Home Blog Page 33

স্মরণসভায় পানিসম্পদমন্ত্রী মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কাজ করেছেন মোশাররফ হোসেন

পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন আর্থিকভাবে অসচ্ছলকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন। অনেককে বিদেশেও কাজের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশেও তাঁর অবদান ছিল।

মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এই স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে ‘ফেনী আমার ফেনী, ঢাকা’। স্মরণসভায় বক্তারা তাঁর কর্মময় জীবনের সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, মোশাররফ হোসেন ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজকর্মী। বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল এবং তাদের কল্যাণে তিনি কাজ করেছেন। তিনি আগে তাদের বিদেশে পাঠাতেন, পরে তারা টাকা পরিশোধ করতেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রাণু ও ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান তফাজ্জল হোসেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি এম আবদুল্লাহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মোশাররফ হোসেনের মেয়ে ও বে ইস্টার্ন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারাহ আঞ্জুম বারী। এতে মোশাররফ হোসেনের রুহের মাগফেরাত ও চিরশান্তি কামনা করা হয়।

সেমিনারে বক্তারা ওষুধের মূল্যবৃদ্ধিতে রোগী ও শিল্পের স্বার্থ দেখতে হবে

রোগীর ব্যয় কমানো, অত্যাবশ্যক ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় ওষুধশিল্পের টেকসই বিকাশ– এই তিনটি বিষয় সমন্বয় করে নতুন ওষুধ মূল্যনীতি প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শুধু ওষুধের দাম কমানোর উদ্যোগ নিলে বাজারে সরবরাহ সংকট সৃষ্টি হতে পারে। আবার শিল্পের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিলে রোগীর চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। তাই তথ্যভিত্তিক, স্বচ্ছ ও নিয়মিত মূল্য পর্যালোচনার ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

গতকাল শনিবার ঢাকায় পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত ‘ওষুধের মূল্য: বিতর্ক ও করণীয়’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ, আইনজীবী ও ওষুধশিল্পের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যয়ের বড় অংশই ওষুধ কিনতে ব্যয় হয়। স্বাস্থ্য বীমার সীমিত সুযোগের কারণে এই ব্যয়ের বড় বোঝা সরাসরি রোগীকেই বহন করতে হয়। ফলে ওষুধের দাম কেবল মূল্য নির্ধারণের বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, স্থানীয় শিল্প এবং রাষ্ট্রের সামাজিক দায়িত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত। রোগীর আর্থিক সুরক্ষা, শিল্পের সুস্থ বিকাশ, বৈজ্ঞানিক প্রাইসিং ফর্মুলা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি স্বাস্থ্য সুরক্ষা– এই চারটি বিষয়কে কেন্দ্র করে ওষুধের মূল্যনীতি তৈরি করতে হবে।
হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ওষুধের মূল্য নির্ধারণ বৃহত্তর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি পদ্ধতিগত চ্যালেঞ্জ। শুধু দাম নির্ধারণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সরবরাহ ব্যবস্থা, ওষুধের গুণগত মান, অতিরিক্ত প্রেসক্রিপশন এবং নগর স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, ১৯৯৪ সালে নির্ধারিত ১১৭টি অত্যাবশ্যক ওষুধের দাম প্রায় তিন দশক ধরে নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়নি। এ সময়ে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কিছু কোম্পানি এসব ওষুধ উৎপাদন বন্ধ করেছে। আবার কোনো প্রতিষ্ঠান অন্য ওষুধ থেকে পাওয়া মুনাফা দিয়ে ওষুধে ভর্তুকি দিচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও এআরকে ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. রুমানা হক বলেন, দেশে বছরে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার ওষুধ ব্যবহার হয়। দুর্বল রেফারেল ব্যবস্থা, প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ কেনা এবং অন্যের প্রেসক্রিপশন অনুসরণ করে ওষুধ সেবনের প্রবণতাও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বাড়াচ্ছে।  অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ, জেনেরিক নামে ওষুধ বিক্রি এবং সরকারি ওষুধ খোলা বাজারে বিক্রি বন্ধে নজরদারি প্রয়োজন।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এম মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, বাংলাদেশের ওষুধশিল্প দেশের প্রায় ৯৮ শতাংশ চাহিদা পূরণ করছে। ক্যান্সার, এইচআইভি, যক্ষ্মাসহ প্রায় সব ধরনের ওষুধ এখন দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে।
তবে দীর্ঘদিন ১১৭টি অত্যাবশ্যক ওষুধের দাম সমন্বয় না হওয়ায় কিছু ওষুধে নেগেটিভ মার্জিন তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এর ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাজারে সরবরাহ সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. এম মুশতাক হোসেন বলেন, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের গেজেটে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকা সম্প্রসারণ এবং নতুন মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেখানে বিতর্ক থাকলে সংশোধনের সুযোগ ছিল। কিন্তু পুরো গেজেট বাতিল করা জনস্বাস্থ্যের জন্য পশ্চাৎপদ সিদ্ধান্ত।
রেনাটা লিমিটেডের সিইও কায়সার কবির বলেন, আন্তর্জাতিক তুলনায় বাংলাদেশের ওষুধের দাম কম। শক্তিশালী প্রতিযোগিতার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে। তাঁর মতে, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ক্যান্সারের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের ওষুধ সরকার বড় পরিসরে কিনে রোগীদের বিনামূল্যে সরবরাহ করলে প্রকৃত সমাধান মিলতে পারে। কারণ সব ওষুধ রোগীর জন্য সমান আর্থিক বোঝা তৈরি করে না; উচ্চমূল্যের জীবনরক্ষাকারী ওষুধেই রোগীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।

