Home Blog Page 3

তড়িঘড়ি পরীক্ষা নিয়ে প্রার্থী চূড়ান্ত, স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

নিয়োগ বিধিমালায় পরীক্ষার পদ্ধতি ও ধরন স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। এর পরও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ৯টি পদে ১৯৭ জনকে নিয়োগ দিতে তড়িঘড়ি চলছে। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফল প্রকাশ করা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় সর্বনিম্ন পাস নম্বর কত, তাও প্রকাশ করা হয়নি। এতে নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গত ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত ৭০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। এক হাজার ৮৪২ প্রার্থীর পরীক্ষা শেষ হওয়ার মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে ফল প্রকাশ করা হয়। নিয়োগ কমিটির পাঁচ সদস্য এত অল্প সময়ে কীভাবে বিপুলসংখ্যক খাতা মূল্যায়ন করলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সংশ্লিষ্টরা। এর পর ৪ আগস্ট ইঞ্জিন ড্রাইভার ও নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট এবং ৬ আগস্ট ড্রাইভার পদে ৩০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যেই চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার নাম, বিষয়, নম্বর, সময় ও সর্বনিম্ন পাস নম্বর পরীক্ষার আগেই প্রকাশ করতে হয়।

ফায়ার ফাইটার পদেও একইভাবে দ্রুততার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। আজ সোমবার মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই ২০৬ জনকে চূড়ান্ত নিয়োগের ফল প্রকাশ করা হতে পারে। অথচ চলমান এই নিয়োগকে ঘিরে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকজন কর্মীকে অবৈধ কার্যক্রমের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কয়েকটি জেলায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে একটি প্রতারক চক্র প্রার্থীদের কাছ থেকে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা করে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

নিয়োগ-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ অবস্থায় দ্রুততার সঙ্গে নিয়োগ সম্পন্ন করার যৌক্তিকতা থাকলেও বিধিমালা পাশ কাটিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ আছে কিনা, সেটি বড় প্রশ্ন। কারণ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ১৯৯৯ সালের নিয়োগ বিধিমালা কয়েক দফা সংশোধন হলেও পরীক্ষার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি সেখানে যুক্ত করা হয়নি।

এমসিকিউ কি লিখিত পরীক্ষার বিকল্প

নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিতর্কের বড় জায়গা পরীক্ষার ধরন। ফায়ার সার্ভিসের স্থায়ী রাজস্ব খাতের শূন্য পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে এমসিকিউ (বহু নির্বাচনী প্রশ্ন) পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া যাবে কিনা, সে বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জবাবে জনপ্রশাসন জানায়, এমসিকিউ কেবল প্রাথমিক বাছাইয়ের মাধ্যম; এটি লিখিত পরীক্ষার বিকল্প নয়। কোনো পদে আবেদনকারীর সংখ্যা এক হাজার এক বা তার বেশি হলে প্রাথমিক বাছাইয়ের জন্য এমসিকিউ পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে। অথচ ফায়ার সার্ভিসের চলমান নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা এমসিকিউর আদলে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, এটি প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা, নাকি বিধি অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষা?

বিভাগীয় নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘লিখিত পরীক্ষাটি এমসিকিউর মতোই নেওয়া হয়েছে। এ জন্য দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করতে পেরেছি।’

তবে নিয়োগ কমিটির সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ওয়ালীউল হাসান বলেন, ‘মনে হয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে পরীক্ষা গ্রহণ করছে। তবে এর আইনি ব্যাখ্যা নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবই দিতে পারবেন।’

মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে দুই ধরনের বক্তব্য

নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক ও ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক মো. শহীদ আতাহার হোসেন বলেন, অতীতে ফায়ার সার্ভিসের নিয়োগ নিয়ে অনেক বদনাম ছিল। সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে দ্রুত পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। বিধি সংশোধন করে পরীক্ষা নিতে গেলে দীর্ঘ সময় লাগবে। তাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অগ্নি অনুবিভাগ) মোহাম্মাদ মফিজুর রহমান বলেন, যেভাবে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হবে, সেটা নিয়োগ বিধিতে বলা থাকতে হবে। সে অনুযায়ী পরীক্ষা হবে। এখানে মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি দেওয়ার কিছু নেই।

পাঁচ ঘণ্টায় ১,৮৪২ খাতা মূল্যায়ন! 

