Home Blog Page 54

পিপিআরসির আলোচনায় হোসেন জিল্লুর রহমান বাজেট বাস্তবায়ন তিন মাস অন্তর তদারক করতে হবে

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের সাফল্য নির্ভর করবে এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। শুধু উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য নির্ধারণ করলেই হবে না, বাস্তবে কতটুকু অর্জিত হচ্ছে, তার ওপর নিয়মিত নজরদারি রাখতে হবে। গতকাল শনিবার পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত এক আলোচনায় সভায় সংগঠনটির নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান এমন মত দিয়েছেন।

‘পিপিআরসির বাজেট বিশ্লেষণ’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে হোসেন জিল্লুর বলেন, যেকোনো বাজেটের প্রকৃত পরীক্ষা তার প্রতিশ্রুতিতে নয়, বরং বাস্তবায়নে। এ কারণে বাজেট বাস্তবায়ন কৌশলকে সরকারের শাসন কাঠামোর মধ্যে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ত্রৈমাসিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। এতে বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিত মূল্যায়ন করা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, জবাবদিহিতা এবং প্রমাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণ ছাড়া বাজেটের লক্ষ্য অর্জন কঠিন। তিনি মনে করেন, দেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে দীর্ঘদিন ধরে তিনটি বড় সমস্যা বাধাগ্রস্ত করছে—দুর্নীতি, বাস্তবায়নে বিলম্ব ও ব্যর্থতা এবং অপ্রয়োজনীয় দপ্তর ও প্রকল্পের কারণে সৃষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক অপচয়। এসব সমস্যা সমাধান না হলে বাজেটের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাবে না।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কিছু সুরক্ষা থাকলেও মধ্যবিত্তের ওপর বাজেটের প্রভাব নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা হয়নি। করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হলেও করহার বাড়ানোর কারণে করদাতাদের একটি অংশ প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। পাশাপাশি প্রান্তিক অঞ্চলের বৈষম্য কমানো, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার গুণগত সমস্যাগুলো সমাধানে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে শক্তিশালী গতি এবং অধিকতর স্বচ্ছতা ছাড়া উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কতটুকু সম্ভব, সে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি রাজস্ব প্রশাসনে প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়নের গতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, রাজস্ব মূলত একটি কার্যকর অর্থনীতি থেকেই আসে। উৎপাদনশীল খাত ও বেসরকারি উদ্যোগগুলো প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে রাজস্ব আহরণ স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পাবে।

নিট পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক বলেন, বাজেটের অনেক প্রক্ষেপণ দ্রুত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের অনুমানের ওপর নির্ভরশীল। কিছু ব্যবসাবান্ধব প্রশাসনিক সংস্কারকে স্বাগত জানালেও তিনি ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর ভাষ্য, বাজেটে যেন ধরে নেওয়া হয়েছে অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে, কিন্তু বাস্তবে পুনরুদ্ধারের জন্য সময় প্রয়োজন। প্রত্যাশিত ফল অর্জন নির্ভর করবে এমন একটি পরিবেশ তৈরির ওপর, যেখানে ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণে আস্থা পাবেন।

একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। অনেক তরুণকে একাধিক কাজ করতে হচ্ছে, এমনকি কেউ কেউ খরচ সামলাতে এক বেলা কম খাচ্ছেন। তিনি বলেন, শুধু ঢাকা শহরের চিত্র দেখে দেশের সামগ্রিক অবস্থা মূল্যায়ন করা যাবে না। রাজধানীর বাইরের অঞ্চলে মানুষের কষ্ট ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বেশি দৃশ্যমান।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এ. সাত্তার মণ্ডল বলেন, কৃষি খাতে সহায়তা অব্যাহত থাকলেও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও দীর্ঘমেয়াদি কৃষি উন্নয়ন কৌশলের ঘাটতি রয়েছে। তিনি স্মার্ট কৃষি, প্রযুক্তিগত অভিযোজন এবং কৃষির আধুনিকায়নের ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা খাতে আরও কার্যকর বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি সেই অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
মালালা ফান্ডের সাবেক কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ মুশাররফ তানসেন শিক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ বৃদ্ধি সত্ত্বেও এ বরাদ্দ শিক্ষার্থীদের শেখার ফলাফল উন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখবে, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাক্ষরতা ও সংখ্যাজ্ঞানের বিদ্যমান ঘাটতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মূল চ্যালেঞ্জ বাজেটের আকারে নয়, বরং সম্পদের কার্যকর ব্যবহারে। শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের প্রকৃত সুফল পেতে হলে শেখার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষাদানের গুণগত পরিবর্তন নিশ্চিত করতে হবে।

ফ্যাসিস্টদের মতো বিএনপি একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করছে: জামায়াত আমির

সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো বিএনপি সরকার ক্ষমতায় বসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ ইসলামী ব্যাংকে কালো হাতের থাবা দিয়েছে। বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিগুলোতে যোগ্য ভিসিদের সরিয়ে দলীয় অনুগত ও পদধারী লোকদের বসিয়েছে। জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক পদে দলীয় ক্যাডার ও দলীয় নেতাদের বসিয়ে বিগত ফ্যাসিস্টদের মতো দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার চেষ্টা করছে।

শুক্রবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ইতিহাস ভুলবেন না। শেখ মুজিবুর রহমানও বাকশাল কায়েম করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। অর্ধবছর থাকতে পারেননি। দেশের মানুষ একদলীয় শাসন ব্যবস্থা দেখতে চায় না। অনির্বাচিত প্রশাসক আমরা দেখতে চাই না। সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদে জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি  নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশের মানুষ দেখতে চায়।

