Home Blog Page 30

ঢাবিতে ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকার গঠনের পর এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর দ্বিতীয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সফর।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় তিনি ক্যাম্পাসে পৌঁছালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল করেন। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরাও হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানান।

নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ধর্মগ্রন্থ পাঠ ও জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে আইসিটি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া সূচনা বক্তব্য দেন। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোরশেদ হাসান খান। সমাপনী পর্বে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্টার্টআপ খাত নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। পাশাপাশি সফল উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষার্থীদের মুক্ত আলোচনা এবং নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণের কর্মসূচি রয়েছে।

এদিন ‘জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম’-এরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। এ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা সরকারি সহায়তা, প্রশিক্ষণ, পরামর্শ, বিনিয়োগের সুযোগ ও বিভিন্ন সেবা এক জায়গায় পাবেন।

তরুণদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব উদ্যোগে রূপ দেওয়া, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করা সরকারের লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল গঠন করা হয়েছে। উদ্বোধনী পর্ব শেষে দুপুর ১টা থেকে অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

এর আগে ১২ মে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের উদ্যোগে ‘ট্রান্সফরমিং হায়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্স’ শীর্ষক কর্মশালায় অংশ নিয়েছিলেন তারেক রহমান।

এমসি কলেজে গৃহবধূকে ধর্ষণের মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

সিলেটের মুরারিচাঁদ কলেজে (এমসি কলেজ) ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে একজনকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনের যাবজ্জীবন সাজা দেন আদালত। এই মামলায় চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পাঁচ বছর নয় মাস পর আজ মঙ্গলবার সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক বিশেষ জজ স্বপন কুমার সরকার এ রায় প্রদান করেন।

প্রধান অভিযুক্ত সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক ও অর্জুন লস্কর। খালাস পেয়েছেন— মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল হাসান ও মাহফুজুর রহমান মাসুম। দণ্ড ও খালাসপ্রাপ্ত সবাই নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী।

২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় শাহপরাণ থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ আটজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন ভুক্তভোগীর স্বামী। পরে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও র‍্যাব।

ছাত্রাবাস থেকে অভিযুক্ত সাইফুর রহমানের কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে একটি পাইপগান, ৪টি রামদা, ২টি চাকু উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শাহপরান থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করা হয়। এছাড়া অপহরণ ও চাঁদাবাজির ঘটনায় আরেকটি মামলা করে পুলিশ। তিনটি মামলারই চার্জশিট দেওয়া হয় ওই সময়।

বর্তমানে আসামিরা কারাগারে বন্দী রয়েছেন। ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের ধর্ষণের আলামতের সাথে মিল পাওয়া যায়। ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরাণ থানার পরিদর্শক ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন—নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল হাসান ও মাহফুজুর রহমান মাসুম। তাঁদের মধ্যে আসামি সাইফুর, রনি, মাসুম ও রবিউল এমসি কলেজের ছাত্র হওয়ায় ওই সময় কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁদের বহিষ্কার ও ছাত্রত্ব বাতিল করে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও ৪ জনের ছাত্রত্ব ও সার্টিফিকেট বাতিল করে।

২০২২ সালে চাঞ্চল্যকর এই মামলাটি সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে চলাকালে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের জন্য উচ্চ আদালতে আবেদন করেন বাদী। ওই বছরের ১৫ ডিসেম্বর বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ দলবদ্ধ ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির মামলা দুটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আদেশ দেন। ওই আদেশে ৩০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে গেজেট জারি করতেও বলা হয়েছিল। তবে তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল উচ্চ আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন না করে ওই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন; যা ছিল নজিরবিহীন।

আইনজীবীরা সে সময় রাষ্ট্রপক্ষের ওই আপিলকে ‘বিচার না চাওয়ার’ সঙ্গে তুলনা করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সরকার পরিবর্তনের পর গতবছর রাষ্ট্রপক্ষ সেই আপিল আবেদন তুলে নিলে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

গত বছরের ৬ মে ট্রাইব্যুনালে এই মামলার প্রথম শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। একই বছরের ১৩ মে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত বৃহস্পতিবার উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়। এই মামলায় ধর্ষণের শিকার নারী, তাঁর স্বামী, স্বীকারোক্তি নেওয়া ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন খানম লিনা, সাইফুর রহমান ও জিয়াদুর রহমান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য, এমসি কলেজের অধ্যাপক তৌফিক ইয়াজদানী চৌধুরী ও ওসমানী হাসপাতালের চিকিৎসকসহ সর্বমোট ২৪ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