গত ২৪ জুলাই এক হাজার ৮৪২ প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে ফল প্রকাশ করা হয়। পাঁচ সদস্যের নিয়োগ কমিটি কীভাবে এত কম সময়ে সব উত্তরপত্র মূল্যায়ন করল– এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে পরীক্ষার্থীদেরও জানানো হয়নি কে কত নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া বলেন, বিধিমালা সংশোধন না করে অন্যভাবে পরীক্ষা নিলে তা নিয়োগ বিধির পরিপন্থি হবে। কেউ আদালতের শরণাপন্ন হলে নিয়োগ বাতিল হতে পারে। তিনি বলেন, স্বচ্ছতার দোহাই দিয়ে বিধি ভঙ্গের সুযোগ নেই।

২৫ হাজার প্রার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় মাত্র ৭,৯৯৭

এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে ফায়ার সার্ভিসের শারীরিক যোগ্যতার পরীক্ষা হয়। এ কারণে ২৫ হাজার আবেদনকারীর বিপরীতে প্রায় ১৭ হাজার প্রার্থী বাছাই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। শারীরিক যোগ্যতা পরীক্ষায় ফায়ার ফাইটার পদে এক হাজার ৬৯৮, নার্সিং অ্যাটেনডেন্টে সাত, ড্রাইভার পদে ১৩১ এবং ইঞ্জিন ড্রাইভার পদে ছয়জন উত্তীর্ণ হন। পরে লিখিত পরীক্ষায় ফায়ার ফাইটার পদে ৪১৫, নার্সিং অ্যাটেনডেন্টে তিন, ড্রাইভার পদে ৭৬ এবং ইঞ্জিন ড্রাইভার পদে চারজন উত্তীর্ণ হন। এর পর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট পদে দুজন, ড্রাইভার পদে ২২ এবং ইঞ্জিন ড্রাইভার পদে একজনকে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তির পরও পাঁচ পদে পরীক্ষা হয়নি

শুধু পরীক্ষা ও দ্রুত ফল প্রকাশ নয়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিদ্যমান নিয়োগ বিধিমালায় সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক এবং অফিস সহায়ক পদ নেই। ফলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও এসব পদে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া ধর্মীয় শিক্ষক (ইসলাম) ও সহকারী হোজ রিপেয়ারার পদেও বিজ্ঞপ্তির পরও পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিধিমালা সংশোধন না করেই বিভিন্ন সময় নিয়োগ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এবারও একই ধরনের অস্পষ্টতা রেখে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করায় শেষ পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্তদের চাকরির বৈধতা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

প্রতারক চক্রের দৌরাত্ম্য বাড়ছে 

নিয়োগের অনিশ্চয়তার মধ্যে বিভিন্ন জেলায় সক্রিয় প্রতারক চক্র পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কয়েকটি জেলায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রার্থীদের কাছ থেকে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক শহীদ আতাহার হোসেনও প্রতারক চক্রের তৎপরতার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘নিয়োগ-সংক্রান্ত একটি প্রতারক চক্র আছে। এ জন্য আমরা কঠোর নজরদারির মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করছি।’

লঘুচাপের প্রভাবে বাড়তে পারে বৃষ্টি

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়েছে। এটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে শক্তিশালী হতে পারে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বাড়ার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি নদনদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

গতকাল রোববার আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়, লঘুচাপটির প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাবধানে উপকূলের কাছাকাছি থেকে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

লঘুচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি বাড়তে পারে। এতে নদনদীর পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী দুই দিন চট্টগ্রাম বিভাগ ও তৎসংলগ্ন উজান এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। পরবর্তী এক দিন দেশের অভ্যন্তর ও তৎসংলগ্ন উজান এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের হালদা নদীর পানি এরই মধ্যে বাড়ছে। তবে গোমতী, মুহুরী, সিলোনিয়া ও ফেনী নদীর পানি কমেছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। বৃষ্টিপাতের কারণে দুই দিনে এসব নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। পাউবো জানিয়েছে, আজ সোমবার সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বান্দরবান ও কক্সবাজারের কিছু এলাকায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

