসের এ দলটি কেবল জয়ই পায়নি, প্রতিপক্ষকে রীতিমতো গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

মন্ত্রীদের বক্তব্যে জামায়াত সংস্কারের অধ্যাদেশগুলো বাদ দিয়ে জনআকাঙ্ক্ষাকে অপমান করা হচ্ছে মন্ত্রীরা অসত্য বলছেন

ফ্যাসিবাদ বিলোপে সংস্কারের অধ্যাদেশগুলোকে বাদ দিয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে অপমান করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে সোমবার রাজধানীর মগবাজারে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন থেকে এ অভিযোগ করেছেন জামায়াত নেতারা।

দলটির এমপি ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ে গঠিত সংসদের বিশেষ কমিটির বৈঠকে আমন্ত্রিত ছিলেন। তিনি বলেছেন, ফ্যাসিবাদ সরকারের বিদায়ের পরে জনগণ আইনের শাসন ও সংস্কার নিশ্চিত করতে যে বিষয়গুলোতে জোর দেওয়া হয়েছিল, সেসব অধ্যাদেশই বাদ দেওয়া হয়েছে। স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠায় সচিবালয় ও বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিল করে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে অপমান করা হয়েছে।

মন্ত্রীরা বলেছেন, যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সময়ে অধ্যাদেশগুলো সংসদে উত্থাপন করা হবে। জামায়াত এ প্রতিশ্রুতিতে কেন ভরসা রাখছে না প্রশ্নে নাজিবুর রহমান বলেছেন, বিএনপি বহু বছর বলেছে ঈদের পর আন্দোলন করবে। সেই ঈদ কখনও আসেনি। এখন চাপে পড়ে মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিল যাচাই-বাছাই করে সংসদে আনার কথা বলছে। কবে আনবে বলছে না। ১৬ বছর অপেক্ষা করতে হবে কিনা–এটিই জাতির প্রশ্ন।

গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশে সংজ্ঞা, শাস্তির বিধান ঠিক নেই–স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্যের জবাবে শিশির মনির বলেন, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশে গুমের যে সংজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের যে সংজ্ঞা দুটি একই। এজন্য সরকার এটি বাদ দিচ্ছেন–এই বক্তব্য মিথ্যা।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তের বিষয়ে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের ব্যাখ্যাকে নাকচ করে শিশির মনির বলেছেন, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশে ২৮, ১৬ ধারায় বলা হয়েছে ৩০ দিনের মধ্যে যদি তদন্ত শেষ করতে না পারেন তাহলে কী হবে, জরিমানা কী হবে, কীভাবে আদালত জরিমানা আদায় করবেন, তা স্পষ্ট বলা আছে। অথচ আইনমন্ত্রী বলছেন, আইনে এসব নেই।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, তিনি বলেছেন, ‘গণভোট ফ্যাক্টাম ভ্যালেট, মানে ঘটনাক্রমে সিদ্ধ।’ তাহলে এখন মন্ত্রীর দায়িত্ব গণভোটের ফল বাস্তবায়ন করা। সিদ্ধ জিনিস বাস্তবায়ন না হলে, দায় সরকারের ওপর থাকবে।

নিম্ন আদালতের ২৮ বিচারককে কারণ দর্শানোর বিষয়ে শিশির মনির বলেছেন, যে আইনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেই আইনটিই নেই। সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দিয়েছে। অথচ, আইন যে নেই, আইন মন্ত্রণালয় খবরই রাখে না।

সরকারি দলের বিরুদ্ধে সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ করে নাজিবুর রহমান বলেন, বিশেষ কমিটিতে যেসব অধ্যাদেশ হুবহু পাসে ঐকমত্য হয়েছিল, এর কয়েকটিতে সংশোধন আনা হয়। যেগুলোতে বিরোধী দলের নোট অব ডিসেন্ট ছিল, সেগুলো নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ওয়াদা ভঙ্গ করেছে সরকারি দল।

ঋণ জালিয়াতি অনিয়মের কারণে দুর্বল হয়ে পড়া ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার অধ্যাদেশ নিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নাজিবুর রহমান।

বৈশাখের গরমে তৃষ্ণা মেটাবে পুদিনা-কাঁচা আমের শরবত

সূর্য চোখ রাঙাচ্ছে। বাড়ছে তাপপ্রবাহ। আগামীকাল পহেলা বৈশাখে যারা দিনভর স্বস্তিতে থাকতে চান, তারা বাসায় বানিয়ে নিন পুদিনা-কাঁচা আমের শরবত। এতে পানিশূন্যতা পূরণ হবে, সেইসঙ্গে আপনার প্রাণও জুড়াবে। সহজ উপায়ে পুদিনা-কাঁচা আমের শরবতের রেসিপি দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী মিতা আজহার। 