‎জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২৪-র জুলাই আন্দোলন হয়েছিল বলেই বাংলাদেশে ২০২৬ সালের নির্বাচন হয়েছে। দেশে ২৬ সালে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না। যাদের রক্ত এবং জিহাদের কারণে আজকের এই সংসদ, সরকার ও বিরোধী দল, তারা যদি শহীদ পরিবার, আহত পঙ্গু ভাইবোনদের প্রতি অবজ্ঞা এবং উপহাস করেন তবে নিজের সঙ্গেই গাদ্দারি কায়েম হবে।

‎তিনি দাবি করেন, জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জনগণ তাদের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে। কিন্তু জনগণের বিজয় অনেক জায়গায় প্রতিফলিত হয়নি। ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে ১১ দলীয় জোট বিজয়ী হতো। কিন্তু জনগণের সেই বিজয় ছিনতাই করে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু একটি প্রেক্ষাপটের কারণে এই নির্বাচন আমাদের মেনে নিতে হয়েছে। কারণ দীর্ঘ ১৭ বছর পর ফ্যাসিস্ট সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশের নির্বাচন হয়েছে। জনগণতো আমাদের ভোট দিয়েছে।

‎ড. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনে প্রায় ৬৭ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন এবং তাদের ভোটের যথাযথ মূল্যায়ন করা উচিত। জনগণের রায়কে সম্মান জানানো গণতন্ত্রের অন্যতম শর্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা গণভোট মানে না, তারা গণতন্ত্র রক্ষা করতে পারে না।

‎তিনি আরও বলেন, আমরা সংসদে আলোচনা করেছি, গণভোটের চর্চা যাতে হারিয়ে না যায়। মানুষের রায়কে সম্মান করুন। মানুষের রায়কে সম্মান না করলে মানুষ আপনাদের সামনে হিমালয়ের মতো দাঁড়াবে। জনগণের মনের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন। জনগণের প্রত্যাশা ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে।

‎সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে অনেক ভুল করেছে। একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন দপ্তরে দলীয় লোকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

‎তিনি বলেন, সরকারের কথার সঙ্গে কাজের মিল নেই। আবার তারাই আমাদের খোঁটা দেয়, হাজার জাতের খোঁটা। আমার নাকি কোথায় জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছি। আপনারা কি কোথাও কোনও জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছেন। আপনাদের কাছে কি কেউ জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছে। আপনারা কেউ বিক্রি করেনি। আপনাদের কাছেও কেউ বিক্রি করেনি। জান্নাতের টিকিট কারা বিক্রি করেছে যারা ইলেকশনের সময় গিয়ে বলেছে এই মার্কায় ভোট দিলে জান্নাত পাবেন। সেই ভিডিওগুলো কি হারিয়ে গেছে। কারা বিক্রি করেছেন যারা বলেছেন অমুক নেতার নাম ১০০ বার জপলে আপনি জান্নাতে যাবেন।

‎জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর আমির মাওলানা মো. আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে কর্মী সম্মেলনে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদসহ অন্যান্যরা।

‎পরে জামায়াতের আমির আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল জব্বারকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। একই সঙ্গে ২৭টি ওয়ার্ডে জামায়াতে ইসলামির কাউন্সিলর প্রার্থী দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন।

কাঁঠাল খুলেছে রপ্তানির নতুন সম্ভাবনার দ্বার

রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) প্রাঙ্গণ হয়ে ‍উঠেছিল একটি ফলের রাজ্য। সেখানে ঢুকতেই স্বাগত জানায় পানিতে ভাসমান বিশাল এক পদ্মফুল; যা কোনো সাধারণ পদ্ম নয়, নানা রঙ ও আকৃতির ফল দিয়ে সাজানো এক শিল্পকর্ম। এরপর কাঁঠাল, ড্রাগন, ডেউয়া, কামরাঙা, সফেদা, জাম্বুরা, গোলপাতার ফল, বিলাতি গাব, নারকেল ও বেলের সমাহার দর্শনার্থীদের চেনাল দেশের ফলের ভাণ্ডারের সঙ্গে।

তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার শেষ দিন গতকাল শনিবার কেআইবি প্রাঙ্গণে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসে কেউ ফল কেনেন, কেউ ছবি তোলেন। কেউ শিশুদের সঙ্গে ফলের পরিচয় করিয়ে দেন।
এবারের মেলায় প্রায় ৭৮টি স্টল অংশ নেয় । শত রকম ফলের সমাহার থাকলেও মেলায় আমের ম-ম গন্ধে মাতোয়ারা হয়েছিলেন দর্শনার্থীরা। ল্যাংড়া, আম্রপালি, হাঁড়িভাঙা, ফজলি, নাগফজলি, গোপালভোগ, আশ্বিনা জাতের আম ছিল স্টলে স্টলে। আরও ছিল কোহিতুর, জাপানের মিয়াজাকি, আমেরিকান রেড পালমার, থাই কাটিমন, মহাচানক, আলফানসো, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, ব্রুনাই কিং ও কিং অব চাকাপাতের মতো বিদেশি জাত ও উচ্চমূল্যের আম। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের স্টলেই ছিল ৫৪ জাতের আম।
মিরপুর থেকে পরিবার নিয়ে ফল কিনতে আসা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবছর আমরা এই মেলায় আসি। এখানে ফলের দামও অনেক ক্ষেত্রে বাজারের তুলনায় কম। সবচেয়ে বড় কথা, এক জায়গায় এত রকম ফল দেখা যায়।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এবারের আয়োজনকে ‘সবচেয়ে সফল’ বলে জানালেন মেলার আয়োজক ও বিক্রেতারা। সোলেমানপুর কৃষিপণ্য সংগ্রহ বিপণন কেন্দ্রের আহসান হাবিব রাব্বি বলেন, ‘গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার দর্শনার্থী সবচেয়ে বেশি হয়েছে। বিক্রিও ভালো হয়েছে।’

