জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ স্মৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণের ক্যাম্পাস, কণ্ঠে গান আর আড্ডায় পুরোনো দিনের গল্প—এমন আবহে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব ইউএসএ ইনকের বার্ষিক ডিনার। গত ৩১ অক্টোবর উডসাইডের গুলশান টেরেসে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধারণ করে প্রবাসে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ঐক্য জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। উদ্বোধন করেন সংগঠনের সভাপতি এম এস আলম। আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক বেলাল মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সরকারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চিকিৎসক চৌধুরী সারোয়ারুল হাসান।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন সাবেক সভাপতি সাঈদা আক্তার লিলি, মোহাম্মদ হোসেন খান, সাঈদ-উর বর, মুর্শেদ আলম এবং আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব ইকবাল মুর্শেদসহ অন্যরা।
বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের শেকড় ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন তাঁরা। এ সময় তাঁর পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকারও করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, সিনিয়র সহসভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট জামাল আহমেদ জনিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা।
নৈশভোজের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। গান পরিবেশন করেন লিলীমা শশী, কাজী আরিফ, ফাতেমা খান, রুহুল আমিনসহ সংগঠনের সদস্য ও নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা। কবিতা আবৃত্তি করেন গোলাম মোস্তফা, প্রীতি, ফারুক ও আজিজুল হক মুন্না। এ ছাড়া ‘সংসার-সমাচার’ শিরোনামের বিশেষ পরিবেশনা উপস্থিত অতিথিদের আনন্দ দেয়।
নিউইয়র্কে বসবাসরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা ১৯৯৪ সালে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রবাসে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ, ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো সংগঠনটির অন্যতম লক্ষ্য।
নিউইয়র্কে ঢাবি অ্যালামনাইদের বার্ষিক ডিনারে ঐক্যের প্রত্যয়
শান্তি প্রতিষ্ঠায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণ জরুরি: আইরিন খান
জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি পর্যায়ে নারীর কার্যকর ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান। বুধবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক (ডব্লিউপিএস) এক উন্মুক্ত বিতর্কে বক্তব্য দানকালে তিনি এ আহ্বান জানান। নিরাপত্তা পরিষদেও ১৩২৫ নম্বর প্রস্তাবের অন্যতম মূল সহ-উদ্যোক্তা হিসেবে বাংলাদেশের ভূমিকা তুলে ধওে আইরিন খান নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক এজেন্ডা বাস্তবায়নে দেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সহিংসতা প্রতিরোধ, বিরোধের বিস্তার রোধ এবং টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় তৃণমূল পর্যায়ে নারীদেও উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ছয় বছর আগে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে। প্রথম পর্যায়ের বাস্তবায়ন সম্পন্ন হওয়ার পর বর্তমানে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ চলছে। এ পর্যায়ে নাগরিক সমাজ ও নারী সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, হিংসতা প্রতিরোধে কিশোরী ও তরুণীদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধিও পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি ও মধ্যস্থতায় তাঁদেও সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। তৃণমূল পর্যায়ে নারীদের উদ্যোগ বিরোধের বিস্তার রোধ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। রাষ্ট্রদূত খান নারী অধিকার কর্মী ও সংগঠনগুলোর জন্য বাড়তি সহায়তা, সংঘাত কবলিত এলাকায় নারীদের সুরক্ষা এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রম ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য ধারাবাহিক অর্থায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, শান্তি ও নিরাপত্তাকে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব পর্যায়ে নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।
রিপাবলিকানদের হটিয়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিল ডেমোক্র্যাটরা
জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা টেক্সাস, জর্জিয়া, ওহাইও, আইওয়া ও নেভাদার গভর্নর পদে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। এর মধ্য দিয়ে ১৬ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকের বেশি রাজ্যের গভর্নর পদ দলটির নিয়ন্ত্রণে আসছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউর বেসরকারি ফলাফল ও বিজয়ী ঘোষণার ভিত্তিতে সংবাদমাধ্যম স্টেটলাইন এ তথ্য জানিয়েছে। শেষ খবর পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা ২৮টি এবং রিপাবলিকানরা ২০টি রাজ্যের গভর্নর পদ পেতে যাচ্ছে। তখনো আলাস্কা ও কানসাসে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়নি। ফলে এই হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যয়িত চূড়ান্ত ফল নয়। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মধ্যবর্তী নির্বাচনে দেশটির ৫০টি রাজ্যের মধ্যে ৩৬টিতে গভর্নর পদে ভোট হয়। নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের হাতে ছিল ২৬টি এবং ডেমোক্র্যাটদের হাতে ২৪টি গভর্নর পদ। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ২৬টি পদের সীমা এবার অতিক্রম করেছে ডেমোক্র্যাটরা।
এবারের অন্যতম বড় পরিবর্তন এসেছে টেক্সাসে। সেখানে তিন মেয়াদের রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট রাজ্য আইনপ্রণেতা জিনা হিনোহোসা। এর মধ্য দিয়ে তিন দশকের বেশি সময় পর টেক্সাসের গভর্নর পদে ফিরছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। হিনোহোসা হতে যাচ্ছেন রাজ্যটির প্রথম লাতিনা গভর্নর। চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অ্যাবট পরাজয় মেনে নিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তরে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। জর্জিয়ায় রিপাবলিকান ব্যবসায়ী রিক জ্যাকসনকে হারিয়েছেন আটলান্টার সাবেক মেয়র কিশা ল্যান্স বটমস। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো রাজ্যের গভর্নর পদে নির্বাচিত প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হতে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি হবেন জর্জিয়ার প্রথম নারী গভর্নর। তাঁর জয়ে দুই দশকের বেশি সময় পর রাজ্যটির শীর্ষ নির্বাহী পদে ফিরছে ডেমোক্র্যাটরা। ওহাইওতে রিপাবলিকান বিবেক রামাস্বামীকে পরাজিত করেছেন চিকিৎসক ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যামি অ্যাক্টন। ২০০৬ সালের পর এই প্রথম রাজ্যটির গভর্নর নির্বাচনে জয় পেলেন কোনো ডেমোক্র্যাট। অ্যাক্টন ওহাইওর প্রথম নির্বাচিত নারী গভর্নরও হতে যাচ্ছেন। আইওয়ায় রিপাবলিকান ব্যবসায়ী জ্যাক লানকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট রব স্যান্ড। দুই মেয়াদের এই রাজ্য নিরীক্ষক বিদায়ী রিপাবলিকান গভর্নর কিম রেনল্ডসের স্থলাভিষিক্ত হবেন। রেনল্ডস এবার পুনর্র্নিবাচনে অংশ নেননি। স্যান্ডের জয়ে ২০১১ সাল থেকে চলা রিপাবলিকানদের গভর্নর পদে নিয়ন্ত্রণের অবসান হচ্ছে।
নেভাদাও রিপাবলিকানদের কাছ থেকে ডেমোক্র্যাটদের দখলে যাওয়া পাঁচ রাজ্যের তালিকায় রয়েছে। পাশাপাশি মেইন, মিশিগান ও উইসকনসিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ গভর্নর নির্বাচনেও নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে দলটি।
নিউইয়র্কে রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রুস ব্লেকম্যানকে হারিয়ে গভর্নর ক্যাথি হোকুল পুনর্র্নিবাচিত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সিবিএস নিউজ। উইসকনসিনে ডেমোক্র্যাট ডেভিড ক্রাউলি, ক্যালিফোর্নিয়ায় একই দলের জেভিয়ার বেসেরা এবং ফ্লোরিডায় রিপাবলিকান বায়রন ডোনাল্ডসকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে ফক্স নিউজ। এসব ফল কার্যকর হলে রাজ্য পর্যায়ে ডেমোক্র্যাটদের প্রশাসনিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। তবে গভর্নর পদে জয়কে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের আইনসভার নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার সমার্থক হিসেবে দেখা যাবে না; আইন প্রণয়ন ও নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইনসভার দলীয় অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ।
চট্টগ্রাম সমিতির কার্যকরি কমিটির মেয়াদ বৃদ্ধি
জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা ইনকের বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৬ গত ১ নভেম্বর রোববার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয় ‘চট্টগ্রাম ভবনে’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোটে বর্তমান কমিটির মেয়াদ এক বছর বৃদ্ধিসহ চারটি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আবু তাহের। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন ক্রীড়া সম্পাদক মোহাম্মদ ঈছা এবং গীতা পাঠ করেন কার্যকরী কমিটির সদস্য পল্লব রায়। এরপর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।
সমিতির প্রয়াত নেতৃবৃন্দ ও সদস্যদের স্মরণে নীরবতা পালন এবং তাঁদের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের জ্যেষ্ঠ সদস্য মুনীর আহমেদ।
সভার প্রথম পর্বে কোষাধ্যক্ষ শফিকুল আলম আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব উপস্থাপন করেন। সদস্যদের অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হলে হিসাব বিবরণী সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম তাঁর প্রতিবেদনে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সংগঠনের সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরেন। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সদস্যদের সহযোগিতায় কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
উল্লেখযোগ্য আয়োজনের মধ্যে ছিল দুটি বৃহৎ বনভোজন, দুটি ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান, বৈশাখী উৎসব, অভিবাসন ও করবিষয়ক সেমিনার, নিউইয়র্ক সিটির ডিস্ট্রিক্ট ৩৯-এর কাউন্সিল সদস্য শাহানা হানিফ এবং বাংলাদেশের সংসদ সদস্য সারওয়ার আলমগীরকে সংবর্ধনা। এ ছাড়া সমিতির আটজন প্রয়াত সদস্যের দাফনের জন্য বিনামূল্যে কবরের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
সভাপতি মোহাম্মদ আবু তাহের তাঁর প্রতিবেদনে সদস্যদের সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনের নয় দিন আগে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় প্রচারে সরাসরি অংশ নিতে পারেননি। ওই সময় চট্টগ্রামবাসীর ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য তিনি নিজের ও পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। নির্বাচনী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণার অভিযোগও তোলেন তিনি।
সমিতির আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতিসাধনের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সভাপতি। এ প্রসঙ্গে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা দুটি মামলার বিষয়েও তাঁর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
এরপর সংবিধান সংশোধনী কমিটির প্রধান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ সেলিম প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো উপস্থাপন করেন। সংশ্লিষ্ট ধারা ও উপধারার ব্যাখ্যা দেন কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নুরুল আনোয়ার।
ট্রাস্টি বোর্ডের কো-চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিঠু সাধারণ সভায় চারটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রস্তাবগুলো হলো- আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুমোদন, বর্তমান কমিটির মেয়াদ ৩ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ৩ নভেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত বৃদ্ধি, সংবিধানের প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুমোদন, সমিতির আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতিসাধনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংগঠনের বিধান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ।
উপস্থিত সদস্যদের ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে চারটি প্রস্তাবই গৃহীত হয়। সভায় জানানো হয়, গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো অনুমোদনের দিন থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।
সভায় বক্তব্য দেন- সাবেক ট্রাস্টি চেয়ারম্যান ও সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ; সাবেক সভাপতি কাজী শাখাওয়াত হোসেন আজম; প্রতিষ্ঠাতা কোষাধ্যক্ষ ও বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শামসুল আলম চৌধুরী; জ্যেষ্ঠ ট্রাস্টি সদস্য মুনীর আহমেদ; ট্রাস্টি সদস্য ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহজাহান; ট্রাস্টি সদস্য সৈয়দ মোশাররফ হোসেন বাবর ও আবুল কাশেম চট্টলা; সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও বর্তমান ট্রাস্টি সদস্য মিজানুর রহমান জাহাঙ্গীর; ট্রাস্টি সদস্য আবু তালেব চৌধুরী চান্দু; উপদেষ্টা সদস্য সাহাবুদ্দিন চৌধুরী লিটন; মোহাম্মদ দিদারুল আলম, মোহাম্মদ জামালাউদ্দিন, মতিউর রহমান চৌধুরী, কানেকটিকাটের মোহাম্মদ আবুল কালাম এবং নিউজার্সির আব্দুল্লাহ আল মামুন।
