Home Blog Page 131

ইরান আমেরিকার যুদ্ধ বিশ্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ইরান আমেরিকার যুদ্ধ পুরো বিশ্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কিছু মানুষ তেল নিয়ে অনৈতিক ব্যবসা শুরু করেছে, যা দেশ ও জাতির জন্য ক্ষতিকর।

আজ শুক্রবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের মির্জা রুহুল আমিন মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন আয়োজিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন এবং এলজিইডি ও জেলা পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকল্পে ঢেউটিন, চেক ও বরাদ্দপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আলমগীর বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বিশ্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বাংলাদেশে সরবরাহের জন্য তেলের সমস্যার সৃষ্টি হয়নি। এই সমস্যাটা তৈরি করা হয়েছে। কিছু মানুষ এখানে অনৈতিক ব্যবসা শুরু করেছে। যে ব্যবসাটা আমাদের দেশের জন্য জাতির জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছু মানুষ তেল নিয়ে কালো বাজারে বিক্রি করছে, এটা করতে দেওয়া যাবে না। তাই, এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা আফতাব উদ্দিন, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মামুন বিশ্বাস, সদর থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, পৌর বিএনপি সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরীফ প্রমুখ।

রাতে পাকিস্তানে যাচ্ছে ইরানের প্রতিনিধি দল, সফর করবে রাশিয়াতেও

ইরানের একটি প্রতিনিধি দল শুক্রবার রাতে পাকিস্তানে যাচ্ছে। সূত্রের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে ডন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরএনএ সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

আইআরএনএ জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার থেকে আঞ্চলিক সফরে বের হচ্ছেন। তিনি পাকিস্তানের পাশাপাশি ওমান ও রাশিয়া সফর করবেন। এই সফরের উদ্দেশ্য দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ’ নিয়ে আলোচনা করা।

ডন জানিয়েছে, ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি ছোট প্রতিনিধি দল শুক্রবার রাতে ইসলামাবাদে পৌঁছাবে। যুক্তরাষ্ট্রের লজিস্টিক ও নিরাপত্তা দলও ইতোমধ্যে পাকিস্তানের রাজধানীতে পৌঁছেছে।

তবে এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে আরাগচি ও তাঁর সফরসঙ্গীরা কোনো মার্কিন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বা অন্য কোনো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ফিরবেন কি না সে বিষয়েও তথ্য জানা যায়নি। তবে শুক্রবার ইসলামাবাদে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বেশ জোরদার করা হয়েছে। শহরজুড়ে বসানো চেকপোস্টের পাশাপাশি সম্ভাব্য আলোচনার স্থানে যাতায়াতের সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ডন জানিয়েছে, প্রতিনিধিদের ইসলামাবাদ সফরের এই খবর সামনে আসার আগে আরাগচির সঙ্গে ফোনে আলাপ করেছিলেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। ওই ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি এবং চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে দুজন মতবিনিময় করেন। এএফপি জানিয়েছে, ইসহাক দারের পাশাপাশি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসিম মুনিরের সঙ্গেও আরাগচির আলাপ হয়েছে।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আঞ্চলিক পরিস্থিতির অগ্রগতি, যুদ্ধবিরতি এবং মার্কিন-ইরান সম্পৃক্ততার প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে মতবিনিময় করেছেন দার ও আরাগচি। ইসহাক দার তাঁর পক্ষ থেকে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে টেকসই আলোচনা ও সম্পৃক্ততার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি এ বিষয়ে পাকিস্তানের ধারাবাহিক ও গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুই নেতা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে একমত হয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-৩ | পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্র নেই, আছে ‘লুঙ্গিতন্ত্র’ ও ‘তোষণতন্ত্র’

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক।।
ভারতকে বলা হয় পৃথিবীর ‘বৃহত্তম গণতন্ত্র’। এজন্যে ভারত বহির্বিশ্বে সম্মানিত। পশ্চিমবঙ্গে কি আসলেই গণতন্ত্র আছে? মানূষ তো সেখানে দেখছে ‘লুঙ্গিতন্ত্র’ ও ‘তোষণতন্ত্র’, মমতা থাকা অবধি এথেকে মুক্তি নেই? প্রায়শ: আমি বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের ‘টকশো’ বা ‘বিতর্ক’ দেখি। পাকিস্তানে ৩জনের টকশো হলে ৩জনই বোধগম্য কারণে কমবেশি ‘এন্টি-ভারত’। ভারতে (কলকাতায়) ৪জনের টকশো-তে দেখা যায়, ২জন ‘এন্টি-ভারত’ এবং প্রায়শ ‘এন্টি-হিন্দু’, যদিও এসব আঁতেলরা সবাই হিন্দু। এর কোন বোধগম্য কারণ নেই! এসব আঁতেলদের কারণে লাহোর বা করাচিতে ৮-দশক আগে ধুমধাম করে যে ‘রাম-নবমী’ হতো এখন তা হয়না। এঁরা থাকে হিন্দু মহল্লায়, বৎসরে ১দিন দীপাবলীতে শব্দের প্রতিবাদ জানায়, কিন্তু দিনে ৫-বার মাইকে আযান দেয়ার প্রতিবাদ করেনা। এসব থেকে মুক্তি মিলতে টিএমসি-কে বাই-বাই জানাতে হবে।