রপ্তানিযোগ্য আম নিয়ে অংশ নেওয়া উদ্যোক্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘বিদেশে পাঠানো হয় এমন প্রায় সব জাতের আমই তারা প্রদর্শন করেছেন।’ অন্যদিকে, কয়েক টন আম নিয়ে মেলায় অংশ নেওয়া বিক্রেতা মুজিবর রহমান জানান, প্রতিদিন এক থেকে দেড় লাখ টাকার আম বিক্রি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি।

ফল মেলার চমকপ্রদ দিক ছিল ফলভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের প্রদর্শনী। বাংলাদেশ কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের স্টলে ছিল জাতীয় ফল কাঁঠাল দিয়ে তৈরি বিরিয়ানি, বার্গার, রুটি, জালি কাবাব, কাঠি কাবাব, চিপস, সমুচা, শিঙাড়া, পাকোড়া, পাটিসাপটা, কাটলেট, কাপকেক ও পেস্ট্রি। কাঁঠালের বীজ দিয়ে তৈরি করা হয় বরফি ও চিপস। পাশাপাশি ছিল কাঁঠালের হালুয়া, পুডিং ও আচার।
একটি স্টলে ১০ টাকায় কাঁঠালের জালি কাবাব চেখে দেখছিলেন দর্শনার্থীরা। পাশেই কাঁঠালের শিঙাড়া, সমুচা, চিজবল ও কাটলেট তৈরি করে
বিক্রি করছিলেন উদ্যোক্তারা। এক সময় শুধু
মৌসুমি ফল হয়ে থাকা কাঁঠাল এখন নতুন শিল্প ও রপ্তানি সম্ভাবনার দ্বার খুলছে– এ বার্তা জানিয়ে দিল ফল মেলা।

শ্রমবাজার চালুর সম্ভাবনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া যাচ্ছেন আজ নেতাকর্মী আর প্রবাসীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে আজ রোববার দুপুরে ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর আসছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দুই দিনের সফরে আসছেন তিনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মালয়েশিয়া সফরে দুটি সমঝোতা স্মারক ও দুটি ‘নোট অব এক্সচেঞ্জ’ সই হতে পারে। এ সফরে গুরুত্ব পাবে বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার চালু করা এবং অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিত করার বিষয়টি। এ ছাড়া বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারে সহযোগিতা, শিক্ষা সহযোগিতা ও বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২২ জুন দুপুরের পর কুয়ালালামপুর থেকে চীনের বন্দরনগরী দালিয়ানে যাবেন। তিনি ২৩ থেকে ২৬ জুন চীন সফর করবেন। প্রধানমন্ত্রী ২৬ জুন বিকেলে বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা। সফর উপলক্ষে কুয়ালালামপুরের পথে পথে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা এবং মালয়েশিয়ার পতাকা শোভা পাচ্ছে।

তারেক রহমান কুয়ালালামপুরের শাংরি-লা হোটেলে উঠবেন। সেখানে মালয়েশিয়া বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যায়ের বাংলাদেশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং শ্রমিকদের সঙ্গে তাঁর মতবিনিময় হতে পারে। এ ছাড়া মালয়েশিয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান। এ ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল থাকবে।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধি দল তুলনামূলকভাবে ছোট রাখা হয়েছে। প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা ২৭ থেকে ২৮ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
তারেক রহমান আগামীকাল সোমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন। পরে দুই দেশের সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। সেখানে দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা হবে। আলোচনার ইস্যু হবে বাণিজ্য, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং কৃষি, শিক্ষা ও জনযোগাযোগ। এসব ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অধিকতর সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হবে।

মালয়েশিয়া বিএনপির সহসভাপতি শাখাওয়াত হোসেন সমকালকে জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর কেবল কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং মালয়েশিয়ায় বসবাসরত লাখো বাংলাদেশির দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের বিরাট সুযোগ।

রাতে ঘুমানোর আগে পায়ে তেল মালিশ করলে যেসব উপকারিতা মেলে

পা শরীরের সবচেয়ে পরিশ্রমী অংশগুলোর মধ্যে অন্যতম। কিন্তু শরীরের অন্যান্য অংশের যত্ন নেওয়া হলেও খেুব কম মানুষই পায়ের যত্ন নেন। শরীরের এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ভালো রাখতে রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে ম্যাসাজ করার কথা ভাবতে পারেন। পায়ে ম্যাসাজ করার জন্য নিয়মিত ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় ব্যয় করলে তা শরীরের জন্য উপকারী হবে। যেমন-

গভীর এবং আরামদায়ক ঘুম

অনিদ্রায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য পায়ের ম্যাসাজ দারুন সমাধান। পায়ে ম্যাসাজ করলে মনকে শান্ত হয়, মানসিক চাপ কমায় এবং শরীর ও স্নায়ুগুলিকে শিথিল করে। এই অভ্যাস গভীর, আরামদায়ক ঘুম পেতে সাহায্য করে।

রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে
দিনের বেলা দাঁড়িয়ে থাকা বা হাঁটার ফলে পায়ে সৃষ্ট ক্লান্তি এবং রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা দূর করতে পায়ের ম্যাসাজ সাহায্য করে। নিয়মিত ম্যাসাজ করা পায়ে রক্ত সঞ্চালন নিয়ন্ত্রণ করে এবং শরীরের সর্বত্র অক্সিজেন এবং পুষ্টি সরবরাহ করতে সাহায্য করে। এর ফলে শারীরিক ক্লান্তি দূর হয়। সেই সঙ্গে সতেজ লাগে। শীতকালে পায়ে ঠান্ডা লাগা রোধ করতেও এটি সাহায্য করে।

