Home Blog Page 120

কোমরপুর খামারে আলোচনার শীর্ষে ‘লাল বাহাদুর’

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশাল আকৃতির গরু ‘লাল বাহাদুর’। ব্যতিক্রমী আকার আর দৃষ্টিনন্দন গড়নের কারণে এরই মধ্যে এটি ক্রেতাদের নজর কেড়েছে।

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর এলাকার একটি খামারবাড়িতে ‘লাল বাহাদুর’কে লালন-পালন করা হয়েছে। কয়েক বছর ধরে বিশেষ যত্নে বড় করা হয়েছে গরুটিকে। দেবহাটা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আল ফেরদাউস আলফার প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা এই খামারটিতে স্থানীয় ৪ টি পরিবারের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ হয়েছে।

খামারে নিয়োজিত কর্মচারীরা জানান, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে গরুগুলোকে বড় করা হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা হরমোন ব্যবহার করা হয়নি। খড়, ঘাস, গমের ভূসি ও ভুট্টার গুঁড়ো ছিল ‘লাল বাহাদুরে’র প্রধান খাদ্য। ফলে এটি দেখতে অনেকটা দেশীয় গরুর মতোই। বর্তমানে খামারটিতে ২০০টি গরুর সক্ষমতা থাকলেও কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ৪০টি গরু। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ৫ লাখ টাকা দামের ‘লাল বাহাদুর’। বাকি গরুগুলোর দাম চাওয়া হচ্ছে ২ থেকে ৩ লাখ টাকার মধ্যে।

খামারের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মচারী বলেন, ‘আমরা প্রাকৃতিক উপায়ে গরুগুলো বড় করেছি। এখন বিক্রির জন্য এগুলো প্রস্তুত। লাল বাহাদুরকে ঘিরে মানুষের দারুণ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।’

এদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় ১২ হাজার ৮৯৪টি খামারে কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব খামারে ৪৯ হাজারের বেশি গরু, ৪৪ হাজারের বেশি ছাগল ও ৬ হাজারের বেশি ভেড়া রয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এফ এম মান্নান কবীর বলেন, স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পশু লালন-পালন নিশ্চিত করতে খামারগুলোতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। প্রতিবছরের মতো এবারও বড় গরু নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ কাজ করছে।

‘বনলতা সেন’ সিনেমা নিয়ে বিরোধে নির্মাতা ও সহ-প্রযোজক

দীর্ঘদিনের অপেক্ষা পেরিয়ে ঈদে মুক্তির ঘোষণা এসেছে ‘বনলতা সেন’ সিনেমার। মুক্তির ঘোষণা এলেও নতুন করে জটিলতায় পড়তে পারে সিনেমাটি। সহ-প্রযোজক তরুণ মজুমদার ও নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল পাল্টাপালি অভিযোগ নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

২০২১-২২ অর্থবছরে সরকারি অনুদান পাওয়া সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন মাসুদ হাসান উজ্জ্বল। গত দুই বছর ধরেই সিনেমাটির মুক্তির খবর শোনা গেলেও নানা কারণে তা পিছিয়ে যায়। এর মধ্যে নির্মাতার সঙ্গে সহ-প্রযোজক তরুণ মজুমদারের বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

সম্প্রতি পোস্টার প্রকাশ করে ঈদে সিনেমাটি মুক্তির ঘোষণা দেন নির্মাতা। এরপরই প্রকাশ্যে আসে নির্মাতা ও সহ-প্রযোজকের বিরোধের বিষয়টি। এ বিষয়ে উজ্জ্বল বলেন, আদালতের নির্দেশনা মেনেই সিনেমাটি মুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সহ-প্রযোজক তরুণ মজুমদারের অভিযোগ, আদালত তাদের সমঝোতার মাধ্যমে সিনেমা মুক্তির নির্দেশ দিলেও সেটি মানা হয়নি।

সহ-প্রযোজক তরুণ মজুমদারের অভিযোগ, ‘বনলতা সেন’ সিনেমার জন্য তাঁর কাছ থেকে ৬১ লাখ টাকা নিয়েছেন নির্মাতা উজ্জ্বল। কিন্তু তাকে বাদ দিয়েই সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেন্সরে জমা দেওয়ার সময় তাঁর নাম দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে সেন্সর বোর্ডে অভিযোগ জানিয়েছেন তরুণ।

তরুণ মজুমদার সমকালকে বলেন, “সিনেমার নির্মাণ শুরুর পর সবকিছু ভালোই চলছিল। সহ প্রযোজক হিসেবে মুক্তি হওয়ার পর সিনেমা নির্মাণের জন্য প্রথমে ৪০ লাখ পরে আরও ২১ লাখসহ মোট ৬১ লাখ টাকা নিয়েছেন নির্মাতা উজ্জ্বল। পরবর্তীতে আমি সিনেমা নিয়ে কিছু জানতে চাইলে তিনি আমার সঙ্গে টালবাহানা শুরু করেন। এক পর্যয়ে আমি টাকা ফেরত নিয়ে সিনেমা থেকে থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে তিনি টাকা ফেরত দিতে চাননি। ফলে বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় গড়ায়।”

তরুণ মজুমদারের অভিযোগ অস্বীকার করে নির্মাতা উজ্জ্বল সমকালকে বলেন, ‘ব্যবসায়িক একটা জায়গা থেকে আমরা সিনেমাটি শুরু করেছিলাম। চুক্তিও হয়েছে। অথচ সিনেমা মুক্তির আগেই তিনি প্রতারণার অভিযোগ করে আদালতে গেছেন। মামলাও করেছেন। সেটি তদন্ত হয়েছে। সিনেমা নির্মাণের পর যদি কোনো প্রযোজক টাকা ফেরত চান তাহলে সেই টাকা নির্মাতা কীভাবে ফেরত দেবেন। এছাড়া সরকারি অনুদানের সিনেমায় অনুদানপ্রাপ্ত ব্যক্তির নামই প্রযোজক হিসেবে থাকে। তিনি তো প্রযোজক সমিতির সদস্যই না।’

