Home Blog Page 6

ইরানে ফের মার্কিন হামলা, উপকূলীয় এলাকায় দফায় দফায় বিস্ফোরণ

ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপ ও দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর বন্দর লেঙ্গেহতে দফায় দফায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার ভোরে এসব বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর আগে কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়।

বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ হামলার খবর প্রকাশ করেছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। তবে বিস্ফোরণের কারণ, হতাহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এমন এক সময়ে হামলার খবর সামনে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করছেন।

সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ হয়েছিল। আমরা জিতেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটাকে আদৌ যুদ্ধ বলা যায় কি না, তা আমি জানি না। কারণ, কয়েক মাস ধরে আমরা কোনো লড়াই করছি না।’

তবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ছোট পরিসরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। এসব অভিযানকে প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি কিংবা জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন থেকে ইরানকে বিরত রাখতেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।

এদিকে মঙ্গলবার ভোরে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করেছে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। অন্যদিকে আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের বন্দর লেঙ্গেহতে সমুদ্রের দিক থেকে বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে।

তবে এসব বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়নি সংবাদমাধ্যম দুটি। হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়েও কিছু জানানো হয়নি।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশ বার্তা আদান-প্রদান করছে। কাতারের মধ্যস্থতায় এ যোগাযোগ সহজ করতে দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি দোহা সফর করেছেন বলেও জানান তিনি।

এর আগে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। পরে এপ্রিলে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়।

হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারক সই করে। তবে প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মতবিরোধের কারণে এর বাস্তবায়ন থমকে যায়।

প্রথম গ্রিন সুকুক বন্ড আল-ইস্তিসনা সম্পদ অধিগ্রহণে অযাচিতভাবে হাজির বিদেশি কোম্পানি

বাংলাদেশের প্রথম গ্রিন সুকুক ‘বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক আল-ইস্তিসনা’র মেয়াদ চলতি বছরের ২২ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। ইতোমধ্যে এ বন্ডের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে কোম্পানির পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী এ বন্ডটি পুনর্গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়। বিদ্যমান আর্থিক কাঠামো পর্যালোচনা করে সুকুকের শর্তাবলি সংশোধন, একটি বাস্তবসম্মত অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা নির্ধারণ এবং সুকুকের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছিল ওই উদ্যোগে। কিন্তু কোনো কোনো মহলের কারসাজিতে এ উদ্যোগ বারবার হোঁচট খাচ্ছে। উল্টো দুবাইভিত্তিক একটি ভুঁইফোঁড় কোম্পানি স্বপ্রণোদিত হয়ে সুকুক বন্ড আল-ইস্তিসনার কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ নামমাত্র মূল্যে কিনে নিতে চাইছে। এ জন্য তারা আইসিবি, বিএসইসি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে নিয়মিত ধরনা দিচ্ছেন। কয়েক সপ্তাহ অনুসন্ধানে এ নিয়ে ভয়ংকর চিত্র উঠে এসেছে।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ২৩ ডিসেম্বর ‘বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক আল-ইস্তিসনা’র অধীনে মোট তিন হাজার কোটি টাকা ইস্যু করা হয়। এই সুকুকের মাধ্যমে তিস্তা সোলার লিমিটেড (টিএসএল), করতোয়া সোলার লিমিটেড (কেএসএল) এবং বেক্সিমকোর টেক্সটাইল-সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে অর্থায়ন করা হয়। সুকুকটির ট্রাস্টি হিসেবে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) দায়িত্ব পালন করছে। বর্তমানে তিস্তা সোলার লিমিটেড থেকে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।

সূত্র জানায়, গত বছরের ২৪ মে বাংলাদেশ ব্যাংক বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক আল-ইস্তিসনার পুনর্গঠন, বিদ্যমান শর্তাবলি সংশোধন এবং মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয় পর্যালোচনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমেদের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রাথমিক আলোচনায় একটি পৃথক ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক আইসিবিকে ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়। সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও অংশীজন প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ২১ সদস্যের একটি ওয়ার্কিং কমিটিও গঠন করা হয়। কমিটিকে আটটি নির্দিষ্ট সুপারিশ ও দায়িত্বের বিষয়ে পর্যালোচনা করে সুকুক পুনর্গঠনের একটি বাস্তবসম্মত প্রস্তাব তৈরি করতে বলা হয়।

