Home Blog Page 119

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে বিজিএমইএ পোশাকশিল্পে উৎপাদন সক্ষমতা ৩০% কমেছে

জ্বালানি সংকটে তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের সময় জেনারেটর চালানোর জন্য পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উৎপাদন। অন্যদিকে সরবরাহ চেইন ব্যাহত হওয়ায় ক্রেতাদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী পণ্য জাহাজীকরণ সম্ভব হচ্ছে না। আবার জ্বালানি সংকটের কারণে কাঁচামালের দাম ও পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। সব মিলিয়ে গড়ে উৎপাদন সক্ষমতা কমেছে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত।

গতকাল সোমবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা জানিয়েছেন তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ নেতারা। গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ করেছেন তারা। মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান সংগঠনের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। সংগঠনের প্রথম সহসভাপতি সেলিম রহমান ও সহসভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান আলোচনায় অংশ নেন। বৈঠকে জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ক্রেতার আস্থা ফিরে এলেও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজার পুনরায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলো জ্বালানি নিরাপত্তায় এগিয়ে থাকার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প এক নাজুক পরিস্থিতিতে পড়েছে।
তিনি বলেন, চাহিদা মতো গ্যাস ও বিদ্যুৎ না পাওয়ার কারণে বর্তমানে কারখানাগুলোতে উৎপাদন সক্ষমতা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমেছে। এই সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে গাজীপুর ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে। লোডশেডিংয়ের বিপরীতে জেনারেটর চালানোর জন্য পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ায় উৎপাদন ও পণ্য শিপমেন্ট ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কাঁচামালের দাম ও পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে সংকটকে আরও প্রকট করে তুলেছে।

উদ্যোক্তাদের সমস্যাগুলো গুরুত্ব সহকারে শোনেন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। তারা দেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাকশিল্পের অবদানের কথা বিবেচনা করে সংকট সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় জরুরি ভিত্তিতে নিকটবর্তী ফিলিং স্টেশন থেকে ডিজেল সরবরাহ করার জন্য বিজিএমইএর পক্ষ থেকে দেওয়া ফরম্যাট অনুমোদন করা হয়।
সংকট মোকাবিলায় বিজিএমইএর পক্ষ থেকে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরা হয় বৈঠকে। এর একটি হচ্ছে জরুরি জ্বালানি সরবরাহ করা। এ ব্যবস্থায় তৈরি পোশাক কারখানায় বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ফিলিং স্টেশন থেকে দ্রুত ডিজেল সরবরাহের নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আরেকটি প্রস্তাব হচ্ছে গ্যাস সংযোগ ও সমবণ্টন নিশ্চিত করা। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি শিল্প যেগুলোর বয়লার সক্ষমতা ৩০০-৫০০ কেজির মধ্যে সেগুলোতে জরুরি গ্যাস সংযোগ দেওয়া ও ঢাকার পার্শ্ববর্তী সব শিল্প অঞ্চলে সমতার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা। এছাড়া অবকাঠামো উন্নয়ন ও অটোমেশনের অংশ হিসেবে দ্রুততম সময়ে অন্তত দুটি অতিরিক্ত ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাজিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপন এবং শিল্প খাতে ইলেক্ট্রনিক ভলিউম কারেক্টর (ইভিসি) মিটার স্থাপন প্রক্রিয়া সহজ করার অনুরোধ করা হয় বিজিএমইএর পক্ষ থেকে।

আমদানি করা জ্বালানির ওপর আমদানি ও ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের ট্যাক্স ও ভ্যাট প্রত্যাহার করে উৎপাদন খরচ কমানোর অনুরোধ করা হয়েছে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে।
পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন নিশ্চিত করতে পোশাকশিল্পে সোলার পিভি সিস্টেমের সরঞ্জাম আমদানিতে বিশেষ শুল্ক রেয়াতি সুবিধা দেওয়ারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ডিসি কেবলের মতো অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্রপাতির ওপর বিদ্যমান উচ্চ শুল্ক ১ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেন বিজিএমইএর নেতারা। বর্তমানে এ সব যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক ২৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ পর্যন্ত।

জানতে চাইলে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান সমকালকে বলেন, পোশাক কারখানার নিকটবর্তী ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ যাতে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে কারখানায় জ্বালানি সরবরাহ করে সে ব্যাপারে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা। পোশাক শিল্পের সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত টানা আট মাস রপ্তানি কমছে। খুব শিগগিরই এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসারও সুযোগ দেখা যাচ্ছে না। মার্কিন পাল্টা শুল্ক আরোপের পর প্রতিযোগী দেশগুলোর আগ্রাসী বাণিজ্য নীতি এবং দেশে উৎপাদন ব্যয় বাড়া, জাতীয় নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং সর্বশেষ সমস্যা মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাব রয়েছে রপ্তানি খাতে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের অনুমান ছিল, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হওয়ার পর অনেক অনিশ্চয়তা কেটে যাবে। এপ্রিল কিংবা মে মাস থেকে সন্তোষজনক রপ্তানি আদেশ আমরা পাব, যা আগস্ট মাস নাগাদ রপ্তানি চিত্রে দেখা যাবে। কিন্তু এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য সংকট আবার সব কিছু ওলট-পালট করে দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কবে নাগাদ রপ্তানি খাতে সুখবর আসবে সেটি বলা যাচ্ছে না।