তরুণ মজুমদারের সিনেমা থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্তের বিষয় উজ্জ্বল বলেন, ‘সিনেমার বেশিরভাগ কাজ শেষ করার পর তিনি বেরিয়ে যেতে চান। এবং সুদসহ সেই টাকা ফেরত চেয়েছিলেন। তাহলে বোঝেন, সেই সময় কি টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব? এরপর হুট করেই তিনি আমার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেন। তিনি এই সিনেমা নিয়ে আমাদের টিমের সঙ্গে যা করেছেন তাতে তো মামলা করার কথা আমার। কিন্তু আমি সেটা করিনি। আমি চেয়েছি সিনেমাটি যেন ভালোভাবে দর্শকের মাঝে পৌঁছায়।’

কবি জীবনানন্দ দাশ-এর বিখ্যাত কবিতার চরিত্রকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে ‘বনলতা সেন’। নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মাসুমা রহমান নাবিলা। কবি জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে দেখা যাবে খায়রুল বাসারকে। এছাড়া আরও অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়েত, সোহেল মণ্ডল ও প্রিয়ন্তী উর্বী।

মিলছে মৃত্যুর খবরও প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যেও হাম ছড়াচ্ছে দেড় শতাধিক প্রাপ্তবয়স্ক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

হামে আক্রান্ত ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন ৪৩ বছর বয়সী হাফিজ উদ্দিন। কয়েক দিনের মধ্যে নিজেই হয়ে যান রোগী। প্রথমে জ্বর, পরে সারাশরীরে লালচে দানা। এরপর শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাঁকেও ভর্তি করা হয় রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতালে।

চিকিৎসকরা বলছেন, হামের সংক্রমণ তাঁর ফুসফুসে প্রভাব ফেলেছে, এমনকি হৃদযন্ত্রেও জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। হাফিজের বাড়ি কেরানীগঞ্জে। তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার ছেলের হাম শনাক্ত হয়। বাসায় আলাদা করে রাখতে পারিনি। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ছেলের সঙ্গে কাটছে দিনরাত। ভাবিনি আমারও হাম হবে। এখন চিকিৎসক বলছেন, অবস্থা জটিল হতে পারে।

শুধু হাফিজ উদ্দিন একা নন, সাম্প্রতিক সময়ে শিশুর পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যেও বাড়ছে হামের সংক্রমণ। ডিএনসিসি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৫০০ রোগীর মধ্যে সাড়ে ১৮ শতাংশের বয়স পাঁচ বছরের বেশি। সেখানে ৫০ বছর বয়সী রোগীরও চিকিৎসা নেওয়ার নজির রয়েছে। হাসপাতালটিতে এরই মধ্যে ২৪ বছর বয়সী এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে ১২ বছরের বেশি বয়সীর জন্য আলাদা ‘ইনফেকশাস ব্লক’ চালু করা হয়েছে। এখন সেখানে ৭৪ রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ৯৩ জন, রংপুরে ছয়জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি চিকিৎসা নিচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে বয়সভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ তথ্য না থাকায় দেশে কতজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি হামে আক্রান্ত হয়েছেন, এর সঠিক সংখ্যা জানতে পারেনি সমকাল।

সংক্রমণ ছড়াচ্ছে পরিবার থেকেই 
ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতালের ডা. আসিফ হায়দার বলেন, ‘প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ পরিবারের শিশুসদস্যদের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া। কোনো শিশু আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে সঠিকভাবে আইসোলেশনে না রাখলে পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যেও দ্রুত এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই মনে করেন হাম শুধু শিশুদের রোগ। তবে এখন আমরা নিয়মিত প্রাপ্তবয়স্ক রোগী পাচ্ছি। তাদের কারও নিউমোনিয়া হচ্ছে, কারও শ্বাসকষ্ট বাড়ছে।’ তিনি জানান, যারা শিশুকালে টিকা নেননি, টিকার পূর্ণ ডোজ সম্পন্ন করেননি, আগে কখনও হামে আক্রান্ত হননি কিংবা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল তাদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। ক্যান্সার, যক্ষ্মা, দীর্ঘমেয়াদি অসুখ বা স্টেরয়েড সেবনের কারণে যাদের শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, তাদের ঝুঁকি আরও বেশি।

চট্টগ্রামেও শতাধিক প্রাপ্তবয়স্ক রোগী
চট্টগ্রামেও বড়দের শরীরে মিলছে হামের উপস্থিতি। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে শতাধিক প্রাপ্তবয়স্ক রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। অধিকাংশ রোগীর বয়স ১৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। আক্রান্তের মধ্যে নারীর সংখ্যা বেশি।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, সেখানে অন্তত ৪০ জন প্রাপ্তবয়স্ক রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে ভর্তি আছেন ছয়জন। ৫৩ বছর বয়সী এক নারীও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অনেক রোগীকেই পাঁচ থেকে সাত দিন হাসপাতালে থাকতে হচ্ছে। ১৯ বছর বয়সী কুলসুমা বেগম কয়েক দিন জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বাড়িতে ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁর স্বামী আলী আফসার বলেন, ‘বড়দের হাম হয় জানতাম না। প্রথমে গুরুত্ব দিইনি। পরে শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় হাসপাতালে আনতে হয়েছে।’ ১৬ বছর বয়সী জান্নাতুল আক্তারের বোন আয়েশা আক্তার বলেন, ‘এক দিনের মধ্যে শ্বাসকষ্ট অনেক বেড়ে যায়। হাসপাতালে এনে জানতে পারি, হাম হতে পারে।’

হাম ও হামের লক্ষণ নিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। গত রোববার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য খোলা হাম ব্লক থেকে তোলা	সমকাল

হাম ও হামের লক্ষণ নিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। গত রোববার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য খোলা হাম ব্লক থেকে তোলা সমকাল

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দীন বলেন, কয়েক দিন ধরে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। শিশুদের সংক্রমণ কমেনি, এর মধ্যে বড়দের আক্রান্ত হওয়া উদ্বেগের। জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এইচ এম হামিদুল্লাহ মেহেদী বলেন, একসময় হাম মূলত শিশুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এখন বড়রাও আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেকেই টিকার পূর্ণ ডোজ নেননি। আবার অনেকের ধারণা, হাম শুধু শিশুদের রোগ, ফলে দেরিতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির মধ্যে সংক্রমণের হার তুলনামূলক কম এবং অধিকাংশ রোগী চিকিৎসায় সেরে উঠছেন।

