Home Blog Page 131

রাজনীতিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার বার্তা পেলেন ডিসিরা

দেশে চলমান সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিলেমিশে এবং সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা। চার দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন শেষে এমন বার্তা নিয়ে কর্মস্থলে ফিরছেন তারা। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার পরামর্শও পেয়েছেন ডিসিরা।

বিএনপির সরকার গঠনের পর এটি ছিল প্রথম ডিসি সম্মেলন। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি ত্বরান্বিত করা, প্রশাসনকে আরও কার্যকর, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ ছাড়া জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাদক, কিশোর গ্যাং ও মব সন্ত্রাস দমনে প্রশাসনকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায় বাড়াতে মাঠ প্রশাসনের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করা হয়।

ডিসি সম্মেলন শুরু হয় গত ৩ মে। চার দিনের সম্মেলনে ২৮টি কর্ম-অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দিন সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়াও রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম ও প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তারা।

গতকাল বুধবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন ডিসিরা। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভা অনুষ্ঠিত হয়। শেষ দিন সম্মেলনের প্রতিক্রিয়া ও মূল্যায়ন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এবারের সম্মেলনে জেলা প্রশাসকরা ৪৯৮টি প্রস্তাব পেশ করেন। এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পৃথক কর্ম-অধিবেশনগুলোয় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা, জ্যেষ্ঠ সচিব, সচিব ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

সম্মেলনের প্রথম দিন রাজনীতিকদের সমন্বয়ে জেলা পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি বৈঠক নিয়মিত করার তাগিদ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। এ বৈঠকের মূল লক্ষ্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়; মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির মাধ্যমে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। সম্মেলনে ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনাররা গত কয়েক বছরের মতো এবারও বিচারিক ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার আবেদন করেন। তবে এ প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান। ফলে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।

মাঠ প্রশাসনে ভালোভাবে কাজ করতে ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে– প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার তাগিদ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণপূর্বক প্রতিরোধ ও দমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ। অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা পরিহার করে দ্রুত, বাস্তবসম্মত ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়। সব উন্নয়ন প্রকল্প নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়ন নিশ্চিত এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে গুণগত মান নিশ্চিতকল্পে কার্যকর তদারকি জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে অনুসরণ করতে হবে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে সততা, মেধা ও দক্ষতাকে। শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, প্রশাসন ও নির্বাচিত সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করে কীভাবে কার্যকর এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়েও অধিবেশনে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসকদের কাছে আমরা একটি জিনিস চেয়েছি– দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে তারা যেন নজরদারি বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখেন।

ওই দিন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন অনেকাংশেই নির্ভর করে ডিসিদের কার্যকর ভূমিকার ওপর। সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকরা সরাসরি মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় তারা নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন, যা সম্মেলনে তুলে ধরা হয়েছে। তাদের সমস্যা, প্রত্যাশা ও প্রস্তাবনা শুনে সমাধানের উপায় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

সম্মেলনের তৃতীয় দিন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে নেওয়া সরকারি সিদ্ধান্ত মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করেন ডিসিরা। এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নে তাদের উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া সমকালকে বলেন, জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ডিসিরা মিলেমিশে কাজ করলে সব সমস্যা সহজেই সমাধান করা যাবে। এবার যে ডিসি-এসপিদের সমন্বয়ে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি বৈঠক প্রতি মাসে হওয়ার কথা বলা হয়েছে, এটা ভালো উদ্যোগ। এতে বিচারপ্রার্থী জনগণ যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয়, সেগুলো ওঠে আসবে। সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাবে।

তিনি আরও বলেন, জেলা পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি বৈঠক হলো মামলা-মোকদ্দমার বিষয়। এখানে রাজনীতিবিদদের অন্তর্ভুক্ত করলে তদন্তে প্রভাব পড়তে পারে। এই বৈঠকে বাইরের লোক যুক্ত না করাই ভালো।

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তৎপর হওয়ার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
সম্মেলনের শেষ দিন অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জেলা প্রশাসকদের আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় ইস্যু করা প্রায় ১০ হাজার লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র এখনও জমা পড়েনি। সেসব অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করার জন্য ডিসিদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ডিসি সম্মেলনের শেষ দিনের তৃতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর লাইসেন্স করা অস্ত্র জমা দেওয়ার যে নির্দিষ্ট সময়সীমা ছিল, তা পার হওয়ার পরও একটি বড় অংশের অস্ত্র এখনও মাঠ পর্যায়ে রয়ে গেছে। এই অস্ত্রগুলো উদ্ধার করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজনে মামলা করার জন্য মাঠ প্রশাসনকে তৎপর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের নেওয়া কার্যক্রম বাস্তবায়ন
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, মন্ত্রণালয়ের নেওয়া কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবেন ডিসিরা। সে ব্যাপারে তাদের পূর্ণ উদ্যমে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

গতকাল মন্ত্রী বলেন, আমাদের জেলা পরিষদ অতটা সক্রিয় বা শক্তিশালী নয়। আমাদের মূল চাবিকাঠি এখনও জেলা প্রশাসক। তাই তাদের সঙ্গে এমন একটা সংযোগ দরকার, যাতে আমরা যে কার্যক্রম হাতে নিই, তা সহজেই বাস্তবায়ন করা যায়।