সাবেক নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য দেন আরিফ চৌধুরী, খোকন কে চৌধুরী, আশ্রাব আলী খান লিটন, মোহাম্মদ রুমি, অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ, কাজী ইকবাল, মোহাম্মদ আমিন, মেজেবাউদ্দিন আহমেদ, মোহাম্মদ কাউসার চৌধুরী, বাসন আলী ও উত্তম দাস।
বর্তমান নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য দেন কলিমুল্লাহ মাস্টার, তানিম মহসিন, হাজী তৌহিদুল আলম, জাবের শফি, মোহাম্মদ নুরুল আমিন, আক্তার হোসেন, অজয় প্রসাদ তালুকদার, ইমরুল কায়সার, নাসিরুদ্দিন ও মোহাম্মদ মহিম উদ্দিন।
মৌলভীবাজারবাসীর মধ্যে ঐক্য প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ
জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ নানা কারণে বিভক্ত নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মৌলভীবাজারবাসীর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এগিয়ে চলছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিভক্ত সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দের মধ্যে ইতিমধ্যে একাধিক সভা হয়েছে। এসব সভায় পারস্পরিক বিরোধ ও ভুল বোঝাবুঝি ভুলে বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ নভেম্বর রোববার সন্ধ্যায় মৌলভীবাজারের নেতৃস্থানীয় প্রবাসীদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ঐক্য প্রক্রিয়ার অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
নিউইয়র্ক সিটির অ্যাস্টোরিয়ার হ্যালো বাংলাদেশ রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ প্রবাসী হাজী আব্দুল মোসব্বির। সভা পরিচালনা করেন কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট মিনহাজ আহমেদ শাম্মু।
সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন আজমল এইচ. খান, মামুনুর রশিদ শিপু, মো. কাইয়ুম, চৌধুরী সালেহ, বদরুন নাহার খান মিতা, দুলাল তরফদার, সৈয়দ ইলিয়াস খসরু, জালাল চৌধুরী, সোহান আহমেদ টুটুল, ফজলুর রহমান, মোহাম্মদ জাবেদ উদ্দিন, তাজাম্মুল হুসাইন, ইমরান হুসাইন, এমদাদ রহমান তরফদার, মঈনুর রহমান শুয়েব, মজিবুর চৌধুরী, মোহাম্মদ কুতুব, সৈয়দ এস. আলী, শাহ-জাবের আহমেদ, জুয়েল খান, সৈয়দ গওসুল হুসাইন, মোহাম্মদ শামীম ইসলাম, এম. ডি. ইন্তাজ খান, এম. আশরাফুর রহমান, সৈয়দ আলী, জাবেদ আহমেদ, সৈয়দ রুহুল আলী, শাহীন হাসনাত, সৈয়দ ফয়সাল আহমেদ, আল আমিন জিল্লা, শাহীন খান, হেলালুর খান, সৈয়দ মামুন, শামসুল আলম খান, মিসবা মজিদ এবং চৌধুরী মুনিথ (তানিম) প্রমুখ।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত : সভায় প্রাথমিকভাবে সদস্য ফি ৫০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত ফি প্রদানকারীদের নিয়ে একটি সদস্যমণ্ডলী গঠন করা হবে।
পরবর্তী সাংগঠনিক কার্যক্রমে এই সদস্যমণ্ডলী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ করে সংগঠনের গঠনতন্ত্র প্রণয়ন, নির্বাচন প্রক্রিয়া নির্ধারণ এবং নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেবে।
এ ছাড়া ৫০ ডলার সদস্য ফি দিয়ে সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। নতুন কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত ফি প্রদানকারী সবাই সদস্যমণ্ডলীতে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
সভায় জানানো হয়, ঐক্য প্রক্রিয়ার পরবর্তী সভা আগামী ৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।
সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ দলমত-নির্বিশেষে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বৃহত্তর মৌলভীবাজারের সব অধিবাসীর সহযোগিতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি শক্তিশালী, কার্যকর ও ঐক্যবদ্ধ সংগঠন গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
পার্কে আইসের ঘাঁটি, মামলার হুঁশিয়ারি মামদানির
জন্মভূমি প্রতিবেদকঃ নিউইয়র্ক সিটির পার্ক ও সিটি-মালিকানাধীন পার্কিং লট অভিবাসন অভিযানের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার বন্ধ না হলে ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি বলেছেন, সিটি প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া নগরীর সম্পত্তি এ ধরনের কাজে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। ২ নভেম্বর সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাঠানো এক চিঠিতে এ অবস্থান জানান মেয়র। একই সঙ্গে ফেডারেল কর্মকর্তাদের প্রবেশ ও কার্যক্রমের বিষয়ে সিটির পার্কস বিভাগের কর্মীদের জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে তার প্রশাসন। সিটি প্রশাসনের অভিযোগ, ব্রঙ্কসের ভ্যান কর্টল্যান্ড পার্ক এবং কুইন্সের ফ্লাশিং মেডোজ করোনা পার্কের পশ্চিম পাশে ১১১ স্ট্রিটসংলগ্ন কয়েকটি সিটি-মালিকানাধীন পার্কিং লটে আইস কর্মকর্তারা গাড়ি রাখছেন এবং অভিবাসন অভিযানের প্রস্তুতিমূলক বৈঠক করছেন। কুইন্সের সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পার্কিং লট সিটি পরিচালিত একটি প্রাক্বিদ্যালয় ও শিশুদের যাতায়াত রয়েছে এমন কয়েকটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি অবস্থিত।
