Home Blog Page 2

অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে সরকার। তবে প্রয়োজনীয় খাতে অবশ্যই ব্যয় করা হবে। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় রাজস্ব সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সরকারপ্রধান বলেন, যার যা কাজ সেটি ঠিকভাবে করলেই দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া সরকারের লক্ষ্য।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সম্মেলনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন।

সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের আরও বেশি কাজ করার সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা সৎ, দক্ষ, তাদের আমরা আরও বেশি কাজ করার সুযোগ দিতে চাই। এ সময় রাজস্ব কর্মকর্তাদের দণ্ডের বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

সম্মেলন মঞ্চে উপস্থিত আছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

সকালে এই সম্মেলনে যোগ দেন সরকারপ্রধান। সম্মেলনে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, কর ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা এবং দেশের অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয় রাজস্ব সংস্থানসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া থাকছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময়েরও সুযোগ।

শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন

শেখ হাসিনা ভাষণ দিয়েছেন। গুরত্বপূর্ন ভাষণ। তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার কথা পুনরায় ব্যক্ত করেছেন। ভুলে গেলে চলবে না যে, তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তিনি জোর করেই দেশে ফিরে গিয়েছিলেন। এবার কি তিনি মৃত্যুদন্ড মাথায় নিয়ে দেশে ফিরে যাবেন? তাঁর রাজনৈতিক চরিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে যে তিনি যা বলেন তা করেন। তাই স্পষ্টত: বোঝা যাচ্ছে তিনি দেশে ফেরত যাবেন। মৃত্যুদন্ড? শেখ হাসিনা’র মৃত্যুদন্ড কার্যকর করে এমন আদালত, সরকার বাংলাদেশে নেই! তিনি দেশে ফিরে যাবেন, বিজয়ীর বেশেই যাবেন। দেশ ও জনগণকে রক্ষায় নিজের জীবন বিপন্ন করে হলেও তিনি যাবেন। তিনি দেশে যাবেন, দেশ বাঁচাবেন, জনগণকে বাঁচাবেন, দল বাঁচাবেন, কর্মীদের বাঁচাবেন, এবং নিজের জন্যে, বঙ্গবন্ধু পরিবারের জন্যে গৌরবজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করবেন। প্রমান করবেন তিনি দেশপ্রেমিক, দেশের জন্যে উৎসর্গিত প্রাণ। জয়বাংলা।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা অসুস্থ

বাংলাদেশে হিন্দু আন্দোলনের পথিকৃৎ শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভু দীর্ঘদিন জেলে, কবে তিনি মুক্তি পাবেন তা কেউ জানেনা। কারণ তিনি রাজনৈতিক রোষানলে জেল খাটছেন। তিনি এডভোকেট আলিফ হত্যা মামলার আসামী। এডভোকেট আলিফ যখন জামাতীদের হাতে নিহত হন, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস তখন জেলে। তবু তিনি আসামী। এক শুনানিতে প্রভু বলেছেন, ‘মহামান্য আদালত, জীব হত্যা না করার জন্যে আমি মাছ-মাংস খাইনা, অথচ আমার বিরুদ্ধেই হত্যা মামলা দেয়া হলো’। বিচারক অবশ্য সবই বুঝেন, শুধু বলেছেন, ‘আমি সরকারি চাকুরী করি’। এমুহুর্তে শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস’র প্রসঙ্গ টানার কারণ হচ্ছে, চিন্ময় প্রভু জেলে, তাঁর মা অসুস্থ। মাস খানেক ধরে ভদ্রমহিলা একবার হাসপাতাল, আর একবার বাসায় যাচ্ছেন-আসছেন। একদিকে তিনি ছেলের চিন্তায় অস্থির, তদুপরি তাঁর ‘ল্যাং-ক্যান্সার’ ধরা পড়েছে। প্রাথমিক ষ্টেজ, ডাক্তার তাকে একটি ‘কেমো’ দিয়েছেন। এতে তিনি আরো কাহিল হয়ে পড়েছেন। এই কেমো দেয়া নিয়েও কথা উঠেছে, অন্য এক ডাক্তার প্রশ্ন তুলে বলেছেন, এ কেমো’র প্রয়োজন ছিলো কি? আমরা অধম সন্তান, এই মায়ের জন্যে কি আমাদের কিছুই করার নেই?

image

তসলিমা কলকাতায়: ঘরের মেয়ে ঘরে ফিরে গেছেন!

