Home Blog Page 4

ব্যাংকে উদ্বৃত্ত তারল্য বেড়ে চার লাখ কোটি টাকা

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটসহ নানা কারণে আশানুরূপ বিনিয়োগ হচ্ছে না। উচ্চ খেলাপির কারণে ঋণ বিতরণে সতর্কতা দেখাচ্ছে ব্যাংক। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে নেমেছে। ঝুঁকিমুক্ত বিবেচনায় ভালো ব্যাংকগুলো সরকারকে ঋণ দেওয়ায় বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে। এ অবস্থায় ব্যাংক খাতে রেকর্ড পরিমাণ উদ্বৃত্ত তারল্য তৈরি হয়েছে। গত জুন শেষে প্রথমবারের মতো উদ্বৃত্ত তারল্য চার লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কয়েকটি ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে আমানত ফেরত দিতে না পারায় মানুষের হাতে টাকা রাখার প্রবণতা বেড়েছিল। বর্তমানে এ প্রবণতা কমেছে। ঘরের টাকা ব্যাংকে ফিরছে। তবে এই অর্থ আসছে হাতেগোনা কয়েকটি ব্যাংকের কাছে। ভালো ব্যাংকগুলো তুলনামূলক কম সুদ দিলেও যথাসময়ে টাকা ফেরত পাওয়ার প্রত্যাশা থেকে সেখানেই টাকা রাখছে বেশির ভাগ মানুষ। ফলে ঋণ বিতরণও করছে মূলত হাতেগোনা কয়েকটি ব্যাংক। এসব ব্যাংকেই উদ্বৃত্ত তারল্যের বড় অংশ।

উদ্বৃত্ত তারল্য মানেই নগদ বা তাৎক্ষণিক ঋণযোগ্য তহবিল নয়; বরং উদ্বৃত্ত অর্থের অধিকাংশই বিভিন্ন বিল ও বন্ডে বিনিয়োগে আছে। বিল ও বন্ডের বিপরীতে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এসএলআর বা সহজে বিনিময়যোগ্য সম্পদ সংরক্ষণ করে থাকে। বর্তমানে একটি ব্যাংকের তলবি ও মেয়াদি দায়ের ১৩ শতাংশ এসএলআর হিসেবে রাখতে হয়। এ ছাড়া নগদ জমা সংরক্ষণ বা সিআরআর রাখতে হয় ৪ শতাংশ। এ দুয়ের অতিরিক্ত অর্থ উদ্বৃত্ত তারল্য হিসেবে বিবেচিত। প্রয়োজন হলে বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করা উদ্বৃত্ত অর্থ ব্যাংকগুলো যে কোনো সময় নগদায়ন করতে পারে। যে কারণে এই অর্থ উদ্বৃত্ত তারল্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী– গত জুন শেষে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য দাঁড়িয়েছে চার লাখ আট হাজার কোটি টাকা। আগের মাস মে শেষে যা ছিল তিন লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা। ছয় মাস আগে গত ডিসেম্বর শেষে উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল তিন লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের জুন শেষে ছিল দুই লাখ ৮৩ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে ২০২৪ সালের জুন শেষে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল এক লাখ ৯৩ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা। ২০২৩ সালের জুন শেষে যা এক লাখ ৬৬ হাজার ২৭২ কোটি টাকা ছিল। ২০২২ সালের জুন শেষে ছিল দুই লাখ তিন হাজার ৪২৪ কোটি টাকা।

ব্যাংক এশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরফান আলী সমকালকে বলেন, ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নতি না হওয়ায় উদ্যোক্তারা এখন ঋণ নিতে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। আবার এখন যে উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে, এর বেশির ভাগই কয়েকটি ব্যাংকের কাছে। এসব ব্যাংক ঝুঁকি না নিয়ে সরকারি বিল, বন্ডে টাকা খাটানোর ওপর জোর দিয়েছে। এ প্রবণতার ফলে শিল্প উৎপাদন কমে যাবে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস সংযোগসহ অবকাঠামো ঠিক করতে না পারলে বিনিয়োগ চাহিদা বাড়বে না। এখন যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, ঋণের সুদহার কমে আসবে। তবে দুর্বল ব্যাংকের কারণে আমানতের সুদ অনেক বেশি কমবে না। প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি ঋণ ও আমানতের মধ্যকার সুদহারের সর্বোচ্চ ব্যবধান (স্প্রেড) ৪ শতাংশ নির্ধারণ করে দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত মে মাসে কম সুদের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করলেও তাতে তেমন সাড়া মিলছে না। এর মধ্যে নীতি সুদহার ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ করেছে। এর আগে করোনাভাইরাসের প্রভাব শুরুর পর ব্যাংক খাতে ঋণ চাহিদা ব্যাপক কমে যায়। ওই সময়ে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ভর্তুকি সুদে ১২টি প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ৯৪ হাজার ২৫০ কোটি টাকা বিতরণের উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বেশির ভাগ প্রণোদনা তহবিলের সুদহার ছিল ৪ শতাংশ। এরপরও ঋণ সেভাবে বাড়েনি। যে কারণে ২০২১ সাল শেষে উদ্বৃত্ত তারল্য বেড়ে দুই লাখ ৩১ হাজার ৭১১ কোটি টাকায় ওঠে। ওই সময় পর্যন্ত উদ্বৃত্ত তারল্যের যা ছিল রেকর্ড। তখন বিতরণ করা ঋণের অপব্যবহারের বিভিন্ন তথ্য উঠে আসে।