আমরা যারা বাইরে থাকি, তারা বাইরে থেকে দেখলে পশ্চিমবঙ্গকে ‘ভারত’ মনে হয়না, ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ বলে ভ্রম হয়? বাংলাদেশে ইসলামী মৌলবাদের উত্থান ঘটেছে, মমতার প্রশয়ে পশ্চিমবঙ্গে ইসলামী সন্ত্রাসীরা মাথাচাড়া দিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের পূর্বসূরীরা ‘ডাইরেক্ট একশান’ দেখেছেন। ভাবছেন, সেটি ছিলো বৃটিশ যুগ, এটি ভারত। কাশ্মীরের কথা ভুলে গেলে চলবে কেন? সদ্য মুর্শিদাবাদের কথা মনে আছে তো? পুরো বাংলাই মুর্শিদাবাদ হয়ে যাবে, কাশ্মীর হবে, যদিনা এখনো ‘৫টাকায়’ ডিমভাত-র লোভ সামলাতে না পারেন। পশ্চিমবঙ্গের বাংলাভাষী হিন্দু সত্যিই যদি বাঙ্গালী ও বাংলাভাষাকে ভালবাসেন তাহলে হিন্দুকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে, কারণ বাংলাভাষী মুসলমানের আরবী ও উর্দুপ্রেম বাড়বাড়ন্ত। পশ্চিমবঙ্গকে বাংলার ভাষার প্রাণকেন্দ্র হিসাবে টিকে থাকতে হলে মমতা ব্যানার্জীকে বিদায় করতে হবে, দুধেল গাইদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে হবে।

লগ্নজিতা চক্রবর্তী সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি নিয়ে ভাবুন। মেদিনীপুরের ভগবানপুরে এক বেসরকারি স্কুলে তিনি গান গাইছিলেন। পাঁচ-ছ’টি গান গেয়েছেন। এরপর তিনি একটি শ্যামা সঙ্গীত ‘জাগো মা’ গাইতে শুরু করলে স্কুলের মালিক মেহবুব মল্লিক বাঁধা দেন্। মা মা বন্ধ করতে বলেন, গায়িকাকে হেনস্তা করেন, অভিযোগ আছে গায়িকা জীবন নিয়ে পালিয়ে আসেন। পুলিশ মেহবুব মল্লিককে গ্রেফতার করেছে। আচ্ছা ভাবুন, ঐ স্কুলের মালিক যদি জ্যোতি মল্লিক হতেন, গায়িকা যদি মুর্শিদী গান গাইতেন, তাহলে কি কিছু হতো? না, হতো না। মেহবুব মল্লিকের রাগটা শ্যামার প্রতি, গানের প্রতি, হিন্দু’র প্রতি, ভারতের প্রতি। পশ্চিমবঙ্গে এখনো হিন্দু ৭০%, তবু মেহবুব মল্লিকদের শ্যামা সঙ্গীত ভালো লাগেনা, গাইতে দেবেন না? জনসংখ্যা ৫০-৫০ হলে, কোন গানই গাইতে দেবেন না, কারণ ইসলামে গান হারাম।

ভারত ততক্ষণই গণতান্ত্রিক বা ধর্ম-নিরপেক্ষ থাকবে যতক্ষণ হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকবে। এরপর কি হবে, তা এখনকার বাম ও তথাকথিত সেক্যুলারদের ভাবার মত মেধা নেই? মুর্শিদাবাদ ছিলো হিন্দু সম্রাট শশাঙ্কের মাটি, আজ তা এক আরব্য উন্মাদের হাতে রক্তে রঞ্জিত। হিন্দুরা ভুলে গেলে চলবে কেন যে, বাঙ্গালী মুসলমান আকরাম খাঁ ১৯৩৭ সালে বঙ্কিম চন্দ্রের ‘আনন্দমঠ’ বইটি পুড়িয়েছিল কলকাতার রাস্তায়। পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশী কিছু মুসলমান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সন্ত্রাসী তৎপরতায় জড়িত, অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে, এঁরা কলকাতায়ও সক্রিয় না থাকার কোন কারণ নেই? বাংলাদেশে সদ্য এক ছাত্রনেতা খায়রুল দেওয়ান বেশ জোরের সাথেই বলেছেন, ‘সমস্ত হিন্দুদের মুসলমান বানাইয়া ফালামু’। একথার অর্থ শুধু যে বাংলাদেশের হিন্দু তা নয়, এরমধ্যে আপনিও আছেন।