রক্তচাপ হ্রাস
যখন আপনি মানসিক চাপে ও ক্লান্ত থাকেন, তখন রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। যদি আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাহলে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পায়ে ম্যাসাজ করুন — এটি উচ্চ মাত্রার মানসিক চাপ মোকাবেলায় সাহায্য করার মাধ্যমে রক্তচাপ কমাতে পারে।

মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ কমায়

পায়ের ম্যাসাজ করলে আরাম বোধ হয়। এই অভ্যাস মন শান্ত করে, মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়। একিউপ্রেশার পয়েন্টগুলি উদ্দীপিত হওয়ার ফলে, শরীরে এন্ডোরফিন নিঃসৃত হয় যা মেজাজ উন্নত করে। এটি একটি প্রাকৃতিক মানসিক চাপ উপশমকারী হিসেবে কাজ করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
নিয়মিত পায়ে ম্যাসাজ রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে । এর ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

শরীর থেকে টক্সিন দূর করে

প্রতিদিন পায়ে ম্যাসাজ করলে লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ উদ্দীপিত হয়। এটি শরীর থেকে টক্সিন এবং বর্জ্য পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে।

মাংসপেশির ব্যথা এবং টান কমায়
দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বা টাইট জুতা পরার ফলে সৃষ্ট পায়ের ব্যথা, মাংসপেশির টান এবং ফোলাভাব কমাতে পায়ের ম্যাসাজ খুবই উপকারী। ইউক্যালিপটাস বা টি ট্রি তেলের মতো প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্যযুক্ত তেল ব্যবহার করলে আরাম হয়। সেই সঙ্গে ব্যথাও কমে।

কোন তেল ব্যবহার করা যেতে পারে?
আয়ুর্বেদে বহুল ব্যবহৃত তেলের মধ্যে সরিষার তেল বেশ জনপ্রিয়। এটি ব্যথা এবং ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে।

অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যযুক্ত নারকেল তেল ত্বকে আর্দ্রতা যোগায়। ত্বক কোমল করতে এবং সংক্রমণ প্রতিরোধেও এই তেল বেশ কার্যকর।

ভিটামিন ই সমৃদ্ধ বাদাম তেল ত্বক কোমল এবং পুষ্ট করতে সাহায্য করে।

গভীর ঘুম আনতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে ল্যাভেন্ডার তেল। এটি অন্যান্য তেলের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।

কলেজের জমিতে প্রাচীর, গুঁড়িয়ে দিলেন শিক্ষার্থীরা

দেবিদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজের জায়গা দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। প্রাচীর নির্মাণকালে ১৫টি গাছ কেটে ফেলারও অভিযোগ রয়েছে। খবর পেয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিলসহ গিয়ে প্রাচীরটি গুঁড়িয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জানান, দুই দিন ধরে একটি মহল কলেজ হোস্টেলের পেছনের অংশ দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। প্রথমে আশপাশের আবাসিক এলাকার পানি নিষ্কাশনের অজুহাতে ড্রেন নির্মাণের কথা বলা হয়। পরে ড্রেন নির্মাণের নামে হোস্টেলের ১৫টি গাছ কেটে ফেলা হয়। কিন্তু ড্রেন নির্মাণ না করে রাতারাতি সেখানে মাটি ভরাট করে একটি সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে কলেজ ক্যাম্পাস ও হোস্টেলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুপুরে কয়েকশ শিক্ষার্থী হোস্টেলে জড়ো হয়ে দখলদারদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে হাতুড়ি দিয়ে অবৈধভাবে নির্মিত প্রাচীরটি ভেঙে ফেলেন।

কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, তাদের চোখের সামনে কলেজের কোটি টাকার সম্পত্তি দখল হয়ে যাবে– মেনে নেওয়া যায় না। পানি নিষ্কাশনের মিথ্যা অজুহাতে হোস্টেলের ১৫টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে এবং এক রাতের মধ্যে দেয়াল তুলে জায়গা দখল করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও সম্পত্তি রক্ষায় সব ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতে তারা প্রস্তুত।
জায়গা দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয় সফিউল্লাহ মানিক বলেন, কলেজের জায়গা দখল করার কোনো উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। বর্ষাকালে পেছনের আবাসিক এলাকার পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হয়। সেই জনদুর্ভোগ কমাতে ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম বলেন, একটি পক্ষ অবৈধভাবে রাস্তা নির্মাণের জন্য রাতের আঁধারে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে ফেলেছে। কলেজের সম্পত্তি রক্ষায় যা করার প্রয়োজন, তা-ই করেছে তারা।
দেবিদ্বার পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ ফয়সাল উদ্দিনের ভাষ্য, হোস্টেলের পেছনের বাসিন্দাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং তৎকালীন ইউএনও জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছিলেন। তবে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশোক বিক্রম চাকমা বলেন, ‘কয়েক দিন আগে যোগদান করেছি। যতটুকু জেনেছি, জায়গাটি কলেজের। কয়েকটি পরিবারের যাতায়াতের সুবিধার্থে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

১৪ দফা সমঝোতা সই যুদ্ধের অবসান, নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা ইরানের ইংরেজি ও ফারসি ভাষায় লেখা স্মারকে স্বাক্ষর

সব উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। গত বুধবার ডিজিটাল পদ্ধতিতে দুই দেশের প্রেসিডেন্ট এতে সই করেন। এর মধ্য দিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের অবসান ঘটল। ইরানের কর্মকর্তারা একে ‘কূটনৈতিক বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এদিকে এ নিয়ে ওয়াশিংটনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।

দুই দেশের হাতে এখন ৬০ দিন সময় রয়েছে চূড়ান্ত চুক্তিতে আসার জন্য। ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সমঝোতা স্মারকে উল্লিখিত ১৪ দফা গত বুধবার থেকে কার্যকর হওয়া শুরু হয়েছে।

