Home Blog Page 126

হামের টিকার আওতায় ৯৮ শতাংশ শিশু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দেশে বর্তমানে ৯৮ শতাংশ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনা হয়েছে। বাকি ২ শতাংশ শিশুকেও টিকাদানের আওতায় আনতে সরকার কাজ করছে।

আজ বুধবার সকালে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সেখানে চীনের দূতাবাস ও চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে ৩ লাখ ৮০ হাজার ডোজ পোলিও টিকা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে কেন কিছু শিশু হামের টিকার বাইরে ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হবে। তবে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন জুনে 
দেশে বর্তমানে ভিটামিন এ ক্যাপসুলের সাময়িক ঘাটতি থাকলেও আগামী জুনের মধ্যে তা পূরণ হবে। এরপর জুন মাস থেকে দুই ধাপে শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে টেনে নিয়ে পাশের জঙ্গলে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর চিৎকার শুনে আশেপাশে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী এগিয়ে গিয়ে তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক তানভীর হোসেন বলেন, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।’

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হলের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি তার পিছু নেন। হঠাৎ দেখা যায় ওই ব্যক্তি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর গলায় দড়ির মতো কিছু একটা পেঁচিয়ে টেনে পাশের জঙ্গলে নিয়ে যায়। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ৪৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, “আমরা কয়েকজন বাইকে করে পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল অতিক্রম করার সময় হঠাৎ একজনের চিৎকার শুনতে পাই। আমরা সেখানে গেলে পাশের জঙ্গল থেকে একটা মেয়ে আতঙ্কিত অবস্থায় আসে। তার পায়ে স্যান্ডেল ছিল না। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মাটি, ধুলা লেগে ছিল। আমি জিজ্ঞেস করি, ‘আপু কী সমস্যা?’ তখন ওই শিক্ষার্থী জানান, কেউ একজন তাকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করছে। আমরা উপস্থিত সবাই তৎক্ষণাৎ জঙ্গলে ঢুকে অভিযুক্তকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করি, কিন্তু অন্ধকারে তাকে পাওয়া যায়নি। এরপর আমরা নিরাপত্তা শাখায় ফোন দিই। তারা আসার পরে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীকে মেডিকেল সেন্টারে পাঠানো হয়।”

এদিকে এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর জাকসুর নেতারাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা শাখার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গার সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে অভিযুক্তকে শনাক্ত করার চেষ্টা করেন এবং দ্রুত এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ‘আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তকে চিহিৃত করেছি। তবে তার পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। পুরো ক্যাম্পাস সিসিটিভির আওতায় রয়েছে। আমরা কোনো না কোনো ফুটেজ দেখে তার পরিষ্কার ছবি পাব বলে আশা করছি। আমরা ইতিমধ্যে পুলিশকে এই বিষয়ে জানিয়েছি। অতি দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।’

২৭তম বিসিএসে উত্তীর্ণ আরও ৯৬ জনকে নিয়োগে প্রজ্ঞাপন

২৭তম বিসিএসে উত্তীর্ণ আরও ৯৬ জনকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। আজ বুধবার বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সুপারিশে তাদের নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

আইনি লড়াইয়ে জিতে দুই দশক পর গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ২৭তম বিসিএসের ৬৭৩ জন চাকরিপ্রার্থীকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১৮ মে’র মধ্যে ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়/বিভাগের নির্ধারিত কার্যালয়ে যোগদান করতে হবে। ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়/বিভাগ থেকে পরবর্তী কোনো নির্দেশনা না পেলে ওই তারিখই তিনি যোগদান করবেন। নির্ধারিত তারিখে যোগদান না করলে তিনি চাকরিতে যোগদান করতে সম্মত নন বলে ধরে নেওয়া হবে এবং নিয়োগপত্র বাতিল হয়ে যাবে।

এতে আরও বলা হয়, এ নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগপ্রাপ্তদের জ্যেষ্ঠতা অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে তাদের ব্যাচের নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রথম যে তারিখে নিয়োগ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় সেই তারিখ থেকে ভূতাপেক্ষিকভাবে নিয়োগ আদেশ কার্যকর হবে। ব্যাচের প্রথম নিয়োগ প্রজ্ঞাপনের যোগদানের তারিখ থেকে তাদের ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা বজায় থাকবে। তবে এর ফলে তারা কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধাদি পাবেন না।

