Home Blog Page 91

একসঙ্গে ছড়াচ্ছে হাম ও ডেঙ্গু, বাড়ছে জনস্বাস্থ্যের উদ্বেগ

দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলা হামের প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না এলেও মৃত্যুর হার কিছুটা কমেছে। এর মধ্যেই বিভিন্ন জেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ডেঙ্গুর বিস্তার নতুন করে তৈরি করেছে উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম ও ডেঙ্গুর ফলে জনস্বাস্থ্যে একসঙ্গে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। সংখ্যাটি এখনও উদ্বেগজনক। অন্যদিকে ডেঙ্গুতেও প্রতিদিন ৫০ জনের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে দুই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও দেখা যাচ্ছে। ফলে সংক্রামক এই দুই রোগের চাপ সামাল দিতে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে বাড়তি সতর্কতার মধ্যে থাকতে হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি। অন্যথায় বর্ষা মৌসুমে দুই রোগের চাপ আরও বেড়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় সংকট তৈরি হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ঈদের ছুটিতে দুই দিনের স্বস্তির পর গতকাল আবারও হামের উপসর্গযুক্ত রোগী ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গতকাল রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২০-তে। তাদের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫২৯ জন এবং হামে ৯১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৮৮ হাজার ৬৯৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে আরও ৬৬ জনের। এতে মোট নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৬৮৬-তে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৮ হাজার ২৬৩ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৬০ হাজার ৮৪ জন।

টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতি

হাম-রুবেলা নির্মূল জাতীয় যাচাই কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, কভিড-১৯ মহামারির সময়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি প্রতিদিন বৈঠক করে করোনার তথ্য বিশ্লেষণ করত এবং জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হতো। তবে সরকার এখনও হামের বর্তমান প্রাদুর্ভাবকে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা না করায় সে ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

ডেঙ্গুর বিস্তার বাড়ছে

এদিকে হাম পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৫৭ জেলায় ইতোমধ্যে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১০৭ জন। চলতি বছর এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে তিন হাজার ৭১১ জন এবং মারা গেছে ছয়জন। মাসভিত্তিক হিসাবে জানুয়ারিতে আক্রান্ত ছিল এক হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪ ও জুনের প্রথম সপ্তাহে আক্রান্ত হয়েছে ৫১৪ জন।

ডেঙ্গু আক্রান্তদের প্রায় ৭৬ শতাংশই ঢাকার বাইরের বাসিন্দা। সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া যাচ্ছে বরিশাল, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, ভোলা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও কক্সবাজারে। পরিসংখ্যান বলছে, শুধু চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, বরিশাল, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর– এই পাঁচ জেলাতেই ঢাকার বাইরের মোট রোগীর প্রায় ৪১ শতাংশ শনাক্ত হয়েছে।

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার শঙ্কা

ডেঙ্গু পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ডেঙ্গু মোকাবিলার চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি একদম আপনাদের কসম কেটে বলছি, আমি খুব নার্ভাস হয়ে গেছি। খুব দুর্বল হয়ে গেছি। আমি কীভাবে এটা ফাইট করব? প্রস্তুতি নিচ্ছি, কিন্তু চিকিৎসায় মৃত্যুর বিষয়ে আমার কোনো হাত নেই।’

গতকাল বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) আয়োজিত ‘ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার আয়োজনে ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সহযোগিতায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু এখন আর সাধারণ কোনো রোগ নয়; এটি পুরো জাতির জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এ সংকট মোকাবিলা শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা হাসপাতালের দায়িত্ব নয়, বরং দেশের প্রত্যেক নাগরিককে এতে সম্পৃক্ত হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসকদের ওপর চাপ দিতে পারি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে বলতে পারি। কিন্তু শতভাগ মশা বা লার্ভা ধ্বংস করা সম্ভব কি না, তা নিশ্চিত করতে পারি না। মশা ২০০ মিটার পর্যন্ত উড়তে পারে। যে কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে ঘরে ঢুকে যেতে পারে। তাই এটি অত্যন্ত কঠিন একটি লড়াই।

ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে সমন্বিত যুদ্ধ আখ্যা দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি নালা-নর্দমা, ডোবা, জলাবদ্ধ এলাকা ও কচুরিপানায় ভরা স্থান পরিষ্কার না করলে এই যুদ্ধে জয়ী হওয়া সম্ভব নয়। একক কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির পক্ষে এ সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়; প্রয়োজন সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ। চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপরই বেশি গুরুত্ব দেন তিনি।

পূর্বপ্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থার ওপর জোর

একই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনায় এবার ‘রিঅ্যাকটিভ’ নয়, বরং পূর্বপ্রস্তুতিমূলক কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থাৎ পরিস্থিতি বড় আকার ধারণের আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।

বর্তমানে ডেঙ্গুর উপসর্গেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক রোগী ডায়রিয়া ও বমি নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। এতে দ্রুত পানিশূন্যতা তৈরি হয়ে শকের ঝুঁকি বাড়ছে।