সীতাকুণ্ডের ইয়ার্ডে মৃত্যু টানাটানির দুই সংসারে দুই সন্তান হারানোর শোক

২০১৮ সালে এসএসসি পাস করেছিলেন মোহাম্মদ খোকন মিয়া। কাজের সন্ধানে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের বাড়ি ছেড়ে সে বছরই ঢাকায় যান। কয়েক বছর কাজ করেন পোশাক তৈরির কারখানায়। ২০২৫ সালে তিনি যোগ দেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারীতে অবস্থিত ফেরদৌস শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে। এক বছরের মাথায় গত শুক্রবার স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত গ্যাসে অন্য আটজনের সঙ্গে প্রাণ গেছে তাঁর।

গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত হলদিয়া গ্রামে আনা হয় খোকনের (২৬) মরদেহ। এ সময় স্বজনের কান্নায় দেখা দেয় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন হয় খোকনের। তিনি ওই গ্রামের মো. রানা মিয়ার ছেলে।
এক বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে খোকন সবার ছোট। খোকনের আয়েই টানাটানি করে চলত সংসার। তিন বছর আগে পাশের গ্রামের শাপলা বেগমকে বিয়ে করেন তিনি। এ দম্পতির একমাত্র ছেলে জিসানের বয়স সবে দেড় বছর।

মো. রানা মিয়া বলেন, ‘ছেলের বেতনে সংসার চলত। মালিক আমার সেই ছেলেটিকে কেড়ে নিল। এখন আমার দেড় বছর বয়সী নাতি জিসানের দায়িত্ব নিবে কে? অল্প বয়সে আমার নাতি বাবাহারা হয়ে গেল। তাকে নিয়ে কোথায় যাব?’
স্বামীর সঙ্গে কিছু বিরোধের কারণে সাত-আট মাস ধরে বাবার বাড়িতেই আছেন শাপলা বেগম। মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ছুটে আসেন শ্বশুরবাড়ি। শিশু জিসানের ভরণপোষণের জন্য কোম্পানি ও সরকারের সহায়তা চান শাপলা ও তাঁর শ্বশুর।

ধোপাডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোকলেছুর রহমান মণ্ডলের ভাষ্য, অকালে ছেলেটিকে হারিয়ে পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে গেল। তাঁর শিশুসন্তান ও পরিবারের সহায়তা দরকার। ইউএনও ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, তাঁর নজরে এসেছে এই দুর্ঘটনার তথ্য। তিনি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দিয়েছেন।

‘ব্যাটাক কারখানাত মারি ফেলালো’
‘বড় ছেলে বিয়ে করি আলাদা খায়। সংসার চালাতো ছোট ছেলে রানা। সেই ব্যাটাক ওমরা (ওরা) কারখানাত নিয়ে যায়া মারি ফেলালো।’ এমন আর্তনাদ করছিলেন মনোয়ারা বেগম। তাঁর ছেলে মোহাম্মদ রানা মিয়া (২৩) মারা গেছেন একই দুর্ঘটনায়। গতকাল গাইবান্ধা সদরের কুপতলা ইউনিয়নের গোডাউন বাজারসংলগ্ন উত্তরপাড়া গ্রামে দেখা যায় তাঁর স্বজনের আহাজারির দৃশ্য।
গতকাল সকাল ৯টায় রানার লাশ পৌঁছায় বাড়িতে। জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়। বাড়িতে  মা মনোয়ারা বেগম কাঁদছিলেন আর বলছিলেন, ‘কয়েকদিন আগেই বাড়িত আসছিল। মোর বাওয়ার (ছেলে) সাথে আর দেখা হবে না। হামরা এখন কিভাবে বাঁচি থাকমু?’

উত্তরপাড়ার হারুন মিয়ার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। সবার ছোট রানা। পেশায় কৃষক হারুন মিয়া অনটনের মধ্যেও তিন সন্তানকে লেখাপড়া শিখিয়েছেন। বড় ছেলে মোনারুল চট্টগ্রামে আবুল খায়ের স্টিল মিলে কর্মরত। রানাও সেখানে কাজ করতেন। কারখানা বন্ধ হওয়ায় সম্প্রতি ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে কাজ নেন।

রানার সঙ্গে একই সঙ্গে পড়াশোনা করতেন প্রতিবেশী তয়ন ইসলাম। তয়নের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২১ সালে রানা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পাস করেন। পরে সাদুল্লাপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি উত্তীর্ণ হন। গাইবান্ধা সরকারি কলেজে ডিগ্রিতে ভর্তি হওয়ার জন্য কিছুদিন আগেই বাড়িতে এসেছিলেন রানা। ‘এভাবে সে মারা যাবে, ভাবতেও পারছি না’ বলে চুপ করে যান তয়ন। প্রিয় বন্ধু হারানোর শোক তাঁকে যেন চেপে ধরেছে।
উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে অন্ধকার দেখছেন হারুন মিয়া। তিনি বলেন, ‘আমার দুই ছেলে এক মেয়ের মধ্যে বড় ছেলের বিয়ে হয়েছে। অভাবের কারণে পড়ালেখা শেষ করার আগেই সংসারের হাল ধরতে চট্টগ্রামে চাকরি নেয় রানা। সেই সংসার চালাতো। আমি গরিব মানুষ, জমিজমা নাই। রানার মৃত্যুতে আমি একেবারে শেষ। সংসারের হাল ধরার মতো আর কেউ থাকল না।’