গণমাধ্যমকে ডিজিটাল বাস্তবতার উপযোগী করতে হবে 
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যমের সমস্যাটা অনেক ব্যাপক। এটি একটি পুরোনো অ্যানালগ জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, যাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে গতকাল তিনি জেলা প্রশাসকদেরও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, অনলাইন ও ডিজিটাল গণমাধ্যমের দ্রুত বিকাশের কারণে সাংবাদিকতায় সুস্পষ্ট নীতিমালা ও আচরণবিধি প্রয়োজন।

দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদকের সহযোগিতার আহ্বান
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ জেলা পর্যায়ে সবখানে দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রচারাভিযানের জন্য ডিসিদের  সহযোগিতা চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সম্মেলনের শেষ দিনে ডিসিদের সঙ্গে অধিবেশন শেষে দুদকের সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

তিনি বলেন, দুদকের বর্তমান কাঠামোতে আমরা যে কাজগুলো করছি, সে সম্পর্কে জেলা প্রশাসকদের ধারণা দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি প্রতিরোধমূলক যে কাজগুলো আছে, সেখানে জেলা প্রশাসকদের ভূমিকা রয়েছে।

সিলেটে শাহজালাল (র.)-এর ওরস শুরু, ভক্তদের ভিড়

সুফি সাধক ও ইসলাম প্রচারক হজরত শাহজালাল (র.) এর ৭০৭তম বার্ষিক ওরস শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রথা অনুযায়ী মাজারে গিলাফ ছড়ানোর মধ্য দিয়ে ওরসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। চলে দুপুর পর্যন্ত। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তরা মাজারের জন্য গিলাফ নিয়ে আসেন। ওরসের অন্যতম আকর্ষণ গিলাফ ছড়ানোর আনুষ্ঠানিকতা। ভক্তরা গিলাফের চারদিকে ধরে মাজারে প্রবেশ করেন। ওই সময় তারা শাহজালালের নামে স্লোগান দেন।

এদিকে গতকাল বুধবার থেকেই ভক্তরা মাজারে আসতে শুরু করেন। আজ বিকেলে দেখা গেছে, মাজার এলাকায় হাজার হাজার ভক্ত ও আশেকান অবস্থান নিয়েছেন। ওরস উপলক্ষে বসেছে বিভিন্ন পণ্যের দোকানও।

১৩০০ খ্রিষ্টাব্দে ইয়ামেন থেকে সিলেটে আগমন ঘটে হজরত শাহজালালের। উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে তিনি সিলেটে আস্তানা গড়েন। তার সফরসঙ্গী হয়ে উঠে ৩৬০ জন। যাদের অধিকাংশের মাজার সিলেট অঞ্চলে। এ অঞ্চলে শাহজালাল ও তার সঙ্গীদের মাধ্যমে ইসলামের ব্যাপক বিস্তার ঘটে। তার ইন্তেকালের পর প্রতিবছর আরবি জিলকদ মাসের ১৮ ও ১৯ তারিখে ওরস অনুষ্ঠিত হয়। দুই দিনের ওরস হলেও আজ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে আখেরি মোনাজাতের পর শিরনি বিতরণের মাধ্যমে ওরস শেষ হবে।

মাজারের মোতাওয়াল্লী ফতেহ উল্লাহ আল আমান জানিয়েছেন, রেওয়াজ অনুযায়ী মাজারে গিলাফ ছড়ানোর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরুর পর মিলাদ মাহফিল, জিগির আজগার, কোরান খতমসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্ত আশেকানরা মাজারে আসছেন। নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক ছাড়াও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা মোতায়েনে রয়েছেন মাজার এলাকায়। শৃঙ্খলা রক্ষায় মাজার এলাকার বিভিন্ন রাস্তায় বাঁশ দিয়ে রাস্তা পৃথক করা হয়েছে।

আরজে থেকে অভিনেতা, কেমন ছিল আরেফিন জিলানীর জার্নি

পুরো নাম আরেফিন জিলানী। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আলো-বাতাসে বড় হওয়া ছেলেটি ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন একদিন অভিনেতা হবেন। সেন্ট যোসেফ থেকে এসএসসি তারপর রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্পন্ন করেন উচ্চতর ডিগ্রি। তারপর বাবা-মার বাধ্যগত সন্তানের মতো যোগ দেন একটি ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিতে। কিন্তু মনের মাঝে বোনা স্বপ্নটা বাস্তব করতে নিজেকে প্রস্তুত করেন নিয়ত।

ছোটবেলা থেকেই প্রচুর সিনেমা দেখতেন এই অভিনেতা। এখনও দেখেন। হলিউড, ঢালিউড কিংবা বলিউড– সব রকমের সিনেমাই দেখেন প্রতিনিয়ত। জিলানীর ভাষ্যে, ‘আসলে সিনেমা দেখতে দেখতেই অভিনয়ের পোকা ঢুকে যায় মাথার ভেতর। শিহাব শাহীন, তানিম নূর, ভিকি জাহেদসহ বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান পরিচালকের সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। তবে মনের গহিনে গোপন ইচ্ছা রায়হান রাফীর সঙ্গে একটি তুমুল অ্যাকশনধর্মী সিনেমায় কাজ করার।’