২০০৭ সালের ২১ জানুয়ারি বিএনপি সরকারের আমলে ২৭তম বিসিএসের প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ৩ হাজার ৫৬৭ জন উত্তীর্ণ হন। পরে ওই বছরের ৩০ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ওই ফল বাতিল করে। পরে দ্বিতীয় মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০০৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ফল অনুযায়ী দ্বিতীয় মৌখিক পরীক্ষায় ৩ হাজার ২২৯ জন উত্তীর্ণ হয়। পরে তাদের চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এ নিয়ে পরে হাইকোর্টে তিনটি পৃথক রিট দায়ের করেন প্রথম পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই হাইকোর্ট ২৭তম বিসিএস পরীক্ষার প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিলকে বৈধ ঘোষণা করে। সেই রায়ের বিরুদ্ধে রিট আবেদনকারীরা আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন।

গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি নিয়োগবঞ্চিত ১ হাজার ১৩৭ জনকে নিয়োগের নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। সরকারকে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি চীনের এজেন্ট ছিলেন, স্বীকার করলেন ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক মেয়র

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের উপশহর আর্কেডিয়ার সাবেক মেয়র আইলিন ওয়াং চীনের অবৈধ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার অভিযোগ স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায়, ওয়াং ২০২০ সালের শেষ দিক থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত চীনের পক্ষে কাজ করেছেন। এ ঘটনায় তিনি বিদেশি সরকারের অবৈধ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার এক অভিযোগে দোষ স্বীকারে সম্মত হয়েছেন।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াং মার্কিন সরকারকে না জানিয়েই চীনের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন এবং বেইজিংপন্থী বিভিন্ন বক্তব্য প্রচার করেছেন।

আটান্ন বছর বয়সী ওয়াং ‘যুক্তরাষ্ট্র সংবাদ কেন্দ্র’ নামে একটি ওয়েবসাইট পরিচালনা করতেন। সেখানে চীনা বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকদের জন্য সংবাদ পরিবেশনের দাবি করা হলেও নিয়মিত চীনসমর্থক লেখা প্রকাশ করা হতো।

মার্কিন প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা ইয়াওনিং সানের সঙ্গে মিলে এই কাজ করতেন। সান গত বছরের অক্টোবরে একই ধরনের অভিযোগে দোষ স্বীকার করে চার বছরের কারাদণ্ড পান।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ওয়াং এমন একটি প্রবন্ধও পুনঃপ্রকাশ করেছিলেন, যা চীনা কর্মকর্তাদের লেখা ছিল এবং যেখানে শিনজিয়াং অঞ্চলে উইঘুর মুসলমানদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়।

ঘটনার পর সোমবার মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করেন ওয়াং। আর্কেডিয়া সিটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। এই অভিযোগে তার সর্বোচ্চ দশ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

ওয়াংয়ের আইনজীবীরা বলেন, তিনি ব্যক্তিগত জীবনের ভুলের জন্য ক্ষমা চাইতে চান। তবে তারা দাবি করেন, এই কর্মকাণ্ড তার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জন অ্যান্ড্রু আইজেনবার্গ বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কেবল মার্কিন জনগণের স্বার্থেই কাজ করা উচিত।”

তিনি আরও বলেন, “চীনা সরকারের নির্দেশনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সম্পর্ক গোপন রেখে কোনো জনপ্রতিনিধির জনআস্থার অবস্থানে থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”

এদিকে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

এই ঘটনা এমন সময় সামনে এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং বেইজিংয়ে বৈঠকে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বৈঠকে ইরান যুদ্ধ, বাণিজ্য ও তাইওয়ান পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

শান্ত-মিরাজে লিড বাড়ছে বাংলাদেশের

রিভিউ নিয়ে একবার জীবন পেলেও তার সদ্ব্যবহার করতে পারলেন না লিটন দাস। শাহীন আফ্রিদির বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে টাইমিংয়ে ভুল করেন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে লিটনের ব্যাট থেকে আসে ২৮ বলে ১১ রান। তার বিদায়ে ১৯০ রানে ৫ম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

নাজমুল-মিরাজ জুটিতে বাংলাদেশের লিড এখন ২৩৪ রানের। নাজমুল ৮৫ রানে এবং মিরাজ ১৭ রানে অপরাজিত আছেন।

পঞ্চম দিনে বড় লক্ষ্য দেওয়ার লক্ষ্যে শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং করতে চেয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। হাসান আলীর ডেলিভারিতে অহেতুক শট খেলতে গিয়ে শান মাসুদের হাতে ধরা পড়েন তিনি। আউট হওয়ার আগে মুশফিক ৩৭ বলে ২২ রান করেন।

এর আগে ৩ উইকেটে ১৫২ রান দিয়ে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পাওয়ায় ১৭৯ রানে এগিয়ে থেকে ব্যাটিংয়ে নেমেছে স্বাগতিকরা। বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতার বাধায় সোমবার খেলা হয় কেবল ৪৮.৪ ওভার। এই সময়ে ১৪৫ রান যোগ করে বাংলাদেশ। ১০৫ বলে ছয় চারে ৫৮ রানে ব‍্যাট করছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তার সঙ্গে ২৪ রানের জুটি গড়া মুশফিকুর রহিম ৩১ বলে তিন চারে ব‍্যাট করছেন ১৬ রানে।

