Home Blog Page 97

শিশু হত্যা-ধর্ষণে বিক্ষোভ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি জামায়াতের

সু‌প্রিম কোর্ট স‌চিবালয় বিলু‌প্তিকে জা‌তির সঙ্গে সরকারের বিশ্বাসঘাতকতা, আদালত অবমাননা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর চপেটাঘাত বলে মন্তব্য করেছে জামায়াতে ইসলামী।

বৃহস্প‌তিবার রাজধানীর মগবাজা‌রে দলীয় কার্যাল‌য়ে সংবাদ স‌ম্মেল‌নে এমন মন্তব্য করে জামায়াত।

দল‌টির কর্মপ‌রিষদ সদস্য শিশির মোহাম্মদ মনির ব‌লেন, জুলাই সনদে স্বাধীন বিচার বিভাগ নিশ্চিতের কথা বলে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসভঙ্গের শামিল। স্বাধীন বিচার বিভাগ বিএনপি ও জামায়াতসহ সব ফ্যাসিবাদবিরোধী দলের দীর্ঘদিনের চাহিদা ছিল। কিন্তু সরকার এটি বাতিল করে সেই চাহিদার অপমৃত্যু ঘটিয়েছে। জুলাই সন‌দে বিএন‌পিসহ ৩২‌টি দল পৃথক সৃ‌প্রিম কোর্ট স‌চিবাল‌য় স্থাপ‌নে একমত হ‌য়ে‌ছিল। বর্তমান আইনমন্ত্রী সেসম‌য় আদাল‌তে হলফনামা দি‌য়ে‌ছি‌লেন স‌চিবালয় স্থাপ‌নে।

সংবাদ স‌ম্মেল‌নে উপ‌স্থিত ছি‌লেন জামায়া‌তের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, এহসানুল মাহবুব জুবা‌য়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

নিম্ন আদাল‌তের বিচারক‌দের পদোন্নতি, ব‌দলিসহ শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দি‌য়ে পৃথক সু‌প্রিম কো‌র্ট স‌চিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হয় অন্তর্বর্তী সরকা‌রের জা‌রি করা অধ্যাদে‌শে। ত‌বে অধ্যাদে‌শটি পাস করায়‌নি বিএন‌পি সরকার।‌ স‌চিবাল‌য় বিলুপ্ত ক‌রে বিচারক‌দের নিয়ন্ত্রণ আবার আইন মন্ত্রণাল‌য়কে দিয়ে‌ছে। য‌দিও বিএনপির ৩১ দফা এবং নির্বাচনী ইশ‌তেহা‌রে সু‌প্রিম কোর্ট পৃথক স‌চিবালয় স্থাপ‌নের প্রতিশ্রু‌তি ছিল।

জাতীয়ভাবে যে বিশ্বাস ও আস্থা তৈরি হয়েছিল, বিএন‌পি প্রতিশ্রু‌তি ভঙ্গ করায় তা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে অ‌ভি‌যোগ ক‌রে শিশির মনির বলেন, এই কাজের মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পথ রুদ্ধ করা হয়েছে।

জামায়াত স্বাধীন বিচার বিভাগের পক্ষে জা‌নি‌য়ে শি‌শির ম‌নির ব‌লেন, নিয়ন্ত্রণ আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকলে নিম্ন আদালতের বিচারকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না। রাতে কিংবা সন্ধ্যায় আদালত বসিয়ে যাকে ইচ্ছা সাজা দেওয়ার যদি অভিপ্রায় থাকে, তবে আইন মন্ত্রণালয় বিচারক‌দের নিয়ন্ত্রণ নি‌জের হা‌তে রাখ‌বে। আর যদি এই অভিপ্রায় না থাকে তাহলে সুপ্রিম কোর্ট বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ করবে।