অনেকে হয়তো জানেন না, জিলানীর শুরুটা আর জে হিসেবে। ২০১৫ সালে সিটি এফএম-এ যোগ দেন। এরপর কাজ করেছেন রেডিও দিনরাত ও রেডিও টুডেতে; যা নিজেকে প্রস্তুত করতে সহজ করেছে অভিনেতা হিসেবে।

করোনার ঠিক আগে ২০১৯ সালে, গোলাম সোহরাব দোদুলের ‘সাপলুডু’ সিনেমায় সুযোগ এলো। মাত্র তিন-চার মিনিটের উপস্থিতি। একটি দৃশ্যে ছবির নায়ক আরিফিন শুভর বিকল্প হিসেবে একজনকে দরকার। উচ্চতা, কাঠামো–সব জিলানীর সঙ্গে মিলে যায়। ছবিতে ওপর থেকে পানিতে লাফ দেওয়ার একটা স্টান্টও নিজেই করেছিলেন। এমন ‘সাহসী’ শুরুর পরই আসে নতুন চ্যালেঞ্জ। তবে করোনার পর থমকে যায় অভিনয় ক্যারিয়ার।

এরই মাঝে বিয়ে করেন তারকা কণ্ঠশিল্পী ঐশীকে। এক অনুষ্ঠানে পরিচয়ের পর অল্প অল্প কথোপকথন ও ভালোবাসা গড়ায় পরিণয়ে। জীবনসঙ্গিনীকে নিয়ে জিলানী বলেন, ‘মনের মতো একজন মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়েছি। যে আমাকে বুঝতে পারে। দেখা গেল, কোনো শুটিংয়ে খুব ব্যস্ত আমি। ঠিকঠাক যোগাযোগও হচ্ছে না। তাতে ওর কোনো সমস্যাও হচ্ছে না। আসলে নিজে তারকা কণ্ঠশিল্পী, তাই বোঝে আমার ব্যথা। ঐশীর যারপরনাই সহযোগিতা ছাড়া আমার এই পর্যায়ে আসা সম্ভব ছিল না।’

তবে অভিনয়ের প্রতি তীব্র আকর্ষণ দমাতে পারেনি তাঁকে। কারণ, শিউলিমালা নাটকে অভিনয়ের জন্য দুই সপ্তাহ ছুটি প্রয়োজন। করপোরেট অফিসে কী আর এতদিন ছুটি নেওয়া যায়! ব্যস, ছেড়ে দেন ফার্মাসিউটিক্যালসের চাকরিটি। মনে মনে শপথ করেন পুরো সময়টাই দেবেন অভিনয়কে।

তরুণ এই অভিনেতা অবশ্য বেশি পরিচিতি পান গত বছর মুক্তি পাওয়া তানিম নূরের ‘উৎসব’ সিনেমা দিয়ে। ছবিতে মোবারক চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। জিলানী মনে করেন, বাণিজ্যিকভাবে সাফল্য পাওয়া এ সিনেমাই তাঁর ক্যারিয়ারের গতিপথ বদলে দিয়েছে।

এরপর একে একে কাজ করতে থাকেন ছোট-বড় চরিত্রে। পর্দায় স্বল্পসময়ের উপস্থিতিতেও বুঝিয়ে দিতে পারেন তাঁর অভিনয়ের সক্ষমতা। জিলানীর ভাষ্যে, ‘আমার কাছে কোনো চরিত্রই ছোট নয়। যেমন, বনলতা এক্সপ্রেসে কাজ করার প্রস্তাব যখন পাই তানিম নূরের কাছে; ব্যাপক প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে যাই আমি। হুমায়ূন আহমেদের অজস্র নাটক দেখি সে সময়। তাঁর চরিত্রেরা কীভাবে অভিনয় করে, সিরিয়াস ভঙ্গিতেও মজা করতে পারে তা আয়ত্ত করার চেষ্টা করি। উপন্যাসটিও পড়ি কয়েকবার। চেষ্টা করেছি নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে। কতটুকু করতে পেরেছি জানি না, তবে দর্শকের কাছ থেকে দারুণ প্রশংসা পেয়েছি। এতে অভিনয়ের প্রতি স্পৃহা আরও বেড়েছে। কাজ করতে চাই দর্শকমনে দাগ কাটার মতো সব চরিত্রে।

গেল ঈদে আলোচিত তিনটি কাজেই ছিল জিলানীর অনবদ্য অভিনয়। ‘চক্র-২’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ কিংবা ‘ক্যাকটাস’–প্রতিটি কাজের চরিত্রেই জিলানী তাঁর অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখেছেন। ‘‘শিহাব শাহীনের পরিচালনায় ‘ক্যাকটাস’ এ কাজ করতে গিয়েও বেশ প্রস্তুতি নিয়েছি আমি। হঠাৎ মনে পড়ে ছোটবেলায় একটি সিনেমা দেখেছিলাম, ‘সংঘর্ষ’। সেই সিনেমায় আশুতোষ রানার অভিনয় রীতিমতো ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল মনে। আবার দেখলাম সিনেমাটা। আর নিজের মতো করে একটি খলচরিত্র তৈরি করে ফেললাম নিজের মধ্যেই। এভাবেই প্রতিনিয়ত চেষ্টা করি নিজেকে গড়তে কিংবা ভাঙতে।’’