যুদ্ধ ছড়াল লোহিত সাগরে, আরেক প্রণালি বন্ধ ঘোষণা

একদিন আগেই যুদ্ধ সম্প্রসারণের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজাই। সোমবার ইরান ও ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলায় সে চিত্র দেখা যাচ্ছে। ইসরায়েলের ওপর হামলায় ইরানের সঙ্গে যোগ দিয়েছে ইয়েমেন। হামলা ও উত্তেজনা ছড়িয়েছে লোহিত সাগর ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে।

গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধে এই দুটি অঞ্চল বাইরে ছিল। হরমুজ প্রণালির মতোই লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মাঝে অবস্থিত জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালি। এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণকারী ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সোমবার ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি দিয়েছে।

লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইয়েমেনের এই গোষ্ঠী। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে পুনরায় বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হুতির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা লোহিত সাগরে ইসরায়েলি সামুদ্রিক নৌযান চলাচলের ওপর সম্পূর্ণ ও সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করছি।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ফিলিস্তিন, গাজা, ইরান, লেবানন ও ইরাকে ‘জিহাদ ও প্রতিরোধ অক্ষের’ সাধারণ মানুষের ওপর যে অন্যায় অবরোধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেটির মুখে তারা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না।

ইসরায়েলের গণমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল (টিওআই) জানিয়েছে, হুতিরা এরইমধ্যে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে। তবে প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট জায়গার নাম উল্লেখ করা হয়নি। আলজাজিরা তাদের প্রতিবেদনে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে জাফা অঞ্চলের কথা উল্লেখ করেছে।

টিওআই আরও জানিয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি বসতির বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলছে, সোমবার সকালে ইরানের পক্ষ থেকে ইসরায়েল লক্ষ্য করে ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্র তারা ভূপাতিত করেছে। পশ্চিম তীরে যে আঘাতের ঘটনাটি ঘটেছে, তা মূলত প্রতিহত করা একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

ইরানি গণমাধ্যম মেহর নিউজের তথ্য অনুযায়ী, নতুন হামলা শুরু হলে গত শনিবারই যুদ্ধ পারস্য উপসাগরের বাইরে টেনে নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন মহসেন রেজাই। তিনি বলেছিলেন, সম্ভাব্য সামরিক অভিযানগুলো হরমুজ প্রণালি থেকে ভারত মহাসাগর, বাব এল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।

বিশ্বকাপ শেষ আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারের

তারকা ডিফেন্ডার ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর চোট নিয়ে এমনিতে গলদ্‌ঘর্ম অবস্থা আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির। প্রায় ৫০ দিন পেরিয়ে গেলেও টটেনহ্যামের এই সেন্টার-ব্যাক এখনও ফিট হয়ে ওঠেননি। এর মধ্যে অনুশীলনে চোট পেয়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন আরেক ডিফেন্ডার লিওনার্দো বালের্দি। তাঁর বদলে বোর্নমাউথ ডিফেন্ডার মার্কোস সেনেসি ডাক পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্কালোনির ভাবনায় হয়তো আর্জেন্টিনার সেরা একাদশে বালের্দি নেই। ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, নিকোলাস ওতামেন্দি ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজ হয়তো রক্ষণে কোচের প্রথম পছন্দ। কিন্তু রোমেরো এখনও ম্যাচ খেলার মতো ফিট হয়ে ওঠেননি বলেই বালের্দি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিলেন কোচের কাছে।

কিন্তু গত শুক্রবার অনুশীলনের সময় ডান পায়ের মাংসপেশিতে চোট পেয়ে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে ফরাসি ক্লাব মার্শেইয়ের এই ডিফেন্ডার। আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন তাঁর চোটের খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে তিনি অনুশীলন শেষ করতে পারেননি। মাঝপথেই মাঠে থেকে উঠে যান। পরীক্ষায় নিশ্চিত হয় তাঁর চোট গুরুতর এবং সেরে উঠতে সময় লাগবে। এরপরই তাঁকে বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে বাদ দেন স্কালোনির নেতৃত্বাধীন কোচিং স্টাফরা। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে ১১টি ম্যাচ খেলা বালের্দির বদলে সেনেসি ডাক পেতে পারেন। ২৬ জনের স্কোয়াডে প্রথমে সেনেসিই ফেভারিট ছিলেন।

‘খাবার পানি নেই, জমে থাকা কাদামাখা পানি পান করতে হচ্ছে’

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পুশইন চেষ্টার শিকার নারী ও শিশুসহ দুই পরিবারের ১০ জন গত তিনদিন ধরে পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী সীমান্তের শূন্যরেখায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ঝড়-বৃষ্টি, প্রচণ্ড রোদ এবং ফসলি মাঠের কাদা-পানির মধ্যেই খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করায় তাদের মধ্যে অসুস্থতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে তারা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পঞ্চগড়ের হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ী সীমান্তের মেইন পিলার ৭৫৮-এর ৫ নম্বর সাব-পিলার এলাকায় ওই ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। শুক্রবার ভোরে স্থানীয়দের সহায়তায় বিজিবির বাধার মুখে তারা দুই দেশের মধ্যবর্তী শূন্যরেখায় অবস্থান নেন।