বিচারকদের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগ তুলে শি‌শির ম‌নির বলেন, পছন্দসই রায় না হলে বিচারক‌দের ওপর চড়াও হওয়ার নিয়ন্ত্রণ আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে রেখে দিচ্ছেন। অধঃস্তন দুই হাজার বিচারক তাদের কাজ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। বাংলাদেশে প্রতি ৭৮ হাজর মানুষের জন্য মাত্র একজন বিচারক রয়েছে, যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। সুপ্রিম কোর্ট এই ৭৮ হাজার মানুষের জন্য বিচারক বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, এই ক্ষমতাও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় এখন ইচ্ছা করলে নিয়োগ দেবে বা সংখ্যা বাড়াবে বা কমাবে। প্রধান বিচারপতির আর কোনো এখতিয়ার নেই।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, রিট মামলার রা‌য়ে হাইকোর্ট গত বছ‌রের ২ সে‌প্টেম্বর আদেশ দেন, ৯০ দিনের মধ্যে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এর আলোকে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর সরকার অধ্যাদেশ জারি করে। ১১ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় সচিবালয়ের উদ্বোধন করা হয়। চলতি বছরের ৭ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগের বিস্তারিত রায় প্রকাশিত হয়ে‌ছে।

তিনি বলেন, অধ্যাদেশ বা‌তিল হ‌লেও আদাল‌তের রায় অনুযায়ী ১৯ এপ্রিল আরেকটি রিট পিটিশন দায়ের করা হ‌য়। সরকার‌কে আদালত অবমাননার নোটিশ দেওয়া হ‌য়ে‌ছে। এরপরও ১৯ মে বিচার বিভাগের সিনিয়র সচিবসহ ১৫ জন কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। অর্থাৎ বিচার বিভাগীয় সচিবালয়ের ওপর আনুষ্ঠানিকভাবে আবারও পেরেক ঠুকে দেওয়া হয়ে‌ছে। রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে বিচার বিভাগের দুটি অংশ রয়েছে- উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালত। কিন্তু নিম্ন আদাল‌তের নিয়ন্ত্রণ নির্বাহী বিভা‌গের কা‌ছে। বিচারক‌দে‌র ছুটি, বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলার সব আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে। ফলে আইন মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে বিচারকরা কোনো আদেশ দিলে তাদের বদলি করে দেন, পদোন্নতি দেন না কিংবা শৃঙ্খলাজনিত অভিযোগ আনা হয়।

শিশির মনির আরও বলেন, এই সমস্যা সমাধানে বিচারক‌দে‌র ছুটি, বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলার নিয়ন্ত্রণে কাজ সঠিকভাবে সম্পাদনে প্রধান বিচারপতির অধীনে স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।

শিশির মনির বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন হলে রায় যার পক্ষেই যাক না কেন তাতে কোনো আপত্তি নেই। সঠিক বিচারের মাধ্যমে আমাদের আসামি হিসেবে আদালতে দাঁড়াতে হলেও আপত্তি নেই। সরকার যদি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, যা সংবিধান ও আইনসম্মত নয়-বিচারকরা সেটি দেখবেন ও রায় দেবেন। আমি রায়ে অসন্তুষ্ট হলে আপিল করব। কিন্তু বিচারকদের বদলি করে দেব, তাদের পদোন্নতি দেব না, তাদের সুন্দরবন-বান্দরবান বদলি করে দেব- এটি স্বাধীন বিচার বিভাগের চরিত্র হতে পারে না।

সু‌প্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্তি সরকারের বিশ্বাসঘাতকতা: জামায়াত

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামে আর ৯ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯৯। এর মধ্যে ৮৫ জনের হামে মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি ৪১৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময়ে সারা দেশে আরও ১ হাজার ২৬১ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেয়া রোগীর সংখ্যা ৬০ হাজার ৫৪০।

এছাড়া, এ সময়ে নিশ্চিত হামরোগী শনাক্তের সংখ্যা ৫৪।  ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ৮ হাজার ৩২৯ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৭ হাজার ৫১১ শিশু। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৪৩ হাজার ৪১১ শিশু।

হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামে আর ৯ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯৯। এর মধ্যে ৮৫ জনের হামে মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি ৪১৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময়ে সারা দেশে আরও ১ হাজার ২৬১ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেয়া রোগীর সংখ্যা ৬০ হাজার ৫৪০।