গত ডিসেম্বর (২০২৫) মাসেও কুলপিতে বজ্রংবলী মুর্ক্তির মাথা কাটা হয়েছে, মন্দিরের মাইক ভাংচুর হয়েছে। বাংলাদেশে একটি প্রচলিত কথা আছে, তা হচ্ছে, ‘কচুগাছ কাটতে কাটতে ডাকাত হয়’? মুর্ক্তির মাথা কাটতে কাটতে ওঁরা ১৯৪৬-র মত হিন্দুর মাথা কাটবে না তো? বাঁচতে হলে ২০২৬-এ পুরো পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু সমাজকে গোপাল পাঠা হয়ে উঠতে হবে। একটি গল্প বলি: ভগবান রামের শরাঘাতে রাবন যখন মৃত্যু শয্যায় শায়িত রামচন্দ্র তখন ভ্রাতা লক্ষ্ণণকে তার কাছে পাঠান রাবনের শেষ ইচ্ছে জানার জন্যে। লক্ষ্ণণ মুমূর্ষু রাবনের কাছে পৌঁছলে লঙ্কাধিপতি রাবন বলেছিলেন, আমার পরাজয়ের কারণটা কি জানো? আমার সব ছিলো, দশ মাথা, অর্থ-বিত্ত, সৈন্য-সামন্ত সবই ছিলো, শুধু আমার ভাই আমার সাথে ছিলোনা। রামচন্দ্রের বিজয়ী হবার কারণ হলো, তোমার মত ভাই তাঁর সাথে ছিলো। পাঠক, ঘরের শত্রু বিভীষণদের থেকে সাবধান হউন। আর একজন হিন্দুকে ভাই বা বোন ভাবতে শিখুন।
শেষকথা বলবো: পশ্চিমবাংলার হিন্দুরা, আপনাদের শিড়দাঁড়াটা একটু সোঁজা করে রুখে দাঁড়ান।
ধন্যবাদ।

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-২ | কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল দেখছেন, এবার বিজেপি দেখুন না?

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক।।
আমি বাঙ্গালী হিন্দু’র বাঁচার সংগ্রামের পক্ষে কথা বলছি। এ সময়ে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস এন্টি-হিন্দু এবং মুসলিম তোষণ করছে; বিজেপি হিন্দুর পক্ষে লড়ছে, তাই বিজেপি’র কথা বলছি। কংগ্রেস দেখেছেন, বাম-রাজনীতি দেখেছেন, তৃণমূল দেখছেন, একবার বিজেপি দেখুন না? আবারো বলছি, আমি বাংলাদেশী হিন্দু, মুসলমানের সাথে বেড়ে ওঠা, আমি দেখেছি কিভাবে বঙ্গ-সংস্কৃতি আরব্য-ইসলামী সংস্কৃতিতে পরিণত হয়, তাই বলছি, বাঁচতে হলে গা-ঝাড়া দিয়ে উঠুন, তৃণমূলকে বিদায় করুন। পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা খারাপ, এখানে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ শ্লোগান ওঠে; মেয়র কলকাতাকে পাকিস্তান বানাতে চায় এবং মুখ্যমন্ত্রী অবৈধদের পক্ষে, এসআইআর-র বিপক্ষে রাজপথে নামেন।

একটু অতীতের দিকে ফিরে তাকালে দেখবেন, অবিভক্ত বাংলায় কোন হিন্দু মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেননি। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, খাজা নাজিমুদ্দিন; এ. কে. ফজলুল হক; ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। এর কারণ হচ্ছে, মুসলমানরা এককাট্টা হয়ে মুসলিম লীগকে ভোট দিয়েছে, হিন্দুরা কংগ্রেস, কমিউনিষ্ট নানা ভাগে বিভক্ত ছিলো। ২০২৬-এ তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপি, কংগ্রেস, বামরা এক হয়ে লড়তে পারেন না? রাজনীতিতে সবই সম্ভব, তৃণমূলকে হটানো জরুরী। আগে রাজ্যটা বাঁচান, এরপর না হয় আবার রাজনীতি করুন। গত নির্বাচনে কংগ্রেসের অধীরবাবু’র পরাজয় থেকেও কি শিক্ষা নেয়া যায়না? এমনিতে বাংলায় কংগ্রেস বাদ দিলে সর্বদা কেন্দ্রের বিপক্ষে ছিলো, এতে কি লাভ হয়েছে? বিজেপি একবার শাসন করুক না? বিজেপি কি মমতার থেকেও খারাপ?