স্বাস্থ্য খাতে ১৮০ দিনে এক-তৃতীয়াংশ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়েছে

স্বাস্থ্য খাত আধুনিকায়ন ও সেবার মান বাড়াতে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় ১২টি প্রতিশ্রুতি ছিল। এর মধ্যে চারটিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার চূড়ান্ত অগ্রগতি প্রতিবেদনে। ১৬ আগস্ট পর্যন্ত অগ্রগতির প্রতিবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়ানো, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন, সরকারি হাসপাতালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও অবকাঠামো সংস্কারে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে ই-হেলথ কার্ড, ই-প্রেসক্রিপশন, জনবল নিয়োগ ও পদমর্যাদা উন্নীত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে প্রশাসনিক জট রয়ে গেছে।

আন্তঃমন্ত্রণালয় অনুমোদন, পদ সৃজন ও আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতায় এগুলো নির্ধারিত সময়ে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা যায়নি। এরই মধ্যে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারকে বাড়তি সময় ও মনোযোগ দিতে হয়েছে। সব মিলিয়ে স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের কিছু উদ্যোগে গতি কমেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা দিয়ে স্বাস্থ্য খাতে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। প্রয়োজন সমন্বিত মহাপরিকল্পনা ও স্পষ্ট রোডম্যাপ, যার ঘাটতি এখনও স্পষ্ট।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় সরকারের অন্যতম বড় অর্জন হলো স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়ানো। দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ১ শতাংশের নিচে থাকা বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ দশমিক ২ শতাংশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন-২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। গত ১০ এপ্রিল আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।

এ ছাড়া চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দেশের সব সরকারি হাসপাতালে আনসার মোতায়েন করা হয়েছে। অবকাঠামো সংস্কারেও অগ্রগতি স্পষ্ট। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে সারাদেশে এক হাজার ৯৬৩টি অবকাঠামো মেরামতে ১৯০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করা হচ্ছে। এসব কাজের ভৌত অগ্রগতি শতভাগ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অগ্রগতি হয়েছে। ১৫টি হাসপাতালে আন্তর্জাতিক মানের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যের বিপরীতে ভৌত অগ্রগতি ৭৩ শতাংশ। তবে প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি ৪৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ। অর্থাৎ, অবকাঠামোগত কাজ এগোলেও অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে বড় ব্যবধান রয়েছে। মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানো সংক্রান্ত প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে ৩০ দশমিক ২৫ শতাংশ।

জ্যেষ্ঠ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আবু জামিল ফয়সাল সমকালকে বলেন, স্বাস্থ্য খাত নিয়ে এই প্রতিবেদন মূলত দীর্ঘ স্থবিরতার চিত্র। দৃশ্যমান উন্নতি বা অবনতি কোনোটিই হয়নি, খাতটি আগের জায়গাতেই রয়েছে। তাঁর মতে, সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে দেশের ব্যর্থতাই সবচেয়ে বড় বিষয়।

প্রতিবেদন প্রসঙ্গে চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী বলেন, সরকারের প্রথম ছয় মাসে পুরো স্বাস্থ্য খাতের চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা কঠিন। তবে কিছু রাজনৈতিক ঘোষণার অসামঞ্জস্য বাদ দিলে কাঠামোগত পরিবর্তনের উদ্যোগগুলো ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়। তিনি বলেন, গত ৫৫ বছর ধরে স্বাস্থ্য খাতের বাজেট বরাদ্দ জিডিপির মাত্র দশমিক ৭ শতাংশে আটকে ছিল। এবার তা বাড়িয়ে ১ দশমিক ২ শতাংশ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তা ৫ শতাংশে নেওয়ার উদ্যোগ বড় নীতিগত পদক্ষেপ।

ই-হেলথ কার্ডে ধীরগতি
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বাস্থ্যসেবাকে ডিজিটাল করার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ছিল ই-হেলথ কার্ড। ১৮০ দিনের মধ্যে পাঁচটি জেলায় এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালুর লক্ষ্য থাকলেও তা এখনও শুরু হয়নি। কারিগরি সহায়তা প্রকল্প প্রস্তাব (টিএপিপি) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে উদ্যোগটি এখনও প্রক্রিয়াধীন। জাতীয় ই-প্রেসক্রিপশন ও অটোমেশন কার্যক্রমে অগ্রগতি প্রায় ৩০ শতাংশ। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের (বিআইএম) সঙ্গে আলোচনা শেষে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে।

আজিমপুর প্রকল্পে অগ্রগতি সামান্য 
প্রতিবেদনে বলা হয়, আজিমপুর মা ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ডরমিটরি ও হোস্টেল নির্মাণ প্রকল্পে অগ্রগতি মাত্র ১.১ শতাংশ। ব্যয় না বাড়িয়ে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে দরপত্র মূল্যায়নের কাজ চলছে। এ ছাড়া নগরবাসীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বিশ্বব্যাংকের সহায়তার একটি প্রকল্প গত ২৬ এপ্রিল একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। কড়াইলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতেও সমীক্ষা ও বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