হাওরাঞ্চলের বৃহত্তম জেলা সুনামগঞ্জে চাহিদার চেয়ে অনেক কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছেন এই জেলার বাসিন্দারা। গতকাল সোমবার শহরের বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে পরিচিত পুরাতন বাসস্টেশন থেকে থানামুখী ফিডারে ঘণ্টায় কমপক্ষে পাঁচবার আসা-যাওয়া করেছে বিদ্যুৎ। এতে বিশেষ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীরা পড়েছেন মহাসংকটে।
পুরাতন বাসস্টেশন এলাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান সুমন বললেন, ‘যেভাবে কয়েক মিনিট পরপর বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে, তাতে যন্ত্রপাতি সবকিছু নষ্ট হয়ে যাবে। এর চেয়ে বিদ্যুৎ না থাকাই ভালো।’ তিনি বলেন, সকাল থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কমপক্ষে ১৫ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। একই এলাকার ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের ম্যানেজার গোলাম আজাদ বললেন, মাত্রাহীন লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রাহকরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কমপক্ষে ১২ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে।

শহরের মুক্তারপাড়া এলাকার মিতালি ওয়ার্কশপের মালিক উজ্জ্বল বলেন, ‘আমাদের দুই দোকানে ২০ জন স্টাফ। বিদ্যুতের এই অবস্থা চলতে থাকলে কর্মচারীই রাখা যাবে না।’
সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেল আহমাদ বলেন, ‘সোমবার চাহিদা ছিল ১২ মেগাওয়াট। পেয়েছি তিন মেঘাওয়াট। এ জন্য  শহরের সব ফিডারেই লোডশেডিং করতে হয়েছে।
কেবল জেলা শহরের অবস্থা এমন নয়, উপজেলা সদরে আরও করুণ অবস্থা। শান্তিগঞ্জের পাগলা সরকারি মডেল হাইস্কুল ও কলেজের প্রভাষক ইয়াকুব শাহরিয়ার বলেন, এক সপ্তাহ পর অর্থাৎ ২১ এপ্রিল থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু। এখন যেভাবে বিদ্যুৎ যন্ত্রণা আছে। একঘণ্টা পাওয়া গেলে দুই ঘণ্টা অন্ধকারে থাকতে হয়। এভাবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে।

যিশুর আদলে ছবি পোস্ট, সমালোচনার মুখে মুছে ফেললেন ট্রাম্প

নিজেকে যিশুর মতো দেখানো একটি ছবি পোস্ট করে সমালোচনার মুখে পড়ার পর তা মুছে ফেলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা ওই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ছবিতে দেখা যায়, সাদা পোশাক পরা ট্রাম্প এক অসুস্থ ব্যক্তির কপালে হাত রেখে তাকে সুস্থ করে তুলছেন- যা অনেকের কাছে যিশুর অলৌকিক নিরাময়ের চিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ মনে হয়েছে।

ছবিটি প্রকাশের পরই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ ধর্মীয় মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এমনকি ট্রাম্পের সমর্থকরাও সমালোচনা করেন।

খ্রিষ্টান কর্মী শন ফিউচট বলেন, ‘এটি অবিলম্বে মুছে ফেলা উচিত, কোনো প্রেক্ষাপটেই এটি গ্রহণযোগ্য নয়।’ একইভাবে রক্ষণশীল কর্মী রাইলি গেইনস মন্তব্য করেন, ‘ঈশ্বরকে উপহাস করা উচিত নয়।’

খ্রিষ্টান ব্রডকাস্টিং নেটওয়ার্কের সাংবাদিক ডেভিড ব্রোডি বলেন, ‘এটি সীমা অতিক্রম করেছে।’

তবে সমালোচনার মুখে পড়লেও ট্রাম্প কোনো দুঃখ প্রকাশ করেননি। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ছবিটি আসলে তাকে একজন চিকিৎসক হিসেবে উপস্থাপন করেছে। ‘আমি মানুষকে ভালো করি, অনেক ভালো করি’, মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, এই ছবি পোস্টের কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প পোপ লিও এর সমালোচনা করেন। পোপ লিও সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করে এটিকে ‘অমানবিক সহিংসতা’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ শুরু

সূর্যোদয়ের পর রাজধানীর রমনার বটমূলে শুরু হয়েছে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গানের মাধ্যমে শুরু হয়েছে আজকের আয়োজন। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ করে নেওয়ার প্রভাতি এই অনুষ্ঠানের এবারের মূল ভাবনা ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’।

অনুষ্ঠান সাজানো হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন সাঁই, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অজয় ভট্টাচার্য, আবদুল লতিফ, জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রের গান দিয়ে। আরও রয়েছে লোকগান।

%E0%A7%A7%E0%A7%AA 1776127533

ছায়ানট থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, আজকের আয়োজনে মোট ২২টি গান থাকছে। এর মধ্যে ৮টি সম্মেলক গান, একক কণ্ঠের গান ১৪টি। পাঠ থাকছে দুটি।

ছায়ানটের শিশু বিভাগের শিক্ষার্থীসহ সব বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশিষ্ট শিল্পী মিলিয়ে প্রায় ২০০ শিল্পী অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংস্থা ছায়ানট ১৯৬৭ সাল থেকে রমনার এই বটমূলে পয়লা বৈশাখে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে।