ওয়ার্কিং কমিটি মোট তিনটি সভা করে। সভাগুলোতে সুকুকের আর্থিক দায়, বিদ্যমান চুক্তিভিত্তিক কাঠামো, অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা, প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং সুকুকের মেয়াদ বৃদ্ধির সম্ভাব্য পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। কমিটির প্রতিনিধিরা তিস্তা সোলার লিমিটেডের প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। পর্যালোচনা ও আলোচনার ভিত্তিতে ওয়ার্কিং কমিটি সুকুক পুনর্গঠনের বিষয়ে সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ২০২৫ সালের ৬ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করেন এবং প্রস্তাবিত পুনর্গঠন কাঠামোর বিষয়ে আরও কিছু পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ করেন। গত ২ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক আইসিবিকে সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে প্রস্তাব জমা দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করে।

সূত্র জানায়, পুনর্গঠন-সংক্রান্ত আলোচনায় বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক আল-ইস্তিসনার অরিজিনেটর বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি পিএলসি বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বাধীন কমিটির প্রস্তাবিত মূল শর্তাবলিতে সম্মতি প্রদান করে। বিশেষভাবে অরিজিনেটর সুকুকধারীদের জন্য বার্ষিক ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ নির্ধারিত মুনাফার হার গ্রহণে সম্মত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল সুকুকধারীদের নিয়মিত মুনাফা পরিশোধের ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা। ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের পৌনে ১১ শতাংশ হারে মুনাফা দেওয়ার অঙ্গীকার করে অরিজিনেটরের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন এবং বিদ্যমান চুক্তিপত্র সংশোধনের শর্তে অরিজিনেটর সুকুক পুনর্গঠন ও মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাবে সম্মতি দেয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী আইসিবি ট্রাস্টি সুকুক পুনর্গঠন, বিদ্যমান শর্তাবলি সংশোধন এবং মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব বিএসইসিতে দাখিল করে। প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিদ্যমান আর্থিক ও চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংশোধন এবং সুকুকের মেয়াদ বৃদ্ধি করে বকেয়া আর্থিক দায় পরিশোধের জন্য একটি কার্যকর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। এ উদ্যোগের মাধ্যমে ট্রাস্টি, অরিজিনেটর, সুকুকধারী এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়।

আইসিবির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি সুকুক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য চুক্তিগত ও নিয়ন্ত্রক শর্তাবলি উল্লেখ করে একটি চিঠি দেয়। এতে জানানো হয়, ট্রাস্টি, ইস্যুয়ার ও অরিজিনেটরের প্রয়োজনীয় সম্মতি এবং কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে ট্রাস্ট ডিড সংশোধন করা যাবে। এ ছাড়া বিএসইসির বিধিমালা, অনুযায়ী সুকুক পুনর্গঠন বা সমাপ্তির ক্ষেত্রে বোর্ড অব ট্রাস্ট, শরিয়াহ সুপারভাইজরি বোর্ড (এসএসবি) এবং কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিএসইসি বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ের কমিটির কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) সংগ্রহ করার জন্য আইসিবিকে নির্দেশনা প্রদান করে। বিএসইসি আরও নির্দেশ দেয়, প্রয়োজনীয় চুক্তিগত ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করে সংশোধিত ট্রাস্ট ডিড, সংশোধিত ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট এবং প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্রসহ আবেদনটি পুনরায় দাখিল করতে হবে।