‘তসলিমা কলকাতায়, তাঁকে যথেষ্ট উষ্ণ সম্বর্ধনা দেয়া হয়েছে। এটিই পশ্চিমবঙ্গ, এটিই ধর্মনিরপেক্ষতা, কলকাতা সবার। হাস্যোজ্জ্বল তসলিমাকে দেখে মনে হলো যেন, ‘ঘরের মেয়ে ঘরে ফিরে গেছেন’। তসলিমা প্রায় তিন দশক দেশছাড়া, যে দেশ তিনি ফেলে এসেছেন, সেই বাংলাদেশ এখন মৌলবাদের আখড়া, তসলিমা সেখানে অবাঞ্চিত। তাঁর অপরাধ তিনি মৌলবাদের বিরুদ্ধে লিখেন, তিনি ধর্মের বিরুদ্ধে লেখেন, তিনি নাস্তিক। তসলিমা নুতন ঘর বেঁধেছিলেন কলকাতায়। বাম আমলে যেখানে তসলিমাকে আলগে রাখার কথা, অথচ ইসলামী মৌলবাদকে খুশি রাখতে এক নারীবাদী লেখিকা তসলিমাকে ওঁরা কলকাতা ছাড়া করে? এরপর ক্ষমতায় এলেন চটিপিসি মমতা ব্যানার্জী, মোল্লা তোষণে তিনি সকল সীমানা ছাড়িয়ে যান, তসলিমাকে তিনি পশ্চিমবঙ্গে ঢুকতে দেননি! পশ্চিমবাংলা থেকে বাম ও তৃণমূল অপশক্তি বিদায় হয়েছে, কলকাতা ফিরছে এর গৌরবজ্জ্বল ভূমিকায়। অনেকদিন আগে প্রায়ত কলামিষ্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী লিখেছিলেন, ‘ঘরের মেয়ে ঘরে ফিরে যাওয়া দরকার’। ঘর না হোক, তসলিমা অন্তত: নিকটতম প্রতিবেশীর ঘরে ফিরছেন, এতেই বা আনন্দ কম কি!

কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক যেসব পানীয়

কোষ্ঠকাঠিন্য হজমের একটি সাধারণ সমস্যা। অনিয়মিত খাবার, পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া, খাবারে আঁশের ঘাটতি এবং শারীরিক পরিশ্রম কম হলে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় খাবার ও পানীয়ের ধরনে কিছু পরিবর্তন আনলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমানো সম্ভব। পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি কিছু সহজলভ্য ফলের রস ও আঁশযুক্ত পানীয় হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে। তবে শুধু পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি, ফল ও অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার রাখা জরুরি।

উষ্ণ পানি

দিনের শুরুতে এক গ্লাস হালকা উষ্ণ পানি পান করার অভ্যাস শরীরে পানির ঘাটতি পূরণে সহায়তা করতে পারে। পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে এবং পেট পরিষ্কার রাখতে ভূমিকা রাখে। তবে খুব গরম পানি পান করার প্রয়োজন নেই। দিনের অন্যান্য সময়েও পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

পাকা পেঁপের শরবত

পাকা পেঁপেতে পানি ও আঁশ রয়েছে। এ কারণে হজমের জন্য ফলটি বেশ উপকারী। নিয়মিত পাকা পেঁপে খেলে খাবারে আঁশের পরিমাণ বাড়ে, যা অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে। পাকা পেঁপে দিয়ে শরবত তৈরি করেও খাওয়া যায়। এতে অতিরিক্ত চিনি না দেওয়াই ভালো। সম্ভব হলে শরবত ছেঁকে না খেয়ে ফলের আঁশসহ পান করা ভালো।

কমলার রস

কমলায় পানি ও ভিটামিন সি রয়েছে। তবে জুসের তুলনায় পুরো কমলা খেলে বেশি আঁশ পাওয়া যায়। তাই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে ফল হিসেবে কমলা খাওয়াই বেশি উপকারী। রস পান করতে চাইলে তাজা কমলার রস তৈরি করে খেতে পারেন। এতে বাড়তি চিনি না দেওয়াই ভালো।

পেয়ারার শরবত

পেয়ারা আঁশসমৃদ্ধ একটি সহজলভ্য ফল। নিয়মিত পেয়ারা খেলে খাবারে আঁশের পরিমাণ বাড়ে, যা হজম ও অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে। পেয়ারার শরবত তৈরি করা গেলেও ছেঁকে ফেললে আঁশের পরিমাণ কমে যায়। তাই শরবত করলে ফলের পাল্পসহ পান করা ভালো। চাইলে পেয়ারা সরাসরি খাওয়াই সবচেয়ে সহজ উপায়।

লেবু পানি

লেবু পানি নিজে কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসা নয়। তবে পানি শরীরে তরলের ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করে। চিনি ছাড়া হালকা লেবু পানি প্রতিদিনের পানীয়ের তালিকায় রাখা যেতে পারে। সকালে কিংবা দিনের যেকোনো সময় এটি পান করা যায়। তবে লেবু খেলে যাদের অ্যাসিডিটি বা পেটে অস্বস্তি বাড়ে, তাদের সতর্ক থাকা উচিত।

ইসবগুলের ভুসি মেশানো পানি

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ইসবগুলের ভুসি বহুল ব্যবহৃত একটি আঁশের উৎস। পানির সঙ্গে মিশে এটি ফুলে ওঠে এবং অন্ত্রে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে। এতে পেট পরিষ্কার হতে সুবিধা হতে পারে। ইসবগুল খাওয়ার সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। একসঙ্গে বেশি পরিমাণে না খেয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রহণ করা ভালো। নিয়মিত ইসবগুল খাওয়ার প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

