Home Blog Page 2

জিটুজি পদ্ধতিতে গম আমদানির পুরোটাই আসছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান একটি থেকে দুটি উন্নীত

০

সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৭ লাখ টন গম আমদানি করা হচ্ছে। এর পুরোটাই আসবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। দেশটি থেকে গম আমদানির জন্য এতদিন অনুমোদিত ছিল একটি প্রতিষ্ঠান। এখন আরও একটি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়ায় দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপ্রস্তাব নিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতার কাছ থেকে গম কেনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এ-সংক্রান্ত এক প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। গতকাল বুধবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালিভাবে অনুষ্ঠিত কমিটির সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে জিটুজি ভিত্তিতে গম আমদানির লক্ষ্যে ইউএস হুইট অ্যাসোসিয়েশন অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান অ্যাগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল পিটিই লিমিটেড এবং লুই ড্রেফাস কোম্পানি (এলডিসি) থেকে মূল্য প্রস্তাব নেওয়া হবে।

সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালায় জিটুজি পদ্ধতিতে একাধিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপ্রস্তাব নেওয়া কিংবা সর্বনিম্ন দরদাতার সঙ্গে দর-কষাকষির বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। এ কারণে দুটি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপ্রস্তাব নিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতার সঙ্গে দর-কষাকষির জন্য অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন নেওয়া হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, সরকারিভাবে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে ৮ লাখ টন গম আমদানির সিদ্ধান্ত রয়েছে। এর মধ্যে জিটুজি পদ্ধতিতে ৭ লাখ টন গম আমদানির জন্য গত ২০ মে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদন নেওয়া হয়।

নথিতে বলা হয়েছে, সরকারি মজুত বাড়ানো এবং সরকারি খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থা সচল রাখতে দ্রুত ও প্রতিযোগিতামূলক দামে গম সংগ্রহের জন্য প্রতি বছর জিটুজি এবং আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে খাদ্যশস্য আমদানি করে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে জিটুজি ভিত্তিতে গম আমদানির লক্ষ্যে গত বছরের ২০ জুলাই দেশটির গম রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ইউএস হুইট অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করে বাংলাদেশ। পরে সংগঠনটি অ্যাগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল পিটিই লিমিটেডকে ২০২৫ থেকে ২০৩০ অর্থবছর পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য অনুমোদিত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্ধারণ করে।

এর পর ট্রেড নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৭ লাখ ৪ হাজার টন গম আমদানি করা হয়। ওই গম সরবরাহের যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে অ্যাগ্রোকর্প। চলতি অর্থবছরেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টন গম আমদানির কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। অ্যাগ্রোকর্পের পাশাপাশি লুই ড্রেফাস কোম্পানিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম সরবরাহের জন্য অনুমোদন দেওয়া হলো।

বাংলাদেশি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা পাল্টা শুল্ক কমানোর দর-কষাকষিতে সুবিধা পেতে গত বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরকারি পর্যায়ে গম আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর আওতায় পাঁচ বছর মেয়াদে প্রতিবছর ৭ লাখ টন করে গম আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ।

তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানিতে অন্য উৎসের তুলনায় সরকারের বাড়তি খরচ হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অন্যান্য দেশ থেকে যে দামে গম কেনা হয়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনতে প্রতি টনে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ মার্কিন ডলার বেশি ব্যয় হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের গমের মান ভালো একাধিকবার সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে সমকালকে বলেন, ‘আমরা রাশিয়া বা অন্যান্য দেশ থেকে তুলনামূলক কম দামে গম আমদানি করতাম। কিন্তু সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির বিষয়টি শুধু দামের ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, অন্যান্য স্বার্থ এবং রাজনৈতিক চুক্তির মতো অনেক বিষয় জড়িত। তাছাড়া বাংলাদেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র বাড়তি শুল্ক আরোপ করেছিল, সেটিও বিবেচনার বিষয়।’

আরবদের সঙ্গে জোটে আপত্তি ইসরায়েলি নেতাদের মনোভাব বর্ণবাদী: সামি আবু শেহাদেহ

নির্বাচনে কোনো সুস্পষ্ট বিজয়ী উঠে না আসার পর, জনমত জরিপে রেকর্ডসংখ্যক সমর্থনের কারণে ইসরায়েলের পরবর্তী পার্লামেন্টে (নেসেট) ‘কিংমেকার’ হতে পারে আরব দলগুলো। এমন সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও, আরব দলগুলোর সাথে জোট গঠন করতে অস্বীকৃতি জানানোর জন্য ইসরায়েলের প্রধান রাজনৈতিক নেতাদের নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির বালাদ পার্টির নেতা সামি আবু শেহাদেহ। তাদের মনোভাবকে বর্ণবাদী বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ফিলিস্তিনি আরব। এত বড় জনগোষ্ঠী থাকা সত্ত্বেও তাদের বৈধ রাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘এটি বর্ণবাদ। আমরা জাতীয় সংখ্যালঘুদের বৈধভাবে নির্বাচিত নেতৃত্ব। আমাদের জনগণের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ আমাদের নেতৃত্ব হিসেবে বেছে নিয়েছে।’

আরব দলগুলো এবার রেকর্ড ১৯টি আসনে জয় পেতে যাচ্ছে। এর ফলে ইসরায়েলের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৮৫ শতাংশ ভোট গণনার পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট অন্তত ৫৩টি আসনে এগিয়ে ছিল। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছিল ৪৮টি আসন। ইসরায়েলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। কিন্তু কোনো জোটই তখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।

নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলিরা একটি শক্তিশালী ডানপন্থি সরকার বেছে নিয়েছে। অন্যদিকে আইজেনকোটের দাবি, মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছে।

জয়েন্ট লিস্টের তিনটি দলের একটি হলো বালাদ। দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন আবু শেহাদেহ। তবে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেননি। কট্টর ডানপন্থি নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের অনুরোধে ইসরায়েলের নির্বাচন কমিশন আবু শেহাদেহকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার পক্ষে রায় দেয়। বেন-গভির অভিযোগ করেন, আবু শেহাদেহ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলাকে সমর্থন করেছিলেন।

এই অভিযোগের পক্ষে তিনি হামলার পরদিন প্রকাশিত আবু শেহাদেহর একটি নিবন্ধের কথা উল্লেখ করেন। ওই নিবন্ধে আবু শেহাদেহ হামলাটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

পরে আবু শেহাদেহ সুপ্রিম কোর্টকে বলেন, আমি সশস্ত্র সংগ্রামকে সমর্থন করি না। তবে তিনি স্বীকার করেন, নিবন্ধটির একটি অনুচ্ছেদের ভাষা সঠিক ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমার উদ্দেশ্য ছিল সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে বিষয়টিকে একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার দিকে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো।’

অক্টোবরে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের একটি প্যানেলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য তাকে অযোগ্য ঘোষণার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করতে পারেন বলে মনে হচ্ছিল। এ পরিস্থিতিতে আবু শেহাদেহ নিজেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

তবে তিনি অযোগ্য ঘোষণার পক্ষে দেওয়া যুক্তিগুলো প্রত্যাখ্যান করেন। তার অভিযোগ, ‘আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, ইসরায়েলে দুটি ভিন্ন বিচারব্যবস্থা রয়েছে—একটি ইহুদিদের জন্য, অন্যটি আরবদের জন্য।’

আল জাজিরাকে আবু শেহাদেহ বলেন, ইসরায়েলের আরব ফিলিস্তিনি সংখ্যালঘুদের নিয়ে আমরা অত্যন্ত গর্বিত। তারা বিপুল সংখ্যায় ভোট দিতে গিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, “ভোটারদের কাছে আমাদের প্রথম প্রতিশ্রুতি ছিল নেতানিয়াহু এবং কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ও ইতামার বেন-গভিরকে ক্ষমতায় ফেরা থেকে ঠেকানো। আমরা তাদের ‘অপরাধীদের চক্র’ বলে উল্লেখ করেছি। তাই আমরা এখন থেকেই আমাদের প্রথম প্রতিশ্রুতি রক্ষার কাজ শুরু করতে পারি।”

আরব দলগুলো নির্বাচন ‘চুরি’ করেছে: নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি

নির্বাচনে কোনো সুস্পষ্ট বিজয়ী উঠে না আসার পর, জনমত জরিপে রেকর্ডসংখ্যক সমর্থনের কারণে ইসরায়েলের পরবর্তী পার্লামেন্টে (নেসেট) ‘কিংমেকার’ হতে পারে আরব দলগুলো। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাপক ভোট জালিয়াতি ও ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তুলে পুলিশ ও দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের তদন্ত দাবি করেছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি। দলটির অভিযোগ, আরব দলগুলো নির্বাচন ‘চুরি’ করেছে।

বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে লিকুদ পার্টি দাবি করে, ঘুষ, হুমকি, সহিংসতা, জালিয়াতি এবং ভোটারদের সংগঠিত করতে অবৈধ সফটওয়্যার ব্যবহারের মতো গুরুতর অপরাধের মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রভাবিত করা হয়েছে। দলটি আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ইসরায়েল রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগও আনে।

তবে এর কয়েক ঘণ্টা আগে চ্যানেল টুয়েল্ভ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের (সিইসি) এক কর্মকর্তা ভোট জালিয়াতির অভিযোগ নাকচ করেছিলেন।

নিয়মিত নির্বাচনে অংশ নেওয়া আরব নেতৃত্বাধীন দল রাআম (Ra’am) ও জয়েন্ট লিস্ট মঙ্গলবার রেকর্ডসংখ্যক ভোট পেয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, জোট দুটি ১৯টি আসন পেতে পারে। বর্তমানে তাদের সম্মিলিত আসনসংখ্যা ১০।

এই ফলাফল কার্যকর হলে নেতানিয়াহুর জোট কিংবা তার বিরোধী ইহুদি-নেতৃত্বাধীন দলগুলো—কোনো পক্ষের পক্ষেই সহজে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা সম্ভব হবে না। তবে আরব দলগুলোর সমর্থন পেলে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট সরকার গঠনের সুযোগ পেতে পারেন।

বিরোধী দলগুলোর কয়েকটি অবশ্য আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় নেতানিয়াহু ও তার দলও এমন সম্ভাবনাকে বারবার নাকচ করার চেষ্টা করেছে।

মঙ্গলবার ভোট গ্রহণের আগেই হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, নেতানিয়াহু নির্বাচনে জয়ী না হলে আরব অধ্যুষিত এলাকাগুলোর ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করতে পারে লিকুদ। দলটি নির্বাচন ‘চুরি’ হওয়ার অভিযোগও তুলতে পারে। এ জন্য তারা আগেই বিভিন্ন অভিযোগ ও জালিয়াতির দাবি প্রস্তুত করে রেখেছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