চিঠিতে মামদানি বলেন, এসব সম্পত্তি ব্যবহারের জন্য আইসকে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। নগরীর পার্ক ও পার্কিং লট বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত। সেগুলো অভিবাসন অভিযানের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়। মেয়র বলেন, পরিবার বিচ্ছিন্ন করার কাজে সিটির সম্পত্তি ব্যবহারের অধিকার আইসের নেই। নগরীর প্রতিটি পার্ক ও পার্কিং লটের ক্ষেত্রে এ অবস্থান প্রযোজ্য। অননুমোদিত ব্যবহার অবিলম্বে বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরিয়ে নিতে ডিএইচএসের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। কর্মকর্তারা আবার ফিরে এলে সিটি প্রশাসন আদালতে যাবে বলেও সতর্ক করেন। ডিএইচএস সচিব মার্কওয়েন মুলিন, আইসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডেভিড জে. ভেনচুরেলা এবং নিউইয়র্ক ফিল্ড অফিসের পরিচালক কেনেথ জেনালোকে পাঠানো চিঠিতে সংস্থাটির কর্মকর্তাদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, নিউইয়র্ক সিটির কোনো সম্পত্তি যেন অভিবাসন অভিযান পরিচালনা কিংবা অভিযানের প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা না হয়।মামদানি প্রশাসনের দাবি, গত ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত ১৩ নম্বর নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, বিচারিক পরোয়ানা বা আইনসম্মত বিশেষ অনুমতি ছাড়া সিটির বাইরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা নগরীর সম্পত্তি অভিযানের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে না। নিউইয়র্ক সিটির করপোরেশন কাউন্সেল স্টিভেন ব্যাংকস বলেন, বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ডিএইচএসকে জানানো হয়েছে।
এরপরও সিটি-মালিকানাধীন সম্পত্তি ব্যবহার অব্যাহত থাকলে আদালতে যেতে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। তবে সিটি প্রশাসনের আইনি ব্যাখ্যার সঙ্গে দ্বিমত জানিয়েছে ডিএইচএস। সংস্থাটির এক মুখপাত্রের বক্তব্য, ফেডারেল আইন অনুযায়ী জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত পার্কিং লটে আইস কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বৈধ। দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো এভাবে পার্কিং লট ব্যবহার করে থাকে। আইসের অভিযান বন্ধ হবে না বলেও জানান তিনি। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ফেডারেল কর্মকর্তারা পার্কের জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ বা সীমিত কোনো এলাকায় ঢুকতে চাইলে কর্মীদের তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চাইতে হবে এবং বিভাগের জেনারেল কাউন্সেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। কোনো কর্মকর্তা বিচারিক পরোয়ানা দেখালে কর্মীরা নিজেরা সেটির বৈধতা নির্ধারণ না করে বিভাগের আইনজীবীদের কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠাবেন।
বৈধ বিচারিক পরোয়ানা বা অন্য কোনো আইনসম্মত অনুমতি না থাকলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনুমতি ছাড়া কেউ প্রবেশ করলে পরিস্থিতি নিরাপদ থাকলে ৯১১ নম্বরে ফোন করে ঘটনাটি নথিভুক্ত করতে বলা হয়েছে। তবে ফেডারেল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের শারীরিক বা মৌখিক সংঘাতে না জড়াতেও কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মামদানি বলেন, অভিবাসীসহ সব নিউইয়র্কবাসীর সুরক্ষায় নগরীর কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের একা ছেড়ে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নতুন নীতিমালা অমান্য করলে সাময়িক বরখাস্ত থেকে চাকরিচ্যুতি পর্যন্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এদিকে মামদানির উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল। তিনি বলেন, সরকারি সম্পত্তি অভিবাসন অভিযানে ব্যবহারের খবর উদ্বেগজনক। পার্কে যাওয়া কিংবা নিজ এলাকায় চলাচলের সময় কোনো পরিবারকে যেন