পরবর্তীতে বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে একাধিক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। সর্বশেষ বৈঠকে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়। তবে বিজিবি জানিয়েছে, রাতের আঁধারে পুশইন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং প্রকৃত নাগরিকত্ব যাচাই করে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী সমাধান হওয়া উচিত।

রোববার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, নারী ও শিশুসহ ওই দুই পরিবারের সদস্যরা প্লাস্টিকের আশ্রয়ে সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। কাদা-পানির মধ্যে তাদের বসবাস করতে হচ্ছে। অনেকে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন এবং খাদ্য ও পানির অভাবে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

পুশইনের শিকার আব্দুস সালাম বলেন, ‘কাদা-পানির মধ্যেই দুইটা রাত পার হয়ে গেল। রাতে বৃষ্টি আর দিনে প্রচন্ড রোদ আর গরম থাকে। এখানে ঠিকমতো খাবার নেই, খাবার পানি নেই। মাঝেমধ্যে ফসলের মাঠে জমে থাকা কাদামাখা পানি পান করতে হচ্ছে। বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়না। বিজিবি কিছু শুকনো খাবার ও পানি দিলেও বেঁচে থাকার জন্য তা যথেষ্ট নয়।

স্থানীয় হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইয়েদ নুরে আলম বলেন, আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে এভাবে মানুষকে সীমান্তে পুশইন করা অমানবিক। তিনি দ্রুত দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান।

বড়বাড়ী সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, সীমান্তে চলমান পরিস্থিতির কারণে স্থানীয়দের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। নারী ও শিশুরা কাদা-পানির মধ্যে মানবেতর অবস্থায় থাকলেও তাদের সহায়তা করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।

নীলফামারীর বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পতাকা বৈঠক করা হয়েছে এবং বিএসএফকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, সীমান্তে নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সতর্ক রয়েছে।

ভঙ্গুর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি রাডারে হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই পারস্য উপসাগরে আবারও বড় ধরনের সংঘাতে জড়াল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং শান্তি আলোচনায় নিজেদের পাল্লা ভারী করতে দুই দেশই আক্রমণাত্মক পথ বেছে নিয়েছে। খবর রয়টার্স ও আলজাজিরার।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির দিকে ধেয়ে আসা ইরানের চারটি আত্মঘাতী ড্রোন ভূপাতিত করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। দেশটির সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এই ড্রোনগুলো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করছিল। ড্রোন ভূপাতিত করার পরপরই মার্কিন বাহিনী ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্টেশন এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কুশ ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত আইআরজিসির যোগাযোগ কেন্দ্রে বিমান হামলা চালায়।

যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ইরানের ইসলামী রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তারা কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটি ‘আলি আল সালেম’ এবং বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের প্রধান সদরদপ্তর লক্ষ্য করে সাতটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। তাদের দেশের সীমানার ভেতরে মার্কিন আগ্রাসনের জবাব দিতেই এই পাল্টা হামলা বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।

কুয়েত সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করা হলেও এর বড় বড় ধ্বংসাবশেষ বেশ কিছু আবাসিক এলাকায় পড়েছে। এতে দুটি স্থানে অগ্নিকাণ্ডসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কুয়েত এই ঘটনাকে ‘নগ্ন আগ্রাসন’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

যুদ্ধ নাকি শান্তিচুক্তি : কোন পথে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তা ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ দিনে পা দিয়েছে। পাকিস্তানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী শান্তিচুক্তির চেষ্টা চলছে। তবে মার্কিন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তির শর্তে কিছু আকস্মিক পরিবর্তন চাওয়ায় আলোচনা বর্তমানে পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন প্রতিনিয়ত তাদের অবস্থান পরিবর্তন করছে এবং একের পর এক পরস্পরবিরোধী দাবি সামনে আনছে। তেহরান জানিয়েছে, তারা তাদের বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার এবং অবরুদ্ধ থাকা ২৪ বিলিয়ন ডলারের তেল বিক্রির তহবিল ফেরত চায়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায় ইরান।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিবারই যখন দুই দেশ একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছায়, তখনই কোনো না কোনো সামরিক হামলা আলোচনার টেবিলকে ভেস্তে দেয়। ফলে এই অঞ্চল স্থায়ী শান্তি নাকি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে যাচ্ছে, তা এখনও অনিশ্চিত।

ইরানের কাছে এখনও ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে: ট্রাম্প
ইরানের বর্তমান সামরিক সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন হামলায় ইরানের অধিকাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানা ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে তাদের কাছে এখনও প্রায় ২১ থেকে ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত অক্ষত রয়েছে।

চুক্তির টেবিলে ইরানের অনমনীয় মনোভাবের কারণ ব্যাখ্যা করে ট্রাম্প বলেন, ইরানি নেতৃত্ব অত্যন্ত গর্বিত ও শক্তিশালী। তাই তারা সহজে ছাড় দিতে চাচ্ছে না। তবে তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই এবং অবশেষে তারা চুক্তিতে আসতে বাধ্য হবে।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে ট্রাম্পের দেওয়া এ হিসাব গত মাসের চেয়ে বেশি। মে মাসে তিনি এ হার ১৮ শতাংশ বলে উল্লেখ করেছিলেন। যদিও ট্রাম্প প্রায়ই দাবি করে থাকেন, তিনি ইরানের যুদ্ধ করার সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছেন।