‘টক্সিক’ বিতর্ক ঘনিষ্ঠ দৃশ্য ও অশালীনতার বিষয় পরিষ্কার করলেন ইয়াশ

দক্ষিণ ভারতীয় তারকা ইয়াশ অভিনীত ছবি ‘টক্সিক’ মুক্তির আগেই আলোচনায় এসেছে। সিনেমাটিতে কিয়ারা আদভানি ও তারা সুতারিয়ার সঙ্গে তার একাধিক ঘনিষ্ঠ দৃশ্য নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

এসব বিতর্কের জবাব দিয়েছেন অভিনেতা। তার দাবি, সিনেমায় ঘনিষ্ঠ দৃশ্য থাকলেও সেখানে কোনো ধরনের অশালীনতা রাখা হয়নি।

সম্প্রতি ‘টক্সিক’-এর বিভিন্ন দৃশ্য নিয়ে কথা বলেন ইয়াশ। সিনেমার একটি দৃশ্যে তাকে পোশাকহীন অবস্থায় দেখা যায়। এ নিয়ে অভিনেতা বলেন, ‘অশালীনতা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। আপনারা ভালোভাবে দেখলে বুঝতে পারবেন, সিনেমায় আমি চুম্বন পর্যন্ত করিনি। সবকিছুরই একটা নির্দিষ্ট সীমা থাকে, আমরা সেটি মেনেই কাজ করেছি।’

ইয়াশ ও কিয়ারা আদভানি

ইয়াশ ও কিয়ারা আদভানি

ঘনিষ্ঠ দৃশ্যগুলো পর্দায় কীভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ইয়াশ । তার মতে, কোনো দৃশ্যকে নান্দনিক ও গ্রহণযোগ্যভাবে দর্শকের সামনে তুলে ধরার দায়িত্ব নির্মাতার।

এদিকে সিনেমাটির ‘তাবাহি’ গান প্রকাশের পর কিয়ারা আদভানিকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে সহশিল্পীর পাশে দাঁড়িয়েছেন ইয়াশ। তার ভাষ্য, গানটিতে দর্শকরা কিয়ারার চরিত্রের খুব সামান্য অংশ দেখেছেন। পুরো সিনেমায় তার অভিনয় আরও বেশি নজর কাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সমালোচনা প্রসঙ্গে ইয়াশ বলেন, ‘একজন অভিনেতা হিসেবে অনেক সময় নানা ধরনের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। তবে তা নিয়ে না ভেবে নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী কাজ করে যেতে হয়। শেষ পর্যন্ত মানুষ কাজেরই মূল্যায়ন করে। হয়তো আমরা সময়ের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে আছি।’

ইয়াশ ও কিয়ারা আদভানি

ইয়াশ ও কিয়ারা আদভানি

নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কথা মাথায় রেখে ‘টক্সিক’ নির্মিত হয়েছে বলে জানান ইয়াশ। সিনেমাটিকে উদার মন নিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমাটি উপভোগ করার অনুরোধ করেছেন এই কন্নড় তারকা।

এক সিনেমার সম্মানী দিয়েই পাকিস্তানে বাড়ি কিনেছিলেন শবনম

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী শবনম। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি শুধু ঢাকার সিনেমাতেই নয়, তৎকালীন পাকিস্তানের চলচ্চিত্রেও নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন। অভিনয়ের দ্যুতিতে হয়ে উঠেছিলেন দুই বাংলার পাশাপাশি পাকিস্তানেরও জনপ্রিয় তারকা। আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) এই নন্দিত অভিনেত্রীর জন্মদিন। ১৯৪৬ সালে জন্ম নেওয়া শবনম পা রাখলেন জীবনের ৮১তম বছরে।

ষাটের দশক থেকে নব্বইয়ের দশকের শেষ পর্যন্ত নিয়মিত অভিনয় করেছেন শবনম। তার অভিনীত শেষ সিনেমা কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘আম্মাজান’। সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই দর্শকের কাছে তিনি ‘আম্মাজান’ নামেই আরও বেশি পরিচিতি পান।