আইসিবি কর্তৃক পুনর্গঠনের আবেদন দাখিলের পর সুকুকের অরিজিনেটর চলতি বছরের ১২ আগস্ট বিএসইসিতে একটি বিস্তারিত প্রস্তাব জমা দেয়। এতে সুকুকের মেয়াদ ডিসেম্বর ২০৩২ পর্যন্ত বৃদ্ধির আবেদন করা হয়। প্রস্তাবিত মেয়াদ বৃদ্ধির উদ্দেশ্য ছিল সুকুকের বকেয়া দায় পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া এবং একটি পরিকল্পিত পদ্ধতিতে মূলধন পরিশোধের ব্যবস্থা করা। অরিজিনেটর মনে করে, প্রস্তাবিত মেয়াদ বৃদ্ধি বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ের কমিটির উদ্যোগ এবং ওয়ার্কিং কমিটির সুপারিশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে আলাপ করে জানা গেছে, অরিজিনেটর, আইসিবি, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বিএসইসির আলোচনা এবং চিঠি চালাচালির মধ্যে একটি নতুন উপদ্রপ এসে হাজির হয়। অরিজিনেটর বিএসইসিতে সুকুকের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দাখিলের একই দিনে দুবাইভিত্তিক একটি ভুঁইফোঁড় কোম্পানি অ্যাডসাম ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট এলএলসি আইসিবির কাছে একটি আগ্রহপত্র জমা দেয়। আগ্রহপত্রটিতে তিস্তা সোলার লিমিটেড এবং বেক্সিমকো গ্রুপের নির্বাচিত কিছু সম্পদে সম্ভাব্য বিনিয়োগ বা অধিগ্রহণের কথা বলা হয়। আগ্রহপত্রটি ছিল প্রাথমিক ও আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই, সন্তোষজনক দলিলপত্র, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অনুমোদন এবং প্রযোজ্য আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করা প্রয়োজন ছিল। বিএসইসিতে সুকুক পুনর্গঠন ও মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় বিষয়টি অরিজিনেটরের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে বিদ্যমান পুনর্গঠন প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সম্পদের মালিকানার ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে অরিজিনেটর উদ্বেগ প্রকাশ করে।

আইসিবি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩ সেপ্টেম্বর আইসিবি অ্যাডসাম ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট এলএলসির দাখিল করা আগ্রহপত্রটি প্রয়োজনীয় নির্দেশনার জন্য বিএসইসিতে পাঠায়। পত্রে আইসিবি সুকুকের বিদ্যমান কাঠামো, সংশ্লিষ্ট চুক্তিপত্র এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগ বা অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইনগত ও নিয়ন্ত্রক বাধ্যবাধকতার বিষয়গুলো তুলে ধরে। আইসিবি উল্লেখ করে যে, সুকুক একটি বিনিয়োগ ব্যবস্থা, যেখানে সুকুকধারীদের সংশ্লিষ্ট অন্তর্নিহিত সম্পদের ওপর অবিভক্ত মালিকানা স্বার্থ রয়েছে। সুতরাং তিস্তা সোলার লিমিটেড বা সুকুক-সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো সম্পদ নিয়ে প্রস্তাবিত লেনদেনের ক্ষেত্রে ট্রাস্ট ডিড, বিদ্যমান চুক্তিপত্র, প্রযোজ্য বিধিবিধান এবং সুকুকধারীদের স্বার্থ বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আইসিবি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী দাখিল করা পুনর্গঠন প্রস্তাব এবং বিএসইসির দেওয়া নির্দেশনার বিষয়টিও উল্লেখ করে।

অ্যাডসাম ক্যাপিটালের আগ্রহপত্র বিষয়ে আইসিবির পত্রের জবাবে বিএসইসি প্রযোজ্য আইনগত শর্ত এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন সাপেক্ষে অ্যাডসাম ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট এলএলসির সঙ্গে আলোচনা ও যোগাযোগের ব্যবস্থা করতে আইসিবিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিএসইসি জানায়, আইসিবির উদ্যোগ কেবল অ্যাডসাম ক্যাপিটালের আগ্রহপত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। বরং অন্যান্য গ্রহণযোগ্য কৌশলগত ও আর্থিক বিনিয়োগকারীদের সম্ভাবনা ও যাচাই করতে হবে। প্রয়োজনে উপযুক্ত বিনিয়োগকারী নির্বাচন বা সম্পদ হস্তান্তরের ব্যবস্থা নির্ধারণের জন্য প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বিএসইসির নির্দেশনার পর অরিজিনেটর অ্যাডসাম ক্যাপিটালের আগ্রহপত্র নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। এর ধারাবাহিকতায় অরিজিনেটরের পক্ষ থেকে আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক আপত্তিপত্র দাখিল করে। একই সঙ্গে বিষয়টি বিএসইসিকেও দেওয়া হয়। অরিজিনেটর জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি এবং ২১ সদস্যের ওয়ার্কিং কমিটি ইতোমধ্যে সুকুক পুনর্গঠন ও মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা ও আলোচনা সম্পন্ন করেছে। এ ছাড়া অরিজিনেটর প্রস্তাবিত পুনর্গঠনের শর্তাবলি গ্রহণ করেছে এবং ডিসেম্বর ২০৩২ পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

