Home Blog Page 42

জার্মানির সেই গোল কেন বাতিল, ব্যাখ্যা দিল ফিফা

প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জার্মানির বাতিল হওয়া গোল নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার মধ্যে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ফিফা। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে জার্মানির জোনাথন তাহর গোলটি বাতিল করায় অনেকেই ভিএআরের সমালোচনা করেছেন। তবে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে, ভিএআরে জার্মানির গোল বাতিলের সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল।

গোল বাতিলের সিদ্ধান্তকে শতভাগ সঠিক উল্লেখ করে ফিফার রেফারিপ্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা জানান, ফুটবলে সময় অপচয় বন্ধ করতে এবং খেলাটি আরও সুন্দর করতেই কিছু কঠোর নিয়ম আনা হয়েছে।

শেষ ষোলোতে ওঠার ওই লড়াইয়ে টাইব্রেকারে প্যারাগুয়ের কাছে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় জার্মানি। এদিন নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ম্যাচে ১-১ গোলের সমতা ছিল। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের ১২তম মিনিটে কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে দুর্দান্ত হেডে জার্মানিকে এগিয়ে দেন সেন্টার ব্যাক জোনাথন তাহ।

কিছুক্ষণের মধ্যেই ভিএআর কক্ষ থেকে রেফারিকে গোলটি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, তাহ হেড করার আগে জার্মান ডিফেন্ডার ওয়ালডেমার অ্যান্টন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলকে ধাক্কা দেন। সেই ঘটনাকে ফাউল হিসেবে বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত গোল বাতিল করেন রেফারি।

নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করে প্যারাগুয়ে। জার্মানির ভক্ত-সমর্থকদের মতে, তাহর গোলটি বাতিলের সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।

তবে এসব সমালোচনা গায়ে মাখছে না ফিফা। সংস্থাটির রেফারিপ্রধান বলেন, ‘কোনো আক্রমণভাগের খেলোয়াড় যদি বলের প্রতি আগ্রহ না দেখিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়, বিশেষ করে গোলরক্ষকের নড়াচড়ায় বাধা দেন, তাহলে সেটি অবশ্যই ফাউল হিসেবে গণ্য হবে। এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে ভিএআরের হস্তক্ষেপ করা সঠিক সিদ্ধান্ত।’

তিনি আরও বলেন, ‘গোলরক্ষকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এসব নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।’

 

ফিফার রেফারিপ্রধান বলেন, ‘কোচ ও খেলোয়াড়দের বিষয়টি আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এ ধরনের ঘটনায় গোল বাতিল হলে সেটি অপ্রত্যাশিত হওয়ার কথা নয়।’

এ সময় ম্যাচে কালক্ষেপণ কমাতে ফিফার নতুন উদ্যোগগুলোর কথাও তুলে ধরেন কলিনা। গোল কিক, থ্রো-ইন ও খেলোয়াড় বদলের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং চোট পেলে খেলোয়াড়কে অন্তত এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকার নিয়ম ইতিবাচক ফল দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ফিফার নতুন উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করেছেন কলিনা বলেন, ‘এ পদক্ষেপগুলো সবই অত্যন্ত কার্যকর হয়েছে এবং সর্বসম্মতভাবে বেশ ইতিবাচক উদ্ভাবন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।’

কোডভিত্তিক সব লেনদেন আজ থেকে বাংলা কিউআরে

আজ ১ জুলাই থেকে কোডভিত্তিক সব ধরনের লেনদেন বাধ্যতামূলকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলা কিউআরে শুরু হচ্ছে। যে কোনো ব্যাংক, এমএফএসের অ্যাপ দিয়ে সব ধরনের পরিশোধ করা যাবে।

এতে দোকান বা মার্চেন্ট পয়েন্টে আর আলাদা কিউআর রাখতে হবে না। মঙ্গলবার মুদ্রানীতি ঘোষণা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, বাংলা কিউআর ভালোভাবে বাস্তবায়ন হলে পুরো লেনদেন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। ক্যাশলেস লেনদেন বাড়লে টাকা ছাপানোর খরচ কমবে। এটাকে জনপ্রিয় করতে বাংলা কিউআর লেনদেনের একটি পর্যায় পর্যন্ত খরচ কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে দেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।