মাদ্রাসার পাশে বিস্ফোরণ, আহত চার শিশুশিক্ষার্থী

মাদারীপুরের কালকিনিতে একটি মহিলা মাদ্রাসায় হাতবোমা বিস্ফোরণে চার শিশু আহত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে পৌর এলাকার গোপালপুর দারুসসুন্নাহ মহিলা মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। এক শিশু টেনিস বলের মতো দেখতে একটি বস্তু নিয়ে খেলার সময় সেটি বিস্ফোরিত হয়। এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর যশোরের কেশবপুরে ককটেল বিস্ফোরণে এক যুবক আহত হন। মেহেরপুরের তিনটি জায়গায়  বোমা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ জানায়, তারা এসব জায়গা থেকে সাউন্ডবক্স উদ্ধার করেছে।

বল ভেবে খেলা শুরু 
ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল সাড়ে ৯টা। কালকিনি পৌর এলাকার গোপালপুরের দারুসসুন্নাহ মহিলা মাদ্রাসার সামনে খেলছিল শিশু শিক্ষার্থীরা। তাদের একজন পাশের ইমন সরদারের ঘরের সামনে টেনিস বলের মতো বস্তু কুড়িয়ে পায়। সেটি দিয়ে খেলা শুরু করতেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।

এ ঘটনায় পৌরসভার মিনাজদী এলাকার সেলিম তালুকদারের মেয়ে আবিদা আক্তার (১১), পশ্চিম মিনাজদী এলাকার ছিরাতুল তালুকদারের মেয়ে জান্নাত (১২), গোপালপুর এলাকার রুবেল মাতুব্বরের মেয়ে তাসমিয়া আক্তার মিনহা (১১), একই এলাকার শাহিন সরদারের মেয়ে মিনহা (১১) আহত হয়। তাদের সঙ্গে সুলতানা নামের আরেক শিশু থাকলেও সে অক্ষত আছে।

আবিদার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এই শিশুরা সবাই মাদ্রাসাটিতে নূরানি পড়ত বলে জানান শিক্ষক মাওলানা হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ওরা কয়েকজন বান্ধবী মিলে খেলতে খেলতে সেখানে গিয়েছিল। এ সময় হঠাৎ বিস্ফোরণে আহত হয়েছে। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি এখানে যারা বোমা রেখেছে, তাদের শনাক্ত করে দ্রুত শাস্তির  আওতায় আনার দাবি জানান।

ইমন সরদার বলেন, তাঁর ঘরের সামনে কীভাবে এমন বিস্ফোরণ হলো, এ বিষয়ে কোনো ধারণাই নেই। নাহিদা খানম নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘মারাত্মক একটি ঘটনা ঘটে গেল। ভাগ্য ভালো যে, বড় ধরনের কিছু হয়নি, কেউ মারা যায়নি।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা জানিয়েছেন, সংবাদ পেয়েই কালকিনি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরে সেখানে র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা যান। কীভাবে হাতবোমাটি সেখানে এসেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আহত যুবক পুলিশি নজরদারিতে
বেলা ১১টার দিকে যশোরের কেশবপুরে ককটেল বিস্ফোরণে এক যুবক আহত হয়েছেন। যশোর-চুকনগর সড়কের উপজেলার মধ্যকুল তেলপাম্পের উল্টোপাশে এ ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে আহত জুয়েল সরদারকে (২৫) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি কেশবপুর পৌরসভার মধ্যকুল এলাকার খানজাহান আলী সরদারের ছেলে। তাঁর ওপর নজরদারি করছে পুলিশ।

কেশবপুর থানার ওসি রোকসানা খাতুন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আরও দুটি ককটেলসদৃশ বস্তু পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে স্প্লিন্টার উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে কাচের গুলিসদৃশ দুটি পোঁটলাও পাওয়া গেছে। আহত জুয়েল সরদার পুলিশি নজরদারিতে আছেন।

বোমাতঙ্কের পর বাজল ভাষণ
এদিন ভোর থেকে মেহেরপুর শহরের তিনটি জায়গায় বৈদ্যুতিক তারে ঝোলানো বস্তু নিয়ে আতঙ্ক দেখা দেয়। পুলিশ সাড়ে ৯টার দিকে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে, শহরের কোর্টমোড় ও ড. শহীদ সামসুজ্জোহা পার্কের সামনে থেকে সেগুলো উদ্ধার করে জানায়, এসব বোমা নয়, অটোরিকশায় থাকা সাউন্ডবক্স। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, সকাল সোয়া ৯টার দিকে পার্কের সামনে থাকা বক্সটি থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজছিল।

পুলিশ জানায়, সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বৈদ্যুতের খুঁটির তারে একটি বক্স আকৃতির বস্তু দেখতে পান এলাকাবাসী। তখন সেটি বোমা মনে করেন অনেকে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উৎসুক মানুষের ভিড় জমতে থাকে। সংবাদ পেয়ে সদর থানা পুলিশের একটি দল জনসাধারণের সাহায্যে বক্সটি নামিয়ে আনে। পানিভর্তি বালতিতে রাখার কিছুক্ষণ পর ব্যাটারির সঙ্গে তারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। বাক্স খুলে দেখা যায়, এগুলো সাউন্ডবক্স। ভেতরে মেমরি কার্ড আছে। পরে শহরের কোর্ট মোড় ও ড. শহীদ সামসুজ্জোহা পার্কের সামনে বৈদ্যুতিক খুঁটির তারে আরও দুটি একইরকম বস্তু পাওয়ার সংবাদ পেয়ে সেগুলো উদ্ধার করা হয়।