এছাড়া, এ সময়ে নিশ্চিত হামরোগী শনাক্তের সংখ্যা ৫৪।  ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ৮ হাজার ৩২৯ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৭ হাজার ৫১১ শিশু। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৪৩ হাজার ৪১১ শিশু।

পল্লবীতে শিশু হত্যা আসামি সোহেল আগেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল: ডিবি

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশুকে হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানা আগেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত আদালতে জমা দেওয়া হবে। প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানা আগেও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল। তার অতীত কর্মকাণ্ড ভালো ছিল না। স্বভাব-চরিত্রও খারাপ ছিল।

তিনি জানান, মামলার চার্জশিট দেওয়ার আগে ডিএনএ টেস্ট করতে হবে। এ জন্য আদালতের অনুমতি নিয়ে সিআইডি ল্যাবে প্রক্রিয়া চলছে। ডিএনএ পরীক্ষায় ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগে। রোববার দুপুরের মধ্যে পরীক্ষা শেষ হবে। এরপর রোববারের মধ্যেই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ে বিচার কার্য শেষ করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের চেষ্টা থাকবে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পল্লবীর একটি বাড়ির তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার হয়। ঘটনার পর জানালার গ্রিল ভেঙে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সোহেল রানাকে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা বইমেলার জৌলস বাড়াবে?

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক।। সৈয়দ মুজতবা আলি’র বিখ্যাত উক্তি, ‘বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয়না’ মনে পড়লে হাঁসি পায়, বাঙ্গালী কি আসলে বই কিনে? বই কিনে কোন বাঙ্গালী দেউলিয়া হয়েছে এমন তথ্য আমার জানা নেই! বাঙ্গালীর কি বই পড়ার বদভ্যাস আছে? একদা আমি যখন নিউইয়র্কে সাবওয়েতে চলাচল করতাম তখন অবাক হয়ে দেখতাম, অনেকের হাতেই বই, এমন দৃশ্য ঢাকায় দেখেছি বলে মনে পড়েনা। ওপার বাংলায় অবশ্য আগে পাড়ায় পাড়ায় লাইব্রেরি দেখেছি, বাংলাদেশে তা দেখিনি। আমি চাঁদপুরের ছেলে, আমাদের ছোটবেলায় জোড়পুকুর পাড়ে ‘পাকিস্তান লাইব্রেরি’ নামে একটি লাইব্রেরি ছিলো, যা স্বাধীনতার পর ‘বাংলাদেশ লাইব্রেরি’ হয়ে যায়, আমরা সেখানে আড্ডা মারতাম, কারণ দোকানটি ছিলো আমাদের এক বন্ধু’র বাবার। সেই সুবাদে আমাদের কিছু বই পড়া হতো। ওই পাঠাগারে একটি ফ্ল্যায়ার প্রায়শ: আসতো, তাতে লেখা থাকতো, ‘যাঁরা লাইব্রেরি ব্যবসা করে তাঁরা মহান’। আসলে কি তাই? ঢালাও ভাবে এমন কথা কি বলা যায়?

এসব ভণিতার অর্থ হচ্ছে, নিউইয়র্কে বইমেলা এসে গেছে, এটি পঁয়ত্রিশ-তম। দেখতে দেখতে এত বছর পেরিয়ে গেছে। আমার সৌভাগ্য এ বইমেলায় প্রথম থেকেই আমি একজন দর্শক-অনুরাগী হিসাবে উপস্থিত থাকি, বা থাকার চেষ্টা করি। ঢাকাতে যখন বইমেলা শুরু হয় তখন আমি ঢাকা ভার্সিটি’র ছাত্র, কিন্তু প্রথম বইমেলায় উপস্থিত ছিলাম বা তাতে আমার কোন আগ্রহ ছিলো তা মনে হয়না। বয়সের একটা ব্যাপার থাকে, তখন রবীন্দ্রসঙ্গীত পানসে লাগতো। বরং নজরুলের ‘মোর প্রিয়া হবে এস রানী’ ভাল লাগতো। ঢাকার বইমেলা যেমন ধীরে ধীরে মহীরুহে পরিণত হয়, নিউইয়র্কে মুক্তধারার বইমেলাও তেমনি বিশ্বব্যাপী নন্দিত হয়। ঢাকা বা কলকাতার পর বহির্বিশ্বে এতবড় সাহিত্য আয়োজনকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই? ২০২৪-এ তথাকথিত বিপ্লবের পর ঢাকায় বইমেলায় মৌলবাদের ছোবল পড়ে, ২০২৬-এ তো হচ্ছেনা, হচ্ছেনা করে শেষদিকে কোনরকমে একটি সংক্ষিপ্ত ‘জগাখিচুড়ি’ জৌলুসহীন বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়।