ব্যাংকসহ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব কিউআর বাদ দিয়ে বাংলা কিউআর চালুর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক গত এপ্রিলে একটি সার্কুলার দেয়। সেখানে বলা হয়, সব ব্যাংক, এমএফএস, পিএসপি ও পিএসওগুলোকে তাদের সব মার্চেন্ট পয়েন্টে নিজস্ব মালিকানার কিউআরের পরিবর্তে বাংলা কিউআর দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান এ নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলা কিউআরে ইন্টারঅপারেবিলিটি বা আন্তঃলেনদেন নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মার্চেন্ট পয়েন্টে গ্রাহকের জন্য দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন করতে বলা হয়।

অর্থবছরে রেমিট্যান্স ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি ১৭.৩ শতাংশ

২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে প্রবাসী আয়ে (রেমিট্যান্স) ৩৫ দশমিক ৫৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এসেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৩০ দশমিক ৩২৯ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

মঙ্গলবার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ২ দশমিক ৮০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৮২৩ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে জুন মাসে রেমিট্যান্সে ০ দশমিক ৬ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

এদিকে, ৩০ জুন একদিনে দেশে ১২ কোটি (১২০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। তবে এটি সাময়িক (প্রভিশনাল) হিসাব। ব্যাংক হলিডের কারণে ১১টি ব্যাংকের তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

খামেনির জানাজায় ইরান যাচ্ছে জামায়াত প্রতিনিধি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়তুল্লাহ আলী হুসাইনি খামেনির জানাজায় অংশ নিতে তেহরান যাবেন জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দল। দলটির নায়েবে আমির মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে চার জামায়াত নেতা আগামী ৩ জুলাই তেহরানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন আয়তুল্লাহ খামেনি। এ হামলায় ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধের ইতি টানতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ১৮ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে দুই দেশ আলোচনা চালাচ্ছে। তবে এর মধ্যেই ইরানের ওপর হামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরানও। ফলে চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

এর মধ্যেই তেহরান সরকার জানিয়েছে আলী খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা ৪ থেকে ৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। তেহরান, কোম ও মাশহাদ—এই তিনটি শহরে কয়েকদিন ধরে জানাজা ও শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান চলবে। ৪ জুলাই রাজধানী তেহরান ও পবিত্র নগরী কোমে জানাজা হবে। কোম শহরে আরেকটি জানাজা হতে পারে। আলী খামেনিকে ৯ জুলাই তাঁর নিজ শহর মাশহাদে ইমাম রেজা (রহ.) মাজারে দাফন করা হবে।

আলী খামেনির মৃত্যুর পর বাংলাদেশের দলগুলোর মধ্যে জামায়াত শোক জানিয়ে ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসে শোক বইয়ে সই করে। সংসদে আলী খামেনিকে শহীদ আখ্যা দিয়ে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

জামায়াতের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ইরান সরকারের আমন্ত্রণে শহীদ খামেনির শেষ বিদায়, জানাজা ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন দলীয় প্রতিনিধিরা। জামায়াত এমপি মো. নুরুল আমীন ও ড. মো. কেরামত আলী এমপি এবং দলীয় ডা. এসএম খালিদুজ্জামান তেহরান যাবেন। প্রতিনিধিদল ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন।

নতুন ৩ উপজেলা ও একটি থানা অনুমোদন

তিনটি নতুন উপজেলা ও একটি থানা অনুমোদন দিয়েছে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)। আজ বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভা কক্ষে নিকার ১২১তম বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা তিনটি হচ্ছে- চট্টগ্রামের ‘ফটিকছড়ি উত্তর’, কুমিল্লার ‘বাঙ্গরা’ এবং ময়মনসিংহের ‘দক্ষিণ গফরগাঁও।’ একটি নতুন থানা হচ্ছে চট্টগ্রামের ‘হালদা’।

এ ছাড়া রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন পূর্বাঞ্চল নতুন শহর প্রকল্পের নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার অংশগুলো ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নিকার প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলা ফটিকছড়ি উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে করা হয়েছে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা। কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলাকে ভাগ করে ‘বাঙ্গরা’ এবং ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে হয়েছে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা। অন্যদিকে চট্টগ্রামের হাটাজারি থানাকে বিভক্ত করে গঠন করা হয়েছে ‘হালদা থানা’।