ডুমুরিয়ায় ঘেরের আইলে লাউ চাষাবাদে ঝুঁকছেন চাষি

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় ঘেরের আইলে লাউ আবাদে নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন কৃষক। বর্তমানে এ উপজেলায় মৌসুমে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার লাউ বিক্রি করছেন চাষিরা। মাছের পাশাপাশি লাউ আবাদে বাড়তি আয়ের সুযোগ পেয়ে সচ্ছল হয়েছে অনেক পরিবার। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে কয়েক হাজার নারী-পুরুষের।

ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়নের সাজিয়াড়া গ্রামের যুবক রকিবুল ইসলাম। তিনি সাজিয়াড়া বিলে এক বিঘা জমিতে মাছ চাষ করেন। গত বছর জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ওই ঘেরের আইলে ২১০টি লাউয়ের মাদা তৈরি করে বীজ বপন করেন এবং  ঘেরের পানির ওপর বাঁশ দিয়ে মাচা তৈরি করেন। বীজ বপনের ৫০ দিনের মধ্যে গাছে লাউ আসতে শুরু করে। রকিবুল ইসলাম জানান, ঘেরের আইলে লাউ আবাদ ও বাঁশের মাচা তৈরি করতে তাঁর ১৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত তিনি ৫৫ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। এ মৌসুমে আরও ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। তিনি জানান, লাউ বিক্রি করতে কোনো বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হয় না। ফড়িয়ারা সরাসরি ঘের থেকে নগদ টাকায় লাউ কিনে নিয়ে যায়। এ জন্য বাড়তি কোনো খরচ হয় না তাঁর।

কুলবাড়িয়া গ্রামের প্রসেনজিৎ মণ্ডল বিলে ছয় বিঘা জমিতে মাছ চাষ করেছেন। ওই ঘেরের বেড়িবাঁধের আইলে ৩০০ লাউয়ের মাদা তৈরি করে সেখানে বীজ বপন করেছিলেন। এতে তাঁর খরচ হয়েছিল প্রায় ৮০ হাজার টাকা। লাউ বিক্রি করেছেন দুই লাখ ১৫ হাজার টাকার। এতে তিনি খুব খুশি।

খর্নিয়া গ্রামের কৃষক আবু হানিফ বলেন, মাছের ঘেরের আইলে ১৫০টি মাচা তৈরি করে সেখানে লাউ চাষ করেন। সব মিলে তাঁর ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। এতে তিনি প্রায় দেড় লাখ টাকা লাভ করেছেন।

গুটুদিয়া গ্রামের চিংড়ি চাষি আতাবুর রহমান জানান, চিংড়িঘেরের বাঁধে লাউয়ের পাশাপাশি টমেটো, ঝাল (মরিচ) চাষ করা হয়। এতে তারা পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে আর্থিকভাবে সচ্ছল হচ্ছেন।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মো. জিল্লুর রহমান রিগান জানান, ডুমুরিয়ায় ১৮ হাজার ৭১২টি গলদা চিংড়ির ঘের রয়েছে। অধিকাংশ চিংড়ি বেড়িবাঁধের ওপর মাছ চাষিরা লাউয়ের আবাদ করে থাকেন। মাছের পাশাপাশি সবজি চাষে তারা বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (সদ্য বদলি হওয়া)  ইনছাদ ইবনে আমিন বলেন, ডুমুরিয়ায় গত শতকের ৯০-এর দশক থেকে বাণিজ্যিকভাবে বেড়িবাঁধের আইলে লাউ চাষ শুরু করা হয়।  উপজেলার ডুমুরিয়া সদর, রংপুর, খর্নিয়া, ভান্ডারপাড়া, আটলিয়া, শরাফপুর, গুটুদিয়া ও শোভনা ইউনিয়নে বেশি লাউ চাষ হয়ে থাকে। মাছের ঘেরের বেড়িবাঁধে লাউ চাষ করে বহু কৃষক লাভবান হচ্ছেন। লাউ চাষে উৎসাহিত করতে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সারসহ নানামুখী উপকরণ বিতরণ করা হয়।

আটলিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম মুন্না জানান, মাছের ঘেরের বেড়িবাঁধের পরিত্যক্ত জায়গায় লাউ চাষ করে হাজারও কৃষকের অর্থনৈতিক ভাগ্য বদল হয়েছে।

শরাফপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের ভ্যানচালক প্রশান্ত কুমার রায় ও নৌকার মাঝি আমির হোসেন গাজী জানান, বিল ও ঘেরে লাউ আবাদের কারণে অনেকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। তারা কৃষকের ক্ষেত থেকে বাজারে লাউ পরিবহন করে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৫০০-৬০০ টাকা আয় করতে পারেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক লাউয়ের বাজার গড়ে উঠেছে। খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক ঘেঁষে ডুমুরিয়া উপজেলা সদরে চারটি বাজারে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ লাউ বিক্রি করা হয়। এ ছাড়া মহাসড়কসহ গ্রামীণ সড়ক ঘেঁষে ১৬টি বাজার গড়ে উঠেছে।