1723893710179 1786944413

ঢাকার চলচ্চিত্রের পাশাপাশি পাকিস্তানের সিনেমাতেও ছিল তার দারুণ জনপ্রিয়তা। ১৯৬১ সালে ‘হারানো দিন’ সিনেমার মাধ্যমে দর্শকের নজরে আসেন শবনম। পরের বছর উর্দু ভাষার সিনেমা ‘চান্দা’-তে অভিনয় করে তৎকালীন সমগ্র পাকিস্তানে তারকাখ্যাতি অর্জন করেন তিনি।

এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানে নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের স্মৃতিচারণ করেছিলেন শবনম। জানান, ১৯৭০ সালে ঢাকা ছেড়ে লাহোরে পাড়ি জমান তিনি। এরপর নিয়মিত অভিনয় শুরু করেন পাকিস্তানের চলচ্চিত্রে। সেখানকার প্রথম সিনেমার সম্মানী দিয়ে যে কাজটি করেছিলেন, সেটিও বেশ স্মরণীয়।

পাকিস্তানে প্রথম সিনেমার সম্মানী কত ছিল-এমন প্রশ্নের জবাবে শবনম বলেছিলেন, ‘সম্মানী কত ছিল তার সঠিক হিসাবটা মনে নেই। তবে এটুকু মনে আছে, ওই সম্মানী দিয়ে আমি ছোটখাটো একটা বাড়ি কিনেছিলাম। দুই বেডরুমের বাড়ি, করাচিতে। মা–বাবা ও ছেলে রনি তখন ঢাকায় ছিল। বাড়ি কেনার পর ছেলে এবং মা–বাবাকেও নিয়ে গেলাম।’

1628785659 6620f9d84bb4d 1786944504

অর্থাৎ পাকিস্তানের চলচ্চিত্রে প্রথম দিকের একটি সিনেমার সম্মানী দিয়েই করাচিতে দুই বেডরুমের বাড়ি কিনেছিলেন শবনম। শুধু তাই নয়, পরবর্তী সময়ে সেই বাড়িতে মা–বাবা ও ছেলে রনিকে নিয়ে বসবাসও শুরু করেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে ঢাকার সিনেমায় নিজের শুরুর দিকের সম্মানীর কথাও জানিয়েছিলেন শবনম। ‘হারানো দিন’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি পেয়েছিলেন ১ হাজার ২০০ টাকা। সেই পুরো অর্থই মায়ের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বলে জানান অভিনেত্রী। তবে ‘এ দেশ তোমার আমার’ ও ‘রাজধানীর বুকে’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য কোনো সম্মানী পাননি তিনি।

অভিনয়জীবনের দীর্ঘ পথচলায় শবনম বাংলা ও উর্দু-দুই ভাষার চলচ্চিত্রেই নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন। তার অভিনয়, সৌন্দর্য ও জনপ্রিয়তা তাকে উপমহাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম স্মরণীয় তারকায় পরিণত করেছে। জন্মদিনে তাই ফের আলোচনায় এসেছে তার বর্ণাঢ্য চলচ্চিত্রজীবনের নানা অধ্যায়।

মাকে মৃত দেখিয়ে জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগ

জীবিত মাকে মৃত এবং বোনকে উত্তরাধিকার থেকে বাদ দিয়ে পৈতৃক সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় হালুয়াঘাট দলিল লেখক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা এবং আকনপাড়া এলাকার নুরুল ইসলাম জড়িত বলে জানা গেছে।

বণ্টননামা দলিল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত ৫ মে হালুয়াঘাট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বণ্টননামা দলিলটি রেজিস্ট্রি করা হয়। হস্তান্তরিত জমির পরিমাণ ২ একর ৩৬ শতাংশ। যার মূল্য নির্ধারণ করা হয় এক কোটি ২৪ লাখ টাকা। দলিলে আকনপাড়া ও মরাগাংকান্দা মৌজার নাম উল্লেখ আছে।

