Home Blog Page 266

স্বাস্থ্যকর রান্নার সহজ ৭ উপায়

সুস্থ জীবনযাপনের জন্য সঠিক খাবারের বিকল্প নেই। অনেক সময় আমরা খাবার খাওয়ার দিকে নজর দিলেও, রান্নার পদ্ধতির গুরুত্বকে উপেক্ষা করি। অথচ খাবার কীভাবে রান্না হচ্ছে সেটিই নির্ধারণ করে খাবার কতটা স্বাস্থ্যকর হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রান্নার ধরনে সামান্য পরিবর্তন আনলেই খাবার হতে পারে আরও পুষ্টিকর ও নিরাপদ। চলুন জেনে নেওয়া যাক স্বাস্থ্যকর রান্নার ৭টি সহজ উপায়—

১. হোল গ্রেইন ফুড বেছে নিন

সাদা ভাত বা ময়দার বদলে লাল চাল, ওটস, কুইনোয়া বা বাজরার মতো হোল গ্রেইন খাবার খেতে হবে। এতে পাওয়া যায় জটিল কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার, যা ধীরে ধীরে গ্লুকোজ নিঃসরণ করে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে।

২. কম তেল দিয়ে রান্না করুন

অলিভ অয়েল, রাইস ব্রান, তিসি বা আখরোটের তেলের মতো স্বাস্থ্যকর তেল ব্যবহার করা ভালো। তবে অল্প তেলেই রান্না করতে হবে। এতে ইনসুলিন প্রতিরোধ কমে, ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৩. শাক-সবজি বাড়ান

স্টার্চবিহীন মৌসুমী শাক-সবজি প্লেটের অর্ধেক জুড়ে রাখুন। এতে ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ হবে এবং খাবারের ভারসাম্য বজায় থাকবে।

৪. লবণ গ্রহণ সীমিত করুন

অতিরিক্ত লবণ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় লবণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

৫. স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস বেছে নিন

প্যাকেটজাত খাবারের পরিবর্তে বাড়িতে তৈরি স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খান। এতে অপ্রয়োজনীয় চিনি ও সোডিয়ামের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

৬. হাইড্রেটেড থাকুন

চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে পানি, ভেষজ চা বা জিরা পানি পান করুন। এগুলো শরীরকে সতেজ রাখবে এবং হজম ও বিপাক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে।

৭. প্রোটিন যোগ করুন

প্রতিদিনের খাবারে ডাল, মুরগি, ডিম বা মাছ রাখুন। প্রোটিন রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং গ্লাইসেমিক সূচক কমাতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাবারের পদ্ধতিতে এই পরিবর্তনগুলো আনলে সুস্থ থাকা অনেক সহজ হয়ে উঠবে।

ভারতে প্রাণ নিয়ে শঙ্কায় মেসি!২০ মিনিটেই ছাড়লেন মাঠ

০

ফুটবল বিশ্বের সেরা নক্ষত্রের তিক্ত অভিজ্ঞতা হল কলকাতায়। সল্ট লেকের যুবভারতী স্টেডিয়ামে মেসিকে ঘিরে ভিড় সামলাতে ব্যর্থ পুলিশ-প্রশাসন ও উদ্যোক্তারা। মাত্র ২০ মিনিটেই মাঠ থেকে বার করে নিয়ে যাওয়া হল মেসিকে !

কলকাতার সল্টলেকের যুবভারতী স্টেডিয়ামে মেসিকে এক নজর দেখতে হাজির হয়েছিলেন অন্তত এক লাখ দর্শক। সকাল থেকেই স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকায় উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। তবে এত বিপুল সংখ্যক দর্শক সামলাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয় স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসন ও আয়োজকরা। এমনটাই জানা যায় ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে।

কথা ছিল, শনিবার সকাল ১১টা নাগাদ স্টেডিয়ামে আসবেন মেসি। যুবভারতী স্টেডিয়ামের গেট খুলে দেওয়া হয়েছিল সকাল সাড়ে আটটায়। এবং সকাল সাড়ে আটটা থেকেই স্টেডিয়ামে ঢোকার ভিড়। বেলা সাড়ে দশটা নাগাদ অনীক ধর বন্দেমাতরম গেয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। পরিকল্পনা মতোই ট্যাঙ্গো ও রবীন্দ্রসঙ্গীতের ফিউশন নৃত্য পরিবেশন করা হয়। গ্যালারিতে তখন হাজার পঞ্চাশেক মানুষের ভিড়। কার্যত তিলধারণের জায়গা নেই।