সদর থানার ওসি হুমায়ন কবীর জানান, ‘ঘটনাটি আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নয়। এগুলো বোমা নয়। অটোবাইকে ব্যবহৃত সাউন্ডবক্স। এতে মেমরি কার্ড লাগানো। এগুলো উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এসব রাখায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’

ভালো ফলে আনন্দের সঙ্গে ‍দুশ্চিন্তা

এসএসসিতে ভালো ফল করলে শিক্ষার্থী ও তার পরিবার আনন্দিত হয়। কিন্তু জয়পুরহাট সদর, রাজশাহীর বাঘা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের তিন কন্যার মনে ততটা উচ্ছ্বাস নেই। ভালো ফল তাদের জন্য আনন্দের সঙ্গে বয়ে এনেছে একরাশ দুশ্চিন্তা। দারিদ্র্যের বাধা ডিঙিয়ে পড়াশোনা আর চালিয়ে নিতে পারবে কি না সে উৎকণ্ঠায় তাদের মন ভার।
অভাব-অনটনের সংসার। থাকার জন্য ছোট্ট একটি টিনের ঘর। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর পানি পড়ে। মা-বাবা ও ছোট বোনসহ সন্ধ্যা খাতুন এককক্ষের সেই ঘরেই থাকে। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে সে। কিন্তু ভালো কলেজে পড়ানোর সামর্থ্য পরিবারের নেই।

সন্ধ্যা খাতুন রাজশাহীর চারঘাটের বামনদিঘী মন্ডলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। বামনদিঘী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এবার জিপিএ ৫ পেয়েছে সে। তার বাবা বকুল আলী ইটভাটার শ্রমিক এবং মা মান্নি আরা বেগম গৃহিণী।
বামনদিঘী মন্ডলপাড়া গ্রামে গিয়ে কথা হয় সন্ধ্যার সঙ্গে। সে বলে, আমার স্বপ্ন বড় হয়ে ম্যাজিস্ট্রেট হবো। অনেক কষ্টের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে গেছি। এখন ভালো একটি কলেজে ভর্তি হতে চাই। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চাই। সন্ধ্যার মা মান্নি আরা বেগম বলেন, মেয়েটার পড়াশোনার প্রতি অনেক আগ্রহ। কিন্তু আমাদের সামর্থ্য নেই। সরকারি সহযোগিতা করলে মেয়েটা ভালোভাবে পড়তে পারত।

ভবিষ্যৎ চিন্তায় কাঁদছে কণিকা
জয়পুরহাট সদর উপজেলার মাধাইনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়েছে কণিকা রাণী পাল। তার ইচ্ছা ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার। সে পর্যন্ত যাওয়া তো অনেক দূর, এখন কলেজে ভর্তি হতে পারবে কি না সেই চিন্তায় কাঁদছে মেয়েটি।
সদর উপজেলার মাধাইনগর বাজারের পাশেই তাদের মাটির বাড়ি। বাবা গোপাল চন্দ্র পাল দরজি শ্রমিক। মা মালতি রাণী পাল বাড়িতে মাটির পাত্র তৈরি করেন।
প্রধান শিক্ষক এনামুল হক বেতন ভাতা থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ের যাবতীয় ব্যয়ভারে সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তাকে সহযোগিতা করেন। আর সারাবছর বিনা টাকায় টিউশনিতে সহযোগিতা করেন স্কুলের পদার্থ বিজ্ঞানের সহকারী শিক্ষক মাসুদুল হক।

মা মালতি রাণী পাল বলেন, অভাবের কারণে পড়ালেখা বন্ধের কথা বললেই মেয়ের দুচোখ দিয়ে জল ঝরে। তার বাবার সামান্য আয়ে সংসারই চলে না। নিজেও মাটির পাত্র বানিয়ে বিক্রি করি। দুজনের এই সামান্য আয় দিয়ে সংসার চালাব না মেয়েকে পড়ালেখা করাব?
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাসুদুল হক বলেন, অর্থাভাবে মেয়েটি যদি কলেজে ভর্তি হতে না পারে তাহলে সব অর্জন বৃথা যাবে। প্রধান শিক্ষক এনামুল হক বলেন, শুধু কণিকা নয় অভাবের কারণে স্কুলের কোনো শিক্ষার্থীর যেন পড়ালেখা বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা সবসময় থাকবে।

পড়াশুনা না সংসার চিন্তায় ইতি
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার লাভাঙ্গা গ্রামের শিক্ষার্থী ইতি খাতুন রাণীহাটি এম এল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উপজেলা পর্যায়ে প্রথম হয়েছে।
পরীক্ষার শেষদিকে অসুস্থ বাবা মারা যান। তিনিই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। দুই বোনের বিয়ে হয়েছে। এখন সংসারে আছে ইতি, তার মা ও পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছোট বোন। সংসার চলবে না, কলেজে ভর্তি হবে এ চিন্তায় দিন কাটছে ইতির। সে জানায়, গরিব শিক্ষার্থীরা যেন ঝরে না পড়ে এজন্য একজন আদর্শ শিক্ষক হতে চায় সে।

