Home Blog Page 36

বিএনপি সরকার ভূতের মতো পেছনে হাঁটছে

গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন আইনসহ সংস্কার প্রশ্নে বিএনপি ভূতের মতো পেছনে হাঁটছে। গণভোটে অনুমোদন জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন না করে প্রতারণা করছে। বিএনপি নিজের ৩১ দফা প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করছে না।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এনসিপি সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ খসড়া আইন ২০২৬: আইনি পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন বক্তারা।

গুমের তদন্ত পুলিশকে দিয়ে করানো, মানবাধিকার কমিশন গঠনের বাছাই কমিটিতে সরকারের একচ্ছত্র প্রভাব, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার মানবাধিকার লঙ্ঘনে তদন্ত কমিশনের না করাসহ বিভিন্ন প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করেন তারা।

এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক আরমান হুসাইনের সঞ্চালনায় গোলটেবিলে দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া ফুয়াদ, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া, সাবেক বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ব্যারিস্টার তানিম হোসেন শাওন, গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর প্রমুখ বক্তব্য দেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক গুম কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিস।

আখতার হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা গুম প্রতিরোধ এবং মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বিএনপি পাস না করে সংসদে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, আরও ভালো আইন হবে। এখন দেখা যাচ্ছে, বরং আগের চেয়ে খারাপ আইন করা হচ্ছে, যা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ।

আখতার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু আমলা ও বাহিনীর মতামতের ভিত্তিতে নয়, সাধারণ নাগরিকদের মতামতকে ধারণ করে নতুন করে আইনগুলো প্রণয়ন করতে হবে। বর্তমান খসড়া আইন সংসদে পাস হলে মানবাধিকার সুরক্ষায় যে অগ্রগতি হয়েছিল, বাংলাদেশ আবার পিছিয়ে যাবে। অতীতে তো বাহিনীগুলো গুম করত, মানবাধিকার লঙ্ঘন করত, তারা দায়মুক্তি পেত। তো সামনেও কি আমরা এ রকম দেখতে চাই?

শহিদুল আলম বলেন, আমরা আজকে মুক্তভাবে কথা বলতে পারছি– এটা একটা বিশাল ব্যাপার, যা ভুলে গেলে চলবে না। এই পরিবেশকে ধরে রাখতে বাহিনী ও সংস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করে এমন আইন করার দাবি জানান তিনি। শহিদুল আলম বলেন, বিনিয়োগ আকর্ষণে দেশে স্থিতিশীলতা, আইনের শাসন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। স্থিতিশীলতা না থাকলে কেউ আসবে না। নিরাপত্তা বাহিনীর কারণে যদি দেশ চলে, তাহলে তো ওই কুকুর ওভাবেই নড়ছে এবং লেজ তার মতো করে ঠিকই নাড়াচ্ছে।

অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীন ও কার্যকর না করলে সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে আনা সম্ভব নয়। গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন ও পুলিশ কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল বা দলীয়করণ করা হলে এগুলো তাদের কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালন করতে পারবে না।
অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী আরও বলেন, বিএনপি তাদের প্রতিশ্রুতি ও জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে। ভূতের মতো পেছনের দিকে হাঁটছে। তারা কি ভূত হয়েছে না ভূতে ধরেছে? বিচার বিভাগ, মানবাধিকার কমিশন, গুম কমিশন ও পুলিশ কমিশনের মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া উচিত নয়। আশা করি, বিএনপি এই ভুল পথ থেকে সরে এসে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবে।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো অনেক কিছু ওয়াদা করে, কিন্তু বাস্তবে তা বাস্তবায়ন করে না। এই খাসলত বদলাতে হবে।
সাবেক সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য শরীফ ভূঁইয়া বলেন, মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল উদ্দেশ্য সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনা। এসব প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা না থাকলে কী ফল হয়, কীভাবে ফ্যাসিবাদ তৈরি হয়, তা ১৫ থেকে ১৬ বছর দেখা গেছে। পুরোনো মানবাধিকার ও গুম আইন বাতিলের সময় আরও ভালো আইন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বর্তমান খসড়া দেখে বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ড. নাবিলা ইদ্রিস বলেন, আইনের খসড়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে। অভিযুক্ত বাহিনীর কাছেই পাঠানোর ব্যবস্থা এর উদাহরণ। কর্মকর্তাদের সুরক্ষার যুক্তিতে স্বাধীন তদন্ত বন্ধ করা ঠিক নয়। কর্মকর্তাদের সুরক্ষার প্রয়োজন। কিন্তু তা স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা বাতিল না করে আলাদা আইনি কাঠামো করা উচিত।