নিবন্ধন না হওয়ায় দুই বছরে উপবৃত্তি বঞ্চিত ২৬৭ শিক্ষার্থী টুঙ্গিপাড়ার গোপালপুর পঞ্চপল্লী উচ্চ বিদ্যালয়

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গোপালপুর গ্রামটি বিলবেষ্টিত। এই গ্রামের বেশির ভাগ মানুষই শ্রমজীবী। কেউ কাজ করেন ক্ষেত-খামারে, কেউ খাল-বিলে ধরেন মাছ। দৈনিক ভিত্তিতে শ্রম বিক্রি করেন কেউ। কেউ আবার ভ্যান চালান।

দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করেও ভবিষ্যতের কথা ভেবে বিদ্যালয়ে পাঠান সন্তানদের। এসব শিশু-কিশোরের প্রধান ভরসা গোপালপুর পঞ্চপল্লী উচ্চ বিদ্যালয়। কিন্তু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবহেলায় দুই বছরে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট্রের সমন্ধিত উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে ২৬৭ শিক্ষার্থী। খরচ চালাতে না পেরে তারা ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

অভিভাবকরা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট্রের সমন্ধিত উপবৃত্তির টাকা পেলে দরিদ্র পরিবারের কিশোর-কিশোরীরা এসএসসির গণ্ডি পার হওয়ার সাহস পায়। উপবৃত্তি পাওয়ার জন্য ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে নিবন্ধন করতে হয়। বিদ্যালয় থেকেই নিবন্ধন করে দেওয়া হয়। কিন্তু ২০২৬ সালের ষষ্ঠ শ্রেণির ১২১ শিক্ষার্থীর নিবন্ধন করা হয়নি। ২০২৫ সালেও নিবন্ধন করা হয়নি ষষ্ঠ শ্রেণির ১৪৬ শিক্ষার্থীর। এ কারণে মোট ২৬৭ শিক্ষার্থীর দশম শ্রেণি পর্যন্ত উপবৃত্তি পাবে না। একই কারণে তারা এসএসসির ফরম পূরণের সময়ও প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের এক হাজার টাকা থেকেও বঞ্চিত হবে।

চলতি বছরই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাসিক টিউশন ফিসহ অন্যান্য ফি বাড়ানো হয়েছে। এসব কারণে তাদের শিক্ষাজীবন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকরা। এই বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র দেবরাজ মহলীর মা ঝর্ণা মহলী বলেন, ‘অন্য স্কুলের ছাত্ররা টাকা পায়, কিন্তু আমার ছেলে পায় না। মাস্টাররা যে কাগজ চেয়েছেন, দিয়েছি। তারপরও উপবৃত্তির টাকা পায় না। এটা তাদের ভুল। আমরা গরিব মানুষ, সংসার চালাতেই কষ্ট হয়। তারপরও স্কুলের খরচ আছে। টাকাটা পেলে কষ্ট কম হতো।’
গত বছর নিবন্ধন করা হয়নি সপ্তম শ্রেণির ছাত্র স্বপন তালুকদারের। শিশুটি জানায়, ‘গত বছর ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হলেও এখন পর্যন্ত উপবৃত্তির টাকা পাই নাই। আর পাওয়ার সম্ভাবনাও নাই বলে শুনেছি।’ ওই টাকা পেলে তার কৃষিজীবী বাবার কষ্ট কম হতো।

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী পর্শী তালুকদারের বাবাকে সংসার খরচের জন্য ভ্যান চালাতে হয়। সে জানায়, ‘বাবা আমাদের পড়ানোর টাকা দিতে পারেন না। আমরা উপবৃত্তি পাই না। তারপর টিউশন ফি, পরীক্ষা ও রেজিস্ট্রেশন ফি বাড়ানো হয়েছে।’ এতে দরিদ্র এই গ্রামের শিশুদের পড়াশোনা বন্ধের মুখে পড়েছে বলেও জানায় সে।