স্বজনদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কায় থাকতে না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসও অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় সিটি প্রশাসনের উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন। পাবলিক অ্যাডভোকেট জুমানে উইলিয়ামস, বিভিন্ন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। অভিবাসী অধিকার সংগঠন ডেসিস রাইজিং আপ অ্যান্ড মুভিংয়ের (ড্রাম) নির্বাহী পরিচালক ফাহদ আহমেদ বলেন, জনসাধারণের জন্য বরাদ্দ সম্পদ নিউইয়র্কবাসীর সেবায় ব্যবহৃত হওয়া উচিত। অভিবাসন অভিযানের প্রস্তুতিতে এসব সম্পত্তির ব্যবহার বন্ধ করতে নগর প্রশাসনের সব আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করা প্রয়োজন। নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী মুরাদ আওয়াওয়াদেহ বলেন, পার্ক, স্কুল ও আশপাশের সরকারি স্থানগুলো প্রতিটি পরিবারের জন্য নিরাপদ থাকা উচিত। নতুন নির্দেশনা নগরীর কর্মীদের আইন ও নীতিমালা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।
২০০ কোটি ডলারের সার্বভৌম তহবিল গঠনের প্রস্তাব
অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অবকাঠামোসহ বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক খাতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ আকর্ষণে কোরিয়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশনের (কেআইসি) সঙ্গে আলোচনা করেছে দক্ষিণ কোরিয়া সফররত বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল। ১০০ থেকে ২০০ কোটি ডলারের একটি সার্বভৌম তহবিলকে বিনিয়োগের সম্ভাব্য মাধ্যম হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে আলোচনায়। এ ছাড়া কোরিয়ার ফান্ড ম্যানেজারদের মাধ্যমে কেআইসির বিনিয়োগের পাশাপাশি কোরিয়া এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়ন পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়া সফর করছে। প্রতিনিধি দলটি গত মঙ্গলবার কোরিয়ার সরকারি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক সংস্থা, শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে। গতকাল বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পুঁজি কীভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে আনা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন দুইপক্ষ। কেআইসির ইকুইটি বিনিয়োগের সঙ্গে কোরিয়া এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের (কেএক্সিম) অর্থায়ন যুক্ত করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হয়। কোরীয় ফান্ড ম্যানেজারদের মাধ্যমে এ ধরনের বিনিয়োগের বিষয়টি আলোচনায় আসে।
উল্লেখ্য, সার্বভৌম সম্পদ তহবিল হলো সরকারের মালিকানাধীন বিশেষ বিনিয়োগ তহবিল। দেশের আর্থিক সম্পদ থেকে দীর্ঘমেয়াদে মুনাফা অর্জন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে এ তহবিলের অর্থ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করা হয়। বাংলাদেশ ২০১৭ সালে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবহার করে এ ধরনের তহবিল গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে তা বাতিল করা হয়।
কোরিয়া এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোয়াং কিয়নের সঙ্গে বৈঠকে ২০২৩-২০২৭ মেয়াদের ৩০০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিলের (ইডিসিএফ) ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি পর্যালোচনা করেছে দুইপক্ষ। এ কাঠামোর আওতায় কয়েকটি অগ্রাধিকার প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা এমআরটি লাইন-৫-এর দক্ষিণ রুট, মতলব উত্তর-গজারিয়া সেতু এবং ২৬০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী রেলকোচ সংগ্রহ।
ইডিসিএফের অবশিষ্ট অর্থ ব্যবহারে বাংলাদেশ একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা প্রস্তাব করেছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর, স্মার্ট অবকাঠামো ও সরবরাহব্যবস্থার মতো নতুন খাতে অর্থায়নের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। কেএক্সিম জানিয়েছে, ইডিসিএফের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কোরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রকল্প প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করা হবে।
