Home Blog Page 5

পুলিশের ধাওয়ায় পুকুরে মাইক্রোবাস, মিলল ৯ বস্তা গাঁজা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পুলিশের ধাওয়ার মুখে একটি গাঁজাবাহী মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ে গেছে। পরে ওই মাইক্রোবাস থেকে ৯ বস্তা গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় মাইক্রোবাসে থাকা চালক ও মাদক কারবারিরা পালিয়ে গেছেন।

শুক্রবার সকালে উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের খিদিরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে মাইক্রোবাস ও গাঁজা জব্দ করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, বিপুল পরিমাণ ভারতীয় গাঁজা পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে সৈয়দাবাদ-নয়নপুর সড়কে অভিযান চালায় কসবা থানা-পুলিশ। এ সময় একটি কালো রঙের মাইক্রোবাস পুলিশের নজরে আসে। সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ গাড়িটিকে থামার সংকেত দেয়। কিন্তু চালক গাড়ি না থামিয়ে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ তখন মাইক্রোবাসটিকে ধাওয়া করে। গাড়িটি কসবা-সৈয়দাবাদ সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত আন্দিরপাড়-মনকাশাইর সড়ক দিয়ে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করছিল। একপর্যায়ে খিদিরপুর গ্রাম পার হওয়ার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে মাইক্রোবাসটি সড়কের পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়।

পুলিশ জানায়, মাইক্রোবাসটি পুকুরে পড়ে যাওয়ার পর গাড়িতে থাকা গাঁজার বস্তাগুলো পানিতে ভেসে ওঠে। এ সময় চালক ও মাদক পাচারকারীরা সাঁতরে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ পুকুর থেকে মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করে। একই সঙ্গে ৯ বস্তা গাঁজা জব্দ করা হয়।

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, গাঁজা পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়েছিল। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মাইক্রোবাসটি পুকুরে পড়ে যায়। পরে মাইক্রোবাস ও ৯ বস্তা গাঁজা জব্দ করা হয়েছে। প্রতিটি বস্তায় কী পরিমাণ গাঁজা রয়েছে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

দেশে ফেরার একদিন আগে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু, ১৯ দিন পর ফিরল শ্যামলের লাশ

‘বাবা, আমাদের যত কষ্টই হোক, তুমি চলে এসো। আট বছর তোমাকে দেখিনি।’ মেয়ের সেই আকুতি রেখেই দেশে ফেরার টিকিট কেটেছিলেন রাজশাহীর বাগমারার শ্যামল উদ্দিন মাঝি (৪৬)। কথা ছিল, ১০ আগস্ট দেশে ফিরবেন। কিন্তু তার এক দিন আগে সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান তিনি। জীবিত অবস্থায় আর ফেরা হলো না। ১৯ দিন পর শুক্রবার লাশ হয়ে ফিরেছেন তিন মেয়ের বাবা শ্যামল।

তিন মেয়ের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় আট বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন শ্যামল। আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে বিদেশে গেলেও দালালের প্রতারণায় কাজের বৈধতা পাননি। ফলে দীর্ঘ প্রবাসজীবনে একবারও দেশে ফিরতে পারেননি। পরিবারের জন্যও তেমন কিছু করতে পারেননি। সম্প্রতি মেয়ের জামাইয়ের কাছ থেকে এক লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন। এরপর পরিবারের অনুরোধে দেশে স্থায়ীভাবে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। কেটে ফেলেন বিমানের টিকিটও।

গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি নিহত হন। তাঁদের একজন শ্যামল উদ্দিন। তিনি বাগমারা উপজেলার ঝিকড়া ইউনিয়নের মরুগ্রাম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

শুক্রবার শ্যামলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে আছে পরিবেশ। প্রতিবেশীরা এসে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। স্বামীকে হারিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন রশিদা খাতুন (৪২)। একপর্যায়ে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেললে স্বজনেরা পানি ছিটিয়ে তাঁকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন।

সংজ্ঞা ফিরতেই বিলাপ করে রশিদা বলেন, ‘তুমার সঙ্গে হামার কথা হলো। তুমি বাড়িত আসবে বললে, আর রাতে তুমার মরার খবর পানু।’

