Home Blog Page 14

পরিসংখ্যানের আয়নায় আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির যত অর্জন

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন লিওনেল মেসি। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের পথচলার ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা।

এর আগে ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের পর প্রথমবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি। তবে মাত্র দুই মাস পর সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন তিনি। এরপরে আর্জেন্টিনার হয়ে জিতেছেন কোপা আমেরিকা, ফাইনালিসিমা ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপসহ প্রায় সব বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা।

MESSI1 1788247696

আর্জেন্টিনার হয়ে ২০০৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত মেসি খেলেছেন ২০৭ ম্যাচ। গোল করেছেন ১২৫টি, সঙ্গে রয়েছে ৬৮টি অ্যাসিস্ট। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ১১টি হ্যাটট্রিক, ২৫টি পেনাল্টি ও ১২টি ফ্রি-কিক গোলও রয়েছে তার। এর মধ্যে বক্সের বাইরে থেকে ১৫টি এবং বক্সের ভেতর থেকে ৭৩টি গোল করেছেন। বাঁ পায়ে করেছেন ১১১ গোল, ডান পায়ে ১২টি এবং মাথায় ২টি।

MESSI2 1788247731

আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার পাশাপাশি সর্বোচ্চ গোলদাতাও মেসি। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ১২৫ গোল নিয়ে তার অবস্থান দ্বিতীয়, যেখানে ১৪৬ গোল নিয়ে শীর্ষে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

MESSI3 1788247770

শুধু আর্জেন্টিনার জার্সিতেই নয়, বিশ্বকাপের মঞ্চেও একের পর এক রেকর্ড গড়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে তার গোল ২১টি, যা ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ১২টি অ্যাসিস্ট তার। ৩৪ ম্যাচ নিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা ফুটবলারও তিনি। ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ আসরের রেকর্ডেও আছেন মেসি। বিশ্বকাপে ১৬ বার ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে এই তালিকাতেও সবার ওপরে তিনি।

MESSI4 1788247804

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির ট্রফির তালিকাটাও সমৃদ্ধ। জিতেছেন অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ, অলিম্পিক স্বর্ণপদক, ফাইনালিসিমা, দুটি কোপা আমেরিকা ও একটি বিশ্বকাপ।

MESSI5 1788247836

ব্যক্তিগত অর্জনেও তিনি অনন্য। মেসির ঝুলিতে রয়েছে ৮টি ব্যালন ডি’অর, ৮টি ফিফা ওয়ার্ল্ড প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার, দুটি বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল এবং দুটি কোপা আমেরিকার সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। দীর্ঘ এই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মেসি ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন ৫৫ বার।

নেপাল-তিব্বতে বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি হাজার ছাড়াল, নিখোঁজ ৪৪৬২

হিমালয় অঞ্চলে নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। গত ২৬ আগস্ট শুরু হওয়া এ দুর্যোগে দুই দেশে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ৪৬২ জন। মঙ্গলবার দুই দেশের সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে এ খবর জানিয়েছে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু।

নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এনডিআরআরএমএ) জানিয়েছে, নতুন করে আরও ৮৪ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়ায় দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮৭ হয়েছে। এখনো নিখোঁজ ৩ হাজার ৯১৬ জন। তাদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত ৬৩৯ জনও রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে চীনের কর্তৃপক্ষ ১৬ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। দেশটিতে এখনো ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক। ফলে দুই দেশের তথ্য অনুযায়ী, মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩ এবং নিখোঁজ ৪ হাজার ৪৬২ জন। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৮৪৪।

গত ২৬ আগস্ট নেপালের লাংটাং লিরুং পর্বতের প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় একটি হিমবাহের অংশ ভেঙে যায়। এতে বরফ ও পাথরের বিশাল স্তূপ ধসে পড়ে এবং তা দ্রুত ভয়াবহ ধ্বংসাবশেষের স্রোতে পরিণত হয়। পরে সেই স্রোত সীমান্তবর্তী উপত্যকাগুলো দিয়ে নেমে এসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়।

নেপালে রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, কাভ্রে ও কাঠমান্ডু উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিম তিব্বত অঞ্চলের নেপাল সীমান্তের গিয়রং সীমান্তচৌকিও কাদা ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে।

নেপাল ও চীনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিক। দুই দেশের মধ্যে ২৭৫ জন ভারতীয় ও ১০০ জন চীনা নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।