এর কিছুটা আঁচ নিউইয়র্কেও লাগে। এমন ঝড় অবশ্য নুতন নয়, আগেও ক’বার এমনটা হয়েছে, তাতে মূল বইমেলার তেমন ক্ষতি হয়নি। ‘শত ফুল ফুটতে দাও’ বলে একটি কথা আছে, একাধিক বইমেলা ভাল, তাতে যদি বই বিক্রী বাড়ে, নুতন নুতন প্রতিভার সৃষ্টি হয়, তাহলে মন্দ কি? শুধু রেষারেষি না থাকলেই হলো। মুক্তধারার বইমেলা প্রবাসে প্রচুর লেখক, সাহিত্যিক, পাঠক সৃষ্টি করেছে তা বলা বাহুল্য। এ মেলা দেশ-প্রবাস এবং লেখক-পাঠকের মধ্যে একটি যোগসূত্র গড়ে উঠতে সাহায্য করেছে তা স্বীকার্য। বইমেলা মুক্তমনা মানুষের মেলাবন্ধনকে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। অধুনা ‘কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা’ (আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, এআই)-র যুগে লেখক, কবি, সাহিত্যিক চাকুরী হারাবেন কিনা বলা শক্ত, তবে ‘এআই’ সামনের দিনগুলোতে যেকোন বইমেলায় অপরিহার্য হয়ে উঠবে। দেশে বা প্রবাসে আমাদের এনালগ বইমেলা হয়তো ধীরে ধীরে ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করবে।

দেশের বা প্রবাসের মুক্তধারার বইমেলার ভবিষ্যৎ কি? বইকে ভালবাসে এমন মানুষ কি বাংলাদেশে খুব বেশি আছে? দেশে কেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লাইব্রেরি নেই? ওমর খৈয়ামের বিখ্যাত উক্তি, ‘প্রিয়ার কালোচোঁখ ঘোলা হয়ে আসবে,—-কিন্তু বই অনন্তযৌবনা,…’র কোন মূল্য কি আছে আমাদের মৌলবাদী সমাজে? এ সমাজে ‘বইমেলার’ ভবিষ্যৎ কি খুব একটা উজ্জ্বল মনে হয়? একটি গল্প বলি, গল্প না সত্যি ঘটনা। ঢাকায় ‘ইত্তেহাদ’ নামে একটি সাপ্তাহিক ছিলো, এর প্রচার সংখ্যা বিশাল, কারণ পত্রিকাটি আগাগোড়া ‘সাম্প্রয়দায়িক ও কট্টর ভারত বিরোধী’। আমাদের এক বন্ধু রেজাউল হক সরোজ ঐ পত্রিকায় কাজ করতো। সরোজ খবর পেলো যে, ভারত থেকে প্রচুর বই চোরাচালান হয়ে এসেছে, তিনি মালিক-সম্পাদক অলি আহাদ-কে জানালেন। অলি আহাদ রিপোর্টটি ছাপালেন না, বললেন, বই আসতে দাও, বই ভাল জিনিষ।

বই যে ভাল জিনিষ তা কি আজকের বাঙ্গালীর মাথায় আছে? বই যদি ভাল হয়, বইমেলাও ভাল। তা সেটি নিউইয়র্ক, ঢাকা, কলকাতা যেখানেই হোক। ৩৫তম বইমেলা সফল হউক, সার্থক হউক। বাঙ্গালী বই কিনুক, বই পড়ুক, বই উপহার দিক। বই হোক নিত্যসঙ্গী। দেখা হবে বই মেলায়। #