নিয়োগে সুপারিশ, আটকে ভেরিফিকেশনে
স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট কাটাতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (বিপিএসসি) মাধ্যমে ৪০১ জন নিয়োগের লক্ষ্য থাকলেও ৫৯৮ জনের সুপারিশ পাওয়া গেছে। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। প্রার্থীদের পুলিশ ভেরিফিকেশন চলছে। ফলে বেশি প্রার্থীর সুপারিশ এলেও মাঠ পর্যায়ে নতুন জনবল যোগ দিতে সময় লাগবে।

পদ সৃজনে প্রশাসনিক জট
বিদ্যমান জনবলের পদমর্যাদা উন্নীত করার উদ্যোগে ধীরগতি দেখা দিয়েছে বলে অগ্রগতি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, নার্সিং সুপারভাইজারদের এক হাজার ২০৮টি পদ নবম গ্রেডে এবং অন্য পদগুলো পঞ্চম ও সপ্তম গ্রেডে উন্নীত করতে অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন। এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের অংশ হিসেবে ১৫ হাজার সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং দুই হাজার ৪৭০টি মিডওয়াইফ পদ সৃজনের প্রস্তাবও জনপ্রশাসন ও অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এগুলো এখনও অনুমোদন পায়নি। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পদ সৃজন ও পদমর্যাদা উন্নীত করার বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তিতে অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সংস্কারে প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা বড় বাধা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় কিছু দৃশ্যমান অগ্রগতি হলেও ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা, জনবল বৃদ্ধি ও সংস্কারে প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা বড় বাধা। আগামী পাঁচ বছরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এসব জট দ্রুত কাটানোই মূল চ্যালেঞ্জ।

জনস্বাস্থ্যবিদ বে-নজীর আহমেদ সমকালকে বলেন, বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা দিয়ে স্বাস্থ্য খাতে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। প্রয়োজন সমন্বিত মহাপরিকল্পনা ও স্পষ্ট রোডম্যাপ, যার ঘাটতি এখনও স্পষ্ট। তিনি বলেন, সরকারের প্রতিশ্রুতিগুলো এখনও অনেকটাই আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ। বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের প্রস্তুতি স্পষ্ট নয়। শুধু শয্যা বাড়ালেই সেবার মান বাড়ে না; জনবল, বাজেট, যন্ত্রপাতি, ওষুধ ও সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী যা বললেন
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সমকালকে বলেন, ছয় মাসে স্বাস্থ্য খাতে বেশ কিছু সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এর মধ্যে জরুরি পরিস্থিতিতে হামের টিকার মজুত নিশ্চিত করা এবং টিকাদান জোরদার করা অন্যতম। তিনি জানান, টিকার সংকট কাটিয়ে পর্যাপ্ত মজুত গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি ভিটামিন ‘এ’ কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তনের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের ২৯৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫১ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেখানে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার, শিশুদের জন্য ২৫ শয্যার চাইল্ড কেয়ার সেন্টার ও জরুরি পরিস্থিতির জন্য ১৫টি শয্যা থাকবে। এ জন্য হাসপাতাল ভবনের পরিসরও বাড়ানো হবে।

শর্ত না মানলে বাতিল হতে পারে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা, সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস

যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসার শর্ত মেনে চলার বিষয়ে সতর্ক করেছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়া, নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিত থাকা কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে না জানিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম থেকে সরে গেলে শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল হতে পারে বলে জানিয়েছে দূতাবাস।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

মার্কিন দূতাবাস জানায়, কোনো শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছেড়ে দিলে, ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলে অথবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে না জানিয়ে নিজের অধ্যয়ন কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়ালে তার শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল হতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার যোগ্যতাও হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।

Untitled%20design%20(99) 1787382445

দূতাবাস আরও বলেছে, সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতে শিক্ষার্থীদের সব সময় ভিসার শর্ত মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী হিসেবে তাদের বৈধ অবস্থান বজায় রাখার বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

শিক্ষার্থী ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করলে শুধু বর্তমান ভিসার ওপরই প্রভাব পড়বে না, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বা পড়াশোনার জন্য ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে দূতাবাসের বার্তায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

কলকাতায় আগুন পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ নিয়ে বেনাপোলের পথে স্বজনেরা

কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে ছয়জনের মরদেহ দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে। শনিবার সকালে একজনের মরদেহ নিয়ে স্বজনেরা ইতিমধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছেছেন। আর কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ তার পরিবারের চার সদস্য এবং সাভারের জোবায়ের বাবুর মরদেহ নিয়ে স্বজনেরা কলকাতা থেকে বেনাপোল সীমান্তের পথে রওনা দিয়েছেন।

কলকাতার পার্ক সার্কাসের পিস ওয়ার্ল্ড থেকে শনিবার ভোরে সাতক্ষীরার বাসিন্দা এস এম আলিমুজ্জামানের মরদেহ নিয়ে স্বজনেরা বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হন। ভারতীয় সময় ভোর ৬টার দিকে রওনা হয়ে সকাল ১০টার মধ্যে সীমান্তের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।