তিনি জানান, মৃত্যুর দিন ৯ আগস্ট সকালে স্বামীর সঙ্গে তাঁর সর্বশেষ কথা হয়। পরদিনই শ্যামলের দেশে ফেরার কথা ছিল।

বাবার ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন বড় মেয়ে শামিমা (২৪)। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘বাবাকে বলেছিলাম, আমাদের যত কষ্টই হোক, তুমি চলে এসো। আট বছর তোমায় দেখিনি। তুমি চলে এসো বাবা। সেই বাবা টিকিট করেও জীবিত আসতে পারল না। আজ বাবা আমার লাশ হয়ে এসেছে।’

শ্যামলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার রাতটির কথা মনে করে তাঁর বড় মেয়ের জামাই মিজানুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার দিন রাতে শ্যামলের এক সহকর্মী মুঠোফোনে তাঁর মৃত্যুর খবর দেন।’

তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় শ্যামলসহ অন্য শ্রমিকেরা কারখানায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁদের একজন চুল কাটাতে সেলুনে যাওয়ায় আগুন থেকে বেঁচে যান।

মিজানুর রহমান বলেন, ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে শ্যামল সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে দালালের প্রতারণার শিকার হন। কাজের বৈধতা না পাওয়ায় আট বছরে একবারও দেশে ফিরতে পারেননি। এবারই প্রথম পরিবারের কাছে স্থায়ীভাবে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু দেশে ফেরার মাত্র এক দিন আগে অগ্নিকাণ্ডে তাঁর মৃত্যু হলো।

তিনি আরও বলেন, শ্যামলের মৃত্যুতে পরিবারটি এখন অসহায় হয়ে পড়েছে। তাঁর মেজো মেয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছে।

প্রতিবেশী ও সাবেক ঝিকড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, শ্যামল ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর তিন মেয়ে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে, বাকি দুজন এখনো ছোট। শ্যামলের মৃত্যুতে পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছে। সরকারের উচিত পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো।

শুক্রবার শ্যামল উদ্দিনের জানাজায় অংশ নেন বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ। তিনি পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

সেলিম আহমেদ বলেন, ‘আমরা অল্প সময়ের মধ্যেই লাশটি দেশে আনার ব্যবস্থা করেছি। পরবর্তীতেও পরিবারটির সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

ওজন বাড়ার যত কারণ

খাবার আমাদের শুধু শক্তিই বাড়ায় না,আনন্দও দেয়। কিন্তু খাবারের প্রতি অতিরিক্ত ভালোবাসার কারণে কখনও কখনও আমরা নিজেদের ওজন বাড়ার ঝুঁকিতে ফেলি। এছাড়াও আরও কিছু কারণ ওজন বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

ডায়েট সোডা পানীয় : অনেকেই ডায়েট সোডা পছন্দ করেন। কিন্তু ‘ডায়েট’ শব্দটি থাকলেই যে তা আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করবে, এমনটা নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দিনে দুবার এই পানীয়টি পান করেন, তাদের কোমরের মাপ অন্তত ছয় গুণ বেড়ে যেতে পারে।

বেশি বা কম ঘুমানো : আপনি খুব বেশি বা খুব কম ঘুমান? খুব বেশি বা খুব কম ঘুমালে ওজন বেড়ে যেতে পারে। যারা মাত্র পাঁচ ঘণ্টা বা তার কম ঘুমান, তাদের ওজন বাড়ার ঝুঁকি থাকে, কারণ দিনের জন্য শক্তি পেতে তারা খাবারের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। আর যারা ৮ ঘণ্টার বেশি ঘুমান, তাদের শরীর নিস্তেজ লাগে। কখনও কখনও ব্যায়াম করার জন্য চেয়ার ছেড়েও উঠতে ইচ্ছে করে না।

বেশি খাওয়া : অনেকেই সারাদিন ধরে খাবারকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নেন। অনেকের ধারনা,এতে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিন্তু আসলে এই প্রক্রিয়ায় ওজন বাড়ার ঝুঁকি বাড়ে। আসল ব্যাপার হলো, আমাদের মস্তিষ্ক খাবারের সময় কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং ফ্যাট খাওয়ার জন্য তৈরি থাকে,এ কারণে যখনই আপনি খাওয়ার জন্য বিরতি নেন, তখনই এই জিনিসগুলো খাওয়ার আগ্রহ বাড়ে। এর ফলে ক্যালোরি এবং ফ্যাট জমা হতে পারে, যা ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