অ্যামচ্যামের আলোচনা বিনিয়োগ বাড়াতে শক্তিশালী মেধাসম্পদ ব্যবস্থা জরুরি

দেশে ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে শক্তিশালী মেধাসম্পদ  অধিকার (আইপিআর)  কাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি।  বাংলাদেশের এলডিসি  থেকে সফলভাবে উত্তরণ এবং বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে নিজস্ব অবস্থান সুরক্ষিত করতে একটি শক্তিশালী আইপিআর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
রাজধানীর গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) আয়োজিত ‘মেধাস্বত্ব অধিকার কাঠামোর উন্নয়ন: ভবিষ্যতের পথ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এমন মত দেন।

অনুষ্ঠানে অ্যামচ্যামের  সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ শক্তিশালী আইপিআর প্রয়োগের কৌশলগত প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, একটি নিরাপদ আইপিআর মেধাস্বত্ব অধিকার কাঠামো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে একদিকে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে, অন্যদিকে বিশ্ববাজারের বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা তৈরি হবে।
নয়াদিল্লির মার্কিন দূতাবাসের সিনিয়র কমার্শিয়াল স্পেশালিস্ট এবং আইপি পলিসি অ্যাডভাইজার শিল্পী ঝা অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সামনে মেধাসম্পদ কাঠামো শক্তিশালী করার এবং এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে সহায়তা করার চমৎকার সুযোগ আছে।
অনুষ্ঠানে অ্যামচ্যামের কোষাধ্যক্ষ আল-মামুন এম রাসেল, নির্বাহী পরিচালক চৌধুরী কায়সার মোহাম্মদ রিয়াদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য মির্জা সাজীব রায়হান, মার্কিন দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর পল ফ্রস্ট প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কুমিল্লায় হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু

কুমিল্লায় হাম উপসর্গে সামিয়া আক্তার নামে আট মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত সামিয়া আক্তার দেবিদ্বার উপজেলার ইউসুফপুর গ্রামের শাহাদাত হোসেনের মেয়ে। বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. পিয়াস আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. মিয়া মনজুর আহমেদ বলেন, ‘শিশুটি ৫-৬ দিন জ্বরে আক্রান্ত ছিল। সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে বুধবার দুপুরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।’

কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. পিয়াস আহমেদ বলেন, ‘চলতি বছরে জেলায় হাম ও হাম উপসর্গে সামিয়াসহ এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজনের নিশ্চিতভাবে হামজনিত এবং বাকি নয়জনের হাম সন্দেহে মৃত্যু হয়েছে।’

দখলবাজিতে আ.লীগ-বিএনপি নেতা, বিচারাধীন মার্কেট ঘিরে উত্তেজনা

বড় দুই রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা দুই সহোদর। ক্ষমতার পালাবদলে তাই তাদের আধিপত্যে ভাটা পড়ে না। এর জোরেই পালাক্রমে বিয়ানীবাজারের শেওলা ইউনিয়নের চারাবই গ্রামে ভোগ-দখলের তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। সম্প্রতি স্থানীয় একটি মার্কেটের দখল নিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে ওই দুই সহদোর আফসার খান সাদেক ও আখতার খান জাহেদ।