ইরানি ড্রোন মোকাবিলায় মার্কিন ‘অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম’ কিনছে কুয়েত
গত বুধবার কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানি ড্রোনের এক ভয়াবহ হামলায় একজন নিহত এবং ৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। ওই হামলায় আন্তর্জাতিক টার্মিনালটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এই ঘটনার পর কুয়েত নিজের আকাশসীমা সুরক্ষিত করতে এবং ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ভবিষ্যৎ হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অত্যাধুনিক ‘অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম’ বা আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভাঙন ঠেকাতে পুরোনো নেতাদের তৃণমূলের দায়িত্বে ফেরালেন মমতা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর দলত্যাগ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের ৬০ জন বিধায়ক। এরই মধ্যে খবর আসছে, সংসদের নিম্নকক্ষ তথা লোকসভায়ও ভাঙনের মুখে পড়তে চলেছে দলটি। তবে ভাঙন ঠেকাতে সব রকম চেষ্টা করে যাচ্ছেন দলের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার পুরোনো ও বিশ্বস্ত নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরিয়ে এনেছে দলটি।

গতকাল শনিবার দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়, সমালোচনা সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল রেখেছেন। তবে অভিষেকের একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কিছুটা কমাতে এবং বিদ্রোহীদের শান্ত করতে রাজ্যসভার দুই সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেনকে দলের যুগ্ম জাতীয় সম্পাদক করা হয়েছে। গত শুক্রবার কলকাতার কালীঘাটে মমতার বাসভবনে জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।

সম্প্রতি বিধানসভায় তৃণমূলের দলত্যাগী ৬০ জন বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ‘নতুন তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে একটি পৃথক দল গঠন করেছেন। এই ঘটনার পরই তাৎক্ষণিকভাবে দলের সব কমিটি ও শাখা ভেঙে দেয় তৃণমূল নেতৃত্ব। এরই ধারাবাহিকতায় রাজ্য কমিটির দীর্ঘদিনের সভাপতি সুব্রত বকশীকে সরিয়ে সেই পদে আনা হয়েছে মমতাঘনিষ্ঠ চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে। সুব্রত বকশীকে করা হয়েছে জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহসভাপতি, রাজ্য সহসভাপতি করা হয়েছে সাজদা আহমেদ, মমতা ঠাকুর, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও স্বাতী খন্দকারকে।

রাজ্য সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন অরূপ বিশ্বাস, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, বাবর আলি, পুলক রায় ও অসীমা পাত্র। রাজ্য কমিটিতে ফেরানো হয়েছে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও গৌতম দেবের মতো পুরোনোদের। তবে নতুন এই সাংগঠনিক কাঠামোয় জায়গা পাননি কলকাতার মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া ফিরহাদ হাকিম। দুই দশক ধরে মমতার বিশ্বস্ত এবং দলের অন্যতম প্রধান সংখ্যালঘু মুখ হওয়া সত্ত্বেও তাঁর বাদ পড়াকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেছেন বিশ্লেষকরা।

শাখা সংগঠনগুলোর মধ্যে যুব তৃণমূলে সায়নী ঘোষ এবং মহিলা তৃণমূলে মালা রায়কে সভানেত্রী পদে বহাল রাখা হয়েছে। ছাত্র পরিষদ সভাপতি পদ থেকে তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে সরিয়ে প্রিয়াঙ্কা অধিকারীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শ্রমিক সংগঠনে মলয় ঘটক, হকার্স উইংয়ে মদন মিত্র, কৃষক সংগঠনে বেচারাম মান্না এবং ক্ষেত মজুর সংগঠনে পুর্ণেন্দু বসুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলের প্রধান চার মুখপাত্র করা হয়েছে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কুনাল ঘোষ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মদন মিত্রকে। এ ছাড়া সুভাশিস চক্রবর্তীকে কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে।

গত শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে ডাকা ওই বৈঠকে ৬০ বিদ্রোহী বিধায়কের কেউই যাননি। বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম নেতা মোশাররফ হোসেন বলেছেন, তারা মমতাকে নেত্রী মানলেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব মানতে নারাজ। মূল বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাদের আর ফেরার পথ নেই। বিধানসভার স্পিকার এরই মধ্যে তাদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

বাজেট প্রস্তুতি বহুমাত্রিক চাপেও ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট সংসদের অধিবেশন বসছে আজ

আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়নের পরিকল্পনা করেছে সরকার। বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলা, ভর্তুকি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যয় বৃদ্ধি, সুদ পরিশোধের চাপ এবং সরকারি কর্মচারীর প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ আংশিক বাস্তবায়নের কারণে ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে।