খাবার এড়িয়ে চলা : অনেকেই তাড়াহুড়োর কারণে বা ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয়ে খাবার এড়িয়ে যান। দুর্ভাগ্যবশত, এই অভ্যাসটি আসলে ওজন বাড়িয়ে দিতে পারে, বিশেষ করে যখন আপনি সকালের নাশতা বাদ দেন তখন ওজন বাড়ার ঝুঁকি বাড়ে । এর একটি কারণ হলো আপনার  বিপাক ক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং ক্ষুধা বেড়ে যায়। এর ফলে পরবর্তী বেলায় বেশি খাওয়ার আকাঙ্খা বাড়ে।

অতিরিক্ত মানসিক চাপ: আপনি যদি প্রায়ই মানসিক চাপে থাকেন, তাহলে ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মানসিক চাপে থাকলে আপনার শরীর ইনসুলিন এবং কর্টিসল নিঃসরণ করে, যা আপনার মধ্যে ক্ষুধা জাগিয়ে তুলতে পারে। খাওয়া আপনার মস্তিষ্কে আনন্দের অনুভূতি দেয়, কিন্তু কিছু না খেলে সেই আনন্দ একসময় চলে যায়।

সাক্ষাৎকারে তাসকিন প্রস্তুতি নিয়েও সেরাটা দিতে পারিনি

অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলার জন্য মরিয়া ছিলেন তাসকিন আহমেদ। চোট পরিচর্যা করে সেরা প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি। তবুও কাঙ্ক্ষিত মানে পারফরম্যান্স করতে না পারায় আক্ষেপ আছে ৩২ বছর বয়সী এ বোলারের। তবে হতাশা ভুলে যেতে চান দলের সাফল্যে। টেস্ট সিরিজ ড্র করাকে ক্যারিয়ারের সেরা সাফল্য মনে করেন তিনি। আশা করেছিলেন, দ্বিতীয় টেস্টেও ভালো হবে। সেটি করতে না পারাকেও অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন তাসকিন আহমেদ। ম্যাকাই থেকে তাসকিনের একান্ত সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সেকান্দার আলী।

সমকাল: ডারউইন টেস্টটা খুব থ্রিলিং ছিল?
তাসকিন:
 প্রথম ম্যাচে নিখুঁত ছিল। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং সবকিছু পরিকল্পনামতো হয়েছে। সবাই সবার রোলটা সঠিকভাবে পালন করতে পেরেছে। স্কিলের প্রয়োগটা ভালো হয়েছে। আসলে প্র্যাকটিস করা, পরিকল্পনা দেওয়া কঠিন কিছু না। কঠিন কাজ হলো মাঠে কাজগুলো সঠিকভাবে করতে পারা। প্রতিটি ইউনিট সমন্বিতভাবে ভালো করায় ইতিহাস গড়া সম্ভব হয়েছে।

সমকাল: অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে টানা চার দিন এগিয়ে থাকা কীভাবে সম্ভব হলো?
তাসকিন: 
অতীত রেকর্ড সামনে এগিয়ে যেতে বা সফল হতে মানসিকভাবে সাহায্য করে। আমরা নিউজিল্যান্ডে টেস্ট ম্যাচ জিতেছিলাম, সেটি একটি এভিডেন্স ভালো করার জন্য। পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছি তাদের মাটিতে। ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট জিতেছি। প্রতিটি অ্যাওয়ে সিরিজের সাফল্য মানসিকভাবে উজ্জীবিত করেছে ভালো করতে। ওই রেকর্ডগুলো আত্মবিশ্বাস দিয়েছে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে। আমরা জানতাম, সেরা ক্রিকেটটা খেলতে পারলে জেতা সম্ভব। বাংলাদেশে সম্প্রতি ভালো উইকেটে খেলছি সব প্রতিপক্ষের বিপক্ষে। এই বিষয়টি বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। যখনই ভালো উইকেটে ভালো ব্যাটিং করতে পারি, তখনই ফল মেলে। কারণ, বোলিং ইউনিট ধারাবাহিক ভালো করছে। অতীতে রেজাল্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে বোলিং ইউনিটের বড় ভূমিকা ছিল। এবার বোলিংয়ের সঙ্গে ব্যাটিং ক্লিক করায় সফল হতে পেরেছি।