ভেজানো চিয়া সিড

চিয়া সিড পানিতে ভিজিয়ে রাখলে জেলির মতো হয়ে যায়। এতে আঁশ ও তরল দুটিই পাওয়া যায়। এক টেবিল চামচ চিয়া সিড পানিতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রেখে পান করা যেতে পারে। তবে হঠাৎ বেশি পরিমাণে চিয়া সিড খাওয়া ঠিক নয়। এতে কারও কারও গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যা হতে পারে। তাই অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা ভালো।

আদা চা

হালকা গরম আদা চা হজমে স্বস্তি দিতে পারে। বিশেষ করে ভারী খাবারের পর আদা চা অনেকের কাছে আরামদায়ক পানীয় হিসেবে কাজ করে। আদার কিছু উপাদান হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে। তবে চায়ের সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি ব্যবহার না করাই ভালো। একই সঙ্গে দিনে অতিরিক্ত চা পান করার অভ্যাসও এড়িয়ে চলা উচিত।

কফি

কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কফি পান করার পর মলত্যাগের প্রবণতা তৈরি হতে পারে। কফি অন্ত্রের স্বাভাবিক নড়াচড়াকে উদ্দীপ্ত করতে পারে বলে ধারণা করা হয়। তবে কোষ্ঠকাঠিন্য কমানোর জন্য অতিরিক্ত কফি পান করা উচিত নয়। পরিমিত পরিমাণে পান করাই ভালো।

পানীয়ের পাশাপাশি খাবারেও নজর দিন

কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে শুধু একটি পানীয়ের ওপর নির্ভর করলে হবে না। প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি, ডাল, ছোলা, পেঁপে, পেয়ারা, কমলা, আপেলসহ আঁশযুক্ত খাবার রাখা দরকার। পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটাহাঁটি বা হালকা শারীরিক পরিশ্রমের অভ্যাসও হজমের জন্য উপকারী। খাবারে আঁশের পরিমাণ বাড়ালে ধীরে ধীরে বাড়ানো ভালো।

দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ

মাঝেমধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হলে খাবার ও জীবনযাপনে পরিবর্তন এনে উপকার পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।

কোষ্ঠকাঠিন্যের সঙ্গে তীব্র পেটের অস্বস্তি, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, বারবার বমি কিংবা হজমের অভ্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার পেছনে অন্য কোনো শারীরিক কারণও থাকতে পারে।

নরসিংদীতে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত

নরসিংদীর শিবপুর ও আশপাশের এলাকায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সোমবার ভোর ৫টা ৩২ মিনিটে রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৩।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা এলাকায়। এটি ঢাকার আগারগাঁও সিসমিক সেন্টার থেকে ৪৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে।

শিবপুরের ইটাখোলা এলাকার বাসিন্দা শাহিন মিয়া বলেন, ভোরে সামান্য ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

রাশিয়ায় ইউক্রেনের বড় ড্রোন হামলা, নিহত ৭

রাশিয়ায় বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রোববার রাতের এ হামলায় দেশটির অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। রুশ কর্মকর্তারা হামলাটিকে চলতি বছরের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

রুশ আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ৮২২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৬০০টি মস্কোকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল। হামলায় রাজধানীর কাছে অনলাইন পণ্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজের একটি বড় গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রোস্তভ অঞ্চলের গভর্নর জানান, রাতের হামলায় সেখানে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেন সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী বাসে হামলায় এক নারী নিহত হন। মস্কো অঞ্চলে ড্রোন হামলায় ৮৩ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে বলেও জানিয়েছেন গভর্নর আন্দ্রে ভোরোবিয়ভ।

মস্কোর কেন্দ্র থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে কোলেদিনো এলাকায় ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামে হামলার পর আগুন ধরে যায়। এতে তিনজন আহত হয়েছেন। হামলার পর গুদাম থেকে ধোঁয়ার বড় কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, ওয়াইল্ডবেরিজের ১০টি বড় লজিস্টিক কেন্দ্রের মধ্যে সাতটিই এখন অকার্যকর। কিয়েভের ভাষ্য, এসব কেন্দ্রের কয়েকটি রুশ সেনাবাহিনীর জন্য সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

তবে রাশিয়ার হামলা থেকে রেহাই পায়নি ইউক্রেনও। দেশটির কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রুশ হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং ৩৯ জনের বেশি আহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বেড়েছে।

জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে একটি বাড়িতে রুশ বোমা হামলায় এক দম্পতি নিহত হয়েছেন। তাদের বয়স যথাক্রমে ৬৬ ও ৬৪ বছর। এ ছাড়া নিপ্রোপেত্রোভস্কের ক্রিভি রিহ, সুমি, দোনেৎস্ক ও খেরসন অঞ্চলেও হামলায় প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

কিয়েভেও রাতভর কয়েক দফা বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজানো হয়। মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, হামলায় শিশুসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। শহরের পোচায়না এলাকার একটি বইয়ের বাজারে আগুন লাগে। এতে বহু বই ও ভিনাইল রেকর্ড পুড়ে যায়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, চলতি সপ্তাহে দেশটির ১৩টি অঞ্চল রুশ হামলার শিকার হয়েছে। তাঁর দাবি, এ সময়ে রাশিয়া ১ হাজার ৫৫০টির বেশি ড্রোন, প্রায় ১ হাজার ৫৬০টি গাইডেড বোমা এবং ৬২টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।