ঘড়িতে তখন কাঁটায় কাঁটায় বেলা সাড়ে এগারোটা। বিরাট কনভয় ঢুকল স্টেডিয়ামে। সরাসরি গাড়িতে চাপিয়েই মাঠে ঢোকানো হল মেসিকে। গ্যালারিতে শুরু হল গর্জন। মেসি মেসি স্লোগানে আকাশ বাতাস যেন ফেটে পড়ার জো। তারকাপুজোয় কোনও খামতি রাখতে চাইনি বাংলা।

মেসি মাঠে ঢুকেই গ্যলারির দিকে হাত নাড়লেন। মাঠে তখন মেসির নামে জয়োধ্বনি। এই পর্যন্ত ঠিকই ছিল। তাল কাটল মেসিকে ঘিরে ভিড় বাড়তে থাকায়। ভারতীয় ফুটবলাররা মেসিকে ছোঁয়ার জন্য, জার্সিতে সই নেওয়ার জন্য এমন করলেন যে, অনেকেই বেশ হতবাক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখেই মাত্র ২২ মিনিটের মাথায় মাঠ থেকে বের করে নেওয়া হল মেসিকে। তারপরই ক্ষোভে ফেটে পড়ল গ্যালারি।

উল্লেখ্য, মাঠে উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল লিওনেল মেসির। কিন্তু নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সেই সূচিও বাতিল হয়ে যায়। নিজের ভক্তদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার আগেই মাঠ ছাড়তে হয় ফুটবল ইতিহাসের এই মহাতারকাকে।

আজ কলকাতায় মেসির বেশ ব্যস্ত সময়সূচি থাকার কথা ছিল। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এবং ভক্তদের সঙ্গে সময় কাটানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে যুবভারতী স্টেডিয়ামের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর সেই সূচি নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

শীতে ত্বক কালো হয়ে যাচ্ছে? কারণ ও প্রতিকার জানুন

০

শীতকালে অনেকেই লক্ষ্য করেন যে তাদের ত্বক ধীরে ধীরে কালচে বা ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি স্বাভাবিক হতে পারে, তবে কিছু অভ্যাস ও পরিবেশগত কারণের জন্য ত্বকের রঙে পরিবর্তন হতে পারে।

ত্বক কালো হওয়ার প্রধান কারণ:

শীতের শুষ্ক আবহাওয়া: শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কমে। এর ফলে ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ এবং ফ্যাকাশে দেখাতে পারে।

সূর্যের প্রভাব: শীতেও সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকে পৌঁছায়, যা পিগমেন্টেশন বাড়াতে পারে।

সঠিক ত্বক পরিচর্যা না করা: শীতকালে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার না করলে ত্বক রুক্ষ ও কালচে হয়ে যায়।

অপর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টি: পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া, ভিটামিন ও খনিজের অভাব ত্বকের উজ্জ্বলতা কমিয়ে দেয়।

ত্বক কালো হওয়ার প্রতিকার:

প্রতিদিন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন, বিশেষ করে শুষ্ক ত্বকের জন্য।

শীতের দিনেও সানস্ক্রিন ব্যবহার করা প্রয়োজন, কারণ সূর্যের আলোর প্রভাব ত্বককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ খাবার খান।

সপ্তাহে ১–২ বার হালকা স্ক্রাব বা এক্সফোলিয়েশন করুন, তবে খুব শক্ত স্ক্রাব ব্যবহার করবেন না।

গরম পানি দিয়ে দীর্ঘ সময় মুখ ধোবেন না, কারণ এটি ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমিয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, শীতের ত্বক কালো হওয়া সাধারণত সাময়িক এবং সঠিক যত্ন নিলে এ সমস্যা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার, সানস্ক্রিন ব্যবহার ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