উপকরণ: কাঁচা আম ২টি, পুদিনা পাতা ১ মুঠো, চিনি ৩/৪ টেবিল চামচ, বিট লবণ আধা চা চামচ, পানি পরিমাণমতো, বরফ কুচি আধা কাপ, কাঁচামরিচ ২টি

প্রস্তুত প্রণালি: প্রথমে কাঁচা আম পুড়িয়ে খোসা ছাড়িয়ে নিন। এবার বরফ কুচি বাদে একে একে সব উপকরণ ব্লেন্ডারে দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। বরফ কুচি দিয়ে মাটির গ্লাসে সাজিয়ে পরিবেশন করুন পুদিনা-কাঁচা আমের শরবত।

প্রিন্সেস রোজি হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভাবনা

বাংলার ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপালার মঞ্চ যেন ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে প্রাপ্তবয়স্কদের নৃত্য-আসরে। বাস্তব জীবনের এমন অভিজ্ঞতা থেকেই নির্মাতা আসিফ ইসলাম নির্মাণ করেছেন ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’ চলচ্চিত্রটি। এতে ‘প্রিন্সেস রোজি’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন আশনা হাবিব ভাবনা।

এই সিনেমা নিয়ে এবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হাজির হচ্ছেন ভাবনা। চলচ্চিত্রটি ৪৮তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আর্টকোর বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হয়েছে।

পরিচালক আসিফ ইসলাম জানান, ‘আমার নতুন চলচ্চিত্র ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’ মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আর্টকোর বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে। আমি কৃতজ্ঞ, উচ্ছ্বসিত এবং এই যাত্রা সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে প্রস্তুত।’

আশনা হাবিব ভাবনা। ছবি: ফেসবুক

আশনা হাবিব ভাবনা। ছবি: ফেসবুক

প্রিন্সেস চরিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে ভাবনা বলেন, এটি তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং অভিজ্ঞতা। চরিত্রের প্রয়োজনে তাঁকে প্রায় ৯ কেজি ওজন বাড়াতে হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রাশিল্পীদের মতো নাচ ও অভিনয়ের ধরনও রপ্ত করতে হয়েছে তাঁকে।

তিনি বলেন, ‘প্রিন্সেস রোজি চরিত্রটি করতে গিয়ে আমার শারীরিক ও মানসিক, দুই দিকেই পরিবর্তন এসেছে। আমি চরিত্রটিকে ভালোবেসে ফেলেছি।’

মস্কোর মতো মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের কাজ প্রদর্শিত হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ভাবনা জানান, ‘আমি আমার শিল্পকর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। মস্কোর মতো মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবে আমার সিনেমা নির্বাচিত হওয়ার অনুভূতি সত্যিই ভীষণ আনন্দের।’

পরিচালক সূত্রে জানা গেছে, চলচ্চিত্রটি যাত্রাপালার ক্রমাবনতির গল্প তুলে ধরে। এখানে দর্শকের চাহিদার চাপে ‘প্রিন্সেস’ নামে এক নৃত্যশিল্পী মঞ্চের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন। সমাজের পরিবর্তিত রুচি ও বিনোদনের চাহিদাকেই এই সিনেমার মূল উপজীব্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’ -এর অন্যতম পোস্টার

‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’ -এর অন্যতম পোস্টার

পরিচালক আসিফ ইসলাম জানান, শৈশব থেকেই যাত্রার সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক। সেই অভিজ্ঞতা এবং সময়ের পরিবর্তনে যাত্রার রূপান্তরই তাঁকে এই চলচ্চিত্র নির্মাণে অনুপ্রাণিত করেছে। গত বছরের জানুয়ারিতে ফরিদপুর জেলার গোবিন্দপুরে যাত্রার সেট নির্মাণ করে সিনেমাটির শুটিং সম্পন্ন হয়। এতে ভাবনা ছাড়া অধিকাংশ অভিনয়শিল্পীই ছিলেন প্রকৃত যাত্রাশিল্পী।

উল্লেখ্য, আসিফ ইসলামের আগের চলচ্চিত্র ‘নির্বাণ’ ৪৬তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছিল। এবার ‘কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস’ নিয়ে আবারও সেই মঞ্চে ফিরছেন তিনি– আর সঙ্গে থাকছেন ‘প্রিন্সেস’ ভাবনা।

রমনা বটমূলে বোমা হামলা ২৫ বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি বিস্ফোরক মামলার বিচার হত্যা মামলায় দুই ধাপ অতিক্রম

পঁচিশ বছর আগে রাজধানীর রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলাটির দুই ধাপ পার হয়েছে। এখন এটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার পর গত বছর মে মাসে হাইকোর্টে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আপিল নিষ্পত্তি হয়েছে। অন্যদিকে, ওই ঘটনায় ঢাকার আদালতে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের আরেক মামলার বিচার চলছে অত্যন্ত ঢিমেতালে।