এ অবস্থায় বিদ্যমান পুনর্গঠন ও মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার আগে পৃথক কোনো অধিগ্রহণ প্রস্তাব নিয়ে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার যৌক্তিকতা সম্পর্কে অরিজিনেটর প্রশ্ন তোলে। আপত্তিপত্রে ট্রাস্টির দায়িত্ব, বিদ্যমান চুক্তিপত্রের শর্ত এবং অরিজিনেটরসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর চুক্তিগত অধিকার সংরক্ষণের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়। চিঠিতে  অরিজিনেটর উদ্বেগ প্রকাশ করে যে, চলমান পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার যথাযথ নিষ্পত্তি ছাড়া সুকুকের অন্তর্নিহিত সম্পদ অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হলে আইনগত ও আর্থিক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে অরিজিনেটর বিদ্যমান চুক্তিপত্র, প্রযোজ্য আইন এবং চলমান পুনর্গঠন প্রক্রিয়া বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার অনুরোধ জানায়।

আইসিবি সূত্র আরও জানায়, অ্যাডসাম ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট এলএলসি তাদের আগ্রহপত্র বিষয়ে আইসিবির সঙ্গে সরাসরি সভার অনুরোধ জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইসিবি ৮ অক্টোবর অ্যাডসাম ক্যাপিটালের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি সভার আয়োজন করে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে অরিজিনেটরের আনুষ্ঠানিক আপত্তি দাখিলের পরও সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সভায় বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয় এবং অ্যাডসাম ক্যাপিটালের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে সভা ত্যাগ করেন বলে জানা যায়। পরে এসপিভি গভর্নিং বোর্ডের আলোচনায় অ্যাডসাম ক্যাপিটালের আগ্রহপত্র, অরিজিনেটরের আপত্তি এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত ও চুক্তিগত বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়। বোর্ডের আলোচনায় আরও গুরুত্ব দেওয়া হয়, যে কোনো প্রস্তাবিত ব্যবস্থা গ্রহণের আগে প্রযোজ্য নিয়ন্ত্রক শর্ত এবং বিদ্যমান চুক্তিপত্রের বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে অরিজিনেটরের একজন প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, বিদ্যমান পুনর্গঠন ও মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার আগে পৃথক কোনো অধিগ্রহণ প্রস্তাব নিয়ে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। যেখানে সুকুকে বিনিয়োগকারীরা নতুন মুনাফা এবং মেয়াদ বৃদ্ধিার প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন, সেখানে বিদেশি কোম্পানি স্বপ্রণোদিত হয়ে একটি দেশীয় কোম্পানি বা তার সম্পদ অধিগ্রহণের আলোচনায় আসতে পারে না।

দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি

এক মাসে দুই দফা এলপিজির দাম বাড়ানোর প্রতিবাদ জানাতে সংবাদ সম্মেলনে গ্যাসের খালি সিলিন্ডার নিয়ে হাজির হন এনসিপি নেতারা। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ভবিষ্যতে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সামনে সিলিন্ডার হাতে প্রতিবাদ করবো।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, আকরাম হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকারও উপস্থিত ছিলেন সংবাদ সম্মেলনে।

দেশবাসীর উদ্দেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আপনারা সিলিন্ডার হাতে রাজপথে নেমে প্রতিবাদ করুন। মানুষ যেন প্রতিবাদ জানাতে না পারে, এজন্য বিএনপি সরকার রাতের বেলায় গ্যাসের দাম বাড়ায়। এটা রাতের সরকার, শেখ হাসিনার সময় যেমন রাতের বেলায় দাম বাড়িয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিত, এখন তারেক রহমানও শেখ হাসিনার পথ দেখানো অনুযায়ী রাতের বেলায় গ্যাসের দাম বাড়ায়। গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে অবিলম্বে সরে আসার আহ্বান জানান নাসীরুদ্দীন।