কোরিয়ার অর্থ ও অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় ভাইস মিনিস্টার চ্যাং হুহর সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও কৌশলগত পর্যায়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নত উৎপাদন, জ্বালানি, জাহাজ নির্মাণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইজিএনডি) উদ্যোগের মাস্টারপ্ল্যান তৈরিতে কোরিয়ার কারিগরি সহায়তার বিষয়টিও স্বাগত জানানো হয়। এ উদ্যোগের অর্থায়ন ও বাস্তবায়নে আরও বিস্তৃত অংশগ্রহণের আহ্বান জানায় বাংলাদেশ
এআই সহযোগিতার ক্ষেত্রেও আলোচনা হয়েছে। এলজি এআই রিসার্চের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের ভাষা ও সংস্কৃতির উপযোগী লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) তৈরির বিষয়ে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উৎপাদন ও সরকারি সেবায় এআই ব্যবহারের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। পাশাপাশি বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এআই ও ডেটা সেন্টার হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
কোরিয়ার বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ আকর্ষণেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল। স্যামসাং সিঅ্যান্ডটির সঙ্গে অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নগর উন্নয়ন, পর্যটন ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। রুফটপ ও বড় পরিসরের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগ সাবেক মন্ত্রী, এমপিসহ ২০ ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দ হচ্ছে
মজুরি বাড়ানোর দাবিতে চলমান তৈরি পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে অর্থায়ন ও জনবল দিয়ে সহায়তা করার গোয়েন্দা তথ্য ধরে অন্তত ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সব ব্যাংকে নির্দেশনা পাঠিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ তালিকায় দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকটি শিল্প গ্রুপের মালিক, সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং রাজনৈতিক কর্মীও আছেন। এদের বেশির ভাগ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বা আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী ছিল। এদের কারও কারও ব্যাংক হিসাব ৫ আগস্টের পর দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) একাধিাক সংস্থার মামলায় জব্দ করা হয়। কেউ কেউ কারাগারে আছেন; কেউ দেশের বাইরে। ফলে অভিযোগ বিষয়ে তাৎক্ষণিক তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
গত মঙ্গলবার এনবিআরের এক অনুষ্ঠানে সংস্থাটির চেয়ারম্যান আহসান হাবিব কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, বিশেষ একটি কারণে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও আয়কর গোয়েন্দা বিভাগ ৩৪ ব্যক্তি ও ৩৪টি পরিবারের ব্যাংক হিসাব জব্দ করছে।
রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ১২টি গ্রুপের মালিক এ আন্দোলনে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করার জন্য অর্থায়ন করছেন। এ তালিকায় রয়েছেন সিপাল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিপু মুনশি। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন।
একই অভিযোগে ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হচ্ছে বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক সালমান এফ রহমানেরও। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বেসরকারি বিনিয়োগ-বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।
এ ছাড়া যাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছেন– এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদী, রেনেসাঁ গ্রুপের মালিক ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, হামিদ গ্রুপের মালিক এবং সাবেক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, ফেবিয়ান গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, তুসুকা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়জুর রহমান বাদল, ওয়েল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আবদুস ছালাম, নিপা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খসরু চৌধুরী, অ্যাক্সিস নিটওয়্যারস লিমিটেডের পরিচালক জাহিদ আহমেদ টুলু, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম মোশাররফ হোসেন, গিভেন্সি গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসুমা খাতুন লিপা।