মাত্রাতিরিক্ত চুল পড়ছে? ডায়েটে রাখুন ৫ খাবার

দিনে ১০০টি চুল পড়া স্বাভাবিক- এমনটাই বলেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এর বেশি চুল পড়লে সচেতন হতে হবে। যত্নের ধরনে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় কিছু পুষ্টিকর খাবার যোগ করতে হবে। চুল পড়া কমাতে ডায়েটে রাখতে হবে শাক-সবজি, প্রোটিন জাতীয় খাবার। এতে চুলের স্বাস্থ্য ভালো হবে এবং চুল পড়া আগের তুলনায় কমবে।

ক্যাপসিকাম
চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সালাদ ও চাইনিজ খাবারে ক্যাপসিকামের ব্যবহার বাড়াতে পারেন। এতে কমে যাবে চুলপড়ার সমস্যা। এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। ক্যাপসিকাম সেদ্ধ করে তা পনিরের সঙ্গেও খেতে পারেন।

ডিম
বায়োটিন ও প্রোটিনের সবচেয়ে ভালো উৎস হলো ডিম। এটি চুলপড়া রোধে কার্যকর। অনেকে চুল ডিমের কুসুম লাগান। এটি চুল ঝরঝরে করে। তবে ভেতর থেকে পুষ্টি যোগাতে প্রতিদিন ডিম খাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে চুল পড়া অনেকটাই কমবে।

মাছ
চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মাছ রাখুন। মাছে ভিটামিন বি২, ওমেগা ৩, ভিটামিন ডি, ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস। মাছ খেলে চুলের মান ভালো হয়। চুলও বড় হয় এবং কমে চুল পড়ার সমস্যা।

মসুর ডাল
সব ধরনের ডালেই প্রোটিন থাকে। তবে সবচেয়ে বেশি প্রোটিন থাকে মসুরের ডালে। এ ডাল খেলে চুলের স্বাস্থ্য ভালো হয়। চুল ভালো রাখতে সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার মসুরের ডাল খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

মিষ্টি আলু
চুল পড়ার সমস্যা কমাতে নিয়মিত মিষ্টি আলু খেতে পারেন। রূপ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ আলুতে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখবে।

বরেণ্য অভিনেতা আতাউর রহমান আর নেই

বাংলা নাট্যাঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য অভিনেতা, নাট্যকার ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান আর নেই  (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা রওনক হাসান ও  অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু ।

রওনক হাসান গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘না ফেরার দেশে চলে গেলেন স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, মঞ্চের প্রেরণাদায়ী সারথি আতাউর রহমান। আমরা তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি।’

তাঁর মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

এর আগে সোমবার বিকেলে আতাউর রহমান গুরুতর অসুস্থের খবর আসে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে বলে জানার তাঁর মেয়ে শর্মিষ্ঠা রহমান।

সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘আব্বার অবস্থা আসলে খুব একটা ভালো না। তার শরীরের একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে পড়েছে—চিকিৎসক তেমনটাই জানিয়েছেন। সবার কাছে আমার আব্বার সুস্থতার জন্য দোয়া চাই।’

তিনি জানান, গত শুক্রবার বাসায় পড়ে যাওয়ার পর আতাউর রহমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এরপর প্রথমে তাকে গুলশানের একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে আইসিইউ সুবিধা ওই মুহূর্তে না পাওয়ার কারণে পরে তাকে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

ভর্তির পরই তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। ওইদিনই কিছুটা শারীরিক উন্নতি হওয়ায় লাইফ সাপোর্ট খুলে দেয়া হয়। কিন্তু আবার অবস্থার অবনতি হলে রোববার (১০ মে) তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়েছে। এর দুইদিন পরই চির বিদায়ের খবর এলো আজ।

১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্ম নেওয়া আতাউর রহমান বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বহুমাত্রিক পরিচয়ের অধিকারী। তিনি একাধারে নাট্যজন, অভিনেতা, মঞ্চনির্দেশক ও লেখক। স্বাধীনতাযুদ্ধ-পরবর্তী মঞ্চনাট্য আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে পরিচিত। দেশের সংস্কৃতি ও নাট্যাঙ্গনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক।

বগুড়া জনবসতিতে ২২ প্রতিষ্ঠানের অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবসা বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স আছে মাত্র পাঁচটির