সমকাল: সিরিজ নির্ধারণী দ্বিতীয় টেস্টে বোলিংটা ভালো ছিল। বোলিং ইউনিটই কি অস্ট্রেলিয়ার ওপর চাপ তৈরি করেছে?
তাসকিন:
 প্রথম টেস্টের প্রথম দিনের উইকেট কিছুটা ট্রিকি ছিল। ওরা অতি আত্মবিশ্বাস থেকে টসে জিতে ব্যাটিং নিয়েছে (হাসি)। সুযোগ পেয়ে আমরা কাজে লাগিয়েছি। ম্যাকাই টেস্টে ব্যাটিং নেওয়ার সাহস দেখায়নি। আমরা প্রথমে বোলিং করার সুযোগ পেলে ম্যাচ বের করে নিতাম। আসলে দ্বিতীয় টেস্টের কন্ডিশন সম্পর্কে ভালো ধারণা ছিল না। পেসের থেকে এখানে বাউন্স ছিল বেশি। বাউন্সে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। আমরা টসে জিতলে অন্যরকম হতে পারত।

সমকাল: অস্ট্রেলিয়ায় সম্মান পেলেন কেমন?
তাসকিন: 
অনেক সম্মান পেয়েছি। প্রথম ম্যাচ জয়ের পর যেখানেই গিয়েছি, অস্ট্রেলিয়ান থেকে শুরু করে সবাই ক্লাপ করেছে, সাপোর্ট করেছে। অভিনন্দন জানিয়েছে। ওয়ানডে বা টি২০ ক্রিকেটে নির্দিষ্ট দিনে ভালো ক্রিকেট খেললে ফ্লুক হতে পারে। যে কেউ জিততে পারে। টেস্ট ক্রিকেটে সেটি কোনোভাবে সম্ভব নয়। প্রতিটি সেশন জিততে হয় টেস্টে ভালো করতে হলে। আমরা ওই কাজটিই করেছি, যে কারণে সবাই সম্মান করেছে।

সমকাল: আপনি নিজে কেমন উপভোগ করলেন?
তাসকিন: 
সত্যি কথা বলতে, বিদেশের লিগে খেলা ছেড়ে দেওয়া, সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েও আমি আমার সেরাটা দিতে পারিনি। আমি খুবই ভালো প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এক মাস আগের সিরিজেও দারুণ বোলিং করেছি। অথচ এখানে কাঙ্ক্ষিত মানে বোলিং করতে পারিনি। ভালো হোক, খারাপ হোক– প্রক্রিয়ার বাইরে যেতে পারব না। প্রত্যেক খেলোয়াড় একটি পরিকল্পনা নিয়ে সিরিজ বা ম্যাচ খেলতে নামে। কখনও সফল হয়, কখনও হয় না। আমার জন্য একটা শিক্ষা ছিল, সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েও ভালো করতে পারিনি। এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কাজ দেবে।

সমকাল: আপনি তো ব্রেক থ্রু দেন?
তাসকিন: 
আমি তো নিগেলস নিয়ে খেলি। ভালো বোলিং করা আমার কাজ। ওই কাজটিই করতে পারিনি। আমি জানি, যে বোলিং করেছি তার থেকে অনেক ভালো করতে পারি। তবে চেষ্টার কমতি ছিল না। আমি ব্যথা নিয়ে খেলি সব সময়। এবার একটু ব্যথা বেশি ছিল। সর্বোচ্চটা দিতে পারিনি, ঠিক আছে। সামনে ভালো করব, ইনশাআল্লাহ। টানা খেলতে থাকলে অনেক সময় মনের অজান্তেও ফ্যাটিগ আসে। একজন খেলোয়াড় হিসেবে আপনি কখনোই অনুমান করতে পারবেন না, কখন ফ্যাটিগ চলে আসবে। সামনে বিরতি আছে, ক্লান্তি ঝেড়ে ফিরে আসব। তবে বড় পাওয়া, অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজ ড্র করতে পেরেছি।