উদ্ভাবন শুঁটকি ও খাদ্য সংরক্ষণে লাগবে না রোদ

কৃষি ও মৎস্যপণ্যের উৎপাদন বাড়লেও সংগ্রহ-পরবর্তী সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ঘাটতির কারণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পণ্য নষ্ট হয়। বিশেষ করে মাছ, শুঁটকি, ফল ও সবজি শুকানোর ক্ষেত্রে বৃষ্টি, অতিরিক্ত আর্দ্রতা, ধুলাবালি ও পোকামাকড়ের কারণে পণ্যের মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রচলিত পদ্ধতিতে রোদে শুকাতে গিয়ে বৃষ্টি, ধুলাবালিসহ নানা সমস্যা পোহাতে হয়। এসব সমস্যা সমাধানে সৌরশক্তি, সেন্সর ও ইন্টারনেট অব থিংস প্রযুক্তির সমন্বয়ে স্মার্ট ড্রায়ার উদ্ভাবন করেছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশিং অ্যান্ড পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগ।

গতকাল শুক্রবার শেকৃবি সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তাঁর এ উদ্ভাবন সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন ওই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা। উদ্ভাবকদের দাবি, প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় এই ড্রায়ারে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে দ্রুত ও নিরাপদে মাছ, শুঁটকি, ফল, সবজি ও বিভিন্ন কৃষিপণ্য শুকানো সম্ভব।

দেশে দীর্ঘদিন ধরে মাছ ও অন্যান্য কৃষিপণ্য খোলা জায়গায় রোদ ও বাতাসের সাহায্যে শুকানো হয়। কম খরচের এই পদ্ধতিতে বৃষ্টি, ধুলাবালি ও পোকামাকড়ের সংস্পর্শে পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে শুকানোর প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে পচনও শুরু হতে পারে। শুঁটকি তৈরিতে অনিরাপদ রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে, যা খাদ্যনিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ।

এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে স্মার্ট ড্রায়ারে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা শুকানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দিনের বেলায় সৌরশক্তি ব্যবহার করে তা ব্যাটারিতে সঞ্চয় করা হয়। রাতে সেই সঞ্চিত শক্তি ব্যবহার করে ইনফ্রারেড হিটারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তাপ উৎপাদন করা যায়। ফলে বাইরে বৃষ্টি বা মেঘলা আবহাওয়া থাকলেও ড্রায়ারের ভেতরে শুকানোর কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব।

ড্রায়ারটির ভেতরে রয়েছে চারটি এক্সজস্ট ফ্যান ও আটটি রোটেটিং ফ্যান। এক্সজস্ট ফ্যান পণ্য থেকে বের হওয়া আর্দ্রতা দ্রুত বাইরে সরিয়ে ড্রায়ারের ভেতরের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। অন্যদিকে রোটেটিং ফ্যান ভেতরের তাপ সমভাবে ছড়িয়ে দেয়। ফলে বিভিন্ন স্তরে থাকা পণ্য তুলনামূলকভাবে সমান পরিবেশে শুকানোর সুযোগ পায়। প্রযুক্তিটির আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ইন্টারনেট অব থিংস ও সেন্সরভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। ড্রায়ারের ভেতরের বিভিন্ন পরিবেশগত বিষয় সেন্সরের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা যায়। পাশাপাশি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দূর থেকেও এর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের সুযোগ রয়েছে।
উদ্ভাবকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রচলিত পদ্ধতিতে দিনে প্রায় পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা কার্যকরভাবে মাছ শুকানো যায়। বিপরীতে স্মার্ট ড্রায়ারে ২৪ ঘণ্টা শুকানোর সুযোগ থাকায় শুকানোর সময় প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এতে একই সময়ে বেশি পরিমাণ শুঁটকি উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

শুধু মাছ বা শুঁটকি নয়, এই প্রযুক্তিতে ফল, সবজি, সি-ফুড ও বিভিন্ন কৃষিপণ্য শুকিয়ে মূল্য সংযোজিত পণ্য তৈরি করা যায়। আম, বিটরুট, রোজেলা, লেমন, কাঁঠাল, কলা, করলা, কাঁচামরিচ ও ধনিয়াপাতাসহ বিভিন্ন পণ্য থেকে পাউডার, চা ও জার্কি তৈরিও সম্ভব এই ড্রায়ার ব্যবহার করে।

উদ্ভাবক ড. মাসুদ রানা বলেন, লক্ষ্য শুধু একটি শুকানোর যন্ত্র তৈরি করা নয়; বরং কৃষক ও মৎস্যজীবীদের উৎপাদিত কাঁচামাল স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজিত পণ্যে রূপান্তরের সুযোগ তৈরি করা। দেশের বিভিন্ন কৃষি ও মৎস্যপ্রধান এলাকায় প্রযুক্তিটি সম্প্রসারণ করা গেলে খাদ্য অপচয় কমানো, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষকের আয় বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।

এক দিন পর উৎপাদনে ফিরল বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিট

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এক দিন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটে আবারও বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল ৯টা ৪৩ মিনিট থেকে উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে এ ইউনিট থেকে ৫০ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বর্তমানে ১ নম্বর ইউনিট থেকে ৫০ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে হঠাৎ ১ নম্বর ইউনিটের একটি পাম্পে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। পরে ইউনিটটি বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এতে ওই ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে মোট তিনটি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ৩ নম্বর ইউনিটটি চালু রয়েছে। এ ইউনিট থেকে ১৭০ থেকে ১৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিটটি ২০২০ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে।

৪২৬ রানে অলআউট বাংলাদেশ, লিড ২২৮ রানের

লাঞ্চের পর ফিরে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। জশ হ্যাজলউডের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারির ক্যাচ হন তিনি। ১৫৪ বলে ৬৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন মিরাজ।