সম্প্রতি চারাবই বাজারের হাজী মুজম্মিল আলী নামের একটি মার্কেটের দখলকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত। জানা গেছে, মার্কেট দখলের নেপথ্যে রয়েছেন আখতার ও আফসার। তারা দুই ভাই বিদেশে থেকে দেশে নিজেদের লোকজন দিয়ে মার্কেটটি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, আখতার ও আফসার দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান করায় দেশে তাদের কর্মকাণ্ড তদারকি করছেন আরেক ভাই দিলদার হোসেন খান বেলাল ও ভাতিজা হাবিবুর রহমান খান। অভিযোগ রয়েছে, দিলদার হোসেন খান বেলাল আদালতের নিষ্পত্তির আগেই ওই মার্কেটের দখল প্রতিষ্ঠায় সেখানকার দোকান থেকে জোরপূর্বক ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করেন।
এ ঘটনায় বর্তমান মালিকপক্ষ মৃত মুজম্মিল আলীর ছেলে ডালিম আহমদ ও শাহীন আহমদের সঙ্গে তাঁর বাগ্‌বিতণ্ডা হয়; যা পরে হাতাহাতির পর্যায়ে গড়ায়। এ ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয় রাজনৈতিক ক্ষমতার খেলায়। বর্তমানে বিএনপি ক্ষমতায় থাকায় ভাই আখতার খান জাহেদ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিয়ানীবাজার থানায় বর্তমান মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা দায়ের করেন।
সরেজমিন চারাবই বাজার ঘুরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা জানা যায়, মূলত মার্কেটের বর্তমান মালিকপক্ষকে কোণঠাসা করতে এই মামলা করা হয়েছে। তারা সেদিনের মারামারির ঘটনাকে ‘ডাকাতি’ হিসেবে মানতে নারাজ।

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, এখানে কোনো ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি। মার্কেটের জায়গা নিয়ে দুই পক্ষের ঝামেলা ছিল। ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন থেকে বৈধ মালিক হিসেবে ডালিমদের ভাড়া দিয়ে আসছেন। হঠাৎ ১৭ মে বেলাল খান মার্কেটে এসে ভাড়া দাবি করেন। এই নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
তারা জানান, দখলের প্রাথমিক চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ডালিমদের বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে শুনেছেন তারা। ব্যবসায়ীরা এই সমস্যা দ্রুত সমাধান চান।
ভুক্তভোগী ডালিম আহমদ বলেন, জায়গাটি তাঁর দাদার। বাবার বরাতে পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে তারা মার্কেটের মালিক হন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভুয়া কাগজ ও রাজনৈতিক বলপ্রয়োগে আফসার খান সাদেক তাদের নামে রেকর্ড করেন।

২০১৭ সালে নকল তুলে এর সত্যতা জানতে পেরে ২০১৮ সালে সিলেটের তপশিলি আদালতে মামলা করেন। বর্তমানে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। এর মধ্যে আখতার খান জাহেদ ও আফসার খান সাদেক তাদের ভাই ও ভাতিজাদের দিয়ে জায়গা দখল করতে এলে বাধা দেন ডালিম ও তাদের স্বজনরা। তারা দখল করতে এসে ব্যর্থ হয়ে উল্টো রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। এর উদ্দেশ্য পুলিশ দিয়ে তাদের বাড়িছাড়া করে জায়গার দখল নেওয়া।
ভুক্তভোগী শাহিন উদ্দিন বলেন, জায়গা দখল করতে না পেরে দিলদার হোসেন ও তাঁর সঙ্গীরা দুই ভাইয়ের ওপর হামলা চালান। এ ঘটনায় বিয়ানীবাজার থানায় অভিযোগ করা হলেও তা আমলে নেয়নি থানা পুলিশ।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বিরোধ নিষ্পত্তির প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। এতে সাধারণ মানুষ বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত মার্কেট নিয়ে কোনো পক্ষ যেন প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সে বিষয়েও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আখতার খান জাহেদ, আফসার খান ও বেলাল খানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তাদের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন দাবি করেছেন, মামলা সম্পূর্ণ আইনগত প্রক্রিয়ায় করা হয়েছে।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছেন সেটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে তদন্ত চলছে। এর বাইরে কোনো অভিযোগ তাঁর কাছে আসেনি।
জানা গেছে, লন্ডনে নিজ বাসভবনের সামনে বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্য স্থাপন করে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের সহযোগিতায় জমিয়ে বসেন তিনি। ছিলেন বিগত সরকারের সুনজরে। স্থানীয় পর্যায়ে সেই ক্ষমতা খাটিয়ে আধিপত্য বিস্তার করেন দলের সমাজসেবাবিষয়ক উপকমিটির সদস্য আফসার খান সাদেক। অপর দিকে সাদেকের ভাই আখতার খান জাহেদ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। দুই ভাই ভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা হলেও এলাকায় নিজেদের প্রভাব বিস্তার ও আধিপত্য ধরে রাখতে একসঙ্গেই কাজ করেন।