সমকাল: এই সিরিজের জন্য উন্মুখ হয়েছিলেন। উপভোগ করেছেন তো?
তাসকিন: 
প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি। আমার ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত। সিরিজ শুরুর আগে সবাই মনে করেছিল, আমরা জঘন্যভাবে হারব সিরিজটি। আল্লাহর রহমতে আমরা জয় দিয়ে শুরু করেছি। আমি সেরা বোলিং করতে পারিনি, এ কারণে কথা ওঠা স্বাভাবিক। তবে কি আমি ১০ বছর আগে যেভাবে বোলিং করেছি, ৩২ বছরে সেটি সম্ভব না। ১২ বছর বয়স বেড়েছে আমার। এখন ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করার স্বপ্ন দেখি না। এটিও তো ঠিক, ১৩২ কিলোমিটার গতিতে সুইংটা ভালো করছি। যেটাই হয়েছে, তার থেকে আমি ভালো বোলিং করতে পারি। আমাদের দলীয় প্রচেষ্টায় প্রথম টেস্ট ম্যাচটি জিতেছি।

সমকাল: নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকায় রেকর্ড হবে?
তাসকিন:
 আশা করি। আমরা ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ায় আইসিসি ইভেন্ট ছাড়া খেলিনি। এভাবে খেললে রেজাল্ট যেটাই হোক, সুযোগ বাড়বে। আমরা এ রকম বড় দলের বিপক্ষে নিয়মিত খেলতে পারলে উন্নতি হবে। আর দক্ষিণ আফ্রিকায় এ রকম কন্ডিশনে খেলা হলে চার পেসারও খেলাতে হতে পারে। দোয়া করবেন, সব পেস বোলার যেন ফিট থাকে, সুস্থ থাকে এবং সেরা ছন্দে থাকে।

সমকাল: শরিফুলের বোলিংটা কেমন লাগল?
তাসকিন: 
শরিফুল সব সময় ভালো বোলিং করে। হাসানও ভালো করছে। এ দুজনের দুটি বোলিং ইনিংস ব্যতিক্রম ছিল। প্রথম টেস্টে সবারই ভালো বোলিং হয়েছে। বোলিংয়ে জুটি গুরুত্বপূর্ণ। দুই পাশ থেকে চাপ তৈরি করা গেলে একপাশে একজন বড় উইকেট পাবে। এটাই হয়েছে আমাদের। যে-ই বেশি উইকেট পাক, তিনজনের একটা সমন্বয় থাকে। সেটি উভয় টেস্টে।

সমকাল: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কর্তারা কতটা খুশি?
তাসকিন: 
বিসিবির সবাই খুশি। আমি নিশ্চিত, পুরো দেশ খুশি। হার মেনে নিতে সবারই কষ্ট হয়। আমাদেরও কষ্ট হয়। প্রথম টেস্ট জয়ের পর দ্বিতীয় টেস্টে আরও ভালো ক্রিকেট খেলা সম্ভব ছিল। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, সেটি হয়নি। তবে দিন শেষে আমরা সিরিজ ড্র করেছি।

সমকাল: বাংলাদেশের ক্রিকেটের সেরা প্রজন্মের বেশির ভাগ ক্রিকেটার অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে পারেননি। আপনারা খেললেন। নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে হয়?
তাসকিন:
 অবশ্যই। অনেক কিংবদন্তিতুল্য ক্রিকেটারের অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলার সৌভাগ্য হয়নি। সেই ২৩ বছর আগে খেলেছে। আমরা আবার টেস্ট খেলে ভালো করে অন্যদের জন্য পথ তৈরি করে গেলাম।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক খেলাপি ঋণ আদায়ে ১০ হাজার মামলা