ভোট জালিয়াতির অভিযোগে তদন্ত দাবি
বুধবারের বিবৃতিতে লিকুদ জানায়, তারা পুলিশ, শিন বেত ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে ‘শত শত সাক্ষ্য’ এবং অন্যান্য প্রমাণ জমা দিয়েছে।

দলটির দাবি, এসব প্রমাণের মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ ও রাআম দলের স্লিপসহ হাজার হাজার খাম, ভোটকেন্দ্রের কর্মকর্তাদের হুমকি ও তাদের ওপর হামলা, ভোট দেওয়ার গোপন কক্ষে একাধিক ভোটারের উপস্থিতি, একই ব্যক্তির একাধিকবার ভোট দেওয়া এবং খামের সংখ্যা ও ভোটারের সংখ্যার মধ্যে অসংগতি।

এ ছাড়া ভোটারদের সংগঠিত করতে অবৈধ সফটওয়্যার ব্যবহারের অভিযোগও তুলেছে দলটি। লিকুদ এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেছে।

জবাবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানায়, প্রতিটি নির্বাচনের মতো এবারও নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠুতা যাচাইয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দলের উত্থাপিত অভিযোগ এবং ভোটের ফলাফলে সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে।

কমিশন আরও জানায়, নির্বাচনের দুই দিন আগে ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ডিন লিভন সব নির্বাচনী তালিকাকে এ প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন। যেসব ভোটকেন্দ্রের ফলাফল পুনরায় পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে দলগুলো মনে করে, সেগুলোর বিস্তারিত তথ্যও চাওয়া হয়েছিল।

কমিশনের ভাষ্য, লিকুদের অভিযোগ তারা পেয়েছে এবং নিয়মিত পর্যালোচনা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সেগুলো পরীক্ষা করছে।

‘আমাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে’
নির্বাচনে জোট গঠন নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিন বলেছেন, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধীদের নেতৃত্বাধীন সরকারকে সহযোগিতা করতে তারা প্রস্তুত। তবে সরাসরি কোনো সরকারি জোটে যোগ দেওয়ার পক্ষে নন তারা।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জাবারিন বলেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে গাজায় চলমান যুদ্ধ, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন এবং অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় আমরা ইসরায়েলের কোনো সরকারি জোটের অংশ হওয়ার সম্ভাবনা দেখছি না।’

তবে তিনি মনে করেন, ইসরায়েলের জনগণ নতুন নেতৃত্বের পক্ষে ভোট দিয়েছে। তাই নেতানিয়াহুর সরকারের বিকল্প গঠন করতে আগ্রহী রাজনৈতিক দলগুলোকে আরব দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।

জাবারিন বলেন, ‘নেতানিয়াহুর রক্তমাখা সরকারের একটি বাস্তব ও কার্যকর বিকল্প দিতে চায়—এমন যে কাউকেই আমাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে।’

রাআম দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ইয়োভ সেগালোভিটজও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে বুথফেরত জরিপের ফল প্রকাশের পর তিনি টাইমস অব ইসরায়েলকে বলেন, তাদের দল পরবর্তী সরকার গঠনের জোটে থাকতে আগ্রহী। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যাকে মনোনীত করা হবে, তাকে রাআম দলের ভোটারদের প্রত্যাশাও বিবেচনায় নিতে হবে।

ইসরায়েলের জায়নবাদ বিরোধী দলগুলোর মধ্যে বামপন্থি ডেমোক্র্যাটস পার্টিই একমাত্র দল, যারা রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে ইহুদি ও আরব দলগুলোর যৌথ জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছে। দলটির নেতা ইয়াইর গোলান বুধবার তার ‘চেঞ্জ ব্লক’-এর শরিকদের রাআম ও জয়েন্ট লিস্টের সঙ্গে সম্ভাব্য জোট গঠনের বিরোধিতা থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।

সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দূরে দুই পক্ষই
বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৮৫ শতাংশের বেশি ভোট গণনা শেষে জয়েন্ট লিস্ট ১২টি এবং রাআম সাতটি আসন পেতে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসনে এগিয়ে ছিল। গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ও তার শরিকদের আসনসংখ্যা ছিল ৪৮।

ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। কিন্তু ভোট গণনার ওই পর্যায়ে কোনো পক্ষই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অভাবের পথ পেরিয়ে সফল উদ্যোক্তা

০

জীবন যখন চরম অনিশ্চয়তায় মোড়ানো, চারপাশে যখন কেবলই অভাবের কালো ছায়া—এমন এক কঠিন বাস্তবতায় দাঁড়িয়েও হার মানেননি হাওয়া বেগম। স্বামীকে হারিয়ে জীবনযুদ্ধের ময়দানে একদম একা হয়ে পড়েছিলেন তিনি। কোনো সন্তান না থাকায় নিজের কষ্ট ভাগ করে নেওয়ার কিংবা বিপদের দিনে পাশে দাঁড়ানোর মতো আপনজনও ছিল না। তবে অভাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেননি হাওয়া বেগম। জীবনের কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর একটি সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। সেই সুযোগই একসময় তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তাঁর পাশে দাঁড়ায় সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট (সিজেডএম)। প্রতিষ্ঠানটির ‘জীবিকা উন্নয়ন কেন্দ্র, সান্তানপাড়া, নরসিংদী’প্রকল্পের সহায়তায় শুরু হয় তাঁর জীবনে পরিবর্তনের নতুন অধ্যায়।