টিকাদানের ঘাটতিতে বাড়ছে ঝুঁকি
টিকাদানের ঘাটতি, কভিড-পরবর্তী নিয়মিত ইপিআই কার্যক্রমে ব্যাঘাত এবং অপুষ্টির কারণে দেশে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা এ তথ্য জানান। বক্তারা বলেন, হাম শুধু জ্বর ও শরীরে র‍্যাশের রোগ নয়; এটি নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, এনসেফালাইটিস, অন্ধত্ব এমনকি দীর্ঘমেয়াদি স্নায়বিক জটিলতার কারণও হতে পারে।

শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জেসমিন মোর্শেদ তাঁর উপস্থাপনায় বলেন, হাম সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য রোগ হলেও টিকা কভারেজের ঘাটতির কারণে দেশে আবারও প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, টিকাদান, দ্রুত শনাক্তকরণ, আইসোলেশন ও সময়মতো চিকিৎসাই হাম নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায়।

ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শারমিন সুলতানা ‘হাম: নির্মূলের স্বপ্ন থেকে প্রাদুর্ভাবের বাস্তবতা’ শীর্ষক প্রবন্ধে বলেন, একসময় বিশ্বজুড়ে টিকাদান কর্মসূচির সফলতার কারণে হাম নির্মূলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে টিকা নিতে অনীহা, কভিড-১৯ মহামারির সময় নিয়মিত টিকাদান ব্যাহত হওয়া, জনসংখ্যার ঘনত্ব ও অভিবাসনের কারণে বহু শিশু টিকার বাইরে থেকে যাচ্ছে। ফলে সমাজে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, হাম শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহ এবং রোগপ্রতিরোধ  ক্ষমতা হারিয়ে ফেলার মতো জটিলতা সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে অপুষ্ট শিশুদের মৃত্যুঝুঁকি বেশি।

ভাইরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এস এম রাশেদ উল ইসলাম তাঁর প্রবন্ধে বলেন, টিকাদান ঘাটতির কারণে শিশুর মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে। আক্রান্ত শিশুর মধ্যে প্রায় ৩৯ শতাংশ নিউমোনিয়ায় এবং ২৯ থেকে ৩৮ শতাংশ ডায়রিয়ায় ভুগছে। এ ছাড়া এনসেফালাইটিস, কানের সংক্রমণ ও ভিটামিন এ ঘাটতিজনিত অন্ধত্বের ঘটনাও দেখা যাচ্ছে।

আরও পাঁচজনের মৃত্যু
সারাদেশে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর দুই মাসে হাম ও এই রোগের উপসর্গে ৪৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক হাজার ৪০৫ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এই নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪ হাজার ৯১১। ২৪ ঘণ্টায় ৮৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা সাত হাজার ৮৫৬। আর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪২ হাজার ৮৬৮ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৯৮০ জন। ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৩৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। হামে মারা গেছে ৭৫ জন।

নেইমারকে নিয়েই ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা

২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। দীর্ঘ আড়াই বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর আবারও ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী হলুদ জার্সিতে ফিরছেন ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র। নেইমার ছাড়াও নতুন ঘোষিত স্কোয়াডে রয়েছে একাধিক চমক।

মঙ্গলবার (১৯ মে) ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর ঐতিহাসিক মিউজিয়াম অব টুমরো-তে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেলেসাওদের এই স্কোয়াড আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন দলটির প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

২০২৩ সালের অক্টোবরে হাঁটুর গুরুতর চোটে পড়ার পর আর হলুদ জার্সি গায়ে চাপাতে পারেননি নেইমার। আসন্ন বিশ্বকাপে নেইমার দলে জায়গা পাবেন কিনা না নিয়েও অনিশ্চয়তা ছিল ভীষণ। তবে নেইমারের দলে ফেরা যে তার নিজের হাতেই ছিল এ কথা কার্লো আনচেলত্তি বারবার বলেছেন।

আনচেলত্তি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, পুরোপুরি ফিট ও ভালো ছন্দে থাকলেই কেবল বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার বিবেচনায় আসবেন নেইমার। বারবার উপেক্ষিত হওয়ার পর অবশেষে কোচের মন জয় করতে পারলেন জনপ্রিয় এই তারকা ফুটবলার। তবে দলে জায়গা না পাওয়া বড় চমকগুলোর মধ্যে অন্যতম হলেন রদ্রিগো। শেষ পর্যন্ত দলে থাকার আলোচনায় ছিলেন থিয়াগো সিলভার মতো অভিজ্ঞ মুখও।

দলে বড় চমক হিসেবে রাখা হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে লোনে অলিম্পিক লিও-তে গিয়ে দুর্দান্ত খেলা এনদ্রিক ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা কাসেমিরো।

এবারের বিশ্বকাপে সি গ্রুপে থাকা ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ মরক্কো, পানামা ও স্কটল্যান্ড। ​তারা মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। প্রতিযোগিতার প্রথম ম্যাচে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে ব্রাজিলকে। পরের দুই ম্যাচ হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ।

২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের চূড়ান্ত স্কোয়াডে যারা রয়েছেন-

গোলরক্ষক: আলিসন বেকার, এডারসন মোয়ারেস, ওয়েভারটন
ডিফেন্ডার: আলেক্স সান্দ্রো, ব্রেমার, দানিলো, দগলাস সান্তোস, গাব্রিয়েল, ইবানিয়েজ, লিও পেরেইরা, মার্কিনিয়োস, ওয়েসলি
মিডফিল্ডার: ব্রুনো গিমারায়েস, কাসেমিরো, দানিলো, ফাবিনিয়ো, লুকাস পাকেতা
ফরোয়ার্ড: এনদ্রিক, গাব্রিয়েল মার্টি‌নেল্লি, ইগর থিয়াগো, লুইজ এনরিকে, মাতিউস কুনিয়া, নেইমার জুনিয়র, রাফিনিয়া, রায়ান, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

জ্বালানি নিরাপত্তা আরও ৩৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় সহায়তা করবে বিশ্বব্যাংক। এনার্জি সেক্টর সিকিউরিটি এনহান্সমেন্ট প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশকে আরও ৩৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে সংস্থাটি। বিশ্বব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় সম্প্রতি এ ঋণ অনুমোদন হয়েছে।