সরেজমিন জানা গেছে, হালুয়াঘাট উপজেলা সদরের আকনপাড়া এলাকার রমজান আলী মৃত্যুর সময় স্ত্রী, ছয় ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে যান। কিন্তু তাঁর বড় ছেলে নুরুল ইসলাম জীবিত মা মোছা. নেজবুন্নেসাকে মৃত দেখিয়ে ও ছোট বোন ইয়াসমিন খাতুনকে উত্তরাধিকার থেকে বাদ দিয়ে বণ্টননামা দলিল রেজিস্ট্রি করেছেন।

অভিযোগ উঠেছে, দলিল লেখক গোলাম মোস্তফা মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে বণ্টননামা দলিল করেন। দলিলে পাঁচ ভাই, মৃত ভাইয়ের স্ত্রী সালমা খাতুন, তাঁর দুই ছেলে সাব্বির হাসান, মেহেদী হাসান ও এক বোনের নাম রয়েছে।

 

ডারউইনে ইতিহাসের হাতছানি

মেহেদী হাসান মিরাজের একটি বাক্য মনে গেঁথে নেওয়ার মতো। ডারউইন টেস্ট জয়ের ব্যাপারে ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করে দেখি এই কন্ডিশনে জিততে পারি কিনা। বিশ্বাস ছিল বলে না; নিউজিল্যান্ডে জিতেছিলাম।’ সিরিজের প্রথম টেস্টে টানা তিন দিন দাপুটে ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ। গতকাল শনিবার ম্যাচের তৃতীয় দিনের শেষ সেশনটা বাদ দিলে স্বপ্নের মতো ছিল সবকিছু।

অনেক দিন দেখা হয়নি এমন নিখুঁত ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং। যে মেহেদী হাসান মিরাজের পারফরম্যান্স নিয়ে ছিল ফিসফাস, তিনিই পারফরম্যান্সের বিবর্তন ঘটিয়েছেন ডারউইনে। তিনি দারুণ ব্যাটিং করেছেন টেলএন্ডারদের নিয়ে। ১৫৪ বলে খেলেছেন ৬৫ রানের মহামূল্যবান ইনিংস। ফলে অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করতে পেরেছে বাংলাদেশ। ২২৮ রানের লিড পাওয়ায় উঁকি দিচ্ছে জয়ের স্বপ্ন। তাই তো অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে চার উইকেট তুলে নিয়ে নাজমুল হোসেন শান্তরা কোরাস গাইছেন– ‘স্বপ্ন-স্বপ্ন-স্বপ্ন দেখে মন’। এই স্বপ্ন ইতিহাস গড়ার। ২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডের মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে মুমিনুল হকরা যেমন করে স্বপ্ন সত্যি করেছিলেন।

ডারউইন টেস্টে দ্বিতীয় দিন থেকেই জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে মিলছে ইতিহাসের হাতছানি। প্রথমবার টেস্ট জয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে। তিন বিভাগে অপ্রত্যাশিত ভালো ক্রিকেট খেলায় আশার পালে হাওয়া লাগে। বিদেশের মাটিতে ৭৪টি টেস্ট ম্যাচ খেলে ৯টিতে জিতেছে বাংলাদেশ। ওই জয়ের ম্যাচগুলোতেও ছিল উত্থান-পতন। কলম্বো, মাউন্ট মঙ্গানুই, রাওয়ালপিন্ডিতে লড়াই হয়েছে সমানতালে। সেখানে ডারউইন টেস্টের চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। বাংলাদেশের দাপটের সামনে অস্ট্রেলিয়াকে দেখাচ্ছে মিনোস। ম্যাচে টানা তিন দিন এগিয়ে থেকে শেষ করেছে টাইগার বাহিনী। কিছুতেই এই পারফরম্যান্স মেনে নিতে পারছে না উন্নাসিক অস্ট্রেলিয়ানরা। রিকি পন্টিং ধারাভাষ্যে বলেছেন, ‘বুড়োদের দল নিয়ে খেলছে অস্ট্রেলিয়া।’ স্কোয়াড পরিবর্তনের ডাক দেন তিনি। আসলে পন্টিং অস্ট্রেলিয়ার দুর্বলতা খোঁজার চেয়ে বাংলাদেশের ভালো খেলার প্রতি সম্মান দেখাতে কষ্টটা কম হতো তাঁর।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিন শেষ করেছিল ৬ উইকেটে ৩৫১ রানে। মেহেদী মিরাজ ৩২ আর হাসান মাহমুদ ১৩ রানে অপরাজিত থাকলেও গতকাল ইনিংস বড় করতে পারেননি। এক রান যোগ করে জশ হ্যাজেলউডের বলে এলবিডব্লিউ হন হাসান। ১৭০ বলে ৪৬ রানের জুটি তাদের। মিরাজের সঙ্গে হাসানের বোঝাপড়া ছিল দারুণ। ৯২টি বল মোকাবিলা করে ১৪ রান করেন তিনি। দিনের শুরুতে উইকেট হারালেও হার মানেননি মিরাজ। টেলএন্ডারদের নিয়ে ছোট ছোট জুটিতে বড় করেন ইনিংস। তাইজুল ইসলামের ২৩ বলে ৭ রানের ক্যামিও, তাসকিনের টিকে থাকার দৃঢ়তা সাহস জুগিয়েছে মিরাজকে। তিনি আগের দিনের ৩২ রানের সঙ্গে যোগ করেন ৩৩ রান।

তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরি, নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ রান ছাপিয়ে ৬৫ রানের মিরাজই হয়ে ওঠেন ব্যাটিংয়ের নায়ক। এই রান করা কতটা কঠিন ছিল– সংবাদ সম্মেলনে তা প্রকাশ করেছেন টাইগার অলরাউন্ডার। শেষ জুটিতে তাসকিন-এবাদত মিলেও জোগান দেন মূল্যবান ৮টি রান। বাংলাদেশের নজরকাড়া দিনে অসি পেসার হ্যাজেলউডের একটি দারুণ অর্জন আছে। ১৩ মাস পর টেস্ট খেলতে নেমে ইনিংসে ৬ উইকেট শিকার তাঁর। টেস্টে ১৪তম বার ইনিংসে পাঁচ উইকেট পেলেন তিনি। পাঁচ উইকেট নেওয়ার পরই মাইলফলক ছুঁয়েছেন হ্যাজেলউড। অস্ট্রেলিয়ার নবম বোলার হিসেবে ৩০০ টেস্ট উইকেটের মালিক হন তিনি।

অস্ট্রেলিয়া ২২৮ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে হোঁচট খায় শুরুতে। পেসার হাসান বল হাতে নিয়েই ব্রেক থ্রু দেন ওপেনিং জুটি ভেঙে। জ্যাক ওয়েদারাল্ডকে বোল্ডআউট করেন শূন্য রানে। অফ-সাইডের বাইরের বলে খেলতে গেলে ব্যাটের কানায় লেগে স্টাম্পে আঘাত করে। একদশ ওভারে বোল্ড করেন আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেডকে। ৩৭ রানে দুই উইকেট হারিয়ে চিন্তায় পড়ে স্বাগতিকরা। মার্নাস লাবুশেন ও স্টিভেন স্মিথ ইনিংস মেরামত করে কিছু পথ এগিয়ে নেন। ৩৬ রানের জুটি করেন দুজনে। স্মিথ ও গ্রিনের জুটি ৪৯ রানের।

তাইজুল আর মিরাজ গুরুত্বপূর্ণ দুই ব্যাটারকে ফিরিয়ে তৃতীয় দিনটিও নিজেদের করে নেন। সবচেয়ে দামি স্মিথের উইকেটটি নিয়েছেন মিরাজ। লাবুশেন ৩১ আর স্মিথ ৪৪ রান করেছেন। ক্যারি ও গ্রিন জুটি ৩৯ রানে অপরাজিত। গ্রিন ৪৩ আর ক্যারি ১৯ রানে নতুন করে জুটি বাঁধবেন চতুর্থ দিন। এই জুটির ওপরই ভরসা স্বাগতিকদের। তেমনি তাদের আউট করাও সফরকারীদের লক্ষ্য। তৃতীয় দিনের সেরা মিরাজের মতে, ম্যাচ জয়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ আজকের প্রথম সেশন। কারণ, ইনিংস ব্যবধানে পরাজয় এড়াতে অস্ট্রেলিয়াকে আরও ৬৭ রান করতে হবে। কে জানে, মিরাজরা হয়তো ইনিংস ব্যবধানে ম্যাচ জয়ের স্বপ্ন দেখছেন।