জনবসতি থেকে নিরাপদ দূরত্ব, পর্যাপ্ত খোলা জায়গা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও জরুরি প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা না থাকলে কোনো প্রতিষ্ঠানকে অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবসার অনুমতি দেওয়ার কথা না সরকারের। তবে বগুড়ায় ২২টি প্রতিষ্ঠান জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবসা করছে। এর মধ্যে পাঁচটি বাদে অন্যগুলোর বিস্ফোরক অধিদপ্তরের অনুমতিও নেই। একটি প্রতিষ্ঠানের কারখানাও জনবসতিপূর্ণ এলাকায়। এক জায়গার অনুমতি নিয়ে অন্য জায়গায় কারখানাও করা হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগীয় বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সহকারী পরিদর্শক মোজাহিদুল ইসলাম জানান, অক্সিজেন বা অ্যাসিটিলিনের মতো একটি গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন লাগলে এর ভয়াবহতা মুহূর্তেই কয়েকশ মিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। আশপাশে ভয়ংকর বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

সম্প্রতি সরেজমিন দেখা গেছে, শহরের বিভিন্ন ব্যস্ততম এলাকায় অক্সিজেন সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে। গ্যাস সিলিন্ডারগুলো আবাসিক ভবনের দেয়াল ঘেঁষে কিংবা ছোট দোকানঘরে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি অত্যন্ত দাহ্য অ্যাসিটিলিন ও অন্যান্য শিল্প গ্যাসও থাকছে।

রাজশাহী বিভাগীয় বিস্ফোরক পরিদপ্তর সূত্র বলছে, বগুড়া জেলায় বর্তমানে গ্যাস মজুত ও সরবরাহের বৈধ লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫। বিভাগীয় বিস্ফোরক পরিদপ্তরের কর্মকর্তা মোজাহিদুল ইসলাম জানান, বগুড়া সদরের পূর্ব পালশা ও শিবগঞ্জের মোকামতলা এলাকার পিওর অক্সিজেন সাপ্লায়ার, শহরের কারমাইকেল রোডের অক্সিজেন পয়েন্ট ও কামারগাড়ীর ফায়ার সেফটি ইকুইপমেন্টস এবং শেরপুরের গাড়ীদহ এলাকার স্পেকট্রা অক্সিজেন লিমিটেডের মজুত ও সরবরাহ লাইসেন্স আছে।

লাইসেন্স এক জায়গায়, কার্যক্রম অন্যত্র 
বগুড়ায় বড় পরিসরে অক্সিজেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান স্পেকট্রা অক্সিজেন লিমিটেডের রিফিলিং ও মজুতের লাইসেন্স আছে শেরপুর উপজেলার গাড়ীদহ এলাকার প্লান্টের নামে। বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী, লাইসেন্সে উল্লিখিত নির্দিষ্ট স্থানেই গ্যাস সংরক্ষণ, রিফিলিং ও বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা। কারণ এসব স্থাপনার জন্য নিরাপদ দূরত্ব, খোলা জায়গা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি শর্ত ভেঙে ২০ কিলোমিটার দূরে বগুড়া শহরের জনবহুল তিনমাথা রেলগেট এলাকায় একমাত্র রিফিলিং পয়েন্টের কার্যক্রম চালাচ্ছে। অথচ আশপাশেই আবাসিক ভবন, দোকানপাট ও যানবাহনে পূর্ণ সড়ক। যেখানে গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কার ঢুকছে, সেখান থেকেই খালাস ও সিলিন্ডার রিফিল করা হচ্ছে।

বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিধি অনুযায়ী, এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পৃথক লাইসেন্স, ঝুঁকি মূল্যায়ন ও স্থান উপযোগিতা যাচাই বাধ্যতামূলক। কিন্তু স্পেকট্রা অক্সিজেন লিমিটেড তিনমাথা এলাকার এই কার্যক্রমের জন্য আলাদা অনুমোদন নেয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা মোজাফ্‌ফর হোসেন বলেন, দিনের তুলনায় রাতেই এখানে গ্যাস খালাস ও রিফিলিং বেশি হয়। গভীর রাতে একাধিক ট্যাঙ্কার এনে অনেকটা গোপনে কাজ সারা হয়।
জানতে চাইলে স্পেকট্রা ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ম্যানেজার মেহেদী হাসান বলেন, শেরপুরের গাড়ীদহে তাদের রিফিলিং পয়েন্ট নেই। তাই তারা বগুড়ার তিনমাথাতে শুরু থেকেই কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা 
শহরের কামারগাড়ী, তিনমাথা, মফিজ পাগলা মোড়, বনানী, বাদুড়তলা, ফুলতলা ও মেডিকেল রোডসংলগ্ন এলাকা এখন ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস মজুতের বড় কেন্দ্র। যেসব দোকান বা ছোট গুদামে সাধারণত হার্ডওয়্যার, ওয়েল্ডিং সরঞ্জাম বা ইলেকট্রনিক পণ্য থাকার কথা, সেসব জায়গায় রাখা হচ্ছে অক্সিজেন সিলিন্ডার, দাহ্য অ্যাসিটিলিন, নাইট্রাস অক্সাইডসহ বিভিন্ন শিল্পের গ্যাস। বেশির ভাগ গুদামে একই স্থানে বিভিন্ন ধরনের গ্যাস একসঙ্গে মজুত করায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ছে।