ইরানের কর্মকর্তাদের দাবি, তেহরান দৃঢ়তার অবস্থান থেকে আলোচনা চালিয়েছে এবং ওয়াশিংটনের কাছ থেকে বড় ছাড় আদায় করে নিতে সক্ষম হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ এ সমঝোতাকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের আত্মসমর্পণের প্রমাণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। গত বুধবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত  সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার রেকর্ড। মানুষ এটি দেখবে এবং বিচার করবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর বলছে, ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ান ইংরেজি ও ফারসি ভাষায় সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এ সময় পেজেশকিয়ান ইরানে থাকলেও ট্রাম্প ছিলেন ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে। সেখানে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেওয়ার আগে তিনি এতে স্বাক্ষর করেন। পরে সে ছবি প্রকাশ করা হয়।

এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানকে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র পেতে দেবেন না। তবে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের দিনটিতে ট্রাম্প জানান, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র না থাকাটা ‘অন্যায্য’ হবে।

সমঝোতা স্মারকে ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলার তহবিল গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি তেহরানের পক্ষ থেকে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র বানাবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রাথমিক চুক্তি চূড়ান্ত নয় এবং এটি ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র আবার বোমা বর্ষণে ফিরে যেতে পারে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট স্বাক্ষর করা সমঝোতা স্মারকটির ছবি সামাজিক মাধ্যম এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেছেন। এটিকে ‘ঐতিহাসিক নথি’ অভিহিত করে তিনি বলেন, পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে শান্তি অর্জিত হবে। পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্মত হওয়া সমঝোতা স্মারক এমন একটি দেশের কণ্ঠস্বর তুলে ধরছে, যারা হুমকি ও চাপের মুখে আত্মমর্যাদা ও স্বাধীনতা বিলিয়ে দেয়নি। পরে সামাজিক মাধ্যমে আরেকটি পোস্টে ইরানের প্রেসিডেন্ট লেখেন, আজ যা হয়েছে, তা জাতীয় সহনশীলতা, রাজনৈতিক যৌক্তিকতা এবং দায়িত্বশীল কূটনীতির ফলাফল।

আলজাজিরার খবর বলছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিজ দেশের রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে স্বাক্ষর করেন।

এর আগে জানা গিয়েছিল, ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে স্বাক্ষরিত হওয়ার পর (আজ) শুক্রবার দুই পক্ষের প্রতিনিধি দল সুইজারল্যান্ডে উপস্থিত হয়ে স্বাক্ষর করবে। দুই দেশের মধ্যে আজ বৈঠক শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার ইরানের কূটনৈতিক সূত্র জানায়, সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে আলোচনার জন্য ইরান প্রতিনিধি দল পাঠাবে কিনা, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, শরিফ সুইজারল্যান্ড সফর পিছিয়ে দিয়েছেন। মূলত সমঝোতা স্মারক ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে স্বাক্ষরিত হওয়ায় এবং কার্যকরী হওয়ায় তিনি ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মুখপাত্র আরও জানান, পাকিস্তান পরবর্তী ধাপের আলোচনাগুলো বাস্তবায়নে কাজ করবে।

সমঝোতার প্রথম দফা অনুসারে এখন সব যুদ্ধক্ষেত্রে হামলা ও আক্রমণ থেমে যাওয়ার কথা। এমনকি এর আওতায় লেবাননও থাকার কথা। তবে গতকাল এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত লেবাননে হামলা থামায়নি ইসরায়েল। গতকাল সকালে চালানো হামলায় দেশটিতে তিনজন নিহত হয়েছেন। লেবাননে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত। সেখানে ইসরায়েলের সর্বশেষ হামলার পর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে– নিজ প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ট্রাম্প আদৌ ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করবেন কিনা।

খুলেছে হরমুজ প্রণালি
এদিকে সমঝোতার কিছু সুফল এরই মধ্যে পেতে শুরু করেছে বিশ্ব। গতকাল কয়েক মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাধা ছাড়াই তেল পারাপার করেছে সৌদি আরব। রয়টার্সের খবর বলছে, সৌদি আরবের পতাকাবাহী তিনটি সুপারট্যাঙ্কার ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে গতকাল হরমুজ প্রণালি পার হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গতকাল জানান, সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের পর এক কোটি ২৫ লাখ ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হয়েছে।

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ওই প্রণালি দিয়ে যত জাহাজ পার হতো, এটি সে তুলনায় নগণ্য। রপ্তানিকারকরা বলছেন, নৌযান চলাচল যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পর্যায়ে নিয়ে যেতে সময় লাগবে। এখনও এই জলপথে অনেক মাইন রয়েছে। সেগুলো পরিষ্কার করা প্রয়োজন। মাইন পরিষ্কারের কাজে এরই মধ্যে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে পশ্চিমা বিশ্বের একাধিক দেশ। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া একান্তই তাদের দায়িত্ব। এ কাজে বাইরের কারও হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। বরং এ ধরনের কোনো হস্তক্ষেপ হলে তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে।

রয়টার্সের খবর বলছে, যেসব জাহাজ এতদিন যুদ্ধের জন্য নিজেদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে অবস্থান গোপন রেখেছিল, সেগুলো তারা চালু করেছে। চেষ্টা করছে ওই প্রণালি দিয়ে নিরাপদে বের হয়ে আসতে।

ওয়াশিংটনে বিভক্তি
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর নিয়ে ওয়াশিংটনে অনেকেই সন্তুষ্ট নন। কেউ কেউ আবার করেছেন সমালোচনা। এমনকি ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেও দেখা গেছে বিভক্তি। কেউ কেউ দাঁড়িয়েছেন সমর্থনেও।