গাজীপুরে মহাসড়কে আগুন দিয়ে শ্রমিকদের অবরোধ

গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেছেন শ্রমিকেরা। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দিগন্ত সোয়েটার কারখানার সামনে তারা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় কারখানার বর্জ্য মহাসড়কে এনে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন শ্রমিকেরা।

অবরোধের কারণে জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে নাওজোড় মোড় পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ কোনো ধরনের যানবাহন চলতে দিচ্ছিলেন না আন্দোলনকারীরা। এ সময় তাদের কয়েকজনকে মহাসড়কে ক্রিকেট খেলতেও দেখা যায়।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য, ছবি ও ভিডিও সংগ্রহের চেষ্টা করেন সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকেরা। তবে শ্রমিকেরা তাদের বাধা দেন।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, মঙ্গলবার সকাল আটটার কিছু আগে কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায় কয়েকজন শ্রমিক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে গিয়ে কোনো ধরনের সংঘাত ছাড়াই তাদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেন।

মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বলে জানান পুলিশ সুপার।

মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

রাজধানীর মিরপুরে মঙ্গলবারও সড়কে নেমে বিক্ষোভ করছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। বিক্ষোভকালে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে টিয়ার গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে দেখা গেছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় শ্রমিকেরা বিভিন্ন দিক থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।

এর আগে সকাল থেকে পল্লবী শিল্পাঞ্চলে বিভিন্ন পোশাক কারখানার সামনে কয়েক হাজার শ্রমিক জড়ো হন। এ সময় তাদের অনেকের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায়।

পরে শ্রমিকেরা সড়কে নেমে এলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে সংঘর্ষ চলতে থাকায় স্টেশনের ভেতরে অনেক যাত্রী আটকা পড়েছেন। বর্তমানে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনে কোনো ট্রেন থামছে না এবং যাত্রী ওঠানামাও করানো হচ্ছে না।

এমআরটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম জানায়, সকাল থেকেই মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে পোশাক শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেওয়ায় মেট্রোরেলের যাত্রী ও স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেশনটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ করে আসছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। শনিবার ও রোববার শ্রমিকেরা মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। রোববার মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এই ঘটনায় বিভিন্ন স্থান থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবারও মিরপুরের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে শ্রমিকেরা সড়কে নামার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের বাধা দেয়। কয়েকটি স্থানে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। আজ আবার মিরপুরে সড়কে নেমে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকেরা।

নব্বই দশকের প্রেম-স্মৃতি নিয়ে কোয়েলের নতুন যাত্রা

০

একটি চিঠির জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা, প্রিয় মানুষের কণ্ঠ শুনতে এসটিডি বুথে ছুটে যাওয়া, ক্যাসেটে পছন্দের গান রেকর্ড করে উপহার দেওয়া-নব্বইয়ের দশকের প্রেমে এমন ছোট ছোট মুহূর্তই ছিল আনন্দের বড় উপলক্ষ।

যোগাযোগের মাধ্যম সীমিত হলেও অনুভূতি প্রকাশে ছিল না কোনো কমতি। সেই সময়ের প্রেম, আবেগ আর স্মৃতির ঝাঁপি খুলে এবার টেলিভিশনের পর্দায় আসছে নতুন ধারাবাহিক ‘ডিয়ার ৯০’স’। তবে শুধু নস্টালজিয়া নয়, এই ধারাবাহিকের বড় আকর্ষণ অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। প্রথমবারের মতো টেলিভিশনের ধারাবাহিকে দেখা যাবে তাকে।

আগামী ২৩ নভেম্বর থেকে সোনি আটে প্রচারিত হবে ধারাবাহিকটি। নব্বইয়ের দশককে গল্পের পটভূমি করে সাজানো হয়েছে এর কাহিনি। সে সময়ের প্রেম, বন্ধুত্ব, স্বপ্ন, অপেক্ষা আর সম্পর্কের নানা সমীকরণ উঠে আসবে এতে। স্মার্টফোন কিংবা সামাজিক মাধ্যমের যুগে দাঁড়িয়ে অতীতের সেই দিনগুলো যেন অন্য এক পৃথিবী। যেখানে একটি চিঠি হাতে পাওয়া কিংবা প্রিয় মানুষের সঙ্গে কয়েক মিনিট কথা বলার সুযোগও হয়ে উঠত বিশেষ স্মৃতি। ‘ডিয়ার ৯০’স’ সেই হারিয়ে যাওয়া সময়ের অনুভূতিগুলোই নতুন করে সামনে আনতে চায়।