এদিকে, আজ রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হচ্ছে। বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন। আগামী বৃহস্পতিবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আগের বছরের চেয়ে সাত হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সাত লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার, যা পরে সংশোধিত হয়ে সাত লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকায় নেমে আসে। সে সময় উন্নয়ন খরচ কমিয়ে ভর্তুকি ও অনুন্নয়ন ব্যয় বাড়ানো হয়েছিল। সেই হিসাবে আগামী বাজেট চলতি অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ১৮ শতাংশ বড় হতে যাচ্ছে। যদিও অতীতে সাধারণত বাজেটের আকার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে বাড়ানো হতো।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে দেশের অর্থনীতি সামষ্টিক, আর্থিক, খাতভিত্তিক ও সামাজিক-বহুমাত্রিক চাপের মুখে রয়েছে। অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতা এবং বৈশ্বিক নানা ধাক্কার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং প্রত্যাশিত হারে রাজস্ব আদায় না হওয়াই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। এ পটভূমিতে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়নের জন্য রাজস্ব আয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে, তা অনেকের কাছে উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবতাবিবর্জিত বলে মনে হচ্ছে। তবে সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্যই এসব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও প্রায় দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার রেকর্ড ঘাটতি বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ। এই ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকে এক লাখ আট হাজার কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৯ হাজার কোটি টাকা, বৈদেশিক ঋণ থেকে এক লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা এবং পাঁচ হাজার কোটি টাকার অনুদান নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। খাদ্যে ৯ হাজার ৬০০ কোটি, বিদ্যুতে ৩৭ হাজার কোটি এবং অন্যান্য খাতে ২৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ভর্তুকি রাখা হচ্ছে। জিডিপির ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ বিনিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে বেসরকারি খাতে ২৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং সরকারি খাতে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।

আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য থাকলেও বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির মূল্য সমন্বয় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। সামাজিক সুরক্ষা খাতে প্রায় এক লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও বিভিন্ন ভাতা কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত আরও এক হাজার ৮৫৭ জনকে ভাতার আওতায় আনা হবে। নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য বাড়তি ৩৫ হাজার কোটি টাকা রাখা হতে পারে। শিক্ষা খাতে ৫০ হাজার ৩০২ কোটি এবং স্বাস্থ্য খাতে ৪৩ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং, স্টার্টআপ, চলচ্চিত্র, সংগীত, ক্রীড়া ও গ্রামীণ সংস্কৃতিভিত্তিক ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ বিকাশে বিশেষ তহবিল ও প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ইআরএফের সেমিনারে তথ্যমন্ত্রী ব্যাংকিং খাতে সংস্কার ছাড়া কোনো পথ নেই

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ব্যাংকিং খাতে সংস্কার, পরিবর্তন ও মেরামত আমরা করবই। এটা ছাড়া কোনো পথ নেই। আমি যদি গণমাধ্যম সংস্কার, দুর্নীতি দমন ক্ষেত্রে কমিশন এবং প্রশাসন সংস্কারের কথা বলতে পারি। তাহলে ব্যাংকিং খাতের মতো এরকম গুরুত্বপূর্ণ খাত কেন সংস্কার করবো না। আমরা এটা করবোই।

আজ রোববার রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত ‘ব্যাংকখাতে সুশাসন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান জাহিদ এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ।

ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সমকালের বিশেষ প্রতিনিধি ওবায়দুল্লাহ রনি ও প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার সানাউল্লাহ সাকিব।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ব্যাংকিং খাতের সুশাসন কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়; দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও রাষ্ট্র যদি সামগ্রিক সুশাসন নিশ্চিত করতে না পারে, তবে কেবল গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে এই খাতে শৃঙ্খলা আসবে না। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যানকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বা ‘পলিটিক্যাল রেটরিক’ হিসেবে ব্যবহারের জন্য তথ্য ম্যানিপুলেশন বা জালিয়াতি করা হয়েছিল বিগত আমলে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে ছিলো যেখানে শাসকগোষ্ঠী নিজেদের প্রয়োজনে পরিসংখ্যান পরিবর্তন করে দিনের বেলাকে রাত আর রাতকে দিন হিসেবে প্রচার করছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া তথ্য বা পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান এভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

দেশের অর্থনীতির ঐতিহাসিক বিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অর্থনীতির যে দ্বার উন্মোচন করেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে বেসরকারি খাতের পরিধি বেড়েছে। পুঁজির উৎস হিসেবে তিনি কেবল ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল না থেকে শেয়ারবাজারকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, যারা ব্যাংকের আমানত আত্মসাৎ করেছে, সেই একই গোষ্ঠী শেয়ার বাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অর্থও আত্মসাৎ করেছে।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামদুদুর রশীদ বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে ব্যাংকিং খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েক দশকে এ খাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ ও উদ্বেগের মুখোমুখি হয়েছে। অন্যান্য অনেক ব্যাংকের মতো ইউসিবিও বর্তমানে আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছে। এই চাপের প্রধান কারণ হলো সুশাসনের অভাব। তবে যেসব ব্যাংক সুশাসন নিশ্চিত করতে পেরেছে, তারা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়েছে।