ট্রাম্পের সমালোচকদের দাবি, এই সমঝোতার মধ্য দিয়ে ইরানের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে, যা যুদ্ধের আগেও ছিল না। তারা পরাশক্তির আঘাত সহ্য করতে পেরেছে; হরমুজে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছে এবং আর্থিক নিষেধাজ্ঞার প্রশ্নে ব্যাপক ছাড় পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমঝোতা স্মারকের সমালোচনাকারীদের ‘বোকা, মিথ্যাবাদী ও নির্বোধ’ বলে অভিহিত করেছেন।
আলজাজিরার খবর বলছে, রিপাবলিকান পার্টির অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, ইরান যুদ্ধের বিষয়টি আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কারণ দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিনিদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন– বিদেশের মাটিতে আর কোনো যুদ্ধে জড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র।

অন্যদিকে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের বিষয়কে যারা সমর্থন করেছেন, তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধে জড়ালেও দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এটি থেকে সরে এসেছেন। তাঁর এ সরে আসাই প্রমাণ করে– তিনি ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ প্রেসিডেন্ট।

এদিকে জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি কাতারের অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ বলেছেন, দেশের ভেতরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সমঝোতা স্মারক নিয়ে ব্যাপক রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন। খবরে দেখা যাচ্ছে, ক্যাপিটল হিলের ভেতরে অনেকে ক্ষুব্ধ এ চুক্তি নিয়ে; বিশেষ করে রিপাবলিকান পক্ষের।

মাসগ্রেভ আরও জানান, আগামীতে ইরানের জব্দ থাকা তহবিল ছাড় নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি উঠবে। তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহ পর্যন্ত ট্রাম্প ইরানকে মহাহুমকি, মহাশত্রু হিসেবে অভিহিত করছিলেন। সামনে ইরান সরকার তাদের তহবিল ছেড়ে দিতে বলবে। এখন যদি প্রেসিডেন্ট আদৌ দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকেন, তাহলে তাঁকে এমন একটি উপায় খুঁজে বের করতে হবে, যা দিয়ে তহবিলও ছেড়ে দেওয়া সম্ভব হবে; এ জন্য তাঁকে রাজনৈতিক মাশুলও গুনতে হবে না।’

বড় প্রশ্ন লেবানন
সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর হয়ে গেলেও এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি রয়ে গেছে লেবানন ঘিরেই। ইসরায়েল এ চুক্তির স্বাক্ষরকারী পক্ষগুলোর মধ্যে নেই। যদিও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যখন ইরান যুদ্ধের সূত্রপাত, তখন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা চালিয়েছিল।

২ মার্চ থেকে চলছে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, যা ইরান যুদ্ধের আবহেই শুরু হয়। সে সময় থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে ইসরায়েলি হামলায় তিন হাজার ৯১২ জন প্রাণ হারিয়েছে; আহত হয়েছে ১১ হাজার ৮৭৩ জন। শুধু তা-ই নয়, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের বড় অংশ নিজেদের দখলে নিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যেই লেবাননে হামলা চালানোর জন্য ইসরায়েলের সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল লেবাননে একজন হিজবুল্লাহ যোদ্ধাকে হত্যার জন্য পুরো ভবন ধসিয়ে দিচ্ছে। এতে বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে।

ওয়াশিংটন ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধি দলকে আলোচনায় বসিয়ে যুদ্ধ অবসানের চেষ্টাও করেছে। সেখান থেকে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত এলেও ইসরায়েল মাঠে তা মানেনি। বরং ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রীরা বলেছেন, সেখানে ইসরায়েলি অভিযান চলমান থাকবে।

আলজাজিরার খবর বলছে, ইসরায়েলের লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো ইচ্ছা নেই। ট্রাম্প যে বিষয়ে সম্মত হয়ে থাকুন না কেন, তা তারা মানবে না। গতকাল তারা নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে। এতে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের দখলকৃত এলাকা ইসরায়েল নিজেদের ‘বাফার জোন’ হিসেবে দেখিয়েছে।

রয়টার্সকে দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লেবাননে সেনা রাখার জন্য ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ওই দুই কর্মকর্তার একজন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ বলে জানা গেছে। সেই কর্মকর্তা ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনাকে ‘একরোখা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ইসরায়েল পিছু হটছে না। অন্য কর্মকর্তা বলেছেন, পুরো বিষয়টি নির্ভর করবে ট্রাম্প ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে তাদের কিছু করতে বাধ্য করেন কিনা, সেটির ওপর। ফলে লেবানন ইস্যুর কী হবে– সে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে।

হিজবুল্লাহ-প্রধান নাইম কাসেম এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সমঝোতাকে ‘বড় বিজয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, লেবাননের সঙ্গে ইসরায়েলের আলোচনা পারস্পরিক সুরক্ষা ইস্যুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত এবং তাদের নিরস্ত্রীকরণ পর্যন্ত যাওয়া উচিত নয়।

স্বাগত জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট  
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গতকাল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক সইকে স্বাগত জানিয়েছেন। পুতিন জানান, মস্কো একে স্থায়ীভাবে সংঘাত নিরসনের দিকে একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে এবং এটি ভবিষ্যৎ শান্তি চুক্তির জন্য একটি মডেল হয়ে উঠতে পারে।

রুশ শহর কাজানে রাশিয়া-এশিয়ান সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় পুতিন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য সুফল বয়ে আনবে।

ট্রাম্প ‘হতাশা থেকে’ চুক্তি করেছেন: মোজতবা খামেনি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া চুক্তির পর ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এখনো ওই অঞ্চলে অবস্থান করবে। খামেনির দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘হতাশা থেকে’ বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ করে এই চুক্তি বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হলেও তা যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান মেনে নেওয়ার শামিল হবে না।