গতকাল সোমবার বিশ্বব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতের জন্য আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরশীল। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এতে অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত দেশে জ্বালানি ও সার সরবরাহে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দরিদ্র জনগোষ্ঠী।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এনার্জি সেক্টর সিকিউরিটি এনহান্সমেন্ট প্রকল্পে অতিরিক্ত এই অর্থায়ন  এলএনজি আমদানি সহজ করে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে পেট্রোবাংলার এলএনজি আমদানির অর্থ পরিশোধে সহায়তা আরও বাড়ানো হবে। বিশ্বব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গত বছরের জুনে ৩৫ কোটি ডলারের মূল এনার্জি সিকিউরিটি এনহান্সমেন্ট প্রকল্পটি অনুমোদন করে।

উন্নয়ন সহযোগীদের সাড়া কম বাজেট ব্যবস্থাপনা চাপে

চলতি অর্থবছরের জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা থেকে ৬৭৫ কোটি ডলার বা প্রায় ৮৩ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ বাজেট সহায়তা পাওয়ার লক্ষ্যে দরকষাকষি চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। কিন্তু অর্থবছরের শেষ প্রান্তে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ সহায়তা পাওয়া অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের বাজেট সহায়তা। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে বাকি প্রায় ৪৭৫ কোটি ডলার ছাড় পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, মূল বাজেট প্রণয়নের সময় সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা থেকে প্রায় ৩৭৫ কোটি ডলার বা ৪৬ হাজার কোটি টাকার বাজেট সহায়তা পাওয়ার আশা করেছিল। এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের অস্থিরতায় জ্বালানি আমদানিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার আইএমএফের কাছে অতিরিক্ত ২০০ কোটি ডলার এবং বিশ্বব্যাংকের কাছে আরও ১০০ কোটি ডলারের জরুরি ঋণ সহায়তা চেয়েছে। তবে এসব ঋণের শর্ত নিয়ে সরকার ও দাতা সংস্থাগুলোর মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। ফলে সামগ্রিক বাজেট ব্যবস্থাপনা এখন বাড়তি চাপের মুখে পড়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ইতোমধ্যে ২৫ কোটি ডলারের বাজেট সহায়তা অনুমোদন করেছে। আরও ৭৫ কোটি ডলারের সহায়তা চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী ২৪ মে এ বিষয়ে এডিবির সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) থেকে ২৫ কোটি ডলার এবং জাপান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (জাইকা) কাছ থেকে আরও ৫০ কোটি ডলারের সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে, যা আগামী জুনের মধ্যেই ছাড় হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

অর্থ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, আইএমএফের আগের দুই কিস্তির ১৩০ কোটি ডলারের পাশাপাশি নতুন করে চাওয়া ২০০ কোটি ডলার জুনের আগে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।  বিশ্বব্যাংকের কাছে জরুরি সহায়তা হিসেবে ১০০ কোটি ডলার চাওয়া হলেও তারা আপাতত ৫০ কোটি ডলার দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছে। এর সঙ্গে আগের ১২০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তার ক্ষেত্রেও  শর্ত নিয়ে জটিলতা রয়েছে। ফলে জুনের মধ্যে অর্থছাড় পাওয়া কঠিন হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, প্রত্যাশিত বাজেট সহায়তা না এলে সরকারকে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে আরও বেশি ঋণ নিতে হতে পারে। এতে একদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়বে, অন্যদিকে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। এমন বাস্তবতায় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নকে সামনে রেখে বড় আকারের নতুন বাজেট পরিকল্পনাও চাপের মুখে পড়তে পারে।

দাতা সংস্থার শর্তে অস্বস্তি
জানা গেছে, ঋণের জন্য আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে বেশ কয়েকটি কঠিন শর্ত দিয়েছে। দাতারা ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ১৮(ক) ধারা বাতিলের শর্ত দিয়েছে। এ ধারার মাধ্যমে একীভূত হওয়া দুর্বল ব্যাংকগুলোর সাবেক মালিকদের আবারও নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

আইএমএফের অন্যতম শর্ত হলো, প্রতিবছর জিডিপির অন্তত দশমিক ৫ শতাংশ হারে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা। কিন্তু এখনও সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। এ জন্য রাজস্ব খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিলুপ্ত করে রাজস্বনীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুটি পৃথক বিভাগ গঠনের কাজ শুরু হয়। এ লক্ষ্যে অধ্যাদেশ জারি হলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। নতুন সরকার সেই অধ্যাদেশ বাতিল করে দেয়। তবে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক চায়, আগামী জুনের মধ্যেই এ-সংক্রান্ত আইন কার্যকর করা হোক।

অর্থ বিভাগের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, ব্যাংক খাত ও রাজস্ব খাত সংস্কারে নতুন সরকারের অবস্থান নিয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ সংশোধনের পর তারা একে আর্থিক খাত সংস্কারের ক্ষেত্রে পশ্চাৎমুখী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। অধ্যাদেশটি আইএমএফের পরামর্শেই করা হয়েছিল।
শুধু ব্যাংক খাত নয়, রাজস্ব খাত সংস্কার নিয়েও চাপ বাড়ছে। কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো, ভ্যাটের অভিন্ন ১৫ শতাংশ হার চালু, কর অব্যাহতি কমানো, টার্নওভার কর চালু এবং করপোরেট কর পুনর্বিন্যাসের মতো বিষয়ে দাতারা দ্রুত অগ্রগতি চাচ্ছে। একই সঙ্গে তারা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অন্যান্য খাতে ভর্তুকি সীমিত করার ওপরও জোর দিচ্ছে। তাদের মতে, সর্বজনীন ভর্তুকি অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করছে। তারা দরিদ্রদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকির সুপারিশ করছেন।

আইএমএফের ঋণ নিয়ে অনিশ্চয়তা
বাংলাদেশ ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়। পরে ২০২৫ সালে এর পরিমাণ বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলার করা হয়। এ পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলার পাওয়া গেছে। বাকি রয়েছে আরও ১৮৬ কোটি ডলার। তবে রাজস্ব আদায়, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক খাত সংস্কারে অগ্রগতি সন্তোষজনক না হওয়ায় আইএমএফের পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। সংস্থাটির এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন গত মার্চে ঢাকা সফরে এসে সরকারের কাছে তাদের অসন্তোষের বিষয়টি স্পষ্ট করেন।

গত মাসে ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল অতিরিক্ত ঋণ এবং চলমান কর্মসূচির কিস্তি ছাড় নিয়ে আলোচনা করে। পরে আরও কয়েক দফা আলোচনা হলেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। অন্য দাতা সংস্থাগুলোর বাজেট সহায়তার ক্ষেত্রেও আইএমএফের ‘গ্রিন সিগন্যাল’ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

