Home Blog Page 5

টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবনে পুরস্কার পেল পাঁচ উদ্যোগ

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে নতুন উদ্ভাবনী ধারণার স্বীকৃতি দিতে আয়োজিত ‘স্ফুরণ: সাসটেইনেবল এনার্জি আইডিয়া কনটেস্ট ২০২৬’-এর বিজয়ীদের পুরস্কৃত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তিনি।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা), ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জার্মান উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা জিআইজেড যৌথভাবে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০) বাস্তবায়নে উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করাই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তরুণ উদ্ভাবক ও পেশাজীবীদের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, একটি উদ্ভাবনী ধারণাই বাংলাদেশের জন্য পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জার্মান উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা জিআইজেডের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিযোগিতায় কয়েক ধাপের যাচাই-বাছাই এবং বিশেষজ্ঞ বিচারকমণ্ডলীর সামনে সরাসরি উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনটি বিভাগে পাঁচটি উদ্ভাবনী উদ্যোগকে পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়। বিচারকমণ্ডলীতে সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা ছিলেন।

শিক্ষার্থীদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগে প্রথম হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সানজিদা আফরিন ও তাসফিয়া তাহিয়াতের ‘রোদ্দুর এআই’। এটি স্যাটেলাইট তথ্য ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো স্থানে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রযুক্তি। একই বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) শেখ সাজিদুল ইসলাম ও লামিয়া তাবাসসুম নবনীর ‘সূর্য ঘাট’। এ উদ্যোগে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে ডিজেলচালিত মাছ ধরার নৌকাকে রূপান্তর এবং ঘাটে চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের জ্বালানি দক্ষতা বিভাগে প্রথম হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জারা তাসনুভা আলম ও হুমায়রা তাবাসসুম তুরাসার ‘টিপেকো ফ্রেমওয়ার্ক’। এটি ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনার একটি মডেল। দ্বিতীয় হয়েছে বুয়েটের লাবিবা আনিকা ও খন্দকার রুহামা আমিনের ‘ছাদগ্রিড’। এতে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবনের ছাদকে কেন্দ্র করে নগর এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী যন্ত্রপাতির সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ধারণা তুলে ধরা হয়েছে।

পেশাজীবী বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন মাল্টিফ্যাবস লিমিটেডের মো. টিপু সুলতান। শিল্প কারখানায় বয়লারের তাপ পুনরুদ্ধার এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে বর্জ্যপানির অম্লতা নিয়ন্ত্রণের সমন্বিত প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য তিনি এ পুরস্কার পেয়েছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আবাসিক, শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে ১৫ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্য রয়েছে।

ব্যর্থতা আড়ালে বিরোধীদের চরিত্রহনন করছে সরকার: জামায়াত আমির

সরকার নিজের ব্যর্থতা, অযোগ্যতা, অদক্ষতা আড়ালে বিরোধীদলকে অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান এ মন্তব্য করেন।

সরকারের উদ্দেশ্যে শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী দলের চরিত্রহনন বাদ দিয়ে আপনাদের ব্যর্থতা সমাধানের চেষ্টা করুন। যদি  দুঃখ-দুর্দশা দূর হয়, মানুষ আপনাদের সমর্থন করবে।

এক মাস কারাভোগ শেষে দলের সহযোগী সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের মুক্তিতে সেখানে এক সংবর্ধনার আয়োজন করে জামায়াত।

সরকারের উদ্দেশ্যে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন,  ‘যদি মনে করেন যে অতীতের মতো স্বৈরাচারী কায়দায় প্রতিবাদী কণ্ঠকে দমিয়ে দেবেন, স্তব্ধ করে দেবেন, তাহলে আপনাদের দুঃসংবাদ দিচ্ছি, এটি বাংলাদেশে আর হবে না।’

জামায়াতের ৩৪ জন সংসদ সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা ওমরাহ শেষে গত ১ অক্টোবর দেশে ফেরার পর লাগেজ পেতে বিলম্ব হওয়ায় বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চবাচ্য হয় মেজর আখতারের। শফিকুর রহমান বলেন, আখতারুজ্জামান কারও গায়ে হাত দেননি। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগে মিথ্যা মামলা করা হয়।