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান চলাকালে হুজি জঙ্গিদের বোমা হামলায় ১০ জন নিহত ও অনেকে আহত হন। অসাম্প্রদায়িক চেতনার মূলে আঘাত হানতে জঙ্গিগোষ্ঠী ওই হামলা চালিয়েছিল বলে মামলার তদন্তে বেরিয়ে আসে।
এ ঘটনায় রাজধানীর নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট অমল চন্দ্র চন্দ ওই দিনই রমনা থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করেন। এর পর ২০০৮ সালের ৩০ নভেম্বর দুই মামলায় ১৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ২০১৪ সালের ২৩ জুন হত্যা মামলায় রায় দেন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক রুহুল আমিন। রায়ে বিচারিক আদালত নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) শীর্ষ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানসহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

মুফতি হান্নান ছাড়াও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্যেরা হলেন– মাওলানা মো. তাজউদ্দিন, মাওলানা আকবর হোসেন, মুফতি আব্দুল হাই, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মুফতি শফিকুর রহমান ও মাওলানা আরিফ হাসান সুমন। এর মধ্যে মুফতি আব্দুল হান্নানের সিলেটের এক মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন– হাফেজ মওলানা আবু তাহের, মাওলানা সাব্বির ওরফে আব্দুল হান্নান সাব্বির, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মাওলানা আব্দুর রউফ ও শাহাদত উল্লাহ ওরফে জুয়েল। বিচারিক আদালতের রায়ের পর মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসে। ওই রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আসামিরা পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালতে আপিল করেন।

দীর্ঘ শুনানির পর গত বছর ১৩ মে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরিন আক্তার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। রায়ে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মো. তাজউদ্দিনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন এবং বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত শাহাদাতউল্লাহ জুয়েলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষ, যা আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায়।
এদিকে, হত্যা মামলার রায় বিচারিক আদালত ও উচ্চ আদালতে নিষ্পত্তি হলেও বিস্ফোরক মামলাটি ঢাকা মহানগর ১৫ নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনালে এখনও বিচারাধীন। ২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ মুফতি হান্নানসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিস্ফোরক আইনে করা মামলার বিচার শুরুর
আদেশ দেন।

২০২২ সালের ২১ মার্চ বিস্ফোরক মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৫৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। ওই বছরের ৩ এপ্রিল আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন ধার্য ছিল। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ১১ আগস্ট দিন ধার্য করেন বিচারক। কিন্তু ২০২২ সালের ২৮ জুলাই ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল মামলাটি মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনালে ফেরত পাঠান। এরপর পাঠানো হয় ১৫ নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনালে। মামলার বিচার একই স্থানে রয়েছে।
বিস্ফোরক আইনের মামলার বিষয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিশেষ পিপি ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ২০০১ সালে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলায় দুটি অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। হত্যা মামলা বিচারিক আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় ৫৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৮ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। কিন্তু বিভিন্ন আসামি হাইকোর্টে বিভিন্ন ধরনের আবেদন করার কারণে মামলার কার্যক্রম কিছুদিন স্থগিত ছিল। বর্তমানে স্থগিতাদেশ আর নেই। আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কোম্পানি করদাতাদের রিটার্ন জমার সময় এক মাস বাড়ল

কোম্পানি করদাতাদের আয়কর রিটার্ন জমার সময় আরও এক মাস বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আগামী ১৫ মে পর্যন্ত কোম্পানি করদাতারা রিটার্ন দিতে পারবে। গতকাল সোমবার এ সম্পর্কিত আদেশ জারি করেছে এনবিআর।

এর আগে কোম্পানির আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় একাধিকবার বাড়ানো হয়। সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, রিটার্ন জমার সময়সীমা ছিল ১৫ এপ্রিল।
গতকাল কোম্পানির করদাতাদের জন্য জারি করা এনবিআরের আদেশে বলা হয়, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৩৩৪-এর দফা (খ)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড স্বাভাবিক করদাতা এবং হিন্দু অবিভক্ত পরিবার ব্যতীত অন্য সব করদাতা যাদের অর্থবছর ২০২৫ সালের ৩০ জুন তারিখে সমাপ্ত হয়েছে, তাদের ২০২৫-২৬ করবর্ষের রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ পুনরায় এক মাস বৃদ্ধি করে ১৫ মে নির্ধারণ করল।

স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতাদের জরিমানা ছাড়া আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় শেষ হয়েছে গত ৩১ মার্চ। এর বেশ কয়েক দফায় এ সময়ও বাড়ানো হয়েছিল। তবে ব্যক্তি করদাতাদের মধ্যে যারা ৩১ মার্চ রাত ১২টার আগে সময় বাড়ানোর আবেদন করার সুযোগ ছিল।