খেলাপি ঋণ আদায়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক প্রায় ১০ হাজার মামলা করেছে। আরও মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে খেলাপি ঋণ আদায়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য প্রচলিত আইনী ব্যবস্থার পাশাপাশি এক্সিট পলিসি ও বিকল্পবিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) মাধ্যমে ঋণ আদায়ের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ঋণ আদায়, পুনর্গঠন ও সার্বিক কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সভায় এসব বিষয় উঠে আসে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে ব্যাংক রেজল্যুশন ডিপার্টমেন্টের (বিআরডি) এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বলা হয়, ব্যাংকটির পূর্ববর্তী মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার সময়ে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি, ঋণ জালিয়াতি ও সম্পদ অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে পরিচালিত ফরেনসিক অডিট চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
সভায় জানানো হয়, গত ছয় মাসে ব্যাংকটির বিষয়ে বেশ কিছু কার্যক্রম গ্রহণ ও ফলোআপ করা হয়েছে। স্বতন্ত্র পরিচালকদের প্রাধান্য দিয়ে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। গত ১৬ জুলাই চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১৬ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদমর্যাদা, দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের কাজ চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া পাঁচটি ব্যাংকের কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্যে কোর ব্যাংকিং সিস্টেম, সুইফট, আরএমএসহ আইটি অবকাঠামো একীভূতকরণের কাজ এগিয়ে চলছে। আমানতকারীরা যাতে পাঁচটি ব্যাংকের যে কোনো শাখা থেকে আমানতের অর্থ তুলতে পারেন, সে জন্য একটি কমন ইন্টারফেস চালুর কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে।

ডিএসইতে লেনদেন কমে সাড়ে ৫ মাসের সর্বনিম্ন

নাজুক অবস্থায় দেশের শেয়ারবাজার। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার শেয়ারবাজার ডিএসইতে ৪৬৭ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এ লেনদেন গত প্রায় সাড়ে ৫ মাসের সর্বনিম্ন। অথচ দেড় মাস আগে গত ১৪ জুলাই ঢাকার এ বাজারে শুধু শেষ ঘণ্টায় ৫২৮ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্টের পর এক দিনে সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার ৬৭০ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল গত ১২ জুলাই।

লেনদেনে এমন পতনের কারণ জানতে চাইলে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানান, শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিতে নতুন নেতৃত্ব আসার পর অনেকেই বাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী ছিলেন। মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে পতনের ধারা থেকে বের হয়ে ঊর্ধ্বমুখী হয় শেয়ারবাজার। এ ধারা গত ১৪ জুলাই পর্যন্ত বা টানা প্রায় দুই মাস স্থায়ী হয়। এর পর প্রায় এক মাস অনেকটাই স্থিতিশীল থেকে গত ১১ আগস্ট থেকে ফের দরপতন শুরু হয়েছে। হঠাৎ দরপতনে বিভ্রান্ত তারা। গত তিন সপ্তাহের দরপতনে প্রায় সব শ্রেণির বিনিয়োগকারীর পুঁজি কমেছে, কেউ কেউ লোকসানেও পড়েছেন।
দরপতনের কারণ ব্যাখ্যায় বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানান, প্রথম দিকে কারসাজি প্রতিরোধে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এবং স্টক এক্সচেঞ্জের নানামুখী তৎপরতা বাজারে একটা প্রভাব ফেলে। একটি অংশ নিষ্ক্রিয় হয় বা শেয়ার বিক্রি করে। এতে বাজার খানিকটা থমকে যায়। এর পরই গ্যাস সংকটে একের পর এক কারখানা বন্ধের খবর আসে। এতে অর্থনীতি বড় ধরনের চাপে পড়তে যাচ্ছে–এমন ধারণায় বিনিয়োগকারীরা আরও সতর্ক হয়ে পড়েন। এর মধ্যে অর্থমন্ত্রীসহ দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে গ্যাস সংকটের আশু সমাধান নেই–এমন স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার পর পরিস্থিতি বেশি নাজুক হয়েছে। বর্তমান দরপতনের এটিই বড় কারণ বলে অনেকের বিশ্বাস।