স্বপন বলেন, সুশাসনের তিনটি মৌলিক উপাদান রয়েছে। প্রথমত, জবাবদিহিতা। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা—উভয়কেই জবাবদিহিতার আওতায় থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, স্বচ্ছতা। ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা জনগণের সামনে স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন। স্বচ্ছতার অভাবের কারণেই দীর্ঘদিন খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র গোপন ছিল। ২০২৩ সালে পুরো ব্যাংকিং খাতে রিপোর্ট করা খেলাপি ঋণের হার ছিল ১১ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে ২৫ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৩৫ শতাংশে উন্নীত হয়। আমার মতে, এই বৃদ্ধি মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় প্রকৃত তথ্য স্বচ্ছভাবে প্রকাশের ফল। এটি এক বছরের অবনতির চিত্র নয়; বরং দীর্ঘদিনের বাস্তব অবস্থার প্রতিফলন। তৃতীয়ত, নৈতিকতা। রাজনৈতিক প্রভাব ও বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ যখন ব্যাংক ব্যবস্থাপনার ওপর প্রভাব বিস্তার করে, তখন নৈতিক স্খলন ঘটে। এর ফলে কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সম্ভব হয় না। ব্যাংকিং খাতের বর্তমান সংকট ও অবনতির অন্যতম প্রধান কারণ এটিই।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনীতি আজকের যে অবস্থানে এসেছে অর্থায়নের ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা রেখেছে ব্যাংক খাত। এখানে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি অধিকাংশ অর্থায়ন আসে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে। কারণ, দেশের পুঁজিবাজার চাহিদামতো পুঁজি জোগান দিতে পারেনি। আর বন্ড বাজারকেও আস্থার জায়গায় নেওয়া যায়নি।
ফলে ব্যাংকিং খাতের সুশাসনের সঙ্গে পুরো অর্থনীতির ভালো মন্দের বিষয়টি সম্পৃক্ত। একটি কার্যকর ও শক্তিশালী আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং নিয়মকানুনের কঠোর প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি। নানা কারণে দেশের ব্যাংক খাতের প্রতি মানুষের আস্থা অনেক কমেছে। এখন কোনোভাবে যেন আরও তলানিতে না নামে সে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে লক্ষ্য রাখা জরুরি।

সুশাসন নিশ্চিত করতে ও দুর্নীতি প্রতিরোধে গণমাধ্যম ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যদিও যারা সরকারে থাকেন অনেক ক্ষেত্রে তারা গণমাধ্যমের ভূমিকাকে কখনো-কখনো খারাপ দৃষ্টিতে দেখেন। সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা না করে তোয়াজ করে চলুক—এ রকম প্রত্যাশা করেন। আর, এ কারণে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের নানা চেষ্টা আমরা ইতঃপূর্বে দেখেছি।

এতে আর বলা হয়েছে, দেশের ৩৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্তত ২০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান মানুষের জমানো টাকা সময় মতো ফেরত দিতে পারছে না। ২০১৯ সাল থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এই দূরবস্থা প্রথম সামনে আসে। ২০২১ সাল থেকে কয়েকটি ব্যাংকও মানুষের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। বর্তমানে সম্মিলিত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকসহ অন্তত ১৪টি ব্যাংক চাহিদা মতো আমানত ফেরত দিতে পারছে না। কোনোভাবে এ সংখ্যা আরও বাড়লে অর্থনীতিতে বিপর্যয় ডেকে আনবে। আমানতকারীর আস্থা ধরে রাখার জন্য সুশাসন নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।

বাজেট অধিবেশনের জন্য জামায়াত এমপিদের প্রশিক্ষণ

বাজেটে অধিবেশনের জন্য দলীয় এমপিদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর জোট। রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে ‘বাজেট, অর্থনীতি ও জননীতি: সংসদ সদস্যদের সক্ষমতা উন্নয়ন’ শীর্ষক দুই দিনের এ কর্মশালা আজ শনিবার শেষ হয়েছে। এতে জামায়াত, এনসিপিসহ বিরোধী জোটের ৭৭ এমপি অংশগ্রহণ নেন।
জামায়াতের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাজেট বিষয়ে এমপিদের অর্থনৈতিক ও জননীতিবিষয়ক জ্ঞান ও সংসদীয় দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই কর্মশালা হয়।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জোটের এমপিদের উদ্দেশে বলেন, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্যদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও বক্তব্য হতে হবে গণমুখী। আসন্ন বাজেট অধিবেশনে দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষা এবং একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে বলিষ্ঠ ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে।

কর্মশালায় বক্তৃতা করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তারা সংসদীয় রীতিনীতি ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় এমপিদের আরও দক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

দুই দিনব্যাপী এ কর্মশালায় অর্থনীতিবিদ, বাজেট বিশ্লেষক ও নীতি-নির্ধারকগণ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ‘বাজেট, অর্থনীতি ও জননীতি: সংসদ সদস্যদের সক্ষমতা উন্নয়ন’ বিষয়ক বিশেষ সেশনগুলোতে দেশের বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জনকল্যাণমূলক বাজেট প্রণয়নের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সংসদীয় দলের সভা বিরোধী আসনে উন্নয়ন তদারক করবে বিএনপির নারী এমপিরা

জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের (এমপি) আসনে উন্নয়ন তদারকি এবং রাজনৈতিক সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের নারী এমপিদের। গতকাল শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় দলটির ৩৬ নারী এমপিকে বিরোধী দলের ৭৯টি আসনের দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে।