এক ভক্তের ফেসবুক স্ট্যাটাস পড়লে বোঝা যাবে জিলানীর অভিনয় নিয়ে দর্শকের ভাবনা– ‘‘এইতো কদিন আগে ‘ক্যাকটাস’ রিলিজের পর অভিনেতা আরেফিন জিলানীর অভিনয়ের প্রশংসা পঞ্চমুখ সবাই। এবার ‘চক্র টু’ সিরিজেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন জিলানী। না চরিত্রের নয়; বরং ভালো অভিনয়ের ধারাবাহিকতা। চক্র টুতে তাঁর চরিত্রের নাম রাহাত, পেশায় ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট। গার্লফ্রেন্ডের প্রতি অগাধ ভালোবাসা তাঁর, হাসিখুশি এই রাহাত একটা সময় জড়িয়ে পড়ে এক চক্রে, যে চক্রের শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই! রাহাত চরিত্রটাকে এত বিশ্বস্ততার সঙ্গে প্লে করেছেন আরেফিন জিলানী! তাঁর এক্সপ্রেশনগুলো সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। একটা সিন আছে ডাইনিং টেবিলের, সেখানে তাঁর এক্সপ্রেশন জাস্ট টু গুড।’

এ রকম হাজারও শুভ কামনায় ভরে যায় অভিনেতার ফেসবুক ওয়াল। আর তাই যেন বড় প্রাপ্তি হয়ে ধরা দেয় জিলানীর কাছে। মনে রাখার মতো সব চরিত্রে কাজ করতে করতে আকাশছোঁয়া স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাক       এই প্রত্যাশায়।

তাইওয়ান উপকূলের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল জাপান, ক্ষুব্ধ চীন

তাইওয়ান ও ফিলিপাইনের মধ্যবর্তী সমুদ্রসীমায় জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে জাপান। মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে এই পরীক্ষায় একটি পুরনো যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হয়। জাপানের এমন পদক্ষেপে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চীন।

এর মধ্যে দিয়ে জাপানের প্রতিরক্ষা নীতিকে আরো আক্রমণাত্মক করার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করলেন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের উৎসাহে টোকিও তাদের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী শান্তিবাদী অবস্থান থেকে সরে আসছে। অনুমোদন দিয়েছে প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানির।

১৯ দিনব্যাপী এই মহড়া শুক্রবার শেষ হবে। এতে জাপানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ফিলিপাইন, ফ্রান্স, নিউজিল্যান্ড ও কানাডার প্রায় ১৭ হাজার সেনা সদস্য অংশ নিয়েছেন। প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছে জাপানের যুদ্ধকালীন সেনাদল।

বুধবারের মহড়ায় দুটি ‘টাইপ-৮৮’ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। তাইওয়ান থেকে মাত্র ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ফিলিপাইনের উত্তর প্রদেশ ইলোকস নর্তেতে বসে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেন টোকিও এবং ম্যানিলার প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিক্ষেপ করা দুটি ক্ষেপণাস্ত্রই দক্ষিণ চীন সাগরে উপকূল থেকে ৭৫ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপান তাদের সামরিক ব্যয় বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে পাল্টা আঘাত করার সক্ষমতা অর্জনে জোর দিয়েছে। একইসঙ্গে ফিলিপাইনসহ আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো জোরদার করেছে।

গত মাসে তাকাইচির সরকার দীর্ঘদিনের আরোপিত একটি নিয়ম শিথিল করে। এর ফলে দেশটি এখন থেকে প্রাণঘাতী সামরিক সরঞ্জাম বিদেশে রপ্তানি করতে পারবে। মূলত বিশ্বজুড়ে সামরিক সরঞ্জামের বিশাল বাজারে নিজেদের অংশীদারত্ব বাড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জাপানের মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ গত বছর অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনীর কাছে থেকে ১১টি যুদ্ধজাহাজ সরবরাহের অর্ডার পেয়েছে। তাকাইচি নিজেও বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া সফর করছেন। তাঁর এই সফর দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চীনের ক্ষোভ
বেইজিং-টোকিওর দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্ক আরো খারাপ হয়েছে সম্প্রতি তাকাইচির একটি মন্তব্যের পর। তিনি বলেছিলেন, চীন তাইওয়ান দখলের চেষ্টা করলে জাপান সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে।

তাইওয়ানকে চীন নিজেদের অংশ বলে মনে করে। দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রয়োজনের সামরিক শক্তি প্রয়োগেরও হুমকি দিয়েছে। বুধবারের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রতিক্রিয়ায় বেইজিং কঠোর সমালোচনা করে বলেছে, এটি জাপানি কট্টরপন্থীদের পুনরায় সামরিকীকরণের পথে আরো একটি পদক্ষেপ।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আগ্রাসনকারী দেশ হিসেবে জাপান তাদের অতীতের অপরাধের জন্য অনুশোচনা করেনি। উল্টো তারা এখন নিরাপত্তা সহযোগিতার কথা বলে বিদেশে সেনাবাহিনী পাঠিয়ে আক্রমণাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে।

টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ের অধ্যাপক ই কুয়াং হেং বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার এই পরীক্ষাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, দ্বীপপুঞ্জের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন জাপান ও ফিলিপাইন- উভয় দেশের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্মান না পেলে বিশ্বকাপ বয়কটের হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে অনুষ্ঠেয় ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এবার ফিফার কাছে ‘সম্মানজনক পরিবেশ’ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন। তা না হলে বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিয়েছেন ফেডারেশন সভাপতি মেহদি তাজ। জানা গেছে, ইরানের এই অবস্থানের পেছনে অন্যতম কারণ রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ভিসা জটিলতা।

বুধবার তেহরানে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেহদি তাজ জানিয়ে দেন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদাহানি সহ্য করে তাঁ বিশ্বকাপে অংশ নেবেন না। তিনি বলেন, ‘আমরা ফিফাকে আমাদের প্রত্যাশার কথা জানাব। তারা যদি সেগুলোর সমাধান করতে পারে, তাহলে অবশ্যই আমরা অংশ নেব। কিন্তু যদি কোনো নিশ্চয়তা না থাকে, তাহলে কাউকে আমাদের মূল ভিত্তিকে অপমান করার অধিকার দেওয়া যায় না। যদি অসম্মানজনক আচরণ চলতেই থাকে, তবে আমরা ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে পারি।’

এই সংকটের মূল সূত্রপাত হয় যখন কানাডা ফেডারেশন প্রধান মেহদি তাজকে দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। আইআরজিসির সঙ্গে অতীত সম্পর্কের জেরে এই নিষেধাজ্ঞা দেয় অটোয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা আইআরজিসিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে বিবেচনা করলেও ইরান একে দেখছে রাজনৈতিক বিদ্বেষ হিসেবে।

বিষয়টি নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাএ ইসমাইল বাঘায়ি জানিয়েছেন, ইরান দল কোনো দ্বিপাক্ষিক সফরে যাচ্ছে না, তারা যাচ্ছে ফিফার মেগা আসরে। তাই ভিসা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা ফিফা এবং আয়োজক দেশগুলোর আইনি বাধ্যবাধকতা।

বিশ্বকাপ নিয়ে ইরানের এমন অস্থিরতা থাকলেও তাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি থেমে নেই। দলের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোই জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহেই ৩০ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করা হবে। তুরস্কে কন্ডিশনিং ক্যাম্প শেষে যুক্তরাষ্ট্রে রওনা হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এবারের বিশ্বকাপে ‘জি’ গ্রুপে থাকা ইরান তাদের ক্যাম্প করবে যুক্তরাষ্ট্রের কিনো স্পোর্টস কমপ্লেক্সে।

আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের অভিযান শুরু হবে। ২১ জুন একই ভেন্যুতে দলটির প্রতিপক্ষ শক্তিশালী বেলজিয়াম। ২৬ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সিয়াটলে মিসরের মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে এশিয়ান জায়ান্টদের।

হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১২ জনের মৃত্যু

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১২ জন মারা গেছেন। এই সময়ে আরও ১ হাজার ৫২৪ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে সাত শিশুর মৃত্যু হয়। এর মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে উপসর্গ নিয়ে, দুজন হামে মারা গেছে। এ নিয়ে গত ৫৩ দিনে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৩৬। এর মধ্যে ২৬৮ শিশু উপসর্গ নিয়ে এবং ৫৬ জন হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। একই সময়ে দেশের আট বিভাগে এক হাজার ৫৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। নতুন শনাক্ত হয়েছে ৩৭৩ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত সিলেট বিভাগে (১৮২ জন), এরপর ঢাকা বিভাগে (১২২ জন)। তবে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৮৫৫ শিশু চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে, যা কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে ৪৪ হাজার ২৬০ জন।

৫ বছর পর মুখোমুখি নাগা-সামান্থা

২০২১ সালে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দক্ষিণী ছবির জনপ্রিয় জুটি সামান্থা রুথ প্রভু এবং নাগা চৈতন্য। সময় গড়িয়েছে প্রায় পাঁচ বছর। এর মধ্যে দু’জনেই নিজেদের জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। গুছিয়ে নিয়েছেন ব্যক্তিগত জীবন। বিচ্ছেদের পরে আর কখনও প্রকাশ্যে একসঙ্গে দেখা যায়নি তাঁদের। না কোনও অনুষ্ঠান, না কোনও পারিবারিক জমায়েতে।