জামায়াত আমির বলেন, মেজর আখতারের প্রতিবাদের পর বিমানবন্দরের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে কিছু দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুই দফায় নতুন ট্রলি সংযোজন, লাগেজ বেল্টে ক্যামেরা স্থাপন এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মীদের শরীরে বডি ক্যামেরা সংযুক্ত করা হয়েছে। এসব পরিবর্তন প্রমাণ করে, তিনি যেসব সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন, সেগুলোর বাস্তবতা ছিল।

রিমান্ডে জামায়াতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রশ্ন

২ অক্টোবর আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাঁকে এই মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয়। তিনি বলেন, রিমান্ডে চোখ বেঁধে জামায়াতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়, যা মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ তথ্য জানার এখতিয়ার ডিবির আছে কি না, এই প্রশ্ন তুলে আখতারুজ্জামান বলেন, ‘পুলিশ হয়ে, ডিবি হয়ে একটি রাজনৈতিক দলের ভেতরের খবর জানার ন্যাক্কারজনক সাহস কোথায় পেল? একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব কীভাবে চলে, এই প্রশ্ন করার অধিকার পুলিশকে কে দিয়েছে?’

গত সোমবার হাইকোর্ট থেকে জামিন পান আখতারুজ্জামান। গতকাল  সকালে তিনি কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।

কারাফটকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করেন ঢাকা উত্তর মহানগর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন, ঢাকা দক্ষিণ মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন, ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামাল হোসেন প্রমুখ।

এদিকে গতকাল সকালে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার ডেরেক লোহ।

শ্রমমন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দিনের মধ্যে মজুরি বৃদ্ধির দাবি শ্রমিক শক্তির

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছে এনসিপির অঙ্গ সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তি’। শ্রমমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং তিন দিনের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণার দাবি জানিয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলা মোটরে এনসিপি কার্যালয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন সংগঠনটির নেতারা। এতে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ এমপি, শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম ফকির, সদস্য সচিব ঋয়াজ মোর্শেদ, মুখ্য সংগঠক আরমান হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

মাজহারুল ফকির বলেন, বিএনপি সরকার ৯ মাস আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করেছে, তাদের সঙ্গে ঝুট ব্যবসার ভাগবাটোয়ারা করেছে। আর এখন শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগ খুঁজছে। শ্রমিকদের স্বতস্ফুর্ত আন্দোলনে আওয়ামী লীগের অনুপ্রবেশের দায় সরকারের।

আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, মজুরিবোর্ড গঠনের নামে দলীয়করণ করে নিজেরদের লোক বসানো হয়েছে। শ্রমিকরা মানছে না। সরকারের অপরিপক্ক সিদ্ধান্তের কারণে আন্দোলন এই পর্যায়ে গড়িয়েছে। শিল্প রক্ষার স্বার্থেই বাজারের সাথে সঙ্গতি রেখে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি করতে হবে। বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতাকর্মী ও পুলিশের যৌথ মদদে শ্রমিকদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। এ ধরনের দমনপীড়ন অব্যাহত থাকলে সাধারণ শ্রমিকদের এই আন্দোলন আরও বৃহত্তর ও ভিন্ন রূপ নিতে পারে।

গাজীপুরে যৌথ বাহিনীর ২৫ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন, পর্যবেক্ষণে ২৫ ম্যাজিস্ট্রেট

গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলমান শ্রমিক আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যৌথ বাহিনীর ২৫ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও দায়িত্ব পালনে মাঠে রয়েছেন ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত গাজীপুর জেলা ও মহানগর এলাকার ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ কোনো আঞ্চলিক সড়কে শ্রমিকদের অবস্থান বা পিকেটিংয়ের খবর পাওয়া যায়নি। গুরুত্বপূর্ণ এই দুই মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাইন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, পোশাকশ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধিসহ অন্যান্য দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চলমান শ্রম অসন্তোষ নিরসনে ১২ প্লাটুন বিজিবি, ৫ প্লাটুন আনসার ও ৮ প্লাটুন এসআরবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সকাল ৬টা থেকে মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন।