২০২৬-এ তৃণমূলের পতন না হলে পশ্চিমবঙ্গের কোনায় কোনায় বহু মুর্শিদাবাদ তৈরী হবে, অসংখ্য হুমায়ুন কবীর জন্ম নেবে। বাংলাদেশকে হিন্দু-শূন্য করতে ৫০ বছর সময় লেগেছে, একই ধারা পশ্চিমবঙ্গে শুরু হবে এবং ২০৪০ নাগাদ ইসলামের আসল রূপ পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা দেখতে পাবে। হিন্দুরা ধীরে ধীরে বিহার ও উড়িষ্যায় আশ্রয় নেবে। মহল্লার পর মহল্লা উজাড় হয়ে যাবে, মুসলমানরা সেখানে দখল নেবে। কলকাতার সাংস্কৃতিক আন্দোলন মুখ থুবড়ে পড়বে, নাচ-গান, যাত্রা, অভিনয়, নাটক, সিনেমা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাবে। শিল্প-সাহিত্য আলোচনা বন্ধ হবে, মন্দিরের দুয়ারে গরুর মাথা পাওয়া যাবে, মুর্ক্তি ভাঙ্গবে, মন্দির আক্রমন হবে, পূজায় বাঁধা দেয়া হবে, আজানের সময় পূজা বন্ধ রাখতে হবে, বাদ্যযন্ত্র নিষিদ্ধ হবে, রমজানে দিনের বেলা খাবার দোকান জোরপূর্বক বন্ধ রাখতে হবে, বাইরে খেলে আপনি মার খাবেন।

ভোটে জিততে হলে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি আসনে একজন করে গোপাল পাঠা দরকার। এই গোপাল পাঠারা ভোটকেন্দ্রে মমতা ব্যানার্জী’র পোষা ‘দুধেল গাইদের’ শায়েস্তা করবে। মমতার গুণ্ডাবাহিনীর বিরুদ্ধে পাড়ায় পাড়ায় মহল্লায় মহল্লায় ‘হিন্দু সুরক্ষা বাহিনী’ গড়ে তোলা উচিত। ২০২৬-এ ব্যর্থ হলে হিন্দু বাবুদের খবর আছে। মমতাকে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানরা ভালবাসে, বাংলাদেশের মুসলমানরা ভালবাসে, পাকিস্তানিরা নিজেদের লোক ভাবে। কেন বলুন তো? কারণ তিনি তাদের স্বার্থরক্ষা করছেন। মুসলমানের ভোটে, মুসলমানের জন্যে তিনি হিন্দুর বিরুদ্ধে কাজ করেন। পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি কেন্দ্রের দিকে না তাকিয়ে ‘যার যা আছে তাই নিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে’। কেন্দ্রের সীমাবদ্ধতা আছে, ‘চাচা আপন বাঁচা’। ‘যেমন কুকুর তেমনি মুগুর’ হওয়া ছাড়া উপায় নাই?

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-১ | পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু’র কুম্ভকর্ণের ঘুম ভেঙ্গেছে?

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক।।
ফেইসবুকে ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ দেখছিলাম, একটি মেয়ে রাস্তায় পড়ে থাকা একটি পদ্মফুলের পতাকা উঠিয়ে এক জায়গায় টাঙ্গিয়ে দিলেন। আরো একটি ছোট্ট ভিডিওতে দেখলাম মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী রাস্তা দিয়ে সদলবলে হন্হন্ করে হেটে যাচ্ছেন, হটাৎ একটি ছেলে তাঁকে প্রণাম করতে ব্যারিকেডে ঢুকে পরে, মুখ্যমন্ত্রী ঘাবড়ে দু’পা পিছিয়ে যান? তাঁকে বেশ ভীত ও রুগ্ন দেখাচ্ছিলো। কেন জানি মনে হলো, এতো পরাজিত প্রার্থীর দৃশ্যপট। সম্ভবত: পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু’র কুম্ভকর্ণের ঘুম ভেঙ্গেছে। বাংলাদেশের হিন্দু, পাকিস্তানের হিন্দু ও কাশ্মীরের হিন্দুর দুরবস্থা দেখে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু হয়তো নিজেদের দুরবস্থা টের পাচ্ছে। বিষয়টি বিজেপি বা তৃণমূল নয়, ২০২৬’র নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু’র বাঙ্গালী হিন্দু হিসাবে টিকে থাকার সংগ্রাম।