তবে সম্প্রতি সেই ছবিটাই খানিক বদলাল। হায়দরাবাদের এক বিয়েবাড়িতে হঠাৎই একই ছাদের নীচে হাজির হলেন দু’জন। প্রযোজক সুনীল নারং-এর মেয়ে সিমরনের বিয়ের আসরে উপস্থিত ছিলেন তাঁরা। খবর এই সময়ের। সেখানে স্ত্রী সোবিতা ধুলিপালার সঙ্গে দেখা যায় নাগ চৈতন্যকে। অন্য দিকে, নিজের বর্তমান স্বামী পরিচালক রাজ নিদিমোরুর সঙ্গে অনুষ্ঠানে যোগ দেন সমান্থা। একই অনুষ্ঠানে তাঁদের উপস্থিতির খবর প্রকাশ্যে আসতেই চর্চা শুরু হয় অনুরাগীদের মধ্যে।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—এতদিন পর কি মুখোমুখি হলেন প্রাক্তন দম্পতি? ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, তা হয়নি। তারা নাকি সচেতনভাবেই একে অপরকে এড়িয়ে গিয়েছেন এবং আলাদা আলাদাভাবেই সময় কাটিয়েছেন অনুষ্ঠানে।

ব্যক্তিগত জীবনে এগিয়ে যাওয়ার গল্পও কম চমকপ্রদ নয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কোয়েম্বত্তূরের লিঙ্গ ভৈরবী মন্দিরে ঘনিষ্ঠ পরিজনদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বসেন সমান্থা ও রাজ নিদিমোরু। এর আগে ২০১৭ সালে গোয়ায় ধুমধাম করে নাগ চৈতন্যকে বিয়ে করেছিলেন অভিনেত্রী—সেই বিয়ের প্রতিটি মুহূর্তই ছিল আড়ম্বরপূর্ণ এবং বিশেষভাবে পরিকল্পিত।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সোবিতা ধুলিপালা কে বিয়ে করেন নাগ চৈতন্য। সেই সময় থেকেই সমান্থা ও রাজের সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা আরও জোরালো হয়েছিল। এখন দু’জনেই নিজেদের জীবনে প্রতিষ্ঠিত, আলাদা পথে এগিয়ে চলেছেন। অতীতকে পিছনে ফেলে নতুন সম্পর্ক, নতুন জীবনে তাঁরা যে স্বচ্ছন্দ—সাম্প্রতিক এই ঘটনাই যেন তারই ইঙ্গিত দিল।

প্রদাহ কমাতে উপকারী হলুদের চা, রেসিপি জেনে নিন

হলুদ রান্নাঘরে অন্যতম প্রয়োজনীয় মসলা। রান্নার স্বাদ বাড়াতে এর তুলনা নেই। মসলা হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি, হলুদের অসংখ্য স্বাস্থ্য উপকারিতার কারণে এটি চায়েও ব্যবহার করা যেতে পারে। শরীরের প্রদাহ কমাতে, আর্থ্রাইটিস, অস্টিওআর্থারাইটিসের মতো কিছু রোগের উপসর্গ কমাতে এমনকী গাঁটের ব্যথা ও যন্ত্রণা কমাতেও হলুদ চা উপকারী।

অনেকেই হয়তো ভাবছেন কীভাবে নিজে হলুদের চা তৈরি করবেন। এখানে কয়েকটি রেসিপি দেওয়া হলো। এভাবে তৈরি চা শরীরে প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করতে বেশ উপকারী।

সাধারণ হলুদ চা
৪ কাপ পানি, মধু বা লেবু (চাইলে দুটোই ব্যবহার করতে পারেন), এবং এক চা চামচ হলুদ। প্রথমে পানি ফুটিয়ে নিতে হবে। এবার হলুদের গুঁড়া যোগ করে প্রায় ১০ মিনিট ধরে অল্প আঁচে রাখুন। আঁচ থেকে নামিয়ে ছেঁকে নিন। কাপে চা ঢেলে নিন এবং স্বাদমতো লেবু , মধু যোগ করুন।

ক্রিমি হলুদ চা
এই চা তৈরির জন্য প্রয়োজন হবে এক কাপ নারকেল বা আমন্ডের দুধ, এক চিমটি লাল মরিচের গুঁড়া, দেড় চা চামচ মধু , আধা চা চামচ হলুদ গুঁড়া এবং আধা ইঞ্চি আদা। একটি ছোট প্যানে আমন্ড বা নারকেলের দুধ গরম করুন। একটি ছোট বাটিতে আদা, হলুদ, মরিচের গুঁড়া এবং মধু মিশিয়ে নিন, তারপর মিশ্রণটি নাড়তে নাড়তে গরম করা দুধ যোগ করুন। খেয়াল রাখবেন যেন দলা পাকিয়ে না যায়। বাকি দুধ যোগ করে আবার মেশান। পরিবেশনের আগে ছেঁকে নিন।

হলুদ লেবু চা
এই রেসিপিটির জন্য আপনার প্রয়োজন হবে এক কাপ ফুটন্ত পানি, সামান্য আদা গুঁড়া, লাল মরিচের গুঁড়া, ১ টেবিল চামচ লেবুর রস, সামান্য হলুদ গুঁড়া এবং স্বাদমতো মধু। এটি মগে লেবুর রস,মরিচ, আদা ও হলুদের গুঁড়া মেশান। এর মধ্যে ফুটানো পানি দিন এবং উপকরণগুলো ভালোভাবে নাড়ুন। পানীয়টিতে স্বাদ আনার জন্য মধু যোগ করতে পারেন। শরীরের যেকোনো ধরনের প্রদাহ দূর করতে সারাদিন অল্প অল্প করে এটি পান করতে পারেন।