ভোজ্যতেল ও পেঁয়াজের দাম বাড়তি, কমেছে ডিম-সবজির

০
নিত্যপণ্যের বাজারে ভোজ্যতেল ও পেঁয়াজ বাড়তি দামে বিক্রি হলেও স্বস্তি ফিরেছে ডিম ও সবজিতে। সরবরাহ বাড়ায় বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে। এছাড়া চাল, ডাল, আটা ও চিনির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। মুরগির দাম কমলেও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মাছ। শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজার, ফকিরাপুল বাজার, কাপ্তান বাজার, মুগদা বড় বাজার ও খিলগাঁও সিটি কর্পোরেশন বাজার থেকে নিত্যপণ্যের দরদামের এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বাজারে বোতলজাত ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে সপ্তাহখানেক আগে। এখন নতুন দরেই সব দোকানে সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে। তেলের সঙ্গে বাড়তি রয়েছে পুরোনো পেঁয়াজের দামও।
ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো কয়েক দফা চেষ্টার পরে ৭ ডিসেম্বর বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৬ টাকা বাড়িয়েছে। তাতে সয়াবিন তেলের এক লিটারের বোতলের দাম ১৯৫ টাকায় উঠেছে। ৫ লিটারের বোতলের দাম এখন ৯৫৫ টাকা করা হয়েছে। শুক্রবার বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সব দোকানেই নতুন এই দরেই সয়াবিন বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে। আবার অনেক দোকানে ৯৬০-৯৭০ টাকা দাম নিচ্ছে পাঁচ লিটারের প্রতিটি ক্যান। বাজারে পেঁয়াজের দামও এখন বাড়তি। যদিও নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে। মুড়িকাটা পেঁয়াজের কেজি ১১০-১২০ টাকা।
পুরানো পেঁয়াজের দাম আরও বেশি, কেজি ১৪০-১৫০ টাকা। বিক্রেতারা জানান, নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা কমতে পারে। মৌসুমের আরেক নতুন পণ্য আলু।  তবে পণ্যটির দাম তুলনামূলক বেশি।
বাজারে প্রতি কেজি নতুন সাদা আলু বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা। আর নতুন লাল আলুর কেজি ৭০ টাকার আশাপাশে। কয়েক দিন আগে নতুন আলুর দাম এক শ টাকার ওপরে ছিল।
সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম কিছুটা কমেছে। তবে পুরোনো আলুর দাম কম। কেজি ২০-২৫ টাকা। গত দুই সপ্তাহ ধরে ডিমের দাম কম রয়েছে। ফার্মের মুরগির এক ডজন ডিমের দাম এখন ১২০-১২৫ টাকা। আগে এটি ১৪০ টাকা ছিল। এছাড়া প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৭০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ বাড়ায় বাজারে সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। প্রতি পিস ফুলকপি ও বাধাকপি ৪০-৫০ টাকা, লাউ ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অন্যান্য সবজির মধ্যে প্রতি কেজি বেগুন ৬০-১০০ টাকা, মুলা ৩০-৪০ টাকা, শালগম ৪০-৬০ টাকা, শিম ৪০-৫০ টাকা ও দেশি টমেটো ১১০-১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া নদী-নালা, খালবিল, হাওড়-বাঁওড় ও পুকুরের পানি কমে আসায় বাজারে সব ধরনের দেশি মাছের সরবরাহ বেড়েছে। তবে দাম কমছে না। গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

জামায়াতে যোগ দিলেন মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান

০

সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই ঘোষণা দেন।

সাক্ষাৎকালে মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নীতি ও আদর্শ, দেশপ্রেম এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দলটির অবিচল অবস্থানের প্রতি গভীর আস্থা ও সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি সংগঠনের প্রাথমিক সহযোগী সদস্য ফরম পূরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।

ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধ, দেশের স্বার্থ এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাকি জীবন অতিবাহিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিয়ম-নীতি, আদর্শ, দলীয় শৃঙ্খলা ও আনুগত্যের প্রতি অনুগত থাকার অঙ্গীকার করেন।

যোগদান শেষে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান আন্তরিকভাবে মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামানকে আলিঙ্গন করেন এবং তাঁর দীর্ঘ নেক হায়াত কামনা করেন।

এই গুলি হাদীর উপরে না, এই গুলি ৩৬ এ বিপ্লবের উপর

০

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলার ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্ন আক্রমণ হিসেবে দেখছেন না সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এএসএম শাহরিয়ার কবির।

তিনি হামলার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এই গুলি হাদীর উপরে না, এই গুলি ৩৬ এ বিপ্লবের উপর।”

ব্যারিস্টার কবিরের এই মন্তব্য ইঙ্গিত করে যে, এই হামলা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর আদর্শিক বা রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করে।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ৩ দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত

০

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে পৃথক রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই বৈঠক হয়।

বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে অংশ নেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ এবং অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রতিনিধি দলে অংশ নেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ।

বৈঠকে উপস্থিত দলগুলোর প্রতিনিধিরা সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ওসমানকে গুলি করা দুই শুটার কোথায় পালালো

০

শরিফ ওসমান বিন হাদি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিপ্লবী নায়ক। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী। দেশদুনিয়ায় জনপ্রিয় মুখ। হেফাজতে ইসলাম, পিলখানা, শাহবাগের ফ্যাসিবাদী এবং চব্বিশের গণহত্যার বিচারের দাবী নিয়ে রাজপথে লড়ে যাচ্ছেন। ভারত এবং আওয়ামী গুপ্ত সন্তাসীরা দীর্ঘদিন হত্যার টার্গেট করছে বলে একাধিক দিন জনসম্মুখে কর্মসূচীতে জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার সেই টার্গেট মিশনের শিকার হয়েছেন এই জুলাই যোদ্ধা। দুই যুবক সকাল থেকেই মাস্ক পড়ে হাদির সাথে প্রচারণায় অংশ নেন। হাদির গতিবিধি নজর রাখেন। এক পর্যায় দুপুর ২টা ২০ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডে রাজধানী বিজয়নগরের কালভার্ট এলাকায় স্বল্প দূরত্বে গুলি চালান। গুলি করা চিহ্নিত দুই ব্যাক্তির বর্ণনা দিয়েছেন ওসমান হাদীর সঙ্গে থাকা দুই প্রত্যক্ষদর্শী ও তাঁর জনসংযোগ টিমের সদস্যরা। তাঁরা বলছেন, যিনি গুলি চালিয়েছেন তার তার চুল ছিলো কোকড়ানো। গায়ে কালো ব্লেজার, মুখে কালো মাস্ক, চোখে চশমা, পায়ে চামড়া রঙের জুতা। হাতে ছিলো সোনালী কালারের ঘড়ি। বয়স যুবকদের সারিতে পড়ে বলেই বলছেন তাঁরা। আর যিনি মটর সাইকেল চালিয়েছেন তার চুল ছিলো টেপার কাটিং। গায়ে নেভি ব্লু পাঞ্জাবি, গলায় খয়েরি রঙের প্রিন্টের চাদর, মুখে কালো মাস্ক, হাতে সাদা ঘড়ি। এবং পরণে আকাশি রঙের প্যান্ট ছিল।

হাদীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা মো. রাফি জনককণ্ঠকে বলেন, দুপুরে মতিঝিল ওয়াপদা মাদ্রাসা (জামিআ দারুল উলুম মতিঝিল) এলাকায় হাদীর সাথেই মাস্ক পরা অবস্থায় দুই যবুক অংশ নিয়েছিলো। তাঁরা এসে জানায় হাদী ভাইকে তাঁরা ভালোবাসেন। তাই প্রচারণায় যুক্ত হয়েছেন। কিন্তু আমরা তখনি ওই যুবকদের মুখের মাস্ক খুলতে বলি। তাঁরা তখন সমস্যা আছে বলে জানায়। একপর্যায়ে হাদী ভাইয়ের সাথে থেকে যখন লিফলেট বিতরণ করছিলো ওই সময় আমাদের প্রচার সেল ছবি তুলেছিলো। তখন মাস্ক পড়া একজন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে বলে আপনাদের বলছি না আমাদের সমস্যা আছে ছবি তুলবেন না। তখন থেকেই তাদের আমরা সন্দেহ করি। এবং গোপনে কিছু ছবি তুলে রাখি। মোটরসাইকেলে করে যখন দুই যুবক হাদী ভাইকে গুলি করে পালিয়ে যাচ্ছিলো তাঁরা প্রচারণায় অংশ নেওয়া সেই দুই যুবক বলেই রাফির দাবী। রাফি আরও বলেন জুমার নামাজ শেষে আমরা হাইকোর্টের দিকে আসছিলাম। রিকশায় ছিলাম। আমি তখন ভাইয়ের পেছনের রিকশায় ছিলাম।