আমি ভারতীয় নই, পশ্চিমবাংলার অধিবাসী নই, বিজেপি-কংগ্রেস-তৃণমূল নই, পশ্চিমবাংলায় কে জিতলো তাতে আমার কিছু আসে-যায় না, তবু আমার মাথাব্যথা আছে, আমি বাংলাদেশের মানুষ, থাকি আমেরিকায়, দূর থেকে অনেক কিছু স্পষ্ঠ দেখতে পাই বিধায় এ লেখা। এবার তৃণমূল জিতলে পশ্চিমবাংলা ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ হবে, তা গ্যারান্টি দিয়ে বলা যায়? একটি ঘটনা বলি: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিয়ে আমার একটি বই কলকাতায় ছাপাতে চেষ্টা করি, এতে তেমন কিছু নেই, অন্তত: দু’জন প্রকাশক বইটি ছাপতে রাজি হননি। এতে এমন কিছু নেই, শুধু বিভিন্ন ঘটনার বিশ্লেষণ করে বোঝানোর চেষ্টা হয়েছে যে, তৃণমূল হটাও, বাংলা বাঁচাও। কেন তাঁরা ছাপাতে সাহস পাননি? কারণ, তাদের ধারণা, নির্বাচনের আগে এটি প্রকাশ হলে ‘দুধেল গাইরা’ হামলা করতে পারে?

তৃণমূল জিতলে বাঙ্গালী হিন্দু বাঁচবে না, পশ্চিমবঙ্গকে বাঁচাতে হবে, বাঙ্গালী হিন্দুকে বাঁচাতে হবে। বাঙ্গালী হিন্দু না থাকলে বাংলাভাষা থাকবে না, বাঙ্গালী সংস্কৃতি থাকবে না, আপনার অস্তিত্ব থাকবে না, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নামগোত্রহীন হয়ে পড়বে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গুরুত্বহীন হয়ে যাবেন। তাই বাংলাদেশে ইসলামী মৌলবাদের জয়জয়কার, পশ্চিমবঙ্গ সেই দিকেই হাটছে। ইসলামী মৌলবাদের উত্থান মানে হিন্দুদের বিদায়। পাকিস্তানে ১৯৪৭ সালে ২৯.৭% হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘু ছিলো, এখন প্রায় নেই, কারণ মুসলমানরা সংখ্যায় ,বেশি হলে অন্যদের সেখানে থাকতে দেয়না। বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডে ১৯৭০-এ দেড়কোটি হিন্দু ছিলো, ৫৫ বছরে এ সংখ্যা বাড়েনি, তবে মুসলমানের সংখ্যা বেড়েছে আড়াই গুন্। কথা একটা-ই, মুসলমান বাড়লে আপনি (হিন্দু) আউট। সমগ্র মুসলিম বিশ্বের এটিই ইতিহাস।

আমি হিন্দু হিসাবে বাঁচতে চাই, আমি ধর্মান্তরিত হতে চাইনা, আরব্য সংস্কৃতি নয় আমি বঙ্গ-সংস্কৃতিকে ধারণ করতে চাই, আমি ভারতীয় সংস্কৃতিকে লালন করতে চাই, এটি অপরাধ নয়? ২০২৬-এ আপনার ভাগ্য আপনাকেই গড়তে হবে, আপনার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে পশ্চিমবঙ্গকে বসবাসযোগ্য করে তুলতে হবে, এনআরসি, এসআইআর পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে, অনুপ্রবেশ ঠেকাতে হবে, ইউনিফর্ম সিভিল কোড চালু করতে হবে, তৃণমূল কংগ্রেসকে বিদায় করতে হবে। কন্যাশ্রী ও লক্ষ্মীশ্রী’র ওপর ভরসা করে থাকলে সময় আসবে যখন কন্যাও থাকবেনা, লক্ষীও থাকবেনা। সামনের নির্বাচনে বিজেপি জিতলে বাঙ্গালী হিন্দু বাঁচবে, তৃণমূল জিতলে হিন্দু মরবে। আগের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি হেরেছে, হিন্দুরা মুর্শিদাবাদ থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে। আসামে বিজেপি জিতেছে রোহিঙ্গারা বিদায় হচ্ছে। আত্মঘাতী বাঙালী হিন্দু বাঁচবে না মরবে তা নির্ধারণ হবে ২০২৬-এ, এটি হিন্দুদের লাষ্ট চান্স।

বাংলাদেশ ফুটবল কোচের সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকবেন ২০-২৫ জন

জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে পড়েছে তিন শতাধিক আবেদন। হামজা চৌধুরী-শমিত সোমদের কোচ নিয়োগের জন্য কাজ শুরু করে দিয়েছে চার সদস্যের বিশেষ কমিটি। বাফুফের টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান কামরুল হাসান হিলটনের সঙ্গে কমিটিতে আছেন সাবেক ফুটবলার ছাইদ হাসান কানন, ইকবাল হোসেন ও টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সাইফুল বারী টিটু। দায়িত্ব পাওয়ার পর বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে কাজও শুরু করে দিয়েছে কোচ নিয়োগে বিশেষ এই কমিটি।

এই কমিটির কাজ হলো ৩০০ বায়োডাটা থেকে সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করা। জাতীয় দলের কোচ হওয়ার জন্য ২০-২৫ জনের শর্টলিস্ট হবে বলে গতকাল সংবাদ মাধ্যমকে জানান কমিটির অন্যতম সদস্য ছাইদ হাসান কানন, ‘আমরাও কোচ। আমরা জানি কোন ধরনের কোচ আমাদের লাগবে। আর আমাদের কোন ধরনের কোচ অতীতে ছিল। আমাদের বলা হয়েছে, শর্টলিস্ট করার জন্য। সেই থেকে আমরা চেষ্টা করব ২০-২৫-এর ভেতরে একটা লিস্ট করে জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটিকে দিতে। তারা যাচাই-বাছাই করবেন। যেহেতু আমাদের ন্যাশনাল টিম ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান হচ্ছেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। তিনি সিভিগুলো দেখবেন, তার পর নির্বাহী কমিটিতে যাবে। এরপর আমরা সিদ্ধান্ত নেব আগামী দিনের আমাদের বাংলাদেশের কোচ হবেন কে।’

দীর্ঘ তালিকা থেকে সংক্ষিপ্ত তালিকা করা কঠিন। সেই কঠিন কাজটি শুরু করতে যাচ্ছে বাফুফের বিশেষ কমিটি। ঠিক কোন মানদণ্ডে কোচদের সংক্ষিপ্ত তালিকা হবে, তা নিয়েই চলছে আলোচনা। এই প্রসঙ্গে কাননের ব্যাখ্যা, ‘আমরা মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেব কোন ক্রাইটেরিয়ায় কোচদের শর্টলিস্ট করব। আমরা অনেক বড় বড় কোচের সিভি পেয়েছি। তবে এটা বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য বিরাট অধ্যায়। যে বাংলাদেশের ফুটবলে বড় মাপের কোচরা কোচিং করতে আগ্রহী। ওই ধরনের কোচ হতে হবে যে হামজা চৌধুরী-শমিত সোমদের মতো খেলোয়াড়দের হ্যান্ডল করতে পারে।’

বাংলাদেশের কোচ হতে আবেদন করেছেন বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের সাবেক ফুটবলার এবং দলটির সহকারী কোচ বেনার্ড স্টর্ক। আবেদন করেছেন পর্তুগালের অ্যান্তোনিও কনসিসাও। এ দুজনের সিভি অনেক বেশি হাইপ্রোফাইল। বেনার্ড স্টর্কের হাত ধরে হাঙ্গেরি ৪৪ বছর পর ইউরোতে কোয়ালিফাই করেছে এবং রাউন্ড অব সিক্সটিনে খেলেছিল। কনসাসিও ক্যামেরুনকে তিন বছরে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৫৩ থেকে ৩৩ নম্বরে তুলেছেন। এ দুজনকে নিয়ে আলাদা কোনো চিন্তা করছেন কিনা– এমন প্রশ্নে কাননের উত্তর, ‘আমরা প্রথমে অগ্রাধিকার দেব প্রো-লাইসেন্স আছে কিনা। অবশ্যই তাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে চিন্তা করব। অভিজ্ঞ কোচদেরই আমরা আনার চেষ্টা করব।’

রাশিয়ার তেল সরবরাহ সচলের পর ইইউ থেকে ঋণ পাচ্ছে ইউক্রেন

হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ায় রুশ তেল সরবরাহের পাইপলাইন সচল করেছে ইউক্রেন। এর পরপরই কিয়েভের অভ্যন্তরীণ ব্যয় মেটানোর জন্য ৯০ বিলিয়ন ইউরো ঋণ অনুমোদন করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

ঋণের পাশাপাশি মস্কোর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি প্যাকেজও অনুমোদন দিয়েছে ইইউ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কিয়েভ নিজ তহবিল থেকে ঋণ শোধ করবে না। যুদ্ধ শেষে রাশিয়া ক্ষতিপূরণ দিতে শুরু করলে সেখান থেকে অর্থ কেটে রাখা হবে। তা না করলে, ইউরোপে জব্দ হওয়া মস্কোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ২১০ বিলিয়ন সম্পদকে ঋণ পরিশোধে কাজে লাগানো হতে পারে।