কামারগাড়ী এলাকায় মেসার্স নবেল ট্রেডার্স নতুন পরিচয়ে নবেল ফায়ার ফাইটিং নামে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। একই প্রতিষ্ঠানের আরেকটি শাখা মফিজ পাগলা মোড়ে সিলভী ট্রেডার্স অক্সিজেন নামে পরিচালিত হচ্ছে। তাদের ট্রেড লাইসেন্স ও ফায়ার লাইসেন্স থাকলেও বিস্ফোরক পরিদপ্তরের অনুমোদন নেই। প্রতিষ্ঠানের মালিক এস এম শাহেদ বলেন, ‘এভাবেই আমরা ব্যবসা করি। কখনও সমস্যা হয়নি।’

একই চিত্র সিয়াম অক্সিজেন অ্যান্ড ফায়ার সেফটি নামে প্রতিষ্ঠানের; যেখানে শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে দাহ্য গ্যাসের ব্যবসা চলছে। প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী নয়ন মণ্ডল জানালেন, তাঁর বিস্ফোরক লাইসেন্স নেই এবং এ জন্য আবেদনও করেননি। লাইসেন্স ছাড়া কেন ব্যবসা করছেন– প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমরা ছোট ব্যবসায়ী, আমাদের এগুলো লাগে না।’

বাদুড়তলা এলাকার নিউ নবেল ট্রেডার্সের বিস্ফোরক লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলেও তারা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। শহরের বনানীর মামুন ট্রেডার্স, সেফ লাইফ অক্সিজেন সার্ভিস, ফুলতলার নূর এন্টারপ্রাইজসহ আরও ১০টি বিক্রয়কেন্দ্রের ক্ষেত্রে প্রায় একই ধরনের চিত্র পাওয়া গেছে।

বগুড়া জেলা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, নিয়ম ভঙ্গকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে তালিকা করা হচ্ছে। শহরের ভেতরে যেভাবে বিভিন্ন গ্যাসের সিলিন্ডার মজুত করা হচ্ছে, তা উদ্বেগজনক। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় উচ্চচাপের গ্যাস সিলিন্ডার সংরক্ষণ করা ঝুঁকিপূর্ণ। দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

তবুও এডিপিতে বিদেশি ঋণ বাড়াচ্ছে সরকার

২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদেশি ঋণের সুদ, আসলসহ পরিশোধ করা হয়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকা, যা এযাবৎকালের সর্বোচ্চ। এই ধারাবাহিকতায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত গত ৯ মাসেই বিদেশি ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে ৪৩ হাজার ৬১ কোটি টাকা। বিদেশি ঋণ পরিশোধের এই হার গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি। পরিশোধের হার এমন এক পর্যায়ে এসে ঠেকেছে, প্রতি মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে যে পরিমাণ ঋণ পাওয়া যায়, পরিশোধ করতে হয় তার চেয়ে বেশি। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হবে সামনে। প্রতিবছর এ জন্য পরিশোধ করতে হবে চার হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা। এ রকম আরও কয়েকটি প্রকল্পের ঋণ পরিশোধ শুরুর সময় ঘনিয়ে আসছে।

বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের এ রকম চাপের মুখে আরও বড় অঙ্কের ঋণ নিচ্ছে সরকার। খসড়া প্রস্তাবনা অনুসারে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য (এডিপি) বিদেশি উৎস থেকে মোট এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হচ্ছে। এটি চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে থাকা বিদেশি ঋণ বাবদ বরাদ্দের চেয়ে ৩৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। কাটছাঁটের পর চলতি সংশোধিত এডিপিতে বিদেশি ঋণ হিসেবে বরাদ্দ অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার কোটি টাকা, যা মূল এডিপিতে ছিল ৮৬ হাজার কোটি টাকা। অবশ্য এই ঋণের হিসাবের মধ্যে সামান্য কিছু অনুদানও আছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকার সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, ঋণ পরিশোধের চাপের মুখে নতুন ঋণ নিলে পরিশোধের চাপ তো পড়বেই। সমকালকে তিনি বলেন, অভ্যন্তীরণ ও আন্তর্জাতিক যে পরিস্থিতি, তাতে বিদেশি ঋণ নিয়ে সরকারের হাতে ভালো আর কোনো বিকল্পও নেই। কারণ, ইরানে হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতার অভিঘাতের কথা ভাবতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির প্রভাবও এড়ানোর সুযোগ নেই। এমন পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ উৎসের চেয়ে বিদেশি উৎসের ঋণ গ্রহণ কৌশল হিসেবে ঠিকই আছে। তবে এ ক্ষেত্রে মূল বিষয় হচ্ছে, ঋণের অর্থে করা প্রকল্প থেকে অর্থনীতিতে গতি আনার মতো কতটা সেবা তৈরি হবে, সে প্রশ্নের সমাধান করা। উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে অর্থ পাওয়া গেলেই সেটা যেনতেন কোনো প্রকল্প নিয়ে খরচ করে ফেললে হবে না, যা অতীতে বহু প্রকল্পের ক্ষেত্রে দেখা গেছে। অর্থাৎ, প্রকল্পের গুণমান নিশ্চিত করতে হবে। না হলে নতুন ঋণ বিদেশি ঋণের বোঝা আরও ভারী করবে।

Arif Hazra 1778552969

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ বিভাগের (আইএমইডি) এক প্রতিবেদন অনুসারে, গত পাঁচ অর্থবছরে সরকারের প্রকল্প বাস্তবায়নে বৈদেশিক ঋণ-অনুদাননির্ভরতা বেড়েছে। কমেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ ব্যবহারের হার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়,  গত ২০২০-২১ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে মোট বরাদ্দের মধ্যে প্রকল্প ঋণ-অনুদান হিসেবে বরাদ্দ ছিল ৩০ দশমিক ১০ শতাংশ অর্থ। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ হার বেড়ে হয়েছে ৩৫ দশমিক ৮১ শতাংশ। অন্যদিকে, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অভ্যন্তরীণ সম্পদের হার কিছুটা কমে এসেছে। গত ২০২০-২১ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে মোট বরাদ্দের ৬৯ দশমিক ৯০ শতাংশ দেওয়া হয় অভ্যন্তরীণ সম্পদ থেকে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ হার কমে হয়েছে ৬৪ দশমিক ১৯ শতাংশ।

সহজ শর্তে ঋণের সুযোগ সীমিত হয়ে আসছে। বাড়ছে বাজারভিত্তিক হারের ঋণ। এতে পরিশোধে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। আগামীতে তা আরও বাড়বে। বাংলাদেশের প্রধান তিন  উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা হচ্ছে–  বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও জাপান সরকারের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা। এর মধ্যে জাইকা গত মাসে তাদের ঋণের সুদের হার বাড়িয়েছে। এখন জাইকার ঋণের সুদহার ৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। ২০২২ সালে ছিল শূন্য দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। গত এপ্রিলের আগ পর্যন্ত সুদ ছিল ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ। ২০১৫ সাল পর্যন্ত এ হার ছিল  শূন্য দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের আইডিএ ঋণের সুদের হার এখন ২ শতাংশ। তবে বিশেষ প্রয়োজনে কঠিন শর্তেও বিশ্বব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হয়, যার সুদের হার ৪ শতাংশের বেশি। এডিবি থেকে ২ শতাংশ হারে ঋণ নেয় বাংলাদেশ। বিশেষ প্রয়োজনে কঠিন শর্তে নেওয়া ঋণের সুদের হার ৪ শতাংশের বেশি।

মূলত ২০১৫ সালে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পর থেকে উন্নয়ন সহযোগীদের দেওয়া ঋণের ওপর সুদ বাড়তে শুরু করে। মাথাপিছু আয় বেড়ে যাওয়াসহ আরও কিছু বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে ঋণে সুদের হার বাড়িয়ে থাকে উন্নয়ন সহযোগীরা। করোনা-পরবর্তী অর্থনীতি পুনর্গঠনে সারাবিশ্বেই ঋণের চাহিদা বেড়েছে। এ কারণে অন্য দেশগুলোর জন্যও সুদের হার বাড়িয়েছে উন্নয়ন সহযোগীরা। তবে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণকে কেন্দ্র করে উল্লেখযোগ্য হারে কমছে নমনীয় ঋণ। বাড়ছে বাজারভিত্তিক হারের ঋণ।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে বৈদেশিক ঋণ-অনুদানের প্রায় পুরোটাই মূলত ঋণ। অনুদান খুবই সামান্য। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্যমতে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে যে অর্থ ছাড় হয়েছিল, তার ৯০ দশমিক ৬৭ শতাংশই ছিল ঋণ। মাত্র ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ ছিল অনুদান।