প্রত্যক্ষদর্শী আরেকজন নাম প্রকাশে অনিশ্চুক হয়ে জনকণ্ঠকে বলেন, যেই ছেলেটার কোকড়ানো চুল ছিলো, মুখে মাস্ক-সেই ছেলেটাই মোটর সাইকেলের পেছনে ছিলো। ওই ছেলেটাই হাদী ভাইকে টার্গেট করে গুলি চালায়। আর অন্য ছেলেটি মোটর সাইকেল ড্রাইভ করেছেন। ইতিমধ্যে আমাদের হাতে থাকা ছবি ভিডিও এবং আশপাশের ভিডিও ফুটেজ প্রশাসনের হাতে পৌঁছে দিয়েছি। যে দুই যুবক গুলি করেছেন তাদের মুখে মাস্ক পড়া থাকলেও তাদের শরীরের আবরণ, গঠন সব কিছু স্পষ্ট রয়েছেন। যাবতীয় সকল ধরণের ডকুমেন্ট আমরা পুলিশকে হস্তান্তর করেছি।

ওসমান হাদীর জনসংযোগ টিমে থাকা আরও তিনজন জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন, হাদী ভাইকে হত্যার মিশনে অংশ নেওয়া দুই যুবকের যাবতীয় তথ্য দিতে আমরা মতিঝিল এবং শাহবাগ থানায় গিয়েছি। আমাদের হাতে থাকা ছবি, ভিডিও এবং আশপাশের বিল্ডিং থেকে সংগ্রহ করা সিসি টিভির ফুটেজ পুলিশকে দিয়ে এসেছি। আমাদের সাথে ডাকসুর নেতারাও ছিলেন। আমাদের ছবি ভিডিও পেয়ে পুলিশ আমাদের আশস্ত করেছেন ইতিমধ্যে তাঁরা ছবি ভিডিও গুলো ডিবির কাছেও পাঠিয়েছেন। মিশনে অংশ নেওয়া দুই যুবক যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে আমরা সহযোগীতা এবং দাবী জানিয়ে এসেছি। তাঁরা আমাদের বলেছেন, দুই যুবক যাতে কোনোভাবেই বর্ডার ক্রস করতে না পারে আমরা সেই ধরণের সহযোগীতাও চেয়েছি।

জুলাই ঐক্যের অন্যতম সংগঠক ইসরাফিল ফরাজী জানিয়েছেন, মতিঝিলে প্রচার শেষ করে রিকশা দিয়ে যাচ্ছিলেন হাদি ভাই। যারা গুলি করেছে, তারা কয়েক দিন ধরে প্রচারে যুক্ত ছিল। কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয় দেয়নি। হাদি ভাইকে পছন্দ করে বলে তার কাছে আসছিলন এবং প্রচারে অংশগ্রহণ করতে চায় বলে জানায়।
হাদি ভাই সবাইকে একসেপ্ট করে, তার কাছে যে আসে। সে মাস্ক খোলেনি। তাকে বারবার বলা হয়েছিল মাস্ক খুলতে। সে বলেছে, তার সমস্যা আছে। সেটা সিরিয়াসলি নেয়নি হাদি ভাই। এ কারণে সে মাস্ক পরাই ছিল।তিনি বলেন, জুমার নামাজ পড়ে যাচ্ছিল তারা। হাদির ভাইয়ের পেছনে আমাদের আরো দুইটা রিকশা ছিল। হাদি ভাইয়ের সাথে তার ভাই ছিলেন। তখন পাশ দিয়ে গুলি করে, ওই দুই যুবক পালিয়ে যায়।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন দুই শীর্ষ কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন, ওসমান হাদির বিষয়টি সরকারের পক্ষ থেকে গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। যে দুই যুবককে হাদীর অনুসারীর পক্ষ থেকে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাঁরা মাস্ক পড়েই কেন কর্মসূচীতে অংশ নিয়েছেন আমরা তাদের খুঁজছি। এই দুই যুবক কোথায় পালালো, তাদের মিশন কী ছিলো তাদের ধরতে পারলে আমরা অবশ্যই অনেক তথ্য নিশ্চিত হতে পারবো। এর মধ্যেই হাদীর অনুসারীরা প্রশাসনের কাছে এসে জোর দাবী জানিয়ে গিয়েছেন ওই দুই যুবক যেন সীমান্ত দিয়ে না পালাতে পারে আমরা সেই বিষয়গুলো শক্তভাবে দেখছি। আমরা এখন ওসমান হাদীর সুস্থ হয়ে যাওয়ার দিকেই নজর রাখছি। তাকে যাতে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়।

