Home Blog Page 32

শেয়ারবাজার বড় পতনে সপ্তাহ শুরু

পতনের ধারা দেশের শেয়ারবাজারে। আগের সাত কর্মদিবসের মধ্যে ছয় দিন পতন হয়। বড় দর পতনে চলতি সপ্তাহের লেনদেন শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ৮৪ শতাংশ শেয়ার দর হারিয়েছে। এতে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স প্রায় ৬৪ পয়েন্ট হারিয়ে ৫৭২২ পয়েন্টে নেমেছে। এ নিয়ে সর্বশেষ আট কর্মদিবসে সূচকটি হারাল ১৮১ পয়েন্ট।

গত বৃহস্পতিবার ডিএসইএক্স সূচক লেনদেনের পুরো সময়ে আগের দিনের তুলনায় কমবেশি ঊর্ধ্বমুখী ছিল। গতকালসহ বাকি সাত দিনের প্রতিদিন শুরুর দিকে ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা যায়। তবে শেষ পর্যন্ত পতনে লেনদেন শেষ হয়, যার ব্যতিক্রম গতকালও হয়নি।

গতকাল সকাল ১০টায় যথারীতি ঊর্ধ্বমুখী ধারায় লেনদেন শুরু হয়। এতে প্রথম ১০ মিনিটে সূচক ২৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫৮১৪ পয়েন্ট ছাড়ায়। এরপর দর পতন শুরু হলে সূচকও কমে। লেনদেন শেষ হওয়ার ৫ মিনিট আগে সূচকটি দিনের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ৯৮ পয়েন্ট হারিয়ে ৫৭১৫ পয়েন্ট পর্যন্ত নামে।

বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা বলেন, একদিকে ব্যাপক শিথিলতাসহ মার্জিন ঋণ বিধিমালা সংশোধন হয়েছে। অন্যদিকে একটু একটু করে কমছে ট্রেজারি বিল-বন্ডের সুদহার। এ ধরনের পরিস্থিতিতে শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার কথা। কিন্তু ঘটছে উল্টো।

এর কারণ ব্যাখ্যায় তারা জানান, দেশে কয়েক সপ্তাহ ধরে গ্যাসের সংকট তীব্র চলছে। সরকারও দ্রুত সমাধান করতে পারবে না বলে জানিয়েছে। গ্যাস সংকটে অনেক কলকারখানা ঠিকমতো উৎপাদন করতে পারছে না। রোববার তালিকাভুক্ত ফু-ওয়াং ফুড কোম্পানি গ্যাস সংকটের কারণ দেখিয়ে ‘লে-অফ’ ঘোষণা করেছে। স্বাভাবিকভাবে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের ওপর এ অবস্থার প্রভাব থাকতে পারে।

বাজার সূত্র জানায়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নতুন নেতৃত্ব আগে থেকে চলে আসা নানা অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে পদক্ষেপ নিচ্ছে। স্টক এক্সচেঞ্জও সক্রিয়। এর ফলে বাজারে জুয়াড়ি চক্র এবং কারসাজিকে উৎসাহিত করে– এমন পক্ষের লেনদেন কমেছে। এতে বাজারে হঠাৎ করে শেয়ার চাহিদা কমেছে। এর বড় প্রভাব আছে।

গতকাল যেখানে দুই শতাধিক কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধি দিয়ে দিনের লেনদেন শুরু হয়েছিল, সেখানে ২৯৯ কোম্পানির শেয়ারদর হ্রাসের মধ্যে লেনদেন শেষ হয়। দর বেড়েছে মাত্র ২৮ কোম্পানির শেয়ারের, অপরিবর্তিত থেকেছে ২২টির। খাতওয়ারি লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এমন একটি খাতও ছিল না, যার সিংহভাগ শেয়ার দর হারায়নি। আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত গড়ে আড়াই শতাংশ হারে দর হারিয়েছে। বীমা খাতের গড় দর কমেছে ২ শতাংশের বেশি। সর্বাধিক বাজার মূলধনি খাত ব্যাংক খাত ১ শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে।

দর পতনের মধ্যে শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। ডিএসইতে গতকাল ৩৯ কোটি টাকা বেড়ে ৭১১ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রির তুলনায় কিনেছেন বেশি। ৭১১ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রির মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশ ছিল ৫ দশমিক ৯২ শতাংশ। একই পরিমাণ টাকার শেয়ার ক্রয়ে তাদের অংশ ছিল ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এদিন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা কেনার তুলনায় বিক্রি করেছেন বেশি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে বাড়ছে ওষুধ উৎপাদন খরচ