এখানে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে শান্তি ব্যাপারীর ছেলে শ্যামল ব্যাপারী। শ্যামলের নামও নিবন্ধন করা হয়নি জানিয়ে শান্তি ব্যাপারী বলেন, ২০২৬ ও ২০২৫ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া ২৬৭ শিক্ষার্থী উপবৃত্তির রেজিস্ট্রেশন থেকে বাদ পড়েছে। এই উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াকালীন তারা আর উপবৃত্তি পাবে না। প্রত্যেক শিক্ষার্থী পাঁচ বছরে ১৬ হাজার টাকার উপবৃত্তি পেত, সেই টাকা থেকে বঞ্চিত হলো। সব মিলিয়ে ৪২ লাখ ৭২ হাজার টাকার উপবৃত্তি পাবে না এই শিশুরা।

তাঁর অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিল্টন তালুকদার বিদ্যালয়ের টাকা লুটপাট, ভিলেজ পলিটিক্সসহ নানা অপকর্মে জড়িত। বিদ্যালয়ের কাজ নিয়ে গাফিলতি করেন। তাই এমন ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া সম্প্রতি মাসিক টিউশন ফিসহ অন্যান্য ফি বাড়ানো হয়েছে। ছেলেমেয়েকে পড়াতে গিয়ে খরচের হিসাব মেলাতে পারছেন না। দ্রুত এটির প্রতিকার দাবি করেন তিনি।

একই অভিযোগ তুলে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অর্পিতা মহলীর বাবা অধীর মহলী বলেন, সহকারী প্রধান শিক্ষক মিল্টন তালুকদার দুই বছর আগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেন। তারপর থেকেই অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। এ জন্য শিক্ষা কার্যক্রম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তিনি সব সময় দলাদলিতে ব্যস্ত থাকেন। শিক্ষা ও শিক্ষার্থীসংশ্লিষ্ট কাজ করেন না।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিল্টন তালুকদারের ভাষ্য, তাঁর বিদ্যালয়টি দরিদ্র জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকায় হওয়ায় শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তি পেলে তাদের পড়ালেখা চালিয়ে যেতে উপকার হয়। অনেক ক্ষেত্রে তারাও শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা করেন, বেতন-ফি কম নেন। তিনি দাবি করেন, গত বছর শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির আবেদন করা হলেও সার্ভারের ত্রুটিসহ নানা কারণে তারা উপবৃত্তি পায়নি। এর পরও অনেক শিক্ষার্থীর ফি কম নিয়েছেন। এ বছর সময়মতো ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন করা যায়নি।

তিনি একাধিকবার শিক্ষা বোর্ডে গিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। অবশেষে গত মাসে রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। তাদের বলা হয়েছিল, রেজিস্ট্রেশন হলে উপবৃত্তির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তারা বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ ও আলোচনা করছেন।

তিনি শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি নিয়ে জটিলতার বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে তুলে ধরার অনুরোধ করেন। তবে অনিয়ম ও দুর্নীতির যেসব অভিযোগ উঠেছে, এসব অস্বীকার করেন মিল্টন তালুকদার।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম তালুকদার বলেন, ২০২৬ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির জন্য আবেদন করতে জানুয়ারি মাস থেকেই বিভিন্ন নির্দেশনা ও চিঠিপত্র পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার ফোনেও যোগাযোগ করা হয়েছে। গত জুন মাসে চূড়ান্তভাবে আবেদন জমা দেওয়ার সময়ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে জানানো হয়েছিল যে, তাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তথ্য এখনও এন্ট্রি করা হয়নি। তখন বোর্ডে দ্রুত যোগাযোগ করতে পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কার্যকর উদ্যোগ নেননি।

শিক্ষা কর্মকর্তার ভাষ্য, যেহেতু উপবৃত্তি কার্যক্রম সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক ও নির্ধারিত সময়ে তথ্য এন্ট্রি করতে হয়, তাই এবার আর তাদের অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ নেই। পরের বছরেও এই শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠ শ্রেণির উপবৃত্তির আবেদন করতে পারবে না। তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির সময়। এ বিষয়ে একাধিকবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তিনি বারবার বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন না হওয়ার কথা বললেও কেন সম্পন্ন করা যায়নি, সে বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

