Home Blog Page 2

ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন: আইরিন খান

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অবিচ্ছেদ্য অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন জুবাইদা খান। একই সঙ্গে তিনি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারত্ব, বসতি সম্প্রসারণ, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে নিরাপত্তা পরিষদের ‘মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, বিশেষ করে ফিলিস্তিন প্রশ্ন’ শীর্ষক উন্মুক্ত বিতর্কে বক্তব্য প্রদানকালে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান এ আহ্বান জানান।
গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ভূমি দখল, সহিংসতা ও অবৈধ ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমসহ ফিলিস্তিনের অন্যান্য অঞ্চলে ইসরায়েলের এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাবের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
রাষ্ট্রদূত আইরিন খান বলেন, ‘নিরাপত্তা পরিষদের অচলাবস্থা ইসরায়েলকে দায়মুক্তির সুযোগ করে দিয়েছে।’ তিনি অবিলম্বে ভূমি সংযুক্তিকরণ, অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা পরিষদের দৃঢ় পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)-এর কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং সংস্থাটির দায়িত্ব ও কার্যপরিধির প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি।
সিরিয়া ও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা ও দখলদারত্বের নিন্দা জানিয়ে তিনি লেবাননে জাতিসংঘের পর্যাপ্ত উপস্থিতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সহযোগিতার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হুতিদের প্রাণঘাতী হামলায় বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীসহ বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান।
শান্তির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাত এড়াতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানান তিনি। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

তাসীন ফেরদৌসের মৃত্যুতে কমিউনিটিতে শোক

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ মাত্র ৩৫ বছর বয়সে থেমে গেল নৃত্যশিল্পী ও শিক্ষক তাসীন ফেরদৌসের পথচলা। ১৮ অক্টোবর রোববার ভোরে নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাইকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুতে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। তাসীন ছিলেন নিউইয়র্কের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পারফর্মিং আর্টসের (বিপা) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও শৈল্পিক পরিচালক অ্যানি ফেরদৌস এবং প্রকৌশলী জাফর আহমেদ দম্পতির একমাত্র কন্যা। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, শিশুপুত্র লুকাস, বাবা-মাসহ অসংখ্য স্বজন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
পারিবারিক ও কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ তীব্র ভাইরাসজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত হলে শনিবার তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে জ্যামাইকা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় চিকিৎসকেরা তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করেন। পরিবার সূত্রে জানানো হয়, সংক্রমণ দ্রুত সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ায় চিকিৎসকদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পেশাগত জীবনে তাসীন নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনের একজন শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি শাস্ত্রীয়, লোক ও সমসাময়িক নৃত্যে তিনি প্রবাসের বাংলা সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে পরিচিতি ও সমাদর অর্জন করেন।
মায়ের অনুপ্রেরণায় শৈশবেই বিপায় তাঁর নাচের হাতেখড়ি। লোকনৃত্য ও সমসাময়িক নৃত্যে দক্ষতা অর্জনের পর মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি নিউইয়র্কের শিব জ্যোতি ড্যান্স একাডেমিতে নৃত্যগুরু তেজস্বিনী রাজের কাছে ভরতনাট্যমের তালিম নিতে শুরু করেন। দীর্ঘ আট বছরের একনিষ্ঠ সাধনার পর ২০১৩ সালে তিনি ভরতনাট্যমের আনুষ্ঠানিক একক অভিষেক অনুষ্ঠান ‘আরাঙ্গেত্রাম’ সম্পন্ন করেন।বিপা ও শিব জ্যোতি ড্যান্স একাডেমির মাধ্যমে তাসীন নিউইয়র্কের মূলধারার বহুসাংস্কৃতিক মঞ্চ এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে নিয়মিত নৃত্য পরিবেশন করতেন। নৃত্যের মধ্য দিয়ে তিনি তুলে ধরতেন বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি।
সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক উদ্যোগেও সক্রিয় ছিলেন তাসীন। ব্রুকলিনের কেনসিংটনসহ স্থানীয় বাংলাদেশি অভিবাসীদের নাগরিক অধিকার রক্ষা এবং কমিউনিটির বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজে তিনি অংশ নিতেন।সম্ভাবনাময় এই শিল্পীর অকালপ্রয়াণে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁরা তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন এবং মা অ্যানি ফেরদৌস, বাবা জাফর আহমেদসহ শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