হলুদ গোলমরিচ চা
এই রেসিপিটির জন্য আপনার প্রয়োজন হবে মধু, লেবু, গুঁড়ো হলুদ এবং গুঁড়ো করা গোলমরিচ। একটি মগে এক চা হলুদের সাথে স্বাদমতো মধু দিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। এতে ফুটন্ত পানি দিন। মিশ্রণটিতে গুঁড়ো করা গোলমরিচ যোগ করে ভালোভাবে নাড়ুন। এরপর এটি পান করুন।

এই হলুদ চায়ের রেসিপিগুলো যেকোনো প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। হলুদ চা ব্যবহারের সবচেয়ে ভালো দিকটি হলো, আরাম না পাওয়া পর্যন্ত এটি একাধিকবার ব্যবহার করতে পারেন।

হিজাব পরায় পরীক্ষার্থীর খাতা আটকে রাখার অভিযোগ, শিক্ষককে উকিল নোটিশ

কিশোরগঞ্জে অনার্স শেষ বর্ষের এক ছাত্রীর হিজাব পরার বিষয়কে কেন্দ্র করে চূড়ান্ত পরীক্ষার খাতা ৪০ মিনিট আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ ও প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার না পেয়ে বুধবার ওই শিক্ষককে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীর আইনজীবী মামা।

তবে অভিযুক্ত শিক্ষক ও কলেজ অধ্যক্ষের দাবি, পরীক্ষার্থীর পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং ডিভাইসের ব্যবহার রোধ করতেই পরীক্ষার হলের নিয়ম অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর নাম সুমাইয়া আক্তার। তিনি কিশোরগঞ্জ শহরের পৌর মহিলা কলেজ থেকে অর্থনীতিতে অনার্স শেষ বর্ষের পরীক্ষা দিচ্ছেন। গত ৩০ এপ্রিল সরকারি গুরুদয়াল কলেজের আবদুল হামিদ ভবনের ৫০৪ নম্বর কক্ষে ‘মুদ্রা, ব্যাংকিং ও অর্থায়ন’ বিষয়ে তার পরীক্ষা ছিল।

অ্যাডভোকেট আব্দুল মোমেন ভূঁইয়া তুহিনের লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, তার ভাগ্নি সুমাইয়া আক্তার শহরের পৌর মহিলা কলেজ থেকে এবার অর্থনীতিতে শেষ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা দিচ্ছেন। সুমাইয়ার আসন পড়েছে শহরের সরকারি গুরুদয়াল কলেজে। গত ৩০ এপ্রিল মুদ্রা, ব্যাংকিং ও অর্থায়ন বিষয়ে পরীক্ষা শুরু হয় দুপুর ১টায়। সুমাইয়া আক্তার ও অপর পরীক্ষার্থী মুনিরা হিজাব পরিহিত ছিলেন। ওই কক্ষে দায়িত্ব পালন করছিলেন গুরুদয়াল কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহ পরান।

এতে আরও বলা হয়, পরীক্ষা চলাকালে ১টা ৪৫ মিনিটে তিনি দুই পরীক্ষার্থীকে হিজাব খুলে চেহারা দেখাতে বলেন। সুমাইয়া তখন একজন মহিলা শিক্ষক বা মহিলা পুলিশের সামনে হিজাব খোলার জন্য বলেন। কিন্তু শিক্ষক শাহ পরান এ কথায় কর্ণপাত না করে নিজেই শক্তি প্রয়োগ করে দু’জনের হিজাব উন্মুক্ত করেন। মহিলা শিক্ষক ও মহিলা পুলিশের কথা বলায় সুমাইয়া আক্তারকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে পরীক্ষার খাতা নিয়ে যান। অনেক অনুরোধের পর ৪০ মিনিট বিলম্বে খাতাটি ফেরত দেন শিক্ষক শাহ পরান। এতে সুমাইয়ার পরীক্ষার যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে।

অ্যাডভোকেট আব্দুল মোমেন তুহিন ভূঁইয়া দাবি করেন, ওই শিক্ষক বহিষ্কারের ক্ষমতা রাখেন, যে কোনো সময় বহিষ্কার করতে পারেন বলেও হুমকি দেন। ফলে সুমাইয়া আক্তারের মনে একটা ভীতি কাজ করছে। পরবর্তী পরীক্ষাগুলোর ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

অ্যাডভোকেট তুহিন অধ্যক্ষের কাছে এ বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত আবেদন জানিয়েছিলেন।

পরীক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তারকে প্রশ্ন করলে তিনিও এসব অভিযোগের কথা বলেছেন। তিনি বলেন, আজকে একটি পরীক্ষাসহ এখনও সাতটি পরীক্ষা বাকি আছে। ওই শিক্ষক শাহ পরান তাকে বহিষ্কারের ক্ষমতা রাখেন বলে হুমকি দিয়েছেন। যে কারণে তাকে এক ধরনের ভীতি তাড়া করছে বলে জানিয়েছেন।