মরদেহ উদ্ধারের সংখ্যা বাড়তে থাকায় নেপাল মরদেহ সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজার, ডিএনএ পরীক্ষার কিট, দূর অনুধাবন প্রযুক্তি এবং দুর্যোগকবলিত এলাকা চিহ্নিত করতে ড্রোন চেয়েছে।

উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারত বিভিন্ন দল পাঠিয়েছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ও উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা জানিয়েছেন, গিয়রং সীমান্তচৌকিতে পৌঁছাতে তাদের ১০ ঘণ্টা হেঁটে যেতে হয়েছে। সেখানে পৌঁছে তারা চীনের অংশে কোনো ভবন বা অন্যান্য অবকাঠামোর চিহ্নও দেখতে পাননি।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইউক্রেন সংঘাত সমাধানের পথে এগোচ্ছে রাশিয়া: পুতিন

ইউক্রেন সংঘাতের অবসান ঘটাতে রাশিয়া সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। কিরগিজস্তানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি এ কথা বলেন।

বিশবেকে ওই বৈঠক হয় স্থানীয় সময় সোমবার। সেখানে দুই নেতা ইউক্রেন সংঘাতসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এক সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী চলমান সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানান। জবাবে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ধন্যবাদ, প্রিয় প্রধানমন্ত্রী। আমরা সেদিকেই এগোচ্ছি।’

মস্কো বারবার জানিয়েছে, তারা যেকোনো সময় ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত। তবে সংঘাতের মূল কারণগুলোর সমাধান করা সেই আলোচনার প্রকৃত লক্ষ্য হতে হবে। মূল কারণগুলোর মধ্যে ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত।

রাশিয়ার দাবি, এই সংঘাতের শিকড় লুকিয়ে আছে ২০১৪ সালের একটি ঘটনায়। সে সময় কিয়েভে পশ্চিমাদের সমর্থনে অভ্যুত্থান হয়। পরে নতুন ইউক্রেনীয় সরকার দনবাস অঞ্চলের বিদ্রোহ দমন করতে শক্তি প্রয়োগের প্রচেষ্টা করে।

ইউক্রেন পরে ২০১৪-২০১৫ সালের মিনস্ক চুক্তিগুলো বাস্তবায়নেও ব্যর্থ হয়। এসব চুক্তির লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চলগুলোকে স্বায়ত্তশাসন দিয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে একীভূত করা।

গত জুন মাসে পলিটিকোতে প্রকাশিত এক নিবন্ধে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, ইউক্রেন ও ইউরোপের নিরাপত্তা সংকট কমাতে মস্কো সব ধরনের কূটনৈতিক পথ খতিয়ে দেখেছিল। কিন্তু ২০২২ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো রাশিয়ার প্রস্তাবিত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রত্যাখ্যান করে।

আইপিইউর কাছে অভিযোগ আওয়ামী লীগকে রাজনীতি থেকে মাইনাসের অপচেষ্টা চলছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গঠন প্রক্রিয়া থেকে বাইরে রাখার পর এখন রাজনীতি থেকে ‘মাইনাস’করার অপচেষ্টা চলছে বলে আন্তর্জাতিক সংসদীয় সংস্থা ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ। তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে আসা আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের কাছে এই নালিশ জানানো হয়।

সোমবার জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম এবং বিরোধী দলীয় এমপি আকতার হোসেন এই তথ্য জানান। এর আগে আইপিইউ প্রতিনিধি দলটি সংসদ ভবন পরিদর্শন করেন এবং স্পিকার, ডেপুটি স্পিকারসহ  সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন।

চিফ হুইপ বলেন, সফররত আইপিইউ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ সংসদীয় কার্যক্রম এবং সুশৃঙ্খল ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়া সাম্প্রতিক রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছে। তবে সফরকালে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আইপিইউর কাছে আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তি ছড়াতে একটি লিখিত নালিশ পাঠানো হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে আইপিইউ প্রতিনিধি দলের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে আকতার হোসেন বলেন, ক্ষমতায় থাকতে আওয়ামী লীগ, আইপিইউর কাছে সবসময় দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র বহাল থাকার মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করত। বর্তমানে ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ার পর তারা উল্টো অভিযোগ করেছে, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়েই বা ‘মাইনাস’ করেই বর্তমান সংসদ গঠন করা হয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের প্রস্তাব এবং সংসদে বিরোধী দলের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়গুলো আইপিইউ প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরা হয়।