মিরাজকে ফিরিয়ে টেস্টে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন হ্যাজলউড। একই সঙ্গে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ৩০০ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেন অস্ট্রেলিয়ার এই পেসার। অস্ট্রেলিয়ার নবম বোলার হিসেবে টেস্টে ৩০০ উইকেটের ক্লাবে ঢুকেছেন তিনি।

এরপর শেষ উইকেট হিসেবে এবাদত হোসেনকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসও গুটিয়ে দেন হ্যাজলউড। ১৩৭.৬ ওভারে শর্ট অব লেংথের বলে ব্যাট চালিয়ে অ্যালেক্স ক্যারির ক্যাচ হন এবাদত। ১৮ বলে ৭ রান করেন তিনি।

বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ৪২৬ রানে অলআউট হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের জবাবে সফরকারীদের লিড দাঁড়িয়েছে ২২৮ রান। বাংলাদেশের হয়ে ব্যাট হাতে তানজিদ হাসান তামিমের ১০১, নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ ও মিরাজের ৬৫ রানের ইনিংস ছিল উল্লেখযোগ্য। এখন দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামবে অস্ট্রেলিয়া।

২১৯ রানের লিড নিয়ে লাঞ্চে বাংলাদেশ

ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনও নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। মিরাজের অপরাজিত ফিফটির সঙ্গে তাসকিনের ব্যাটিংয়ে লাঞ্চে যাওয়ার সময় ৮ উইকেটে ৪১৭ রান করেছে সফরকারীরা। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে করা ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ২১৯ রানে।

দিনের শুরুতে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। প্রথম সেশনেই ২ উইকেট হারালেও মিরাজের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে বড় লিডের পথে এগিয়ে যায় দল। হাসান মাহমুদকে নিয়ে ৪৬ রানের জুটি গড়ার পর ৯২ বলে ১৪ রান করে ফেরেন হাসান। জশ হ্যাজলউডের ফুল ও সোজা বল তার প্যাডে আঘাত করলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। এরপর তাইজুল ইসলাম ২৩ বলে ১৭ রান করে আউট হন। হ্যাজলউডের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে গালিতে ক্যামেরন গ্রিনের হাতে ক্যাচ দেন তিনি।

এরপরও এক প্রান্ত আগলে রাখেন মিরাজ। ১১৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। এর আগে দিনের শুরুতেই হ্যাজলউডের বলে এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে আউট দেওয়া হলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান এই অলরাউন্ডার। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল স্টাম্পের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল।

তৃতীয় দিনের প্রথম ঘণ্টা পেরিয়ে বাংলাদেশের লিড দুইশ ছাড়ায়। এরপর প্যাট কামিন্সের বলে চার মেরে দলকে ৪০০ রানের মাইলফলকে পৌঁছে দেন তাসকিন। পরের বলেই অবশ্য জীবন পান তিনি। স্কয়ার লেগে তার ক্যাচ নিতে পারেননি স্টিভ স্মিথ।

সেশনের শেষ দিকে ক্যামেরন গ্রিনের বাউন্সারে দারুণ এক শটে ফাইন লেগ দিয়ে ছক্কা হাঁকান মিরাজ। লাঞ্চে যাওয়ার সময় ১১৭ বলে ৬৫ রানে অপরাজিত তিনি। তার সঙ্গে ১২ রানে ব্যাট করছেন তাসকিন আহমেদ। তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে ২৩ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৬৬ রান করেছে বাংলাদেশ।

পুঁজিবাজার থেকে ১৫০০ কোটি টাকা তুলতে চায় সিটি গ্রুপ

সংকট কাটাতে পুঁজিবাজার থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দেশের অন্যতম ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক সিটি গ্রুপ। গ্রুপটি বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ যথাসময়ে পরিশোধ না করতে পেরে বর্তমানে সমস্যায় রয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের ঋণ ঋণ পুনর্গঠন সুবিধার আওতায় খেলাপি না করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ সময়ের মধ্যে গ্রুপটি কিছু সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে আংশিক ঋণ সমন্বয় করার কথা।

সিটি গ্রুপ জানিয়েছে, তহবিল সংগ্রহের জন্য ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও), প্রাইভেট ইকুইটি, প্রেফারেন্স শেয়ার, করপোরেট বন্ড, সুকুক বা অনুমোদিত অন্য যেকোনো পুঁজিবাজার উপকরণ থাকতে পারে। লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টস সব ধরনের বিধিবিধান ও প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন সাপেক্ষে ইস্যু ব্যবস্থাপনা ও পুঁজিবাজার কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবে। প্রস্তাবিত লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত ব্যাংকিং সেবা ও অবকাঠামো দিতে ব্যাংকিং পার্টনার ও ব্যাংকার টু দ্য ইস্যু হিসেবে লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টের সঙ্গে কাজ করবে ওয়ান ব্যাংক।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসান, গ্রুপের উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার ও পরিচালক ফারজানা রহমান এবং শম্পা রহমান, ওয়ান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহিত রহমান, লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের এমডি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এ তহবিল সংগ্রহের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো পুঁজিবাজারে প্রবেশ করছে সিটি গ্রুপ।

আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে যথাযথ আইন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং বাজার পরিস্থিতি সাপেক্ষে প্রস্তাবিত এ তহবিল সংগ্রহ প্রক্রিয়া করা হবে। অন্যান্য অর্থায়ন বিকল্পের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি ও অর্থায়নের চাহিদা মেটাতে টেকসই একটি উৎস হিসেবে পুঁজিবাজারকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
সিটি গ্রুপ পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে ব্যবসা করছে। ভোজ্যতেল, আটা-ময়দা, চিনি, ডাল, চাল, ফিডসহ অন্যান্য ভোগ্য ও শিল্প পণ্যের ব্যবসা রয়েছে। পাশাপাশি ইস্পাত, শিপিং, চা ও গণমাধ্যমে তাদের বিনিয়োগ রয়েছে। তীর, বেঙ্গল, ন্যাচারাল, জীবন, কুইক বাইট ও জেলফি সিটি গ্রুপের অন্যতম ব্র্যান্ড।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ পর্যন্ত সিটি গ্রুপের দেশি-বিদেশি মোট ৪৭ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ২৪ হাজার ৯১১ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে। ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রায় ২৩শ কোটি টাকার পাবে এইচএসবিসি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১শ কোটি টাকা পাবে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ। পর্যায়ক্রমে শীর্ষ পাওনাদারের তালিকায় রয়েছে–সিটি, ইউসিবি, ইস্টার্ন, পূবালী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, প্রাইম, ব্র্যাক ও ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক। বিপুল অঙ্কের এই ঋণের মধ্যে গ্রুপটির বৈদেশিক মুদ্রার ঋণ ৩ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যস্ততায় ঋণ দেওয়া ব্যাংকগুলো একটি কমিটি গঠন করেছে। একাধিক বৈঠকও করেছে গ্রুপটি।

এসব বৈঠকে গ্রুপটির সবচেয়ে বড় ঋণের বোঝা থাকা হোসেন্দী অর্থনৈতিক অঞ্চলের ৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কয়েকটি বিক্রির বিষয়ে আলোচনা হয়। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় ১০৮ দশমিক ৫৭ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ঋণ রয়েছে। ২০২২ সালে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত হলেও গ্যাস সংযোগ না পাওয়ায় কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। বিপুল অঙ্কের অর্থ আটকে যাওয়ায় গ্রুপটির সংকটের অন্যতম কারণ। এছাড়া ২০২২ সালে বিনিময়হারে বড় পরিবর্তনের কারণেও তারা লোকসানে পড়ে। ঋণ পরিশোধ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গ্রুপটির মালিকানাধীন ১৮ হাজার ৮৭৫ একর আয়তনের ৮টি চা বাগানের আংশিক বিক্রি হতে পারে। পুরো গ্রুপের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আন্তর্জাতিক অডিট প্রতিষ্ঠান ‘আর্নেস্ট অ্যান্ড ইয়ং’কে দিয়ে একটি ব্যবসায়িক পুনর্গঠন পরিকল্পনা তৈরি করানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ নীতি সহায়তার আওতায় খেলাপি না করা, সুদের হার কমানো, ১ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন সুবিধা চেয়ে গত ৩১ মার্চ আবেদন করে সিটি গ্রুপ। এ বিষয়ে গভর্নরের সঙ্গে গ্রুপটির নীতি নির্ধারকরা বৈঠক করেন। ব্যাংকগুলোও নিজেরা বৈঠক করে একটি কমিটি গঠন করে।

অর্থাভাবে থমকে তিন মেধাবীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন

অদম্য ইচ্ছা আর কঠোর অধ্যবসায়ের কাছে হার মেনেছে দারিদ্র্য। ‘নুন আনতে পান্তা ফুরানো’ সংসারে থেকেও এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে কেশবপুরের তিন অদম্য মেধাবী ছাত্রী– সুমি খাতুন, তানিয়া নাসরিন ও হাজিরা আক্তার মিতু। তারা উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের গড়ভাংগা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। তবে এই অর্জনের আনন্দের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর বিষাদ। চরম অর্থকষ্টে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তাদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ।

২০ কিলোমিটার হেঁটে চূড়ায় সুমি
সুমি খাতুন মনিরামপুর বাঙালীপুর গ্রামের দিনমজুর আব্দুস সাত্তারের মেয়ে। পাঁচ সদস্যের সংসার আর তিন বোনের লেখাপড়ার খরচ চালাতে গিয়ে তার বাবাকে হিমশিম খেতে হয়। অর্থাভাবে স্কুলে যাতায়াতের জন্য গাড়ি ভাড়া বা সাইকেলের সংস্থান হতো না সুমির। দিনে প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ হেঁটে সে স্কুলে যাতায়াত করেছে।

সুমি জানায়, বেলকাটি গ্রামে নানা বাড়িতে থেকে সে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়। কিন্তু সপ্তম শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় নানা মকছেদ গাজী মারা যান। তখন ১০ কিলোমিটার দূরের নিজ বাড়িতে ফিরতে হয় তাকে। শত কষ্টেও স্কুল ছাড়েনি সে। বিজ্ঞানে জিপিএ ৫ পেলেও সুমির দুশ্চিন্তা, কলেজে ভর্তি হওয়া নিয়ে।

অসুস্থ বাবার দুশ্চিন্তা ঠেলে তানিয়ার জয়
তানিয়া নাসরিন ও হাজিরা আক্তার মিতুর বাড়ি ব্যাসডাঙ্গা গ্রামে। তাদের এলাকা বছরের প্রায় আট মাসই জলাবদ্ধ থাকে। প্রতিদিন কাদাপানি মাড়িয়ে সাড়ে তিন কিলোমিটার হেঁটে স্কুলে যেত তারা।

তানিয়ার বাবা আবুল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ, তবু ভ্যান চালিয়ে পাঁচজনের সংসার আর দুই মেয়ের পড়ার খরচ মেটান। বড় বোনের বিয়ে হলেও মেজ বোন কলেজে পড়ে, ঘরে রয়েছেন অসুস্থ দাদিও। শত অভাবের মধ্যেও জিপিএ ৫ পেয়েছে তানিয়া। তবে অসুস্থ বাবার চোখে এখন একটাই দুশ্চিন্তা– মেয়ের স্বপ্নের পথে বাধা পেরুবেন কীভাবে?