ইরানের সঙ্গে সব বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন বন্ধ করল আমিরাত

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও আর্থিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তেহরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক লেনদেন ও আর্থিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে আবুধাবি।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে।

আমিরাতের এই সিদ্ধান্ত ইরানের অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার চেয়েও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন জেনারেল ও দেশটির সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক কিমিট।

আল জাজিরাকে কিমিট বলেন, ইরানের সঙ্গে দুবাই ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পণ্য ও আর্থিক লেনদেনের গুরুত্ব কোনোভাবেই কম করে দেখার সুযোগ নেই। তার মতে, ইরানে আমদানি করা পণ্যের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী বর্তমানে দুবাই ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ ক্ষেত্রে চীন ও তুরস্কও তাদের পেছনে রয়েছে।

কিমিটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরানের মোট আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রতি বছর সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে দুবাইয়ের ভূমিকার কারণে ইরান নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে লেনদেন চালানোর সুযোগ পেয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ইরানের সঙ্গে আমিরাতের বাণিজ্য বন্ধের পর অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোও একই পথে হাঁটবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে কিমিট বলেন, আপাতত এসব দেশ সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে বলে তিনি মনে করছেন।

তিনি বলেন, ‘আমিরাত ও ইরানের মধ্যে কী ঘটে, সেটিই এখন সবাই দেখবে ও অপেক্ষা করবে।’

কিমিটের মতে, আমিরাতের এই সিদ্ধান্ত এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে ইরান এটিকে যুদ্ধ ঘোষণার কাছাকাছি কোনো পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচনা করতে পারে। এ প্রসঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং দেশটির ওপর পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনার সঙ্গে তুলনা টানেন তিনি।

আমিরাতের এ পদক্ষেপের ফলে ইরানের আমদানি, আর্থিক লেনদেন এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কলকাতায় আবাসিক হোটেলে আগুনে ৯ মৃত্যু, সকলেই বাংলাদেশি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৯ জন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও একজন শিশু রয়েছে। মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে এই আগুন লাগে।

মৃতররা সকলে বাংলাদেশি বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। অন্যদিকে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ৮ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। তাদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, হোটেলের তিন তলায় আগুন লাগে। আগুন ছড়িয়ে পড়ে অন্তত চারটি ঘরে। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ঘুম ভেঙে যায় হোটেলের বাসিন্দাদের। তবে ধোঁয়ার কারণে হোটেল থেকে বের হওয়ার সুযোগ পাচ্ছিলেন না তারা।

ভোর তিনটার দিকে আগুন লাগার খবর পায় পুলিশ ও দমকল কর্মী। আগুনের ঘটনাস্থলের একেবারে কাছেই দমকল অফিস। দমকলের ৪টি ইঞ্জিন ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে হোটেলের একাংশ পুড়ে যায়।

আগুনের ধোঁয়ায় হোটেলের ভেতরে বেশ কয়েকজন আটকা পড়েন। পরে সেখানে থেকে তাদের উদ্ধার করে দমকম বাহিনী। এয়ার কন্ডিশনার (এসি) বিস্ফোরণ থেকে এই আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দমকলকর্মীরা হোটেলের ভেতর থেকে অজ্ঞান অবস্থায় ৯ জনকে উদ্ধার করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাদের সকলকেই মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল।