সম্প্রতি প্রকাশিত ধারাবাহিকটির প্রোমোতেও রয়েছে নব্বইয়ের দশকের আবহ। গোলাপি শাড়িতে কোয়েল মল্লিককে দেখা গেছে হাসিমুখে পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণা করতে। পেছনে বাজছে সেই সময়ের জনপ্রিয় প্রেমের গান। নতুন এই কাজ নিয়ে উচ্ছ্বসিত কোয়েল মল্লিক।

তাঁর মতে, নব্বইয়ের দশকের প্রেমে ছিল এক ধরনের সারল্য ও জাদু। অপেক্ষা, ছোট ছোট উপহার কিংবা সামান্য কোনো মুহূর্তও তখন অনেক বড় আনন্দের কারণ হয়ে উঠত। ‘ডিয়ার ৯০’স’-এর গল্প তাঁকে সেই দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। এমন একটি গল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে ভালো লাগছে তাঁর। দর্শকরাও ধারাবাহিকটি দেখতে গিয়ে নিজেদের জীবনের পুরোনো কোনো স্মৃতির সঙ্গে মিল খুঁজে পাবেন বলে আশা করছেন অভিনেত্রী।

সুরিন্দর ফিল্মস প্রাইভেট লিমিটেডের প্রযোজনায় নির্মিত ধারাবাহিকটিতে কোয়েলের পাশাপাশি অভিনয় করবেন শঙ্খজিৎ সেনগুপ্ত ও অপরাজিতা মুখার্জি।

বিসিবির ইনস্টাগ্রাম হ্যাকিংয়ের চেষ্টা, সতর্কতা জারি

০

হ্যাকিংয়ের চেষ্টা করা হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট। গত ১ নভেম্বর রাত থেকে অ্যাকাউন্টটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে হ্যাকাররা।

বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে অ্যাকাউন্টটি থেকে বোর্ডের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে অবৈধ ক্রিপ্টোকারেন্সি, বেটিং সাইট ও ফিশিং লিংকসংক্রান্ত বার্তা পাঠানো হচ্ছে।

এ ঘটনায় নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জরুরি সতর্কতা প্রকাশ করেছে বিসিবি। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বোর্ডের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠানো কোনো লিংকে ক্লিক না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে এসব বার্তা এড়িয়ে চলতে এবং কোনো লিংকের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য, পাসওয়ার্ড কিংবা লগইনসংক্রান্ত তথ্য শেয়ার না করতে সতর্ক করেছে বোর্ড।

বিসিবি আরও জানিয়েছে, অ্যাকাউন্টটি পুনরুদ্ধার এবং এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাইবার নিরাপত্তা দল কাজ করছে। অ্যাকাউন্টটি পুরোপুরি নিরাপদ হওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী তথ্য জানানো হবে।

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও উৎপাদন বাড়ানো গেলে সমস্যার সমাধান সম্ভব: জামায়াত আমির

গার্মেন্টস শিল্পের চলমান অস্থিরতাকে খুবই উদ্বেগজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন করে মালিক এবং শ্রমিক উভয় পক্ষকে রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা সরকারকে পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা।

এছাড়া, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত ও উৎপাদনের গতি বাড়ানো গেলে সমস্যার সমাধান সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আজ রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে এই অবস্থান জানিয়েছেন তিনি। জামায়াত আমির লিখেছেন,  প্রধান রপ্তানি খাত গার্মেন্টস শিল্প কঠিন অবস্থা অতিক্রম করছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সরকারের ব্যর্থতা, জ্বালানির উচ্চমূল্য, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, বিশ্ববাজারে এ খাতের অনিশ্চয়তা এবং ক্রয়াদেশ বাতিল, প্রত্যাহার কিংবা আগের মতো না পাওয়া জনিত কারণে তৈরি পোশাক খাত কঠিন সময় পার করছে। অন্যদিকে ঘরভাড়া, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, যাতায়াত খরচ, চিকিৎসা খরচসহ এ শিল্পে কর্মরত জনশক্তির জীবনও কঠিন সংকটের মুখোমুখি।