ডুমুরিয়ার ‘আল্লাহর দান’ কাঁচা বাজারের আড়ত মালিক মো. মিজান সরদার, মতিউর রহমান শেখ ও মামুন জোয়ার্দার বলেন, ডুমুরিয়ায় প্রায় বার মাসই লাউ চাষ হয়ে থাকে। প্রতিদিন তাদের আড়তে দুই থেকে তিন লাখ টাকার লাউ বেচাকেনা হয়ে থাকে। প্রতি মৌসুমে আড়ত মালিকরা কয়েক কোটি টাকার লাউ বেচাকেনা করে থাকেন।

কৃষিবিদ ইনসাদ ইবনে আমিনের দেওয়া তথ্যমতে, ডুমুরিয়ার ২২৬ গ্রামে লাউ উৎপাদন হয়। প্রতিবছর এ উপজেলায় প্রায় ৫০ কোটি টাকার লাউ বেচাকেনা হয়। গত বছর ৩০০ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ হয়েছিল। এতে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা আয় হয়। এ বছর প্রায় ৩২০ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ হয়েছে। এতে কমপক্ষে ৪৬ কোটি টাকার লাউ বিক্রি হবে।

‘কৃষক কার্ডে’ মিলবে ভর্তুকি, ঋণ, সেচসহ ১০ সুবিধা

দেশের কৃষি খাতকে ডিজিটাল ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে বড় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। তিন ধাপে পর্যায়ক্রমে সারাদেশের সব কৃষকের হাতে তুলে দেওয়া হবে ‘কৃষক কার্ড’। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি ভর্তুকি, কৃষিঋণ, সেচ সুবিধা, কৃষি উপকরণসহ অন্তত ১০ ধরনের সেবা পাবেন। পাশাপাশি তৈরি হবে একটি সমন্বিত কৃষক ডেটাবেজ, যা ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সরকার।

এ ছাড়া প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের বছরে দুই হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। মোট ২২ হাজার ৬৫ জন তালিকাভুক্ত কৃষকের মধ্যে ২০ হাজার ৬৭১ জন এই সহায়তা পাবেন। সরকার বলছে, এটি সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের মতো কাজ করবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কৃষকদের উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে। এই অর্থ শুধু কৃষি কাজে ব্যয় করা যাবে এবং এতে অন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা পেতে কোনো সমস্যা হবে না।

আগামীকাল পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর উপস্থিত ছিলেন।

তিন ধাপের রোডম্যাপ

কৃষিমন্ত্রী জানান, ‘কৃষক কার্ড’ প্রকল্পটি তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে– প্রাক-পাইলটিং, পাইলটিং এবং দেশব্যাপী পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন। প্রথম ধাপে প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রম চালু হচ্ছে ১০ জেলার ১১টি উপজেলায়, ১১টি কৃষি ব্লকে। এই পর্যায়ে সীমিত আকারে প্রকল্পটি চালিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা নেওয়া হবে। এখানে শুধু ফসল উৎপাদনকারী কৃষকই নন, বরং মৎস্যচাষি, আহরণকারী, প্রাণিসম্পদ খামারি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে লবণচাষিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ কৃষিকে একটি সমন্বিত খাত হিসেবে বিবেচনা করে কার্ড ব্যবস্থাটি তৈরি করা হচ্ছে। প্রাক-পাইলটিং শেষে আগামী আগস্ট পর্যন্ত ১৫টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম চালু করা হবে। এরপর পাইলটিংয়ের অভিজ্ঞতা ও সীমাবদ্ধতা বিশ্লেষণ করে পর্যায়ক্রমে চার বছরের মধ্যে সারাদেশে এই কার্ড বিতরণ এবং একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষক তথ্যভান্ডার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রথম ধাপে ২২ হাজার কৃষক

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে ইতোমধ্যে ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এই তালিকায় ভূমির পরিমাণ অনুযায়ী পাঁচটি শ্রেণিতে কৃষকদের ভাগ করা হয়েছে। ভূমিহীন কৃষক (৫ শতকের কম জমির মালিক) আছেন দুই হাজার ২৪৬ জন। প্রান্তিক কৃষক (৫ থেকে ৪৯ শতক) ৯ হাজার ৪৫৮ জন। ক্ষুদ্র কৃষক (৫০ থেকে ২৪৯ শতক) আট হাজার ৯৬৭ জন। মাঝারি কৃষক (২৫০ থেকে ৭৪৯ শতক) এক হাজার ৩০৩ জন এবং বড় কৃষক (৭৫০
শতকের বেশি জমির মালিক) মাত্র ৯১ জন। পেশাভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে, মোট তালিকাভুক্তদের মধ্যে ২১ হাজার ১৪১ জনই ফসল উৎপাদনকারী কৃষক। এ ছাড়া ৮৫৫ জন প্রাণিসম্পদ খামারি, ৬৬ জন মৎস্যজীবী এবং অল্পসংখ্যক লবণচাষি অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

নগদ সহায়তা, সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব প্রান্তিকদের

এই প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের বছরে দুই হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। এই তিন শ্রেণির মোট কৃষকের সংখ্যা ২০ হাজার ৬৭১ জন, যা মোট তালিকাভুক্ত কৃষকের বড় অংশ।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই নগদ সহায়তা একটি সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের মতো কাজ করবে, যা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কৃষকদের উৎপাদন চালিয়ে যেতে সহায়তা করবে। তবে মাঝারি ও বড় কৃষকরা এই নগদ সহায়তার আওতায় থাকবেন না, যদিও অন্যান্য সুবিধা তারা পাবেন।

এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন, সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের মতো, যে কৃষকদের নগদ সহায়তা দেওয়া হবে তারা সে অর্থ শুধু কৃষিকাজে খরচ করতে পারবেন। এই সহায়তার কারণে অন্য সামাজিক সুরক্ষার সহায়তা পেতে অসুবিধা হবে না।

এক কার্ডে ১০ সুবিধা

কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা যেসব সুবিধা পাবেন, তা কৃষি খাতকে সমন্বিত সেবা ব্যবস্থায় নিয়ে যাবে। কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার-বীজসহ কৃষি উপকরণ পাবেন। সেচ সুবিধা নিতে পারবেন ভর্তুকি মূল্যে। সহজ শর্তে কৃষিঋণ পাওয়া যাবে, যা উৎপাদন ব্যয় মেটাতে সহায়ক হবে। কৃষি যন্ত্রপাতি স্বল্পমূল্যে পাওয়া যাবে, যা আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার বিস্তারে ভূমিকা রাখবে। সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা সরাসরি এই কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া হবে। মোবাইল ফোনে আবহাওয়া পূর্বাভাস ও বাজারদর সম্পর্কিত তথ্য পৌঁছে যাবে কৃষকের হাতে। কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ, রোগবালাই দমনের পরামর্শ এবং কৃষি বীমা সুবিধাও এই কার্ডের আওতায় থাকবে।

প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের ব্যয় হচ্ছে প্রায় আট কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এই ব্যয়ের মধ্যে কার্ড ইস্যু, তথ্য সংগ্রহ, ব্যাংকিং সংযোগ, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং মাঠপর্যায়ের ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রথম ধাপে পঞ্চগড়, বগুড়া, ঝিনাইদহ, পিরোজপুর, কক্সবাজার, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ী, মৌলভীবাজার ও জামালপুর জেলার নির্দিষ্ট ব্লকে এই কার্যক্রম চালু হচ্ছে।

ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্তি

‘কৃষক কার্ড’ মূলত একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড, যা সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের নামে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি ডিজিটাল লেনদেন করতে পারবেন।

স্থানীয় ডিলারের কাছে থাকা পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন ব্যবহার করে সার, বীজ, প্রাণিখাদ্য, মৎস্য খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ কিনতে পারবেন। ফলে মধ্যস্বত্বভোগীর ভূমিকা কমবে এবং ভর্তুকি ও প্রণোদনা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছানো সহজ হবে।

চৈত্রসংক্রান্তি আজ অদেখা নতুনের দিকে এগিয়ে যাওয়া

আজ চৈত্রসংক্রান্তি। বছরের শেষ দিন। নতুন বছরের সঙ্গে যার এক অদৃশ্য সেতুবন্ধন। পুরোনো সময়ের ধুলো মুছে, অদেখা নতুনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার হাতছানি। ঋতু বদলায়, মাটি তার ভেতরে নতুন বীজের জন্য জায়গা করে দেয়। সেই অদৃশ্য পরিবর্তনের মুহূর্তটির নামই চৈত্রসংক্রান্তি।

বাংলা বছরের হিসাব চলে সূর্যের গতিপথ ধরে, একটি সৌরচক্রের ভেতর দিয়ে। সেই হিসাবে চৈত্র মাসের শেষ দিনটি কোনো সমাপ্তি নয়, বরং এক সঞ্চারপর্ব। ‘সংক্রান্তি’ শব্দের ভেতরেই লুকিয়ে আছে এই গমন। এক কিনারা থেকে অন্য কিনারায় যাওয়া। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায়, আজ সূর্য মীন রাশি ছেড়ে মেষে প্রবেশ করছে। সনাতন পঞ্জিকায় তাই দিনটি ‘মহাবিষুব সংক্রান্তি’।

চৈত্রসংক্রান্তিকে ঘিরে প্রচলিত আলোচনা সাধারণত মেলা, গাজন বা চড়ক পূজার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু এর ভেতরে রয়েছে আরও গভীর এক ভাবনা। নিজেকে, প্রকৃতিকে এবং সময়কে নতুন করে বোঝার চেষ্টা।

কৃষিনির্ভর বাংলায় চৈত্র ছিল অনিশ্চয়তার মাস। খরতাপে শুকিয়ে যাওয়া জমি, বৃষ্টির প্রতীক্ষা এবং ফসলের অপেক্ষা। সব মিলিয়ে মানুষের জীবন তখন প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। এই বাস্তবতায় সূর্যের প্রতি প্রার্থনা, বৃষ্টির আহ্বান এবং নতুন বছরের প্রস্তুতি– সবই একসঙ্গে মিশে যায় চৈত্রসংক্রান্তিতে।

এই প্রক্রিয়ায় নারীর ভূমিকাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। গৃহস্থালির ভেতর খাদ্য প্রস্তুতি, ব্রত বা আচার। এসবের মধ্য দিয়ে নারীই হয়ে উঠতেন প্রকৃতি ও পরিবারের সংযোগরেখা। ফলে উৎসবটি কেবল বাহ্যিক নয়, ছিল এক গভীর জীবনচর্চা।