চুক্তির পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে কিছু বিষয়ে আপত্তি থাকলেও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের আশ্বাসের ভিত্তিতে তিনি চুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন। পেজেশকিয়ান তাকে নিশ্চিত করেছিলেন যে ইরানের জনগণের অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন থাকবে।

চুক্তির প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার অঙ্গীকার এবং দেশটির পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠন। এছাড়া ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রয়োজন হলে উভয় পক্ষের সম্মতিতে বাড়ানো যাবে।

মূলত শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক আয়োজন হওয়ার কথা ছিল। তবে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, দূরবর্তী পদ্ধতিতে চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন হওয়ায় অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে। যদিও উভয় দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে আরও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তবে তিনি জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগত ও কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা এগিয়ে নিতে শিগগিরই সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ইরানের জন্য পুনর্গঠন তহবিল গঠনের বিষয়টি নিয়ে রিপাবলিকান দলের একাংশ সমালোচনা করেছে। রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি একে ‘দশকের সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতি ব্যর্থতা’ বলে মন্তব্য করেছেন।

অন্যদিকে ভ্যান্স বলেন, ইরানকে তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস করতে হবে এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে। এসব শর্ত পূরণ না হলে তেহরান কোনো আর্থিক সুবিধা বা নিষেধাজ্ঞা শিথিলতার সুযোগ পাবে না।

ইসরাইলের কয়েকজন মন্ত্রী চুক্তির সমালোচনা করলেও ভ্যান্স তাদের জবাবে বলেন, ‘বাস্তবতা মেনে নেওয়ার সময় এসেছে।’ একই সঙ্গে তিনি লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটানো হামলারও সমালোচনা করেন। তবে চুক্তি ঘোষণার পরও ইসরাইল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে, যা শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বস্তি ও আস্থার পরিবেশ জরুরি

এবারের বাজেটে বেশ কিছু ভালো পদক্ষেপের পরও তা নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় ও সন্দেহ পোষণ করেছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি)। সংগঠনটি বলেছে, নতুন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ডাকার আগে বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের স্বস্তি ও আস্থার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। যখন বিদ্যমান বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বিনিয়োগ শুরু করবেন, তখনই নতুন বিনিয়োগকারীরাও আসতে উৎসাহিত হবেন।

বাজেটে ব্যবসা সহজ করার বিষয়ে বেশ কিছু ভালো উদ্যোগ নেওয়ার প্রশংসা করে ফিকি বলছে, শেষ পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে এর প্রতিফলন থাকবে কিনা, তা এখন দেখার বিষয়। দেশে নতুন করে বিনিয়োগ না হওয়ার কারণ তুলে ধরতে গিয়ে সংগঠনটির নেতারা বলেন, প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় এ দেশে করহার বেশি। তার ওপর লোকসান হলেও ‘টার্নওভার ট্যাক্স’ নামে বাধ্যতামূলক কর দিতে হয়। ব্যবসার শুরু করতে অনেক লাইসেন্স নিতে হয়, পদে পদে হয়রানি হতে হয়।
প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে ফিকি। এতে সংগঠনটির সভাপতি রূপালী চৌধুরী, সহসভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী, নির্বাহী পরিচালক টি.আই.এম নুরুল কবির উপস্থিত ছিলেন। ফিকির পক্ষে বাজেটের মূল পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করেন কর বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া।

প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছে ফিকি। কাস্টমস পর্যায়ে এইও সরলীকরণ, গ্রিন চ্যানেলে পণ্য খালাস এবং ফ্রি ট্রেড জোন-সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ নিয়মাবলি জারি করাকে তারা আধুনিক বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য বড় অর্জন হিসেবে দেখছে সংগঠনটি।
রূপালী চৌধুরী বাজেটকে সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক ও পূর্বানুমানযোগ্য হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনী, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দীর্ঘমেয়াদে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ ও গ্রিন এনার্জি খাতে প্রণোদনা বাজেটের ইতিবাচক বলে মনে করেন।
রূপালী চৌধুরী বলেন, বিদ্যমান ব্যবসা পরিবেশে নতুন করে কেউ বিনিয়োগ করছে না। কিন্তু সরকার চায় বিনিয়োগ বাড়ুক, যাতে কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির আকার বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারে। বাজেটে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব বাধা রয়েছে, তা দূর করার কিছু চেষ্টা আছে, তবে তা পুরো সংকট কমাতে বা বিনিয়োগকারীদের চাহিদার খুবই অপ্রতুল।
রূপালী চৌধুরী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে পুরো পৃথিবীই একটি বিনিয়োগ ক্ষেত্র। তারা যেখানে সুবিধা বেশি পাবে সেখানেই যাবে। বাংলাদেশে কেবল সস্তা শ্রম আছে দেখে কেউ বিনিয়োগ করতে আসবে না। বিনিয়োগের আরও অনেক পূর্ব শর্ত রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে গ্যাসের সুবিধা থাকলেও পানির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইউটিলিটি সুবিধা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভেতরে ইউটিলিটির ওপর ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যার ফলে সেখানে উৎপাদন খরচ বাইরের তুলনায় বেশি। তাহলে ইপিজেড বা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে কোনো বিনিয়োগকারী কেনো বিনিয়োগ করবে?
বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনুমতি পেতে দীর্ঘ সময় লাগা এবং ব্যবসা শুরুর ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও পদ্ধতিগত জটিলতা, দীর্ঘমেয়াদি কোনো করকাঠামো না থাকায় বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে সমস্যায় পড়া, লোকসানের সময়ও বিক্রয়ের ওপর বাধ্যতামূলক ন্যূনতম কর দেওয়া বিনিয়োগের জন্য বড় বোঝা হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি।
মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী বাজেটে ‘ডিরেগুলেশন’ বা লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজ করা, যেমন–সাত দিনের মধ্যে অনুমোদন না দিলে তা অনুমোদিত বলে গণ্য করার উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক এবং বিনিয়োগবান্ধব পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। এ ছাড়া শুধু বিদ্যমান করদাতাদের ওপর চাপ না বাড়িয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে নতুন নতুন করদাতা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে করের আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