রাশিয়া বলেছে, কিয়েভে তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরির সঙ্গে যুক্ত স্থাপনা। দুই দেশই পরস্পরের বিরুদ্ধে বেসামরিক এলাকায় হামলার অভিযোগ করে আসছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে স্থলযুদ্ধের পাশাপাশি দুই দেশের আকাশপথে হামলাও বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। জবাবে ইউক্রেনের শহর, সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া।

অ্যামচ্যামের সভায় অর্থমন্ত্রী মূলধনের জন্য ব্যাংকের পরিবর্তে শেয়ারবাজারমুখী হওয়ার পরামর্শ

ব্যবসায় মূলধন জোগানে উদ্যোক্তাদের ব্যাংক ব্যবস্থার পরিবর্তে শেয়ারবাজারমুখী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও), বন্ড ইস্যু কিংবা রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করা যেতে পারে। এতে ব্যাংক ঋণের উচ্চহারের সুদের চাপ থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব, যা ব্যবসা পরিচালনা ব্যয় অনেক কমিয়ে দেবে।

গতকাল রোববার ‘বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন: নীতি সংস্কার থেকে কার্যকর বাস্তবায়ন’ শিরোনামের এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশে আমেরিকান বিনিয়োগকারীদের সংগঠন আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সভাপতিত্ব করেন অ্যামচ্যাম সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল।

দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, গবেষকসহ বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ব্যবসা পরিচালনায় জ্বালানি সংকট, দুর্নীতি, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য, কাস্টমসে হয়রানিসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন তারা। সহজে ব্যবসা পরিচালনা ও ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমাতে নতুন করে সংস্কার-নীতি নেওয়ার আগে বিদ্যমান সংস্কারের কার্যকর বাস্তবায়ন চেয়েছেন তারা।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তনের পর ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। দেশি-বিদেশি অনেক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করছে। আরও ভালো কিছু আশা করছে সরকার।

শিল্পকারখানা পরিচালনায় বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সমস্যার সমাধানে আরও অন্তত দুই বছর সময় লেগে যেতে পারে।  উত্তরাধিকার সূত্রে  জ্বালানির যে সংকট সরকার পেয়েছে, তা ছয় মাস কিংবা এক বছরের মধ্যে সমাধানযোগ্য নয়। এ জন্য আরও অন্তত দুই বছর সময় প্রয়োজন। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধানে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী ব্যবসা ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক বাধা কমানো এবং ব্যবসা পরিচালনা সহজ করার মাধ্যমে আরও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। তিনি চলমান নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা যাতে নিয়ন্ত্রক প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে তাদের উদ্বেগ তুলে ধরতে পারেন, সে জন্য নেওয়া ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন।

করব্যবস্থা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, দক্ষতা বৃদ্ধি ও অটোমেশনের মাধ্যমে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ কাঠামো গড়ে তুলতে সংস্কার কার্যক্রম চলছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, নিয়ম মেনে পরিচালিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য মানদণ্ড নির্ধারণ, কর পরিশোধ নিশ্চিত করা এবং করব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন দ্রুত বাস্তবায়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এর মাধ্যমে দুর্নীতি কমানোর পাশাপাশি করব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে অ্যামচ্যাম বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা যেসব মৌলিক বিষয় বিবেচনা করেন, তার অনেকগুলোই বাংলাদেশে রয়েছে। তবে এই সম্ভাবনাকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও প্রকৃত বিনিয়োগে রূপ দিতে নীতিগত সংস্কারের ধারাবাহিক ও কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি।

আলোচনায় এইচএসবিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থার জন্য মূলধনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যার ভিত্তি হলো একটি স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবসায়িক পরিবেশ। বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাণিজ্য আরও সহজ করা গেলে দেশি ও বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে।

কয়েকজন উদ্যোক্তা অর্থমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কম রাজস্ব আহরণের মধ্যে কীভাবে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৬ শতাংশে উন্নীত করা ও মূল্যস্ফীত সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা যাবে।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার করে আওতা বাড়াচ্ছে। কর ফাঁকি রোধে বিভিন্ন কৌশল নেওয়া হচ্ছে। কর ব্যবস্থাকে পুরোপুরি অটোমেটেড করার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে করব্যবস্থায় শতভাগ স্বচ্ছতা আসবে। রাজস্ব আহরণ বাড়বে।

প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জের পর গ্যাস-বিদ্যুতের পরিকল্পনা দিল বিরোধী দল

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চ্যালেঞ্জের পর গ্যাস বিদ্যুতের সংকট নিরসনে পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। পাল্টা চ্যালেঞ্জ করে বলেছে, বিদ্যমান কূপগুলো ওভারওয়ার্ক (সংস্কার) করে দ্রুত গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির সুপারিশসহ যেসব পরিকল্পনা বিরোধী দল সংসদীয় কমিটিতে দিয়েছিল, তিন মাসে এর অগ্রগতি কী তা সরকার প্রকাশ করুক।