কেন বাজেট সহায়তা প্রয়োজন
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা সমকালকে বলেন, রাজস্ব আদায়ে প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি না থাকা এবং বৈদেশিক প্রকল্প ঋণের প্রতিশ্রুতি কমে যাওয়ার কারণে বাজেট সহায়তা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য অস্থিতিশীলতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে অতিরিক্ত প্রায় ৩১৫ কোটি ডলার প্রয়োজন হবে। কারণ প্রকল্প ঋণ নির্দিষ্ট প্রকল্পের বাইরে ব্যবহার করা না গেলেও বাজেট সহায়তার অর্থ সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন খাতে ব্যবহার করতে পারে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) উন্নয়ন সহযোগীদের বৈদেশিক প্রকল্প ঋণের প্রতিশ্রুতি ও অর্থছাড় দুটিই কমেছে। অন্যদিকে ঋণ পরিশোধ বেড়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে অর্থছাড় কমেছে ১৯ শতাংশ। প্রতিশ্রুতি কমেছে ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

এদিকে এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে শুল্ক-কর আদায়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা, যা অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ। এর আগে গত অর্থবছরের পুরো সময়ে এনবিআরের ঘাটতি ছিল ৯২ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের ৯ মাসেই সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

বাজেট ঘাটতি মেটাতে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ উৎস তথা ব্যাংক ও অন্যান্য খাত থেকে মোট এক লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের ১২ মাসে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে যত টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তার প্রায় পুরোটা ৯ মাসেই নিয়েছে সরকার। এই সময়ে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে গত এপ্রিলে ৪৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। এ সময়ে ট্রেজারি বিলে আগের ঋণ পরিশোধ করেছে প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা। নিট ঋণ প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা।

বিশেষজ্ঞ মত 
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন সমকালকে বলেন, বাজেট সহায়তার প্রতিশ্রুত অর্থ আটকে থাকার প্রধান কারণ হচ্ছে সরকারের প্রতিশ্রুত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে ধীরগতি। তাঁর মতে, এসব সংস্কারে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে বৈদেশিক সহায়তার অর্থছাড়ের সম্ভাবনা খুবই সীমিত থাকবে।
বৈদেশিক সহায়তার বিকল্প হিসেবে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ঋণ নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে সুদের হার এমনিতেই উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। এ অবস্থায় সরকার যদি আরও বেশি ঋণ নেয়, তাহলে সুদের হার বাড়তে পারে। এতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ, যা আগেই মন্থর হয়ে পড়েছে, তা আরও সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হবে। তিনি মনে করেন, রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো না গেলে শেষ পর্যন্ত সরকারের সামনে ব্যয় সংকোচন ছাড়া খুব বেশি বিকল্প থাকবে না।

ড. জাহিদ হোসেন আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানি আমদানিতে অতিরিক্ত ডলার ব্যয়ের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারলে একদিকে যেমন করদাতাদের ওপর চাপ কমানো সম্ভব হবে, অন্যদিকে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে অর্থনীতির সামগ্রিক দক্ষতাও বাড়ানো সম্ভব হবে। তিনি বিশেষভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন জোরদার এবং মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থাপনা উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাতের সুশাসন, রাজস্ব সংস্কারসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক সংস্কারে কার্যকর অগ্রগতি না হলে চলমান সংকটের স্থায়ী সমাধান আসবে না।

বিএনপি বিরোধী দলের আসনে নারী এমপিরা উন্নয়ন তদারকি করবেন শিগগির আসন নির্দিষ্ট করা হবে

জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের (এমপি) আসনে উন্নয়ন তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হবে বিএনপির সংরিক্ষত নারী আসনের এমপিদের। ওই সব আসনের জন্য আধা-সরকারিপত্রও (ডিও লেটার) দিতে পারবেন তারা।

গতকাল সোমবার বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সংরক্ষিত নারী আসনে সরকারি দলের এমপিদের মতবিনিময় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এমপি সমকালকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কয়েকজন এমপি জানান, উন্নয়ন ছাড়াও বিরোধীদলীয় এমপিদের আসনের অন্যান্য কার্যক্রমে সরকারি দলের নারী এমপিদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি। তবে সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে, দুই ঘণ্টাব্যাপী সভায় ৩৬ জন এমপি উপস্থিত ছিলেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার সমকালকে বলেন, উন্নয়ন তদারকি করা সরকারি বা বিরোধী দলের এমপিদের কাজ নয়। উন্নয়নের দায়িত্ব স্থানীয় সরকারের। তারপরও এমপিরা এ কাজে যুক্ত থাকেন। এখন যদি নারী এমপিদের রাজনৈতিক কারণে বিরোধী দলের এমপিদের আসনের উন্নয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে তা শুধু অনৈতিক নয়; গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থি।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এ উদ্যোগ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব বাড়াবে। সরকার যদি ক্ষমতাসীন দলের নারী এমপিদের বিভিন্ন আসনের দায়িত্ব দেয়, তাহলে বিরোধীদলীয় জোটের নারী এমপিদের কোন কোন আসনের দায়িত্ব দেবে?

বিরোধী জোট বলছে, গণতন্ত্র হরণ
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সমকালকে বলেছেন, ‘শেখ হাসিনাও সংরক্ষিত আসনের আওয়ামী লীগ এমপিদের জেলার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তাদের মাধ্যমে বিরোধীদলীয় এমপিদের আসনে অযাচিত হস্তক্ষেপ করানো হতো। তারেক রহমান যদি শেখ হাসিনা হতে চান, তাহলে তো কিছু বলার নেই। কিন্তু এর ফল পাবেন।’

নবম সংসদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংরক্ষিত আসনের সরকারদলীয় ৩৮ নারী এমপিকে বিভিন্ন জেলার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এতে ওইসব জেলার সাধারণ আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ এমপিদের সঙ্গে ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের বিরোধ তৈরি হয়েছিল নারী এমপিদের। যেসব আসন থেকে তৎকালীন বিরোধী জোট শরিক বিএনপি, জামায়াত, এলডিপি ও বিজেপির এমপিরা নির্বাচিত হয়েছিলেন, সেখানেও অলিখিতভাবে সরকারদলীয় নারী এমপিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