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম আইপিইউ প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করে বলেন, অতীতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং ছাত্রনেতারা যেভাবে নিপীড়নের শিকার হয়েছিল, বর্তমান সরকার সেই পথ পরিহার করে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংসদীয় ব্যবস্থা বজায় রাখতে কাজ করছে।

তিন দিনের ঢাকা সফরের অংশ হিসেবে গতকাল আইপিইউ প্রতিনিধি দলটি সংসদ ভবন পরিদর্শন করে এবং স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এ ছাড়া তারা ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় প্রতিনিধি এবং তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গেও আলাদা বৈঠকে অংশ নেন।

গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে আগামী মাসে: রিজভী

চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট আগামী মাসে স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকটে বিএনপি সরকার দায়ী নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এই সংকট একটি বৈশ্বিক সংকট। আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধ…হরমুজ প্রণালি জাহাজ আসতে পারছে না। জ্বালানি আসতে পারছে না। দুই-একটা জাহাজ যখন আসার চেষ্টা করেছে, সেখানে বোমা পড়েছে। তারপরও তো তিনি (তারেক রহমান) বসে নেই! জ্বালানি-বিদ্যুতের বাজেটের ওপরে ৪০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে তিনি গ্যাসের সংকট সমাধান করছেন।’

সংকট নিরসনে সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, মহেশখালীতে এফএসআরইউর কারিগরি ত্রুটি মেরামত সম্পন্ন হয়েছে। এখন রিগ্যাসিফিকেশন শুরু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত থাকবে এবং বিদ্যুৎ থাকবে।

তিনি বলেন, তার কিছু আলামত আমরা দেখতে পাচ্ছি। সুতরাং সব সংকট মোকাবিলা করে তারেক রহমান দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

মূল্যস্ফীতির শঙ্কায় তিন ধাপে সরকারি কর্মচারীদের বেতন

মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে সরকারি চাকরিজীবীদের নবম জাতীয় বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন বেতন স্কেলের মূল বেতন তিন ধাপে কার্যকর করা হবে। তবে সব ধরনের ভাতা একযোগে মিলবে ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে। চলতি সপ্তাহেই এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে তথ্য অধিদপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে বেতন বৃদ্ধির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ।

সরকারের হিসাবে, প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখের বেশি অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আসবেন। এটি বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। তবে দুই অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে বেতন বাড়ানোর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির সম্ভাব্য চাপ সামাল দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়সহ বিভিন্ন বিষয় গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন বেতন স্কেল ঘোষণা হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কিনা– সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আগের পরিস্থিতিতে চলা কঠিন হয়ে পড়েছিল। জীবনযাত্রার মানও অনেক কমে গিয়েছিল। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দুদিকের মধ্যে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করা হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে তিন ধাপে বাস্তবায়ন
একযোগে পুরো বেতন না দিয়ে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পেছনে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিই প্রধান বিবেচনা ছিল বলে জানান নাসিমুল গনি। তাঁর ভাষায়, অবশ্যই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়টি খেয়াল রাখা হয়েছে। না হলে তো একযোগেই পুরো টাকা দিয়ে দেওয়া হতো।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭-এর মধ্যে মূল বেতন মোট তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এরপর ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে সব ভাতা একযোগে কার্যকর হবে। কম আয়ের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দিতে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একইভাবে পেনশনভোগীদের নিট পেনশনও ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে। বেতন বৃদ্ধির ফলে বাজারে অর্থপ্রবাহ বাড়বে বলেও মনে করছে সরকার।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মানুষের হাতে টাকা না থাকলে অর্থনীতি সচল থাকে না। কৃষকের হাতে সরাসরি টাকা দেওয়া, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সহায়তা কিংবা শিল্পীদের আর্থিক সহযোগিতার লক্ষ্যও বাজারে অর্থপ্রবাহ বাড়ানো। তিনি বলেন, মানুষের হাতে অর্থ গেলে তারা কেনাকাটা করবে এবং এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে। নতুন পে স্কেলের ক্ষেত্রেও একই চিন্তা থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যারা আগে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন, বেতন বাড়লে তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে।