আজ রোববার রাজধানীর মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। গত শনিবার রাজধানীতে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনাদের যদি এমন কোনো পরিকল্পনা থাকে, যা দিয়ে আগামী ছয় মাসের মধ্যে গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা যাবে, তাহলে সেটা দেন। আমরা অবশ্যই তা গ্রহণ করব। আমি আপনাদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলাম।’

পরেরদিন বিরোধী দলের পরিকল্পনা তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার বলেন, ১০ বছরের অজুহাত দেখাবেন না। জনগণের দুর্ভোগ দূরে সরকার চাইলে জরুরি পদক্ষেপ নিতে পারে। গ্যাস, বিদ্যুতের অবৈধ লাইন বন্ধ করতে পারে, ভুতুড়ে বিল বন্ধ করতে পারে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে ক্যাপাসিটি চার্জে যে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে, এগুলো বন্ধ করুন। সিন্ডিকেট ও লুটপাটের মার্কেট করে রেখেছে সরকার। এগুলো বন্ধ করে হাজার হাজার কোটি টাকা বাঁচানো যায়, সেদিকে সরকারের নজর নেই। তাদের নজর বিরোধী দলের আন্দোলনের দিকে। গণভোটের গণরায় কার্যকর না করে তো উপায় নেই। তাই  সরকার বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের বক্তব্যের সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেছেন, কেউ বলেন সমস্যা সমাধানে ১০ বছর লাগবে, কেউ বলেন দুই বছর। তাঁদের কথার মিল নেই। আগে নিজেদের মধ্যে সালিশটা মিটিয়ে নিক। জামায়াত প্রধান বিরোধী দল হিসেবে প্রস্তাবনা দিয়েছে। সরকারের সক্ষমতা থাকলে বাস্তবায়ন করে জাতিকে বলুক।

গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চাই না। জ্বালানি সংকটে সরকার ব্যর্থ হলে দেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গোলাম পরওয়ার লিখিত বক্তব্যে জ্বালানি খাতের সংকট নিয়ে জামায়াতের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২১ মে জ্বালানি সংকটসংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দল ১০ দফা সুপারিশ জমা দিয়েছিল। ৭ জুন জ্বালানিমন্ত্রী সেই প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করেন। বিরোধী দলের প্রস্তাবনা ছিল, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিদ্যমান কূপ ওয়ার্কওভার করা, ভোলা, জামালপুর ও জকিগঞ্জের গ্যাসকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা, স্থলভাগ ও সমুদ্রভাগে অনুসন্ধান জোরদার, স্থাপিত এসপিএম দ্রুত চালু, ডিপো থেকে গ্রাহক পর্যায় পর্যন্ত ডিজিটাল মনিটরিং, কার্যকর নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ জ্বালানি চাহিদা নিরূপণে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা।

এইসব পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে? নাকি কাগজেই পড়ে আছে? এসব প্রশ্ন তুলে গোলাম পরওয়ার বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিষ্কার করতে হবে। সংকট সমাধানে বিরোধীদলীয় নেতা সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বানে চিঠি দিলেও সরকার সাড়া দেয়নি।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে আয়োজিত জনসভার মঞ্চে সামনে হারিকেন ও পেছনে ফ্যান চালানো নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা পরিস্থিতি মূল্যায়নের মানদণ্ড হতে পারে না বলে মন্তব্য করেন গোলাম পরওয়ার।

বিরোধী দল সংকট নিয়ে হঠকারিতা ও বিভ্রান্তির রাজনীতি করছে- প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে গোলাম পরওয়ার বলেছেন, একজন মানুষ যখন গ্যাস চান, তিনি অরাজকতা চান না। একজন শ্রমিক যখন কারখানা চালু রাখার দাবি করেন, তিনি ষড়যন্ত্র করেন না। একজন উদ্যোক্তা যখন নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি চান, তিনি সরকারের শত্রু নন। মানুষ চুলায় গ্যাস চায়, কারখানায় উৎপাদন চায়, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চায়। এ দাবির জবাব রাজনৈতিক ব্যঙ্গ দিয়ে নয়, কার্যকর সমাধান দিয়ে দেওয়া উচিত।

সরকার গ্যাস আমদানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাগরে তৃতীয় টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেছেন, এর বিরোধিতা করছি না। আমদানি করা এলএনজি গ্রহণের সক্ষমতা যেমন বৃদ্ধি করতে হবে, তেমন জনগণকে সত্য বলতে হবে। টার্মিনাল থেকে তো গ্যাস উৎপাদন হয় না। টার্মিনাল সচল রাখতে আমদানি করা গ্যাস কিনতে বৈদেশিক মুদ্রা প্রয়োজন। এলএনজি গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে পাঠাতে পর্যাপ্ত পাইপলাইন প্রয়োজন। গত অর্থবছর এলএনজি আমদানিতে প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ১৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা সরকারি ভর্তুকি দিতে হয়েছে।