১৫ হাজার টাকা থেকে স্বপ্নের সূচনা
স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সিজেডএম থেকে প্রথমে ১৫ হাজার টাকা তহবিল সহায়তা পান হাওয়া বেগম। এই অর্থের মধ্য থেকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে দুটি ছাগল কিনে শুরু করেন ছাগল পালন। অভাবের জীবনে এটিই ছিল তাঁর নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রথম অবলম্বন।
শুরুটা ছিল ছোট। কিন্তু স্বপ্নটা ছিল বড়। নিজের হাতে থাকা সামান্য সম্পদকে যত্ন, শ্রম ও ধৈর্যের মাধ্যমে কীভাবে বড় করে তোলা যায়, সেই চেষ্টাই করতে থাকেন তিনি। ছাগল দুটির পরিচর্যায় কোনো ধরনের অবহেলা করেননি। খাবার, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার দিকে নজর রেখেছেন নিয়মিত। ধীরে ধীরে সেই ছোট উদ্যোগেই সম্ভাবনার আলো দেখতে শুরু করেন তিনি।
হাওয়া বেগমের কাছে দুটি ছাগল ছিল শুধু দুটি প্রাণী নয়; ছিল নিজের জীবনের নতুন অধ্যায়ের ভিত্তি। তাই প্রতিদিনের পরিশ্রমের পাশাপাশি তিনি খামারটিকে আরও বড় করার স্বপ্ন দেখতে থাকেন।

মেধা ও পরিশ্রমে মিনি খামার
হাওয়া বেগমের একাগ্রতা, পরিশ্রম ও যত্নশীলতায় প্রথম পদক্ষেপটি সফল হতে শুরু করে। এরপর তাঁকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। কাজের ধারাবাহিকতায় ধাপে ধাপে তিনি আরও সহায়তা গ্রহণ করেন এবং ছাগলের খামারের পরিধি বাড়াতে থাকেন।
এভাবে মোট পাঁচটি ধাপে মোট এক লাখ টাকা সহায়তা পান তিনি। সেই অর্থের সঙ্গে নিজের শ্রম ও অভিজ্ঞতা যুক্ত করে ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন একটি সমৃদ্ধ ‘মিনি ছাগলের খামার’। তাঁর নিরলস পরিচর্যা ও ভালোবাসায় আজ খামারটিতে শোভা পাচ্ছে ছোট-বড় ১২টি সুস্থ-সবল ছাগল।
একসময় যে নারী অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, সেই তিনিই এখন নিজের একটি উদ্যোগের মালিক। খামারের প্রতিটি ছাগল তাঁর কাছে সম্ভাবনার প্রতীক। একটি ছাগল বিক্রি করে পাওয়া অর্থ যেমন তাঁর দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে সহায়তা করে, তেমনি নতুন ছাগল কেনার মাধ্যমে ব্যবসা আরও সম্প্রসারণের সুযোগও তৈরি হয়।
হাওয়া বেগম বলেন, “যখন প্রথম ১৫ হাজার টাকা সাহায্য পাইলাম, মনে হইলো যেন একটা খড়কুটো আঁকড়ে ধরলাম। ১০ হাজার টাকা দিয়া দুইটা ছাগল কিইন্যা নিজের সন্তানের মতো যত্ন করতে লাগলাম। এরপর ধাপে ধাপে টাকা পাইছি আর খামার বড় করছি। ভাবতেও পারি নাই, আমার মতো অভাবী মানুষেরও একদিন ১২টা ছাগলের একটা খামার হবে।”

অভাব থেকে আত্মমর্যাদার পথে
হাওয়া বেগমের গল্প শুধু একটি ছাগলের খামার গড়ে ওঠার গল্প নয়; এটি একজন অসহায় নারীর নিজের ভাগ্য বদলে নেওয়ার গল্প। একসময় যেখানে প্রতিদিনের খাবারের চিন্তাই তাঁকে তাড়া করত, সেখানে আজ তিনি ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করতে পারেন। নিজের পরিশ্রমে আয় করার সুযোগ তাঁকে শুধু আর্থিক স্বস্তিই দেয়নি, ফিরিয়ে দিয়েছে আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদাও।
ছাগল পালনকে তিনি এখন আর শুধু সহায়তার একটি মাধ্যম হিসেবে দেখেন না। এটি তাঁর কাছে একটি নিয়মিত জীবিকা ও ভবিষ্যতের বিনিয়োগ। ছাগলের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে তাঁর সম্ভাবনাও। খামারের প্রতিটি ছাগলের যত্ন, খাবারের ব্যবস্থা, পরিচর্যা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিক্রির সিদ্ধান্ত—সবকিছুতেই এখন তাঁর নিজের অভিজ্ঞতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে তাঁর মানসিকতায়। অন্যের সাহায্যের অপেক্ষায় থাকা একজন নারী আজ নিজের উদ্যোগে আয় করছেন। ফলে জীবনের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে গেছে। এখন তিনি বিশ্বাস করেন, সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে অভাবগ্রস্ত মানুষও নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন।

সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন
হাওয়া বেগমের চোখে এখন আরও বড় স্বপ্ন। তাঁর ছোট্ট খামারটিকে আরও বড় করা, ছাগলের সংখ্যা বাড়ানো এবং নিয়মিত আয় নিশ্চিত করাই তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য। একদিন যে নারী ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার সুযোগই পেতেন না, আজ তিনিই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করছেন।
হাওয়া বেগমের জীবনসংগ্রাম তাই শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়। এটি সম্ভাবনার গল্প, ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প এবং আত্মমর্যাদা ফিরে পাওয়ার গল্প। তাঁর ছোট্ট খামারের প্রতিটি ছাগলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর সংগ্রাম, পরিশ্রম, স্বপ্ন ও নতুন জীবনের প্রত্যয়।
অভাবের কঠিন পথ পেরিয়ে হাওয়া বেগম আজ প্রমাণ করছেন—সুযোগের একটি দরজা খুলে দিলে একজন মানুষ নিজেই নিজের জন্য আরও অনেক দরজা খুলে দিতে পারেন। সঠিক দিকনির্দেশনা, শ্রম এবং জাকাতভিত্তিক উৎপাদনমুখী সহায়তা একজন অসহায় মানুষকে শুধু সাহায্যপ্রার্থী নয়, একজন স্বাবলম্বী উদ্যোক্তায় পরিণত করতে পারে।
সিজেডএমের জীবিকা কর্মসূচির প্রধান এনামুল হক বলেন, “জীবিকা কর্মসূচির মাধ্যমে সিজেডএম এ পর্যন্ত প্রায় ৩৩ হাজার পরিবারের জীবনমান পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে। এসব পরিবারের আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন ও উন্নত জীবন গঠনের পথে পাশে থাকতে পেরে আমরাও সম্মানিত ও গর্বিত বোধ করছি।“

তুরাগ নদ থেকে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট (অব.) তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর উত্তরখান থানা এলাকার তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সমকালকে এসব তথ্য জানান নৌ পুলিশের ঢাকা  রিজিয়নের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন।

তিনি বলেন, বুধবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বর থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদ থেকে তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর এক আত্মীয়কে খবর দেওয়ার পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানান পুলিশ সুপার। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

পুলিশ জানায়, বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদে যায় টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল। সেখানে নদে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর বয়স আনুমানিক ২৮ বছর। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় তাঁর পরনে সাদা পাজামা ও কালো জামা, হাতে ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। ওই ফোনের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি। তাঁর বাবার নাম কে এম এনায়েতুর। তিনি উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের ১৪/বি নম্বর সড়কের বাসিন্দা।

এদিকে, তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শেখ হাসিনার দেশত্যাগের মুহূর্তের যে ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল, সেটি ধারণ করেছিলেন তিনি। তবে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেননি নৌ পুলিশের কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন।

জমি না দেওয়ায় ৮০ বছরের মাকে বাড়িছাড়া

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে একটু আশ্রয়ের জন্য বুকফাটা কান্না ৮০ বছরের মমেনা বেগমের। জমি লিখে না দেওয়ায় নিজের সন্তান মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাঁকে বাড়িছাড়া করেছেন।
ছেলে মা-বাবার জমিতে গড়ে তোলা পাকা বাড়িতে বিলাসী জীবন কাটালেও হতভাগা মায়ের ঠিকানা হয়েছে অন্যের বাড়িতে। ঘরের চাল ও বেড়ার অসংখ্য ফুটো দিয়ে বৃষ্টি নামলেই ভিজে যায় বিছানা-বালিশ। স্বামীর মৃত্যুর পর মেয়ের আশ্রয়ে থেকে কাঁথা সেলাই করেই চলছে এই মমেনা বেগমের দিনযাপন।

১৪ বছর আগে আরও জমি লিখে দেওয়ার দাবি জানান ছেলে মোখলেছুর রহমান। তিনি কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার রাজমাল্লীরহাট সিদ্দিকীয়া ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। কিছু জমি দিলেও তাতে তিনি সন্তুষ্ট হননি। এরপর জোর করে মা-বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে তারা রাজমাল্লীরহাট মিস্ত্রীপাড়া গ্রামে মেয়ে খাদিজা বেগমের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে চার বছর আগে মারা যান মমেনা বেগমের স্বামী আবদুস সাত্তার। অধ্যক্ষ ছেলে তাঁর জানাজায়ও অংশ নেননি এবং নিজের বসতভিটায় দাফন করার শেষ ইচ্ছাও পূরণ করতে দেননি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মোখলেছুর রহমানের বক্তব্য জানতে কর্মস্থল মাদ্রাসা ও বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরে বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উমর মজিদ ইউপি চেয়ারম্যান আহসানুল কবির আদিল বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। অভিযোগ পেলে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া যেত।
আইনজীবী আহসান হাবিব নিলু জানান, ভরণপোষণ আইন-২০১৩ অনুযায়ী এ ধরনের অপরাধের জন্য কঠোর জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে নেই মুশফিক

০

টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচের আগের দিন হালকা চোট পেয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। এই টেস্টে তাই খেলা হচ্ছে না তার ।

বাংলাদেশ একাদশ: নাজমুল হোসেন শান্ত, তানজিদ হাসান তামিম, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, লিটন কুমার দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাঈম হাসান, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম, তাওহীদ হৃদয়, শরিফুল ইসলাম।