এনসিপির মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ সমকালকে বলেন, ‘জনগণ নির্বাচিত করেছে একজনকে, আর সংসদীয় আসনে দায়িত্ব পালন করবে আরেকজন! এটা তো হতেই পারে না। সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক। যেসব আসনে সরকারি দলের প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন, সেখানে জনপ্রতিনিধিকে বাদ দিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকার জনগণের ওপর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিচ্ছে।’

বিরোধীদের আসনে দায়িত্ব
বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, সভায় সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে নারী এমপিদের বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত রেকর্ড সংখ্যক আসন পেতে সক্ষম হয়েছে ধর্মকে ব্যবহার করে, বিশেষ করে নারী ভোটারকে তারা কৌশলে প্রভাবিত করে জয়ী হয়েছে। এ অবস্থায় যেসব এলাকায় জামায়াত জিতেছে, সেসব আসনে বিএনপির নারী এমপিদের গুরুদায়িত্ব পালন করতে হবে।

নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে বণ্টন হয় নারী আসন। ২১৩ আসন পাওয়া বিএনপি জোট নারী আসন পেয়েছে ৩৬টি। ৭৭ আসন পাওয়া জামায়াত পেয়েছে ১২টি। ছয় স্বতন্ত্র এমপির জোট পেয়েছে বাকি একটি নারী আসন। তবে তিনিও বিএনপি নেত্রী। ৫০ নারী শপথ নিলেও সংসদে যোগ দেননি। আগামী ৫ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বাজেট অধিবেশনে যোগ দেবেন তারা।
সাধারণ আসনের এমপিরা সংসদীয় এলাকাভুক্ত স্থানীয় সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সরকারের সঙ্গে যোগাযোগে মাধ্যম হিসেবে কাজ করেন তারা। এর মাধ্যমে উন্নয়নকাজের তদারকি করেন।

আওয়ামী লীগ আমলে এমপিদের বছরে পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল নিজ নিজ আসনের উন্নয়নে। এই বরাদ্দে এমপিরা পছন্দ অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারতেন। সরকারদলীয় নারী এমপিদের নির্দিষ্ট আসন না থাকায় তারা বিরোধীদলীয় এমপিদের আসনে এসব বরাদ্দ দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সোমবারের বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন নারী এমপি সমকালকে বলেন, এলাকা ভাগ করে দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে কবে নাগাদ তা হবে, বলা হয়নি। যেসব জেলায় বিরোধী দল প্রভাব বিস্তার করেছে, সেসব এলাকাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে আলোচনা হয়েছে সভায়।

প্রধানমন্ত্রীর নানা নির্দেশনা 
সভায় নারী এমপিরা যে এলাকার বাসিন্দা, সেখানকার সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানান। তাদের বক্তব্য শুনে সরকারপ্রধান দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। নারী এমপিরা বলেন, লোকজন তাদের কাছে বিভিন্ন কাজ ও দাবি নিয়ে আসছে। এসব বিষয় কীভাবে সমাধান করবেন, তা জানতে চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন কয়েকজন। প্রধানমন্ত্রী নারী এমপিদের নির্দেশনা দেন নিজ নিজ এলাকার বিএনপির এমপিদের সঙ্গে সমন্বয় করে উন্নয়মূলক কাজ করতে। শিগগিরই তিনি এ বিষয়ে আরও নির্দেশনা দেবেন।

সরকারের উন্নয়ন কাজের তথ্য তৃণমূলে পৌঁছে দিতে নারী এমপিদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। তাই জাতীয় জীবনের প্রতিটি স্তরে নারীর অংশীদারিত্ব নিশ্চিত না করে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। শুধু সংসদে উপস্থিত থাকলেই চলবে না, মাঠ পর্যায়ের নারীদের বঞ্চনা ও অধিকারের কথা উচ্চকণ্ঠে তুলে ধরতে হবে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধ এবং আইনি সহায়তা নিশ্চিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

সভায় নারীর অর্থনৈতিক-সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। সাধারণ নারীদের সমস্যার কথা শোনা এবং তা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার বিষয় তদারকি, কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনের কঠোর প্রয়োগ হচ্ছে কিনা– এসব বিষয়ে সংসদীয় নজরদারি বাড়ানো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিএনপি ঘোষিত উন্নয়ন রূপকল্প বাস্তবায়নে নারীরাই হবেন অন্যতম চালিকাশক্তি– এ ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, সংরক্ষিত আসনের সদস্যরা নির্দিষ্ট দলের প্রতিনিধি নন, বরং তারা দেশের সব নারীর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবেন।

জানতে চাইলে সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি সমকালকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নির্দেশনা এসেছে। প্রধানমন্ত্রী নারী অধিকার আদায় ও ক্ষমতায়নে গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

দেওয়া হবে প্রশিক্ষণ
নবনির্বাচিত এবং প্রথমবার এমপি হওয়া নারী সদস্যদের সংসদীয় রীতিনীতি ও কার্যপ্রণালি সম্পর্কে দক্ষ করে তুলতে প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করবে বিএনপি। সংসদে কীভাবে পয়েন্ট অব অর্ডার উত্থাপন করতে হয়, বিল প্রণয়ন, বাজেট আলোচনা, প্রশ্নোত্তরে অংশ নিতে হয়, তা তাদের অবহিত করা হবে।

নোটিশ প্রদান, মন্ত্রীদের সংসদীয় দায়িত্ব, স্থায়ী কমিটির কার্যক্রম পরিচালনা ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজের সমন্বয়, নিজ এলাকার সমস্যা সংসদে তুলে ধরা এবং স্থানীয় উন্নয়নে করণীয় সম্পর্কে সম্যক ধারণা দিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে সভা সূত্রে জানা গেছে।

বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নারী এমপিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রেহানা আক্তার রানু, শাম্মী আক্তার, রাশেদা বেগম হীরা, বিলকিস ইসলাম, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, সুলতানা আহমেদ, ফরিদা ইয়াসমিন, শাকিলা ফারজানা, নিপুণ রায় চৌধুরী, জীবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবীবা, সাবিরা সুলতানা (মুন্নী), সানসিলা জেবরিন (প্রিয়াঙ্কা), সানজিদা ইসলাম তুলি, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ্, সুবর্ণা শিকদার (ঠাকুর), শামীম আরা বেগম স্বপ্না, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হুসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানছুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলম (আলো), ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা (রুমা), সানজিদা ইয়াসমিন (তুলি), নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার (ঊর্মি), মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা (নিশিতা) ও রেজেকা সুলতানা।