গোলাম পরওয়ার বলেছেন, টার্মিনাল নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গে সরকারকে বলতে হবে এলএনজি কোথা থেকে কত দামে আমদানি করেছে। দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি কী হবে, পাইপলাইন কখন হবে, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কত বাড়বে, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ছাড়া একটি টার্মিনাল নির্মাণ সমাধান নয়।

তিন মাসের পরিকল্পনা তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিরোধী দল জনগণকে অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিতে চায় না। গোলাম পরওয়ার বলেন, ৯০ দিনে সাগরে অনুসন্ধান, নতুন পাইপলাইন নির্মাণ, তেলের পরিশোধনাগার নির্মাণ সম্ভব নয়। কিন্তু ৯০ দিনে পুরনো গ্যাসকূপে ওয়ার্কওভারসহ ছয়টি কাজ সম্ভব।

জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, প্রথম ১৫ দিনে পেট্রোবাংলা ও বাপেক্স ওয়ার্কওভারযোগ্য কূপের অগ্রাধিকার তালিকা প্রকাশ করুক। ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় অনুমোদন শেষ করুক। ৯০ দিনের কাজ শুরু করে জনগণকে জানানো হোক— কত মিলিয়ন ঘনফুট নতুন গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, বন্ধ ও কম উৎপাদনশীল কূপের তালিকা প্রকাশ করে কোনটি কী কারণে বন্ধ এবং কী ধরনের সংস্কার করলে আবার উৎপাদন সম্ভব হবে, তা ৩০ দিনে প্রকাশ করা হোক।

ভোলার গ্যাস ব্যবহারে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেছেন, পাইপলাইন তিন মাসে হবে না। কিন্তু সিএনজি বা এলএনজিতে রূপান্তর করে তা আপাতত আনা যায়।

সিস্টেম লস ও অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন,  ৯০ দিনের লক্ষ্য নির্ধারণ করে প্রতি সপ্তাহে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হোক।

গ্যাস বণ্টনের প্রকাশ্য সময়সূচি প্রকাশের প্রস্তাব করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ঘাটতি না লুকিয়ে কোন সময়ে কোন খাত গ্যাস পাবে, এর সময়সূচি প্রকাশ করা হোক। এতে একজন গৃহিণী জানবেন কখন চুলা জ্বলবে। শিল্পোদ্যোক্তা জানতে পারবেন, কখন উৎপাদন করতে পারবেন। যে অবকাঠামো ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে, তা ফেলে রেখে নতুন প্রকল্পের ঘোষণা দিয়ে লাভ নেই। সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং দ্রুত কার্যকর করতে হবে।

চারটি প্রশাসনিক সংস্কারের প্রস্তাব দিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সব অংশীজনকে নিয়ে জাতীয় জরুরি জ্বালানি সেল গঠন করা হোক। নির্দিষ্ট আর্থিক সীমার মধ্যে জরুরি ওয়ার্কওভার ও সংস্কারকাজের অনুমোদন ক্ষমতা পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের পরিচালনা পর্ষদকে দেওয়া হোক। রূপপুর কেন্দ্র কবে উৎপাদনে আসবে এবং বিদ্যুতের দাম কী হবে, তা জানানো হোক। জরুরি দরপত্র মূল্যায়নের জন্য স্থায়ী মূল্যায়ন ব্যবস্থা তৈরি করা হোক। খুলনার খালিশপুরে ৮০০ মেগাওয়াটের রূপসা বিদ্যুৎকেন্দ্র কেন উৎপাদনে যাচ্ছে না-এই প্রশ্নও তুলেছে জামায়াত।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মা’ছুম, হামিদুর রহমান আযাদ, আবদুল হালিম, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি প্রমুখ।

সরকারের ৬ মাস ব্যক্তির বৃত্ত থেকে জনগণের আঙিনায় ফিরছে সরকার

বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে আজ সোমবার। ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসে। গণতান্ত্রিক দেশ গঠনে দলটির পক্ষ থেকে আগে থেকেই রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা ঘোষণা করা হয়েছিল; এর সঙ্গে নির্বাচনের আগে দেওয়া হয় নানা প্রতিশ্রুতি। ক্ষমতায় আসার পর এখন কিছু অর্জনের সঙ্গে সেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হয়েছে বিএনপিকে।

বিগত দিনের জঞ্জাল পরিষ্কার করে নতুন উদ্যমে শুরু করতে হয়েছে সরকারকে। এসব বিষয় নিয়ে আজ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরকারের পক্ষ থেকে গত ছয় মাসের অর্জন তুলে ধরা হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের ১৮০ দিন পার হয়েছে। এই সময়ে কৃষি থেকে অর্থনীতি, শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা থেকে পররাষ্ট্রনীতি– বিভিন্ন খাতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়ার দাবি করছে সরকার। কোথাও বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে, কোথাও চলছে প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা।

সরকার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রথম ছয় মাসকে শুধু সময়ের হিসাবে দেখছেন না তারা। এই সময়কে রাষ্ট্র সংস্কার, জবাবদিহি এবং জনকল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি তৈরির সময় হিসেবে দেখানো হচ্ছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ছাড়াও অর্থনীতি স্থিতিশীল করা, কর্মসংস্থান বাড়ানো, কৃষক ও নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে মিতব্যয়িতা– এসব বিষয়কে দেওয়া হয়েছে বিশেষ গুরুত্ব।

সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকেই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার ও পুনর্গঠনের ধারাবাহিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা, কৃষির পুনরুজ্জীবন, সামাজিক সুরক্ষার সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালীকরণ এবং বিশ্ব পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে নেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তবে ভিন্নতাও রয়েছে। ক্ষমতায় আসার পরপরই জ্বালানি খাতে এক ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়। যদিও জ্বালানি সরবরাহে বাধার জন্য মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ছাড়াও গত সরকারের আমলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক দুর্নীতি, লুটপাট, অতিরিক্ত ক্যাপাসিটি চার্জ প্রদান এবং ভুল নীতির কারণকে দায়ী করছে সরকার। নির্বিচারে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন ও জবাবদিহিতা না থাকায় বর্তমান জ্বালানি ব্যবস্থাপনা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ছয় মাসে বড় ধরনের বৈদেশিক বিনিয়োগও দেখা যায়নি। বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। সম্প্রতি নিত্যপণ্যের বাজারে লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ হিমশিম খাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী সমকালকে বলেন, ছয় মাসে বিএনপি সরকারের অধিকাংশ নির্বাচনি অঙ্গীকার ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়েছে। ছয় মাসের যে লক্ষ্য, সে লক্ষ্য অনুযায়ী মোটামুটি সবই পূরণ হয়েছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিতে সময় লেগেছে। পরবর্তী ছয় মাসে সরকারের কর্মসূচি আরও জোরালো ও দ্রুতগতিতে বাস্তবায়ন হবে।

ব্যক্তি নয়, রাষ্ট্রকে সামনে আনার চেষ্টা

সরকারের ছয় মাসের অন্যতম আলোচিত উদ্যোগ ব্যক্তিনির্ভর রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা। সরকারি অফিস, আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতাদের ছবি টানানোর প্রচলন বন্ধ করা হয়েছে। সরকারি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভিআইপি সংস্কৃতি কমানো, প্রটোকল সরল করা এবং সরকারি ব্যয়ে সংযমের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সরকারি গাড়ির পরিবর্তে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করছেন এবং জ্বালানি, চালক ও বাসভবনের কর্মীদের ব্যয় নিজেই বহন করছেন। তাঁর মাসিক মূল বেতনের ১০ শতাংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

মানুষের দোরগোড়ায় জনকল্যাণ

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে এসেছে নতুন মাত্রা। কৃষক, নারী, শিক্ষার্থী, ক্রীড়াবিদ, প্রবাসী, প্রবীণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিভিন্ন কার্ড ও সহায়তা কর্মসূচি, নারী উদ্যোক্তা ও তরুণদের সহজ ঋণ এবং স্টার্টআপ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন, কৃষকদের সহায়তা এবং তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

গ্যাস অনুসন্ধানে উদ্যোগ বৃদ্ধি 

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে সরকার নতুন কূপ খনন ও পুরোনো কূপ সংস্কারের বড় কর্মসূচি নিয়েছে। এর আগে পরিকল্পনা থাকলেও অনুসন্ধান কার্যক্রমের বাস্তব অগ্রগতি বন্ধ ছিল। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় কোনো আন্তর্জাতিক কোম্পানি গ্যাস অনুসন্ধান চালাচ্ছে না। তবে বর্তমান সরকারের নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে সংশোধিত উৎপাদন অংশীদারিত্ব চুক্তি অনুযায়ী আবারও ২৬টি ব্লকের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

বিদেশি বিনিয়োগ ও রপ্তানি

বিনিয়োগ উন্নয়ন কার্যক্রমে অধিকতর সমন্বয়, নীতিগত সামঞ্জস্য এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজ ও একীভূত সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রথম ধাপে বিডা, বেজা ও পিপিপিএকে একীভূত করে একটি একক শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

কৃষিতে স্বস্তির বার্তা

কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। এতে প্রায় ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ জন কৃষক ঋণমুক্ত হয়েছেন বলে সরকারের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৪৩ লাখ কৃষকের জন্য কৃষক কার্ড চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তায়ও বড় মজুতের কথা তুলে ধরা হয়েছে। সরকারি গুদামে ২৪ লাখ টনের বেশি খাদ্যশস্য মজুত থাকার দাবি করা হয়েছে।

বাজেটে বাজার নিয়ন্ত্রণের দাবি

সরকারের প্রথম ছয় মাসের অন্যতম বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দলিল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬১টি পণ্যের ওপর কর ও শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। আয়করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পাচার করে বিদেশে নেওয়া অর্থ ফেরাতে বিভিন্ন দেশে আনুষ্ঠানিক আইনি সহায়তার আবেদনের কথা জানানো হয়েছে।

পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা 

সরকার দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে পানি নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বন্যা ও মরূকরণ প্রতিরোধ নিশ্চিতকল্পে পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়) নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। অন্যদিকে, তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করে। প্রকল্পের আওতায় ১৪০ মিলিয়ন ঘনমিটার পলি অপসারণ, নদীতীর সংরক্ষণে বাঁধ নির্মাণ এবং প্রায় ১৭১ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভারতের ওপর একক নির্ভরতার পরিবর্তে চীনের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা এবং প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হয়।