স্নেহাশীষ বড়ুয়া আগামী ৫ বছরের জন্য করপোরেট করের হার নির্দিষ্ট করার মাধ্যমে পূর্বাভাসযোগ্য করকাঠামো নিশ্চিত করার প্রশংসা করেন। এছাড়া আপিলের ক্ষেত্রে বিতর্কিত করের জামানত ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ থেকে ৪ শতাংশে নামিয়ে আনা, মামলা নিষ্পত্তির জন্য ‘এক্সিট ক্লজ’ এবং ভ্যাট ও কাস্টমস প্রশাসনের ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগগুলোকে তিনি স্বাগত জানান।
সংবাদ সম্মেলনে খুচরা বিক্রেতাদের ওপর প্রস্তাবিত শূন্য দশমিক ২ শতাংশ হারে উৎসে কর এবং তামাক ও কোমল পানীয় খাতের বৈষম্যমূলক কর কমানো, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের আগে বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের আস্থার পরিবেশ বজায় রাখা এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমিয়ে আনা দরকার বলে জানিয়েছে ফিকি।

জোর করে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর চেষ্টা মূল্যস্ফীতি উস্কে দেবে

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দরকার আছে, তবে তার আগে স্থিতিশীলতা ফেরানো জরুরি। চার বছর ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি। চাপের মধ্যে আছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। বাজেটের বড় একটি অংশ সুদ পরিশোধে খরচ হচ্ছে। এর মধ্যে জোর করে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর চেষ্টা করলে মূল্যস্ফীতিকে আরও উস্কে দেবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র‍্যাপিড) আয়োজিত সেমিনারে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে এমন পর্যালোচনা তুলে ধরা হয়। ‘বাজেট ২০২৭: সংস্কারের সংকেত, সামষ্টিক অর্থনীতির চাপ ও বাস্তবায়নের ঝুঁকি’ শিরোনামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বাজেটে এনবিআরের মাধ্যমে রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, তার চেয়ে অন্তত এক লাখ কোটি টাকার আয় কম হবে। বিদেশি ঋণ ও অনুদান কম থাকবে ৫০ হাজার কোটি টাকার। ফলে বাজেট বাস্তবায়নে অভ্যন্তরীণ উৎসের উচ্চ সুদের ঋণে জোর দিতে হবে। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ আরও বাড়ালে সুদ ব্যয় বাড়বে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাত ঋণ সংকুচিত হবে। যে কয়েকটি ব্যাংক ঋণ দিতে পারছে তারা উচ্চ সুদ ও ঝুঁকি বিবেচনায় এখন সরকারকেই ঋণ দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়, বন্ধ কারখানা সচল করতে সরকার ৬০ হাজার কোটি টাকার যে প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছে তা সতর্কতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে। করোনার সময়ের মতো অপব্যবহার হলে মূল্যস্ফীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক বলেন, এবারের বাজেটে অনেক ভালো উদ্যোগ রয়েছে। বিশেষ করে ব্যবসা সহজীকরণ এবং সামাজিক সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য-শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো। ফ্যামিলি কার্ড সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখতে পারে। এটি জনপ্রিয় উদ্যোগ। তবে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হলে অর্থাৎ প্রকৃত ব্যক্তিরা না পেলে অজনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে। সরকারের প্রতিশ্রুত ৪১ লাখ দরিদ্র পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হলে দারিদ্র্যের হার এক ধাক্কায় ১৩ দশমিক ৮ শতাংশে নামবে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দুই কোটি পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা সম্ভব হলে দারিদ্র্যের হার ১১ দশমিক ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, আমরা বলছি সবার আগে বাংলাদেশ। এটি সবার জন্য এবং সবাইকে নিয়ে হবে। এই বিষয় মাথায় রেখে বাজেটে পাঁচটি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিনিয়োগ আকর্ষণে দীর্ঘমেয়াদি করকাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে। লালফিতার দৌরাত্ম্য ও দুর্নীতি কমানোর পদক্ষেপ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বাজেটে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন অক্ষুণ্ন রেখে সুদহার কমানোর জন্য মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সমন্বয় করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বিগত সরকার বৈশ্বিক দায়দেনা বাড়িয়ে উন্নয়নের গল্প শুনিয়েছে। ঋণের বোঝা বাড়ায়ে দেশের অর্থনীতিকে দুর্বল রেখে গেছে। এখান থেকে বর্তমান সরকারই দেশকে এগিয়ে নিতে পারবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, দক্ষ মানুষ তৈরির জন্য শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। সামাজিক সুরক্ষার সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে।
বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি রুবানা হক বলেন, তৈরি পোশাকের বাইরে আমাদের কর্মসংস্থানের তেমন কোনো বিকল্প গড়ে ওঠেনি। যেভাবে এআইর প্রসার হচ্ছে আগামীতে যারা কর্মসংস্থান হারাবে তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে।
এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, করপোরেট কর ভিয়েতনামে ২০ শতাংশ অথচ বাংলাদেশে ২৭ শতাংশ। এটি কমাতে হবে। রপ্তানিতে উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য ৫০ শতাংশে নামাতে হবে।
র‍্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক ড. এম আবু ইউসুফের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপতি তাসলিমা আখতার।