অন্যদিকে, অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাতক্ষীরার আরেক বাসিন্দা রেবতী সরকারের শেষকৃত্য শনিবার দিবাগত রাতেই সম্পন্ন হয়েছে। পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী কলকাতার ঐতিহ্যবাহী নিমতলা শ্মশানঘাটে তার শেষকৃত্য করা হয়।

এদিকে শনিবার দুপুর ১২টা ২৭ মিনিটের দিকে পিস ওয়ার্ল্ড থেকে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার পরিবারের সদস্য আকরাম আলী (৭৪), আফসানা শারমীন (২৭) ও স্বর্ণাশীষ দত্ত (২) এবং সাভারের জোবায়ের বাবুর (৩৭) মরদেহ নিয়ে স্বজনেরা বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেন।

স্বজনেরা জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে এসব মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে দুপুর সাড়ে ৩টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে।

মরদেহগুলো নিয়ে স্বজনেরা বাংলাদেশে ফেরার সময় পিস ওয়ার্ল্ডে উপস্থিত ছিলেন কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মো. খালেদ। এ সময় প্রথম সচিব (কনস্যুলার) মো. জিল্লুর রহমান, দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক) ওমর ফারুক আকন্দসহ বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গত ১৯ আগস্ট কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি ছিলেন। তাদের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

ঝুঁকিপূর্ণ ১৪ এলাকায় কলেরার টিকা শুরু

কলেরা প্রতিরোধে দেশের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ১৪ উপজেলা ও থানায় দুই ডোজের মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা (ওসিভি) দেওয়া শুরু হয়েছে। শনিবার থেকে শুরু হওয়া ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর প্রথম ধাপ চলবে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, পূর্ণ সুরক্ষার জন্য নির্ধারিত সময়ের ব্যবধানে দুই ডোজ টিকা নেওয়া জরুরি। এক বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী সব সুস্থ ব্যক্তি বিনামূল্যে এ টিকা নিতে পারবেন। তবে গর্ভবতী নারীরা এ কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবেন। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্র ও ইপিআই বুথে টিকা দেওয়া হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচরের ১৭টি ওয়ার্ডে ১৯২টি কেন্দ্রে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও অঞ্চল এবং মুন্সিগঞ্জ সদর, নারায়ণগঞ্জ সদর, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, হোসেনপুর ও তাড়াইল এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগর উপজেলায় এ কর্মসূচি চলবে।

হঠাৎ নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশিদ বলেন, কলেরার টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নেওয়া হয়েছে। এখন টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি হঠাৎ করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার জন্য দুই ডোজ টিকাই নিতে হবে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দুই ডোজ সম্পূর্ণ করার পর টিকাটি প্রায় তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ‘ইউরিকল প্লাস’ বর্তমানে প্রচলিত কলেরার টিকাগুলোর মধ্যে নিরাপদ এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে কম। কারও কারও ক্ষেত্রে হালকা বমি ভাব বা সাময়িক ডায়রিয়ার মতো মৃদু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ব্যাপকভাবে টিকাদানের সুফল ও ভবিষ্যতে মহামারি প্রতিরোধে এর প্রভাব কতটা কার্যকর হয়েছে, তা সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে।

যেভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশিদ বলেন, কলেরার টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নেওয়া হয়েছে। গ্যাভিও (টিকাদান বিষয়ক বৈশ্বিক জোট) অনেক আগে টিকার ব্যবস্থা করেছে। এখন টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি হঠাৎ করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়।

গ্লোবাল টাস্কফোর্স অন কলেরা কন্ট্রোলের সঙ্গে গ্যাভির তৈরি একটি বিশ্লেষণী টুল ব্যবহার করে ‘প্রায়োরিটি এরিয়াস ফর মাল্টিসেক্টোরাল ইন্টারভেনশন’ বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেশের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি আহমেদ জামশীদ মোহামেদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশে কলেরা প্রতিরোধে মোট ১ কোটি ৩৫ লাখ ডোজ টিকা নিশ্চিত করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে আগে সুরক্ষা দেওয়াই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কলেরা প্রতিরোধে টিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু টিকার মাধ্যমে রোগটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। নিরাপদ পানি পান, খাবার ঢেকে রাখা, স্যানিটেশন নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার মতো স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও বলছে, দীর্ঘমেয়াদে কলেরা নির্মূলে বিশুদ্ধ খাবার পানি, উন্নত স্যানিটেশন ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পাশাপাশি এসব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রেফ্রিজারেটরের কনডেনসারে নতুন যুগ, কপারের জায়গা নিচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি

দীর্ঘদিন ধরে রেফ্রিজারেটরের কনডেনসার তৈরিতে কপার বা তামার ব্যাপক ব্যবহার হয়েছে। উচ্চ তাপ পরিবাহিতা, ক্ষয় প্রতিরোধ ও সহজে মেরামতের সুবিধার কারণে এটি ছিল বহুল ব্যবহৃত উপাদান। তবে সময়ের সঙ্গে রেফ্রিজারেটরের প্রযুক্তি ও চাহিদা বদলেছে। এখন শুধু কনডেনসারের তাপ পরিবাহিতা নয়; কম বিদ্যুৎ ব্যবহার, কম রেফ্রিজারেন্ট চার্জ, কম ওজন, ক্ষয় প্রতিরোধ, দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্যতা ও পরিবেশগত প্রভাব কমানোর বিষয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে।