নিউইয়র্কের একাধিক প্রাপ্তবয়স্ক ডে-কেয়ারে এফবিআইয়ের অভিযান

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স, স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ও ব্রুকলিনের একাধিক প্রাপ্তবয়স্ক দিবাযত্নকেন্দ্রে (এডাল্ট ডে কেয়ার) তদন্ত ও অভিযান চালিয়েছেন কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। মঙ্গলবারের এসব তৎপরতা চলমান একটি কেন্দ্রীয় তদন্তের অংশ বলে জানিয়েছে এফবিআই।এফবিআইয়ের এক মুখপাত্র নিউজ নেশনকে দেওয়া বিবৃতিতে জানান, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিউইয়র্কের তিন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল জানিয়েছেন, সামাজিক প্রাপ্তবয়স্ক দিবাযত্ন কর্মসূচিতে সম্ভাব্য জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ এবং মেডিকেইড ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয় কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ব্রুকলিনের এইটথ অ্যাভিনিউয়ের একটি কথিত প্রাপ্তবয়স্ক দিবাযত্নকেন্দ্রে কর্মকর্তাদের যাতায়াত করতে দেখা যায়। এ সময় কয়েকজনকে বাক্স নিয়ে বের হতে দেখা গেছে। একই এলাকায় ফোর্ট হ্যামিল্টন পার্কওয়ে ও ৫১তম স্ট্রিটের কাছে আরেকটি দিবাযত্নকেন্দ্র থেকেও কর্মকর্তাদের একাধিক ব্যাগভর্তি সামগ্রী নিয়ে যেতে দেখা যায়।
ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ জানায়, সেখানে জালিয়াতির অভিযোগে তদন্ত চলছে।
গভর্নর হোকুলের ভাষ্য, কয়েক মাস ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে এ তদন্ত চলছে। মঙ্গলবার তিনি বলেন, অর্থপাচার, অবৈধ কমিশন বা কিকব্যাক, ভুল তথ্য দিয়ে বিল জমা এবং অন্যান্য জালিয়াতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত সেবাদানকারীদের লক্ষ্য করে তদন্ত চালানো হচ্ছে।
হোকুল আরও জানান, তার প্রশাসন তদন্ত ও বিচারের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে ১০০টিরও বেশি অভিযোগ পাঠিয়েছে।
গভর্নর বলেন, করদাতাদের অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে নিউইয়র্কের কোনো ছাড় নেই। যারা সরকারি ব্যবস্থার অপব্যবহার করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করবে, তাদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং জবাবদিহির আওতায় আনা হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

নিউ ইয়র্কে অভিবাসন পুলিশের হাতে বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ নিউ ইয়র্কে অভিবাসন পুলিশের হাতে এনামুল হক এনাম হক (৬২) নামে এক বাংলাদেশি গ্রেপ্তার হয়েছেন, যিনি দেশটিতে বসবাস করছেন ৩৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে।গত ১৪ অক্টোবর বুধবার তাকে নিউ ইয়র্ক স্টেটের বাফেলো সিটি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী তথ্য দিয়েছন।
এনামুল হকের বাড়ি কুমিল্লায়। দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও তার গ্রিনকার্ড হয়নি। অবৈধভাবে তিনি সেখানে বসবাস করছিলেন।
অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী বলেন, “অভিবাসনের বিধি লঙ্ঘন ব্যতীত এনামুলের কোনো অপরাধ ছিল না। তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে গত কয়েক দশকে বেশ কিছু তারকা শিল্পীকে ‘স্পন্সর করে’ যুক্তরাষ্ট্রে এনেছেন। সাড়া জাগানো অনুষ্ঠান করেছেন। এর মধ্যে অনেক শিল্পীই গ্রিনকার্ড পেয়েছেন। বিদ্যমান রীতি অনুযায়ী সিটিজেনশিপও নিয়েছেন। কিন্তু এনামুল হক পাননি।”গত কয়েক মাসে বাফেলো থেকে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশিসহ ৪ শতাধিক অবৈধ অভিবাসীকে অভিবাসন পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছেন মঈন চৌধুরী।