বিকেলে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী সাংবাদিকদের বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেন্দ্রীক প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদি দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন। ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণকারীদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। সন্ত্রাসীরা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, গুলির ঘটনা ঘটার পরপরই র‌্যাব-৩, সদর দপ্তরের গোয়েন্দা ইউনিটসহ সবগুলো টিম গুলি করা সেই দুই যুবককে আটকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা শীঘ্রই গ্রেফতার হবেন আশা রাখছি।

হাদীর সবশেষ অবস্থা নিয়ে ঢাকা মেডিকেলের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন হাদির অবস্থা ক্রিটিক্যাল (আশঙ্কাজনক)। তাঁকে ‘লাইফ সাপোর্ট’ দেওয়া হয়েছে। বুলেটটি (গুলিটি) তাঁর মাথার ভেতরে রয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মোস্তাক আহমেদ বলেছেন, ওসমান হাদিকে যখন জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয় তার অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। পরে ওসমান হাদিকে সিপিআর দেয়া হয়। এতে প্রেসার একটু ভালো হয়। পরে তার মাথার সিটিস্ক্যান করলে কানের পাশে মাথার ভেতরে গুলি রয়েছে বলে দেখা যায়। এদিকে ওসমান হাদির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় শুক্রবার রাত ৮টায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তাকে এভারকেয়ারে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানান ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান

এদিকে আমিই হাদি, হাদিই বাংলাদেশ ক্যাপশনে চেয়ে গেছে নেট দুনিয়ায়। দেশ বিদেশে রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী, বিভিন্ন শ্রেনী পেশার সবাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই শ্লোগানে নিজের মত প্রকাশ করছেন। অনেকে মসজিদে মসজিদে দোয়া করছেন। নিজের জীবণের বিনিময়ে হাদির জীবণের প্রাণ ভিক্ষা চাইতেও দেখা গেছে।

স্টেডিয়াম বরাদ্দ নিতে দৌড়ঝাপ চলছেই!

০

ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে গত গত ৫ ডিসেম্বর শুরু হয় লাতিন-বাংলা সুপার কাপ নামের শ্রীহীন একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট। যেখানে অংশ নেয় বাংলাদেশ, তথাকথিত ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব-২০ দল। তবে টুর্নামেন্টটি শুরু দিন থেকেই বিতর্কিত।

স্টেডিয়াম ও এর বাইরে প্রথম দিন থেকেই অব্যবস্থাপনায় ভরপুর ৩ জাতির অংশগ্রহণে আমেজহীন এই টুর্নামেন্ট। অব্যবস্থাপনায় সঙ্গে যুক্ত হয় পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিক লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনাও। গত ৮ ডিসেম্বর ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে ছিল বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা রেড অ্যান্ড গ্রিন ফিউচার স্টার ও আর্জেন্টিনার ক্লাব অ্যাটলেতটকো চার্লোনের মধ্যকার ম্যাচ।

খেলাটি ১-১ গোলে ড্র হয়। ম্যাচশেষে সংবাদ সংগ্রহের কাজে মাঠে প্রবেশ করতে যাওয়া এক সাংবাদিক বাধাগ্রস্থ হন নিরাপত্তাকর্মী দ্বারা। পরিচয়পত্র ও টুর্নামেন্টের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড দেখনোর পরও ওই সাংবাদিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে নিরাপত্তাকর্মীরা।

এক পর্যায়ে সাংবাদিকের গায়ে হাত তোলে তারা। তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এএফবি বক্সিং প্রমোশন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডকে মাঠ বরাদ্দ বাতিল করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। ৯ ডিসেম্বর জাতীয় স্টেডিয়ামের মাঠ বরাদ্দ বাতিল করে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে এনএসসি।

ফলে স্থগিত হয়ে যায় লাতিন-বাংলা সুপার কাপের খেলা। যে কারণে গতকাল জাতীয় স্টেডিয়ামের মাঠে গড়ায়নি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ম্যাচটি। বিশ্বস্ত সুত্রে জানা যায়. বেশকিছু শর্তে এএফবি বক্সিং প্রমোশন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডকে মাঠ বরাদ্দ দিয়েছিল এনএসসি। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি শর্ত মানেনি।