একসময় চৈত্রসংক্রান্তি মানেই ছিল গ্রামবাংলার প্রাণের উৎসব। গৃহস্থরা মেয়েজামাই ও নাতি-নাতনিদের আমন্ত্রণ জানাতেন, নতুন পোশাক দেওয়া হতো, কয়েক দিন ধরে চলত আপ্যায়ন। এই সময়ের কেন্দ্রবিন্দু ছিল মেলা। যেখানে কুটিরশিল্প, মাটির খেলনা, লোকজ মিষ্টি আর বিনোদনের সমাহার ঘটত।

বর্তমানে সেই চিত্র অনেকটাই বদলেছে। শহুরে জীবনের প্রভাবে গ্রামীণ ঐতিহ্যের ধারায় পরিবর্তন এলেও তা বিলীন হয়নি। গ্রামে ও বাজারে এখনও মেলা বসে। নতুন রূপে শহরেও বসছে চৈত্রসংক্রান্তির মেলা। ঢাকা শহরজুড়ে চলে সাপ্তাহিক মেলা। রাজধানীর আশপাশে ও বিভাগীয় শহরগুলোও এখন সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মেলার পসরা সাজিয়ে বসে।

একদিকে লাঠিখেলা, সঙযাত্রা, রায়বেশে নৃত্য, আবৃত্তি; অন্যদিকে পহেলা বৈশাখে ব্যবসায়ীদের হালখাতার প্রস্তুতি। দুটো দিক একত্রিত হয়ে এক সর্বজনীন সামাজিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

চৈত্রসংক্রান্তির অন্যতম দৃশ্যমান দিক হলো গাজন ও চড়ক উৎসব। শিবভক্ত সন্ন্যাসীরা মাসজুড়ে সাধনার পর এদিন কঠোর দেহকৌশলের মাধ্যমে ভক্তি প্রকাশ করেন। শূল ফোঁড়া, বাণ ফোঁড়া বা বড়শি গাঁথা অবস্থায় চড়কগাছে ঘোরা– এসব আচার ধর্মীয় বিশ্বাসের চরম বহিঃপ্রকাশ। বহু শতাব্দী ধরে বাংলার লোকজ সংস্কৃতিতে এই অনুশীলন টিকে আছে এখনও।

চৈত্রসংক্রান্তির খাদ্যাভ্যাসেও রয়েছে বিশেষ তাৎপর্য। আজকের দিনে ১৪ রকম শাক খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। বিশেষত তিতা স্বাদের খাবার। যেমন– নিমপাতা, করলা বা গিমা শাক। মূলত অনাবাদি শাকগুলো একসঙ্গে রান্না করে খাওয়া হয়। এই বিশেষ প্রচলনটি গ্রামাঞ্চলে এখনও টিকে আছে।

মূলত, শরীরকে নতুন ঋতুর জন্য প্রস্তুত করে বলে বিশ্বাস করা হয় এই খাদ্য প্রচলনের মধ্য দিয়ে। আবার কোথাও ছাতু, দই-চিড়া, আবার কোথাও নানা পিঠা ও মিষ্টির আয়োজন দেখা যায়। এই খাদ্যসংস্কৃতি আসলে প্রকৃতির পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের শরীরকে মানিয়ে নেওয়ার এক প্রাচীন জ্ঞানচর্চা।

চৈত্রসংক্রান্তির সময়টিতে পার্বত্য অঞ্চলের নৃগোষ্ঠীগুলোও বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণের উৎসবে মেতে ওঠে। ত্রিপুরাদের বৈসুক, মারমাদের সাংগ্রাই এবং চাকমাদের বিজু– এই তিন উৎসব মিলিয়ে পরিচিত বৈসাবি নামে। এই উৎসবে নতুন পোশাক, ফুল দিয়ে ঘর সাজানো, পিঠা-পায়েস তৈরি এবং ‘পাঁচন’ রান্না করা হয়। সাংগ্রাইয়ের জলোৎসব কিংবা বিজুর ফুলবিজু-মূলবিজুর মতো আয়োজনগুলো আনন্দ ও বিশ্বাসের মেলবন্ধন তৈরি করে।

তাদের বিশ্বাস, তেতো ও মিষ্টির সংমিশ্রণে বছর শেষ করলে পুরোনো দুঃখ মুছে যায় এবং নতুন বছর শুভ হয়ে ওঠে।

সনাতন ধর্মমতে, চৈত্রসংক্রান্তি অত্যন্ত পুণ্যময় দিন। উপবাস, দান, ব্রত ও স্নান– এসবকে এই দিনে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হয়। তবে চৈত্রসংক্রান্তি কেবল ধর্মীয় পরিসরে সীমাবদ্ধ থাকেনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি বাঙালির এক অসাম্প্রদায়িক সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।

অতীতে মুসলিম সমাজেও এদিন খোলা মাঠে সম্মিলিত প্রার্থনা বা শিরনি বিতরণের প্রচলন ছিল। যা এই দিনের বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক চরিত্রকে নির্দেশ করে।