চাঁদাবাজি নিয়ে তর্কে জড়ালেন ২ এমপি

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে তর্কে জড়ালেন সরকারি দল বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর দুই সংসদ সদস্য। জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলনের ‘কারওয়ান বাজারে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়’ এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁর সঙ্গে এই তর্কে জড়িয়ে পড়েন বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মাহ্‌মুদা হাবীবা।

গতকাল সোমবার রাজধানীর গুলশানের হোটেল লেকশোরে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট সংলাপে এই বাহাসের ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই সংসদ সদস্যকে চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তর্কে লিপ্ত হতে দেখা যায়।

সংলাপে একজন বক্তার প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান দাবি করেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১২-এর অন্তর্ভুক্ত রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজারে প্রতিদিন দুই থেকে তিন কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়। শুধু কয়েকটি পাইকারি মুরগির দোকান থেকেই মাসে প্রায় ৬০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। তা ছাড়া সরকারের এক মন্ত্রীই বলেছেন, সমঝোতার ভিত্তিতে কিছু হলে সেটা চাঁদাবাজি হয় না। এটাতে চাঁদাবাজরা উৎসাহিত হয়।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের এ সদস্য বলেন, ‘যে সরকার পালিয়ে গেছে, আগে সেই সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই এই চাঁদাবাজিতে জড়িত ছিলেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন। এখন বর্তমানেও চাঁদাবাজি চলছে, সেটা বন্ধ করা নিয়ে আমি বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘চাঁদাবাজির সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত। আগে আগের সরকারের লোকরা করত, এখন কারা করছে তা এখানে বলছি না।’

এ সময় সংলাপের আরেক বক্তা বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য ও সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মাহ্‌মুদা হাবীবা জামায়াত এমপির বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, একজন এমপি বলছেন, তাঁর এলাকায় চাঁদাবাজি হচ্ছে। অথচ কারা করছেন, তিনি জানেন না। একজন মন্ত্রী কোন অনুষ্ঠানে কোন প্রসঙ্গে কী বলেছেন, সেটার খণ্ডিত অংশ প্রচার করে এমন চাঁদাবাজির ঢালাও অভিযোগ করা হলো। এটা খুবই দুঃখজনক।

তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের নাম-পরিচয়সহ তালিকা নিয়ে আইনের আশ্রয় নেওয়া উচিত। টকশো বা গোলটেবিলে বসে অভিযোগ করলেই হবে না।

এ সময় জামায়াতের এমপি সাইফুল বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, আবারও বলছি। এখানে আগেও সরকারি দলের লোকরা চাঁদাবাজি করত, এখনও সরকারি দলের লোকরাই করছে।’

জবাবে বিএনপির এমপি মাহ্‌মুদা বলেন, চাঁদাবাজি হলে মামলা করেন, তদবির নয়। জবাবে সাইফুল বলেন, পুলিশ সরকারি দলের লোকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা নেয় না।

দুই এমপির এমন তর্ক চলাকালে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক অধ্যাপক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘আজ এখানে সরকারি ও বিরোধী দলের এমপির মধ্যে যে বিতর্কটা দেখা গেল, সেটাও কিন্তু এক ধরনের নতুন ঘটনা ও পরিবর্তন।’

ট্রাম্প-শি বৈঠক যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, বছরে বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য কিনবে চীন আজ চীন সফরে যাচ্ছেন ভ্লাদিমির পুতিন

চীনের রাজধানী বেইজিং সফর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সফরে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ট্রাম্পের মধ্যে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠক থেকে কোন দেশ কী পেল, সে বিষয়ে নানা জল্পনা চলছিল। এর মধ্যেই বৈঠক-পরবর্তী নতুন বিবৃতি দিয়েছে হোয়াইট হাউস।

বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতিবছর কমপক্ষে এক হাজার ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের কৃষিপণ্য কিনবে চীন। ২০২৮ সাল পর্যন্ত এই ক্রয় চুক্তি বহাল থাকবে বলেও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

হোয়াইট হাউস জানায়, গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্রাম্প-শি বৈঠকে চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে যে আট কোটি ৭০ লাখ টন সয়াবিন কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা নতুন এই চুক্তির বাইরে থাকবে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ তদারকির জন্য ‘ইউএস-চায়না বোর্ড অব ট্রেড’ ও ‘ইউএস-চায়না বোর্ড অব ইনভেস্টমেন্ট’ নামে দুটি নতুন সংস্থা গঠনে ট্রাম্প-জিনপিং সম্মত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

তবে ওয়াশিংটনের এসব ঘোষণার বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি বেইজিং। বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, চীনের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়া এসব ঘোষণা নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সিঙ্গাপুরভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিনরিখ ফাউন্ডেশনের বাণিজ্যনীতি বিশেষজ্ঞ ডেবোরাহ এলমসের ভাষ্যমতে, অতিরিক্ত ১৭ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য কেনা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক হলেও ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের মার্কিন অর্থনীতিতে এর প্রভাব খুব সীমিত।

তাইওয়ান প্রশ্নও গুরুত্ব পেয়েছে বেইজিং বৈঠকে। চীনা গণমাধ্যমের দাবি, শি জিনপিং ট্রাম্পকে বলেছেন, তাইওয়ান ইস্যু দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি সঠিকভাবে সামাল না দিলে সংঘাতের ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। এরই প্রেক্ষিতে তাইওয়ান প্রশ্নে সুর নরম করেছেন ট্রাম্পও। সফর শেষে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাইওয়ানের স্বাধীনতার পক্ষে নন তিনি। একই সঙ্গে আগে ঘোষিত তাইওয়ানের কাছে এক হাজার ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।