১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে অগ্রাধিকার
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে কম আয়ের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের আগে সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি হিসাবে, নতুন কাঠামোয় নিম্ন গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি। ২০তম গ্রেডে বর্তমান মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার টাকায় উন্নীত হচ্ছে। অন্যদিকে প্রথম গ্রেডে নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার থেকে এক লাখ ৫৬ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। সরকারের যুক্তি, নিচের দিকের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় বেতন কাঠামোতেও তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

পেনশনেও বড় বৃদ্ধি
অবসরপ্রাপ্তদের জন্যও সুখবর রয়েছে নতুন কাঠামোয়। সরকার আপাতত ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ বা ওয়ান র‍্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন পদ্ধতি চালু না করলেও ২০৩০ সালের মধ্যে তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এর আগে ধাপভিত্তিক নিট পেনশন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হবে। মাসে ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন ১০০ শতাংশ বাড়বে। ৯ হাজার এক টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার এক থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার এক থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার এক টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ৫৫ শতাংশ বাড়বে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য নতুন সুবিধা
নতুন বেতন কাঠামোয় প্রথমবারের মতো সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য মাসে তিন হাজার টাকা ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এতদিন পঞ্চম গ্রেড পর্যন্ত থাকা মোবাইল ভাতার আওতা বাড়িয়ে সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারীকে এ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

0Samakal@AH 1788230539

টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডে অপেক্ষা
টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ বিষয়ে এসআরও জারি না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়। নিয়ম বা পরিবর্তনগুলো প্রজ্ঞাপন জারির পরই স্পষ্ট হবে।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে এক লাখ পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত অর্থ কোথা থেকে আসবে, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, তিন বছরের হিসাব ধরে এই অর্থের সংস্থান বিবেচনা করা হয়েছে। বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে পর্যায়ক্রমে অর্থের প্রয়োজন হবে। ফলে আগামী দুই বছরেই পুরো অর্থের প্রয়োজন পড়বে না।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই অতিরিক্ত ব্যয়ের অর্থ মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর আওতায় সংশ্লিষ্ট অর্থবছরগুলোর বাজেটে রাখা হয়েছে।

জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য পৃথক কমিটি
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো ঠিক করতে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জুডিশিয়াল সার্ভিস বেতন স্কেল অনুমোদন করা হবে। তবে তারা ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন পাবেন, যা ধাপে ধাপে কার্যকর হবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে জাতীয় পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো সম্ভব হবে।

ওয়েজ বোর্ডেও ‘গতি’ আসার আশা
সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার পর ওয়েজ বোর্ডের বিষয়টিতেও গতি আসবে। এটি আর আগের মতো পড়ে থাকবে না।
তবে প্রায় পাঁচ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী নতুন বেতন স্কেলের সুবিধা পাবেন কিনা, সে বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত যথাসময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে গত ২১ জানুয়ারি। বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি দীর্ঘ চার মাসে আটটি সভায় পর্যালোচনা শেষে গত ১২ আগস্ট চূড়ান্ত সুপারিশ প্রতিবেদন তৈরি করে। এর মধ্যে গত ৬ আগস্ট জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও সুপারিশ প্রণয়নে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের মন্ত্রী পর্যায়ের কমিটি গঠন করে সরকার। এরপর গতকাল সচিব কমিটির সুপারিশের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

যুদ্ধের ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানে বাড়ছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ ছয় মাস পার হওয়ার পর তিন দেশেই সরকারকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। যুদ্ধের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলে জনসমর্থন কমছে এবং ইরানে বাড়ছে অর্থনৈতিক সংকট।

ছয় মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও দেশটির কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক পদক্ষেপ চেয়ে আসছিলেন। তবে যুদ্ধের পরও ইরানের সরকার ক্ষমতায় রয়েছে এবং দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির দামের ক্ষেত্রে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর দেশটিতে পেট্রোলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বা অ্যাপ্রুভাল রেটিংও সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে। অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও তাঁর সমালোচনা বাড়ছে।

মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিষয়ক অধ্যাপক শিবলি তেলহামি বলেন, যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বোঝা অনেক মার্কিন নাগরিকের কাছে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক এক ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, প্রতি তিনজন আমেরিকানের মধ্যে একজনেরও কম ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে সমর্থন করেন।