হাড়ের স্বাস্থ্য দুর্বল করে দৈনন্দিন যেসব অভ্যাস

অস্টিওপরোসিস বা হাড়ের ক্ষয়জনিত রোগ কোনো স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে ধীরে ধীরে হাড়কে দুর্বল করে ফেলতে পারে। একজন ব্যক্তি নিজেকে সম্পূর্ণ সুস্থ মনে করতে পারেন, অথচ ভেতরে ভেতরে তার হাড়ের ঘনত্ব কমে যেতে পারে এবং হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এজন্য প্রায়ই হাড় ক্ষয়কে “নীরব” রোগ হিসেবে অভিহিত করা হয়; কারণ হাড় না ভাঙা পর্যন্ত অনেক সময় এটি ধরাও পড়ে না।

যদিও হাড় ক্ষয় সমস্যা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে তবে সারা জীবনের জীবনযাত্রার ধরন হাড়ের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। অপুষ্টি, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর অপর্যাপ্ত গ্রহণ, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, ধূমপান এবং অতিরিক্ত মদ্যপান—এসবই সময়ের সাথে সাথে হাড়ের শক্তি কমিয়ে দিতে পারে। দৈনন্দিন জীবনের কিছু অভ্যাস কীভাবে হাড়ের স্বাস্থ্য দুর্বল করে তা জানানো হয়েছে ‘ইন্ডিয়া টিভি’র  এক প্রতিবেদনে।

পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি না পাওয়া

হাড়ের শক্তি বজায় রাখার জন্য ক্যালসিয়াম অপরিহার্য, আর ভিটামিন ডি শরীরকে ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে। খাদ্যাভ্যাস বা অন্য কোনো উৎস থেকে নিয়মিতভাবে এই পুষ্টি উপাদানগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে না পেলে, তা সময়ের সাথে সাথে হাড়ের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার এবং পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি-যুক্ত সুষম খাদ্যাভ্যাস হাড়কে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। যাদের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, তাদের উচিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া; নিজে থেকে কোনো সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা ঠিক নয়।

দিনের বেশিরভাগ সময় বসে থাকা

দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকা এবং শারীরিক কার্যকলাপের অভাব হাড়ের শক্তি ও পেশির সক্ষমতা—উভয়ের ওপরই প্রভাব ফেলতে পারে। হাড়ের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে নিয়মিত নড়াচড়া বা শারীরিক সক্রিয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাঁটা এবং অন্যান্য শারীরিক কার্যকলাপ—হাড়ের শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। দীর্ঘ সময় বসে না থেকে মাঝে মাঝে নড়াচড়া করা বা হাঁটাচলা করাও শারীরিকভাবে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠার একটি কার্যকর উপায়।

শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম এড়িয়ে চলা

হাড় ও পেশি একে অপরের সাথে মিলে শরীরের নড়াচড়া ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করতে এবং পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি কমাতে পেশির ভর বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শক্তি বাড়ানোর ব্যায়ামগুলো পেশির সক্ষমতা বজায় রাখতে এবং হাড়ের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।

ধূমপান

ধূমপানের সাথে হাড়ের দুর্বল স্বাস্থ্য এবং হাড় ভেঙে যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। যদিও এর প্রভাব হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা যায় না, তবে দীর্ঘস্থায়ী ধূমপান হাড়ের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

নিয়মিত অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান

অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান হাড়ের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এটি শরীরের ভারসাম্য ও সমন্বয়ের ক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যার ফলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে এবং হাড় ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

অত্যন্ত সীমিত খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা

খুব বেশি সীমিত খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে শরীর প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদানগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে পায় না, যা হাড় ও পেশির সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। হাড়ের শক্তি বজায় রাখার জন্য সুষম খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায়।