সভা সূত্র সমকালকে এ তথ্য জানিয়েছে। সভায় অংশ নেওয়া একাধিক নেতা জানান, কোনো নারী এমপিকে একটি আসনে, কাউকে দুটি এবং কয়েকজনকে সর্বোচ্চ চারটি আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকজনকে পুরো জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যেখানে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপির নেতারা এমপি হয়েছেন। বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী হয়ে জিতে আসা স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানার আসনেও দায়িত্ব হয়েছে সরকারদলীয় নারী এমপিকে।

সভা সূত্র জানায়, বিএনপির এমপিদের কোনো আসনের দায়িত্ব সংরক্ষিত আসনের কোনো এমপিকে দেওয়া হয়নি। চরমোনাইয়ের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের জেতা একমাত্র আসনেও দায়িত্ব হয়েছে। তবে বাকি ছয় স্বতন্ত্র এমপি; যারা বিএনপির সঙ্গে রয়েছেন বলে মনে করা হয়, তাদের আসনের দায়িত্ব কাউকে দেওয়া হয়নি। বিরোধী জোটের ১৩ নারী এমপিও এ রকম কোনো দায়িত্ব পাননি।
সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসেন জামায়াতে ইসলামীর ৬৮, এনসিপির ৬, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ২, খেলাফত মজলিস ও ইসলামী আন্দোলনের একজন করে এমপি।

এদিকে গতকাল সংসদীয় দলের সভায় সভাপতিত্ব করা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাত মন্ত্রীর কাছে তাঁদের দপ্তরের ১০০ দিনের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে চান। এমপিদের নিজ নিজ এলাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হওয়া, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার নির্দেশনা দেন। জনকল্যাণে সরকারের গৃহীত কর্মসূচির বাস্তবায়ন এবং সরকারের মধ্যে দল হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে এমপিদের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

সংসদ নেতা তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় সভা শুরু হয়। শেষ হয় সন্ধ্যা সোয়া ৬টায়। সভা পরিচালনা করেন সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, দলের ৩৬ নারী এমপিকে বিরোধী দলের ৭৯টি আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের আসনের উন্নয়ন তদারকিতে বিএনপির নারী এমপিদের এসব এলাকার জন্য ডিও লেটার বা আধা সরকারি পত্র দিতে পারবেন বলে সভায় জানানো হয়। এ ছাড়া অন্যান্য কার্যক্রমেও নারী সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা করছে বিএনপি সরকার। তবে বিএনপির কোনো নেতা এ বিষয়ে নাম প্রকাশ করে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

বিরোধীদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া
নবম সংসদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো বিরোধী দল বিএনপি, জামায়াত, এলডিপি এবং বিজেপির ৩৪টি আসনে ‘উন্নয়নের’ দায়িত্ব দিয়েছিলেন সংরক্ষিত আসনের আওয়ামী লীগের নারী এমপিদের। এই উদাহরণ দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ গতকাল রাতে সমকালকে বলেন, বিএনপি প্রমাণ করল তারাও শেখ হাসিনার পথে হাঁটছে, ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি করতে চাইছে।

২০০৯ সালে গঠিত নবম সংসদে কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতের এমপি ছিলেন হামিদুর রহমান। ওই আসনে শেখ হাসিনা প্রথমে দায়িত্ব দেন সংরক্ষিত আসনের এমপি গায়িকা মমতাজ বেগমকে। পরে দায়িত্ব দেন মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী পিনু খানকে। এ তথ্য জানিয়ে হামিদুর রহমান আযাদ সমকালকে বলেন, এর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল বিরোধী দলের এমপি যাতে কোনো কাজ করতে না পারেন। একজন এমপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত। তাঁর আসনে সংরিক্ষত আসনের নারী এমপিকে চাপিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে, নির্বাচিত এমপিকে কাজ করতে না দেওয়া। এটি অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী চিন্তা। অতীতে এর ফল ভালো হয়নি, ভবিষ্যতেও ভালো হবে না।

সরকারি দলের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও। তিনি সমকালকে বলেন, বিরোধী দলকে সরকার সব জায়গায় দমন করছে, বিরোধীদের আসনের দায়িত্ব সরকারদলীয় নারী এমপিদের দেওয়া তারই ধারবাহিকতা। বিরোধীদলীয় এমপিরা কোনো উন্নয়ন কাজ করলেও প্রচার করবে বিএনপির নারী এমপিরা করেছেন।

নাহিদ আরও বলেন, এতে নির্বাচনী এলাকায় অনর্থক সংঘাত তৈরি হবে। শুধু বিরোধীদলীয় এমপির সঙ্গে নয়, বিএনপির যারা স্থানীয় নেতৃত্ব রয়েছে, তাদের সঙ্গেও নারী এমপিদের বিরোধ তৈরি হবে। আর সরকারের উদ্দেশ্য যদি মহৎ থাকত, তাহলে বিরোধী দলের নারী এমপিদেরও আসন বণ্টন করে দেওয়া হতো। কিন্তু তারেক রহমানের বিএনপি শেখ হাসিনার দেখানো পথেই চলছে।