টুঙ্গিপাড়ার ইউএনও জহিরুল আলম বলেন, গোপালপুর পঞ্চপল্লী উচ্চ বিদ্যালয়কে ঘিরে অভিযোগের বিষয়ে শুনেছেন। শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জানার পর মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেখানে তুলনামূলক ফি বেশি নেওয়া হচ্ছে, যৌক্তিক পর্যায়ে ফি কমানোর চেষ্টা করবেন। তাঁর ভাষ্য, এ বছরের উপবৃত্তির সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় বঞ্চিতদের জন্য কিছু করার নেই। আগামী বছর যেন তারা সময়মতো উপবৃত্তি পায়, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি জেলা পরিষদ থেকে আর্থিক সহায়তার সুযোগ থাকলে সেই ব্যবস্থার আশ্বাস দেন।

বরিশালে বৃক্ষরোপণ-ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী

বরিশালের গৌরনদী পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর গৌরনদী পৌঁছালে বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ স্থানীয় নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান।

বরিশালের প্রবেশপথ গৌরনদীতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক সড়কের দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে করতালি দিয়ে স্বাগত জানান। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ লেখা লাল-সবুজের বুলেট প্রুফ বাস থেকে প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

প্রধানমন্ত্রীর নিষেধ থাকায় তাঁর ছবি সম্বলিত কোনো স্বাগত তোরণ নির্মাণ করা হয়নি। ছিল না কোনো ব্যানার-ফেস্টুন। এর আগে ভোর ৬টায় গুলশানের বাসা থেকে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বরিশালে বৃক্ষরোপণসহ কয়েকটি কর্মসূচি রয়েছে। কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় তিনি ঢাকায় ফিরবেন।

সফরে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নে নতুন খনন করা সরিকল খালের পাশে বৃক্ষরোপণ এবং ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন তারেক রহমান। এরপর দুপুরে জেলা সদরের ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি সংলগ্ন সাগরদী খালের পাড়ে আরেকটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেলে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত দলের সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বরিশাল বিভাগে এটিই বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর।

স্বপ্নযাত্রার সমাপ্তি, তবু গর্বিত হালান্ড

এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত ফুটবলারদের মধ্যে অন্যতম নরওয়ের আর্লিং হালান্ড। এই ম্যানসিটি স্ট্রাইকারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ভর করেই ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে ওঠে ‘লভেন’ (দ্য লায়ন্স) দল। বাছাইপর্বে ১৬ গোল করার পর টুর্নামেন্টের মূল পর্বেও চলছিল ‘হালান্ড শো’। ২৫ বছরের এই ফুটবলারের অসাধারণ পারফরম্যান্সে ভর করেই নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় নরওয়ে। সেখানেই থেমে থাকেনি স্ক্যান্ডেনেভিয়ান দলটি। হালান্ডের নৈপুণ্যে আইভরি কোস্ট ও ব্রাজিলকে বিদায় করে টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেন কোচ স্টেল সোলবাক্কেনের শিষ্যরা। শনিবার রাতে মিয়ামিতে শেষ চারে ওঠার লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপে হালান্ডদের স্বপ্নযাত্রা থেমে যায়।

অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচটিতে ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় নরওয়ে। এতে গোল্ডেন বুটের লড়াই থেকেও ছিটকে পড়েন টুর্নামেন্টে সাত গোল করা হালান্ড। বিশ্বকাপে হৃদয়ভাঙার গল্প লেখার ম্যাচের পর সাধারণত কোনো দলের বড় খেলোয়াড়রা সংবাদ সম্মেলনে আসেন না। হতাশায় নিজেদের আড়াল করে নেন। কিন্তু এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছিলেন হালান্ড। এই সংবাদ সম্মেলন শেষে হাসিমুখেই বিশ্বকাপকে বিদায় জানান ‘ভাইকিং রাজা’।

তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য স্বপ্নের মতো একটি আসর ছিল। যেটা আমাকে ব্যক্তি হিসেবে বদলে দিয়েছে। আমার মনে হচ্ছে, এ টুর্নামেন্টে আমার প্রোফাইলটা আরও একটু ভারী হয়েছে। বিশ্বকাপের মতো আসরের অংশ হওয়া অসাধারণ অনুভূতির বিষয়। এত দিন শুধু দূর থেকেই বিশ্বকাপ আসর অনুভব করতে অভ্যস্ত ছিলাম। এবার নিজেই এই টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছি। আমি খুবই গর্ব অনুভব করছি। আর আমরা টুর্নামেন্টে যতটা ভালো করেছি, সেটা ভাবতে খুবই ভালো লাগছে। বিশ্বকাপের সাফল্যে নরওয়েতে ঐক্য ও দেশপ্রেমের সুর বেজেছে। আমাদের সঙ্গে দেশবাসীও উল্লাস ও উদযাপনে মেতেছে।’