অগ্নিকাণ্ডের সময় আহত কয়েকজনকে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। দমকলকর্মীরা হোটেলের ভেতর থেকে অজ্ঞান অবস্থায় ৯ জনকে উদ্ধার করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাদের সকলকেই মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল।

পুলিশ এলাকাটি ঘিরে রেখে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। গুরুতর আহত ৬ জনের চিকিৎসা চলছে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে।

অভিযোগ রয়েছে, হোটেলের ঢোকা-বেরোনোর পথ খুবই সঙ্কীর্ণ। হোটেলটি থেকে ৬০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

এর আগে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তীর্থস্থান তারাপীঠ মন্দির সংলগ্ন একটি হোটেলে সোমবার সকালে অগ্নিকাণ্ডে ৮ জন নিহত এবং ১৩ জন আহত হয়। সেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ওই দিন রাতেই হোটেলের মালিক ও তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেই রেশ কাটতে না কাটতে আবার আরেকটি অগ্নিকাণ্ড ঘটলো।

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনের সব টিকিট শেষ

০

ডারউইনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি উন্মাদনা। এরই মধ্যে ম্যাকাইতে অনুষ্ঠেয় সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনের টিকিট আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সোল্ড আউট’। একই সঙ্গে বাকি দিনগুলোর টিকিট দ্রুত সংগ্রহ করতে দর্শকদের আহ্বান জানিয়েছে তারা। প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত গতিতে টিকিট বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

ডারউইনে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের দাপুটে পারফরম্যান্সই দ্বিতীয় ম্যাচ ঘিরে আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি স্থানীয় অস্ট্রেলিয়ান দর্শকদের মধ্যেও ম্যাচটি নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।

মারারা স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে দুই ইনিংসে ১৯৮ ও ২৮৪ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। বিপরীতে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করে ২২৮ রানের লিড নেয় সফরকারীরা। পরে মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য এক উইকেট হারিয়ে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকাইতে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। প্রথম ম্যাচ জিতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের সামনে এবার সিরিজ জয়ের হাতছানি। অন্যদিকে ঘরের মাঠে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ সমতায় ফেরার লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়ার।

বিয়ের কথা অস্বীকার পূজা বললেন, আমি এনগেজড তবে বিয়ে হয়নি

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়িকা পূজা চেরির বিয়ে নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তথ্য যাচাই না করে এমন খবর প্রকাশের প্রতিবাদ জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। একই সঙ্গে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ অব্যাহত থাকলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে পূজা চেরি জানান, বেশ কিছুদিন ধরে তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। কখনো নির্দিষ্ট কোনো পেশার ব্যক্তির সঙ্গে, আবার কখনো অন্য কারও সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে কাল্পনিক সংবাদ তৈরি করা হচ্ছে। বিষয়টি তাঁর জন্য বিব্রতকর বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পূজা বলেন, ‘একটি সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে বলেছিলাম— আমি এনগেজড এবং পারিবারিকভাবে বিয়ে ঠিক করা হয়েছে। এটাও নিশ্চিত করেছিলাম যে, যখনই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে, নিজেই তা আনন্দের সঙ্গে সবাইকে জানাব। লুকানোর কিছু নেই।’

পূজা চেরি। ছবি: ফেসবুক

পূজা চেরি। ছবি: ফেসবুক

নিজের বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ‘বর্তমানে নিজেকে কিছুটা সময় দিচ্ছি। নতুন কাজের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছি। সেই কারণে ক্যামেরার সামনে অনুপস্থিত। কিন্তু কোনো তথ্য যাচাই না করে বারবার আমাকে জড়িয়ে এভাবে অসত্য সংবাদ প্রকাশ করার পেছনে উদ্দেশ্য কী, তা আমার বোধগম্য নয়।’