এই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় কপারের প্রচলিত ব্যবহারের জায়গায় অ্যালুমিনিয়াম, কোটেড স্টিল, জিঙ্ক-অ্যালুমিনিয়াম-ম্যাগনেসিয়াম কোটেড উপকরণ এবং অল-অ্যালুমিনিয়াম মাইক্রোচ্যানেল হিট এক্সচেঞ্জারের মতো প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। প্রযুক্তিবিদদের মতে, এটি শুধু একটি ধাতুর বদলে আরেকটি ধাতুর ব্যবহার নয়; বরং পুরো রেফ্রিজারেশন প্রযুক্তির বিবর্তনের অংশ।

কেন বদলাচ্ছে কনডেনসারের প্রযুক্তি
আধুনিক রেফ্রিজারেটরের কর্মক্ষমতা শুধু কনডেনসারের উপাদানের ওপর নির্ভর করে না। টিউবের আকৃতি ও পুরুত্ব, পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল, ফিনের নকশা, বাতাস ও রেফ্রিজারেন্টের প্রবাহ এবং পুরো কুলিং সিস্টেমের নকশাও গুরুত্বপূর্ণ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন প্রজন্মের কম্প্রেসর, উন্নত ইনসুলেশন, ইলেকট্রনিক কন্ট্রোল ও পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট। ফলে পুরো সিস্টেমকে অপটিমাইজ করে কার্যকর কুলিং নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মাইক্রোচ্যানেল প্রযুক্তিতে বড় পরিবর্তন
আধুনিক কনডেনসার প্রযুক্তির অন্যতম উদাহরণ মাইক্রোচ্যানেল হিট এক্সচেঞ্জার। এতে গোলাকার টিউবের পরিবর্তে বহু ক্ষুদ্র চ্যানেলযুক্ত সমতল অ্যালুমিনিয়াম টিউব ব্যবহার করা হয়। এই নকশায় কম জায়গায় বড় কার্যকর হিট ট্রান্সফার সারফেস তৈরি করা সম্ভব। ফলে কনডেনসার হয় তুলনামূলক হালকা ও কমপ্যাক্ট, পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে রেফ্রিজারেন্টের পরিমাণও কমানো যায়।

International Journal of Refrigeration-এ প্রকাশিত R600a রেফ্রিজারেটর বিষয়ক একটি গবেষণায় মাইক্রোচ্যানেল কনডেনসারের নকশা অপটিমাইজ করে মোট রেফ্রিজারেন্ট চার্জ প্রায় ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর সম্ভাবনা পাওয়া গেছে। এতে বোঝা যায়, আধুনিক কনডেনসারে শুধু ধাতু নয়, হিট এক্সচেঞ্জারের নকশাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ZAM কোটিংয়ে ক্ষয় প্রতিরোধে নতুন সমাধান
স্টিল বা অন্য উপাদান ব্যবহারের ক্ষেত্রে ক্ষয় প্রতিরোধ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ ক্ষেত্রে জিঙ্ক-অ্যালুমিনিয়াম-ম্যাগনেসিয়াম বা ZAM কোটিং নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

এ প্রযুক্তিতে স্টিলের ওপর বিশেষ প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করা হয়, যা আর্দ্রতা ও ক্ষয়কারী উপাদান থেকে মূল ধাতুকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে। Nippon Steel-এর সল্ট-স্প্রে পরীক্ষায় তাদের ZAM কোটিং সাধারণ হট-ডিপ জিঙ্ক কোটিংয়ের তুলনায় ১০ থেকে ২০ গুণ পর্যন্ত বেশি ক্ষয় প্রতিরোধী হওয়ার ফল দেখিয়েছে।

কপার সাধারণত অরক্ষিত স্টিলের তুলনায় বেশি ক্ষয়রোধী হলেও আধুনিক কনডেনসারে এই সরাসরি তুলনা সব ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। কারণ এখন স্টিলের ওপর ZAM-এর মতো উন্নত ক্ষয়রোধী প্রলেপ ও অতিরিক্ত পলিমার সুরক্ষা ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে আর্দ্রতা, লবণাক্ততা, দূষণ ও কিছু রাসায়নিক উপাদানের প্রভাবে কপারেও ক্ষয় হতে পারে। ফলে কনডেনসারের স্থায়িত্ব শুধু মূল ধাতুর ওপর নয়, কোটিং ও সুরক্ষা প্রযুক্তির ওপরও নির্ভর করে।

Corrosion Science সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাতেও সোডিয়াম ক্লোরাইডযুক্ত পরিবেশে Zn-Al-Mg কোটিংয়ের উন্নত ক্ষয় প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

মাল্টি-লেয়ার সুরক্ষায় আরও এক ধাপ
কিছু আধুনিক কনডেনসারে ZAM কোটিংয়ের ওপর হিট-শ্রিংক পলিমার স্লিভ বা অতিরিক্ত প্রতিরক্ষামূলক আবরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে আর্দ্রতা, ধুলাবালি ও লবণাক্ত বাতাসের সঙ্গে মূল ধাতুর সরাসরি সংস্পর্শ আরও কমানো যায়।