অস্টিওপরোসিসের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে এর কোনো লক্ষণ বা উপসর্গ সাধারণত চোখে পড়ে না। ব্যথা না থাকা মানেই যে হাড় মজবুত, তা কিন্তু নয়। যাদের ক্ষেত্রে অস্টিওপরোসিসের ঝুঁকি রয়েছে—যেমন বয়স বেড়ে যাওয়া, পরিবারে অস্টিওপরোসিসের ইতিহাস থাকা, অতীতে হাড় ভেঙে যাওয়ার ঘটনা, দীর্ঘ সময় ধরে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ সেবন করা বা শরীরে বড় ধরনের হরমোনজনিত পরিবর্তন—তাদের হাড়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো প্রয়োজন হতে পারে।

কীভাবে হাড়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করবেন
হাড় ভাঙার মতো ঘটনা ঘটার অনেক আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করা উচিত। সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গ্রহণ, শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখা এবং হাড়ের ওপর চাপ পড়ে এমন ব্যায়াম ও শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করা—এসবই হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। ধূমপান বর্জন করা এবং অ্যালকোহল পান সীমিত রাখা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া পেশির শক্তি ও শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।

শিশুর শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি হলে কীভাবে বুঝবেন?

বাড়ন্ত বয়সে শিশুদের পর্যাপ্ত প্রোটিন জরুরি। কারণ এটি শিশুর শারীরিক-মানসিক বিকাশ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু খাবার থেকে শিশুর শরীরে পর্যাপ্ত প্রোটিন পৌঁছোচ্ছে কি না তা অনেক সময় বোঝা যায় না। দৈনন্দিন খাবার থেকে শরীরের চাহিদামতো প্রোটিন না মিললে, শিশু অল্পেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে, শরীরের বৃদ্ধিও ব্যাহত হয়।

আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বয়স অনুযায়ী শিশুদের প্রোটিনের গড় চাহিদা বদলায়। প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১ থেকে ৩ বছরের শিশুর দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা ১.০৫ গ্রাম, ৪ থেকে ১৩ বছরের ক্ষেত্রে ০.৯৫ গ্রাম, ১৪ থেকে ১৮ বছরেরর জন্য ০.৮৫ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন। আইসিএমআর-এনআইএন-এর (ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ-ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউট্রিশন) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যদি ৫ বছর বয়সী শিশুর ওজন ২০ কেজি হয়, তবে তার প্রতিদিন প্রায় ১৯ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন।

যেসব লক্ষণে বুঝবেন শিশুর শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি হচ্ছে

ঘন ঘন ক্ষুধা: শিশু যদি বারবার বিস্কুট, চিপস বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের বায়না করে, তবে বুঝতে হবে মূল খাবার খেয়ে তার পেট ভরছে না। মূল খাবারে পুষ্টির ঘাটতি হলেও বার বার ক্ষুধা পেতে পারে। খাদ্যতালিকায় ডাল, দই, পনির, ডিম, মাছ, মাংস, ছোলা থাকলে পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকে।

দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া: শিশুরা প্রাণচঞ্চল ও চনমনে হবে সেটাই স্বাভাবিক। খেলার সময় শিশু যদি দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তার খাদ্যতালিকায় নজর দেওয়া প্রয়োজন। দুধ, ছোলা ভাজা, ডিম বা পনিরের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার তালিকায় রাখা দরকার। এগুলি শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।

ওজন বৃদ্ধি না হওয়া: পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ক্যালোরির অভাবে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই শিশুর বয়স অনুযায়ী উচ্চতা ও ওজন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। বৃদ্ধি সন্তোষজনক না হলে শিশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ঘন ঘন অসুস্থ হওয়া বা সেরে উঠতে দেরি হওয়া: প্রোটিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং কোষের পুনর্গঠনে সাহায্য করে। শিশু যদি বারবার অসুস্থ হয় বা অসুখ থেকে সেরে উঠতে বেশি সময় নেয়, দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া দরকার।

পেশির দুর্বলতা: ছোটখাটো ক্ষত সহজে না শুকোনো, পেশি দুর্বল হওয়া পুষ্টির ঘাটতির সঙ্কেত। ওজন কমার সঙ্গে সঙ্গে এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসক কিংবা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে খাবার খাওয়াতে হবে।

ইরানে বৈঠকে বসছেন সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের কর্মকর্তারা, লক্ষ্য কী?

আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করতে সোমবার সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা তেহরানে যাচ্ছেন। সেখানে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজাইয়ের সঙ্গে তাদের বৈঠক করার কথা আছে।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের উপসচিব আলী বাঘেরি কানি বলেন, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির ও তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন বৈঠকে অংশ নেবেন। তবে বৈঠকটি কখন অনুষ্ঠিত হবে তা জানাননি।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কানি বলেন, ‘স্থায়ী আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে এই বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে।’ বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে কানি বলেন, গত সপ্তাহে অসিম মুনিরের তেহরান সফরের সময় বৈঠকটির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

সৌদি আরব বর্তমানে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াই করছে। তুরস্ক-পাকিস্তানের সঙ্গে তারা মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। অপরদিকে ইরানে নতুন করে হামলার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এমন সময়ে রিয়াদ, আঙ্কারা, ইসলামাবাদ ও তেহরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বৈঠকে বসছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া অস্থিরতা অবসানে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। জ্বালানি পরিবহনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি বর্তমানে ইরান ও মিত্রদের নিয়ন্ত্রণে। তেহরান হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে থাকার দাবি করে আসছে। অন্যদিকে, নৌপথে পাল্টা অবরোধ আরোপ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ডি থ্রি ট্রফির নিলামে সর্বোচ্চ পয়েন্ট শরিফুলের

০

দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন সংযোজন ডি থ্রি ট্রফি। তিন সংস্করণের এই টুর্নামেন্টের প্রথম আসর সামনে রেখে সোমবার বসেছে খেলোয়াড়দের নিলাম। ‘এ’ ক্যাটাগরির নিলামে সর্বোচ্চ ২ কোটি ৩০ লাখ পয়েন্ট পেয়েছেন পেসার শরিফুল ইসলাম। তার পরেই আছেন তাসকিন আহমেদ ও তানজিদ হাসান তামিম।

রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে সকাল ১০টায় শুরু হয় নিলাম। ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে পাঁচটি দল ‘এ’ ক্যাটাগরি থেকে খেলোয়াড় দলে নিয়েছে। একমি গ্রুপ এই ক্যাটাগরি থেকে কাউকে নেয়নি।

নিলামে শরিফুলকে ২ কোটি ৩০ লাখ পয়েন্টে দলে নিয়েছে সিটিজেনস ব্যাংক। ওয়ালটন গ্রুপ তাসকিন আহমেদকে পেয়েছে ২ কোটি ১০ লাখ পয়েন্টে। ফরচুন গ্রুপ ২ কোটি পয়েন্টে নিয়েছে তানজিদ হাসান তামিমকে। তবে নিলামে ওঠা পয়েন্টের সঙ্গে খেলোয়াড়দের প্রকৃত পারিশ্রমিকের সরাসরি সম্পর্ক নেই। ‘এ’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড়দের ভিত্তিমূল্য ৪০ লাখ টাকা। পারিশ্রমিক নির্ধারণে ম্যাচ খেলার সংখ্যাও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

ফরচুন গ্রুপের আইকন খেলোয়াড় তাওহীদ হৃদয়। দলটি নাজমুল হোসেন শান্তকে ১ কোটি ৫৫ লাখ, সৌম্য সরকারকে ৭৫ লাখ এবং রিশাদ হোসেনকে ৬০ লাখ পয়েন্টে দলে নিয়েছে।

এইস ব্লু স্টারের আইকন নুরুল হাসান সোহান। দলটি হাসান মাহমুদকে ১ কোটি ৯৫ লাখ, শেখ মেহেদী হাসানকে ১ কোটি ৫০ লাখ, এনামুল হক বিজয়কে ৯০ লাখ এবং নাহিদ রানাকে ৭৫ লাখ পয়েন্টে নিয়েছে।

সেভেন রিংস সিমেন্টের আইকন মুশফিকুর রহিম। তারা সাইফ হাসানকে ১ কোটি ৯৫ লাখ, খালেদ আহমেদকে ১ কোটি ৫০ লাখ, তাইজুল ইসলামকে ৮০ লাখ এবং মোস্তাফিজুর রহমানকে ৭০ লাখ পয়েন্টে দলে নিয়েছে।