কোন আসনে কে দায়িত্বে
ঢাকা-১২, ১৫ ও ১৬ আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএনপির নারী এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে। তিনটি আসনই জামায়াতের। এর মধ্য ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ঢাকা-১২ আসনের এমপি জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। ঢাকা-১৬ আসনে দলটির এমপি হলেন কর্নেল (অব.) আবদুল বাতেন।

ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তাঁর আসনে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শাম্মী আক্তারকে। পাশাপাশি তিনি সিলেট-৫ আসনের দায়িত্বও পালন করবেন। এই আসনের এমপি খেলাফত মজলিসের আবুল হাসান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার আসনে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নাদিয়া পাঠান পাপনকে। রুমিন বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে জয়ী হন।

পাবনা-১, ৩ ও ৪ আসনের দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে আরিফা সুলতানা রুমাকে। সাতক্ষীরা-১, ২, ৩ ও ৪ আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বীথিকা বিনতে হোসাইনকে। তাঁর বাড়ি লক্ষ্মীপুরে। তিনি লক্ষীপুর-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন।

পিরোজপুর-১ আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদীর আসনে সেলিনা সুলতানা জুঁইকে, আর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংরক্ষিত আসনের এমপি সেলিমা রহমানকে বরগুনা-১ ও পটুয়াখালী-৩ আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বরগুনা-১ আসনে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের সংসদ সদস্য মুফতি মাহমুদুল হাসান ওয়ালিউল্লাহ এবং পটুয়াখালী-৩ আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ রয়েছেন।

জামায়াতের এমপি থাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১, ২ ও ৩ আসনে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সানজিদা ইয়াসমিন তুলিকে। তিনি গুমের শিকার পরিবারের সংগঠন মায়ের ডাকের উদ্যোক্তা।

সেলিনা সুলতানা নিশিতাকে দেওয়া হয়েছে গাজীপুর-৪ ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের দায়িত্ব। ময়মনসিংহ ২ ও ৪ আসনে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নিলোফার চৌধুরী মনিকে। শওকত আরা ঊর্মিকে মেহেরপুর-১ ও ২ আসনে, মাহমুদা হাবিবাকে রাজশাহী-১ ও ৪ আসনে, রাশেদা বেগম হীরাকে কুমিল্লা–৪ ও ১১ আসনে, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদকে যশোর-১, ২, ৪ ও ৫ আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরীন সুলতানাকে ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিপুণ রায় চৌধুরীকে নড়াইল ও মাগুরা জেলায়, জেবা আমিন ও ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানাকে রংপুর জেলার ছয়টি আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নেওয়াজ হালিমা আরলিকে চুয়াডাঙ্গা, ফরিদা ইয়াসমীনকে কুষ্টিয়া-৩ আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রেহেনা আক্তারকে নীলফামারী, ফাহমিদা হককে খুলনায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সাত মন্ত্রীকে জবাবদিহির আওতায় আনলেন প্রধানমন্ত্রী 
বাজেট অধিবেশন শুরুর আগের দিন অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের সভায় সরকারের ১০০ দিনে মন্ত্রীরা কী কী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন, তা জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। সাত মন্ত্রী নিজেদের দপ্তরের কর্মকাণ্ডের হিসাব দেন। পরে মন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীসহ অন্য সংসদ সদস্যদেরও বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। বৈঠকে উপস্থিত সূত্র জানায়, সাত মন্ত্রণালয় হলো স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়; আইন, বিচার ও সংসদ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।

সূত্র জানায়, সভায় সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, স্পর্শকাতর কয়েকটি মামলায় দ্রুততম সময়ে আসামি গ্রেপ্তার এবং চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। সারাদেশে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদক ও জুয়া বন্ধে সরকার আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানান মন্ত্রী।

দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) কার্যকর ও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনে আইন সংশোধন করা হবে বলে জানান আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘মানবাধিকার কমিশন ও গুম কমিশন নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে পর্যালোচনা করেছি। আমাদের পর্যালোচনায় বিদেশিরাও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। মানবাধিকার ও গুম কমিশনকে কার্যকর কমিশনে পরিণত করা হবে। এ জন্য এ দুই কমিশন নিয়ে আমরা দ্রুতই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারব।’

সভায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে নানা প্রশ্ন করেন দলের সংসদ সদস্যরা। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উপস্থিতি, শিক্ষকদের পেনশন, চলমান মিড ডে মিল কর্মসূচি যাতে সঠিকভাবে সারাদেশে বাস্তবায়িত হয়– এসব বিষয় মন্ত্রীর নজরে আনা হয়। মিড ডে মিলের খাবারের গুণগত মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন সংসদ সদস্যরা।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মিড ডে মিলের বিষয়ে আগে যে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে, সে অনুযায়ী ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সামনে খাবারের মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সভায় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জনপ্রত্যাশা পূরণে আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। বাজেট প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান বলেন, বাজেট হবে জনবান্ধন ও ব্যবসাবান্ধব। বাজেটে সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ আশ্বস্ত হবে। মানুষের ওপর নতুন করে কোনো দুর্ভোগ তৈরি করা হবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেটে উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা বিবেচনায় রাখা হবে।