তারেক রহমানের সভাপতিত্বে নিকার এই বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সড়ক ও যোগাযোগমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, গৃহায়ন মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।

অধস্তন আদালতে বিচারক-আইনজীবীদের কালো কোট বাধ্যতামূলক নয়

দেশের অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে বিচারক এবং আইনজীবীদের পোশাকবিধিতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিচারক ও আইনজীবীদের জন্য কালো কোট পরা বাধ্যতামূলক থাকবে না।

মঙ্গলবার হাইকোর্ট বিভাগের বিচার শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। প্রধান বিচারপতির আদেশক্রমে বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অধস্তন দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত এবং ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা গাউন পরিধান করবেন। পাশাপাশি ক্ষেত্রবিশেষে সাদা ফুলশার্ট অথবা সাদা শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে সাদা নেক ব্যান্ড পরবেন। তবে তাদের জন্য কালো কোট পরা বাধ্যতামূলক নয়।

আইনজীবীদের ক্ষেত্রেও আগের পোশাকবিধির অন্যান্য অংশ বহাল রাখা হয়েছে। তারা সাদা ফুলশার্ট অথবা সাদা শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে সাদা নেক ব্যান্ড বা কালো টাই পরিধান করবেন। তবে তাদের জন্যও কালো কোট ও গাউন পরা বাধ্যতামূলক থাকবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এ নির্দেশনা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য দেশের সব জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, বিভিন্ন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল, শ্রম আদালতসহ সংশ্লিষ্ট বিচারিক প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শেষবারের মতো বিটিভি প্রাঙ্গণে ‘পাপেটম্যান’ মুস্তাফা মনোয়ার

আজীবন যে প্রাঙ্গণকে সৃজনশীলতা, শিল্পচর্চা ও নির্মাণশৈলীতে সমৃদ্ধ করেছেন, শেষ বিদায়েও সেখানেই ফিরলেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী, নাট্যনির্দেশক ও বাংলাদেশের পাপেট আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ ‘পাপেটম্যান’ খ্যাত মুস্তাফা মনোয়ার। মঙ্গলবার বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় তাঁর প্রথম জানাজা। শেষ বিদায় জানাতে সহকর্মী, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা উপস্থিত হন।

সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ বিটিভি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে সর্বস্তরের মানুষ তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। পরে সকাল ৯টা ৫২ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয় তাঁর প্রথম জানাজার নামাজ।

জানাজায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ, নাট্যব্যক্তিত্ব ম হামিদসহ শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা অংশ নেন।

জানাজা শেষে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নাট্যব্যক্তিত্ব ম হামিদ। তিনি বলেন, মুস্তাফা মনোয়ার শুধু একজন শিল্পী নন, টেলিভিশন ও সংস্কৃতি অঙ্গনের অসংখ্য মানুষের শিক্ষক ছিলেন। তিনি ছিলেন আমাদের ফ্রেন্ড, ফিলোসফার অ্যান্ড গাইড। তাঁর সঙ্গে আড্ডা মানেই ছিল নতুন কিছু শেখা।

নিজের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথাও স্মরণ করেন ম হামিদ। তিনি বলেন, বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে চাকরির সুযোগ পেলেও মুস্তাফা মনোয়ারের পরামর্শেই তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে যোগ দেন। “তিনি বলেছিলেন, ‘ওখানে তোমার জায়গা নয়, তুমি টেলিভিশনে আসো।’ তাঁর সেই পরামর্শই আমার কর্মজীবনের গতিপথ বদলে দিয়েছে।”

বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম বলেন, মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের এমন কোনো ক্ষেত্র নেই, যেখানে তাঁর অবদান নেই। বিটিভির পাশাপাশি শিল্পকলা একাডেমিসহ নানা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তিনি আমাদের প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দেশের প্রতিভাবান ব্যক্তিত্বদের তালিকায় মুস্তাফা মনোয়ারের নাম থাকবে প্রথম সারিতে।