মঙ্গলবার ১২ প্লাটুন বিজিবি ও ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে ১২ প্লাটুন বিজিবির পাশাপাশি ৮ প্লাটুন এসআরবি ও ৫ প্লাটুন আনসার সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। এ ছাড়া গাজীপুর মহানগর পুলিশ, জেলা পুলিশ, শিল্প পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, এপিবিএন ও আনসার সদস্যরাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করছেন। এসব বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরেজমিনে উপস্থিত থেকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. তাহেরুল হক চৌহান জানান, আন্দোলনের নামে যাতে কোনো রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও মানুষের জানমালের ক্ষতি না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সর্বোচ্চ ধৈর্য ও পেশাদারত্বের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে দায়িত্ব পালন করছেন তারা।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, আশুলিয়ায় ৭ কারখানায় ছুটি

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ ও অন্যায়ভাবে ছাঁটাই বাতিলের দাবিতে সাভারের হেমায়েতপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। বুধবার সকাল ৯টার দিকে হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অবরোধের কারণে মহাসড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী।

এদিকে শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সাভার ও আশুলিয়ার তৈরি পোশাকশিল্প এলাকায় দুই প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার সাতটি পোশাক কারখানায় বুধবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

সকাল ৯টার দিকে হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একাধিক পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা জড়ো হয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করেন। পুলিশ মাইকিং করে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়।

আন্দোলনরত শ্রমিকেরা জানান, বর্তমানে জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। সাড়ে ১২ হাজার টাকা মজুরিতে পরিবার নিয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, বেআইনিভাবে শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্ত করা বন্ধ এবং অযৌক্তিক ছাঁটাই বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন তাঁরা।

পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের পদ্মার মোড় এলাকার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে একেএইচ পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিয়ে কিছু সময় পর কারখানা থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপর তাঁরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন।

এ বিষয়ে সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান নূর জানান, শ্রমিকেরা তিন দফা দাবি নিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছিলেন। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

অন্যদিকে আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলেও শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে। সকালে শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিয়ে হাজিরা দেওয়ার পর প্রথমে কারখানার ভেতরে অবস্থান নেন। পরে তারা কারখানা থেকে বেরিয়ে আসেন। এর মধ্যে আদিয়াস ফ্যাশন কারখানার শ্রমিকেরাও বেরিয়ে আসেন।

আশুলিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহিবুল্লাহ আকন বিজিবি মোতায়েন ও সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আশুলিয়ায় কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতিমধ্যে এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

জামগড়া এলাকার যে সাতটি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলো হলো ফ্যাশন ফোরাম লিমিটেড, সাফা সোয়েটার লিমিটেড, উঁচু ফ্যাশন লিমিটেড, দিপস অ্যাপারেলস লিমিটেড, এফ এন এফ অ্যান্ড ট্রেড ফ্যাশন, ফ্যাশন ইট কোম্পানি লিমিটেড এবং আয়েশা ক্লোথিং (পলমল গ্রুপ)।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে অতিরিক্ত পুলিশ ও শিল্প পুলিশের পাশাপাশি সাভার ও আশুলিয়ায় দুই প্লাটুন বিজিবি সতর্ক অবস্থানে থেকে টহল দিচ্ছে।

মিস অ্যান্ড মিসেস ডাক্তার সিজন ১-এর মুকুট জিতলেন ছোঁয়া

০

নারী চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতা, মেধা, আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বগুণ ও বহুমুখী প্রতিভাকে তুলে ধরতে আয়োজিত ‘মিস অ্যান্ড মিসেস ডাক্তার সিজন ১’ প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ডা. কানিজ ফাতেমা ছোঁয়া। রাজধানীর একটি হোটেলে ৩১ অক্টোবর জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার প্রথম আসরে বিজয়ের মুকুট ওঠে তাঁর মাথায়। প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছেন মেডিকেল শিক্ষার্থী নাবিলা তোরা এবং দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন ডা. রিফা তামান্না।