সকালের সেশন বাংলাদেশের, ১৫ রানের লিড অস্ট্রেলিয়ার

চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনটিও নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রেখেছে সফরকারীরা। তবে ক্যামেরন গ্রিনের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে স্বাগতিকরা লিডও নিয়ে নিয়েছে।

সকালের ৩১ ওভারে ৮২ রান তুলেছে অস্ট্রেলিয়া, হারিয়েছে তিন উইকেট। মিরাজ একাই শিকার করেছেন অ্যালেক্স ক্যারি, বিউ ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্সকে। ফলে ৮৪ ওভার শেষে ৭ উইকেটে ২৪৩ রান নিয়ে লাঞ্চে গেছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের ২২৮ রানের লিড পেরিয়ে স্বাগতিকদের লিড এখন ১৫ রান।

দিনের শুরুতেই অ্যালেক্স ক্যারিকে ফিরিয়ে প্রথম আঘাত হানেন মিরাজ। ৩০ রানে থাকা ক্যারি অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাট চালিয়ে লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত হন। এরপর ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে জুটি গড়তে আসা বিউ ওয়েবস্টারকে ৫ রানে বোল্ড করেন এই অফ স্পিনার।

প্যাট কামিন্সের সঙ্গেও বেশ কিছুক্ষণ প্রতিরোধ গড়েছিলেন গ্রিন। দলীয় ২০০ রান পেরিয়ে যাওয়ার পর কামিন্সকে অবশ্য বেশি দূর যেতে দেননি মিরাজ। ৮ রান করা অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ককে শর্ট লেগে সাদমান ইসলামকে ক্যাচ দিয়ে ফেরান তিনি। তাতেই ৭ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।

তবে এক প্রান্ত আগলে রেখেছেন ক্যামেরন গ্রিন। ১০৯ বলে ফিফটি পূরণ করা এই অলরাউন্ডার লাঞ্চে যাওয়ার সময় ৮৫ রানে অপরাজিত। তার সঙ্গে ১৪ রানে অপরাজিত মিচেল স্টার্ক। দুজন মিলে গড়েছেন ৩৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি।

সকালের সেশনে তিন উইকেট তুলে বাংলাদেশ চাপ ধরে রাখলেও গ্রিনের ব্যাটে অস্ট্রেলিয়া এখন ম্যাচে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে। স্বাগতিকদের লিড আরও বড় হওয়ার আগেই শেষ তিন উইকেট তুলে নেওয়াই এখন বাংলাদেশের লক্ষ্য।

ডারউইনে ইতিহাসের হাতছানি

ছেলের স্ত্রীর রাজকীয় উপাধি কেড়ে নিলেন ব্রুনেইয়ের সুলতান

ব্রুনেইয়ের সুলতান তার এক পুত্রবধূর সব রাজকীয় উপাধি কেড়ে নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে তার আচরণ ‘অশোভন’। চলতি মাসের শুরুতে ব্রুনেই দারুসসালামের গ্র্যান্ড চেম্বারলেইনের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে এ খবর নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, সুলতান হাসানাল বলকিয়াহর এক আদেশের পর তা অবিলম্বে কার্যকর করা হয় এবং তাঁর (পুত্রবধূ) রাজকীয় উপাধিগুলো বাতিল করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, সুলতান হাজি হাসানাল বলকিয়াহর প্রতি অসম্মান প্রদর্শন এবং রাজপরিবারের একজন সদস্যের স্ত্রী হিসেবে অনুপযুক্ত আচরণের কারণে পেঙ্গিরান রাবিয়াতুল আদাউইয়াহর উপাধি প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁর কর্মকাণ্ড রাজপরিবারের সুনামও ক্ষুণ্ন করেছে।