বিরোধীদলীয় নেতা লিখেছেন, প্রধান এই রপ্তানি খাতকে টিকিয়ে রাখতে খাতটি যেসব সমস্যায় জর্জরিত হয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, তা দূর করার জন্য সরকারকে দ্রুতই টেকসই পদক্ষেপ নিতে হবে। যদি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত ও উৎপাদনের গতি বাড়ানো যায়, তখন এই সমস্ত সমস্যাগুলো যৌক্তিকভাবে বিবেচনায় নিয়ে সমাধান করা সম্ভব।

শফিকুর রহমান লিখেছেন, শিল্প বাঁচলে শুধু মালিক বাঁচবে না, দেশও বাঁচবে। সুতরাং শিল্প উদ্যোক্তা ও শিল্পে নিয়োজিত জনশক্তি—দুটোকেই বাঁচানোর দায়িত্বশীল ভূমিকা সরকারকে পালন করতে হবে। সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শন ও নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ববোধের পরিচয় দেওয়ার জন্য আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে যেকোনো ব্যর্থতা দেশের সমুদয় ভঙ্গুর অর্থনীতিকে ধ্বংসের শেষপ্রান্তে নিয়ে যাবে। এখানে কালক্ষেপণের সুযোগ নেই।

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, আরেক দল জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা করছে: ধর্মমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা করেছে, আরেকটি দল জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা করছে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। তিনি বলেছেন, তারা কোনো বিষয় নিয়ে ব্যবসা করতে চান না। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের যথাযথ সম্মান দেওয়ার পাশাপাশি জুলাই চেতনাকে ভিত্তি করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

সোমবার দুপুরে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। নিজের তহবিল থেকে এ অনুদান দেওয়া হয়।

কায়কোবাদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা করেছে, আরেকটি দল জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা করছে। আমরা ব্যবসা করতে চাই না। তারেক রহমান পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন, যার যার সম্মান তাকে দিতে হবে। জুলাই চেতনাকে ভিত্তি করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে যারা মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, তাদেরও যথাযথ সম্মান জানাতে হবে।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বলেও উল্লেখ করেন ধর্মমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসা করে কায়কোবাদ বলেন, তিনি দেশের জন্য অনেক পরিশ্রম করেন। একদিন অফিস সময়ের পর তার সঙ্গে কথা বলার সময় তাকে অত্যন্ত ক্লান্ত দেখেছিলেন। তবে কথাবার্তায় ক্লান্তির কোনো ছাপ ছিল না। তিনি সব সময় দেশের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কথা চিন্তা করেন। এর প্রতিফলন হিসেবে কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড চালুর ব্যবস্থা করেছেন। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের ভাতার ব্যবস্থাও করেছেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য সবার কাছে দোয়া চান ধর্মমন্ত্রী। তিনি বলেন, আল্লাহ যেন তাকে সব ধরনের ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করেন।

মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব হাসান খান। সহকারী শিক্ষক শারমিন ফাতেমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুরাদনগর, বাঙ্গরা বাজার ও তিতাস সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এ কে এম কামরুজ্জামান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল আলম তালুকদার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খান পাপ্পু, সমাজসেবা কর্মকর্তা বরুণ চন্দ্র দে, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন ও সদস্যসচিব মোল্লা মুজিবুল হক।

অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

শ্রমিক বিক্ষোভ আশুলিয়ায় ২৬৪ পোশাক কারখানা বন্ধ ১২ পুলিশ সদস্য আহত

ঢাকার সাভারের আশুলিয়াসহ আশপাশের এলাকার ২৬৪টি পোশাক কারখানায় আজ সোমবার সাধারণ ছুটি ও বন্ধ ঘোষণা করেছে মালিক পক্ষ। আশুলিয়া শিল্প পুলিশের এসপি মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। শ্রমিক অসন্তোষ থেকে বিক্ষোভে শ্রমিকেরা সকাল থেকে ফ্যাক্টরির সামনে ইট-পাটকেল ও লাঠিসোঁটা নিক্ষেপ করে।

শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, আশুলিয়ার  পিকার্ড বাংলাদেশ, জনরন সোয়েটার, ফেরারী গার্মেন্টস, ডেনিটেক্স, আনলিমা টেক্সটাইল, আল ইসলাম টেক্সটাইল ও  জি.কিউ. ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কারখানায়  ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

এছাড়া আর্টিস্টিক ডিজাইন লিমিটেড ফ্যাক্টরির সামনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের একাধিক সংঘর্ষে ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। –

সকালে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভে নামেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। বিক্ষোভের মধ্যে একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেওয়া হয়।

সোমবার সকাল থেকে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে কয়েক দিন ধরে রাজধানী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ চলছে। গাজীপুরের কালিয়াকৈরেও টানা চতুর্থ দিনের মতো ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকেরা। সোমবার সকাল থেকে চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ, হরিণহাটি ও সফিপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে অবস্থান নেন তারা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার শিবু মার্কেট এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন তারা। এতে ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

আজ সকালে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভে নামেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। বিক্ষোভের মধ্যে একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেওয়া হয়।

সোমবার সকাল থেকে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে বহিরাগত ও দুষ্কৃতকারীরা যোগ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন আশুলিয়া শিল্প পুলিশের এসপি মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া। বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভের বিষয়ে তিনি বলেন, শিল্পাঞ্চলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে রাস্তায় নেমেছেন। পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা চলছে।

কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ঘটনায় অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিল্প পুলিশের এই কর্মকর্তা ভাষ্য, তাদের কাছে তথ্য রয়েছে, আন্দোলনে বহিরাগত ও দুষ্কৃতকারীরা যোগ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এখন পর্যন্ত শিল্প পুলিশ কাউকে আটক করেনি। তবে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আটকের চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, শিল্পাঞ্চলে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তাব্যবস্থা বহাল থাকবে।

শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, আগুন জ্বালানো এবং যানবাহনে অগ্নিসংযোগের চেষ্টার বিষয়ে এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা জেলার ফোর্সও তাদের সঙ্গে রয়েছে। যতটা সম্ভব যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন তারা।

এর আগে রোববার রাজধানীর মিরপুরেও শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠনের কথা জানানো হলেও বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে তাদের অসন্তোষ পুরোপুরি কাটেনি।  শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কারণে জেলার বহু পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিকে কেন্দ্র করে চলমান শ্রম অসন্তোষ নিরসনে গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। আজ সোমবার সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া।

শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট শ্রম অসন্তোষ মোকাবিলা এবং শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিজিবি সদস্যরা জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার দায়িত্ব পালন করছেন। শ্রম অসন্তোষের কারণে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং শিল্পাঞ্চলে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এদিকে তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের মজুরি পুনঃনির্ধারণে ৬ সদস্যের ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করেছে সরকার। সচিবালয়ে রোববার সংবাদ সম্মেলনে নতুন মজুরি বোর্ডের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। দাবি পূরণ হওয়ায় সড়ক ছেড়ে কাজে ফিরে যেতে শ্রমকিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার শ্রমিক নেতা এবং শনিবার তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী। দুই পক্ষের আলোচনার পর গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে রোববার মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন তিনি। ঘোষিত মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) শেখ আশফাকুর রহমানের নেতৃত্বে বাকি সদস্যরা হলেন, মালিক পক্ষের প্রতিনিধি বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামছুদ্দিন, শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডাব্লিউএফ) সাধারন সম্পাদক বাবুল আখতার, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশেনর যুগ্ন মহাসচিব আসিফ আইয়ুব ও নিরপেক্ষ দুই সদস্য মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ও আনোয়ার হোসাইন। এই বোর্ড সব পদে শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরির সুপারিশ করবে। বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা ও গেজেট হিসেবে প্রকাশ করবে সরকার।

সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে পোশাক খাতে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি ঘোষণা ও কার্যকর হয়। পরের মাস থেকে বর্ধিত মজুরি পেয়ে আসছেন শ্রমিকরা। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পরপর পোশাক খাতে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তবে গত ১০ এপ্রিল শ্রম আইন সংশোধন বিল সংসদে পাস হয়। এতে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময় পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়। সেই হিসাবে নভেম্বর মাসে নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড ঘোষণার কথা।