একবার শুধু নিজেদের জন্য

০

শিক্ষক বান্ধবী কাকলি মালয়েশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছে। সেই সুযোগে চল্লিশ পেরোনো আমরা চার স্কুলবন্ধু সংসার, সন্তান আর কর্মজীবনের ব্যস্ততা পেরিয়ে হঠাৎই সিদ্ধান্ত নিলাম মালয়েশিয়া বেড়াতে যাব। রিল্যাক্স ট্যুর দেব। চার বান্ধবী ঘুরব, দেখব, খাব আর শপিং করব। এক ট্যুরিস্ট স্পট থেকে আরেক ট্যুরিস্ট স্পটে যাওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করব না।

কিন্তু কারও সাথে কারও সময় মেলে না। বছরের তখনও ছয় মাস বাকি। অনেক কষ্টে সবার জন্য সুবিধাজনক এ রকম একটা মাত্র তারিখ মিলল। এক মাস পরেই ফ্লাইট! সেই দিনই এজেন্সি খোঁজাখুঁজি করে টিকেট বুক করা হলো। পরের দিন সবাই নিজ অফিসে কথা বলে রিস্ক নিয়ে একটু বেশি দামে ননরিফান্ডেবল টিকেট কেটে ফেললাম। যাওয়ার আগের দিনও শান্তি ছিল না। এক বান্ধবী শেষ মুহূর্তে অফিসের কাজে আটকে যাচ্ছিল। অনেক কষ্টে সে সব সামলে নিল। গভীর রাতে বিমানবন্দরে গিয়ে আরেক বিপত্তি। ইমিগ্রেশনের সময় তাকে আলাদা করে প্রায় এক ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হলো। বাইরে থেকে কোনো যোগাযোগও করা যাচ্ছিল না। আমরা উদ্বেগ নিয়ে অপেক্ষা করছি, আর এদিকে বোর্ডিংয়ের ঘোষণা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই তাকে ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হলো। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আমরা যাত্রা শুরু করলাম।

travel 2 1781971572

থাইল্যান্ডে ট্রানজিট নিয়ে দীর্ঘযাত্রা শেষে আমরা যখন কুয়ালালামপুর পৌঁছি তখন সেখানে দুপুর। কুয়ালালামপুর দেখে দারুণ বিস্মিত হলাম। অল্প সময়ে মালয়েশিয়া দারুণ উন্নতি করেছে তা তো সবারই জানা। তবে এত আধুনিক শহর আমার প্রত্যাশার বাইরে ছিল। চকচকে রাস্তা, মেট্রোরেল, সুউচ্চ ভবন আর আধুনিক স্থাপত্য দেখে মনে হয়েছে এ যেন উন্নয়ন আর নান্দনিকতার এক যুগ্ম প্রদর্শনী। দালানগুলো ডিজাইনের দিক দিয়ে একে অন্যকে পাল্লা দিচ্ছে। এক বান্ধবী মজা করে বলল, ‘পৃথিবীর বড় বড় আর্কিটেক্ট এখানে এসে ইচ্ছেমতো সৃজশীলতার চর্চা করেন। উন্নত দেশে নানান নিয়মকানুনের কারণে ইচ্ছামতো ডিজাইনের দালান বানানোর সুযোগ নেই!’

আমাদের ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্টেটা ছিল দুই বেডের, সুন্দর ছিমছাম এবং সাশ্রয়ী। এই ধরনের অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে রান্নাসহ ঘরের সব কাজ নিজেদের করতে হয়। মালয়েশিয়ায় ৪ নম্বরটিকে অপয়া বলে মনে করা হয়। আমাদের অ্যাপার্টমেন্টটি ৩৪ তলায় হলেও তাই সেটার নম্বর ছিল ৩৩এ। আমাদের বিল্ডিংটির পাশেই কেএল টাওয়ার। এটি কুয়ালালামপুরের সবচেয়ে বড় দালানের একটি। ইউনিক ডিজাইন আর রাতের আলোকসজ্জার কারণে এখানকার অন্যতম ট্যুরিস্ট আকর্ষণও বটে। প্রতিদিন রাতে তাই ৩৪ (মালয়েশিয়ান রীতি অনুযায়ী ৩৩এ) তলা থেকে কেএল টাওয়ারের আলোকসজ্জা, ঝলমলে কুয়ালালামপুর শহর দেখতে দেখতে আমাদের অলস আড্ডা দারুণ জমে উঠত।