ইআরডি এবং পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের চাহিদা এবং গত ৯ মাসের এডিপি বাস্তবায়নের অগ্রগতির ভিত্তিতে বিদেশি ঋণ বাবদ বরাদ্দের এই খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। শিগগিরই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে অনুমোদনের জন্য আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত এডিপি উপস্থাপন করা হবে।
এদিকে আইএমইডির হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের মার্চ মাস পর্যন্ত গত ৯ মাসে বিদেশি ঋণের মোট বরাদ্দের ৪০ শতাংশ খরচ করা সম্ভব হয়েছে। ৭২ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দের মধ্যে ব্যয়ের পরিমাণ ২৮ হাজার ৮৬০ কোটি টাকার মতো।

সারাদেশে আইনজীবী সমিতির নির্বাচন যেভাবে হচ্ছে

দেশের ৮৪টি আইনজীবী সমিতির মধ্যে চলতি বছর ৪১টিতে নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টিতে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা অংশ নিয়েছেন। তার ৯টিতে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ পদে বিজীয় হয়েছেন। বাকিগুলোতে একাধিক পদে জয়লাভ করেছেন।

সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল পিরোজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ১৩টি পদের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সাতটি পদে জয় পান আওয়ামীপন্থিরা। এরপর আর আওয়ামীপন্থিদের নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।

১৬ এপ্রিলের পর থেকে ২৬টি আইনজীবী সমিতির নির্বাচন হয়েছে। ২৩টিতে বিএনপিপন্থিরা জয়লাভ করেছেন। এর মধ্যে ১০টি সমিতির সবকটি পদে তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন। মাদারীপুরসহ পাঁচ জেলায় জামায়াতপন্থি আইনজীবীরা এক বা একাধিক পদে জয় পেয়েছেন। বাংলাদেশ বার কাউন্সিল সূত্রে মোট ৩৮টি বারের ফলাফল নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনটির ফল জানা যায়নি।

আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরে বিরোধী দলের ওপর নানা দমনপীড়ন চালানো হলেও আইনজীবী সমিতির মতো পেশাজীবী সংগঠনগুলোয় বিএনপিসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরা নির্বাচন করতে পেরেছেন। তখন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী এএম মাহাবুব উদ্দিন খোকন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে তিনি ছয়বার এই আইনজীবী সমিতির সম্পাদক নির্বাচিত হন। একইভাবে সারাদেশে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা চাপে থাকলেও সমিতিগুলোর নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন ও জয়লাভ করেছেন।

সর্বশেষ গত ২৯-৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২৩টি পদে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা বিজয়ী হয়েছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত ঢাকা আইনজীবী সমিতির অ্যাডহক কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়, বারের সভাপতির অনুমতি ছাড়া কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। নির্বাচনের ঠিক আগে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আওয়ামীপন্থি ১৬ জন আইনজীবীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। ফলে আওয়ামীপন্থি আর নির্বাচন করতে পারেনি। ফলে ২৪টি পদের মধ্যে ২৩টিতে বিএনপি এবং একটি পদে জামায়াতের প্রার্থী জয়লাভ করে।

আগামীকাল থেকে দুই দিনব্যাপী (১৩-১৪ মে) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির অ্যাডহক কমিটি ২৪ ঘণ্টার নোটিশে বিশেষ সাধারণ সভা করে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয়। এর মাধ্যমে আওয়ামীপন্থি ৪২ আইনজীবীর মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেওয়া হয়। ফলে সুপ্রিম কোর্ট বারেও ঢাকা আইনজীবী সমিতির মতো একতরফা নির্বাচন হতে যাচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি একটি পেশাজীবী সংগঠন। এখানে আইনজীবী হিসেবে সবাই নির্বাচন করে থাকেন। সুপ্রিম কোর্ট বারের ৭৮ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দলের প্রার্থীকে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হলো।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু সমকালকে বলেন, এই স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে কলঙ্কজনক, যা আইনজীবীরা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।

আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের বাদ দিয়ে এই প্রথম সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল সমকালকে বলেন, সারাদেশে সব জেলা বারে যেভাবে নির্বাচন হচ্ছে, সুপ্রিম কোর্ট বারেও একইভাবে নির্বাচন হবে। তিনি বলেন, যে কারণে ওনারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি, একই কারণে বারে নির্বাচন করার সুযোগ পাচ্ছেন না।

গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসান তারিক চৌধুরী সমকালকে বলেন, ‘আমরা চাই সুপ্রিম কোর্ট বারে স্বাধীন ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নির্বাচন হোক। কিন্তু এবারের নির্বাচনে সুপ্রিম কোর্ট বার সমিতি সংবিধান লঙ্ঘন করে অন্যায়ভাবে বহুযোগ্য প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে। এর মধ্য দিয়ে স্বৈরাচার আমলের ধারাবাহিকতায় একটি প্রহসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।’