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ায় দেশে ওষুধ উৎপাদনের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে কারখানায় জেনারেটর ও বড় ইউপিএস চালাতে হচ্ছে। গ্যাসের সংকট থাকায় জেনারেটরের জন্য নির্ভর করতে হচ্ছে ডিজেলের ওপর। এতে উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়ছে। এভাবে জ্বালানি ব্যয় বাড়তে থাকলে একপর্যায়ে উৎপাদন খরচ সমন্বয়ে ওষুধের দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় থাকবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির (বাপি) মহাসচিব হালিমুজ্জামান।

আজ সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাপি কার্যালয়ে মালিক সমিতি ও বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) আয়োজনে ‘ওষুধ শিল্পের অগ্রগতি: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

হালিমুজ্জামান বলেন, ওষুধশিল্পের জন্য জ্বালানি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমানে বিদ্যুৎ ও ডিজেল দুই ক্ষেত্রেই শিল্পটি সমস্যায় পড়ছে। কারখানা চালানোর সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ১৫ টাকা ছিল বিদ্যুতের সরকারি রেট। আমার ফ্যাক্টরির হিসাবে এখন আসছে ৪২ টাকা। ১৫ টাকার জায়গায় ৪২ টাকা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ গেলে উৎপাদন বন্ধের সুযোগ নেই

ওষুধশিল্পের সঙ্গে অন্যান্য শিল্পের বড় পার্থক্য রয়েছে উল্লেখ করে বাপি মহাসচিব বলেন, ওষুধের উৎপাদনপ্রক্রিয়া একবার শুরু হলে তা মাঝপথে বন্ধ করা যায় না। বিদ্যুৎ চলে গেলে উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এ কারণে কারখানাগুলোকে ব্যাকআপ হিসেবে জেনারেটর ও বড় ইউপিএস চালাতে হয়। গ্যাসের সংকট থাকায় জেনারেটর চালাতেও ডিজেলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের ডিজেল মজুতের সক্ষমতাও পর্যাপ্ত নয়। ফলে ট্যাংক শেষ হয়ে গেলে দ্রুত ডিজেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়।

বাড়ছে মান নিয়ন্ত্রণের খরচও

ওষুধের দাম নির্ধারণে শুধু জ্বালানি খরচ নয়, কাঁচামাল, মান নিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সংরক্ষণ এবং গবেষণা ও উন্নয়নসহ (আরঅ্যান্ডডি) বিভিন্ন খরচ যুক্ত রয়েছে বলে জানান হালিমুজ্জামান।

তিনি বলেন, ২০ বছর আগে গুডস স্ট্যান্ডার্ড প্র্যাকটিস (জিএসপি) অনুযায়ী পাঁচটি পরীক্ষা করতে হতো। এখন পরীক্ষার সংখ্যা বেড়ে আটটি হয়েছে। আগে অনেক ধরনের ইমপিউরিটি বা অমেধ্য সম্পর্কে জানা ছিল না। এখন কোনো কোনো ওষুধে ১৮ থেকে ২০ ধরনের ইমপিউরিটি শনাক্ত করতে হয়। এসব পরীক্ষা করতে প্রয়োজনীয় রেফারেন্স স্ট্যান্ডার্ডের খরচও অনেক বেশি। ফলে ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণে ব্যয় বাড়ছে।

উৎপাদনের পরও চলতে থাকে ব্যয়

ওষুধ উৎপাদনের পরও দীর্ঘ সময় ধরে নমুনা সংরক্ষণ ও নিয়মিত পরীক্ষা করতে হয়। কোনো ওষুধ বাজারে চাহিদা হারালেও নির্ধারিত শেলফ লাইফ পর্যন্ত এর নমুনা সংরক্ষণ করতে হয়। এমনকি মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নমুনা রেখে নিয়মিত পরীক্ষা করতে হয়। এসবের পেছনেও ব্যয় হয়।

হালিমুজ্জামান আরও বলেন, ‘এনার্জি ওয়ান অব দেম, যেটা আমরা চোখে দেখছি। আর বাকি যেগুলো আছে, সেটা আমরা এখন চোখে দেখছি না। আমরা বুঝতেও পারছি না, ওই খরচ আসলে কত।’

গবেষণায়ও বাড়ছে ব্যয়

আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ উৎপাদনে গবেষণা ও উন্নয়ন খাতেও আগের তুলনায় বেশি ব্যয় হচ্ছে বলে জানান বাপি মহাসচিব। আধুনিক ওষুধ উৎপাদনে এখন আরও বেশি বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন হচ্ছে। সব মিলিয়ে জ্বালানি, কাঁচামাল, মান নিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সংরক্ষণ এবং গবেষণা ও উন্নয়ন প্রতিটি খাতেই ব্যয় বাড়ছে। এর মধ্যে জ্বালানি ব্যয় দ্রুত বাড়ায় তা সরাসরি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মুনাফায় চাপ তৈরি করছে।