বাংলা সনের বর্তমান রূপের পেছনেও রয়েছে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। মুঘল সম্রাট আকবর কৃষি ও খাজনা ব্যবস্থাকে সহজ করতে নতুন বর্ষপঞ্জি প্রবর্তনের উদ্যোগ নেন। তাঁর নির্দেশে জ্যোতির্বিদ ফতেহউল্লাহ্‌ সিরাজী সৌর ও চান্দ্র পদ্ধতির সমন্বয়ে বাংলা সনের কাঠামো নির্ধারণ করেন। এর ফলে বৈশাখ বছরের প্রথম মাস এবং চৈত্র শেষ মাস হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।

চৈত্র সংক্রান্তিতে পাতে যেসব খাবার রাখতে পারেন

আগামীকাল চৈত্রসংক্রান্তি, মানে চৈত্র মাসের শেষ তারিখ। একইসঙ্গে বাংলা বছরের শেষ দিন। এরপরদিন নতুন বছরের যাত্রা শুরু হবে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চৈত্রসংক্রান্তির খাবার ভিন্ন হয়ে থাকে। অমিল থাকলেও একটি জায়গায় সবাই এক, আর তা হলো এদিনে পাতে তিতা স্বাদের খাবার থাকে।

ধারণা করা হয়, তিতা স্বাদ জীবনের কষ্ট, দুঃখ বা তিক্ত অভিজ্ঞতার প্রতীক। এই তিতা স্বাদের খাবার খেয়ে জীবনের সব স্বাদ (মিষ্টি, টক, তিতা) গ্রহণ করার মানসিক প্রস্তুতি নেওয়াকে বোঝানো হয়। যাক সে কথা, এবারের চৈত্র সংক্রান্তিতে ঘরে কিছু ঐতিহ্যবাহী খাবার রান্না করতে পারেন।

কাঁচা কাঁঠালের তরকারি
চৈত্র সংক্রান্তির আরেকটি উল্লেখোগ্য খাবার কাঁঠালের তরকারি। কাঁচা কাঁঠালের নানা অংশ দিয়ে এই তরকারি রান্না করা হয়।

গিমা শাক
গ্রামের গৃহিণীরা এ দিন গিমা শাক ও বেগুন দিয়ে তরকারি রান্না করেন। এ সব তরকারি খেতে দেওয়া হয় ব্রত পালনকারি নারীদের।

নিম পাতা
নিমপাতা ও চাল ভেজে এক সঙ্গে খাওয়া চৈত্র সংক্রান্তির পুরনো ধারা। অনেকের ধারণা, এই খাবার খেলে সারা বছর সুস্থ থাকা সম্ভব।

সজনের চচ্চড়ি
চৈত্র সংক্রান্তিতে অনেক বাড়িতে সজনে চচ্চড়ি রান্না হয়। তা দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়।

নিরামিষ তরকারি
ব্রত পালন করা নারীরা বিভিন্ন নিরামিষ তরকারি রান্না করেন। বিভিন্ন শাক দিয়ে এই রান্না করা হয়।

তিতা ডাল
চৈত্র সংক্রান্তির অন্যতম খাবার তিতা ডাল। এটিই এই উৎসবের সবচেয়ে বেশি প্রচলিত খাবার।

নারকেল নাডু
এ দিন অনেক বাড়িতে নারকেলের নাডু বানানো হয়। অতিথি আপ্যায়নে চৈত্র সংক্রান্তির অন্যতম অনুসঙ্গ এই খাবার। চৈত্র সংক্রান্তিতে নকশী পিঠাও বানানো হয়।

তোমারই চলার পথে…

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে নেই– এই কথাটি আমার মন মানতে চায় না। যেন হঠাৎ করেই সংগীতের আকাশ থেকে একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র নিভে গেল। ছোটবেলা থেকেই তাঁর গান শুনে বড় হয়েছি। তাঁর কণ্ঠ ছিল ঠিক ভোরের পাখি ডাকার মতো– স্বচ্ছ, প্রাণবন্ত আর হৃদয়ছোঁয়া। কিন্তু জীবনে দুবার তাঁকে কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল, যা আমার কাছে আজও অমূল্য স্মৃতি হয়ে আছে।

কলকাতায় ‘অন্যায় অবিচার’ সিনেমার গানের রেকর্ডিংয়ে গিয়েছিলাম। তখন মনে হচ্ছিল, যেন বিশাল এক সাগরের সামনে দাঁড়িয়ে আছি আর আমি তার ক্ষুদ্র একটি ঢেউ মাত্র। সেখানে আমার গান শুনে তিনি যে প্রশংসা করেছিলেন, তা আমাকে একদিকে যেমন লজ্জিত করেছিল, অন্যদিকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিতও করেছিল। তিনি উপস্থিত সংগীত পরিচালক রাহুল দেববর্মণকে বলেছিলেন, ‘সিনেমার জন্য আপনার নির্বাচন খুব ভালো হয়েছে, সুন্দর একটি কণ্ঠ পেয়েছেন। সাবিনা ইয়াসমিন খুব ভালো গেয়েছে।’ তাঁর মুখে এমন কথা শুনে আমার মনে হয়েছিল, যেন শুকনো মাটিতে হঠাৎ বৃষ্টির ফোঁটা পড়েছে।