বিয়ে নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে পূজা আরও বলেন, ‘বারবার বলতে চাই— আমার এখনও বিয়ে হয়নি। যখন হবে, আপনারাই প্রথম জানতে পারবেন।’

ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের বিষয়েও সতর্ক করেছেন এই অভিনেত্রী। তিনি লেখেন, ‘অনুমতি ছাড়া কারও ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা এবং মিথ্যা তথ্য প্রচার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।’

পূজা আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ ও ৪৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা ও সুনাম রক্ষার অধিকার রয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনি ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

পূজা চেরি। ছবি: ফেসবুক

পূজা চেরি। ছবি: ফেসবুক

সবশেষে সংবাদকর্মীদের প্রতি বস্তুনিষ্ঠ ও যাচাই করা তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানান পূজা। একই সঙ্গে মিথ্যা সংবাদ প্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করে তিনি বলেন, অন্যথায় নিজের আইনি অধিকার রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবেন।

এদিকে পূজা চেরিকে সর্বশেষ কোরবানির ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘দম’ সিনেমায় দেখা গেছে। রেদোওয়ান রনি প্রযোজিত ও নির্মিত এ সিনেমায় তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো।

বিজেপির জোটে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব পেলেন ককরোচ পার্টির দীপকে

০

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব পেয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপকে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আটওয়ালে এই প্রস্তাব দিয়েছেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রামদাস সোমবার বলেন, ‘বাবাসাহেব আম্বেদকরের স্বপ্ন পূরণ করতে অভিজিত রিপাবলিকান পার্টি অব ইন্ডিয়াতে যোগ দিতে পারেন। বিষয়টি তাঁর বিবেচনায় নেওয়া উচিত।’ এই দলটি বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ।

মন্ত্রীর এই প্রস্তাবের ব্যাপারে দীপকের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সিজিপি নেতা এর আগে নির্বাচনী রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, রাজনীতি ও নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর থেকে সাধারণ মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।

বাবাসাহেব আম্বেদকর বা ভীম রাও আম্বেদকর ছিলেন ভারতের সমাজ সংস্কারক ও আইনমন্ত্রী। সোমবার রামদাস আটওয়ালে বলেন, ‘আমি মনে করি অভিজিত দীপকে একজন আম্বেদকরবাদী। তাঁর উচিত রিপাবলিকান পার্টি অব ইন্ডিয়া (এ)-তে যোগ দেওয়া।’

দীপকেকে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি আটওয়ালে বলেন, ‘সরকার বিশ্বাস করে যারা অন্যায় করবে তাদের শাস্তি পাওয়া উচিত।’ তিনি যন্তর মন্তরে হওয়া বিক্ষোভের দিকে ইঙ্গিত করে এ মন্তব্য করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ছাত্রদের ওই বিক্ষোভের মুখে ধর্মেন্দ্র প্রধান শিক্ষামন্ত্রীর পদ ছাড়েন। সে সময় নিট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অন্য পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ছিল। রামদাস আটওয়ালে বলেন, ‘আমরা এমন একটি সরকার যারা বিশ্বাস করে, মানুষ অন্যায় করলে তাদের শাস্তি হওয়া উচিত। তাই দীপকেরও উচিত সরকারি জোটে যোগ দেওয়া।’

নতুন ফ্রন্টে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ

রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধে নতুন অবস্থা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পাল্টাপাল্টি হামলা জোরদার করেছে দুই দেশই। তবে সম্মুখসারিতে লড়াই প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে এবং শান্তি আলোচনা কার্যত হিমঘরে চলে গেছে। এ পরিস্থিতিতে দুই দেশই একে অপরের প্রতিরক্ষা রেখার অনেক গভীরে দীর্ঘপাল্লার হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। ফলে ২০২২ সালে যুদ্ধের প্রথম কয়েক মাসের পর এখন বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