কিয়েভকে ঋণ অনুমোদনের ঘোষণাটি এসেছে হাঙ্গেরি তাদের দেওয়া ভেটো প্রত্যাহারের পর। ইইউ-এর বর্তমান সভাপতি দেশ সাইপ্রাস জানিয়েছে, সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরা ঋণ ও নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ‘লিখিত প্রক্রিয়া’ শুরু করতে রাজি হয়েছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যে উভয় বিষয়ে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর হওয়ার কথা আছে।

ইইউ গত ডিসেম্বরেই এই ঋণের বিষয়ে একমত হয়েছিল। তবে একটি ক্ষতিগ্রস্ত তেলের পাইপলাইন নিয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয় হাঙ্গেরির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের। সে বিরোধ থেকেই ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অরবান ইউক্রেনের ঋণ প্রস্তাবে ভেটো দেন। তখন স্লোভাকিয়াও তাঁকে সমর্থন দেয়।

রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল দ্রুজবা নামের পাইপলাইনের মাধ্যমে হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ায় সরবরাহ করা হয়। যুদ্ধের কারণে সেই লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। অরবান অভিযোগ তুলেছিলেন, ইউক্রেন ইচ্ছাকৃতভাবে পাইপলাইন মেরামতে দেরি করছে।

এই পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করা হয়। ইউক্রেনের দাবি, এটি রুশ ড্রোনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। হাঙ্গেরির তেল কোম্পানি এমওএল স্থানীয় সময় বুধবার জানায়, তেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার নাগাদ তা হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ায় পৌঁছাতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর এক সপ্তাহ ধরে খোঁজ মিলছে না। বিশ্ববিদ্যালয়টির পুলিশ বিভাগ এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশে থাকা স্বজনরা দাবি করেছেন, দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

২৭ বছর বয়সী নিখোঁজ দুজনের নাম জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি। গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) তাঁদের সবশেষ দেখা গিয়েছিল বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ। ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের প্রধান আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ে তাঁদের নিখোঁজের বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের চেষ্টা করছেন। টাম্পা এলাকায় নিজ বাসায় তাঁর সবশেষ অবস্থান ছিল। এরপর থেকে কারও সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি। অন্যদিকে বৃষ্টিকে সবশেষ দেখা গিয়েছিল একইদিন (বৃহস্পতিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের টাম্পা ক্যাম্পাসের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে। তিনি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করছেন।

নিখোঁজের পরদিন গত শুক্রবার এক পারিবারিক বন্ধু লিমন ও বৃষ্টির সঙ্গে যোগাযোগে ব্যর্থ হওয়ার পর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। বাংলাদেশে থাকা স্বজনরা এনবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, এর আগে কখনো এমন হয়নি। হঠাৎ করে স্বেচ্ছায় উধাও হওয়ার মতো মানুষ তারা নন।

লিমনের ছোট ভাই জুবায়ের আহমেদ বুধবার এনবিসি নিউজকে বলেন, লিমন ও বৃষ্টি ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সম্ভবত তাদের মধ্যে প্রেমও ছিল। ভবিষ্যতে বিয়ের পরিকল্পনাও করেছিলেন। তবে বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত বলেন, এই দুজনের মধ্যে এক সময় প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে খুব বেশি যোগাযোগ ছিল না।

জুবায়ের জানান, দুজনেরই বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা ছিল। ফ্লাইটের রিটার্ন টিকিটও কেটেছিলেন লিমন। নিখোঁজের পর পুলিশ তাঁর বাসা থেকে পাসপোর্ট উদ্ধার করেছে।

স্বজনরা জানিয়েছেন, লিমন ও বৃষ্টিকে উদ্ধারে এফবিআইয়ের পদক্ষেপের অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) নিশ্চিত করেছে, নিখোঁজ দুজনের কেউই তাদের হেফাজতে নেই।

ফ্রিজ ছাড়াই তরমুজ ঠান্ডা রাখার কৌশল জেনে নিন

দিনের তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। প্রচণ্ড গরমে এক টুকরো ঠান্ডা তরমুজ মুহূর্তের মধ্যে শরীর শীতল করে দেয়। কিন্তু ফ্রিজে না রাখলে তরমুজ কিছুতেই ঠান্ডা হয় না। কিন্তু বাইরে থেকে কিনে আনা তরমুজ সাথে সাথে খেতে চাইলে ভেতরটা গরমই লাগবে । তবে বিজ্ঞানের সহজ একটি ফর্মুলা অনুসরণ করে কয়েক মিনিটের মধ্যে তরমুজ ঠান্ডা করার উপায় জানানো হয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘এই সময়ে’র এক প্রতিবেদনে।