কুয়ালালামপুরে আমরা তিন রাত ছিলাম। চার বান্ধবীর আড্ডা, অল্প ঘুম আর সকালবেলার তাড়াহুড়ো আমাদের প্রতিদিনের রুটিন হয়ে গিয়েছিল। সকালে সেজেগুজে, আরাম করে বের হতাম। ফিরতাম গভীর রাতে। আমরা অনেক ঘুরেছি। দুই দিন দুটো হাইল্যান্ডসে গেছি। গেংটিং হাইল্যান্ডস আর ক্যামেরন হাইল্যান্ডস দুটোই কুয়ালালামপুর থেকে কয়েক ঘণ্টার পথ। আমরা যতটুকু পারি ঘুরেছি। যে স্পটগুলো কভার করতে পারিনি তা আনন্দের সাথে মেনে নিয়েছি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,১০০-১,৬০০ মিটার উচ্চতার অনিন্দ্য সুন্দর পাহাড়ি পর্যটন অঞ্চল ক্যামেরন হাইল্যান্ডস। এটি মালয়েশিয়ার সবচেয়ে মনোরম পাহাড়ি গন্তব্যস্থলগুলোর একটি। ওখানে যাওয়ার পথটা নিজেই একটি আকর্ষণ। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তা, গভীর সবুজ বনভূমি আর আকাশ ঢেকে থাকা নানান প্রজাতির গাছের সৌন্দর্য মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেছি। দারুণ সুন্দর ভারত টি স্টেট চা বাগানে পাখির মতো ঘুরে বেড়িয়েছি। দুর্গম আর বিপজ্জনক পথ বেয়ে পাহাড়ের চূড়ায় মনোমুগ্ধকর বোহ চা বাগানে হিমশীতল হাওয়া, কুয়াশামাখা মেঘ, পাখির কিচিরমিচির আর রঙিন ফুলের সমারোহের মাঝে বসে লাঞ্চ করেছি। দেখেছি স্ট্রবেরির খামার আর সেকুলেন্ট নার্সারি।

গেন্টিং হাইল্যান্ডস পাহাড়ি অবকাশকেন্দ্র হিসেবে বেশি জনপ্রিয়। প্রায় ১,৮০০ মিটার পাহাড়ের উপরে কী নেই! থিম পার্ক, কেবলকার, শপিংমল– সব মিলিয়ে জমজমাট ব্যাপার। যেদিন গেন্টিং গিয়েছিলাম সেদিন আকাশ ভীষণ মেঘলা ছিল। পুরোটা সময়ই মেঘের ভেতর ঘুরে বেড়িয়েছি। থেমে থেমে বৃষ্টিও পড়েছিল। এ রকম আবহাওয়া ভ্রমণকারীদের জন্য কিছুটা বিরক্তিকর হলেও আমাদের সবকিছু দেখতেই হবে– এ রকম তাড়না ছিল না। অপূর্ব সুন্দর বনভূমির প্রাকৃতিক পরিবেশ, পাহাড়ি মেঘ আর বৃষ্টি দারুণ উপভোগ করেছি। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে ঘুরে বেড়িয়েছি ফরাসি শহরের আদলে তৈরি রিসোর্ট ভিলেজে। ইউরোপীয় গ্রামের মতো দালান দিয়ে সাজানো আর মধ্যযুগীয় স্থাপত্যশৈলীতে রঙিন নকল শহরটি ছবি তোলার জন্য আদর্শ জায়গাও বটে। তবে মালয়েশিয়া ভ্রমণের অন্যতম প্রিয় স্মৃতি হয়ে থাকবে গেন্টিং হাইল্যান্ডসে মেঘের ওপরের শপিংমলে ঘুরে বেড়ানো। এত্ত ওপরে যে এত আধুনিক শপিংমল থাকতে পারে আর সেখানে এত ব্র্যান্ডের দোকান থাকতে পারে তা আমার ধারণার বাইরে ছিল। বান্ধবীরা যখন বিভিন্ন দোকান এক্সপ্লোর করছিল, আমি শপিংমলের মাঝখানের সুন্দর বাঁধানো খোলা জায়গায় বসে মলের ভেতরে মেঘ আর বৃষ্টির লুকোচুরি খেলার অপার্থিব সৌন্দর্য উপভোগ করেছি। তার মানে শপিং করিনি সেটাও নয়। গেংটিংয়ের নাইকির শোরুমে দারুণ ছাড় পাওয়া যায়। জীবনে হাত দিয়েও ধরে দেখতাম না, এ রকম স্নিকার নিজের জন্য আর বরের জন্য অর্ধেকেরও কম দামে কিনে ‘আমি জিতেছি’ মুডে কুয়ালালামপুর ফিরেছি!

কুয়ালালামপুরে আমরা বিভিন্ন দেশের রেস্টুরেস্টে খাবার খেয়েছি। চমৎকার রান্না। পরিমাণ অনুযায়ী দামও রিজনেবল। শেষের দিন আমরা রাত ৩টা পর্যন্ত ঘুরেছি। নিজেদের একবারও অনিরাপদ মনে হয়নি। মুসলিম দেশ হওয়ায় পর্যটকদের পোশাক-আশাক, আচার-আচরণ বেশ সংযত। রাস্তায় কেউ নেশাগ্রস্ত হয়ে ঘোরে না, কোনো অসামাজিক কাজ চোখে পড়েনি। একবারই তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমরা বেশ রাত করে চায়না মার্কেটে গিয়েছিলাম কম দামে কী পাওয়া যায় তা দেখতে। এটা আমাদের হকার্স মার্কেটের মতো। গিয়ে দেখি সব দোকানই বাংলাদেশিরা চালাচ্ছেন। চার বাঙালি মেয়ে দেখে তারা টিজ করে কথা বললেন। যা তা দাম চাইলেন। এই মানুষগুলোর জন্যই বিদেশে বাংলাদেশের এত দুর্নাম।

travel 3 1781971613

আবার উল্টো চিত্রও ছিল। হাইল্যান্ডসগুলোতে ঘোরার জন্য আমরা গাড়ি বুক করেছিলাম। ড্রাইভার ছিলেন বাঙালি। সজল ভাই আমাদের খুবই যত্ন নিয়েছেন। অথেনটিক মালয়েশিয়ান ব্রেকফাস্ট খেতে গ্রামের ভেতর একটি রেস্টুরেন্টে নিয়ে গেছেন। সন্ধ্যা নামার আগেই আমাদের হাইল্যান্ডসগুলো থেকে নামিয়ে এনেছেন যেন অন্ধকারে পাহাড়ি রাস্তায় মেঘবৃষ্টির কারণে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা না থাকে।