তেলহামির মতে, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধে টেনে এনেছে—এমন ধারণাও মার্কিন রাজনীতিতে গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে ইসরায়েল-সংক্রান্ত বিষয়টি এখন শুধু পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্ন নয়, বরং মানুষের আর্থিক অবস্থা ও মৌলিক মূল্যবোধের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে উঠেছে।

ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে গত সপ্তাহে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও সুবিধাজনক একটি চুক্তিতে তেহরানকে রাজি করানোর লক্ষ্যেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প এ উদ্যোগকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ইরান সরকারের পতন ঘটাতে পারেনি। মার্কিন লেখক ও কূটনীতিক অ্যারন ডেভিড মিলারের মতে, ইরানের কাছে এখনও অত্যন্ত উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে এবং তা আরও সমৃদ্ধ করার সক্ষমতাও রয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করে ইরান তার প্রতিরোধ সক্ষমতা ধরে রেখেছে। হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলো দুর্বল হলেও এখনও সক্রিয় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের জনবিক্ষোভ বা অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ আশা করেছিল, তাও দেখা যায়নি।

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক উদ্যোগের ব্যর্থতা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন মিলার। তাঁর মতে, ভবিষ্যতের কোনো মার্কিন প্রশাসন এমন সামরিক অভিযান শুরু করার বিষয়ে আরও সতর্ক হবে।

ইসরায়েলেও নেতানিয়াহুর ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। ইসরায়েলি নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও কিংস কলেজ লন্ডনের সিনিয়র টিচিং ফেলো আহরন ব্রেগম্যান বলেন, গাজা, লেবানন এবং ইরানের ক্ষেত্রেও নেতানিয়াহুকে ব্যর্থ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাঁর মতে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার পরিবর্তে নেতানিয়াহু শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সেই উদ্যোগ সফল হয়নি এবং ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির আগের চেয়ে আরও কাছাকাছি পৌঁছেছে।

ইরানকে বাদ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতার উদ্যোগও নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের তাঁকে আক্রমণের সুযোগ দিয়েছে। ইসরায়েলি সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড্যানিয়েল লেভির মতে, নেতানিয়াহু আশা করেছিলেন যুদ্ধটি তাঁর নির্বাচনী অবস্থান শক্তিশালী করবে। কিন্তু প্রত্যাশিত ফল না আসায় তা রাজনৈতিক সুবিধা এনে দিতে পারেনি।

ইরানের অর্থনীতিতেও যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে। ইরানের নিজস্ব হিসাবে, এপ্রিল নাগাদ যুদ্ধের কারণে দেশটির অর্থনীতিতে ১৪৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতি হয়েছে। গত মাসে দেশটির বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতির হার ৬৬ শতাংশে পৌঁছেছে। শুধু মার্কিন অবরোধের কারণে প্রতিদিন প্রায় ৪৩৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হতে পারে বলে হিসাব করা হয়েছে।

তবে এসব চাপের মধ্যেও ইরানের অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। ইরান বিষয়ক গবেষক ও লেখক শেরভিন মালেকজাদে বলেন, অর্থনীতি ও মুদ্রাস্ফীতির সংকট গুরুতর হলেও তা এখনও সামাল দেওয়ার মতো পর্যায়ে রয়েছে। তাঁর মতে, বিশ্বের বিরুদ্ধে দেশের সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদা রক্ষার ধারণাকে কেন্দ্র করেই ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামো গড়ে উঠেছে, যা অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় দেশটির সক্ষমতা বাড়িয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে ইরানের সরকারের অভ্যন্তরেও মতপার্থক্য রয়েছে। কট্টরপন্থী ও মধ্যপন্থীদের মধ্যে আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রকাশ্য বিরোধ দেখা দিয়েছে। তবে যুদ্ধের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও কোনো পক্ষই পরাজয় স্বীকার করতে রাজি নয়।

ইরানের জন্য সংঘাতটি এখন শুধু সামরিক প্রতিরোধের বিষয় নয়, বরং অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্য এবং ইরানের বিরুদ্ধে দ্রুত ও চূড়ান্ত বিজয় অর্জনে ব্যর্থতা আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে। ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও ইরানকে এখনও গভীর ও অস্তিত্বের হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আগামী সপ্তাহ থেকে টাকা তোলা যাবে