তরমুজ দ্রুত ঠান্ডা করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো একটি বিশেষ ‘আইস বাথ’। এটি তৈরে করবেন যেভাবে-

একটি বড় বালতি বা গামলায় অনেকটা ঠান্ডা পানি ঢেলে ফেলুন। এতে প্রচুর পরিমাণে বরফ কুচি এবং ২-৩ কাপ লবণ মিশিয়ে দিন। এ বার আস্ত তরমুজটি ওই লবণ মেশানো বরফ-পানিতে ১০ মিনিটের জন্য ডুবিয়ে রাখুন। সম্ভব হলে তরমুজটিকে এ পিঠ-ও পিঠ করে একটু ঘুরিয়ে দিন, যাতে সব দিক সমানভাবে ঠান্ডা হয়।

বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

রসায়নের ভাষায় এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘ফ্রিজিং পয়েন্ট ডিপ্রেশন’। সাধারণ পানি জিরো বা শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসে বরফ হয়, কিন্তু পানিতে লবণ মেশালে তার হিমাঙ্ক আরও খানিকটা কমে যায়। ফলে লবণাঙ্কিত পানি সাধারণ বরফ-পানির চেয়ে অনেক বেশি ঠান্ডা হয়ে যায়। বায়ুর তুলনায় পানি দ্রুত তাপ পরিবহন করতে পারে, এ কারণে ফ্রিজারের বাতাসের চেয়ে এই বরফ-পানিতে তরমুজ দ্রুত তাপ বিনিময় করতে পারে। এতে ফল দ্রুত শীতল হয়ে ওঠে।

দ্রুত ঠান্ডা তরমুজ খেতে চাইলে যা করবেন

ফলটি ছোট টুকরো করে কেটে নিতে পারেন। তরমুজের টুকরোগুলো একটা জিপলক ব্যাগে ভরে নিন। লবণ পানি যেন সরাসরি তরমুজের গায়ে না লাগে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। তরমুজটি যদি পানির উপর ভেসে থাকে, তাহলে ঠান্ডা না-ও হতে পারে। লবণ পানির মধ্যে পুরোপুরি নিমজ্জিত অবস্থায় থাকলেই বরফের মতো ঠান্ডা হবে তরমুজ।

ভারত থেকে পাইপলাইনে এল আরও ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল

বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে আরও ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে এসেছে। এই চালানটি ভারতের আসামে অবস্থিত নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোতে পৌঁছায়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এই চালানটির সরবরাহ সম্পন্ন হয়। এর আগে সোমবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহের পাম্পিং কার্যক্রম শুরু হয়।

এই কার্যক্রমে নিয়োজিত মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশন্স) কাজী মো. রবিউল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, চলতি এপ্রিল মাসে এখন পর্যন্ত তিনটি চালানে মোট ২০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে এসেছে। এর মধ্যে ১১ এপ্রিল ৮ হাজার, ১৯ এপ্রিল ৫ হাজার এবং ২৩ এপ্রিল ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছে। আগামী ২৬ বা ২৭ এপ্রিল আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে আসার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পুরো এপ্রিল মাসে মোট চারটি চালানের মাধ্যমে প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত চারটি চালানে মোট ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হয়েছে। ফলে এ বছর এখন পর্যন্ত মোট ৪২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এসেছে পাইপলাইনের মাধ্যমে।

এই জ্বালানি তেল পার্বতীপুরের রিসিপ্ট টার্মিনালে থেকে জ্বালানি রেলহেড অয়েল ডিপোর পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা এই তিন কোম্পানিতে এসব তেল সরবরাহ করা হয়।

উল্লেখ্য, উত্তরাঞ্চলে জেলাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে। ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ১৩১ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, ভারত আগামী ১৫ বছর বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করবে এবং বছরে ২ থেকে ৩ লাখ টন পর্যন্ত জ্বালানি আমদানি করা যাবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এই পরিমাণ আরও বাড়ানো সম্ভব। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে সর্বোচ্চ ১০ লাখ মেট্রিক টন তেল আমদানি করার সক্ষমতা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এর ফলে আগে যেখানে খুলনা বা চট্টগ্রাম থেকে রেলপথে উত্তরাঞ্চলে তেল পৌঁছাতে ৬ থেকে ৭ দিন সময় লাগত, এখন পাইপলাইনের মাধ্যমে তা অনেক দ্রুত সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।