হালিমুজ্জামান বলেন, ‘এই সবগুলিই আসলে ওষুধের উৎপাদন খরচ। তবে এটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এর মধ্যে জ্বালানির খরচও যদি এভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে তা অবশ্যই আমাদের মুনাফার ওপর প্রভাব ফেলবে।’

তিনি বলেন, জ্বালানির বাড়তি ব্যয় দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকলে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তা নিজেদের মুনাফা থেকে বহন করা কঠিন হবে। তখন উৎপাদন খরচ সমন্বয় করতে ওষুধের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।

১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া বিচারকের বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নিলেন হাইকোর্ট নুসরাত হত্যা মামলা

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আদেশটি যথাযথ ছিল না। ওই মামলায় ফেনী জজ কোর্টের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ যথাযথভাবে বিচারিক মানসিকতা প্রয়োগ করেননি- পর্যবেক্ষণে এমন অভিমত দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফৌজদারি মামলার বিচারকাজ থেকে তাঁকে সরিয়ে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার আপিলের রায় ঘোষণার সময় এ আদেশ দেন বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। এই মামলায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) এবং আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। খালাস পেয়েছেন ১০ আসামি। মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা দুই আসামি হলেন, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম।

২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর আলোচিত এই মামলাটির রায় দিয়েছিলেন নিম্ন আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদ। রায়ে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য মামলার সব নথি হাইকোর্টে আসে। পরে আসামিরা জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল করেন।

নুসরাতকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা করেন তাঁর মা শিরীন আখতার। এ মামলার পর অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর তাঁর অনুগত কয়েকজন জনমত গঠন করে তাঁকে কারাগার থেকে বের করে আনার চেষ্টা করে। ৩ এপ্রিল অভিযুক্ত খুনিরা কারাগারে সিরাজের সঙ্গে পরামর্শ করে। ৪ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ৬ এপ্রিল নুসরাত আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে তাঁকে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। সেখান থেকে নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছর ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত। এ ঘটনায় তাঁর ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান হত্যা মামলা করেন।

ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্যরা হলেন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।

নুসরাত হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্সের জন্য রায়সহ নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসে পৌঁছায়, যা ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সের জন্য পেপারবুক তৈরি করা হয়। আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।

কারিনা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুঞ্জন, সত্যিটা জানিয়ে দিলেন সাবা

বলিউড অভিনেত্রী কারিনা কাপুরের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর তা উড়িয়ে দিয়েছেন তাঁর স্বামী সাইফ আলি খানের বোন সাবা আলি খান। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওর ভুল ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল থেকেই এই জল্পনার শুরু বলে দাবি করেছেন তিনি।

সম্প্রতি বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় কারিনার হাঁটার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি দেখে কয়েকজন নেটিজেন দাবি করেন, কারিনার পেটে নাকি সন্তানসম্ভবা হওয়ার মতো আভাস দেখা যাচ্ছে। এরপরই তাঁর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

তবে সাইফের বোন সাবা সেই ভিডিওটি নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করে গুঞ্জনের জবাব দেন। তিনি জানান, একটি ভুল অ্যাঙ্গেলের কারণে মানুষ এমন ধারণা করছেন।

কারিনা কাপুর ও সাবা আলি খান। ছবি: সংগৃহীত

কারিনা কাপুর ও সাবা আলি খান। ছবি: সংগৃহীত

সাবা লেখেন, ‘খারাপ অ্যাঙ্গেলের দিন! কীভাবে সবাই এত বড় সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেলেন? তিনি বিমানবন্দর থেকে বের হয়েছেন, দেখতে বেশ স্টাইলিশ, পরিপাটি ও স্লিম ছিলেন। আর আজ জিম থেকেও বের হয়েছেন। ব্যস, এটুকুই!’