ওই কাজটিতে কিশোর কুমারের সঙ্গে একটি যুগল গান ও একটি একক গান গাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। হিন্দি ও বাংলা– দুই ভাষাতেই কাজ করেছি। কিন্তু যত বড় শিল্পীই হোন না কেন, আশা ভোঁসলের মতো এত সহজ-সরল মানুষ আমি খুব কম দেখেছি। তিনি ছিলেন ঠিক নদীর জলের মতো– নির্মল, প্রবহমান এবং সবাইকে আপন করে নেওয়ার মতো উদার। তাঁর সঙ্গে কিছু সময় কাটালেই বোঝা যেত, তিনি কতটা মাটির মানুষ।
ঢাকায় তাঁর সঙ্গে আরেকটি স্মরণীয় সাক্ষাৎ আমার হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে আছে। একবার তিনি ঢাকায় এসেছিলেন। তৎকালীন ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে তাঁর গান শুনতে গিয়েছিলাম। সামনে বসে তাঁর গান শুনছিলাম আর মনে হচ্ছিল, আমি যেন সুরের এক অদৃশ্য জগতে ভেসে যাচ্ছি। তাঁর কণ্ঠ ছিল ঠিক সন্ধ্যার নরম বাতাসের মতো– শ্রোতার মনকে ছুঁয়ে যায় নিঃশব্দে। পরে মঞ্চের পেছনে দেখা হলে তিনি বললেন, ‘তোমাদের গান খুব বেশি শোনার সুযোগ পাই না। তবে কিছু গান শুনেছি, খুব ভালো লেগেছে। তোমার কিছু গান শ্রোতার মুখেও ফিরে।’ তিনি প্রশংসা করেই যাচ্ছিলেন আর আমি মনে মনে ভাবছিলাম, আমি কি সত্যিই এতটা প্রাপ্য?

তাঁর বহুমুখী প্রতিভার জন্য তিনি সর্বত্রই সমাদৃত ছিলেন। গণমাধ্যমে তাঁকে হিন্দি চলচ্চিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে প্রভাবশালী গায়িকা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আট দশকের বেশি সময় ধরে বিস্তৃত তাঁর কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় চলচ্চিত্র এবং অ্যালবামের জন্য অসংখ্য গান রেকর্ড করেছেন। তাঁর অর্জনের ঝুলি ছিল এক বিশাল আকাশের মতো, যেখানে তারার মতো জ্বলজ্বল করে অসংখ্য সম্মাননা।

চলচ্চিত্র জগতের সর্বোচ্চ সম্মান দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। ভারত সরকার তাঁকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মবিভূষণ প্রদান করে সম্মানিত করে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তাঁকে সংগীত ইতিহাসের সর্বাধিক রেকর্ডকৃত শিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, যা তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। শ্রেষ্ঠ মহিলা নেপথ্য গায়িকা হিসেবে রেকর্ড সাতটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও তাঁর ঝুলিতে রয়েছে। এ ছাড়া তিনি দুটি গ্র্যামি মনোনয়ন পেয়েছিলেন, যা তাঁর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি ছিলেন ঠিক এক বিশাল বটগাছের মতো, যাঁর ছায়ায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম আশ্রয় পেয়েছে। তাঁর প্রয়াণে উপমহাদেশের সংগীতাঙ্গনে যেন এক গভীর শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
৯২ বছর বয়সে তাঁর এই বিদায় যেন একটি অধ্যায়ের অবসান। মনে হয়, সংগীতের আকাশে আজ এক চিরন্তন নীরবতা নেমে এসেছে। তবুও তাঁর গান রয়ে যাবে– ঠিক সকালের সূর্যের আলোর মতো, যা প্রতিদিন নতুন করে আমাদের হৃদয় আলোকিত করবে।

আমি শুধু এটুকুই বলতে চাই– যেখানেই থাকুন, খুব ভালো থাকুন। আপনার সুর, আপনার কণ্ঠ, আপনার স্মৃতি– সবকিছু আমাদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে।

ইরানি বন্দর অবরোধের ঘোষণা, ফের তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াল

ইরানের বন্দরগুলো অবরোধের মার্কিন ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। আজ লেনদেনের শুরুতেই এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়।

আজ সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৭ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল তেল ১০২ দশমিক ২৯ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।

পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা সফল না হওয়ায় হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন হুঁশিয়ারি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালের এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে মুক্তভাবে জাহাজ চলাচলের একটি চুক্তি হতে পারে। কিন্তু ইরানের বাধার কারণে তা হচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী অবিলম্বে টোল দিয়ে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করা বা সেখান থেকে বের হওয়া সমস্ত জাহাজ আটকে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে।

ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, যে ওই অবৈধ টোল দেবে, সে নিরাপদে চলতে পারবে না। আর ইরান যদি মার্কিন বা অন্য কোনো জাহাজে হামলা চালায় তাহলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। পরে তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরই এই অবরোধ শুরু হবে।

এই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়া শুরু করে। আজ সোমবার থেকে লেনদেনের শুরুতেই এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪ দশমিক ২৪ ডলারে পৌঁছেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৭ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল তেল ১০২ দশমিক ২৯ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭০ ডলার। যুদ্ধের প্রভাবে বিভিন্ন সময়ে তা ১১৯ ডলারও ছাড়িয়ে যায়।

এর আগে, গত শুক্রবার পাকিস্তানে বৈঠকের খবরের মধ্যে জুনে সরবরাহের জন্য তেলের দাম কিছুটা কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ দশমিক ২০ ডলারে নামে।