টুর্নামেন্টের মোট টিকিট বিক্রির হিসাব ও ৫০ শতাংশ অর্থ ম্যাচ শুরুর আগে পরিশোধের বিষয়টির পাশাপাশি স্থাপনা পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন রাখার শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে। সবশেষ সাংবাদিককে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দিয়ে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করায় এনএসসি স্টেডিয়াম বরাদ্দ বাতিল করে।

তবে এই বরাদ্দ নিয়ে দৌঁড়ঝাপ চলছেই! জানা গেছে এএফবি বক্সিং প্রমোশন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসাদুজ্জামান জাতীয় স্টেডিয়ামের মাঠ বরাদ্দ পেতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি এনএসসি থেকে শুরু করে দেশের ক্রীড়া প্রশাসনের বড় কর্তাদের কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন মাঠ পেতে। এ ব্যাপারে জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কাল আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমে বলেন,‘আমি এখনো আশাবাদি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আমাদেরকে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের ক্লাব দুটোর খেলার অনুমোদন দেবে। সে আশাতেই বসে আছি। অনুমতি পেলে আমরা ম্যাচটি আয়োজন করব।’

তিনি যোগ করেন,‘আমরা টিকিট বিক্রির ৫০ ভাগ অর্থ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে জমা দিয়েছি। এখন অপেক্ষা অনুমোদনের।’ তবে এই আসাদুজ্জামানকে নিয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বিতর্ক রয়েছে। তিনি নাকি নিজ ব্যবসার স্বার্থে দেশের সম্মান নষ্ট করছেন বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে। তিনি কখনও ফুটবলের সঙ্গে ছিলেন না। আসাদুজ্জামান মূলত বক্সিং জগতের লোক হিসেবে পরিচিত।

তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, পেশাদার বক্সিং খেলা আয়োজনের নামে তিনি ‘আদম’ পাচারের কাজে লিপ্ত। দেশ থেকে বক্সার পরিচয়ে বিভিন্ন লোককে আসাদুজ্জামান ইতোমধ্যে ইউরোপ-আমেরিকায় পাচার করেছেন বলে বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে। কিছুদিন আগেও নাকি তিনি মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে খেলার জগতের বাইরের কয়েকজন লোককে বক্সার পরিচয়ে অস্ট্রেলিয়া ও ইতালিতে রেখে এসেছেন। প্রতিজনের কাছ থেকে নিয়েছেন ১৫ লাখ টাকা করে। অভিযোগে আরও জানা যায়, কথার ফুলঝুরি ছুটিয়ে তিনি মিথ্যাকে এমনভাবে উপস্থাপন করেন যে তা সত্য মানতে বাধ্য যেকোনো মানুষ।

এই যেমন লাতিন-বাংলা সুপার কাপ নামের টুর্নামেন্ট উপলক্ষে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার দুই সাবেক তারকা ফুটবলার কাফু ও ক্লাউদিয়া ক্যানিজিয়ার ঢাকা সফরকে নিয়ে অপপ্রচার চালিয়েছেন আসাদুজ্জামান। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তিনি গণমাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, কাফু ও ক্যানিজিয়া ঢাকায় আসছেন।

এমনকি তাদের নাম ও শুভেচ্ছা ভিডিওবার্তা দিয়েও প্রচারণা চালিয়েছিল এএফবি বক্সিং প্রমোশন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড। কিন্তু সেই ভিডিওবার্তাগুলো এআই দিয়ে তৈরি বলে সন্দেহ করছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা! যদিও এখন আসাদুজ্জামান বলছেন, আর্থিক সংকটের কারণেই কাফু ও ক্যানিজিয়াকে ঢাকায় আনতে পারছেন না। এতেই প্রমাণ করে যে তিনি অপেশাদার ক্রীড়া সংগঠক।
তাই ফুটবলবোদ্ধাদের প্রশ্ন অপেশাদার একজন লোক কিভাবে বা কার প্ররোচনায় ফুটবলাঙ্গনে এসে এমন শ্রীহীন একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সাহস পেল।
ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার নাম ব্যবহার করে সেখানকার পাড়া-মহল্লার ফুটবলারদের নিয়ে গড়া দল নিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন করে দেশের ফুটবল উন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখলেন তথাকথিত বক্সিং সংগঠক আসাদুজ্জামান?