টুর্নামেন্টে দলের পারফরম্যান্সে সন্তোষ জানিয়ে ভবিষ্যতের দিকেই দৃষ্টি নিবদ্ধ করছেন এই ম্যানসিটি ফরোয়ার্ড, ‘টুর্নামেন্টে আমরা ব্রাজিলের মতো দলকে হারিয়েছি। যদিও আমরা শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের কাছে হেরেছি কিন্তু জয় পেতে ইংল্যান্ডকে ঘাম ঝরাতে হয়েছে। যদিও ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারত। ভবিষ্যতে আমরা আরও বিশ্বকাপ ও ইউরো টুর্নামেন্টে অংশ নেব। আমি মনে করি, এখন ভালো দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কারণ আমাদের ফুটবল প্রজন্মটি অসাধারণ।’ নরওয়ের এই প্রাণভোমরা যোগ করেন, ‘বিশ্বকাপে অংশ নেওয়াটা আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে আমরা আবারও বিশ্বকাপ আসরে নরওয়েকে তুলে আনতে পেরেছি। এটা করতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত। এখন থেকে আমাদের এই মান ধরে রাখতে হবে।’

হালান্ডের মতো স্ট্রাইকারদের আটকানো ইংল্যান্ডের জন্য সহজ বিষয় ছিল না। দীর্ঘদেহী এই ফুটবলারের শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি গোল করার অসাধারণ দক্ষতা রয়েছে। তাই একজনকে দিয়ে শুধু মার্কিংয়ে রেখে ‘গোল মেশিন’ হালান্ডকে আটকে রাখা সম্ভব নয়। এ জন্য পুরো রক্ষণভাগকেই একযোগে কাজ করতে হয়েছে। যেটা মার্ক গ্রুহি ও জন স্টনসরা দারুণভাবেই করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণে পুরো ম্যাচে মাত্র দুবার গোলের সুযোগ সৃষ্টি করতে পেরেছে। তাঁর নেওয়া দুটি হেডের মধ্যে একটি থ্রি লায়ন্স গোলরক্ষক পিকপোর্ড সেভ করেন। অন্য হেডটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এ ছাড়া আটবার বল পায়ে পেয়ে সাতবার সফলভাবে পাস দিতে পেরেছেন। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের বিরতি চলাকালে ক্লান্ত ও বিপর্যস্ত হালান্ডকে মাঠ থেকে তুলে নেন নরওয়ে কোচ।

নরওয়ের বিদায়ের পর হালান্ড কি এখন ইংল্যান্ডকেই সমর্থন দেবেন কিনা যে দলে তাঁর দুজন ম্যানসিটি সতীর্থ খেলছেন। এটি জানতে চাওয়া হলে হালান্ড বলেন, ‘ইংল্যান্ড দলে আমার দুই ম্যানসিটি সতীর্থ খেলছেন সেটা সত্য। এ ছাড়া আমি ইংল্যান্ডে বেড়ে উঠেছি এবং প্রথমে ইংল্যান্ডের শার্টেরই (জার্সি) মালিক হয়েছি। এটা আমার জন্য বিশেষ একটি দেশ। কিন্তু ফ্রান্স ও স্পেন দলেও আমার সতীর্থ আছেন।’

ইংল্যান্ড ম্যাচে জার্সি বদলাতে চায় আর্জেন্টিনা, কারণ কী?

কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। আগামী বুধবার আটলান্টায় সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই এই হাইভোল্টেজ ম্যাচকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নতুন উন্মাদনা। ঐতিহাসিক এই দ্বৈরথের আগে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে একটি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলকে  খুব কাছ থেকে কাভার করা ক্রীড়া সাংবাদিক গ্যাস্তোন এদুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নীল জার্সি পরে খেলার জন্য আবেদন করেছে আর্জেন্টিনা।’ তবে ফিফা এখনও এই অনুরোধে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়নি। এদুল জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার ফিফার পক্ষ থেকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এই অনুরোধের পেছনে রয়েছে ইতিহাসও। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দুটি স্মরণীয় জয়ই এসেছে নীল জার্সিতে। ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’র ম্যাচে আর্জেন্টিনার গায়ে ছিল নীল জার্সি। আবার ১৯৯৮ সালে টাইব্রেকারে ইংল্যান্ডকে বিদায় দেওয়ার ম্যাচেও তারা খেলেছিল একই রঙের জার্সি পরে। বিপরীতে ১৯৬২ ও ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে আকাশি-সাদা জার্সি পরে ইংল্যান্ডের কাছে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। স্বাভাবিকভাবেই, ইংল্যান্ডকে বধ করার সেই ‘টোটকা’ এবারও ফিরিয়ে আনতে চাইছে আর্জেন্টিনা শিবির।