অন্যতম প্রধান ব্রোকারেজ হাউস শেলটেক-এর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় এর কিছুটা আভাস আছে। চলমান দরপতনের জন্য প্রধানত তিনটি কারণকে চিহ্নিত করেছে ব্রোকারেজ হাউসটি। প্রতিষ্ঠানটির মতে, দেশে চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ সংকট, ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর তদারকি এবং জুনে হিসাব বছর শেষ হওয়া কোম্পানিগুলোর আসন্ন লভ্যাংশ ও বার্ষিক আয় ঘোষণার আগে বিনিয়োগকারীদের মাঝে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাও দরপতনের কারণ হতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউসের সিইও সমকালকে বলেন, বিনিয়োগকারীরা খবরের কাগজে পড়ছেন বা টিভি নিউজে দেখছেন, গ্যাস সংকটে কারখানা বন্ধ হচ্ছে। ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা হতাশা প্রকাশ করছেন। আবার সরকারের অর্থমন্ত্রী বলছেন দ্রুত গ্যাস সংকটের সমাধান দিতে পারবেন না। এ অবস্থা বিনিয়োগকারীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এখনকার শেয়ারবাজারে সে ধারা দেখা যাচ্ছে। ফলে শেয়ারদর ও লেনদেন দুটোই কমছে।

বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসে বিএসইসি বা স্টক এক্সচেঞ্জের আকস্মিক পরিদর্শনের কোনো প্রভাব আছে কিনা জানতে চাইলে কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, গ্যাস সংকটের আগে এ ইস্যুতে অনেকে কথা বলছিল। গত জুন ও জুলাই মাসে বহু কোম্পানির শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। কিছু শেয়ারের দর অযৌক্তিক হারে বাড়ার নেপথ্যে কারসাজি ছিল। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এবং স্টক এক্সচেঞ্জ এসব কারসাজি প্রতিরোধে তৎপর। ফলে ব্রোকারেজ হাউস পরিদর্শনে যাওয়ায় কারসাজির চক্রগুলো সতর্ক হয়ে শেয়ার বিক্রি করেছে।
কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউস থেকে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনার পর স্টক এক্সচেঞ্জের এ ধরনের অভিযোগ পাওয়ার পর আকস্মিক পরিদর্শন বেড়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি কারসাজির তদন্ত পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসকে চিঠি দিয়ে আইন মেনে সচেতনভাবে শেয়ার কেনাবেচার বার্তা দেওয়া হয়েছে। এ কারণেও অনেকে কারসাজির চক্র সতর্ক হয়।
এদিকে গতকাল লেনদেন বেশ কম হলেও বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। লেনদেন হওয়া ৩৪৯ কোম্পানির শেয়ারের মধ্যে ১৭২টির দর বেড়েছে, কমেছে ১৫২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫২টির দর। দুপুর ১২টায় তিন শতাধিক শেয়ারের দর বেড়েছিল। টানা তিন দিনে ১৪৬ পয়েন্ট পতনের পর দুপুর পৌনে ১টায় ডিএসইএক্স সূচক ৫৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫৬৯৩ পয়েন্ট ছাড়ায়। যদিও শেষ পর্যন্ত অনেক শেয়ারের দর কমায় সূচকটি আগের দিনের তুলনায় ১৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫৬৫৫ পয়েন্টে ‘ক্লোজ’ হয়েছে।

মিরপুরে শিশু ধর্ষণের অভিযোগ, যুবক গ্রেপ্তার

রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলীতে ছয় বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে সুমন নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রতিবেশী এই যুবক শিশুটিকে নিজের কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন। আজ শুক্রবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শাহ আলী থানাধীন রয়েল সিটি পকেট গেটসংলগ্ন এলাকায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। শিশুটির প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া হলে তার মা তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে ধারণা করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এরপর শিশুটির কাছে তার মা এ বিষয়ে জানতে চাইলে সে পাশের বাসার ভাড়াটিয়া সুমনের কথা জানায়। শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, সুমন তাকে নিজের কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন।

এ ঘটনায় শিশুটির মা বৃহস্পতিবার শাহ আলী থানায় মামলা করেন। পরে রাত ৮টার দিকে অভিযান চালিয়ে নিজ বাসা থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

রূপগঞ্জে জলসিঁড়ি প্রকল্পের বিরুদ্ধে কৃষিজমি দখলের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের বিরুদ্ধে কৃষিজমি ও বসতভিটায় অবৈধভাবে বালু ভরাট এবং উচ্ছেদের পাঁয়তারা করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক ইচ্ছাখালী খাল ভরাট করে দেওয়ায় আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