বাবার এক ফোনে বিশ্বকাপের দল থেকে বাদ পড়লেন ছেলে

বিশ্বকাপের মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্নই দেখেন সব ফুটবলার। কেউ এই পরম সুযোগের জন্য বছরের পর বছর চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকেন, আবার সুযোগ না পেয়ে কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন। অথচ তিউনিসিয়ার ১৯ বছর বয়সী উদীয়মান স্ট্রাইকার লুয়ি বেন ফারহাতের ক্ষেত্রে ঘটল এক অদ্ভুত ঘটনা। বাবার একটিমাত্র ফোনকলের কারণে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড থেকে বাদ পড়তে হলো এই তরুণ তুর্কিকে!

তিউনিসিয়া ফুটবলের ভবিষ্যৎ তারকা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল বেন ফারহাতকে। বিশ্বকাপের আগে তিউনিসিয়ার কোচ সাবরি লামুচির মূল পরিকল্পনা জুড়েই ছিলেন এই তরুণ। ধারণা করা হচ্ছিল, শুধু ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দলেই নয়, বরং বিশ্বকাপের মূল একাদশেও দেখা যেতে পারত তাকে।

কিন্তু তিউনিসিয়ার চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণায় নাম ছিল না এই তরুণ স্ট্রাইকারের। সংবাদ সম্মেলনে স্বাভাবিকভাবেই কোচের দিকে ধেয়ে যায় ফারহাতের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন। আর তখনই কোচ লামুচি ফাঁস করে বলেন, ‘আজ সকালে হুট করেই ফারহাতের বাবার কাছ থেকে একটি ফোনকল পাই। তিনি আমাকে সাফ জানিয়ে দেন, এখনই তাঁ ছেলেকে বিশ্বকাপে নেওয়া খুব তাড়াহুড়ো হয়ে যাবে। এত অল্প বয়সে তিনি তার ছেলেকে বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের চাপ ও স্পটলাইটে খেলাতে রাজি নন।’

কোচ আরও যোগ করেন, এই ফোন পাওয়ার পর তিনি নিজে বেন ফারহাতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ওই ফুটবলারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। পুরো বিষয়টিকে জাতীয় দলের প্রতি ‘অসম্মানজনক’ বলেও মন্তব্য করেন কোচ।

দেশটির শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, বিশ্বকাপে দল ভালো না করলে বা ছেলে ব্যক্তিগতভাবে ব্যর্থ হলে ইউরোপীয় ফুটবলে তার বাজারমূল্য কমে যেতে পারে। এমন আশঙ্কা থেকেই এই অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফারহাতের পরিবার। তাদের ধারণা, বড় মঞ্চে এই বয়সে ব্যর্থতার দায় চেপে বসলে ইউরোপের জায়ান্ট ক্লাবগুলো ফারহাতের ওপর থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে।

তবে এর পেছনে অন্য একটি সমীকরণও দেখছেন অনেকে। জার্মানিতে জন্ম নেওয়া বেন ফারহাতের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। ভবিষ্যতে বেন ফারহাত জার্মান জাতীয় দলের ডাক পাওয়ার আশায় আছেন বলেও আলোচনা চলছে।+

আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক, তবু মসলার বাজারে অস্বস্তি

আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক, তবু কয়েকটি মসলা পণ্যের দাম কিছুটা বাড়তি। বিশেষ করে দাম বেড়েছে জিরা, এলাচ ও লবঙ্গের। এক মাসের ব্যবধানে জিরার কেজিতে ৫০ টাকা, লবঙ্গে ৫০ থেকে ১০০ ও এলাচের কেজিতে ৩০০ টাকার মতো দাম বেড়েছে। এতে ক্রেতাকে মসলা কেনার জন্য বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসায় মসলার চাহিদা বেড়েছে। এ কারণে দামও বাড়তি। আমদানিকারকদের দাবি, আমদানি খরচ বাড়লেও বাজারে দাম স্বাভাবিক। তবে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিবছর ঈদের আগে মসলার চাহিদা বাড়লেই বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। অনেক সময় কৃত্রিম সংকটও তৈরি করা হয়। সরকারের যথাযথ নজরদারি থাকলে বাজারে এই পরিস্থিতি হতো না। বাজার নিয়ন্ত্রণে আমদানি থেকে খুচরা পর্যায়ে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