শিক্ষক শাহ পরানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘আমি সুমাইয়ার সামনের আসনের পরীক্ষার্থীকে প্রবেশপত্রের ছবির সঙ্গে যাচাই করার জন্য হিজাব খুলতে বললে তিনি সবসময় হিজাব ব্যবহার করেন বললে আর তাকে কিছু বলিনি। সুমাইয়াকে হিজাব খুলতে বলতেই বলে ওঠেন, আপনি যেভাবে বলছেন, তাতে তো হিজাব খুলতেই হবে। সুমাইয়া নিজেই হিজাব খুলেছেন। তার কথাগুলো ছিল বহিষ্কার করার মতো অশোভন। তবে খাতাটি ১০ মিনিটের মতো আটকে রেখেছিলাম। এখন বাড়িয়ে বলা হচ্ছে।’

মহিলা শিক্ষক বা মহিলা পুলিশের সামনে হিজাব খোলার মতো কোনো কথা সুমাইয়া বলেননি বলেও শিক্ষক শাহ পরান জানান। তবে উকিল নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি এখনও তিনি জানেন না বললেন।

সরকারি গুরুদয়াল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. সিদ্দিক উল্লাহকে এ বিষয়ে বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তবে উকিল নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি তিনিও জানেন না বলে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, অনেক পরীক্ষার্থী হিজাব পরে আসেন। হিজাবের আড়ালে অনেকে বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস ব্যবহার করেন। যে কারণে কান পর্যন্ত চেহারা দেখার প্রয়োজন হয়। পরীক্ষায় এ ধরনের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক বিব্রতকর পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়, বাধার মুখে পড়তে হয়। পরীক্ষার্থী সুমাইয়া শিক্ষক শাহ পরানের সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করেছেন। এখন যে অভিযোগগুলো বলছেন, তা সঠিক নয়।

এদিকে অ্যাডভোকেট আব্দুল মোমেন ভূঁইয়া তুহিনের মাধ্যমে পাঠানো উকিল নোটিশে বলা হয়েছে, নোটিশ প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে কেন মহামান্য হাইকোর্ট বা অন্য কোনো অধীনস্থ আদালতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, এই মর্মে উপযুক্ত কারণ দর্শাতে হবে। নতুবা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনের বিধানমতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভবানীপুর না নন্দীগ্রাম—কোন আসন ছাড়বেন শুভেন্দু

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলটির রাজ্য শাখার অন্যতম শীর্ষ নেতা শুভেন্দু অধিকারী এবারের নির্বাচনে দুটি আসনে লড়াই করে দুটিতেই জয় পেয়েছেন। আসনগুলো হলো— নন্দীগ্রাম এবং বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির দুর্গ বলে পরিচিত ভবানীপুর।

ভারতের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী তিনি দুটি কেন্দ্রের বিধায়ক থাকতে পারবেন না। ফলে তাকে যেকোনো একটি আসন ছেড়ে দিতে হবে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, তিনি নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের মধ্যে কোন আসনটি ছাড়বেন?

ভারতের নির্বাচন কমিশনের নিয়ম এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ধারা ৩৩(৭) অনুযায়ী, একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ দুটি আসন থেকে নির্বাচনে লড়তে পারেন। কিন্তু আইন অনুযায়ী একজন ব্যক্তি একসঙ্গে দুটি আসনের বিধায়ক (এমএলএ) বা সাংসদ (এমপি) থাকতে পারেন না।

ফলাফল ঘোষণার পর যদি কোনো নেতা দুটি আসন থেকেই জয়ী হন, তবে নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের নির্দিষ্ট ১৪ দিনের মধ্যে তাকে যেকোনো একটি আসন থেকে পদত্যাগ করতে হয়। তিনি যে আসনটি ছেড়ে দেবেন, পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যেই সেই শূন্য আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাই ভোল্টেজ সেই লড়াইয়ে হেরে গেলেও পরে ভবানীপুরে উপনির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রীত্ব টিকিয়ে রাখেন মমতা।

তবে ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে গেছে। এবার নন্দীগ্রামের পাশাপাশি মমতার নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরেও তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ভোটে লড়েন শুভেন্দু।

ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে হারিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারীর। অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম আসন থেকে ৯ হাজার ৬৬৫ ভোটে জয়ী হয়েছেন। এই আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী পবিত্র করকে পরাজিত করেছেন তিনি।

এই পরিস্থিতিতে একটি আসন ছাড়ার বাধ্যবাধকতার বিষয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, দলের হাইকমান্ড তাকে যে সিদ্ধান্ত নিতে বলবে, তিনি সেটাই মেনে নেবেন।

তিনি বলেন, “দলের কেন্দ্রীয় নেতারা যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটাই হবে। আমার মতামত দেওয়ার থাকলে তাদের কাছেই দেব। তবে আমার কর্তব্য থেকে সরে যাব না।”

বুধবার জয়ের পর প্রথমবারের মতো নন্দীগ্রামে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আমি ২০১১-এর পরিবর্তনে ছিলাম। আর এবার আসল পরিবর্তনে থাকলাম। ধৈর্য ও সহ্য—এই দুটো মন্ত্র মেনে চলুন। আমরা এমন ভালো কাজ করব যে, ১০০ বছর বিজেপি ক্ষমতায় থাকবে।”

তিনি স্থানীয় জনগণকে আশ্বস্ত করে জানান, আসন যেটিই ছাড়ুন না কেন নন্দীগ্রামের মানুষের তিনি আজীবন কাজ করে যাবেন।