মালয়েশিয়া থেকে ফিরেছি অনেক ছবি, কিছু কেনাকাটা আর অসংখ্য স্মৃতি নিয়ে। পাহাড়ের চূড়ায় বসে কফি খাওয়া, মেঘের ভেতর হাঁটা, গভীর রাত পর্যন্ত আড্ডা, শপিংমলে ঘুরে বেড়ানো কিংবা একসঙ্গে হাসাহাসি– সব মিলিয়ে কয়েকটা দিন যেন ব্যস্ত জীবনের বাইরে অন্য এক জগতে কাটিয়েছি। ফিরে এসে মনে হয়েছে, চল্লিশ পেরিয়েও বন্ধুত্বের জন্য সময় বের করা যায়, নিজের জন্য একটু জায়গা রাখা যায়, আর জীবনকে নতুন করে উপভোগ করাও সম্ভব।

নকলসহ বিভিন্ন অভিযোগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬০ শিক্ষার্থীর শাস্তি

০

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের অনার্স চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষায় নকলসহ বিভিন্ন ধরনের অসদুপায় অবলম্বন ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ২৬০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি এক থেকে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত জাতীয় সব ধরনের পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের অনার্স চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষায় বিভিন্ন কলেজ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা/ পরীক্ষক/ পর্যবেক্ষক/ প্রধান পরীক্ষক কর্তৃক বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত অসদুপায় অবলম্বনকারী ২৬০ পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ পর্যালোচনার পর গত ২০ সেপ্টেম্বরের পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সভার সিদ্ধান্তক্রমে ও একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদন সাপেক্ষে বিভিন্ন ধারা অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হলো।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সভায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র, কৈফিয়তপত্রের জবাব এবং নকলের আলামত পর্যালোচনা করে অপরাধের ধরন ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা রেগুলেশন অনুযায়ী এসব শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সৌদিকে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে মিসর, ক্ষুব্ধ হুতি

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবে হামলা জোরদার করেছে হুতি গোষ্ঠী। এই হামলা থেকে দেশটিকে রক্ষায় সামরিক সহায়তা দেওয়ার জন্য মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি অনুমোদন পেয়েছেন। গত সোমবার পার্লামেন্টের স্পিকার হিশাম বাদাওয়ির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে ভোটের মাধ্যমে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

পার্লামেন্টের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির আত্মরক্ষায় সহায়তা করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে আল-সিসিকে।

এ সিদ্ধান্তের ফলে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উপসাগরীয় অঞ্চল ও লোহিত সাগরজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সংঘাতে মিসরের সরাসরি জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে মিসরের সাবেক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হুসেইন হারিদি বলেছেন, চলমান সংঘাতে কায়রোর সম্পৃক্ততা আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

এদিকে মিসরের সিদ্ধান্তকে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ হিসেবে অভিহিত করেছে হুতি। গতকাল মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে হুতিদের রাজনৈতিক শাখার সদস্য মোহাম্মদ আলী আল-হুতি এ মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কায় ন্যাটোর আদলে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর হামলাকে বাকি দুই দেশের ওপরেও হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে চলতি মাসের শুরুতে হুতিরা সৌদি আরবে হামলা জোরদার করার পরও গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানোর কোনো ঘোষণা দেয়নি পাকিস্তান ও তুরস্ক। আল-হুতি বলেন, এই প্রতিরক্ষা চুক্তি ইরানের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য আগ্রাসন। যে জোটই গঠন করা হোক না কেন, আমরা তাতে ভীত নই।

এদিকে সৌদি আরবের দুটি অঞ্চল লক্ষ্য করে হুতিদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শনাক্ত করে সেগুলো ধ্বংস করার দাবি করেছে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। সৌদি আরবের সঙ্গে ইয়েমেনের ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের লড়াই আরও তীব্র হওয়ার মধ্যে মঙ্গলবার দেশটির সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এ খবর দিয়েছে।

জোটটি জানায়, হুতিরা সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের দিকে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের দিকে চারটি ড্রোন ছুড়েছে। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি এক্সে এক পোস্টে এ দাবি করেছেন।

হুতিদের ১০০ কোটি ডলার প্রদানের প্রস্তাব সৌদির

সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা বন্ধের বিনিময়ে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ১ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রস্তাব করেছে রিয়াদ। এ প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে ইরান। তবে অর্থ হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে কিনা, সে সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল হায়োমের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি। উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে ইসরায়েল হায়োম জানিয়েছে, ইরানের মাধ্যমে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ১০০ কোটি ডলারের একটি আর্থিক প্যাকেজ প্রদানের প্রস্তাব করেছে সৌদি আরব। এ প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সরকারি কর্মীদের বকেয়া বেতন পরিশোধ ও বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের মতো বিষয়গুলোর সমাধান করা। বিনিময়ে হুতিদের সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, বিমানবন্দর ও সামরিক স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে হবে। খবর এএফপি, রয়টার্স ও আলজাজিরার।