অবশ্য অন্ধ বিশ্বাসকে একপাশে সরিয়ে রাখলে এই অনুরোধের পেছনে একটি যৌক্তিক কারণও রয়েছে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, সেমিফাইনালের এই ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ‘হোম টিম’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সে হিসেবে ইংল্যান্ড তাদের ঐতিহ্যবাহী সাদা জার্সি পরে মাঠে নামবে। আর তাই প্রতিপক্ষ দল হিসেবে আর্জেন্টিনার জন্য প্রথাগতভাবেই ‘অ্যাওয়ে জার্সি’ কিট পরে মাঠে নামাটাই যুক্তিযুক্ত।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বুধবার আটলান্টার সেমিফাইনালে নীল জার্সিতেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামতে দেখা যেতে পারে লিওনেল মেসিদের।

চুক্তির কাছাকাছি ছিলাম, এমন সময় ইরান হঠাৎ জাহাজে হামলা করল: ট্রাম্প

শান্তি প্রচেষ্টায় ব্যাঘাত ঘটানোর জন্য ইরানকে দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, গত শনিবার তারা ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর কাছাকাছি ছিলেন। এমন সময় ইরান হঠাৎ একটি জাহাজে ড্রোন হামলা চালিয়ে সেটি ভেস্তে দেয়।

আজ রোববার সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকার এমন কথা বলেন ট্রাম্প। ইরানি কর্মকর্তাদেরও সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এই লোকগুলোর সমস্যা আছে।’

হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজের ওপর হামলার সমুচিত জবাব ইরান পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ‘গত রাতে আমরা তাদের ওপর কঠোরভাবে হামলা চালিয়েছি’ বলেন ট্রাম্প।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল যে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) হামলার জবাবে তারা ইরানের প্রায় দেড়শ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, ‘বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে আগের হামলার ব্যাপারে জবাবদিহি করার পর সমঝোতা স্মারক মেনে চলার প্রমাণ দেওয়ার জন্য ইরানকে আরো একটি সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা আবারও ব্যর্থ হয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই বিবৃতিটি শেয়ার করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘ইরান একটি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন তাদের এর মূল্য দিতে হবে।’

ব্যাংককের বারে ভয়াবহ আগুন, নিহত অন্তত ২৭

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ-বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও আটজন গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রোববার গভীর রাতে শহরের চাতুচাক জেলার ‘রং বিয়ার না লাত ফ্রাও’ নামের বারে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, মঞ্চের কাছ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো বারজুড়ে আগুন ও ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় আতঙ্কিত লোকজন প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অনেকেই আগুনের মধ্য দিয়েই বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। কারও কারও শরীরের পোশাকেও আগুন ধরে যায়।

খবর পেয়ে মধ্যরাতের কিছু পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন দমকলকর্মীরা। পরে বারের একটি শৌচাগার থেকে অধিকাংশ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ধোঁয়া ও আগুন থেকে বাঁচতে সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন তারা।

প্রাথমিক তদন্তে ব্যাংককের দুর্যোগ প্রশমন বিভাগ জানিয়েছে, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এয়ার কন্ডিশনার) বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চানভিরাকুল জানান, আগুন লাগার সময় মঞ্চে গান পরিবেশন করছিলেন এক সংগীতশিল্পী। তার বর্ণনা অনুযায়ী, বিস্ফোরণের মতো শব্দ শোনার পরই ধোঁয়া ও আগুনে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই বের হতে না পেরে ভবনের পেছনের দিকে গিয়ে শৌচাগারে আশ্রয় নেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে নয়জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী। এ ছাড়া ৬০ জনের বেশি আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন, যাদের মধ্যে আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ব্যাংককের দুর্যোগ প্রশমন বিভাগের পরিচালক সুরিয়াচাই রাভিওয়ান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অধিকাংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে ধোঁয়ায় শ্বাসরোধে। ব্যাংককের গভর্নর চাচার্ত সিত্তিপুন্ত বলেন, বারের ছাদে ব্যবহৃত দাহ্য সজ্জাসামগ্রী আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে ভূমিকা রাখতে পারে। জরুরি নির্গমনপথের কাছে কয়েকজনকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা ওই পথে কোনো বাধা ছিল কি না-সে প্রশ্নও তুলেছে। তবে ফরেনসিক তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এসব বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে না।