৩৩ বছর বয়সী পেঙ্গিরান রাবিয়াতুল আদাউইয়াহ ব্রুনাইয়ের প্রিন্স আবদুল মালিকের (৪৩) স্ত্রী। আবদুল মালিক সিংহাসনের উত্তরাধিকার ক্রমে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন।

পশ্চিম তীরের শেষ খ্রিষ্টান শহর তাইবাতে ভয়, আতঙ্ক

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের অবশিষ্ট একমাত্র খ্রিষ্টান অধ্যুষিত শহর তাইবা। ঐতিহাসিক সেন্ট জর্জ চার্চ ও শতাব্দীর প্রাচীন ঐতিহ্যের এই শহরে বর্তমানে প্রায় এক হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি খ্রিষ্টান বসবাস করছেন। তবে চারপাশের পাহাড়ি এলাকায় অবৈধ ইসরায়েলি বসতি গড়ে ওঠায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয়রা। সম্প্রতি শহরটিতে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও সশস্ত্র অনুপ্রবেশ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, রোলান্ড বাসির নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা দীর্ঘ ২০ বছর ধরে প্রায় ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে শহরে একটি কারখানা গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমাগত হামলা ও অগ্নিসংযোগের কারণে বাধ্য হয়ে তাঁকে ব্যবসা ছেড়ে দিতে হয়েছে।

শহরের মেয়র সুলেমান খুরিয়া জানান, বসতি স্থাপনকারীরা কেবল ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতেই গবাদিপশু চরাচ্ছে না বরং স্থানীয় পানির উৎসগুলোর নিয়ন্ত্রণও কেড়ে নিচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, লিয়াজোঁ অফিস ও পুলিশে বারবার লিখিত আবেদন করেও প্রশাসন বসতি স্থাপনকারীদের সরাতে ব্যর্থ হয়েছে।

সম্প্রতি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাইবা ও রামুন গ্রামকে ‘অবরুদ্ধ সামরিক এলাকা’ ঘোষণা করেছে। তবে স্থানীয় অধিবাসীরা মনে করছেন, এটি মূলত মানবাধিকার কর্মীদের দূরে রাখার কৌশল, যা শহরটিকে আরও বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে।

আইএলওর রিপোর্ট বিশ্বে তরুণদের ২০% শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের বাইরে

বিশ্বজুড়ে তরুণদের জন্য চাকরির বাজার যেন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি, বেকারত্বের সামগ্রিক হারও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল; কিন্তু নতুন প্রজন্মের জন্য স্থায়ী, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কাজের সুযোগ প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দক্ষতার ঘাটতি, অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সম্ভাব্য প্রভাব।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা–আইএলওর প্রতিবেদন ‘তরুণদের জন্য বৈশ্বিক কর্মসংস্থান প্রবণতা–২০২৬’ এই চিত্র তুলে ধরেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তরুণদের বেকারত্ব বাড়ছে এবং শোভন কর্মসংস্থানে পৌঁছানোর পথ আরও কঠিন হচ্ছে। তরুণদের কর্মসংস্থানের সমস্যা শুধু বেকারত্বের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। আইএলওর হিসাবে, ২০২৫ সালে বিশ্বে তরুণদের ২০ শতাংশ কর্মসংস্থান, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের বাইরে ছিল। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ। এক বছরে আরও প্রায় ৪০ লাখ তরুণ এই অবস্থায় পড়েছে। ২০২৭ সালে হারটি ২০ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ নারীদের নিয়ে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণে না থাকা তরুণ নারীদের হার পুরুষদের প্রায় দ্বিগুণ। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ায় এই বৈষম্য আরও তীব্র। এখানে পুরুষদের তুলনায় প্রায় চারগুণ।

আইএলওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান শ্রমবাজারে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নতুন সুযোগ তৈরি করলেও সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করছে না। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তার কাজের ধরন বদলে দিচ্ছে। ফলে তরুণদের জন্য শুধু একটি ডিগ্রি অর্জন যথেষ্ট নয়; ডিজিটাল দক্ষতা, সমস্যা সমাধান, যোগাযোগ, বিশ্লেষণ এবং পরিবর্তিত প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।