আয়োজকদের দাবি, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এ ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত নারী চিকিৎসকদের পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি তাঁদের ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বগুণ তুলে ধরাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নারী চিকিৎসকেরা এতে অংশ নেন।

বিজয়ের মুহূর্তটি ডা. ছোঁয়ার কাছে ছিল ভীষণ আবেগের। মুকুট মাথায় নিয়ে সবার সামনে দাঁড়িয়েও যেন নিজের অর্জন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তিনি। সেই মুহূর্তে বারবার বাবার মুখ ভেসে উঠছিল তাঁর চোখের সামনে। বাবা পাশে থাকলে হয়তো মেয়ের সাফল্যে গর্বে বুক ভরে উঠত তাঁর। তাই বিজয়ের আনন্দের পাশাপাশি বাবাকে কাছে না পাওয়ার কষ্টও অনুভব করেছেন ছোঁয়া। প্রতিযোগিতায় সফলতার পর তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শো ডিরেক্টর সাকিব সনেট এবং শোয়ের সিইও ও অর্গানাইজার ড. হাসান মাহমুদের প্রতি।

chowa 1793632409

খুলনার মেয়ে কানিজ ফাতেমা ছোঁয়া ২০২৫ সালে রাশিয়ার রস্তভ স্টেট মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই তাঁর মধ্যে রয়েছে শিল্পীসত্তা। অভিনয়, গান, নাচ ও ছবি আঁকার প্রতি তাঁর বিশেষ ভালোবাসা। চিকিৎসাবিদ্যায় পড়াশোনার সময়ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে দূরে রাখেননি তিনি। দেশের বাইরে পড়াশোনার সময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরার চেষ্টা করতেন।

ছোঁয়ার ভাষায়, ‘আমার কেন যেন মনে হতো, আমার ভেতরে একটা শিল্পীসত্ত্বা রয়েছে। যে কারণে সংস্কৃতির প্রতি আমার একটা আলাদা টান অনুভব করি। আমার অভিনয় করতে ভালো লাগে, গাইতে ভালো লাগে, নাচতে ভালো লাগে। ছবি আঁকতেও ভালো লাগে।’ছোঁয়ার পারিবারিক জীবনেও রয়েছে সংগ্রামের গল্প। তাঁর বাবা জি এম কামরুল হুদা একসময় ব্যাংকে চাকরি করতেন। কিন্তু দেড় বছর আগে স্ট্রোক করার পর থেকে অসুস্থ অবস্থায় বাসায় রয়েছেন। মা ফিরোজা হুদা। বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি ছোট ভাই তানজিমকে মানুষের মতো মানুষ করার দায়িত্ববোধও রয়েছে তাঁর কাঁধে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে ছোঁয়া জানান, চিকিৎসক হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অভিনয়ও চালিয়ে যেতে চান তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন রয়েছে তাঁর। তাঁর মতে, চিকিৎসক পরিচয়ের বাইরেও একজন মানুষের নিজস্ব প্রতিভা ও সৃজনশীল পরিচয় বিকাশের সুযোগ থাকা প্রয়োজন।

চিকিৎসক পরিচয়ের পাশাপাশি নিজের শিল্পীসত্তাকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে নতুন এক অধ্যায়ে পা রাখলেন ছোঁয়া। ভবিষ্যতে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি অভিনয়েও নিয়মিত হতে চান তিনি। আর সে লক্ষ্যেই  এগিয়ে চলছেন এই চিকিৎসক।

গ্রীষ্মের আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত হবে: প্রধানমন্ত্রী

আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে অর্থায়ন সহজ করতে সরকার প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ করেছে। পর্যায়ক্রমে এ খাতে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা হবে।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা যেন শুধু অর্থের অভাবে পিছিয়ে না পড়েন, সরকার তা নিশ্চিত করতে চায়। সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সম্প্রসারণ সহজ করতে ইতিমধ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বিভিন্ন নীতিসহায়তা, কর ও শুল্ক সুবিধা এবং আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব হবে।

উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়ন ও প্রণোদনা
তারেক রহমান বলেন, সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাতে নতুন উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে তরুণেরা কাজ করছেন। সম্প্রতি একটি প্রতিযোগিতায় তিন শতাধিক তরুণ-তরুণী তাদের নতুন ধারণা উপস্থাপন করেছেন। তাদের সবাইকে সাধুবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামীর বাংলাদেশে জ্ঞানের পাশাপাশি নতুন নতুন উদ্ভাবনী ধারণার প্রতিযোগিতাও চলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি উদ্ভাবনী ধারণা বাংলাদেশের জন্য গেম চেঞ্জার হতে পারে। অর্থের অভাবে যেন তরুণদের কোনো উদ্ভাবনী উদ্যোগ হারিয়ে না যায়, সে জন্য চলতি বাজেটে স্টার্টআপের জন্য বছরে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি-বেসরকারি অফিস, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির অব্যবহৃত ছাদ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে কাজে লাগানোর প্রত্যাশা করছে সরকার। নেট মিটারিং ব্যবস্থায় নিজস্ব ব্যবহারের পর বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে এভাবে সরবরাহ করা প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুৎ সরকার প্রণোদনাসহ ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কিনবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে। উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানানোর আগে তিনি নিজেও তাঁর বাসায় সৌর প্যানেল স্থাপন করেছেন। সেখান থেকে ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতেও সক্ষম হয়েছেন।

জ্বালানি নিরাপত্তায় সৌরবিদ্যুতের ওপর গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর করে ফেলা হয়েছিল। ফলে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আমদানি প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটায় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি যথাসম্ভব স্বাভাবিক রাখতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকার ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে।

তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরেও বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় একই রকম রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিজেলের মজুত বাড়ানো হয়েছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য কয়লার সরবরাহ ও মজুত নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিকল্প সরবরাহকারীদের সঙ্গেও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ইতিমধ্যে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে অতীতের সরকারগুলোর ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনায় সময়ক্ষেপণের পরিবর্তে কীভাবে বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো যায় এবং বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, সেটিই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

তিনি বলেন, জনগণের ভোগান্তির বিষয়ে সরকার সচেতন। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় ও চুক্তি পর্যালোচনা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো, জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং দ্রুত সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের বিষয়ে সরকার একযোগে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি মানুষের সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। উদ্যোক্তারাই এ উদ্যোগের মূল চালিকাশক্তি।

বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সরকারের দায়িত্ব। অন্যদিকে বিদ্যুতের সঠিক ও সাশ্রয়ী ব্যবহার জনগণের দায়িত্ব। দিনের বেলায় যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক আলো-বাতাস ব্যবহার এবং বাসা, অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অপ্রয়োজনে বাতি, পাখা ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, সরকার, উদ্যোক্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব হবে না। সূর্যের আলোকে দেশের সম্পদে পরিণত করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

সাফ খেলতে সবার আগে ঢাকায় ভুটান

০

৫ নভেম্বর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। উদ্বোধনী দিনের প্রথম ম্যাচে বিকেল সাড়ে ৩টায় মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। রাত ৮টায় স্বাগতিক বাংলাদেশ খেলবে ভুটানের বিপক্ষে। ছয় দলের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গতকাল সোমবার সবার আগে ঢাকায় এসেছে ভুটান ফুটবল দল। অনেকটা নীরবে বাংলাদেশে এসে পৌঁছায় তারা। এত বড় একটা টুর্নামেন্ট অথচ ভুটান দলের ঢাকায় আসা নিয়ে আয়োজক সাউথ এশিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন কিংবা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ভারত ও পাকিস্তান– দুই দলেরই আজ ঢাকায় আসার কথা রয়েছে।