এরপর ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে জল্পনা না করার অনুরোধ জানিয়ে সাবা লেখেন, ‘আমি তো আমার বোন সোহা আলি খানকে দ্বিতীয় সন্তান নেওয়ার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করছি। ইশ, যদি সত্যি হতো! এটা বলার জন্য ও আমাকে মেরে ফেলবে! সবাই নিজের মতো থাকুন, অন্যকেও নিজের মতো থাকতে দিন। কিছু বিষয় ব্যক্তিগতই থাকুক। কোনো জল্পনার প্রয়োজন নেই।’

কারিনার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর এরই মধ্যে তার টিমও অস্বীকার করেছে। ‘এইচটি সিটি’-কে কারিনার টিম জানিয়েছে, ‘কারিনা অন্তঃসত্ত্বা নন। এটি সত্য নয়।’

কারিনা কাপুর। ছবি: ইন্সটাগ্রাম

কারিনা কাপুর। ছবি: ইন্সটাগ্রাম

কারিনা ও সাইফ আলি খানের দুই ছেলে—তৈমুর আলি খান ও জেহ আলি খান। অন্যদিকে সাবার বোন সোহা আলি খান ও অভিনেতা কুনাল খেমুর একমাত্র মেয়ে ইনায়া।

কাজের দিক থেকে কারিনা কাপুরকে সামনে দেখা যাবে পরিচালক মেঘনা গুলজারের ‘দায়রা’ সিনেমায়। এতে তার সঙ্গে অভিনয় করছেন পৃথ্বীরাজ সুকুমারন। সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত এই সিনেমায় অপরাধ, বিচার ও শাস্তির পাশাপাশি কোনো আলোচিত ঘটনা নিয়ে জনমত কীভাবে মানুষের ধারণাকে প্রভাবিত করে, সেই বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। সিনেমাটি কারিনার প্রধান চরিত্রে অভিনীত ৬৮তম চলচ্চিত্র। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা রয়েছে।

ফিফা আসিয়ান কাপে খেলবে বাংলাদেশ

০

আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের সামনে এক সুবর্ণ সুযোগ এসে গেছে। প্রথমবারের মতো আয়োজিত ফিফা আসিয়ান কাপে অংশ নিতে যাচ্ছেন হামজা-শমিতরা। মূলত এই টুর্নামেন্টে ভারতের খেলার কথা থাকলেও তারা নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় তাদের পরিবর্তে বাংলাদেশকে এই প্রতিযোগিতায় অংশ করার সুযোগ আসে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) তাদের জাতীয় দল কমিটির জরুরি সভায় এই ঐতিহাসিক আমন্ত্রণ সানন্দে গ্রহণ করে। ফিফা ও আয়োজকদের পক্ষ থেকেও বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সম্মতি জানিয়েছে বলে গতকাল শনিবার বাফুফের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ফিফার সরাসরি তত্ত্বাবধানে ও অর্থায়নে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ায় এই টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ভারতের ফুটবল ফেডারেশন সেপ্টেম্বর উইন্ডোতে ব্রাজিলের বিপক্ষে একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আসিয়ান কাপ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়। এর পরপরই ফিফা এবং টুর্নামেন্ট আয়োজকরা বাংলাদেশকে খেলার প্রস্তাব দিলে বাফুফের সভাপতি ও কমিটির সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে তাতে ইতিবাচক সাড়া দেন।

টুর্নামেন্টের গ্রুপিং অনুযায়ী বাংলাদেশ শক্তিশালী ‘এ’ গ্রুপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এই গ্রুপে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের বাকি তিন প্রতিপক্ষ হলো–আয়োজক ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুর। নভেম্বরে ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে তাকা আসিয়ান দলগুলোর বিপক্ষে এমন প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলা বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি, দলীয় আত্মবিশ্বাস ও খেলোয়াড়দের পারস্পরিক সমন্বয় বাড়াতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ দলকে কোনো আর্থিক খরচ বহন করতে হবে না। বিমান ভাড়া থেকে শুরু করে আবাসন–সব খরচই আয়োজকরা দেবে।  এছাড়া টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন ও সেমিফাইনালিস্টদের জন্য কোটি টাকার আকর্ষণীয় প্রাইজমানির ব্যবস্থাও রয়েছে।

‘স্ট্রংম্যান’ মোদি জেন-জিদের জন্য রিল বানাচ্ছেন কেন?

দীর্ঘদিন ধরে ‘স্ট্রংম্যান’ ভাবমূর্তি ধরে রাখা এবং মেপে মেপে বক্তব্য দেওয়া ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখন তরুণদের আকৃষ্ট করতে ইনস্টাগ্রাম রিলের ওপর জোর দিচ্ছেন। সম্প্রতি তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে বেশ ক্যাজুয়াল বা অনানুষ্ঠানিক শৈলীতে উপস্থিত হতে দেখা যাচ্ছে তাঁকে।

