জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ নিউইয়র্ক সিটির পার্ক ও সিটি-মালিকানাধীন পার্কিং লট অভিবাসন অভিযানের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার বন্ধ না হলে ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি বলেছেন, সিটি প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া নগরীর সম্পত্তি এ ধরনের কাজে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। ২ নভেম্বর সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাঠানো এক চিঠিতে এ অবস্থান জানান মেয়র। একই সঙ্গে ফেডারেল কর্মকর্তাদের প্রবেশ ও কার্যক্রমের বিষয়ে সিটির পার্কস বিভাগের কর্মীদের জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে তার প্রশাসন। সিটি প্রশাসনের অভিযোগ, ব্রঙ্কসের ভ্যান কর্টল্যান্ড পার্ক এবং কুইন্সের ফ্লাশিং মেডোজ করোনা পার্কের পশ্চিম পাশে ১১১ স্ট্রিটসংলগ্ন কয়েকটি সিটি-মালিকানাধীন পার্কিং লটে আইস কর্মকর্তারা গাড়ি রাখছেন এবং অভিবাসন অভিযানের প্রস্তুতিমূলক বৈঠক করছেন। কুইন্সের সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পার্কিং লট সিটি পরিচালিত একটি প্রাক্বিদ্যালয় ও শিশুদের যাতায়াত রয়েছে এমন কয়েকটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি অবস্থিত।
চিঠিতে মামদানি বলেন, এসব সম্পত্তি ব্যবহারের জন্য আইসকে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। নগরীর পার্ক ও পার্কিং লট বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত। সেগুলো অভিবাসন অভিযানের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়। মেয়র বলেন, পরিবার বিচ্ছিন্ন করার কাজে সিটির সম্পত্তি ব্যবহারের অধিকার আইসের নেই। নগরীর প্রতিটি পার্ক ও পার্কিং লটের ক্ষেত্রে এ অবস্থান প্রযোজ্য। অননুমোদিত ব্যবহার অবিলম্বে বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরিয়ে নিতে ডিএইচএসের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। কর্মকর্তারা আবার ফিরে এলে সিটি প্রশাসন আদালতে যাবে বলেও সতর্ক করেন। ডিএইচএস সচিব মার্কওয়েন মুলিন, আইসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডেভিড জে. ভেনচুরেলা এবং নিউইয়র্ক ফিল্ড অফিসের পরিচালক কেনেথ জেনালোকে পাঠানো চিঠিতে সংস্থাটির কর্মকর্তাদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, নিউইয়র্ক সিটির কোনো সম্পত্তি যেন অভিবাসন অভিযান পরিচালনা কিংবা অভিযানের প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা না হয়।মামদানি প্রশাসনের দাবি, গত ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত ১৩ নম্বর নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, বিচারিক পরোয়ানা বা আইনসম্মত বিশেষ অনুমতি ছাড়া সিটির বাইরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা নগরীর সম্পত্তি অভিযানের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে না। নিউইয়র্ক সিটির করপোরেশন কাউন্সেল স্টিভেন ব্যাংকস বলেন, বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ডিএইচএসকে জানানো হয়েছে।
এরপরও সিটি-মালিকানাধীন সম্পত্তি ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আদালতে যেতে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। তবে সিটি প্রশাসনের আইনি ব্যাখ্যার সঙ্গে দ্বিমত জানিয়েছে ডিএইচএস। সংস্থাটির এক মুখপাত্রের বক্তব্য, ফেডারেল আইন অনুযায়ী জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত পার্কিং লটে আইস কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বৈধ। দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো এভাবে পার্কিং লট ব্যবহার করে থাকে। আইসের অভিযান বন্ধ হবে না বলেও জানান তিনি। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ফেডারেল কর্মকর্তারা পার্কের জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ বা সীমিত কোনো এলাকায় ঢুকতে চাইলে কর্মীদের তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চাইতে হবে এবং বিভাগের জেনারেল কাউন্সেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। কোনো কর্মকর্তা বিচারিক পরোয়ানা দেখালে কর্মীরা নিজেরা সেটির বৈধতা নির্ধারণ না করে বিভাগের আইনজীবীদের কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠাবেন।
বৈধ বিচারিক পরোয়ানা বা অন্য কোনো আইনসম্মত অনুমতি না থাকলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনুমতি ছাড়া কেউ প্রবেশ করলে পরিস্থিতি নিরাপদ থাকলে ৯১১ নম্বরে ফোন করে ঘটনাটি নথিভুক্ত করতে বলা হয়েছে। তবে ফেডারেল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের শারীরিক বা মৌখিক সংঘাতে না জড়াতেও কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মামদানি বলেন, অভিবাসীসহ সব নিউইয়র্কবাসীর সুরক্ষায় নগরীর কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের একা ছেড়ে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নতুন নীতিমালা অমান্য করলে সাময়িক বরখাস্ত থেকে চাকরিচ্যুতি পর্যন্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এদিকে মামদানির উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল। তিনি বলেন, সরকারি সম্পত্তি অভিবাসন অভিযানে ব্যবহারের খবর উদ্বেগজনক। পার্কে যাওয়া কিংবা নিজ এলাকায় চলাচলের সময় কোনো পরিবারকে যেন স্বজনদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কায় থাকতে না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসও অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় সিটি প্রশাসনের উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন। পাবলিক অ্যাডভোকেট জুমানে উইলিয়ামস, বিভিন্ন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। অভিবাসী অধিকার সংগঠন ডেসিস রাইজিং আপ অ্যান্ড মুভিংয়ের (ড্রাম) নির্বাহী পরিচালক ফাহদ আহমেদ বলেন, জনসাধারণের জন্য বরাদ্দ সম্পদ নিউইয়র্কবাসীর সেবায় ব্যবহৃত হওয়া উচিত। অভিবাসন অভিযানের প্রস্তুতিতে এসব সম্পত্তির ব্যবহার বন্ধ করতে নগর প্রশাসনের সব আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করা প্রয়োজন। নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী মুরাদ আওয়াওয়াদেহ বলেন, পার্ক, স্কুল ও আশপাশের সরকারি স্থানগুলো প্রতিটি পরিবারের জন্য নিরাপদ থাকা উচিত। নতুন নির্দেশনা নগরীর কর্মীদের আইন ও নীতিমালা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।