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতা, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর গণঅভ্যুত্থান এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে বিজয়ের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে গণভবনকে রূপান্তরিত করে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’।

শিক্ষায় ডিজিটাল রূপান্তর

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে করা হয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি, বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ, কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং শিক্ষার্থী উদ্যোক্তা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালুর কথা বলা হয়েছে। ডিজিটাল ক্লাসরুম, ফ্রি ওয়াই-ফাই, শিক্ষক উপস্থিতি ট্র্যাকিং এবং স্কুল পর্যায়ে ইন্টারনেট সুবিধা বাড়ানোর কাজও এগিয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ দেওয়ার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য নেওয়া হয়েছে ‘একটি শিশু, একটি গাছ’ প্রকল্প।

স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা ফেরানোর চেষ্টা

স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বড় লক্ষ্য মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার, এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগ এবং এর ৮০ শতাংশ নারী রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। উপজেলা হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা, ডায়ালাইসিস ইউনিট ও আধুনিক প্যাথলজি ল্যাব স্থাপন, পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে টিকার মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে। অপুষ্টি দূরীকরণে রয়েছে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন।

আইনশৃঙ্খলায় কঠোর অবস্থান

সরকারের প্রথম ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে নেওয়া হয়েছে পুলিশ সংস্কার, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান এবং পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ। চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানকে সরকারের বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি

‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’– এই নীতির পাশাপাশি কৌশলগত ভারসাম্যকে পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, মালয়েশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার ও অবকাঠামো সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ। চীন ও মালয়েশিয়া সফরকে সরকারের অন্যতম কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। গুরুত্ব পাচ্ছে নতুন শ্রমবাজার, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণ।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি 

প্রায় চার দশক পর আবারও জাতিসংঘের প্রধান নীতিনির্ধারণী সংস্থা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নেতৃত্বে আসছে বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের ২ জুন নির্বাচনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন।

এ ছাড়া আইরিন খানকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও নৈতিক কূটনীতির নতুন অগ্রাধিকারকে তুলে ধরে। তাঁর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাংলাদেশের বৈশ্বিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি সরকারকেও অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার নতুন দায়িত্বের মুখোমুখি করবে।

আরও কিছু উদ্যোগ

এসবের বাইরে সীমান্তে পুশইন প্রতিরোধে বাংলাদেশের কঠোর অবস্থান, কারাগার ও আটককেন্দ্রে মানবাধিকার তদারকিতে নতুন বিভাগ গঠনের উদ্যোগ, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য স্নাতক (সম্মান) পর্যায় পর্যন্ত বিনা টিউশন ফি সুবিধা সম্প্রসারণ করা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর করপোরেট কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া; ক্যাডেট কলেজের আদলে ৬০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করার উদ্যোগ, শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা উন্নয়নের উদ্যোগ, পুঁজিবাজার সংস্কার ও আস্থা ফেরাতে বহুমুখী উদ্যোগ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন উদ্যোগ, জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ও নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সংযোগ, খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সম্মানী ভাতা বাড়ানো, একযোগে ৬৪টি জেলায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’; বিচারপ্রাপ্তি সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে সরকার আইনগত সহায়তা, ডিজিটাল বিচারব্যবস্থা, বিচারিক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়ন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচির আদর্শকে সামনে রেখে সরকার নদী-খাল পুনঃখনন শুরু করাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছে সরকার।

সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা

এই ছয় মাসে সরকারের অর্জনের তালিকা দীর্ঘ। কিন্তু অধিকাংশ উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য নির্ধারিত হবে বাস্তব সুবিধাভোগীর সংখ্যা, বাস্তবায়নের গতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এর প্রভাব দিয়ে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী সমকালকে বলেন, এই ছয় মাস ছিল ভিত্তি তৈরির সময়। এখন সেই ভিত্তির ওপর দৃশ্যমান ফল দেখানোর পালা। কৃষকের আয় বাড়ানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা সহজ করা, শিক্ষার মান বাড়ানো এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করা– সব মিলিয়ে সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, সরকারের প্রতি জনগণের অনেক প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। সেটিকে ধারণ করেই একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ​আমরা চাই এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এবং ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল– মানবাধিকার, বাক্‌স্বাধীনতা ও আইনের শাসন, তা প্রতিষ্ঠা করা। যে কারণে গত ছয় মাসে দেশে রাজনৈতিক নিপীড়ন হয়নি। বরং প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষ সর্বোচ্চ স্বাধীনতা উপভোগ করেছেন এবং সরকারের প্রতি আস্থা, ভালোবাসা, জনসমর্থন আমরা দেখতে পেয়েছি।

​তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা দেখছি, যেখানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থ সংরক্ষিত রয়েছে। তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য অশেষ কাজ করে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী, যিনি ভিআইপি সংস্কৃতিকে ভেঙে দিয়ে সাধারণ মানুষের কাতারে নেমে এসেছেন।