বিবিসির খবর বলছে, এক মাস আগেও মোদির সামাজিক মাধ্যম হ্যান্ডেলগুলোতে অত্যন্ত ভেবেচিন্তে তৈরি কনটেন্ট পোস্ট করা হতো। তবে সম্প্রতি সেখানে ‘গেট রেডি উইথ মি’ ধরনের ট্রেন্ডিং ভিডিও, সেলফি স্টাইল রিল এবং তরুণদের ‘ফ্রেন্ডস’ সম্বোধন করার মতো ক্যান্ডিড রিল দেখা যাচ্ছে। এমনকি সম্প্রতি দিল্লিতে একটি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার বংশে আমিই প্রথম যে রকেট, চিপ এবং ড্রোন তৈরি করেছি।’

মূলত এই গঠনের বক্তব্য দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে প্রচলিত। সংবাদমাধ্যম বলছে, ১০ কোটির বেশি ফলোয়ার নিয়ে মোদি ইনস্টাগ্রামের অন্যতম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ২০১৪ সালে ডিজিটাইজেশনকে হাতিয়ার করে ক্ষমতায় এলেও, বিজেপির মূল যোগাযোগ কৌশলে এই ধরনের হালকা মেজাজের কনটেন্ট আগে দেখা যায়নি।

কৌশল পরিবর্তনের নেপথ্যে 
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে গড়ে ওঠা সাম্প্রতিক আন্দোলন ভারতের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়েছে। মিম, লাইভস্ট্রিম ও রিল-নির্ভর এই ডিজিটাল আন্দোলন রাজপথের শক্তিতে পরিণত হয় এবং এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদত্যাগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এতে করে নরেন্দ্র মোদি সামাজিক মাধ্যমের শক্তি ও তরুণদের আগ্রহের বিষয়ে সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠেন।

তাছাড়া জনশুমারি অনুযায়ী, ভারতের জনসংখ্যার ৬০ শতাংশের বেশি মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের নাগাদ ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী জেন-জি প্রজন্ম সবচেয়ে বড় ভোটার ব্লকে পরিণত হবে। তাই এই প্রজন্মের ভোট বিজেপির জন্য প্রয়োজন।

তরুণদের প্রতিক্রিয়া
তবে মোদির এই কৌশল পরিবর্তন নিয়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সম্প্রতি আন্দোলনের মধ্যে প্রকাশিত মোদির সেলফি ভিডিও রিলে ‘ফ্রেন্ডস’ সম্বোধনের পর কয়েক মুহূর্তের নীরবতা নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক ট্রল। পরে অবশ্য মোদির সোশ্যাল মিডিয়া টিম আলো ও ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল পরিবর্তন করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে।

অনেকে মোদির উদ্যোগের প্রশংসা করলেও, ২২ বছর বয়সী জিনি মালিয়ার মতো অনেক তরুণ মনে করেন, জেন-জিদের ভাষায় কথা বলা হলেও মূল রাজনৈতিক উদ্বেগগুলো এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইনস্টাগ্রামে রাজনৈতিক ন্যারেটিভ নিয়ন্ত্রণ করা এক্স বা হোয়াটসঅ্যাপের মতো সহজ নয়। কারণ, অ্যালগরিদমের কারণে এটি সম্পূর্ণই প্রতিক্রিয়াকেন্দ্রিক। তারা বলছেন, ইনস্টাগ্রামে কনটেন্টের পারফরম্যান্স যাই হোক না কেন, বিজেপির মাঠ পর্যায়ের সাংগঠনিক শক্তি ও নির্বাচন জয়ের কৌশল এখনও সেকেলে।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের জবাবে কানাডার পাল্টা শুল্ক আরোপ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের জবাবে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত, ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন পণ্যে সমপরিমাণ শুল্ক বসাবে দেশটি। শনিবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এ ঘোষণা দেন।

এর আগে শুক্রবার রাতে কয়েক দিন ধরে চলা নিবিড় আলোচনার পরও যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা কোনো বাণিজ্যচুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। এর পরই কানাডীয় পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে দীর্ঘদিনের মিত্র ও প্রধান বাণিজ্য অংশীদার দুই দেশের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার মধ্যে বিদ্যমান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের আওতায় পড়েছে কানাডার ওয়াইন, আসবাবপত্র, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক, মাছ ধরার ছিপ ও হকি সরঞ্জামসহ বিভিন্ন পণ্য। এর ফলে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের কানাডীয় রপ্তানি পণ্য শুল্কের আওতায় আসবে। এত দিন উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় কানাডার অধিকাংশ পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়ে আসছিল।

অটোয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে কার্নি বলেন, কানাডার শ্রমিক, কৃষক, পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্কের সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত নতুন শর্তগুলো কানাডার জন্য অর্থনৈতিকভাবে অন্যায্য এবং গ্রহণযোগ্য নয়।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি সামগ্রী, কৃষি সরঞ্জাম, মণ্ড ও কাগজ এবং ইলেকট্রনিকস পণ্যে শুল্ক আরোপ করবে। যুক্তরাষ্ট্র আগে যেসব কানাডীয় পণ্যে শুল্ক বসিয়েছিল, তার কয়েকটির ক্ষেত্রেও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আগামী কয়েক দিনের মধ্যে জানানো হবে।