এর পরই তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তাইওয়ান কোনো সংঘাত উস্কে দেবে না, তবে নিজেদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নেও আপস করবে না। তিনি বলেন, তাইওয়ান আগে থেকেই স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে ট্রাম্পের সফরের চার দিনের মাথায় আজ মঙ্গলবার বেইজিং সফরে যাচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলছে, একই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার শীর্ষ দুই নেতার সফর প্রমাণ করছে, বৈশ্বিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বেইজিং। পশ্চিমা বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাশিয়ার সঙ্গে নতুন জ্বালানি চুক্তি সইয়ের পথে হাঁটতে পারে চীন। খবর বিবিসি, এনবিসি ও আলজাজিরার।

যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামিক স্কুলে গুলি, বন্দুকধারীসহ নিহত ৫

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোর ক্লেইরমন্ট এলাকায় একটি ইসলামিক সেন্টার ও মসজিদে বন্দুকধারী দুই কিশোরের গুলিতে তিনজন নিহত হয়েছে। পরে তারা নিজেরাও গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছে। স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সন্দেহভাজন বন্দুকধারীদের একজনের বয়স ১৭ বছর, অন্যজনের ১৯ বছর।

ইসলামিক সেন্টারটি ক্লেইরমন্ট এলাকায় অবস্থিত। সেখানে সান দিয়েগো কাউন্টির সবচেয়ে বড় মসজিদটির অবস্থান। পাশাপাশি সেখানে শিশুদের ইসলামী বিদ্যালয়ও রয়েছে। সেখানে যখন এই হামলার ঘটনা ঘটে, তখন মসজিদের ভেতর শিশুরা ক্লাসে ছিল। এই ইসলামিক সেন্টার ক্যাম্পাসের ভেতরেই ‘আল রশিদ স্কুল’ নামে একটি রয়েছে।

ঘটনার পর ওপর থেকে ধারণ করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ যখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে, তখন শিশুরা একে অপরের হাত ধরে নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তার স্বার্থে আশেপাশের অন্যান্য স্কুলগুলোও তাৎক্ষণিকভাবে লকডাউন করা হয়েছিল। হামলাটিকে একটি ‘বিদ্বেষমূলক অপরাধ’ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া এক আত্মঘাতী কিশোরের সন্ধানে তদন্তের সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে। ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগো মসজিদে গুলির খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত সেখানে পৌঁছায়। তারা ভবনের সামনে গুলিবিদ্ধ তিনজনকে পড়ে থাকতে দেখেন। এর পরপরই পুলিশ খবর পায় যে, কাছেই একটি গাড়ি থেকে একজন মালিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। পরে মসজিদ থেকে কিছু দূরে একটি গাড়ির ভেতর থেকে ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী দুই সন্দেহভাজন হামলাকারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারা নিজেদের গুলিতে আত্মহত্যা করেছে।

নিহতদের মধ্যে মসজিদের একজন নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন। তিনি হামলা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তার সাহসী পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এ ব্যাপারে সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‌‘তার এই পদক্ষেপ বীরত্বপূর্ণ। নিঃসন্দেহে তিনি আজ অনেক মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ এখনও নিহত তিনজনের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) ঘটনাটির তদন্ত করছে। এ বিষয়ে সারারণ নাগরিকদের কাছে তথ্যও চেয়েছে।

সিবিএস-এর বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এফবিআই ঘটনাটিকে বিদ্বেষমূলক অপরাধ হিসেবে তদন্ত করছে এই কারণে যে, এক সন্দেহভাজনের মায়ের পাওয়া কিছু লেখা থেকে এই ইঙ্গিত মিলেছে। হামলার প্রায় দুই ঘণ্টা আগে এক সন্দেহভাজন কিশোরের মা পুলিশকে ফোন করে জানান যে, তার ছেলে বেশ কয়েকটি বন্দুক ও তার গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়েছে। তার ছেলের সঙ্গে আরেকজন রয়েছে। তারা দুজনই সামরিক ছদ্মবেশী পোশাকে ছিল।

স্কট ওয়াহল জানান, ওই তরুণের আচরণ কেবল ‘আত্মঘাতী’ মানুষের মতো ছিল না, বরং তা অন্য কিছুর ইঙ্গিত দেয়। তরুণটি বাড়িতে একটি চিরকুট রেখে যায়, যাতে ‘সাধারণ বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও উগ্র কথাবার্তা’ লেখা ছিল। তবে চিরকুটটিতে ওই নির্দিষ্ট মসজিদ, অন্য কোনো স্থান বা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকির উল্লেখ ছিল না। তদন্তকারীরা খবর পেয়ে এরই মধ্যে একটি স্থানীয় হাই স্কুলে যান, যেখানে দুই কিশোরের একজন শিক্ষার্থী ছিল। এছাড়া পুলিশ একটি শপিং মলেও তল্লাশি চালায়, যেখানে ওই গাড়িটির অবস্থান ট্র্যাক করা হয়েছিল।

পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল জানিয়েছেন, হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে সান ডিয়েগো কাউন্টির সবচেয়ে বড় মসজিদ হওয়ায় এটিকে একটি বিদ্বেষমূলক অপরাধ বলে ধারণা করা হচ্ছে। যখন গুলির ঘটনা ঘটে, তখন পুলিশ কর্মকর্তারা সন্দেহভাজনের মায়ের সাথে কথা বলছিলেন এবং তারা মসজিদ থেকে কিছু দূরে ছিলেন।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি একটি ‘সেমি-অটোমেটিক অস্ত্র’ থেকে প্রায় ৩০ রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ৯১১-এ কল করেন এবং ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ছুটির দিনগুলোতে এই মসজিদে প্রচুর ভিড় হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভালো যে, ঘটনাটি শুক্রবার ঘটেনি। কারণ সেদিন রাস্তায় মানুষের উপচেপড়া ভিড় থাকে।’

ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগোর পরিচালক ইমাম ত্বহা হাসান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘কোনো উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা অত্যন্ত জঘন্য ও আপত্তিকর। এই স্থাপনাটি একটি উপাসনালয়, কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয়।

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি এই সহিংস হামলায় ‘স্তম্ভিত ও আতঙ্কিত’। এটি এমন একটি জায়গা ‘যেখানে পরিবার ও শিশুরা একত্রিত হয়। প্রতিবেশীরা শান্তিতে ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে উপাসনা করে। ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা ভীতি প্রদর্শন ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য সহ্য করবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে একটি ‘ভয়াবহ পরিস্থিতি’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রাথমিক কিছু তথ্য পেয়েছি। আমরা এই বিষয়টি খুব জোরালোভাবে খতিয়ে দেখব।’