ফলে কনডেনসারের স্থায়িত্ব এখন শুধু মূল উপাদান দিয়ে নয়; বরং কোটিং, প্রতিরক্ষামূলক স্তর ও পুরো নির্মাণপ্রযুক্তির সমন্বয়ে বিচার করা হচ্ছে।

পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্টেও বদলেছে নকশা
আধুনিক রেফ্রিজারেটরে R600a বা আইসোবিউটেনের ব্যবহার বাড়ছে। এর গ্লোবাল ওয়ার্মিং প্রভাব তুলনামূলক কম হওয়ায় পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেশনে এটি গুরুত্ব পাচ্ছে। ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি এবং যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তরের অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণায় R600a ব্যবহার করে উচ্চ দক্ষতার রেফ্রিজারেটর তৈরিতে পুরো রেফ্রিজারেশন সাইকেল অপটিমাইজ এবং রেফ্রিজারেন্টের পরিমাণ কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন প্রজন্মের কনডেনসারকে আলাদা যন্ত্রাংশ হিসেবে নয়, পুরো উচ্চ দক্ষতার কুলিং সিস্টেমের অংশ হিসেবে নকশা করা হচ্ছে।

মেরামতের চেয়ে ত্রুটি কমানোর চেষ্টা
কপার কনডেনসারের পরিচিত সুবিধা হলো মেরামতযোগ্যতা। তবে নতুন প্রযুক্তিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে শুরু থেকেই ত্রুটির ঝুঁকি কমানোর ওপর। উন্নত উৎপাদনপ্রক্রিয়া, স্বয়ংক্রিয় ম্যানুফ্যাকচারিং, ক্ষয় প্রতিরোধী কোটিং, মাল্টি-লেয়ার সুরক্ষা ও কঠোর মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এমন কনডেনসার তৈরির চেষ্টা চলছে, যাতে দীর্ঘ সময়ে মেরামতের প্রয়োজন কম হয়।

উৎপাদন ও পরিবেশ—দুই ক্ষেত্রেই সুবিধা
অ্যালুমিনিয়াম হালকা এবং মাইক্রোচ্যানেল প্রযুক্তিতে কমপ্যাক্ট হিট এক্সচেঞ্জার তৈরির উপযোগী। স্টিলও আধুনিক স্বয়ংক্রিয় উৎপাদনব্যবস্থায় কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়। এতে পণ্যের ওজন কমানো, উৎপাদন সহজ করা এবং বিভিন্ন নকশায় রেফ্রিজারেন্টের পরিমাণ কমানোর সুযোগ তৈরি হয়। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির গুরুত্ব বাড়ায় কম কাঁচামাল, কম রেফ্রিজারেন্ট ও কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে দীর্ঘস্থায়ী পণ্য তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশের উচ্চ তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, ধুলাবালি ও উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ত বাতাস রেফ্রিজারেটরের ধাতব যন্ত্রাংশের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। তাই এ দেশের বাজারে নতুন প্রজন্মের কনডেনসারের ক্ষেত্রে ক্ষয় প্রতিরোধ গুরুত্বপূর্ণ।

ZAM কোটিং ও অতিরিক্ত পলিমার সুরক্ষা আর্দ্রতা ও লবণাক্ত পরিবেশ থেকে ধাতুকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে উচ্চ তাপমাত্রায় কার্যকর কুলিং নিশ্চিত করতে কনডেনসার, কম্প্রেসর, রেফ্রিজারেন্ট ও ইভাপোরেটরের সমন্বিত নকশাও গুরুত্বপূর্ণ।

ক্রেতাদের মান যাচাইয়ের ধারণাও বদলাচ্ছে
দীর্ঘদিন ধরে কপার কনডেনসার অনেক ক্রেতার কাছে ভালো রেফ্রিজারেটরের পরিচিত বৈশিষ্ট্য। তবে এখন শুধু কনডেনসারের উপাদান নয়; জ্বালানি দক্ষতা, উচ্চ তাপমাত্রায় কুলিং পারফরম্যান্স, ক্ষয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা, রেফ্রিজারেন্ট, কম্প্রেসর, ওয়ারেন্টি ও বিক্রয়োত্তর সেবাও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।

অর্থাৎ প্রশ্নটি এখন শুধু ‘কনডেনসার কী দিয়ে তৈরি’—এখানে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ‘পুরো কুলিং সিস্টেমটি কতটা দক্ষ, টেকসই ও নির্ভরযোগ্য’—সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন প্রজন্মের রেফ্রিজারেশনের পথে শিল্পখাত
রেফ্রিজারেশন শিল্প এখন কম বিদ্যুৎ ব্যবহার, কম রেফ্রিজারেন্ট চার্জ, কম ওজন, উন্নত ক্ষয় প্রতিরোধ ও দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্যতা—এসব বিষয় একসঙ্গে নিশ্চিত করার দিকে এগোচ্ছে।