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের জন্য ঘোষিত স্কিমের বাইরেও বিশেষ প্রয়োজনে জমানো টাকা তুলতে পারবেন আমানতকারীরা। তবে যারা টাকা তুলতে চান তাদেরকে ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর শাখাগুলোতে আবেদন করতে হবে। আবেদন যাচাই শেষে আগামী সপ্তাহ থেকে ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেবে ব্যাংক। দুর্দশাগ্রস্ত পাঁচ ব্যাংক মিলে গঠিত এ ব্যাংকের প্রতি মানুষের আস্থা ফেরাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় লেনদেন স্বাভাবিক করতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

জানা গেছে, আজকের বৈঠকে টাকা ফেরতসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। মূলত ব্যাংকটির খেলাপিদের থেকে আদায় পরিস্থিতি, গ্রাহকদের চাহিদা বিবেচনায় বিশৃঙ্খলমুক্তভাবে টাকা ফেরতসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতের বিপরীতে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য মুনাফার একটি অংশ কাটছাঁট বা ‘হেয়ারকাট’ উদ্যোগ বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। এতে করে মেয়াদি আমানতে ঘোষিত মুনাফার পুরোটা পাবেন আমানতকারীরা।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সব ধরনের সঞ্চয়ী হিসাবের লেনদেন স্বাভাবিক করা হবে। এর বাইরে অধিকতর প্রয়োজনে যেসব গ্রাহক মেয়াদি আমানত বন্ধ করে ‘এক্সিট’ নিতে চান তারাও পুরো টাকা তুলতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে কেবল মূল টাকা ফেরত দেওয়া হবে। আর আবগারি শুল্ক হিসেবে সরকারকে যে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে তা ব্যাংক বহন করবে। অবশ্য কেউ মেয়াদি আমানতের আংশিক তুললে বাকি টাকার ওপর পুরো মুনাফা পাবেন।

বিভিন্ন অনিয়ম জালিয়াতির কারণে দীর্ঘদিন আমানত ফেরত দিতে না পারায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুর্দশাগ্রস্ত এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক মিলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন হয়। ব্যাংকগুলোতে প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর এক লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা আছে। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীর সঞ্চয়ী হিসাবে রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। পাঁচ ব্যাংকের মোট এক লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা ঋণের ৮৬ শতাংশ এখন খেলাপি। আর মূলধন ঘাটতি রয়েছে দেড় লাখ কোটি টাকার বেশি। সরকারি মালিকানার ব্যাংক হিসেবে গত বছরের নভেম্বরে যাত্রা শুরু করা ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধনের মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়া হবে। ব্যাংকটির লেনদেন স্বাভাবিক করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা কীভাবে টাকা তুলতে পারবেন সে বিষয়ে গত বছরের ডিসেম্বরে একটি স্কিম ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই স্কিমের আওতায় সব ধরনের মেয়াদি আমানতের মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আর চলতি বা সঞ্চয়ী হিসাবে যত টাকা জমা থাকুক– আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিলের আওতায় প্রথমে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হয়েছে। এর বেশি অঙ্কের ক্ষেত্রে পরবর্তীতে প্রতি তিন মাস পর এক লাখ টাকা করে তোলা যাবে। এখন এই স্কিমের বাইরেও টাকা তোলা যাবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তারল্য সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০৩, নিখোঁজ ৪২০০

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। এখনো ৪ হাজার ২০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া সরকার জানিয়েছে, অন্তত ৪৩ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিক নিখোঁজ। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, নেপালে ২৭৫ জন ভারতীয় নাগরিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ভারতীয় বংশোদ্ভূত আরও ১২৮ জনও নিখোঁজ রয়েছেন।

বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও উদ্ধার তৎপরতা চলছে। তবে বড় সংকট দেখা দিয়েছে মরদেহ নিয়ে। পানিতে ভেসে আসা শত শত মরদেহ দ্রুত পচে যাওয়ায় অনেকের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর অশনাক্ত মরদেহ গণকবর দেওয়া শুরু করেছে নেপাল কর্তৃপক্ষ।

নেপালের দুর্যোগকবলিত পাহাড়ি এলাকা রাসুয়া থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে চিতওয়ানের দেবঘাট বনাঞ্চলে শত শত মরদেহের জন্য গণকবর খোঁড়া হয়েছে। সেখানে গতকাল শতাধিক মরদেহ দাফন করা হয়েছে। এর আগের দিন শনিবার ৯৬টি মরদেহ কবর দেওয়া হয়।