মায়ের সঙ্গে বিলে মাছ ধরে মিতুর সংগ্রাম
মিতুর গল্পটি আরও বেশি সংগ্রামময়। দিনমজুর বাবা হোসেন আলীর সামান্য আয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার চলা দায় ছিল। বাধ্য হয়ে মিতুর মা শরীফা বেগম জলাবদ্ধ এলাকায় মাছ ধরে তা বিক্রি করে সংসারের হাল ধরেন। বন্ধের দিনগুলোতে মিতুও মায়ের সঙ্গে বিলে নেমে মাছ ধরত।

পানিতে কায়িক শ্রম দিয়ে যার কৈশোর কেটেছে, সে আজ বিজ্ঞানে জিপিএ ৫ পেয়ে চমক লাগিয়ে দিয়েছে। তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি দারিদ্র্যকে হার মানালেও উচ্চশিক্ষার খরচ জোগানো নিয়ে সে এখন শঙ্কিত। এই তিন জয়িতার সাফল্যের হাসি আজ মলিন হওয়ার পথে।

গড়ভাংগা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুপ্রভাত বসু বলেন, ‘সুমি, তানিয়া ও মিতু আমাদের প্রতিষ্ঠানের গর্ব। স্কুল থেকে সাধ্যমতো তাদের সহায়তা করা হয়েছে। কিন্তু তাদের পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল। এ কারণে আমরাও এখন তাদের উচ্চশিক্ষা নিয়ে চিন্তিত। সমাজের দানশীল ও বিত্তবান ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে এই অদম্য মেধাবীরা দেশের সম্পদ হয়ে উঠবে।’

হরমুজ প্রণালি মার্কিন ভূখণ্ড হবে ‘খুব শিগগির’: ট্রাম্প

ইরানকে পরাজিত করার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এ ঘোষণা খুব শিগগিরই দেওয়া হতে পারে। তবে কীভাবে এমন ঘোষণা বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

শুক্রবার নিউইয়র্কের গার্ডেন সিটির নাসাউ কাউন্টি পুলিশ একাডেমিতে এক রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানকে পরাজিত করার কাজ শেষ হলে, যা এখন খুব খারাপভাবে পরাজিত হচ্ছে-খুব শিগগিরই আমি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করব।’

হেসে হেসে এ কথা বলার পর ট্রাম্প বলেন, ‘এটা সত্য।’ একই দিনে ফক্স নিউজকে তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে এবং তার অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজকে সেখানে চলাচল করতে দেওয়া হবে না।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা ছিল অভিযানের অন্যতম ঘোষিত লক্ষ্য।

এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে এবং বেসামরিক জাহাজ চলাচল সীমিত করে। যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচল করলেও শুক্রবার সেখানে হাতেগোনা কয়েকটি জাহাজ চলাচল করেছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এই পথ বন্ধ বা সীমিত থাকায় জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধ জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প সমাবেশে বলেন, ‘আমাদের অবরোধ আছে। আমরা না চাইলে কোনো জাহাজই পার হতে পারবে না।’ তিনি এ অবরোধকে বিশ্বের জন্যও একটি ‘বড় সেবা’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

ট্রাম্পের বক্তব্যের পর ইরান তাৎক্ষণিকভাবে এর বিরোধিতা করেছে। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেছেন, হরমুজ প্রণালিকে কোনো টুইট, বিমানবাহী রণতরি, আদেশ কিংবা নির্বাচনী বক্তৃতার মাধ্যমে দখল করা যাবে না। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, ইরানের আছে এবং ইরানেরই থাকবে। তার দাবি, এই প্রণালি কখন খুলবে বা বন্ধ হবে, সে সিদ্ধান্ত ইরানই নেবে।

এদিকে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকানোর মূল্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কিছুটা বেশি জ্বালানির দাম মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, আমেরিকানদের যদি পেট্রলের জন্য ‘সামান্য একটু বেশি’ অর্থ দিতে হয়, তাহলে তাদের মনে রাখা উচিত-ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্যই এই মূল্য দিতে হচ্ছে।

ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে। রয়টার্সের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ০৮ ডলারে উঠেছে, যা এক বছর আগের তুলনায় ২৯ শতাংশ বেশি। যুদ্ধ শুরুর আগে গড় দাম ছিল প্রায় ২ দশমিক ৯৮ ডলার।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে। নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ডেমোক্র্যাটরা ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবকে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরছে। একই সময়ে যুদ্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও বিরোধিতা বাড়ছে।

সমাবেশে ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানে হামলার জন্য তিনি কখনো ক্ষমা চাইবেন না। তার দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান শুধু আমেরিকার জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্য ‘একটি বড় সেবা’।

এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান এখনো সম্পূর্ণ বিপরীত। ওয়াশিংটন যেখানে নিজেদের অবরোধ ও সামরিক উপস্থিতির মাধ্যমে জলপথটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করছে, তেহরান সেখানে প্রণালিটির ওপর নিজেদের কর্তৃত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করছে। ফলে ট্রাম্পের সর্বশেষ ঘোষণায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।