শুক্রবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন রূপগঞ্জ ও কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ভুক্তভোগী জমির মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১০ সাল থেকে রূপগঞ্জ ও কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ১৭টি মৌজায় প্রায় ৭ হাজার বিঘা কৃষিজমি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জমি অধিগ্রহণ কিংবা মালিকদের সম্মতি ছাড়াই বিভিন্ন এলাকায় বালু ভরাটের মাধ্যমে কৃষিজমি দখলের চেষ্টা চলছে। এর প্রতিবাদ করায় স্থানীয়দের হামলা ও মামলার শিকার হতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

বক্তারা অভিযোগ করেন, জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের নামে জমি ক্রয় না করেই বিভিন্ন স্থানে বালু ভরাট ও রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে তিন ফসলি কৃষিজমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্যনির্ভর মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, রূপগঞ্জের ঐতিহাসিক ইচ্ছাখালী খাল বালু দিয়ে ভরাট করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে আশপাশের প্রায় ২৪টি গ্রামের মানুষ জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে পড়েছেন। খালটি থেকে বালু অপসারণ করে পুনঃখনন ও আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তারা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জলসিঁড়ি প্রকল্পের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় শতাধিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে নয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—জমি ক্রয় ছাড়া বালু ভরাট ও রাস্তা নির্মাণ বন্ধ, ইচ্ছাখালী খাল পুনরুদ্ধার, আবাসন প্রকল্পের সীমানা (ডিমার্কেশন) প্রকাশ, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত না করে উচ্ছেদ বন্ধ এবং বসতবাড়ি থেকে কমপক্ষে ৩০০ মিটার দূরে প্রকল্পের সীমানা নির্ধারণ।

বক্তারা বলেন, আমরা দেশের সম্মানিত সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নই, আমরা জলসিঁড়ি প্রকল্পের কথিত বেআইনি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে পৈতৃক সম্পত্তি ও জন্মভূমি রক্ষায় আরও কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে জলসিঁড়ি প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে গোসলে নেমে ৫ শিশুর মৃত্যু

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় পদ্মার শাখা নদীতে (মরা নদী নামে পরিচিত) গোসলে নেমে পাঁচ মেয়ে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সম্পর্কে তারা মামাতো, ফুপাতো ও চাচাতো বোন। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার দেবিনগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চর চাকলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই শিশুদের আত্মীয় তৌহিদ আলম।

নিহতরা হলো- চর চাকলা গ্রামের মাসুদ রানার মেয়ে সুমাইয়া (৯) ও আবিদা (৭); একই গ্রামের নেজাম উদ্দিনের মেয়ে সুমাইয়া (১২) ও সুরাইয়া (৯)। অন্যজন হলেন ওই গ্রামের শরীফুল ইসলামের মেয়ে শরীফা (৮)।

বৈঠকে এলজিআরডি মন্ত্রী ঢাকার পানি সংকট মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবে ডেনমার্ক

ঢাকার ক্রমবর্ধমান বিশুদ্ধ পানির চাহিদা ও সংকট মোকাবিলায় ডেনমার্কের সহযোগিতা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন সহায়তার ক্ষেত্রে ডেনমার্ক বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হতে পারে।

গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলারের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের দ্বিপাক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার, পানি সরবরাহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পে ডেনমার্কের বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূত নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পানি সরবরাহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ডেনমার্ক কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের ক্ষেত্রেও ডেনমার্কের বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

বৈঠকে সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প (ফেজ-৩)-এ ডেনমার্কের অর্থায়ন ও সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রকল্পটিতে ডেনমার্ক সরকার সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা অর্থায়ন করবে। এর মধ্যে এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা অনুদান এবং তিন হাজার কোটি টাকা স্বল্পসুদে ঋণ সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে ডেনমার্কের সহযোগিতা সরকারের জন্য একটি বড় সাফল্য। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ঢাকা শহরে ক্রমবর্ধমান বিশুদ্ধ পানির চাহিদার চাপ অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।