সোমবার সকাল পর্যন্ত বারটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ। ভবনের ভেতরের দেয়াল, আসবাব ও ছাদ আগুনে সম্পূর্ণ কালো হয়ে গেছে। বাইরে সারিবদ্ধভাবে রাখা মরদেহের ব্যাগ এবং ধ্বংসস্তূপ অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতার সাক্ষ্য দিচ্ছে।

থাইল্যান্ডে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। ২০২২ সালে ব্যাংককের দক্ষিণে একটি বারে অগ্নিকাণ্ডে ২২ জন নিহত হন। এর আগে ২০০৯ সালের নববর্ষ উদ্‌যাপনের রাতে রাজধানীর একটি নাইটক্লাবে ভয়াবহ আগুনে প্রাণ হারান ৬৬ জন এবং আহত হন দুই শতাধিক মানুষ।

সংসদে অর্থমন্ত্রী ধনী ব্যক্তির কর ফাঁকি রোধে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ধনী ব্যক্তি ও বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কর ফাঁকি রোধে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করছে সরকার। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে ই-রিটার্ন ব্যবস্থা। গতকাল রোববার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন সদস্যের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান তিনি।

নওগাঁ-৩ আসনের সদস্য মো. ফজলে হুদার প্রশ্নে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা না চাপিয়ে ধনী ব্যক্তি ও বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কর ফাঁকি বন্ধে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। করপোরেট করদাতার জন্য খুব শিগগিরই ই-রিটার্ন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে। করদাতার তথ্যভান্ডার সমৃদ্ধ করতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে এপিআই সংযোগের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয়ের কাজ চলছে। কোন খাত থেকে কত কর আসা উচিত, তা নির্ধারণে ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষা ও অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। অনলাইনে উৎসে কর কাটার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি ইচ্ছাকৃত কর ফাঁকিদাতার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

গাজীপুর-৫ আসনের সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনের প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপে ২০২৫ সালের অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ১৭ শতাংশে নেমে এলেও আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজারের প্রভাবে চলতি বছরের মে মাসে তা বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অতিরিক্ত চাহিদাজনিত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে জোগান সংকট কাটিয়ে উৎপাদন বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা আসবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্য থেকে, বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে বাজারভিত্তিক নমনীয় বিনিময় হার ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে।

নতুন উদ্যোক্তা পাবেন বিনা জামানতে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ

কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সদস্য মো. মাহবুবুল আলমের প্রশ্নে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, নতুন উদ্যোক্তার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। এই তহবিল থেকে নতুন উদ্যোক্তারা বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ১০ লাখ টাকা এবং জামানত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। স্টার্টআপ উদ্যোক্তার জন্য ৫০০ কোটি টাকার আলাদা পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে, যেখান থেকে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়া যাবে। পাশাপাশি ৩৯টি তপশিলি ব্যাংকের অংশীদারিত্বে গঠিত বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানির মাধ্যমে ইকুইটি সহায়তাও দেওয়া হবে।

সরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১,৮৮,৭০১ কোটি টাকা

সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত ৩১ মে পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল এক লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ কমাতে নতুন রেজল্যুশন কৌশল, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ক্রেডিট রিস্ক ব্যবস্থাপনা, জামানত মূল্যায়নের নতুন ব্যবস্থা এবং ঋণ পুনরুদ্ধারে কর্মকর্তাদের জন্য প্রণোদনা চালুর উদ্যোগ রয়েছে।