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ১৪টি পদে আগামী এক বছরের জন্য নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন আইনজীবীরা। মোট ভোটার ১১ হাজার ৮৯ জন।

১৫ জেলায় আওয়ামীপন্থিরা জয় পেয়েছেন
১৫টি জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে অংশ নিয়ে আওয়ামীপন্থিরা ৯টিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। এর মধ্যে মাদারীপুরে গত ৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৫টি পদের মধ্যে ১৩টিতে জয় পেয়েছেন আওয়ামীপন্থিরা। সভাপতি এবং আপ্যায়ন ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে জামায়াতপন্থিরা জয় লাভ করেন।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সিলেটে সাধারণ সম্পাদকসহ ১০টি পদে আওয়ামীপন্থিরা জয়লাভ করেন। সভাপতিসহ ৭টি পদে জয় পান বিএনপিপন্থিরা। জামায়াতপন্থিরা বিজয়ী হন তিনটিতে।
নোয়াখালী জেলা বারে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদকসহ ৯ পদে আওয়ামীপন্থিরা জয়লাভ করেছেন। সভাপতিসহ পাঁচটি পদে বিএনপি এবং একটি সদস্য পদে জামায়াতের প্রার্থী নির্বাচিত হন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৫ পদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদকসহ ৯টি পদে জয়লাভ করেন আওয়ামীপন্থিরা। বিএনপিপন্থিরা পেয়েছেন ৫টি পদ। লক্ষ্মীপুরে আওয়ামীপন্থি আটজন আইনজীবী বিজয়ী হয়েছেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ছয়টি পদে বিএনপিপন্থিরা জয়লাভ করেন।
পিরোজপুরে গত ১৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা। ১৩টি পদের মধ্যে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সাতটি পদে বিজয়ী হয়েছেন তারা। বিএনপিপন্থিরা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদসহ ছয়টি পদে জয়ী হন।

কক্সবাজারে ১৭টি পদের মধ্যে সাতটিতে আওয়ামীপন্থি বিজয় হয়েছেন। চারটিতে বিএনপিপন্থি ও ছয়টি পদে জামায়াতপন্থি আইনজীবীরা বিজয়ী হন।

ঠাকুরগাঁওয়ে গত ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১২টি পদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদকসহ পাঁচটিতে আওয়ামীপন্থিরা জয় পেয়েছেন। সভাপতিসহ সাতটিতে জয়ী হয়েছেন বিএনপিপন্থিরা।
এ ছাড়া ফরিদপুরে চারটি, কুষ্টিয়ায় তিনটি, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ ও কুমিল্লায় দুটি করে পদে আওয়ামীপন্থিরা জয়লাভ করেন। সুনামগঞ্জে শুধু সাধারণ সম্পাদক পদে আওয়ামীপন্থি আইনজীবী জয় পান।

আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে ১০ জেলায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপিপন্থিরা নির্বাচিত
শরীয়তপুর, ময়মনসিংহ, জামালপুর, চাঁদপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, মেহেরপুর, পাবনা, টাঙ্গাইল ও মুন্সীগঞ্জে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। ফলে সবকটি আইনজীবী সমিতিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন বিএনপপিন্থিরা।

১৩ জেলায় বিএনপি-জামায়াত
শেরপুর বারে ১৫টি পদের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১১টিতে বিএনপিপন্থিরা জয়ী হন। বাকি পদে জামায়াতসহ অন্যরা জয়ী হয়েছেন। একইভাবে খুলনায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৪টি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপিপন্থিরা।

ঝালকাঠিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১১ পদে এবং নড়াইলে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন বিএনপিন্থিরা।

রাজশাহীতে ২১টি পদের মধ্যে ২০টিতে জয়লাভ করেছেন বিএনপিপন্থিরা। সহসভাপতি পদে গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি মনোনীত প্যানেল থেকে জয়লাভ করেছেন। নওগাঁয় সভাপতিসহ ১২টি পদে জয় পেয়েছেন বিএনপিপন্থিরা। সাধারণ সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হন।

সিরাজগঞ্জে ১৭টি পদের মধ্যে ১৬টিতে জয়লাভ করেন বিএনপিপন্থিরা। অন্যজন স্বতন্ত্র। ফেনীতে ১৫ পদের মধ্যে সভাপতি-সম্পাদকসহ ১০টিতে জয়লাভ করেছেন বিএনপিপন্থিরা। জামায়াতপন্থিরা পেয়েছেন চারটি পদ। একটি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া মাগুরা, দিনাজপুর, পঞ্চগড়ে বিএনপি ও জামায়াতপন্থিরা নির্বাচিত হন।