এ ছাড়া মিরপুর এলাকায় আন্দোলনে অর্থ জোগান দেওয়ার অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি ও শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলমের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কিছু ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হচ্ছে। তারা হলেন– সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর ভাগনে আলিফ মোল্লা, শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলমের সহযোগী মাহবুবুর রহমান জুয়েল, স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মী কামাল গাজী ও শুভ নামে এক ব্যক্তি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অনলাইনে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। তাঁর নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫টি হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, ফেসবুক পেজে আন্দোলনের বিভিন্ন স্থানের ভিডিও, ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করছেন প্রায় ১৫০ ব্যক্তি। এদের মধ্যে বাহাউদ্দিন নাছিমের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, পোশাক খাতের চলমান অস্থিরতার পেছনে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ইন্ধন রয়েছে। এ কাজে কিছু শিল্প মালিকও জড়িত– সরকারের কাছে এমন তথ্য-প্রমাণ আছে।
ব্যাংক হিসাব জব্দের বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এরই মধ্যে ব্যাংকগুলোকে এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার জন্য ইমেইলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গাজীপুরে সিলিন্ডারের গ্যাস লিকেজ থেকে আগুন, দগ্ধ ৪
গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার রি-টেস্টিং সেন্টারে গ্যাস লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। দগ্ধদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মহানগরের নাওজোড় এলাকায় রিয়াজ ফিলিং স্টেশনসংলগ্ন ইউনাইটেড সিলিন্ডার রি-টেস্টিং সেন্টার-২-এ এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া সেলের সদস্য তালহা বিন জসিম জানান, অগ্নিকাণ্ডে চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে- আব্দুল্লাহর(১৮) শরীরের ২০ শতাংশ, ১৯ বছর বয়সী আহাদের ৫৫ শতাংশ, ২৬ বছর বয়সী আশরাফুলের ১৫ শতাংশ এবং ২৫ বছর বয়সী নাঈমের ৪ শতাংশ পুড়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, দগ্ধদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আব্দুল্লাহ ও আহাদকে মেডিকেল হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এমএইচডিইউ) রাখা হয়েছে। নাঈমকে জরুরি বিভাগে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। শরীরের ৫৫ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় আহাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ভোগড়া মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. হিরণ মিয়া জানান, রাত ৮টা ৪০ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। প্রথমে দুজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
মুশফিক-তাসকিনকে ফিরিয়ে সিলেট টেস্টে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ
সিলেট টেস্টে টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। একাদশে দুটি পরিবর্তন এনেছে স্বাগতিকেরা। চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন মুশফিকুর রহিম। পেসার শরীফুল ইসলামের জায়গায় একাদশে সুযোগ পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ।
মিরপুরের মতো সিলেটেও তিন স্পিনার ও দুই পেসার নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। একাদশে মেহেদী হাসান মিরাজ, নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলামের সঙ্গে পেস আক্রমণে রয়েছেন তাসকিন ও হাসান মাহমুদ।
বাংলাদেশের একাদশ: তানজিদ হাসান, সাদমান ইসলাম, নাজমুল হোসেন, তাওহিদ হৃদয়, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাঈম হাসান, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ।
অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের একাদশেও এসেছে দুটি পরিবর্তন। ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে টেস্ট অভিষেক হয়েছে কেভিন উইকহ্যামের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে টেস্ট খেলতে নামা ৩৪৯তম ক্রিকেটার তিনি। একাদশে ফিরেছেন উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান জশুয়া ডা সিলভাও। ক্যারিবীয়দের একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন জন ক্যাম্পবেল ও তেজনারাইন চান্দারপল।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের একাদশ: ব্র্যান্ডন কিং, জশুয়া ডা সিলভা, কেভিন উইকহ্যাম, কাভেম হজ, জাস্টিন গ্রিভস, আমির জাঙ্গু, রস্টন চেইস, শামার জোসেফ, জেডেন সিলস, জশুয়া বিশপ ও জোমেল ওয়ারিক্যান।