কার্নি বলেন, আলোচনার শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু নতুন শর্ত দিয়েছিল, যা কানাডার অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। এর মধ্যে কানাডার ভবিষ্যতে নতুন বাণিজ্যচুক্তি করার সক্ষমতা সীমিত করার বিষয়ও ছিল।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেছেন, কানাডার পাল্টা শুল্কের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। কানাডার সামনে আরও ভালো একটি বাণিজ্যচুক্তির সুযোগ ছিল, কিন্তু দেশটি তা গ্রহণ করেনি। নতুন করে কানাডার সঙ্গে আলোচনার কোনো পরিকল্পনা নেই।

কানাডা তার মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর নির্ভরশীল। দেশটির মোট যুক্তরাষ্ট্রগামী রপ্তানির প্রায় ৫ শতাংশ নতুন শুল্কের আওতায় পড়বে। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর প্রভাব কানাডার নরম কাঠ ও ওয়াইনসহ কিছু শিল্পে বেশি পড়তে পারে। এতে কর্মসংস্থান কমার পাশাপাশি কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পগুলোর জন্য আগামী সপ্তাহে সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণার কথা জানিয়েছেন কার্নি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন বাণিজ্য ও সামরিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পেছনে গাড়ি শিল্পের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কানাডা চেয়েছিল হালকা যানবাহনের জন্য প্রস্তাবিত শুল্ক সুবিধা মাঝারি ও ভারী ট্রাকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হোক। যুক্তরাষ্ট্র এতে সম্মতি না দেওয়ায় কানাডায় উৎপাদিত কয়েকটি বড় ট্রাক মডেল সুবিধার বাইরে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

এ ছাড়া কানাডার সংস্কৃতি, ভাষা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রস্তাব নিয়েও আপত্তি ছিল বলে জানিয়েছেন কার্নি। তবে এসব প্রস্তাবের বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি।

কানাডার পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত চুক্তিটি কানাডার গাড়ি, ইস্পাত ও উৎপাদন খাতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারত।

এদিকে প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিয়েরে পোইলিভ্রে বলেছেন, কানাডার কর্মসংস্থান ও ব্যবসা রক্ষায় দেশটির জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

খেলাপি ঋণ ঘোষণার সময়সীমা ১২ মাস করার দাবি বিকেএমইএ’র

বর্তমান জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিতে খেলাপি ঋণ হিসেবে ঘোষণার সময়সীমা বর্তমান ৬ মাস থেকে বাড়িয়ে ১২ মাস করার দাবি জানিয়েছে তৈরি পোশাকের নিট ক্যাটেগরির পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিকেএমইএ।

আজ শনিবার পোশাক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এক মতবিনিময় সভা থেকে এরকম ৫টি দাবি তুলে ধরা হয়েছে। বিকেএমইএর নারায়ণগঞ্জ অফিসে ওই জোনের সদস্যদের নিয়ে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এতে সভাপতিত্ব করেন।

সংগঠনের অন্য দাবির মধ্যে রয়েছে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে কিস্তির সুবিধা দেওয়া। বিকেএমইএ বলেছে, বর্তমান সংকটে সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো অবর্ণনীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। প্রায় এক মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠানই গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়েছে। তাই, নিয়মিত বকেয়ার পাশাপাশি জুন ও জুলাই মাসের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল আগামী ১২ মাসে কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধের সুযোগ চান তারা। তাদের অন্য দাবির মধ্যে রয়েছে সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা। অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা। ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়িতে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখা।

নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি জানানো। বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে গ্রাহকদের অবহিত করার দাবি জানানো হয়। এতে গ্রাহকরা পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারবেন এবং অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা পাবেন।

এছাড়া, অবিলম্বে গ্যাসের সব ধরনের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এতে একদিকে গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে সিস্টেম লসও কমে আসবে।