তিনি বলেন, কৈশোর থেকেই আমরা তাঁর সৃজনশীল কর্মযজ্ঞের সঙ্গে পরিচিত। তিনি অন্তর্গতভাবেই একজন খাঁটি শিল্পী ছিলেন। যে দায়িত্বই পালন করেছেন, সেখানেই রেখে গেছেন তাঁর মেধা, মনন ও সৃজনশীলতার স্বাক্ষর।

মন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিনের কর্মস্থল বিটিভি প্রাঙ্গণে তাঁর জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া সবার জন্যই সৌভাগ্যের। তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

বিটিভিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও জানাজা শেষে মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়।

সরকারের অবহেলার অভিযোগে ক্ষুব্ধ ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্প-দুর্গতরা

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর উদ্ধার তৎপরতায় সরকারের অবহেলা ও উদাসীনতার অভিযোগ তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তাদের দাবি, অনেক এলাকায় সময়মতো উদ্ধারকারী দল পৌঁছেনি। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা অনেক মানুষকে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারাই খালি হাতে উদ্ধারের চেষ্টা করেছেন।

উপকূলীয় শহর লা গুইরায় ধসে পড়া একটি ১২ তলা ভবনের সামনে অপেক্ষা করছেন মিগেল অস্কার নুনেজ। তার ৩৪ বছর বয়সী ছেলে অ্যাঞ্জেল ভবনটির ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিগেল বলেন, ‘আমার ছেলে হয়তো ভূমিকম্পে মারা যায়নি। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে যদি তার মৃত্যু হয়, সেটি মেনে নেওয়া কঠিন। দ্রুত আরও উদ্ধার সহায়তা প্রয়োজন।’

গত বুধবার আঘাত হানা যমজ ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৭০০ জন নিহত হয়েছেন। অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ একে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

একই ভবনের বাসিন্দা কেভিন মন্টিলা অভিযোগ করেন, ভূমিকম্পের পর উদ্ধার অভিযান শুরু হতে অনেক দেরি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘শুরুতে শুধু স্থানীয় মানুষজন উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছিল। পুলিশ এলেও কার্যকর কোনো সহায়তা করেনি। সরকারের প্রতিক্রিয়া ছিল হতাশাজনক ও অকার্যকর।’

বর্তমানে ঘটনাস্থলে ভেনেজুয়েলা ও কলম্বিয়ার উদ্ধারকারী দল, ভারী যন্ত্রপাতি এবং ক্রেন দিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দিন নষ্ট হয়ে গেছে।

উপকূলীয় বেলো হরিজন্তে আবাসিক এলাকায়ও একই চিত্র দেখা গেছে। ধসে পড়া দুটি বহুতল ভবনের ধ্বংসস্তূপে স্বেচ্ছাসেবক ও স্বজনরা কোদাল, লোহার রড এমনকি খালি হাতেও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। নিখোঁজ চাচাকে খুঁজছেন উইলিয়াম রদ্রিগেজ। তিনি বলেন, ‘অনেক জায়গায় সাহায্য অনেক দেরিতে এসেছে, আবার কোথাও এখনো পৌঁছায়নি। তবুও আমরা খোঁজা বন্ধ করিনি, কারণ এখনও কেউ জীবিত থাকতে পারেন।’

স্থানীয় বাসিন্দা হুয়ান আভেন্দো জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষের চিৎকার শুনে তিনি ও তার স্বজনরা খালি হাতে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করেন। তার ভাষ্য, সরকারি উদ্ধারকারী দল ভূমিকম্পের প্রায় দুই দিন পর ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, এখনও শত শত মানুষের মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। অনেকের মরদেহ হয়তো কখনোই উদ্ধার করা সম্ভব হবে না। ফলে এই দুর্যোগে প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা হয়তো কোনো দিনই জানা যাবে না।

এখন থেকে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পেতে দিতে হতে পারে ১৬ লাখ টাকা

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য নতুন কঠোর আইন আনতে যাচ্ছে সরকার। প্রস্তাবিত আইনে, আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় খরচে থাকা-খাওয়ার ব্যয়ের অংশ হিসেবে প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড (প্রায় ১৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা) পরিশোধ করতে হবে। এ অর্থ পরিশোধ না করলে তারা স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে বসবাসের অনুমতি (সেটেলমেন্ট) পাবেন না।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হবে।