মাইক্রোচ্যানেল হিট এক্সচেঞ্জার, অ্যালুমিনিয়াম, ZAM-কোটেড স্টিল, মাল্টি-লেয়ার করোশন প্রোটেকশন এবং R600a-এর মতো পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট এই পরিবর্তনেরই অংশ।

কপার দীর্ঘদিন ধরে রেফ্রিজারেশন শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এখন তার পাশাপাশি এবং অনেক ক্ষেত্রে তার জায়গায় আসছে নতুন উপাদান, উন্নত হিট এক্সচেঞ্জার ডিজাইন ও সুরক্ষা প্রযুক্তি। তাই এই পরিবর্তনকে শুধু ‘কপার থেকে অন্য ধাতুতে যাওয়া’ নয়, বরং আরও হালকা, দক্ষ, ক্ষয়-প্রতিরোধী ও পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেশন প্রযুক্তিতে উত্তরণ হিসেবেই দেখা যায়।

প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যেতেই পারেন, তা হতে হবে সমমর্যাদার: শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সারাবিশ্বই সফর করতে পারেন। দেশ ভারত সফর করতেও কোনো অসুবিধা নেই। তবে সেই সফর হতে হবে সমতার, সমমর্যাদার, বন্ধুত্বের। এখন এই দেশের মানুষ আর কারও আধিপত্যবাদ মেনে নেবে না। মানুষ চায় ভারতের সাথে সম্পর্ক হোক বন্ধুত্বের, সমমর্যাদার, সমতার ভিত্তিতে।

শুক্রবার রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের সদস্য (রোকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী চাইলেই চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্যের টুঁটি চেপে ধরতে পারেন। তিনি চাইলেই এসব বন্ধ হবে। তিনি চাচ্ছেন কিনা এটাই বড় বিষয়।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, জামায়াত দেশের মানুষের কাছে আদর্শিক সংগঠনের নাম। এই আস্থা অর্জন করতে এই সংগঠন দীর্ঘ সময় ধরে এদেশের মানুষের মাঝে ইসলামের দাওয়াত ও আদর্শ সমাজ এবং রাষ্ট্র গঠনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

আগামী স্থানীয় নির্বাচনে নেতাকর্মীদেরকে জনমানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ভোট যেন কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে সে ব্যাপারে আমাদের নেতাকর্মীদের সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে।

রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমির কেরামত আলী এমপির সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান এমপি। বক্তৃতা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি প্রমুখ।

বিএনপি-জামায়াত দ্বন্দ্বে বন্ধ সেবামূলক কাজ

খুলনার কয়রায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাদের বিরোধ ও সমন্বয়হীনতায় স্থবির হয়ে পড়েছে সরকারি নানা সেবামূলক কার্যক্রম। বিশেষ করে বিভিন্ন সরকারি ভাতা, সুবিধাভোগী নির্বাচন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুই দলের নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি চাপ ও প্রভাবে দিশেহারা হয়ে পড়েছে স্থানীয় প্রশাসন। ফলে স্বাভাবিক সরকারি সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত সুবিধাভোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য জামায়াতে ইসলামীর হওয়ায় তাঁর অনুসারী ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দুই দলের এমন অনড় অবস্থানের কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রচণ্ড বিঘ্ন ঘটছে।

আটকে গেছে তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ
জানা গেছে, উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের লক্ষ্যে গত ৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে গভীর রাত ২টা পর্যন্ত টানা মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। তবে দুই রাজনৈতিক দলের বিরোধের কারণে দীর্ঘ সময় পার হলেও ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।
নির্বাচন কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, দ্রুত ফলাফল ঘোষণার লক্ষ্যে গভীর রাত পর্যন্ত কষ্ট করে পরীক্ষা নেওয়া হলেও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তারা ফলাফল প্রকাশে ব্যর্থ হয়েছেন।
একইভাবে সম্প্রতি বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম নির্বাচনেও দুই দল বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি চেয়ারম্যান জানান, প্রতিটি ইউনিয়নের ১৫টি মসজিদ বাছাই করে নামের তালিকা জমা দেওয়ার কথা থাকলেও দুই দলের নেতারা তাঁদের পছন্দের লোক ঢোকাতে অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছেন। ফলে নিরপেক্ষ তালিকা প্রস্তুত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

বন্ধ খাবার পানির ট্যাঙ্ক বিতরণ
কয়রা উপজেলায় লবণাক্ততার কারণে খাবার পানির তীব্র সংকট রয়েছে। ফলে স্থানীয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তর থেকে ভূগর্ভস্থ ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ৩ থেকে ১৫ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার প্লাস্টিকের ট্যাঙ্ক বিতরণ কার্যক্রম চালু ছিল। দুই দলের দ্বন্দ্বের কারণে সুফলভোগীদের তালিকা পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।
কালনা গ্রামের ফরমান সরদার ও মমতাজ বেগম বলেন, ছয় মাস আগে ট্যাঙ্কির জন্য আবেদন করেছিলাম, পাইনি। অফিসে গেলে বলা হয় দুই দলের ঝামেলা মিটলে দেওয়া হবে। আমরা রাজনীতির হিসাব বুঝি না। অথচ নেতাদের টানাটানিতে আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ইশতিয়াক আহমেদ জানান, সংসদ সদস্যের কাছ থেকে নির্ধারিত তালিকা না পাওয়ায় বর্তমানে প্লাস্টিকের ট্যাঙ্ক বিতরণ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া মহিলা বিষয়ক দপ্তর ও সমাজসেবা অফিসের নানাবিধ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সুবিধাভোগী নির্বাচনেও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ চলছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার ভাষ্য, ‘সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরিতে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা আমাদের মূল লক্ষ্য। স্থানীয় পর্যায় থেকে একাধিক তালিকা আসার কারণে চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়নে কিছুটা বিলম্ব ঘটছে।’

উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, ‘দুই দলের নেতাদের টানাপোড়েনে প্রশাসনের কর্মকর্তারা যেমন বিব্রত হচ্ছেন, তেমনি প্রচণ্ড দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই সুযোগে রাজনীতি থেকে ঝরে পড়া অপশক্তি সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। দ্রুত সমাধান না হলে সার্বিক উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’
উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমীন বাবুল বলেন, ‘এ আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় তাঁদের দলীয় নেতাকর্মীরা প্রতিটি ক্ষেত্রে একচ্ছত্র প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন; যার ফলে সরকারি সুবিধাভোগী নির্বাচনে বাধা তৈরি হচ্ছে। আমরা বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেছি।’
ইউএনও মো. আবদুল্লাহ আল বাকী বলেন, ‘প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সম্পূর্ণ সরকারি নিয়মনীতি ও বিধিবিধান অনুসরণ করে কাজ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক সুপারিশ বা চাপ অনেক সময় আমাদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে। এর ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়ে যাচ্ছে।’

৮ বছর একসঙ্গে থাকার পর নতুন জীবনে অর্জুন রামপাল-গ্যাব্রিয়েলা

বলিউড অভিনেতা অর্জুন রামপাল ও তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী গ্যাব্রিয়েলা দেমেত্রিয়াদেস বিয়ে করেছেন। আট বছর একসঙ্গে থাকার পর শুক্রবার গোয়ায় আইনি প্রক্রিয়ায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন ৫৩ বছর বয়সী এই অভিনেতা।

উত্তর গোয়ার মাপুসার সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে বিকেল ৪টার দিকে বিয়ের জন্য হাজির হন অর্জুন ও গ্যাব্রিয়েলা। জমকালো পোশাক বা কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন ছিল না। সাদামাটা পোশাকে ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারেন।

সাব-রেজিস্ট্রার সুরজ ভেরনেকার জানান, গোয়ার ইউনিফর্ম সিভিল কোডের আওতায় তাদের বিয়ে নিবন্ধিত হয়েছে। স্থানীয় নিয়ম অনুযায়ী প্রথম ও দ্বিতীয় স্বাক্ষরের মধ্যে ১৫ দিনের অপেক্ষার বিধান রয়েছে। তবে বিশেষ অনুমতি নিয়ে সেদিনই প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর সম্পন্ন করেন। বিয়ের ১৫ দিন পর মূল বিয়ের সনদ পাওয়ার কথা রয়েছে।

অর্জুন ও দক্ষিণ আফ্রিকার মডেল গ্যাব্রিয়েলার সম্পর্কের শুরু ২০১৮ সালে। দীর্ঘদিনের এই সম্পর্কে তাদের দুই সন্তান রয়েছে। ২০১৯ সালে প্রথম সন্তান অরিকের জন্ম হয়। ২০২৩ সালে জন্ম নেয় দ্বিতীয় সন্তান আরিভ।

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা না থাকলেও এতদিন তারা একসঙ্গেই সংসার করেছেন। ২০২৫ সালে অর্জুন প্রকাশ্যে জানান, গ্যাব্রিয়েলার সঙ্গে বাগদান হয়েছে। এরপর ২০২৬ সালে এসে সম্পর্ক পেল আইনি স্বীকৃতি।

এর আগে এক সাক্ষাৎকারে অর্জুন জানিয়েছিলেন, তাদের সম্পর্কের জন্য বিয়ের কাগজ খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। সম্পর্কের মূল বিষয় হলো দুজনের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও একে অপরকে ভালোভাবে এগিয়ে যেতে সহায়তা করা। তিনি বিয়ের বিরোধী নন বলেও জানিয়েছিলেন।

গ্যাব্রিয়েলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর আগে অর্জুনের বিয়ে হয়েছিল মডেল ও সাবেক মিস ইন্ডিয়া মেহর জেসিয়ার সঙ্গে। ১৯৯৮ সালে তাদের বিয়ে হয়। এই দম্পতির দুই মেয়ে মাহিকা ও মাইরা।

প্রায় ২১ বছর সংসার করার পর ২০১৯ সালেবিচ্ছেদ  হয়। বিচ্ছেদের পরও দুই মেয়ের সঙ্গে অর্জুনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গ্যাব্রিয়েলার সঙ্গে সম্পর্ক ও নতুন সংসার শুরু করার পাশাপাশি আগের দুই মেয়ের সঙ্গেও বাবার দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি।

বর্তমানে অর্জুন ও গ্যাব্রিয়েলা গোয়ার পানাজির কাছে বসবাস করেন। দীর্ঘদিনের প্রেম, দুই সন্তান ও একসঙ্গে সংসার করার পর এবার আইনি স্বীকৃতিও পেল সম্পর্ক।