বেসরকারি খাতে বিদেশি উৎসের ঋণেও ধীরগতি

বেসরকারি খাতে অভ্যন্তরীণ উৎসে ঋণপ্রবৃদ্ধি কমে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। দীর্ঘদিন একই জায়গায় স্থির হয়ে আছে স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ। বিদেশ থেকে যে পরিমাণ ঋণ আসছে পরিশোধ হচ্ছে তার বেশি।
আশানুরূপ বিনিয়োগ না হওয়া, রপ্তানি কমে যাওয়া, টাকার দরপতন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমাসহ বিভিন্ন কারণে ঋণের চাহিদা কমে গেছে; যার প্রভাবে বেসরকারি খাতে বার্ষিক ঋণপ্রবৃদ্ধি কমে প্রথমবারের মতো গত জুনে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে নেমেছে। দেশি উৎসের পাশাপাশি বিদেশি উৎসের ঋণেও একই পরিস্থিতি।

মূলধনি পণ্য ও শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানির জন্য স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেন ব্যবসায়ীরা। সাম্প্রতিক সময়ে বিনিয়োগ সেভাবে বাড়ছে না। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ডলার দরে অস্থিরতা ছিল। এখন দুটি ক্ষেত্রে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বিদ্যুৎ-গ্যাস, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। এসব কারণে সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও রপ্তানিতে ধীরগতি রয়েছে। সুদসহ ঋণস্থিতি দীর্ঘদিন একই রকম কিংবা আগের তুলনায় কমে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন শেষে স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণের স্থিতি সামান্য কমে এক হাজার ২৫ কোটি ডলারে নেমেছে। গত এপ্রিলে যা ছিল এক হাজার ৩৩ কোটি ডলারে। চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ছিল এক হাজার ৪৭ কোটি ডলার।

স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ বেশি আসে করোনা-পরবর্তী ডলার সংকট শুরুর পর। ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে স্বল্পমেয়াদি ঋণ প্রায় ৬৫ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৫৪৬ কোটি ডলারে ওঠে। পরের বছর আরও বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৬৪২ কোটি ডলারে। তবে পরে ডলারের দরে ব্যাপক ওঠানামার পর ব্যবসায়ীরা আবার ঋণ কমাতে শুরু করেন। ২০২৩ সাল শেষে এ ঋণ কমে এক হাজার ১৭৯ কোটি ডলারে নেমে যায়। ২০২৪ সাল শেষে আরও কমে নেমে আসে এক হাজার ১৩ কোটি ডলারে।

বিশিষ্ট ব্যাংকার ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুল আমিন সমকালকে বলেন, বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানির বিপরীতে কাঁচামাল, মূলধনি পণ্যে আমদানির জন্য এ ধরনের সাপ্লায়ার্স ও বায়ার্স ক্রেডিট নেন ব্যবসায়ীরা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে খুব গতি না থাকায় হয়তো এ ধরনের ঋণ কমছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লে আবার দেখা যাবে মূলধন যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল আমদানি বেড়ে সামগ্রিকভাবে ঋণের প্রয়োজনীয়তা বাড়বে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরিতে সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। বন্ধ কারখানা সচলসহ অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনতে কম সুদে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারিশিল্পের জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, পেট্রোবাংলা, রাসায়নিক শিল্প করপোরেশন, চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের মতো সরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানও স্বল্পমেয়াদি ঋণ নিয়ে থাকে। তবে সেই তথ্য এখানে যুক্ত করা হয় না। স্বল্পমেয়াদি ঋণের বাইরে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বিভিন্ন খাতে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নেওয়া হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে কারখানা পরিধি বাড়ানোর জন্যও উদ্যোক্তারা সেভাবে ঋণ নিচ্ছেন না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এখন এ ধরনের ঋণে কিছুটা নিরুৎসাহিত করছে। সব মিলিয়ে স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ বাড়ছে না। স্বল্পমেয়াদি ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার কী হবে তা ঠিক করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। গত মে মাসে সর্বোচ্চ সুদহারের সীমা কমানো হয়। সব ধরনের খরচসহ এখন সিকিউরড ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেটের (এসওএফআর) সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ যোগ করে এ ধরনের ঋণ নিতে পারেন ব্যবসায়ীরা। আগে এসওএফআরের সঙ্গে যোগ করা যেত ৪ শতাংশ।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে গত মার্চ পর্যন্ত বিদেশি ঋণস্থিতি কমে ১১ হাজার ৯৩ কোটি ডলারে নেমেছে। তিন মাস আগে গত ডিসেম্বর শেষে যা ছিল ১১ হাজার ৩৫ কোটি ডলার। গত মার্চ পর্যন্ত এই বিদেশি ঋণের মধ্যে সরকারি খাতের ৯ হাজার ৯১ কোটি ডলার। গত ডিসেম্বরে যা ৯ হাজার ৩৪৬ কোটি ডলার ছিল। বেসরকারি খাতে গত ডিসেম্বরের ২ হাজার ৬ কোটি থেকে কমে ২ হাজার ২ কোটি ডলারে নেমেছে।