নতুন এই আয়ভিত্তিক অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা প্রস্তাবিত ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম বিল’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা একে শিক্ষা ঋণ পরিশোধ ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করলেও মানবাধিকার ও শরণার্থী সহায়তা সংস্থাগুলো এর তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, যুদ্ধ, নির্যাতন ও দুর্ভিক্ষ থেকে পালিয়ে আসা মানুষের ওপর এটি কার্যত অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার শামিল।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই প্রকল্প থেকে সরকারের আর্থিক লাভ খুবই সীমিত হবে। কারণ আশ্রয় পাওয়ার পাঁচ বছর পরও অধিকাংশ শরণার্থীর আয় তুলনামূলক কম থাকে। ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, শরণার্থী মর্যাদা পাওয়ার পাঁচ বছর পর মাত্র ১৩ শতাংশের বার্ষিক আয় ২০ হাজার পাউন্ড বা তার বেশি ছিল। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের জাতীয় জীবিকা নির্বাহযোগ্য ন্যূনতম মজুরি বছরে প্রায় ২৫ হাজার পাউন্ড।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, আশ্রয়প্রার্থীদের সহায়তা দেওয়া যেমন রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তেমনি আয় করতে সক্ষম হলে তাদেরও সেই সহায়তার একটি অংশ ফেরত দেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে। তিনি বলেন, যারা আর্থিকভাবে সক্ষম হবেন, তাদের কাছ থেকে ব্রিটিশ জনগণের দেওয়া সহায়তার প্রতিদান হিসেবে এই অর্থ পরিশোধের প্রত্যাশা করা হবে।

হোম অফিস জানিয়েছে, আশ্রয়প্রার্থীদের মোট প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড পরিশোধ করতে হবে। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী এই অর্থের পরিমাণ পরিবর্তনের ক্ষমতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে থাকবে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির পরিচালক ম্যাডেলিন সাম্পশন বলেন, আয়ের সীমা তুলনামূলক কম নির্ধারণ না করলে খুব অল্পসংখ্যক শরণার্থীই এই প্রকল্পের আওতায় অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। তার মতে, এতে সরকারের রাজস্ব আয় খুব বেশি বাড়বে না, বরং কিছু শরণার্থী কাজ করতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন বা সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র এড়িয়ে বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে পারেন।

এদিকে, প্রস্তাবিত বিলে ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের অনুচ্ছেদ ৮ অভিবাসন ও বহিষ্কারসংক্রান্ত মামলায় কীভাবে প্রয়োগ হবে, সে বিষয়ে নতুন নির্দেশনা যুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি অভিবাসীদের বয়স নির্ধারণ প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা এবং আধুনিক দাসত্ব-সংক্রান্ত আইনের কিছু বিধান সংশোধনেরও প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

দাদির বার্তায় অশ্রুসজল ভিনি

আলো-আঁধারে ২৫ বছরের জীবন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতার পাণ্ডুলিপি ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের। কুঁড়েঘরের শৈশব, এখন বিলাসী জীবন। এক জীবনে খালি পায়ে খেলে এখন মাঠে নামেন লাখ টাকার বুট পরে। জীবন-সংগ্রামে জয়ী হওয়ায় অভাব পালিয়েছে পেছনের দরজা দিয়ে, এসেছে প্রাচুর্য। আরও কত পরিবর্তনই না ঘটে গেছে ভিনিসিয়ুসের জীবনে! এই যাপিত জীবনে চাকচিক্য তাঁকে ভোলাতে পারেনি সাদাকালো শৈশব-কৈশোরকে। সুখের সমান্তরাল ছিল দুঃখ-কষ্ট-অপমান। রঙের বেড়া, জাতের কাঁটায় সমাজ দাগ কেটে দিলেও তিনি ছিলেন লক্ষ্যে অবিচল।

ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস ফেলে আসা কোনো কিছুই ভোলেননি। তাই গ্লোবো টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্মৃতিচারণে হন আবেগি। তিনি স্মৃতির সাগর সেচে যে মণি-মুক্তা তুলে আনলেন, তার কিছু কালো, কিছু স্বর্ণালি। সাও গনসালোর ছোট্ট কুটিরে তাঁর দাদির পাশে শুয়ে কেটেছে ১৬ বছর পর্যন্ত। জীবন উত্তরণে দাদিই ছিলেন পাঠশালা, মস্ত পাঠাগার। সাক্ষাৎকার চলাকালে সঞ্চালক একটি রেকর্ড করা ভিডিও দেখান ভিনিসিয়ুসকে। তাঁর দাদি ডোনা নিলজার শোনাচ্ছিলেন নাতির গল্প, ‘ও ছিল লাজুক প্রকৃতির। বলই ছিল ওর প্রধান আকর্ষণ। ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত ও আমার পাশে ঘুমাত। মাঝেমধ্যে আমরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরতাম আর ও দেখত যে আমার পাশে আছে কিনা।’ নাতির জন্য একটি আন্তরিক বার্তাও উৎসর্গ করেন তিনি, ‘ভিনি, আমার নাতি, আওয়ার লেডি অব আপারেসিডা তোমাকে সর্বদা রক্ষা করুন। তোমার দাদি তোমাকে অনেক, অনেক, অনেক বেশি ভালোবাসে।’

২০২৬ বিশ্বকাপে দাদির কাছ থেকে পাওয়া বার্তা জল আনে ভিনিসিয়ুসের চোখে। রিয়াল মাদ্রিদের এই উইঙ্গারের প্রতিক্রিয়া ছিল তাৎক্ষণিক। কাঁপা গলায় তিনি স্মরণ করেন শৈশবের সেই সব দিনরাত্রি, ‘আমার জীবনে পিতামহীর গুরুত্ব ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন থেকেই তিনি আমার সবকিছু ছিলেন।’ আসলে হৃদয়ের গভীরে জমা কষ্টগুলো যখন ভাষা পায়, তখন তা অশ্রু হয়ে ঝরে। সেই কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণে জমে থাকা কষ্টগুলো ভাষা পেয়েছিল ভিনিসিয়ুসের ঠোঁটে-চোখে।

স্মৃতিকাতর ভিনিসিয়ুস জানান, পিতামহীই ছিলেন তাঁর সব, ‘আমাদের বাড়ি খুব ছোট ছিল। আমি ঠাকুরমার সঙ্গেই ঘুমাতাম। তিনি আমাদের জন্য সবকিছু করেছেন। আজও তাঁকে নিয়ে বলতে গেলে ভাষা হারিয়ে ফেলি। তিনি আমার জীবন গড়ে দিয়েছেন। তিনি এমন একজন, যিনি আমার জীবনে ছাপ রেখেছেন। আমি জানি, একসময় মানুষকে চলে যেতে হয়। তাই আমি প্রতিটি মুহূর্ত তাঁর (দাদি) ও আমার পরিবারের সঙ্গে বাঁচি, যারা আমার স্বপ্নকে সত্যি করার জন্য সবকিছু করেছে।’

ভিনিসিয়ুস শুধু ফুটবলটাই ভালো খেলেন না, জীবনবোধও প্রখর। মাঠে বর্ণবাদের শিকার হয়ে প্রতিবাদী হয়েছেন, ‘কালো কিংবা ধলো চামড়া, সবই তো তার সৃষ্টি– মাটির।’ ব্রাজিল উইঙ্গারের প্রত্যাশা, ‘আমি চাই আগামী প্রজন্মকে আর বর্ণবিদ্বেষের যন্ত্রণা সহ্য করতে না হয়।’ তাঁর কণ্ঠে মিশে ছিল প্রতিজ্ঞার সুর, ‘মাঠে নিজের সেরাটা দিতে চাই, সাফল্যও পেতে চাই। তবে তার পাশাপাশি তরুণদের অনুপ্রাণিত করা এবং যাদের কথা বলার সুযোগ নেই, সেই সব কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের হয়ে কণ্ঠস্বর তোলাও আমার দায়িত্ব। সেই লড়াই আমি চালিয়ে যেতে চাই।’ যতবার হোঁচট খাবে, ততবার ওঠো জেগে; কঠিন লড়াইয়ে মানুষ যায় যে এগিয়ে বেগে– এই দীক্ষায় পথচলা ভিনিসিয়ুসের স্বপ্ন বিশ্বকাপ জয়।