চলতি বছর রাশিয়ার ভেতরে হামলা আরও জোরদার করেছে ইউক্রেন। দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিপুলসংখ্যক ড্রোন ব্যবহার করে দেশটি রাশিয়ার সামরিক শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। রসদ সরবরাহকারী জায়ান্ট ওয়াইল্ডবেরিজের বিভিন্ন ডিপোতেও ইউক্রেন ক্রমবর্ধমানভাবে হামলা চালাচ্ছে। এসব হামলায় কয়েক বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য পুড়ে গেছে। অন্যদিকে রাশিয়াও হামলা অব্যাহত রেখেছে। ইউক্রেনজুড়ে রুশ হামলায় প্রতিদিনই বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা।

লক্ষ্মী মিত্তালের ইস্পাত কারখানায় রুশ হামলা

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ধনকুবের লক্ষ্মী মিত্তালের মালিকানাধীন আর্সেলর মিত্তালের মাইনিং ও মেটালার্জিক্যাল কমপ্লেক্সে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নিজ শহর ক্রিভি রিহে অবস্থিত কমপ্লেক্সটি দেশটির সবচেয়ে বড় সমন্বিত ইস্পাত উৎপাদন কেন্দ্র। ইউক্রেনের চালানো ব্যাপক ড্রোন হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে এই হামলা চালানো হয়। এতে দুজন নিহত ও ১৪ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন।

এ ছাড়া দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে দুজন, সীমান্তবর্তী সুমি অঞ্চলে একজন এবং পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্কে আরও একজন নিহত হয়েছেন।

ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ছে যুদ্ধের আঁচ

রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি ড্রোনকে স্প্যানিশ এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সের একটি এফ-১৮ যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে। রোমানিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় শহর গালাতি থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার উত্তরে, প্রতিবেশী মলদোভার সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। খবর বিবিসি ও সিএনএনের।

৪৯০ এআই ক্যামেরা স্থাপন, মহাসড়কে আইন ভাঙলেই ‘অটো ফাইন’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু করেছে হাইওয়ে পুলিশ। এখন থেকে মহাসড়কে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম, উল্টো পথে চলাচল, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংসহ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনাঘাটে হাইওয়ে পুলিশ কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল মনিটরিং সেন্টারে আধুনিক এআই ক্যামেরাভিত্তিক ‘অটো ফাইন সিস্টেম’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হাইওয়ে পুলিশ একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত মহাসড়ককে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির আওতায় আনতে ইতোমধ্যে ৪৯০টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘কেউ নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করলে, ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে, উল্টো পথে চলাচল করলে কিংবা নিষিদ্ধ স্থানে ওভারটেকিং করলে ক্যামেরা তা শনাক্ত করবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা আরোপ করা হবে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, জরিমানার তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে বিআরটিএর ডাটাবেজে চলে যাবে। এরপর গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠানো হবে। মালিক অনলাইনে বা মোবাইলের মাধ্যমে সহজেই জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। বারবার আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নিবন্ধন বাতিলের বিষয়টি বিআরটিএর বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে।

মহাসড়কে যেকোনো ধরনের অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করে মন্ত্রী বলেন, ‘মহাসড়কে চাঁদাবাজির প্রবণতা—তা মালিক পক্ষ, শ্রমিক ফেডারেশন কিংবা পুলিশের যে কারো পক্ষ থেকেই হোক না কেন—সবকিছুই এই সিসিটিভি ও এআই ক্যামেরায় রেকর্ড হিসেবে জমা থাকবে। ফলে এই অপরাধমূলক প্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে এবং সাধারণ জনগণের সার্বিক সহযোগিতায় মহাসড়ককে সম্পূর্ণরূপে চাঁদাবাজিমুক্ত করা সম্ভব হবে।’

তিনি বলেন, নতুন এ ব্যবস্থা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে হাইওয়ে পুলিশ, বাংলাদেশ পুলিশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হবে। এতে সড়কে আইন মানার প্রবণতা বাড়বে এবং দুর্ঘটনা কমবে বলে সরকার আশা করছে।

মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার ও নন-মোটরাইজড যানবাহন চলাচল প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মহাসড়কে অননুমোদিত ও লাইসেন্সহীন কোনো থ্রি-হুইলার বা নন-মোটরাইজড যান চলতে দেওয়া হবে না এবং এগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে।’

পার্শ্ববর্তী স্থানীয় ফিডার রোড ব্যবহার এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি নেওয়ার মতো অত্যাবশ্যকীয় বিষয়টি শৃঙ্খলার সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য তিনি হাইওয়ে পুলিশ প্রধানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ফেডারেশনের সভাপতি ও সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা।

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মহাসড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা জোরদার এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআইভিত্তিক ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু করা হয়েছে।

চালক-হেলপার-যাত্রী সবাই নারী, চট্টগ্রামে চালু বিশেষ বাস

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে চালু করা হয়েছে বিশেষ ‘মহিলা বাস সার্ভিস’। গোলাপী রঙের এই বাসের চালক, হেলপার ও যাত্রী—সবাই হচ্ছেন নারী। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় নগরীর কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র এলাকায় বেলুন উড়িয়ে এই বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়। ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামেও নারীদের জন্য বিশেষ এই বাস সার্ভিস চালু হলো।

আপাতত দুটি বাস দিয়ে সার্ভিসটি চালু করা হয়েছে। কালুরঘাট থেকে ফ্রি পোর্ট হয়ে পতেঙ্গা পর্যন্ত চলাচল করবে এই দুটি বাস। পথে ১২টি নির্ধারিত পয়েন্টে নারী যাত্রী ওঠানামা করতে পারবেন।

চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদউল্লাহ বিশেষ নারী বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করে বলেন, ‘নারীদের জন্য গণপরিবহনের ব্যবস্থা করাটা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করছেন তিনি। এই বাসের চালক ও হেলপার সবাই নারী। আশা করি, সরকার যে উদ্দেশ্যে এ কর্মসূচি শুরু করেছে, নারীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপদভাবে চলাচল করতে পারেন, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার জিয়াউদ্দিন, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মাসুদ আলমসহ বিআরটিসির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চালু হওয়া দ্বিতল বাসটিতে ৭৫টি আসন এবং অপর বাসে রয়েছে ৪৫টি আসন। দ্বিতল বাসে একজন নারী চালক ও দুজন সহকারী থাকবেন। অপর বাসে একজন চালক ও একজন সহকারী থাকবেন।

চট্টগ্রাম নগরীতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক নারী গণপরিবহনে চলাচল করেন। ভিড়, আসনসংকট ও নিরাপত্তাজনিত বিভিন্ন সমস্যার কারণে তাদের অনেক সময় ভোগান্তিতে পড়তে হয়। নারী চালক ও সহকারী পরিচালিত পৃথক বাস সার্ভিস চালুর ফলে এসব সমস্যা কমে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামে ভুয়া ডিবি চক্রের মূলহোতা গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম নগরের কে সি দে রোডের শহীদ মিনারের আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে ডিবি পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় ভুয়া ডিবি চক্রের মূলহোতা সাজু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো।

মঙ্গলবার পিবিআই চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

পিবিআই জানায়, ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ব্যবসায়ী পুলক দাশকে (৪৫) ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে মুখ বাঁধা অবস্থায় গাড়ি থেকে ফেলে দেওয়া হয়। এ সময় তার কাছে থাকা স্বর্ণ বিক্রির নগদ ১৭ লাখ ৯০ হাজার ৫২০ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোনসহ প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৫০ টাকা মূল্যের মালামাল ছিনিয়ে নেয় চক্রটি।

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন পুলক দাশ। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেন।

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার এস এম রফিকুল ইসলাম বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ভুয়া ডিবি পরিচয়ধারী চক্রটির মূলহোতা সাজু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, মামলার তদন্ত ও গ্রেপ্তার আসামির জবানবন্দিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।