আইন লঙ্ঘনের দায়ে পদক্ষেপ নেবে ইসি আয়-ব্যয়ের হিসাব দেয়নি এনসিপিসহ সাতটি দল নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দিয়েছিল দলগুলো

নির্ধারিত সময়ে বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব (বার্ষিক নিরীক্ষা প্রতিবেদন) জমা দেয়নি এনসিপিসহ নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধিত সাতটি রাজনৈতিক দল। এ অবস্থায় দলগুলোর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইসি।

ইসি সূত্র বলছে, ২০২৫ পঞ্জিকা বছরের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হওয়া দলগুলোর মধ্যে তিনটি নতুন নিবন্ধিত, যারা গত বছরের শেষভাগে নিবন্ধন নিয়েছে। এই দল তিনটি হচ্ছে- জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জনতার দল ও আমজনতার দল। আর বাকি চারটি ২০২৩ সালে নিবন্ধন নিয়েছিল। দলগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ জাসদ, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ, তৃণমূল বিএনপি এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি।

এই সাতটি দলই গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। সবগুলো দল ইসিতে তাদের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বার্ষিক নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের দল এনসিপি গত বছরের ১৯ নভেম্বর নিবন্ধিত হয়। আগের পঞ্জিকাবর্ষে দলটির কার্যক্রমের মেয়াদ ছিল মাত্র এক মাস ২১ দিন। এ বিষয়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে আমাদের কিছুটা দেরি হয়ে গিয়েছিল। তবে, আমার জানামতে দলটির সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা ইসিতে এই হিসাব পাঠিয়ে দিয়েছেন।’

নিবন্ধনের দাবিতে আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক তারেক রহমানের ১৩৪ ঘণ্টার অনশন কর্মসূচির পর গত বছরের ২১ ডিসেম্বর দলটি ইসির নিবন্ধন পায়। এ হিসাবে আগের পঞ্জিকাবর্ষের মাত্র ১০ দিনের হিসাব জমা দিতে হবে দলটিকে। এ বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘ইসি জানিয়েছে, তারা ডাকযোগে চিঠি পাঠায়। কিন্তু আমি তা কখনোই পাইনি। নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয়টি আমার জানা আছে। তাই আমরা এখন প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করেছি এবং নির্বাচন কমিশনে দলের ৯ দিনের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

গত ১১ ডিসেম্বর নিবন্ধিত জনতার দলকে আইন অনুযায়ী ২০ দিনের হিসাব জমা দিতে হবে। দলটির মহাসচিব আজম খান জানান, নিয়ম-কানুন সম্পর্কে তারা অবগত আছেন। তবে ইসি থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাননি তারা।

এর আগে গত ৭ জুলাই নিবন্ধিত ইসিতে নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫৯টিকে চলতি বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের ২০২৫ পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব (বার্ষিক নিরীক্ষা প্রতিবেদন) জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ইসি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় তারা এই নির্দেশ পায়নি। আইনি বাধ্যবাধকতা ও জরিমানার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে ৫৯টি দলের কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠানো হয়। তবে ৩১ জুলাই শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় পরবর্তী প্রথম কার্যদিবস ২ আগস্ট পর্যন্ত সময় পেয়েছিল দলগুলো।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী ঘোষিত ‘রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বিধিমালা, ২০০৮’-এর ৯(খ) বিধি অনুযায়ী, নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলকে আগের পঞ্জিকাবর্ষের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিতে হয়। আর আরপিওর ৯০(এইচ) ধারা অনুযায়ী, কোনো দল টানা তিন বছর নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে ব্যর্থ হলে তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হতে পারে।

ইসি সূত্র বলছে, ইসির চিঠি পাওয়ার পর ৫৯টি দলের মধ্যে ৩৮টি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে। আর ১৩টি দল সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করে। এ ছাড়া জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) শুরুতে সময়সীমার মধ্যে হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হলেও পরে গত ১৩ আগস্ট জমা দেয়। এনসিপিসহ বাকি সাতটি দল হিসাব জমা দেয়নি, সময় বাড়ানোর আবেদনও করেনি।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করা ১৩টি দলকে আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে ইসি। এই দলগুলোর মধ্যে রয়েছে- কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), গণফোরাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) প্রভৃতি।

ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সমকালকে বলেছেন, ইসির চিঠি পাওয়ার পর বেশ কয়েকটি দল সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিল। কমিশন তাদের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে। আর যেসব দল প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে, তারা আইন লঙ্ঘন করছে। আমরা তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠাব। সেই অনুযায়ী আইনানুগ পদক্ষেপ নেব।