সিটিজেনস ব্যাংকের আইকন নাঈম শেখ। শরিফুলের পাশাপাশি তারা জাকের আলী অনিককে ১ কোটি ৮০ লাখ পয়েন্টে কিনেছে। ওয়ালটন গ্রুপের আইকন মেহেদী হাসান মিরাজ। দলটি তাসকিনের সঙ্গে লিটন দাসকে ১ কোটি ৫০ লাখ এবং মুমিনুল হককে ৮০ লাখ পয়েন্টে দলে নিয়েছে। একমি গ্রুপের আইকন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

ডি থ্রি ট্রফিতে মোট ৪২টি ম্যাচ হবে। এর মধ্যে রয়েছে সাতটি চার দিনের ম্যাচ, ১৬টি ওয়ানডে ও ১৯টি টি-টোয়েন্টি। আগামী ১৫ ডিসেম্বর টি-টোয়েন্টি সংস্করণ দিয়ে শুরু হবে প্রতিযোগিতা। জানুয়ারিতে হবে চার দিনের ম্যাচ, আর ওয়ানডে সংস্করণ মাঠে গড়াবে ২০২৭ সালের মে মাসে।

গুলশানের কিংফিশার রেস্তোরাঁয় অভিযান, বিপুল পরিমাণ অ্যালকোহল জব্দ

০

রাজধানীর গুলশানে কিংফিশার রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে বৈধ কাগজপত্রবিহীন বিপুল পরিমাণ অ্যালকোহল ও অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় আটক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চারটি গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত দল। রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রেস্তোরাঁটিতে এ অভিযান চালানো হয়। সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে এনবিআর।

এতে বলা হয়, উচ্চ শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য, বিশেষত অ্যালকোহল ও অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সংগ্রহ ও বিক্রি করা হচ্ছে— এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অবৈধ উৎস ও চোরাচালানের মাধ্যমে সংগ্রহ করা এসব পণ্যের মজুত শনাক্ত করা, স্থানীয় পর্যায়ে বিক্রির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ফাঁকি প্রতিরোধ, বিক্রয়লব্ধ অর্থ আয়কর নথিতে যথাযথভাবে দেখানো হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট লেনদেনে অর্থ পাচারের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের লক্ষ্যে অভিযান চালানো হয়।

এনবিআরের নির্দেশনায় এবং কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে চারটি গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ দল অভিযানটি পরিচালনা করে। সংস্থাগুলো হলো—সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট (টিআইআইইউ) এবং মূল্য সংযোজন কর নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (ভিএআইআইডি)।

প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে বৈধ কাগজপত্রবিহীন বিপুল পরিমাণ অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলজাতীয় পানীয় আটক করা হয়। অভিযানের পুরো সময় বিশেষ সাড়া প্রদানকারী ব্যাটালিয়ন-১ (এসআরবি-১) সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করে।

আটক পণ্যের বিবরণ, প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য, সম্ভাব্য শুল্ক-কর ফাঁকির পরিমাণ এবং পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে এনবিআর।

বিএনপি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী: রিজভী

০

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, বিএনপি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তবে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, এমন সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে প্রখ্যাত সাংবাদিক, ভয়েস অব আমেরিকার সাবেক সংবাদ পাঠক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত গিয়াস কামাল চৌধুরীর স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সমিতি এ স্মরণসভার আয়োজন করে।

রিজভী বলেন, সাংবাদিক গিয়াস কামাল চৌধুরী ছিলেন দেবতুল্য মানুষ। তার মতো অনেকের অদম্য সাহস ও সততা ছিল বলেই ফ্যাসিস্টরা এ দেশে চিরস্থায়ী হতে পারেনি। এ সময় বিদেশে শ্রমিক হিসেবে বাংলাদেশিদের সুনামের কথাও তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) চেয়ারম্যান ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, গিয়াস কামাল চৌধুরীর মতো গুণী ও দেশপ্রেমিক মানুষকে স্মরণ করার অর্থ হলো ভালো কাজের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করা। দেশে গুণী, ভালো ও প্রয়োজনীয় মানুষদের স্মরণ করার লোকের অভাব রয়েছে। বরং প্রকৃত ভিলেনদের হিরো বানাতে নানা আয়োজন করা হয়। সে দিক থেকে গিয়াস কামাল চৌধুরীকে স্মরণ করা একটি ভালো কাজ।