মঙ্গলবার থেকে মাঠের প্রস্তুতি শুরু করবে ভুটান। অন্যদিকে স্বাগতিক বাংলাদেশ গতকাল ফ্লাডলাইটের আলোয় অনুশীলন করেছে জাতীয় স্টেডিয়ামে। ভুটানের বিপক্ষে খেলার সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতাও আছে বাংলাদেশের। গত বছরের ১০ জুন এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে হোম ম্যাচের আগে ঢাকায় ভুটানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বাংলাদেশ। সংস্কারকাজ শেষে সেই ম্যাচ দিয়েই ঢাকা স্টেডিয়ামে নতুন করে ফুটবল ফিরেছিল। ম্যাচটিতে ভুটানকে ২-০ গোলে হারায় স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের জার্সিতে নিজের প্রথম গোলটি সেদিন ভুটানের বিপক্ষেই করেছিলেন হামজা চৌধুরী।

বাংলাদেশ, ভুটান ও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে গঠিত হয়েছে ‘এ’ গ্রুপ। অন্যদিকে ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত, মালদ্বীপ ও পাকিস্তান। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দল দুটি করে ম্যাচ খেলবে। দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল উঠবে সেমিফাইনালে। ১৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে শেষ চারের লড়াই। ফাইনাল ১৭ নভেম্বর।

সিডনিতে বুয়েটিয়ানদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বনভোজন ও মিলনমেলা। সম্প্রতি ওয়েস্টার্ন সিডনির বিংগারাবি পার্কে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রায় ৬০০ জন।

ব্ল্যাকটাউন সিটি কাউন্সিলের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন এলাকায় বসবাসরত বুয়েটিয়ানদের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়। তবে আয়োজনে শুধু স্থানীয়রাই নন, সিডনির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা যোগ দেন। ৩২ থেকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ও ভ্যাপসা গরম উপেক্ষা করে তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।

বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, তাঁদের স্ত্রী-সন্তান ও পরিবারের অন্য সদস্যদের অংশগ্রহণে দিনভর চলে আড্ডা, স্মৃতিচারণ ও আনন্দ-উচ্ছ্বাস। দীর্ঘদিন পর পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হওয়ার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের সদস্যদের মধ্যে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। প্রবাসে বসবাসরত বুয়েটিয়ানদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও পারিবারিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার উপলক্ষ হয়ে ওঠে এ মিলনমেলা।

বনভোজনে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বড়দের জন্য ছিল নানা ধরনের খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক আয়োজন। পরিবারের সব বয়সী সদস্যের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকায় অনুষ্ঠানটি কেবল প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনীতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, পরিণত হয়েছিল এক প্রাণবন্ত পারিবারিক উৎসবে।

BeFunky collage%20(10) 1793438634

আয়োজক কমিটির সদস্যদের মতে, প্রায় ৬০০ মানুষের এ আয়োজন সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিটি কার্যক্রম সময়মতো শেষ করা, খাবার পরিবেশনা ও সার্বিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। খাবার বিতরণের জন্য রাখা হয়েছিল একাধিক পরিবেশনকেন্দ্র। ফলে দীর্ঘ সারি এড়িয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা সম্ভব হয়।

আয়োজকদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি, দায়িত্ব বণ্টন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস পরিশ্রমের ফলে বড় পরিসরের এ আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে সিডনিতে বসবাসরত বুয়েটিয়ান ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বন্ধুত্ব, সৌহার্দ্য এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে।

রান্নায় কোন লবণ ব্যবহার করা স্বাস্থ্যকর

প্রতিদিনের রান্নায় লবণ ব্যবহার করা হলেও কোন ধরনের লবণ শরীরের জন্য ভালো, তা নিয়ে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। বাজারে সাধারণ সাদা লবণের পাশাপাশি পিঙ্ক সল্ট, সৈন্ধব লবণ, বিট লবণ ও কেল্টিক লবণ পাওয়া যায়। এসব লবণের রং, স্বাদ ও দাম আলাদা। তবে শরীরের প্রয়োজন মেটাতে সব লবণ সমান ভূমিকা রাখে না। বিশেষ করে আয়োডিনের চাহিদা পূরণে লবণ নির্বাচনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের হায়দরাবাদের ক্যান্সার সার্জন ডা. অর্জুন শঙ্করন সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে বিভিন্ন ধরনের লবণের ব্যবহার নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। লবণের রং নয়, তাতে আয়োডিন আছে কি না, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিদিনের রান্নায় কোন লবণ?