চিতওয়ানের ভরতপুরের প্রধান জেলা কর্মকর্তা গণেশ আর্য বলেন, বন্যার স্রোতে ভেসে আসা মরদেহগুলো দ্রুত পচে যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত সেগুলো দাফন করতে হচ্ছে।

এদিকে নতুন করে বন্যার ঝুঁকিও কাটেনি। উজানে ভূমিধসের কারণে প্রাকৃতিকভাবে নতুন একটি হ্রদ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে চীন। এই হ্রদ থেকে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

গত বুধবার হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহধসে বরফ, পাথর ও কাদার স্রোতে আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। এতে নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়। তিব্বতেও প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং মরদেহ শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

মক্কা চুক্তি কৌশল ও প্রতিরক্ষা কমিটির বৈঠক আজ, আলোচনায় যা থাকবে

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় কৌশলগত, রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সেই কমিটির প্রথম বৈঠক হতে যাচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠাকালীন তিন সদস্য তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাপ্রধানরা উপস্থিত থাকবেন।

বৈঠকে অংশ নিতে যাওয়া প্রতিনিধিদের নিয়েই মূলত এই কমিটি। এর লক্ষ্য যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কৌশলগত দিকনির্দেশনা দেওয়া। সোমবার প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন। একইসঙ্গে তিন দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ এবং সশস্ত্র বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারে আলোচনার আশা করা হচ্ছে।

অংশগ্রহণকারীরা যৌথ উৎপাদন, গবেষণা ও উন্নয়নসহ প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা গভীর করা, পাশাপাশি যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী তৎপরতা নিয়েও আলোচনা করতে পারেন। কমিটির কাজ পরিচালনার জন্য একটি সচিবালয় ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার কাঠামোও বৈঠকে নির্ধারণ করা হতে পারে।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা একটি বার্তা পুনর্ব্যক্ত করতে পারেন। সেটি হলো- যারা অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা, শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদার এবং সহযোগিতামূলক নিরাপত্তা কাঠামোর মাধ্যমে সমস্যা মোকাবিলা করতে চায়, তাদের জন্য চুক্তিটি সম্ভাবনার দ্বার হিসেবে কাজ করবে।

সৌদি আরবের মক্কায় ৭ আগস্ট যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এতে বলা হয়েছে, যেকোনো একটি পক্ষের ওপর হামলাকে সব পক্ষের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে চুক্তিতে অন্য দেশের অংশগ্রহণেরও সুযোগ রাখা হয়েছে। ১২ আগস্ট লন্ডনভিত্তিক গণমাধ্যম আশার্ক আল-আওসাতকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এরদোয়ান বলেন, পরিসর বাড়ানোর আশা করা হচ্ছে। আগামীতে হয়তো এমন পরিবেশ তৈরি হবে, যখন এই অঞ্চলের সব দেশ এক ছাতার নিচে আসবে।

সৌদি মালিকানাধীন গণমাধ্যমটিকে এরদোয়ান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের নতুন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ভার নিজেদের কাঁধে নেওয়ার তাগিদ থেকে চুক্তিটির উদ্ভব। এখানকার শক্তিগুলোকেই আঞ্চলিক সমস্যার সমাধান করতে হবে। চুক্তিটি সেই লক্ষ্য অর্জনের প্রথম ধাপ।

এরদোয়ান বলেন, বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া সমীকরণ এড়িয়ে আঞ্চলিক বিষয়ের সমাধান করতে হবে। বিদেশিদের দেওয়া সমাধান কেবলই বিপর্যয় ডেকে আনে। বিষয়টি সবার ভালো করে জানা হয়ে গেছে।

চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েলের আধিপত্যকে প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তিন মিত্রকে একটি বিকল্প নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে আনা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে এরদোয়ান বলেন, এটি নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াবে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ প্রকল্প গড়ে তোলার পথও উন্মুক্ত করবে।

এরদোয়ানের আগে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ৮ আগস্ট বলেছিলেন, পরবর্তী ধাপে মিসর এই চুক্তিতে যোগ দিতে পারে। এজন্য কারিগরি কিছু বিষয়ে সমাধান বাকি। তবে কায়রো এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।