গিয়াস কামাল চৌধুরীর ব্যক্তিত্বের স্মৃতিচারণা করে আবদুল হাই শিকদার বলেন, জীবনানন্দ দাশের ভাষায় বলতে ইচ্ছে করে—‘এ পৃথিবী একবার পায় তাকে, পায় না তো খোয়ার।’ গিয়াস কামাল চৌধুরীর মতো আরও সাংবাদিক আসবেন, নতুন মুখ আসবে; কিন্তু তার মতো ব্যক্তিত্ব আর কখনও পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

মরহুম আনোয়ার জাহিদ, আহমেদ হুমায়ুন, এনায়েতুল্লাহ খান, আকরাম খান ও আবুল কালাম শামসুদ্দিনের বুদ্ধিবৃত্তিক সাংবাদিকতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা ছিলেন বুদ্ধিবৃত্তিক সাংবাদিক। তবে গিয়াস কামাল ছিলেন গণমানুষের সাংবাদিক। মানুষের জন্য, দেশের জন্য তার অন্তরের দরদ আজ আর দেখা যায় না। তার মধ্যে সব সময় মওলানা ভাসানীর ছায়া দেখা যেত।

গিয়াস কামাল চৌধুরীর মানবিকতার স্মৃতিচারণা করে শিকদার বলেন, প্রেস ক্লাবের ইফতার মাহফিলের পর বেঁচে যাওয়া ফলমূল ঝোলায় ভরে নিতেন তিনি। অনেকে এতে অবাক হলেও পরে জানতে পারতেন, সেসব খাবার প্রেস ক্লাব থেকে পল্টন পর্যন্ত ফুটপাতের হকার ও ভিক্ষুকদের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন গিয়াস কামাল। সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত থাকা এই সাংবাদিককে অনেকে ভুল বুঝলেও তিনি নিজের পকেটের টাকা দিয়ে মানুষের রিকশাভাড়া ও খাবারের খরচ জোগাতেন।

তিনি আরও বলেন, নতুন যমুনা সেতু চালুর ১৫ দিন পর রাজশাহীতে একটি সেমিনারে যাওয়ার পথে এক দুর্বৃত্তকে হাতুড়ি দিয়ে সেতুতে আঘাত করতে দেখে গাড়ি থামিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন গিয়াস কামাল। দেশের সামান্য ক্ষতিও তার দৃষ্টি এড়াত না।

গিয়াস কামালের জনপ্রিয়তার স্মৃতি তুলে ধরে আবদুল হাই শিকদার বলেন, চলনবিলের কাদায় গাড়ি আটকে গেলে তিনি ক্ষেতমজুরদের কাছে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন। ভয়েস অব আমেরিকার পরিচিত কণ্ঠের এই সাংবাদিককে চিনতে পেরে খেটে খাওয়া মানুষগুলো সারিবদ্ধভাবে তাকে কদমবুচি করেন। এটি তার বিপুল জনপ্রিয়তার প্রমাণ।

বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গিয়াস কামালের অটুট আস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ফেনীতে খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করায় গিয়াস কামালকে ভয়েস অব আমেরিকা থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। চাকরি ছেড়ে দিলেও তিনি খালেদা জিয়ার প্রতি আস্থার জায়গা থেকে সরে দাঁড়াননি।

আবদুল হাই শিকদার বলেন, গিয়াস কামাল মুখের ওপর সত্য কথা বলতে কখনও ভয় পেতেন না। আদর্শনিষ্ঠ ও ন্যায়নিষ্ঠ এমন বিরল দেশপ্রেমিক সাংবাদিক আজকের সমাজে অত্যন্ত দুর্লভ।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ মাসুমের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সমিতির মহাসচিব মোহাঃ শেখ সাদীসহ অন্যরা।