মুজিববর্ষ উদযাপনে খরচ ৯৮৩ কোটি টাকা

মো. মাহবুবুর রহমানের প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী জানান, মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে জেলা-উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচি, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও বেদি নির্মাণ, সরকারি অফিসে ব্রোঞ্জ, তামা ও মার্বেল পাথরের ভাস্কর্য নির্মাণ, রাষ্ট্রীয় সময় গণনার ডিজিটাল বোর্ড স্থাপনসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের মোট খরচ হয়েছে ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ টাকা। এ-সংক্রান্ত ব্যয়ের বিস্তারিত বিবরণও সংসদে উপস্থাপন করেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী আরও বলেন, আগের প্রধানমন্ত্রীর এক বছরে খাওয়া-দাওয়ার খরচ হয়েছে ৩৫ কোটি টাকা। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ব্যয়ের সঙ্গে আগের প্রধানমন্ত্রীর ব্যয়ের তুলনা টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি শুধু একটি খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এ ধরনের আরও অনেক ব্যয় রয়েছে।

ব্যাংক খাতের লুটপাটের তদন্ত চলছে

গাজীপুর-৪ আসনের সদস্য সালাহউদ্দিন আইউবীর সম্পূরক প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, যারা দেশের টাকা লুটপাট করে বিদেশে পালিয়েছেন, তাদের বিষয়ে সরকার কোনো আপস করবে না। অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তদন্ত চলছে এবং সম্পত্তি ক্রোকের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

টেলিটক বিক্রির পরিকল্পনা নেই

মোবাইল অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের নেটওয়ার্কের পরিধি বাড়াতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। গতকাল শেখ মো. আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নে মন্ত্রী আরও বলেন, টেলিটক বিক্রির পরিকল্পনা সরকারের নেই।

নতুন বেতন কাঠামোর প্রভাব জানতে চেয়েছে আইএমএফ

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে গতকাল রোববার সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে অর্থ বিভাগ। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মাস থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের কথা রয়েছে। এ জন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে কত ধাপে এবং কী পরিমাণে বাস্তবায়ন হবে, তা মন্ত্রিপরিষদ নির্ধারণ করবে।

অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, এ বিষয়ে আইএমএফ কোনো মতামত দেয়নি। বরং বাজেট বাস্তবায়নে এর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। এদিকে গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু আইএমএফের সঙ্গে আগের সরকারের নেওয়া ঋণ কর্মসূচিকে ‘সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী’ বলে মন্তব্য করেন।

গতকাল আইএমএফের বাংলাদেশ মিশনপ্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক শুরু করে। দিনব্যাপী আটটি বৈঠকের সূচি থাকলেও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের জানাজায় অংশ নিতে যাওয়ায় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকটি বাতিল হয়।

দিনের শুরুতে প্রতিনিধি দল অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সঙ্গে বৈঠক করে। পরে অর্থ বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সামষ্টিক অর্থনীতি, বাজেট এবং সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।

অর্থমন্ত্রী সংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের মূল চিন্তা ঋণ পাওয়া নয়, দেশের স্বার্থ রক্ষা করা। দেশের মানুষের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে আইএমএফের সঙ্গে কোনো কর্মসূচিতে সরকার যাবে না।’ তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত সরকার হিসেবে জনগণ ও দেশের অর্থনীতির স্বার্থ সুরক্ষাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাই নতুন কর্মসূচির প্রতিটি শর্তে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ শতভাগ সংরক্ষিত থাকবে।

সরকার তিন বছর মেয়াদি নতুন কর্মসূচির আওতায় ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার আশা করছে। এ অর্থ সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বৈদেশিক অর্থায়নের চাপ মোকাবিলায় ব্যবহার করা হবে। এ লক্ষ্যে গত ৯ জুন অর্থমন্ত্রী আইএমএফকে চিঠি দিয়ে জানান, আগের কর্মসূচি গ্রহণের সময়কার অর্থনৈতিক বাস্তবতা বদলে গেছে। রাজনৈতিক অর্থনীতি, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও নতুন চ্যালেঞ্জের কারণে কিছু সংস্কার বাস্তবায়ন কঠিন হলেও সরকার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে সংস্কার এগিয়ে নিতে চায়।

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগ সরকার আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি করে, যা ২০২৫ সালের জুনে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। ওই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ পাঁচ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলার পেলেও ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ ছাড় না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষের সম্মতিতে কর্মসূচি বাতিল হয়।

গতকালের বৈঠকে মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো, রাজস্ব আহরণ, ভর্তুকি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়ন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের ব্যয় বিষয়েও আলোচনা হয়।