ব্যবসায়ীরা জানান, কোরবানির ঈদ ঘিরে প্রতিবছর দেশের মসলার বাজারে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ চাহিদা বেড়ে যায়। এই বাড়তি চাহিদা ঘিরে পাইকারি থেকে খুচরা পর্যন্ত পুরো বাজারে তৈরি হয় বাড়তি উত্তাপ। যদিও গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁও, মহাখালী, তেজকুনিপাড়া ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সব দোকানে রয়েছে ভরপুর মসলা পণ্য। দোকানে দোকানে ক্রেতার ভিড়ও রয়েছে।

খুচরা ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা মানভেদে প্রতি কেজি জিরা ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। মাসখানেক আগে জিরার কেজি ছিল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। একইভাবে এক মাস আগে এক হাজার ৩০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হওয়া লবঙ্গের কেজি এখন এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এলাচের দাম। এক থেকে দেড় মাসের ব্যবধানে কেজিতে অন্তত ৩০০ টাকা বেড়ে এলাচ বিক্রি হচ্ছে চার হাজার ৪০০ থেকে পাঁচ হাজার ৫০০ টাকায়। কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ থেকে ৫৫০ টাকায়। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা দরে। এ ছাড়া প্রতি কেজি গোলমরিচ এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩৫০ টাকা, তেজপাতা ১৮০ থেকে ২২০, হলুদ ২৫০ থেকে ৪০০, আদা ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা, রসুন ৬০ থেকে ২০০ টাকা, শুকনা মরিচ ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে, এক বছরের ব্যবধানে দারুচিনির দাম ৫, লবঙ্গের ৩, এলাচের ৫, আদার ১৩, শুকনো মরিচের গড়ে ৩৫ এবং তেজপাতার ২১ শতাংশ দর বেড়েছে। তবে রসুনের ২০ ও জিরার ৫ শতাংশ দর কমেছে।

মসলার দাম বাড়লেও বাজারে এসব পণ্যের সরবরাহে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। আমদানিও হচ্ছে নিয়মিত। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে আমদানি হয়েছে পাঁচ লাখ ৭৪ হাজার টন (১৪ ধরনের মসলা)। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকেই (জানুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত) আমদানি হয়েছে প্রায় দুই লাখ টন।

ক্রেতার অভিযোগ, বাজারে মসলার অভাব নেই। ঈদের চাহিদা ঘিরে খুচরা থেকে পাইকারি সব ব্যবসায়ী দাম বাড়াচ্ছেন। গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁও কাঁচাবাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মিলন হোসেন বলেন, আগে যে টাকায় এক মাসের মসলা কিনতাম, এখন সেই টাকায় মসলায় এক সপ্তাহের বেশি চলে না।

কারওয়ান বাজারের তুহিন জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. রায়হান বলেন, কয়েক দিন ধরে মানুষ মসলা বেশি কিনছে। কেউ কেউ কিনে গ্রামেও পাঠাচ্ছে। এতে বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তাছাড়া পাইকারি বাজারেও দাম বেড়েছে। এ কারণে ছোট ব্যবসায়ীদের কিছুটা দাম বাড়াতে হয়েছে।

আমদানিকারকরা জানান, দেশের মসলার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। ডলার সংকট, এলসি জটিলতা, অতিরিক্ত শুল্ক ও পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে আমদানি খরচ বেড়েছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ পাইকারি মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এনায়েত উল্লাহ বলেন, মসলার বাজার স্থিতিশীল। এ সময় দাম যা থাকার কথা, তার চেয়েও কম আছে।

এ ব্যাপারে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, কোরবানির ঈদের আগে মসলার বাজারে কিছুটা চাপ থাকে। এর সুযোগ নেন ব্যবসায়ীরা।