ডা. শঙ্করনের মতে, প্রতিদিনের রান্নায় আয়োডিনযুক্ত সাদা লবণ ব্যবহার করা ভালো। অনেকের ধারণা, সাধারণ সাদা লবণ রাসায়নিক দিয়ে ব্লিচ করে সাদা করা হয়। তবে চিকিৎসক জানিয়েছেন, বিশুদ্ধ লবণ প্রাকৃতিকভাবেই সাদা। লবণ সংগ্রহ ও পরিষ্কার করার পর এতে আয়োডিন যোগ করা হয়। আয়োডিন থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে। শরীরে এর ঘাটতি হলে গলগণ্ড ও থাইরয়েডের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। গর্ভাবস্থায় আয়োডিনের অভাব শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই লবণ কেনার সময় প্যাকেটের গায়ে আয়োডিনযুক্ত লেখা আছে কি না, তা দেখে নেওয়া জরুরি।

পিঙ্ক সল্ট ও সৈন্ধব লবণ কতটা ভালো?

সাম্প্রতিক সময়ে পিঙ্ক সল্ট ও সৈন্ধব লবণের ব্যবহার বেড়েছে। অনেকেই মনে করেন, এসব লবণে খনিজ উপাদান বেশি থাকায় সাধারণ লবণের তুলনায় এগুলো বেশি স্বাস্থ্যকর। তবে ডা. শঙ্করনের মতে, এসব লবণে থাকা খনিজ উপাদানের পরিমাণ খুবই সামান্য। তাই বাড়তি পুষ্টির আশায় এগুলো ব্যবহার করার বিশেষ কারণ নেই। পিঙ্ক সল্ট, সৈন্ধব লবণ ও বিট লবণে আয়োডিনের পরিমাণও খুব কম। একই অবস্থা কেল্টিক লবণের ক্ষেত্রেও। ফলে প্রতিদিনের রান্নায় এসব লবণ ব্যবহার করলে শরীরের প্রয়োজনীয় আয়োডিনের চাহিদা পূরণ নাও হতে পারে। স্বাদের ভিন্নতার জন্য মাঝেমধ্যে এগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে।

সামুদ্রিক লবণেও খেয়াল রাখতে হবে

সামুদ্রিক লবণ থেকে তৈরি হলেই তাতে পর্যাপ্ত আয়োডিন থাকবে, এমন নয়। লবণে আয়োডিন যোগ করা হয়েছে কি না, সেটি নিশ্চিত হওয়া জরুরি। এ জন্য প্যাকেটের গায়ে আয়োডিনযুক্ত লেখা দেখে লবণ কেনার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক।

উচ্চ রক্তচাপ থাকলে কোন লবণ?

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কম সোডিয়ামযুক্ত লবণ ব্যবহার করা যেতে পারে। সাধারণ লবণের কিছু অংশের পরিবর্তে এতে পটাশিয়াম ক্লোরাইড ব্যবহার করা হয়। ফলে খাবারের স্বাদ অনেকটা একই রেখে সোডিয়াম গ্রহণ কমানো সম্ভব। তবে এ ধরনের লবণ সবার জন্য উপযুক্ত নয়। বিশেষ করে কিডনির সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তি কিংবা যারা পটাশিয়ামযুক্ত ওষুধ খান, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কম সোডিয়ামযুক্ত লবণ ব্যবহার করা উচিত নয়।

 দিনে কতটুকু লবণ খাবেন?

কোন লবণ ব্যবহার করছেন, তার পাশাপাশি প্রতিদিন কতটুকু লবণ খাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। ডা. শঙ্করনের পরামর্শ, আচার, পাপড়সহ সব খাবার মিলিয়ে দিনে এক চা চামচের কম লবণ খাওয়া উচিত। তাই রান্নায় আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করার পাশাপাশি লবণের পরিমাণও নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

দামি বা রঙিন লবণ মানেই বেশি স্বাস্থ্যকর নয়। প্রতিদিনের রান্নায় আয়োডিনযুক্ত লবণ বেছে নেওয়া এবং পরিমিত লবণ খাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।